পলি শব্দের অর্থ অনেক।
পলিমার গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে ।
পিভিসি পাইপ তৈরি হয় ভিনাইল ক্লোরাইড মনোমার থেকে।
পলিথিন তৈরিতে ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুচাপে রাখা হয় ।
পলিথিন তৈরিতে ইথিলিনকে ২০০° C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়।
পলিমারকরণ দূত করার জন্য অক্সিজেন প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বস্ত্র তৈরির প্রধান উপাদান সুতা।
বস্ত্র তৈরির প্রধান উপাদান সুতা
আঁশ জাতীয় পদার্থকে তত্ত্ব বলে।
অতি প্রয়োজনীয় উৎস অনুযায়ী তন্তু দুই ধরনের ।
অ্যাসবেস্টস প্রাকৃতিক তন্তু।
প্রাকৃতিক খনিতে ধাতব তন্তু পাওয়া যায় ।
তুলার আঁশ থেকে সুতা তৈরি হয় ।
তুলা 'লুমেন' নামক পদার্থে পূর্ণ থাকে।
প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ তত্ত্বর মধ্যে সুতা প্রধান তন্তু।
সুতি কাপড়ের তাপ পরিবহন ও পরিচালন ক্ষমতা কম ।
গরমের দিনে সুতি কাপড় পড়া আরামদায়ক ।
সুতি বস্ত্রের প্রধান সীমাবদ্ধতা সংকোচনশীলতা।
বিলাসবহুল বস্ত্র তৈরিতে রেশম তত্ত্ব ব্যবহৃত হয়।
প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশম সবচেয়ে শক্ত ও দীর্ঘ।
রাজা-রাণীর পোশাক তৈরিতে রেশম তন্তু ব্যবহার করা হয়।
রেশমের প্রধান গুণ সৌন্দর্য।
৩০০ রঙের রেশম পাওয়া যায়।
রেশম ফাইব্রেয়ন প্রোটিন দিয়ে তৈরি ।
প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত ও দীর্ঘ তন্তু রেশম।
ফাইব্রেয়ন প্রোটিন জাতীয় পদার্থ ।
রেশমকে তন্তুর রানি বলা হয় ।
শীতবস্ত্র তৈরিতে পশম ব্যবহৃত হয় ।
শীতবস্ত্র তৈরিতে পশম ব্যবহৃত হয় ।
তাপ কুপরিবাহী গুণের কারণে পশমি পোশাক শীতবস্ত্র হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়।
পশম অতি প্রাচীন তন্তু।
মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন প্রোটিন থাকে ।
মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন প্রোটিন থাকে ।
নাইলন আগুনে পোড়ে না, তবে গলে স্বচ্ছ বিড গঠন করে।
বোরাক্স বিড তৈরি করে নাইলন।
প্যারাসুটের কাপড় তৈরিতে নাইলন ব্যবহৃত হয় ।
কৃত্রিম তন্তুর মধ্যে প্রধান এবং প্রথম তন্তু রেয়ন।
রেয়ন তিন প্রকার।
রেয়ন কাপড়ে বেশি গরম ইস্ত্রি ব্যবহার করা যায় না ।
জিনিং প্রক্রিয়ায় পাওয়া তত্ত্বকে কটন লিস্ট বলা হয়।
পাটের শুকানো আঁশ একত্রিত করে বেঁধে রাখাকে গাঁট বলা হয়।
পাট তন্তুর মিশ্রণ তৈরির প্রক্রিয়াকে ব্যাচিং বলে।
লিনেন তন্তুর জন্য বিশেষ ধরনের যে কম্বিং করা হয় তা হেলকিং নামে পরিচিত।
হেলকিং প্রক্রিয়ায় সুতা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মিহি হয় ।
সুতা পাকানোর প্রক্রিয়াকে স্পিনিং বলে।
রেশম পোকা থেকে তৈরি গুটিকে কোকুন বলে।
পরিণত কোকুন বা গুটি সাবান পানিতে সিদ্ধ করা হয় ।
একের অধিক ক্ষুদ্র আঁশ ও উপযুক্ত দ্রাবকের সাহায্যে তৈরিকৃত ঘন ও আঠালো দ্রবণকে স্পিনিং দ্রবণ বলা হয় ।
স্পিনিং দ্রবণ স্পিনারেট যন্ত্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়।
বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল রাবার দিয়ে তৈরি করা হয়।
মেলামাইন থার্মোসেটিং প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি।
মেডিক্যাল অপারেশনে সেলাইয়ের কাজে পচনশীল প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়।
পিভিসি পোড়ালে HCI গ্যাস নির্গত হয়।
রাবার ও প্লাস্টিক গবাদি পশুর মাংস ও চর্বিতে জমা হয় ।
মাটি দূষণের অন্যতম কারণ প্লাস্টিক বর্জ্য।
পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরোস (Mieros) থেকে। পলি শব্দের অর্থ হলো অনেক (Many) এবং মেরোস শব্দের অর্থ অংশ (Part)। অর্থাৎ অনেকগুলো একই রকম ছোট ছোট অংশ জোড়া দিয়ে যে একটি বড় জিনিস পাওয়া যায়, সেটি হচ্ছে পলিমার।
অনেকগুলো একই রকম ছোট ছোট অংশ একের পর এক জোড়া লাগালে যে বড় জিনিস পাওয়া যায় তাই পলিমার। পলিথিনকে তাই ইথিলিনের পলিমার বলা হয়। কারণ, অসংখ্য ইথিলিনের অণু যুক্ত হয়ে বৃহৎ অণু পলিথিন গঠন করে

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য পলিমারগুলো হলো-মেলামাইনের থালা-বাসন, বৈদ্যুতিক সুইচ, বোর্ড, কার্পেট, পিভিসি পাইপ, পলিথিনের ব্যাগ, পাটের ব্যাগ, সিল্কের কাপড়, উলের কাপড়, সুতি কাপড়, নাইলনের সুতা, রাবার ইত্যাদি। এসব জিনিস আমাদের খুবই পরিচিত। আমরা সবসময়েই এগুলো ব্যবহার করছি।
