একটি বাড়িতে সাধারণত মা-বাবা, ভাইবোন আরও অন্যান্য সদস্য একসাথে থাকার যে প্রতিষ্ঠান সেটি হলো পরিবার। সন্তানেরা শিশু থেকে কিশোর, কিশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্কে পৌঁছায়। সন্তানদের বিয়ের মাধ্যমে আরও কয়েকটি পরিবার তৈরি হয়। এভাবে পরিবারের জীবনচক্র বলতে থাকে।
অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় মানবশিশু সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে কারণ মানবশিশু থাকে সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল। শিশু-খুব ধীরে ধীরে বড় হয়। তার আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য বছরের পর বছর সহায়তা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দরকার হয়। পরিবার শিশুর আশ্রয় জন্মের পর থেকে সমবয়সীদের সাথে মেলামেশার পূর্ব পর্যন্ত শিশুটিকে পরিবার সঙ্গ দিয়ে থাকে।
আদিম যুগে যখন পরিবার প্রথা ছিল না তখনো মানুষকে খাবার জোগাড় করতে হতো। এরকম ভয়ানক বিপদ ও কষ্টের মধ্যে মানুষ নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য দল বেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এভাবে আত্মরক্ষার জন্য মানুষ দলবেধে থাকতে শুরু করে এবং পরিবার ও সমাজ জীবনের শুরু হয়।
পরিবার শিশুটির খাদ্য, বস্ত্র, আরামের চাহিদা মেটায়, নিরাপদ পরিবেশ দেয়, নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। শিশুটির এই প্রয়োজন মেটাতে খাদ্যশস্যের জন্য কৃষক, কাপড়ের জন্য তাঁতি, চিকিৎসার জন্য ডাক্তার, শিক্ষার জন্য শিক্ষক এভাবে সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবারটির সাহায্যে এগিয়ে আসে।
পরিবারকে সহায়তার জন্য অনেক ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেমন- শিক্ষা ও আচরণের জন্য স্কুল ও কলেজ, স্বাস্থ্যসেবায় হাসপাতাল, সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য আইন-আদালত, পণ্য উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিবারকে অনেক কাজে নানাভাবে সহায়তা দিচ্ছে।
মা, বাবা এবং পরিবারের সদস্যরা শিশুর প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক। জীবনের প্রথম ৫ বছর পরিবার থেকে শিশু যেরকম শিক্ষা, যত্ন পেয়ে থাকে তার মধ্যে সেরকম আচরণের ভিত্তি তৈরি হয়। পারিবারিক পরিবেশ থেকে যদি শিশু ভালো কাজের উৎসাহ পায় তাহলে সেটা তাড়াতাড়ি শেখে।
শিশুকে সঠিকভাবে পরিচালনার অন্যতম কৌশল শিশুর সাথে ইতিবাচক আচরণ করা। শিশুকে সবসময় এটা করো না, ওটা করো না, তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না এ ধরনের নেতিবাচক কথা শিশুর বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। এসো আমরা এ কাজটা করি, তুমি এখন পারছো না, তাতে কী? চেষ্টা করলেই পারবে, এ ধরনের প্রতিটি কথা শিশুর বিকাশের জন্য ইতিবাচক।
শিশুর সাথে বন্ধন গড়ে তুলতে মা হচ্ছেন প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। মায়ের হাসি, মায়ের কণ্ঠস্বর শিশুর মধ্যে আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে। মা সন্তানের যত্ন আনন্দের সাথে সম্পন্ন করেন, যা সন্তানের সুস্থ রিকাশে সহায়ক।
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা বিশেষ করে বড় ভাইবোন শিশুর সামনে যে ধরনের আচরণ করে শিশুটিও সে ধরনের আচরণ শেখে। ভাইবোনের সাথে সম্পর্ক শিশুর বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ভাইবোনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলে একজন অপরজনকে সঙ্গ দেয়, ভাগাভাগি করতে শেখে, যেকোনো সমস্যার কতা খোলাখুলি আলোচনা করতে পারে।
পরিবারের পর সমবয়সী দল শৈশব ও কৈশোরের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদ্যালয় বয়স থেকে শিশুরা বড় একটা সময় সমবয়সীদের সাথে কাটায়। পরিবারের বাইরে সামাজিক বিভিন্ন দক্ষতার জন্য সমবয়সীদের সাথে মেলামেশার দরকার।
