এসিড পানিতে H4 আয়ন তৈরি করে।
জৈব এসিড পানিতে আংশিক বিয়োজিত
হয়।
CH3COOH দুর্বল এসিড।
কার্বনিক এসিড জৈব এসিড না হলেও দুর্বল এসিড।
খনিজ এসিড পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে H3 তৈরি করে।
বোলতা ও বিচ্ছুর হলে হিস্টামিন থাকে ।
পাকস্থলীতে খাবার হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড প্রয়োজন ।
পাকস্থলীতে খাবার হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড প্রয়োজন ।
পাকস্থলীতে খাবার হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড প্রয়োজন ।
ভিটামিন সি ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক।
আচার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহার করা হয় ।
দই-এ ল্যাকটিক এসিড থাকে ।
কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ফোলাতে বেকিং সোডা ব্যবহৃত হয় ।
IPS এর ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয় ।
লেবু, কমলা, পেয়ারা, আমলকীতে জৈব এসিড থাকে।
CH3COOH ভিনেগারের সংকেত।
এসিড ছুড়ার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
টুথপেস্ট ক্ষারীয় পদার্থ ।
এসিড ব্যবহারের ফলে নীল লিটমাসের বর্ণ লাল হয়।
ক্ষার ব্যবহারের ফলে লাল লিটমাসের বর্ণ নীল হয়।
পাকস্থলীতে খাদ্য হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড প্রয়োজন।
পাকস্থলীতে খাদ্য হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড প্রয়োজন।
পাকস্থলীতে খাদ্য হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড প্রয়োজন।
কোনো কারণে পাকস্থলীতে এসিড বেড়ে গেলে এই অবস্থাকে এসিডিটি বলা হয়।
দই হজমে সহায়তা করে, কারণ এতে রয়েছে ল্যাকটিক এসিড।
কোনো পদার্থ এসিড, ক্ষার না নিরপেক্ষ তা pH নির্দেশকের মাধ্যমে জানা যায়।
বিশুদ্ধ পানির pH3 ৭।
নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণের pH মান ৭।
কোনো দ্রবণের pH ৭ থেকে বেশি হলে দ্রবণটির প্রকৃতি ক্ষারীয় হবে।
আমাদের ধমনির রক্তের pH ৭.৪ ।
আমাদের জিহ্বার লালার pH ৬.৬ হলে তা সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে ।
পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের জন্য দরকারী pH এর মান ২।
নাইট্রেট ও ফসফেট সার ক্ষারীয় মাটিতে ব্যবহার করা হয়।
ইউনিভার্সাল নির্দেশক কালার চার্টের সাহায্যে pH নির্ণয় করা হয় ।
ক্ষারক পানিতে OH আয়ন উৎপন্ন করে।
ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে ।
মিথাইল রেড' ক্ষারকের মধ্যে হলুদ রঙ ধারণ করে ।
মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশকটি কমলা বর্ণের ।
ফেনলফথ্যালিন ক্ষারকে ধারণকৃত রং গোলাপি।
ফেনলফথ্যালিন নির্দেশকটি বর্ণহীন ।
মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয় ।
পিপড়ার কামড়ের মাধ্যমে ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয় ।
ক্যালামিনের সংকেত ZnCO3
ক্যালামিন লোশনের মূল উপাদান Zn CO3
মিল্ক অব লাইমের সংকেত [Ca (OH)2]।
অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির কারণে আমরা এন্টাসিড খাই ।
পাকস্থলীতে এসিডিটি তৈরির জন্য HC এসিড দায়ী ।
note: no answer
ক্ষার এসিডকে প্রশমিত করে লবণ উৎপন্ন করে ।
টুথপেস্টের pH ৯-১১।
লবণের সাধারণ ধর্ম নিরপেক্ষ ।
বেকিং সোডার সংকেত NaHCO3
প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে লবণ উৎপন্ন হয়।
সোডিয়াম মুটামেট টেস্টিং সল্ট নামে পরিচিত।
কাপড় কাচার সাবানে যে লবণ থাকে তার নাম সোডিয়াম স্টিয়ারেট।
জীবাণুনাশক হিসেবে ফিটকিরি ব্যবহার করা হয় ।
CuSO4-এর বাণিজ্যিক নাম তুঁতে ।
খাবার লবণের সংকেত NaCl
শৈবালের উৎপাদন বন্ধে CuSO4 খুব কার্যকরী ।
শিল্প-কারখানায় অপরিহার্য উপাদান লবণ।
চামড়া শিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে লবণ প্রয়োজন ।
টেক্সটাইল ও রং তৈরি কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন ।
ডিটারজেন্ট তৈরিতে লবণ ফিলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
জৈব এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরিভাবে বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয়। অর্থাৎ যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো থেকে হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত হয় না। সেজন্য এই এসিডগুলোকে দুর্বল এসিড বলে।
খনিজ এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত করে। অর্থাৎ যতগুলো এসিডের অণু থাকে, তার সবগুলোই বিয়োজিত হয়। সেজন্য এই এসিডগুলোকে শক্তিশালী এসিড বলে।
জলীয় দ্রবণে কার্বলিক এসিড সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হতে পারে না। এর অধিকাংশ অণুই অবিয়োজিত অবস্থায় রয়ে যায়। ফলে দ্রবণে বিমুক্ত হাইড্রোজেন আয়নের পরিমাণ তুলনামূলক কম হয়। এ কারণে খনিজ এসিড হওয়া সত্ত্বেও কার্বলিক এসিড একটি দুর্বল এসিড।
যেসব এসিড পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয় তাদের দুর্বল এসিড বলে। এসিডসমূহ পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত করে। তবে কিছু কিছু এসিড বিশেষ করে জৈব এসিডসমূহ (যেমন- এসিটিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, অক্সালিক এসিড) পানিতে পুরোপুরিভাবে বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয় অর্থাৎ যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো হাইড্রোজেন আয়ন বিমুক্ত করে না। এজন্য এ এসিডসমূহ দুর্বল এসিড হিসেবে পরিচিত।
নিচে দুটি দুর্বল এসিডের নাম ও সংকেত লিখা হলো:
১. সাইট্রিক এসিড (C₂H₂O7) ও
২. অক্সালিক এসিড (HOOC-COOH)।
নিচে দুটি শক্তিশালী এসিডের নাম ও সংকেত লিখা হলো:
১. সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ও
২. নাইট্রিক এসিড (HNO3)।
