পিপ্পলী মানবগৃহ ত্যাগ করে ডানদিকে যাত্রা করেন। পিপ্পলী মানবের স্ত্রী বামদিকে যাত্রা করেন। তাঁরা উভয়ই বুদ্ধের উদ্দেশ্যে সংসার ত্যাগ করেন। স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও কঠিন ত্যাগের প্রকাশ এবং গুণপ্রভাবই হঠাৎ ভূমিকম্প ও ভয়ানক শব্দ হওয়ার কারণ হয়েছিল।
আম্রপালির জন্ম হয়েছিল বৈশালীর রাজোদ্যানের একটি বড় আম গাছের নিচে। উদ্যান রক্ষক তাঁর লালন-পালন করেন। আমগাছ তলায় জন্ম বলে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল আম্রপালি।
অনাথপিণ্ডিক শ্রাবস্তীতে জেতবনে বিহার নির্মাণ করেন। বিহারের নাম রাখা হয় 'অনাথপিণ্ডিকের আরাম'। বুদ্ধ উনিশবার অনাথপিণ্ডিক আরামে বর্ষাবাস যাপন করেছিলেন।
পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী ও গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে। যাঁরা মানুষের কল্যাণে অনেক মহৎ কর্মসম্পাদন করেছেন। কর্মগুণে তাঁরা পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন। তাঁদের জীবনী পাঠ করে মানুষ নৈতিক জীবনযাপন পরিচালনা এবং কুশল ও মহৎ কর্ম সম্পাদনে উদ্বুদ্ধ হয়। তাই সকলের আদর্শ চরিতমালা পাঠ করা প্রয়োজন।
পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী ও গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে। যাদের কর্ম-জ্ঞান-প্রজ্ঞা তাঁদের মহান করে তুলেছে। বৌদ্ধ সাহিত্যেও এরুপ অনেক ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, শ্রেষ্ঠী এবং উপাসক-উপাসিকার উল্লেখ পাওয়া যায়, যাঁরা স্বীয় কর্মগুণে অমর হয়ে আছেন। সেই ভিক্ষুদের থের বা স্থবির এবং ভিক্ষুণীদের খেরী বলা হয়।
মহাকশ্যপ ছিলেন বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক। বহু জন্মের পুণ্যফলে তিনি ব্রহ্মলোকে জন্মগ্রহণ করেন এবং গৌতম বুদ্ধের সময় কপিল ব্রাহ্মণের ঘরে জন্ম নেন। সংসার ত্যাগ করে বুদ্ধের কাছে দীক্ষা নেন এবং দীক্ষা গ্রহণের মাত্র আটদিনেই অর্হত্ব ফল লাভ করেন। তিনি মহাজ্ঞানী ও শীলবান ভিক্ষু এবং বুদ্ধের শ্রেষ্ঠ শিষ্য ছিলেন।
পিপলী মানব গৃহত্যাগের সংকল্প নিলে স্ত্রী ভদ্রা কপিলানিও গৃহত্যাগের সংকল্প নেন। তখন স্বামী বলেন, আমাদের একসাথে গৃহত্যাগ করা উচিত হবে না। লোকে ভাববে গৃহত্যাগ করা সত্ত্বেও স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বাস করছেন। এতে লোকে পাপ হবে। তাই তাঁরা একপথে না গিয়ে স্ত্রী ডান দিকে ও স্বামী বাম দিকে যাত্রা করেন।
মহাকশ্যপ থের-এর দুটি উপদেশ নিচে দেওয়া হলো-
১. প্রব্রজিতরা কখনো পৌরহিত্যে আত্মনিয়োগ করবে না। কারণ পৌরহিত্য কাজে চিত্ত বিকারগ্রস্ত হয়। ভিক্ষুগণ রস ও তৃষ্ণায় অনুরক্ত হয়। ফলে মার্গ লাভ হয় না।
২. ভিক্ষগুণ বহু কাজে যোগদান করবে না। পাপীমিত্র বর্জন করবে। বস্তুগত লাভ বৃদ্ধির চেষ্টা করবে না।
বহু জন্মের পুণ্য সঞ্চয় করে গৌতম বুদ্ধের সময় শ্রাবস্তীর এক শ্রেষ্ঠী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন উৎপলবর্ণা। 'উৎপল' শব্দের অর্থ নীল পদ্ম। তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল নীল পদ্মের মতো। তাই এরূপ নামকরণ করা হয়েছিল। গৌতম বুদ্ধের শিষ্য-শিষ্যাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ ঋদ্ধিশক্তির অধিকারী ছিলেন।,
