'সনাতন' শব্দের অর্থ চিরন্তন, চিরস্থায়ী, নিত্য। যা ছিল, আছে ও থাকবে তাই সনাতন।
চারজন বৈদিক দেবতা হলেন- ইন্দ্র, বরুণ, যম ও মিত্র।
নিত্যকর্ম ছয় প্রকার। এগুলো হলো- প্রাতঃকৃত্য, পূর্বাহ্ণকৃত্য, মধ্যাহকৃত্য, অপরাহকৃত্য, সায়াহুকৃত্য ও রাত্রিকৃত্য।
মানুষ যেমন পুরাতন বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর ধারণ করে। আত্মার এ নতুন শরীর ধারণ করাই হচ্ছে জন্মান্তর।
ভালো কাজ হচ্ছে- জীবে দয়া করা, পরনিন্দা না করা, পরচর্চা না করা, পরের উপকার করা ও মিথ্যা না বলা। এসব কাজ করলে পুণ্য হয় যার ফলে স্বর্গলাভ হয়।
জন্মান্তর বা পুনর্জন্মের আবর্ত থেকে ঈশ্বর বা পরমাত্মা বা পরম ব্রহ্মের সঙ্গে জীবাত্মার মিলনকেই মুক্তি বা মোক্ষ বলে।
হিন্দুধর্মের প্রাচীন নাম সনাতন ধর্ম। 'সনাতন' শব্দের অর্থ চিরন্তন, চিরস্থায়ী, নিত্য। যা ছিল, আছে ও থাকবে- তাই সনাতন। কতিপয় চিরন্তন ভাবনা-চিন্তার উপর ভিত্তি করে এ ধর্মের উৎপত্তি। তাছাড়া হিন্দুধর্ম নির্দিষ্ট কোনো সময়ে একক কারো দ্বারা প্রবর্তিত নয়। একাধিক মুনি-ঋষির সমন্বিত চিন্তার ফল এটি। কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর আচার-আচরণগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে মৌলিক তত্ত্বের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ অর্থেও এ ধর্মকে সনাতন ধর্ম বলা হয়। সুতরাং সনাতন ধর্মেরই আরেক নাম হিন্দুধর্ম।
বেদের দুটি অংশ। প্রত্যেক অংশকে বলা হয় কান্ড। বেদ দুটি অংশে বা দু কাণ্ডে বিভক্ত- জ্ঞানকাণ্ড ও কর্মকান্ড। জ্ঞানকান্ডের বিষয়বস্তু হচ্ছে ব্রহ্ম সম্পর্কে জ্ঞান। ব্রহ্ম নিরাকার। আবার আত্মারূপে তিনি সকল জীবের মধ্যে বিরাজমান।
কর্মকাণ্ডে আছে বিভিন্ন যাগ-যজ্ঞের কথা। বৈদিক যুগে প্রধান ধর্মীয় ক্রিয়া-কর্ম ছিল যাগ-যজ্ঞ। বিভিন্ন উদ্দেশ্যে যাগ-যজ্ঞ করা হতো।-ব্রহ্মের বিভিন্ন শক্তিকে লক্ষ করে মুনি-ঋষিরা বিভিন্ন দেব-দেবীর কল্পনা করেছিলেন।
পৌরাণিক যুগে মানুষ যাগ-যজ্ঞের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে পূজা-পার্বণ করতে থাকে। তখন অনেক নতুন দেব-দেবীর আবির্ভাব ঘটে। যেমন- ব্রহ্মা, দুর্গা, কালী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রভৃতি। বিভিন্ন পুরাণে এঁদের বর্ণনা আছে। সেই অনুযায়ী এঁদের মূর্তি তৈরি করে পূজা করা হয়। পূজার মধ্য দিয়ে এঁদের কাছে জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ইত্যাদি কামনা করা হয়।
নিত্যকর্ম ধমচর্চার একটি অঙ্গ। ধর্মচর্চা করতে গেলে শরীর ও মন সুস্থ থাকতে হয়। নিত্যকর্মের ফলে শরীর ও মন সুস্থ থাকে। এজন্য প্রতিদিন নিয়ম মেনে কিছু কর্ম করতে হয়। তাকেই বলে নিত্যকর্ম। নিত্যকর্ম ছয় প্রকার। যথা- প্রাতঃকৃত্য, পূর্বাহ্ণকৃত, মধ্যাহ্নকৃত্য, অপরাহ্ণকৃত্য, সায়াহুকৃত্য ও রাত্রিকৃত্য। নিচে তিনটি নিত্যকর্ম সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
