ভিক্ষু শ্রমণদের নিত্যপালনীয় কিছু নীতি বুদ্ধ প্রজ্ঞাপ্ত করেছেন। এগুলোকে ভিক্ষুদের পালনীয় চার প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা বলা হয়। এগুলোর মধ্যে বর্তমান প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা অন্যতম। বর্তমান প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা: ঔষধ গ্রহণের সময় ভিক্ষু শ্রমণদের এ
ভাবনা করতে হয়। কেবল রোগ উপশমের জন্য এ ঔষধ সেবন করছি। এতে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। এ ভাবনাই বর্তমান প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা।
ভিক্ষু ও শ্রমণের মধ্যে নিয়ম-নীতি ও বিবিধ আচার-উপচারে পার্থক্য রয়েছে।
শ্রমণ: গৃহজীবন ত্যাগে প্রব্রজ্যা ধর্মে দীক্ষিত হলে শ্রমণ হন। সাত বছর বয়স হলে শ্রমণ হতে পারে। শ্রমণরা শিক্ষানবিশ। শ্রমণরা দশশীল পালন করেন।
ভিক্ষু: বৌদ্ধধর্মে যে কেউ ভিক্ষু হতে পারেন, তবে তাঁকে প্রথমে দশশীল গ্রহণের পরে উপসম্পদা গ্রহণ করতে হয়। উপসম্পদা গ্রহণ করলে তিনি ভিক্ষু নামে অভিহিত হন। ভিক্ষুগণকে ২২৭ শীল পালন করতে হয়। তাছাড়া ভিক্ষুদের কতিপয় অবশ্য পালনীয় কর্তব্য পালন করতে হয়। ২০ বছর বয়স না হলে ভিক্ষু হওয়া যায় না।
সেখিয়া' বলতে শৈক্ষ্য বা শিক্ষণীয় বোঝায়। সেখিয়া বলতে মূলত ভিক্ষু শ্রমণদের পালনীয় ৭৫টি ধর্ম বা নীতিকে বোঝায় তবে সেখিয়ার সাথে অন্যান্য আপত্তির পার্থক্য হলো, সেখিয়া নীতি লঙ্ঘন করলে শাস্তি বা প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় না।
পরিবারের প্রতি শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ নিম্নরূপ-পরিবারের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি কিছু পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। লেখাপড়ার বাইরে পরিবারের কাজে সাহায্য করতে হবে। মা-বাবার পেশার কাজে ও বিভিন্ন কর্মে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে। এতে অভিজ্ঞতা বাড়বে।
সুন্দর জীবনযাপনের জন্য প্রত্যেককে প্রতিদিন নিয়মমাফিক কিছু কাজ করতে হয়। এ কাজগুলির মধ্যে কিছু আছে শারীরিক সুস্থ থাকার জন্য, কিছু ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনের জন্য আর কিছু শিক্ষা লাভ ও অর্থ উপার্জনের সঙ্গে জড়িত। এগুলোকে সাধারণত প্রাত্যহিক কর্ম ও নিত্যকর্ম বলা হয়।
গৃহীজীবন ত্যাগ করে যাঁরা প্রব্রজ্যা ধর্ম গ্রহণ করেছেন তাঁরাই বৌদ্ধধর্মে ভিক্ষু ও শ্রমণ নামে পরিচিত। গৃহধর্ম পরিত্যাগ করে ব্রহ্মচর্য পালন ও নির্বাণ সাধনার পথ অনুসরণই এঁদের লক্ষ্য। এছাড়া বুদ্ধ-প্রবর্তিত সদ্ধর্ম দিকে দিকে সকল মানুষের কাছে প্রচার করাও বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শ্রমণদের কর্তব্য।
শ্রমণদের জন্য আবশ্যিক পালনীয় দশশীলসমূহ হলো: ১. জীবহত্যা; ২. চুরি; ৩. ব্যভিচার; ৪. মিথ্যাভাষণ; ৫. সুরাপান; ৬. বিকাল ভোজন; ৭. নৃত্যগীতে অনুরক্তি; ৮. গন্ধমাল্য প্রভৃতি ধারণ, ৯. আরামদায়ক শয্যায় শয়ন; ১০. সোনারূপা গ্রহণ ইত্যাদি অভ্যাস বর্জন।
আহার, বাসস্থান, পোশাক-পরিচ্ছদ ও ঔষধ জীবনধারণের এই চারটি মৌলিক উপাদান গ্রহণ সম্পর্কে ভিক্ষু-শ্রমণদের অবশ্যই যে ভাবনা করতে হয়, তাকে প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা বলে।
