দুষ্প্রাপ্যতা: অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলতে সম্পদের স্বল্পতাকে বোঝায়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অভাবের কোনো শেষ নেই। যেকোনো দ্রব্য বা সেবাসামগ্রী উৎপাদন করতে সম্পদ দরকার হয়। কিন্তু 'সম্পদ সীমিত'। সেজন্যই সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষের সব অভাব পূরণ হয় না। অর্থনীতিতে এটাকে দুষ্প্রাপ্যতা বলে।
অসীম অভাব: মানুষের জীবনে অভাবের শেষ নেই। কোনো একটি দ্রব্যের অভাব পূরণ হলে আবার নতুন অভাবের জন্ম হয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি মানুষের জীবনধারণের জন্যে প্রয়োজনীয় অভাব। এ অভাব পূরণ হলে সে উন্নত জীবনযাপন করতে চায়। এভাবে মানুষের অভাবের শেষ নেই। তাই বলা হয়, অভাব অসীম।
অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith) অর্থনীতির সংজ্ঞায় বলেন, 'অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।' সম্পদকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি গড়ে ওঠে। তাই সম্পদ আহরণই মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলির মূল উদ্দেশ্য।
সাধারণত অর্থনীতিতে দুই ধরনের প্রতিনিধি (Agent) থাকে। ভোক্তা বা পরিবার এবং উৎপাদক বা খামার। এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে আয়-ব্যয় বিনিময় প্রবাহকে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ বলা হয়। ফার্ম তার প্রয়োজনীয় উৎপাদনের উপকরণগুলো (শ্রম, ভূমি ও মূলধন) পায় পরিবারসমূহ থেকে। এর বিনিময়ে পরিবারের সদস্যরা ফার্ম থেকে পায় খাজনা, মজুরি ও সুদ। এখানে ফার্মের যা ব্যয় পরিবারের তা আয়। এভাবে পরিবার এবং ফার্মের মধ্যে আয়-ব্যয়ের মধ্যে চক্রাকার প্রবাহ বিদ্যমান থাকে।
যে ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই এ অর্থব্যবস্থাকে অবাধ বা মুক্ত অর্থনীতিও বলা হয়।
যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। এরূপ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতা অবাধ না হয়ে আংশিকভাবে সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা লক্ষ করা যায়। যেমন- বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি প্রভৃতি।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ফ্রান্সে ধনীদের বিলাসী জীবনযাপনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভূমিবাদ মতবাদ প্রচার করা হয়। তখন ইংল্যান্ডের বাণিজ্যবাদ বিকশিত হলে কৃষির গুরুত্ব কমে যায়। তাই কৃষকদের গুরুত্ব ফিরে পেতে ভূমিবাদের উদ্ভব ঘটে। ভূমিবাদ মতবাদ অনুযায়ী উৎপাদন বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য শিল্প ও ব্যবসায় খাত তঅপেক্ষা কৃষি ও কৃষি-সংশ্লিষ্ট খাতেরই ওপর অধিক নির্ভর করা উচিত
ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ (১৫৯০-১৭৮০) পর্যন্ত ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের যে প্রসার ঘটে তাকে বাণিজ্যবাদ বলে। বৈদেশিক বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি, বিদেশ থেকে মূল্যবান সম্পদ আহরণ, রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি সম্পকীয় মতবাদই হলো বাণিজ্যবাদ। অর্থাৎ, যে ব্যবস্থায় রাষ্ট্রশক্তির সাথে বেসরকারি কর্তৃপক্ষ একটি জাতির অর্থনৈতিক জীবন নিয়ন্ত্রণ করে এবং নির্দেশনা দেয় তাই বাণিজ্যবাদ।
অর্থনীতির মৌলিক সমস্যা হলো অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদ। মানুষের অভাব অসীম হলেও অভাব পূরণের জন্য সম্পদ সীমিত। এ
সীমিত সম্পদ দ্বারা মানুষের সব অভাব এক সাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না। এই সীমিত সম্পদ বিকল্প ব্যবহারযোগ্য অর্থাৎ একই সম্পদ বিভিন্ন অভাব পূরণে ব্যবহার করা হয়। কাজেই সম্পদের স্বল্পতা বা দুষ্প্রাপ্যতাই হলো মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা।
মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যার মূল কারণ হলো সম্পদের স্বল্পতা। অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত বা অপ্রচুর। তাই এ সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করা দরকার। অসীম অভাবের সাথে যদি সম্পদও পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যেত, তবে কোনো অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি হতো না। তাই বলা যায়, সব অর্থনৈতিক সমস্যার মূলে সম্পদের স্বল্পতা বিরাজ করে।
