রাষ্ট্র রাজনৈতিক ধরনের প্রতিষ্ঠান ।
রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান সরকার ।
রাষ্ট্রের মুখপাত্র হিসেবে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে ।
রাষ্ট্র ও সরকার দুটিকে অনেক সময় সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয় ।
রাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী ধরনের প্রতিষ্ঠান ।
সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী রাষ্ট্র ।
রাষ্ট্র গঠনের উপাদান চারটি ।
ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক দুইভাবে ভাগ করা যায় ।
অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে ২ ভাগে ভাগ করা যায় ।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রব্যবস্থায় পুঁজির মালিকেরা সর্বাধিক মুনাফা লাভের চেষ্টায় সবচেয়ে কম খরচে উৎপাদন করে ।
অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে ।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বিপরীত ।
ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণা থেকে পুঁজিবাদ উদ্ভব হয় ।
যেখানে সম্পত্তির ওপর নাগরিকের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় তাকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলে ।
পুঁজিবাদী সরকারব্যবস্থায় অর্থনীতির মূলভিত্তি অবাধ প্রতিযোগিতা ।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য সমাজের শ্রেণিবৈষম্য দূর করা ।
সমাজতান্ত্রিক ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা/ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করে না ।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে ।
গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসনব্যবস্থায় ।
সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলের মত প্রচারের সুযোগ থাকে না ।
চীন সমাজতান্ত্রিক ধরনের রাষ্ট্র ।
কিউবা' সমাজতান্ত্রিক ধরনের রাষ্ট্র ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার মালিক জনগণ ।
যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা সমাজের সকল সদস্য তথা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক সরকার পরিবর্তন হয় ।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মেয়াদের পর জনগণের কাছে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ আসে ।
সুষ্ঠু নির্বাচনব্যবস্থা গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতির অন্যতম শর্ত ।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে ।
ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষাকারী রাষ্ট্রব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ।
নাগরিকের মর্যাদা বৃদ্ধিকারী রাষ্ট্রব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ।
গণতান্ত্রিক ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিপ্লবের সম্ভাবনা কম ।
বর্তমান যুগে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও সর্বোৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্র ।
গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য নাগরিকের গণতান্ত্রিক মনোভাব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ।
গণতন্ত্রের বাহন নির্বাচন ।
গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত নির্বাচন ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের প্রাণ ।
একনায়কতন্ত্র গণতন্ত্র বিরোধী ।
একনায়কতন্ত্রে ধরনের শাসনব্যবস্থায় একজন শাসকের হাতে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে ।
একনায়কতন্ত্রে রাষ্ট্রের ক্ষমতা একজনের হাতে ন্যস্ত থাকে ।
একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ।
ডিকটেটর অর্থ একনায়ক ।
একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শাসকের আদেশই আইন ।
একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শাসকের কারও কাছে জবাবদিহি থাকে না ।
একনায়কতান্ত্রিক ধরনের রাষ্ট্রে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে না ।
এক ব্যক্তি, এক দেশ, এক নেতা একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আছে ।
নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয় একনায়কতান্ত্রিক ধরনের শাসন ব্যবস্থায় ।
একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র রাষ্ট্রব্যবস্থা নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক চেতনার অন্তরায় ।
একনায়কতন্ত্রে উগ্র জাতীয়তাবোধ ধারণ ও লালন করা হয় ।
যুদ্ধাংদেহী মনোভাব পোষণ করে হিটলার সারা পৃথিবীতে ধ্বংস ডেকে এনেছিলেন ।
ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের বেদীমূলে উৎসর্গ করা হয় একনায়কতন্ত্র শাসনব্যবস্থায় ।
ক্ষমতা বণ্টননীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে ২ ভাগে ভাগে ভাগ করা হয় ।
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয় ।
এককেন্দ্রিক সরকার প্রচলিত বাংলাদেশে/ যুক্তরাজ্যে দেশে ।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একাধিক রাষ্ট্র ও প্রদেশ মিলিত হয়ে একটি রাষ্ট্র গঠন করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র বলে ।
সৌদি আরবের শাসনব্যবস্থা রাজতান্ত্রিক রূপ ।
নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র প্রচলিত আছে সৌদি আরবে দেশে ।
জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে শাসনব্যবস্থায় ।
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রের রাজা বা রানি উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রপ্রধান হন ।
যুক্তরাজ্য রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে ।
যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা হয় ।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের প্রাত্যহিক ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করে ।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হয় ।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ধরনের রাষ্ট্র মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে ।
বেকার ভাতা প্রদান কল্যাণমূলক বাষ্ট্র রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য ।
মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ৫টি ।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের উদাহরণ কানাডা, যুক্তরাজ্য, সুইডেন ও নরওয়ে ।
সুইডেন কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য বহন করে ।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সমাজের মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে ।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ধরনের রাষ্ট্র বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে ।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সচ্ছলদের ওপর উচ্চ হারে কর ধার্য করা হয় ।
কল্যাণমূলক ধরনের রাষ্ট্রে জনগণের সকল চাহিদা পূরণ এবং দরিদ্র জনগণের স্বার্থরক্ষার জন্য কাজ করে থাকে ।
আধুনিককালে রাষ্ট্রব্যবস্থা কল্যাণমূলক ধরনের ।
সরকারকে দুই ভাগে ভাগে ভাগ করা যায় ।
ক্ষমতা বণ্টনের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা এককেন্দ্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ।
যে শাসনব্যবস্থায় সরকারের সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্র থেকে দেশের শাসন পরিচালিত হয় তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে ।
এককেন্দ্রিক সরকার শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন করা হয় না ।
