রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মাবলি সমষ্টিকে সংবিধান বলে ।
সংবিধান মাধ্যমে রাষ্ট্রের কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় ।
একটি রাষ্ট্রের দর্পণ সংবিধান ।
সংবিধানকে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি বলা হয় ।
জাপানের সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে হলে সবার আগে দেশটির সংবিধান জানা প্রয়োজন ।
সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল ।
সংবিধানকে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি বলা হয় ।
"সংবিধান হলো এমন এক জীবন পদ্ধতি যা রাষ্ট্র স্বয়ং বেছে নিয়েছে।" উক্তিটি - অ্যারিস্টটল ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল ।
'ম্যাগনাকার্টা' অধিকার সনদ ।
১২১৫ সালে সালে ম্যাগনাকার্টা সনদ প্রণয়ন করা হয় ।
'ম্যাগনাকার্টা' নামক অধিকার সনদ স্বাক্ষরে বাধ্য হন রাজা জন ।
ইংল্যান্ডে রাজা জন 'ম্যাগনাকার্টা' নামে অধিকার সনদ কার্যকর করেন ।
আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র দেশের সংবিধান গড়ে ওঠে ।
শাসক যখন জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নয় এমন কোনো কাজ করে তখন তাকে স্বৈরাচারী সরকার ধরনের সরকার বলা হয় ।
রাশিয়া, কিউবা ও চীনের সংবিধান বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ।
ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য দেশের সংবিধান গড়ে উঠেছে ।
অলিখিত সংবিধান সংবিধান তৈরি হয়নি, গড়ে উঠেছে ।
লেখার ভিত্তিতে সংবিধান ২ ধরনের ধরনের ।
লিখিত সংবিধান বলতে এক বা একাধিক দলিলে লিপিবদ্ধ সংবিধান বোঝায় ।
যে সংবিধানের অধিকাংশ বিষয় দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না তাকে অলিখিত সংবিধান বলা হয় ।
অলিখিত সংবিধান প্রথা ও রীতিনীতির দ্বারা গড়ে ওঠে ।
ঐতিহ্যের বাহক অলিখিত সংবিধান ।
অলিখিত সংবিধান ব্রিটেনে দেশে প্রচলিত ।
ব্রিটিশ সংবিধান অলিখিত ধরনের ।
সংশোধনের ভিত্তিতে সংবিধান দুই প্রকার ।
নতুন পরিস্থিতি ও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সুপরিবর্তনীয় ধরনের সংবিধান ।
সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধন জটিল পদ্ধতির এবং সাধারণ আইন তৈরির পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা যায় না-এটি দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান ধরনের সংবিধানের পরিচয় বহন করে ।
লিখিত সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে সুস্পষ্টতা যথার্থ ।
লিখিত সংবিধান পরিবর্তিত সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না ।
লিখিত সংবিধান ধরনের সংবিধান কখনো কখনো প্রগতির অন্তরায় হিসেবে কাজ করে ।
লিখিত পরিস্থিতিতে স্থিতিশীল থাকতে পারে কোন সংবিধান ।
লিখিত সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় ধরনের সরকারব্যবস্থার জন্য উপযোগী ।
সাবিকের দেশ অনেকগুলো প্রদেশ নিয়ে গঠিত। এক্ষেত্রে সাবিকের দেশের জন্য উপযুক্ত সংবিধান লিখিত ।
লিখিত সংবিধানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয় ।
প্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে অলিখিত সংবিধান সংবিধান ।
এ সংবিধান সমাজের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারে।' এ বাক্য দ্বারা অলিখিত সংবিধানকে বোঝানো হয়েছে ।
প্রগতির সহায়ক অলিখিত সংবিধান ।
অলিয়িত সংবিধান জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে ।
অলিখিত সংবিধান জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে ।
অলিখিত সংবিধানে বিপ্লবের সম্ভাবনা কম থাকে ।
বিশ্বের সকল রাষ্ট্রেই সংবিধান আছে ।
সুষম প্রকৃতির সংবিধান সংক্ষিপ্ত হয় ।
উত্তম সংবিধানের ইতিবাচক দিক নাগরিক অধিকারের প্রতিফলন ।
নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে উত্তম সংবিধান ।
উত্তম সংবিধানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে ।
বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৪ জন ছিল ।
বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন ছিলেন ।
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল তারিখে ।
বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান সর্বপ্রথম উত্থাপন করা হয় গণপরিষদে ।
বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান ১৯ অক্টোবর ১৯৭২ গণপরিষদে উত্থাপিত হয় ।
বাংলাদেশ সংবিধান ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ জাতীয় গণপরিষদে গৃহীত হয় ।
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর করা হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ ।
বাংলাদেশের সংবিধানে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে ।
বাংলাদেশের সংবিধানে ১১টি ভাগ রয়েছে ।
সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে ।
বাংলাদেশ সংবিধানে সাতটি তফসিল রয়েছে ।
বাংলাদেশের সংবিধান দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটে সংশোধন করা হয়। এক্ষেত্রে এ সংবিধানকে দুষ্পরিবর্তনীয় বলা হয় ।
বাংলাদেশ সংবিধান ৪টি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান ।
বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান অনুসারে বাংলাদেশের নাগরিক ১৮ বছর বয়সে ভোট দিতে পারবে ।
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ গণপ্রজাতান্ত্রিক ধরনের রাষ্ট্র ।
প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ ।
বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট ।
বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ ।
প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত ।
বর্তমানে জাতীয় সংসদ ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত ।
সংসদের মেয়াদ ৫ বছর ।
বাংলাদেশের সংবিধান মোট ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে ।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধ ঘোষণা করা হয় ।
বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর প্রধান বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্রপতি শাসিত, সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন ।
চতুর্থ সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার প্রবর্তন করা হয় ।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয় ৪র্থ সংশোধনীতে ।
রাষ্ট্রীয় মূলনীতির পরিবর্তন করা হয় পঞ্চম সংশোধনীতে ।