পলিমার হলো মনোমার নামক ছোট ছোট অণুর দীর্ঘ শৃঙ্খল বা জালিকা। এই মনোমারগুলো একের পর এক যুক্ত হয়ে বিশাল আকারের অণু গঠন করে, যাকে পলিমার বলে। পলিমার অনেকগুলো একই ধরনের ছোট ইট দিয়ে তৈরি একটি বড় দেয়ালের মতো। এই ছোট ইটগুলোই হলো মনোমার এবং দেয়ালটি হলো' পলিমার।
দুটি পলিমারের মনোমার নিম্নরূপ:
পলিথিন - ইথিলিন নামক মনোমার থেকে প্রস্তুতকৃত পলিমার।
পিভিসি - ভিনাইল ক্লোরাইড নামের মনোমার থেকে প্রস্তুত পলিমার
বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড বা বৈদ্যুতিক সুইচ হলো বাকেলাইট নামের একটি পলিমার, যা তৈরি হয় ফেনল ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থেকে। আবার মেলামাইনের থালা-বাসন হলো মেলামাইন রেজিন নামের পলিমার, যা তৈরি হয় মেলামাইন ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থেকে। সুতরাং বলা যায় যে, একটি পলিমারের মনোমার একাধিক হতে পারে।
পলিমার দুই ধরনের হয়ে থাকে। এগুলো হলো প্রাকৃতিক পলিমার এবং কৃত্রিম পলিমার। পাট, সিল্ক, সুতি কাপড়, রাবার-এগুলো প্রাকৃতিক পলিমার। অন্যদিকে মেলামাইন, রেজিন, বাকেলাইট, পিভিসি, পলিথিন এগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে হয়। তাই এরা হলো কৃত্রিম পলিমার।
পাটের তত্ত্ব গঠিত হয় সেলুলোজ নামক একটি জটিল শর্করা থেকে। অর্থাৎ সেলুলোজ হলো পাটের তন্তুর মনোমার। সেলুলোজের অসংখ্য একক অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শৃঙ্খল তৈরি করে, যার ফলে পাটের তত্ত্ব শক্ত ও টেকসইভাবে গঠিত হয়। যেহেতু প্রাকৃতিক উপায়ে পাটের তত্ত্ব গঠিত হয় তাই এটি একটি প্রাকৃতিক পলিমার।
রেজিনকে কৃত্রিম পলিমার বলা হয় কারণ একে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয়। রেজিন বিভিন্ন ধরনের ছোট অণুকে। (মনোমার) একত্রিত করে তৈরি করা হয়। এই মনোমারগুলো একের পর এক যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শৃঙ্খল গঠন করে, যাকে রেজিন বলে। যেহেতু রেজিন প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় না বরং পরীক্ষাগার বা শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয় তাই একে কৃত্রিম পলিমার বলা হয়।
প্রাকৃতিক পলিমার প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং উদ্ভিদ, প্রাণী বা জীবাণু থেকে উৎপন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, সেলুলোজ, রেশম, স্টার্চ। অন্যদিকে, কৃত্রিম পলিমার রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এবং প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। উদাহরণস্বরূপ, পলিথিন, নাইলন, পিভিসি। প্রাকৃতিক পলিমার সাধারণত জৈবনিকভাবে ক্ষয় হয়, কিন্তু কৃত্রিম পলিমারের ক্ষেত্রে এটি হয় না এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মনোমার থেকে পলিমার তৈরি হয় নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মনোমার সংযুক্ত করে পলিমার তৈরি হয়, তাকেই বলে পলিমারকরণ প্রক্রিয়া। সাধারণত পলিমারকরণে উচ্চ চাপ এবং তাপের প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায় মনোমারসমূহ-একসাথে যুক্ত হয়েই উৎপন্ন হয় পলিমার।
অক্সিজেন প্রভাবকের উস্থিতিতে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ইথিনকে পলিমারকরণ করে পলিথিন তৈরি করা যায়। তবে TiCl, প্রভাবকের উপস্থিতিতে এ পলিমারকরণ এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপেই সংঘটিত হয়। তাই চাপ সংক্রান্ত ব্যয় কমাতে ), এর পরিবর্তে TiCl, ব্যবহার করা হয়।
বা সুতার দুটি ব্যবহার ক্ষেত্র নিম্নরূপ :
১. বস্ত্রশিল্পে তন্তু বা সুতা দিয়ে প্রধানত নানা প্রকৃতির কাপড় তৈরি করা হয়।
২. এছাড়াও কার্পেট, ফিল্টার, তড়িৎ নিরোধক দ্রব্য প্রস্তুত কত বিভিন্ন রকমের তত্ত্ব বা সুতা ব্যবহার করা হয়।
তুলা, পাট, লিনেন, রেশম, পশম, উল, সিল্ক, অ্যাসবেস্টস, ধাতব জন্তু ইত্যাদি যেগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, সেগুলোকে আমরা প্রাকৃতিক তত্ত্ব বলি। এগুলো সাধারণত সুতি কাপড় তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়
যে সকল তত্ত্ব প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না অর্থাৎ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয় সেগুলোই কৃত্রিম তন্তু। এর মধ্যে রয়েছে পলিস্টার, রেয়ন, ডেক্রন, নাইলন ইত্যাদি।
