মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অনুসরণ করলেই মানুষ, সেরা হতে পারে। যে জীবন অনুসরণ ও অনুকরণ করলে মানুষের জীবন সুন্দর ও সফল হয়, তাকে আদর্শ জীবন বলে। আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে যেসব নবি ও রাসুল প্রেরণ করেছেন, তাঁদের জীবনই আমাদের জন্য আদর্শ।
হযরত ইসমাঈল (আ.) ছিলেন আল্লাহর নবি। তিনি হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর মাতার নাম হাজিরা (আ.)। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১৯১০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের সময় হয়রত ইবরাহিম (আ.)-এর বয়স ছিল ৮৬ বছর। তিনি কুরাইশ ও উত্তর আরবের 'আদনান' বংশের আদি পিতা।
হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর জন্মের কিছুদিন পর তাঁর পিতা হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তাঁকে ও তাঁর মাতাকে নির্জন ভূমিতে রেখে আসেন। তিনি তাঁদেরকে কিছু খেজুর ও এক মশক পানি দিয়ে আসেন।
ইবরাহিম (আ.) তাঁর সন্তান ও স্ত্রীকে নির্জন ভূমিতে রেখে আসার সময় এ বলে দোয়া করেন "হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের কতককে বসবাস করালাম অনুর্বর উপত্যকায় তোমার পবিত্র গৃহের নিকট। হে আমার প্রতিপালক! এজন্য যে তারা যেন নামায প্রতিষ্ঠা করে। অতএব, তুমি কিছু লোকের অন্তর তাঁদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং ফলাদি দ্বারা তাঁদের রিযিকের ব্যবস্থা কর, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।” (সূরা ইবরাহিম : ৩৭)
হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর পিতা হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর হুকুমে তারই প্রদর্শিত স্থানে প্রথম কাবাঘর পুনঃনির্মাণ করেছিলেন।
হযরত ইসমাঈল (আ.) ছিলেন ধৈর্যশীল ও পিতাভক্ত। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে 'ছাদেকুল ওয়াদ' (অঙ্গীকার পালনকারী) উপাধিতে ভূষিত করেন।
হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে 'ছাদেকুল ওয়াদ' উপাধিতে ভূষিত করার কারণ হলো নিজের ওয়াদা রক্ষার জন্য তিন দিন পর্যন্ত কষ্ট করে অপেক্ষা করেছিলেন বলে হযরত ইসমাঈল (আ.) কে আল্লাহ্ ছাদেকুল ওয়াদ বা অঙ্গীকার পালনকারী উপাধি দান করেছিলেন।
হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন আল্লাহর নবি। তাঁর পিতার নাম হযরত ইয়াকুব (আ.) আর মাতার নাম রাহিলা বিনতে লাবন। তিনি হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর একাদশতম পুত্র। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১৯২৭ -১৮১৭ এর মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কেনানের অধিবাসী।
হযরত ইউসুফ (আ.) শারীরিক গঠনে অপূর্ব সৌন্দর্যের অধিকারী। আর ব্যবহারে বিনয়ী ও উত্তম চরিত্র গুণে গুণান্বিত। পবিত্র কুরআনে হযরত ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনীকে 'আহসানুল কাসাস' (সর্বোত্তম কাহিনি) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
হযরত ইয়াকুব (আ.) স্বীয় পুত্র হযরত ইউসুফ (আ.)-কে অনেক আদর করতেন। এতে হযরত ইউসুফ (আ.)-এর সহোদর বিন ইয়ামিন ব্যতীত অন্যান্য বৈমাত্রেয় ভাইয়ের তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়। তারা তাঁর ব্যাপারে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
একটি বণিক দল হযরত ইউসুফ (আ.)-কে মিসরে দাস হিসেবে বিক্রি করে। মিসরের শাসক আজিজ তাঁকে স্বল্প মূল্যে মাত্র কয়েক দিরহামের (মুদ্রা) বিনিময়ে ক্রয় করেন। তিনি হযরত ইউসুফ (আ.)-এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে পুত্রের মতো ভালোবাসতে থাকেন।
