গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অপরিহার্য উপাদান রাজনৈতিক দল ।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য ।
গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয় রাজনৈতিক দলকে ।
জনগণের ভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকার গণতান্ত্রিক সরকার ।
রাজনৈতিক দল সকল ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে কাদের স্বার্থে কাজ করে সকলের স্বার্থে ।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি ।
সৌদি আরব দেশে রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নেই ।
আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয় উগান্ডায় ।
উগান্ডা আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত ।
আফ্রিকা মহাদেশের উগান্ডায় সরকার কর্তৃক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল ২০০৫ সাল পর্যন্ত ।
রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য ক্ষমতা লাভ ।
অর্থনীতির রূপরেখায় দল ভিন্ন হতে পারে ।
প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে ।
কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত রাজনৈতিক দলের শাখা বিস্তৃত থাকে ।
আধুনিককালে গণতন্ত্রে শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
প্রার্থী মনোনয়ন করা রাজনৈতিক দলের কাজ ।
ভোট সংগ্রহ করা রাজনৈতিক দলের কাজ ।
রাজনৈতিক দল ও জনগণ নেতা তৈরির কাজটি করে থাকে ।
রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করা ।
রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ কর্মসূচিতে নিহিত ।
জনমত গঠনের মাধ্যম রাজনৈতিক দল ।
বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
রাজনৈতিক দল জনগণের সমর্থন চায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ।
রাজনৈতিক দল সংগঠন জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ঐক্যের মনোভাব জাগ্রত করে তোলে ।
বাংলাদেশে বহুদলীয় দলব্যবস্থা বিদ্যমান ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম দল আওয়ামী লীগ ।
আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ।
'আওয়ামী মুসলিম লীগ' থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয় ১৯৫৫ সালে ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ।
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ।
জামায়াতে ইসলামী ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ।
১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতে মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয় ।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর ।
সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ।
মার্কসবাদী-লেলিনবাদী হিসেবে পরিচিত কমিউনিস্ট পার্টি ।
কমরেড মনি সিং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি পার্টির প্রাণপুরুষ ছিলেন ।
কমরেড মনি সিং ১৯৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।
জনগণের মতামতকে সুসংগঠিত করে রাজনৈতিক দল ।
জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায় রাজনৈতিক, দল ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল প্রয়োজন জনগণকে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত করতে ।
নির্দিষ্ট সময় অন্তর ক্ষমতার পরিবর্তন হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ।
রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্ভব নয় ।
নির্বাচন প্রার্থী যাচাইয়ের কাজ ।
স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সকল নাগরিক ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বাছাই করে ।
যারা ভোট দেয় তাদেরকে নির্বাচক বলা হয় ।
নির্বাচকের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলে ।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম শর্ত সুষ্ঠু নির্বাচন ।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম ।
ভোটারগণ ভোট প্রদান করে একজন যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য ।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি ক্রতে বাধ্য করে ।
নির্বাচন দুই প্রকার ।
পরোক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থী মধ্যবর্তী প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন ।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশের রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী সংস্থা কর্তৃক নির্বাচিত হন ।
পরোক্ষ নির্বাচনের উদাহরণ মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ।
জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের উত্তম ক্ষেত্র নির্বাচন ।
সাধারণভাবে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে নির্বাচন পদ্ধতি বলা হয় ।
ভোটদান পদ্ধতি দুই প্রকার ।
নির্বাচন পদ্ধতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতির নাম এক ব্যক্তি, এক ভোট পদ্ধতি ।
বর্তমানে সর্বত্র গৃহীত নীতি এক ব্যক্তি, এক ভোট ।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে নিচের কার্যকর নির্বাচন যৌক্তিক ।
জনগণের আস্থা নির্বাচনের ওপর নির্ভরশীল ।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজ নির্বাচন পরিচালনা ।
নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা ।
নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন সংস্থা ।
৫ জন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত ।
নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগদান করেন রাষ্ট্রপতি ।