প্রাকৃতিক তত্ত্ব তিন প্রকার। এগুলো হলো উদ্ভিদ তত্ত্ব, প্রাণিজ তত্ত্ব এবং খনিজ তত্ত্ব। তুলা, পাট ইত্যাদি পাওয়া যায় উদ্ভিদ থেকে। তাই এদেরকে উদ্ভিদ তত্ত্ব বলে। অন্যদিকে রেশম, পশম এগুলো পাওয়া যায় প্রাণী থেকে। তাই এদেরকে প্রাণিজ তন্তু বলে। আবার ধাতব তত্ত্ব পাওয়া যায় প্রাকৃতিক খনিতে। তাই এদেরকে খনিজ তত্ত্ব বলে।
কৃত্রিম তন্তু দুরকমের হয়। সেলুলোজিক তত্ত্ব এবং নন' সেলুলোজিক তত্ত্ব। রেয়ন, এসিটেট রেয়ন, ভিসকোস রেয়ন, কিউপ্রা অ্যামোনিয়াম-রেয়ন, এগুলো সেলুলোজকে নানাভাবে প্রক্রিয়াজাত করে। তৈরি হয় বলে এদেরকে সেলুলোজিক তত্ত্ব বলে। যেসব কৃত্রিম তন্তু সেলুলোজ থেকে তৈরি না করে অন্য পদার্থের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করা হয়, তারাই হলো নন-সেলুলোজিক তত্ত্ব। নাইলন, পলিস্টার, পলি প্রোপিলিন, ক্রেন-এগুলো হলো নন সেলুলোজিক কৃত্রিম তত্ত্ব।
কৃত্রিম তন্তু বিভিন্ন পদার্থ বা রাসায়নিক দ্রব্যাদির সংমিশ্রণে গবেষণাগারে উৎপাদিত হয়। একইভাবে পলিস্টার পরীক্ষাগারে ইথিলিন গ্লাইকল ও টেরিথ্যালিক এসিডের বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। তাই পলিস্টারকে কৃত্রিম তন্তু বলা হয়।
প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম তনুর মধ্যে পার্থক্য: প্রাকৃতিক তত্ত্ব উদ্ভিদ, প্রাণী বা খনিজ, পদার্থ থেকে সরাসরি পাওয়া যায়। যেমন- তুলা, রেশম, পশম। অন্যদিকে, কৃত্রিম তন্তু রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয় এবং প্রকৃতিতে সরাসরি পাওয়া যায় না। যেমন- নাইলন, পলিস্টার। প্রাকৃতিক তত্ত্বর গঠন জটিল এবং এতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক যৌগ থাকে। কৃত্রিম তন্তুর গঠন সাধারণত সরল এবং এক বা কয়েকটি ধরনের পুনরাবৃত্ত একক থেকে তৈরি হয়। প্রাকৃতিক তবু কাপড়, রশি, কাগজ ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কৃত্রিম তন্তু কাপড়, প্লাস্টিক, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
যেসব তত্ত্ব উদ্ভিদ, প্রাণিজ ও খনি হতে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় তাদের প্রাকৃতিক তত্ত্ব বলে। লিলেনকে প্রাকৃতিক তন্তু বলা হয়-কারণ, তিসি বা মসিনা নামে পরিচিত আমাদের দেশের তেলবীজ উদ্ভিদের সাধারণ নাম ফ্লাক্স। ফ্লাক্স জাতীয় উদ্ভিদের ছাল থেকে লিলেন তত্ত্ব উৎপন্ন হয়।
যেনন কৃত্রিম তন্তু সেলুলোজ থেকে তৈরি না করে অন্য পদার্থের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করা হয় তাদেরকে নন-সেলুলোজিক বা সিনথেটিক তত্ত্ব বলে। কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন প্রভৃতি রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কৃত্রিম এ তত্ত্ব তৈরি করা হয়। নাইলন, পলিস্টার, ডেব্রুন, পলি প্রোপিলিন, প্রভৃতি নন-সেলুলোজিক তন্তুর উদাহরণ।
রেশমের প্রধান গুণ হচ্ছে এর সৌন্দর্য। তিন শতাধিক রঙের রেশম পাওয়া যায়। রেশম বা পলু পোকা নামে এক প্রজাতির পোকার গুটি থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রেশমের তবু আহরণ করা হয়। রেশম মূলত ফাইব্রেয়ন নামের এক ধরনের প্রোটিন-জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। প্রাকৃতিক প্রাণিজ তত্ত্বর মধ্যে রেশম সবচেয়ে শক্ত এবং দীর্ঘ।। এরকম বিভিন্ন গুণাগুণের জন্য বিলাসবহুল বস্ত্র তৈরিতে রেশম তন্তু ব্যবহৃত হয়।
পশমের তত্ত্বর মাঝে ফাঁকা জায়গা থাকে যেখানে বাতাস আটকে থাকতে পারে। বাতাস তাপ অপরিবাহী তাই পশম বা উলের কাপড় তাপ কুপরিবাহী। তাপ কুপরিবাহী বলে পশমি পোশাক শীতবস্ত্র হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়.।
নাইলনের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. নাইলন খুব হালকা ও শক্ত।
২. নাইলনের স্থিতিস্থাপকতা ভিজলে দ্বিগুণ হয়।
৩. নাইলন আগুনে পোড়ে না, তবে গলে গিয়ে বোরাক্স বিডের মতো স্বচ্ছ বিড গঠন করে।
আমরা শীতের হাত থেকে বাঁচার জন্য যে পোশাকের কথা সবার আগে ভাবি, সেটি হচ্ছে পশম বা উলের পোশাক। তাপ কুপরিবাহী বলে পশমি পোশাক শীতবস্ত্র হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়। নমনীয়তা, স্থিতিস্থাপকতা, কুঞ্চন প্রতিরোধের ক্ষমতা, রং ধারণক্ষমতা-এগুলো হচ্ছে উল বা পশমের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য
পশম একটি অতি প্রাচীন তত্ত্ব। বিভিন্ন জাতের ভেড়া বা মেযের লোম থেকে পশম উৎপন্ন হয়। মানুষের চুল ও নখে যে প্রোটিন থাকে, অর্থাৎ কেরাটিন, সেটি দিয়ে পশম তন্তু গঠিত। পশমের মধ্যে আলপাকা, মোহেরা, কাশ্মিও, ভিকুনা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
