পালি অঠকথা শব্দটি 'অট্ঠ' এবং 'কথা' দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। 'অট্ঠ' শব্দের দ্বারা 'অর্থ' এবং 'কথা' শব্দের দ্বারা কথা, বর্ণনা, ব্যাখ্যা প্রভৃতি নির্দেশ করে। অঠকথাকে সংস্কৃতে 'অর্থকথা' বা 'ভাষ্য', 'ইংরেজিতে' 'Commentary' বলা হয়। অতএব অঠকথা বলতে অর্থকথা, ভাষ্য, অর্থবাদ, অর্থ বর্ণনা, ব্যাখ্যা ইত্যাদিকে বোঝায়। সাধারণত যে গ্রন্থ শব্দের অর্থ বর্ণনা বা ব্যাখ্যা করে তাকে অট্টঠকথা বলে।
বুদ্ধের ধর্ম দর্শনের ব্যাখ্যামূলক পালি ভাষায় যে সাহিত্যকর্ম রচিত হয় তাকে অঠকথা বলে। অঠকথায় বুদ্ধের ধর্ম দর্শন, প্রাচীন ভারত ও শ্রীলঙ্কার ধর্ম-দর্শন, কাব্য, ব্যাকরণ, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়েও নানা শ্রেণির অষ্টকথা রচিত হয়। বিষয়বস্তুর গতি প্রকৃতি অনুযায়ী অঠকতার শ্রেণিবিভাগ করা যায়। সুত্ত পিটক পাঁচভাগে বিভক্ত। যথা: দীঘ নিকায়, মধ্যম নিকায়, সংযুক্ত নিকায়, অঙ্গুত্তর নিকায় এবং খুদ্দক নিকায়। প্রতিটি নিকারের স্বতন্ত্র অট্ঠকথা রচিত হয়েছে। সুমঙ্গলবিলাসিনী, পপঞ্চসূদনী, সারথপকাসনী, মনোরথপূরণী, পরমথদীপনী, সন্ধম্মপজ্জোতিকা প্রভৃতি সুক্ত পিটকের অঠকথা। বিনয় পিটকের বিষয়বস্তুকে ভিত্তি করে দু'টি অঠকথা রচিত হয়েছে, যথা- সমন্তপাসাদিকা এবং কঙ্খাবিতরণী। অভিধর্ম পিটকের সাতটি ভাগের প্রতিটি গ্রন্থের অটঠকথা রচিত হয়েছে। ধম্মসঙ্গণি এবং বিভঙ্গের অট্যকথা অথসালিনী ও সম্মোহবিনোদনী নামে পরিচিত। এ ছাড়া অভিধর্মপিটকের অন্যান্য পাঁচটি গ্রন্থের অটকথা পঞ্চপকরপটঠকথা নামে পরিচিত।
পত্রঃ নিকায়ের অঠকথা ও অঠকথা রচয়িতার নাম নিচে প্রদত্ত হলো-
মূল গ্রন্থ | অঠকথার নাম | লেখক |
১. দীঘ নিকায় | সুমঙ্গলবিলাসিনী | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
২. মধ্যম নিকায় | পপঞ্চসূদনী | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
৩. সংযুক্ত নিকায় | সারথপকাসনী | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
৪. অঙ্গুত্তর নিকায় | মনোরথপূরণী | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
৫. খুদ্দক নিকায় | পরমথদীপনী ও সদ্ধম্মপজোত্রিকা | আচার্য ধর্মপাল, উপসেন, বুদ্ধঘোষ, বুদ্ধদত্ত প্রমুখ |
অভিধর্ম পিটকের অঠকথাগুলোর নাম নিচে প্রদত্ত হলো-
মূলগ্রন্থ | অষ্টকথার নাম | লেখক |
ধম্মসঙ্গণি | অথসালিনী | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
বিভঙ্গ | সম্মোহবিনোদনী | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
ধাতুকথা | পঞ্চপকরণঠকথা (১) | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
পুগ্গল পঞঞত্তি | পঞ্চপকরণ্যকথা।(২) | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
কথাবন্ধু | পঞ্চপকরণঠকথা (৩) | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
যমক | পঞ্চপকরণটকথা (৪) | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
পট্ঠান | পঞ্চপকরণঠকথা (৫) | আচার্য বুদ্ধঘোষ |
বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনের প্রাতঃস্মরণীয় নাম আচার্য ধর্মপাল। তিনি দক্ষিণ ভারতের মাদ্রাজ হতে ৪৩ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত কাঞ্চিপুরায় (বর্তমান কঞ্জেবরণ শহর) মতান্তরে দক্ষিণ ভারতের তেনজোর জেলায় খ্রিষ্টীয় ৬ষ্ঠ শতকের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেন।
ত্রিপিটকের বিষয়বস্তুর সহজ-সরল ব্যাখ্যাস্বরূপ পালি ভাষায় এক শ্রেণির সাহিত্যকর্ম রচিত হয় যা পালি সাহিত্যের ইতিহাসে অটঠকথা নামে পরিচিত। ত্রিপিটকের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে রচিত হলেও অট্ঠকথা পাণি ত্রিপিটকের অন্তর্গত নয়, এটি একটি স্বতন্ত্র ধারার সাহিত্যকর্ম হিসেবে স্বীকৃত।
অটঠকথা সাহিত্যে বৃদ্ধের ধর্ম-দর্শন ব্যাখ্যার পাশাপাশি প্রসঙ্গক্রমে প্রাচীন ভারত এবং শ্রীলঙ্কার ধর্ম-দর্শন, সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল প্রভৃতি নানাবিধ বিষয়ও আলোচিত হয়। এজন্য অটঠকথা সাহিত্যকে প্রাচীন ভারত ও শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের অনন্য উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।
অট্ঠ' শব্দের দ্বারা 'অথ', 'কথা' শব্দের দ্বারা কথা, বর্ণনা, ব্যাখ্যা প্রভৃতি নির্দেশ করে। অঠকথাকে সংস্কৃতে 'অর্থকথা' বা 'ভাষ্য', ইংরেজিতে 'Commentary' বলা হয়।
সাধারণত যে গ্রন্থ শব্দের অর্থ বর্ণনা বা ব্যাখ্যা করে তাকে অঠকথা বলে। 'সারথদীপনী' নামক গ্রন্থে অটঠকথা প্রসফো এরূপ বলা হয়েছে যে, অথো কথিযতি এতাযতি অট্ঠকথা অর্থাৎ অর্থ বর্ণনা করে বলেই অটঠকথা।
ত্রিপিটকে অনেক জটিল, দুর্বোধ্য, দ্ব্যর্থক ও উহ্য পদ বা বিষয় রয়েছে যা সকল শ্রেণির পাঠকের নিকট সহজে বোধগম্য নয়। সেসব পদ বা বিষয়সমূহ সমার্থক বা প্রতিশব্দ, উদাহরণ, উপমা, গল্প, ব্যাখ্যা প্রভৃতির সাহায্যে সহজ-সরলভাবে অঠকথায় উপস্থাপন করা হয়। এভাবে বুদ্ধের ধর্ম-দর্শনের ব্যাখ্যামূলক পালি ভাষায় অঠকথা সাহিত্যকর্মটি রচিত হয়।
ভারতবর্ষের নানাজাতি, নানা কুল এবং নানা শ্রেণির অসংখ্য মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন বুদ্ধের সঙ্ঘে। বৌদ্ধসঙ্ঘে জ্ঞানী ভিক্ষু-ভিক্ষুণী যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন স্বল্পজ্ঞানীও। ফলে বুদ্ধের ধর্মোপদেশ এই স্বল্পজ্ঞানী লোকদের পক্ষে যথাযথভাবে হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব হতো না।
কোনো ব্যক্তি বুদ্ধ, তাঁর ধর্ম ও সঙ্ঘের নিন্দা করলে, সঙ্ঘের বিধিবিধান ভঙ্গ করলে, বুদ্ধবাণীর ভুল ব্যাখ্যা করলে, সঙ্ঘে অসুন্দর আচরণ করলে, ক্রোধোন্মত্ত আলোচনা হলে, ধর্ম-দর্শনসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সন্দেহ ও বিতর্ক দেখা দিলে, বুদ্ধবাণীর কোনো বিষয় দুর্বোধ্য হলে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা ও নির্দেশনার প্রয়োজন দেখা দিতো।
বুদ্ধের জীবদ্দশায় প্রাচীন ভারতের বুদ্ধের জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনপদ বা শহর, যেমন: সারনাথ, রাজগৃহ, বৈশালী, নালন্দা, পাবা, উজ্জয়নী, চম্পা, মথুরা, শ্রাবস্তী প্রভৃতি অঞ্চলে বৌদ্ধসজ্ঞ গড়ে ওঠে। উক্ত স্থানগুলো বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনচর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়।