নির্বাচন কমিশনে সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতিত্ব করেন ।
নির্বাচন কমিশনের কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য নিজস্ব সচিবালয় রয়েছে ।
নির্বাচন কমিশন সরকারের ওপর নির্ভরশীল জনবল ও আর্থিক ক্ষমতার জন্য ।
জনবল ও অর্থসংক্রান্ত ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা থাকা একান্ত আবশ্যক ।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৯নং অনুচ্ছেদে অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন ।
স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচন জেলা পরিষদ নির্বাচন ।
বাংলাদেশে ৩০০টি জাতীয় নির্বাচনি এলাকা রয়েছে ।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে ।
সংরক্ষিত আসন মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট ।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মূলত রাজনৈতিক দলেরই শাসন। জনগণের ভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকার। আর রাজনৈতিক দল ছাড়া এই গণতান্ত্রিক সরকার গঠন সম্ভব নয়।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। আর জনগণের মুখপাত্র হলো রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দলগুলো জনসাধারণকে সুসংহত করে এবং একতাবদ্ধ করে তাদের মধ্যে ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে মিলনসূত্র রচনা করে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে সচেতন করে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। এসব কারণে গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি দেশের জনগোষ্ঠীর সেই অংশ যারা একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে সংগঠিত হয়। রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে। তাছাড়া প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের বা দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়।
রাজনৈতিক দলের দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।
২. প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে। এসব আদর্শ ও কর্মসূচির মাধ্যমে দল পরিচালিত হয়।
রাজনৈতিক দলে নেতৃত্ব তৈরির কাজটি করেন রাজনৈতিক দল ও জনগণ। রাজনৈতিক দলের যিনি প্রধান তিনিই হলেন দলের নেতা। দলের নেতৃত্বে যারা স্থানীয় পর্যায়ের নেতা, আগামীতে তারা জাতীয় পর্যায়ের নেতাও হতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে তাকে সকল ক্ষেত্রে দক্ষ নেতৃত্বের গুণ অর্জন করতে হবে।
রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ হচ্ছে সরকার গঠন করুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় সেই দলই সরকার গঠন করেন। সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক দলের কাজে হলো দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।
রাজনৈতিক দলের একটি অন্যতম কাজ হচ্ছে তার আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি গ্রহণ করে জনগণের সামনে উপস্থাপন করে জনমত গঠন করে।
রাজনৈতিক শিক্ষাদানে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করা। জনগণ বিভিন্ন দলের মতামত, আলোচনা-সমালোচনা ইত্যাদি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার অনেক বিষয় জানতে পারে। এভাবে সাধারণ জনগণ রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে বিজয়ী দল সরকার গঠন করে। আর দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আইনসভায় বিরোধীদল হিসেবে ভূমিকা পালন করে। সরকারের কোনো কার্যক্রম ভুল হলে বিরোধীদলের প্রধান কাজ হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া।
বহুদলীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সকল জনগণের মতামতের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজ নিজ নীতি-আদর্শ ও কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকে। ফলে জনগণ তাদের পছন্দ মতো সবচেয়ে উপযোগী দলকে বেছে নিতে পারে। জনসমর্থন পাওয়ার আশায় রাজনৈতিক দলগুলো জনমতকে সমীহ করে চলে। আর গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনমত। এজন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বহু দলীয় ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দল হলো-১. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৩. জাতীয় পার্টি ৪. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫. জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ৬. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
আওয়ামী লীগ এ দেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকায় আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের মূলনীতি।
সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলে ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হয়। এ দলটি ইসলামি মূল্যবোধ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী।
১৯৮৬ সালের ১লা জানুয়ারি সামরিক শাসক লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, ইসলামি আদর্শ ও সকল ধর্মের স্বাধীনতা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, 'গণতন্ত্র এবং, সামাজিক প্রগতি তথা অর্থনৈতিক মুক্তি দলের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
জামায়াতে ইসলামী একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতে মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে এ দলের প্রতিষ্ঠা। তখন এর নাম ছিল 'জামায়াতে ইসলামী হিন্দ'। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এর নাম হয় 'জামায়াতে ইস্লামী পাকিস্তান'। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দলটি পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে কাজ করেছে।