এককেন্দ্রিক সরকারে সরকারব্যবস্থায় আঞ্চলিক সরকারের কোনো স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নেই ।
বাংলাদেশ এককেন্দ্রিক রূপ রাষ্ট্র ।
এককেন্দ্রিক সরকারে শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা সহজেই সমগ্র দেশে বাস্তবায়ন করা যায় ।
মিতব্যয়িতা এককেন্দ্রিক সরকারের গুণাবলি ।
এককেন্দ্রিক ধরনের সরকারব্যবস্থায় খরচ কম ও সহজে যেকোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ।
এককেন্দ্রিক সরকারে প্রশাসনিক ব্যয় কম হওয়ার কারণ এতে কেবল কেন্দ্রে সরকার গঠন করা হয় বলে ।
এককেন্দ্রিক সরকারে সরকারে সিন্ধান্ত গ্রহণে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় না ।
একাধিক অঞ্চল মিলে যুক্তরাষ্ট্রীয় ধরনের সরকার গঠিত হয় ।
যেখানে একাধিক রাষ্ট্র বা প্রদেশ মিলে একটি সরকার গঠন করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে ।
ক্ষমতা বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ।
যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় ২টি সরকার বিদ্যমান ।
কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের চাপ কম থাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় ।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের উপযোগী ।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে সরকারের গঠন প্রণালি জটিল প্রকৃতির ।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় ক্ষমতার এখতিয়ার নিয়ে স্বন্দ্ব সংঘাত সৃষ্টি হতে দেখা যায় ।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে সরকারব্যবস্থার জরুরি অবস্থায় অনেক সময় দ্রুত ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না ।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় অঞ্চলগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনার কারণ সাংস্কৃতিক ভিন্নতা ।
আইন ও শাসন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকারের ২টি রূপ রয়েছে ।
আইন ও শাসন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে গঠিত সরকারব্যবস্থা সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত ।
সংসদীয় সরকারে শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার হাতে দেশের শাসন ক্ষমতা থাকে ।
সংসদীয় সরকারে দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হন ।
সংসদীয় সরকারকে সরকারকে পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার বলা হয় ।
সুইডেনে সংসদীয় পদ্ধতির ধরনের সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান ।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদটি নিয়মতান্ত্রিক ।
নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী ।
সংসদীয় সরকারের নির্বাহী প্রধান প্রধানমন্ত্রী ।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি ।
মন্ত্রিপরিষদ/সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় মন্ত্রিগণ আইনসভার নিকট সর্বোতভাবে দায়ী থাকেন ।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে ।
আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে ।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় বিরোধীদলকে বিকল্প সরকার মনে করা হয় ।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ বিরোধীদল ।
মন্ত্রিগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন ।
রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে ।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে অভিশংসন ছাড়া অপসারণ করা যায় না ।
রাষ্ট্রপতি দলের চেয়ে জাতীয় স্বার্থে প্রতিনিধিত্ব করাকে অধিকতর গুরুত্ব দেন ।
বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সুসম্পর্কের অভাব পরিস্থিতি সরকারকে নাজুক অবস্থায় ফেলতে পারে ।
আমেরিকায় গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রপতি শাসিত ধরনের সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান ।
যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সুসংগঠিত সরকার, সার্বভৌম আধিপত্য এবং স্থায়িভাবে বসবাসকারী জনসমষ্টি রয়েছে তাকে রাষ্ট্র বলে। রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের এ পৃথিবীতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৯৫টি রাষ্ট্র আছে'।
রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান। চারটি উপাদান নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয়। সরকার রাষ্ট্র গঠনের উপাদানগুলোর একটি মাত্র। তবে সরকার রাষ্ট্রের অংশবিশেষ। সরকার ছাড়া রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আর সরকার হলো এর মুখপাত্র। সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য প্রকাশিত ও সম্পাদিত হয়।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়। এ সরকারব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে। এ সরকারব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় না। এখানে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করা হয় না। গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এ ব্যবস্থায় বিরোধী মত প্রচারের সুযোগ থাকে না।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো পুঁজিবাদের কারণে সমাজে যে শ্রেণিবৈষম্য তৈরি হয় তা দূর করে সমতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন করা। তাই স্বল্প সংখ্যক পুঁজির মালিকদের হাতে শ্রমিকদেরকে শোষণের পথ বন্ধ করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাজ করে।
যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসনকার্যে জনগণের সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। গণতন্ত্রে সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে, সরকারের সমালোচনা করা যায়, জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয় এবং এটি যুক্তি ও সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে। তারা সরকারের সমালোচনা করতে পারে। তাছাড়া প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিকাশ ঘটে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসকগণ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের নিকট দায়ী থাকে। তারা পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য জনস্বার্থমূলক কাজ করার চেষ্টা করে। আর তাই দেশে দায়িত্বশীল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই হলো সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণতন্ত্রে কাউকে জন্মগত বা বংশগত কারণে উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করা হয় না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শুধুমাত্র এক ব্যক্তি বা শ্রেণি নয় বরং প্রত্যেক ব্যক্তিরই সমান গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এজন্য গণতন্ত্রে জনগণের ক্ষমতার প্রাধান্য বিদ্যমান।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করে। নির্বাচনের মাধ্যমে সব নাগরিকের রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় তারা নিজেদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। ফলে এতে তাদের মধ্যে দেশাত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শাসনকার্যে জনগণের সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মত প্রকাশ ও. সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এ ব্যবস্থায় সকলের স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে এবং আইনের শাসন স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এসব কারণে গণতন্ত্রকে সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা বলা হয়।
গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় নাগরিকগণ জটিল রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পায়। আর এভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য শুনে নাগরিকদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
জনগণের সরকারকে বলা হয় গণতন্ত্র। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা পরিচালিত এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মত প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এতে সকলের স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
গণতন্ত্র হচ্ছে নমনীয় শাসনব্যবস্থা। জনগণ ইচ্ছে করলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তন করতে পারে। আর তাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিপ্লবের প্রয়োজন হয় না।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে। নির্বাচিত দল শাসনকার্য পরিচালনায় দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ফলে অন্যান্য দলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।
গণতন্ত্রে ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে 'সরকারের কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সরকারের নীতিও পরিবর্তন হয়। আর তাই গণতন্ত্রে কখনও কখনও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
সরকারের অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় গণতন্ত্রে অধিক সহনশীলতা পরিলক্ষিত হয়। আবার জনগণ ইচ্ছে করলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তন করতে পারে। ফলে গণতন্ত্রে বিপ্লবের সম্ভাবনা কম। আর এসব নমনীয়তাও উত্তম গুণাবলির জন্যই গণতন্ত্রকে নমনীয় শাসনব্যবস্থা বলা হয়।
গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য প্রয়োজন শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠী, অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, দক্ষ প্রশাসন এবং উপযুক্ত নেতৃত্ব। এছাড়া আরও প্রয়োজন পরমতসহিষ্ণুতা, আইনের শাসন, মুক্ত ও স্বাধীন প্রচারযন্ত্র, একাধিক রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সহনশীলতা। তবে সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন তা হলো, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন হওয়া।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করে। নির্বাচনের মাধ্যমে সব নাগরিকের রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়। ফলে সকল নাগরিক নিজেদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। আর তাই তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ সৃষ্টি হয়।
পরমতসহিষ্ণুতা বলতে বোঝায় অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। গণতন্ত্রের প্রাণ হলো সহনশীলতা ও অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করা। এক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে সফল করার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলকে সহনশীল হতে হবে। নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অপরের মতামতকে সহ্য করার মতো মানসিকতা না থাকলে গণতন্ত্র সফল হতে পারে না।
গণতন্ত্রের বাহন হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সেজন্য নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। অযোগ্য লোক যেন নির্বাচিত না হতে পারে, সেজন্য নাগরিকদের সচেতনভাবে ভোট দিয়ে উপর্যুক্ত লোককে নির্বাচিত করতে হবে। আর এসব পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যায়।
একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। এতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এতে নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আর তিনি একনায়ক বা ডিকটেটর।
একনায়কতন্ত্রে নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এ ব্যবস্থায় শাসকের কারও কাছে জবাবদিহি থাকে না। এ ব্যবস্থায় একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে। দলের নেতাই হয় সরকারপ্রধান। তার ইচ্ছা অনুযায়ী দল পরিচালিত হয় এবং তার অন্ধ অনুসারীদের নিয়ে দল গঠিত হয়।
একনায়ককে কারও নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। তার কথাই আইন। এতে ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার সুযোগ নেই। একনায়কতন্ত্রের গণমাধ্যমগুলো নেতা ও তার দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এগুলো নিরপেক্ষভাবে ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায় না। বরং সরকারি দলের গুণকীর্তনে ব্যবহৃত হয়। বস্তুত একনায়কতন্ত্র একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা।
একনায়কতন্ত্রে উগ্র জাতীয়তাবোধ ধারণ ও লালন করা হয়। ক্ষমতার লোভ একনায়কের মধ্যে যুদ্ধাংদেহী মনোভাব সৃষ্টি করে। হিটলার এ ধরনের মনোভাব পোষণ করে সারা পৃথিবীতে ধ্বংস ডেকে এনেছিল। এ ধরনের মনোভাব আন্তর্জাতিক শান্তির পরিপন্থী। এজন্য এ ধরনের শাসনব্যবস্থাকে বিশ্বশান্তির বিরোধী বলা হয়।
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ফলে কেন্দ্র থেকে দেশ পরিচালনা করা হয়। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য দেশকে বিভিন্ন প্রদেশে বা অঞ্চলে ভাগ করে কিছু ক্ষমতা তাদের হাতে অর্পণ করা হয়। ফলে তারা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থেকে কেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একাধিক অঞ্চল বা প্রদেশ মিলিত হয়ে একটি রাষ্ট্র গঠন করে, তাকে যুক্তরাষ্ট্র বলে। এ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের শাসনকার্যের সুবিধার জন্য সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পাশাপাশি অবস্থিত কতকগুলো ক্ষুদ্র অঞ্চল বা প্রদেশ একত্রিত হয়ে একটি বড় রাষ্ট্র গঠন করে বলে রাষ্ট্রটি শক্তিশালী হয়।
বিশ্বের যেসকল রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা লাভ করে, সে ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বলা হয় রাজতন্ত্র। রাজতন্ত্রে রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি হয়ে থাকেন। রাজতন্ত্র দুই প্রকারের হয়। যথা- নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র।
নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন। এতে শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। বর্তমানে বিশ্বে এ ধরনের রাষ্ট্রের সংখ্যা নগণ্য। সৌদি আরবে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিদ্যমান।
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি উত্তরাধিকার সূত্রে বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হন এবং তিনি সীমিত ক্ষমতা ভোগ করেন। রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসনক্ষমতা থাকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে। যুক্তরাজ্যে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে।
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি উত্তরাধিকার সূত্রে বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হন। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি সীমিত ক্ষমতা ভোগ করেন। রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসনক্ষমতা থাকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে। শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যে (গ্রেট ব্রিটেন) এ নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বিদ্যমান।
যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে। এ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনকল্যাণের জন্য যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেগুলো হলো নাগরিকের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বেকারভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ২টি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. রাষ্ট্র সমাজের মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তারব্যবস্থা জোরদার করে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে। খাদ্য ভর্তুকি প্রদান, কর্মসংস্থান, বেকার ভাতা, অবসরকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি প্রদান করে। ২. সচ্ছলদের ওপর উচ্চহারে কর ধার্য করে ও কম সচ্ছলদের ওপর কম কর ধার্য করে দরিদ্র ও দুস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।
এককেন্দ্রিক সরকার বলতে আমরা সে ধরনের সরকারকে বুঝি যে ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। এতে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন করা হয় না। এ সরকারব্যবস্থায় আঞ্চলিক সরকারের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। মূল ক্ষমতা থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। এজন্য এ ধরনের সরকারকে এককেন্দ্রিক সরকার বলা হয়।
এককেন্দ্রিক সরকারে কেন্দ্রের হাতে সকল ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। কেন্দ্রে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সহজেই তা সমগ্র দেশে বাস্তবায়ন করা যায়। তাছাড়া সারা দেশে অভিন্ন আইন, নীতি ও পরিকল্পনা বলবৎ করা হয়। আর তাই, এককেন্দ্রিক সরকারে সাংগঠনিক সামঞ্জস্যতা থাকে।
এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রের ভিতরে বিভিন্ন প্রদেশ বা অঞ্চল থাকলেও তাদের কোনো স্বায়ত্তশাসন নেই। ফলে সারা দেশের জন্য একই প্রশাসনিক নীতি ও আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়, যা জাতীয় সংহতি ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
হ্যাঁ, এককেন্দ্রিক সরকার মিতব্যয়ী। কারণ এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় প্রশাসনিক ব্যয় কম এবং এতে কেবল কেন্দ্রে সরকার গঠন করা হয়। এখানে কেন্দ্রীয় সরকার সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করে আর স্তরে স্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রয়োজন হয় না বলে এতে খরচ কমে। তাই বলা যায়, এককেন্দ্রিক সরকার মিতব্যয়ী।
এককেন্দ্রিক সরকারে সারা দেশের জন্য অভিন্ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা থাকতে পারে, যার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। আবার অঞ্চলগুলো দূরে থাকার কারণে কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় সমস্যাগুলো ঠিকভাবে বুঝতে ও সমাধান করতে পারে না।
এককেন্দ্রিক সরকার ভৌগোলিক দিক দিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট ও অভিন্ন কৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী। যেমন- বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয় না। তবে কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনবোধে প্রাদেশিক সরকারকে কিছু ক্ষমতা প্রদান করে। এ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণও করে কেন্দ্রীয় সরকার।
বড় রাষ্ট্রে এক অঞ্চলের সঙ্গে আরেক অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম-বেশি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই পার্থক্যগুলো একত্রিত করে সবকিছু কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে একা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারকে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই এককেন্দ্রিক সরকার বড় রাষ্ট্রের জন্য অনুপযোগী।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ক্ষমতা বণ্টনের নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। এতে সাংবিধানিক রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার কিছু অংশ প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারের এবং জাতীয় বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে। ফলে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয়' উভয় সরকারই মৌলিক ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং স্ব-স্ব ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থেকে দেশ পরিচালনা করে। এতে দ্বৈত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের দুটি গুণ হলো-
১. জাতীয় ঐক্য ও আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্যের সমন্বয় ঘটায়: এ ধরনের সরকার আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্য ও ভিন্নতা বজায় রেখে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলে। এতে আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য ও ভিন্নতাকে স্বীকৃতি দিয়ে সেগুলোর লালন করা হয়।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের চাপ কমায়: এ সরকারব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়া হয়। ফলে কেন্দ্রের চাপ কমে যায় এবং কেন্দ্রের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন সহজ হয়।
নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টিতে সহায়ক সরকারব্যবস্থা হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। কেননা, এ ব্যবস্থায় জনগণ দুটি পৃথক সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখায় এবং দুই প্রকার আইন ও আদেশ মেনে চলে, যা রাজনৈতিক চেতনা ও স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রণালি ও কার্যপদ্ধতি অন্যান্য সরকারব্যবস্থার চেয়ে জটিল। কেননা, এ পদ্ধতিতে সরকারের অভ্যন্তরেই অন্য আরেকটি সরকারের অস্তিত্ব তথা দ্বৈত সরকার বিদ্যমান থাকে। ফলে উভয় সরকার তথা কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ, ক্ষমতা বণ্টন, আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ প্রভৃতি বিষয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এসব কারণেই যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা জটিল।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় যেসব ত্রুটি লক্ষণীয় তন্মধ্যে হলো- জটিল প্রকৃতির শাসন, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, দুর্বল সরকার, বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা এবং ব্যয়বহুল।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার দুর্বল বলার কারণ হলো এ জাতীয় সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি স্থিতিশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রদেশ ও কেন্দ্রের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি হয় বলে বলিষ্ঠ ও দ্রুত শাসনকার্য পরিচালনা সম্ভব হয় না। আঞ্চলিক সরকারের মতামত প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হয় এবং এক্ষেত্রে মতবিরোধ তৈরির সম্ভাবনা থাকে। ফলে প্রদেশ ও কেন্দ্রীয় উভয় পক্ষই দুর্বল অবস্থানে থাকে।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং শাসন বিভাগের 'স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বা সংসদীয় সরকার বলে। এতে মন্ত্রিসভার হাতে দেশের শাসন ক্ষমতা থাকে।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্য হতে অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ করেন ও তাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। এ ধরনের সরকারে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা হয় প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কার্যত কিছু করেন না।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা প্রভূত ক্ষমতা ভোগ করে বিধায় এ বিভাগটি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। এছাড়া মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সংসদ অনাস্থা আনলে তাকে পদত্যাগ করতে হয়।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় বিরোধী দল হচ্ছে অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ জাতীয় সংকটে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল একসাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে। তাই এ সরকারব্যবস্থায় বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার মনে করা হয়।
