কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য ।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় জনগণ রাষ্ট্রের শাসনকার্যে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় ।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক আদর্শ আদর্শের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ।
রাষ্ট্রের এলাকাকে বিভক্ত করে ক্ষুদ্রতর পরিসরে প্রতিষ্ঠিত সরকারব্যবস্থাকে স্থানীয় সরকার বলে ।
স্থানীয় সরকারের রূপ ২টি ।
প্রশাসনের এক একটি ইউনিট বলা হয় স্থানীয় সরকারকে ।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার সরকারকে জনসাধারণের প্রতিনিধিদের শাসন বলা হয় ।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের উদাহরণ ইউনিয়ন পরিষদ ।
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান কাজ ।
জন স্টুয়ার্ট মিল ব্রিটিশ রাজনৈতিক দার্শনিক ছিলেন ।
স্থানীয় সরকারের প্রয়োজন জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য কারণে ।
স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি স্থানীয় সরকার ।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয় মুঘল আমলে আমলে ।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে ।
স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদ ।
শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ২ ধরনের ধরনের ।
পল্লি এলাকায় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ ।
বাংলাদেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪৫৫৪টি ।
আমাদের দেশে গড়ে ১০ - ১৫ গ্রাম গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় ।
ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্যসংখ্যা ৯ জন ।
একটি ইউনিয়ন পরিষদে মোট নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা ১৩ জন ।
ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্যরা ৩টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করেন ।
ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারীরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন ।
ইউনিয়ন পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর ।
দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনাস্থা ভোটে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অপসারিত হতে পারেন ।
ইউনিয়ন পরিষদ আইনে ইউনিয়ন পরিষদকে ৩৯টি কাজের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে ।
পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদের কাজ ।
৩ টি উৎস হতে ইউনিয়ন পরিষদের আয় হয়ে থাকে ।
উপজেলা পরিষদ স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছে ।
উপজেলা পরিষদের জন্য ৩ সদস্যদের চেয়ারম্যান প্যানেল থাকবে ।
২০০৯ সালের সালের আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্য পরামর্শকের ভূমিকা পালন করছে ।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ পদাধিকারবলে উপজেলার সদস্য পদ পেয়ে থাকেন ।
উপজেলা পরিষদে ৩ জন নির্বাচিত মহিলা সদস্য থাকে ।
উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করবেন ।
বর্তমানে বাংলাদেশে উপজেলা পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর ।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৯২টি উপজেলা রয়েছে ।
গ্রামভিত্তিক স্থানীয় সরকার উপজেলা পরিষদকে ১৮টি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে ।
বাংলাদেশে জেলা পরিষদ আইন বিলুপ্ত করা হয় ১৯৯১ সালে ।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে 'জেলা পরিষদ আইন' পাশ হয় ২০০০ সালে ।
জেলা পরিষদের সদস্য ১৫ জন ।
সংরক্ষিত মহিলা সদস্যসহ জেলা পরিষদের সদস্যসংখ্যা ২১ জন ।
জেলা পরিষদে সংরক্ষিত ৫ জন মহিলা সদস্য রয়েছে ।
জেলা পরিষদ তিন সদস্যের একটি চেয়ারম্যান প্যানেল থাকে ।
২০১৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন করা হয় ।
জেলা পরিষদের অধীনে ৬৮টি ঐচ্ছিক কার্যাবলির দায়িত্ব দেওয়া হয় ।
সন্ত্রাস দমনে উপজেলা কর্মকান্ডের প্রত্যক্ষ তদারকি করে জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠান ।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে ।
২০০৯ সাল সালের আইন দ্বারা পৌরসভা গঠন করা হয় ।
একটি পৌরসভা কমপক্ষে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হবে ।
পৌরসভার সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় ।
পৌরসভার মেয়াদ পাঁচ বছর ।
ডাস্টবিন নির্মাণ পৌরসভার জনস্বাস্থ্যমূলক ধরনের কাজ ।
পৌরসভা এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বন সংরক্ষণ কাজটি করে ।
বিনোদনের জন্য পার্ক ও উদ্যান নির্মাণ করা পৌরসভার প্রতিষ্ঠানের কাজ ।
পৌর এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে মেয়র ।
পৌরসভার শান্তিরক্ষামূলক কাজ বিচার সালিস করা ।
পৌর আদালতে সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন ।
প্রধান শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন ।
বাংলাদেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে ।
ঢাকায় ২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে ।
কাউন্সিলরদের এক-তৃতীয়াংশ ভাগ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ।
মেয়র জনগণের সরাসরি ভোটে পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয় ।
মহানগর এলাকায় ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি প্রদান করে সিটি কর্পোরেশন ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয় ২রা ডিসেম্বর ১৯৯৭ তারিখে ।
বাংলাদেশে পার্বত্য জেলা ৩টি ।
বর্তমানে পার্বত্য জেলার জন্য ৩টি আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে ।
বর্তমানে পার্বত্য জেলা পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর ।
পার্বত্য জেলা পরিষদের মহিলা সদস্যসংখ্যা ৩ জন ।
পার্বত্য জেলা পরিষদে সর্বমোট ৩৪ জন সদস্য ।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরে বা বাঙালি মহিলা সদস্য হবে ১ জন ।
সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলজুড়ে ১টি আঞ্চলিক পরিষদ হয়েছে ।