নেতৃস্থানীয় শিষ্যদের মধ্যে বুদ্ধ অনেককে তাঁর ধর্মোপদেশ তথা ধর্মদর্শন যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম মনে করতেন। এক্ষেত্রে মহাকচ্চায়ন, সারিপুত্র এবং মহকোট্টিঠত থের ছিলেন অগ্রগণ্য।
মহাকচ্চায়ন বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত দেশনাসমূহ প্রাঞ্জল এবং সহজ-সরলভাবে শ্রোতাদের নিকট উপস্থাপন করতে পারদর্শী ছিলেন। ধর্ম-দর্শন ব্যাখ্যায় তিনি প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন। তাই বুদ্ধ মহাকচ্চায়নকে ধর্ম-দর্শন ব্যাখ্যায় সর্বাগ্রে স্থান দেন।
খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে সিংহলরাজ বট্টগামণীর পৃষ্ঠপোষকতায় অঠকথাসমূহ সিংহলি ভাষায় তালপত্রে লিখে সংরক্ষণ করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকের আগেই অঠকথা সাহিত্য পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল।
প্রথম, দিকে অঠকথাসমূহ ত্রিপিটকের বিষয়বস্তু তথা বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন নিয়ে রচিত হলেও পরবর্তীকালে প্রাচীন ভারত ও শ্রীলঙ্কার. ধর্ম-দর্শন, কাব্য, ব্যাকরণ, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়েও সাহিত্য শ্রেণির নানা অঠকথা রচিত হয়। এভাবে এটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় সাহিত্য ভান্ডারে রূপ লাভ করে।
বুদ্ধের ধর্মবাণী, বিধি-বিধান এবং সমকালীন বিভিন্ন জটিল বিষয়ের সমস্যা বুদ্ধ ও তাঁর নেতৃস্থানীয় শিষ্য-প্রশিষ্যগণ ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক সমাধান করতেন। বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যগণের সেসব ব্যাখ্যাকে অঠকথা সাহিত্যের সূচনা ও পটভূমি হিসেবে গণ্য করা যায়।
খুদ্দক নিকায়ে ষোলোটি গ্রন্থ আছে। প্রথম চারটি নিকায়ের অঠকথাসমূহ ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও খুদ্দক নিকায়ের অনেকগুলো গ্রন্থের অকথা একই নামে অভিহিত। যেমন- উদান, ইতিবুত্তক, বিমানবন্ধু, পেতবন্ধু, থেরগাথা, ঘেরীগাথা এবং চরিয়াপিটক- এই সাতটি গ্রন্থের অট্টকথা পরমথদীপনী নামে পরিচিত। অপরদিকে মহানিদ্দেস ও চুলনিদ্দেস গ্রন্থের অঠকথা সদ্ধম্মপজ্জোতিক নামে অভিহিত।
বিনয় পিটকের দুটি অঠকথা রচিত হয়েছে। যথা: সমন্তপাসাদিকা এবং কঙ্খাবিতরণী। সমন্তপাসাদিকা সমগ্র বিনয়পিটকের অঠকথা হিসেবে পরিচিত। সুত্তবিভঙ্গ গ্রন্থে বর্ণিত ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীদের বিনয় বিধানসমূহ পাতিমোক্স নামে পরিচিত। পাতিমোক্সের আলোকে রচিত অটঠকথাকে কঙ্খাবিতরণী বলে।
অভিধর্ম বৌদ্ধধর্মের দর্শন হিসেবে খ্যাত। অভিধর্ম পিটকের অকথায় বৌদ্ধধর্মের গভীর দার্শনিক বিষয়সমূহ সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