অবিভক্ত ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি এবং ভারত ভাগের পর ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ গঠিত পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আত্মপ্রকাশ করে। এই দলটি মার্কসবাদী-লেলিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি হিসেবে পরিচিত। কমরেড মনি সিং ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির প্রাণপুরুষ।
গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। কেননা রাজনৈতিক দলই জনগণের মতামতকে সুসংগঠিত করে এবং জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়। আর তাই গণতন্ত্রের সফলতার জন্য রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। আর জনগণের মুখপাত্র হলো রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দলগুলো জনসাধারণকে সুসংহত করে এবং একতাবদ্ধ করে তাদের মধ্যে ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে মিলনসূত্র রচনা করে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো জনসাধারণকে গণতন্ত্রের উপযোগী করে তোলে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। এসব কারণে গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা লাভকরে। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনমত প্রকাশ পায়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে। জনগণই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো একটি দলকে সমর্থনের মাধ্যমে সরকার গঠনে সহায়তা করে। এখন নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু না হয় তবে গণতন্ত্র ও জনগণের মতামতের প্রতিষ্ঠা পাবে না। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম শর্ত।
নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের পদ্ধতি। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সকল নাগরিক ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বাছাই করে। এভাবে প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলে। অর্থাৎ নির্বাচন হলো সে পদ্ধতি যার মাধ্যমে অনেকের মধ্য থেকে একজন দক্ষ ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বাছাই করা যায়।
একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর গণতন্ত্র নির্ভর করে বলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনমত। আর নির্বাচনের মাধ্যমেই জনমত প্রকাশ পায়। নির্বাচনের মাধ্যমেই ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করে। নির্বাচিত সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করে। তাই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
নির্বাচন দুই প্রকার। যথা-
১. প্রত্যক্ষ নির্বাচন : যে নির্বাচনে জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বাছাই করে তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন বলে।
২.পরোক্ষ নির্বাচন: যে নির্বাচন পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হয়ে মধ্যবর্তী সংস্থার মাধ্যমে নির্বাচিত হন তাকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে।
যে নির্বাচনে জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বাছাই করে তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন বলে। যেমন- বাংলাদেশের সংসদ সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। অপরদিকে, যে নির্বাচন পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হয়ে মধ্যবর্তী সংস্থার মাধ্যমে নির্বাচিত হন তাকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি।
যে নির্বাচনে জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বাছাই করে তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন বলা হয়। যেমন- বাংলাদেশের সংসদ সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। ফলে গণতন্ত্র সুসংহত হয় এবং সর্বত্র জনমত প্রাধান্য পায়।
জনগণ ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি বা একটি মধ্যবর্তী সংস্থা নির্বাচিত করেন, এই জনপ্রতিনিধিগণ ভোট দিয়ে যখন রাষ্ট্রপতি বা সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য নির্বাচন করেন, তখন তাকে বলা হয় পরোক্ষ নির্বাচন। যেমন- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।
নিচে প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও পরোক্ষ নির্বাচনের দুইটি পার্থক্য আলোচনা করা হলো-
১. প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোটারদের বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর তৎপরতা দেখে উৎসাহ ও আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে, পরোক্ষ নির্বাচনে উত্তেজনা ও আবেগ কম থাকে।
২. প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে ব্যয় কম হয়। অপরদিকে, পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় দুইবার করে নির্বাচনের আয়োজন করার ফলে ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে ভোটপ্রদানের পদ্ধতি দুইটি। যথা-
১ . প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে ভোটারগণ নিজ নিজ পছন্দের ব্যক্তিকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' ধ্বনি বা 'হাত তুলে' সমর্থন দান করে তাকে প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতি বলে।
২. গোপন ভোটদান পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালট পত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তির নামের পাশে চিহ্ন এঁকে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে তাকে গোপন ভোটদান পদ্ধতি বলে।