মিসরের বাদশাহর স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে কারাগার থেকে মুক্তিপান। স্বপ্নের ব্যাখ্যায় হযরত ইউসুফ (আ.) বলেন, 'দেশে সাত বছর প্রচুর শস্য উৎপন্ন হবে। আর পরবর্তী সাত বছর একটানা ভীষণ দুর্ভিক্ষ চলবে। সাথে সাথে তিনি দুর্ভিক্ষ হতে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায়ও বলে দিলেন। এ ব্যাখ্যা বাদশাহের অত্যন্ত মনঃপুত হলো।
হিজরত অর্থ ত্যাগ করা, ছিন্ন করা। ইসলামি পরিভাষায় -আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ বা ধর্মের নিরাপত্তার জন্য বাসভূমি ত্যাগ করে অন্যত্র গমন করা। সত্য ও ন্যায়ের জন্য স্বদেশ পরিত্যাগ করে আশ্রয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে অন্য কোনো দেশে গমন করাই হিজরত।
মক্কায় কাফিররা যতই নির্যাতন করল, হযরত মুহাম্মদ (স.) তাদের সব নির্যাতন সহ্য করলেন। তিনি তাঁর সাথিদের বিভিন্ন দেশে হিজরত করালেও প্রিয় জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে। নিজে কোথাও যাননি। তিনি জন্মভূমি ছেড়ে যাওয়ার সময় মক্কাকে লক্ষ্য করে বললেন 'আল্লাহর কসম! তুমি আল্লাহর সর্বোত্তম ভূখন্ড এবং আল্লাহর দৃষ্টিতে সর্বাপেক্ষা প্রিয়ভূমি। আমাকে এখান থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া না হলে আমি কখনও তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।' (তিরমিযি)
মদিনায় হিজরতের পর হযরত মুহাম্মদ (স.) মদিনায় একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কতকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এগুলোর মধ্যে মদিনার সনদ উল্লেখযোগ্য। এতে তিনি ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রীয় বিভেদ নিরসন করে পারস্পরিক শান্তি-সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে কতিপয় নীতিমালা তৈরি করেন। যা মদিনা সনদ নামে ক্যাত। এটি। পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান।
মদিনা সনদে মোট ৪৭টি (মতান্তরে ৫০টি) ধারা ছিল। দুটি ধারা লেখা হলো।
১. সনদে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহকে নিয়ে একটি সাধারণ জাতি গঠিত হবে।
২. সনদে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহের কারো উপর যদি বাইরের শত্রু আক্রমণ করে তবে সকল সম্প্রদায় মিলে শত্রুকে প্রতিহত করতে হবে।
ইসলামের ইতিহাসে মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। এ সনদের ফলে মদিনার লোকজনের মাঝে সকল হিংসা-বিদ্বেষ ও কলহের অবসান হলো। তারা ঐক্যবদ্ধ হলো। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হলো। মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে এক উদার সম্প্রীতি স্থাপিত হলো।
হযরত মুহাম্মদ (স.) মদিনার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করলেন। তাঁর সুশাসনের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো-
ক. আইনের কর্তৃত্ব এবং সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করা।
খ. ধর্ম, বর্ণ গোত্রভেদে সকল নাগরিকের প্রতি সুবিচার করা।
গ. মুসলমানদের মধ্যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
ঘ. সরকারের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
হযরত মুহাম্মদ (স.) মুসলমানদের পক্ষ হতে কাফিরদের নিকট হযরত ইসমানকে দূত হিসেবে পাঠালেন। হযরত উসমান (রা.) আসতে দেরি হওয়ার মুসলমানদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে হযরত উসমান (রা.)-কে হত্যা করা হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (স.) সাহাবিদের নিয়ে একটি গাছের নিচে সমবত হলেন এবং উসমান হত্যার বদলা নেওয়ার জন্য শপথ নিলেন। এ শপথ 'বাইয়াতে রিদওয়ান' নামে পরিচিত।
৬ষ্ঠ হিজরি মোতাবেক ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে 'হুদায়বিয়ার সন্ধি' স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে অনেকগুলো শর্ত ছিল তার মধ্যে দুটি শর্ত উল্লেখ করা হলো-
১. ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানগণ হজ সমাপন না করেই মদিনায় প্রত্যাবর্তন করবে।
