জীবের ক্ষেত্রে জন্ম হলে মৃত্যু অবধারিত হবে ।
জীবের অন্যতম বৈশিষ্টা প্রজনন ।
প্রজনন শারীরতত্ত্বীয় ধরনের কার্যক্রম ।
জীবের বংশধর সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে প্রজনন বলে ।
প্রজনন প্রধানত দুই ধরনের ।
যৌন প্রজননে দুটি বিপরীতধর্মী জননকোষ পরস্পরের সাথে মিলিত হয় ।
ক্রোমোজোমের সংখ্যা জননমাতৃকোষের অর্ধেক হয় মিয়োসিস বিভাজন 'পদ্ধতিতে ।
প্রজনন না হলে জীবের অস্তিত্ব বিলোপ হয়ে যেত ।
প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপকে ফুল বলে ।
উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ ফুল ।
একটি আদর্শ ফুলের স্তবক ৫ টি ।
একটি আদর্শ ফুলের দুটি স্তবক প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ।
ফুলে পাঁচটি স্তবক উপস্থিত থাকলে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে ।
একটি সম্পূর্ণ ফুলের নাম জবা ।
একটি অসম্পূর্ণ ফুলের নাম লাউ ।
ফুলে পুং ও স্ত্রী স্তবক দুটোই উপস্থিত থাকলে তাকে উভলিঙ্গ ফুল বলে ।
ফুলে পুং ও স্ত্রী স্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে ।
ফুলে পুং ও স্ত্রী উভয় স্তবক অনুপস্থিত থাকলে তাকে ক্লীব ফুল বলে ।
ফুলের বাইরের স্তবককে বৃতি বলে ।
বৃতির প্রতিটি খণ্ডকে বৃত্যাংশ বলে ।
সবুজ বৃতি খাদ্য প্রস্তুত কাজে অংশ নেয় ।
ফুলের বাইরের দিক থেকে দ্বিতীয় স্তবককে দলমন্ডল বলে ।
বাইরের দিক থেকে ফুলের দ্বিতীয় স্তবকের নাম দলমণ্ডল ।
প্রতিটি পুংকেশরের দুইটি অংশ থাকে ।
পরাগধানী এবং পুংদণ্ড সংযোগকারী অংশকে যোজনী বল ।
প্রজনের প্রধান ধাপ দুইটি ।
পরাগায়নকে পরাগসংযোগ বলা হয় ।
ফুল ও বীজ উৎপাদনের 'পূর্ব শর্ত পরাগায়ন ।
পরাগায়ন দুই ধরনের ।
প্রজাতির চরিত্রগত, বিশুদ্ধতা বজায় থাকে স্ব-পরাগায়নে ।
বীজের অঙ্কুরোগমের হার বৃদ্ধি পায় পর-পরাগায়নে ।
বাহক নির্ভর পরাগায়ন প্রক্রিয়া পর-পরাগায়ন ।
যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মধ্যম বলে ।
পুংগ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ পরাগরেণু ।
নালিকোষ বড় হয়ে পরাগনালি উৎপন্ন করে ।
জেনারেটিভ কোষ বিভাজিত হয়ে দুইটি পুংজনন কোষ উৎপন্ন করে ।
ডিম্বক রন্দ্রের দিকের কোষ তিনটিকে গর্ভযন্ত্র বলে ।
স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ জাইগোট ।
শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে ।
ফলকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় ।
প্রাণিজগতে দুই ধরনের প্রজনন দেখা যায় ।
নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে অযৌন প্রজনন ।
যৌন প্রজননের জন্য নিষেক প্রয়োজন ।
স্ত্রী ও পুং উভয় জননকোষের পূর্ণতা প্রাপ্তির পূর্বশর্ত নিষেক ।
নিষেক জৈবিক প্রক্রিয়া ।
নিষেক দুই ধরনের ।
স্ত্রী দেহের জননাঙ্গে অন্তঃনিষেক ধরনের নিষেক সংঘটিত হয় ।
ডাঙ্গায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য অন্তঃনিষেক ।
হরমোন জৈব রাসায়নিক ধরনের পদার্থ ।
কৈশোর ও তারুণ্যের সন্ধিকালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলা হয় ।
বয়ঃসন্ধিকালের ১-২ বছর পর মেয়েরা প্রজনন ক্ষমতা লাভকরে ।
সাধারণত ৪০- ৫০ বছর পর্যন্ত মেয়েদের ঋতুস্রাব চলতে থাকে ।
একটি শুক্রাণু দিয়ে একটি মাত্র ডিম্বাণু নিষিক্ত হয় ।
সাধারণত ৩৮-৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভাবস্থা বিদ্যমান থাকে ।
নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয় ।
অমরার সাহায্যে ভ্রূণ অমরার গায়ে সংস্থাপিত হয় ।
এইডস রোগটি ১৯৮১ সালে আবিষ্কৃত হয় ।
AIDS এর পূর্ণরূপ Acquired Immune Deficiency Syndrome
এইডস আক্রান্ত রোগে ৪০% (প্রায়) শতাংশ নারী ।
বিশ্বে প্রায় ১৬৪ টি দেশে এইডস রোগের বিস্তার ঘটেছে ।
বর্তমান বিশ্বে ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি সংখ্যক লোক AIDS-এর জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত ।
এইডস রোগের জীবাণু সুস্থ দেহে প্রবেশের ৬ মাস (প্রায়) পরে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় ।
বংশবিস্তার এবং প্রজাতির সংরক্ষণের জন্য প্রজনন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি প্রক্রিয়া। মানব প্রজননে মাতৃগর্ভে ভূণের সৃষ্টি হয় এবং সন্তান জন্ম নেয়। মানুষের প্রজননের জন্য স্ত্রী ও পুরুষে পৃথক পৃথক জনন অঙ্গ বর্তমান। আর এ কারণেই মানুষকে এক লিঙ্গবিশিষ্ট প্রাণী বলা হয়।
পেলভিস অঞ্চলের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং মোটা প্রাচীরযুক্ত পেশিবহুল ফাঁপা অঙ্গটিই জরায়ু। এটি আকৃতিতে অনেকটা উল্টানো নাশপাতির মতো। জরায়ু ৩টি অংশে বিভক্ত। যথা- উপরের অংশ ফান্ডাস, মাঝের দেহ এবং নিচে নলাকৃতি সারভিক্স। প্রয়োজনীয়তা: জরায়ুতে ভ্রূণের বিকাশ ঘটে এবং প্লাসেন্টা তৈরিতে জরায়ু অংশগ্রহণ করে।
যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাই অমরা বা গর্ভফুল। অমরার কাজ:
১. ভূণের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে।
২. অমরা ভূণের ফুসফুসের মতো কাজ করে।
৩. বিপাকের ফলে যে বর্জ্য উৎপন্ন হয় তা অমরার সাহায্যে ভূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়।
এইডস একটি মরণঘাতী রোগ। এইডস রোগের কোনো প্রতিষেধক নেই। এইডস রোগ প্রতিরোধে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা উচিত-
১. মাদক গ্রহণ বা অন্য কোনো প্রয়োজনে ইনজেকশনের একই সুচ ও সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. অপরীক্ষিত রক্ত শরীরে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. অপারেশনের সময় পরিশোধিত জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।
৪. অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. এইডস আক্রান্ত মায়ের সন্তানেরও এইডস হতে পারে। তাই এইডস আক্রান্ত মহিলার সন্তান জন্মদান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
হরমোন একটি রাসায়নিক পদার্থ। যা নিঃসৃত হয় দেহের নালীবিহীন গ্রন্থি থেকে'। এই সকল নালীবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের প্রভাবে মানুষের দৈহিক, মানসিক এবং প্রজননতন্ত্রের বিকাশ ঘটে। মানবপ্রজননের হরমোনের ভূমিকা অপরিসীম। নিম্নে তা ছক আকারে প্রকাশ করা হলো:
| গ্রন্থির নাম | গ্রন্থির নাম | কাজ |
| ১. পিটুইটারি গ্রন্থি | বৃদ্ধি উদ্দীপক ও উৎপাদক হরমোন | i. জননগ্রন্থি বৃদ্ধি, ক্ষরণ, ও কাজ নিয়ন্ত্রণ ii. মাতৃদেহ স্তন গঠন ও দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ iii. সন্তান প্রসবের সময় জরায়ু প্রাচীরের সংকোচন নিয়ন্ত্রণ |
| ২. থাইরয়েড গ্রন্থি | থাইরক্সিন | i. দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ii. বয়ঃসন্ধিকালে যৌন |
| ৩. অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি | গ্লুকোকটিকয়েড | i. জননাঙ্গের বৃদ্ধি করে। ii. যৌন লক্ষণ প্রকাশ করে। |
| ৪. শুক্রাশয়ের অনাল গ্রন্থি | টেস্টোস্টেরন ও অ্যান্ড্রোজেন | i. শুক্রাশয় উৎপাদন করে। ii. দাঁড়ি গোফ গজানো নিয়ন্ত্রণ করে। iii. গলার স্বর পরিবর্তন করে। |
| ৫. ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থি | ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন, রিলাক্সিন | i. নারীসুলভ লক্ষণ সৃষ্টি করে। ii. ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। iii. গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ, অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। iv. ডিম্বাণু উৎপাদন করে। |
| ৬. অমরা | গোনাডোট্রপিক | i. স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ii. ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। |
প্রজনন হলো এমন একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে এবং ভবিষ্যৎ বংশধর রেখে যার। এটি জীবের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মূল উপায়। প্রজনন প্রধানত দুই ধরনের। যথা- যৌন প্রজনন এবং অযৌন প্রজনন। নিম্নশ্রেণির জীব সাধারণত অযৌন প্রজনন এবং উচ্চ শ্রেণির জীব যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশধর সৃষ্টি করে।