প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ নিজ নিজ পছন্দের ব্যক্তিকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে ভোট দেয়। এতে ভোটাররা প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' ধ্বনি বা 'হাত তুলে' সমর্থন প্রদান করে। প্রকাশ্যে ভোটদান পদ্ধতিতে প্রকাশ্যে ভোট দিতে হয় বিধায় ভোটাররা অনেক সময় ভয়ভীতির সম্মুখীন এবং বিরোধী দলের বিরাগভাজন হতে হয়।
যে পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তিকে নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন এঁকে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে তাকে গোপন ভোটদান পদ্ধতি বলে। বর্তমানে পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের ক্ষেত্রে গোপন ভোটদান পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে অবাধ ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্ভব হয়। এ পদ্ধতিতে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ও ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারে।
নির্বাচন পদ্ধতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বজন স্বীকৃত পদ্ধতি হচ্ছে 'এক ব্যক্তি, এক ভোট' পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একটি আসনের জন্য যেকোনো সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। একজন ভোটার কেবল তার পছন্দের প্রার্থীকে একটি ভোট দিবেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যিনি বেশি ভোট পাবেন তিনি নির্বাচিত হবেন।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হয় বলে একে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পূর্বশর্ত বলা হয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা হচ্ছে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। এখন নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু না হয় তবে গণতন্ত্র ব্যাহত হবে। জনগণের মতামতের প্রতিষ্ঠা পাবে না। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশর্ত বলা হয়।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পূর্বশর্ত হচ্ছে কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা। সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নির্ভর করে। সুষ্ঠু ও নিরাপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা হচ্ছে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। তাই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা একান্ত আবশ্যক।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজনকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত। আর এ কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর। কমিশনারবৃন্দ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচন পরিচালনা করা, ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা, ভোটারদের পরিচয়পত্র প্রদান করা ইত্যাদি। এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইকরণ, নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা নির্বাচন কমিশনের কাজ।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
জনগণের ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়।
জনগণের ভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকারই হচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকার।
রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা সম্ভব নয়।
একটি দেশের যে জনগোষ্ঠী একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিত্তে সংগঠিত হয় তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।
রাজনৈতিক দল সকল ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সকলের স্বার্থে কাজ করে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
২০০৫ সাল পর্যন্ত উগান্ডায় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল।
রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ হচ্ছে সরকার গঠন করা।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় সেই দলই সরকার গঠন করে।
বিরোধী দলের প্রধান কাজ হলো গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া।
এ দেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ দলটি ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগ থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন।
মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী।
এদেশে কমিউনিস্ট পার্টির প্রাণপুরুষ ছিলেন কমরেড মনি সিং।
প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলে।
নির্বাচনে যারা ভোট দেয় তাদেরকে ভোটার বা নির্বাচক বলে।
নির্বাচনে যারা ভোট দেয় তাদের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
নির্বাচকমণ্ডলী সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে।
নির্বাচন দুই প্রকার। যথা- প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও পরোক্ষ নির্বাচন।
যে নির্বাচনে জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বাছাই করে তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন বলে।
জনগণ ভোটের মাধ্যমে একটি মধ্যবর্তী সরকার নির্বাচিত করেন। এ জনপ্রতিনিধিগণ ভোট দিয়ে যখন রাষ্ট্রপতি বা সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য নির্বাচন করেন, তখন তাকে বলা হয় পরোক্ষ নির্বাচন।
নির্বাচন পদ্ধতি বলতে সাধারণভাবে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়।