এসিডসমূহ পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') তৈরি করে। তবে জৈব এসিডসমূহ পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয় না। অক্সালিক এসিড একটি জৈব এসিড। এ এসিড পানিতে আশিক বিয়োজিত হয় অর্থাৎ যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো হাইড্রোজেন আয়ন (H') তৈরি করে না। এজন্য অক্সালিক এসিডকে দুর্বল এসিড বলা হয়।
দুর্বল ও শক্তিশালী এসিডের মধ্যে পার্থক্য করতে এসিডে পানি যোগ করতে হবে। এসিডটি পানিতে সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন তৈরি করলে সেটি শক্তিশালী এসিড। আবার এসিডটি আংশিকভাবে বিয়োজিত হলে সেটি দুর্বল।
যেসব এসিড পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (I') উৎপন্ন করে তাদের শক্তিশালী এসিড বলা হয়। HCI একটি শক্তিশালী এসিড, কারণ HCI পানিতে সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়ে IH' আয়ন উৎপন্ন করে
কার্বনিক এসিডকে দুর্বল এসিড বলা হয়। কারণ কার্বনিক এসিড যখন জলীয় দ্রবণে যায় তখন তা সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয় না অর্থাৎ দ্রবণে যতগুলো এসিডের অণু উপস্থিত থাকে তার সমান সংখ্যক হাইড্রোজেন আয়ন (H') পাওয়া যায় না। অর্থাৎ এটি দ্রবণে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয়। তাই কার্বনিক এসিড জৈব এসিড না হলেও একটি দুর্বল এসিড
এসিডসমূহ পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত করে। তবে জৈব এসিডসমূহ পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয় না। CH,COOH একট জৈব এসিড। এ. এসিড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয় অর্থাৎ যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত করে না। এজন্য CH3COOH কে দুর্বল এসিড বলা হয়।
H₂SO₄ কে এসিড বলা হয়। কারণ এটি জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H') দান করে, নীল লিটমাসকে লাল করে এবং ক্ষারের সাথে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
এগুলো সবই এসিডের বৈশিষ্ট্য হওয়ায় H₂SO₄ একটি এসিড।
H₂SO₄ এসিডটি একটি শক্তিশালী এসিড। কারণ এটি পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H') তৈরি করে। অর্থাৎ H₂SO₄ এর যতগুলো অণু আছে তার সবগুলোই বিয়োজিত।
H₂CO, এর অম্লধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলো হলো :
১. এটি জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H') দান করে।
২. নীল লিটমাসকে লাল করে।
৩. ক্ষারের সাথে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
যে যৌগ পানিতে আংশিকভাবে বা সম্পূর্ণভাবে বিয়োজিত হয়ে (H') আয়ন তৈরি করে তাকে এসিড বলে। কিন্তু অ্যামোনিয়া (NH3) তে হাইড্রোজেন থাকলেও তা পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') তৈরি করতে পারে না, তাই অ্যামোনিয়া এসিড নয়।
জৈব ও অজৈব এসিডের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ-
| জৈব এসিড | অজৈব এসিড |
| ১. জৈব এসিডসমূহকে দুর্বল এসিড বলা হয়। | ১, অজৈব এসিডসমূহকে শক্তিশালী এসিড বলা হয়। |
| ২. জৈব এসিডসমূহ পানিতে ২. পুরোপুরিভাবে বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয় অর্থাৎ এসিডের সবগুলো অণু থেকে H' আয়ন পাওয়া যায় না। | ২. অজৈব এসিডসমূহ পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয় অর্থাৎ এসিডের সবগুলো অণুই H' আয়ন দেয়। |
সবল ও দুর্বল এসিডের দুটি পার্থক্য হলো:
১. সবল এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়। পক্ষান্তরে দুর্বল এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হয়।
২. সবল এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকের মান বেশি। পক্ষান্তরে দুর্বল এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকের মান কম।
ধাতব পাত্রে এসিড সংরক্ষণ করা যায় না। কারণ ধাতব পাত্রে এসিড রাখলে তা ধাতব পাত্রের সাথে বিক্রিয়া করে পাত্রের ক্ষয় সাধন করে। 2Ag + 2HCl → 2AgCl + H₂
(বিক্রিয়াটিতে ধাতুর ক্ষয় দেখানো হলো)
হিস্টামিন হলো বোলতা ও বিচ্ছুর হুলে থাকা এক জাতীয় ক্ষারীয় পদার্থ, যার উপস্থিতির কারণে বোলতা বা বিচ্ছু কামড়ালে জ্বালা করে। এক্ষেত্রে, প্রচন্ড জ্বালাপোড়া কমানোর জন্য এক ধরনের মলম ব্যবহার করা হয় যাতে থাকে ভিনেগার অথবা বেকিং সোডা। এগুলো এসিড জাতীয় পদার্থ।
বিচ্ছুর দুলে থাকে হিস্টামিন নামে এক ধরনের ক্ষারক পদার্থ। তাই এসব ক্ষেত্রে জ্বালা নিবারণের জন্য যে মলম ব্যবহার করা হয়, তাতে থাকে ভিনেগার অথবা বেকিং সোডা, যেগুলো এসিড কিংবা এসিডজাতীয়। এগুলো ঐ ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে; ফলে জ্বালা আর থাকে না।
বোলতা ফুল ফুটালে বা কামড় দিলে আক্রান্ত স্থান ফুলে যায়। কারণ বোলতার হুলে হিস্টামিন নামক এক ধরনের ক্ষারক পদার্থ থাকে। ফলে জ্বালা করে। আর হিস্টামিনের প্রভাব আশেপাশের কোষের উপরও পড়ে। ফলে কোষগুলো প্রসারিত হয়। এতে করে আক্রান্ত স্থান ফুলে যায়।
বিচ্ছুর হুলে হিস্টামিন নামক ক্ষারক পদার্থ থাকে। এক্ষেত্রে জ্বালা নিবারণের জন্য এক ধরনের মলম ব্যবহার করা হয়, যাতে ভিনেগার থাকে। এই এসিড জাতীয় ভিনেগার ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে নিষ্ক্রিয় করে ফলে জ্বালা দূরীভূত হয়।
খাবার হজম করার জন্য আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয়। এই মাত্রার হেরফের হলে আমাদের পরিপাকে অসুবিধা হয়। কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে সাহায্য করে।
আমাদের দেহে এসকরবিক এসিডের গুরুত্ব নিচে লেখা হলো:
১. এটি আমাদের দেহের ক্ষত সারাতে সহায়তা করে।
২. এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে।
সাধারণত টক জাতীয় ফলে জৈব এসিডের উপস্থিতি থাকে। লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি টক জাতীয় ফলের মাঝে আছে নানা রকমের জৈব এসিড, যেগুলো আমাদের খুবই প্রয়োজনীয়।
বোরহানি তৈরি করা হয় দই থেকে। দইয়ে ল্যাকটিক এসিড থাকে। কোমল পানীয়ের ন্যায় এই ল্যাকটিক এসিডও হজমে সহায়তা করে। তাই খাওয়ার পর বোরহানি খেলে পরিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা মেলে।