শিক্ষার্থীদের পরিবার ও সমাজের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে গড়ে তুলতে স্কুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্কুল এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে জ্ঞান বিতরণ করা হয়। এই কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন স্কুলের শিক্ষকরা। তারা শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় আগ্রহ সৃষ্টি করেন, বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিকতা বিকাশে সহায়তা করেন।
প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সাহায্য ছাড়া পরিবারের একার পক্ষে চলা খুব কঠিন। পারিবারিক বিপর্যয় যেমন- পরিবারে মা কিংবা বাবার মৃত্যু, অসুস্থতা, যেকোনো মতবিরোধ বা পারিবারিক দুর্ঘটনায় তারা বিভিন্নভাবে সাহায্যের হাত বাড়ান। এসব বিপর্যয়ে শিশু সন্তানের স্নেহ, ভালোবাসা, উপদেশ ও পরামর্শের প্রয়োজন হয়। এমন সময় প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন সহায়তা করেন।
Related Question
View Allসাধারণত মা-বাবা, ভাই-বোন এবং আরও অন্যান্য সদস্য একসাথে থাকার যে প্রতিষ্ঠান সেটি হলো পরিবার।
প্রত্যেক সমাজের কিছু নিয়মনীতি থাকে। পরিবার সমাজের এসব নিয়মনীতি অনুযায়ী শিশুকে আচরণ করতে শেখায়।
সবার সাথে ভালো ব্যবহার, নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা, সহযোগিতা করা ইত্যাদি আচরণ সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য। সঠিক ও গ্রহণযোগ্য আচরণ নিয়ে শিশু বেড়ে উঠলে সমাজ ও দেশের উন্নতি হয়। তাই দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার জন্য সমাজের নিয়মনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সন্তানদের প্রতি রেবেকার আচরণ তাদের সামাজিক বিকাশে সহায়ক।
রেবেকা তার সন্তানদের সমবয়সীদের সাথে সহযোগী মনোভাব তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এর মাধ্যমে শিশুরা গ্রহণযোগ্য সামাজিক আচরণ করতে শেখে এবং তাদের মধ্যে ন্যায়-অন্যায় বোধ জাগ্রত হয়। তারা তাদের ধারণার আদান-প্রদান, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রভৃতি শিখে।
এছাড়া শিশুরা সহযোগিতা, পরোপকার, সমবেদনা, অংশগ্রহণ, নিঃস্বার্থ হওয়া ইত্যাদি পরিবার থেকেই শিখে। রেবেকা সন্তানদের সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করেন। এসব কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে রেবেকা তার সন্তানদের সমাজের গ্রহণযোগ্য আচরণ শেখাতে ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবেশ শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে সহায়ক।
শিশুর সব ধরনের বিকাশের প্রথম ও দীর্ঘস্থায়ী কেন্দ্র হলো পরিবার। শিশুর সুষ্ঠু বিকাশের জন্য ভালবাসাপূর্ণ সহযোগিতাময় পরিবেশ প্রয়োজন। রেবেকা ও তার স্বামী দুই সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেন এবং বন্ধুর মতো তাদের সাথে মেশেন। তারা সন্তানদের সমবয়সীদের সাথে সহযোগী মনোভাব তৈরিতে সাহায্য করেন। এতে করে সন্তানদের মধ্যে সামাজিক বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। তারা পরস্পরকে সহযোগিতা করতে ও নিয়ম মেনে চলতে শেখে। তাছাড়া রেবেকা ও তার স্বামী সন্তানদের সময় দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে ও পার্কে বেড়াতে নিয়ে যান।
ফলে তাদের শারীরিক, আবেগীয় ও মানসিক বিকাশ হয়। দর্শনীয় স্থানে গিয়ে তারা অনেক কিছু শিখতে পারে। এতে তাদের মনোযোগ ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে তারা কিছু সময় কাটাতে পারে। তাছাড়া দৌড়-ঝাঁপ, ঘোরাঘুরির ফলে তাদের শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। তাই বলা যায়, সুমন ও সুমনার পারিবারিক পরিবেশ তাদের সুস্থ বিকাশে সহায়ক।
শিশুকে সঠিকভাবে পরিচালনার অন্যতম কৌশল হলো ইতিবাচক আচরণ করা।
ভাই-বোনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে একজন অপরজনকে সঙ্গ দেয়, পরস্পরের মধ্যে ভাগাভাগি করতে শেখে, যেকোনো সমস্যার কথা খোলামেলা আলোচনা করতে পারে। এভাবে যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে সহজেই খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তাই ভাই-বোনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!