পণ্ডিতগণ একমত যে, উরগপুর ছিল বর্তমান কালের দক্ষিণ ভারতের ত্রিচিনপোলির নিকটবর্তী উরায়ুর স্থানটির প্রাচীন নাম। বুদ্ধদত্ত খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের শেষ ভাগ হতে খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতকের প্রথম ভাগে জন্মগ্রহণ করেন।
বুদ্ধদত্ত সিংহলের মহাবিহার নিকায়ের অনুসারী ভিক্ষুর নিকট প্রব্রজিত হন। মহাবিহার নিকায়ের নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভিক্ষুদের নিকট ধর্ম-বিনয় শিক্ষা লাভ করে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
সমকালীন পণ্ডিতদের নিকট আচার্য বুদ্ধদত্ত বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। পণ্ডিতগণ তাঁর রচিত গ্রন্থ হতে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করতেন। তিনি সমথ এবং বিদর্শন ভাবনায়ও পারদর্শী ছিলেন।
কবি হিসেবে পরিচিত বুদ্ধদত্তের অধিকাংশ গ্রন্থ পদ্যে রচিত। যেমন- বিনয়বিনিচ্ছয় গ্রন্থটি ৩১৮৩টি গাথায়, উত্তরবিনিচ্ছয় গ্রন্থটি ৯৬৯টি গাথায় এবং অভিধম্মাবতার গ্রন্থটি ১৪১৫টি গাথায় রচিত। অসীম কবিত্বশক্তির অধিকারী না হলে সহজ-সরলভাবে পদ্যে বা গাথায় বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হতেন না।
ধর্মপাল সুপ্রসিদ্ধ অঠকথাচার্য ছিলেন। অঠকথা সাহিত্যে বুদ্ধঘোষের পরেই ছিল অঠকথাচার্য ধর্মপালের স্থান। অঠকথা, টীকা এবং অনুটীকা লিখে তিনি পালিসাহিত্য ভান্ডারকে নানা আঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছেন। অমর সাহিত্যকর্ম রচনা করার জন্য বৌদ্ধগণ এখনও তাঁকে শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করে।
আচার্য ধর্মপাল দক্ষিণ ভারতে দীক্ষা বা প্রব্রজ্যা লাভ করেছিলেন। তিনি মহাবিহার নিকায়ের তথ্যের আলোকে তাঁর গ্রন্থসমূহ রচনা করেছিলেন। এ কারণে, আচার্য ধর্ম পালকে মহাবিহার নিকায়ের অনুসারী বা থেরবাদী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
বুদ্ধঘোষ এবং ধর্মপাল দুজনেরই রচনারীতি, শব্দ ও উপমাপ্রয়োগ, বিষয়বস্তুর পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা এবং ভাষাশৈলীতে উভয়ে একই রীতি অনুসরণ করেছেন। বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন সম্পর্কে উভয়ের ব্যাখ্যা প্রায় একই। তাই ধারণা করা যায় যে, তাঁরা একই বিদ্যানিকেতনে অধ্যয়ন করেছেন।
অঠকথাচার্য ধর্মপালের সাতটি অঠকথা গ্রন্থ হলো-ইতিবুত্তকঠকথা, উদানাকথা, চরিয়পিটকটকথা, থের গাথাট্টকথা, থেরীগাথাঠকথা, বিমলবিলাসিনী (বিমান বন্ধুর অঠকথা) এবং বিমলবিলাসিনী পেতবথুর অঠকথা।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপিটকের অনেক শব্দ দুর্বোধ্য রূপ পরিগ্রহ করেছে। কিন্তু অঠকথায় সেসব জটিল ও দুর্বোধ্য শব্দের যথাযথ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এ কারণে অঠকথার সাহায্যে যথাযথভাবে ত্রিপিটক এবং পালি সাহিত্য অনুবাদ করা যায়।
অকথা পাঠ করে বুদ্ধের সময়কাল থেকে খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতক পর্যন্ত প্রাচীন ভারত এবং শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এর সাহায্যে প্রাচীন রাজন্যবর্গের রাজত্বকাল এবং জীবন-দর্শন নিয়ে প্রচলিত বিতর্ক বা সমস্যা সমাধান করা যায়।