শাসনতান্ত্রিক নিয়মে তিন পার্বত্য জেলার চেয়ারম্যান গঠিত হয় ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে ১২ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য রয়েছে ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে ৬ জন বাঙালি সদস্য রয়েছে ।
আঞ্চলিক পরিষদ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে রাখাইন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অবস্থান নেই ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে ১২ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে ৫ জন চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থাকবেন ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদে ১২ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে ৩ জন মারমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থাকবেন ।
ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গঠিত আদালতের নাম গ্রাম আদালত ।
আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালত একজন ব্যক্তিকে অনধিক ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে ।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে নারীর পরিমাণ অর্ধেক শতাংশ ।
নারীর ক্ষমতায়ন সমতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার ।
বর্তমানে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর মতামত ও অংশগ্রহণ প্রাধান্য দেওয়াকে নারীর ক্ষমতায়ন বলা হয় ।
১৯৫১ সালে সালে ILO নারী ও পুরুষ শ্রমিকের একই ধরনের কাজের জন্য সমান মজুরি প্রদানের ঘোষণা করে ।
ILO নারীর রাজনৈতিক অধিকারের কথা ঘোষণা করে ১৯৫২ সালে ।
১৯৭৯ সালে নারীর কর্মসংস্থান ও পেশার ক্ষেত্রে বৈষম্য বিলোপ সনদ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয় ।
বিশ্বের ১৩২ দেশ নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ সনদ সমর্থন করেছে ।
ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা করা হয় ১৯৯৭ সাল থেকে ।
পার্বত্য তিন জেলায় ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় ।
২০১১ সালে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে নাগরিক মর্যাদা প্রদান করা হয় ।
রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে এ ধরনের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় জনগণ রাষ্ট্রের শাসনকার্যে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযাগ পায়। তাই স্থানীয় শাসন গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।
সমগ্র রাষ্ট্রকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করে ক্ষুদ্রতর পরিসরে কেন্দ্রীয় অথবা প্রাদেশিক সরকারের অধীনে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকারব্যবস্থাকেই স্থানীয় সরকার বলা হয়। স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় জনগণ রাষ্ট্রের শাসনকার্যে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তাই স্থানীয় শাসন গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার বলতে বুঝি এমন ধরনের সরকার ব্যবস্থা যা ছোট ছোট এলাকায় স্থানীয় প্রয়োজন মেটাবার জন্য জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত ও আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা। আমাদের দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের উদাহরণ।
কেন্দ্রীয় প্রশাসকদের পক্ষে সঠিকভাবে স্থানীয় জনগণের স্বার্থরক্ষা, তাদের সমস্যা সমাধান করা এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে তাদেরকে স্থানীয় সরকারের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় সরকার এ সকল বিষয়ে তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারকে যথাযথ নীতিমালা গ্রহণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়। যথা- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ। এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে। উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে।
গ্রামাঞ্চলে গড়ে ১০-১৫টি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত। ইউনিয়ন পরিষদে ১ জন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ৯ জন নির্বাচিত সাধারণ সদস্য ও ৩ জন নির্বাচিত মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত আসনে) রয়েছে। একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত হয়। প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে ১ জন করে ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন মহিলা সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর।
ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের ২টি উৎস হলো- সরকারি অনুদান ও অন্যান্য উৎস। সরকারি অনুদান হিসেবে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি, উন্নয়ন খাতে অনুদান থেকে বরাদ্দ ইত্যাদি। আর. অন্যান্য উৎসের মধ্যে রয়েছে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা, সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত মুনাফা বা ভাড়া, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থ।
জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান ও একজন মহিলাসহ দুজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদসমূহের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও তিন জন মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত। ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংষদ সদস্যদেরকে পরিষদের পরামর্শকের ভূমিকা প্রদান করা হয়েছে। চেয়ারম্যান উপজেলা ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রবৃন্দ পদাধিকার বলে উপজেলা পরিষদের সদস্য হবেন। 'ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সংরক্ষিত সদস্য/কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত মহিলা সদস্যদের ভোটে তাদের মধ্য থেকে তিনজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবেন।
উপজেলা পরিষদের ৩টি দায়িত্ব হলো-
