আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী। এটি মুসলিমগণের ধর্মগ্রন্থ। কুরআন মজিদ বরকতময় গ্রন্থ। মানুষের প্রতি এটি আল্লাহ তায়ালার একটি বিশেষ নিয়ামত। আল্লাহ তায়ালা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপর সুদীর্ঘ ২৩ বছরে এটি নাজিল করেন। আসমানি কিতাবসমূহের মধ্যে এটি সর্বশেষ নাজিল করা হয়েছে। এরপর আর কোনো কিতাব আসেনি। আর ভবিষ্যতেও আসবে না। কিয়ামত পর্যন্ত এ কিতাবের বিধিবিধান ও শিক্ষা বলবৎ থাকবে।
আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআন আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপর নাজিল করেন। আল-কুরআন 'লাওহে মাহফুয' বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ আছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "বস্তুত এটি সম্মানিত কুরআন। সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।" (সূরা আল-বুরুজ : ২১-২২)
লাওহে মাহফুয থেকে আল-কুরআন প্রথমে কদরের রাতে প্রথম আসমানের 'বায়তুল ইয্যাহ' নামক স্থানে একসাথে অবতীর্ণ হয়। এটি ছিল রমযান মাসের লাইলাতুল কদর বা মহিমান্বিত রাত। আমরা এ রাতকে শবে কদরও বলে থাকি।
হযরত মুহাম্মদ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থাতেই তাঁর নিকট সর্বপ্রথম কুরআনের বাণী নাজিল হয়। মহানবি (স.) সত্যের সন্ধান পান। তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে শেষ নবি ও রাসুল হিসেবে মনোনীত করেন। এ সময় মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাইল (আ.) সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত নিয়ে তাঁর নিকট আগমন করেন। এটিই ছিল সর্বপ্রথম ওহি।
আল-কুরআন মহান আল্লাহর বাণী। এটি সংরক্ষণ করার দায়িত্বও তাঁরই। তিনি স্বয়ং আল-কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমিই কুরঅন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষক।” (সূরা আল-হিজর :: ৯)
আল-কুরআন সর্বপ্রথম হিফয করার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। কুরআন মজিদের কোনো অংশ নাজিল হলে সর্বপ্রথম মহানবি (স.) তা নিজে মুখস্থ করে নিতেন। মহানবি (স.)-এর উৎসাহ ও নির্দেশে সাহাবিগণ আল-কুরআন মুখস্থ করে রাখতেন। আল-কুরআন লেখনীর মাধ্যমেও সংরক্ষণ করা হয়। কুরআন মজিদ খেজুর গাছের ডাল, পশুর হাড়, চামড়া, ছোট ছোট পাথর ইত্যাদিতে লিখে রাখা হতো। এভাবেও কুরআন মজিদ সংরক্ষণ করা হয়।
যে সকল সাহাবি লিখতে জানতেন তাঁরা এ দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁদের বলা হয় কাতেবে ওহি বা ওহি লেখক। এঁদের সংখ্যা ছিল ৪২ জন। প্রধান ওহি লেখক সাহাবি ছিলেন হযরত যায়দ ইবনু সাবিত (রা.)। ওহি লেখক সাহাবিগণ সর্বদা নবি (স.)-এর সাথে থাকতেন। কুরআনের কোনো অংশ নাজিল হলে তাঁরা সাথে সাথেই তা লিখে রাখতেন।
মহানবি (স.)-এর ইন্তিকালের পর হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইসলামের প্রথম খলিফা মনোনীত হন। সে সময় কতিপয় ভণ্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। হযরত আবু বকর (রা.) সেসব ভন্ড নবির বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করেন। এ রকমই একটি যুদ্ধ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ভন্ড নবি মুসায়লামা কায্যাবের বিরুদ্ধে মুসলমানগণ জয়লাভ করেন।
হযরত আবু বকর (রা.) সেসব ভন্ড নবির বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করেন। এ রকমই একটি যুদ্ধ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ভন্ড নবি মুসায়লামা কাযযাবের বিরুদ্ধে মুসলমানগণ জয়লাভকরেন। ইয়ামামার যুদ্ধেই বহুসংখ্যক হাফিয শাহাদতবরণ করে।
