বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সংস্থা গড়ে উঠেছে কারণ স্বাধীন দেশগুলোর পক্ষে একা চলা সম্ভব হয় না। এর জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব, যা বিশ্বশান্তি ও এসব দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তাই বিশ্বের বিভিন্নস্থানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সংস্থা গড়ে উঠেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা শুনে আজও আমরা আতংকে কেঁপে উঠি। এই যুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখে বিশ্ববাসী শঙ্কিত ও হতবাক হয়ে যায়। তাদের মনে বিভিন্ন দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা দানা বাঁধে। মানুষ অনুভব করে মানব কল্যাণের জন্য যুদ্ধকে পরিহার করতে হবে। ফলে ১৯৪১ সাল থেকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হাতে নেয়। এভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
জাতিসংঘের দুটি উদ্দেশ্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. শান্তির প্রতি হুমকি ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করে বিশ্বশান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. সকল মানুষের সমান অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
জাতিসংঘের মোট ৬টি শাখা আছে। । এগুলো হলো-
১. সাধারণ পরিষদ;
২. নিরাপত্তা পরিষদ;
৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ;
৪. অছি পরিষদ;
৫. আন্তর্জাতিক আদালত ও
৬. জাতিসংঘ সচিবালয়।
সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের আইনসভার মতো। জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র সাধারণ পরিষদের সদস্য। সাধারণত বছরে একবার এ পরিষদের অধিবেশন বসে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের অনুরোধে বিশেষ অধিবেশন বসতে পারে। প্রত্যেক অধিবেশনের শুরুতে সদস্যদের ভোটে পরিষদের একজন সভাপতি নির্বাচিত হন। সাধারণ পরিষদে প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের একটিমাত্র ভোটদানের অধিকার আছে।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতা রক্ষায় এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাসহ মানবাধিকারসংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করে। এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব নিয়োগ, নতুন সদস্য গ্রহণ, বাজেট পাস, 'সদস্য রাষ্ট্রের চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ, বিভিন্ন সংস্থার সদস্য নির্বাচন, নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এ পরিষদ সম্পাদন করে থাকে।
নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসংঘের শাসনবিভাগ স্বরূপ। নিরাপত্তা পরিষদ মোট ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য। বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য। স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলো-যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন। এরা বৃহৎ পঞ্চশক্তি নামে পরিচিত। অস্থায়ী সদস্যরা প্রতি দুবছরের জন্য নির্বাচিত হয়।
জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র পাঁচটি যথা- যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন। এই বহৃৎ পাঁচটি রাষ্ট্র পঞ্চশক্তি নামে পরিচিত। এ রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘের যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভেটো দিতে পারে।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। এ পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখে। তাছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কোথাও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে পারে।
জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী শাখা হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। এ পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে। তাছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। মোট কথা আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ এ সংস্থাটি করে থাকে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ মোট ৫৪টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। বছরে কমপক্ষে তিনবার এর অধিবেশন হয়। প্রত্যেক সদস্যের একটি করে ভোটদানের অধিকার আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে যেকোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, বেকার সমস্যার সমাধান, খাদ্য, কৃষি ও শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, মৌলিক মানবাধিকার কার্যকর করা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কল্যাণমূলক কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিষয়ে সাধারণ পরিষদে সুপারিশ প্রেরণ করা এ পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব।
অছি এলাকার ওপর শাসন ক্ষমতার অধিকারী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত। এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অছি এলাকার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এর সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
অছি পরিষদের মাধ্যমে জাতিসংঘ বিশ্বের অনুন্নত অঞ্চলের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেয়। অছিভুক্ত অঞ্চলের উন্নতি এবং এলাকার অধিবাসীদের শিক্ষা প্রদান ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই হচ্ছে অছি পরিষদের দায়িত্ব। এছাড়া অছি এলাকা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব অবস্থা দেখা ও প্রতিবেদন পেশ করা অছি পরিষদের কাজ।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করা হয়েছে। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের দি হেগ শহরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক আদালত জাতিসংঘের বিচারালয়। পনের জন (১৫) বিচারক নিয়ে এ আদালত গঠিত। বিচারকদের কার্যকাল নয় বছর। সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদ মিলে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের নিয়োগ করে।
বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। জাতিসংঘের যেকোনো সদস্যরাষ্ট্র অন্যকোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিরোধ মীমাংসার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার প্রার্থনা করতে পারে। আদালত তার বিচারকার্য দিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষা করে। এজন্যই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জাতিসংঘের যেকোনো সদস্য রাষ্ট্র অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিরোধ মীমাংসার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার প্রার্থনা করতে পারে। আদালত তার বিচারকার্য দ্বারা বিশ্বশান্তি রক্ষা করে। এছাড়া সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদ কোনো আইনের ব্যাখ্যা চাইলে আন্তর্জাতিক আদালত তার ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান পাঁচটি উদ্দেশ্য নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের ছয়টি শাখা এর কার্যক্রম পরিচালনা করে। যেমন- ১. সাধারণ পরিষদ, ২. নিরাপত্তা পরিষদ, ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, ৪. অছি পরিষদ, ৫. আন্তর্জাতিক আদালত ও ৬. জাতিসংঘ সচিবালয়। নিরাপত্তা পরিষদ সবচেয়ে শক্তিশালী বিভাগ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হচ্ছে আইনসভাস্বরূপ। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৯৩। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। বর্তমান মহাসচিবের নাম আন্তনিও গুতেরেস।
সচিবালয় জাতিসংঘের প্রশাসনিক বিভাগ। বিশ্বশান্তি, সহযোগিতা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ এ শাখার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব, কয়েকজন উপমহাসচিব, অধস্তন মহাসচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে এ বিভাগ গঠিত। এর । এর প্রধান কর্মকর্তা হলেন মহাসচিব। সাধারণ পরিষদ কর্তৃক তিনি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
সচিবালয় জাতিসংঘের প্রশাসনিক বিভাগ। এ সচিবালয়ের' মহাসচিবকে কেন্দ্র করে এর যাবতীয় কাজ আবর্তিত হয়ে থাকে। জাতিসংঘের সকল শাখার অধিবেশন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব মহাসচিব পালন করে। মহাসচিবের নেতৃত্বে সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে সচিবালয়। এই বিভাগ সকল বিভাগে লোক নিয়োগ করে থাকে। মহাসচিব জাতিসংঘের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি শরণার্থীকে জাতিসংঘ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি মানবিক সাহায্য দিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনেও জাতিসংঘ সাহায্য-সহযোগিতা করেছিল।
জাতিসংঘের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাগুলো বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি, যোগাযোগ, শিশু মৃত্যু হ্রাস, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রগতি অর্জনে যথেষ্ট সাহায্য করছে। জাতিসংঘ আমাদের 'ভাষা ও শহীদ দিবস' ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বাংলা ভাষাকে সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে উন্নীত করেছে। জাতিসংঘের এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।
জাতিসংঘ বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। ১৯৯১ সালে মিয়ানমার হতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জাঁতিসংঘ ও এর বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশকে বিপুলভাবে সাহায্য করায় বাংলাদেশ সে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।
দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ ছিল যা নিয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের এক রায়ে এ বিরোধের নিষ্পত্তি হয় এবং এক বিশাল সমুদ্রসীমার ওপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদ লাভ করে, যা দেশের বিরল সম্মান। বাংলাদেশ জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল থেকে বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছে। জাতিসংঘে সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করে বিশ্বশান্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ জাতিসংঘ শাস্তিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম সদস্য দেশ। সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ নামিবিয়া (UNITAG) এবং ইরাক-ইরান (UNIMOG) দুটি শান্তিরক্ষার অপারেশনে অংশগ্রহণের জন্য সেনাসদস্য প্রেরণ করে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সেনাসদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করে আছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান খুবই গৌরবের। এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কমান্ডার হিসেবেও ঊর্ধ্বতন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এটি যা দেশের মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি করেছে। বিবিসি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষাকারীদের 'The Cream of UN Peacekeepers' বলে আখ্যায়িত করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের এ অবদান আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
ব্রিটেন ও এর শাসন থেকে স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর এর মধ্যে মধ্যে সম্পর্কের সম্পর্কের বন্ধন ধরে রাখার জন্য যে আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে তাকে কমনওয়েলথ বলে। কমনওয়েলথ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ৭.১৯৪৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটেনের রাজা বা রানি কমনওয়েলথের প্রধান। এর সদর দপ্তর লন্ডনে অবস্থিত।
কমনওয়েলথ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। ১৯৪৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর ব্রিটেন শাসন থেকে মুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন ধরে রাখার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে কমনওয়েলথ। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৫৪। ব্রিটেনের রাজা বা রানি কমনওয়েলথ প্রধান।
কমনওয়েলথের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্রিটেন ও এর স্বাধীন উপনিবেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সম্পর্ক রক্ষা। এই সম্পর্ক ধরে রাখার মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন-এবং দেশগুলোর পরস্পরের মধ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানে সহায়তা করার মাধ্যমে দেশগুলোর অগ্রগতি সাধন করাই হচ্ছে এর উদ্দেশ্য।