১. বিভিন্ন মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা।
২. আন্তঃ ইউনিয়ন সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
৩. পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।
মূলত তিনটি উৎস থেকে উপজেলা পরিষদের অর্থের সংস্থান হয়। যেমন- উপজেলা পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত কর, ফি ও টোল এবং সরকার ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা অনুদান ইত্যাদি নিয়ে উপজেলা পরিষদের তহবিল গঠিত হবে।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন আমল থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'জেলা পরিষদ' থাকলেও ১৯৯১ সালে জেলা পরিষদ আইন বিলুপ্ত করে দেওয়ার পর প্রায় এক দশকে জেলা পরিষদের অস্তিত্ব ছিল না। পুনরায় ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন পাশ করে দেশের সকল জেলায় জেলা পরিষদ গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর।
একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হয়। আইন অনুযায়ী জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কমিশনারবৃন্দ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সকল সদস্যদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন।
আইন অনুযায়ী জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কমিশনারবৃন্দ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সকল সদস্যদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন।
জেলা পরিষদের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন, শিল্প এবং বাণিজ্যের উন্নয়ন, সরকারি হাসপাতাল তত্ত্বাবধান, পারিবারিক ক্লিনিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন। সেই সাথে চলমান পুলিশি কর্মকাণ্ডের তত্ত্বাবধান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা, সন্ত্রাস দমনে সুপারিশ এবং উপজেলা কর্মকাণ্ডের তদারক।
জেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ অনুযায়ী কর, টোল, ফিস, সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত আয়/মুনাফা, ব্যক্তি, সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান, বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত আয় এবং অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে জেলা পরিষদের তহবিল গঠিত হয়। জেলা পরিষদের জন্য জমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ ভূমিকর রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া হাট-বাজার, ফেরিঘাট এবং জলমহাল থেকে বর্ধিত পরিমাণ লিজের অর্থ জেলা পরিষদ পাবে।
২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী পৌরসভা কমপক্ষে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয়। তবে আয়তন ও লোকসংখ্যা অনুযায়ী পৌরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বেশি হতে পারে। এ আইন অনুযায়ী পৌরসভা গঠিত হবে একজন মেয়র, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক ওয়ার্ডের সমানসংখ্যক কাউন্সিলর এবং প্রতি ৩টি ওয়ার্ড থেকে একজন করে মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে।
পৌরসভার মেয়াদ ৫ (পাঁচ) বছর। পৌরসভা গঠনের পর প্রথম সভার তারিখ হতে পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বছর পর্যন্ত উক্ত পৌরসভার মেয়াদ থাকবে। তবে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও নির্বাচিত নতুন প্রতিনিধিদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী মেয়র ও কাউন্সিলরগণ দায়িত্ব চালিয়ে নিয়ে যাবেন।
পৌরসভা পৌর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন, পাঠাগার স্থাপন করা ইত্যাদি কাজ করে থাকে।
পৌরসভা শহরের জনস্বাস্থ্য রক্ষামূলক কার্যাদি সম্পন্ন করে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য রাস্তাঘাট, পুকুর, নর্দমা ও ডাস্টবিন নির্মাণ করে। সংক্রামক ও মহামারী ব্যাধি প্রতিরোধ ও প্রতিষেধক দানের ব্যবস্থা করে। হাসপাতাল, মাতৃসদন, শিশুসদন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার ব্যবস্থা করে।
খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে, পচা ও ভেজাল খাবার বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মাদকজাতীয় খাদ্য ও পানীয় অবাধে বিক্রি বন্ধের জন্য এসব দ্রব্য প্রস্তুত, ক্রয়-বিক্রয় এবং সরবরাহের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারীকে শাস্তি দেয়।
বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পৌরসভা তার ব্যয়ভার নির্বাহ করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সেবা এবং বিনোদনমূলক বিষয়ের উপর ধার্য কর, মার্কেট ভাড়া, হাট-বাজার ও খেয়াঘাট ইজারা, লাইসেন্স-পারমিট, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন ফি, সরকারি বরাদ্দ ইত্যাদি।
বাংলাদেশে মোট ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকায় দুটি (ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ।
প্রত্যেক সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত সংখ্যক ওয়ার্ডে বিভক্ত থাকে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে কাউন্সিলর এবং মোট ওয়ার্ডের এক তৃতীয়াংশের সমসংখ্যক আসন থেকে একজন করে মহিলা সদস্য সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তবে মহিলারা সংরক্ষিত আসন ছাড়াও সাধারণ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সিটি কর্পোরেশন নালা-নর্দমা, রাস্তাঘাট, আবাসিক এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন নির্মাণ, বিভিন্ন স্থানে শৌচাগার, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ইত্যাদি নির্মাণ করে। এছাড়া হাসপাতাল, মাতৃসদন, শিশুসদন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করে।
সিটি কর্পোরেশন মহানগর এলাকায় পচা-বাসি ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বিক্রি ও সরবরাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুত, আমদানি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রদান করে।
