কৈকেয়ী দশরথের কাছে যে বর চেয়েছিলেন তা হলো-প্রথম বরে ভরত রাজা হবে। আর দ্বিতীয় বরে রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনে যাবে।
রামায়ণ থেকে আমরা অনেক নৈতিক শিক্ষা পাই। তা হলো-
১. পিতা-মাতাকে শ্রদ্ধা করা।
২. বড় ভাইকে শ্রদ্ধা করা।
৩. বড়দের সম্মান করা।
৪. অধর্মের বিনাশ করা।
দেবব্রত এক ভীষণ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। তিনি যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তা হলো- তিনি কখনো বিয়ে করবেন না এবং সিংহাসনেও বসবেন না। এ ভীষণ প্রতিজ্ঞা করার জন্য তাঁর নাম হয় ভীষ্ম।
যে যুদ্ধ ধর্মের জন্য ও ন্যায়ের জন্য করা হয় সেই যুদ্ধে কোনো পাপ হয় না।
মহাভারত নিত্যপাঠ্য ধর্মগ্রন্থ। কাশীরাম দাস মহাভারত সম্পর্কে বলেছিলেন-
মহাভারতের কথা অমৃত সমান।
কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান ॥
আমাদের জীবনে ধর্মগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা অনেক। কেননা-
১. ধর্মগ্রন্থে অনেক জ্ঞানের কথা থাকে।
২. ধর্মগ্রন্থ মানুষকে সৎ উপদেশ দেয়।
৩. আমাদের ভালো মানুষ হতে শেখায়।
৪. ঈশ্বরকে জানতে সাহায্য করে।
রামায়ণ সাতটি ভাগে বিভক্ত এবং প্রত্যেক ভাগকে বলা হয় কাণ্ড। তাই একে একত্রে সপ্তকাণ্ড রামায়ণ বলা হয়। এই সপ্তকাণ্ড হলো- আদিকাণ্ড, অযোধ্যাকান্ড, অরণ্যকাণ্ড, কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড, সুন্দরকান্ড, যুদ্ধকাণ্ড এবং উত্তরকাণ্ড।
রামায়ণের বিষয়বস্তু হলো-
১. পিতা দশরথের প্রতি রামের শ্রদ্ধা ও প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা।
২. বড় ভাই রামের প্রতি ভরতের সম্মান।
৩. ছোট ভাই হিসেবে রামের প্রতি লক্ষণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
৪. রাজা হিসেবে সর্বদা প্রজাদের মঙ্গল চিন্তা করা।
মহাভারতের বিষয়বস্তু হলো-
১. অধর্ম ও অসত্যের বিরুদ্ধে ধর্ম ও সত্যের যুদ্ধ।
২. যুদ্ধে সত্য ও ধর্মের জয় হয়।
৩. অসত্য ও অধর্মের পরাজয় হয়।
দেবী দুর্গা জীবের দুর্গতি নাশ করেন বলেই তাঁকে দুর্গতিনাশিনী বলা হয়।
দুর্গাপূজা শরৎকালে হয় বলে এ পূজাকে শারদীয় পূজা বলা হয়।
ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে শিবপূজা করা হয়। তাই এই তিথিকে শিবচতুর্দশী বলা হয়।
ঈশ্বরের কোনো গুণ বা শক্তি যখন আকার পায় তখন তাঁকে দেব-দেবী বলা হয়। এই দেব-দেবীর শক্তি ঈশ্বরের শক্তি। তাই দেব-দেবীর মধ্য দিয়েই ঈশ্বরের শক্তির প্রকাশ ঘটে।
দেবী দুর্গা আমাদের সকল প্রকার মঙ্গল করেন বলে তাঁকে সর্বমঙ্গলা বলা হয়। তিনি আমাদের শক্তি দেন, সাহস দেন। এছাড়াও তিনি আমাদের সকল দুঃখ-কষ্ট থেকেও পরিত্রাণ করেন। তাঁর নাম স্মরণ করলে সকল বিপদ-আপদ দূরীভূত হয়। এজন্য আমরা যাত্রাপথে 'দুর্গা দুর্গা' বলে বের হই, যাতে কোনো বিপদ আপদ আমাদের স্পর্শ করতে না পারে।
ঈশ্বরের কোনো গুণ বা ক্ষমতা আকার পেলে তাকে দেবতা বা দেব-দেবী বলে। তাই বলা যায়, দেবতা বা দেব-দেবী ঈশ্বরের সাকার শক্তির বিভিন্ন রূপ। তাঁরা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। দেব-দেবীরা সবকিছুই করতে পারেন। দেব-দেবীদের যে শক্তি তা মূলত ঈশ্বরেরই শক্তি। তাই ঈশ্বরের সাথে দেব-দেবীর সম্পর্ক নিবিড়।
আমরা যেসব কারণে দেব-দেবীর পূজা করব তা হলো-
১. পূজা করলে দেবতারা সন্তুষ্ট হন।
২. দেবতারা সন্তুষ্ট হলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন।
৩. দেব-দেবীর পূজা মূলত ঈশ্বরেরই পূজা।
দেব-দেবীর পূজা থেকে আমরা যেসব নৈতিক শিক্ষা লাভ করতে পারি তা হলো-
১. পূজা করলে দেবতারা সন্তুষ্ট হন ও ঈশ্বর সন্তুষ্ট হয়ে আমাদের মঙ্গল করেন।
২. দেব-দেবীর পূজা করলে ঈশ্বরেরই পূজা করা হয়।
৩. দেব-দেবীর পূজা করলে দেহ-মন পবিত্র হয় ও উদার হয়।
৪. সকলে মিলে কাজ করার মানসিকতা জন্মে।
দুর্গাপূজায় শ্রীশ্রীচন্দ্রী পাঠ করা হয়। দুর্গার প্রণাম মন্ত্রটি লো-
