প্রতিটি জীবদেহ কোষ দিয়ে তৈরি ।
জীবের দেহ একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত হলে তাকে এককোষী জীব বলে ।
জীবের দেহ একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত হলে তাকে বহুকোষী জীব বলে ।
কোষ বিভাজন ঘটে জীবের বৃদ্ধি ও প্রজনন ঊদ্দেশ্যে ।
জীবদেহের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজন প্রক্রিয়া মাইটোসিস এবং মিয়োসিস ।
জীবদেহের গঠন ও কাজের একককে কোষ বলে ।
ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম এককোষী জীব ।
মাইটোসিস কোষ বিভাজন অবিচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া ।
মাইটোসিসের নিউক্লিয়াসের বিভাজন প্রক্রিয়াকে ৫টি পর্যায়ে ভাগ করা হয় ।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রথম পর্যায়ের নাম প্রোফেজ ।
মাইটোসিসের মাধ্যমে সৃষ্ট অপত্য কোষের সংখ্যা দুইটি ।
সব বহুকোষী জীব জাইগোট কোষ থেকে জীবন শুরু করে ।
মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস একবার বিভক্ত হয় ।
দেহকোষ বিভাজিত হয় মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোম -থেকে পানি হ্রাস পেতে থাকে ।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের শেষ ধাপের নাম টেলোফেজ ।
মাইটোসিসের প্রো-মেটাফেজ ধাপে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটে ।
অ্যানাফেজ ধাপে ক্রোয়োজোম সমান দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায় ।
মাইটোসিস পাঁচটি পর্যায় ধারাবাহিক পর্যায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় ।
প্রোফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোম কুণ্ডলিত অবস্থায় থাকে ।
ইকুয়েশনাল বিভাজন বলা হয় মাইটোসিস বিভাজনকে ।
স্পিন্ডল যন্ত্রের দুই মেরুর মধ্যবর্তী স্থানকে ইকুয়েটর বা বিষুবীয় অঞ্চল বলে ।
অ্যাস্টার-রে বিচ্ছুরিত হয় মাইটোসিসের প্রো-মেটাফেজ ধাপে ।
প্রো-মেটাফেজে সেন্ট্রিওল হতে অ্যাস্টার-রে বিচ্ছুরিত হয় প্রাণিকোষে ।
প্রাণিকোষে দুইটি সেন্ট্রিওল হতে অ্যাস্টার-রে বিচ্ছুরিত হয় ।
ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডের মধ্যে বিকর্ষণ শুরু হয় মাইটোসিসের মেটাফেজ ধাপে ।
মাইটোসিসের মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোম সর্বাধিক মোটাও খাটো হয় ।
মাইটোসিসের মেটাফেজ পর্যায়ের শেষ দিকে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন শুরু হয় ।
অ্যানাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলোর আকার V, L, J বা I-এর আকার হয় ।
মাইটোসিসের টেলোফেজ ধাপে নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের সৃষ্টি হয় ।
মাইটোসিসের টেলোফেজ ধাপে প্রোফেজের ঘটনাগুলো বিপরীতভাবে ঘটে ।
মানুষ প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন কোষ দিয়ে গঠিত ।
বৃদ্ধি ও অযৌন জননের জন্য মাইটোসিস কোষ বিভাজন অপরিহার্য ।
টিউমার ও ক্যান্সার সৃষ্টি হয় অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস ধরনের কোষ বিভাজনের ফলে ।
এককোষী জীব মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বংশ বৃদ্ধি করে ।
জীবদেহের ক্ষতস্থান পূরণ করতে মাইটোসিস বিভাজন ভূমিকা রাখে ।
কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে টিউমার সৃষ্টি হয় ।
হিউম্যান প্যাপিলোম ভাইরাসের জিন দুটির নাম E6 এবং E7
মিয়োসিস বিভাজনের একচক্রে নিউক্লিয়াস দুই বার বিভাজিত হয় ।
মিয়োসিস পদ্ধতিতে মাতৃকোষের বিভাজন হয় ।
মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয় ।
মিয়োসিস বিভাজন প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় ।
প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় টিকে থাকে মিয়োসিস বিভাজন মাধ্যমে ।
গ্যামেট সৃষ্টির সময় জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস বিভাজন ঘটে ।
হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোটে মিয়োসিস বিভাজন সংঘটিত হয় ।
মিয়োসিস-২ বিভাজন মাইটোসিসের অনুরূপ ।
প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যাধুব থাকে মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে ।
ক্রোমোজোম সেট দ্বিগুণ হয়ে Xenopus laevis প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে ।
Xenopus laevis ব্যাঙ-এর প্রজাতি প্রজাতির নাম ।
জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন বহন করে ক্রোমোজোম ।
Xenopus tropicalis - ব্যাঙের প্রজাতি ।
যে প্রক্রিয়ায় জীবের বৃদ্ধি ও প্রজননের উদ্দেশ্যে কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে তাই কোষ বিভাজন। জীবদেহে তিন প্রকার কোষবিভাজন দেখা যায়। যথা: অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজন।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক কোষ বিভাজনও বলা হয়। কারণ এ কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। সৃষ্ট অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা, গঠন ও গুণাগুণ মাতৃকোষের মতো হয়।
কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক। প্রতিটি জীবদেহ কোষ দিয়ে গঠিত। একটি মাত্র কোষ দিয়ে প্রতিটি জীবের জীবন শুরু হয়। বিভাজনের মাধ্যমে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি জীবদেহের একটি স্বাভাবিক এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
যেসব জীবের দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। সেসব জীবই হলো এককোষী জীব। এককোষী জীব বিভাজনের মাধ্যমেই একটি থেকে অসংখ্য এককোষী জীব উৎপন্ন করে। যেমন ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম ইত্যাদি।
যেসব জীব একাধিক কোষ নিয়ে গঠিত, সেসব জীবকে বহুকোষী জীব বলে। যেমন- মানুষ, বটগাছ, তিমি, মাছ ইত্যাদি জীব কোটি কোটি কোষ নিয়ে গঠিত। এগুলো বহুকোষী জীব।
প্রতিটি জীবদেহ কোষ দিয়ে তৈরি। একটিমাত্র কোষ দিয়ে প্রতিটি জীবের জীবন শুরু হয় এবং বিভাজনের মাধ্যমে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। জীবের বৃদ্ধি ও প্রজননের উদ্দেশ্যে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে আবার কোষ বিভাজনের মাধ্যমেই পুং ও স্ত্রী গ্যামেট সৃষ্টি হয়ে নতুন প্রজন্মের জন্ম হয়।
বিভাজনের মাধ্যমে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। জীবদেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ এর জন্য কোষ বিভাজন আবশ্যক। এছাড়াও জীবের প্রজনন ও প্রজাতির ধারা অক্ষুন্ন রাখতে কোষ বিভাজন হয়।
জীবের জীবন এককোষী জাইগোট থেকে শুরু হয়, যা কোষ বিভাজনের মাধ্যমে কোটি কোটি কোষে রূপান্তরিত হয় এবং জীবের পরিপূর্ণতা লাভ করে। যেমন- এককোষী নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একসময় কোটি কোটি কোষের সমন্বয়ে একটি পরিণত মানুষের সৃষ্টি হয়।
জীবের বৃদ্ধি ও প্রজননের উদ্দেশ্যে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে কোষে সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। জীবদেহের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া দুই প্রকার। যথা- মাইটোসিস ও মিয়োসিস।
জীবদেহের গুরুত্বপূর্ণ দুই ধরনের কোষ বিভাজন হলো-মাইটোসিস ও মিয়োসিস। মাইটোসিস কোষ বিভাজন পাঁচটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয় এবং এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রকৃতকোষ বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। অপরদিকে, মিয়োসিস কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ পাওয়া যায়।
এককোষী জীব ও বহুকোষী জীবের মধ্যে পার্থক্য হলো-
| এককোষী জীব | বহুকোষী জীব |
| ১. এদের দেহ একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। | ১. এদের দেহ একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত। |
| ২. সাধারণত অযৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম ইত্যাদি। | ২. যৌন এবং অযৌন উভয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বংশবিস্তার করতে পারে। উদাহরণ: মানুষ, বটগাছ, তিমি মাছ ইত্যাদি। |
প্রাণীর দেহকোষ বিভাজনের সময় অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হুবহু মাতৃকোষের ন্যায় হওয়ায় এ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়। সমীকরণিক বিভাজন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সংখ্যা অপরিবর্তিত রূপে অপত্য কোষের ক্রোমোজোমে স্থানান্তরিত হয়।
প্রাণীর দেহকোষে এবং উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যু; যেমন- কান্ড, মূলের অগ্রভাগ, ভ্রূণমূল ও ভ্রূণমুকূল, বর্ধনশীল পাতা, মুকুল ইত্যাদিতে মাইটোসিস ঘটে।
জীবদেহ ডিপ্লয়েড কোষ (2n) নিয়ে গঠিত। একমাত্র মাইটোসিস কোষ বিভাজনেই অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অনুরূপ হয়। অপরদিকে মিয়োসিসে তৈরি অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। তাই ক্রোমোজোম সংখ্যার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জীবের দেহকোষে মাইটোসিস সংঘটিত হয়।
নিম্নশ্রেণির জীবে অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজন দেখা যায়। এসব জীবের দেহ একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত এবং এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। সুগঠিত নিউক্লিয়াস না থাকার কারণে কোষ বিভাজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পিন্ডল যন্ত্র এখানে সৃষ্টি হয় না।
মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত বা সুকেন্দ্রিক কোষ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। মাইটোসিসে নিউক্লিয়াস প্রায় সমানভাবে একবার বিভাজিত হয়। নিউক্লিয়াসের প্রতিটি ক্রোমোজোমও একবার করে বিভাজিত হয়। সাইটোপ্লাজমও একবারই বিভাজিত হয়। তাই মাইটোসিস বিভাজনে কোষের মাতৃকোষ এবং অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা, তথা DNA এর পরিমাণ সমান থাকে।
মাইটোসিসের নিউক্লিয়াসের বিভাজন প্রক্রিয়াকে পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। পর্যায়গুলো হচ্ছে- প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ।
সোমাটিক সেল জীবের দেহ গঠনে অংশগ্রহণ করে। মাইটোসিস এবং অ্যামাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে এসব সেল বিভাজিত হয়। অপরদিকে, গ্যামেটিক সেল জীবের জনন কাজে অংশগ্রহণ করে। মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে এসব সেল বিভাজিত হয়।
মাইটোসিস কোষ বিভাজন একটি অবিচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই বিভাজনে প্রথমে ক্যারিওকাইনেসিস অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটে এবং পরবর্তীতে সাইটোকাইনেসিস অর্থাৎ সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে। বিভাজন শুরুর আগে কোষের নিউক্লিয়াসে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ হয়। এ অবস্থাকে ইন্টারফেজ পর্যায় বলে।
যে পদ্ধতিতে কোষের নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটে তাকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে। এটি সাধারণত মাইটোসিস এবং মিয়োসিস উভয় প্রক্রিয়ার সময় ঘটে। এ সময় নিউক্লিয়াসে থাকা ক্রোমোজোমগুলো সমানভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি নতুন নিউক্লিয়াসে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে কোষ দুটি সমান পরিমাণে জেনেটিক উপাদান পায়।
যে পদ্ধতিতে কোষের সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে তাকে সাইটোকাইনেসিস বলে। ক্যারিওকাইনেসিসের ফলে উৎপন্ন দুটি নিউক্লিয়াসের মধ্যবর্তী স্থানের সাইটোপ্লাজমে' সাইটোকাইনেসিস ঘটে। সাইটোকাইনেসিসের ফলে মাতৃকোষটি দুটি সমগুণ সম্পন্ন অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়।
ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিসের মধ্যে দুইটি পার্থক্য হলো-
| ক্যারিওকাইনেসিস | সাইটোকাইনেসিস |
| ১. নিউক্লিয়াসের বিভাজনই হলো ক্যারিওকাইনেসিস। | ১. সাইটোপ্লাজমের বিভাজন হলো সাইটোকাইনেসিস। |
| ২. মাইটোসিস কোষবিভাজনে ক্যারিওকাইনেসিস প্রক্রিয়াটি আগে ঘটে। | ২. মাইটোসিস কোষবিভাজনে সাইটোকাইনেসিস ক্যারিওকাইনেসিসের পরে ঘটে। |
নিউক্লিয়াসের বিভাজন হলো ক্যারিওকাইনেসিস। মাইটোসিস কোষবিভাজনে ক্যারিওকাইনেসিস প্রক্রিয়াটি আগে ঘটে। সাইটোপ্লাজমের বিভাজন হলো সাইটোকাইনেসিস। মাইটোসিস কোষবিভাজনে সাইটোকাইনেসিস ক্যারিওকাইনেসিসের পরে ঘটে।
প্রোফেজ হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রথম পর্যায়। এ পর্যায়ে কোষের নিউক্লিয়াস আকারে বড় হয় এবং ক্রোমোজোমগুলো আস্তে আস্তে সংকুচিত হয়ে মোটা এবং খাটো হতে শুরু করে। এ পর্যায়ে প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত লম্বালম্বি দু'ভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি ক্রোমাটিড উৎপন্ন করে।
প্রোফেজ পর্যায়ের দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. কোষ বিভাজনের এ পর্যায়ে কোষের নিউক্লিয়াস আকারে বড় হয়।
২. ক্রোমোজোমগুলো আস্তে আস্তে সংকুচিত হয়ে মোটা ও খাটো হতে শুরু করে।
প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ের দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এ পর্যায়ের একেবারে প্রথম দিকে উদ্ভিদকোষে কতগুলো তত্ত্বময় প্রোটিনের সমন্বয়ে দুই মেরুবিশিষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয়।
২. এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডলযন্ত্রের কিছু নির্দিষ্ট তন্তুর সাথে সংযুক্ত হয়।
কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ের প্রথম দিকে কতগুলো তন্তুময় প্রোটিনের সমন্বয়ে দুই মেরু বিশিষ্ট মাকু আকৃতির যে বিশেষ গঠন সৃষ্টি হয় তাকে স্পিন্ডল যন্ত্র বলে। স্পিন্ডল যন্ত্রের তত্ত্বগুলো এক মেরু থেকে অপর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এদের স্পিন্ডল তন্তু বলে। ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার কতিপয় স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত থাকে যাদের বলা হয় আকর্ষণ তন্তু বা ক্রোমোজোমাল তত্ত্ব।