প্রাতঃকৃত্য : সূর্যোদয়ের কিছু আগে ঘুম থেকে উঠতে হয়। তারপর বিছানায় বসে পূর্ব বা উত্তরমুখী হয়ে ঈশ্বর বা দেব-দেবীর স্মরণ করে মন্ত্র পাঠ করতে হয়।
পূর্বাহ্ণকৃত্য: প্রাতঃকৃত্যের পরে এবং মধ্যাহ্ন বা দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত যে সকল কাজ করা হয় তা-ই পূর্বাহ্ণকৃত্য। এ সময় প্রার্থনা ও পূজা করে দিনের অন্যান্য কাজ-কর্ম করতে হয়।
মধ্যাহ্নকৃত্য: দুপুরের কাজ খাওয়া ও বিশ্রাম। এটাই মধ্যাহ্নকৃত্য।
প্রত্যেক জীবের মধ্যে আত্মা আছে। সেই আত্মা অমর অর্থাৎ আত্মার মৃত্যু নেই। মৃত্যু আছে দেহের। দেহ জীর্ণ বা পুরাতন হলে তার মৃত্যু ঘটে। আত্মা তখন নতুন দেহ ধারণ করে। অর্থাৎ মানুষ যেমন পুরাতন বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন বা জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর ধারণ করে। আত্মার এ নতুন শরীর ধারণ করাকেই বলে জন্মান্তর। অর্থাৎ, জীবের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত জীবাত্মা পুনঃপুন জন্মগ্রহণ করে।
পাপ হচ্ছে খারাপ কাজের ফল। আর পুণ্য হচ্ছে ভালো
কাজের ফল। জীবহত্যা, পরনিন্দা, পরচর্চা, পরের ক্ষতি করা, মিথ্যা 'বলা, হিংসা করা ইত্যাদি হচ্ছে খারাপ কাজ। এর ফলে পাপ হয়। আর জীবে দয়া, পরনিন্দা না করা, পরচর্চা না করা পরের উপকার করা, মিথ্যা না বলা ইত্যাদি হচ্ছে ভালো কাজ। এর ফলে পুণ্য হয়। স্বর্গ হচ্ছে অনন্ত সুখের জায়গা। পুণ্যবান ব্যক্তিরা মৃত্যুর পর সেখানে অবস্থান করেন। নরক হচ্ছে ভীষণ কষ্টের জায়গা। মৃত্যুর পর পাপীদের অবস্থানের জায়গা হচ্ছে নরক।
উত্তর: মোক্ষলাভের আকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাঁরা কখনো
অপরের ক্ষতি করেন না। তাঁরা কাউকে হিংসা করেন না। কারো বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো বিদ্বেষ থাকে না। ব্রহ্মজ্ঞানে তাঁরা সবাইকে ভালোবাসেন। নিজের ক্ষতি হলেও অপরের উপকার করেন। সবাইকে আপনার মনে করেন। তাঁদের কোনো লোভ-মোহ থাকে না। ফলে জগতে কোনো দ্বন্দ্ব থাকে না। মারামারি, হানাহানি থাকে না। সর্বত্র শান্তি বিরাজ করার পাশাপাশি সকলের কল্যাণ সাধিত হয়।
নিত্যকর্মের মাধ্যমে প্রতিদিনের কার্যক্রম সুন্দরভাবে সম্পাদন করা হয়। এর ফলাফল অনেক ইতিবাচক। যেমন-
১. নিত্যকর্মের ফলে নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায়।
২.. সময়ের কাজ সময়ে করা যায়।
৩. নিত্যকর্মের ফলে শরীর ও মন ভালো থাকে।
৪. মানুষের প্রতি প্রীতি জন্মে।
৫. ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি আসে।
নিত্যকর্ম ধর্মচর্চার একটি অঙ্গ। নিত্যকর্মের ফলে শরীর ও. মন সুস্থ থাকে। এজন্য প্রতিদিন নিয়ম মেনে কিছু কর্ম করতে হয়। তাকেই বলে নিত্যকর্ম। প্রতিদিন কেন নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়
তা নিচে দেওয়া হলো-
১. নিয়ম মেনে কাজ করলে শরীর ও মন সুস্থ থাকে।
২. নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায়।
৩. সময়ের কাজ সময়ে করা যায়।
