প্রাতঃকৃত্যে ঈশ্বর বা দেব-দেবীকে স্মরণ করে মন্ত্র পাঠ করতে হয়। এরপর গুরুকে স্মরণ করে পৃথিবী ও সূর্যকে প্রণাম করতে হয়। তারপর হাতমুখ ধুয়ে পরিষ্কার জামা কাপড় পরতে হয়। এ কর্মের মাধ্যমে আমাদের শরীর ও মন শান্ত, পবিত্র ও নির্মল হয়। তাই প্রাতঃকৃত্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাতঃকৃত্তের পর থেকে দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের কাজ হলো পূর্বাহ্ণকৃত্য। এ সময়ে প্রার্থনা, উপাসনা ও পূজা করতে হয়। তারপর আহার করা, কর্মস্থলে যাওয়া, গৃহস্থালির কাজকর্ম করা, অধ্যয়ন বা বিদ্যালয়ে যাওয়া ইত্যাদি পূর্বাহ্ণ কৃত্যের করণীয়।
শরীর ও মনের উপর পশ্চিমোত্তানাসন নিয়মিত অনুশীলনের প্রভাব হলো- এ আসনে গোটা মেরুদন্ড সতেজ হয়। হাটুর পিছন দিকের পেশি এবং পেটের সমস্ত যন্ত্র মজবুত হয়, তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ে। তাছাড়া এ আসন অনুশীলনে অম্বল ক্ষুধামন্দা, আমাশয়, পেটে বায়ু প্রভৃতি রোগের উপশম হয়।
প্রাতঃকাল থেকে রাত্রিকাল পর্যন্ত প্রতিদিনের অবশ্য করণীয় কাজকে নিত্যকর্ম বলে। নিত্যকর্ম ছয় প্রকার- প্রাতঃকৃত্য, পূর্বাহ্ণকৃত্য, মধ্যাহ্নকৃত্য, অপরাহকৃত্য, সায়াহ্নকৃত্য ও নৈশ্যকৃত্য। এ সমস্ত কর্মের মাধ্যমে আমাদের শরীর ও মন শান্ত, পবিত্র, নির্মল, কর্মঠ ও উত্তম ভাবনায় পরিপূর্ণ থাকে।
সূর্যোদয়ের কিছু আগে ঘুম থেকে ওঠে বিছানার উপরে পূর্ব বা উত্তরমুখ হয়ে বসে ঈশ্বর বা দেব-দেবীর স্মরণ করে মন্ত্র পাঠ করতে হয়। এরপর গুরুকে স্মরণ করে ঘর থেকে বাইরে এসে পৃথিবীকে ও সূর্যকে প্রণাম করতে হয়। প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় পিতা-মাতাকে প্রণাম করতে হয়। তারপর হাত-মুখ ধুয়ে স্নান করে জামা-কাপড় পড়তে হয়।
প্রাতঃকৃত্যের পরে এবং মধ্যাহ্ন বা দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যেসর কাজ করা হয় তাই পূর্বাহ্ণকৃত্য। এই সময়ে প্রার্থনা, উপাসনা ও পূজা করতে হয়। এই কৃত্য প্রতিদিন পরিবারের সকলেরই পালন করা উচিত। তারপর দিনের অন্যান্য কাজকর্ম করতে হয়।
পূর্বাহ্ণের পর এবং অপরাহ্ণের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যে কাজ করা হয় তাই মধ্যাহ্বকৃত্য। এই সময়টাকে বলে দুপুর। দুপুরের কাজ খাওয়া-দাওয়া এবং বিশ্রাম. করা। যদি দুপুরে কোনো অতিথি আসে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে খাওয়াতে হয়। কারণ শাস্ত্রে বলে অতিথি নারায়ণ। অতিথির সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়।
দুপুরের পর এবং সায়াহ্নের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যে কাজ করা হয় তাকেই বলে অপরাহকৃত্য। এই সময়টাকে বলে বিকাল। এই সময় নিজের এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। এছাড়া প্রতিদিন বিকেলে খেলাধুলা, ব্যায়াম বা ভ্রমণ করলে শরীর ভালো থাকে।
সায়াহ্ন মান সন্ধ্যা। সন্ধ্যাকালে আবার হাত-মুখ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হতে হবে। তারপর ঈশ্বরের উপাসনা করতে হবে। সাধারণ কথা, স্তব বা গানে শ্রদ্ধা-ভক্তিতে ঈশ্বরের গুণগান করতে হবে।
সন্ধ্যার পর থেকে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সময়কালের কাজকে নৈশকৃত্য বলা হয়। এ সময়ে অধ্যয়ন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়। রাতের আহার গ্রহণ করতে হয়। তারপর শয়ন করে শ্রীবিষ্ণুর 'পদ্মনাভ' নামটি উচ্চরণ করতে হয়।