প্রজননে মিয়োসিস বিভাজনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিয়োসিসের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড (2n) জনন কোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোষ যেমন শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু তৈরি হয়। এই হ্যাপ্লয়েড কোষগুলো যৌন প্রজননের সময় মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জীব গঠন করে। তাছাড়া মিয়োসিস জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টির পাশাপাশি জীবের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রজনন প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যৌন প্রজননে দুটি বিপরীতধর্মী জনন কোষের মিলন ঘটে। এদের একটি পুংজনন কোষ ও অপরটি স্ত্রীজনন কোষ। যেসব উদ্ভিদে এ দুই ধরনের জননকোষ একই দেহে সৃষ্টি হয় তাদেরকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে। যেমন- ভুট্টা, শসা ইত্যাদি।
যদি পুং ও স্ত্রী জননকোষ একই দেহে সৃষ্টি হয়, তবে তাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে। সহবাসী উদ্ভিদে ফুলগুলো একে অপরকে পরাগায়নের মাধ্যমে প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অন্যদিকে, যখন পুং এবং স্ত্রী জননকোষ আলাদা দেহে সৃষ্টি হয় তখন তাকে ভিন্নবাসী উদ্ভিদ বলে। এসব উদ্ভিদ পরাগায়নের জন্য অন্য গাছের উপর নির্ভর করে।
যৌন প্রজননে মিয়োসিস বিভাজনের ফলে প্রজন্মান্তরে জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়। এটি জীবজগতে বিবর্তনের প্রধান কারণ এবং প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। এটি উদ্ভিদের বিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
বৈচিত্র্য কোনো প্রজাতিকে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে, সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং অভিযোজনকে সহজ করে। যৌন জননে বৈচিত্র্য বেশি সৃষ্টি হয় কারণ এতে জিনের পুনঃসংযোগ ঘটে। অযৌন জননে অপত্য জীব মাতৃজীবের প্রায় হুবহু অনুরূপ হওয়ায় বৈচিত্র্য কম থাকে। তবে অযৌন জননে দ্রুত ও কম শক্তি ব্যয়ে বেশি সংখ্যক জীব জন্মানো সম্ভব।
বৈচিত্র্য কোনো প্রজাতিকে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে, সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং অভিযোজনকে সহজ করে। যৌন জননে বৈচিত্র্য বেশি সৃষ্টি হয় কারণ এতে জিনের পুনঃসংযোগ ঘটে। অযৌন জননে অপত্য জীব মাতৃজীবের প্রায় হুবহু অনুরূপ হওয়ায় বৈচিত্র্য কম থাকে। তবে অযৌন জননে দ্রুত ও কম শক্তি ব্যয়ে বেশি সংখ্যক জীব জন্মানো সম্ভব।
ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। এটি একটি বিশেষ রূপান্তরিত বিটপ, যা প্রজননে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক প্রজননের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো না থাকলে ফুল অসম্পূর্ণ হয়। একটি উভলিঙ্গ ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই থাকে, যেমন জবা।
একটি সম্পূর্ণ ফুলের পাঁচটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ থাকে; যেমন- পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক। যেসব ফুলে এই পাঁচটি অংশই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। ধুতুরা ফুলকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয় কারণ এতে' এই পাঁচটি অংশই বিদ্যমান।
প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপই হলো ফুল। ফুল উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। যে ফুলে পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। এর যে কোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে।
পুষ্পাক্ষ হলো ফুলের বৃতশীর্ষে অবস্থিত অংশ, যা সাধারণত গোলাকার। এর ওপরেই ফুলের বাকি স্তবকগুলো পরপর সাজানো থাকে। এটি ফুলের কাঠামোগত সমর্থন প্রদান করে এবং প্রজনন প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
বৃতি হলো ফুলের বাইরের স্তবক। এটি ফুলের ভিতরের অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। সবুজ বৃতি খাদ্য প্রস্তুতিতে অংশ নেয়। রঙিন বৃতি পরাগায়নে সাহায্য করে এবং পোকামাকড় বা পাখিদের আকর্ষণ করে। বৃতি খণ্ডিত হলে বিমুক্তবৃতি এবং অখণ্ডিত হলে যুক্তবৃতি বলে।
ফুলের বাইরের স্তবককে বৃতি বলে। সবুজ বৃতি খাদ্য প্রস্তুত কাজে অংশ নেয়। এদের প্রধান কাজ হলো ফুলের ভিতরের অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। তবে যখন বৃতি রঙ-বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নে সাহায্য করে। অর্থাৎ পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এমন পোকামাকড়, পশুপাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে।
দলমণ্ডল হলো ফুলের দ্বিতীয় স্তবক, যার প্রতিটি খণ্ড পাপড়ি। পাপড়ি সাধারণত রঙিন হয়, যা পোকামাকড় ও পাখিদের আকর্ষণ করে। এতে পরাগায়ন সহজ হয়। পাপড়ি যুক্ত থাকলে যুক্তদল এবং আলাদা থাকলে বিমুক্তদল বলে।
দলমণ্ডল ফুলের অত্যাবশ্যক অঙ্গগুলোর মধ্যে অন্যতম। এতে ক্লোরোপ্লাস্ট উপস্থিত। আবার ক্রোমোপ্লাস্টে জ্যাম্পুফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি বর্ণের কণিকা থাকে। এ কারণে কোনো ফুল লাল, কোনোটি নীল, কোনোটি হলুদ, আবার কোনোটি মিশ্র বর্ণের দেখায়। দলমণ্ডলকে আকর্ষণীয় বিভিন্ন বর্ণের দেখায় বলে একে আকর্ষণীয় স্তবক বলা হয়।
পুংস্তবক (Androecium) হলো ফুলের তৃতীয় স্তবক এবং একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এটি এক বা একাধিক পুংকেশর নিয়ে গঠিত। প্রতিটি পুংকেশর দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত; পুংদণ্ড (filament) এবং পরাগধানী (anther)। পরাগধানীতে প্রাগরেণু উৎপন্ন হয়, যা পরাগায়নে ভূমিকা রাখে।
পুংস্তবককে গুচ্ছ অনুসারে একগুচ্ছ, দ্বিগুচ্ছ এবং বহুগুচ্ছে ভাগ করা হয়। পরাগদণ্ড একগুচ্ছে থাকলে তাকে একগুচ্ছ, যেমন- জবা, দুই গুচ্ছে থাকলে তাকে দ্বিগুচ্ছ, যেমন- মটর এবং বহুগুচ্ছে থাকলে তাকে বহুগুচ্ছ পুংস্তবক বলা হয়, যেমন- শিমুল।
যুক্তধানী ও দললগ্ন পুংস্তবকের মধ্যে দুইটি পার্থক্য নিম্নরূপ-
| যুক্তধানী পুংস্তবক | দললগ্ন পুংস্তবক |
| ১. পরাগধানী একগুচ্ছে থাকে। | ১. মুক্ত অবস্থায় এবং পুংকেশর দলমণ্ডলের সাথে যুক্ত থাকে। |
| ২. প্রতিটি যুক্তধানী থেকে পৃথক ফুল বের হয়। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা। | ২ . সব ফুল একটি স্থানে ঘন সন্নিবিষ্ট হয়। যেমন- সরিষা, সূর্যমুখী, ধুতুরা। |
ফুলের তৃতীয় এবং অত্যাবশ্যকীয় স্তবক হলো পুংস্তবক। এর প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। প্রতিটি পুংকেশর পরাগদণ্ড ও পরাগধানী নিয়ে গঠিত। পুংস্তবকের পরাগদণ্ডগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। পরাগদণ্ডগুলো একগুচ্ছে থাকলে তাকে একগুচ্ছ পুংস্তবক বলা হয়। যেমন- শিমুল।
পুংস্তবক হলো ফুলের তৃতীয় স্তবক এবং একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এই স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। প্রতিটি পুংকেশরের দুইটি অংশ যথা- পুংদণ্ড বা পরাগদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগধানী বলে। পরাগধানী এবং পুংদণ্ড সংযোগকারী অংশকে যোজনী বলে। পরাগধানীর মধ্যে পরাগ উৎপন্ন হয়। এই পরাগরেণু অঙ্কুরিত চয়ে পরাগনালি গঠন করে। এই পরাগনালিকায় পুংজননকোষ উৎপন্ন হয়। পুংজননকোষ সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে।
ফুলের স্ত্রীস্তবক অত্যাবশ্যকীয় স্তবক কারণ এটি ফুলের প্রজননে সরাসরি অংশ নেয়। স্ত্রীস্তবক থেকে স্ত্রীজননকোষ পুংস্তবক থেকে উৎপন্ন পুংজননকোষের সাথে মিলিত হয়ে নিষেক ঘটায় এবং ফল ও বীজ তৈরি করে।
পুংস্তবক ও স্ত্রী স্তবক প্রজননের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এরা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়। পুংস্তবক থেকে পুংজনন কোষ এবং স্ত্রীস্তবক থেকে স্ত্রীজনন কোষ তৈরি হয়। প্রজনন কোষ দুটির মিলনে নিষেক ঘটে এবং ফল ও বীজ তৈরি হয়। তাই পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবককে ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশ বলা হয়।
স্ত্রীস্তবক ফুলের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং এটি গর্ভপত্র (Carpel) নিয়ে গঠিত। গর্ভপত্রের তিনটি অংশ রয়েছে: গর্ভাশয় (Ovary), গর্ভদণ্ড (Style), এবং গর্ভমুন্ড (Stigma)। এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে স্ত্রীস্তবক গঠিত হতে পারে, যা আবার দুটি ভাগে বিভক্ত হয়: যুক্তগর্ভপত্রী (Syncarpous) এবং বিযুক্তগর্ভপত্রী (Polycarpous) | গর্ভাশয়ে ডিম্বক থাকে যেখানে ডিম্বাণু তৈরি হয়।