জীবন্ত মেষ থেকে লোম সরিয়ে যে পশম তৈরি করা হয়, তাকে বলে 'ফ্লিন উল। মৃত বা জবাই করা মেষ থেকে যে পশম তৈরি করা হয়, তাকে বলে, 'পুন্ড উল'। প্রায় ৪০ জাতের মেষ থেকে ২০০ ধরনের পশম (ক্লিস উল ও পুন্ড উল) তৈরি করা হয়।
নাইলন তৈরির প্রক্রিয়াটি একটি জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সাধারণত, হেক্সামিথিলিন ডাইঅ্যামিন এবং এডিপিক অ্যাসিড নামক দুটি রাসায়নিক পদার্থকে উচ্চ তাপমাত্রায় এবং চাপে বিক্রিয়া করানো হয়। এই বিক্রিয়ায় পানি নির্গত হয়ে একটি দীর্ঘ শৃঙ্খলের পলিমার তৈরি হয়, যাকে আমরা নাইলন বলি।
রেয়ন সুন্দর, উজ্জ্বল, মনোরম, অভিজাত এবং আকর্ষণীয়। এগুলো মোটামুটি টেকসই। লঘু এসিডের সাথে তেমন কোনো বিক্রিয়া করে না কিন্তু ধাতব লবণে রেয়ন সহজে বিক্রিয়া করে। অধিক উত্তাপে রেয়ন গলে যায়। তাই রেয়ন কাপড়ে বেশি গরম ইস্ত্রি ব্যবহার করা যায় না।
রেয়ন হলো এক প্রকার কৃত্রিম তত্ত্ব। উদ্ভিজ্জ সেলুলোজ ও | প্রাণিজ পদার্থ থেকে রেয়ন প্রস্তুত করা হয়। এরা সুন্দর, উজ্জ্বল, মনোরম, অভিজাত এবং মোটামুটি টেকসই। অধিক উত্তাপে রেয়ন গলে যায়। লঘু এসিডের সাথে রেয়ন বিক্রিয়া না করলেও ধাতব লবণে রেয়ন গলে যায়।
নাইলনের দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. খুব হালকা ও শক্ত।
২. এর স্থিতিস্থাপকতা ভিজলে দ্বিগুণ হয়।
নিচে নাইলন ও রেয়নের দুইটি পার্থক্য দেওয়া হলো-
| নাইলন | রেয়ন |
| ১. এডিপিক এসিড ও হেক্সামিথিলিন ডাই অ্যামিন থেকে তৈরি। | ১. উদ্ভিজ্জ সেলুলোজ ও প্রাণিজ পদার্থ থেকে তৈরি। |
| ২. নাইলন দুই প্রকার। যথা-নাইলন-৬৬ এবং নাইলন-৬ | ২. রেয়ন তিন প্রকার। যথা-ভিসকাস, কিউপ্রামোনিয়াম ও অ্যাসিটেট। |
রেয়নের দুইটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. সুন্দর, উজ্জ্বল, মনোরম, অভিজাত ও আকর্ষণীয় রূপ এবং মোটামুটি টেকসই।
১২. লঘু এসিডের সাথে তেমন কোনো বিকিয়া করে না কিন্তু ধাতব লবণে রেয়ন সহজে বিক্রিয়া করে।
কার্পাস ফল সংগ্রহ করে বীজ থেকে তুলা আলাদা করে ফেলা হয়। এই প্রক্রিয়ার নাম হলো জিনিং। জিনিং প্রক্রিয়ায় পাওয়া তত্ত্বকে বলে কটন লিন্ট। অনেকগুলো কটন লিস্ট একসাথে বেঁধে গাঁট তৈরি করা হয়। এই গাঁট থেকেই স্পিনিং মিলে সুতা কাটা হয়।
সুতা তৈরির জন্য বিভিন্ন রকমের তুলার একটি মিশ্রণ তৈরি করা হয়। কারণ হলো, গুণে এবং মানে ঠিক একই রকম তুলা সব সময় পাওয়া সম্ভব হয় না। বিভিন্ন রকম তুলার মিশ্রণ না করলে একেক সময় একেক রকম সুতা তৈরি হবে, কখনো ভালো, কখনো মন্দ অর্থাৎ সুতার মান এক হবে না। এছাড়া বিভিন্ন রকম তুলা মিশিয়ে সুতা তৈরি করলে উৎপাদন খরচও কম হয়।
বেল বা গাঁট থেকে তুলার মিশ্রণ তৈরিই হলো ব্লেন্ডিং এবং মিক্সিং। ব্লেন্ডিং এবং মিক্সিং বাংলাদেশের জন্য বেশি প্রযোজ্য। কারণ এখানে বাণিজ্যিকভাবে তুলার উৎপাদন হয় না বললেই চলে। বেশির ভাগ তুলা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। একেক দেশের তুলার মানও একেক রকম হয়। একই রকম তুলার যোগান পাওয়া বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। এজন্য সমমান সৃষ্টি করতে বিভিন্ন রকম তুলা সংগ্রহ করে সেগুলোর মিশ্রণ তৈরি করা হয়।
সুতা কাটার দ্বিতীয় ধাপ হলো কার্ডিং এবং কম্বিং। তুলা, লিনেন, শশম এসব তত্ত্বর বেলায় এ ধাপটি ব্যবহার করা হয়। তত্ত্ব থেকে ধূলাবালি, অন্যান্য ময়লা এবং অতিরিক্ত ছোট আঁশ দূরীভূত করার জন্য কার্ডিং করা প্রয়োজন হয়। সুতাকে অত্যন্ত মিহি, মসৃণ ও সরু করতে কম্বিং প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। সাধারণত স্লিভার তৈরি করার জন্য কার্ডিং ও কম্বিং করার প্রয়োজন। স্লিভার হলো তন্তুগুলোর পাতলা আন্তর। আর এ স্লিভার থেকেই সুতা কাটা হয়।
রেশম পোকা থেকে তৈরি হয় এক ধরনের গুটি। একে কোকুন বলে। পরিণত কোকুন বা গুটি সাবান পানিতে লোহার কড়াইয়ে সেদ্ধ করা হয়। এতে কোকুন নরম হয়ে যায় এবং উপর থেকে খোসা খুব সহজেই আলাদা হয়ে যায়।
কার্ডিং ও কম্বিং করে প্রাপ্ত তন্তু পাতলা আন্তরের মতো হয় এবং এটিকে স্নাইভার বলে। স্লাইভারকে টেনে ক্রমশ অধিকতর সরু করা হয়। একসময় স্নাইডারের শেষ প্রান্তে মাত্র কয়েক গোছা তন্তু বিদ্যমান থাকে। এভাবে পরিবর্তিত স্লাইভারকে মোচড়ানো হয় বা পাক দেওয়া হয়, ফলে তন্তুগুলো একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে লেগে যায় এবং সুতায় পরিণত হয়।
