কোনো বস্তুর অন্য বস্তুর ধাক্কা বা টানকে বল বলে ।
বল প্রয়োগ করে বস্তুর গতির পরিবর্তন করা যায় ।
সময়ের সাথে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকে গতি বলে ।
নিউটনের গতি বিষয়ক সূত্র ৩ টি।
নিউটনের প্রথম সূত্র থেকে বস্তুর জড়তা ও বল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
নিউটন গতিবিষয়ক সূত্র প্রদান করেন।
বল প্রয়োগ না করা পর্যন্ত বস্তু যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার প্রবণতাকে জড়তা বলে।
স্থিতিশীল বস্তুব স্থির থাকতে চাওয়ার প্রবণতাকে স্থিতি জড়তা বলে।
জড়তা ২ প্রকার।
গাড়ি চালানোর সময় জড়তার কারনে চালক সিটবেল্ট পরিধান করে ।
কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে।
বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে ভরবেগ বলা হয়।
বস্তুর স্থিতিশীল বা গতিশীল অবস্থায় পরিবর্তন ঘটাতে বল এর প্রয়োজন ।
বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এটি নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র।
বলের একক নিউটন।
নিউটনের ২য় সূত্রটি ভরবেগ ও ত্বরণের সাথে সম্পর্কিত ।
বস্তুর ভর m এবং বেগ v হলে ভরবেগ p হচ্ছে p=mv
একটি স্থির বস্তু সমত্বরণে চলা শুরু করে' ৮ সেকেন্ডে ২০ মি./সে. বেগ প্রাপ্ত হয়। এর ত্বরণ ২.৫ মি./সে2।
১২০ kg ভরের একটি রিক্সা ৫ মি/সে সমবেগে চললে এর ভর বেগ ৬০০ কিলোগ্রাম মি/সে।
একটি গাড়ির ভর 200 কেজি। গাড়িটি ১০ মি./সে. বেগে চলতে থাকলে এর ভরবেগ 10,000 কেজি মি./সে।
নিউটনের তৃতীয় সূত্রের সাহায্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বল ব্যাখ্যা করা যায়।
ফোলানো বেলুনের মুখ খুলে দিলে নির্গত বাতাস বেলুনের উপর প্রতিক্রিয়া বল ক্রিয়া করে।
ক্রিকেট বল ক্রিকেট ব্যাটের উপর যে বল প্রয়োগ করে তাকে প্রতিক্রিয়া বল বলে।
ক্রিকেট বল ক্রিকেট ব্যাটের উপর যে বল প্রয়োগ করে তাকে প্রতিক্রিয়া বল বলে।
মৌলিক বল ৪ টি।
সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু মহাকর্ষ বল দিয়ে একে অপরকে আকর্ষণ করে ।
পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের উপর কাজ করে তখন তাকে মাধ্যাকর্ষণ বলে।
আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ করতে পারে তড়িৎ চৌম্বক বল ।
মহাকর্ষ বলের তুলনায় তড়িৎ চৌম্বক বল ১০৩৬ গুণ শক্তিশালী।
মহাকর্ষ বল আমাদের নিচের দিকে টেনে রেখেছে।
পৃথিবী ও একটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে অভিকর্ষ বলে।
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল নিউক্লিয় বল।
এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণকে মহাকর্ষ বলে।
সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল সবল নিউক্লীয় বল।
দুর্বল নিউক্লীয় বলের কারণে তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে ইলেক্ট্রন বের হয়ে আসে।
ঘর্ষণের ফলে তাপ সৃষ্টি হয়।
ঘর্ষণকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
স্থিতি ঘর্ষণ ঘর্ষণ বলের কারণে আমরা হাঁটতে পারি।
একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু চলমান হলে সৃষ্ট ঘর্ষণকে গতি ঘর্ষণ বলা হয়।
তরল বা বায়ুবীয় পদার্থের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় যে ঘর্ষণ বল অনুভব হয় তা হলো- প্রবাহী ঘর্ষণ।
গতি ঘর্ষণ ওজন এর উপর নির্ভর করে ।
ঘর্ষণ বল দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।
যখন কোনো বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থের ভেতর দিয়ে যায়, তখন সেটি প্রবাহী ঘর্ষণ বল অনুভব করে ।
সবচেয়ে ছোট ঘর্ষণ বল আবর্ত ঘর্ষণ।
ঘর্ষণ বস্তুর গতিকে কমিয়ে দেয়।
মসৃণ পৃষ্ঠে গতি ঘর্ষণ কম হয়।
তেল, মবিল বা গ্রিজ জাতীয় পদার্থকে লুব্রিকেন্ট বলে।
ঘুরন্ত চাকাতে বল বিয়ারিং ব্যবহার করে ঘর্ষণ কমানো সম্ভব ।
চাকা ব্যবহারের ফলে আবর্ত ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় ।
ঘর্ষণ এক ধরনের প্রয়োজনীয় উপদ্রব।
কলম দিয়ে কাগজে লিখতে পারার কারণ ঘর্ষণ।