কেক বা পাউরুটি তৈরির সময় বেকিং সোডা ব্যবহার করার পরে তাপ দিলে বেকিং সোডা ভেঙে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। এ কারণে পাউরুটিতে বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়।
কেক বা পাউরুটি ফুলে ওঠে বেকিং সোডার কারণে। কেক বা পাউরুটি তৈরির সময় বেকিং সোডা ব্যবহার করার পরে তাপ দিলে বেকিং সোডা ভেঙে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়, যেটি কেক বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে।
সালফিউরিক এসিড নিম্মোক্ত ক্ষেত্র দুটিতে ব্যবহার করা হয়-
১. টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয়।
২. আইপিএস বা গাড়ির ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয়।
ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার অন্যতম উপাদান হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH₄NO₃), অ্যামোনিয়াম সালফেট ((NH4)2SO₄) ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH), PO₄)। সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO₁), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) এবং ফসফরিক এসিড (H₃PO₄) দিয়ে।
গায়ে এসিড পড়লে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করা জরুরি। প্রথমেই, আক্রান্ত স্থানে প্রচুর পরিমাণে পানি ঢালতে হবে। এসিডের তীব্রতা কমাতে এটি সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। এরপর, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
নাইট্রিক এসিড নিম্মোক্ত ক্ষেত্র দুটিতে ব্যবহার করা হয়-
১. বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রীতে নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়
২. সার তৈরির উপকরণ (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) প্রস্তুতিতে নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়।
এসিড ছুড়ে মারার ফলে মানুষের শরীর সম্পূর্ণ ঝলসে যায়। মুখমণ্ডলে এসিড ছুড়লে সেটি বিকৃত আকার ধারণ করে। এ কারণে যারা এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হন, তারা তাদের বিকৃত চেহারা নিয়ে জনসম্মুখে আসতে চায় না, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। তাই এটি একটি ঘৃণিত অপরাধ।
এসিড ছোড়ার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পিছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি একটি অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধ যা ভুক্তভোগীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দ্বিতীয়ত, এটি সমাজে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং নারী নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। তৃতীয়ত, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে অন্যদেরকে এই অপরাধ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়।
লিটমাস পেপার একটি বিশেষ ধরনের কাগজ যা কোনো দ্রবণ অম্লীয় না ক্ষারীয় তা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়। লিটমাস পেপারে বিশেষ ধরনের রঞ্জক থাকে যা দ্রবণের অম্ল-ক্ষারকের উপর নির্ভর করে রং পরিবর্তন করে। অম্লীয় দ্রবণে নীল লিটমাস লাল হয়ে যায় এবং ক্ষারীয় দ্রবণে লাল লিটমাস নীল হয়ে যায়।
লিটমাস পেপার হলো বিশেষ ধরনের রঞ্জিত কাগজ যা এসিড ও ক্ষারক দ্রবণের pH স্তরের সাথে প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বর্ণ পরিবর্তন করে। কোন বর্ণ ধারণ করবে তা নির্ভর করে এসিড বা ক্ষারের ঘনত্বের ওপর। এসিডযুক্ত দ্রবণে লিটমাস পেপার লাল বর্ণ ধারণ করে আর ক্ষারযুক্ত দ্রবণের সংস্পর্শে নীল হয়ে যায়।
মানুষের পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাকের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ HCI এসিডের প্রয়োজন হয়। কোনো কারণে পাকস্থলী নিঃসৃত এই এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে হজমে অসুবিধা হয়। এক্ষেত্রে পেটে ব্যথারও সৃষ্টি হতে পারে। এই অবস্থাকেই এসিডিটি বলে।
পাকস্থলীতে খাদ্য হজম করার জন্য আমাদের সবার হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয় এবং সেটি নিজ থেকে আমাদের পাকস্থলীতে তৈরি হয়। কোনো কারণে যদি এই এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন সেই অবস্থাকেই আমরা পাকস্থলীর এসিডিটি বলি।
কোমল পানীয় বেশি মাত্রায় পান করলে বা খালি পেটে পান করলে সেটা এসিডিটি সৃষ্টি করতে পারে। অন্যান্য পানীয়, বিশেষ করে মাত্রাতিরিক্ত চা, কফিজাতীয় পানীয়গুলোও পাকস্থলীতে এসিডিটি বাড়ায়। বেশি ভাজা, তেলযুক্ত এবং চর্বিজাতীয় খাবারও পাকস্থলীতে এসিডিটি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ এবং অন্যান্য অতিরিক্ত মসলা দেওয়া খাবার, চকলেট-এগুলোও এসিডিটি তৈরির কারণ।
পাকস্থলীতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে অর্থাৎ হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে আমাদের গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা হয়। এন্টাসিডে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড নামক ক্ষার বিদ্যমান। এন্টাসিড খেলে এ ক্ষার পাকস্থলীর সাইড্রোক্লোরিক এসিডকে প্রশমিত করে। তাই গ্যাস্ট্রিকের ব্যথায় আমরা এন্টাসিড খাই।
যেসব খাদ্যদ্রব্য বা পানীয়ের কারণে এসিডিটি হয়, সেগুলো অতিরিক্ত গ্রহণ না করে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে ক্ষারধর্মী খাদ্য যেমন- ব্রকলি, পুঁইশাক, পালংশাক, গাজর, শিম, বিট, লেটুসপাতা, মাশরুম, ভুট্টা, আলু, ফুলকপি ইত্যাদি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও দুগ্ধ জাতীয় খাবার এসিডিটি কমাতে সহায়তা করে।
