দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাতহীন অবস্থাকে খরা বলে।
যেসব উদ্ভিদের ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য দিনের দৈর্ঘ্য ১২ ঘণ্টার কম প্রয়োজন হয় তাদের স্বল্প দিবা উদ্ভিদ বলে।
বৃষ্টিপাত যখন বরফের বলের আকারে পাতিত হয় তখন তাকে শিলা বৃষ্টি বলে। শিলা বৃষ্টি ফসলের প্রচুর ক্ষতি সাধন করে। শিলার আঘাতে ফসলের পাতা, কচি ডাল, ফুল, ফল ভেঙে ঝরে পড়ে, থেঁতলে যায়। শিলা বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে ফসল মাটির সাথে মিশে যেতে পারে। আমাদের দেশে বোরো ধান, পাট, আম, কলা, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি ফসল শিলা বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।
স্বাভাবিকের তুলনায় যখন কোনো স্থানে বেশি বৃষ্টিপাত হয় তখন তাকে অতিবৃষ্টি বলে।
একটি ফসলের বীজ বপন থেকে শুরু করে তার শারীরিক বৃদ্ধি ও ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য যে সময় নেয় তাকে ঐ ফসলের মৌসুম বলে। অর্থাৎ কোনো ফসলের বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময়কে সে ফসলের মৌসুম বলে।
রবি মৌসুমে তাপমাত্রা কম থাকে, বৃষ্টিপাত কম হয় এবং বায়ুর আর্দ্রতা কম থাকে। এছাড়াও রবি মৌসুমে ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা কম থাকে। রবি ফসলে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম 'হয় এবং পানি সেচের প্রয়োজন হয়।
খরিপ-১ মৌসুমের ৩টি বৈশিষ্ট্য হল-
১. তাপমাত্রা বেশি থাকে।
২. দিনের দৈর্ঘ্য বেশ বড়।
৩. শিলা বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।
খরিপ-২ মৌসুমের ৫টি ফসলের নাম হলো-
১. আমন ধান,
২. চাল কুমড়া,
৩. ঢেঁড়স,
৪. ঝিঙ্গা ও
৫. আমড়া।
ফসলের বৃদ্ধি ও ফুল-ফল উৎপাদনে আবহাওয়ার উপাদানগুলোর প্রভাব লক্ষণীয়। এতদসত্ত্বেও যেসব ফসলের বৃদ্ধি ও ফুল-ফল উৎপাদনে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুর আর্দ্রতা, দিনের দৈর্ঘ্য 'ইত্যাদি আবহাওয়ার উপাদানগুলো দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়, কেবল সেসব ফসলেরই মৌসুমভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
মৌসুম নিরপেক্ষ ফসলগুলো সারা বছর চাষ করা যায়। কারণ এ ফসলগুলো-
১. কম থেকে বেশি তাপে জন্মাতে পারে।
২. কম বৃষ্টিপাত থেকে বেশি বৃষ্টিপাতে জন্মাতে পারে।
৩. আর্দ্রতা থেকে বেশি আর্দ্রতায় জন্মাতে পারে।
৪. দিনের দৈর্ঘ্য থেকে বেশি দিনের দৈর্ঘ্য ফুল-ফল উৎপাদন করতে পারে।
যেসব ফসল সারা বছর লাভজনকভাবে চাষ করা হয় তাদেরকে মৌসুম নিরপেক্ষ ফসল বা বারমাসি ফসল বলা হয়। কলা যেকোনো দৈর্ঘ্যের দিনে এসব ফসল ফুল-ফল উৎপাদন করতে পারে। এছাড়াও কলা কম তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাত থেকে বেশি তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতে জন্মাতে পারে। তাই কলাকে মৌসুম নিরপেক্ষ ফসল বলা হয়।
ফসলের প্রাথমিক বৃদ্ধি পর্যায়ে উচ্চ জলীয় বাষ্প সহায়ক। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে বাতাসে অধিক জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি ফসলে রোগজীবাণু ও পোকার বিস্তার ঘটাতে সাহায্য করে। এ কারণে ফসল চাষে অধিক জলীয় বাষ্প ক্ষতিকর।
স্বাভাবিকের তুলনায় যখন কোনো স্থানে বেশি বৃষ্টিপাত হয় তখন তাকে আমরা অতিবৃষ্টি বলি। অতি বৃষ্টির কারণে বর্ষাকালে শাকসবজির উৎপাদন ব্যাহত হয়। অতিবৃষ্টির কারণে শাকসবজির গাছ মাটিতে হেলে পড়ে পাতা, ফুল-ফল নষ্ট হয়ে যায়। অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় মাটিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। এ অবস্থায় উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সূর্যালোক অনেকভাবে ফসল উৎপাদনে প্রভাব বিস্তার করে। আমরা জানি উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সমন্বয়ে পাতায় খাদ্য তৈরি হয়। এছাড়াও অনেক ফসলে সূর্যালোকের অভাবে-ফুল ও ফল উৎপন্ন হয় না। তাই ফসল উৎপাদনের জন্য সূর্যালোক গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জলবায়ুর তিনটি বৈশিষ্ট্য হল-