কমনওয়েলথের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্রিটেন ও তার স্বাধীন উপনিবেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সম্পর্ক রক্ষা। এ সম্পর্ক ধরে রাখার মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন তাছাড়া সদস্য দেশগুলোর পরস্পরের মধ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানে সহায়তা করার মাধ্যমে দেশগুলোর অগ্রগতি "সাধন করাই হচ্ছে কমনওয়েলথের প্রধান উদ্দেশ্য।
ব্রিটেন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারকার্য পরিচালনা করার প্রধান কেন্দ্র। সেখানে গঠন করা হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য সাহায্য তহবিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কমনওয়েলথভুক্ত অন্যান্য দেশও বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছিল। কমনওয়েলথভুক্ত অমিাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি লোককে আশ্রয় ও খাদ্য দিয়েছে। অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র ঔষধ, খাদ্য, বস্ত্র-ইত্যাদি দিয়ে বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে।
কমনওয়েলথের দুটি কাজ নিম্নরূপ-
১. এটি বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
২ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিশ্ব থেকে বর্ণ বৈষম্য ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করছে।
কমনওয়েলথ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে এটি বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কমনওলেথভুক্ত দেশগুলোর কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিশ্ব থেকে বর্ণবৈষম্য ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করছে।
১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট ইসরাইল যখন মুসলমানদের পবিত্র ভূমি জেরুজালেমের মসজিদ আল আকসায় অগ্নিসংযোগ করে, তখন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ক্ষোভ ও নিন্দা জ্ঞাপন করে। এরই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ২৪টি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে একটি শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়ে OIC-এর খসড়া একটি সনদ অনুমোদন করেন। এভাবেই OIC যাত্রা শুরু হয়।
১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২২ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত ২৪টি মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে মরোক্কোর রাজধানী রাবাতে এক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থরক্ষায় একটি সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং ২৫শে সেপ্টেম্বর তারিখে ওআইসি গঠিত হয়। বর্তমান ওআইসির সদস্যসংখ্যা ৫৭।
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার দুটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিম্নরূপ-
১. ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি জোরদার করা;
২. সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
ওআইসির সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শুরু থেকে বাংলাদেশ ওআইসির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসছে। যেমন- ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অব্যাহত সমর্থন জানিয়ে আসছে। ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আফগানিস্তানে রাশিয়ার আগ্রাসনকে নিন্দা জানিয়েছে। বসনিয়ায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য সৈন্য পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ ওআইসিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা লাভেও সমর্থ হয়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে তেল সমৃদ্ধ মুসলিম দেশগুলোর সহয়োগিতা পেয়েছে। এছাড়া তেল সমৃদ্ধ মুসলিম দেশে জনশক্তি রপ্তানির সুয়োগ দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা লাভ করে আসছে। প্রতিবছর বাংলাদেশের বহুসংখ্যক লোক পবিত্র হজ্জব্রত পালনের জন্য সৌদি আরব যায়। তাছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং পুরাতন মসজিদ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ ওআইসির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পায়। গাজীপুরে অবস্থিত 'ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি' ওআইসির আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে।
সার্কের পুরো নাম দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা শুরুতে এটি দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয়। পরবর্তীকালে ২০০৭ সালে আফগানিস্তান সার্কের ৮ম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি সাধনের লক্ষ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সার্ক একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন সংস্থা।
১৯৮৫ সালের ৮ই ডিসেম্বরে ঢাকায় সার্কের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা আটটি। । সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভুটান, , মালদ্বীপ, মালদ্বীপ, নেপাল, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান।
সার্কের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পাঁচটি স্তর আছে। এগুলো হলো- ১. রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন, ২. পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন, ৩. স্ট্যান্ডিং কমিটি, ৪. টেকনিক্যাল কমিটি এবং ৫. সার্ক সচিবালয়। এগুলোর মাধ্যমে সার্কের বিভিন্ন কর্মকান্ড সম্পাদন করা হয়ে থাকে।
দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অপুষ্টি, জনসংখ্যার আধিক্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি এসব দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সমস্যা দূরীকরণ ও পারস্পরিক উন্নয়নের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সার্ক গঠিত হয়।
সার্কের দুটি উদ্দেশ্য নিম্নরূপ-
১. সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা ও
২. এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং সংস্কৃতির বিকাশ নিশ্চিত করা।
আশির দশকে সার্ক গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও মূলত ১৯৮৫ সালে ঢাকা সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ক যাত্রা শুরু করে। সার্কের উদ্যোক্তা হিসাবে বাংলাদেশ সার্কের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ যেহেতু সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল এবং এদেশেই কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এটি কার্যকর হয়েছিল তাই সার্ক প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য।