আমাদের ধমনির রক্তের pH হলো প্রায় 7.4। অর্থাৎ এটি সামান্য ক্ষারধর্মী। এর সামান্য হেরফের হলে (± 0.4) মারাত্মক বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। আমাদের পাকস্থলীতে খাদ্য হজম করার জন্য দরকারি pH-এর মান হলো 2। এই মান 0.5-এর মতো হেরফের হলেই তা বদহজম সৃষ্টি করে। এ কারণে মানবদেহে pH এর ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা জানি এসিডের pH ৭ এর কম। কোনো দ্রবণে এসিড যোগ করলে ঐ দ্রবণে H' আয়নের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে দ্রবণটি আরও এসিডিক হয় এবং pH কমে যায়।
দ্রবণে pH মানের সীমা হচ্ছে (0-14) এর মধ্যে। দ্রবণে PH মান 7 এর কম হলে দ্রবণটি অম্লীয় অর্থাৎ এসিড হবে। আর pH মান 7 এর বেশি হলে তা ক্ষারীয় অর্থাৎ ক্ষার হবে। তবে pH মান 7 হলে তা প্রশম হবে।
মাটির সাধারণ pH মান 4-8-হয়ে থাকে। মাটির pH এর মান 3 এর কম অর্থাৎ এসিডিক হলে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত সার ব্যবহার করে pH এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অন্যদিকে মাটি খুব ক্ষারীয় হলে অর্থাৎ pH-এর মান 9.5-এর বেশি হলে নাইট্রেট ও ফসফেটজাতীয় সার ব্যবহার করে pH-এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
মানবদেহে পাকস্থলীতে pH মান ২ থাকা দরকার। এর সামান্য হেরফের হলে (০.৫) বদহজম সমস্যার সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ পরিপাকে সমস্যা হয়। তাই স্বাভাবিক পরিপাকের জন্য মানবদেহের পাকস্থলীতে pH মান ২ থাকা দরকার।
মাটির pH সাধারণত 4 থেকে ৪-এর ভেতর থাকে। অর্থাৎ এটি এসিডিক থেকে শুরু করে ক্ষারীয় হতে পারে। মাটির pH-এর মান 3-এর কম অর্থাৎ বেশি অম্লীয় হলে মাটির- অনেক দরকারি উপাদান যেমন- ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg) মাটি থেকে চলে যায়। অন্যদিকে মাটি খুব ক্ষারীয় হলে অর্থাৎ pH-এর মান 9.5-এর বেশি হলেও মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। এক্ষেত্রে Al; (অ্যালুমিনিয়াম আয়ন) সহজেই মাটি থেকে গাছের মূলে চলে যায় এবং এতে গাছের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
বাজারে প্রচলিত প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রসাধন সামগ্রীর pH মান 5.5 হয়ে থাকে। প্রাপ্ত বয়স্কদের ত্বক সাধারণত এসিডিক হয় এবং এর pH 4-6 এর মধ্যে থাকে। তবে নবজন্ম নেওয়া শিশুদের ত্বকের pH-এর মান 7-এর কাছাকাছি থাকে। তাই বড়দের জন্য যেসব প্রসাধনী | ব্যবহৃত হয়, তা শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এতে শিশুদের ত্বকের 1 ক্ষতি হতে পারে।
নানা রকম ওষুধ, কলমের কালি, বেকারি, লজেন্স জাতীয় মিষ্টি খাদ্যদ্রব্য, চামড়া প্রস্তুতি ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রে pH-এর মান নিয়ন্ত্রণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আলোকচিত্র-সংক্রান্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ায়, রং তৈরি ও ব্যবহারে, ধাতব পদার্থের ইলেকট্রোপ্লেটিং এরকম হাজারো ক্ষেত্রে pH-এর মান নিয়ন্ত্রণ করে কাজ করা হয়। এ কারণে বিভিন্ন শিল্প রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় pH নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্ষারক শনাক্তকরণের জন্য বহুল ব্যবহৃত চারটি নির্দেশক হলো-
১. লাল লিটমাস কাগজ,
২. মিথাইল অরেঞ্জ,
৩. মিথাইল রেড ও
৪. ফেনলফথেলিন
ক্ষারক শনাক্তকরণের জন্য বহুল ব্যবহৃত চারটি নির্দেশক হলো-
১. লাল লিটমাস কাগজ,
২. মিথাইল অরেঞ্জ,
৩. মিথাইল রেড ও
৪. ফেনলফথেলিন
ক্ষারক শনাক্তকরণের জন্য বহুল ব্যবহৃত চারটি নির্দেশক হলো-
১. লাল লিটমাস কাগজ,
২. মিথাইল অরেঞ্জ,
৩. মিথাইল রেড ও
৪. ফেনলফথেলিন
ফেনফথেলিন এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা এসিড ও ক্ষারের সংস্পর্শে এসে বর্ণ পরিবর্তন করে নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
Na₂CO; এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয়। কারণ, Na₂CO, পানির সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও কার্বোনিক এসিড তৈরি করে, তবে কার্বোনিক এসিড দুর্বল এসিড হওয়ায় তা পুরোপুরি বিয়োজিত হয় না। পক্ষান্তরে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোক্সাইড আয়ন তৈরি করে। ফলে দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়নের আধিক্য থাকে আর সে কারণেই দ্রবণ ক্ষারীয় হয়।
অম্লত্ব ও ক্ষারকত্বের মধ্যে পার্থক্য হলো:
| অম্লত্ব | ক্ষারকত্ব |
| ১. অম্লত্ব হলো কোনো অম্লীয় পদার্থের মাত্রা বা অবস্থা। | ১.ক্ষারকত্ব হলো কোনো ক্ষারীয় পদার্থের, মাত্রা বা অবস্থা। |
| ২. pH স্কেলে অম্লত্বের মান ৭এর চেয়ে কম। | ২. pH স্কেলে ক্ষারকত্বের মাত্রা ৭ এর চেয়ে বেশি। |
ক্ষারক ও এসিডের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য একে অপরের। বিপরীত। এসিড জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H') দান করে, যেখানে ক্ষারক দান করে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH)। ক্ষারক লাল লিটমাস পেপারকে নীল করে, যেখানে এসিড নীল লিটমাস পেপারকে লাল করে। ক্ষারক তিক্ত স্বাদের হয়, যেখানে এসিড টক স্বাদের হয়।
CaCO, এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় এবং তা লাল লিটমাসকে নীল করে। এর কারণ পানিতে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও কার্বনিক এসিড তৈরি করে। কিন্তু কার্বনিক এসিড দুর্বল হওয়ায় আংশিক বিয়োজিত হয়। ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড শক্তিশালী ক্ষার বলে সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়। ফলে দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়নের আধিক্য থাকে আর সে কারণেই দ্রবণ ক্ষারীয় হয়।
ক্ষারকের প্রধান দুটি রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এটি লাল লিটমাস পেপারকে নীল রঙে পরিবর্তন করে।
২. পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH) উৎপন্ন করে
KOH কে ক্ষার বলা হয়। কারণ এটি জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন OH দান করে, লাল লিটমাসকে নীল করে এবং এসিডের সাথে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। . KOH এর এ বৈশিষ্ট্যগুলো ক্ষারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এটি একটি ক্ষার।