মহানগরীর নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য সিটি কর্পোরেশন বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র, নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করে। শিক্ষা বিস্তারের জন্য নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, বৃত্তি প্রদান, পাঠাগার নির্মাণ ও পরিচালনা ইত্যাদি কাজ করে থাকে।
মহানগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশন ছোটখাটো বিচারকাজ সম্পাদন করে। বিবাদ মীমাংসা ও মহল্লা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য শান্তিরক্ষী নিয়োগ করে। মহানগরীতে চুরি, ডাকাতি, হাইজ্যাক রোধ ও সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সিটি কর্পোরেশনের আয়ের উৎস ৩টি উৎস নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আরোপিত যেকোনো কর, উপকর, টোল ও ফিস।
২. কর্পোরেশনের উপর ন্যাস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা।
৩. সরকার বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রাপ্ত অনুদান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত একটি অঞ্চল। এ. অঞ্চলের প্রকৃতি ও জীবনধারা আলাদা হওয়ায় এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা। এ কারণে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এ তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি বিশেষ ধরনের জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ প্রবর্তন করা হয়।
প্রত্যেকটি জেলা পরিষদ ১ জন চেয়্যারম্যান, ৩০ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন মহিলা সদস্যসহ সর্বমোট ৩৪ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। এদের সকলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। সদস্যদের মধ্যে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় পক্ষের প্রতিনিধি থাকবে। জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী কার সংখ্যা কত তা নির্ধারিত হবে।
পার্বত্য জেলা পরিষদের তিনটি কাজ নিম্নরূপ। যথা-
১. স্থানীয় পুলিশ ও জেলার আইন শৃঙ্খলা সংরক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও উন্নতি সাধন।
২. শিক্ষার উন্নয়ন ও বিস্তার এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি।
৩. স্বাস্থ্যরক্ষা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
পার্বত্য জেলা পরিষদ যেসব উৎস হতে আয় করে থাকে তার মধ্যে ৪টি উৎস হলো- ১. স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের উপর ধার্য করের অংশ; ২. ভূমি ও দালান-কোঠার উপর হোল্ডিং কর: ৩. রাস্তা, পুল ও ফেরির উপর টোল ও ৪. পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের উপর কর।
১ জন চেয়ারম্যান, ১২ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, ৬ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরের বা বাঙালি সদস্য, ২ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মহিলা সদস্য, ১ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরের বা বাঙালি মহিলা সদস্য এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের ৩ চেয়ারম্যানসহ সর্বমোট ২৫ জন সদস্য নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হবে। চেয়ারম্যান অবশ্যই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর হবেন এবং তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করবেন।
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ ব্যতীত আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্য সকল সদস্য জেলা পরিষদসমূহের সদস্যগণ কর্তৃক পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হবেন। তিন পার্বত্য জেলার চেয়ারম্যানগণ পদাধিকারবলে এর সদস্য হবেন এবং তাদের ভোটাধিকার থাকবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের ৩টি কাজ হলো-
১. পৌরসভাসহ স্থানীয় পরিষদসমূহ তত্ত্বাবধান ও তাদের কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন।
২. পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যাবলির সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন।
৩. পার্বত্য জেলাসমূহের সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়।
৪টি উৎসের ধারণা নিম্নরূপ-
ক) পার্বত্য জেলা পরিষদের তহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থ; যার পরিমাণ সময় সময় সরকার নির্ধারণ করবে;
খ) সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ঋণ ও অনুদান;
গ) কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
ঘ) পরিষদের অর্থ বিনিয়োগের থেকে অর্জিত মুনাফা।
আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ব্যাপরে বলা হয়েছে, সরকার আঞ্চলিক পরিষদ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কোনো আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করলে পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সাথে আলোচনাক্রমে এবং পরিষদের পরামর্শ বিবেচনাক্রমে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জেলা ও আঞ্চলিক পরিষদ আইনের বা কোনো বিধি-বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
স্থানীয় সরকার নাগরিক সেবার প্রান্তিক স্তর। কেননা সকল শ্রেণির মানুষ তাদের নানা প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার দপ্তরে যোগাযোগ করে। যেমন- শিক্ষার্থীদের পিতার আয়ের সনদপত্র সত্যায়িতকরণে এবং জন্মনিবন্ধনের সার্টিফিকেট তোলার প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে যেতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নাগরিকদেরকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার বিবরণ প্রকাশ করে, যা 'নাগরিক সনদ' নামে পরিচিত।
গ্রামে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা গ্রামের মানুষদেরকে সরকারের সাথে সংযুক্ত করে। স্থানীয় পর্যায়ে (ইউনিয়ন পরিষদের) বাজেট প্রণয়ন, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রকল্প/কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে থাকে। এছাড়া স্থানীয় কর নিরূপণ ও আদায়ে নাগরিকদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়।