বিচারপতি সাত্তারকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ষষ্ঠ তম সংশোধনীতে ।
অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করা হয় ।
জনগণের সরাসরি ভোটে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয় ৯ম সংশোধনীর মাধ্যমে ।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে একাদশ তম সংশোধনী আনা হয় ।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয় দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ।
সংবিধানের দ্বাদশ তম সংশোধনীর মাধ্যমে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয় ।
ত্রয়োদশ সংশোধনীতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় ।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ।
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চাদশ সংশোধনী আনা হয় ২০১১ জুলাই ।
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রধান বৈশিষ্ট্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তকরণ ।
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয় সংবিধানের পঞ্চদশ তম সংশোধনীর মাধ্যমে ।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে মহিলাদের জন্য ৫টি সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি করা হয় ।
সংবিধানের পঞ্চদশ তম সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণ করা হয় ।
রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গৃহীত মৌলিক নিয়মাবলির সমষ্টিকে সংবিধান বলে। সংবিধান রাষ্ট্রের দর্পণস্বরূপ। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল বলেন; 'সংবিধান হলো এমন এক জীবনপদ্ধতি যা রাষ্ট্র স্বয়ং বেছে নিয়েছে।'
সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সংবিধানে নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিখিত থাকে। সংবিধানের মাধ্যমে যে কোনো রাষ্ট্রের জীবনব্যবস্থা ফুটে ওঠে। এজন্য সংবিধানকে রাষ্ট্রের দর্পণ বলা হয়।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। সরকার কীভাবে নির্বাচিত হবে, আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ কীভাবে গঠিত হবে, এদের ক্ষমতা কী হবে, জনগণ ও সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে- এসব বিষয় সংবিধানে উল্লেখ থাকে। এসব বিষয়ে সংবিধানের পরিপন্থি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। তাই সংবিধানকে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি বলা হয়।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। জনগণ রাষ্ট্রপ্রদত্ত কী কী অধিকার ভোগ করবে এবং জনগণ ও সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে এসব বিষয় সংবিধানে উল্লেখ থাকে। এর ফলে জনগণ তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। সংবিধান জনমতের ভিত্তিতে প্রণীত হয়। তাই সংবিধানে জনগণের চাহিদা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। তাছাড়া সামাজিক রীতিনীতি ও ঐতিহ্য এ সংবিধানে প্রতিফলিত হয়। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
সংবিধানের প্রণয়ন পদ্ধতি চারটি। এগুলো হলো-
১. অনুমোদনের মাধ্যমে,
২. আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে,
৩. বিপ্লব দ্বারা ও
৪. ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে।
অতীতে প্রায় সব রাষ্ট্রেই স্বেচ্ছাচারী শাসক নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করত। এতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে জনগণকে শান্ত করার জন্য এবং তাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একপর্যায়ে শাসক সংবিধান প্রণয়ন করেন। যেমন- ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন 'ম্যাগনাকার্টা' নামে অধিকার সনদে স্বাক্ষরে বাধ্য হন। এটি ব্রিটিশ সংবিধানের এক উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছে।
নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত সকল রাষ্ট্রের সংবিধান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনকারী কর্তৃপক্ষ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত গণপরিষদের মাধ্যমে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার পর সংবিধান প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে।
শাসক যখন জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিহিত নয় এমন কাজ করে অর্থাৎ শাসক স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হয়, তখন বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসকের পরিবর্তন হয়। নতুন শাসকগোষ্ঠী শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে নতুন সংবিধান তৈরি করে। রাশিয়া, কিউবা চীনের সংবিধান এ পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে।
যে সংবিধানের অধিকাংশ বিষয় দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে তাকে লিখিত সংবিধান বলে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লিখিত।
যে সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম কোনো দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না এবং এটি গড়ে উঠে চিরাচরিত নিয়ম ও আচার-অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। যেমন- ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত।
১. লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে। অলিখিত সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম অলিখিত থাকে।
২. লিখিত সংবিধান লিপিবদ্ধ করে কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অলিখিত সংবিধান গড়ে ওঠে চিরাচরিত প্রথা ও রীতিনীতির ভিত্তিতে।
সংশোধনের ভিত্তিতে সংবিধানকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় যথা-
১. সুপরিবর্তনীয় সংবিধান: সুপরিবর্তনীয় সংবিধানের যেকোনো ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায়।
২. দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান: দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের কোনো ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না।
যে সংবিধান সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় তাকে সুপরিবর্তনীয় সংবিধান বলা হয়। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আইনসভা এ ধরনের সংবিধানের যেকোনো অংশ সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারে। যেমন- ব্রিটিশ সংবিধান সুপরিবর্তনীয় সংবিধানের অন্যতম একটি উদাহরণ।
দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলতে সেই সংবিধানকে বোঝায় যা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। এ ধরনের সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সম্মেলন কিংবা ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের অন্যতম উদাহরণ।
সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
১. সুপরিবর্তনীয় সংবিধানের কোনো অংশ বা ধারা সহজে পরিবর্তন করা যায় কিন্তু দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের কোনো ধারা সহজে পরিবর্তন করা যায় না।
২. সুপরিবর্তনীয় সংবিধান সাধারণ অলিখিত হয়ে থাকে কিন্তু দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান লিখিত হয়ে থাকে।
লিখিত সংবিধানের দুইটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ ধারা লিখিত থাকে বলে একটি জনগণের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়।
২. এ সংবিধানে শাসক তার ইচ্ছামত পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে না, তাই যেকোনো পরিস্থিতে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
সংবিধানের সুস্পষ্টতা লিখিত সংবিধানের একটি বৈশিষ্ট্য। সংবিধানের সুস্পষ্টতা বলতে বোঝায় সংবিধানের অধিকাংশ ধারাগুলো সুস্পষ্টভাবে লিখিত আকারে থাকা। বিভিন্ন ধারায় স্পষ্টতার কারণে শাসক ও জনগণের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি কম হয়।
সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। কিন্তু লিখিত সংবিধানে সংশোধন পদ্ধতি উল্লেখ থাকে বিধায় এটি খুব সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। আর তাই লিখিত সংবিধান সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না।
লিখিত সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থার উপযোগী, কারণ এ সরকারব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয়। কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে কোনো কারণে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে সংবিধান অনুযায়ী তার সমাধান করা যায়। তাই লিখিত সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় উপযোগী।
অলিখিত সংবিধানের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এ সংবিধান সমাজের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারে। তাই এ সংবিধান প্রগতির সহায়ক।
২. যেহেতু এ সংবিধান সহজে পরিবর্তনীয় তাই এ সংবিধান জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৩. এ সংবিধানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে বিধায় বিপ্লবের সম্ভাবনা কম থাকে।
অলিখিত সংবিধানের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. অলিখিত সংবিধান সমাজের প্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে সহজে পরিবর্তন করা যায়। অর্থাৎ এটি সমাজের পরিবর্তনের সাথে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে।
২. অলিখিত সংবিধান যেহেতু সহজে পরিবর্তনীয় তাই জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অলিখিত সংবিধান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
সমাজ পরিবর্তনের সাথে নাগরিকের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা পরিবর্তন হতে থাকে। নাগরিক চায় উন্নতি ও প্রগতির সাথে নিজেদের যুক্ত করতে। অন্যদিকে সরকারও চায় আরো স্মার্ট হতে। অলিখিত সংবিধান যেহেতু সমাজের প্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে সহজে পরিবর্তন করা যায় তাই অলিখিত সংবিধান প্রগতির সহায়ক।
অলিখিত সংবিধান সহজে পরিবর্তন করা যায়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী অলিখিত সংবিধান পরিবর্তন করা যায় বিধায় জনমনে কোনো ক্ষোভ বা বিদ্রোহের সৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকে। তাই অলিখিত সংবিধানে বিপ্লবের সম্ভাবনা কম।
উত্তম সংবিধানের অর্থ হলো ভালো সংবিধান। যে সংবিধানে জনগণ ও সরকারের সম্পর্ক সহজ-সরল ও প্রাঞ্জলভাবে সংক্ষেপে উল্লেখ থাকে তাকে উত্তম সংবিধান রলে। এরূপ সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার ও জনমতের প্রতিফলন সুস্পষ্ট থাকে। সুতরাং জনকল্যাণকামী সংবিধানই উত্তম সংবিধান।
সংবিধানের চারটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. উত্তম সংবিধানের ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল হওয়ার কারণে তা সকলের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়।
২. উত্তম সংবিধান সংক্ষিপ্ত প্রকৃতির হয়।
৩. উত্তম সংবিধানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার উল্লেখ থাকে।
৪. এ সংবিধানে জনগণের চাহিদা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে।
উত্তম সংবিধানের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. উত্তম সংবিধানের অধিকাংশ বিষয় লিখিত থাকে। এ সংবিধানের ভাষা সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল হয়। এ কারণে উত্তম সংবিধান সকলের নিকট বোধগম্য হয়।
২. উত্তম সংবিধান সংক্ষিপ্ত প্রকৃতির। অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় উত্তম সংবিধানে স্থান পায় না। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উল্লেখযোগ্য বিধানগুলো এ সংবিধানে উল্লেখ থাকে।
উত্তম সংবিধান সুষম প্রকৃতির। এর অর্থ হলো উত্তম সংবিধান সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের মাঝামাঝি অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি খুব সুপরিবর্তনীয় কিংবা খুব বেশি দুষ্পরিবর্তনীয় নয়। এর ফলে উত্তম সংবিধান সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম। তাই উত্তম সংবিধান সুষম প্রকৃতির হয়।
উত্তম সংবিধানের কোনো ধারার সংশোধন বা পরিবর্তন নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। অর্থাৎ এমন সংবিধানে সংশোধন 'পদ্ধতি উল্লেখ থাকে। সংবিধানের কোনো অংশ কীভাবে সংশোধন করা হবে তা উত্তম সংবিধানে সুস্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ থাকে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের জন্য ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি করা হয়। উক্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। এ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ১৭ই এপ্রিল। এ কমিটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া তৈরি করে এবং তা ১৯ই অক্টোবর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে উত্থাপিত হয়। এরপর সংবিধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে গণপরিষদে আলোচনার পর ৪ঠা নভেম্বর ১৯৭২ সালে সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের আটটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. লিখিত দলিল।