পুষ্পমঞ্জরি হলো ফুলসহ একটি বিশেষ শাখা, যেখানে ফুলগুলো নিয়মিতভাবে সাজানো থাকে। ফুলসহ শাখাটি মঞ্জরিদণ্ড নামে পরিচিত। পুষ্পমঞ্জরি বিভিন্নভাবে হতে পারে, যেমন অনিয়ত (recemose) এবং নিয়ত (cymose) পুষ্পমঞ্জরি। অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরির শাখা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পায়, যেখানে পুষ্প উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বৃদ্ধি থেমে যায়। এটি পরাগায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি হলো এমন এক ধরনের পুষ্পমঞ্জরি, যেখানে শাখার বৃদ্ধি পুষ্প উৎপাদন হওয়ার পর থেমে যায়। এই প্রকারের মঞ্জরিতে পুষ্পের উৎপাদন নির্দিষ্ট সময়ে হয় এবং পরবর্তী বৃদ্ধি আর ঘটে না। নিয়ত পুষ্পমঞ্জরিতে পুষ্পগুলো সাধারণত একটি নির্দিষ্ট নিয়মে সাজানো থাকে। উদাহরণ হিসেবে, ক্যাম্পানুলা ও তামাক গাছের পুষ্পমঞ্জরি নিয়ত ধরনের হতে পারে। এর মাধ্যমে পুষ্প উৎপাদনের পর শাখার বৃদ্ধি থেমে যায় এবং পরবর্তী পুষ্প উৎপাদনের জন্য অন্য শাখা সৃষ্টি হয়।
ফুলসহ একটি গাছের শাখাকে পুষ্পমঞ্জরি বলা হয়। গাছের যে শাঁখায় ফুলগুলো সজ্জিত থাকে তাকে মঞ্জরিদণ্ড বলে। গাছের এ শাখার বৃদ্ধি অসীম হলে তাকে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে। এ ধরনের পুষ্পমঞ্জরিতে মঞ্জরিদন্ডের শীর্ষদেশ একটি ফুলে শেষ না হয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
পরাগায়ন হলো পরাগরেণুর স্থানান্তর প্রক্রিয়া, যেখানে পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলে বা অন্য ফুলে স্থানান্তরিত হয়। এটি ফুল এবং বীজ উৎপাদনের জন্য পূর্বশর্ত। পরাগায়ন দুই ধরনের হতে পারে- স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন। স্ব-পরাগায়ন ঘটে যখন একই ফুল বা একে অপরের কাছাকাছি দুটি ফুলে পরাগায়ন হয়।
পরাগরেণু হলো উদ্ভিদের পুংজননকোষ যা পুংকেশরের পরাগধানী থেকে উৎপন্ন হয়। পরাগরেণুর প্রধান কাজ হলো পরাগ নালি গঠন করা। এই নালিকায় পুংজননকোষ উৎপন্ন হয়, যা সরাসরি জনন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এটি উদ্ভিদের প্রজননের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
পরায়গায়নের ফলে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয় এবং পরে 'নিষেক ঘটে। পরাগায়ন না ঘটলে নিষেক ঘটবে না। ফলে ফল ও বীজ উৎপন্ন হবে না। উদ্ভিদের বংশবিস্তারে ব্যাঘাত ঘটবে এবং প্রাণীদের খাদ্যের সংকট দেখা দিবে।
স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কমে এবং পরাগায়নের জন্য বাহকের প্রয়োজন হয় না। এটি পরাগায়ন প্রক্রিয়াকে নিশ্চিত করে, যা গাছের প্রজননে সহায়তা করে। স্ব-পরাগায়নে নতুন উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, যা জাতগত বৈশিষ্ট্য সুরক্ষিত রাখে।
স্ব-পরাগায়নের দুইটি অসুবিধা হলো-
১. একই উদ্ভিদের জিন একাধিক প্রজন্মে পুনরাবৃত্ত হয়, যা জেনেটিক বৈচিত্র্য হ্রাস করে।
২. নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে না, ফলে উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে।
স্ব-পরাগায়নে একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয় তাতে বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন আসে না। কারণ অন্য কোনো উদ্ভিদের পরাগ সংযোগ এখানে হয়নি। এভাবেই স্বপরাগায়নে প্রজাতির গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।
পর-পরাগায়ন ঘটে যখন পরাগরেণু এক ফুল থেকে অন্য ফুলে স্থানান্তরিত হয় এবং তা একই গাছের বা আলাদা গাছের হতে পারে। এটি স্ব-পরাগায়নের তুলনায় একটু বেশি নির্ভরশীল, কারণ বাহক যেমন পোকামাকড় বা বাতাসের ওপর নির্ভর করতে হয়। পর-পরাগায়নের মাধ্যমে নতুন গাছের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন হতে পারে, কারণ দুইটি আলাদা ফুলের পরাগরেণুর মেলবন্ধন ঘটে। এটি উদ্ভিদের বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে সহায়তা করে। উদাহরণ হিসেবে, ফল বা বীজ উৎপাদনে পর-পরাগায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পর-পরাগায়নের ফলে দুটো বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ :
১. পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়।
২. বীজের অঙ্গুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়।
বিশেষ করে পরপরাগায়নের ক্ষেত্রে যার দ্বারা পরাগরেণু অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয় তাকে মাধ্যম বলে। পরাগায়ন নিশ্চিত করণের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে মাধ্যমের অনুপস্থিতিতে পরাগায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পর-পরাগায়ন ঘটে তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। অর্থাৎ পর-পরাগায়নের ফলে সৃষ্ট নতুন উদ্ভিদে নতুন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটার কারণে এসব গাছ থেকে নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়।
পর-পরাগায়নের ৩টি অসুবিধা হলো-
১. বাহক নির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না।
২. এ প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে।
৩. প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পর-পরাগায়নে একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে পর-পরাগায়নে এসব উদ্ভিদে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়।
আমরা জানি, একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে, তখন তাকে পরপরাগায়ন বলে। যেমন-শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পরপরগায়ন ঘটে থাকে। পরপরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় বেশি হয় কারণ পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় হয় ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পেঁপে গাছে নতুন বৈচিত্র্য সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো পর-পরাগায়ন। একই প্রজাতির দু'টি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। পেঁপে গাছে পর-পরাগায়ন ঘটে বলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তি সম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। মূলত এভাবেই পেঁপে গাছে নতুন বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।
স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়নের মধ্যকার পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
| স্ব-পরাগায়ন | পর-পরাগায়ন |
| ১. একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটলে তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। | ১. একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ ঘটলে তাকে পর-পরাগায়ন বলে। |
| ২. নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয় না। | ২. নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়। |
পরাগায়নের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন প্রাণী ও পতঙ্গ ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় যার ফলে পরাগের স্থানান্তর ঘটে। পতঙ্গ ও প্রাণীর ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর একটি অন্যতম কারণ হলো ফুলের সুন্দর রঙের আকর্ষণ। ফুলের পাপড়ির বিভিন্ন সুন্দর রঙ ও আকার-আকৃতির জন্য পতঙ্গ ও প্রাণীরা আকর্ষিত হয়ে ফুলে বসলে পরাগায়ন ঘটে। এভাবেই ফুলের পাপড়ি পরাগায়নে অংশগ্রহণ করে।
যেসব ফুলের পরাগ বায়ুর মাধ্যমে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত বাহিত হয় এবং পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। যেমন- ধান।
বায়ুপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য নিচে লেখা হলো-
১. ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন।
২. ফুলে সুগন্ধ নেই এবং সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
৩. এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো ও শাখান্বিত।
বায়ুপরাগী ফুল হালকা এবং মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং শাখান্বিত, কখনো পালকের মতো। ফলে বাতাস থেকে পরাগরেণু সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারে। বায়ুপরাগী ফুলের সকল বৈশিষ্ট্য ধানের মধ্যে বিদ্যমান থাকায় ধানকে বায়ুপরাগী ফুল বলা হয়।