প্রথমে সংগ্রহ করা কোকুনগুলোকে গরম পানিতে সিদ্ধ করা ২য়। এই পদ্ধতিতে কোকুনের ভেতরে থাকা পোকা মারা যায় এবং কোকুন নরম হয়ে যায়। এরপর, কোকুনের বাইরের খোসা আলাদা করে ভেতর থেকে একটি চিকন সুতা বের করা হয়। এই সুতাকে একটি চরকার সাহায্যে পাকিয়ে মোটা সুতা তৈরি করা হয়। এই সুতাকে পরবর্তীতে ধোয়া, শুকানো এবং বোনানোর মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা হয়।
কৃত্রিম তন্তু তৈরিতে স্পিনারেট যন্ত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই যন্ত্রটি একটি মুখ্য উপাদান যা তরল পলিমারকে সূক্ষ্ম সুচের মতো ছিদ্রের মধ্য দিয়ে ঠেলে দিয়ে ক্রমাগত ফিলামেন্ট তৈরি করে। একের অধিক ক্ষুদ্র আঁশ ও উপযুক্ত দ্রাবকের সাহায্যে এই ঘন ও আঠালো তরল দ্রবণ তৈরি করা হয়। এই ছিদ্রগুলো দিয়ে বের হওয়া ফিলামেন্টগুলো শীতল ও কঠিন হয়ে কৃত্রিম তন্তুতে পরিণত হয়।
রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী আমাদের জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাইকেল, রিক্সা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন- এসবই রাবারের তৈরি। পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল- এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী।
রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ, যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রোটেকটিভ লেয়ার হিসেবে প্রলেপ দেওয়ার কাজে রাবার ব্যবহৃত হয়।
প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক যেমন- এসিটোন, মিথানল ইত্যাদিতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন ইত্যাদিতে দ্রবণীয়। রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় ও ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ ও তাপ কুপরিবাহী।
পচনশীল প্লাস্টিক চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক। শল্য চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ধরনের সার্জিকাল স্টিচ পচনশীল প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয় যা শরীরের ভেতরে থাকা অবস্থায় নিজে থেকেই গলে যায়। এই প্লাস্টিকগুলো সাধারণত জৈবিক উপাদান বা তৈলাক্ত পদার্থ দিয়ে তৈরি হয়। এগুলো পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর।
প্লাস্টিক পোড়ালে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়। যেমন-পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCI) নিঃসৃত হয়। আবার পলিইউরেথেন (Polyurethane) প্লাস্টিক (যা আসবাবপত্র, যেমন-চেয়ার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস এবং হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। এ সকল কারণে প্রাস্টিক পোড়ানো উচিত নয়।
রাবারের দুইটি রাসায়নিক ধর্ম হলো-
১. রাবার দুর্বল ক্ষার, অ্যাসিড ও পানির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
২. তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়।
আমরা বাসাবাড়িতে নানা রকম প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার করছি। মগ, বালতি, জগ, মেলামাইনের থালা-বাসন, পিভিসি পাইপ, বাচ্চাদের খেলনা, গাড়ির সিটবেল্ট, এমনকি আসবাবপত্র সবকিছুই প্লাস্টিকের তৈরি। নরম অবস্থায় প্লাস্টিক ইচ্ছামতো ছাঁচে ফেলে সেটা থেকে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি বিশিষ্ট পদার্থ তৈরি করা হয়।
যেসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয় না বরং পুড়ে শক্ত হয়ে যায় তাদের থার্মোসেটিং প্লাস্টিকস বলে। এদেরকে একবারের বেশি ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় না। মেলামাইনও এসব বৈশিষ্ট্য বহন করে অর্থাৎ তাপে নরম হয় না এবং শক্ত হয়ে যায়, দ্বিতীয়বার কোনো ছাঁচে ফেলা যায় না তাই মেলামাইনকে থার্মোসেটিং প্লাস্টিকস বলে।
থার্মোপ্লাস্টিক যেমন- পলিথিন, পিভিসি পাইপ, পলিস্টার কাপড়, বাচ্চাদের খেলনা- এসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয়ে যায় ∎ এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়। এভাবে যতবারই এদেরকে তাপ দেওয়া যায়, এরা নরম হয় ও ঠান্ডা করলে শক্ত হয়। - এই কারণে থার্মোপ্লাস্টিককে পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ্বলা হয়।