২. দুষ্পরিবর্তনীয়,
৩. রাষ্ট্র পরিচলনার মূলনীতি,
৪. মৌলিক অধিকার,
৫. সার্বজনীন ভোটাধিকার,
৬. প্রজাতান্ত্রিক,
৭. সংসদীয় সরকার ও
৮. এককেন্দ্রিক সরকার।
বাংলাদেশ সংবিধান একটি লিখিত দলিল। এ দলিলে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এটি ১১টি ভাগে বিভক্ত। তাছাড়া বাংলাদেশ সংবিধানে একটি প্রস্তাবনাসহ সাতটি তফসিল রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। সংবিধানের কোনো নিয়ম সংশোধন বা পরিবর্তন করতে হলে জাতীয় সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়। এভাবে বাংলাদেশের সংবিধানের কোনো নিয়ম সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায় বলে বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।
বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত ও দুস্পরিবর্তনীয় সংবিধান ।এ সংবিধানের অধিকাংশ ধারা লিখিত বিধায় এটি লিখিত সংবিধান। অপরদিকে, এটির কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন বা সংশোধন করতে জাতীয় সংসদের মোট সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যদের সম্মতির প্রয়োজন হয়। তাই এটি দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান।
বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ৪টি। এগুলো হলো-
১. জাতীয়তাবাদ,
২. সমাজতন্ত্র,
৩. গণতন্ত্র ও
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা।
সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা কী কী অধিকার ভোগ করতে পারব তা বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। যেমন- জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, ধর্মচর্চার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি। এসব অধিকার সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে বলা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক অধিকার হলো- ১. জীবনধারণের অধিকার, ২. চলাফেরার অধিকার, ৩. বাকস্বাধীনতার অধিকার, ৪. সম্পত্তির অধিকার, ৫. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, ৬. ধর্মচর্চার অধিকার, ৭. সাম্যের স্বাধীনতা, ৮. ন্যায়বিচার লাডের অধিকার, ৯. সংগঠনের স্বাধীনতা, ১০. পেশাগত স্বাধীনতা ইত্যাদি।
সার্বজনীন ভোটাধিকার হলো এমন ব্যবস্থা যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ পেশা ইত্যাদি নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক একটা নির্দিষ্ট বয়সে ভোটাধিকার লাভ করবে। বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮ বা তদূর্ধ্ব বছর বয়সের দেশের সকল নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
হ্যাঁ, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সংবিধান অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের পক্ষে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। তাই বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তথা মন্ত্রিপরিষদ তার কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকে তাকে সংসদীয় সরকার বলা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদ তার কাজের জন্য জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
হ্যাঁ, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র। এখানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মতো কোনো অঙ্গরাজ্য বা প্রাদেশিক সরকার নেই। জাতীয় পর্যায়ে একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা সমগ্র দেশ পরিচালিত হয়।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে যে বিভাগে আইন প্রণয়ন করে সে বিভাগকে আইন বিভাগ বলে। যেমন- বাংলাদেশের আইন বিভাগের নাম 'জাতীয় সংসদ'। উল্লেখ্য আইন প্রণয়ন ব্যতীত এ বিভাগ সংবিধান সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন করে থাকে এবং জাতীয় প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। প্রত্যেক রাষ্ট্রেই একটি আইনসভা থাকে।
বাংলাদেশের আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট। এর নাম 'জাতীয় সংসদ'। প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত। বর্তমানে জাতীয় সংসদ ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। তাছাড়া সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
হ্যাঁ, বাংলাদেশের সরকার অবশ্যই সংসদীয় সরকার। আমরা জানি, যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ অর্থাৎ মন্ত্রিপরিষদ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে তাকে সংসদীয় বা পার্লামেন্টারি সরকারব্যবস্থা বলে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী শাসন বিভাগ তথা মন্ত্রিপরিষদ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগ অর্থাৎ সংসদের নিকট দায়ী থাকে। তাই আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের সরকার সংসদীয় সরকার।
নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অতি গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বিচারব্যবস্থার এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে বিচার বিভাগ আইন ও শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে বিচার কাজ করার সুযোগ পায়। রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যত স্বাধীন হবে নাগরিকগণের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি তত বৃদ্ধি পাবে।
এককেন্দ্রিক সরকার হলো এমন একধরনের সরকারব্যবস্থা যেখানে সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন না করে জাতীয় পর্যায়ে একটিমাত্র সরকার দ্বারা সমগ্র দেশ পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
বাংলাদেশের আইন বিভাগের নাম 'জাতীয় সংসদ'। জাতীয় সংসদ এক কক্ষবিশিষ্ট। বর্তমানে জাতীয় সংসদ ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। সংসদের মেয়াদ ৫ বছর। বাংলাদেশ যেহেতু সংসদীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান তাই মন্ত্রিপরিষদ তথা শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে।