৪. কোনো কাজই অসমাপ্ত থাকে না।
শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে আমরা প্রতিদিন নিয়ম মেনে যেসব কর্ম করি সেগুলোই হলো নিত্যকর্ম।
নিত্যকর্ম করলে যেসব সুফল পাওয়া যায় সেগুলো হলো-
১. নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায়।
২. সময়ানুবর্তী হওয়া যায়।
৩. যেকোনো কাজে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া যায়।
৪. শরীর ও মন ভালো থাকে।
মোক্ষ' শব্দের অর্থ হলো মুক্তি। মোক্ষলাভের জন্য যা করা
উচিত তা হলো-
অপর ক্ষতির চিন্তা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
২. সবাইকে ব্রহ্মজ্ঞানে ভালোবাসতে হবে।
৩. নিজের ক্ষতি হলেও অপরের উপকার করতে হবে।
৪. অন্তরে লোভ-লালসা রাখা যাবে না।
৫. জীব ও জগতের মঙ্গল করা।
অতীতে গুরুর শিষ্যরা গুরুর কাছ থেকে শুনে শুনে বেদ মনে রাখতেন। কারণ তখন পুস্তক বা লেখার প্রচলন ছিল না। তাই বেদের আরেক নাম হয়েছে শ্রুতি।
অরণ্যে বা জঙ্গলে যা রচিত হয়েছে তাই হচ্ছে আরণ্যক। দুটি আরণ্যকের নাম হলো- ঐতরেয় ও কৌষীতকি।
মূল পুরাণ হচ্ছে ১৮ খানা। এগুলোর মধ্যে দুটি হচ্ছে -ব্রহ্মপুরাণ ও বিষ্ণুপুরাণ।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের প্রাক্কালে বিপক্ষে আত্মীয়-স্বজনদের দেখে অর্জুন যুদ্ধ করতে চাইলেন না। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে অনেক উপদেশ দেন। এসব উপদেশই গীতা।
উত্তানপাদের দুজন স্ত্রী ছিলেন। তারা হলেন- সুনীতি ও সুরুচি।
চারটি বেদ হচ্ছে- ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ। নিচে এ চারটি বেদ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-
ঋগ্বেদ সংহিতা - এতে রয়েছে দেবতাদের স্তুতি ও প্রার্থনামূলক মন্ত্র।
এগুলো পদ্যে রচিত এক ধরনের কবিতা।
যজুর্বেদ সংহিতা - এতে যে মন্ত্রগুলো রয়েছে সেগুলো যজ্ঞের সময় উচ্চারণ করা হয়।
সামবেদ সংহিতা – এর মন্ত্রগুলো গানের মতো। দেবতাদের উদ্দেশ্যে এগুলো সুর দিয়ে গাওয়া হয়।
অথর্ববেদ সংহিতা – এতে চিকিৎসা বিজ্ঞান, বাস্তুবিদ্যা (গৃহ নির্মাণ) ইত্যাদিসহ জীবনের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
বেদের দুটি অংশ মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ। যে অংশে মন্ত্রের ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং যজ্ঞে মন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তাকে বলে ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণ গদ্যে রচিত। ঐতরেয়, কৌষীতকি, শতপথ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ব্রাহ্মণ গ্রন্থ।
উপনিষদের আলোচ্য বিষয় ব্রহ্ম। ব্রহ্মের আরেক নাম পরমাত্মা। তিনি নিরাকার। প্রত্যেক জীবের মধ্যে তিনি বর্তমান। তাকে বলে জীবাত্মা। এ অর্থে জীবও ব্রহ্ম। ব্রহ্মই সবকিছুর মূলে। তাই উপনিষদে ব্রহ্ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ঈশ, কেন, শ্বেতাশ্বতর, বৃহদারণ্যক প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য উপনিষদ।