থার্মোপ্লাস্টিক ও থার্মোসেটিং প্লাস্টিকের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো এদের তাপের প্রতি সহনশীলতা। থার্মোপ্লাস্টিককে বারবার গরম করে নরম করা যায় এবং আবার ঠান্ডা করে আকৃতি দেওয়া যায়, কারণ এদের আণবিক বন্ধন শক্তিশালী নয়। অন্যদিকে, থার্মোসেটিং প্লাস্টিককে একবার গরম করে আকৃতি দিয়ে নিলে এদেরকে আর পুনরায় গরম করে গলানো যায় না, কারণ এদের আণবিক বন্ধন খুব শক্তিশালী হয়। এছাড়াও, থার্মোপ্লাস্টিক সাধারণত নরম এবং নমনীয় হয়, আর থার্মোসেটিং প্লাস্টিক কঠিন এবং ভঙ্গুর হয়।
যে সকল পলিমারকে সহজে সম্প্রসারিত, বাঁকানো এবং তাপ প্রয়োগে গলানো যায় তাদেরকে থার্মোপ্লাস্টিক বলে। পলিস্টার একটি - থার্মোপ্লাস্টিক কারণ, পলিস্টারকে তাপ দিলে নরম হয়ে যায় এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়। এভাবে যতবারই একে তাপ দেওয়া যায় এরা নরম হয় ও ঠাণ্ডা করলে শক্ত হয়।
বেশির ভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবে যথেষ্ট নিষ্ক্রিয়। তাই বাতাসের জলীয় বাষ্প ও অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। এমনকি পাতলা এসিড বা ক্ষারের সাথেও প্লাস্টিক বিক্রিয়া করে না। এই কারণে দৈনিক ব্যবহার্য জিনিসপত্র তৈরিতে প্লাস্টিক দ্রব্যাদির ব্যবহার অধিক উপযোগী।
প্লাস্টিকের দুটি সীমাবদ্ধতা নিম্নরূপ:
১. শক্তিশালী ও উচ্চ ঘনমাত্রার এসিডে কিছু কিছু প্লাস্টিক দ্রবীভূত হয়ে যায়।
২. প্লাস্টিক সাধারণত দাহ্য হয় অর্থাৎ এদেরকে আগুন ধরালে পুড়তে থাকে এবং প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে।
রাবার ও প্লাস্টিকের মধ্যে দুইটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
| রাবার | প্লাস্টিক |
| ১. রাবারকে সহজে টেনে লম্বা করা যায়। | ১. প্লাস্টিককে টেনে লম্বা করা যাবে না। কিন্তু সহজে হাঁচযোগ্য। |
| ২. রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। | ২. প্লাস্টিক বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং গুনা প্রাপ্ত হয় না। |
প্লাস্টিক একটি কৃত্রিম পলিমার। বেশিরভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। তাই বাতাসের জলীয়বাষ্প ও অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। এজন্যই প্লাস্টিক পচে না।
রাবার ও প্লাস্টিক এই দুই ধরনের বর্জ্যই পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো প্রাকৃতিকভাবে পচে না। ফলে এগুলো মাটিতে মিশে গেলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, জলে মিশে গেলে জলজ প্রাণীদের মৃত্যু ঘটে এবং বায়ুতে মিশে গেলে বায়ু দূষণ হয়। এছাড়াও, এই বর্জ্যগুলো পুড়িয়ে ফেললে বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে যা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের কারণ হয়।
রাবার ও প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ। নেওয়া যেতে পারে। যেমন- এই বর্জ্যগুলোকে পৃথক করে সংগ্রহ করা, পুনর্ব্যবহার করা, পুনঃচক্র করা এবং নতুন পণ্য তৈরি করা। এছাড়াও, এই বর্জ্যগুলোকে দাহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। সচেতনতা, সৃষ্টি করে মানুষকে প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার করতে উৎসাহিত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনেকগুলো ছোট অণু পরপর যুক্ত হয়ে বড় আকারের যে অণু তৈরি হয় তাই পলিমার।
যে সমস্ত পলিমার প্রকৃতিতে পাওয়া যায় তাদেরকেই বলা হয় প্রাকৃতিক পলিমার।
পলিমার একই ধরনের অনেকগুলো ছোট অণু দ্বারা গঠিত হয়। এই ছোট অণুই হলো মনোমার।
পলিমারের ক্ষুদ্রতম অণুকে মনোমার বলে।
পলিমারকরণ প্রক্রিয়া হলো মনোমার সংযুক্ত করে পলিমার তৈরির প্রক্রিয়া
ইথিলিনের পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় যে তাদ্রবণীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় তাকে পলিথিন বলে।
পলিথিনের মনোমার হলো ইথেন বা ইথিলিন।
মৃত বা জবাই করা মেষ থেকে যে পশম তৈরি করা হয় তাকে পুন্ড উল বলে।
বয়নশিল্পে যেসব আঁশ দিয়ে বয়ন ও বুননের কাজ সম্ভব সেগুলোই তত্ত্ব।
জিনিং প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত তত্ত্বকে কটন লিস্ট বলে।
রেশমকে তত্ত্বর রাণী বলা হয়।
জীবন্ত মেধ থেকে লোম সরিয়ে যে পশম তৈরি করা হয় তাকে। 'ক্লিস উল' বলা হয়।
ফাইব্রেয়ন এক ধরনের প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
প্রাণিজ উৎসে থেকে যেসব তত্ত্ব পাওয়া যায় তাদেরকে প্রাণিজ তত্ত্ব বলে।
