'শীল' শব্দের অর্থ হলো স্বভার বা চরিত্র। আবার নিয়মশৃঙ্খলা প্রভৃতিও শীল অর্থে ব্যবহৃত হয়।
শীলবান ব্যক্তি দয়াশীল, ক্ষমাপরায়ণ, দানপরায়ণ, সেবাপরায়ণ এবং পরোপকারী। তাদের চিত্ত উদার হয় এবং তারা সর্বদা কুশলকর্ম সম্পাদন করেন। তারা কখনো মানুষের ক্ষতি সাধন করেন না। তারা মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনের উপদেশ এবং উৎসাহিত করেন।
কয়েকটি নৈতিক কাজের উদাহরণ হলো-সত্যভাষণ, পরোপকার, সেবা, দান, মৈত্রীভাব পোষণ, সৎ বাণিজ্য প্রভৃতি।
শীল শব্দের অর্থ হলো স্বভাব বা চরিত্র। যা নিয়মশৃঙ্খলা, নৈতিকতা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। শীল মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন চরিত্র গঠনে সহায়তা করে। কায়, মন এবং বাক্য সংযত করে মনের কলুষতা দূর করে। নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে।
যাঁরা শীল পালন করেন তাঁদের বলা হয় শীলবান। শীলবান ব্যক্তি সর্বত্র পূজিত হয়। তিনি প্রভূত যশ-খ্যাতির অধিকারী হন। এ প্রসঙ্গে বুদ্ধ বলেছেন, "ফুলের সৌরভ কেবল বাতাসের অনুকূলে প্রবাহিত হয়। কিন্তু শীলবান ব্যক্তি যশ-খ্যাতির বার্তাসের অনুকূল এবং প্রতিকূল উভয় দিকে প্রবাহিত হয়।"
আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে মহামানব গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রাজা শুদ্ধোদন ও মাতা মহামায়া। মানুষের দুঃখমুক্তির উপায় অন্বেষণে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করে ছয় বছর সাধনা করে বুদ্ধত্ব লাভ করেন। তাঁর প্রতিটি ধর্মবাণী মানুষকে নৈতিক, সংযমী, আদর্শবান ও মানবিক করে গড়ে তোলে।
রাজা মন্ত্র জানতে চাইলে গৌতম বুদ্ধ বলেন, "আমরা অন্য কোনো মন্ত্র জানি না। তবে আমরা প্রাণী হত্যা করি না। চুরি করি না। কুপথে চলি না। মিথ্যা বলি না। মাদক গ্রহণ করি না। জনহিতকর কাজ করি। যথাসাধ্য দান ও মৈত্রী প্রদর্শন করি। ধর্ম পালন করি। এই মৈত্রীই আমাদের শক্তি; আমাদের মূলমন্ত্র।"
গৌতম বুদ্ধ ভিক্ষুদের আচরণকে অনৈতিক ও অয়ানবিক বলে তিরষ্কার করেন এবং হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করার উপদেশ দেন। তিনি বলেন, "দরিদ্রের সহায় হওয়া, অরক্ষিতকে রক্ষা করা, রোগীর সেবা করা, মোহাচ্ছন্নকে মোহমুক্ত করা সকলের নৈতিক কর্তব্য। সেবার দ্বারাই প্রকৃত সুখ লাভ করা যায়।"
গৌতম বুদ্ধ ধর্ম দেশনার সময় অনেক নৈতিক উপদেশ দান করেছেন। তাঁর মধ্যে দুটি হলো-
১. মৈত্রী দ্বারা ক্রোধকে জয় করবে। অসাধুকে সাধুতা দ্বারা জয় কররে। কৃপণকে দান আর মিথ্যাবাদীকে সত্য-দ্বারা জয় করবে।
২. পাপী মিত্র ও অধম ব্যক্তির সংসর্গ না করা উচিত। কল্যাণ মিত্র ও সাধু ব্যক্তির সংসর্গ করবে।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নৈতিকতা অনুশীলন করা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণিকক্ষেও নৈতিকতা অনুশীলন করা যায়। যেমন- শিক্ষকের উপদেশমতো মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া করা, সহপাঠীর বই, খাতা, কলম প্রভৃতি না বলে নেওয়া, মিথ্যা না বলা, কাউকে কষ্ট বা আঘাত না দেওয়া, গরিব বন্ধুদের সাহায্য করার মাধ্যমে নৈতিকতার অনুশীলন হয়।
ধর্মগ্রন্থ মতে, মন্দ কাজ করলে মানুষকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। মন্দ কাজ ও মন্দ ব্যক্তিকে সবাই ঘৃণা করে। মন্দ ব্যক্তি সর্বত্র নিন্দিত হয়। মন্দ কাজ সমাজে নানা রকম বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি করে। মন্দ কাজ মানুষকে বিবেকহীন করে তোলে। তাই মন্দ কাজ পরিত্যাগ করা উচিত।