অষ্টকথা বলতে অর্থকথা, ভাষা, অর্থ বর্ণনা, অর্থবাদ-ব্যাখ্যা ইত্যাদি বোঝায়।
পালি ভাষায় রচিত হয়।
অর্থকথা বা ভাষ্য বলা হয়।
অঠকথাকে ইংরেজিতে বলা হয় Commentary ।
অঠকথার বাংলা অর্থ হলো অর্থ বর্ণনা।
মহাকচ্চায়ন বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত দেশনাসমূহ প্রাঞ্জল এবং সহজ-সরলভাবে শ্রোতাদের কাছে উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন।
খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে।
সুত্ত পিটক পাঁচ ভাগে বিভক্ত।
খুদ্দক নিকায়ে ষোলটি গ্রন্থ আছে।
সাতটি গ্রন্থের।
সমন্তপাসাদিকা।
মহানিদ্দেস এবং চুলিনিদ্দেস গ্রন্থের অঠকথা
পরমথদীপনী নামে পরিচিত।
পাতিমোক্সের আলোকে রচিত অঠকথাকে কঙ্খাবিতরণী বলে।
দুটি অষ্টকথা রচিত হয়েছে।
আচার্য ধর্মপাল।
অভিধম্মাবতার গ্রন্থটি ১৪১৫টি গাথায় রচিত।
: অঠকথাচার্য বুদ্ধদত্ত।
অঠকথাচার্য বুদ্ধদত্ত।
বুদ্ধবংসঠকথা নামে খ্যাত।
ধর্মপাল খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতকের শেষ ভাগে জন্মগ্রহণ করেন।
অঠকথাচার্য বুদ্ধঘোষ ও ধর্মপাল।
ইতবুত্তকঠকথা' গ্রন্থটি রচনা করেন আচার্য ধর্মপাল।
অঠকথাচার্য ধর্মপাল।
অঠকথাচার্য ধর্মপাল।
বুদ্ধের জীবিতকালেই তাঁর ধর্মোপদেশের বিভিন্ন অর্থ সহকারে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়েছিল। কারণ বুদ্ধের সকল শিষ্য যে অধিক জ্ঞানী ছিলেন তা নয়। যারা অপেক্ষাকৃত কম জ্ঞানী ছিলেন তাঁরা মাঝে মাঝে বুদ্ধবাণীর ভুল ব্যাখ্যা করতেন। তাই বুদ্ধের জীবিতকালে তাঁর ধর্মোপদেশ বিভিন্ন অর্থসহকারে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়েছিল।
সঙ্ঘের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা ও নির্দেশনার প্রয়োজন দেখা দিত। যেমন- কেউ বুদ্ধ, তার ধর্ম ও সঙ্ঘের নিন্দা করলে, সঙ্ঘের বিধি-বিধান ভঙ্গ করলে, বুদ্ধ বাণীর ভুল ব্যাখ্যা করলে, সঙ্গে অসুন্দর আচরণ করলে, ক্রোধম্মত্ত আলোচনা হলে, ধর্ম, দর্শন সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সন্দেহ ও বিতর্ক দেখা দিলে বুদ্ধবাণীর কোনো বিষয় দুর্বোধ্য হলে ভিক্ষুসজ্ঞ সমবেত হয়ে বিষয়সমূহ প্রতিকার বা সমাধানের চেষ্টা করতেন। তাই সঙ্ঘের মধ্যে ব্যাখ্যা ও নির্দেশনার প্রয়োজন দেখা দিত।
প্রাচীন ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো অঠকথা।
অঠকথাসমূহ ত্রিপিটকের বিষয়বস্তু তথা বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন নিয়ে রচিত হলেও পরবর্তীকালে প্রাচীন ভারত ও শ্রীলঙ্কার ধর্ম-দর্শন, কাব্য, ব্যাকরণ, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি নানা বিষয় নিয়ে ও নানা শ্রেণির অঠকথা রচিত হয়।
বিনয় পিটক প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। যথা: সুত্তবিভজা, খন্ধক এবং পরিবার বা পরিবার পাঠ। বিনয় পিটকের বিষয়বস্তুকে ভিত্তি করে দুটি অকথা রচিত হয়েছে। যথা: সমন্তপাসাদিকা এবং কঙ্খাবিতরণী। সমন্তপাসাদিকা সমগ্র বিনয় পিটকের অঠকথা হিসেবে পরিচিত। সুত্তবিভঙ্গ গ্রন্থে বর্ণিত ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীদের বিনয় বিধানসমূহ পাতিমোকখ নামে পরিচিত। পাতিমোকখের আলোকে রচিত অট্ঠকথাকে কঙ্খাবিতরণী বলে।