যেসব অঙ্গ সরাসরি প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব নয় বরং গবেষণাগারে বিভিন্ন পদার্থ বা রাসায়নিক দ্রব্যাদির সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়, সেগুলোকে কৃত্রিম তন্তু বলা হয়।
যেসব কৃত্রিম তন্তু সেলুলোজ থেকে তৈরি না করে অন্য পদার্থের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করা হয় তাকে নন-সেলুলোজিক তন্তু বলে।
খনি গর্ভে কঠিন শিলামাটির তলদেশে স্তরে স্তরে যে আঁশ জমা হয় তাকে অ্যাসবেস্টস বলে।
প্রথম উদ্ভাবিত সিনথেটিক তনু নাইলন।
রেশম বা সিল্ক।
সেলুলোজিক তন্তুর অপর নাম রিজেনারেটিভ তত্ত্ব।
পাট তন্তুর বেলায় বিভিন্ন রকম তুলা সংগ্রহ করে সেগুলোর মিশ্রণ তৈরি করাকে ব্যাচিং বলে।
গাছ থেকে কার্পাস ফল সংগ্রহ করে বীজ থেকে তুলা আলাদা করার প্রক্রিয়ার নামই হলো জিনিং।
রেশম পোকা থেকে রেশম তত্ত্ব সমৃদ্ধ এক ধরনের গুটি তৈরি হয় যাকে কোকুন বলে।
স্পিনিং মিলে স্লিভারকে টেনে সরু করার প্রক্রিয়াকে রোডিং বলে।
স্পিনিং এর ক্ষেত্রে স্লিভারকে মোচড় বা পাক দেওয়ার প্রক্রিয়াকে টুইস্টিং বলে।
জিনিং প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত তত্ত্বকে কটন লিন্ট বলে।
লিনেন তত্ত্ব হতে মিহি মসৃণ ও সরু সুতা তৈরির উদ্দেশ্যে যে বিশেষ ধরনের কম্বিং করা হয় তাকে হেলকিং বলে।
যে যন্ত্রের মধ্য দিয়ে সুতার নাল বের হয় তাকে স্পিনারেট বলে।
সুতা তৈরির মৌলিক উপাদান কটন লিন্ট।
যেসব পদার্থ স্থিতিস্থাপক ধর্ম প্রদর্শন করে, তাপ সংবেদনশীল হয় এবং তাপ দিলে আয়তনে কমে তাকে রাবার বলে।
প্লাস্টিক শব্দের অর্থ হলো সহজে ছাঁচযোগ্য।
যে সকল প্লাস্টিককে যতবারই তাপ দেয়া হয়, এরা নরম হয় এবং ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়, তাদেরকে থার্মোপ্লাস্টিক বলে।
যে সকল পলিমার কৃত্রিম মনোমার থেকে তৈরি করা হয়, ডাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। ফ্রাইং প্যানের হাতলে বাকেলাইট। নামক থার্মোসেটিং প্লাস্টিকণ ব্যবহার করা হয় যা ফেনল ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি কৃত্রিম মনোমার থেকে তৈরি। তাই ফ্রাইং প্যানের হাতল বা বাকেলাইট একটি কৃত্রিম পলিমার।
অনেকগুলো একই রকম ছোট ছোট অংশ জোড়া দিয়ে যে একটি বড় জিনিস পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে পলিমার। পলিমার দুই ধরনের; যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম। প্রাকৃতিক পলিমার প্রকৃতিতে পাওয়া যায় আর কৃত্রিম পলিমার প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, শিল্প কারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে হয়। সেই হিসেবে তুলা একটি প্রাকৃতিক পলিমার, কারণ এটি প্রকৃতিতেই পাওয়া যায়।
রসায়ন বিজ্ঞানের ভাষায় একই ধরনের অনেকগুলো ছোট অণু পর পর যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি কবে যা মনোমার নামে পরিচিত। বাকেলাইট তৈরি হয় ফেনল ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থেকে তাই এটিকে পলিমার বলা হয়।
রেশমের প্রধান গুণ এর সৌন্দর্য। তিন শতাধিক রঙের রেশম পাওয়া যায়। বিলাসবহুল বস্তু তৈরিতে রেশম তন্তু ব্যবহৃত হয়। আগেকার দিনের রাজা রাণীর পোশাক বলতে আমরা রেশমি পোশাকই বুঝি। এছাড়া প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশম সবচেয়ে শক্ত ও দীর্ঘ। এ সমস্ত নানাবিধ গুণাগুণের জন্য রেশমকে তন্তুর রাণী বলা হয়।
ড্রেক্রন এক ধরনের কৃত্রিম তন্তু। আমাদের অতি প্রয়োজনীয় তত্ত্ব উৎস অনুযায়ী দুই রকম। যথা- প্রাকৃতিক তত্ত্ব ও কৃত্রিম তন্তু। প্রাকৃতিক তত্ত্বগুলো পাওয়া যায় উদ্ভিদ থেকে। আর কৃত্রিম তন্তুগুলো বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। ডেক্রনকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয় বলে ডেক্রন কৃত্রিম তন্তুর অন্তর্ভুক্ত।
যেসব তন্তু শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয় তাদেরকে কৃত্রিম তন্তু বলে। যেমন- নাইলন, পলিস্টার, ডেব্রুন ইত্যাদি। আবার কৃত্রিম তন্তুর মধ্যে যেসব তন্তু সেলুলোজ থেকে তৈরি না করে অন্য পদার্থের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করা হয় তারাই হলো নন-সেলুলোজিক তত্ত্ব। যেহেতু নাইলন সেলুলোজ থেকে তৈরি করা হয় না তাই নাইলনকে নন-সেলুলোজিক কৃত্রিম তন্তু বলে।