কোষ কঙ্কালের মাইক্রোটিবিউল দিয়ে তৈরি স্পিন্ডল যন্ত্রের তন্তুগুলোকে স্পিন্ডল তন্তু বলে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ের একেবারে প্রথম দিকে উদ্ভিদকোষে কতগুলো তন্তুময় প্রোটিনের সমন্বয়ে দুই মেরুবিশিষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয়। এক মেরু থেকে অপর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত স্পিন্ডল যন্ত্রের তত্ত্বগুলো স্পিন্ডল তন্তু নামে পরিচিত।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ ধাপের একেবারে প্রথম দিকে তত্ত্বময় স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয়। স্পিন্ডল যন্ত্রের তত্ত্বগুলো এক মেরু থেকে অপর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত। এদের স্পিন্ডল তন্তু বলা হয়। এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডলযন্ত্রের কিছু নির্দিষ্ট তন্তুর সাথে সংযুক্ত হয়। এ তন্তুগুলোকে আকর্ষণ তন্তু বা ট্রাকশন ফাইবার বলা হয়। ক্রোমোজোমের সাথে এই তন্তুগুলো সংযুক্ত বলে এদের ক্রোমোজোমাল তত্ত্বও বলা হয়।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ ধাপে প্রাণিকোষে স্পিন্ডল যন্ত্র সৃষ্টি ছাড়াও পূর্বে বিভক্ত সেন্ট্রিওল দুটি দুই মেরুতে অবস্থান করে। এ সময়ে সেন্ট্রিওল দুটির চারদিক থেকে রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়। একে অ্যাস্টার-রে বলে।
মেটাফেজ হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের তৃতীয় পর্যায়। এ পর্যায়ের প্রথমেই সব ক্রোমোজোম স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। এ পর্যায়ের ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয়। এ পর্যায়ের শেষ-দিকে সেন্ট্রোমিটারের বিভাজন শুরু হয়। সবশেষে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিয়াসের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে।
মেটাফেজ পর্যায়ের দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা এবং খাটো হয়।
২. নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাসের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মেটাফেজ পর্যায়ে বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমগুলো সেন্ট্রোমিয়ারের মাধ্যমে স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত থাকে। এ সময় ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক সংকুচিত এবং সুসংগঠিত আকারে থাকে। এ কারণে মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা এবং খাটো হয়।
মেটাফেজ পর্যায়ের চিত্র অঙ্কন করা হলো-

অ্যানাফেজ দশায় অপত্য ক্রোমোজোমগুলোর মাঝে বিকর্ষণ শক্তির কারণে ক্রোমোজোমগুলোর অর্ধেক এক মেরুতে এবং বাকী অর্ধেক বিপরীত মেরুর দিকে সরে যায়। এই মেরু অভিমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী থাকে এবং বাহুদ্বয় অনুগামী থাকে। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমগুলো V, L, J বা I আকৃতি ধারণ করে। এদেরকে, যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক এবং টেলোসেন্ট্রিক বলে।
অ্যানাফেজ হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ৪র্থ পর্যায়। এ পর্যায়ের দুইটি বৈশিস্ট্য হলো-
১. এ পর্যায়ে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে পড়ে।
২. এ পর্যায়ের শেষের দিকে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডলযন্ত্রের মেরুপ্রান্তে অবস্থান নেয় এবং ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে।
অ্যানাফেজ পর্যায়ের চিত্র অঙ্কন করা হলো-

মেটাফেজ ও অ্যানাফেজের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
| মেটাফেজ | অ্যানাফেজ |
| ১. ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। | ১. ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চল থেকে বিপরীত মেরুর দিকে সরে যেতে থাকে। |
| ২. ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয়। | ২. অপত্য ক্রোমোজোমগুলো V, L, J বা I এর মতো আকার ধারণ করে। |
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় সংঘটিত সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোম চার প্রকার। যথা-১. V (মেটাসেন্ট্রিক), ২. L (সাবমেটাসেন্ট্রিক); ৩. ১ (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) ও ৪. 1 (টেলোসেন্ট্রিক)।
টেলোফেজ হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের শেষ পর্যায়। এখানে প্রোফেজের ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে বিপরীতভাবে ঘটে। ক্রোমোজোমগুলো আবার সরু ও লম্বা আকার ধারণ করে থাকে। নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে। শেষ পর্যায়ে বিষুবীয় তলে এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার ক্ষুদ্র অংশগুলো মিলিত হয়ে কোষপ্লেট গঠন করে।
টেলোফেজ হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের সর্বশেষ পর্যায়। টেলোফেজ পর্যায়ের দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো আবার সরু ও লম্বা আকার ধারণ করতে থাকে।
২. এ পর্যায়ের? শেষে বিষুবীয় তলে এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার ক্ষুদ্র অংশগুলো জমা হয় এবং এরা মিলিত হয়ে কোষপ্লেট গঠন করে।
