একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত আর্থিক বছরে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় বলে। মোট দেশজ উৎপাদনের সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়। নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দুয়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো অর্থনীতিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য থেকে মূলধনের ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় বাদ দিলে যা থাকে তাকে নিট জাতীয় আয় বলে। উৎপাদন কাজে যন্ত্রপাতি ঘরবাড়ি প্রভৃতি ব্যবহার করার ফলে ধীরে ধীরে তাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই তাদের সংস্কার ও মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধনের বা যন্ত্রপাতির এ ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তাই হলো নিট জাতীয় আয়।
GNI, GDP, NNI, GNP হলো- জাতীয় আয় সম্পর্কিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এদের পূর্ণ রূপ হলো-
GNI Gross National Income
GDP Gross Domestic Product
NNI - Net National Income
GNP Gross National Product
CCA = Capital Consumption Allowance এর অর্থ হলো-মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয়। উৎপাদন ব্যবস্থায় মূলধন ব্যবহারের জন্যে মূলধন ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে যে ব্যয় বহন করতে হয় তাই মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয়।
একটি দেশের মধ্যে দেশি-বিদেশি জনগণ যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিই হলো GDP। আর প্রবাসীরা দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে কর্মরত থাকে। ফলে তাদের আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং তাদের আয় GNP-তে অন্তর্ভুক্ত হয়। সুতরাং, প্রবাসীরা নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় তাদের আয় নিজ দেশের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিই হলো মোট জাতীয় আয়। মোট দেশজ উৎপাদনের সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়। একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে আয় করে। এছাড়া বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে আয় করে এই দুয়ের বিয়োগফল হলো নিট উপাদান আয়।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রীর আর্থিক মূল্যই মোট দেশজ উৎপাদন। জিডিপি হিসাব করার সময় দেশের মধ্যে অবস্থানরত বিদেশিদের আয় যোগ করা হয়। পাশাপাশি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে উৎপাদিত মোট দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের সমষ্টি হিসাব করা হয়।
কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য হলো জিডিপি। এক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত বিদেশিদের উপার্জিত অর্থও হিসাব করা হয়। অন্যদিকে, কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যই হলো জিএনপি। এক্ষেত্রে শুধু দেশীয় নাগরিকদের আয় হিসাব করা হয়। সুতরাং, মোট জাতীয় উৎপাদন ও মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এর মাঝে ভিন্নতা রয়েছে।
অর্থনীতিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য থেকে মূলধনের ব্যবহারজনিত অরচয় ব্যয় বাদ দিলে যা থাকে তা-ই নিট জাতীয় আয়। অর্থাৎ NNP = GNP - CCA। উৎপাদন কাজে যন্ত্রপাতি, ঘরবাড়ি প্রভৃতি ব্যবহার করার ফলে ধীরে ধীরে তাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই তাদের সংস্কার ও মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধনের বা যন্ত্রপাতির এ ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় বাদ দিলে-যা, অবশিষ্ট থাকে তাই হলো নিট জাতীয় আয়।
নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকগণ যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন করে তার বাজার মূল্যের সমষ্টি হলো মোট জাতীয় আয়। মোট দেশজ উৎপাদনের সাথে নিট উৎপাদন আয় যোগ করে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়। অন্যদিকে, কোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তা হলো নিট জাতীয় আয়। সুতরাং বলা যায়, মোট জাতীয় আয় ও নিট জাতীয় আয় হলো জাতীয় আয় পরিমাপের দুটি পৃথক ধারণা।
মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় পূরণের ব্যয় বাদ দিয়ে NNP (Net National Product) হিসাব করা হয়। দেশে দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রকার মূলধনি দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যেমন: যন্ত্রপাতি, দালানকোঠা প্রভৃতি। এসব মূলধন সামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতি ও মেরামতের জন্য যে অর্থ ব্যয় হয়, তা-ই অবচয়জনিত ব্যয়। মোট জাতীয় উৎপাদন থেকে এ ব্যয় বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তা-ই নিট জাতীয় উৎপাদন (NNP)। অর্থাৎ NNP = GNP - CCA |
একটি অর্থবছরে একটি দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের আয় যোগ করলে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়। উৎপাদনের মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এই উপাদানগুলো থেকে প্রাপ্ত আয় হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। আয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফা যোগ করে জাতীয় আয় পরিমাপ করা হয়।
ব্যয় পদ্ধতিতে জাতীয় আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের সব ধরনের ব্যয়ের যোগফল। সমাজের মোট ব্যয় বলতে ব্যক্তি খাতের ভোগ ও বিনিয়োগ ব্যয় এবং নিট রপ্তানিকে বোঝায়। অতএব, মোট দেশজ উৎপাদন = ভোগ + বিনিয়োগ+সরকারি ব্যয় নিট রপ্তানি। মোট দেশজ উৎপাদন বা Y=C+I+G+ (X-M); এখানে C = ভোগ, 1 = বিনিয়োগ, G = সরকারি ব্যয়, [X-M বা (রপ্তানি আমদানি) = নিট রপ্তানি]
উৎপাদন পদ্ধতি অনুসারে কোনো দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত সব দ্রব্য ও সেবাকর্মের আর্থিক মূল্য যোগ করে জাতীয় আয় পরিমাপ করা হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১৫টি খাতে বিভক্ত করা হয়। এই খাতগুলোর উৎপাদনের মূল্য যোগ করে মোট দেশজ উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে জাতীয় আয় পরিমাপ করতে হলে লক্ষ রাখতে হবে যাতে একই দ্রব্য দুব্যর গণনা না হয়। কেবল চূড়ান্তভাবে উৎপাদিত দ্রব্যের সমষ্টি গণনা করা হয়।
জিডিপি নির্ণয়ে আয় পদ্ধতিতে মোট দেশজ উৎপাদন হলো উৎপাদন কার্যে ব্যবহৃত উপকরণসমূহের প্রাপ্ত আয়ের সমষ্টি। উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মৌলিক উপকরণ ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এদের প্রাপ্ত আয় যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। অতএব, মোট দেশজ উৎপাদন = ∑ খাজনা + ∑ মজুরি + Σ সুদ + ∑ মুনাফা। এখানে ∑ = সমষ্টি।
উৎপাদনী ব্যবসায়ে মূলধনি যন্ত্রপাতির ব্যবহারজনিত কিছু ক্ষয় হয়। তাই উৎপাদনশীলতা ধরে রাখার জন্য এ ক্ষয় পূরণ বা মূলধনি যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এ রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ যে ব্যয় উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে তা মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় বা CCA নামে পরিচিত। CCA-এর পূর্ণরূপ হলো- Capital Consumption Allowance.