পরমথদীপনী গ্রন্থটি সুত্ত পিটকের অন্তর্গত অঠকথা। উদান, ইতিবুত্তক, বিমানবাথু, পেতবন্ধু, থেরগাথা, থেরীগায়া এবং চরিয়াপিটক এই সাতটি গ্রন্থের অঠকথা একত্রে পরমথদীপনী নামে পরিচিত।
অঠকথা রচনাকারীদের মধ্যে বুদ্ধঘোষের সমকালীন কালজয়ী অপর একজন অঠকথা রচয়িতা হচ্ছেন বুদ্ধদত্ত। তিনি উরগপুর অর্থাৎ বর্তমানকালের দক্ষিণ ভারতের ত্রিচিনপোলির নিকটবর্তী উরায়ু স্থানে খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের শেষ ভাগ হতে খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতকের প্রথম ভাগে জন্মগ্রহণ করেন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। বুদ্ধঘোসুপ্পত্তি গ্রন্থে উল্লেখ আছে, তিনি সিংহল থেকে প্রত্যাবর্তনের অল্পকাল পরেই মৃত্যুবরণ করেন।
বুদ্ধদত্তের দীক্ষা সম্পর্কে বিশদভাবে কিছু জানা যায় না। অভিধুম্মাবতার এবং ৰূপাৰূপবিভাগ গ্রন্থ হতে জানা যায় যে, তিনি সিংহলের মহাবিহার নিকায়ের অনুসারী ভিক্ষুর নিকট প্রব্রজ্যিত হন। মহাবিহার নিকায়ের নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভিক্ষুদের নিকট ধর্ম-বিনয় শিক্ষালাভ করে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি আজীবন নিকায়ের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো গুরুর নিকট এবং কোনো বিহারে দীক্ষিত হয়েছিলেন সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না।
অঠকথাচার্য বুদ্ধদত্তের কর্ম বিশাল ও বিচিত্র। বৌদ্ধ সাহিত্যে তাঁর কর্ম সম্পর্কে যা জানা যায়, তার মূল পরিচয় তিনি বিখ্যাত বৌদ্ধভিক্ষু এবং ভাষ্যকার। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ অধিকাংশ পদ্যে রচিত। তিনি একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন বলে তিনি ৩১৮৩টি গাথায় বিনয়বিনিচ্ছয়, ৯৬৯টি গাথায় উত্তরবিনিচ্ছয় এবং ১৪১৫টি গাথায় অভিধম্মাবতার গ্রন্থগুলো রচনা করেছিলেন। তাঁর সাহিত্য কর্মগুলো হলো- ১. মধুরখবিলাসীনি (বুদ্ধবংসঠকথা); ২. বিনয়বিনিচ্ছয়; ৩. উত্তরবিনিচ্ছয়; ৪. অভিধম্মাবতার; ৫. রূপারূপবিভাগ; ৬. জিনলংকার; ৭. দন্তবংস বা দাঠাবংস; ৮. ধাতুবংস; ৯. বোধিবংস।
ধর্মপাল রচিত নেত্তিপকরণ গ্রন্থ হতে জানা যায় যে, তিনি দক্ষিণ ভারতের 'পদরতিথ' বা 'বদরিখ' বিহারে বসবাস করতেন। ফলে ধারণা করা হয় যে, তিনি দক্ষিণ ভারতে দীক্ষা বা প্রব্রজ্যা লাভ করেছিলেন। তবে তার দীক্ষাগুরুর নাম জানা যায় না। তিনি মহাবিহার নিকায়ের তথ্যের আলোকে তাঁর গ্রন্থসমূহ রচনা করেছিলেন। ফলে তিনি মহাবিহার নিকায়ের অনুসারী বা থেরবাদী ছিলেন বলে ধারণা করা যায়।
