কায়িক শ্রম বলতে আমরা শারীরিক পরিশ্রমকে বুঝি। প্রায় সব ধরনের শারীরিক পরিশ্রম কায়িক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত। যেমন-হাঁটাচলা, খেলাধুলা করা, সাইকেল চালানো, কৃষিকাজ, শ্রমিকের কাজ ইত্যাদি কায়িক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত।
মেধাশ্রম হলো মানসিক শ্রম। আমাদের চিন্তা, ভাবনা, জ্ঞান ইত্যাদি ব্যবহার করে কোনো কাজ সম্পাদন করাকে মেধাশ্রম বলা হয়। যেমন- ডাক্তারের রোগী দেখা, শিক্ষকের শিক্ষাদান, প্রকৌশলীর বিল্ডিং-এর নকশা প্রণয়ন ইত্যাদি মেধাশ্রমের অন্তর্ভুক্ত।
কায়িক শ্রম আমাদের দেহ ও মনের জন্য খুবই জরুরি। এটি আমাদেরকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও পরিমিত কায়িক শ্রম আমাদেরকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এ শ্রম শরীরের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
মিশরের পিরামিড পৃথিবীব্যাপী বিখ্যাত। মিশরের পিরামিডের বয়স প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর। এই পিরামিড তৈরিতে যেসব পাথরখণ্ড ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলোর গড় ওজন ২৫-৮০ টন অর্থাৎ ২৫,০০০ - ৮০,০০০ কেজি।
চীনের মহাপ্রাচীর মানবসভ্যতার অন্যতম কীর্তি যা লক্ষাধিক মানুষের কঠোর শ্রমের ফসল। মোঙ্গলদের হাত থেকে চীন সাম্রাজ্যকে রক্ষার জন্য চীনারা খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে এই মহাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করে। এই মহাপ্রাচীরের দৈর্ঘ্য ৮৮৫২ কিলোমিটার।
সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা পত্নী মমতাজের স্মরণে তাজমহল নির্মাণ করেন। এই তাজমহল স্ত্রীর প্রতি সম্রাট শাহজাহানের গভীর ভালোবাসার পরিচয় বহন করে। হাজার হাজার মানুষের কঠোর শ্রমে মার্বেল পাথরে নির্মিত হয়েছে এ কীর্তি।
আনা ফ্র্যাংক হলেন 'হেট অ্যাকটারবুস' নামক বইয়ের লেখিকা। তিনি ১৯২৯ সালের ১২ই জুন জার্মানির ফ্র্যাংকফুটে জন্মগ্রহণ করেন। আনা ফ্র্যাংক তার ডায়েরিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ১২ জুন ১৯৪২ থেকে ১লা আগস্ট ১৯৪৪ পর্যন্ত সময়টিকে তুলে ধরেছেন। বিশ্বযুদ্ধের এমন হৃদয়স্পর্শী ও মর্মান্তিক লিখিত বর্ণনা আনা ফ্র্যাংকের আগে আর কেউ করেননি। তিনি বন্দি শিবিরে ১৯৪৫ সালের মার্চ মাসে টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
আত্মমর্যাদা হলো নিজের কাছে নিজের সম্মান ও মানুষ হিসেবে নিজের পরিচয় সম্পর্কে সচেতন থাকা। অন্যভাবে বলা যায়, আত্মমর্যাদা হলো নিজের চারপাশ ও নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সে অনুযায়ী আচরণ করা।
অন্যায় কাজ করতে লজ্জাবোধ করা, মানুষ হিসেবে সকল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য আচরণ করা, ভালো ও নতুন কিছু চিন্তা করা ইত্যাদি আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় বহন করে।
আত্মবিশ্বাস মানে হলো নিজের জ্ঞান, কর্মক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা সম্পর্কে বিশ্বাস ও আস্থা। মূলত আত্মবিশ্বাস হলো নিজের প্রকৃত ক্ষমতা জেনে, বুঝে তারপর নিজের প্রতি বিশ্বাস বা আস্থা তৈরি হওয়া।
নিচে আত্মবিশ্বাসী মানুষ ও কম আত্মবিশ্বাসী মানুষের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হলো:
| অন্যের কথা শুনেই প্রভাবিত হয় না। আগে তা বুঝে, ভেবে তারপর সিদ্ধান্ত নেয় বা কাজ করে। | অন্যরা যা বলে তা-ই বিশ্বাস করে। সত্য-মিথ্যা যাচাই করে না, ভেবে-চিন্তেও দেখে না। |
| সবসময় নিত্যনতুন ভালো কাজে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকে এবং সুযোগ পেলেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। | নতুন কিছু করতে ভয় পায়, কোনো কাজে অংশ নিতেও ভয় পায়। |
সৃজনশীলতা হলো নতুন কিছু সৃষ্টি করা। সৃজনশীল ব্যক্তি বিভিন্নভাবে তার সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেন। যেমন-মেঝেতে আলপনা আঁকা, করিতা বা গল্প লেখা, ছবি আঁকা, পোকার আক্রমণ থেকে ধান ক্ষেত রক্ষার জন্য নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন, কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা ইত্যাদি।
এই অধ্যায় পড়ে আমরা শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে জানব। কায়িক ও মেধাশ্রমের গুরুত্ব সম্পর্কেও ধারণা পাব। আরও জানতে পারব কীভাবে আত্মমর্যাদার সাথে কাজ করা যায়। আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা আমাদেরকে কাজে সাহায্য করে। এভাবে আমাদের কাজের মানও বৃদ্ধি পায়।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- শ্রমের মর্যাদার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কাজের ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কাজের ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদাশীল, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল হতে আগ্রহী হব।
