বাংলাদেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যগুলোও হলো- ১. কৃষি ২. শিল্প ৩. মাথাপিছু আয়ের ক্রমবৃদ্ধি ৪. জীবনযাত্রার ক্রমোন্নতি ৫. বিনিয়োগযোগ্য পুঁজির প্রবাহ বৃদ্ধি ৬. খাদ্য ঘাটতি ও পুষ্টিহীনতা ৭. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস ৮. বেকারত্ব ৯. প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধি ১০. বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি ১১. বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা ১২. অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামোর ক্রমোন্নতি ১৩. বেসরকারিকরণ কর্মসূচি ১৪. পরিকল্পনা গ্রহণ।
কৃষিখাতের উপখাতসমূহ হলো- ১. শস্য ও শাকসবজি ২. প্রাণিসম্পদ ৩. মৎস্যসম্পদ ও ৪. বনজসম্পদ।
শস্য ও শাকসবজিঃ ধান, গম, পাট, ডাল, আখ, চা, তৈলবীজ, আলু, শিম, লাউ, পটল, করলা, বেগুন ইত্যাদি এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
প্রাণি সম্পদ: হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, ভেড়া, মহিষ, ঘোড়া, কবুতর এবং এদের মাংস, ডিম, দুধ, পালক ও চামড়া ইত্যাদি এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
মৎস্য সম্পদ: মাছ ও মৎস্যজাত দ্রব্য এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
বনজ সম্পদ: বাঁশ, বেত, শাল, সেগুন, গর্জন এবং এগুলো থেকে কাঠ, রাবার, গাম-তৈল, শণ, মোম ও মধু ইত্যাদি এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
কৃষি হচ্ছে এরূপ সৃষ্টি সম্বন্ধীয় কাজ যা ভূমিকর্ষণ, বীজ বপন, ফসল কর্তন ইত্যাদি থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য গুদামজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিস্তৃত। ফসল উৎপাদন ছাড়াও মাছ ও মৌমাছি চাষ, পশুপালন ও বনায়ন কৃষিখাতের অন্তর্ভুক্ত। শস্য ও শাকসবজি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্যসম্পদ ও বনজসম্পদ এ উপখাতগুলো নিয়ে কৃষিখাত গঠিত হয়।
গ্রামীণ জনগণের প্রধান পেশা কৃষি বলে কৃষির অগ্রগতির সাথে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠেছে কৃষিকে কেন্দ্র করে। এদেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং তারা কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ইত্যাদি কৃষির অগ্রগতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিনিয়োগযোগ্য পুঁজির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে দেশের শিল্পখাতের দ্রুত বিকাশ ঘটবে এবং সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। শিল্পখাতের দ্রুত বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়। এতে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হয় এবং বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা যায়। এর ফলে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পায়। এছাড়া দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়।
দেশে উচ্চ হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বেকার সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। কৃষিক্ষেত্রে বাড়তি জনসংখ্যার চাপের ফলে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়েছে। দেশের এ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কর্মসংস্থানের জন্য কৃষিক্ষেত্রে বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। এ কারণে শিল্পক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। অর্থাৎ, শিল্পোন্নয়ন ঘটলে শিল্পক্ষেত্রে অতিরিক্ত শ্রমিকের চাহিদা সৃষ্টি হবে। ফলে বেকার যুবসম্প্রদায় কাজের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের দরুন প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অর্থনীতি স্থিতিশীল নয়। উৎপাদনের দ্বারা বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা প্রভাবিত হয়। কিন্তু এখানকার কৃষি প্রকৃতির ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। এদেশে প্রায়ই বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষির উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কৃষকের উৎপাদন কখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে আবার কখনও খুব কমে যায়। এজন্য বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতি অস্থিতিশীল।
প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ বা কাঁচামালকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুত প্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তরিত করা হলো শিল্প। আর, একটি দেশের সমগ্র শিল্প কাঠামো তথা খনিজ ও খনন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ ইত্যাদিকে একত্রে শিল্পখাত বলে। বাংলাদেশের জাতীয় আয় ১৫টি খাত থেকে নির্ণয় করা হয়। শিল্পের ৪টি উপখাত রয়েছে। যেমন: খনিজ ও খনন, ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি এবং নির্মাণ শিল্প।