ভোটদান পদ্ধতি দুই প্রকার। যথা- প্রকাশ্যে ভোটদান পদ্ধতি এবং গোপন ভোটদান পদ্ধতি।
নির্বাচন পদ্ধতির ক্ষেত্রে বর্তমানে সর্বত্র গৃহীত নীতি হলো-'এক ব্যক্তি, এক ভোট।'
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পূর্বশর্ত হচ্ছে কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা হচ্ছে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ।
মোট পাঁচ জনকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
নির্বাচন কমিশনারদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন।
সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের বর্ণনা সংবিধানের ১১৯নং অনুচ্ছেদে আছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনি এলাকা ৩০০টি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মহিলাদের সংরক্ষিত আসন ৫০টি।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। আর জনগণের মুখপাত্র হলো রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দলগুলো জনসাধারণকে সুসংহত করে এবং একতাবদ্ধ করে তাদের মধ্যে ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে মিলনসূত্র রচনা করে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রীয় সমস্যা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে থাকে। এছাড়া দলীয় ব্যবস্থা জনসাধারণকে গণতন্ত্রের উপযোগী করে তোলে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। এসব কারণে গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অধিকতর। এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের এবং দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে।
জনমত গঠন রাজনৈতিক দলের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। জনগণের সমস্যা নির্ধারণ ও উপস্থাপন, জনবান্ধব কর্মসূচি ও নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল জনমত গঠন করে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন মঞ্চে অগ্নিবর্ষী বক্তৃতা, বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও পুস্তিকা থেকে বেতার, টেলিভিশন ও অন্যান্য গণমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনসাধারণের মধ্যে সমস্যা সম্বন্ধে ধারণা ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক দল জনমত গঠন করে।
রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে জনগণ রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে জনগণকে তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করা। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় কর্মসূচি ব্যাখ্যা করে এবং অন্যান্য দলের কাজের সমালোচনা করে। জনগণ বিভিন্ন দলের মতামত, আলোচনা-সমালোচনা ইত্যাদির মাধ্যমে রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে।
বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনের বিজয়ী দল সরকার গঠন করে এবং দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, আইনসভায় বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে। সরকারের কোনো কার্যক্রম ভুল হলে বিরোধী দলের প্রধান কাজ হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি, ধরিয়ে দেওয়া। এভাবে সরকারের সমালোচনার মাধ্যমে বিরোধী দল জনগণের প্রতিফলন হিসেবে পরোক্ষভাবে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে।
সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দল সমাজের সকল মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। একটি সমাজে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষ থাকে। তাদের স্বার্থ পরস্পর আলাদা। পরস্পর আলাদা এসব স্বার্থ একত্রিত করে তা একটি কর্মসূচিতে পরিণত করা রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ। রাজনৈতিক দল নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের সমর্থন চায়। যেকোনো দল ক্ষমতায় গিয়ে তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতি প্রণয়ন করে। এ নীতি বাস্তবায়নের.. ওপর সামাজিক ঐক্য নির্ভর করে।
দলটি সকল ধর্ম-বর্ণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ করা হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। এর অন্যতম কারণ ছিল অমুসলিমরাও যাতে দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ লাভ করে। অর্থাৎ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে। মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। আর জনগণের মুখপাত্র হলো রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দলগুলো। রাষ্ট্রীয় সমস্যা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে এবং শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা পরিবর্তন করার মাধ্যমে গণতন্ত্র বিকাশে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও দলীয় ব্যবস্থা জনগণকে গণতন্ত্রের উপযোগী করে তোলে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়।