সার্কের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিবিড়। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসায় বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও ভারসাম্য রক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সদস্য দেশগুলোর মানবপাচাররোধ, সন্ত্রাস দমন, পরিবেশ সংরক্ষণ ইত্যাদি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
সার্কের উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশ সার্কের বিভিন্ন কর্মকান্ডে বলিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সার্কের সদস্য হিসেবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসায়বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও ভারসাম্য রক্ষা, আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সংকট সমাধানে বাংলাদেশ অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পৃথিবী ৭টি মহাদেশে বিভক্ত ।
মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে পৃথিবীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার সময়কাল ১৯১৪-১৯১৮ সাল ।
দুটি বিশ্বযুদ্ধ মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় বিরাট বাধা ছিল ।
জাতিপুঞ্জ / লিগ অব নেশনস গঠিত হয় ১৯২০ সালে ।
জাতিসংঘের পূর্ববর্তী বিশ্ব সংস্থার নাম লিগ অব নেশনস ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয় ১৯৩৯ সালে ।
আণবিক বোমার আঘাতে জাপানের দুটি শহর বিধ্বস্ত হয় ।
জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ।
যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ।
শুরুতে জাতিসংঘের সদস্যসংখ্যা ৫১ ছিল ।
বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যসংখ্যা ১৯৩ ।
জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিবের নাম ট্রিগভেলি ।
জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব নরওয়ের দেশের অধিবাসী ছিলেন ।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম আন্তনিও গুতেরেস ।
আন্তনিও গুতেরেস পর্তুগালের দেশের নাগরিক ।
জাতিসংঘের পতাকাটি হালকা নীল রঙের ।
সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের আইনসভার মতো ।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সাধারণত বছরে একবার অধিবেশনে বসে ।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতা রক্ষার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদটি অধিক উপযোগী ।
মহাসচিব নিয়োগ, বাজেট পাস, নতুন সদস্য গ্রহণ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের শাখার কাজ ।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য সংখ্যা ৫টি ।
পাঁচটি স্থায়ী সদস্য এবং দশটি অস্থায়ী সদস্য নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত ।
বাংলাদেশ ২ বার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে ।
নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয় ।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্থা ।
নিরাপত্তা পরিষদ আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে ।
আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্থা।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদটি বলপ্রয়োগের ক্ষমতা রাখে ।
পৃথিবীতে শান্তিরক্ষা, হানাহানি বন্ধ ও নানা জটিল বিষয়ের মীমাংসা করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ।
বিশ্বের উন্নয়নে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
জাতিসংঘর অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ মোট ৫৪টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত ।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে ।
অছি পরিষদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই ।
জাতিসংঘের অছি পরিষদের সদস্যের কোনো সুনির্দিস্ট সংখ্যা নেই ।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষটি অনুন্নত অঞ্চলের তত্ত্বাবধান করেন ।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত বিভিন্ন দেশের বিরোধ নিষ্পত্তি করে ।
আন্তর্জাতিক আদালতের সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে ।
আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক ১৫ জন ।
আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকের কার্যকাল ৯ বছর ।
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে ।
জাতিসংঘের ইউনেস্কো সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃক্তি পায় ।
মিয়ানমার হতে ১৯৯১ সালে লাখ লাখ শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করে ।
দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল ।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমার মীমাংসা করে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত ।
২০১২ সালে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় ।
২০১২ সাল থেকে নতুন এক বিশাল সমুদ্রসীমার উপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় ।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর অন্যতম সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দেশটি অধিক উপযোগী ।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশ প্রথম অংশগ্রহণ করে ১৯৮৮ সালে ।
বাংলাদেশ প্রথম শান্তি মিশনে সেনা পাঠায় ১৯৮৮ সালে ।
২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪০টি দেশে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষাকারী মিশনে অংশগ্রহণ করেছে ।
বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ১.৪৬ লক্ষ সেনাসদস্য পাঠিয়েছে ।
২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭১০ জন নারী পুলিশ সদস্য মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন ।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুনাম অর্জন করেছে ।
বিবিসি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদেরকে "The Cream of UN Peacekeepers" বলে আখ্যায়িত করেছেন ।
কমনওয়েলথ এর বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৫৪টি ।
কমনওয়েলথ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ।
কমনওয়েলথের প্রধান ব্রিটেনের রাজা বা রানী ।