অনেক ফুলেই মধুগ্রন্থি থাকে। ফুলের এই মধু আহরণ করতে প্রাণী 'বা কীটপতঙ্গ ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। সে সময় ঐ ফুলের পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। এই বাহকটি যখন অন্য ফুলে গিয়ে বসে তখন পরাগ পরবর্তী ফুলের গর্ভমুণ্ডে লেগে যায় এবং পরাগায়ন ঘটে। কাজেই পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে প্রাণী বা কীট পতঙ্গকে আকর্ষণের মাধ্যমে মধুগ্রন্থি পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাতাশেওলার ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা হওয়ায় সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। পরিণত পুংপুষ্প বৃত্ত থেকে ফুলে পানিতে ভাসতে থাকে। পুংপুষ্প ভাসতে ভাসতে স্ত্রীপুষ্পের কাছে পৌঁছালে সেখানেই পরাগায়ন ঘটে।
প্রাণীপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
১. ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়।
২. ফুল ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সাজানো থাকে।
৩. রং আকর্ষণীয় হয়, ফুলে গন্ধ থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে।
যে সকল ফুল তাদের উজ্জ্বল দলমণ্ডল বা বৃতি দ্বারা পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে এবং পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাদেরকে পতঙ্গপরাগী ফুল বলে। যেমন: জবা, কুমড়া ইত্যাদি।
পতঙ্গ পরাগী ফুলের দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. ফুল বড়, রঙিন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত।
২. পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো ও সুগন্ধযুক্ত হয়।
সরিষা ফুল বড়, রঙিন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত হয়। এর পরাগরেণু গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও সুগন্ধযুক্ত হয়। ফলে বিভিন্ন পতঙ্গ, যেমন-
মৌমাছি সরিষা ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হয় ও পর-পরাগায়নে সহায়তা করে। সরিষা উভলিঙ্গ ফুল হওয়ায় এতে স্ব-পরাগায়নও ঘটে।
প্রাণী এবং বায়ুপরাগী ফুলের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:
| প্রাণিপরাগী ফুল | বায়ুপরাগী ফুল |
| ১. প্রাণিপরাগী ফুল মোটামুটি বড়. ধরনের হয়। | ১. বায়ুপরাগী ফুল হালকা ও.. মধুগ্রন্থিবিহীন'। |
| ২. এদের রং আকর্ষণীয় হয়। | ২. এদের রং আকর্ষণীয় নয়। |
| ৩. কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। | ৩. ধান, গম ইত্যাদি। |
পুং গ্যামেটোফাইট মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে, যেখানে পরাগ মাতৃকোষ চারটি অপত্য পরাগ কোষ (n) সৃষ্টি করে। পরাগ থলিতে থাকা অবস্থায় পরাগরেণু তার অঙ্কুরোদগম শুরু করে এবং এর নিউক্লিয়াস মাইটোটিক বিভাজনে বড় কোষ (নালিকোষ) এবং ছোট কোষ. (জেনারেটিভ কোষ) সৃষ্টি হয়। নালি কোষটি বড় হয়ে পরাগ নালিকা তৈরি করে এবং জেনারেটিভ কোষটি বিভাজিত হয়ে দুটি পুং জননকোষ উৎপন্ন করে। এই বিভাজন পরাগরেণু অথবা পরাগনালিতে 'ঘটতে পারে। এভাবে পরাগরেণু পুং গ্যামেটোফাইটে পরিণত হয়।
পরাগনালি উৎপন্ন হয় পরাগরেণুর নালিকোষ থেকে, যা পরাগগ্রন্থির মধ্যে উপস্থিত থাকে। পরাগরেণু যখন গর্ভমুণ্ডে পৌছায় তখন নালিকোষের বৃদ্ধি ঘটে এবং এটি তখন পরাগ নালিকা সৃষ্টি করতে থাকে। 'পরাগনালিকায় পরাগরেণুর মাধ্যমে পুংগ্যামেটকে ডিম্বাশয়ে পৌছানোর জন্য প্রয়োজনীয় পথ তৈরি করে। যাতে পুং গ্যামেট স্ত্রী গ্যামেটের সাথে মিলিত হতে পারে।
স্ত্রী গ্যামেটোফাইটে প্রতিপাদ কোষগুলি গর্ভযন্ত্রের বিপরীত দিকের কোষগুলো। এদের ভূমিকা হলো ভূণথলির পুষ্টি ও বিকাশে সহায়তা করা। প্রতিপাদ কোষগুলো সাধারণত গর্ভযন্ত্রের বাইরে অবস্থান নেয় এবং নিষেক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে। এই কোষগুলোর পুষ্টি প্রদানকারী ভূমিকা গর্ভের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কার্যকলাপ ভূণথলির মধ্যে প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহের মাধ্যমে মেগাস্পোর এবং ডিম্বাণুর বিকাশকে সমর্থন করে।
স্ত্রী-গ্যামেটোফাইটের উৎপত্তি মেগাস্পোরোজেনেসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। প্রথমে, ভূণপোষক কোষটি মিয়োসিসের মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষে বিভক্ত হয়, যার মধ্যে তিনটি কোষ নষ্ট হয়ে যায়। সর্বনিম্ন কোষটি বৃদ্ধি পেয়ে ভূণথলি তৈরি করে। এ কোষের নিউক্লিয়াস হ্যাপ্লয়েড (n) থাকে; যা পরে দুটি নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়। দুটি নিউক্লিয়াসের প্রতিটি পরবর্তী বিভাজনে চারটি নিউক্লিয়াস তৈরি হয়, যেগুলি পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড গৌণ নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে, যা স্ত্রী-গ্যামেটোফাইট গঠনের প্রাথমিক ধাপ।
ফুলের পরাগধানীতে অবস্থিত পরাগরেণু পুং গ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। পরাগধানীতে থাকা অবস্থায়ই পরাগরেণুর অঙ্কুরোদগম শুরু হয়। এক্ষেত্রে পরাগরেণুর কেন্দ্রিকাটি মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে একটি বড় কোষ ও একটি ক্ষুদ্র কোষ সৃষ্টি করে। এ ক্ষুদ্র কোষটিকে জেনারেটিভ কোষ বলা হয়।
স্ত্রী গ্যামেটোফাইট উৎপত্তির সময় ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষ তিনটিকে গর্ভযন্ত্র বলে। এর মাঝের কোষটি বড়, একে ডিম্বাণু এবং অপর কোষ দুটিকে সহকারী কোষ বলা হয়।
স্ত্রী গ্যামিটোফাইট, সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস ভ্রূণথলির কেন্দ্রস্থলে এসে পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে গৌণ নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। দুই মেরুর নিউক্লিয়াসগুলো সামান্য সাইটোপ্লাজম সহকারে কোষের সৃষ্টি করে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষ তিনটিকে Egg apparatus বা গর্ভযন্ত্র বলে।
গর্ভাশয়ের প্রস্থচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করতে ফুলের গর্ভাশয় প্রথমে আলাদা করতে হয়। তারপর ব্লেড দিয়ে গর্ভাশয়ের প্রস্থচ্ছেদ করা হয় এবং সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পরীক্ষা করা হয়। এতে ডিম্বক এবং ডিম্বাণুর অবস্থান দেখা যায়। এই পর্যবেক্ষণ থেকে গর্ভাশয়ের গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট প্রথম কোষটিকে জাইগোট বলা হয়। পরাগায়নের ফলে পরিণত পরাগরেণু গর্ভপত্রের গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়। এরপর পরাগনালিকা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়ে গর্ভদণ্ড ভেদ করে এবং কিছু তরল শোষণ করে স্ফীত হয়ে উঠে। এক সময় স্ফীত অগ্রভাগটি ফেটে পুংজনন দুটি ভ্রূণথলিতে যুক্ত হয়। এর একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
নিষেক প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর মিলন ঘটে। শুক্রাণু সক্রিয়ভাবে ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে এবং এদের নিউক্লিয়াস দুটি পরস্পর একীভূত হয়ে জাইগোট গঠন করে। ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু উভয়ই হ্যাপ্লয়েড (n)। যেহেতু এদের মিলনের মাধ্যমে জাইগোট তৈরি হয় ফলে জাইগোট ডিপ্লয়েড (2n) হয়।
জাইগোট কোষের বিভাজন অনুপ্রস্থে (Transversely) ঘটে, যার ফলে দুটি কোষ সৃষ্টি হয়। একটি কোষ ভিত্তি কোষ (Basal cell) এবং অপরটি এপিক্যাল কোষ (Apical cell) হিসেবে পরিচিত। ভিত্তি কোষটি ভ্রূণধারক (Suspensor) গঠন করতে সহায়তা করে, যা ভ্রূণের পুষ্টি সরবরাহে সাহায্য করে। অন্যদিকে, এপিক্যাল কোষটি ধীরে ধীরে ভূণে পরিণত হয় এবং বীজপত্র, ভূণমূল ও ভ্রূণকাণ্ড গঠনে ভূমিকা রাখে। এভাবে জাইগোটের বিভাজন স্পোরোফাইট গঠনের. প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কাজ করে।
দ্বিনিষেককালীন সময়ে একটি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে আবার আরেকটি পুংগ্যামেট একই সাথে ডিপ্লয়েড গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত হয় এবং ট্রিপ্লয়েড সস্যকণা উৎপন্ন করে। এতে 3n সংখ্যক ক্রোমোজোম বিদ্যমান থাকে।
দ্বিনিষেককালীন সময়ে একটি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয় আবার আরেকটি পুংগ্যামেট একই সাথে ডিপ্লয়েড গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত হয় এবং ট্রিপ্লয়েড সস্যকোষ উৎপন্ন করে। এতে 3n সংখ্যক ক্রোমোজোম বিদ্যমান থাকে।
উদ্ভিদের ক্ষেত্রে নিষেকের তাৎপর্য-
১. নিষেকের ফলে স্ত্রী স্তবকের ডিম্বকসমূহ বীজে রূপান্তরিত হয়।
২. নিক্তি বীজ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি করে।