গ্রামাঞ্চলে ছোটো ছোটো বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদ আদালত গঠন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গঠিত এ আদালতের নাম 'গ্রাম আদালত'। আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিবদমান দুই গ্রুপের দুইজন করে সদস্যসহ মোট ৫ জনকে নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।
আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালত একজন ব্যক্তিকে অনধিক ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে সাজা 1 প্রদান করার এখতিয়ার গ্রাম আদালতের নেই।
ক্ষমতায়ন বলতে সাধারণত সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণকে বোঝায়। অন্যদিকে, পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই নারীর ক্ষমতায়ন। যেমন- অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।
নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে। ১৯৫১ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) কর্তৃক একই ধরনের কাজের জন্য নারী ও পুরুষ শ্রমিকের জন্য একই বেতন এবং ১৯৫২ সালে নারীর রাজনৈতিক অধিকারের কথা ঘোষণা করে। ১৯৬০ সালে নারীর কর্মসংস্থান ও পেশার ক্ষেত্রে বৈষম্য বিলোপ সনদ প্রদান করা হয় যা ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।
১৯৯৭ সালের প্রণীত আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪৪৯৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ১৩,৪৫২টি নারী সদস্য পদ সৃষ্টি করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ৩টি করে সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়, যারা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরেও নারীর অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে নারীর ক্ষমতায়নের পথ সুগম হয়েছে।
বাংলাদেশের পার্বত্য তিন জেলায় বিশেষ ধরনের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ঐ অঞ্চলে বসবাসকারী ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা হয়েছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তাদের নাগরিক অধিকারের মর্যাদা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
জাতীয়ভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধির পার্থক্য হচ্ছে তাদেরকে মানুষ বেশি কাছে পায়। . কারণ তারা জনগণের কাছাকাছি থাকে। ফলে স্থানীয় নাগরিকরা তাদের জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারে। আর এভাবেই স্থানীয় পর্যায়ে ভোটাধিকার চর্চা নাগরিকদের গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন করে তোলে।
স্থানীয় সরকার হচ্ছে সমগ্র রাষ্ট্রকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করে ক্ষুদ্রতর পরিসরে প্রতিষ্ঠিত সরকারব্যবস্থা।
কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় সরকারের রূপ দুই ধরনের হয়।
প্রশাসনের এক একটি ইউনিট বলা হয় স্থানীয় সরকারকে।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার বলতে রাষ্ট্রকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করে স্থানীয় জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষুদ্রতর পরিসরে পরিচালিত সরকারব্যবস্থাকে বোঝায়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারকে জনসাধারণের প্রতিনিধিদের শাসন বলা হয়।
যে প্রশাসনে প্রশাসককে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়োগ দেয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা যার প্রধান কাজ তাকে স্থানীয় প্রশাসন বলে।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়।
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের শাসন কাঠামোর রূপ মুঘল আমল থেকে শুরু হয়।
বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিক থেকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়।
শহর এলাকায় রয়েছে পৌরসভা, জেলাপরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন।
পার্বত্য এলাকায় বিশেষ স্থানীয় সরকারের ব্যবস্থা রয়েছে।
একটি ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ড থাকে।
গড়ে ১০-১৫টি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত।
প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য ৯ জন।
১৩ জন সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।
বাংলাদেশের প্রতিটি স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকার কর্তৃক সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে সর্বমোট ৪৫৫৪টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ আইনে ইউনিয়ন পরিষদকে ৩৯টি কাজের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
৩টি উৎস হতে ইউনিয়ন পরিষদের আয় হয়ে থাকে।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের সংখ্যা দুজন।
উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলার ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ পদাধিকার বলে উপজেলা পরিষদের সদস্য হবেন।
উপজেলা পরিষদের কার্যকাল পাঁচ বছর হবে।
উপজেলা পরিষদকে ১৮টি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
তিনটি উৎস থেকে উপজেলা পরিষদের অর্থের সংস্থান হয়।
উপজেলা পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত কর, টোল, ফি এবং সরকার ও অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থ বা অনুদান ইত্যাদি উপজেলা পরিষদের আয়ের উৎস।
জেলা পরিষদ আইন বিলুপ্ত করা হয় ১৯৯১ সালে।
২০০০ সালে জাতীয় সংসদে জেলা পরিষদ আইন পাস হয়।
২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইনের অধীনে জেলা পরিষদকে ১২টি বাধ্যতামূলক কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জেলা পরিষদের প্রধানকে বলা হয় চেয়ারম্যান।
২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন করা হয়।
স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী একটি পৌরসভা কমপক্ষে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হবে।
পৌরসভার প্রধানকে বলা হয় মেয়র।
পৌরসভার মেয়র কাউন্সিলর হিসেবে গণ্য হন।