মেটাফেজ ও টেলোফেজ পর্যায়ের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ-
| মেটাফেজ | টেলোফেজ |
| ১. মেটাফেজে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয়। | ১. টেলোফেজে ক্রোমোজোমগুলো সরু ও লম্বা আকার ধারণ করতে থাকে। |
| ২. ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। | ২. ক্রোমোজোমগুলো নিউক্লিয়াসে জড়াজড়ি করে অবস্থান করে। |
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের টেলোফেজ পর্যায়ের শেষে বিষুবীয় তলে এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার ক্ষুদ্র অংশগুলো জমা হয় এবং" পরে এরা মিলিত হয়ে কোষপ্লেট গঠন করে। কোষপ্লেটের উপর হেমিসেলুলোজ ও অন্যান্য দ্রব্য জমা হয়ে কোষপ্রাচীর গঠন করে।
কোষ বিভাজন যখন নিয়ন্ত্রিত থাকে না, তখন তাকে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন বলে। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমার সৃষ্টি হয়। ক্যান্সার কোষও এই নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফসল।
মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কোনো কারণে এ নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে কোষ বিভাজন বিরামহীনভাবে চলতে থাকে। ফলে টিউমার তৈরি হয়। এই টিউমার পরে ক্যান্সারে রূপ নেয়। আর ক্যান্সার হলো অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি।
মানবদেহে সৃষ্ট অর্বুদ আকৃতির মাংসপিণ্ডকে বলা হয় টিউমার। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় দেহে একটি থেকে দুইটি, দুইটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন চলতে থাকে। ফলে সেখানে দ্রুত কোষের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে অর্বুদ গঠিত হয়ে টিউমার সৃষ্টি হয়। টিউমার অনেক সময় ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
ক্যান্সার কোষ তৈরিতে সহায়ক হিসেবে সহস্রাধিক জিনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব জিন পোষক জিনের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণুগুলোর কাজ বন্ধ করে দেয় ফলে ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। যেসব জিন এই কাজ করতে পারে কেবল তারাই ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। এজন্যই সব জিন ক্যান্সার সৃষ্টি করে না।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের দুইটি গুরুত্ব নিম্নরূপ-
১. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
২. মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় তৈরি অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও গুণাগুণ একই রকম থাকায় জীবের দেহের বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে হতে পারে।
প্রজাতিতে বংশানুক্রমে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা কেবলমাত্র মিয়োসিস প্রক্রিয়ার জন্যই সম্ভব হচ্ছে। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে এবং ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস না ঘটলে পিতা-মাতা হতে সন্তান-সন্তুতিতে ক্রমাগতভাবে পুরুষাণুক্রমে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ, চারগুণ, আটগুণ, ষোলগুণ এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবজগতে একটি আমূল পরিবর্তন ঘটত এবং পরিণামে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেতো। ডিপ্লয়েড জীবে গ্যামেট সৃষ্টিকালে জনন মাতৃকোষে এবং হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোটে মিয়োসিস হয় বলেই প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য বংশ পরম্পরায় টিকে থাকে এবং জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়। এজন্যই জীবকূল টিকে থাকার জন্য ক্রোমোজোমের সংখ্যা ধ্রুব রাখা অত্যাবশ্যক।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনে সৃষ্ট অপত্য কোষে মাতৃকোষের গুণাগুণ বজায় থাকে বলে মাইটোসিস বিভাজনে একই কোষ বার বার বিভাজিত হয়ে জীবে বৃদ্ধি ঘটে। কোনোস্থানে ক্ষত তৈরি হলে উক্ত স্থানের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতি না হওয়া স্বাভাবিক কোষগুলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের দ্বারা সুশৃঙ্খলভাবে বিভাজিত হয়ে জীবদেহের ক্ষত পূরণ হয়। তাই, ক্ষত পূরণ করতে মাইটোসিস অপরিহার্য।
মিয়োসিস হলো এমন এক ধরনের কোষ বিভাজন, যেখানে একটি ডিপ্লয়েড মাতৃকোষ থেকে চারটি হ্যাপ্লয়েড অপত্য কোষ তৈরি হয়। প্রথম বিভাজনে (হ্রাস বিভাজন) ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়। দ্বিতীয় বিভাজনে (সম বিভাজন) অপত্য কোষগুলো সমানভাবে বিভাজিত হয়, তবে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। এই প্রক্রিয়া প্রধানত জনন কোষ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এবং একে হ্রাসমূলক বিভাজনও বলা হয়।