তাজবিদ আরবি শব্দ। এর অর্থ সুন্দর করা, নিন্যস্ত করা, সুন্দর করে সাজানো ইত্যাদি। আর ইসলামি পরিভাষায় আল-কুরআনকে শুদ্ধভাবে পাঠ করাকে তাজবিদ বলা হয়।
কুরআন মজিদ পড়ার বেশ কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। যেমন-মাখরাজ, সিফাত, মাদ্দ, ওয়াক্ত, গুন্নাহ ইত্যাদির নিয়ম সম্পর্কে অবগত হওয়া। এসব নিয়ম-কানুন সহকারে শুদ্ধরূপে কুরআন তিলাওয়াত করাকেই তাজবিদ বলা হয়।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত অনেক। এটি নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত। কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফও পাঠ করবে, সে একটি নেকি লাভ করবে। আর এ নেকির পরিমাণ হলো দশগুণ।' (তিরমিযি)
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত অনেক। এটি নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত। পবিত্র কুরআনের প্রতিটি হরফ বা বর্ণ তিলাওয়াতের দশটি করে সওয়াব লেখা হয়। মহানবি (স.) বলেছেন, 'তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা কিয়ামতের দিন তা পাঠকারীদের পক্ষে সুপারিশ করবে।' (মুসলিম) কুরআন শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমে তিলওয়াতের ফজিলত লাভ করা যায়।
মাদ্দ শব্দের অর্থ দীর্ঘ করা, লম্বা করা। তাজবিদের পরিভাষায় মাদ্দের হরফের ডান দিকের হরকতযুক্ত হরফ লম্বা করে পড়াকে মাদ্দ বলা হয়।
মাদ্দের হরফ তিনটি। যথা-

মাদ্দের হরফের উচ্চারণ হলো-

মাদ্দ প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১. মাদ্দে আসলি (মূল মাদ্দ) ২. মাদ্দে ফারঈ (শাখা মাদ্দ)।
মাদ্দের হরফের ডানে বা পরে জযম বা হামযা কিংবা তাশদিদ না থাকলে তাকে মাদ্দে আসলি বলে। মাদ্দে আসলিকে মাদ্দে তাত্ত্বিও বলা হয়। এরূপ মাদ্দে এক আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে পড়তে হয়।
মাদ্দে আসলির তিন ধরনের উদাহরণ রয়েছে। যেমন-

ফারঈ অর্থ শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট। মাদ্দে আসলি থেকে যে সকল মাদ্দ বের হয় তাকে মাদ্দে ফারঈ বলে। অর্থাৎ মাদ্দের হরফের পরে জযম বা হামযা বা তাশদিদ থাকলে সেসব স্থানে দীর্ঘ করে পড়তে হয়। একে মাদ্দে ফারঈ বলে।

ওয়াক্ত আরবি শব্দ। এর অর্থ বিরতি দেওয়া, থামা, স্থগিত রাখা ইত্যাদি। তাজবিদের পরিভাষায় তিলাওয়াতের মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে বিরতি দেওয়াকে ওয়াক্ত বলে। অন্য কথায়, দুই নিঃশ্বাসের মধ্যবর্তী বিরতির সময়কে ওয়াক্ত বলা হয়।
০- এ চিহ্নকে বলা হয় 'ওয়াক্ত তাম'। এটি বাক্য বা আয়াতের চিহ্ন। অর্থাৎ এ চিহ্ন দ্বারা আয়াত শেষ হওয়া বোঝা যায়। এ চিহ্নে থামতে হবে।
একে 'ওয়াক্ত লাযিম' বলে। এ চিহ্নে ওয়াক্ত করা অত্যাবশ্যক। এতে ওয়াক্ত না করলে আয়াতের অর্থ বিকৃত হয়ে যেতে পারে।
এটি 'ওয়াকফ মুতলাক'-এর চিহ্ন। এরূপ চিহ্নে ওয়াক্ত করা উত্তম। এটি 'ওয়াক্ফ্ফ জায়িয'-এর চিহ্ন। এরূপ চিহ্নিত স্থানে থামা কিংবা না থামা উভয়ই জায়েয। তবে এতে ওয়াক্ত করা ভালো।
আল-কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত অত্যধিক। পবিত্র কুরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করা যায়। আবার দেখেও পাঠ করা যায়। দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে। নাযিরা তিলাওয়াত একটি উত্তম ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা এরূপ তিলাওয়াতকারীকে আখিরাতে অত্যধিক সম্মান ও মর্যাদা দান করবেন।