নীতিবান ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল; পরোপকারী, সেবা পরায়ণ, সহনশীল, নির্লোভ, সংযমী, ক্ষমাপরায়ণ, মৈত্রীপরায়ণ, সত্যবাদী ও আত্মবিশ্বাসী হন। তিনি ব্যভিচার, অধিকারহীন অর্থবিত্ত, নেশাদ্রব্য, মূর্খ সঙ্গী ইত্যাদি বর্জন করেন এবং সর্বদা কুশলকর্ম সম্পাদন করেন।
শীল বা নৈতিকতা পালনের সুফল অনেক। যেমন-
১. শীল পালনকারীর সুকীর্তি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
২. তিনি নিঃসঙ্কোচে নির্ভয়ে সর্বত্র উপস্থিত হতে পারেন।
৩.. মৃত্যুকালে তাঁর চিত্তভ্রম না হয়ে সজ্ঞানে মৃত্যু হয়।
৪. তিনি মৃত্যুর পর স্বর্গ ও নির্বাণ লাভ করেন।
যারা শীল পালন করেন তারা শীলবান নামে পরিচিত। শীলবান ব্যক্তি সর্বত্র পূজিত। শীলবান ব্যক্তি দয়াশীল, ক্ষমাপরায়ণ, দানপরায়ণ, সেবাপরায়ণ এবং পরোপকারী হয়ে থাকেন। তাদের চিত্ত উদার, তারা সর্বদা কুশল কর্ম সম্পাদন করেন, তারা কখনও মানুষের ক্ষতি সাধন করেন না। তারা মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনের উপদেশ দেন এবং উৎসাহিত করেন। তাই শীলবান ব্যক্তি ইহকাল এবং পরকাল উভয়কালেই সুখ লাভ করেন।
বুদ্ধ শীলবান ব্যক্তির অনেক প্রশংসা করেছেন। বুদ্ধ বলেছেন, শীল পালনের ফলে শীলবান ব্যক্তি প্রভূত ধনসম্পদ অর্জন করেন। তার সুকীর্তি সর্বত্র ঘোষিত হয়, তিনি নিঃসঙ্কোচে ও নির্ভয়ে সর্বত্র উপস্থিত হতে পারেন। মৃত্যুকালে তার চিত্তভ্রম না হয়ে সজ্ঞানে মৃত্যু হয় এবং তিনি মৃত্যুর পর স্বর্গ ও নির্বাণ লাভ করেন।
যারা শীল পালন করেন তারা শীলবান নামে অভিহিত হন। শীলরান ব্যক্তি সর্বত্র পূজিত হন এবং প্রভূত যশ-খ্যাতির অধিকারী হন। বুদ্ধ বলেছেন, "ফুলের সৌরভ কেবল বাতাসের অনুকূলে প্রবাহিত হয়। কিন্তু শীলবান ব্যক্তির যশখ্যাতি বাতাসের অনুকূল এবং প্রতিকূল উভয় দিকে প্রবাহিত হয়।” শীলবান ব্যক্তি দয়াশীল, ক্ষমাপরায়ণ, দানশীল, সেবাপরায়ণ এবং পরোপকারী হন। তাদের চিত্ত উদার হয়। তারা সর্বদা কুশল কর্ম সম্পাদন করেন, কখনও মানুষের ক্ষতি সাধন করেন না। তারা মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনের উপদেশ দেন এবং উৎসাহিত করেন। শীলবান ব্যক্তি ইহকাল ও পরকাল উভয়কালেই সুখ লাভ করেন।
নৈতিকতা অনুশীলনকারীকে নীতিবান বলা হয়। নীতিবান ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল, পরোপকারী ও সেবাপরায়ণ হন। সহনশীল, নির্লোভ, সংযমী, ক্ষমাপরায়ণ, মৈত্রীপরায়ণ, সত্যবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী হন। নীতিবান ব্যক্তি ব্যভিচার, অধিকারহীন অর্থ বিত্ত, মাদকদ্রব্য, অসৎ সঙ্গ, মূর্খ সঙ্গী ইত্যাদি বর্জন করেন। তিনি সর্বদা কুশল কর্ম সম্পাদন করেন। পরের মঙ্গল সাধনে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন। তার দ্বারা পরিবার, সমাজ ও দেশ উপকৃত হয়।
আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও আগে মহামানব গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। রাজা শুদ্ধোদন এবং রানি মহামায়া ছিলেন তাঁর পিতা-মাতা। মানুষের দুঃখমুক্তির উপায় অন্বেষণের জন্য তিনি রাজপ্রাসাদ, পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র, ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে সন্ন্যাস জীবন অবলম্বন করেন। সুদীর্ঘ ছয় বছর কঠোর সাধনায় তিনি লাভ করেন বোধিজ্ঞান, খ্যাত হন 'বুদ্ধ' নামে। তিনি আবিষ্কার করেন চারি আর্যসত্য, দুঃখ নিরোধের উপায় আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ এবং জন্ম-মৃত্যুর কারণ প্রতীত্যসমুৎপাদ তত্ত্ব। সর্ব প্রাণীর কল্যাণের জন্য তিনি প্রচার করেন তাঁর ধর্ম-দর্শন। তাঁর প্রতিটি ধর্মবাণী মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। সংযমী, আদর্শবান