যে রাশি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ই প্রয়োজন তাদের ভেক্টর রাশি বলে। বল প্রকাশ করতে এর মান কত এবং কোন দিকে তা প্রকাশ করতে হবে। তাই বল একটি ভেক্টর রাশি।
বল কোনো স্থির বস্তুর ওপর প্রযুক্ত হলে তাতে গতির সৃষ্টি করে বা করতে চায়। এছাড়া কোনো গতিশীল বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করা হলে তার গতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে তা ঐ বস্তুর গতিবেগের মান বা দিক বা উভয়ের পরিবর্তন ঘটায়
বলের প্রভাবে বস্তুর নিচের ঘটনাগুলো ঘটে-
১. বল একটি স্থির বস্তুকে গতিশীল এবং গতিশীল বস্তুকে স্থির করতে পারে।
২. বল একটি বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করতে পারে।
৩. বল একটি বস্তুর আকৃতি পরিবর্তন করতে পারে।
বল হচ্ছে যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করার চেষ্টা করে বা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করার চেষ্টা করে। অর্থাৎ বল প্রয়োগের মাধ্যমে স্থির বস্তুকে গতিশীল করা যায় এবং গতিশীল বস্তুর গতির পরিবর্তন করা সম্ভব।
নিউটনের গতির প্রথম সূত্র অনুযায়ী, একটি গতিশীল বস্তু ঐ গতিতেই থাকবে যদি না তার উপর কোনো ধরনের বাহ্যিক বল বা শক্তি কাজ করে। একইভাবে যদি বস্তুটি স্থির থাকে তবে এটি ততক্ষণ স্থির থাকবে যতক্ষণ না এর উপর বাহ্যিক কোনো বল বা শক্তি কাজ করবে।
নিউটনের প্রথম সূত্র থেকে আমরা জানি বস্তু যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাই জড়তা। জড়তা দুই প্রকার। স্থিতি জড়তা ও গতি জড়তা। গতিশীল বস্তুর গতিশীল থাকার প্রবণতাই হলো গতি জড়তা। হাঁটার সময় কোন বাধা আমাদের থামিয়ে দিলে গতি জড়তার জন্য আমরা হোঁচট খাই।
নিউটনের প্রথম সূত্র অনুসারে একটি গাড়িকে সমবেগে এনে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিলে সেটি একই বেগে চলতে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। কারণ হিসেবে বলা যায় গাড়ির চাকা এবং রাস্তার মধ্যকার ঘর্ষণ এবং বাতাসের বাধা, যা গাড়ির বেগের উল্টো দিকে বল প্রয়োগ করে চলমান গাড়িকে থামিয়ে দেয়। ফলে গাড়িটি কিছুদূর গিয়ে থেমে যায়।
নিউটনের ১ম সূত্র হলো- বাইরে থেকে কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে। অর্থাৎ বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর স্থিতি কিংবা গতি জড়তার কোনো পরিবনা। তাই নিউটনের ১ম সূত্র থেকে বল ও জড়তা বিষয়ে জ্ঞান করা যায়।
ধাক্কা দিয়ে কোনো বস্তুকে গতিশীল করে ছেড়ে দিলে দেখা যায় বস্তুটি কিছুদূর গিয়ে থেমে যায়। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে নিউটনের গতির প্রথম সূত্রানুসারে বস্তুটি গতিশীল থাকার কথা। এটি হয় মূলত ঘর্ষণ বল ও বাতাসের বাধার কারণে যা বেগের বিপরীতে ক্রিয়া করে বস্তুটিকে থামিয়ে দেয়। সমবেগে চলতে থাকা কোনো বস্তু যদি থেমে যায় তবে বুঝতে হবে সেখানে কোনো না কোনো বল বিপরীতে ক্রিয়া করছে। নতুবা সত্যি সত্যিই বস্তু অনন্তকাল ধরে চলতে থাকতো।
গতিশীল বস্তুর সমগতিতে সরলরেখা বরাবর গতিশীল থাকার প্রবণতাকে গতি জড়তা বলে। গতিশীল বস্তু তার বর্তমান গতিতে থাকতে চায়। গতির পরিবর্তন করার জন্য বাহ্যিক বল প্রয়োগ করতে হয়। বস্তুর ভর যত বেশি, গতি জড়তাও ততো বেশি হয়।
বাস্তব জীবনে জড়তার তিনটি উদাহরণ নিম্নরূপ-
১. হঠাৎ চলতে শুরু করা বাসের যাত্রীদের পেছনের দিকে হেলে * পড়া।
২. কাগজের উপর মুদ্রা/কয়েন রেখে কাগজটি হঠাৎ দ্রুত সরিয়ে নিলে, কয়েনটি একই স্থানে থেকে যায়।
৩. বাস থেকে নেমে যাত্রীর কয়েক পা সামনে এগিয়ে যাওয়া।
উত্তর: বল প্রয়োগে স্থির বস্তুর স্থির জড়তার পরিবর্তন হয়। কারণ কোনো স্থির বস্তুকে বল প্রয়োগ করলে বস্তুটি গতিশীল হয়। এ অবস্থায় স্থির জড়তার পরিবর্তন হয়ে গতি জড়তা প্রাপ্ত হয়।
স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে বাসযাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়ে মূলত জড়তার (স্থিতি জড়তা) কারণে। বাস যখন থেমে থাকে তখন যাত্রীদের শরীরও স্থির থাকে। কিন্তু হঠাৎ বাস চলতে শুরু করলে যাত্রীদের শরীরের বাস সংলগ্ন অংশ গতিশীল হয় কিন্তু শরীরের উপরিভাগের অংশ জড়তার কারণে স্থির থেকে যায় বা স্থির থাকতে চায় বলে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়ে।