১. পরিমিত বৃষ্টিপাত,
২. মধ্যম শীতকাল,
৩. আর্দ্র গ্রীষ্মকাল।
সব এলাকায় সব ফসল জন্মায় না। ফসল জন্মানো নির্ভর করে নির্দিষ্ট এলাকায় বিরাজমান পরিবেশের ওপর। আর কোনো এলাকায় কোন ধরনের ফসল জন্মাতে পারে তা সহজে জানার উপায় হল কৃষি পরিবেশভিত্তিক জ্ঞান। তাই এলাকাভিত্তিক কৃষি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক কৃষি পরিবেশ জানা দরকার।
Related Question
View Allফসলের মৌসুম বলতে কোনো ফসলের বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময়কে বোঝায়।
বেঁচে থাকার জন্য সকল উদ্ভিদে একটি সর্বনিম্ন, সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে, একে কার্ডিনাল তাপমাত্রা বলে। আলুর উৎপাদনের জন্য সর্বনিম্ন ০-৫° সে., সর্বোত্তম ২৫-৩১° সে. এবং সর্বোচ্চ সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। তাই আলুকে কার্ডিনাল তাপমাত্রার সবজি বলা হয়।
সাদিকের বাড়িটি কম বৃষ্টিপাত প্রবণ অঞ্চলে হলেও প্রচুর শাক-সবজি জন্মে। কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সাদিকের বাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-৩ ও ৪-এ অবস্থিত (রংপুর ও বগুড়ার অংশবিশেষ)।
এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হয়, কিন্তু গরম ও শীতের তীব্রতা খুব বেশি। রবি মৌসুমে শীতের প্রকোপ অন্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি থাকে। রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে বিভিন্ন ঠাণ্ডা সহিষ্ণু ফসল যেমন: টমেটো, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, - ওলকপি, ব্রোকলি, শালগম, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি চাষ করা হয়। খরিপ-১ মৌসুমে মাঝারি সেচের প্রয়োজন হয় এমন ফসল যেমন: করলা, ঝিঙ্গা, পেঁপে, পাট প্রভৃতি ভালো জন্মে। খরিপ-২ মৌসুমে 'সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না এমন ফসল যেমন: আমন ধান, ঢেঁড়স, কুমড়া, তুলা, ভুট্টা ইত্যাদি চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সাদিকের কৃষি অঞ্চলে বিভিন্ন মৌসুমে বৈচিত্র্যময় ফসল জন্মে
অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সাদিকের মামাবাড়ি চট্টগ্রামের টিলাতলাতে অবস্থিত, যা কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-২৩ এর অন্তর্ভুক্ত।
সাদিকের বাড়ির কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে শীত ও গরম উভয় ঋতুর তীব্রতা অনেক বেশি। ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। গ্রীষ্মকালে এখানে খরা হয়। এ অঞ্চলের আবহাওয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে বর্ষাকালেও তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। শীতকালে তুলনামূলকভাবে কুয়াশা বেশি থাকে। সাদিকের মামাবাড়ি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল একদিকে যেমন পাহাড়ের পাদদেশের অঞ্চল তেমনি এটি উপকূলীয় অঞ্চল। এখানকার আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে শীত ও গরমের তীব্রতা কম, কিন্তু বৃষ্টিপাত বেশি। ঝড়বৃষ্টিও খুব বেশি হয়। হঠাৎ করে আকাশ ঘনকালো মেঘে ঢেকে যায় ও ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে। শীতকালে কুয়াশা খুব কম থাকে।
অতএব বলা যায় যে, সাদিকের মামা বাড়ির আবহাওয়া ও তার বাড়ির আবহাওয়া ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
কখনো কখনো শীতকালে শিশিরপাত, কুয়াশা বেড়ে যায় ও বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকে। যা রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তখন ফসল খুব সহজে রোগে আক্রান্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