নির্বাচনের মাধ্যমে, জনমতের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে বলে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন অপরিহার্য। নির্বাচন হচ্ছে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রাণ। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারগণ যোগ্য ও উপর্যুক্ত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার মাধ্যমে সরকার গঠন করে। এভাবে কোনো নীতি বা বিষয়ের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে ওঠে। এছাড়া নির্বাচন প্রক্রিয়া সরকার, বিরোধী দল এবং জনসাধারণের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। এজন্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচকমণ্ডলী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলে। যারা ভোট দেয় তাদেরকে নির্বাচক বলে। আর নির্বাচকের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলে। নির্বাচকমণ্ডলী সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। কারণ নির্বাচকমণ্ডলী ভোটদান করে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে। একটি নির্বাচনে দল নির্বাচিত হয়ে জনগণের কাজ না করলে পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলী আর সেই দলকে নির্বাচিত করে না। এ কারণে সরকার সর্বদা জনগণের কল্যাণে কাজ করে। এভাবেই নির্বাচকমণ্ডলী জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে।
আধুনিক শাসনব্যবস্থা মূলত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থায় আমরা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উপস্থিতি লক্ষ করি। যারা রাষ্ট্রীয় আইন ও নীতিকে নিজের স্বার্থ প্রয়োগের জন্য আইনসত্তা কিংবা আমলাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বা চাপ সৃষ্টি করে তাদেরকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলা হয়। যেমন- শ্রমিক সংঘ, শিক্ষক সমিতি, প্রকাশক সমিতি ইত্যাদি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্গত।
নির্বাচনের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলে। নির্বাচকমণ্ডলী সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে। একটি দল নির্বাচিত হয়ে সঠিকভাবে জনগণের জন্য কাজ না করলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ সাধারণত সেই দলকে আর নির্বাচিত করে না। তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচকমণ্ডলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রত্যক্ষ নির্বাচন হলো নির্বাচনের প্রত্যক্ষ বা বাস্তব রূপ। এ-নির্বাচনের মাধ্যমে মাধ্যমে জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। এ নির্বাচন পদ্ধতিতে শাসন ও শাসিতের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। এর ফলে গণতন্ত্র সুসংহত হয়, সর্বত্র জনমত প্রাধান্য পায়। এ পদ্ধতিতে দক্ষ ও যোগ্য শাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যার কারণে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সর্বোপরি সরকার জনগণের অভিযোগ ও অধিকারকে উপেক্ষা করতে পারে না। এজন্য সমাজে সুশাসন কায়েম হয়।
মধ্যবর্তী সংস্থা কর্তৃক প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে পরোক্ষ নির্বাচন বলা হয়। পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে জনগণ ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি বা একটি মধ্যবর্তী সংস্থা নির্বাচিত করেন। এই মধ্যবর্তী জনপ্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে যখন রাষ্ট্রপতি বা সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য নির্বাচন করেন তখন তাকে বলা হয় পরোক্ষ নির্বাচন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। অর্থাৎ তিনি পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।
নিচে প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও পরোক্ষ নির্বাচনের পার্থক্য আলোচনা করা হলো-
১. যে নির্বাচনে জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে' প্রতিনিধি বাছাই করে তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন বলে। যে নির্বাচন পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হয়ে মধ্যবর্তী সংস্থার মাধ্যমে নির্বাচিত হন তাকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে।
২. প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোটারদের বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর তৎপরতা দেখে উৎসাহ ও আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে, পরোক্ষ নির্বাচনে উত্তেজনা ও আবেগ কম থাকে।
৩. প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে ব্যয় কম হয়। অপরদিকে, পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় দুইবার করে নির্বাচনের আয়োজন করার ফলে ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
নির্বাচন পদ্ধতি বলতে সাধারণভাবে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়। বর্তমানে ভোট প্রদানের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। যথা- ১. প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতি ও ২. গোপন ভোটদান পদ্ধতি। প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ নিজ নিজ পছন্দের ব্যক্তিকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে ভোট দেয়। এতে ভোটাররা প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' ধ্বনি বা 'হাত তুলে' সমর্থন প্রদান করে। অন্যদিকে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন এঁকে বা সিল দিয়ে ভোটপ্রদান করে। বর্তমানে এ পদ্ধতি সর্বজনস্বীকৃত।
ভোটদান পদ্ধতির একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো গোপন ভোটদান পদ্ধতি। যে ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন দিয়ে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন তাকে গোপন ভোটদান পদ্ধতি বলে। প্রায় সকল রাষ্ট্রেই গোপনে ব্যালটে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এ পদ্ধতি সর্বজনস্বীকৃত।
গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তিকে নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন একে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে। এ পদ্ধতিতে বিশৃঙ্খলা কিংবা সহিংসতার সম্ভাবনা থাকে না বলে বর্তমানে এ পদ্ধতি সর্বজনস্বীকৃত।
