যোগসাধনার একটি উপায় হলো যোগব্যয়াম। শ্বাসপ্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ, শরীরকে চালনা করার বিশেষ-বিশেষ পদ্ধতি বা আসন ইত্যাদিকে এক কথায় যোগব্যায়াম বলা হয়।
আহার গ্রহণে বিরতি দেওয়ার নাম উপবাস। উপবাসের আরেক নাম অনশন। চলতি কথায় উপবাসকে 'উপোস' বলে।
বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধের শক্তি সৃষ্টির জন্য আমরা যে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করি তাই হচ্ছে আহার।
একদম না খেলে দেহের ক্ষয়পূরণ হবে না, কর্মশক্তি সৃষ্টি হবে না। আমরা দুর্বল হয়ে পড়ব। আমাদের দেহ অচল হয়ে পড়বে। তারপর দেহ বিনষ্ট হবে। জীবনের ঘটবে অবসান।
শরীর সুস্থ রাখার একটি উপায় হচ্ছে যোগব্যায়াম।
যোগ শব্দটির দুটি অর্থ আছে। একটি হচ্ছে ঈশ্বরের সঙ্গে যোগ। অপরটি হচ্ছে চিত্তবৃত্তির নিরোধ। আমাদের মন এবং ইন্দ্রিয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে আমরা শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর কাজ করতে না পারি। যোগব্যায়াম হচ্ছে শরীর ও মনকে নিয়ন্ত্রণ করে স্বাস্থ্যরক্ষার অন্যতম উপায়।
যোগব্যায়াম হচ্ছে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার একটি উৎকৃষ্ট পদ্ধতি। যোগব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা অনেক। যোগব্যায়াম
অনুশীলনে-
১. মস্তিষ্কের ধারণ শক্তি বাড়ে।
২. স্নায়ু সতেজ ও মাংসপেশি সবল হয়।
৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
৪. রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ে।
৫. কিছু কিছু রোগ সেরে যায়।
৬. দেহের শক্তির পাশাপাশি মনের শক্তি বাড়ে।
খাদ্য ও পানীয় গ্রহণকে সাধারণভাবে আমরা আহার বলি। বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধের শক্তি সৃষ্টির জন্য আমরা আমাদের চাহিদা অনুসারে যে খাবার গ্রহণ করি বা যে খাবার খেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না সে খাবার হচ্ছে পরিমিত আহার।
মুনি-ঋষিরা ঈশ্বরের উপাসনা করতে গিয়ে দেখলেন, শরীর নীরোগ ও কর্মক্ষম না হলে ঈশ্বর-চিন্তা কেন, কোনো কাজই ভালোভাবে করা যায় না। তাঁরা তখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশাপাশি যোগসাধনার পদ্ধতি উদ্ভাবন করলেন, যাতে শরীর ও মন সুস্থ থাকে, কর্মক্ষম থাকে এবং একমনে ঈশ্বরের উপাসনা করা যায়। আর ঈশ্বরের উপাসনা হচ্ছে ধর্মীয় কাজ বা ধর্মের অঙ্গ। তাই বলা যায়, যোগব্যায়ামের সাথে ধর্মের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।