চীবর পরিধান বিষয়ে ভিক্ষু-শ্রমণদের যে রূপ ভাবনা করতে হয় তা হলো, পোকা-মাকড়, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর কামড়, শীত ও উষ্ণতা নিবারণ, ধুলা-বালি, লজ্জা নিবারণ প্রভৃতি হতে সুরক্ষার জন্য এই চীবর পরিধান করছি। পঞ্চ-কামগুণ উৎপাদনের জন্য নয়।
শয়নাসন গ্রহণ করার সময় ভিক্ষু-শ্রমণদের যে রূপ ভাবনা করতে হয় তাহলো- এ শয়নাসন শুধু শীত ও উষ্ণতা নিবারণের জন্য, দংশক-ধুলাবালি, রৌদ্র-পোকামাকড়, সরীসৃপ প্রভৃতির আক্রমণ নিবারণ এবং চিত্তের একাগ্রতা সাধনের জন্য। আলস্য বা নিদ্রায় অনর্থক কালক্ষেপণের জন্য নয়।
ঔষধ গ্রহণের সময় ভিক্ষু-শ্রমণদের যে রূপ ভাবনা করতে হয় তাহলো, কেবল রোগ উপশমের জন্য প্রয়োজন মতো এ ওষুধ সেবন করছি। অন্য কোনো অকুশল উদ্দেশ্যে নয়।
সূর্যোদয়ের পূর্বে, দুপুরের আহারের পরে এবং সন্ধ্যায় বন্দনার সময় যে প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা করতে হয়, তাকে অতীত প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা বলে। এ ভাবনা না করলে পরিভোগকারীর জন্য এসব চুরি ও ঋণের পর্যায়ভুক্ত হয়। এছাড়া প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা লোভ-দ্বেষ-মোহ ধ্বংসের হেতু উৎপন্ন করে। তাই ভিক্ষু-শ্রমণদের অতীত প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা করতে হয়।
ভিক্ষু-শ্রমণদের চারটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়, যাকে চারি অকরণীয় বলে। এগুলো হলো- ১. ব্যভিচার না করা, ২. চুরি না করা, ৩. জীবহত্যা না করা এবং ৪. দৈবশক্তিসম্পন্ন বলে দাবি না করা ও দৈবশক্তি প্রদর্শন না করা।
বৈশালীতে দুর্ভিক্ষের সময় কিছু কিছু ভিক্ষু নিজেদের দৈবশক্তির অধিকারী বলে প্রচার করে গৃহীদের মনোযোগ আকর্ষণপূর্বক খাদ্য সংগ্রহ করতো। বুদ্ধ সেজন্য দৈবশক্তিসম্পন্ন বলে প্রচার ও তা প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেন।
ভিক্ষু-শ্রমণদের নিত্যকরণীয় পাঁচটি ভাবনা হলো- মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, অশুভ ও উপেক্ষা। এ পাঁচটি বিষয়কে অবলম্বন করে ভাবনা করতে হয় বিধায় একে পঞ্চ ভাবনা বলে। ভিক্ষু-শ্রমণগণ সকাল-সন্ধ্যায় নির্জনে বসে এই পঞ্চ ভাবনা চর্চা করেন। পঞ্চভাবনা লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ ও কামভাব থেকে মুক্ত রাখে। তাই পঞ্চভাবনা পালন করা হয়।
অপরের সৌন্দর্য, যশ, লাভ, ঐশ্বর্য, অথবা সৌভাগ্য দেখে নিজ চিত্তে আনন্দ অনুভব করাই মুদিতা। 'সকল প্রাণী যথালব্ধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হোক'- এটি হলো মুদিতা ভাবনার মূলমন্ত্র।
ভিক্ষুগণ সমাধির দ্বারা ছয় রকম বিশেষ জ্ঞান অর্জন করে থাকেন। যথা-দিব্যাদিব্য দর্শন, দিব্য শ্রবণ, অন্যের মনোভাব জানা, পূর্বজন্মের স্মৃতি মনে করা, রিপু দমনের ক্ষমতা লাভ, অলৌকিক বা ঋদ্ধি শক্তি অর্জন।
ভিক্ষুদের ২২৭টি শীল বা বিধিবিধান পালন করতে হয়। গুরুত্ব অনুসারে ভিক্ষুশীলসমূহকে আট ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা: পারাজিকা, সংঘাদিসেস, অনিয়ত, নিস্সগিয়া, পচিত্তিয়া, পাটিদেসনিয়া, সেখিয়া এবং অধিকরণ সমথ।