যে ব্যক্তি উৎপাদনের উপকরণসমূহের (ভূমি, শ্রম, মূলধন) মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় ঘটিয়ে উৎপাদন কার্য পরিচালনা করে তাই উদ্যোক্তা। প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উৎপাদন কাজের তত্ত্বাবধান ও ঝুঁকিসহ যাবতীয় সব দায়ভার উদ্যোক্তাকে বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা যত দক্ষ হয় উৎপাদন ব্যবস্থা তত উন্নত হয়। তাই শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথা লাভজনক কারবার পরিচালনায় একজন দক্ষ উদ্যোক্তা অপরিহার্য। অর্থাৎ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে ও দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য দক্ষ উদ্যোক্তা প্রয়োজন।
একজন কর্মদক্ষ শ্রমিকের প্রচলিত মজুরিতে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না পাওয়ার পরিস্থিতি হলো বেকারত্ব। উন্নত দেশে সাধারণত বাণিজ্যচক্রজনিত কারণে বেকারত্ব দেখা দেয়। কিন্তু উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে মূলধনের অপর্যাপ্ততা, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তাদক্ষ শ্রমিক, দক্ষ উদ্যোক্তার অভাব প্রভৃতি কারণে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। ফলে এসব দেশে প্রকট মাত্রায় বেকারত্ব বিরাজ করে।
EPZ হলো Export Processing Zone (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ ভাঞ্চল)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। বাংলাদেশে বেপজা (বাংলাদেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক EPZ পরিচালিত হয়। এই অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। EPZ-এর সুবিধাগুলো হলো কর ছাড়, শুল্কমুক্ত আমদানি, সহায়ক পরিষেবা ইত্যাদি। বাংলাদেশে বর্তমানে ৮টি EPZ আছে। যথা- চট্টগ্রাম, ঢাকা, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, উত্তরা, আদমজী ও কর্ণফুলী।
EPZ প্রতিষ্ঠার মূল্য উদ্দেশ্য হলো শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশ সাধন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য শিল্প খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ দেশে EPZ স্থাপন করেছে। যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দেশে শিল্প বিকাশে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
EPZ হলো রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল। EPZ-গুলোতে অনেক শিল্প কারখানা স্থাপিত হয়। EPZ স্থাপনের ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। নতুন বিনিয়োগের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে কারখানাগুলোতে প্রচুর মানুষ কাজ করার সুযোগ পায়। এভাবে EPZ-গুলোতে কাজের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব কমে আসে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু সবসময় তা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করা যায় না। এক্ষেত্রে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বৈদেশিক সাহায্যের অপর্যাপ্ততা, অনিশ্চয়তা, প্রতিকূল শর্ত ও সময়ক্ষেপণের দরুন উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাই অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে বৈদেশিক সাহায্যের নির্ভরশীলতা হ্রাস করা যায়।
বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বহুমুখী চাহিদা পূরণ এবং উন্নয়নের জন্য বহুভোগ্য ও মূলধনি দ্রব্য আমদানি করতে হয়। ফলে আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এজন্য বাংলাদেশে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি দেখা যায়। সুতরাং কোনো দেশের রপ্তানির তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি হলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি হয়।
সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক চেতনা ও মূল্যবোধ প্রভৃতি। বর্তমান সরকার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন করেছে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১১-২০১৬ মেয়াদে সমন্বিত স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি উন্নয়ন খাত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলো বেসরকারিকরণ। এ উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালে বেসরকারিকরণ বোর্ড (বর্তমানে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন) গঠনের পর থেকে জুন ২০১২ পর্যন্ত মোট ৭৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ করা হয়েছে। কাজেই, বেসরকারিকরণ বলতে এমন এক প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যে প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উদ্যোগে উৎপাদন পরিচালনা করে।
বনভূমি থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে বনজসম্পদ বলে। কাঠ, বাঁশ, বেত, জ্বালানি কাঠ, রাবার, মধু, মোম, শণ, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য বনজসম্পদ। দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় বনজসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভূমিকর্ষণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য গুদামজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কৃষিকাজ বিস্তৃত। ফসল উৎপাদন ছাড়াও মাছ ও মৌমাছি চাষ, পশুপালন ও বনায়ন কৃষিখাতের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের অর্থনেতিক খাতসমূহের মধ্যে কৃষিখাত অন্যতম। কৃষিখাতের আবার উপখাত ৪টি। এগুলো হলো