শরীর সুস্থ রাখার জন্য মাঝে মাঝে উপবাস করতে হয়। হিন্দুধর্মে পরিমিত আহার গ্রহণের পাশাপাশি নিয়ম করে উপবাসেরও বিধান রাখা হয়েছে। মাঝে মাঝে পরিমিত সময়ের উপবাস শরীরের খাদ্য গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। এসব দিক বিবেচনা করে হিন্দুধর্মে একাদশী, পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে উপবাস বা হালকা খাবারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যে শরীর ও মন দিয়ে আমরা ঈশ্বর ও দেব-দেবীর উপাসনা করব, তা যদি সুস্থ না থাকে, তাহলে আমরা সঠিকভাবে তাঁর উপাসনা করতে পারব না। তাই সঠিকভাবে ধর্মচর্চার জন্য শরীর ও মনের সুস্থতা প্রয়োজন। আর যোগব্যায়াম হচ্ছে শরীর ও মন সুস্থ রাখার অন্যতম উপায়। উপবাস হচ্ছে যোগব্যায়ামের যে কয়েকটি প্রক্রিয়া আছে তাদের একটি। তাই উপবাস ধর্মের অঙ্গ।
হিন্দুধর্মে একাদশী, পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তিথিতে উপবাস করতে বা হালকা খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও পূজা-পার্বণ ও ধর্মানুষ্ঠানের সময় আমরা উপবাস থাকি। পূজা হয়ে গেলে আমরা উপবাস ভেঙে আহার গ্রহণ করি। যেমন-সরস্বতী পূজার সময় আমরা অঞ্জলী দেওয়ার পর আহার গ্রহণ করি।
আমরা জানি, শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার নাম স্বাস্থ্যরক্ষা। শরীর ও মন সুস্থ না থাকলে আমাদের জীবন হয় অশান্তিময়। তাই আগে শরীরের দিকে মনোযোগ দিয়ে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে।
স্বাস্থ্যরক্ষায় আমি প্রতিদিন যা করি তা হলো-
১. নিয়মিত খেলাধুলা করি।
২. ব্যায়াম করি।
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি।
৪. নিয়মিত ও পরিমিত খাবার খাই।
যোগসাধনার একটি উপায় হলো যোগব্যায়াম। আমি যেসব কারণে যোগব্যায়াম অনুশীলন করি তা হলো-
১. মস্তিষ্কের ধারণ শক্তি বাড়ে।
২. স্নায়ু সতেজ ও মাংসপেশি সবল হয়।
৩. রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ে।
৪. দেহের শক্তির পাশাপাশি মনের শক্তি বাড়ে।
কিছু কিছু রোগ সেরে যায়।
খাদ্য ও পানীয় গ্রহণকে আমরা আহার বলি। বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধের শক্তি সৃষ্টির জন্য আহারের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কম খাদ্য গ্রহণের আবার বেশ কুফলও রয়েছে। এ কুফলসমূহ হলো-
১. দেহের ক্ষয়পূরণ হবে না।
২. কর্মশক্তি সৃষ্টি হবে না।
৩. 'আমরা দুর্বল হয়ে পড়ব।
৪. আমাদের দেহ ও মন অসুস্থ হয়ে পড়বে।
নিয়মিত আসন অনুশীলন করলে শরীরের প্রতিটি স্নায়ুকোষ ও স্নায়ুতন্ত্র, টিস্যু, পেশি সতেজ হয় এবং কর্মক্ষম থাকে। এতে শরীর সুস্থ থাকে। মন প্রশান্ত থাকে।
চিন্তার ক্ষেত্রে আসনের গুরুত্ব হচ্ছে সকল অবাঞ্ছনীয় চিন্তাকে দরে রাখা যায়।
গোমুখাসনের একটি উপকারিতা হলো – এ আসন অনুশীলনে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দূর হয়।
আসন দেহ ও মনের সুস্থতা আনে ও আমাদের প্রশান্ত করে তোলে এবং আমাদের দেহ ও মনকে একাগ্রচিত্তে ঈশ্বরের উপাসনার জন্য প্রস্তুত করে।
নিয়মিত অনুশীলনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। যেমন-
১. দেহ নমনীয় হয়, সবল হয় এবং মাংসপেশি পুষ্ট হয়।
২. দেহ ও মনের সমতা রক্ষিত হয়।
৩. অবাঞ্ছনীয় চিন্তাকে দূরে রাখা যায়।
৪.. সাধনার জন্য মন প্রস্তুত হয়।
তাই বলা যায়, আমাদের জীবনে নিয়মিত অনুশীলনের গুরুত্ব অপরিসীম।