বস্তু যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা তাকে জড়তা বলে। কোনো বস্তুর জড়তা এর ভরের উপর নির্ভর করে। যে বস্তুর ভর যত বেশি তার জড়তাও তত বেশি। অর্থাৎ ভর হচ্ছে এর জড়তার পরিমাপ।
আমরা জানি, বল ভর 2 ত্বরণ 2 সূতরাং 50 N = 50 kg x 1 ms অথবা, 50 N-1 kg x 50 ms তাই বলা যায়, যে বল 1 kg ভরের উপর প্রযুক্ত হয়ে 50 ms ত্বরণ সৃষ্টি করে অথবা 50 kg ভরের উপর প্রযুক্ত হয়ে 1 ms ত্বরণ সৃষ্টি করে তাই 50 N বল।
যেহেতু বল = ভর ত্বরণ, সুতরাং বলের একক নিউটন (N), ভরের একক (kg) এবং ত্বরণের এককের (ms-2) উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ N = kg x ms² = kgms-২
কোনো বস্তুর ত্বরণ নির্ণয়ের সূত্রটি হলো- এখানে, ত্বরণ, u = আদি বেগ, v = শেষ বেগ,। সময়।
বস্তুর বল নির্ণয়ের সূত্রটি হলো, F = ma
এখানে, F = m = ভর, a ত্বরণ।
কোনো বস্তুর ভরবেগ 500 kg ms-1 বলতে বোঝায়-
i: 1 kg ভরের বস্তুর বেগ 500 ms-1
ii. 500 kg ভরের বস্তুর বেগ 1 ms-1
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রের গাণিতিক প্রকাশ হলো F = ma ।
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো "বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক।" অর্থাৎ, বল = ভর বেগের পরিবর্তনের হার বা, বল = ভর ত্বরণ
বা, F = ma
বেগ ও ত্বরণের মধ্যে পার্থক্য-
| বেগ | ত্বরণ |
| ১. একক সময়ে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। | ১. এক সময়ে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে। |
| ২. বেগের একক ms-1 | ২. ত্বরণের একক ms-2 |
দেওয়া আছে, বল, F = ২০০N ; ভর, a = 8ms-2
ভর,m=
দেওয়া আছে, বস্তুর ভর, m = ৪০ কেজি
বল, F = ৬০ নিউটন; ত্বরণ, a =?
আমরা জানি, F=ma মি./সে2
দেওয়া আছে, বস্তুর ভর, m= ২৫ কেজি
ত্বরণ, a = ২ মি./সে.2
প্রযুক্ত বল, F=ma = (২৫ × ২) নিউটন = ৫০ নিউটন
কোনো বস্তু যদি অপর একটি বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করে তাহলে ঐ প্রয়োগকৃত বলকে ক্রিয়া বল বলে। কোনো বস্তুকে একটি বল প্রয়োগ করে ঠেলে নিয়ে গেলে এটি ক্রিয়া বল।
কোনো বস্তু যদি অপর একটি বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করে তবে অপর বস্তুটিও ঐ বস্তুটির উপর সমান ও বিপরীতমুখী একটি বল প্রয়োগ করবে যাকে প্রতিক্রিয়া বল বলে। কোনো বিল্ডিংয়ের দেয়ালে ধাক্কা দিলে দেয়ালটি পড়ে না গিয়ে ধাক্কার বিপরীত দিকে স্থান মানের বল প্রয়োগ করে। এটি প্রতিক্রিয়া বল।
কোনো বস্তু যদি অপর একটি বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করে তাহলে অপর বস্তুটিও ঐ বস্তুর উপর সমান ও বিপরীতমুখী একটি বল প্রয়োগ করবে। এই প্রয়োগকৃত প্রথম বলটিকে ক্রিয়া বল এবং বিপরতিমুখী বলটিকে প্রতিক্রিয়া বল বলে এবং এদের একত্রে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বল বলে।
প্রত্যেক তলে কিছু উঁচু-নিচু খাঁজ থাকে যা আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। কোনো বস্তু যখন অপর বস্তুর উপর দিয়ে টেনে বা ঠেলে নেওয়া হয়, তখন এদের তলের এ উঁচু-নিচু খাঁজ করাতের দাঁতের মতো একে অপরের সাথে আটকে যায়, ফলে একটি তলের উপর দিয়ে অপর তলের গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। তলের এ উঁচু-নিচু খাঁজ বা অমসৃণতার জন্য ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়।
ঘর্ষণ সর্বদা গতিকে বাধা দেয়। এর উপর ভিত্তি করে গাড়ির ব্রেকিং ব্যবস্থা তৈরি হয়। কিন্তু ভেজা রাস্তা শুকনো রাস্তা অপেক্ষা মসৃণ হয় ফলে রাস্তার সাথে গাড়ির চাকার ঘর্ষণ কমে যায়। এতে ব্রেক কাজ করে না আর এ কারণেই ভেজা রাস্তায় গাড়ি চালানো অসুবিধাজনক।
পিচ্ছিল মেঝেতে হাঁটা যায় না কারণ সেখানে ঘর্ষণ কমে যায়। ফলে হাঁটার জন্য পিছনে যথেষ্ট বল প্রয়োগ করা যায় না, যার ফলে প্রতিক্রিয়া হিসেবে কোনো বলও পাওয়া যায় না। তাই পিচ্ছিল মেঝেতে হাঁটা যায় না।