১. শস্য ও শাকসবজি;
২. প্রাণিসম্পদ;
৩. মৎস্যসম্পদ ও
৪. বনজসম্পদ।
একটিমাত্র দ্রব্য উৎপাদন করে এমন একটি ব্যবসায়ী হলো ফার্ম। অন্যদিকে, অর্থনীতিতে শিল্প বলতে মূলত এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যার অধীনে অসংখ্য ফার্ম থাকতে পারে। যেখানে ফার্মসমূহ একবার মূল্য ও উৎপাদন নির্ধারণ করলে পরবর্তী সময়ে মূল্য ও উৎপাদন পরিবর্তন করার আর কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ শিল্পের অন্তর্গত ফার্মসমূহের মূল্য ও উৎপাদন স্থির হয়ে যায়।
চামড়া শিল্পের চামড়া কৃষির উপখাত পশু সম্পদ খাত থেকে পাওয়া যায়। দিয়াশলাই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল শিমুল, কদম ইত্যাদি কাঠ দেশের বনাঞ্চল থেকে সংগৃহীত হয়। আসবাবপত্রে বিভিন্ন প্রকার কাঠও এখান থেকে পাওয়া যায়। বনাঞ্চল আবার কৃষিখাতের অধীন। ডেইরি ফার্ম, ফলমূল ও মাছ সংরক্ষণ, চাল ও আটার কল এসবের কাঁচামাল কৃষি থেকেই আসে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র শিল্পের ভিত্তি হলো কৃষি।
যে শিল্পে স্বল্প মূলধন, সাধারণ যন্ত্রপাতি এবং খুবই কম সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ করে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করা হয় তা-ই হলো কুটির শিল্প। এটি পারিবারিক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এজন্য সহজেই মহিলা ও পরিবারের অন্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফলে বেকারত্বের সমস্যার সমাধান হয়। পাশাপাশি শিল্পজাত দ্রব্যের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়।
কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কুটির শিল্প পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। যেখানে ক্ষুদ্র শিল্পে পারিবারিক মালিকানা ছাড়াও অংশীদারি অথবা সমবায়ভিত্তিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। কুটির শিল্পে পুঁজি পারিবারিক উৎস থেকে আসলেও ক্ষুদ্র শিল্পে তা মালিক ছাড়াও বিভিন্ন ঋণদানকারী সংস্থা থেকে সংগৃহীত হতে পারে। এ শিল্পে হালকা যন্ত্রপাতি ও দেশজ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র শিল্পে আধুনিক ও ভারী যন্ত্রপাতি ও দেশি-বিদেশি কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে উচ্চ হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বেকার সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। কৃষিক্ষেত্রে বাড়তি জনসংখ্যার চাপের ফলে প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব সৃষ্টি হয়েছে। দেশের এ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কর্মসংস্থানের জন্য কৃষিক্ষেত্রে বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। এ অবস্থায় কৃষি বহির্ভূত ক্ষেত্রসমূহ বিশেষ করে শিল্প ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের বাড়তি জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকারত্ব দূরীকরণ সম্ভব।
যেসব কাজের মাধ্যমে অবস্তুগত সেবাকর্ম উৎপাদিত হয়। কিন্তু মানুষের বিভিন্ন অভাব পূরণ করে এবং যার বিনিময় মূল্য রয়েছে, তাই হলো সেবা। সেরা কখনো দৃশ্যমান নয়। বাংলাদেশে পাইকারি ও খুচরা বিপণন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ব্যাংক-বিমা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা প্রভৃতি সেবাখাতের অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সেবাখাত হলো একক বৃহত্তম খাত।
রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে তোলা হয়। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিল্পখাতের দ্রুত বিকাশের জন্য বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ দেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা EPZ স্থাপন করেছে। এটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দেশে শিল্পখাত বিকাশে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।
অর্থনৈতিক যেসব কাজের মাধ্যমে অবস্তুগত সেবাকর্ম উৎপাদিত হয় তা-ই হলো সেবা। এসব সেবা অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও জনগণের কাছে সরবরাহ করা হয়। জনগণ এসব সেবা ক্রয় করে তাদের অভাব পূরণ করে। সেবাকাজ নিয়ে গঠিত খাতই হলো সেবাখাত। বেশিরভাগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সেবাখাত সম্পর্কিত। এজন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে সেবাখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কৃষি আমাদের পাট, চা, চিনি, তামাক ইত্যাদি শিল্পের কাঁচামাল জোগায়। অন্যদিকে, কৃষির আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রভৃতি শিল্প থেকে আসে। কৃষি শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত করে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্পজাত দ্রব্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়, যা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