৩. 'উদ্ভিদের নিষেক দ্বারা সৃষ্ট ফল ও বীজ খেয়ে প্রাণিকূল ও মানবজাতি বেঁচে আছে।
৪. নিষেকের ফলে গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়।
নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরাগরেণু এবং ডিম্বাণুর মিলনে গর্ভাশয়ে একটি নতুন জাইগোট সৃষ্টি হয়। এই জাইগোটের প্রথম বিভাজনে দুটি কোষ তৈরি হয়, যা স্পোরোফাইট গঠনের সূচনা করে। ধীরে ধীরে জাইগোট থেকে নতুন স্পোরোফাইটের অংশগুলো যেমন বীজপত্র, তৃণমূল এবং ভূণকাণ্ড গঠিত হয়। গর্ভাশয়ে উদ্দীপনা সৃষ্টির মাধ্যমে ডিম্বকগুলো বীজে পরিণত হয়। এরপর বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোরোফাইট গঠন করে, যা নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
এপিক্যাল কোষের ভূমিকা হলো নতুন স্পোরোফাইট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি জাইগোটের প্রথম বিভাজনে সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে ভূণে পরিণত হয়। এপিক্যাল কোষের বিভাজনে বীজপত্র, ভূণমূল এবং ভূণকাণ্ড গঠন হয়। এটি সম্পূর্ণ স্পোরোফাইটের গঠন প্রক্রিয়ার জন্য প্রাথমিক কাঠামো প্রদান করে। এর ফলে স্পোরোফাইটের বৃদ্ধি এবং পূর্ণতা অর্জন হয়, যা পরবর্তী প্রজন্মের উদ্ভিদ তৈরির জন্য সহায়ক।
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবকে সৃষ্ট পুং জননকোষ ও স্ত্রী জননকোষ সরাসরি প্রজননে অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ পরাগায়নের ফলে পুং জননকোষ ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং জাইগোট সৃষ্টি করে। এই জাইগোট কোষ ও নিষিক্ত ডিম্বকটি বিভাজিত হয়ে বীজ এবং গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। পরবর্তীতে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
গর্ভাশয়সহ ফুলের অনান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। আপেলের ফুলের গর্ভাশয়সহ অনান্য অংশ পুষ্ট হয়ে ফলে পরিণত হয় তাই তাকে অপ্রকৃত ফল বলে।
ফল তৈরির পূর্বশর্ত হলো নিষেক। নিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গর্ভাশয়ে বিশেষ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। নিষিক্ত ডিম্বাণু ফলের অভ্যন্তরে বীজে এবং গর্ভাশয়ত্বক ফলত্বকে পরিণত হয়।
যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব তার বংশধর সৃষ্টি করে, তাকেই প্রজনন বলে। প্রাণিজগতে প্রজনন দুই প্রকার। যথা-
১. অযৌন প্রজনন এবং ২. যৌন প্রজনন।
অযৌন প্রজনন: নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে অযৌন প্রজনন ঘটে। মুকুলোদগম, বিভাজন, খণ্ডায়ন ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অযৌন প্রজনন হয়।
যৌন প্রজনন: যে প্রক্রিয়ায় দুটি বিপরীত লিঙ্গের প্রাণীর পুং ও স্ত্রী জননকোষ বা গ্যামেট উৎপন্ন করে এবং তাদের নিষেকের মাধ্যমে প্রজনন ঘটায় ও সন্তান-সন্তুতি-উৎপন্ন করে তাকে প্রজনন বলে।
ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর মিলনকে নিষেক বলে। শুক্রাণু সক্রিয়ভাবে ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে এবং এদের নিউক্লিয়াস দুটি পরস্পর একীভূত হয়। একীভূত হয়ে যে কোষটি উৎপন্ন হয়, তাকে জাইগোট বলে। ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু উভয়ই হ্যাপ্লয়েড (n) অর্থাৎ একপ্রস্থ ক্রোমোসোম বহন করে। জাইগোট ডিপ্লয়েড (2n) বা দুইপ্রস্থ ক্রোমোসোম বিশিষ্ট। স্ত্রী ও পুং উভয় জননকোষের পূর্ণতা প্রাপ্তি নিষেকের পূর্বশর্ত।
যে নিষেক ক্রিয়া প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত হয় তাকে বহিঃনিষেক বলে। এ ধরনের নিষেক সাধারণত পানিতে বাস করে এমন সব প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যেমন- বিভিন্ন ধরনের মাছ, ব্যাঙ প্রভৃতি। তবে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন- হাঙ্গর।
স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে সংঘটিত নিষেক অন্তঃনিষেক নামে পরিচিত। সাধারণত শারীরিক মিলনের মাধ্যমে পুরুষ প্রাণী তার শুক্রাণু স্ত্রী জননাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে এ ধরনের নিষেক ঘটায়। অন্তঃনিষেক ডাঙায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
হাঙ্গরে অন্তঃনিষেক হয়। যে নিষেকক্রিয়া প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত হয় তা বহিঃনিষেক নামে পরিচিত। এ ধরনের নিষেক সাধারণত পানিতে বাস করে এমন সব প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যেমন- বিভিন্ন ধরনের মাছ। তবে এর ব্যতিক্রম রয়েছে, যেমন-হাঙ্গর এবং কয়েক প্রজাতির মাছ।
প্রজননের জন্য স্ত্রী ও পুরুষে পৃথক পৃথক জনন অঙ্গ বর্তমান থাকলে তাকে একলিঙ্গ বিশিষ্ট প্রাণী বলে। যেহেতু মানুষের স্ত্রী ও পুরুষে ভিন্ন রকম জনন অঙ্গ বর্তমান তাই মানুষকে এক লিঙ্গবিশিষ্ট প্রাণী বলা হয়।
পিটুইটারি গ্রন্থি মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে বিভিন্ন ধরনের বৃদ্ধি উদ্দীপক হরমোন এবং উৎপাদক হরমোন নিঃসৃত হয়। এ হরমোনগুলো জননগ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ এবং কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, মাতৃদেহে স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি এবং দুগ্ধক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া এগুলো জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে।
মানবশিশু তার বাল্যকাল অতিক্রম করে কৈশোর ও তারুণ্যে উপণীত হয়। কৈশোর ও তারুণ্যের সন্ধিকালই হলো বয়ঃসন্ধিকাল। এসময় ছেলে ও মেয়েদের দৈহিক ও মানসিক গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যগুলোর বিকাশ ঘটে এবং মানসিক পরিবর্তন ঘটে বলে মানবজীবনের এই সময়কালই বিশেষভাবে লক্ষণীয় ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো নিম্নরূপ :
শারীরিক পরিবর্তন:
১. ছেলেদের গোঁফ-দাড়ি গজায়।
২. গলার স্বর পরিবর্তন হয়।
৩. উচ্চতাও একটু একটু করে বাড়তে থাকে।
৪. বগলে লোম জন্মানো শুরু করে।
মানসিক পরিবর্তন:
১. নানা ধরনের ভালো লাগা না লাগা বোধ হয়।
২. বড়দের আদেশ, নির্দেশ মানতে ভালো লাগে না।
৩. স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে চায়।
৪. বন্ধুদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে চায়।
বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তনগুলো হলো-
১. দেহত্বক কোমল হয়।
২. দ্রুত উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
৩. শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পরিপক্কতা লাভ করে।
৪. নিয়মিত মাসিক বা ঋতুস্রাব হয়ে থাকে।
বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের মানসিক পরিবর্তনগুলো হলো-
১. আবেগ দ্বারা চালিত হয়।
২. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।
৩. নিজের প্রতি অন্যের আগ্রহ লাভের ইচ্ছা পোষণ করে।
৪. মানসিক অবস্থা খুব দ্রুত উঠানামা করে।
বয়ঃসন্ধিকাল থেকে মেয়েদের নির্দিষ্ট সময় (২৮ দিন) পরপর রক্তস্রাব বা মাসিক হয়। সাধারণত ৪০ - ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মহিলাদের ঋতুস্রাব চক্র চলতে থাকে, এরপর ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। একে মেনোপজ বলা হয়। এর মাধ্যমে গর্ভধারণ ক্ষমতা রহিত হয়।
জরায়ু হচ্ছে স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে ভূণের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে থাকে। নিম্নে এর প্রয়োজনীয়তা দেওয়া হলো-
১. জরায়ুর প্রাচীরে ভূণ সংস্থাপিত হয়।
২. জরায়ুর প্রাচীরে ভূণের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে।
৩. জরায়ু নিষেকের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর চলনে সহায়তা করে থাকে।
নিষিক্ত ডিম্বাণু ধীরে ধীরে ডিম্বনালি বেয়ে জরায়ুর দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় নিষিক্ত ডিম্বাণুটি বার বার বিভাজিত হয়ে স্তূপে পরিণত হয়। এ পর্যায়ের ভূণকে বলা হয় ব্লাস্টোসিস্ট এবং ব্লাস্টোসিস্ট তৈরির প্রক্রিয়াটিই হলো ব্লাস্টোসিস। ব্লাস্টোসিস্ট উন্নত জীবের যৌন জননের একটি বৈশিষ্ট্য।
মানব ভ্রূণের বিকাশের ব্লাস্টোসিস্ট পরবর্তী পর্যায়গুলো সমাপনের জন্য ভ্রূণকে জরায়ুর প্রাচীরে সংলগ্ন হতে হয়। জরায়ুর প্রাচীর ভ্রূণের এই সংযুক্তিকে ভ্রূণ সংস্থাপন বলা হয়। জরায়ুর অন্তঃগাত্রে সংলগ্ন অবস্থায় ভূণটি বড় হয় ও মানবশিশুতে পরিণত হয়।