২. কুরাইশ ও মুসলমানদের মধ্যে আগামী দশ বছর যেকোনো প্রকার যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ থাকবে।
হযরত উসমান (রা.) ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশের উমাইয়া গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আফফান, মাতার নাম ছিল ওরওয়াহ। ইসলামের চার খলিফার মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় খলিফা।
রাসুল (স.) তাঁর প্রথম কন্যা বুকাইয়াকে তাঁর নিকট বিবাহ দেন। বুকাইয়াকে তাঁর নিকট বিবাহ দেন। বুকাইয়া মারা গেলে অতঃপর উম্মে কুলসুমকে তাঁর কাছে বিবাহ দেন। ফলে তাঁকে 'যুন্নুরাইন' (দুই নুরের অধিকারী) বলা হতো।
হযরত উসমান (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর সর্বদা ইসলাম প্রচারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি সর্বদা রাসুল (স.)-এর সাথে থাকতেন। এ কাজে তিনি তার সম্পদ উদার হস্তে ব্যয় করেন। তিনি নিজ খরচে মসজিদে নববি সম্প্রসারণ করেন। মদিনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন।
হযত উসমান (রা.) ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর আমলে ইসলামি খিলাফত ব্যাপক বিস্তৃত হয়। পশ্চিমে মরক্কো পূর্বে বর্তমান পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তরে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পর্যন্ত তা বিস্তার লাভ করে।
হযরত উসমান (রা.) আমলে ইসলামি খিলাফত ব্যাপক বিস্তৃত হয়। তাঁর সময়ে সর্বপ্রথম মুসলিম নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক বিভাগসমূহ সম্প্রসারিত হয়। তিনি অনেকগুলো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পাদন করেন, যাতে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত হয়। তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন, বাজার পরিদর্শক কর্মকর্তা নিয়োগ করেন।
হযরত আলি (রা.) ছিলেন রাসুল (স.)-এর চাচাতো ভাই তিনি ৬০০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবু তালিব, মাতার নাম ফাতিমা বিনতে আসাদ। তিনি ছোটদের মধ্যে প্রথম মুসলমান। তিনি ১০ বছর বয়সে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন।
হযরত আলি (রা.) ছিলেন একজন অসাধারণ বীরযোদ্ধা। তাঁর বীরত্বের কারণে বদরের যুদ্ধে 'জুলফিকার' নামক তরবারি উপহার পান।
হযরত আলি (রা.) কে 'আসাদুল্লাহ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। খায়বার যুদ্ধে 'কামুস' দুর্গ বিজয়ের পর রাসুল (স.) তাঁকে 'আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ) উপাধি দেন'।
জ্ঞান সাধক হযরত আলি (রা.) ছিলেন জ্ঞান পিপাসুদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আরবি ভাষার ব্যাকরণ রচনায় তাঁর প্রধান ভূমিকা ছিল। তাঁর জ্ঞানের ব্যাপারে মহানবি (স.) বলেছেন, "আমি জ্ঞানের শহর, আর আলি (রা.) তার দরজা।" (মুস্তাদরাক হাকিম)। হযরত আলি (রা.)-এর রচিত 'দেওয়ানে আলি' (আলির কাবা সংকলন) আরবি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তিনি তাঁর শাসনামলে মসজিদে জ্ঞানচর্চার ব্যবস্থা করেন।
হযরত আলি (রা:) ছিলেন সহজ-সরল ও আত্মত্যাগের সুমহান আদর্শ। ছোটকাল থেকেই তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। নিজের খাদ্য নিজেই যোগাড় করতেন। কখনো কখনো অনাহারে থাকতেন। তিনি নিজের কাজ নিজেই করতেন। জীর্ণ কুঠিতে বসবাস করতেন। ধনী-দরিদ্র সকলের সাথে মিলেমিশে চলতেন।
হযরত ফাতিমা ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কনিষ্ঠ কন্যা। তাঁর মাতা ছিলেন হযরত খাদিজাতুল কুরবা (রা.)। তিনি নবুয়তের ৫ বছর পূর্বে ৬০৫ খ্রিস্টাব্দে মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল থেকে তিনি ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও সৎ চরিত্রের অধিকারিনী।