গৃহীদের উদ্দেশ্য করে প্রদত্ত বুদ্ধের ধর্মোপদেশ 'গৃহী বিনয়' হিসেবে গণ্য করা হয়। সিগালোবাদ সূত্র, কলহবিবাদ সূত্র, পরাভব সূত্র, মঙ্গলসূত্র, ব্যগ্যপজ্জ সূত্র, খগবিসান সূত্র, লক্ষ্মন সূত্র, গৃহীপ্রতিপদা সূত্র, ধম্মিক সূত্র, গৃহপতিবর্গ, বিদূর পণ্ডিত জাতক প্রভৃতিতে এসব উপদেশ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
অসময়ে ভ্রমণের ফলে নিজে অরক্ষিত থাকে, স্ত্রী-পুত্র অরক্ষিত থাকে, বিষয়সম্পত্তিও অরক্ষিত থাকে। এর ফলে সর্বদা আশঙ্কাযুক্ত হয়ে চলতে হয়, পাপকর্মে মিথ্যা কলঙ্ক আরোপিত হয় এবং বিভিন্ন রকমের দুঃখজনক বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়।
একজন সন্তানকে পাঁচভাবে মাতা-পিতার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হয়। যথা: ১. বৃদ্ধকালে মাতা-পিতার ভরণপোষণ করা, ২. নিজের কাজের আগে তাঁদের কাজ সম্পাদন করা, ৩. বংশমর্যাদা রক্ষা করা, ৪. তাঁদের বাধ্যগত থেকে তাঁদের বিষয়-সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ এবং, ৫. মৃত জ্ঞাতিদের উদ্দেশ্যে দান দেওয়া।
স্বামার প্রাত স্ত্রার যে পাচ প্রকার কতব্য পালন করতে হয় তাহলো- ১. সুচারুরূপে গৃহকার্য করা, ২. পরিজনবর্গ ও অতিথিদের প্রতি সাদর সম্ভাষণ করা, ৩. স্বামীর প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ থাকা, ৪. স্বামীর সঞ্চিত ধন অপচয় না করা এবং ৫. গৃহকর্মে নিপুণা হওয়া এবং অলস না হওয়া।
দিলীপ বড়ুয়ার উত্তর দিকে নমস্কারের অর্থ হচ্ছে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের প্রতি কর্তব্য পালন করা। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের প্রতি পাঁচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়। যথা: ১. দান ও সাময়িক অর্থ, সাহায্য করা, ২. প্রিয়বাক্য ব্যবহার করা, ৩. হিতাচরণ করা, ৪. প্রগাঢ় সহানুভূতি প্রদর্শন করা এবং ৫. সরল ব্যবহার করা।
গুরুর প্রতি শিষ্যের পাঁচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়। যথা: ১. গুরুর সামনে উচ্চ আসনে না বসা, ২. সেবা করা, ৩. আদেশ পালন করা, ৪. মনোযোগ সহকারে উপদেশ শ্রবণ করা এবং ৫. বিদ্যাভ্যাস করা।
শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন-যাপনের জন্য আয় বুঝে ব্যয় করা গৃহীর একান্ত কর্তব্য। তাদেরকে মিত্যব্যয়ী হতে হবে। আবার কৃপণতাও পরিহার
করতে হবে।
বুদ্ধ শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন প্রসঙ্গে বলেছেন, চারটি গুণে গুণান্বিত হলে ইহকাল ও পরকালে মহাউপকার সাধিত হয়। সে চারটি গুণ হলো- শ্রদ্ধাগুণ, শীলগুণ, দানগুণ ও প্রজ্ঞাগুণ।
আয়-ব্যয়ের বিষয়ে গৃহীদের উদ্দেশ্যে বুদ্ধের উপদেশ হলো, আয় বা লাভের অংশকে চার ভাগ করে ব্যবহার করতে হবে। একভাগ নিজে পরিভোগ করবে। এ অংশ থেকে এক ভাগ দান করবে। দুই ভাগ কৃষি বা বাণিজ্যে নিযুক্ত করবে। চতুর্থ ভাগ সঞ্চয় করে রাখবে, যাতে বিপদের দিনে ব্যবহার করা যায়।
সৎ আচরণ ও সংযম সমাজে বসবাসের অন্যতম শর্ত। এ বিষয়ে শ্রীমৎ ধর্মপাল থের সিংহলি ভাষায় 'গিহিদিন চরিয়া' নামে একটি গ্রন্থ লিখেছেন। গৃহীদের জন্য একান্ত আচরণীয় বিষয় হলো এ গ্রন্থের মূল আলোচ্য বিষয়।
