জনসংখ্যা একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান শক্তি। দেশের জনসংখ্যা আয়তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এবং জনসংখ্যা শিক্ষিত ও দক্ষ হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
আদমশুমারি ২০২২ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লক্ষ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা বসবাস করে ১১১৯ জন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২ শতাংশ।
নিচের ছকে এশিয়ার কয়েকটি দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব লেখা হলো-
| দেশের নাম | জনসংখ্যার ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কি.মি.) |
| মালদ্বীপ | ১,৭২৮ জন |
| সিঙ্গাপুর | ৮,২০৭ জন |
| ভারত | ৪২৭ জন |
| শ্রীলঙ্কা | ৩৩৮ জন |
| জাপান | ৩৩০ জন |
জনসংখ্যার বয়স, লিঙ্গ, বিবাহ, সমাজকাঠামো, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিক্ষা, পেশা প্রভৃতির পরিবর্তনশীল অবস্থাই হলো জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতা। সুতরাং জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতা। বলতে জনসংখ্যার কাঠামোর পরিবর্তনকে বোঝায়।
জনসংখ্যার বয়স কাঠামোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-যুবক, প্রাপ্তবয়স্ক এবং বৃদ্ধ।
বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলো পাহাড় ও পর্বতে ঘেরা বলে এখানে জনবসতি কম। ফলে এ এলাকার জনসংখ্যার ঘনত্বও সর্বনিম্ন। আবার চর এলাকাও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বলে এখানেও জনসংখ্যার ঘনত্ব কম।
মানুষের একস্থান হতে অন্যস্থানে গমনকে স্থানান্তর বলে। স্থানান্তরকে অভিগমনও বলা হয়। এ স্থানান্তর দেশের অভ্যন্তরে কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হতে পারে।
দেশের ভিতরে যখন মানুষ এক স্থান হতে অন্য স্থানে গমন করে তখন তাকে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর বলা হয়। তবে বাজার করা, অফিস করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করাকে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর বলা যায় না।
গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা কর্মহীন থাকার কারণে পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে বোঝা মনে করতো। ফলে বৈষম্য, বঞ্চনা, প্রতারণা এবং নিপীড়ন তাদের ভাগ্যে জুটত। স্থানান্তরের ফলে তাদের পোশাক শিল্পে কর্মসংস্থান ব্যবস্থা হয়, যা তাদের পারিবারিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
এক স্বাধীন দেশ থেকে অন্য একটি স্বাধীন দেশে চাকুরি, বিয়ে, বসবাস এমনকি নাগরিকতা লাভের জন্য গমন করাকে আন্তর্জাতিক স্থানান্তর বলে।
সাধারণভাবে বলা যায় সন্তান প্রসবের পূর্বে, প্রসবকালীন এবং প্রসব পরবর্তী সময়ে শারীরিক কিংবা অন্যান্য কারণে মায়েরা মৃত্যুবরণ করলে তাকে মাতৃমৃত্যু বলা হয়।
জন্মের পর এক বছর বয়সের মধ্যে শিশুর মৃত্যু হলে তাকে শিশু মৃত্যু বলা হয়। শিশু মৃত্যু হার হলো প্রতি বছরে জীবিত জন্মগ্রহণকারী প্রতি হাজারে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা।
বাংলাদেশে শিশুমৃত্যু হ্রাসে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। ১৯৯০ সালে এদেশে শিশু মৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে ১৪৯ জন, যা ২০২২ সালের আদমশুমারী অনুযারী প্রতি হাজার ২০ জন এ হ্রাস পেয়েছে।
শিশুমৃত্যুর কারণ হলো-
-দারিদ্র্য
-বাল্যবিবাহ ও
-অপুষ্টি ও অসুস্থতা।
পরিবারে শিশুমৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। একটি পরিবারে যখন একটি শিশু মারা যায় তখন ওই পরিবার অনেকটা অগোছালো হয়ে যায়। এই পারিবারিক শোক সামলানো কষ্টকর হয়ে পড়ে।
প্রাকৃতিক সম্পদ একটি দেশের জন্য মহামূল্যবান। এই সম্পদ একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক শক্তির মূল উৎস। যে দেশ যত প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধশালী সে দেশ তত অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী।
বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাসন সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এই সমস্যা নিরসনের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণসহ অন্যান্য কাজে ব্যাপক হারে কাঠ ও কাঠজাত দ্রব্য ব্যবহৃত হওয়ায় বনজ সম্পদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বন ধ্বংস হচ্ছে। এতে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে।
দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার চাহিদা নিবারণে ব্যাপকহারে, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করা হয়। বনজ সম্পদ, কৃষি জমি, গ্যাস ও তেল এবং পানি সম্পদ প্রভৃতি সসীম হওয়ায়, তা প্রতিনিয়ত কমছে। ফলে প্রতিনিয়ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
জনসংখ্যা হ্রাসবৃদ্ধির মুখ্য কারণ হচ্ছে জন্ম ও মৃত্যু। জন্মের হার বৃদ্ধি ও মৃত্যুর হার হ্রাসের মধ্য দিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