গাড়ির টায়ারে সুতা ব্যবহার করা হয় রাস্তা এবং গাড়ির চাকার মধ্যবর্তী ঘর্ষণ বাড়ানোর জন্য। টায়ার যাতে ভালোভাবে রাস্তা আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে এবং ভিজা রাস্তা থেকে গাড়ি যাতে স্কিড বা পিছলে পড়ে না যায়।
গাড়ির টায়ারের বাইরের দিক খাঁজযুক্ত করে তৈরি করা হয় যেন গাড়িটি সঠিক গতির জন্য পর্যাপ্ত ঘর্ষণ বল লাভ করতে পারে। এই খাঁজের কারণে টায়ার রাস্তাকে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরতে সমর্থ হয়। এভাবে আঁকড়ে ধরতে না পারলে গাড়িটি স্থিতিশীল অবস্থা থেকে গতিশীল হতে পারতো না। আবার গতিশীল অবস্থায় ব্রেক করা হলে পিছনে যেত। তাই গাড়িকে যথাযথভাবে চালনা করার জন্য টায়ারের বাইরে খাঁজযুক্ত করে তৈরি করা হয়।
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বলের দুটি উদাহরণ হলো-
১. বন্দুকের গুলি ছোঁড়া কেউ যদি বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়ে তখন বন্দুকটি পিছনের দিকে সরে যায়। এখানে গুলি বের হওয়া হলো ক্রিয়া বল আর বন্দুক পিছনে সরে যাওয়া হলো প্রতিক্রিয়া বল।
২. মাটির উপর হাঁটা আমরা যদি মাটির উপর হাঁটি তখন তির্যকভাবে মাটিতে একটি বল প্রয়োগ করি। এটি হচ্ছে ক্রিয়া বল। একই সময়ে মাটিও বিপরীতমুখী একটি বল প্রয়োগ করে, যা হচ্ছে প্রতিক্রিয়া বল। এই প্রতিক্রিয়া বলের প্রভাবে আমরা মাটির উপরে হাঁটতে সক্ষম হই।
ক্রিকেটার যখন ব্যাট দিয়ে বলকে আঘাত করে, তখন ব্যাটটি ক্রিকেট বলের উপর একটি বল প্রয়োগ করে। এটি ক্রিয়া বল। ক্রিকেট বলটিও ব্যাটের ওপর একটি বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে, এটি প্রতিক্রিয়া।
নৌকা চালানোর সময় বাঁশের লগি দিয়ে ভূমিতে ধাক্কা দিলে ভূমি ও লগির উপর সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে। প্রতিক্রিয়া বলের এ অনুভূমিক উপাংশই নৌকাকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
যখন টেবিলে বল প্রয়োগ করা হয়, তখন টেবিলও বিপরীতমুখী একটা বল প্রয়োগ করে যা নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে সমান। অর্থাৎ ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। এই ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বলের জন্যই টেবিলে আঘাত করলে হাতে ব্যথা লাগে।
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়ার সময় বন্দুক গুলির ওপর একটি বল প্রয়োগ করে। এই বলের ক্রিয়ায় গুলিটি সামনের দিকে প্রবল বেগে ছুটে যায়। ঠিক একই সময়ে গুলিটিও বন্দুকের উপর সমান এবং বিপরীতমুখী একটি বল প্রয়োগ করে, ফলে বন্দুকটি পেছনের দিকে সরে যায়। তাই যে বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়ে সে বন্দুকের গতিকে বাধা দেয় বলে একটি ধাক্কা অনুভব করে।
রকেট উড্ডয়ন নিউটনের গতিবিষয়ক তৃতীয় সূত্রের ফল। নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুসারে, "সকল ক্রিয়াই সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।" অর্থাৎ রকেট উড্ডয়নের ক্ষেত্রে রকেট থেকে জ্বালানি বেবিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিপরীতমুখী বল সৃষ্টি হয়, যা রকেটকে সামনের দিকে পরিচালিত করে।
একটি বেলুন যখন ফোলানো হয় তখন বেলুনের বাবারটি প্রসারিত হয়ে ভিতরের বাতাসের উপর চাপ সৃষ্টি করে। যখন বেলুনের মুখ খুলে দেওয়া হয় তখন বেলুনটি ভেতরকার বাতাসের উপর বল প্রয়োগ কবে বেলুনের মুখ দিয়ে সজোরে বের করে দিতে থাকে। বেলুনটি যখন বাতাসের উপর বল প্রয়োগ করতে শুরু করে, তখন বেলুনের বাতাসও বেলুনটির উপর বল প্রয়োগ করতে শুরু করে। এই বলের কারণেই বেলুনটি বিপরীত দিকে ছুটে যায়।
মৌলিক বল চারটি। যথা- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
মহাবিশ্বে প্রতিটি বস্তুই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলকে বলা হয় মহাকর্ষ বল। পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন কোনো বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তখন তাকে মাধ্যাকর্ষণ বল বলে। এই মাধ্যাকর্ষণ বল সর্বদা বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে আনে। যখন ক্রিকেট বল উপরের দিকে নিক্ষেপ করা হয় তখন এই মাধ্যাকর্ষণ বলই ক্রিকেট বল্টিকে পুনরায় ভূমিতে টেনে আনে।