বুদ্ধ পূজা বিষয়ে সুমনার করণীয় কর্তব্যগুলো হলো- যদি কাছাকাছি বিহার থাকে তবে সেখানে গিয়ে পূজা ও বন্দনা করবে। অথবা ঘরে এই কাজ সম্পন্ন করা যাবে। বন্দনার পর তাকে ঘরের আসবাবপত্র পরিষ্কার করতে হবে। তারপর সে সকালের খাওয়ার পর মৈত্রী ভাবনা করে কাজে মন দিবে।
পথ চলার সময় স্থানীয় নিয়ম অনুসরণ করা উচিত। ডান ও বাম দিক ভালো করে দেখে রাস্তা পার হওয়া উচিত। চলার পথে কিছু খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা' পালন করা উচিত। সাধ্যমতো অন্ধ, বৃদ্ধ ও শিশুদের রাস্তা পার হতে সাহায্য করা উচিত।
আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও পরিচিত কারো অসুখ হলে তাকে সহানুভূতি ও সাহস যোগাতে হবে। যথাসাধ্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পথ্য নিয়ে যেতে হবে। রোগীর সেবায় নিয়োজিত আত্মীয়-স্বজনকে সাহস ও সান্ত্বনা দিতে হবে
আমার বন্ধু সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে তাকে দেখতে যাওয়া উচিত। অধিক সময় রোগীর ঘরে থাকা উচিত নয়। রোগীর ঘর থেকে এসে কাপড় বদলে মুখ, হাত, পা ধুয়ে নিতে হয়। এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি।
ছেলেমেয়েদের পড়ার বাইরেও পরিবারের অন্যান্য কাজে যথাসম্ভব সাহায্য করতে হয়। মা-বাবা যে পেশায় কাজ করেন সে কাজে সাধ্যমতো তাঁদের সাহায্য করতে হয়। অবসরে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পারিবারিক কাজে অংশগ্রহণ করতে হয়।
ব্যক্তির নামকরণ ধর্মীয় বিষয়বস্তু সম্পর্কিত হলে ভালো হয়। এতে নিজ ধর্মের সাথে পরিচিতি ও নৈকট্য বৃদ্ধি পায়। নিজের দেশের ঐতিহ্য, পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনুযায়ীও নাম রাখা যেতে পারে।
বৈশালীর অধিবাসী বজ্জি ও লিচ্ছবিরা বুদ্ধের অনুসারী ছিলেন। বুদ্ধের প্রতি তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত মৈত্রীপূর্ণ। লিচ্ছবিরা বুদ্ধ ও সঙ্ঘের বসবাসের জন্য সুরম্য কুটাগারশালা বিহার নির্মাণ করে দেয়। বুদ্ধ ঐ বিহারে পাঁচবার বর্ষাবাস পালন করেন।
বজ্জিরা 'সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম' বা সাতটি অপরিহার্য উপদেশ অনুসরণ করে প্রাচীন আর্যাবর্তে নিজেদের অজেয় এবং উন্নত জাতিতে পরিণত করেছিলেন। যেকোনো জাতি বা সমাজ এ সাতটি অপরিহার্য ধর্ম বা অনুশাসন পালন করলে তাদের কখনো পরাজয় ঘটবে না।
দশশীল পালন শ্রমণদের জন্য আবশ্যিক নিত্যকর্ম।
শ্রমণরা ১০টি শীল পালন করেন।
সাত বছর বয়স না হলে শ্রমণ হওয়া যায় না।
শ্রমণ অর্থ শিক্ষানবিশ।
শ্রমণদের প্রতিদিন ত্রিশরণসহ দশশীল গ্রহণ করতে হয়।
প্রত্যবেক্ষণ ভাবনার মৌলিক উপাদান চারটি।
চারটি মৌলিক উপাদান গ্রহণ সম্পর্কে।
প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা লোভ-দ্বেষ-মোহ ধ্বংসের হেতু উৎপন্ন করে।
চারি অকরণীয় হচ্ছে- ব্যভিচার না করা, চুরি না করা, জীবহত্যা না করা এবং দৈবশক্তি প্রদর্শন না করা।
ভিক্ষুগণ একাহারী।
বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সোনা-রূপা গ্রহণ করা বারণ।