হযরত ফাতিমা (রা.) দানের ব্যাপারে ছিলেন খুবই উদার। বর্ণিত আছে, একদা তিনি খাবারের লোকমা মুখে তুলছিলেন, এমন সময় একজন ভিক্ষুক এসে বলল, 'হে নবি কন্যা! আমাকে ভিক্ষা দিন। গত তিন দিন যাবৎ আমি অনাহারে আছি।' তিনি তাঁর খাবারটুকু ভিক্ষুককে দিতে পুত্রে হাসানকে নির্দেশ দিলেন। এতে হাসান (রা.) আপত্তি জানিয়ে বললেন, আম্মা! গতকাল হতে আপনি কিছুই খাননি। আপনি এ খাবার খেয়ে নিন। উত্তরে তিনি পুত্র হাসানকে বললেন, 'এটা ভুল হবে। আমি মাত্র একদিন অভুক্ত আছি, আর এ ফকির তিন দিন ধরে কোনো কিছু খায়নি।
হযরত ফাতিমা (রা.) হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সকল গুণই অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ লজ্জাশীল, পরোপকারিণী, ধের্যশীল ও আল্লাহর উপর অধিক আস্থাশীল। হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেন, 'ফাতিমা আমার দেহের এক অংশ, যে তাঁকে নারাজ করবে, সে আমাকে নারাজ করবে।' (বুখারি)
হযরত ফাতিমা (রা.)-এর গর্ভে ৫ জন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁরা হলেন হযরত হাসান (রা.), হযরত হোসাইন (রা.) হযরত মুহসিন (রা.) হযরত উম্মে কুলসুম (রা.) ও হযরত যয়নব (রা.)। হযরত মুহসিন (রা.) বাল্যকালে মৃত্যুবরণ করেন।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ইন্তেকালের পর হযরত ফাতিমা (রা.) ছয় মাস জীবিত ছিলেন। এগারো হিজরির তৃতীয় রমযান মঙ্গলবার তিনি ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৯ বছর। হযরত ফাতিমা (রা.) কে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।
হযরত ইসমাঈল (আ.) ছিলেন আল্লাহর নবি। তিনি হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর মাতার নাম হাজিরা (আ.)। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১৯১০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের সময় হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর বয়স ছিল ৮৫ বছর। তিনি কুরাইশ ও উত্তর আরবের 'আদনান' বংশের আদি পিতা।
আল্লাহ তায়ালা হযরত ইবরাহিম (আ.)-কে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভারে পরীক্ষা করেন। প্রিয় পুত্র হযরত ইবরাহিম (আ.)-কে কুরবানি করার নির্দেশ ছিল একটি পরীক্ষা। সেই অনুযায়ী হযরত ইবরাহিম (আ.) ইসমাঈল (আ.)-কে কুরবানি করার উদ্দেশ্যে 'মিনার' পথে রওনা হলেন। পথিমধ্যে শয়তান ইসমাঈল (আ.)-কে বারবার প্রতারিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে তিনি বিন্দুমাত্র প্রভাবিত না হয়ে নির্বিঘ্নে মিনায় পৌঁছেন। হযরত ইবরাহিম (আ.) প্রাণপ্রিয় পুত্রকে কুরবানি করার জন্য উদ্যত হলেন। এমন সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে ইবরাহিম (আ.) আওয়াজ শুনতে পেলেন- 'হে ইবরাহিম' তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ- এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।" অলৌকিকভাবে পুত্র ইসমাঈল (আ.)-এর স্থলে একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে গেল আর ইসমাঈল (আ.) দুম্বার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এ ধারাবাহিকতায় আজকে আমাদের এ পশু কুরবানি। কুরবানি করা ওয়াজিব।
হযরত ইসমাঈল (আ.) ছিলেন ধৈর্যশীল ও পিতাভক্ত। বর্ণিত আছে যে, তিনি জনৈক ব্যক্তির সাথে অঙ্গীকার করেছেন; অমুক স্থানে তার জন্য অপেক্ষা করবেন, লোকটি কথা অনুযায়ী সে স্থানে না আসলেও তিনি তার জন্য তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকেন এবং তৃতীয় দিন তার সাথে সেখানে দেখা হয়। (ইবন্ কাছির)। নিজের ওয়াদা রক্ষার জন্য তিন দিন পর্যন্ত কষ্ট করে অপেক্ষা করেছিলেন বলে হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে আল্লাহ ছাদেকুল ওয়াদা বা অঙ্গীকার পালনকারী উপাধি দিয়েছিলেন।
হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন আল্লাহর নবি। তাঁর পিতার নাম হযরত ইয়াকুব (আ.) আর মাতার নাম রাহিলা বিনতে লাবন। তিনি হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর একাদশতম পুত্র। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ১৯২৭-১৮১৭ মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কেনানের অধিবাসী। শারীরিক গঠনে অপূর্ব সৌন্দর্যের অধিকারী তার ব্যবহারে বিনয়ী ও উত্তম চরিত্র গুণে গুণান্বিত।
মহানবি (স.)-এর জীবন পর্যালোচনা করলে আমরা তাঁর মাঝে দেশপ্রেমের অনুপম দৃষ্টান্ত দেখতে পাই।
আমরা জানি, মক্কায় কাফিররা যতই নির্যাতন করল হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁদের সব নির্যাতন সহ্য করলেন। তিনি তাঁর সাথীদের বিভিন্ন দেশে হিজরত করালেও প্রিয় জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে নিজে কোথাও যাননি। অবশেষে আল্লাহর পক্ষ থেকে হিজরতের আদেশ আসল। হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর আদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন এবং জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে মদিনায় চলে গেলেন। তিনি জন্মভূমি ছেড়ে যাওয়ার সময় মক্কাকে লক্ষ করে বললেন, "আল্লাহর কসম! তুমি আল্লাহর সর্বোত্তম ভূখন্ড এবং আল্লাহর দৃষ্টিতে সর্বাপেক্ষা প্রিয়ভূমি। আমাকে এখান থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া না হলে আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।” (তিরমিযি)
হিজরতের পর হযরত মুহাম্মদ (স.) মদিনায় একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কতকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এগুলোর মধ্যে মদিনার সনদ উল্লেখযোগ্য। এতে তিনি ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রীয় বিভেদ নিরসন করে পারস্পরিক শান্তি, সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে কতিপয় নীতিমালা তৈরি করেন। যা মদিনা সনদ নামে খ্যাত। তাই এটি পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান।
ইসলামের ইতিহাসে মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। এ সনদের ফলে মদিনার লোকজনের মাঝে সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ও কলহের অবসান হয়। তারা ঐক্যবদ্ধ হলো। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হলো এবং মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে এক উদার সম্প্রীতি স্থাপিত হলো। হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয়সহ ইসলাম প্রসারের কাজ আরও বেগবান হলো- নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গড়ে উঠল রাজনৈতিক ঐক্য এবং গোড়াপত্তন হলো একটি শান্তিময় ইসলামি রাষ্ট্রের।
হযরত মুহাম্মদ (স.) সুশাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপগুলো হলো-
১. আইনের কর্তৃত্ব এবং সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর প্রতিষ্ঠা করা।
২. ধর্ম, বর্ণ গোত্রভেদে সকল নাগরিকের প্রতি সুবিচার' করা।
৩. মুসলমানদের মধ্যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
৪. সরকারের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৫. মজলিসে শূরা বা পরামর্শ পরিষদ গঠন।
৬. ভালো কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করা ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখা ইত্যাদি। উপরোল্লিখিত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলো।
হযরত উসমান (রা.) ইসলামের চার খলিফার মধ্যে তৃতীয় খলিফা ছিলেন, বাল্যকাল থেকেই তিনি নম্র, ভদ্র, লজ্জাশীল ও বিনয়ী ছিলেন। তাঁর চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে রাসুল (স.) প্রথমে তাঁর কন্যা বুকাইয়াকে তাঁর নিকট বিবাহ দেন। রুকাইয়া মারা গেলে অতঃপর উম্মে কুলসুমকে তাঁর নিকট বিবাহ দেন। ফলে তাঁকে যুননুরাইন (দুই নূরের অধিকারী) বলা হতো।