মিয়োসিস বিভাজনের ফলে একটি ডিপ্লয়েড মাতৃকোষ থেকে পরপর দুই ধাপে বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড অপত্য কোষ তৈরি হয়। প্রতিটি অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়। এই কোষগুলোই জনন কোষ হিসেবে কাজ করে।
মিয়োসিস বিভাজন দুইটি ধাপে সম্পন্ন হয়। ধাপগুলো মিয়োসিস-১ এবং মিয়োসিস-২। প্রথম ধাপে নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম সংখ্যায় অর্ধেক হয়ে যায় তাই একে হ্রাসমূলক বিভাজন এবং দ্বিতীয় ধাপে অপত্য কোষগুলোতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা এবং পরিমাণ সমান থাকে তাই একে সমবিভাজন বলে।
মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-
| মাইটোসিস কোষ বিভাজন | মিয়োসিস কোষ বিভাজন |
| ১. সাধারণত জীবের দৈহিক কোষে হয়ে থাকে। | ১. সাধারণত জীবের জনন কোষে হয়ে থাকে। |
| ২. নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। | ২. নিউক্লিয়াস দু'বার কিন্তু ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। |
| ৩. অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। | ৩. অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক থাকে। |
মিয়োসিস প্রধানত জীবের জনন কোষে বা গ্যামেট সৃষ্টির সময় জনন মাতৃকোষে ঘটে। সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকের মধ্যে এবং উন্নত প্রাণিদেহের শুক্রাশয়ে ও ডিম্বাশয়ের মধ্যে মিয়োসিস ঘটে। ছত্রাক, শৈবাল ও মসজাতীয় হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদের ডিপ্লয়েড মাতৃকোষ থেকে যখন হ্যাপ্লয়েড রেণু উৎপন্ন হয়, তখন জাইগোটে এ ধরনের বিভাজন ঘটে।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনের জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। জনন কোষ সৃষ্টির সময় এবং নিম্ন শ্রেণির উদ্ভিদের জীবনচক্রের কোনো একসময় যখন এ রকম ঘটে তখন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সে অবস্থাকে হ্যাপ্লয়েড (n) বলে। যখন দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষের মিলন ঘটে তখন সে অবস্থাকে ডিপ্লয়েড (2n) বলে।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে একটি কোষ বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। সাধারণত জননকোষ এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। উৎপন্ন কোষগুলোর ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক থাকে। যখন দুটি বিপরীত জননকোষের মিলন ঘটে তখন ঐ কোষে অর্থাৎ জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা আবার সমান হয়ে যায়। এভাবে মিয়োসিস কোষ বিভাজনে উৎপন্ন কোষ দ্বারা ক্রোমোজোমের সংখ্যা রক্ষা হয়।
মিয়োসিস গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে হ্যাপ্লয়েড কোষ সৃষ্টি করে, যা যৌন জননের জন্য অপরিহার্য। এটি প্রজননের সময় ক্রোমোজোম সংখ্যা সঠিক রেখে জাইগোটে ডিপ্লয়েড সংখ্যা নিশ্চিত করে। মিয়োসিসের মাধ্যমে ক্রসিং ওভার এবং জিন পুনর্বিন্যাস হয়, যা জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
মিয়োসিস হলো দুটি ধাপে বিভক্ত একটি কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে, মিয়োসিস-১-এ ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়। দ্বিতীয় ধাপে, মিয়োসিস-২-এ সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে কোষ বিভাজিত হয়, তবে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। এই প্রক্রিয়ায় ক্রসিং ওভার এবং পুনর্বিন্যাস ঘটে, যা জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
মিয়োসিস বিভাজনের ফলে হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়, যেখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক থাকে। এই কোষগুলো জননকোষ হিসেবে কাজ করে, যেমন- ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু।
জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাঙের একটি প্রজাতি Xenopus tropicalis-এর সম্পূর্ণ, ক্রোমোজোম সেট দ্বিগুণ হয়ে টেট্রাপ্লয়েড ব্যাঙ Xenopus laevis প্রজাতির উৎপত্তি ঘটেছে। এই প্রক্রিয়াকে পলিপ্লয়েডি বলা হয়, যা জিন বা ক্রোমোজোমের সংখ্যা বৃদ্ধি করে নতুন প্রজাতি তৈরি করতে পারে।
জীবের বৃদ্ধি ও জননের উদ্দেশ্যে যে প্রক্রিয়ায় কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে তাই হলো কোষ বিভাজন।
যে কোষ বিভাজনে প্রক্রিয়ায় কোষের নিউক্লিয়াসটি প্রত্যক্ষভাবে সরাসরি দুটি অংশে বিভক্ত হয় তাই অ্যামাইটোসিস।
জীবের বৃদ্ধি ও প্রজননের উদ্দেশ্য কোষ বিভাজন হয়।
যেসব জীবের দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী জীব বলা হয়। যেমন- ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদি।
মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট ২৩ জোড়া অর্থাৎ ৪৬টি ক্রোমোজোম আছে।
প্রাণীর দেহকোষে এবং উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যু যেমন- কান্ড, মূলের অগ্রভাগ, তৃণমূল ও ভ্রূণমুকূল, বর্ধনশীল পাতা, মুকুল ইত্যাদিতে মাইটোসিস ঘটে।
অ্যাস্টার-রে হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনে সেন্ট্রিওল থেকে বিচ্ছুরিত রশ্মি।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের পর্যায় পাঁচটি।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের পূর্বে কোষের নিউক্লিয়াসে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়। এ অবস্থাই হচ্ছে ইন্টারফেজ।
কোষ বিভাজনের ক্ষেত্রে সাইটোপ্লাজমের বিভাজনই হলো সাইটোকাইনেসিস।
কোষ বিভাজনকালে নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডলযন্ত্রের যেসব তন্তুর সাথে সংযুক্ত হয় সেগুলোই হলো আকর্ষণ তন্তু।
মাইটোসিস বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ ধাপে কোষের উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কতকগুলো তন্তুর আবির্ভাব ঘটে। এগুলো মাকুর আকৃতি ধারণ করে। এগুলোই হলো স্পিন্ডল যন্ত্র।
যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারটি একেবারে প্রান্তভাগে অবস্থিত তাকে টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বা প্রান্তকেন্দ্রিক ক্রোমোজোম বলে।
স্পিন্ডল যন্ত্রের দুই মেরুর মধ্যবর্তী স্থানকে ইকুয়েটর বা বিষুবীয় অঞ্চল বলে।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক খাটো ও মোটা হয়।
অ্যানাফেজ পর্যায়ের শেষ দিকে অপত্য ক্রোমাটিড দুটি পরস্পর দুই মেরুর দিকে ধাবিত হয়। একে মেরুমুখী চলন বলে।
যে কোষ বিভাজন নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয় এবং মাতৃকোষের তুলনায় অপত্য কোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয় তাকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলে।
উদ্ভিদের বর্ধনশীল পাতায় মিয়োসিস কোষে বিভাজন হয়।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলে। কারণ- মাইটোসিস এমন একটি কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি প্রকৃত কোষ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে যেগুলোর ক্রোমোজোম সংখ্যা, গঠন ও গুণাগুণ মাতৃকোষের মতো হয়। এ ধরনের কোষ বিভাজনের মাধ্যমে মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা সৃষ্ট অপত্য কোষের সমান ও সমগুণসম্পন্ন হয়। এজন্যই মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক কোষ বিভাজন বলে।
কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে কতকগলো স্পিন্ডল তন্তুর সমন্বয়ে স্পিন্ডল 'যন্ত্রের সৃষ্টি হয়। কোষ বিভাজনের এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সেন্ট্রোমিয়ারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয়। এই তত্ত্বগুলোকে তখন বলা হয় ট্র্যাকশন তত্ত্ব। সুতরাং ট্র্যাকশন তন্তু মূলত স্পিন্ডল তত্ত্ব, কিন্তু যে সকল স্পিন্ডল তন্তুর সঙ্গে ক্রোমোজোম যুক্ত হয় না তাদের ট্র্যাকশন তত্ত্ব বলা যায় না। এ কারণেই বলা যায় যে, সকল ট্র্যাকশন তন্তুই স্পিন্ডল তত্ত্ব কিন্তু সকল স্পিন্ডল তন্তুই ট্র্যাকশন তন্তু নয়।
মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজনের এই প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। ক্যান্সার কোষ এই নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফল। সহস্রাধিক জিনকে ক্যান্সার কোষ তৈরিতে সহায়ক হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই জিনগুলো কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অনুগুলোর কাজ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার কোষ কিংবা ক্যান্সার।
টিউমার অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনের ফল। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমার সৃষ্টি হয়। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 এবং E7 নামের দুটি জিন এমন কিছু প্রোটিন সৃষ্টি করে, যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক প্রোটিন অণুসমূহকে স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় জরায়ুমুখের টিউমার।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়। কারণ এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।