মহাকর্ষ বল হলো যেকোনো দুটি বস্তুকণার মধ্যকার আকর্ষণ বল। অন্যদিকে অভিকর্ষ বল হলো পৃথিবী ও মহাবিশ্বের যেকোনো একটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল। অর্থাৎ পৃথিবীও মহাবিশ্বের একটি বন্ধু। এজন্য অভিকর্ষ বলকে মহাকর্ষ বল বলা হয়।
নিউক্লিয়নগুলোর মধ্যে যে আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে পরমাণুর কেন্দ্রের মধ্যে প্রোটন ও নিউট্রন দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ রাখে তাই হলো নিউক্লিয় বল। আকর্ষণ বলের ভিত্তিতে নিউক্লিয় বলকে সবল নিউক্লিয় বল ও দুর্বল নিউক্লিয় বল এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনের মধ্যকার যে আকর্ষণ বল ক্রিয়া করে তাকে সবল নিউক্লীয় বল বলে। এই বলের পাল্লা অনেক কম (10-15 m), সূর্য থেকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বলের কারণে তৈরি হয়
আমরা জানি, সকল পদার্থ পরমাণু দিয়ে গঠিত। পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস এবং একে কেন্দ্র করে ঘোরে ইলেক্ট্রন। নিউক্লিয়াসে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন। এদের বলা হয় নিউক্লিয়ন। আর এই নিউক্লিয়নগুলোর মধ্যে শক্তিশালী আকর্ষণ বল কাজ করে, যা নিউক্লিয়াসকে আটকে বা ধরে রাখতে।
তাড়িতচৌম্বক বল দুর্বল নিউক্লিয় বল থেকে ১০০ গুণ শক্তিশালী। আবার শক্তিশালী নিউক্লিয় বল তাড়িতচৌম্বক বল থেকে ১০০ বা ১০০ গুণ শক্তিশালী। সুতরাং শক্তিশালী নিউক্লিয় বল দুর্বল নিউক্লিয় বলের তুলনায় ১০০ গুণ শক্তিশালী।
একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু যখন চলমান হয়, তখন তাদের স্পর্শতলে যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় তাকে গতি ঘর্ষণ বলে।
যেমন- চলন্ত গাড়ির চাকা এবং রাস্তার মধ্যকার ঘর্ষণ বল।
পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশকালে উল্কার সাথে বায়ুমণ্ডলের বায়ু কণার ঘর্ষণ হয়। উল্কার গতি যত বৃদ্ধি পায় এর গতির বিপরীতে ঘর্ষণ বল বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে ঘর্ষণের কারণে উত্তপ্ত উল্কাপিন্ড পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
যখন কোনো বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থের ভেতর দিয়ে যায়, তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। যেমন- প্যারাস্যুট দিয়ে প্লেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণ বল কাজ করে।
লুব্রিকেন্ট বা তেল হচ্ছে পিচ্ছিলকারী পদার্থ। বিয়ারিং এর মধ্যে তেল বা লুব্রিকেন্ট জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করলে ঘর্ষণ অনেকখানি কমে যায়। মূলত ঘর্ষণ কমানোর জন্যই বিয়ারিং এর মধ্যে তেল বা লুব্রিকেন্ট জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
পৃষ্ঠ অমসৃণ হলে ঘর্ষণ বল বেশি হয়। কারণ পৃষ্ঠ যত বেশি অমসৃণ হবে এক তলের ওপর দিয়ে অপর তলের গতি তত বেশি বাধা পাবে। অমসৃণ তলে গতি বেশি বাধাপ্রাপ্ত হয় বলেই ঘর্ষণ বল বেশি হয়।
ঘর্ষণ কমানোর তিনটি উপায় হলো-
১. যে পৃষ্ঠটিতে ঘর্ষণ হয়, সে পৃষ্ঠটিকে যথা সম্ভব মসৃণ করা।
২. যে দুটি পৃষ্ঠদেশে ঘর্ষণ হয়, তাদের স্পর্শতলের ক্ষেত্রফল যথা সম্ভব কমিয়ে আনা।
৩. পিচ্ছিলকারী পদার্থ বা লুব্রিকেন্ট জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা।
গাড়ি চলার সময় গাড়ির টায়ার এবং রাস্তার মধ্যে এক ধরনের ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়। এই ঘর্ষণ বলের কারণেই গাড়ি সামনে এগিয়ে যায়। আবার ব্রেক কষলে ঠিক তার বিপরীত ঘটনা ঘটে অর্থাৎ গাড়ির টায়ার এবং রাস্তার মধ্যকার ঘর্ষণ বল গাড়ির গতি থামিয়ে দেয়। যদি রাস্তা বেশি মসৃণ হয় তবে গাড়ির টায়ার এবং রাস্তার মধ্যে পর্যাপ্ত ঘর্ষণ তৈরি হবে না ফলে গাড়ি চলতে এবং থামাতে কষ্ট হবে।
ঘর্ষণ বাড়ানোর তিনটি উপায় হলো-
১. যে দুইটি তলে ঘর্ষণ হচ্ছে সে তলগুলো অমসৃণ বা খসখসে করে তোলা।