এ ধরনের সরকারে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার প্রায় সকল সদস্য আইনসভারও সদস্য। ফলে শাসনকার্য পরিচালনার সাথে আইন প্রণয়নেও সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শাসন ও আইন প্রণয়ন ক্ষমতা একই স্থানে তথা মন্ত্রিপরিষদের হাতে থাকে বলে মন্ত্রিগণ স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে। এজন্য সংসদীয় সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচার বলে আখ্যায়িত করা যায়।
সংসদীয় সরকার মূলত দলীয় সরকার। এতে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর সরকারের গঠন ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় দলই চরম দলীয় মনোভাব নিয়ে কাজ করে। এছাড়া দলীয় সরকার হওয়ায় দলের সদস্যদের সন্তুষ্ট করার জন্য মেধা ও যোগ্যতা বিবেচনা না করে অনেককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে জাতীয় স্বার্থ ব্যাহত হয়।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি তার পছন্দের লোক নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। এখানে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান।
এ সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। মন্ত্রিগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও পারেন। আর এভাবেই রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি একটি নির্ধারিত মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। এ সময় একমাত্র অভিশংসন (কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন সাপেক্ষে অপসারণ করা) ছাড়া অপসারণ করা যায় না। ফলে শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকে।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় আইনসভায় বিল পাশের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভোটাভোটি সরকারের স্থায়িত্বের ওপর প্রভাব ফেলে না। রাষ্ট্রপতি দলের চেয়ে জাতীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করাকে অধিকতর গুরুত্ব দেন। ফলে এ ব্যবস্থায় দলীয় মনোভাব কম প্রদর্শিত হয়।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি যেহেতু কারও সাথে পরামর্শ করতে বাধ্য নন। সেহেতু খামখেয়ালী ও দায়িত্বহীন শাসনের আশঙ্কা এতে বেশি থাকে। আবার, রাষ্ট্রপতির হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব থাকায় এবং শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী না থাকায় রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছাচারী শাসকে পরিণত হতেও পারেন।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে সংবিধান সহজে সংশোধন করা যায় না। ফলে কোথাও কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তা সহজে করা যায় না। আবার, রাষ্ট্রপতিকে সহজে পদচ্যুত করা যায় না বলে সহজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটানো যায় না। ফলে শাসনব্যবস্থা অনমনীয় প্রকৃতির হয়।
পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা কেবল একটি পদ্ধতিকে ধারণ করে না। বরং একাধিক পদ্ধতির সংমিশ্রণে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। যেমন- আমেরিকা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে রয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসিত ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা। যুক্তরাজ্যে রয়েছে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র। মূলত রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা, জনগণের প্রত্যাশা, বাস্তব পরিস্থিতি ইত্যাদি বিভিন্ন কারণেই এই বিভিন্নতা গড়ে ওঠে।
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান।
রাষ্ট্রের মুখপাত্র হলো সরকার।
রাষ্ট্র সার্বভৌম বা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।
রাষ্ট্রের উপাদান চারটি।
রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদান হলো- জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়।
অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই ধরনের।
সম্পদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই প্রকার। যেমন- ১. পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও ২. সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
যে রাষ্ট্রে সম্পত্তির উপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়, তাকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলে।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায়, যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না এবং এতে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে।
কিউবাতে সমাজতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা রয়েছে।
যে শাসনব্যবস্থা জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত হয় সে শাসনব্যবস্থাকে গণতন্ত্র বলে।
যে শাসনব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে।
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে।
গণতন্ত্রে জনগণের আস্থার ওপর সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভর করে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা জনগণের সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
গণতন্ত্রের বাহন হচ্ছে নির্বাচন।
আইনের শাসন হলো গণতন্ত্রের প্রাণ।
একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে 'স্বেচ্ছাচারী' শাসনব্যবস্থা বলে।
একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। এই রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয় তাকে একনায়ক বা ডিকটেটর বলা হয়।
একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা।
ডিকটেটর শব্দের অর্থ একনায়ক।
একনায়কতন্ত্রের মূল আদর্শ হলো- এক জাতি, এক দেশ, এক নেতা।
জার্মানির হিটলারের আইন মানবতাবিরোধী ছিল।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ক্ষমতা, বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই ধরনের হয়।
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়।
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে কেন্দ্র থেকে দেশ পরিচালনা করা হয়।
এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক সরকারগুলো কেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একাধিক অাল বা প্রদেশ মিলিত হয়ে একটি রাষ্ট্র গঠন করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র বলে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার সম্পদ আহরণ করে একটি বৃহৎ অর্থনীতি গঠনপূর্বক রাষ্ট্রকে উন্নতির দিকে নিয়ে। যেতে পারে।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা লাভ করেন তাকে রাজতন্ত্র বলে।