উৎপাদন ও বণ্টনে বৈষম্য রোধে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে সরকারি হস্তক্ষেপের দরকার হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সরকারি হস্তক্ষেপে উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফলে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হয়। সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে নিজ নিজ স্বার্থে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন সম্ভব হয় না। এভাবেই সরকারি হস্তক্ষেপ দ্বারা সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
জায়েদের সাইকেল কিনতে ব্যর্থ হওয়া সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতাকে নির্দেশ করে। মানুষের অভাব পূরণের জন্য যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা থাকা প্রয়োজন তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ কারণে মানবজীবনের অসংখ্য অভাবের তুলনায় প্রাপ্ত সম্পদের স্বল্পতাই অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা। তেমনি জায়েদের কাছে জমানো টাকা সাইকেলের দাম অপেক্ষা কম হওয়ায় তিনি সাইকেল কিনতে ব্যর্থ হন। অর্থাৎ তার সম্পদের চেয়ে অভাব বেশি। তাই এটা সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতাকে নির্দেশ করে।
মানুষের জীবনে অভাবের শেষ নেই। কিন্তু সম্পদের পরিমাণ সীমিত। অভাবের তুলনায় সম্পদের এ সীমাবদ্ধতাকেই দুষ্প্রাপ্যতা বলে। তাই অভাবের অসীমতাই হলো দুষ্প্রাপ্যতার কারণ। কেননা, অভাব কম হলে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হতো না। সুতরাং, মানুষের অসীম অভাব আর সে তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হয়।
একটি অভাবের পরিবর্তে অন্য একটি অভাব পূরণের জন্য সীমিত সম্পদ ব্যবহার করাকে সম্পদের বিকল্প ব্যবহার বলা হয়ে থাকে। অন্যভাবে বলা যায়, সম্পদের বিকল্প ব্যবহার বলতে কোনো একটি উপকরণ বিভিন্ন চাহিদা মেটানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করাকে বোঝায়। যেমন- কৃষিক্ষেত্রে একখণ্ড জমি পাট চাষে ব্যবহার না করে বিকল্পভাবে ধান চাষের জন্য ব্যবহার করা যায়।
সীমিত সম্পদ ও অসীম অভাব অর্থনীতির দুটি মৌলিক সমস্যা। প্রকৃতিতে সম্পদ সীমিত। কিন্তু মানুষের অভাব অসীম। মানুষের একটি অভাব পূরণ হলে তার মধ্যে আরেকটি নতুন অভাবের সৃষ্টি হয়। এভাবে মানুষের অভাব সীমাহীন। কিন্তু মানুষের এই অসীম অভাবের বিপরীতে প্রকৃতিতে সম্পদ সীমিত। আর এই সীমিত সম্পদের জন্যই মানু অভাব পূরণ করা সম্ভব হয় না।
মানুষের অভাব অসীম। কিন্তু অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাব পূরণ করা সম্ভব নয়। আবার সব অভাব সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো আগে পূরণ করতে হয়। ব্যক্তির অসংখ্য অভাবের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো বাছাই করাই হলো অভাবের নির্বাচন।
মানুষের অভাব অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত। ফলে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না। এজন্য অভাবের গুরুত্ব বিবেচনা করে কয়েকটি অভাব পূরণ করতে হয়। অতিপ্রয়োজনীয় অভাবগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করতেই মানুষ অভাব বাছাই করে। সুতরাং, সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাব পূরণ করার জন্য মানুষকে অভাব বাছাই করতে হয়।
মানুষের অসীম অভাব এবং সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা থেকেই নির্বাচনজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। দুষ্প্রাপ্য সম্পদ দ্বারা কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ ভাভাব আগে পূরণ করা হবে তা নির্ধারণ করা বা চিহ্নিত করাকেই 'নির্বাচন' বলা হয়। মানুষের অভাব অফুরন্ত আর এই অফুরন্ত অভাবের মধ্যে সব অভাব সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই অভাবের গুরুত্ব এবং সম্পদের বিকল্প নির্ধারণ করতে হয় বলে নির্বাচনজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়।
মানুষের অভাব অসীম। একটি অভাব পূরণ হলে অন্য অভাব দেখা দেয়। কিন্তু অভাবের তুলনায় মানুষের সম্পদের জোগান সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দ্বারা সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই অভাবের গুরুত্ব বিবেচনা করে অগ্রাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচন করতে হয়। এভাবে দুষ্প্রাপ্য সম্পদ দিয়ে মানুষ তার অসীম অভাব পূরণ করে