পৌরসভার মেয়াদ ৫(পাঁচ) বছর।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান শহরকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশন গড়ে উঠেছে।
সিটি কর্পোরেশন গঠনে শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হয়।
মেয়র সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলর হিসেবে গণ্য হন।
সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ ৫ বছর।
সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তন, আর্ট-গ্যালারি, তথ্যকেন্দ্র, জাদুঘর, মুক্তমঞ্চ ইত্যাদি নির্মাণ করে থাকে।
মহানগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশন ছোটখাটো বিচারকাজ সম্পাদন করে, শাক্তিরক্ষী নিয়োগ করে।
সিটি কর্পোরেশন মূলত ৮টি উৎস হতে আয় করে থাকে।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়।
তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি বিশেষ ধরনের জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ প্রবর্তন করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যেকটি জেলা পরিষদ ৩৪ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়।
পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর।
বাংলাদেশের তিন জেলাধীন সমগ্র এলাকাজুড়ে একটি আঞ্চলিক পরিষদ আছে।
২৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ জেলা পরিষদসমূহের সদস্যগণ কর্তৃক পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হবেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তা পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাহি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের মেয়াদ, হবে ৫ বছর।
মূলত ৭টি উৎসের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে আঞ্চলিক তহবিল গঠিত হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ব্যাপারে বলা হয়েছে, সরকার আঞ্চলিক পরিষদ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কোনো আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করলে পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সাথে আলোচনাক্রমে এবং পরিষদের বিবেচনাক্রমে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নাগরিকদেরকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য যে বিবরণ প্রকাশ করে তাই 'নাগরিক সনদ' নামে পরিচিত।
গ্রামাঞ্চলে, ছোট ছোট বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে আদালত গঠন করে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গঠিত এ আদালতের নামই গ্রাম আদালত।
ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গঠিত আদালতের নাম গ্রাম আদালত। প্রশ্ন ৬৩। আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালত একজন ব্যক্তিকে কত টাকা
আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালত একজন ব্যক্তিকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে।
নারীর ক্ষমতায়ন বলতে পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে বোঝায়।
১১৯৯৭ সালে প্রণীত আইনে ইউনিয়ন পরিষদে ১৩,৪৫২টি নারী সদস্যপদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
সমগ্র রাষ্ট্রকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করে ক্ষুদ্রতর পরিসরে কেন্দ্রীয় অথবা প্রাদেশিক সরকারের অধীনে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকারব্যবস্থাকেই স্থানীয় সরকার বলা হয়। স্থানীয় প্রশাসন হচ্ছে সেই প্রশাসন যেখানে প্রশাসক সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার নিয়োগ দেয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নই এর প্রধান কাজ। স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় জনগণ রাষ্ট্রের শাসনকার্যে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তাই স্থানীয় শাসন গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।
স্থানীয় প্রশাসকদের পক্ষে সঠিকভাবে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ চিহ্নিত করা সহজ হয়। স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি অবস্থান করে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে যথার্থ জ্ঞানলাভ করে। তাছাড়া স্থানীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়েও প্রশাসকগণ সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে। আর তাই স্থানীয় সরকার স্থানীয় পর্যায়ের নরাগরিকদেরকে যথাযথভাবে বিভিন্ন সেবা প্রদান করতে পারে।
মূলত তিনটি উৎস হতে ইউনিয়ন পরিষদের আয় হয়ে থাকে। যথা- (ক) রাজস্ব আয় (খ) সরকারি অনুদান (গ) অন্যান্য উৎস। এ তিনটি উৎসের মধ্যে রাজস্ব আয় হতে সবচেয়ে বেশি আয় করে থাকে ইউনিয়ন পরিষদ। রাজস্ব আয়ের মধ্যে সর্বমোট ১৫টি উৎস রয়েছে। আর সরকারি অনুদান হিসেবে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতনভাতাদি, উন্নয়ন খাতে অনুদান, থোক বরাদ্দ ইত্যাদি পেয়ে থাকে। অন্যান্য উৎসের মধ্যে রয়েছে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা, সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত মুনাফা বা ভাড়া, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থ।
স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ ইউনিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ বা পল্লির জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা, জবাবদিহিমূলক স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব কারণে ইউনিয়ন পরিষদকে নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলা হয়।
জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান ও একজন মহিলাসহ দুজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদসমূহের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও তিন জন মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত। ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংষদ সদস্যদেরকে পরিষদের পরামর্শকের ভূমিকা প্রদান করা হয়েছে। চেয়ারম্যান উপজেলা ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ অনুযায়ী একটি পৌরসভা কমপক্ষে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হবে। তবে আয়তন ও লোকসংখ্যা অনুযায়ী পৌরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বেশি হতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। আইন অনুযায়ী একজন মেয়র, এবং প্রতি ৩টি ওয়ার্ড থেকে একজন করে মহিলা সদস্য সরাসরি কাউন্সিলর এবং জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পৌরসভার মেয়র কাউন্সিলর হিসেবে গণ্য হন।