গীতার পুরো নাম শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। এটি মহাভারতের ভীষ্মপর্বের একটি অংশ। এতে ১৮টি অধ্যায় আছে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের প্রাক্কালে বিপক্ষে আত্মীয়-স্বজনদের দেখে অর্জুন যুদ্ধ করতে চাইলেন না। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে অনেক উপদেশ দেন। সেটাই গীতা। গুরুত্বের কারণে এটি পৃথক গ্রন্থের মর্যাদা পেয়েছে
বালক ধ্রুব তার মাকে খুব শ্রদ্ধা করত। ধ্রুবের মনের কষ্ট বুঝতে পেরে তার মা তাকে বললেন মনেপ্রাণে হরিকে ডাকতে, তিনিই সকল দুঃখ ঘুচিয়ে দেবেন। মায়ের কথা বিশ্বাস করে ধ্রুব মনেপ্রাণে হরিকে ডাকতে লাগলেন। যাকে যখন যেখানে পায় সেখানে জিজ্ঞেস করে হরিকে কোথায় পাওয়া যাবে।
অবশেষে হরি হরি করতে করতে বনের ভেতর ঢুকে গেল। বনের পশুপাখিরাও তার মুখে হরিনাম শুনে তাদের হিংসা ভুলে গেল। বালক ধ্রুবের এ একাগ্রতা দেখে শ্রীহরির মন গলে গেল। তিনি ধ্রুবের কাছে এসে দেখা দিলেন। এভাবে ধ্রুব কঠোর তপস্যার মাধ্যমে হরিকে পেয়ে গেল।
গীতায় ১৮টি অধ্যায় আছে। গীতাকে হিন্দুধর্মের অবশ্যপাঠ্য ধর্মগ্রন্থ বলা হয়েছে যে কারণে-
১. সব রকমের দুর্বলতা পরিহার করতে বলা হয়েছে।
২. গীতায় ঈশ্বরের নামে সকল কর্ম করতে বলা হয়েছে।
৩. গীতায় আত্মার অমরত্বের কথা বলা হয়েছে।
৪. গীতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বার কথা বলা হয়েছে।
৫. গীতায় শ্রদ্ধাবান ও সংযমীরাই জ্ঞানলাভ করেন একথা বলা হয়েছে।
গীতার পুরো নাম শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। গীতাকে সব শাস্ত্রের সার বলা হয়েছে যে কারণে তা নিম্নরূপ-
১. গীতায় অন্যান্য শাস্ত্রের জ্ঞান সন্নিবেশিত হয়েছে।
২. গীতায় ঈশ্বরের নামে সকল কর্ম করতে বলা হয়েছে।
৩. গীতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী।
৪. গীতা অবশ্য পাঠ্য এবং গীতার জ্ঞান লাভ করে সঠিক জীবনপথে চলা মানুষের জন্য সহজ হয়।
৫. গীতায় আত্মার অমরত্বের কথা বলা হয়েছে।
একদিন মায়ের আদেশে ধ্রুব হরিনাম করতে করতে গভীর বনে ঢুকে পড়ল। শ্রীহরির সান্নিধ্য লাভের জন্য এরূপ নির্জন স্থানই উপযুক্ত ছিল। শ্রীহরি ধ্রুবের একাগ্রতায় সন্তুষ্ট হয়ে তার কাছে এসে দেখা দিলেন এবং বললেন, 'ধ্রুব, তোমার তপস্যায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। তোমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে। তুমি বাড়ি ফিরে যাও।'
ধ্রুবলোক ব্রহ্মাণ্ডের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত। মৃত্যুর পর হরিভক্ত ধ্রুবের স্থান ধ্রুবলোকে হলো কারণ-
১. ধ্রুব শ্রীহরির একনিষ্ঠ ভক্ত ছিল।
২. সে তার তপস্যার দ্বারা শ্রীহরিকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছিল।
৩. ধ্রুব একাগ্র মনে হরির সান্নিধ্য লাভ করতে চেয়েছিল।
৪. ধ্রুব ছিল সৎ ও নিষ্ঠাবান।