এবং মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলাই বুদ্ধের নৈতিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য। এ অধ্যায়ে আমরা গৌতম বুদ্ধের নৈতিক শিক্ষা সম্পর্কে অধ্যয়ন করব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- বুদ্ধ নির্দেশিত নৈতিকতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- দৈনন্দিন জীবনে বুদ্ধের নৈতিক শিক্ষার প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- নৈতিক আচরণের সুফল ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allগৌতম বুদ্ধের পিতার নাম রাজা শুদ্ধোদন।
নৈতিক ও শীল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। 'নৈতিকতার' অর্থ নিয়মনীতি মেনে চলে সুশৃঙ্খল ও সৎ জীবনযাপন করা আর 'শীল' অর্থ হলো স্বভাব বা চরিত্র। বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের সংযত, আদর্শ এবং নৈতিক জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য তিনি বেশকিছু নিয়মনীতি বা বিধি-বিধান প্রবর্তন করেছেন। বৌদ্ধ পরিভাষায় এসব নৈতিক বিধিবিধানই হলো শীল।
সুশীল চাকমার ঘটনাটি বৃদ্ধের বোদ্ধিসত্ত্ব জীবনের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। গৌতম বুদ্ধ মচল গ্রামের যুবকদের কুশলকর্ম করার জন্য সংগঠিত করেন। কারণ ঐ গ্রামের যুবকরা হত্যা, চুরি, মিথ্যাচার, ব্যভিচার, মাদকদ্রব্য সেবন এমন অনেক অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তাদেরকে নিয়ে বৃদ্ধ গ্রামের রাস্তাঘাট নির্মাণ, মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতেন। সেতু নির্মাণ, পুষ্করিণী খনন, বৃক্ষরোপণ, জমিচাষের জন্য জলাধার ও পুণ্যকর্ম সম্পাদন করতেন। যুবকরা বোধিসত্ত্বের উপদেশ মতো সকল প্রকার অকুশল কর্ম পরিত্যাগ করে পঞ্চশীল পালন করতে শুরু করে। ফলে গ্রামে অপরাধকর্মগুলো বন্ধ হয়ে যায়। শেষে বোধিসত্ত্ব ও যুবকদের নৈতিক ও জনহিতকর কাজের জন্য রাজা তাদের পুরস্কৃত করেন।
গ্রামবাসীর উন্নয়নে উদ্দীপকে সুশীল চাকমার গৃহীত পদক্ষেপটি বৌদ্ধধর্মের দৃষ্টিতে নৈতিক দায়িত্ব।
প্রতিদিন নানা কাজ করে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। ভালো কাজ শান্তি প্রতিষ্ঠা করে এবং অপরের মঙ্গল সাধন করে। অপরদিকে মন্দ কাজ ক্ষতিকর ও নিন্দনীয়। সত্যভাষণ, পরোপকার, সেবা, দান, মৈত্রীভাব পোষণ, সৎ বাণিজ্য ইত্যাদি নৈতিক কাজ। ধর্মীয় বিধিবিধানে মন্দ কাজ না করা এবং ভালো কাজ সম্পাদন করার নির্দেশনা রয়েছে। নৈতিকতা হলো ভালো ও মন্দ কাজের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের মানদণ্ড। বুদ্ধ নৈতিকতা অনুশীলনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। দৈনন্দিন বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমরা নৈতিকতার চর্চা করতে পারি। সুশীল চাকমা বিহারে যাওয়ার পথটি বেশ সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে এবং গ্রামের যুবকদের সহযোগিতায় সংস্কার ও মেরামত করেন, যা একটি জনহিতকর এবং নৈতিক কাজ। সুশীল চাকমার গৃহীত পদক্ষেপটি বৌদ্ধধর্মের দৃষ্টিতে এভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়।
এখন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মহামানব গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন।
মানুষের দুঃখ মুক্তির উপায় অন্বেষণের জন্য মহামানব বুদ্ধ রাজপ্রাসাদ, পিতামাতা, স্ত্রী-পুত্র, ভোগবিলাস বর্জন করে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর সাধনা করে তিনি বোধিজ্ঞান লাভ করেন। এভাবেই তিনি বুদ্ধ নামে খ্যাত হলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!