অধিক জনসংখ্যার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, নিরাপত্তা, বিনোদন প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অধিক জনসংখ্যা নানাবিধ সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাও। সৃষ্টি করছে।
জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে দুটি করণীয় :
১. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন'
২. জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ
বাংলাদেশের আয়তন অনুসারে জনসংখ্যা বেশি। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন বাস করে, যা পৃথিবীর যেকোনো দেশের লোকসংখ্যার ঘনত্বের তুলনায় অনেক বেশি। আর তাই বাংলাদেশকে পৃথিবীর ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বলা হয়।
যে দেশ যত বেশি শিক্ষিত সে দেশ তত বেশি উন্নত। জ্ঞানের পরিবর্তনের প্রভাব শিক্ষিত লোকের ধ্যানধারণার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। ফলে তারা ছোট পরিবার গঠন করে। শিক্ষিত জনগণের জন্মহার কম। অশিক্ষিত জনগণের জন্মহার বেশি। পেশাগত কারণে জন্মহারের তারতম্য ঘটে। যেমন- কৃষক, শ্রমিক, জেলে এদের জন্মহার বেশি। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার প্রভৃতি পেশাজীবী শ্রেণির জন্মহার কম।
আমাদের দেশে বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েরা অল্পবয়সে গর্ভধারণ করে। গর্ভকালীন সময়ে, অবহেলা, অজ্ঞতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি প্রভৃতি কারণে মায়েরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। ফলে তারা মাতৃত্বকালীন নানা জটিলতায় ভোগে এবং মৃত্যুবরণ করে। তাছাড়া মাতৃমৃত্যুর আরও অনেক কারণ রয়েছে। যেমন- নিম্ন জীবনযাত্রা, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও দুর্বল সেনিটেশন ব্যবস্থা, নারী শিক্ষার অভাব, চিকিৎসার অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভপাত, প্রসবকালীন উচ্চ - রক্তচাপ, একলেমশিয়া প্রভৃতি।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো মৃত্যুহার হ্রাস। পূর্বে পৃথিবীব্যাপী বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার অধিক ছিল। হাম, পোলিও, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, যক্ষ্মা ইত্যাদি রোগে অনেক শিশুর মৃত্যু ঘটত। কিন্তু এসব মারাত্মক রোগের প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের ফলে অনেক শিশু অকালমৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাচ্ছে। খাওয়ার স্যালাইনের ব্যবহার, চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি, প্রসূতি মায়ের মৃত্যুহ্রাস প্রভৃতি কারণে উল্লেখযোগ্য হারে মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জনসংখ্যা দেশের জন্য সম্পদ হতে পারে, যদি জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়। প্রবাসে আমাদের দেশের কয়েক লক্ষ দক্ষ ও অদক্ষ লোক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। তারা যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে প্রেরণ করছেন তা আমাদের বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তাছাড়া আমাদের দেশের জনসম্পদের একটি বড় অংশ আত্মকর্মসংস্থানের নানা উপায় উদ্ভাবন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি.। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখা ১৬ কোটি ৯৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৯১১ জন এবং প্রতিবর্গ কি.মি. এ বসবাস করে ১১১৯ জন। ২০১৫-১৬ (সাময়িক) সালে জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৯৯ লক্ষ। বর্তমানে জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১.২২ শতাংশ যা ২০০১ সালে ছিল ১.৫৯ শতাংশ।
একটি দেশের সামগ্রিক কাঠামোতে বহির্গমনের গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণত চাকরি, ব্যবসায় বাণিজ্য, শিক্ষা ইত্যাদি কারণে এক দেশের মানুষ অন্য দেশে স্থায়ী বা অস্থায়িভাবে স্থানান্তর করে। এর ফলে প্রথম দেশটির জনসংখ্যা কমে যায় এবং এর ওপর জনসংখ্যা সংক্রান্ত চাপও হ্রাস পায়। উপরন্তু তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের কারণে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়।
আন্তর্জাতিক স্থানান্তর নানাভাবে জীবন-জীবিকার উন্নয়ন ঘটায়। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা এদেশের কৃষি ও শিল্প, ব্যাংকিং সেবাখাত, গার্মেন্টস শিল্প ও নানা ধরনের লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হয়। এর ফলে দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়া চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে আমাদের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন ঘটে।
আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশে রোগের বিস্তার ঘটে। আন্তর্জাতিক স্থানান্তরিত ব্যক্তিরা দেশে ফেরার সময় বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস বহন করে নিয়ে আসে। এসব ভাইরাস দেশে বিস্তার লাভকরে। ফলে রোগেরও বিস্তার ঘটে।
সমাজে দেখা যায়, মায়ের মৃত্যুর পর পিতা বিয়ে করে। এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নতুন মা শিশুকে সহজে গ্রহণ করতে চায় না। এসব শিশু অবহেলা ও অনাদরে বড় হয়। ফলে তাদের মনে এক ধরনের মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