Related Question
View Allপ্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ বা প্রাথমিক দ্রব্যকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুত প্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে
আমাদের দেশের বেশিরভাগ জনগণের আয় খুব কম হওয়ায় তাদের সঞ্চয়ের ক্ষমতাও কম, ফলে উচ্চহারে পুঁজি গঠন করা সম্ভব হয় না
আয় ও ভোগ ব্যয়ের পার্থক্য থেকে সঞ্চয় সৃষ্টি হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের সম্পূর্ণ বা বেশির ভাগ অর্থই ভোগ্য পণ্য ক্রয়ে ব্যয় করতে হয়। ফলে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চয় করে পুঁজি তথা মূলধন গঠন করতে পারে না। তাছাড়া সঞ্চয় সংগ্রহের অসুবিধা, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ উদ্যোক্তার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি কারণেও এদেশে মূলধন গঠনের হার কম।
উদ্দীপকে 'A' খাত বলতে কৃষি খাতকে নির্দেশ করা হয়েছে। এদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৃষি খাতের উন্নয়নের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে বোঝায় কোনো দেশের জাতীয় আয়ের ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া। বাংলাদেশের জিডিপিতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুসারে, বর্তমানে (২০১৮-১৯ অর্থবছরে) দেশের GDP-তে কৃষি খাত (ফসল, বন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য) এর অবদান ১৩.৬০ শতাংশ। আবার এদেশের বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্যের
চাহিদা পূরণেও কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন হবে ৪১৫.৭৪ লক্ষ মেট্রিক টন (লক্ষ্যমাত্রা), যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৪১৩.২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে এর পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। তাহলে অচিরেই আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত অংশ রপ্তানি করতে সমর্থ হবে। যা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার যোগানে সহায়তা করবে। তাছাড়া কৃষি খাত উন্নত হলে অন্যান্য খাত যেমন- শিল্প, সেবা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এর ধনাত্মক প্রভাব পড়বে। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্পের কাঁচামাল আসে কৃষি খাত থেকে। আবার এ যাত বহুলোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনে। [তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
কাজেই আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কৃষি ৩. খাতের উন্নয়নের সাথে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' খাত কৃষি খাত এবং 'B' খাত হলো শিল্প খাত।
কৃষি ও শিল্প খাত পরস্পর নির্ভরশীল। কৃষি খাতের উন্নতি ও আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম ও সারের যোগান দেয় শিল্প খাত। তেমনি শিল্পের প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করে কৃষি খাত
কৃষি ও শিল্প খাতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার অনেক কারণ রয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিল্প কৃষিভিত্তিক। এদেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প যেমন- পাট, চিনি, সার, কাগজ, বস্ত্র প্রভৃতি শিল্পের প্রধান কাঁচামালের জন্য কৃষির ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার বিভিন্ন শিল্পের প্রসারের ফলে কাঁচামালের বর্ধিত চাহিদার কারণে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং কৃষক উৎপাদিত পণ্যের জন্য ন্যায্য দাম পায়, ফলে কৃষকদের আয় বাড়ে এবং জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়। তাছাড়া কৃষি শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত করে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্প খাতের অন্যান্য দ্রব্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়, যা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের জন্য দুটি খাতের
একই সঙ্গে উন্নতি একান্তভাবে কাম্য। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন পরস্পর নির্ভরশীল এবং একে অপরের পরিপূরক।
প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ কাঁচামালকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুতপ্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করাকে শিল্প বলে।
এদেশের সিংহভাগ গ্রামীণ জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষির অগ্রগতির সাথে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে কৃষিকে কেন্দ্র করে। এদেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং তারা কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ইত্যাদি কৃষির অগ্রগতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!