ক্ষারক এক শ্রেণির রাসায়নিক যৌগ যা হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহণ করতে সক্ষম। যেমন- ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইডসমূহ ক্ষার। পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক যা হাইড্রোক্সাইড আয়ন প্রদান করে তাকে ক্ষার বলে। পক্ষান্তরে যেসব ক্ষারক পানিতে অদ্রবণীয় সেগুলো ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়। তাই বলা যায় সকল ক্ষারই ক্ষারক।
পিপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়াও হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়।
ক্ষারের ২টি ব্যবহার হলো-
১. মাটি অম্লীয় হয়ে গেলে এই এসিডিটি দূর করার জন্য ক্ষারজাতীয় সার ব্যবহার করা হয়।
২. আমাদের নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র যেমন: টুথপেস্ট, টুথপাউডার, পরিষ্কারক ইত্যাদিতে বিভিন্ন রকম ক্ষারকীয় পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
CuSO4. SH₂O কে লবণ বলা হয়। কারণ এটি সালফিউরিক এসিডের হাইড্রোজেনকে ক্ষারক Cu(OH)-এর ধাতব অংশ দ্বারা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তৈরি। এটি লিটমাস পেপারের বর্ণের কোনো পরিবর্তন করে না।
যেহেতু কীটপতঙ্গের দংশনে জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, তাই এসিডকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে এরকম মলম, লোশন (যেমন- চুন) ব্যবহার করে এই যন্ত্রণার প্রতিকার করা হয়। এরকম আরও একটি লোশন হলো ক্যালামিন, যা মূলত জিংক কার্বোনেট (ZnCO₂)। বেকিং সোডা ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
দৈনন্দিন জীবনে ক্ষারের ব্যবহার অসংখ্য। ক্ষারক আমাদের দাঁত মাজার পেস্ট থেকে শুরু করে খাবার তৈরি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কৃষিকাজ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (কাস্টিক সোডা) সাধারণত সাবান তৈরি এবং কাগজ শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (কলিচুন) বাড়ি চুনকাম করতে এবং মাটির pH মান নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়।
অ্যান্টাসিডে ক্ষার ব্যবহার করা হয় কারণ ক্ষার পেটের অতিরিক্ত এসিডকে নিরপেক্ষ করে। আমরা যখন এসিডিটি বা বদহজমের সমস্যায় ভুগি, তখন আমাদের পেটে অতিরিক্ত পরিমাণে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন হয়। ক্ষার (Mg(OH)2, Al(OH),) এই অতিরিক্ত এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে এবং একে নিরপেক্ষ করে, ফলে আমাদের অস্বস্তি কমে যায়। অর্থাৎ, ক্ষার পেটের pH স্তরকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
খাদ্য গ্রহণ করার পরে আমাদের মুখে এসিডীয় অবস্থা তৈরি হয়। এই এসিডিক অবস্থার ফলে আমাদের দাঁত ক্ষয় হতে পারে। টুথপেস্ট হলো ক্ষারীয় পদার্থ। টুথপেস্ট দ্বারা ব্রাশ করলে দাঁত পরিষ্কার হয় এবং পেস্টের ক্ষার সৃষ্ট এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। তাই দাঁত ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট ব্যবহার করা হয়।
তীব্র ক্ষার খুবই জ্বালাপোড়া এবং ক্ষয়কারী হতে পারে। তাই এগুলো ব্যবহার করার সময় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। তীব্র ক্ষার চোখ, ত্বক এবং শ্বাসনালীতে সরাসরি যোগ হলে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। তাই তীব্র ক্ষার ব্যবহার করার সময় সবসময় হাত মোজা, চশমা এবং মাদ্ধ পরা উচিত। এছাড়াও, তীব্র ক্ষারকে সবসময় শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে এবং ব্যবহারের পরে হাত ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
এসিড এবং ক্ষার বা ক্ষারকের বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন হওয়াকে প্রশমন বলে। এ সময় কিছু পানিও উৎপন্ন হয়। প্রশমন বিক্রিয়া নিম্নরূপ:
NaOH + HCI → NaCl + H₂O
প্রশমন বিক্রিয়ায় মূলত হাইড্রোজেন আয়ন (H') এবং হাইড্রোক্সিল
পাকস্থলীর এসিডিটির জন্য দায়ী হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি। এই হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে এন্টাসিডের [Mg(OH)] ও (Al (OH),) এর প্রশমন বিক্রিয়ায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড প্রশমিত হয়ে যায় বলে ব্যথা আর থাকে না।
HCI + Mg(OH)2 MgCl2 + 2H2O
3HCI+AI (OH)3 AlCl3 + 3H2O
ইউনিভার্সাল নির্দেশক কালার চার্ট হলো একটি রঙিন চার্ট যা - কোনো দ্রবণের অগ্নীয়তা বা ক্ষারীয়তা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়। এই চার্টে বিভিন্ন pH মানের জন্য বিভিন্ন রং দেখানো থাকে। যখন ইউনিভার্সাল নির্দেশককে কোনো দ্রবণে যোগ করা হয়, তখন এটি দ্রবণের pH মান অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি রং ধারণ করে। এই রঙকে চার্টের সাথে মিলিয়ে দ্রবণের pH মার্ন নির্ণয় করা হয়।
ক্ষার ধর্ম প্রদর্শনের মাধ্যমে চুন মাটির এসিডিটি দূর করে। যখন চুন মাটিতে মিশ্রিত হয়, তখন এটি মাটিতে উপস্থিত অতিরিক্ত হাইড্রোজেন আয়নকে নিরপেক্ষ করে। এই প্রক্রিয়াকে প্রশমন বলে। ফলে মাটির pH মান বৃদ্ধি পায় এবং অম্লীয় প্রভাব হ্রাস করে। চুনের এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি কৃষিতে মাটির উর্বরতা বাড়াতে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।
NaCl বা সাধারণ লবণ প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। NaCl তৈরি করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) কে একসাথে মিশ্রিত করা হয়। এই বিক্রিয়ায় সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) এবং পানি (H₂O) উৎপন্ন হয়। এই বিক্রিয়াকে নিম্নলিখিত রাসায়নিক সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়: HCl + NaOH → NaCl + H2O.