কেরাটিন দিয়ে পশম তন্তু গঠিত। পশম তন্তু দিয়ে পশম বা উলের পোশাক তৈরি করা হয়। এ তনুর মাঝে ফাঁকা জায়গা থাকে যেখানে বাতাস আটকে থাকতে পারে। বাতাস তাপ অপরিবাহী তাই পশম বা উলের কাপড় তাপ কুপরিবাহী। পশমি কাপড় পরে থাকলে শীতের দিনে শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যেতে পারে না, তাই এটি গায়ে দিলে আমরা গরম অনুভব করি। এজন্য পশমি পোশাক শীত ঋতুর জন্য খুবই উপযোগী।
পাট গাছকে পচানোর জন্য একসাথে কতকগুলো পাতা ঝড়ানো গাছ আঁটি বেঁধে পানিতে ১০-১৫ দিন ডুবিয়ে রাখা হয়। এর কারণ হলো পাট গাছ পচে গেলে খুব সহজেই গাছ থেকে আঁশ বা তত্ত্ব আলাদা করা যায়।
পশম তত্ত্বর মাঝে ফাঁকা জায়গা থাকে যেখানে বাতাস আটকে থাকতে পারে। বাতাস তাপ পরিবহন করে খুব কম পরিমাণে তাই পশম তাপ কুপরিবাহী। এ কারণে পশম পরিধান করলে শীতের দিনে শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যেতে পারে না এবং গরম অনুভূত হয়। তাই শীতকালে পশমের তৈরি বস্ত্র ব্যবহার করা আরামদায়ক।
সুতি কাপড়কে উজ্জ্বল ও চকচকে করে তোলার জন্য ময়েশ্চারাইজেশন করা হয়। আপাত দৃষ্টিতে সুতি তেমন উজ্জ্বল নয়। তবে ময়েশ্চারাইজেশনের মাধ্যমে একে উজ্জ্বল ও চকচকে করে তোলা যায়।
সুতা কাটার দ্বিতীয় ধাপ হলো কার্ডিং এবং কম্বিং। এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী অতি ছোট তন্তু বাদ দেওয়া হয় এবং ধুলোবালি বাঁ ময়লার কণা থাকলে তাও দূরীভূত হয়। তুলা, লিনেন, পশম এসব তনুর বেলায় এ ধাপটি প্রয়োগ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুধু কার্ডিং করলেই চলে। তবে মিহি মসৃণ ও সবু সুতা তৈরি করতে কম্বিং দরকার হয়।
পানির পাইপ থার্মোপ্লাস্টিকস্ নামক প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এসব প্লাস্টিককে তাপ দিলে নরম হয়ে যায় এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়। এভাবে যতবারই এদেরকে তাপ দেওয়া হয় এরা নরম হয় এবং ঠান্ডা করলে শত্রু হয়। ফলে এদেরকে বারবার ব্যবহার করা যায় এবং ভিন্ন ভিন্ন আকৃতি দেওয়া যায়।
যেসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয় না বরং পুড়ে শক্ত হয়ে যায় তাদের থার্মোসেটিং প্লাস্টিক বলে। এদেরকে একবারের বেশি ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় না। বাকেলাইটও এসব বৈশিষ্ট্য বহন করে অর্থাৎ তাপে নরম হয় না এবং শক্ত হয়ে যায়, দ্বিতীয়বার কোনো ছাঁচে ফেলা যায় না তাই বাকেলাইটকে থার্মোসেটিং প্লাস্টিক বলে।
রাবার প্লাস্টিকের মতো অপচনশীল নয়। কারণ, রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। অক্সিজেন ছাড়াও কিছু রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ করে ওজোন (0) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, ফলে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু প্লাস্টিক দীর্ঘদিন মাটিতে বা পানিতে পড়ে থাকলেও পচে না।
রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। এছাড়া ওজোন | (০১) এর সাথে বিক্রিয়া করেও রাবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন রকমের পলিমার। এদের কোনোটি প্রাকৃতিক আবার কোনোটি কৃত্রিম। আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি মুহূর্তও কল্পনা করতে পারব না, যখন আমরা কোনো না কোনো পলিমার ব্যবহার করছি না। কিছু কিছু পলিমার আছে, যেগুলো পরিবেশবাদ্ধব, আবার কোনো কোনোটি পরিবেশের জন্য বেশ ক্ষতিকর। এই অধ্যায়ে আমরা পলিমারকে চিনতে শিখব, কোনটি ব্যবহার করব কোনটি থেকে দূরে থাকব সেটিও আমরা বুঝতে শিখৰ ।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা :
- প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম পলিমার ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পলিমারকরণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম তন্তু ও বস্ত্রের উৎস, বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
- তত্ত্ব হতে সুতা তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন প্রকার সুতার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রাবার ও প্লাস্টিকের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টিতে রাবার ও প্লাস্টিকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- তাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রকার সুতার বৈশিষ্ট্য শনার করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাবার ও প্লাস্টিকের ব্যবহার ও সংরক্ষণে সচেতন হব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!