অ্যাডাম স্মিথ তাঁর সময়ে অর্থনীতির বিভিন্ন ধারণাকে সংঘবদ্ধ করে ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ করেন। পরে তিনি অর্থনীতি বিষয়ে লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ১৭৭৬ সালে 'An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations' নামক বিখ্যাত বই রচনা করেন, যা আজকের অর্থনীতির মূলভিত্তি। এ কারণে অ্যাডাম স্মিথকে অর্থনীতির জনক বলা হয়।
অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের অভাব অসীম এবং এর প্রকৃতি ও পরিমাণ ভিন্ন। কিন্তু এই অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদ সীমিত। তাই অভাবের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অভাব পূরণের জন্য সীমিত সম্পদের বিকল্প ব্যবহার প্রয়োজন। উক্ত বিষয়গুলো এল. রবিন্সের সংজ্ঞায় উল্লেখ আছে। তাই তার সংজ্ঞাটিকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য বা উত্তম মনে করা হয়।
অধ্যাপক মার্শাল সম্পদের চেয়ে মানব কল্যাণের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। মার্শালের মতে, 'অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে'- অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয় মানুষের অর্থ উপার্জন এবং অভাব মোচনের জন্য সেই অর্থের ব্যয় করা। অর্থাৎ অর্থনীতির মূল, উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন।
অর্থনীতির যে শাখায় অর্থনৈতিক এককের আচরণ পৃথক পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে ব্যষ্টিক অর্থনীতি বলে। অন্যদিকে, অর্থনীতির যে শাখায় সমগ্র অর্থনীতির আচরণ বিশ্লেষণ করা হয় তাকে সামষ্টিক অর্থনীতি বলে। অর্থনীতির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে ব্যষ্টিক অর্থনীতি। কিন্তু, সামষ্টিক অর্থনীতি অপেক্ষাকৃত বৃহৎ বা সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। তাই ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি এক নয়।
অর্থনীতির যে শাখা অর্থনীতির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় বা বিভিন্ন অংশ পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা করে তাকে ব্যষ্টিক অর্থনীতি বলা হয়। ব্যষ্টিক এর ইংরেজি 'Micro', যার অর্থ ক্ষুদ্র বা আংশিক। অর্থাৎ একজন ভোক্তা বা উৎপাদকের আচরণ, একটি দ্রব্যের চাহিদা বা জোগান, 'একজন ব্যক্তির উপযোগ, ব্যক্তির আয়-ব্যয় ও সঞ্চয়, 'একটি ফার্মের উৎপাদন ইত্যাদি পৃথক পৃথকভাবে ব্যষ্টিক অর্থনীতিতে আলোচনা করা হয়। ব্যষ্টিক অর্থনীতির মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক ঘটনাকে একক বা ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা।
অর্থনীতির যে শাখায় সমগ্র অর্থনীতির আচরণ বিশ্লেষণ করা হয় তাকে সামষ্টিক অর্থনীতি বলে। অর্থনীতির ধারণা বা ঘটনাকে সামগ্রিক বা জাতীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণ করাই সামষ্টিক অর্থনীতি। মোট ভোগ, মোট বিনিয়োগ, সামগ্রিক চাহিদা, সামগ্রিক জোগান, বেকার সমস্যা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রভৃতি বিষয় নিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি আলোচনা করে। সামষ্টিক অর্থনীতির পরিসর অনেক বিস্তৃত।
অর্থনীতির ১০টি নীতির মধ্যে অন্যতম প্রধান ২টি নীতি হলো মানুষকে পেতে হলে ছাড়তে হয় এবং মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে। পছন্দমতো কোনো কিছু পেতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই পছন্দের অপর একটি জিনিস ত্যাগ করতে হয়। অর্থাৎ মানুষ সর্বদা দেওয়া-নেওয়ার (Trade offs) নীতি মেনে চলে। আবার, যুক্তিবাদী মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে। অর্থাৎ, মানুষ একটি পণ্য তখনই ভোগ করবে, যখন প্রান্তিক উপযোগ প্রান্তিক ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়।
কাজের উৎসাহ বৃদ্ধির জন্য 'মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়' এই নীতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি কাজের জন্য উৎসাহ বা প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ প্রণোদনা পেলে তঅধিকতর যত্নের সাথে কাজটি করে। কাজে উৎসাহ পেলে উৎপাদন ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
ফার্ম ও পরিবারসমূহের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলেই কোনো দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়। ফার্মের মালিকরা বাজারের চাহিদা দেখে দ্রব্য সরবরাহ করে এবং অসংখ্য পরিবার তাদের আয় ও প্রয়োজন অনুসারে এসব দ্রব্য ও সেবাসামগ্রী ক্রয় করে। অর্থাৎ বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সকল কাজকর্ম সংগঠিত হয়ে থাকে। তাই অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংগঠিত করার জন্য বাজার একটি উত্তম পন্থা।