NaCl হলো একটি লবণ। এটি NaOH ক্ষার ও HCI এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।
NaOH+HCI→ NaCl + H₂O
এটি একটি প্রশমন বিক্রিয়া। আমরা জানি, এসিড ও ক্ষারের প্রশমন বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়। এজন্য, NaCl কে লবণ বলা হয়।
পানিতে দ্রবণীয় সবণের উদাহরণ: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO)), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড 1 (NILCI)। এই লবণগুলি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে আয়নে বিভক্ত হয়ে যায় এবং একটি দ্রবণ তৈরি করে।
পানিতে অদ্রবণীয় লবণের উদাহরণ: ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3).
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার সালফেট (Ag₂SO₄)। এই লবণগুলি পানিতে দ্রবীভূত হয় না এবং কঠিন অবস্থায় থাকে।
বেকিং পাউডার হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে।
বিক্রিয়া: NaHCO, + HCl → NaCl + H2O + CO₂
টেস্টিং সল্ট মুখরোচক স্বাদের জন্য উৎপাদন করা হলেও এর কোনো স্বাস্থ্যগত মূল্য নেই। এতে প্রায়শই রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা একে সুস্বাদু করে তোলে, কিন্তু এতে দরকারি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের অভাব রয়েছে। টেস্টিং সল্ট শরীরে স্থূলতা সৃষ্টি করে। এসব কারণে টেস্টিং সল্ট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
যে লবণ আমাদের খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে, তা হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl); যা সাধারণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার, যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য আরেকটি লবণ-সোডিয়াম গ্লুটামেট ব্যবহার করা হয়, যেটি 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত।
১. মাটির এসিডিটি দূর করতে ক্যালসিয়াম কার্বনেট বা চুনাপাথর নামক লবণ ব্যবহৃত হয়।
২.. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, অ্যামোনিয়াম ফসফেট, পটাশিয়াম নাইট্রেট প্রভৃতি লবণ ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করা হয়।
চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO₄), মারকিউরিক সালফেট (HgSO₄), সিলভার সালফেট (Ag₂SO₄) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়।
যেসব এসিড পানিতে পুরোপুরিভাবে বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয় অর্থাৎ যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত করে না, তাদেরকে দুর্বল এসিড বলে।
অজৈব যৌগ থেকে প্রাপ্ত যেকোনো এসিড যা জলীয় দ্রবণে (H') আয়ন দেয় তাকে খনিজ এসিড বলে।
জৈব এসিড হলো এমন এক ধরনের এসিড যা জৈব উৎস থেকে প্রাপ্ত এবং এর মধ্যে কার্বন (C) থাকে।
যে এসিড জলীয় দ্রবণে প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত করে তাকে শক্তিশালী এসিড বলে।
সাইট্রিক এসিড দুর্বল এসিড।
পাকস্থলীতে খাদ্য হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয়। কোনো কারণে এই এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে সেই অবস্থাকে পাকস্থলীর এসিডিটি বলে।
ভিনেগার এর সংকেত CH, COOH.