কমনওয়েলথ পরিচালনার জন্য নিজস্ব সচিবালয় আছে ।
কমনওয়েলথ-এর সদর দপ্তর লন্ডন/যুক্তরাজ্য অবস্থিত ।
প্রতি দুই বছর পরপর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ।
ব্রিটিশ উপনিবেশের স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক রক্ষা করা কমনওয়েলথের সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য ।
বাংলাদেশ প্রথম কমনওয়েলথ আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে ।
বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল ।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বন্ধুত্ব রক্ষা কমনওয়েলথের সংস্থার উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ ।
কমনওয়েলথ অরাজনৈতিক ধরনের প্রতিষ্ঠান ।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংগঠন ওআইসি ।
বিশ্বের মুসলিম প্রধান দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সংগঠন নিচের ওআইসি
OIC-এর পূর্ণরূপ Organization of Islamic Co-operation
ইসরাইল আল আকসায় অগ্নিসংযোগ করে ২১ আগস্ট ১৯৬৯ ।
ওআইসি ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে গঠিত হয় ।
টেংকু আব্দুর রহমান প্রথম মহাসচিব হন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার ।
ওআইসি-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরাষ্ট্র ২৩ ।
বর্তমানে ওআইসির সদস্য সংখ্যা ৫৭ ।
বিশ্বের সব মুসলিম রাষ্ট্র ওআইসি সংগঠনের সদস্য ।
ওআইসি'র সদর দপ্তর বা সেক্রেটারিয়েট দপ্তর জেদ্দায় অবস্থিত ।
বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭৪ সালে ।
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানটি ওআইসির আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে ।
সার্ক আঞ্চলিক উন্নয়ন সংস্থা ।
SAARC-এর পুরো নাম South Asian Association for Regional Co-operation
সার্কের সর্বশেষ সদস্যরাষ্ট্র আফগানিস্তান ।
সার্কের সচিবালয় কাঠমান্ডু অবস্থিত ।
সার্কের সচিবালয়ের প্রধানকে সেক্রেটারি জেনারেল বলা হয় ।
১৭৫ কোটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক সার্ক ।
পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সদস্য রাষ্ট্রের অগ্রগতি সাধনের জন্য সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।
সার্কের সাথে বাংলাদেশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে ।
সার্কের প্রথম সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ।
সার্কের উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান লক্ষ্যে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক ধরনের সংস্থা।
মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে পৃথিবীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২০ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিপুঞ্জ।
১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যসংখ্যা ১৯৩।
জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।
জাতিসংঘের মহাসচিব হচ্ছেন প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব ছিলেন ট্রিগভেলি।
জাতিসংঘের মোট ছয়টি সংস্থা বা শাখা আছে।
জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র সাধারণ পরিষদের সদস্য।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পাঁচটি।
জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী শাখা হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ ৫৪টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয়।
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সভা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, তাকে অছি এলাকা বলে।
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, সেসব অছি এলাকার তত্ত্বাবধানের জন্য দায়িত্বরত জাতিসংঘের একটি শাখা হলো অছি পরিষদ।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত জাতিসংঘের অঙ্গ সগঠনকে আন্তর্জাতিক আদালত বলে।
হেগ শহর নেদারল্যান্ডে অবস্থিত।
আন্তর্জাতিক আদালত নেদারল্যান্ডের দি হেগ শহরে অবস্থিত।
১৫ জন বিচারক নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালত গঠিত।
জাতিসংঘের সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদ মিলে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের নিয়োগ প্রদান করে।
আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের কার্যকাল হলো ৯ বছর।
সচিবালয় জাতিসংঘের প্রশাসনিক বিভাগ।
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেন।
২০১২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বিশাল সমুদ্রসীমার ওপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
সদস্য দেশগুলো হচ্ছে জাতিসংঘের প্রধান শক্তি।
বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সেনা সদস্য প্রেরণ করে।
এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪০টি দেশে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষাকারী মিশনে অংশগ্রহণ করেছে।
২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭১০ নারী পুলিশ সদস্য মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন।
বাংলাদেশি শান্তি রক্ষাকারীদের "The Cream of UN Peacekeepers" বলে অভিহিত করা হয়।
"The Cream of UN Peacekeepers" হিসেবে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আখ্যায়িত করা হয়েছে।
কমনওয়েলথ হলো, ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন।
ব্রিটেন শাসন থেকে মুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন ধরে রাখার উদ্দেশ্য কমনওয়েলথগড়ে উঠে।
কমনওয়েলথের বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৫৪।
১৯৪৯ সালে কমনওয়েলথ প্রতিষ্ঠিত হয়।
কমনওয়েলথের পূর্বনাম ছিল 'ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অব নেশনস'।
কমনওয়েলথ প্রধান হলেন ব্রিটেনের রাজা বা রানি।
বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে।
কমনওয়েলথের মূল উদ্যোক্তা যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ।
ব্রিটেন বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের 'পক্ষে প্রচারকার্য পরিচালনা করার প্রধান কেন্দ্র ছিল।
কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কলম্বো পরিকল্পনার সদস্য।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হলো কমনওয়েলথ।
OIC-এর পূর্ণরূপ হলো Organization of Islamic Co-operation.