সর্বাঙ্গাসন অনুশীলনে প্রথমেই চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হয়। পা-দুটি সোজা করে ধীরে ধীরে উপরে তুলতে হয়। তারপর কনুই শরীরের সঙ্গে প্রায় সমান্তরাল রেখে হাতের চেটো দিয়ে পিঠ ঠেলে ধরতে হয়। এ অবস্থায় খুতনি যেন বুকের উপর কণ্ঠকূপে লেগে থাকে। এভাবে দম নিতে নিতে ও ছাড়তে ছাড়তে কুড়ি/ত্রিশ সেকেন্ড থেকে পরে দম ছাড়তে ছাড়তে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। এভাবে এ আসন চারবার অভ্যাস করতে হয়। প্রতিবার অভ্যাসের' পর ত্রিশ সেকেন্ড শবাসন করতে হয়।
গোমুখাসন অনুশীলনে প্রথমেই পা-দুটিকে সামনে ছড়িয়ে দিয়ে বসতে হবে। বাম পা হাঁটুর কাছে ভাঁজ করে ওই পায়ের গোড়ালি ডান দিকের নিতম্বের পাশে স্পর্শ করাতে হবে। ঠিক একইভাবে বাম পায়ের উপর দিয়ে এনে ডান পায়ের গোড়ালি বাম দিকের নিতম্বে স্পর্শ করাতে হবে। বাম হাঁটুর উপর ডান পায়ের হাঁটু একই অবস্থায় থাকবে। এবার ডান হাত সোজা মাথার উপরে তুলে এনে ডান কনুই থেকে ভাঁজ করে পিঠের দিকে রাখতে হবে। এবার বাম হাত কনুই থেকে ভাঁজ করে পিঠের উপর দিকে আনতে হবে। তারপর বাম হাতের আঙুলগুলো দিয়ে ডান হাতের আঙুলগুলো ধরার চেষ্টা করতে হবে। মেরুদন্ড সোজা থাকবে। এভাবে প্রতি পায়ে দুবার করে চারবার অভ্যাস করতে হবে। প্রতিবার অভ্যাসের পর কুড়ি সেকেন্ড শবাসন করতে হবে।
আসন দেহ ও মনের সুস্থতা আনে। আমাদের প্রশান্ত করে তোলে। কিছু কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট আসনে বসতে হয়। আবার আসন আমাদের দেহ ও মনকে একাগ্রচিত্তে ঈশ্বরের উপাসনার জন্য প্রস্তুত করে। তাই উপাসনার ক্ষেত্রে আসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যে আসন অভ্যাস করলে দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ, সবল ও. নিরোগ হয় তাকে সর্বাঙ্গাসন বলে। অন্যদিকে, যে আসন অনুশীলনের সময় অনুশীলনকারী পায়ের অবস্থান গরুর মুখের মতো হয় সেই আসনকে গোমুখাসন বলে।
সর্বাঙ্গাসন চারবার অভ্যাস করতে হয়। সর্বাঙ্গাসনের
উপকারিতা হলো-
১. থাইরয়েড ও স্নায়ুমণ্ডলী সতেজ হয়।
২. দেহ অত্যন্ত সক্রিয়, সবল ও কর্মঠ হয়।
৩. দেহের অপ্রয়োজনীয় মেদ কমায়।
৪. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
৫. সকল ব্যাধির বিনাশ ঘটে।
নিয়মিত আসন অনুশীলন করলে যা হয়-
১. দেহ নমনীয় ও সবল হয় এবং মাংসপেশি পুষ্ট হয়।
২. দেহ ও মনের সমতা রক্ষিত হয়।
৩. অবাঞ্ছনীয় চিন্তাকে দূরে রাখা যায়।
৪. সাধনার জন্য মন প্রস্তুত হয়।
৫. শরীরের প্রতিটি স্নায়ুকোষ ও স্নায়ুতন্ত্র, টিস্যু, পেশি সতেজ হয়।
Related Question
View Allশরীর ও মনকে সুস্থ রাখার নাম স্বাস্থ্যরক্ষা।
যোগসাধনার একটি উপায় হলো যোগব্যায়াম।
পরিমিত আহার স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য উপকারী।
স্বাস্থ্যের জন্য আহারের পাশাপাশি সংযম প্রয়োজন।
পরিমিত আহার গ্রহণ আমাদের সংযম শেখায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!