সমাজে আমাদের পছন্দমতো কোনো কিছু পাওয়ার জন্য পছন্দের বিপরীতে কিছু ছাড়তে হয়। যেমন- অবসর সময়ে টিভি দেখলে খেলাধুলার পেছনে সময় ব্যয় করা যাবে না। আবার সরকার যদি শিক্ষা খাতে বেশি ব্যয় করে তবে সামরিকসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে হবে। অর্থাৎ, কোনো জিনিস পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজের মানুষ সর্বদা একটি দেওয়া নেওয়া (Trade offs) নীতি মেনে চলে।
উৎপাদন বাড়াতে শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপই হলো প্রণোদনা। অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, পেনশন ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে শ্রমিকরা যেকোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। তখন কাজের গুণগত মান ও পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক উৎপাদন করতে যে ব্যয় হয়, তাকে প্রান্তিক ব্যয় বলা হয়। ধরা যাক, কোনো দ্রব্যের ১০ একক উৎপাদন করতে ব্যয় হয় ২০০ টাকা। উৎপাদনের পরিমাণ এক একক বাড়ানোর ফলে অর্থাৎ ১১ একক এর জন্য উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ২২০ টাকা। এখানে অতিরিক্ত এক একক দ্রব্য উৎপাদনের জন্য ব্যয় হয়েছে (২২০-২০০ টাকা) = ২০ টাকা। সুতরাং, এই ২০ টাকাই হলো প্রান্তিক ব্যয়।
কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্যটিকে ত্যাগ করতে হয়, এই ত্যাগকৃত পরিমাণই হলো অন্য দ্রব্যটির সুযোগ ব্যয়। পণ্য নির্বাচন সমস্যা থেকেই সুযোগ ব্যয় ধারণার উদ্ভব। সুযোগ ব্যয়কে দুটি দ্রব্যের পারস্পরিক বিনিময়ও বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করলে দশ কুইন্টাল ধান উৎপাদন করা যায়। আবার পাট চাষ করলে পাঁচ কুইন্টাল পাট উৎপাদন করা যায়। এক্ষেত্রে দশ কুইন্টাল ধানের সুযোগ ব্যয় হলো পাঁচ কুইন্টাল পাট।
গাড়িচালক গাড়ি চালাতে না গিয়ে ধান কাটতে যাওয়া অর্থনীতির সুযোগ ব্যয় ধারণার সাথে মিলে। কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্যটিকে ত্যাগ করতে হয়। এই ত্যাগকৃত পরিমাণই হলো অন্য দ্রব্যটির 'সুযোগ ব্যয়'। সাধারণত একটি কাজ করতে গেলে অন্য আর একটি কাজ করার সুযোগ ত্যাগ করতে হয়। তাই গাড়িচালক গাড়ি চালাতে না গিয়ে ধান কাটতে গেলে অর্থনীতির সুযোগ ব্যয় নীতির সাথে মিলে।
কোনো দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ প্রান্তিক ব্যয় থেকে বেশি থাকলে ভোক্তা লাভবান হয়। ভোগ বাড়লে প্রান্তিক উপযোগ কমে। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রান্তিক ব্যয় থেকে প্রান্তিক উপযোগ বেশি থাকে ততক্ষণ পর্যন্তই ভোস্তা দ্রব্যের ভোগ অব্যাহত রাখে। তাই প্রান্তিক ব্যয়ের চেয়ে উপযোগ বেশি পাওয়া পর্যন্ত ভোগ করবে বলে যুক্তিবাদী মানুষ প্রান্তিক পর্যায় নিয়ে চিন্তা করে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সবাই উপকৃত হতে পারে। বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন ধনসম্পদে পরিপূর্ণ। বাণিজ্যের মাধ্যমে একটা দেশ তার প্রয়োজনীয় অনুৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী সহজেই বিদেশ হতে সংগ্রহ করতে পারে। যেমন- বাংলাদেশের সাথে পৃথিবীর যেকোনো দেশের বাণিজ্য হলে দেশের ভোক্তা সাধারণত কম দামে পণ্যসামগ্রী কেনার সুযোগ পায়। এর ফলে উভয় দেশ লাভবান হয়। এভাবেই বাণিজ্যের মাধ্যমে সবাই উপকৃত হয়।
দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যস্তর বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। আর কোনো শ্রমিক বাজার মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক, কিন্তু কাজ পায় না এ অবস্থা হলো বেকারত্ব। সাধারণত স্বল্পকালে অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি কমলে বেকারত্ব বাড়ে। আবার মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বেকারত্ব কমে। অর্থাৎ স্বল্পকালে মুদ্রাস্ফীতি বেকারত্বের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