দুঃখীর দুঃখে ব্যথিত হয়ে দুঃখমুক্তি কামনা করাকে করুণা ভাবনা বলে।
উপেক্ষা ভাবনা আট প্রকার।
সেখিয়া' শব্দের অর্থ শৈক্ষ্য বা শিক্ষণীয়।
সেখিয়া' শব্দের অর্থ শৈক্ষ্য বা শিক্ষণীয়।
পাচিত্তিয়া বিরানব্বই প্রকার।
ধ্যানের মাধ্যমে বিক্ষিপ্ত চিত্তকে সমাহিত বা স্থির করা হয়।
ভিক্ষুদের ২২৭টি শীল বা বিধি-বিধান পালন করতে হয়।
ভিক্ষু শীলসমূহকে আট ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
সঙ্ঘাদিসেস আপত্তি তেরো প্রকার।
নিসসগিয়া অর্থ ত্যাগ করা উচিত।
পাটিদেসনিয়া আপত্তি চারটি।
ঝগড়া, ঝগড়ার বিষয়, বিষয় বিচার, বিচারের বিষয় ইত্যাদি।
ধার্মিক গৃহীরা ষড়দোষ পরিত্যাগ করেন।
বুদ্ধ পরাভব সূত্রে পরাজয়ের বারোটি কারণ নির্দেশ করেছেন।
নেশা গ্রহণের ফলে ছয়টি বিষময় ফল ভোগ করতে হয়।
মঙ্গলসূত্রে ৩৮ প্রকার মঙ্গলের কথা বলা হয়েছে।
পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা।
উর্ধ্ব দিকে নমস্কারের অর্থ হচ্ছে শ্রমণ-ব্রাহ্মণদের প্রতি কর্তব্য পালন করা।
উর্ধ্ব দিকে নমস্কারের অর্থ হচ্ছে শ্রমণ-ব্রাহ্মণদের প্রতি কর্তব্য পালন করা।
বুদ্ধ আয় বা লাভের অংশ চার ভাগ করে ব্যবহার করতে উপদেশ দিয়েছেন।
সৎ আচরণ মানুষের মনুষ্যত্বের পরিচয় বহন করে।
সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্মে বয়োবৃদ্ধ বা জ্ঞানবৃদ্ধদের শ্রদ্ধা, সম্মান, গৌরব ও পূজা করা এবং তাদের আদেশ পালন করতে বলা হয়েছে।
বৌদ্ধসঙ্ঘের স্থায়িত্ব বিধানের জন্য বুদ্ধ সাতটি অপরিহার্য ধর্ম দেশনা করেন।
ভিক্ষুরা একাহারী। তাদের মধ্যাহ্নের পূর্বে বা দুপুর বারোটার আগে আহার গ্রহণ সম্পন্ন করতে হয়।
সাধারণত ভিক্ষান্ন দ্বারা ভিক্ষু শ্রমণদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভিক্ষু শ্রমণগণ গৃহীদের আমন্ত্রণে গৃহে গিয়েও আহার গ্রহণ করতে পারেন।
ঔষধ গ্রহণের সময় যে ভাবনা করতে হয় তাকে গিলান প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা বলে।
ঔষধ গ্রহণের সময় ভিক্ষু-শ্রমনদের এরূপ ভাবনা করতে হয়। শুধু রোগ উপশমের জন্য প্রয়োজন মতো এ ঔষধ সেবন করছি। অন্য কোনো অকুশল উদ্দেশ্যে নয়। এই ভাবনাই হচ্ছে গিলান প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা।
পোকামাকড়, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর কামড়, শীত ও উষ্ণতা নিবারণ, ধুলাবালি, লজ্জা নিবারণ প্রভৃতি হতে সুরক্ষার জন্য চীবর পরিধান বিষয়ে ভিক্ষু শ্রমণদের এরূপ ভাবনা করতে হয়, পঞ্চ কামগুণ উৎপাদনের জন্য নয়। তাই বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা করতে হয়।
ব্রহ্মচর্য পালন ও নির্বাণ সাধনার পথ অনুসরণের জন্যই মূলত ভিক্ষু শ্রমণেরা সংযম ব্রত পালন করেন।
সংযম ব্রত পালন করতে গিয়ে ভিক্ষু শ্রমণেরা সোনা-রূপা গ্রহণ করেন না। হয় তা দাতাকে ফেরত দেন অথবা অন্য গৃহস্থকে দান করেন।
পঞ্চভাবনা ভিক্ষু-শ্রমণদের নিত্যকরণীয় একটি ভাবনা।
পঞ্চভাবনা ভিক্ষুদের লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ ও কামভাব থেকে মুক্ত রাখে। মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, অশুভ ও উপেক্ষা এ পাঁচটি বিষয়কে অবলম্বন করে ভাবনা করতে হয় বিধায় একে পঞ্চভাবনা বলে।.