অঠকথাচার্যদের মধ্যে আচার্য ধর্মপাল ছিলেন অন্যতম। ঐতিহাসিক হিউয়েন সাং-এর বিবরণী থেকে জানা যায় যে, ধর্মপাল কাঞ্চিপুরায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বাল্যকাল হতেই সুন্দর ও সৎ স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। তাঁর সাথে রাজকন্যার বিবাহের কথা ঠিক হলে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন হন। তিনি বুদ্ধমূর্তির সামনে বসে মুক্তির পথ প্রার্থনা করার রাত্রে এক দেবতা এসে তাঁকে নিয়ে যান। তাকে দূরের এক পর্বতে নিয়ে গেলে পর্বতস্থিত বিহারের ভিক্ষু তাঁকে দীক্ষা প্রদান করেন। তবে তাঁর রচিত গ্রন্থ হতে জানা যায় যে, তিনি দক্ষিণ ভারতের 'পদরতিথ' বা বদরিথ বিহারে বসবাস করতেন। তিনি থেরবাদী ভিক্ষু ছিলেন।
বৌদ্ধধর্মে অঠকথার গুরুত্ব অপরিসীম।
অঠকথা সাহিত্যে বুদ্ধের সময়কালে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মীয় সঙ্ঘ ও ধর্মমত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা বুদ্ধের সময়কালে প্রচলিত ধর্মমতের স্বরূপ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। পালি অঠকথা শুধু বৌদ্ধ ধর্মদর্শনই নয় অধিকন্তু প্রাচীন ভারত ও শ্রীলঙ্কার সাধারণ ইতিহাসও ধারণ করে আছে।
পালি ভাষায় বুদ্ধ ধর্ম-দর্শনের ব্যাখ্যামূলক যে সাহিত্যকর্ম রচিত হয় তাকে অঠকথা বলে।
ত্রিপিটকে অনেক জটিল, দুর্বোধ্য, দ্ব্যর্থক ও উহ্য পদ বা বিষয় রয়েছে যা সকল শ্রেণির পাঠকের নিকট সহজে বোধগম্য নয়। সেসব পদ বা বিষয়সমূহ সমার্থক বা প্রতিশব্দ উদাহরণ, উপমা, গল্প, ব্যাখ্যা প্রভৃতির সাহায্যে সহজ-সরলভাবে অঠকথায় উপস্থাপন করা হয়।
ত্রিপিটকের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে রচিত হলেও অঠকথা পালি ত্রিপিটকের অন্তর্গত নয়, একটি স্বতন্ত্র ধারার সাহিত্যকর্ম হিসেবে স্বীকৃত। অঠকথা সাহিত্যে বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন ব্যাখ্যার পাশাপাশি প্রসঙ্গক্রমে প্রাচীন ভারত এবং শ্রীলঙ্কার ধর্ম-দর্শন, সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল প্রভৃতি নানাবিষয়ও আলোচিত হয়। এ জন্য অকথাকে প্রাচীন ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।
ত্রিপিটকের ব্যাখ্যা এবং প্রাচীনকালের ইতিহাস জানার জন্য অঠকথা সাহিত্য পাঠ করা প্রয়োজন হয়।
অকথা সাহিত্যে বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন ব্যাখ্যার পাশাপাশি প্রসঙ্গক্রমে প্রাচীন ভারত ও শ্রীলঙ্কার ধর্ম, দর্শন, সমাজ- সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল প্রভৃতি বিষয়ও আলোচিত হয়েছে। তাই এই বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে অঠকথার গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় অঠকথা সাহিত্য পাঠের কোনো বিকল্প নেই। সর্বোপরি বুদ্ধের সংঘ এবং ধর্মমত সম্পর্কে ধারণা পেতে অঠকথা পাঠের প্রয়োজনীয় অপরিসীম।
Related Question
View Allগুরুত্ব বিচারে অটকথাকে চার ভাগে ভাগ করা হয়।
পালি ভাষায় বুদ্ধ ধর্ম-দর্শনের ব্যাখ্যামূলক যে সাহিত্যকর্ম রচিত হয় তাকে অট্ঠকথা বলে।
ত্রিপিটকে অনেক জটিল, দুর্বোধ্য, দ্ব্যর্থক ও উহ্য পদ বা বিষয় রয়েছে যা সকল শ্রেণির পাঠকের নিকট সহজে বোধগম্য নয়। সেসব পদ বা বিষয়সমূহ সমার্থক বা প্রতিশব্দ উদাহরণ, উপমা, গল্প, ব্যাখ্যা প্রভৃতির সাহায্যে সহজ-সরলভাবে অঠকথায় উপস্থাপন করা হয়।