২. যে দুটি তলে ঘর্ষণ হবে/হচ্ছে, সেগুলোতে চাপ বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করা।
৩. বস্তু যদি তরল বা বায়বীয় পদার্থের সংস্পর্শে থাকে তবে তরল বা বায়বীয় পদার্থের ঘনত্ব বৃদ্ধি করা।
যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করার, চেষ্টা করে বা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করার চেষ্টা করে তাকে বল বলে।
নিউটনের গতির ১ম সূত্রটি হলো- বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরল পথে চলতে থাকবে।
বস্তু যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম তাই জড়তা।
স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম তাকে স্থিতি জড়তা বলে।
ভর এবং বেগের গুণফলকে ভরবেগ বলে।
যে পরিমাণ বল ১ কেজি ভরের কোনো বস্তুর উপর ক্রিয়া করে ১০ মি./সে. ত্বরণ সৃষ্টি করে তাকে ১০ নিউটন বল বলে।
যে পরিমাণ বল এক কিলোগ্রাম ভরের কোনো বস্তুর ওপর প্রযুক্ত হয়ে এক মিটার/সেকেন্ড' ত্বরণ সৃষ্টি করে তাকে এক নিউটন বলে।
নিউটন হলো বলের একক।
ভরবেগ হল ভেক্টর রাশি।
ভরবেগ হল ভেক্টর রাশি।
ভরবেগের একক হলো kg ms.-1
যেসব রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলে।
ত্বরণের একক "মিটার/সেকেন্ড"।
নিউটনের ২য় হলো- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার এর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক। বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।
সময়ের সাথে বস্তুর অসমবেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে। ত্বরণের একক হল মি/সে',
সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে তাকে মহাকর্ষ বল বলে।
দুটি আহিত কণা বা বস্তু তাদের আধানের কারণে একে অপরের উপর যে বল প্রয়োগ করে তাকে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল বলে
নিউটনের গতিবিষয়ক, তৃতীয় সূত্রটি হলো- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
এ মহাবিশ্বের সকল বস্তু এদের ভরের দরুন পরস্পরের উপর বল প্রয়োগ করে বা একে অপরকে নিজের দিকে টানে। এ বলকে বলা হয় মাধ্যাকর্ষণ বল।
কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল বলে।
দুটি আহিত কণিকার মধ্যে যে বল ক্রিয়াশীল তাকে তাড়িত চৌম্বক বল বলে।
দুর্বল নিউক্লিয় বল মৌল কণিকা লেপটন ও হার্ডনের ক্ষয়প্রাপ্তিতে কাজ করে এবং এটি কোনো কণিকা ও নিউক্লিয়াসের বিটাক্ষয়ের জন্য দায়ী।
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনকে একত্রে নিউক্লিয়ন বলে।
একটি তলের উপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে তখন সেটাকে আবর্ত ঘর্ষণ বলে।
দুটি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একে অপরের ওপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে অথবা চলতে থাকে তাহলে বস্তুদ্বয়ের স্পর্শতলে এ গতির বিরুদ্ধে একটা বাধার উৎপত্তি হয়, এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে।
দুটি বস্তু একে অন্যের সাপেক্ষে স্থির থাকা অবস্থায় যে ঘর্ষণ 1 বল অনুভব করে তাকে স্থিতি ঘর্ষণ বলে।
দুটি বস্তু একে অন্যের সাপেক্ষে স্থির থাকা অবস্থায় যে ঘর্ষণ 1 বল অনুভব করে তাকে স্থিতি ঘর্ষণ বলে।
লুব্রিকেন্ট হলো তেল এবং গ্রিজের মতো পদার্থ যা ঘর্ষণ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
বল বিয়ারিং হলো স্টিলের ক্ষুদ্র বল যা গতিশীল যন্ত্রগুলোর মাঝে ঘর্ষণ কমানোর এবং গতি সহজ করার জন্য ব্যবহৃত।
কোনো বস্তুই নিজের থেকে এর অবস্থান পরিবর্তন করতে চায় না। 'বন্ধু স্থির থাকলে স্থির থাকতে চায়, গতিশীল থাকলে গতিশীল থাকতে চায়। বন্ধু যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাই জড়তা।
সুইচ বন্ধ করার পরও পাখা ঘুরে এর কারণ হলো গতি জড়তা। কোনো বস্তু যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাকতে চাওয়ার নাম জড়তা। সুইচ বন্ধ করার আগে ফ্যানটির পাখাগুলো চলন্ত অবস্থায় ছিল। তাই বন্ধ করার পরও গতি জড়তার কারণে পাখাগুলো আরও কিছুক্ষণ ঘুরে।