- শ্রমের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করব।
- নেতৃত্ব প্রদানের সাথে সাথে নৈতিক আচরণে উদ্বুদ্ধ হব।
- অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব।
Related Question
View Allমেধা ব্যয় করে যে কাজ করা হয় সেটিই মেধাশ্রম।
একজন মানুষকে অবশ্যই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হতে হবে।
কেননা যাদের আত্মসম্মান বোধ নেই তাদের দ্বারা যেকোনো অন্যায় ও খারাপ কাজ অতি সহজেই করানো যায়। একাজ করে তারা আনন্দ পায় এবং এটি করতে তাদের মোটেই সঙ্কোচবোধ হয় না। যারা এসব করে বেড়ায় তাদের আত্মমর্যাদায় ঘাটতি রয়েছে। যাদের আত্মমর্যাদা আছে তারা দেশ, জাতি ও সমাজ নিয়ে ভাবে যে কারণে তারা কোনো অন্যায় কাজ করতে পারে না। একজন আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তিকে সবাই ভালোবাসে। তাই আমাদের সকলকেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হওয়ার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।
সামনে এগিয়ে যেতে মোঃ খলিলুর রহমানের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি কাজ করেছে সেটা হলো তার আত্ববিশ্বাস।
যেকোনো কঠিন কাজ একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষই পারে সফলতার সাথে সম্পাদন করতে। আত্মবিশ্বাস মানে হলো নিজের প্রতি বিশ্বাস। কাজে আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো কাজই সফলতার সাথে সম্পন্ন করা যায়। কোনো কাজ করতে গেলে অনেক সময়ই বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি আসে এবং প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ সেই বাধা-বিপত্তি সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করে সফলতা আনতে পারে।
উদ্দীপকে মোঃ খলিলুর রহমান এরকমই একজন মানুষ। যে কবিরাজের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী। যে. কারণে সমাজের মানুষের কাছে সে একজন বোঝা। অনেকেই তাকে রাস্তার ফুটপাতে ফেলে রেখে ভিক্ষা করতে পরামর্শ 'দেয় তার মা-বাবাকে। সমাজের লোকেরা তাকে অনেক অবহেলা করে। তার জীবন চলার পথে তাকে নানা বাধা-বিপত্তির শিকার হতে হয়। কিন্তু তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, প্রখর আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম তাকে আলোর পথ দেখায়। শিক্ষাজীবনের শুরুতে এসব বাধা-বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও সে তার আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। সকল অক্ষমতাকে জয় করে শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে মো: খলিল এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। আত্মবিশ্বাসী ও কঠোর পরিশ্রম একজন মানুষকে উন্নতির স্বর্ণ শিখরে পৌঁছায়। কাজেই বলা যায়, আত্মবিশ্বাস খলিলুর
রহমানকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
আমাদের সমাজে নানা ধরনের মানুষের বাস।
পরিবারের বিভিন্ন কাজে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবেশীদের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। প্রতিবেশীরা পরিবারের বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে তাদের সচিন্তিত মতামত পোষণ করে থাকে। যদিও অনেক সময় তাদের মতামতের কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। যেকোনো ছোট বিষয়কে তারা অনেক বড় করে ফেলে। খুব সহজ কাজকে অনেক সময় তারা তাদের কথার মাধ্যমে জটিল করে ফেলে। এতে বিভিন্ন পরিবার বা মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সবসময় প্রতিবেশীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হয় না। নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে - হয়। এতে সফলতা লাভ করা যায়।
উদ্দীপকে মোঃ খলিলুর রহমান একজন শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি। সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামিয়ে দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিত তার মা-বাবাকে। কিন্তু মোঃ খলিলুর রহমান তাদের কথায় কান না দিয়ে নিজের বুদ্ধি, বিবেক, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। সমাজের সকল বাধা-বিপত্তিকে প্রতিহত করে নিজেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করছে। তাই বলা যায় মোঃ খলিলুর রহমানের মা-বাবার + ব মুত্তিযুক্ত হয়েছে।
শারীরিক পরিশ্রমকেই বলা হয় কায়িক শ্রম।
আমাদের আধুনিক সমাজব্যবস্থায় যা কিছু চোখে পড়ে সবই মানুষের কঠোর কায়িক শ্রমের ফসল। লক্ষ কোটি মানুষের প্রতিদিনকার পরিশ্রমের বিনিময়ে আমরা লাভ করেছি আজকের এই মানবসভ্যতা। কায়িক শ্রমের ফলে আজ আমরা বিলাসী জীবনযাপন করতে পারছি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!