হতাশাজনিত কারণে 'শিশু মৃত্যুর ফলে পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা শিশুর মৃত্যুজনিত কারণে পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। যা পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জনসংখ্যা একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান শক্তি। একটি দেশের জনসংখ্যা তার আয়তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়। তবে এই জনসংখ্যাকে হতে হবে শিক্ষিত ও দক্ষ। জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরিত করা গেলে যেমন উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তেমনি অদক্ষ জনসংখ্যা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এই অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে জানতে পারব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
১. বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের জনসংখ্যার তুলনা করতে পারব;
২. জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
৩. বাংলাদেশের জনসংখ্যার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
৪. বাংলাদেশে মা ও শিশু মৃত্যুহারের কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
৫. বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদের আলোকে জনসংখ্যা চাপের ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে পারব;
৬. জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব;
৭. বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allবাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ১৮ বছর।
বসতি স্থানান্তরের কারণে কোনো দেশে বহির্গমনের থেকে বহিরাগমন মাত্রা বেশি হলে সে দেশের জনসংখ্যা বেড়ে যায়।
বসতি স্থানান্তর জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। দেশান্তরের কারণে বহিরাগমন এবং বহির্গমন ঘটে থাকে। বহিরাগমন অর্থাৎ দেশের বাইরে থেকে দেশে লোক আসলে জনসংখ্যা বেড়ে যায়।
১৯৬১ সালের তুলনায় ২০০৭ সালের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে জন্মহার ও মৃত্যুহারের ব্যবধান।
১৯৬১ সালের তুলনায় ২০০৭ সালের জনসংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতিবছর জন্ম নিচ্ছে ২৫ লক্ষ শিশু আর মৃত্যুবরণ করছে সব বয়সের মাত্র ৬ লক্ষ লোক। ফলে বছরে মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ১৯ লক্ষ। এভাবে জনসংখ্যা বাড়লে ৪০ বছরে জনসংখ্যা তিনগুণ হওয়াই স্বাভাবিক।
এছাড়া মৃত্যুহার হ্রাসের কারণেও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি, খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে ধারণা লাভ প্রভৃতি কারণেও শিশু মৃত্যুহার অনেক কমে যাচ্ছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
১৯৭৪ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭.৬৪ কোটি। ২০০১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১২.৯৩ কোটি। অর্থাৎ ২৭বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.২৮ কোটি। অন্যদিকে ১৯৯১ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১১.১৫ কোটি। ২০২২ সালে এসে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। অর্থাৎ ৩১ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে পাঁচ কোটি তিরাশি লাখের মতো। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কম।
আবার, ১৯৯১ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.১৭% যা ২০০১ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫৯। ২০১১ সালে তা আরও কমে হয় ১.৩৭%। বর্তমানে জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১.২২%। দেখা যাচ্ছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার পেছনে নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, চিকিৎসা সেবার উন্নতি, জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে সচেতনতা প্রভৃতি কারণ ভূমিকা রেখেছে। এ বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির যথার্থতা আছে।
একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোনো বছরে প্রতি এক হাজার লোকের মধ্যে মোট জীবন্ত শিশু জন্মের সংখ্যা এবং সেই বছরের মধ্যবর্তী সময়ের জনসংখ্যার অনুপাতকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate) বলে।
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি।
মাত্র ৫০ বছর আগেও এ ভূখণ্ডে কলেরা, বসন্ত, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি সংক্রামক রোগ মহামারীরূপে দেখা দিত এবং হাজার হাজার লোক মারা যেত। কিন্তু প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ায় এ ধরনের রোগে আর মানুষ সহজে আক্রান্ত হচ্ছে না। আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার বদৌলতে হৃদরোগ বা ক্যানসারের মতো অসংক্রামক অন্যান্য রোগে মৃত্যুহার কমেছে। চিকিৎসা সেবার উন্নতির ফলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুও অনেক কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!