হযরত উসমান (রা.) খলিফা নির্বাচিত হলে তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদনের পাশাপাশি পবিত্র কুরআন সংকলনে হাত দেন। মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তৃত হলে বিভিন্ন এলাকার লোকজন পবিত্র কুরআন বিভিন্নভাবে তিলাওয়াত করতে লাগলেন। ফলে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য দেখা দিল। তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। রাষ্ট্রীয় নির্দেশ জারি করে তখনকার সময়ের বিদ্যমান পরিত্র কুরআনের সকল কপি সংগ্রহ করলেন। তিনি হযরত হাফসা (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত পবিত্র কুরআনের মূল কপিটি সংগ্রহ করার মাধ্যমে কুরআন-সংকলনের কাজ সমাপ্ত করেন। অতঃপর মুসলিম জাহানের গভর্নরদের নিকট একটি করে কপি পাঠান। অবশিষ্ট সংগৃহীত কপিগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিলেন। পবিত্র কুরআনের মূল ভাষা অনুযায়ী সংরক্ষণ করার ফলে তাঁকে 'জামিউল কুরআন' (কুরআন সংকলন) বলা হয়।
হযরত আলি (রা.) রাসুল (স.)-এর চাচাতো ভাই। তিনি ৬০০ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করে। তাঁর পিতার নাম আবু তালিব, মাতার নাম ফাতিমা বিনতে আসাদ। তিনি ছোটদের মধ্যে প্রথম মুসলমান। তিনি ১০ বছর বয়সে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি 'আশারা-ই-মুবাশারার (জান্নাতে সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবি) এর একজন এবং ইসলামের চতুর্থ খলিফা ছিলেন।
হযরত ফাতিমা (রা.) হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সকল গুণই অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ, লজ্জাশীল, পরোপকারিণী, ধৈর্যশীল ও আল্লাহর ওপর অধিক আস্থাশীল। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, "আমি ফাতিমার তুলনায় স্পষ্টবাদী ও সত্যবাদী কাউকে দেখিনি। তবে তাঁর পিতার কথা স্বতন্ত্র"। হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেন, "ফাতিমা আমার দেহের এক অংশ, যে তাঁকে নারাজ করবে, সে আমাকে নারাজ করবে" (সহিহ বুখারি)। তিনি আরও বলেন, "ফাতিমা হলেন জান্নাতবাসী মহিলাদের নেত্রী।” (সহিহ বুখারি)
হযরত আলি (রা.) সহজ-সরল ও আত্মত্যাগের সুমহান আদর্শ। কারণ ছোটকাল থেকেই তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। নিজের খাদ্য তিনি নিজেই যোগাড় করতেন। কখনো কখনো অনাহারে থাকতেন। তিনি নিজের কাজ নিজেই করতেন। ধনী-দরিদ্র সকলের সাথে তিনি মিলেমিশে চলতেন। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পরও এসব গুণাবলি তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল।
হিজরতের পর হযরত মুহাম্মদ (স.) মদিনায় একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কতকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এগুলোর মধ্যে মদিনার সনদ উল্লেখযোগ্য। এতে তিনি ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রীয় বিভেদ নিরসন করে পারম্পরিক শান্তি-সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে কতিপয় নীতিমালা তৈরি করেন। যা মদিনা সনদ নামে খ্যাত। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান।
Related Question
View Allহযরত ইসমাঈল (আ.)-এর উপাধি ছিল 'ছাদেকুল ওয়াদ' অর্থাৎ অঙ্গীকার পালনকারী।
নবুয়তের প্রথমদিকে মহানবি (স.) প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করেন। তাঁর এ দাওয়াতে মক্কার কাফিরগণ ভীষণ ক্রুদ্ধ হলো এবং তাঁর ওপর নানারকম অত্যাচার-নির্যাতন চালাতে লাগল। অপরদিকে, মদিনাবাসীরা, মহানবি (স.)-কে মদিনায় গমনের দাওয়াত দেন এবং তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তাই মক্কার কাফিরদের সীমাহীন নির্যাতন এবং মদিনাবাসীদের আগ্রহ এবং সর্বোপরি আল্লাহ পাকের নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে মহানবি (স.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন।