৫. সে পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল।
ধ্রুবের উপাখ্যানটি ভাগবতপুরাণ গ্রন্থের। ধ্রুবের উপাখ্যান থেকে আমরা যে নৈতিক শিক্ষা পাই তা হলো-
১. পিতামাতাকে শ্রদ্ধা করতে হবে।
২. কারো সঙ্গে বিবাদ করা উচিত নয়।
৩. ভগবানকে ভক্তি করতে হবে।
৪. কোনোকিছু চাইলে একাগ্র মনে চাইতে হবে।
বিনোদের পিতা বিষ্ণুচরণ ভূঁইয়া রাজা সূর্যকান্ত রায়ের অধীনে বাজিতপুর জমিদারির নায়েবের পদে চাকরি করতেন।
বিনোদ নিজে ছিলেন খুব সংযমী ও পরিশ্রমী। তাই বন্ধুদেরও তিনি সংযম ও ব্রহ্মচর্চা পালনে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তাদের নিয়ে আশ্রম গড়ে তোলেন।
১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে বিনোদ প্রয়াগে অর্ধকুন্ড মেলায় যান। সেখানে স্বামী গোবিন্দানন্দ গিরি মহারাজের সাথে বিনোদের দেখা হলে তাঁর নিকট থেকে সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষা নেন। এ দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নতুন নাম হয় স্বামী প্রণবানন্দ।
১৯২১ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরবন অঞ্চলে প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। বিনোদ পাঁচশত কর্মী নিয়ে দুর্ভিক্ষপীড়িতদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। তাঁর এ সেবামূলক কাজে মুগ্ধ হয়ে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় প্রশংসা করেছিলেন।
চার্চের নিয়মানুযায়ী যারা চার্চে এসে উপাসনা করবে কেবল তারাই চার্চের সাহায্য পাবে। কিন্তু মার্গারেটের মতে, নিপীড়িত সবাই চার্চের সুযোগ-সুবিধা পাবে। কর্তৃপক্ষ মার্গারেটের এ প্রস্তাব মেনে না নেওয়ায় তাঁর সাথে কর্তৃপক্ষের বিরোধ বাঁধে।
স্বদেশী আন্দোলন চলাকালে মাদারীপুর ছিল বিপ্লবীদের একটি বিখ্যাত কেন্দ্র। বিপ্লবী পূর্ণদাস ছিলেন- এ অঞ্চলের নেতা। তিনি বিনোদের সংগঠনশক্তির কথা শুনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। বিনোদও এগিয়ে আসেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংঘবদ্ধ করার জন্য। ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম প্রভৃতি জেলা থেকে বিপ্লবী মন্ত্রে দাক্ষিত ছেলেরা আসতে থাকে বিনোদের আশ্রমে। ক্রমে ব্যাপারটি চারদিকে প্রচারিত হতে থাকলে ব্রিটিশ পুলিশ একদিন বিনোদকে গ্রেফতার করে।
সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষিত হয়ে স্বামী প্রণবানন্দের দৃষ্টি পড়ল তীর্থভূমির দিকে। তীর্থস্থানসমূহের পবিত্রতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তীর্থযাত্রীরা যাতে তীর্থে গিয়ে স্বচ্ছন্দে পুণ্যকর্ম করতে পারে এবং গয়ায় পাণ্ডাদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পায় সেজন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন সেবাশ্রম। এ সেবাশ্রমের মাধ্যমে তিনি সকল তীর্থস্থানে সেবা প্রদানের মাধ্যমে সকল অত্যাচার থেকে তীর্থযাত্রীদের মুক্ত করেন।