ওআইসিকে বাংলায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বলা হয়।
OIC ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।
১৯৬৯ সালের ২১শে আগস্ট ইসরাইল অতর্কিতে মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ আল আকসায় অগ্নিসংযোগ করে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী টেংকু আব্দুর রহমানকে ওআইসির প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
শুরুতে ওআইসির সদস্যসংখ্যা ছিল ২৩টি দেশ।
বর্তমানে ওআইসির সদস্য সংখ্যা ৫৩টি দেশ।
ওআইসির সদরদপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত।
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্যপদ পায়।
শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা লাভ করেছে।
গাজীপুরে অবস্থিত 'ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলোজি' শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ওআইসির আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে।
SAARC-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে South Asian Association for Regional Co-operation (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা)।
শুরুতে সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয়।
১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৮৫ সালে ঢাকা সম্মেলনের মাধ্যমে সার্ক আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে।
সার্কের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পাঁচটি স্তর আছে।
সার্কের সচিবালয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
সার্কের প্রধানকে 'সেক্রেটারি জেনারেল' বলা হয়।
প্রতিবছর সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রধানদের নিয়ে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় ১৭৫ কোটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
সার্কের প্রথম উদ্দেশ্যটি হলো সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।
আশির দশকে সার্ক গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
ঢাকা সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ক যাত্রা শুরু করে।
সার্কের উদ্যোক্তা বাংলাদেশ।
মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে দুটি বিশ্বযুদ্ধ পৃথিবীর অসংখ্য অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। এ দুটি বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বমানবতাকে নির্বাক করে দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর জাতিপুঞ্জ বা লীগ অব নেশনস ব্যর্থ হলেও শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ও প্রচেষ্টা দমে যায়নি। ফলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা পরবর্তী বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় জাতিসংঘের সৃষ্টি হয়।'
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২০ সালে লীগ অব নেশনস বা জাতিপুঞ্জ গঠিত হয়। কিন্তু বিভিন্ন দেশের স্বার্থের সংঘাতের কারণে এ সংস্থাটি স্থায়িত্ব লাভ করেনি। ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে এবং ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে পৃথিবীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। প্রথমটি ছিল ১৯১৪-১৯১৮ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়টি ১৯৩৫-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এসব যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। বিশ্বযুদ্ধ দুটি ছিল মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রার বিরাট বাধা। সেজন্য যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী চলছে শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা। তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২০ সালে গঠিত হয়েছিল জাতিপুঞ্জ বা লিগ অব নেশনস। কিন্তু বিভিন্ন দেশের সংঘাতের কারণে এ সংস্থাটি স্থায়িত্ব লাভ করতে পারেনি। ফলে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পৃথিবীকে গ্রাস করে।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের সৃষ্টি হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপকতা এবং ধ্বংসলীলা মানুষকে যুদ্ধের প্রতি ভীতসন্ত্রস্ত এবং শান্তির জন্য আগ্রহী করে তোলে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই গঠন করা হয় 'লীগ অব নেশন্স'। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটি সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অন্যান্য কারণে বিশ্বশান্তি বিধানে ব্যর্থ হয়। ১৯৩৯ সালে পুনরায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা পৃথিবীকে গ্রাস করে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সবচেয়ে কলঙ্কিত ও বিভীষিকাময় ছিল। এ দুটি যুদ্ধে মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ নিহত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘের সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের আইনসভার মতো। জাতিসংঘের সকল সদস্যরাষ্ট্র সাধারণ পরিষদের সদস্য। সাধারণত বছরে একবার এ পরিষদের অধিবেশন বসে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের অনুরোধে বিশেষ অধিবেশন বসতে পারে। প্রত্যেক অধিবেশনের শুরুতে সদস্যদের ভোটে পরিষদের একজন সভাপতি নির্বাচিত হন। সাধারণ পরিষদের প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের একটিমাত্র ভোটদানের অধিকার আছে।
বিশ্বশান্তি' ও সহযোগিতা রক্ষায় সাধারণ পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাসহ মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করে। তাছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব নিয়োগ, নতুন সদস্য গ্রহণ, বাজেট পাস, সদস্য রাষ্ট্রের চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ, বিভিন্ন সংস্থার সদস্য নির্বাচন, নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এ পরিষদ সম্পন্ন করে থাকে।
জাতিসংঘের অতীব প্রয়োজনীয় ও ক্ষমতাশালী শাখা হলো এর নিরাপ্তা পরিষদ। জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী শাখা হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘ যে প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অর্থাৎ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের ওপর অর্পিত। তাই এর গুরুত্ব সর্বাধিক। আবার আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করাসহ প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতাও রয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের, যা জাতিসংঘের অন্য কোনো শাখার এখতিয়ারে নেই। তাই, এটি সবচেয়ে চয়ে শক্তিশালী শাখা হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই। মানবাধিকার ছাড়া কোনো মানুষ পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে পারে না। মানবাধিকার হলো প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধার অধিকার। জাতিসংঘ মানবাধিকার এবং বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য বিভিন্ন দেশে প্রয়োজনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই বলা যায়, জাতিসংঘ বিশ্ব শান্তির জন্যই কাজ করে।
জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী শাখা হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘ যে প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অর্থাৎ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের ওপর অর্পিত। তাই এর গুরুত্ব সর্বাধিক। আবার আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করা সহ প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতাও রয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের, যা জাতিসংঘের অন্য কোনো শাখার এখতিয়ারে নেই। তাই, এটি সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এ পরিষদ গঠিত হয়েছে। বিশ্বের উন্নয়নে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিষদ রাষ্ট্রগুলোর মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, বেকার সমস্যার সমাধান, খাদ্য, কৃষি ও শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, মৌলিক মানবাধিকার কার্যকর করা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কল্যাণমূলক কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিষয়ে সাধারণ পরিষদে সুপারিশ প্রেরণ করা এ পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব।
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে। অছিভুক্ত অঞ্চলের উন্নতি এবং এলাকার অধিবাসীদের শিক্ষা প্রদান ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই হচ্ছে অছি পরিষদের দায়িত্ব। অতএব, যে জনপদের পৃথক সত্তা আছে তবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে।
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে। এসব অছিভুক্ত অঞ্চলের উন্নতি এবং এলাকার অধিবাসীদের শিক্ষা প্রদান ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ অছি পরিষদ গঠন করে। তবে বর্তমানে এ পরিষদের তেমন কোনো কার্যকারিতা নেই।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালত জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘের যেকোনো সদস্য রাষ্ট্র অন্যকোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিরোধ মীমাংসার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার প্রার্থনা করতে পারে। আদালত তার বিচারকার্য দিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষা করে। এ আদালতের সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত। ১৫ জন বিচারক নিয়ে এ আদালত গঠিত। বিচারকদের কার্যকাল ৯ বছর। সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদ মিলে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচত্রকদের নিয়োগ প্রদান করে।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালত জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘের যেকোনো সদস্য রাষ্ট্র অন্যকোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিরোধ মীমাংসার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার প্রার্থনা করতে পারে। আদালত তার বিচারকার্য দিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষা করে। এ আদালতের সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত। ১৫ জন বিচারক নিয়ে এ আদালত গঠিত। রিচারকদের কার্যকাল ৯ বছর। সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদ মিলে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের নিয়োগ করে।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক আদালতকে জাতিসংঘের বিচারালয় বলে। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের দি হেগ শহরে অবস্থিত। পনেরজন বিচারক নিয়ে এ আদালত গঠিত। বিচারকদের কার্যকাল নয় বছর। সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদ মিলে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের নিয়োগ করে।
আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আদালত ভূমিকা রাখে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মীমাংসার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করা হয়েছে। জাতিসংঘের যেকোনো সদস্য রাষ্ট্র অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিরোধ মীমাংসার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার প্রার্থনা করতে পারে। আদালত তার বিচারকার্য দ্বারা বিশ্বশান্তি রক্ষা করে। জাতিসংঘ সনদের অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয় নিয়ে মামলা হলে এবং জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলেও আন্তর্জাতিক আদালত তা মীমাংসা করে। এছাড়া সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদ কোনো আইনের ব্যাখ্যা চাইলে তা দিয়ে থাকে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান খুবই গৌরবের। বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম সদস্য। সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ নামিবিয়া এবং ইরাক-ইরান দুটি শান্তিরক্ষার অপারেশনে অংশগ্রহণের জন্য সেনাসদস্য প্রেরণ করে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সেনাসদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করে আছে। বাংলাদেশের এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে, বিবিসি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষাকারীদের 'The cream of UN peace keepers' বলে আখ্যায়িত করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ অবদান আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
একসময় প্রায় সারা বিশ্বে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশও সে সময় ব্রিটিশ শাসনের অধীন ছিল। ব্রিটিশরা সে সময় দোর্দান্ত প্রতাপে প্রায় সমগ্র পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে শাসিত অঞ্চলগুলোতে জাতীয়তাবাদী চেতনার সৃষ্টি হয় এবং সেসব অঞ্চল বা দেশ একের পর এক স্বাধীন হতে থাকে। তখন ব্রিটেন ও এর শাসন থেকে মুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন ধরে রাখার উদ্দেশ্যে কমনওয়েলথ গঠিত হয়। ব্রিটেনের রাজা বা রানি হলেন কমনওয়েলথের প্রধান।
ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন ধরে রাখার জন্য কমনওয়েলথ গড়ে ওঠে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ব্রিটেন ও এর স্বাধীন উপনিবেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সম্পর্ক রক্ষা করা। এ সম্পর্ক ধরে রাখার মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশগুলোর পরস্পরের মধ্যে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানে সহায়তা করার মাধ্যমে অগ্রগতি সাধন করা।
বিশ্বের মুসলিম প্রধান দেশগুলোর একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন হলো OIC যার পূর্ণরূপ Organization of Islamic Co-operation | মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিরোধ চলাকালীন সময়ে ১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট ইসরাইল অতর্কিতে মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ আল আকসায় অগ্নিসংযোগ করে। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এর তীব্র নিন্দা জানায় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ঐ বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে ২৪টি মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সম্মেলনে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থরক্ষায় একটি সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয় এবং ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর OIC গঠিত হয়। এভাবেই মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থরক্ষার্থে OIC-এর সৃষ্টি হয়।