রাজতন্ত্র দুই ধরনের।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজা বা রানি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, তাকে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বলে।
নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না।
নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র সৌদি আরবে বিদ্যমান রয়েছে।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান হন কিন্তু রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসন ক্ষমতা থাকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে তাকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলে। যেমন- যুক্তরাজ্যে (গ্রেট ব্রিটেন) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র লক্ষ করা যায়।
যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণসহ সর্বোচ্চ ও সার্বিক কল্যাণের প্রচেষ্টা চালায় তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য - বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সমাজের মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করে।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র দরিদ্র ও দুস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের জন্য সচ্ছলদের উপর উচ্চহারে কর ধার্য ও কম সচ্ছলদের উপর কম কর ধার্য করে।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের স্বার্থরক্ষার জন্য ন্যূনতম মজুরির ব্যবস্থা করে।
ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই প্রকার। যথা: এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র।
যে রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র বলে।
যে সরকারব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের শাসনকার্যের সুবিধার জন্য সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয় তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একাধিক রাষ্ট্র ও প্রদেশ মিলিত হয়ে একটি রাষ্ট্র গঠন করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র বলে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জনগণ দুটি সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখায়।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন ও আইন বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং শাসন বিভাগের স্বায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল তাকে সংসদীয় পদ্ধতি সরকার বলে।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিরাজ করে এবং শাসন বিভাগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বলে।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ আইন বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং শাসন বিভাগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় পদ্ধতির সরকার বলে।
সংসদীয় সরকারের অপর নাম মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার।
সংসদীয় সরকারের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বিদ্যমান।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার মনে করা হয়।
সংসদীয় সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হয়।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না এবং রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন তাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলে।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিগণ আইনসভার সদস্য নন।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে মন্ত্রিগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রকৃত শাসক।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়। এ সরকারব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী।
ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে। পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে' সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয়। এ সরকারব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় না। এখানে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করা হয় না। এ ধরনের রাষ্ট্রে একটিমাত্র দল থাকে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এ ব্যবস্থায় বিরোধী মত প্রচারের সুযোগ থাকে না। যেমন- চীন এবং কিউবা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
সমাজতন্ত্রে কোনো ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত নয় এবং এতে উৎপাদনের উপকরণসমূহ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। কেননা, ব্যক্তিমালিকানা সমাজে অবাধ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে সমাজে শ্রেণি বৈষম্য ও শ্রেণিসংগ্রামের সম্ভাবনা প্রকট হয়। যেহেতু সমাজতন্ত্রের অন্যতম উদ্দেশ্য সম্পদের সুষম বণ্টন, তাই শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত নয়।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। এটি জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণে পরিচালিত শাসন। গণতন্ত্রে সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে, সরকারের সমালোচনা করা যায়, জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয় এবং এটি যুক্তি ও সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে সকলের স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকারের মর্যাদা দেওয়া হয়। এসব কারণে গণতন্ত্র জনগণের ক্ষমতার উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়।
গণতন্ত্র হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসনকার্যে জনগণের সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এখানে মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এ শাসনব্যবস্থায় সকলের স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মূলত এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে বলা যায়, গণতন্ত্র হলো সকলের মঙ্গলের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। এটি জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণে পরিচালিত শাসন। গণতন্ত্রে সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে, সরকারের সমালোচনা করা যায়, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তীত হয় এবং এটি যুক্তি ও সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। গণতন্ত্রে দক্ষ সরকার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়। এরূপ- ইতিবাচক দিক অন্য কোনো শাসনব্যবস্থায় একসাথে অর্জিত হয় না। তাই গণতন্ত্রই। সর্বোৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা।
গণতন্ত্র বর্তমান যুগে প্রচলিত শাসনব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট ও সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা। গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসনকার্যে জনগণের সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থার অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে, সকলের স্বার্থরক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এসব কারণে অধিকাংশ রাষ্ট্র গণতন্ত্র গ্রহণেযোগ্য ও প্রশংসিত।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শাসকগণ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের নিকট দায়ী থাকে। তারা পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য জনস্বার্থমূলক কাজ করার চেষ্টা করে। ফলে দেশে দায়িত্বশীল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্রে জনগণের আস্থার ওপর সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। ফলে জনগণের আস্থা লাভের জন্য সরকার সততার সাথে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে। এজন্য গণতন্ত্রকে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা বলা হয়।