১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে স্বামী বিবেকানন্দ বক্তৃতা দেওয়ার জন্য লন্ডন আসেন। সেখানকার দার্শনিক ও ধর্মানুরাগীরা হিন্দুধর্ম ও দর্শন সম্পর্কে বক্তৃতা শোনার জন্য তাঁর নিকট ছুটে আসেন। একদিন মার্গারেটও এলেন। তিনি স্বামীজীর বক্তৃতা শুনে মুগ্ধ হন। বেদান্তের ধর্মমত তাঁকে শান্তি দেয়। তিনি স্বামীজীর শিষ্যত্ব গ্রহণ
নারী শিক্ষার উন্নতির জন্য' নিবেদিতা গুরুর নির্দেশে কোলকাতার বাগবাজারে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তাঁর শিক্ষা-পদ্ধতি ছিল চিত্তাকর্ষক। তিনি গল্পের ছলে ছাত্রীদের শিক্ষা দিতেন। রামায়ণ-মহাভারত থেকে সীতা, সাবিত্রী, গান্ধারী প্রভৃতি মহীয়সী নারীদের জীবনী খুব যত্নসহকারে তাদের শেখাতেন
পরাধীন ভারতের দুঃখ-দারিদ্র্য, অশিক্ষা, কুসংস্কার দেখে ভগিনী নিবেদিতার প্রাণ কেঁদে ওঠে। তিনি ভারতের স্বাধীনতার কথা ভাবতে থাকেন এবং ভারতের মুক্তির জন্য যারা সংগ্রাম করতেন তিনি তাদের উৎসাহ দিতেন এবং সাহায্য করতেন। অবশেষে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বারাণসীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসে তিনি বিলেতি দ্রব্য বর্জনের জোরালো আহ্বান জানান।
মহৎ ব্যক্তির গুণগুলো হলো-
১. মহৎ ব্যক্তিরা নির্মোহ হন।
২. তারা জগতের কল্যাণে নিয়োজিত থাকেন।
৩. নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন না।
৪. অপরের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেন।
৫. পরের কল্যাণ ও জগতের মঙ্গলের জন্য নিজেকে নিবেদন করে।
ভগিনী নিবেদিতা ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে আসেন।
ভারতীয়দের প্রতি তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলা যায়-
১. একজন বিদেশিনী হয়েও তিনি ভারতবাসীকে একান্ত আপন করে নিয়েছিলেন।
২. ভারতবাসীর সেবায় সমস্ত ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন।
৩. কলকাতার বাগবাজারে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
৪. তাঁর শিক্ষা-পদ্ধতি ছিল চিত্তাকর্ষক এবং তিনি গল্পের ছলে ছাত্রীদের শিক্ষা দিতেন!
৫. তিনি এদেশের গরীব-দুঃখীদের সেবা করতেন।
ভগিনী নিবেদিতার জীবন অনুসরণে আমি ক..তে পারি এরূপ কাজ হলো-
১. দুস্থ ও নিপীড়িত মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।
২. সকল মানুষকে সমান জ্ঞান করি।
৩. জাতি-ধর্ম ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করি।
৪. মানুষের সেবা করি।
৫. সকল মানুষকে আপন মনে করি।
Related Question
View Allজ্ঞানকান্ডের বিষয়বস্তু হচ্ছে ব্রহ্ম।
পৌরাণিক যুগে অনেক নতুন দেব-দেবীর আবির্ভাব ঘটে।
প্রতিদিন নিয়ম মেনে যে কাজ করা হয় তাকে বলে নিত্যকর্ম।
নিত্যকর্মের ফলে নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায়।
স্বর্গে রোগ, শোক, জরা, ব্যাধি কিছুই নেই।
যাঁরা মোক্ষলাভ করতে চান তাঁরা ব্রহ্মজ্ঞানে ভালোবাসেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!