বাজারব্যবস্থা ব্যর্থ হলে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। অর্থনৈতিক কাজকর্ম সচরাচর বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে সংগঠিত হয়। আর এ ব্যবস্থা সাধারণত চাহিদা ও জোগানের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। বাজারব্যবস্থা নির্দিস্ট একজনের পরিবর্তে বহুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচালিত হয়। কিন্তু সবসময় তা সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। এমন অবস্থায় অর্থনীতিতে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
ভোক্তা বা পরিবার এবং উৎপাদক বা ফার্মের মধ্যে আয়-ব্যয় চক্রাকারে প্রবাহিত হওয়াকে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ বলে। ফার্ম বা ফার্মের মালিকরা ভোক্তা বা পরিবারের কাছ থেকে উৎপাদনের উপকরণ শ্রম, ভূমি ও মূলধন ক্রয় করে। পরবর্তীতে ফার্ম সেগুলো সংগঠিত করে দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে। পরিবারসমূহ উৎপাদনের উপকরণ বিক্রির মাধ্যমে আয় বা উপার্জন করে। আবার এই উপার্জিত অর্থ দিয়ে ফার্মের কাছ থেকে দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করে। এভাবে আয়ের বৃত্তকার প্রবাহ সৃষ্টি হয়।
যে অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত তাই ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ব্যক্তিগত উদ্যোগের অবাধ স্বাধীনতা। এখানে স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহের সমাধান হয়। উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় থেকে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করে।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী নিজেদ্রে ইচ্ছানুযায়ী ও মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় করে। ভোগের ক্ষেত্রেও প্রত্যেক ভোক্তা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। এ অর্থব্যবস্থায় এসব ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই এ অর্থব্যবস্থাকে অবাধ বা মুক্ত অর্থনীতি বলে।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দেশের সম্পদের বেশির ভাগই কিছু পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তার মালিকানায় থাকে বলে শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয়।
পুঁজিপতিরা দরিদ্র শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কম মজুরিতে তাদের কাজে নিয়োজিত করে। পাশাপাশি মজুরির উদ্বৃত্ত অংশ আত্মসাৎ করে। এ প্রক্রিয়ায় একদিকে পুঁজিপতিরা যেমন অধিক ধনসম্পদের মালিক হয়ে ওঠে। অন্যদিকে দরিদ্র শ্রমিকরা দারিদ্র্য অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। এর ফলে সমাজে ধনী ও দরিদ্র শ্রেণির উদ্ভব ঘটে এবং শ্রেণিবৈষম্য দেখা দেয়।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা মূলত ভোক্তাদের রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনের ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে, ভোক্তারা নিজ নিজ সামর্থ্য ও পছন্দ অনুযায়ী তা ভোগ করে। এক্ষেত্রে ভোক্তারা যেকোনো দ্রব্য বা সেবা যেকোনো পরিমাণে এবং যেকোনো সময় অবাধে ভোগ করতে পারে। তাই দ্রব্য ও. সেবা ভোগের ব্যাপারে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার অবাধ স্বাধীনতা লক্ষ করা যায়।
যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানার পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। সাধারণত মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে। নানা ধরনের অর্থনৈতিক কার্যাবলি বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এ ব্যবস্থায় মুনাফা অর্জন সম্ভব এবং ভোক্তা ক্রয়-বিক্রয় ও ভোগের পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে। তবে এ অর্থব্যবস্থায় মাঝে মাঝে সরকারি হস্তক্ষেপও লক্ষ করা যায়।
মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি বিরাজ করে। এই অর্থব্যবস্থায় ভোক্তারা দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও ভোগের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। তাছাড়া এ অর্থব্যবস্থায় সরকারও যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। ফলে বণ্টনের ক্ষেত্রে উভয়েরই কর্তৃত্ব দেখা যায়। কিন্তু ধনতন্ত্রে পুঁজিপতির একক কর্তৃত্ব লক্ষ করা যায়। কাজেই, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, ভোক্তার স্বাধীনতা ও অবাধ প্রতিযোগিতার জন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থাকে ধনতন্ত্রের চেয়ে উত্তম অর্থব্যবস্থা বলা হয়।'
ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো সর্বাধিক কল্যাণকর অর্থব্যবস্থা। কারণ এ অর্থব্যবস্থায় জনগণের প্রয়োজন অনুসারে উৎপাদন এবং ন্যায্য মূল্যের হিসাবে তা বণ্টন করা হয়। এখানে যেকোনো ধরনের প্রতারণা, শোষণ, অমানবিকতা, সুদ, ঘুষ, মজুতদারি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ফলে দেশের সকল জনগণ সর্বক্ষেত্রে সর্বাধিক ইনসাফ, ন্যায় ও কল্যাণ অর্জন করে থাকে। কিন্তু অন্যান্য অর্থব্যবস্থায় শোষণ, প্রতারণা, জুলুম উচ্চ বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি লক্ষণীয়। তাই ইসলামি অর্থব্যবস্থাকে সর্বাধিক কল্যাণকর অর্থব্যবস্থা বলা হয়।
ইসলামের মৌলিক নিয়মকানুনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থব্যবস্থাই ইসলামি অর্থব্যবস্থা। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা অন্যান্য অর্থব্যবস্থা থেকে ইসলামি অর্থব্যবস্থাকে আলাদা রূপদান করেছে। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে সুদের কোনো অস্তিত্ব নেই। জাকাত ও ইনসাফভিত্তিক বণ্টনব্যবস্থা সর্বপ্রথম এ অর্থব্যবস্থায়ই প্রবর্তন করা হয়। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সমস্ত te কর্মকাণ্ড মূলত কুরআন ও হাদিসের নির্দেশ অনুসারে পরিচালিত হয়
Related Question
View Allভূমিবাদীদের (Physiocracy) মতে, কৃষিই (খনি ও মৎস্য ক্ষেত্রসহ) হলো অন্যতম বা প্রধান উৎপাদনশীল খাত।
দুষ্প্রাপ্যতা বলতে অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে বোঝায়।
মানুষ তার অভাব পূরণ করার জন্য যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে চায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ মানবজীবনের অসংখ্য অভাবের তুলনায় উৎপাদনের উপকরণ তথা প্রাপ্ত সম্পদের স্বল্পতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। উদাহরণ- সাকিবের কাছে এক হাজার টাকা আছে। তার শার্ট, প্যান্ট এবং ভালো জুতা দরকার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তার টাকার পরিমাণ কম। এটি সম্পদের 'দুষ্প্রাপ্যতাকে' নির্দেশ করছে।
সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সেখানে প্রায় সব শিল্প- কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি বা সামাজিক নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামে দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা চাইলেই নিজের খুশিমতো অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা নেই বললেই চলে, কারণ সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে জমি, কলকারখানা ও খনি প্রভৃতি প্রায় সকল কিছুর মালিকানা থাকে সরকার বা রাষ্ট্রের হাতে। সেখানে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়া (কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কীভাবে এবং কাদের জন্য উৎপাদিত হবে) সম্পর্কে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের। ওপর রাষ্ট্রীয় বা সরকারি মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। পক্ষান্তরে, যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলা হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভোক্তা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ সেখানে দাম-সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় চাহিদা- যোগানের স্বয়ংক্রিয় ঘাত-প্রতিঘাতের দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে ও কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কীভাবে বণ্টন করা হবে- এসব পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়, তাই সেখানে ধনতন্ত্রের মতো সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফা অর্জনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সেই সাথে বেসরকারি পর্যায়ে - অর্থনৈতিক কার্যাবলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।
কাজেই বলা যায়, সুমির দেশের অর্থব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার অনেক পার্থক্য রয়েছে।
ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো- "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।"
অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাই হলো প্রণোদনা।
অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ প্রণোদনা পায় বলেই যে কোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেতনসহ ছুটি, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, কাজের ঝুঁকি হ্রাস ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!