পূর্বজন্মে অন্য ভিক্ষুণীদের সাথে আম্রপালি চৈত্যপূজায় যোগদান করেন। সেখানে পূজা শেষে এক বয়োজ্যেষ্ঠ ভিক্ষুণী হঠাৎ চৈত্যের অঙ্গনে থুতু ফেলেন। এই দেখে আম্রপালি তাঁকে কটূক্তি করেন। এই কটূক্তিজনিত পাপের ফলে গৌতম বুদ্ধের সময় তাঁকে ঘরের বাইরে গাছের নিচে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছে।
আম্রপালির জীবন পাঠের মাধ্যমে এই শিক্ষা পাই, কর্মের প্রায়শ্চিত্ত সকলকেই ভোগ করতে হবে। কর্মের ফল থেকেই কেউই রেহাই পায় না। সবসময় ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কাউকে কটু কথা বলা উচিত নয়। কর্মের পরিণাম চিন্তা করে হলেও সকলের অকুশলকর্ম হতে বিরত থাকা উচিত।
সুদত্ত শ্রেষ্ঠী অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। গবির ও দুঃখীদের তিনি মুক্তহস্তে দান করতেন। কোনো অসহায় মানুষ তাঁর বাড়ি থেকে শূন্য হাতে ফিরত না। বিশেষত তিনি অনাথদের পিন্ডি দান করতেন। পিন্ড হলো আহার বা খাদ্যদ্রব্য। অনাথদের পিন্ড দান করতেন বলেই তিনি 'অনাথপিণ্ডিক' নামে খ্যাত হন।
শ্রেষ্ঠী অনাথপিণ্ডিক অত্যন্ত বুদ্ধভক্ত ছিলেন। তিনি আঠারো কোটি স্বর্ণমুদ্রা ব্যয়ে জেতবন বিহার নির্মাণ করেন। ভিক্ষুসংঘসহ বুদ্ধকে তিন মাসব্যাপী আপ্যায়ন ও সেবার জন্য আরও আঠারো কোটি স্বর্ণমুদ্রা দেন। প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে প্রায় পাঁচশ ভিক্ষুকে সেবাদানের ব্যবস্থা ছিল। এসব মহাদেরন জন্য বৃদ্ধ 'শ্রেষ্ঠ দায়ক' উপাধি দিয়েছিলেন।
উৎপলবর্ণা রূপে ও গুণে অদ্বিতীয় ছিলেন। তাঁর রূপে-গুণে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে রাজা, মহারাজা, শ্রেষ্ঠী তাঁর পিতার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। শ্রেষ্ঠী বুঝতে পারলেন, এতে এক রাজার সাথে মেয়ের বিয়ে দিলে অন্য রাজার ক্রদ্ধ হবেন, যুদ্ধ-বিগ্রহ হবে। অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। এ বিপদ থেকে বাঁচতে পিতা উৎপলবর্ণাকে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করতে বলেন।
গৌতম বুদ্ধের সময় উৎপলবর্ণা শ্রাবস্তীর এক শ্রেষ্ঠী পরিবারে জন্ম নেন। 'উৎপল' শব্দের অর্থ নীল পদ্ম। তাঁর গায়ের রং ছিল নীল পদ্মের মতো। তাই তাঁর এরূপ নামকরণ করা হয়েছিল।
প্রব্রজ্যা গ্রহণের অল্প দিনের মধ্যেই উৎপলবর্ণার ওপর উপোসথ কক্ষের কিছু কাজের ভার অর্পিত হলো। দায়িত্ব হিসেবে তিনি উপোসথ গৃহের বিভিন্ন কর্ম সম্পাদন করতেন। তিনি ধ্যান সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। সাধনার বলে তিনি প্রথমে পূর্বজন্মের স্মৃতি, পরচিত্ত, জ্ঞান, দিব্যচক্ষু, দিব্যশ্রুতি জ্ঞান ও ঋষিশক্তি লাভকরেন। পরিশেষে এভাবেই উৎপলবর্ণা অর্হত্বফল লাভ করেন।
একদিন অন্যান্য ভিক্ষুণীদের সাথে আম্রপালি চৈত্য পূজায় যোগ দেন। পূজা শেষে চৈত্য প্রদক্ষিণের সময় তাঁর সামনে ছিলেন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ অর্হৎ ভিক্ষুণী। সেই ভিক্ষুণী হঠাৎ চৈত্যের অঙ্গনে থু থু ফেলেন আর এটি দেখে আম্রপালি বয়োজ্যেষ্ঠ ভিক্ষুণীকে লক্ষ্য করে কটুক্তি করেন। এ কটুক্তিজনিত পাপের ফলে গৌতম বুদ্ধের সময় তাঁকে ঘরের বাইরে গাছের নিচে জন্ম হয়েছে এবং তিনি সংসার জীবনযাপন করতে পারেননি।