বাংলাদেশের সংবিধানকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন বলা হয় কারণ এ আইনের ধারাসমূহ সুস্পষ্টভাবে সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে এবং আইন বিভাগ প্রণীত কোনো আইন বা শাসন বিভাগের যেকোনো কার্যক্রম সংবিধান পরিপন্থি হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। পরিপন্থি হলেও বিচার বিভাগ তা বাতিল করতে পারে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান করা ছিল বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বিষয়বস্তু। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে থাকা ও তাদের দোসরদের দ্বারা সংঘটিত আপামর নিরস্ত্র বাঙালির প্রতি অমানবিক, জঘন্য ও বর্বরোচিত কাজের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য এই সংশোধনী আনা হয়েছিল। এটি ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে পাস হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী করা হয় ১৯৭৩-সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এই সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা সংক্রান্ত। এ সংশোধনী মূল বিষয়বস্তু দেশের ভিতরে গোলযোগ, যুদ্ধের আশঙ্কা কিংবা মানুষের জীবনযাত্রায় সংকট দেখা দিলে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণায় ক্ষমতা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী হয় জানুয়ারি, ১৯৭৫ সালে। এই সংশোধনীর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
- সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃস্টি এবং সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করা হয়।
১৯৯১ সালের আগস্ট মাসে সংবিধানের যে সংশোধন করা হয় সেই সংশোধনই একাদশ সংশোধনী। এই সংশোধনীর বিষয়বস্তু অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ কর্তৃক প্রয়োগকৃত সকল কার্যক্রম বৈধ করা হয় এবং পুনরায় তার প্রধান বিচারপতি পদে ফিরে যাবার বিধান করা হয়।
বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী করা হয় সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালে। এ সংশোধনীর বিষয়বস্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী করা হয় মার্চ ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু নিম্নরূপ-
- তত্ত্ববধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা।
- ১৯৭২ মূল সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা- জাতীয়তাবাদ গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
যেসব নিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাকে সংবিধান বলে।
রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মাবলিকে সংবিধান বলে।
সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
সংবিধানকে রাষ্ট্রের দর্পণ বা আয়না বলা হয়।
রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য লিখিত ও অলিখিত নিয়মাবলির সমষ্টিই সংবিধান।
সংবিধানকে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি বলে।
অ্যারিস্টটল প্রদত্ত সংবিধানের সংজ্ঞাটি হলো- "সংবিধান হলো এমন এক জীবন পদ্ধতি যা রাষ্ট্র স্বয়ং বেছে নিয়েছে।"
ম্যাগনাকার্টা হলো ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন কর্তৃক একটি অধিকার সনদ।
ম্যাগনাকার্টা সনদ ১২১৫ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন 'ম্যাগনাকার্টা' অধিকার সনদ দান করেন।
বাংলাদেশের সংবিধান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গণপরিষদ কর্তৃক ১৯৭২ সালে প্রণীত হয়।
ব্রিটিশ সংবিধানের ক্রমবিবর্তন সম্পর্কে প্রচলিত উক্তিটি হলো-"ব্রিটিশ সংবিধান তৈরি হয়নি, গড়ে উঠেছে।"
লেখার ভিত্তিতে সংবিধান দুই ধরনের হতে পারে।
যে সংবিধানের অধিকাংশ বিষয় লিখিত থাকে তাকে লিখিত সংবিধান বলে।
লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ বিষয় দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে।
অলিখিত সংবিধান চিরাচরিত নিয়ম ও আচার অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত।
সংশোধনের ভিত্তিতে সংবিধান দুই প্রকার।
যে সংবিধানের কোনো নিয়ম সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় তাকে সুপরিবর্তনীয় সংবিধান বলে।
সুপরিবর্তনীয় সংবিধানের কোনো নিয়ম সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায়।
যে সংবিধান সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না তাকে দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলে।
দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের কোনো নিয়ম সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।
সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল।
লিখিত সংবিধান পরিবর্তিত সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না।
লিখিত সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থার জন্য উপযোগী।
লিখিত সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার পূর্বশর্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।
সমাজ সর্বদা প্রগতির দিকে ধাবিত হয়।
উত্তম সংবিধানের অধিকাংশ বিষয় লিখিত থাকে।
উত্তম সংবিধানের ভাষা সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল হয়।
উত্তম সংবিধান সুষম প্রকৃতির।
'যে আইনে মানুষের কল্যাণ নাই তা উত্তম সংবিধান হতে পারে না।'- উক্তিটি করেছেন দার্শনিক রুশো।
উত্তম সংবিধান হতে হবে জনকল্যাণকামী।
১৯৭২ সালের সংবিধান কমিটির সদস্যসংখ্যা ৩৪ জন ছিল।
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ১৭ই এপ্রিল।
সংবিধানের খসড়া ১৯ অক্টোবর ১৯৭২ সালে গণপরিষদে উত্থাপিত হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে কার্যকর হয়।
বাংলাদেশ সংবিধান ১১টি ভাগে বিভক্ত।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১টি প্রস্তাবনা আছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭টি তফসিল রয়েছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি চারটি। এগুলো হলো- ১. জাতীয়তাবাদ, ২. সমাজতন্ত্র, ৩. গণতন্ত্র ও ৪. ধর্মনিরপেক্ষতা।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হলো সংবিধান।
নারী-পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল প্রাপ্তবয়স্ক তথা ১৮ বা তদুর্ধ বছর বয়স্ক নাগরিকের ভোটদানের অধিকারই সর্বজনীন ভোটাধিকার।