বৌদ্ধধর্মে ভিক্ষু-শ্রমণদের নিত্যকর্ম হিসেবে পঞ্চ ভাবনা করতে হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অশুভ ভাবনা।
প্রথমত, পঞ্চভাবনা ভিক্ষুদেরকে লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ ও কামভাব থেকে মুক্ত রাখে।। অন্যদিকে অশুভ ভাবনা হচ্ছে নিজের শরীর রোগ-ব্যাধি ও অশুচির আধার। জীবন অনিত্য এবং মৃত্যুর অধীন। এ বিষয়গুলোকে অবলম্বন করে ভাবনা করাই হচ্ছে অশুভ কামনা। তাই স্বাভাবিকভাবেই অশুভ ভাবনা করতে হয়।
গৃহধর্ম পরিত্যাগ করে ব্রহ্মচর্য পালন ও নির্বাণ সাধনার পথ অনুসরণ করেন ভিক্ষুরা। ভিক্ষুরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ছাড়া অন্য কোনো দ্রব্য গ্রহণ করতে পারেন না। তাই ভিক্ষুদের সংযম ব্রত পালন করতে হয়। বুদ্ধ শাসনের উন্নতির জন্য ভিক্ষুসঙ্গ ভূমি, বিহার প্রভৃতি সম্পত্তি গ্রহণ করতে পারবেন।
মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, অশুভ ও উপেক্ষা এ পাঁচটি বিষয়কে অবলম্বন করে যে ভাবনা করা হয় তাকে পঞ্চভাবনা বলা হয়। পঞ্চ ভাবনা ভিক্ষু শ্রমণদের নিত্যকরণীয় একটি ভাবনা। সকাল-সন্ধ্যায় নির্জনে বসে পঞ্চভাবনা চর্চা করতে হয়। এই ভাবনা মানুষকে লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ ও কামভাব থেকে মুক্ত রাখে। তাই সবার উচিত নিয়মিত পঞ্চভাবনা চর্চা করা।
মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, অশুভ ও উপেক্ষা এ পাঁচটি বিষয়কে অবলম্বন করে যে ভাবনা করা হয় তাকে পঞ্চভাবনা বলা হয়। পঞ্চ ভাবনা ভিক্ষু শ্রমণদের নিত্যকরণীয় একটি ভাবনা। সকাল-সন্ধ্যায় নির্জনে বসে পঞ্চভাবনা চর্চা করতে হয়। এই ভাবনা মানুষকে লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ ও কামভাব থেকে মুক্ত রাখে। তাই সবার উচিত নিয়মিত পঞ্চভাবনা চর্চা করা।
বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিনটি চীবর, যথা-সংঘাটি, উত্তরাসঙ্ঘ ও অন্তর্বাস, ভিক্ষাপাত্র, ক্ষুর, সূচ-সুতা, কটি বন্ধনী এবং জল ছাঁকনি এ আটটি ভিক্ষু শ্রমণদের নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য দ্রব্য। দ্রব্যগুলো ভিক্ষু-শ্রমণদের জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট বলে বুদ্ধ নির্দেশ করেছেন।
পারাজিকা অর্থ পরাজয়, ক্ষতি, ধর্ম হতে চ্যুত বা বহির্ভূত, বর্জিত, ভ্রষ্ট, অপসারিত ইত্যাদি। অর্থাৎ পারাজিকা হলো কতিপয় অপরাধ যা সংগঠন করলে সঙ্ঘের মধ্যে আর অবস্থান করা যায় না। অপরাধসমূহ হলো ব্যভিচার, অদত্ত বস্তু গ্রহণ, নরহত্যা ও ক্ষমতার বৃথা গর্ব। ভিক্ষুদের এসব বিষয় হতে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। পারাজিকাপ্রাপ্ত ভিক্ষু উপোসথ, প্রবারণা ইত্যাদি বিনয়কর্ম করার অযোগ্য।
পাঁচভাবে মাতা-পিতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। যথা-মাতা-পিতার বৃদ্ধকালে ভরণ-পোষণ করা, নিজের কাজের আগে তাঁদের কাজ সম্পাদন করা, বংশ মর্যাদা রক্ষা করা, তাদের বাধ্যগত থেকে বিষয়-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী লাভ এবং মৃত জ্ঞাতিদের উদ্দেশ্যে দান দেওয়া।