হঠাৎ বাঁক নেওয়া গাড়ির যাত্রীরা অন্যদিকে ঝুঁকে পড়ে জড়তার প্রভাবে। কেননা গাড়ির সাথে গাড়ির যাত্রীরাও গাড়ির গতির দিকে গতিশীল থাকে, গাড়ি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করলেও জড়তার কারণে যাত্রীরা মূল দিক বজায় রেখে গতিশীল থাকতে চায়। তাই গাড়ির সাপেক্ষে যাত্রীরা অন্যদিকে ঝুঁকে পড়েন।
গাড়ি চালক যখন গাড়ি চালায় তখন গাড়ির সাথে সাথে তার শরীরও গতিশীল হয়ে পড়ে। এখন কোনো কারণে যদি চালক ব্রেক করে, তবে গাড়ি থেমে যাবে কিন্তু গতি জড়তার কারণে চালকের দেহ সামনের দিকে ঝুঁকে যাবে যেটা খুবই বিপজ্জনক। এজন্য গাড়ি চালকদের সিটবেল্ট ব্যবহার করা জরুরি।
চলন্ত গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা গতি জড়তার জন্য সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কারণ ব্রেক করে গাড়িকে স্থির করা হলে যাত্রীদের শরীরের বাস সংলগ্ন অংশ স্থির হয় কিন্তু শরীরের উপরের অংশ গতি জড়তার জন্য গতিশীল থাকে যার ফলশ্রুতিতে যাত্রীরা সামনে ঝুঁকে পড়ে।
চলন্ত বাস থেকে যাত্রী নামতে গেলে পুরো শরীরটি গতিশীল অবস্থায় পা যখন মাটিতে স্পর্শ করে তখন শরীরের নিচের অংশ স্থির হয়ে গেলেও উপরের অংশ গতিশীল থেকে যায় এবং যাত্রী সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
আমরা জানি, বল = ভর ত্বরণ
সুতরাং 50 N = 50 kg x 1 ms² অথবা, 50 N = 1 kg x 50 ms
তাই বলা যায়, যে বল 1 kg ভরের উপর প্রযুক্ত হয়ে 50 ms ত্বরণ সৃষ্টি করে অথবা 50 kg ভরের উপর প্রযুক্ত হয়ে 1 ms² ত্বরণ সৃষ্টি করে তাই 50 N বল।
নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুযায়ী- "প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।" শক্ত মাটিতে হাঁটা সোজা হলেও মরুভূমির বালুতে হাঁটতে কষ্ট হয়, তার কারণ মরুভূমির বালুর ওপর বল প্রয়োগ করা যায় না। বালু সরে যায় এতে নিউটনের তৃতীয় সূত্রের প্রতিক্রিয়া বলটাও ঠিকভাবে পাওয়া যায় না। ফলে মরুভূমিতে হাঁটতে কষ্ট হয়।
নিউক্লিয়ার বোমা শক্তিশালী হওয়ার কারণ হলো সবল নিউক্লীয় বল। এটি সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। এ কারণেই নিউক্লিয়ার বোমা এত শক্তিশালী।
মহাকর্ষ সূত্রানুসারে দুটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল বস্তুদ্বয়ের ডরের উপর নির্ভর করে। যে বস্তুর ভর বেশি তার আকর্ষণ বলও বেশি আর যে বস্তুর ভর কম তার আকর্ষণ বলও কম হয়। পৃথিবী এবং আমের মধ্যে পৃথিবীর ড়র আমের ভরের চেয়ে অনেক বেশি হয়। ফলে আমের উপর পৃথিবীর আকর্ষণ বলও অনেক বেশি হয়। এজন্য গাছ থেকে আম মাটিতে পড়ে।
কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বলে। অভিকর্ষ বলের কারণেই সকল বস্তুকে পৃথিবী তার নিজের দিকে - টানে। এ অভিকর্ষ বলের জন্যই চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে।
কিছু বল আছে যা বস্তুর ভৌত সংস্পর্শে না এসেও বস্তুর উপর - ক্রিয়া করে। এ ধরনের বলকে অস্পর্শ বল বলে। যেহেতু অভিকর্ষ বল বস্তুর ভৌত সংস্পর্শে না এসেও বস্তুর উপর ক্রিয়া করে। তাই অভিকর্ষ বল এক প্রকার অস্পর্শ বল।
প্যারাস্যুট দিয়ে নিচে নেমে আসার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের সম্মুখীন হয়। যখন কোনো বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থের ভেতর দিয়ে যায় তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে সেটি হচ্ছে প্রবাহী ঘর্ষণ। প্যারাস্যুট দিয়ে যখন কেউ প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন বাতাসের প্রবাহী ঘর্ষণের কারণে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসতে পারে।