মোট দেশজ উৎপাদনের সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করে মোট জাতীয় আয় বা GNI পাওয়া যায়। একটি দেশের মোট জাতীয় আয় বা GNI থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় বা CCA বাদ দিলে যা থাকে তা-ই নিট' জাতীয় আয়। অর্থাৎ নিট জাতীয় আয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে GNI ও CCA সম্পর্কিত হয়। অর্থাৎ, GNI বা মোট জাতীয় আয়ের মধ্যেই CCA অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কোনো নির্দিস্ট আর্থিক বছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু জিডিপি পাওয়া যায়।
সূত্রাকারে,
মাথাপিছু জিডিপি = কোনো নির্দিস্ট বছরে মোট দেশজ উৎপাদন/ঐ বছরের মধ্য সময়ের মোট জনসংখ্যা
অর্থাৎ, মাথাপিছু জিডিপি হলো জনপ্রতি বার্ষিক জিডিপি।
কোনো দেশে বিভিন্ন খাতে প্রতি বছর কত পরিমাণ উৎপাদন ব্যয় ও মুনাফা কেমন তা জাতীয় আয়ের মাধ্যমে জানা যায়। এছাড়াও এর মাধ্যমে দেশের জনগণের মোট আয়ও জানা যায়। আর কোনো দেশের জনগণের মোট আয় মূলত 'দেশটির সচ্ছলতা বা অসচ্ছলতারই বহিঃপ্রকাশ। তাই জাতীয় আয়কে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মানদণ্ড বলা হয়।
মাথাপিছু জিডিপি দ্বারা একটি দেশ উন্নত, অনুন্নত নাকি উন্নয়নশীল তা নির্ণয় করা যায়। মাথাপিছু জিডিপি বলতে জনপ্রতি বার্ষিক জিডিপিকে বোঝায়। যদি মাথাপিছু জিডিপি একটি নির্দিস্ট স্তরের বেশি হয় তবে বুঝতে হবে দেশটি উন্নত। আর যদি তা থেকে কম হয় তবে বুঝতে হবে দেশটি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল। সুতরাং, মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে একটি দেশের অর্থনৈতিক-উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান নির্ণয় করা যায়।
প্রযুক্তির সাহায্যে একই উপকরণ দিয়ে বেশি উৎপাদন করে উপকরণের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়। প্রযুক্তির উন্নয়ন নানাভাবে হতে পারে। যেমন- নতুন আবিষ্কার, যন্ত্রপাতির ডিজাইন ও দক্ষতার উন্নতি, নতুন মালামালের আবিষ্কার ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ, কৃষিখাতে চিরায়ত বীজের পরিবর্তে উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজ ব্যবহার করার ফলে ধানের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে প্রযুক্তি উৎপাদন উপকরণের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়।
প্রযুক্তির সাহায্যে একই পরিমাণ উপকরণ দিয়ে বেশি উৎপাদন করার মাধ্যমে উপকরণের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়। একটি দেশে প্রযুক্তির উন্নয়ন নানাভাবে হতে পারে। যেমন: নতুন আবিষ্কার, যন্ত্রপাতির ডিজাইন ও দক্ষতার উন্নতি, নতুন মালামালের আবিষ্কার ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ-কৃষিখাতে চিরায়ত বীজের পরিবর্তে উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহার করার ফলে ধানের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে প্রযুক্তি উৎপাদন উপকরণের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দিয়ে দেশজ আয় বৃদ্ধি করে।
ভূমি ও শ্রম এ দুটি জিডিপির নির্ধারক। মোট দেশজ উৎপাদন ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে। প্রাকৃতিক সম্পদের পর্যাপ্ত ব্যবহার সম্ভব হলে এবং কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উর্বর ভূমি থাকলে দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আর শ্রম যেকোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। দক্ষ ও কর্মক্ষম শ্রম মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
দ্বৈত গণনা সমস্যা পরিহার করার জন্য অতীতের উৎপাদিত পণ্য ও লেনদেন জিডিপি নির্ণয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় না। যে বছরে জিডিপি গণনা করা হয় তার পূর্বের কোনো বছরের উৎপাদন ঐ নিদিষ্ট বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের অন্তর্ভুক্ত হয় না। যেমন: পুরাতন গাড়ি, পুরাতন বাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয়। এসব যে বছর উৎপাদিত হয়েছে ঐ বছরের জিডিপির মধ্যে হিসাব করা হয়েছে। এটি পুনরায় হিসাব করলে দ্বৈত গণনা সমস্যা দেখা দেয়।