১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট ইসরাইল অতর্কিতে মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ আল আকসায় অগ্নিসংযোগ করে। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এর তীব্র নিন্দা জানায় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ঐ বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে ২৪টি মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সম্মেলনে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থরক্ষায় একটি সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয় এবং ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর OIC গঠিত হয়। এভাবেই মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থরক্ষার্থে OIC-এর সৃষ্টি হয়।
বিশ্বের, সব মুসলমান রাষ্ট্র যে সংস্থার সদস্য তা হলো ওআইসি অর্থাৎ 'ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা।' এটি ইসলামি স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বহিঃশত্রুর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মুসলমানদের মর্যাদা রক্ষা এবং মুসলিম জাতির সংগ্রামকে জোরদার করার জন্য সাহায্য করে। এছাড়া কোনো সংঘর্ষ দেখা দিলে আলাপ-আলোচনা, মধ্যস্থতা, আপোস প্রভৃতির মাধ্যমে এর শান্তিপূর্ণ সমাধানে এ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৬৯ সালে OIC গঠিত হয়।. সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রেখে শত্রুর কবল থেকে ইসলামি স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বহিঃশত্রুর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা ওআইসির প্রাথমিক লক্ষ্য।
এছাড়াও ওআইসির কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে। এর মধ্যে দুটি উদ্দেশ্য নিচে দেওয়া হলো-
- ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি জোরদার করা।
- ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধান করা, পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করা।
১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সার্কের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সার্কের সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ৮টি। সার্কের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পাঁচটি স্তর রয়েছে। এগুলো হলো- ১. রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন, ২. পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন, ৩. স্ট্যান্ডিং কমিটি, ৪. টেকনিক্যাল কমিটি ও ৫. সার্ক সচিবালয়। এগুলোর মাধ্যমে সার্কের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা হয়ে থাকে।
সার্কের সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা আটটি। রাষ্ট্রগুলো হলো- ১. বাংলাদেশ, ২. ভুটান, ৩. মালদ্বীপ, ৪. নেপাল, ৫. ভারত, ৬.পাকিস্তান, ৭. শ্রীলঙ্কা ও ৮. আফগানিস্তান।
দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অপুষ্টি, জনসংখ্যার আধিক্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি এসব দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ সকল সমস্যা দূরীকরণ ও পারস্পরিক উন্নয়নের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সার্ক গঠিত হয়।
Related Question
View AllSAARC-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে "South Asian Association for Regional Cooperation" |
বিশ্বের যেসব জনপদের পৃথক সত্তা আছে কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নেই এবং অন্য রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় তাকে অছি এলাকা বলে। অছি এলাকার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতিসংঘের অছি পরিষদের। এ এলাকার উপর শাসন ক্ষমতার অধিকারী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত। এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অছি এলাকার সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এর সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' সাথে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
কেননা ওআইসি-এর প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল ২৩। ওআইসির কিছু উদ্দেশ্য আছে। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি জোরদার করা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, বর্ণবৈষম্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিলোপ করা, ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা বিধান, পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করা। এছাড়া মুসলিম জাতির মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সংগ্রামকে জোরদার করতে সাহায্য করা, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সৌহার্দ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি।
উদ্দীপকের হাসান সাহেবের 'শান্তি সংস্থার' মধ্যেও আমরা দেখতে পাই, এই সংস্থার প্রাথমিক সদস্য ২৩। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে সৎভাব বজায় রাখা এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই আমরা বলতে পারি, হাসান সাহেবের শান্তি সংস্থার সাথে ওআইসির উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।
হাকিম সাহেবের সংস্থার সাথে জাতিসংঘের অনেক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলো হলো- শান্তির প্রতি হুমকি ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করে বিশ্বশান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সুকল মানুষের সমান অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা; অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা; জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা; এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাহায্যে আন্তর্জাতিক বিবাদের মীমাংসা করা।
উদ্দীপকের হাকিম সাহেবের সংস্থা 'সূর্যনগর সমবায় সমিতি' এর উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলার উন্নয়নসহ পাঠাগার, খেলাধুলার ক্লাব গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্যগুলোর সাথে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের অনেক মিল রয়েছে।
জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ছয়টি।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের।
নিরাপত্তা পরিষদ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করে। আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। মোটকথা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল কাজ এ সংস্থাটি করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!