'?' চিহ্নিত স্থানটি পাঠ্যবইয়ের অট্ঠকথাচার্য বুদ্ধদত্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
অঠকথা রচনাকারীদের মধ্যে বুদ্ধঘোষের সমকালীন অপর কালজয়ী অঠকথা রচয়িতা হচ্ছেন বুদ্ধদত্ত। গন্ধবংস গ্রন্থে বুদ্ধদত্তকে ভারতের আচার্য হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পণ্ডিতগণ একমত যে, উরগপুর ছিল বর্তমান কালের দক্ষিণ ভারতের ত্রিচিনপোলির নিকটবর্তী উরায়ু স্থানটির প্রাচীন নাম। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের শেষ ভাগ হতে খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতকের প্রথম ভাগে জন্মগ্রহণ করে। বুদ্ধদত্তের মূল পরিচয় তিনি একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং অঠকথা রচয়িতা বা ভাষ্যকার। আচার্য হিসেবে তাঁর খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি সমথ এবং বিদর্শন ভাবনায়ও পারদর্শী ছিলেন। বৌদ্ধধর্ম ও দর্শন চর্চায় পারদর্শী এ মহাপুরুষ কবি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, '?' চিহ্নিত স্থানে পাঠ্যবইয়ের অট্ঠকথাচার্য বুদ্ধদত্তের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
উক্ত আচার্য অর্থাৎ বুদ্ধদত্ত বৌদ্ধধর্মের সাহিত্য কর্মে অশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হন- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
প্রাচীনকালের লেখকগণ গ্রন্থের মধ্যে নাম ও নিজের সম্পর্কে কিছুই লিখতেন না। বুদ্ধদত্তও তাই করেছেন। তাই বুদ্ধদত্তের সাহিত্যকর্ম নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। ঐতিহ্য অনুসারে নিম্নলিখিত গ্রন্থসমূহ বুদ্ধদত্ত রচনা করেন:
১. মধুরখবিলাসিনী (বুদ্ধবংসটঠকথা); ২. বিনয় বিনিচ্ছয়; ৩. উত্তর বিনিচ্ছয়; ৪. অভিধম্মাবতার; ৫. রূপারূপবিভাগ; ৬. জিনলংকার; ৭. দন্তবংস বা দাঠাবংস; ৮. ধাতুবংস এবং ৯. বোধিবংস।
উপরের বর্ণিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে বিনয়বিনিচ্ছয়, উত্তরবিনিচ্ছয়, অভিধম্মাবতার, রূপারূপবিভাগ এবং মধুরখ বিলাসিনী- এই পাঁচটি গ্রন্থ পণ্ডিতগণ বুদ্ধদত্তের প্রকৃত রচনা হিসেবে স্বীকার করেন। বাঁকি গ্রন্থগুলো নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। মধুরখবিলাসিনী এবং অভিধম্মাবতার গ্রন্থটি দক্ষিণ ভারতের চোল রাজ্যে রচনা করেছিলেন বলে জানা যায়।
কঙ্খাবিতরণী গ্রন্থটি বুদ্ধঘোষ রচনা করেন।
বৌদ্ধধর্মে অঠকথার গুরুত্ব অপরিসীম।
অটঠকথা সাহিত্যে বুদ্ধের সময়কালে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মীয় সজ্জ ও ধর্মমত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা বুদ্ধের সময়কালে প্রচলিত ধর্মমতের স্বরূপ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। পালি অঠকথা শুধু বৌন্দ ধর্মদর্শনই নয় অধিকন্তু প্রাচীন ভারত ও শ্রীলংকার সাধারণ ইতিহাসও ধারণ করে আছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!