জাতীয় আয় গণনা করার সময় মধ্যবতী দ্রব্যের দাম গণনা করা হলে দ্বৈত গণনা সমস্যার সৃষ্টি হয়। মাধ্যমিক ও চূড়ান্ত উভয় দ্রব্য গণনাই হলো দ্বৈত গণনা। যেমন: কৃষক গম উৎপাদন করল, তা দিয়ে মিলওয়ালা আটা বা ময়দা তৈরি করল। আবার সেই একই আটা দিয়ে বেকারিওয়ালা রুটি তৈরি করল। এক্ষেত্রে রুটি হলো চূড়ান্ত পণ্য। আর আটা হলো মাধ্যমিক পণ্য। এখন জাতীয় আয় গণনার সময় চূড়ান্ত পণ্যসহ যদি মাধ্যমিক দ্রব্যের দামও গণনা হয়, তাহলে দ্বৈত গণনা সমস্যার উদ্ভব হবে।
যে পদ্ধতিতে শুধু চূড়ান্তভাবে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার বাজার দাম জাতীয় আয় গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা-ই চূড়ান্ত উৎপাদন পদ্ধতি। এটি চূড়ান্ত উৎপাদন পদ্ধতি। এ পদ্ধতি গ্রহণের ফলে জাতীয় আয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্যের দাম অন্তর্ভুক্ত থাকে না। এর ফলে দ্বৈত গণনার সমস্যাও উদ্ভব হয় না। সুতরাং, দ্বৈত গণনার সমস্যা এড়ানোর জন্যই জাতীয় আয় পরিমাপে শুধু চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার দাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
একবার দুধের মূল্য আবার দইয়ের মূল্য হিসাব করলে GDP পরিমাপে দ্বৈত গণনা সমস্যা দেখা দেয়। জিডিপি পরিমাপে শুধু চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা গণনা করা হয়। কারণ চূড়ান্ত দ্রব্যের ভেতরে - মাধ্যমিক দ্রব্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। চূড়ান্ত দ্রব্যের পরে. আবার মাধ্যমিক দ্রব্য গণনা করলে জাতীয় আয়ে দ্বৈত গণনা সমস্যার দেখা দেয়। যেমন: দুধ মাধ্যমিক দ্রব্য আর দই চূড়ান্ত দ্রব্য। তাই একবার দুধের মূল্য আবার দইয়ের মূল্য হিসাব করলে জিডিপি পরিমাপে দ্বৈত গণনা সমস্যা দেখা দেয়।
বেআইনি কার্যকলাপ সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া দেশের প্রচলিত আইনের বিরোধী কাজকে বোঝায়। যেমন- মাদকদ্রব্য, জুয়াখেলা, কালোবাজারে দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়, রক্ত বিক্রি ইত্যাদি। এসব কাজের ফলে সৃষ্ট মূল্য জাতীয় উৎপাদন গণনার সময় বিবেচনা করা হয় না। সুতরাং, বেআইনি কাজ থেকে প্রাপ্ত আয় জাতীয় আয় গণনার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না।
অর্থনীতিতে এমন কিছু দ্রব্য ও সেবা রয়েছে যেগুলো বাজারের মাধ্যমে বেচা-কেনা হয় না। যেমন- মা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন, মহিলাদের রান্নাবান্নাসহ নানা সাংসারিক কাজকর্ম, গায়ক কর্তৃক বন্ধুদের গান শোনানো ইত্যাদি। এসব কাজ মানুষের বিভিন্ন অভাব পূরণ করলেও বিনিময় মূল্য বা আর্থিক মূল্য সৃষ্টি করে না। এজন্য জাতীয় আয় গণনায় এসব সেবার মূল্য অন্তর্ভুক্ত করা যায় না।
সময়ের পরিবর্তনে পণ্যের মূল্য পরিবর্তিত হলে লাভ-ক্ষতি হয়। এ লাভ বা ক্ষতি জিডিপি গণনার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না। কারণ সময়ের ব্যবধানে মূল্য পরিবর্তনজনিত লাভ বা ক্ষতি জিডিপি গণনায় ভূমিকা রাখে না। এ লাভ-ক্ষতি শুধু কাগজ-কলমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে জিডিপি গণনায় মূলধনি লাভ-ক্ষতির প্রভাব শূন্য। মূলধনি লাভ-ক্ষতি জিডিপিতে কোনো প্রভাব বিস্তার করে না।
সরকারি ঋণের সুদ জিডিপির হিসাব বহির্ভূত বিষয়। সরকারি ঋণের বিপরীতে যে সুদ দেওয়া হয় তা জিডিপির অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন: যুদ্ধকালীন সরকার যে ঋণ গ্রহণ করে তা জাতীয় উৎপাদনে ভূমিকা রাখে না। এ ঋণের বিপরীতে সুদ হস্তান্তর পাওনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই সরকারি ঋণের সুদ জিডিপি নির্ণয়ের সময় গণনা করা হয় না।