বর্তমান যুগে প্রচলিত শাসনব্যবস্থাগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও উৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা। কিন্তু গণতন্ত্র চর্চা বা বাস্তবায়নের পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। তবে শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠী, অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, দক্ষ প্রশাসন এবং উপযুক্ত নেতৃত্ব সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে গণতন্ত্রকে সফল করে তুলতে পারে। এছাড়াও পরমতসহিষ্ণুতা, আইনের শাসন, মুক্ত ও স্বাধীন প্রচারযন্ত্র, একাধিক রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সহনশীলতা গণতন্ত্রকে সফল করার অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
আইনের শাসন হলো-গণতন্ত্রের প্রাণ। কারণ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং আইনকে সবার উর্ধ্বে রাখতে হবে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভ করবে। এর ফলে ধনী-দরিদ্র, সবল-দুর্বল সকলে সমান অধিকার লাভ করবে। সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকবে এবং জনগণ আইনের বিধান মেনে চলবে। এ কারণেই আইনের শাসনকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।
একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী নয় কেননা এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এ জাতীয় ব্যবস্থায় নেতাই দল ও সরকারের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী থাকে। একনায়কতান্ত্রিক শাসকের স্বেচ্ছাচারিতার আড়ালে জনগণের ক্ষমতা ভূলুন্ঠিত হয়। এ কারণে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী নয়।
একনায়কতন্ত্রে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। একনায়কতন্ত্র স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করে। কারণ একনায়ককে কারও নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। তার কথাই আইন। এতে ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মুক্ত বুদ্ধি চর্চার সুযোগ নেই। তাই একনায়কতন্ত্রকে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয়।
একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী নয় বলে সেখানে বিপ্লবের ভয় থাকে। একনায়কতন্ত্র একটি স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। এতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত না থেকে একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল বা. শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এটি তাই গণতন্ত্র বিরোধী হয়। এ শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ নেই বলে সর্বদা বিপ্লবের ভয় থাকে। অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা ও গণঅসন্তোষের কারণে একনায়কতন্ত্র বেশিদিন টিকতে পারে না।
একনায়কতন্ত্রে উগ্র জাতীয়তাবোধ ধারণ ও লালন করা হয়। ক্ষমতার লোভ একনায়কের মধ্যে যুদ্ধাংদেহী মনোভাব সৃষ্টি করে। হিটলার এ ধরনের মনোভাব পোষণ করে সারা পৃথিবীতে ধ্বংস ডেকে এনেছিল। এ ধরনের মনোভাব আন্তর্জাতিক শান্তির পরিপন্থী। এজন্য এ ধরনের শাসনব্যবস্থাকে বিশ্বশান্তির বিরোধী বলা হয়।
বৃহৎ রাষ্ট্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার খুবই কার্যকর ও উপযোগী। পাশাপাশি অবস্থানরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু রাষ্ট্র সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী হওয়ার জন্য এবং দ্রুত উন্নতি লাভের আশায় একটি যুক্তরাষ্ট্র গঠন করে। এর ফলে ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র গঠন করে শক্তিশালী ও বৃহৎ রাষ্ট্রের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে এবং বহির্বিশ্বে শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে পারে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রের আয়তন বড় হয়।
উত্তরাধিকার সূত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, তার একটি হলো নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র এবং অন্যটি হলো নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র। উত্তরাধিকারসূত্রে-ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাজা বা রানি যখন রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে তখন তাকে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বলা হয়। এ ধরনের শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে সৌদি আরবে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।
যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে। এ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনকল্যাণের জন্য যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেগুলো হলো নাগরিকের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা) পূরণের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বেকারভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এছাড়াও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনকল্যাণের জন্য নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।
সুষমভাবে মৌলিক চাহিদা পূরণই একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। একটি রাষ্ট্রকে তখনই কল্যাণমূলক বলা হয় যখন তা জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে। সুতরাং, মৌলিক চাহিদা পূরণ করা ব্যতীত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আর তাই কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হয়।
যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে, তাকেই বলা হয় কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। এ ধরনের রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে, বেকার ভাতা প্রদান করে, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এছাড়া কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনকল্যাণের জন্য নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। এসব বৈশিষ্ট্যের আলোকে বলা যায়, জনগণের কল্যাণ সাধনই কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সর্বদা এর নাগরিকের কল্যাণের জন্য কিছু না কিছু করে বিধায় কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সকলের কাম্য। যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে, তাকেই বলা হয় কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। এ ধরনের রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে, বেকার ভাতা প্রদান করে, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এছাড়া কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনকল্যাণের জন্য নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। এসব বৈশিষ্ট্যের -আলোকে বলা যায়, জনগণের কল্যাণ সাধনই কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। এসব কারণেই কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সকলের কাম্য।