এন্টাসিড ট্যাবলেটের রাসায়নিক নাম হাইড্রোক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড।
অ্যামোনিয়াম সালফেটের সংকেত হলো (NH4)২ SO4
হিস্টামিন হলো বোলতা ও বিচ্ছুর ফুলে থাকা ক্ষারকীয় পদার্থ।
ভিনেগার হলো অ্যাসিটিক এসিডের ৬ - ১০% জলীয় দ্রবণ যার সংকেত হলো CH3COOH ।
NaHCO3 বা বেকিং সোডা হলো লবণ জাতীয় পদার্থ।
বেকিং সোডার সংকেত হলো- NaHCO3
যেসব পদার্থ এসিড ও ক্ষারীয় মাধ্যমে বর্ণ পরিবর্তন করে এবং দ্রবণ ক্ষারীয় না এসিড তা নির্দেশ করে তারাই হলো নির্দেশক পদার্থ।
জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H') ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে। অর্থাৎ pH= log [H]
ধমনীর রক্তে pH মান 7.4 ।
খাবার সোডার রাসায়নিক সংকেত হলো NaHCO3।
বেকিং সোডার সংকেত হলো NaHCO3
চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত হলো CaCO3 ।
ক্যালামিন হলো এক ধরনের লোশন যা মূলত জিংক কার্বোনেট (ZnCO3)।
মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন ও অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়।
ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, বেকিং সোডা, টেট্রা সোডিয়াম পাইরো ফসফেট জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি এক ধরনের পেস্ট হচ্ছে টুথপেস্ট।
ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। এটিই প্রশমন বিক্রিয়া নামে পরিচিত।
স্ন্যাক লাইমের সংকেত হলো [Ca(OH)2]
টেস্টিং সল্ট হলো খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহৃত লবণ যার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম মুটামেট।
যেসব লবণ H₂CO, অথবা CO₂ থেকে উৎপন্ন হয় তাদের কার্বনেট লবণ বলে।
এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন নিরপেক্ষ রাসায়নিক - পদার্থকে লবণ বলে।
ফিটকিরির সংকেত হলো [K₂SO₄.Ah(SO4)3.24H2O]
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণকে টেবিল সন্ট বলে।
বিচ্ছুর ফুল থেকে হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ। এটি একটি ক্ষারকীয় পদার্থ। তাই বিচ্ছু ফুল ফুটালে ক্ষারকীয় এ পদার্থের ক্রিয়ায় আক্রান্ত স্থানে প্রচণ্ড জ্বালা করে।
মৌমাছি ফুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন ও অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়। যার ফলে জ্বালা-পোড়া হয়। আর এসব এসিডি পদার্থের প্রভাব আশপাশের কোষের উপরও পড়ে। ফলে কোষগুলো প্রসারিত হয়। এতে করে আক্রান্ত স্থান ফুলে যায়।
সবল এসিডের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত করে।
২. কেন্দ্রিয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা বেশি।
৩. জলীয় দ্রবণে বিয়োজন ধ্রুবক এর মান বেশি।
যেসব এসিড পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত করে তাদের শক্তিশালী এসিড বলা হয়। HNO, একটি শক্তিশালী এসিড, কারণ HNO, পানিতে সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়ে H' আয়ন বিমুক্ত করে।
HNO3 কে এসিড বলা হয়। কারণ এটি জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত করে, নীল লিটমাসকে লাল করে এবং ক্ষারের সাথে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
বিচ্ছুর ভুলে থাকে হিস্টামিন নামক ক্ষারক পদার্থ। বিচ্ছু কামড়ালে বা ফুল ফুটালে প্রচণ্ড জ্বালা করে। এসব জ্বালা নিবারণের জন্য তাই ভিনেগার ব্যবহার করা হয়। কারণ ভিনেগারের মূল উপাদান হলো এসিটিক এসিড যা একটি এসিড। এটি ক্ষারক পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষারককে প্রশমিত করে ফলে জ্বালা আর থাকে না। এ কারণেই বিচ্ছু কামড়ালে আমরা ভিনেগার ব্যবহার করি।
এসিড মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এসিড ছুড়ে মারার ফলে মানুষের শরীর সম্পূর্ণ ঝলসে যায়। মুখমন্ডলে এসিড ছুড়ে মারলে তা বিকৃত আকার ধারন করে। ফলে যারা এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন তারা জনসম্মুখে আসতে চান না। এমনকি অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ কারণে এসিড ছোড়া একটি মারাত্মক অপরাধ। বাংলাদেশ নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী এসিড ছোড়ার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে মৃত্যুদণ্ড।
পেপসি হলো এক ধরনের কোমল পানীয়। কোমল পানীয়সমূহে থাকে দ্রবীভূত বেকিং সোডা বা সোডিয়াম বাই কার্বনেট (NaHCO₂) বিরিয়ানি খেলে পাকস্থলীতে এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় | পেপসি পান করলে এতে থাকা সোডিয়াম বাইকার্বনেট অতিরিক্ত এসিডের 1 সাথে বিক্রিয়া করে। ফলে পাকস্থলীতে এসিডের মাত্রা হ্রাস পায় এবং বদহজম হয় না। তাই আমরা বিরিয়ানি খাওয়ার পর পেপসি পান করি।
কেক তৈরির সময় বেকিং সোডা ব্যবহার করার পরে তাপ দিলে বেকিং সোডা ভেঙে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেককে ফুলিয়ে তোলে। এ কারণে কেক তৈরিতে বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়।
এসিড (খনিজ এসিড) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এটি শরীরের কোথাও লাগলে শরীর পুড়ে যায় ও ক্ষত সৃষ্টি করে। অন্যদিকে কাপড়ে লাগলে কাপড়ও পুড়ে যায় এবং ছিদ্র হয়ে যায়। একইভাবে ধাতব পদার্থসমূহ এসিডের সংস্পর্শে আসলে ক্ষয় হয়ে যায়। এজন্য এসিড ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে।
এসিডসমূহ পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') বিমুক্ত করে। তবে জৈব এসিডসমূহ পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয় না। ভিনেগার একটি জৈব এসিড। এ এসিড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয় অর্থাৎ - যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো হাইড্রোজেন আয়ন (H') | বিমুক্ত করে না। এজন্য ভিনেগারকে দুর্বল এসিড বলা হয়।
আমরা জানি, খাবার হজম করার জন্য আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয়। এই মাত্রার হেরফের হলে আমাদের পরিপাকে অসুবিধা হয়। বোরহানি অল্পমাত্রায় | এসিডিক। তাই বিয়েবাড়িতে মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি ইত্যাদি গুরুপাক খাদ্য খাবার পর বোরহানি পান করলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড আমাদের পরিপাকে বা হজমে সহায়তা করে। এজন্য বিয়েবাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার পর বোরহানি দেওয়া হয়।