শলভ শব্দের অর্থ পতঙ্গ। আসন অবস্থায় দেহটি অনেকটা পতঙ্গের মতো দেখায়। মাটির উপর উপুড় হয়ে শুতে হবে। চিবুক মাটির উপর থাকবে। দু'হাত সোজা করে দেহের দুপাশে উরুর নিচে এবং হাতের তালু দুটো মাটিতে স্থান করে পাতা থাকবে। আঙ্গুলগুলো গায়ে গায়ে লেগে থাকবে। এভাবে শলভাসন অনুশীলন করতে হয়।
শলভাসনের ফলে কোমর ও মেরুদণ্ডের যেকোনো ব্যথায় উপকার হয়। মেরুদণ্ডকে নমনীয় ও সবল করে, তলপেট ও পিঠের নিচের অংশের মেদ কমায়। ক্ষুধামন্দা, অম্ল, অজীর্ণ, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে এই আসন ফলপ্রদ। গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দূর হয়, হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।
যে আসনটিতে পশ্চিম অর্থাৎ শরীরের পিছন দিকে বেশি ব্যায়াম হয়, তার নাম পশ্চিমোত্তানাসন। দু'পা সোজা করে সামনের দিকে ছড়িয়ে বসে এই আসন করতে হয়।
এই আসন মেরুদণ্ড ও পেটের পক্ষে বিশেষ উপকারী। এই আসনে গোটা মেরুদণ্ড সতেজ হয়। হাঁটুর পিছন দিকের পেশি এবং পেটের সমস্ত যন্ত্র মজবুত হয়, তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ে। এ আসনে অম্বল, ক্ষুধামন্দা, আমাশয়, পেটে বায়ু প্রভৃতি রোগের উপশম হয়, হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। কিশোর-কিশোরীদের লম্বা হতে সাহায্য করে।
আসন অবস্থায় দেহটি অনেকটা পতঙ্গের মতো দেখায়। তাই আসনটির নাম শলভাসন। এ আসনের কাজ হচ্ছে-
১. কোমর ও মেরুদণ্ডের যেকোনো ব্যথা কমানো।
২. উরু ও কোমরের পেশির গঠন সুন্দর করা।
৩. ক্ষুধামন্দা, অন্ন, অজীর্ণ, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি রোগ নিরাময় করে।
৪. হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।
প্রাতঃকাল থেকে রাত্রিকাল পর্যন্ত প্রতিদিনের অবশ্য করণীয় কাজকে নিত্যকর্ম বলে। নিত্যকর্ম ছয় প্রকার। যথা:
ক. প্রাতঃকৃত্য,
খ. পূর্বাহ্ণকৃত্য,
গ. মধ্যাহ্নকৃত্য,
ঘ. অপরাহ্ণকৃত্য,
ঙ. সায়াহ্নকৃত্য এবং
চ. নৈশ্যকৃত্য।
প্রাতঃকৃত্যের পরে এবং মধ্যাহ্ন বা দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যে সকল কাজ করা হয় তাই পূর্বাহ্ণকৃত্যু। এ সময়ে প্রার্থনা, উপাসনা ও পূজা করতে হয়। তারপর দিনের অন্যান্য কাজকর্ম করতে হয়। যেমন- আহার করা, কর্মস্থলে যাওয়া ইত্যাদি পূর্বাহ্ণকৃত্যের উদাহরণ।
পূর্বাহ্ণের পর এবং অপরাহ্ণের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যে. কাজ করা হয় তাই মধ্যাহ্নকৃত্য। এ সময়টাকে দুপুর বলা হয়। দুপুরের কাজ খাওয়া-দাওয়া ও বিশ্রাম করা। এ সময়ের বিশ্রাম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকার বয়ে আনে।
দুপুরের পর এবং সায়াহ্নের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যে কাজ করা হয়, তাই অপরাহকৃত্য। অপরাহকৃত্যের সময়টাকে বলা হয় বিকাল। এ সময়ে নিজের এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। তাছাড়া প্রতিদিন বিকালে খেলাধুলা, ব্যায়াম বা ভ্রমণ করলে শরীর ভালো থাকে।
প্রাতঃকাল থেকে রাত্রিকাল পর্যন্ত প্রতিদিনের অবশ্য করণীয় কাজকে নিত্যকর্ম বলে। নিত্যকর্ম ছয় প্রকার-প্রাতঃকৃত্য, পূর্বাহ্ণকৃত্য, মধ্যাহ্নকৃত্য, অপরাহ্ণকৃত্য, সায়াহ্নকৃত্য ও নৈশকৃত্য। এ সমস্ত কর্মের মাধ্যমে আমাদের শরীর ও মন শান্ত, পবিত্র, নির্মল, কর্মঠ ও উত্তম ভাবনায় পরিপূর্ণ থাকে। আমাদের এই দেহ-মনকে সুস্থ রাখতে সাধনার প্রয়োজন। তাই প্রতিদিন নিয়মিত যোগাসন অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং দেহকে বলশালী ও রোগমুক্ত রাখতে এবং চিত্তচাঞ্চল্য দূর করতে সুখাসন, শলভাসন, পশ্চিমোত্তানাসন অনুশীলনের উপকারিতা অনস্বীকার্য। এই অধ্যায়ে নিত্যকর্মসমূহ ও যোগাসন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- নিত্যকর্মগুলো ব্যাখ্যা করতে পারব
- শলভাসনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব এবং অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- শলভাসনের প্রভাব বর্ণনা করতে পারব
- পশ্চিমোত্তানাসনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব এবং অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- পশ্চিমোত্তানাসনের প্রভাব বর্ণনা করতে পারব
- শলভাসন ও পশ্চিমোত্তানাসনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এটি নিয়মিত অনুশীলনে উদ্বুদ্ধ হব
- শলভাসন ও পশ্চিমোত্তানাসন অনুশীলন করতে পারব।
Related Question
View Allসূর্যোদয়ের কিছু আগে ঘুম থেকে উঠতে হবে।
সায়াহ্ন মানে সন্ধ্যা। সন্ধ্যাকালে হাতমুখ ধুয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে। এরপর ঈশ্বরের উপাসনা করতে হবে। সাধারণ কথা, স্তব-বা গানে শ্রদ্ধাভক্তিতে ঈশ্বরের গুণগান করতে হবে।
সুজন পশ্চিমোত্তানাসনটি নিয়মিত অনুশীলন করে সুফল পেয়েছেন।
অনুশীলন পদ্ধতি: দু পা সোজা করে ডান হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী আর মধ্যমা দিয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙুল এবং বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী আর মধ্যমা দিয়ে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল শক্ত করে চেপে ধরতে হবে। মেরুদণ্ড টানটান ও পিঠ সমান রাখতে হবে। এরপর চোখ বন্ধ রেখে হাঁটুতে কপাল ঠেকাতে হবে। সেই সঙ্গে হাতের কনুই ভাঁজ করে হাঁটুর পাশে রাখতে হবে। পেট ও বুক যথাসম্ভব উরুর সাথে মিশে থাকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এ অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর নিঃশ্বাস নিয়ে হাঁটু থেকে মাথা তুলে দু পায়ের বুড়ো আঙুল ছেড়ে দিয়ে ৩০ সেকেন্ড শবাসনের বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ বার অনুশীলন করতে হবে।
সুজনের অনুশীলনকৃত আসনটি হচ্ছে পশ্চিমোত্তানাসন। যে আসনটিতে পশ্চিম অর্থাৎ শরীরের পেছন দিকে বেশি ব্যায়াম হয়, তার নাম পশ্চিমোত্তানাসন। ব্যায়ামের জন্য যে কয়েকটি আসন আছে তার মধ্যে অধিকতর উপকারী হচ্ছে পশ্চিমোত্তানাসন। এ আসনটি মেরুদণ্ড ও পেটের পক্ষে বিশেষ উপকারী। এ আসনে গোটা মেরুদণ্ড সতেজ হয়। হাঁটুর পেছন দিকের পেশি ও পেটের সমস্ত যন্ত্র মজবুত হয় এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এ আসনে অম্বল, ক্ষুধামন্দা, আমাশয়, পেটে বায়ু প্রভৃতি রোগের উপশম হয়। হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। স্নায়ুদৌর্বল্য, সায়টিকা, বাত ও ডায়াবেটিস রোগেও এ আসনে উপকার পাওয়া যায়। এতে কিডনীও ভালো থাকে। পেট ও কোমরের মেদ কমিয়ে দেহের গড়ন সুন্দর করে। কিশোর-কিশোরীদের লম্বা হতে সাহায্য করে। মনের অস্থিরতা, চঞ্চলতা ও উদ্যমহীনতা নিবারণে এ আসনটি খুবই উপকারী।
পরিশেষে বলা যায়, সুজনের অনুশীলনকৃত আসনটির নানা ধরনের উপকারিতা রয়েছে।
এ আসনটি মেরুদণ্ড ও পেটের পক্ষে বিশেষ উপকারি।
এ আসনটির মাধ্যমে শরীরে সকল পেশি ও গোটা মেরুদণ্ড সতেজ হয়। হাঁটুর পেছন দিকের পেশি ও পেটের সমস্ত যন্ত্র মজবুত হয়। এছাড়া অম্বল, ক্ষুধামন্দা, আমাশয়, পেটে বায়ু প্রভৃতি রোগের উপশম হয় এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই প্রদীপ এ আসনটি অনুশীলন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!