বুদ্ধ আয় বা লাভের অংশকে চার ভাগ করে ব্যবহার করতে উপদেশ' দিয়েছেন; যথা- (১) এক ভাগ নিজে পরিভোগ করবে। এ অংশ থেকে এক ভাগ দান করবে (২) দুই ভাগ কৃষি বা বাণিজ্যে নিযুক্ত করবে (৩) চতুর্থ ভাগ সঞ্চয় করে রাখবে, যাতে বিপদের দিনে ব্যবহার করা যায়।
গৃহী নীতিমালা অনুসারে পথ চলার নিয়ম হলো বড় ও প্রসিদ্ধ রাস্তায় চলার সময় স্থানীয় নিয়ম অনুসরণ করা উচিত। ডান ও বাম দিক ভালো করে দেখে রাস্তা পার হওয়া উচিত। অন্যমনস্ক হওয়া যাবে না এবং হাতে ছাতা থাকলে তা পরের গায়ে যেন না লাগে সেদিকে নজর রাখা দরকার।
আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-পড়শীর মৃত্যুতে দেখতে যাওয়া সামাজিক ও ধর্মীয় কর্তব্য।
আমরা জানি, জীব মাত্রই মৃত্যুর অধীন। মৃত ব্যক্তিকে দর্শন করতে হয় ব্যক্তির শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর জন্য। জন্ম-মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা, এ কথা বলে মৃত ব্যক্তির নিকট আত্মীয়দের সান্ত্বনা দেওয়া যেতে পারে কিংবা সববেদনা প্রকাশ করা যায়।
কখনোই যেন পরাজয় না ঘটে সেজন্য ভিক্ষুদের সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম পালন করা উচিত।
'সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম' কথাটির অর্থ হচ্ছে সাতটি অপরিহার্য কর্তব্য। যা বুদ্ধ বৌদ্ধসঙ্ঘের স্থায়িত্ব বিধানের জন্য দেশনা করেন। এগুলো মহাপরিনির্বাণ সূত্রে সংকলিত হয়েছে। ভিক্ষুসঙ্গের ভবিষ্যৎ কল্যাণার্থে বুদ্ধ এ অনুশাসনসমূহ দেশনা করেন এবং বলেন যে, এগুলো পালন - করলে ভিক্ষুদের কখনোই পরাজয় ঘটবে না।
বুদ্ধের সময় বৈশালী নামে একটি সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল। বৈশালীর অধিবাসী বজ্জি ও লিচ্ছবিরা বুদ্ধের অনুসারী ছিলেন। লিচ্ছবিরা বুদ্ধ ও সঙ্ঘের বসবাসের জন্য সুরম্য কুটাগারশালা বিহার নির্মাণ করে দেয়। বুদ্ধ ঐ বিহারে পাঁচবার বর্ষাবাস পালন করেন। বৈশালীতে অবস্থানকালে বুদ্ধ - একাধিক সূত্র ও অনুশাসন দেশনা করেন। তার মধ্যে গৃহীদের জন্য 'সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম' অন্যতম। 'সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম' অর্থ হচ্ছে সাতটি অপরিহার্য কর্তব্য।
'সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম অর্থ-হচ্ছে সাতিিট অপরিহার্য কর্তব্য। তথাগত বুদ্ধ বৈশালীর 'সারন্দদ চৈতে' অবস্থানকালে বজ্জীগণের উদ্দেশ্যে এই অনুশাসনসমূহ দেশনা করেন। সপ্ত অপরিহাণীয় ধর্ম' কথাটির অর্থ হচ্ছে সাতটি অপরিহার্য কর্তব্য। যাঁ বুদ্ধ বৌদ্ধসঙ্ঘের স্থায়িত্ব বিধানের জন্য দেশনা করেন। এগুলো মহাপরিনির্বাণ সূত্রে সংকলিত হয়েছে। ভিক্ষুসঙ্গের ভবিষ্যৎ কল্যাণার্থে বুদ্ধ এ অনুশাসনসমূহ দেশনা করেন এবং বলেন যে, এগুলো পালন করলে ভিক্ষুদের কখনোই পরাজয় ঘটবে না।
Related Question
View Allধার্মিক গৃহীরা ষড়দোষ বর্জন করেন।
ব্রহ্মচর্য পালন ও নির্বাণ সাধনার পথ অনুসরণের জন্যই মূলত ভিক্ষু শ্রমণেরা সংযম ব্রত পালন করেন।
সংযম ব্রত পালন করতে গিয়ে ভিক্ষু শ্রমণেরা সোনা-রুপা গ্রহণ করেন না। হয় তা দাতাকে ফেরত দেন অথবা অন্য গৃহস্থকে দান করেন।