ঘর্ষণের ফলে তাপশক্তি তৈরি হয়। ঘর্ষণের কারণে গাড়ির ! ইঞ্জিন গরম হয়ে ওঠে। সাধারণভাবে মনে হয় ঘর্ষণ আমাদের জীবনে উপদ্রব ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু এ ঘর্ষণ আছে বলেই আমরা হাঁটতে পারি। রাস্তায় গাড়ি চলতে পারে, কাগজে পেন্সিল কলম দিয়ে লিখতে পারি। দালান তুলতে পারি, প্যারাস্যুট দিয়ে নিরাপদে নিচে নামতে পারি। এ ধরনের অসংখ্য কাজ আমরা ঘর্ষণ ছাড়া করতে পারতাম না। এসব কারণেই ঘর্ষণ একটি প্রয়োজনীয় উপদ্রব।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিদিনই আমাদের কোনো কিছুকে টানতে হয়, ঠেলতে হয় কিংবা ধাক্কা দিতে হয়। কোনো বস্তুর গতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাইলেই আমরা সেটাকে টানি, ঠেলি বা ধাক্কা দিই অর্থাৎ বল প্রয়োগ করি। বল প্রয়োগ করে স্থির কর্তৃকে গতিশীল করা যায়, আবার গতিশীল কস্তুর গতি পরিবর্তন করা যায়, এমনকি গতি থামিয়েও দেওয়া যায়। এ অধ্যারে আমরা জড়তা, বল, স্থিতি এবং গতি আলোচনা করব। পতির উপর বলের প্রভাব বোঝার জন্য আমরা নিউটনের প্রথম সূত্র থেকে বলের প্রকৃতি জানব। নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র থেকে বলের পরিমাপ করব এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র থেকে বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আলোচনা করব।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:
- বস্তুর জড়তা এবং বলের গুণগত ধারণা নিউটনের পতির প্রথম সূত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে পারব।
- জড়তার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন প্রকার বলের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে পারব ।
- ব্যবহারিক জীবনে ঘর্ষণের সুবিধা বর্ণনা করতে পারব।
- স্থিতি ও গতির ওপর বলের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র ব্যবহার করে বলের পরিমাপ করতে পারব।
- সহজ পরীক্ষণের সাহায্যে বল পরিমাপ করতে পারব।
- নিউটনের তৃতীর সূত্রের সাহায্যে সংঘঠিত কয়েকটি জনপ্রিয় ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- আমাদের জীবনে বলের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারব।
Related Question
View Allযে বল কেবল দুটি বস্তুর ভৌত সংস্পর্শে এসে পরস্পরের উপর ক্রিয়া করে তাকে স্পর্শ বল বলে।
আমরা জানি যে, কোনো বস্তুই নিজে থেকে এর অবস্থান পরিবর্তন করতে চায় না। বস্তু স্থির থাকলে চিরকাল স্থির থাকতে চায়, গতিশীল থাকলে চিরকাল গতিশীল থাকতে চায়। বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বাইরে থেকে কিছু একটা প্রয়োগ করতে হয়, যা বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন করে তাকেই বল বলা হয়।
অর্থাৎ বল হলো সেই ভৌত রাশি যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায়।
ধরি, বাসটির উপর ক্রিয়াশীল বলের মান F
এখানে, বাসের ভর, m- ১৪০০ কেজি
ত্বরণ, এ ৪ মি/সে
বল F=?
আমার জানি, F = ma
= ১৪০০ কেজি × ৪ মি/সে' ৫৬০০ নিউটন
সুতরাং বাসটির ওপর ক্রিয়াশীল বলের মান ৫৬০০ নিউটন।
বস্তু তার গতির যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাকে জড়তা বলে।
স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলা হয়।
গতিশীল বাস যখন থেমে যায় তখন যাত্রীর শরীরের নিচের অংশ বাসের সাথে থেমে যায়। কিন্তু উপরের অংশ তখনও গতিশীল থাকার কারণে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে গতি জড়তার কারণে হঠাৎ গাড়িটি থামালে চলন্ত গাড়ির যাত্রীগণ সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। পক্ষান্তরে বাসটি পুনরায় চলতে শুরু করলে যাত্রীদের শরীরের নিচের অংশ গাড়ির সাথে চলতে শুরু করে, কিন্তু উপরের অংশ বাস সংলগ্ন না হওয়ায় তা পেছনের দিকে হেলে পড়ে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে স্থিতি।
জড়তার কারণে স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন।
সুতরাং যাত্রীরা প্রথমে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লেও পরবর্তীতে পিছনে হেলে পড়ার কারণ হলো- যাত্রীদের উপর প্রথম ক্ষেত্রে গতি জড়তা কাজ করলেও পরের ক্ষেত্রে স্থিতি জড়তা কাজ করে।
নিউটনের গতি বিষয়ক দ্বিতীয় সূত্রটি হলো 'বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই হয়।'
বস্তু যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাই জড়তা। স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম তাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাঁওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!