যেসব পদার্থ এসিড ও ক্ষারীয় মাধ্যমে বর্ণ পরিবর্তন করে এবং দ্রবণ ক্ষারীয় না এসিড তা নির্দেশ করে তারাই হলো নির্দেশক পদার্থ। লিটমাস পেপার একটি নির্দেশক কারণ লিটমাস পেপার ক্ষারকে নীল রং এবং এসিডে লাল রং এ পরিবর্তন হয় এবং এসিড ও ক্ষার নির্দেশ করে।
লবণ নিরপেক্ষ পদার্থ। তাই লবণের দ্রবণে লিটমাস বর্ণ পরিবর্তন করে না। তবে কিছু কিছু লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয় হতে পারে। যেমন- বেকিং সোডা বা খাবার সোডা (NaHCO3)
যেসব পদার্থ এসিড ও ক্ষারীয় মাধ্যমে বর্ণ পরিবর্তন করে - এবং দ্রবণ ক্ষারীয় না এসিড তা নির্দেশ করে তাদেরকে নির্দেশক বলা হয়। নির্দেশক ব্যবহার করে কোন দ্রবণের কোনো পদার্থের বা কোনো বস্তুর ক্ষারকত্ব ও অম্লত্ব নির্ণয় করা যায়।
খাবার হজম করার জন্য আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয় এবং সেটি নিজে থেকে আমাদের পাকস্থলীতে তৈরি হয়। অতিরিক্ত পরিমাণ প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে অথবা অন্য কোনো কারণে পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে আমাদের বদহজম হয়। তাই হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মাত্রা হেরফের হলে আমাদের খাদ্য হজমে অসুবিধা হয়।
পাকস্থলীতে আমাদের খাদ্য পরিপাক হয়। এজন্য খাদ্যকে ক্ষুদ্রাকারে পরিণত করার দরকার পড়ে। আর এ কাজে হাইড্রোক্লোরিক এসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন পড়ে।
পাকস্থলীতে খাদ্য হজম করার জন্য আমাদের সবার হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয় এবং সেটি নিজে থেকে পাকস্থলীতে তৈরি হয়। কোনো কারণে যদি এসিডের মাত্রা বেড়ে যায় তাকে আমরা এসিডিটি বলি। বেশি ভাজা ও তেলযুক্ত খাবার খেলে পাকস্থলীতে এসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে এসিডিটি সৃষ্টি হয় যা পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর।
কোনো জলীয় দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার নেগেটিভ লগারিদমকে pH বলে। pH হলো এমন একটি রাশি, যেটি দ্বারা বোঝা যায় পানি বা অন্য কোনো জলীয় দ্রবণ এসিডিক, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ। কোনো পদার্থের জলীয় দ্রবণ pH = 7 হলে তা নিরপেক্ষ, কিন্তু pH এর মান 7 এর বেশি হলে তা ক্ষারীয় এবং 7 এর কম হলে তা অম্লীয়।
কোনো জলীয় দ্রবণ অম্লীয়, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ, তা বোঝা যায় pli-এর মানের সাহায্যে। pH 7 হলে দ্রবণটি নিরপেক্ষ, আর pH > 7 ও pH < 7 হলে দ্রবণটি যথাক্রমে ক্ষারীয় ও অম্লীয়। তাই কোনো পদার্থ অম্লীয়, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা জানার জন্যই pH-এর মান জানা প্রয়োজন।
ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির pH অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য pH এর মান ৭ বা নিরপেক্ষ হওয়া সুবিধাজনক। আবার কিছু ফসল আছে যারা মাটির pH ৫-৬ হলে ভালো ফলন দেয় এবং কিছু ফসল pH এর মান ৮ হলে ভালো ফসল উৎপাদিত হয়। এ সমস্ত কারণে মাটির pH জানা জরুরি।
প্রসাধন সামগ্রীর pH এর মান কম বা বেশি হলে ত্বক পুড়ে যাওয়া কিংবা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।। বড়দের ত্বকের pH ৪-৬ এর মধ্যে এবং নবজন্ম নেওয়া শিশুদের ত্বকের pH-এর মান ৭ এর কাছাকাছি থাকে। তাই বড়দের জন্য যেসব প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়, তা শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এতে শিশুদের ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে প্রসাধন সামগ্রীতে pH এর মান নির্দিষ্ট থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Na₂CO3-এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় এবং তা লাল লিটমাসকে নীল করে। এর কারণ পানিতে সোডিয়াম কার্বনেট সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও কার্বনিক এসিড তৈরি করে। কিন্তু কার্বনিক এসিড দুর্বল হওয়ায় আংশিক বিয়োজিত হয়। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড শক্তিশালী ক্ষার বলে সম্পূর্ণ বিয়োজিত হয়। ফলে দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়নের আধিক্য থাকে আর সে কারণেই দ্রবণ ক্ষারীয় হয়।
চুন (CaO) পানির সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 উৎপন্ন করে যা পানিতে অদ্রবণীয়। চুনের সাথে পানি মিশ্রিত করলে [Ca(OH)2] এর সাদা অধক্ষেপ পড়ে। তাই চুনের পানি ঘোলা হয়।
কাপড় কাচার সাবানে ক্ষার থাকে, তাই একটু বেশি কাপড় এক সাথে পরিষ্কার করলে দেখা যায়, হাতের তালু থেকে ছোট ছোট চামড়া উঠে যায়। এসিড লাগলে মানুষের শরীরে যেমন ক্ষতি হয় তেমনি ক্ষারও শরীরের ক্ষতি করে। তাই ক্ষার ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
মৌমাছি হুল ফুটালে ক্যালমিন ব্যবহার করা হয় কারণ ক্যালমিন ক্ষার জাতীয় পদার্থ। মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়া হয়। এ জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড। তাই এসিডকে প্রশমিত করে জ্বালাপোড়া কমানোর জন্য ক্যালমিন যা মূলত জিংক কার্বনেট (ZnCO₂) ব্যবহার করা হয়।
পিঁপড়া কামড়ালে জ্বালা-পোড়া করে। কারণ পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয় যা আমাদের শরীরে জ্বালা-পোড়ার সৃষ্টি করে।
খাওয়ার পরে সাধারণত আমাদের মুখে এসিডিয় অবস্থা তৈরি হয়। আর টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার আমাদের নিত্যদিনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বস্তু যা ক্ষারীয়। তাই খাবার পর টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁত পরিষ্কার হয় এবং পেস্টের ক্ষার এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, ফলে দাঁতের ক্ষয় রোধ হয়। তাই খাবার পর দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন।
মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন, অ্যাপামিন নামক 'এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয় যার কারণে আমাদের শরীরে প্রচন্ড জ্বালা করে।
মাটির এসিডিটি দূর করতে ব্যবহৃত পদার্থগুলো হলো-
১. চুন→ CaO;
২. মিল্ক অব লাইম→ Ca(OH)
৩. চুনাপাথর→ CaCO₃
যেসব পদার্থ তার জলীয় দ্রবণে নির্দেশক বা লিটমাস, কাগজের রঙে কোনো পরিবর্তন করে না, তাদেরকে নিরপেক্ষ পদার্থ বলে। যেহেতু লবণের জলীয় দ্রবণে লাল ও নীল লিটমাস কাগজের রঙের কোনো পরিবর্তন হয় না তাই লবণকে নিরপেক্ষ পদার্থ বলা হয়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!