যৌন জননকারী প্রাণীর মিলনের ফলে যে জাইগোট তৈরি হয়, তার মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বিভাজিত হয়ে অসংখ্য বহুকোষী ভ্রূণ তৈরির প্রক্রিয়াকে ক্লিভেজ বলে।
মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক। জরায়ুর অমরা অঙ্গটি বৃক্কের মতো কাজ করে। বৃক্ক যেমন দেহ থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয় তেমনি ভ্রূণের বিপাকের ফলে যে বর্জ্যপদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়।
জরায়ুর অমরা অঙ্গ বৃক্কের মতো কাজ করে। অমরা একই সাথে বৃক্কের মতো কাজ করে। বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়।
অমরার মাধ্যমে একটি ভ্রূণ তার মাতৃদেহ থেকে সকল খাদ্য উপাদান যেমন- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি ও খনিজ লবণ ইত্যাদি গ্রহণ করে এবং অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং ভূণ নিজের কার্বন ডাইঅক্সাইড বিনিময় করে। এভাবে অমরা একটি ভ্রূণকে বাঁচিয়ে রাখে।
প্রত্যেক প্রজাতিতে ভ্রূণের জন্য মাতৃদেহের ভিতর সহজ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবর্ধনের ব্যবস্থা হিসেবে ভ্রূণের চারদিকে কতগুলো ঝিল্লি বা আবরণ থাকে। এসব ভ্রূণ আবরণী ভ্রূণের পুষ্টি, গ্যাসীয় আদান-প্রদান, বর্জ্য নিষ্কাশন ইত্যাদি কাজে সহায়তা করে। ভ্রূণ আবরণীগুলো ক্রমবর্ধমান ভ্রূণকে রক্ষা করে এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। কাজেই গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ আবরণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃজরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। অমরার মাধ্যমে একটি ভ্রূণ তার মাতৃদেহ থেকে সকল খাদ্য উপাদান, যেমন- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি ও খনিজ লবণ ইত্যাদি গ্রহণ করে এবং অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। অমরার মাধ্যমে ভূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রুণ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময় ঘটে। এই জন্য অমরাকে ফুসফুসের সাথে তুলনা করা হয়।
প্রত্যেক প্রজাতিতে ভ্রূণের জন্য মাতৃদেহের ভিতর সহজ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবর্ধনের ব্যবস্থা হিসেবে ভ্রূণের চারদিকে যে আবরণগুলো থাকে সেগুলোকে বলা হয় ভ্রূণ আবরণী। এগুলো ভ্রূণের পুষ্টি, গ্যাসীয় আদান-প্রদান, বর্জ্য নিষ্কাশন ইত্যাদি কাজে সহায়তা করে থাকে।
জরায়ু নারীদের জননাঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিষিক্ত ডিম্বাণু ধীরে ধীরে ডিম্বনালি বেয়ে জরায়ুর দিকে অগ্রসর হয়। আর এখানেই নিষিক্ত ডিম্বাণুর কোষ বিভাজন বা ক্লিভেজ চলতে থাকে। পরবর্তীতে ভ্রূণ জরায়ুর প্রাচীরে সংস্থাপিত হয় যাকে গর্ভধারণ বলে। তাই গর্ভধারণের জন্য জরায়ুর প্রয়োজন অপরিসীম।
যৌন প্রজননের ক্ষেত্রে প্রাণীর ভূণ তৈরির পর মাতৃগর্ভে অমরার মধ্যে ভ্রূণের বৃদ্ধি চলতে থাকে। এক্ষেত্রে প্রায় ৮ সপ্তাহ পরে ভূণকে ফিটাস, বলা হয়। এ সময় ভ্রূণের অঙ্গগুলো ছোট আকারের থাকে।
অমরা (বা Placenta) হলো গর্ভাশয়ের 'ভেতর এক প্রকার টিস্যু যেখান থেকে ডিম্বক সৃষ্টি হয়। যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃকোষে ভূণ ক্রমবর্ধমান এবং মাতৃ জরায়ুর টিস্যুর সাথে যুক্ত থাকে ও সমন্বয় সাধন করে তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে।
ভ্রূণ মাতৃগর্ভে গড়ে প্রায় 40 সপ্তাহ অবস্থান করে। ঐ একই সময়ে গর্ভবতী মায়ের অগ্রপিটুইটারি ও অমরা থেকে হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়। প্রসবের পূর্বে জরায়ু নির্দিষ্ট ব্যবধানে সংকুচিত হতে থাকে এবং ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি হয়। এই ক্রমবর্ধমান বেদনাকে প্রসব বেদনা বলে।
HIV-এর আক্রমণে AIDS রোগ হয়ে থাকে। HIV শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষতি সাধন করে ও এ কণিকার অ্যান্টিবডি তৈরিতে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা ও অ্যান্টিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় ফলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। AIDS-এর আক্রমণে রোগীর মৃত্যু যেহেতু অনিবার্য এবং এর কোনো ঔষধ নেই তাই একে ঘাতক ব্যাধি বলা হয়।
HIV ভাইরাসের আক্রমণে AIDS রোগ হয়ে থাকে। এ ভাইরাস শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষতিসাধন করে ও রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি তৈরিতে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা ও অ্যান্টিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। এ কারণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
এইডস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সাথে যৌন মিলনের মাধ্যমে HIV-এর সংক্রমণ ঘটে। HIV আক্রান্ত বাবা-মায়ের সন্তান এইডস রোগে আক্রান্ত হয়। এছাড়া HIV-এর জীবাণুমুক্ত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, সূঁচ, দন্ত চিকিৎসার যন্ত্রপাতি এবং অপারেশনের যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমেও সুস্থ ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো অঙ্গ অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপনকালেও এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে।'
নিম্নলিখিত কারণে একজন সুস্থ ব্যক্তি এই ঘাতক রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। যেমন-
i. এইডস আক্রান্ত পুরুষ বা মহিলার সাথে অনিরাপদ যৌন মিলনের মাধ্যমে এ রোগ হয়।
ii. দুর্ঘটনাজনিত রক্তক্ষরণ, প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ, বড় অস্ত্রোপচার, রক্তশূন্যতা, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার ইত্যাদি ক্ষেত্রে দেহে রক্ত পরিসঞ্চালন প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় এইডস রোগে আক্রান্ত রোগীর রক্ত সুস্থ ব্যক্তির দেহে সঞ্চালন করলে এইডস রোগ হয়।
iii. HIV জীবাণুমুক্ত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, সূচ, দন্ত চিকিৎসার যন্ত্রপাতি এবং অপারেশনের যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমেও সুস্থ ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি সেলুনে একই ব্লেড একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে তার মাধ্যমেও রোগটি ছড়াতে পারে।
vi. এইডসে আক্রান্ত মায়ের দুধ শিশু পান করলে সে শিশুও এইডসে আক্রান্ত হতে পারে।
এইডস রোগের লক্ষণগুলো নিম্নরূপ:
১. দ্রুত রোগীর ওজন কমতে থাকে।
২. এক মাসেরও বেশি সময়ব্যাপী একটানা জ্বর থাকে অথবা জ্বর জ্বর ভাব দেখা দেয়।
৩. একমাস বা তারও বেশি সময় ধরে পাতলা পায়খানা হয়।
৪. অনেক দিন ধরে শুকনো কাশি হতে থাকে।
৫. ঘাড় এবং বগলে ব্যথা অনুভব হয়, মুখমণ্ডল খসখসে হয়ে যায়।
৬. মুখমণ্ডল, চোখের পাতা, নাক ইত্যাদি অঙ্গ হঠাৎ ফুলে যায় এবং সহজে-এই ফোলা কমে না।
৭. সারা দেহে চুলকানি হয়।
এইডস রোগে যে যে ব্যবস্থা নেয়া উচিত-
১. অবৈধ যৌন মিলন থেকে বিরত থাকা। প্রয়োজনে অবশ্যই কনডম ব্যবহার করা।
২. রক্ত নেওয়ার আগে গৃহীত রক্তে কোনো প্রকার HIV আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা।
৩. সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
নিচে HIV ভাইরাসের চিত্র অঙ্কন করা হলো-
প্রজনন হলো এমন একটি শারীরতত্ত্বীয় কার্যক্রম যার মাধ্যমে জীব তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে ভবিষ্যৎ বংশধর রেখে যায়।
যখন দুই ধরনের জননকোষ একই দেহে সৃষ্টি হয় তখন তাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে।
যখন দু'ধরনের জননকোষ আলাদা দেহে সৃষ্টি হয় তখন সেই উদ্ভিদকে ভিন্নবাসী উদ্ভিদ বলে।
প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপই হচ্ছে ফুল।
যে ফুলে পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক এ পাঁচটি স্তবক থাকে তখন তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে।
যে উদ্ভিদের ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে তাকে উভলিঙ্গ উদ্ভিদ বলে।
কোনো ফুলের পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবক যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে। যেমন- লাউ।
যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকে তখন তাকে ক্লীব ফুল, বলে।
বৃন্তহীন ফুলকে অবৃত্তক ফুল বলে। যেমন- হাতীগুঁড়।
ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থিত গোলাকার অংশ যাতে বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
ফুলের পরাগধানী এবং পুংদণ্ড সংযোগকারী অংশকে যোজনী বলে।
পুংস্তবকের পরাগধানীগুলো যখন একগুচ্ছে থাকে, তখন তাকে যুক্তধানী বা সিনজেনেসিয়াস বলে।
গাছের ছোট একটি শাখায় ফুলগুলো বিশেষ একটি নিয়মে সজ্জিত থাকে। ফুলসহ এ শাখাই হলো পুষ্পমঞ্জরি।
পুষ্প উৎপাদনের ফলে মঞ্জরীদণ্ডের বৃদ্ধি থেমে গেলে তাকে নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে।
পুংকেশরের পুংদন্ডের শীর্ষের খলের মতো অংশটিই পরাগধানী বা পরাগথলি।
যে মাধ্যম পরাগধানী থেকে পরাগরেণু বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। যেমন- বায়ু, পানি।
একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে।
একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলা হয়।
পরাগরেণুর মাইটোটিক বিভাজনের ফলে একটি বড় কোষ এবং একটি ক্ষুদ্র কোষ সৃষ্টি হয়। এই বড় কোষটিকে নালিকোষ এবং ছোট কোষটিকে জেনারেটিভ কোষ বলে।
পরাগরেণুর মাইটোটিক বিভাজনের ফলে একটি বড় কোষ এবং একটি ক্ষুদ্র কোষ সৃষ্টি হয়। এই বড় কোষটিকে নালিকোষ এবং ছোট কোষটিকে জেনারেটিভ কোষ বলে।
নিউসেলাস বা ভ্রূণপোষক টিস্যুর মধ্যে অবস্থিত থলির ন্যায় অংশই হলো ভ্রূণথলি।
গর্ভযন্ত্রের বিপরীত দিকের কোষ তিনটি হলো প্রতিপাদ কোষ।
যৌন প্রজননে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলিত হওয়ার ঘটনাই নিষেক।
একই সময়ে ডিম্বাণুর সাথে একটি পুংগ্যামেটের মিলন ও সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে অপর পুংগ্যামেটের মিলন প্রক্রিয়াই দ্বি-নিষেক।
শুক্রাণু সক্রিয়ভাবে ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে এবং এদের নিউক্লিয়াস দুটি পরস্পর একীভূত হয়। একীভূত হয়ে যে কোষটি উৎপন্ন হয় তাই জাইগোট।
যে নিষেক ক্রিয়া প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত হয় তাকে বহিঃনিষেক বলে।
স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে সংঘটিত নিষেক প্রক্রিয়াই হলো অন্তঃনিষেক।
উচ্চতর উদ্ভিদের জীবনচক্রে রেণু উৎপাদনকারী ডিপ্লয়েড (2n) দশাকেই স্পোরোফাইট বলে।
জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এইরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যে যৌন প্রজনন ঘটে তাই কনজুগেশন।
কৈশোর এবং তারুণ্যের সন্ধিকালই হলো বয়ঃসন্ধিকাল।
যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভূপ এবং মাতৃ জরায়ু টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাকে গর্ভফুল বা অমরা বলে।
ভূণ থলিতে অবস্থিত প্রায় ৮ সপ্তাহ পরের ভূণই হলো ফিটাস।
কোষ বিভাজনের শেষ পর্যয়ে গঠন্মুখ ভ্রূণ ডিম্বনালি থেকে জরায়ুতে পৌঁছে। এ পর্যায়ে ভ্রূণকে ব্লাস্টোসিস্ট বলে।
যে পদ্ধতিতে জাইগোট মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বিভাজিত হয়ে অসংখ্য ভ্রূণকোষ তৈরি করে তাই ক্লিভেজ।
AIDS এর পূর্ণরূপ Acquired Immune Dericiency Syndrome.
জবা (Hibiscus rosa-sinensis) ফুলকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয় কারণ- আমরা জানি, একই ফুলে বা একই দেহে যখন দুই ধরনের জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) উৎপন্ন হয় তখন তাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে। সাধারণত উন্নত উদ্ভিদে এ দু'ধরনের জননকোষ একই দেহে উৎপন্ন হয়। জবা ফুলেও দুই ধরনের জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) একই দেহে উৎপন্ন হয় বলে জবা ফুলকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে।
সহবাসী উদ্ভিদ ভিন্নবাসী উদ্ভিদ থেকে আলাদা কারণ-আমরা জানি, একই ফুলে বা একই দেহে যখন দুই ধরনের জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) উৎপন্ন হয় তখন তাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে। সাধারণত উন্নত উদ্ভিদে এ দু'ধরনের জননকোষ একই দেহে উৎপন্ন হয়। আবার যখন দু'ধরনের জননকোষ (শুক্রাণু ও. ডিম্বাণু) আলাদা দেহে সৃষ্টি হয় তখন সেই উদ্ভিদকে ভিন্নবাসী উদ্ভিদ বলে।
ফুলকে রূপান্তরিত বিটপ বলা হয় কারণ এটি উদ্ভিদের কাণ্ড বা শাখার একটি বিশেষ পরিবর্তিত রূপ। ফুলের অংশগুলো, যেমন- বৃতি, দল, পুংকেশর ও স্ত্রীকেশর মূলত পাতার রূপান্তরিত রূপ। ফুল একটি প্রজনন অঙ্গ, যা যৌন প্রজনন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফুলের গঠন ও অবস্থান উদ্ভিদের সাধারণ কাণ্ড বা শাখার মতো হলেও 'এটি প্রজননের জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত হয়েছে। ফুলের উৎপত্তি উদ্ভিদের কাণ্ড বা শাখা থেকে হওয়ায় একে রূপান্তরিত বিটপ বলা হয়।
লাউ এর ফুল একটি অসম্পূর্ণ ও এক লিঙ্গ ফুল। একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে সহায়তা প্রদান করে। আদর্শ ফুলে পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে। যেমন-জবা, ধুতুরা। এর যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। লাউ-এর ফুলে পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকে বলে একে একলিঙ্গ ফুল বলে।
আমরা জানি, একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। যেমন-
সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়। কারণ পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনো পরিবর্তন হয় না এবং কোনো একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।
দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পর-পরাগায়ন ঘটে তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। অর্থাৎ পর-পরাগায়নের ফলে সৃষ্ট নতুন উদ্ভিদে নতুন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটার কারণে এসব গাছ থেকে নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়।
পর-পরাগায়নে একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে পরপরাগায়নে এসব উদ্ভিদে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। তবে এটি বাহক নির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পানিপরাগী ফুলের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. পানিপরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা।
২. এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে।
৩. এসব ফুলে সুগন্ধ নেই।
৪. স্ত্রীপুষ্পের বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে এবং স্ত্রী পুষ্পের কাছে পৌছালে সেখানেই পরাগায়ন ঘটে।
পরাগায়নের ফলে পরিণত পরাগরেণু গর্ভপত্রের গর্ভমুণ্ডে (Style) পরিণত হয়। এরপর পরাগনালিকা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে গর্ভদণ্ড ভেদ করে এর কিছু তরল পদার্থ শোষণ করে স্ফীত হয়ে উঠে। স্ফীত অগ্রভাগটি কেটে পুংজনন কোষ দুটি ভ্রূণথলিতে মুক্ত হয়। এর একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) তৈরি করে। অপর পুংজনন, কোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3) সস্য কোষের (Endosperm, cells) সৃষ্টি করে। প্রায় একই সময়ে দুটি পুংজনন কোষের একটি ডিম্বাণু এবং অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়। এ ঘটনাকে দ্বিনিষেক (Double fertilization) বলা হয়।
ডিপ্লয়েড স্ত্রীরেণু মাতৃকোষ হতে মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় চারটি হ্যাপ্লয়েড স্ত্রীরেণু গঠিত হয়, যার মধ্যে তিনটিই নষ্ট হয়ে যায়। কার্যকরী স্ত্রীরেণু নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং স্ত্রীরেণু কোষের দুই মেরুতে অবস্থান নেয়। প্রতিটি মেরুর নিউক্লিয়াস পর পর দুইবার বিভাজিত হয়ে চারটি করে নিউক্লিয়াস গঠন করে। ইতোমধ্যে স্ত্রীরেণু কোষটি' একটি দুই মেরুযুক্ত থলির ন্যায় অঙ্গে পরিণত হয় এবং এরপর প্রতি মেরু হতে একটি করে নিউক্লিয়াস থলির মাঝখানে চলে এসে পরস্পর মিলিত হয়ে গৌণ নিউক্লিয়াস গঠন করে।
নিষেক ও ত্রিমিলনের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
| নিষেক | ত্রিমিলন |
| ১. যৌন প্রজননে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনকে নিষেক বলে। | ১. সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে একটি পুংগ্যামিটের মিলনকে ত্রিমিলন বলে। |
| ২. নিষেকে উৎপন্ন জাইগোট ডিপ্লয়েড (2n)। | ২. ত্রিমিলনে উৎপন্ন সস্যকোষ ট্রিপ্লয়েড (3n) । |
যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব তার বংশধর সৃষ্টি করে তাকেই প্রজনন বলে। প্রজনন এমন একটি শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম যার মাধ্যমে জীব তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে ভবিষ্যৎ বংশধর রেখে যায়। প্রজনন না হলে জীবের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যেত।
নিষেক প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর মিলন ঘটে। শুক্রাণু সক্রিয়ভাবে ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে এবং এদের নিউক্লিয়াস দুটি পরস্পর একীভূত হয়ে জাইগোট গঠন করে। ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু উভয়ই হ্যাপ্লয়েড (n)। যেহেতু এদের মিলনের মাধ্যমে জাইগোট তৈরি হয় ফলে জাইগোট ডিপ্লয়েড (2n) হয়।
যে নিষেক ক্রিয়া প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত হয় তা বহিঃনিষেক নামে পরিচিত। এ ধরনের নিষেক সাধারণত পানিতে বাস করে এমন সব প্রাণীতে হয়ে থাকে। অন্যদিকে স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে সংঘটিত নিষেক অন্তঃনিষেক নামে পরিচিত। সাধারণত শারীরিক মিলনের মাধ্যমে পুরুষ প্রাণী তার শুক্রাণু স্ত্রী জননাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে এ ধরনের নিষেক ঘটায়। অন্তঃনিষেক ডাঙ্গায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীর মধ্যে হয়ে থাকে। এজন্য বহিঃনিষেক থেকে অন্তঃনিষেক আলাদা।
যৌন প্রজননের জন্য নিষেক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। যৌন প্রজননে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের ফলে নিষেক ক্রিয়া সংঘটিত হয়। আমরা জানি, নিষেক প্রক্রিয়া দুই ধরনের বহিঃনিষেক এবং অন্তঃনিষেক। যে নিষেক ক্রিয়া প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত হয় তাকে বহিঃনিষেক বলে। (যেমন- মাছ) আর যে নিষেক প্রক্রিয়া স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে সংঘটিত হয় তাকে অন্তঃনিষেক বলে। হাঙ্গর মাছ হওয়া সত্ত্বেও এরা একলিঙ্গ প্রাণি, অন্তঃনিষেক ঘটে। ফলে ডিম পাড়ার পরিবর্তে বাচ্চা প্রসব করে।
পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে বৃদ্ধি উদ্দীপক হরমোন ও উৎপাদক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানব প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন-
১. এ হরমোনগুলো জননগ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. মাতৃদেহে স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি ও দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রাণিদেহে কতকগুলো নালিবিহীন বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি আছে। এসব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে হরমোন বলে। পরিবহন করার জন্য এর কোনো নির্দিষ্ট নালি থাকে না। শুধু রক্তের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে হরমোন পরিবাহিত হয়। আমরা জানি, থাইরয়েড একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যা নালিবিহীন। থাইরয়েড থেকে নিঃসৃত রস বা হরমোন রক্তের মাধ্যমে শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়। এজন্য থাইরয়েডকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয়।
যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। অমরার সাহায্যে ভূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। এভাবে অমরা মানবদেহের রেচন অঙ্গের মতো কাজ করে।
ভ্রূণের অমরা মানবদেহের বৃক্ক অর্থাৎ রেচন অঙ্গের মতো কাজ করে। কারণ- যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়।
AIDS ১৯৮১ সালে আবিষ্কৃত হয়। বর্তমান বিশ্বে ২ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি লোক AIDS এর জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত। HIV ভাইরাসের আক্রমণে AIDS রোগ হয়। এই ভাইরাস শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষতিসাধন করে ও এ কণিকার এন্টিবডি তৈরিতে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় ফলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। এ রোগের প্রতিকারে কোনো ঔষধ আবিষ্কৃত হয়নি। এজন্য একে ঘাতক ব্যাধি বলা হয়।
Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV ভাইরাস এর আক্রমণে এইডস রোগ হয়। এই ভাইরাস শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষতিসাধন করে এবং এ কণিকার এন্টিবডি তৈরিতে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে এ ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায়। ফলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। এ রোগের প্রতিকারে কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। এজন্য HIV কে ঘাতক ভাইরাস বলা হয়।
Related Question
View Allপুংকেশরের দণ্ডের মাথায় থলের মত অংশই পরাগথলি।
সপুষ্পক উদ্ভিদের ছোট একটি শাখায় ফুলগুলো একটি বিশেষ নিয়মে সজ্জিত থাকে। ফুলসহ এই শাখাকে পুষ্পমঞ্জুরী বলে। পুষ্পমঞ্জুরীর ফুলগুলো বহনকারী দণ্ডকে বলা হয় মঞ্জুরীদণ্ড। পুষ্পমঞ্জুরীতে মঞ্জুরীদণ্ডের বৃদ্ধি অসীম হলে তাকে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জুরী বলে। অনিয়ত পুষ্পমঞ্জুরীতে মঞ্জুরীদণ্ডের শীর্ষদেশ একটি মাত্র ফুলে পরিসমাপ্ত না হয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেমন- সরিষার পুষ্পমঞ্জুরী।
P অংশটি হলো ফুলের পুংস্তবক। পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে বলা হয় পুংকেশর। পুংকেশরের মাথায় পরাগথলিতে তৈরি হয় পরাগায়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান-পরাগরেণু। P অংশটি ফুলটিতে না থাকলে পরাগায়নের ক্ষেত্রে যা ঘটবে তা নিম্নরূপ-
i. ফুলটিতে স্ব-পরাগায়ন ঘটবে না। অর্থাৎ পরপরাগায়ন ঘটবে।
ii. P অংশটির অনুপস্থিতিতে পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হবে।
iii. P অংশটি না থাকলে পরপরাগায়নের ফলে সৃষ্ট প্রজাতির চারিত্রিক বিশুদ্ধতা ক্ষুন্ন হবে।
iv. পরাগায়ন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
V. এ ধরনের পরাগায়নে পরাগারেণুর অপচয় ঘটবে।
vi. P অংশটির অনুপস্থিতিতে পরপরাগায়নই সম্ভব এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট উদ্ভিদে নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটতে পারে।
vii. এ ধরনের পরাগায়নের ফলে সৃষ্ট উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
চিত্রের Q চিহ্নিত অংশটি হলো ফুলের গর্ভাশয় এ অংশটি উদ্ভিদের প্রজাতিকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
অধিকাংশ সপুষ্পক উদ্ভিদ যৌন জননের মাধ্যমে তাদের বংশ বৃদ্ধি তথা প্রজাতিকে রক্ষা করে থাকে। উদ্ভিদের যৌন জনন বীজ তৈরির মাধ্যমেই ঘটে থাকে। এই বীজ থেকেই সৃষ্টি হয় নতুন উদ্ভিদ যা তার প্রজাতিকে রক্ষা করে। ফুলের Q চিহ্নিত অংশ অর্থাৎ গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে থাকে ডিম্বাশয় এবং ডিম্বাশয়ের ভেতর থাকে ডিম্বাণু (স্ত্রী গ্যামেট)। পরাগায়নের পর পরাগনালিকা গর্ভদণ্ড ভেদ করে গর্ভাশয়ে প্রবেশের পথে পরাগনালিকার অগ্রভাগে ২টি পুংগ্যামেট সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরাগনালিকা ডিম্বকরন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করে এবং এর অগ্রভাগ ফেটে যায়। এর পর পুংগ্যামেট দু'টির ১টি ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) তৈরি করে। অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিলিত হয়। নিষিক্ত এই গর্ভাশয় ফলে এবং নিষিক্ত ডিম্বাণু বীজে পরিণত হয়। ফল পরিপক্কের সাথে সাথে বীজও পরিপুষ্ট হয়। পরিপুষ্ট বীজ অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। এভাবেই গর্ভাশয় অর্থাৎ চিহ্নিত অংশ তার অভ্যন্তরে বীজ তৈরির মাধ্যমে প্রজাতিকে রক্ষা করে থাকে।
যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু টিস্যুর মধ্যে স্থাপিত সম্পর্কই হলো অমরা।
HIV- এর আক্রমণে AIDS রোগ হয়ে থাকে। HIV শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষতি সাধন করে ও এ কণিকার এন্টিবডি তৈরিতে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা ও এন্টিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় ফলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। AIDS- এর আক্রমণে রোগীর মৃত্যু যেহেতু অনিবার্য এবং এর কোন ঔষধ নেই তাই একে বলা হয় ঘাতক রোগ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
