সুষ্ঠুভাবে পোশাক পরিচ্ছন্নতার কাজটি সম্পন্ন করতে হলে কতগুলো ধাপ বা পর্যায় অনুসরণ করতে হয়। যেমন- বস্ত্র বাছাই করা, মেরামত করা, দাগ দূর করা, ধোয়ার উপকরণ ঠিক করা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতের কাছে রাখা, ধোয়ার পরিকল্পনা করা ইত্যাদি। এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে কাজটি যেমন সহজ হয়ে উঠবে, তেমনি সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যাবে।
হ্যা, কাদার দাগ তোলা তুলনামূলক সহজ। সাবান পানিতেই দাগ উঠে যাবার কথা। যদি না ওঠে সেক্ষেত্রে পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট দ্রবণ অথবা অক্সালিক এসিডের দ্রবণে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
হ্যাঁ, কালির দাগও তুলে ফেলা যায়। সুতি ও লিনেন বস্ত্রে বলপেনের কালি লাগলে দাগ বরাবর কাপড়ের নিচে ব্লটিং পেপার রেখে দাগযুক্ত স্থানটিতে প্রথমে মেথিলেটেড স্পিরিট ও তুলার গোল বল দিয়ে স্পঞ্চ করে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। সুতার কালিও একইভাবে অপসারণ করতে হবে।
সাদা সুতি বা লিনেন বস্ত্রে ফলের কষ লাগলে ফুটন্ত গরম পানিতে ধীরে ধীরে ঐ দাগ বরাবর একটু উপর থেকে ঢালতে হবে। তারপর সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। তবে জামের কষে সাবান ব্যবহার নিষিদ্ধ।
লোহার দাগ নতুন হলে কাগজিলেবুর রস ঘষে পরিষ্কার করতে হয়। পুরোনো দাগে লবণ ও কাগজিলেবুর রস ঘষে দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়। লঘু অক্সালিক এসিড দিয়েও লোহার দাগ দূর করা যায়।
নতুন ঘামের দাগ হলে সুতি ও লিনেন বস্ত্র সাবান পানি দিয়ে রোদে শুকালেই হয়। দাগ পুরোনো হলে এমোনিয়া দ্রবণ বা লঘু হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দ্রবণে ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার করতে হয়। রঙিন সুতি ও লিনেন বস্ত্র হলে দাগযুক্ত স্থানটি লঘু এমোনিয়াম দ্রবণে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে ঘামের দাগ দূর হয়।
বস্ত্র ধোয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হয়। সেগুলো হলো- লেবেল পরীক্ষা করা এবং বস্ত্র বাছাই করা, কাপড় মেরামত করা, দাগ বিমোচন করা, সাবান ও অন্যান্য উপকরণ নির্বাচন করা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি হাতের কাছে রাখা এবং ধোয়ার পরিকল্পনা করা।
সাধারণত রেশমি বস্ত্র ধোয়ার আগে অনেকক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয় না। ধোয়ার সময় হালকা গরম পানি এবং সবশেষে একবার ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে। ক্ষার জাতীয় সাবান ব্যবহার করা যাবে না। সব সময় মৃদু পানি ব্যবহার করতে হবে। কখনো ঘষে ঘষে ময়লা পরিষ্কার করতে নেই।
পশমি বস্ত্রে কখনো খুব গরম বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা যাবে না। অতিরিক্ত ক্ষার জাতীয় সাবান বা সাবানের গুঁড়া ব্যবহার করা যাবে না। কখনো ঘষে ময়লা পরিষ্কার করা যাবে না। ভেজা অবস্থায় বেশিক্ষণ ফেলে রাখা যাবে না। মুচড়িয়ে পানি নিংড়ানো যাবে না। এতে তন্তুগুলো ছিড়ে যেতে পারে। সূর্যালোক বা অতিরিক্ত গরম স্থানে শুকাতে দেওয়া যাবে না।
মাড় প্রয়োগের ফলে পোশাকের চাকচিক্য ও উজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। পরিমাণমতো এবং সঠিক নিয়মে মাড় দিলে ধোয়া নরম পোশাকে কাঠিন্য ও নতুনত্ব ফিরে আসে। মাড়ের আস্তরণ পোশাকে ময়লা লাগায় বাধা সৃষ্টি করে। পোশাকের আরাম, সৌন্দর্য ও পারিপাট্য বাড়ায়।