সারা বিশ্ব জুড়ে জাতীয় নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনীন পদ্ধতি হলো 'এক ব্যক্তি' এক ভোট' পদ্ধতি। 'এক ব্যক্তি এক ভোট' বর্তমানে সর্বত্র গৃহিত গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একটি আসনের জন্য যেকোনো সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। একজন ভোটার কেবল তার পছন্দের প্রার্থীকে একটি ভোট দিতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে যিনি বেশি ভোট পাবেন তিনি নির্বাচিত হবেন। জাতীয় নির্বাচন হয় বৃহৎ পরিসরে। এ নির্বাচনে তাই এক ব্যক্তি, এক ভোট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এতে করে গণতান্ত্রিকভাবে একজন প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা সহজ হয়ে ওঠে।
এক ব্যক্তি এক ভোট পদ্ধতিতে একটি আসনের জন্য একজন ভোটার কেবল তার পছন্দের একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচিত হবেন। এ পদ্ধতি বর্তমানে সর্বত্র গৃহীত নীতি যাতে নির্বাচনের পূর্ণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়। তাই এক ব্যক্তি, এক ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পদ্ধতি।
গণতন্ত্র জনগণের এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালিত হলে সঠিক নেতৃত্বে, গণতন্ত্র রক্ষিত হয়। এর বিপরীত অবস্থায় জনগণের শাসন কায়েম হয় না এবং ভুল জনমত গঠিত হয়, যা গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ বলা হয়।
সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত হয় বলে একে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পূর্বশর্ত বলা হয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা হচ্ছে গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার থাকা আবশ্যক। জনগণই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যয়ে, কোনো একটি 'দলকে সমর্থনের মাধ্যমে সরকার গঠনে সহায়তা করে। এখন নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু না হয় তবে গণতন্ত্র ব্যাহত্ব হবে। জনগণের মতামতের প্রতিষ্ঠা পাবে না। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশর্ত।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য । আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মূলত রাজনৈতিক দলেরই শাসন । জনগণের ভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকার । আর রাজনৈতিক দল ছাড়া এই গণতান্ত্রিক সরকার গঠন সম্ভব নয়। এ অধ্যায় পাঠের মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক দল কী, গণতন্ত্রের সাথে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনের সম্পর্ক, নির্বাচন কমিশন কী ইত্যাদি সম্পর্কে জানব ।
এ অধ্যায় পাঠের মাধ্যমে আমরা-
♦ রাজনৈতিক দলের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব
♦ গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব
♦ বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের বর্ণনা দিতে পারব
♦ গণতন্ত্র ও নির্বাচনের সম্পর্ক নিরূপণ করতে পারব
♦ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করতে পারব ।
Related Question
View Allগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। রাজনৈতিক দল একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়।
'খ' ব্যক্তি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রাপ্ত সব নাগরিক ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বাছাই করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এ দুই প্রকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য অথবা গোপন ভোটদান পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতিতে ভোেটারগণ তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে ভোট দেয়। এতে ভোটাররা প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' ধ্বনি বা 'হাত তুলে' সমর্থন দান করে। অন্যদিকে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন একে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনের ভোটাররা 'খ' ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য মনে করে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন। অর্থাৎ 'খ' ব্যক্তি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় গোপন ভোটদান পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটাররা গোপনে ব্যালটপেপারে পছন্দের ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন এঁকে বা সিল দিয়ে ভোট দেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের 'খ' ব্যক্তিও প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির কাজগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান কাজ জনমত গঠনের প্রতিফলন ঘটেছে।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। এই জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়াও রাজনৈতিক দল জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচির ব্যাখ্যা এবং অন্য দলের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে মিটিং, মিছিল কর্মসূচি পালন করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভের চেষ্টা চালিয়েছেন।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়, মিটিং, মিছিল প্রভৃতি কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের জনমত গঠনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের মূলনীতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!