যৌন জনন করে এমন সকল জীবে মিয়োসিসের মাধ্যমে একইভাবে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়ে থাকে। কোনো প্রজাতির টিকে থাকা বা না থাকা মূলত নির্ভর করে তার সদস্য জীবদের মধ্যে কতটা বৈচিত্র্য আছে, তার উপর। পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল সেইসব প্রজাতি টিকে থাকে, যাদের অন্তত কিছু সদস্যের মধ্যে সেই পরিবর্তন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যদি কোনো প্রজাতির জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য কম থাকে তাহলে নতুন কোনো পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর মতো বৈশিষ্ট্য কারো মধ্যে থাকার সম্ভাবনাও হবে কম। ফলে হয়তো পুরো প্রজাতিটাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই মিয়োসিস কোনো জীবের জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড হয়, কারণ-মিয়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়। যখন পুং ও স্ত্রী জনন কোষ মিলিত হয়, তাদের মিলনের ফলে জাইগোটে ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোম সংখ্যা ফিরে আসে। যদি জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ডিপ্লয়েড থাকত, তাহলে জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা অতিরিক্ত বাড়তো, যা প্রজাতির জন্য ক্ষতিকর হতো। হ্যাপ্লয়েড কোষের সংখ্যা নিশ্চিত করে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
Related Question
View Allপ্রাণীর দেহকোষে এবং উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যু, যেমন: কাণ্ড, ভূণমুকুল, বর্ধনশীল পাতা, মুকুল ইত্যাদিতে মাইটোসিস প্রক্রিয়া ঘটে।
মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত কোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোষের নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোসোেম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোসোেম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোসোেম সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।
উদ্দীপকের B ধাপটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের টেলোফেজ ধাপ। এ ধাপটিতে যে ধরনের পরিবর্তন ঘটে তা হলো-
i. ক্রোমোসোমগুলোতে পানি যোজন ঘটে।
ii.. ক্রোমোসোমগুলো প্রসারিত হয়ে ক্রমান্বয়ে সরু ও লম্বা হয়। এরা জড়াজড়ি করে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে।
iii. দুই মেরুতে নিউক্লিয়ার রেটিকুলামের চারিদিকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন তৈরি হয়।
iv. নিউক্লিওলাসের পুনঃআবির্ভাব ঘটে।
V.বিভাজনের এ ধাপে দু'মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।
vi. এ ধাপে স্পিন্ডল যন্ত্রের কাঠামো ভেঙ্গে যায় এবং স্পিন্ডল তন্তুগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
vii. এ ধাপের শেষে বিষুবীয় তলে কোষপ্লেট সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। জীবের জন্য এ প্রক্রিয়াটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে না ঘটলে জীবদেহে নানা সমস্যা দেখা দেয়। নিচে এ সমস্যাগুলো তুলে ধরা হলো-
i. বহুকোষী জীবে জাইগোট নামক একটি মাত্র কোষের মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বহুকোষী জীবদেহ গঠিত হয় এবং এদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। সুতরাং, উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে না ঘটলে জীবের দেহ গঠন ও দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হবে।
ii. মাইটোসিসের মাধ্যমে বহুকোষী জীবের জননাঙ্গ তৈরি হয়ে থাকে। তাই প্রক্রিয়াটি অর্থাৎ মাইটোসিস সঠিকভাবে না ঘটলে জীবের জননাঙ্গ ঠিকভাবে তৈরি হবে না ফলে বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হবে।
iii. মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের ভারসাম্য রক্ষা পায়। তাই এ বিভাজন সঠিকভাবে না ঘটলে এই ভারসাম্য বিনষ্ট হতে পারে।
iv. মাইটোসিসের কারণেই জীবদেহের সকল কোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা সমান থাকে। সুতরাং প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে না ঘটলে কোষে ক্রোমোসোমের এ সমতা বিনষ্ট হবে।
V. মাইটোসিস প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবে না ঘটলে কোষের নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তনে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে।
বহুকোষী জীবের দেহ গঠনকারী কোষই হলো Somatic Cell.
কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে কতকগুলো স্পিন্ডল তন্তুর সমন্বয়ে স্পিন্ডল যন্ত্রের সৃষ্টি হয়। কোষ বিভাজনের এ পর্যায়ে ক্রোমোসোমগুলো সেন্ট্রোমিয়ারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয়। এই তন্তুগুলোকে তখন বলা হয় ট্রাকশন তত্ত্ব। সুতরাং ট্রাকশন তন্তু মূলত স্পিন্ডল তন্তু, কিন্তু যে সকল স্পিন্ডল তন্তুর সঙ্গে ক্রোমোসোম যুক্ত হয় না তাদের ট্রাকশন তন্তু বলা যায় না। এ কারণেই বলা যায় যে, সকল ট্রাকশন তন্তুই স্পিন্ডল তন্তু, কিন্তু সকল স্পিন্ডল তন্তুই ট্রাকশন তন্তু নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!