উৎপাদনের প্রকৃতি অনুযায়ী দ্রব্যকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও চূড়ান্ত দ্রব্য হিসেবে ভাগ করা হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যের ভেতরই মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মূল্য অন্তর্ভুক্ত হয়। এক্ষেত্রে যদি চূড়ান্ত দ্রব্য ও মাধ্যমিক দ্রব্যকে একসাথে গণনা করা হয়। তাহলে দ্বৈত গণনার সমস্যার কারণে জাতীয় আয়ের হিসাব বেশি, হবে। এজন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবাকে জিডিপি নির্ণয়ে বিবেচনা করা হয় না।
Related Question
View Allকোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় (Capital Consumption Allowance) বাদ দিলে যা থাকে, তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী সাধারণত একটি আর্থিক বছরে একটি দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের পারিতোষিক বা আয় যোগ করলে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়।
উৎপাদনের মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এই উপাদানগুলো থেকে প্রাপ্ত আয় হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। সুতরাং, আয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে জাতীয় আয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তার উপার্জন রেমিটেন্স হিসেবে এদেশের মোট জাতীয় আয়ের (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের নাগরিক কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় বলে। GNI হিসাব করার সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দু'য়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক। সে উপার্জনের প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইনে থাকে। সে তার উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ দেশে প্রেরণ করে, যা মূলত রেমিটেন্স হিসেবে আমাদের দেশের জাতীয় আয়ের সাথে যুক্ত হয়। কাজেই বলা যায়, শিহাবের প্রেরিত অর্থ এদেশের জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় রেমিটেন্স হিসেবে যোগ হয়।
মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক হওয়ায় তার আয় বাংলাদেশের জিডিপি (Gross Domestic Product বা GDP)-তে অন্তর্ভুক্ত হলেও মোট জাতীয় আয়ে (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে না।
মোট জাতীয় আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য এবং বিদেশে কর্মরত তথা প্রবাসীদের আয়ের সমষ্টি থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্য। সুতরাং মোট জাতীয় আয়=কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য + বিদেশে কর্মরত দেশীয়দের আয়- দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি তার আয়ের কিছু অংশ ব্রিটেনে পাঠান। এ কারণে তার আয় বাংলাদেশের GNI তে অন্তর্ভুক্ত হয় না
বরং ব্রিটেনের GNI তে যুক্ত হয়। অর্থাৎ তার আয় এদেশের জাতীয় আয়কে
প্রভাবিত করে না।
তবে, বিদেশিদের আয় '(বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে আয়) বিবেচ্য দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। যা পরবর্তীতে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশীয়দের আয় বৃদ্ধি করে। কাজেই বলা যায়, মিসেস ব্রাউনির আয় বাংলাদেশের জাতীয় আয়কে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত না করলেও পরোক্ষভাবে কিছুটা প্রভাবিত করে।
CCA-এর পূর্ণরূপ হলো Capital Consumption Allowance.
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
মনে করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে তিনটি দ্রব্য উৎপাদিত হয়। যেমন- ১০০ কুইন্টাল ধান, ১০০০টি জামা এবং ১০০০টি কলম উৎপাদিত হয়। এক্ষেত্রে, জিডিপি ১০০ কুইন্টাল ধান ধানের বাজার দাম + ১০০০টি জামা জামার বাজার দাম ১০০০টি কলম কলমের বাজার দাম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!