পাঠাগার স্থাপন পৌরসভার শিক্ষাসংক্রান্ত কাজ। পৌরসভা শহরের জনগণের স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্ব পালন করে। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পৌরসভাকে অনেকগুলো কাজ করতে হয়। তার মধ্যে একটি শিক্ষাসংক্রান্ত কাজ। পৌর এলাকার শিক্ষা বিস্তারের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ও নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন, পাঠাগার স্থাপন করা ইত্যাদি পৌরসভার শিক্ষাসংক্রান্ত কাজ।
পৌর এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ এবং বন সংরক্ষণ পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ। এছাড়াও জনগণের বিনোদনের জন্য পার্ক ও উদ্যান নির্মাণ, মিলনায়তন স্থাপন ও উন্মুক্ত পাঠাগার সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করে ইউনিয়ন পরিষদ।
বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পৌরসভা তার ব্যয়ভার নির্বাহ করে থাকে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ঘরবাড়ি, দোকানপাট, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সেবা এবং বিনোদনমূলক বিষয়ের উপর ধার্য কর, মার্কেট ভাড়া, হাটবাজার ও খেয়াঘাট ইজারা, লাইসেন্স পারমিট, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন ফি, সরকারি বরাদ্দ ইত্যাদি।
ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনযাপন পদ্ধতি সমতলবাসী বাঙালিদের চেয়ে প্রায় সম্পূর্ণ আলাদা। তাই সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলে একইরূপ স্থানীয় সরকারব্যবস্থা সমানভাবে কার্যকরী হয় না। এ কারণেই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। ফলে উক্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পৃথকভাবে গড়ে ওঠে।
স্থানীয় সরকার স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের যথাযথভাবে বিভিন্ন সেবা প্রদান করে। কেন্দ্রীয় প্রশাসকদের পক্ষে সঠিকভাবে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষা, তাদের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য তাদের স্থানীয় সরকারের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় সরকার বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে।
জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সকল শ্রেণির মানুষ তাদের নানা প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার দপ্তরে যোগাযোগ করে। যেমন- শিক্ষার্থীদের পিতার আয়ের সনদপত্র সত্যায়িতকরণে এবং জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট তোলার প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে যেতে হয়। নাগরিক সেবা সহজলভ্য করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বর্তমান ই-গভর্নেন্স চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে ঘরে বসে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুতগতিতে লাভ করতে পারবে। তাই বলা যায়, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই।
সকল শ্রেণির মানুষ তাদের নানা প্রয়োজনে স্থানীয় দপ্তরে যোগাযোগ করে। যেমন- শিক্ষার্থীদের পিতার আয়ের সনদপত্র সত্যায়িতকরণ এবং জন্মনিবন্ধনের সার্টিফিকেট তোলার প্রয়োজনে ইউনিয়ন অফিসে যেতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার বিবরণ প্রকাশ করে। যা 'নাগরিক সনদ' নামে পরিচিত। তাছাড়া বর্তমানে নাগরিক সেবা সহজলভ্য করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সরকার ই-গভার্নেন্স চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে ঘরে বসে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুতগতিতে লাভ করতে পারবে।
স্থানীয় সরকার নাগরিক সেবার প্রাণকেন্দ্র। কেননা সকল 'শ্রেণির মানুষ তাদের নানা প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার দপ্তরে যোগাযোগ করে। যেমন- শিক্ষার্থীদের পিতার আয়ের সনদপত্র সত্যায়িতকরণে এবং জন্মনিবন্ধনের সার্টিফিকেট তোলার প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে যেতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নাগরিকদেরকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার বিবরণ প্রকাশ করে, যা 'নাগরিক সনদ' নামে পরিচিত।
ইউনিয়ন পরিষদের বিচার ব্যবস্থা বলতে গ্রাম আদালত গঠনের মাধ্যমে ছোটখাটো অপরাধের নিষ্পত্তিকে বোঝায়। আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিবাদমান দুই গ্রুপের দুইজন করে সদস্যসহ মোট ৫ জনকে নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। যে ইউনিয়নে অপরাধ সংঘটিত হয় বা বিরোধ সৃষ্টি হয় সেই ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় এই আদালত গঠিত হয়। আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালত একজন ব্যক্তিকে অনধিক ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে সাজা প্রদান করার এখতিয়ার নেই। কোনো আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই গ্রাম আদালত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে বিধায় অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না।
গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গঠিত আদালতই হলো গ্রাম আদালত। আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যমান দু গ্রুপের দুজন করে মোট পাঁচজন সদস্যকে নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালত একজন ব্যক্তিকে অনধিক ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তিকে সাজা প্রদানের এখতিয়ার গ্রাম আদালতের নেই।