প্রশ্নে উল্লিখিত তালিকায় বিদ্যাভ্যাস করা, বড়দের সম্মান করা, আদেশ পালনে সচেষ্ট থাকা- এ বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। এগুলো মূলত গৃহীদের মঙ্গল, সুন্দর ও শান্তিময় জীবনযাপনের জন্য বুদ্ধের দেওয়া ধর্মোপদেশ।
ত্রিপিটকের বিভিন্ন গ্রন্থে এসব ধর্মোপদেশ পাওয়া যায়। এ বিষয়গুলো সিগালোবাদ সূত্রের গৃহীর ষড়দিকে উল্লেখ রয়েছে। ধার্মিক গৃহীর ছয় প্রকার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। একে গৃহীর ষড়দিক রক্ষা করা। বলে।
গৃহীর ষড়দিক রক্ষা করার মধ্যে দক্ষিণ দিকে নমস্কারের অর্থ হচ্ছে গুরুর প্রতি কর্তব্য পালন করা। গুরুর প্রতি মূলত পাঁচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়, যথা- ১. গুরুর সামনে উচ্চ আসনে না বসা ২. সেবা করা ৩. আদেশ পালন করা ৪. মনোযোগ সহকারে উপদেশ শ্রবণ করা ৫. বিদ্যাভ্যাস করা। পাশাপাশি গুরুকেও শিষ্যের প্রতি পাঁচ প্রকার কর্তব্য পালন করতে হয়। যথা- ১. সুন্দররূপে বিনীত করা ২. খুঁটিনাটি বিষয় শিক্ষা দেওয়া ৩. পাঠ্য বিষয় নির্বাচন করে দেওয়া ৪. বন্ধুদের নিকট ছাত্রের প্রশংসা করা এবং ৫. বিপদে রক্ষা করা।
উদ্দীপকে উল্লেখিত তালিকায় যে সকল নিত্যকর্ম ও অনুশাসনের ইঙ্গিত রয়েছে সেগুলো ভিক্ষু শ্রমণদের জন্য প্রযোজ্য। এ বিষয়গুলো ভিক্ষু শ্রমণদের প্রত্যবেক্ষণ ভাবনার অন্তর্ভুক্ত।
আহার, বাসস্থান, পোশাক, পরিচ্ছদ ও ঔষধ, জীবনধারণের এই চারটি মৌলিক উপাদান গ্রহণ সম্পর্কে ভিক্ষু শ্রমণদের অবশ্যই ভাবনা করতে হয়, যা প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা নামে পরিচিত। এগুলো নিম্নরূপ:
১ . চীবর প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা: চীবর পরিধান বিষয়ে ভিক্ষু শ্রমণরা ভাবেন- পোকামাকড়, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর কামড়, শীত ও উষ্ণতা নিবারণ, ধুলা-বালি, লজ্জা নিবারণ প্রভৃতি হতে সুরক্ষার জন্য এ চীবর পরিধান করেছি। পঞ্চ-কামগুণ উৎপাদনের জন্য নয়।
২. পিণ্ডপাত প্রত্যবেক্ষণ ভাবনা: আহার গ্রহণ করার সময় ভিক্ষু শ্রমণদের এরূপ ভাবনা করতে হয়- 'আমি কেবল জীবনধারণের জন্য এই আহার গ্রহণ করেছি। শারীরিক সৌন্দর্য ও বল বৃদ্ধির জন্য নয়।'
৩. শয়নাসন প্রত্যবেক্ষণ: শয়নাসন গ্রহণ করার সময় ভিক্ষু- শ্রমণদের এরূপ ভাবনা করতে হয়- 'এ শয়নাসন শুধু শীত ও উষ্ণতা নিবারণের জন্য, দংশক-ধুলাবালি-রৌদ্র পোকামাকড়, সরীসৃপ প্রভৃতির আক্রমণ নিবারণ এবং চিত্তের একাগ্রতা সাধনের জন্য। আলগা বা নিদ্রায় অনর্থক কালক্ষেপণের জন্য নয়।
৪. গিলান প্রত্যয় প্রত্যবেক্ষণ: ঔষধ গ্রহণের সময় ভিক্ষু-শ্রমণদের এরূপ ভাবনা করতে হয়- কেবল রোগ উপশমের জন্য প্রয়োজন মতো এ ঔষুধ সেবন করছি। অন্য কোনো অকুশল উদ্দেশ্যে নয়।
দশশীল পালন শ্রমণদের জন্য আবশ্যিক নিত্যকর্ম।
পঞ্চভাবনা ভিক্ষু-শ্রমণদের নিত্যকরণীয় একটি ভাবনা।
পঞ্চভাবনা ভিক্ষুদের লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ ও কামভাব থেকে মুক্ত রাখে। মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, অশুভ ও উপেক্ষা এ পাঁচটি বিষয়কে অবলম্বন করে ভাবনা করতে হয় বিধায় একে পঞ্চভাবনা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!