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে সেই ধরনের সরকারকে বোঝায়, যেখানে একাধিক অঞ্চল বা প্রদেশ মিলে একটি সরকার গঠন করে। এধরনের সরকার ক্ষমতা গঠনের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। 'এতে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার কিছু অংশ প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারের এবং জাতীয় বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে। অর্থাৎ এতে দ্বৈত সরকারব্যবস্থা থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্র ও প্রদেশে দুই ধরনের সরকার থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি হলো ক্ষমতা বণ্টননীতি যার মাধ্যমে শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করে নেওয়া হয়। ফলে একই সাথে প্রদেশসমূহে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ও কেন্দ্রীয় শাসন সুনির্দিষ্ট ও পৃথকভাবে বলবৎ থাকে। একজন নাগরিককে একইসাথে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় উভয় সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হয়। আর সরকারের এরূপ ভিন্ন দুটি অস্তিত্ব থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বৈত সরকারব্যবস্থা বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় একই সাথে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের উপস্থিতি বিদ্যমান থাকে। রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রদেশগুলোতে ভাগাভাগি হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দ্বৈত সরকার বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে সেই ধরনের সরকারকে বোঝায়, যেখানে একাধিক অঞ্চল বা প্রদেশ মিলে একটি সরকার গঠন করে। এ ধরনের সরকার ক্ষমতা গঠনের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার কিছু অংশ প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারের এবং জাতীয় বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় - সরকারের হাতে থাকে। অর্থাৎ এতে দ্বৈত সরকারব্যবস্থা থাকে।
নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টিতে সহায়ক সরকারব্যবস্থা হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। কেননা, এ ব্যবস্থায় জনগণ দুটি পৃথক সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখায় এবং দুই প্রকার আইন ও আদেশ মেনে চলে। যা রাজনৈতিক চেতনা ও স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের ভিত্তি হলো ক্ষমতার বণ্টন, যা কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সাংবিধানিকভাবে বণ্টিত থাকে। এতে উভয় সরকার মৌলিক ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং স্বীয় ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থাকে। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রভৃতি দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার পদ্ধতি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার দুর্বল হয় কেননা এ জাতীয় সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি স্থিতিশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রদেশ ও কেন্দ্রের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি হয় বলে বলিষ্ঠ ও দ্রুত শাসনকার্য পরিচালনা সম্ভব হয় না। আঞ্চলিক সরকারের মতামত প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হয় এবং এক্ষেত্রে মতবিরোধ তৈরির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক একইভাবে ক্ষমতার এখতিয়ার নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। ফলে প্রদেশ ও কেন্দ্রীয় উভয় পক্ষই দুর্বল অবস্থানে থাকে।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং শাসন বিভাগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বা সংসদীয় সরকার বলে। এতে মন্ত্রিসভার হাতে দেশের শাসন ক্ষমতা থাকে। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন। প্রধানমন্ত্রী হলেন মন্ত্রিসভার নেতা বা সরকারপ্রধান।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা প্রভুত ক্ষমতা ভোগ করে বিধায় এ বিভাগটি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। সংসদীয় সরকারে আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। আইনসভার আস্পা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। এছাড়া মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সংসদ অনাস্থা আনলে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। এ ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে মন্ত্রী নিযুক্ত করায় একই ব্যক্তির হাতে আইন ও শাসনক্ষমতা থাকে।
রাষ্ট্রপতির হাতে রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব থাকে বিধায় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীদের নিকট দায়ী নন। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ তার কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রিগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই প্রকৃত শাসক ও সরকারপ্রধান। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি তার পছন্দের লোক নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। এখানে রাষ্ট্রপতি - সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান।
Related Question
View Allউত্তরাধিকারসূত্রে গঠিত সরকারব্যবস্থার নাম হলো রাজতন্ত্র।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় তাই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পদ ভোগ ও এর মালিকানা লাভ করে থাকে। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ভারত প্রভৃতি।
'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে। 'ক' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থায়ও এমন বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের শাসক আইনসভার নিকট দায়ী নন। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারেরও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের সরকারে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও পারেন। ছকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থাটিও পাঠ্যবইয়ের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ছকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী 'খ' রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল আইনসভায় বিভিন্ন দল-মতের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন আইন পাস করে।
সংসদীয় সরকারের আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। সংসদীয় সরকারের সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। তাছাড়া সংসদীয় সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় জনমতকে অনুকূলে রাখার জন্য সরকারি ও বিরোধী দল সবসময় তৎপর থাকে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
এক দলের শাসন কায়েম হয় একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়।
উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা বংশ পরম্পরা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
বিশ্বের কোনো কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে শাসনক্ষমতা লাভ করেন। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রাজতন্ত্র বলা হয়। এ ব্যবস্থায় রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি হয়ে থাকেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!