সর্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্তু তে ॥
ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে শিবপূজা করা হয়। এই তিথিকে শিবচতুর্দশী বলা হয়। শিবের প্রণাম মন্ত্রটি হলো-
নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয় হেতবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং ত্বং গতিঃ পরমেশ্বর।
শিবচতুর্দশীর রাত্রিকে শিবরাত্রি বলা হয়। শিবের প্রণাম মন্ত্রটির বাংলা অর্থ-
তিন কারণের (সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের) হেতু শান্ত শিবকে নমস্কার। হে পরমেশ্বর, তুমিই গতি। তোমার কাছে নিজেকে সমর্পণ করি।
আমরা দেব-দেবীর কৃপা লাভ করার জন্য পূজা করি। দেব-দেবীর পূজা করলে ঈশ্বরকেই পূজা করা হয়। পূজা করলে দেব-দেবীরা সন্তুষ্ট হন। আর দেব-দেবীরা সন্তুষ্ট হলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন। তখন আমাদের মঙ্গল হয়।
পূজার উপকরণগুলো হলো- ফুল-ফল, দূর্বা, তুলসীপাতা, বেলপাতা, জল, চন্দন, আতপচাল, ধূপ-দীপ ইত্যাদি।
পূজায় যেসব বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয় তা হলো- ঢাক, ঢোল, ঘণ্টা, করতাল, কাঁসি, শঙ্খ ইত্যাদি।
হিন্দুধর্মে প্রায় সারা বছর নানা পূজার আয়োজন করা। হয়ে থাকে। তবে সকল পূজার মধ্যে আমাদের প্রধান পূজাগুলো হচ্ছে- দুর্গাপূজা, সরস্বতীপূজা ও লক্ষ্মীপূজা।
পূজা বলতে বোঝায় দেব-দেবীর স্তুতি করা, আরাধনা ও অর্চনা করা। আমাদের প্রধান পূজাগুলো হচ্ছে- দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা ও সরস্বতী পূজা। অন্যদিকে যে উৎসবগুলো পূজাকে আনন্দময় করে তোলে তাকে পার্বণ বলে। যেমন- নববর্ষ, পৌষসংক্রান্তি, চৈত্রসংক্রান্তি, নবান্ন, দোলযাত্রা, বিজয়া দশমী ইত্যাদি।
যে উৎসবগুলো পূজাকে আনন্দময় করে তোলে তাকে পার্বণ বলে। ছয়টি পার্বণের নাম হলো- ১. নববর্ষ, ২. পৌষসংক্রান্তি, ৩. চৈত্রসংক্রান্তি, ৪. নবান্ন, ৫. দোলযাত্রা ও ৬. বিজয়া দশমী।
গৌতম বুদ্ধের ধর্মবাণী তিনটি পিটক বা গ্রন্থে সংকলিত আছে। পিটক তিনটি হলো- সূত্র পিটক, বিনয় পিটক ও অভিধর্ম পিটক।
বাইবেল মূলত অনেক গ্রন্থের সমন্বয়ে গঠিত। তবে বাইবেলের প্রথম বইটি হিব্রু ভাষায় লেখা হয়েছে।
আমাদের দেশে চারটি প্রধান ধর্ম রয়েছে। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে তিনটি বাক্য হলো-
১. ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কুরআন।
২. আল্লাহর বাণী পবিত্র কুরআন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
৩. পবিত্র কুরআন প্রথমে আরবি ভাষায় লেখা হয়।
বিভিন্ন ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলো হলো-
১. হিন্দুধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ।
২. ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ কুরআন,
৩. বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক।
বড়দিন উপলক্ষে খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় প্রার্থনা করতে যায়।
ধর্মের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
আমাদের সকলকে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করা উচিত।
ঈদের দিন মুসলমানেরা মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে যায়। এসময় একজন আরেকজনকে 'ঈদ মোবারক' বলে শুভেচ্ছা জানায়।
ঈদ উৎসবে যা করা হয় তা হলো-
১. একে অপরকে 'ঈদ মোবারক' বলে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
২. পরিবারের সবাই মিলে ঘুরে বেড়ানো হয়।
৩. আনন্দ উপভোগ করা হয়।
৪. একে অপরের বাসায় বেড়াতে যাওয়া হয়।
৫. পেট ভরে খাওয়া-দাওয়া করা হয়।
Related Question
View Allহিন্দুধর্মে রয়েছে অনেক ধর্মগ্রন্থ
খান্ডবপ্রস্থ হয় পাণ্ডবদের রাজ্য।
মহাভারতের কথা অমৃতের মতো
ধর্মগ্রন্থে ধর্মের কথা থাকে।
প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ রয়েছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!