Related Question
View Allমহাকশ্যপ ছিলেন বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক।
গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের পর তাঁর ধর্মবাণী সংগ্রহের জন্য এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যা প্রথম মহাসঙ্গীতি নামে অভিহিত। মহাকশ্যপ থের এ সঙ্গীতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন। ধর্মবাণী সংগ্রহের জন্য পাঁচশত অর্হৎ ভিক্ষু নির্বাচিত করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সুচিত্রার ঘটনাটি থেরী উৎপলবর্ণার জীবনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুচিত্রার কাহিনিটি উৎপলবর্ণা থেরীর চরিত্রটিকে নির্দেশ করে।
উৎপলবর্ণা ছিলেন অপরূপা। শৈশব থেকে তিনি ধর্মপরায়ণ ছিলেন। বড় হয়ে তিনি প্রায় পদমুত্তর বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনতে বিহারে যেতেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ ভিক্ষুণী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। উৎপলবর্ণার রূপ-গুণে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে রাজা, মহারাজা ও শ্রেষ্ঠীগণ তাঁকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব পাঠায়। তাকে বিয়ে করা নিয়ে রাজাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দ্বন্দ্বের উপক্রম হয়। এতে উৎপলবর্ণা প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে বিহারে ধর্মচর্চায় অনুপ্রাণিত হয়।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে সুচিত্রার ঘটনাটি থেরী উৎপলবর্ণার জীবনীকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের উক্তিটির সাথে আম্রপালির জীবন কাহিনির সাদৃশ্য রয়েছে। আম্রপলির জীবনী বিশ্লেষণ করলে উক্তিটির যথার্থতা পাওয়া যায়।
আম্রপালি বৈশালীর রাজোদ্যানে একটি বড় আমগাছের নিচে জন্মগ্রহণ করেছিল বলে তাঁকে আম্রপালি নামে ডাকা হয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আম্রপালি অপূর্ব সুন্দরী হয়ে ওঠে। তার রূপ সৌন্দর্যে আশপাশের রাজ্যের রাজপুত্রগণ মুগ্ধ হন। সব রাজপুত্রই তাঁকে বিয়ে করার সংকল্প করেন। ফলে রাজপুত্রদের মধ্যে কলহ দেখা দেয়। তাই কলহ অবসানে আম্রপালি কাউকে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি রাজনর্তকীর জীবন বেছে নেন এবং সকল রাজপুত্রের সাথে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করেন।
অনিত্যতা মধ্য বয়সে একদিন বৃদ্ধের ধর্মদেশনা শুনে জীবনের অনিত্যতা উপলব্ধি করেন। সে বুঝতে পারেন মোহ, দেহ, রূপ, যৌবন সবই নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী।
সুতরাং উদ্দীপকে অর্পণার উক্তিটির সাথে আম্রপালির জীবন কাহিনি সাদৃশ্যপূর্ণ।'
'ঋদ্ধি' শব্দের অর্থ হচ্ছে ধ্যান-সাধনার প্রভাবে অলৌকিক ক্ষমতা, অর্জন।
দীক্ষা গ্রহণের আটদিন পর মহাকশ্যপ মহত্ত্ব ফল লাভ করেন। গৌতম বুদ্ধ ভিক্ষুদের ডেকে মহাকশ্যপের অশেষ গুণের প্রশংসা করলেন। বুদ্ধের ধর্ম দর্শনে তিনি অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তাঁর অশেষ গুণাবলির কথা বিবেচনা করে ভিক্ষুগণ তাঁকে অগ্রমহাশ্রাবক পদে অধিষ্ঠিত করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!