উদ্দীপকের সমঝোতা চুক্তিটি মহানবি (স.)-এর 'হুদায়বিয়ার 'সন্ধি' চুক্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হিজরতের পর একসময় জন্মভূমিকে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও আল্লাহর ঘর যিয়ারত করার অদম্য ইচ্ছা হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মনে জাগ্রত হলো। অবশেষে ৬ষ্ঠ হিজরি মোতাবেক ৬২৮ খ্রিস্টাব্দের যিলকদ মাসে তিনি মক্কা অভিমুখে রওয়ানা দিলেন। তাঁর সাথে ছিল ১৪০০ নিরস্ত্র সাহাবি। তাঁদের কোনো সামরিক উদ্দেশ্য ছিল না। মুসলমানদের আগমনের সংবাদ মক্কার কাফিররা শুনে খুব ভীতসন্ত্রস্ত হলো। তারা মুসলমানদের প্রতিরোধ করার জন্য সদলবলে, অস্ত্রসহ অগ্রসর হলো। এক পর্যায়ে মক্কার কাফিরদের সাথে মহানবি (স.)-এর সাথে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠল। ঘটনার এক পর্যায়ে মুসলমান ও কাফিরদের মাঝে চুক্তি হলো। এ চুক্তি 'হুদায়বিয়ার সন্ধি' নামে পরিচিত। হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তির ফলে মুসলমান ও কাফিরদের মধ্যে একটি অবশ্যম্ভাবী যুদ্ধের অবসান হয়। এ সন্ধি চুক্তিকে মুসলমানদের জন্য একটি প্রত্যক্ষ বিজয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সেলিম মিয়ার শেষ উক্তিটি ছিল, "মহানবি (স.)-এর জীবনী অনুসরণ করেই আমরা শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারি।" - উক্তিটি অত্যন্ত মূল্যবান, যুক্তিসঙ্গত ও যথার্থ বলে আমি মনে করি।
মহানবি (স.) ছিলেন অত্যন্ত মহৎ, দয়ালু, মানবপ্রেম ও পরমতসহিষ্ণু গুণের অধিকারী। তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার করতেন। আত্মীয়, অনাত্মীয়, পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে তিনি ভালোবাসতেন, সবার প্রতি দয়া করতেন। হিজরতের পর হযরত মুহাম্মদ (স.) মদিনায় ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রীয় বিভেদ নিরসন করে পারস্পরিক শান্তি-সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কতকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যার মধ্যে মদিনা সনদ উল্লেখযোগ্য। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান। মদিনা সনদের ফলে মদিনার লোকজনের মাঝে সকল হিংসা-বিদ্বেষ ও কলহের অবসান হলো। তারা ঐক্যবদ্ধ হলো। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা হলো। মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে এক উদার সম্প্রীতি স্থাপিত হলো। এছাড়া হুদায়বিয়ার সন্ধি ছিল, মহানবি (স.)-এর দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা ও 'বুদ্ধিমত্তার এক অনন্য পদক্ষেপ। এ সন্ধির ফলে পরবর্তীতে বিনা বাধায় মক্কা বিজয়সহ মুসলমানদের অনেক অগ্রগতি হয়েছিল।
তাই আমি মনে করি, মদিনা সনদ ও হুদায়বিয়ার সন্ধি হতে শিক্ষা গ্রহণ ও মহানবি (স.)-এর জীবনী অনুসরণ করেই আমরা শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারি।
হযরত ফাতিমা (রা.) যাহরা ও বাতুল উপাধিতে ভূষিত ছিলেন।
হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও উত্তম চরিত্র গুণে গুণান্বিত। মানবিক কারণেই তিনি তাঁর ভাইদের ক্ষমা করে দেন। মিসরে একবার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে অভাবের তাড়নায় তাঁর ভ্রাতারা তিনবার খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য রাজদরবারে আসে। মানবিক কারণে হযরত ইউসুফ (আ.) প্রত্যেক বারই তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেন। তখন ভ্রাতাগণ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে হযরত ইউসুফ (আ.)-এর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। তিনি এ বলে তাদের ক্ষমা করে দিলেন যে, "আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন এবং তিনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু।" (সূরা ইউসুফ: ৯২)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!