ক্ষমতায়ন বলতে সাধারণত সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণকে বোঝায়। অন্যদিকে, পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত। গ্রহণের ক্ষমতাই নারীর ক্ষমতায়ন। যেমন- অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। নারীর ক্ষমতায়ন সমতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থার প্রধান দিক।
স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন সর্বত্র নির্বাচনে জয়লাভ করে নাগরিক হিসেবে স্থানীয় সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হচ্ছে। আর তাই বলা যায়, বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক হলো নারী। সমাজের অর্ধেক অংশকে অধিকার বঞ্চিত রেখে কোনো সমাজ উন্নতি লাভকরতে পারে না বিধায় বর্তমানে সারাবিশ্ব নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ১৯৯৭ সালের প্রণীত আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪৪৯৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ১৩,৪৫২টি নারী সদস্যপদ সৃষ্টি করা হয়। এ আইন অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ৩টি করে সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়। যারা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। এভাবেই ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের পথ সুগম হয়েছে।
স্থানীয় সরকারকে গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়। কেননা, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশ সূচিত হয়। এর মাধ্যমে জনগণ সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে তাদের গণতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ লাভ করে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক মনোভাব তৈরিতে স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই। মূলত স্থানীয় সরকারের মাধ্যমেই রাজনীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। এজন্য স্থানীয় সরকারকে গণতন্ত্রের মাতৃসদন বা গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়ে থাকে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনগুলো হলো ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও বগুড়া। দেশের সর্বশেষ ১৩তম সিটি কর্পোরেশন বগুড়া।
পাঠাগার স্থাপন পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ।
পৌরসভা নানারকম উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। পাঠাগার স্থাপন তার মধ্যে অন্যতম। এটি পৌরসভার শিক্ষাসংক্রান্ত কাজের অন্তর্গত। পৌর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য পৌরসভা পাঠাগার স্থাপন করে।
জনাব রমিজ আলীর কাজগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
পৌরসভার মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী মনে করেন, মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন স্থাপন করলে এলাকার লোকজন তাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলবে। এতে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে এবং জনগণ বিভিন্ন রকম রোগ থেকে রক্ষা পাবে। নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটালে মশার বংশ ধ্বংস হবে। এতে এলাকাবাসী ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগ থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া মাতৃসদনে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েরা সেবা লাভ করলে তারা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। অকালে কোনো শিশু মারা যাবে না। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো মায়ের মৃত্যু হবে না। মা ও শিশুর জীবন নিরাপদ ও সুন্দর হবে।
উদ্দীপকে জনাব রমিজ আলী পৌরসভার একজন মেয়র। কেননা উপজেলা শহরের স্থানীয় সরকার হলো পৌরসভা। আর পৌরসভার প্রধান হলেন মেয়র। একজন মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কাজগুলো সম্পাদন করেছেন।
অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পৌরসভার প্রধান জনাব রমিজ আলীর কাজগুলো তার এলাকার উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
পৌরসভা প্রধান জনাব রমিজ আলীর সম্পাদিত কাজগুলো হলো মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন নির্মাণ, নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটানো, মাতৃসদন স্থাপন করে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েদের সেবা প্রদান প্রভৃতি। রমিজ আলীর এলাকার উন্নয়নের জন্য উক্ত কাজগুলো ছাড়াও আরও কাজের প্রয়োজন।
জনাব রমিজ আলীর পৌর এলাকার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রয়োজন। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, পাঠাগার স্থাপন প্রভৃতি কাজ রমজান আলীর সম্পাদন করতে হবে। পৌর এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও জনগণের বিনোদনের জন্য উদ্যান নির্মাণ, মিলনায়তন স্থাপন করতে হবে। আবার পৌর এলাকার জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য নৈশপ্রহরী নিয়োগ করতে হবে। এছাড়া সুপরিকল্পিত শহর গড়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পৌরসভায় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিকল্পিত শহর গড়ার জন্য বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি প্রদানসহ অননুমোদিত ও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিতে হবে। এছাড়া পৌরসভায় প্রধান জনাব রমজান আলীকে পৌর এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য সন্ত্রাস দমনসহ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক শহর গড়ার ক্ষেত্রে পৌরসভার উল্লিখিত কাজগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি।
১৯৯৭ সালে প্রণীত আইনে ইউনিয়ন পরিষদে ১৩,৪৫২টি নারী সদস্যপদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই নারীর ক্ষমতায়ন।
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অধিকারের সমতা প্রতিষ্ঠাই নারীর ক্ষমতায়নকে নির্দেশ করে। যেমন- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী হলেন নারী। এছাড়াও নারীরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন সবক্ষেত্রে নির্বাচনে জয়লাভ করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!