পোশাকে ব্যবহারের পূর্বে মাড় ছাকনি অথবা পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। পোশাক উল্টো করে মাড়ে ভিজাতে হয়। ভারী পোশাকে হাল্কা এবং পাতলা পোশাকে ঘন মাড় দিতে হয়। মাড় প্রয়োগের পর পোশাকটি ভালোমতো' শুকিয়ে নিতে হয়। রেশমি ও পশমি বস্ত্রে মাড় দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
পোশাক ধোয়ার পর শুকালে তা কুঁচকিয়ে যায় এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায়। তাই পোশাকের সৌন্দর্য ও পারিপাট্য বাড়ানোর জন্যও ইস্ত্রি করতে হয়। ইস্ত্রির মাধ্যমে তাপ ও চাপ প্রয়োগ করে কাপড়ের ভাঁজ ও কুঞ্চন দূর করা হলে পোশাক চকচকে এবং পরিষ্কার দেখায়।
Related Question
View Allরেশম তন্তুর তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে হালকা মাড় বেশি উপযোগী।
কাপড়ে কাঠিন্য ও চকচকে ভাব আনার জন্য এতে মাড় দেওয়া হয়। মাড় ব্যবহারের ফলে পোশাকের চাকচিক্য ও ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। পরিমাণমতো এবং সঠিক নিয়মে মাড় দিলে নরম পোশাকে কাঠিন্য ও নতুনত্ব ফিরে আসে। এছাড়া কাপড়ে মাড় থাকলে তা ময়লা লাগায় বাধার সৃষ্টি করে।
সায়মার জামার মেহেদীর দাগ অপসারণের জন্য হালকা গরম পানি ঐ দাগ বরাবর ধীরে ধীরে একটু উপর থেকে ঢালতে হবে। এরপর দাগের ওপর সাবান দিয়ে, সামান্য ঘষে নিতে হবে। দাগ হালকা না হওয়া-পর্যন্ত ঘষতে হবে। এক্ষেত্রে পুরানো টুথব্রাশ ব্যবহার করা যায়। এরপর গ্লিসারিন ও সাদা ভিনেগার দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
মেহেদীর দাগ তোলার ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড কিংবা বোরাক্স পাউডারও ব্যবহার করা যায়। কৃত্রিম তন্তুর কাপড়ে মেহেদীর রং লাগলে তা উঠাতে ভিনেগার ভালো কাজ করে। এভাবে সায়মা তার পোশাকের মেহেদীর রং অপসারণ করবেন।
পোশাক পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সায়মা যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না।
দাগ তোলার আগে কাপড়ের তন্তুর প্রকৃতি ও দাগের উৎস জানতে হবে। সায়মা মাথায় মেহেদী দেওয়ার আগে পরিধেয় পোশাকটি যাতে নষ্ট না হয় এজন্য আলাদা কোনো অ্যাপ্রোন বা ওড়না ব্যবহার করেন নি। এমনকি দাগ লেগে যাওয়া কাপড়টি আলাদা না রেখে তার সাথে একটি সাদা সুতি শাড়ি ও অধিক ময়লাযুক্ত বিছানার চাদরটিও ভিজিয়ে রাখেন। এতে করে জামা থেকে মেহেদীর রং সাদা সুতি কাপড়ে লেগে যায়। তাছাড়া কম ময়লাযুক্ত ও অধিক ময়লাযুক্ত কাপড়ও তিনি আলাদা করে ধুয়ে দেননি।
কাপড়ে রং লাগলে যে উপায় অবলম্বন করা হয় তিনি তা না করে সব কাপড়ের জন্য একই ডিটারজেন্ট পাউডার ব্যবহার করেছেন। সাদা সুতির শাড়িতে সহজেই অন্য কাপড় থেকে ময়লা লেগে দাগ স্থায়ী হতে পারে তাও তিনি জানেন না।
এ সকল দিক বিবেচনা করে বলা যায় যে, পোশাকের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সায়মা যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না।
বল পয়েন্ট কলমের দাগ তুলতে মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়।
কাপড়ে যেকোনো ধরনের দাগ পড়লে তা দ্রুত অপসারণ করা না হলে স্থায়ী হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। তাছাড়া ধোয়ার আগে কাপড়ের দাগ অপসারণ করে না নিলে তা অন্য বস্ত্রে লেগে যেতে পারে। তাই কাপড় ধোয়ার পূর্বে পোশাকের দাগ অপসারণ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!