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট।
বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
বাংলাদেশের আইনসভা ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবিধান মোট ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের সর্বপ্রথম সংশোধন হয় ১৫ জুলাই। ১৯৭৩ সালে।
অষ্টম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের ৬টি বেঞ্চ স্থাপন করা হয়।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন করা হয় বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়।
১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী' ২০১১ সালে জুলাই মাসে গৃহীত হয়।
সপ্তদশ সংশোধনীতে (জুলাই, ২০১৮) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা আরও ২৫ বছর রাখার বিধান করা হয়।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা আরও ২৫ বছর রাখার বিধান করা হয়।
সপ্তদশ সংশোধনী আইন পাস হয় জুলাই, ২০১৮ সালে।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল। সংবিধানের মাঝেই রাষ্ট্রের যাবতীয় মৌলিক বিধানাবলি ও রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মগুলো লিপিবদ্ধ থাকে। সরকার পদ্ধতি, নির্বাচন পদ্ধতি, আইন-বিচার-শাসন বিভাগ প্রভৃতির গঠন, কার্যাবলি ও ক্ষমতার বণ্টন ইত্যাদির বর্ণনা সংবিধানে উল্লেখ করা থাকে এবং এসব বিষয়ে সংবিধান পরিপন্থি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের যাবতীয় প্রধান বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন বা প্রতিবিম্ব হলো তার সংবিধান। আর তাই সংবিধান রাষ্ট্রের দর্পণস্বরূপ।
সংবিধান বলতে কতকগুলো লিখিত ও অলিখিত মৌলিক নিয়মাবলির সমষ্টিকে বোঝায়, যা রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার নীতিনির্ধারণ করে এবং শাসন পরিচালনার পথনির্দেশ করে। সংবিধান হলো রাষ্ট্রের দর্পণ। একটি দেশকে তার সংবিধানের মাধ্যমে জানা যায়। রাষ্ট্রের স্বরূপ, সরকারের ধরন এবং নাগরিক অধিকারের প্রকৃতি সংবিধানের মাধ্যমে জানা যায়। এ কারণেই সংবিধানকে রাষ্ট্রের মূলমন্ত্র বলা হয়।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। যে নিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় তাকে সংবিধান বলে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ কীভাবে গঠিত হবে, এদের গঠন ও ক্ষমতা কী হবে, জনগণ রাষ্ট্রপ্রদত্ত কী অধিকার ভোগ করবে এবং জনগণ ও সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে এসব বিষয় সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে। একটি রাষ্ট্রকে সঠিক ও যথার্থভাবে পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সংবিধান অপরিহার্য।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল বা মৌলিক দলিল। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। আইন, শাসন, বিচার বিভাগ কীভাবে গঠিত হবে, এদের গঠন ও ক্ষমতা কী হবে জনগণ রাষ্ট্রপ্রদত্ত কী কী অধিকার ভোগ করবে এবং জনগণ ও সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে এসব বিষয় সংবিধানে উল্লেখ থাকে। এসব বিষয়ে সংবিধানের পরিপন্থি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। তাই সংবিধানকে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল বলা হয়।
রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো মানবজীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ সাধন করা। এ উদ্দেশ্য সফল করার জন্য রাষ্ট্র কতকগুলো নিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আর সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নিয়মকানুনের সমষ্টি। যেকোনো দেশের সরকারব্যবস্থাই সংবিধান কর্তৃক নির্ধারিত হয়। সংবিধান নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাদান করে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিকীকরণে, জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করতে সংবিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া জনগণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এবং স্বেচ্ছাচারী শাসক থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য সংবিধানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সুতরাং বলা যায়, এসব বিষয় বিবেচনা করে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ কীভাবে গঠিত হবে, এদের গঠন ও ক্ষমতা কী হবে, জনগণ রাষ্ট্রপ্রদত্ত কী কী অধিকার ভোগ করবে এবং জনগণ ও সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে- এসব বিষয় সংবিধানে উল্লেখ থাকে। অর্থাৎ যেসব নিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাকে সংবিধান বলে। সংবিধানকে তাই রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি বলা হয়।
সংবিধান একটি রাষ্ট্রের মৌলিক দলিল। সংবিধানের দ্বারাই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। নাগরিকের সকল অধিকারের রক্ষাকবচ হলো সংবিধান। সরকার কীভাবে নির্বাচিত হবে, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের গঠন, কাজ, ক্ষমতা ও সমন্বয় প্রভৃতি সংবিধানের দ্বারা নির্ধারিত হয়। এসব বিষয়ে সংবিধানই চূড়ান্ত আইন। তাই সংবিধান ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।
জনগণকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে অতীতে প্রায় রাষ্ট্রেই স্বেচ্ছাচারী শাসক নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করত। এতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোয় দেখা দেয়। তাই জনগণকে শান্ত করার জন্য এবং তাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এক পর্যায়ে শাসক সংবিধান প্রণয়ন করেন।
সংবিধান তৈরি বলতে আলাপ-আলোচনা, অনুমোদনসহ বিভিন্নভাবে নীতিমালার মাধ্যমে আইন রচনা করাকে বোঝায়। কিন্তু ব্রিটিশ সংবিধান ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে লোকাচার ও প্রথার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ও বর্তমান রূপ ধারণ করেছে। এ সংবিধান কোনো গণপরিষদ কর্তৃক রচিত হয়নি। অতএব বলা যায়, ব্রিটিশ সংবিধান তৈরি হয়নি বরং তা গড়ে উঠেছে।
যে সংবিধানে সংবিধানের ধারাগুলো লিখিত অবস্থায় থাকে তাকে লিখিত সংবিধান বলে। লেখার ভিত্তিতে সংবিধান দুই ভাগে ভাগ করা হয়- লিখিত ও অলিখিত। লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ বিষয় দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে। লিখিত সংবিধান তাই জনগণের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। এ সংবিধানে সবকিছু লিখিত থাকে বিধায় শাসক তার ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারে না। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লিখিত।
প্রথা ও রীতিনীতির ভিত্তিতে অলিখিত সংবিধান গড়ে ওঠে। যে সংবিধানের ধারাগুলো কোনো দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। তবে এককথায় বলতে, সাধারণ প্রথা ও রীতিনীতিভিত্তিক এবং চিরাচরিত নিয়ম ও আচার-অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে যে সংবিধান গড়ে ওঠে তাকে অলিখিত সংবিধান বলা হয়। যেমন-ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত।
লিখিত সংবিধান পরিবর্তনে নিয়মতান্ত্রিক নিয়ম অনুসরণ করতে হয় বলে এটি সহজে পরিবর্তন করা যায় না। লিখিত সংবিধান হয় সুস্পষ্ট এবং বোধগম্য। কিন্তু বিশ্বের যতগুলো লিখিত সংবিধান রয়েছে তার সবই প্রায় দুষ্পরিবর্তনীয় অর্থাৎ সহজে পরিবর্তন করা যায় না। এর কারণ হলো লিখিত সংবিধান পরিবর্তন করতে গেলে প্রয়োজন পড়ে নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সম্মেলন এবং ভোটাভুটির। যেটি ঝামেলাপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সংশোধন পদ্ধতির এরূপ লিখিত রূপ থাকার কারণে লিখিত সংবিধান সহজে পরিবর্তন করা যায় না।
দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের কোনো ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হলে জটিল পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয়। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এ ধরনের সংবিধান পরিবর্তন করা যায় না। প্রয়োজন হয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার, সম্মেলন ও ভোটাভুটির। লিখিত সংবিধানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের মাঝে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া হয়। সংবিধান লিখিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় এরূপ ক্ষমতা বণ্টন সম্ভব হতো না। আর দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানে সংশোধন পদ্ধতি যেহেতু জটিল পদ্ধতির তাই দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের জন্য উপযোগী।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় লিখিত সংবিধান থাকা প্রয়োজন, কারণ লিখিত সংবিধানে ক্ষমতার সুস্পষ্ট বণ্টন উল্লেখ করা থাকে। লিখিত সংবিধানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বণ্টন সুনির্দিষ্ট না থাকলে সুষ্ঠু ক্ষমতা বণ্টনে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তাই লিখিত সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থার সফলতার পূর্বশর্ত ও অতি প্রয়োজনীয় অংশ।
অলিখিত সংবিধান প্রধানত অস্পষ্ট। লিখিত নয় বলে অনেকের কাছে তা সুস্পষ্ট হয় না। এটি সহজে পরির্তন করা যায় বলে শাসকগোষ্ঠী খেয়ালের বশবর্তী হয়ে যেকোনো সময় এ সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে। এতে সংবিধান তাদের খেয়ালের সামগ্রিতে পরিণত হয়। বারে বারে পরিবর্তিত হয় বলে এ ধরনের সংবিধান উন্নতির অন্তরায় সৃষ্টি করে। এমনকি সামাজিক স্থিতিশীলতাও নষ্ট করে। এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
সমাজ সর্বদা প্রগতির দিকে ধাবিত হয়। আর অলিখিত সংবিধান সমাজের প্রগতির সাথে সহজে পরিবর্তন করা যায়। অর্থাৎ এটি সমাজের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সহজেই খাপ খাওয়াতে পারে। অতএব অলিখিত সংবিধান প্রগতির সহায়ক।
অলিখিত সংবিধান সহজে পরিবর্তন করা যায়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এ ধরনের সংবিধান যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। আর তাই অলিখিত সংবিধানের ক্ষেত্রে বিপ্লবের সম্ভাবনা কম থাকে।
উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
- উত্তম সংবিধান লিখিত ও সুস্পষ্ট।
- উত্তম সংবিধান সংক্ষিপ্ত এবং সংশোধনের দিক থেকে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।
- উত্তম সংবিধানে মৌলিক অধিকার উল্লেখ থাকে।
- উত্তম সংবিধানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে।
- উত্তম সংবিধান সুষম প্রকৃতির হয়।
- উত্তম সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি উল্লেখ থাকে।
উত্তম সংবিধান সুষম শ্রেণির হয়ে থাকে। অর্থাৎ উত্তম. সংবিধান সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের মাঝামাঝি অবস্থান করে। এ ধরনের সংবিধান খুব বেশি সুপরিবর্তনীয় কিংবা খুব বেশি দুষ্পরিবর্তনীয় নয়। আর তাই উত্তম সংবিধান সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম।
উত্তম সংবিধানে সর্বাধিক জনকল্যাণের কথা চিন্তা করা হয় বিধায় উত্তম সংবিধান জনকল্যাণকামী। বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের কোনো না কোনো সংবিধান রয়েছে। যে রাষ্ট্রের সংবিধান যত উন্নত, সে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ততটা উত্তমভাবে পরিচালিত হয়। একটি 'রাষ্ট্রের সংবিধান তখনই উত্তম বলে বিবেচিত হয় যখন তা জনগণের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য হয়। একটি উত্তম সংবিধানে তাই জনমতের প্রতিফলন যেমন লক্ষ করা যায় তেমনি তা জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষারও রক্ষাকবচ। এ প্রসঙ্গে দার্শনিক রুশো বলেছেন, যে আইনে মানুষের কল্যাণ নেই তা উত্তম সংবিধান হতে পারে না। সুতরাং উত্তম সংবিধান স্বাভাবিকভাবেই জনকল্যাণকামী।
বাংলাদেশ সংবিধানে দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। এর ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এটি ১১টি ভাগে বিভক্ত। এর একটি প্রস্তাবনাসহ সাতটি তফসিল রয়েছে।
২. সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা কী কী অধিকার ভোগ করতে পারব তা সংবিধানে উল্লেখ থাকায় এগুলোর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন- জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, ধর্মচর্চার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি।
সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। কারণ সংবিধানের সাথে দেশের প্রচলিত কোনো আইনের সংঘাত সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে সংবিধান প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ যদি কোনো আইন সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যহীন হয়, তাহলে ঐ আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততোখানি বাতিল হয়ে যাবে।
সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা কী কী অধিকার ভোগ করতে পারব তা বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। যেমন- জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, বাকস্বাধীনতার অধিকার, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, ধর্মচর্চার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি। এসব অধিকার সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে বলা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রে সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ সরকার গঠন করে জনকল্যাণে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। জনগণ কর্তৃক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান থাকার ফলে বাংলাদেশকে একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা হয়।
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যম রাষ্ট্রের সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ফলে কেন্দ্র থেকে দেশ পরিচালনা করা হয়। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য দেশকে বিভিন্ন প্রদেশে বা অঞ্চলে ভাগ করে কিছু ক্ষমতা তাদের হাতে অর্পণ করা হয়। তবে প্রয়োজনবোধে কেন্দ্রীয় সরকার সে ক্ষমতা ফিরিয়ে নিতে পারে। এ ধরনের সরকারে প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারগুলো কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য প্রভৃতি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের উদাহরণ। সুতরাং যে রাষ্ট্রের সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র বলে।
বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আনা হয়েছিল ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এ সংশোধনীর বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয় এবং উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। এখানে যিনি রাষ্ট্রপতি তিনিই রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান। আর সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করে। তাই এ ব্যবস্থায় উপরাষ্ট্রপতির পদটি বাতিল করা হয়।
Related Question
View All১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন যে অধিকার সনদ প্রণয়ন করেছিলেন তার নাম 'ম্যাগনাকার্টা'।
একটি রাষ্ট্রকে সঠিক ও যথার্থভাবে পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সুষ্ঠু সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের সম্পর্ক কীরূপ হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। জনগণের মৌলিক অধিকার কী কী এবং কীভাবে সংরক্ষিত হবে তাও সংবিধান নির্দিষ্ট করে। সংবিধান ছাড়া একটি সভ্য রাষ্ট্র পরিচালনার কথা কল্পনা করা যায় না। তাই বলা যায়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বিক দিক পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন।
'ক' সংগঠনটি পরিচালনার নিয়মাবলি অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অলিখিত সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এটি ঐতিহাসিকভাবে উদ্ভূত সাধারণ প্রচলিত প্রথা, রীতি-নীতি, অভ্যাস-আচরণের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না। অলিখিত সংবিধানের পরিবর্তন প্রক্রিয়াও সহজ। অলিখিত সংবিধান ব্যবস্থায় সাধারণ আইন-কানুন ও শাসনতান্ত্রিক আইনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
উদ্দীপকের 'ক' নামক সামাজিক সংগঠনটি চিরাচরিত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর নিয়মগুলো কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এখানে মূলত অলিখিত সংবিধানের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা 'ক' নামক সংগঠনের নিয়মগুলোর বৈশিষ্ট্যে উপরে আলোচিত অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' সংগঠন পরিচালনার নিয়মাবলির সাথে অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ।
'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলির সাথে লিখিত সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে। 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনার নিয়মাবলির মধ্যে আমি 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম বলে মনে করি।
লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ ধারা লিখিত থাকে বলে এটি জনগণের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। এতে সাধারণত সংশোধন পদ্ধতি উল্লেখ থাকে বিধায় খুব সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। আবার লিখিত সংবিধান স্থিতিশীল বিধায় শাসক তার ইচ্ছামতো এটি পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে না। লিখিত সংবিধানের সকল ধারা জনগণ ও শাসক মেনে চলতে বাধ্য হয়। সংবিধান লিখিত থাকায় জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
অন্যদিকে অলিখিত সংবিধান অস্পষ্টতা দোষে দুষ্ট। শাসক-শাসিতের সম্পর্ক বা অন্যান্য বিষয়গুলো এ সংবিধানে লিখিত থাকে না। সে কারণে শাসক ও শাসিত তাদের সুনির্দিষ্ট অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে শাসনব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার অধিক পরিবর্তনশীলতার কারণে সংবিধানে স্থায়ী নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অলিখিত সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবার আশঙ্কা থাকে।
উদ্দীপকের 'খ' নামক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও স্কুল পরিচালনায় সুস্পষ্টভাবে লিখিত নিয়মকানুন মেনে চলেন এবং যেকোনো ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হন। তাই আমি মনে করি 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়মাবলির মধ্যে 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়।
যে সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম কোনো দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। এ ধরনের সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- প্রথা ও রীতিনীতিভিত্তিক, চিরাচরিত নিয়ম ও আচার- অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দুলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!