আল-কুরআন তিলাওয়াতের আদব হলো- পূর্ণরূপে ওযু করে পাক-পবিত্র জায়গায় বসা। পবিত্র কুরআনকে উঁচু কোনো কিছুর উপর রাখা। মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত করা। কোনোরূপ কথাবার্তা, হাসি-ঠাট্টা না করা। ধীরে ধীরে তাজবিদের সাথে তিলাওয়াত করা। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য তিলাওয়াত করা।
সূরা আল-আদিয়াত পবিত্র কুরআনের ১০০তম সূরা। এটি পবিত্র মক্কা নগরীতে অবতীর্ণ হয়। এ সূরায় প্রথম শব্দ আল-আদিয়াত। এ শব্দ থেকেই এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এ সূরায় আয়াত সংখ্যা সর্বমোট ১১টি।
তৎকালীন আরবে যখন এক ভয়ংকর অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা বিরাজমান ছিল, আরবের গোত্রসমূহ পরস্পর রক্তপাত ও লুষ্ঠনে নিয়োজিত ছিল, কোনো গোত্রই নিরাপদে ছিল না। এ প্রেক্ষাপটে এ সূরাটি অবতীর্ণ হয় একথা স্মরণ করে দেওয়ার জন্য যে, ধন-সম্পদের লোভে অন্যায় অসৎ কর্ম করলে আখিরাতে জবাবদিহি করতে হবে।
সূরা আল-আদিয়াতের শিক্ষা হলো- নিঃসন্দেহে মানুষ তার প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ। ধন-সম্পদের প্রতিও মানুষের আসক্তি প্রবল। আখিরাতে মানুষের অন্তরের গোপন বিষয়ও প্রকাশ করা হবে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা মানুষের চূড়ান্ত ফায়সালা করবেন।
এ সূরার প্রথম শব্দ আল-কারিআহ। কারিআহ অর্থ সজোরে আঘাতকারী। কিয়ামত বা মহাপ্রলয় পৃথিবীকে সজোরে আঘাত করবে বলে একে কারিআহ বলা হয়। এ সূরার কিয়ামতের নানা অবস্থান বর্ণনা করা হয়েছে। এজন্য এ সূরার নাম রাখা হয়েছে আল-কারিআহ বা মহাপ্রলয়।
সূরার প্রথম পাঁচ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। কিয়ামতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা সমগ্র পৃথিবী ধ্বংস করবেন। এজন্য এ সূরায় তিনি আল-কারিআহ বা মহাপ্রলয় শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে কিয়ামতের অবস্থা বর্ণনা করেছেন।
সূরা আল-কারিআহর শিক্ষা হলো- এ দুনিয়ার জীবন ও দুনিয়া উভয়ই ক্ষণস্থায়ী। মহাপ্রলয়ের মাধ্যমে আল্লাহ তায়লা গোটা দুনিয়া ও সৃষ্টিজগৎ ধ্বংস করে দেবেন। হাশরে মানুষের ভালোমন্দের বিচার করা হবে। নেককার ব্যক্তির স্থান হবে চিরশান্তির জান্নাত। আর পাপীদের ঠিকানা হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির জাহান্নাম।
সূরা আত-তাকাসুর প্রথম আয়াতে বর্ণিত তাকাসুর শব্দ থেকে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরা আত-তাকাসুর। এটি পবিত্র কুরআনের ১০২ তম সূরা। এটি পবিত্র মক্কা নগরীতে অবতীর্ণ হয়। এর আয়াত সংখ্যা ৮টি।
সূরা আত-তাকাসুরের শিক্ষা হলো- সম্পদের প্রাচুর্যের প্রতি মোহাচ্ছন্ন থাকা উচিত নয়। এটি মানুষকে আখিরাত ভুলিয়ে দেয়। অন্যায়ভাবে ধন-সম্পদ উপার্জনকারী জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আখিরাতে সকল কাজের হিসাব নেওয়া হবে।
সূরা আল-লাহাব মক্কা নগরীতে অবতীর্ণ। এর আয়াত সংখ্যা ৫টি। এ সূরায় আবু লাহাবের চরিত্র ও পরিণতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে বিধায় এর নামকরণ করা হয়েছে সূরা লাহাব। এটি আল-কুরআনের ১১১তম সূরা.।
সূরা আল-লাহাবের শিক্ষা হলো- রাসুলুল্লাহ (স.) ও ইসলামের বিরোধিতা খুবই মারাত্মক কাজ। এর ফলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানের ধ্বংস অনিবার্য। দুনিয়ার মানসম্মান, ধন-সম্পদ ইসলামের এসব শত্রুকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
সূরা আল-ইখলাস আল-কুরআনের ১১২তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৪টি। এ সূরাটি পবিত্র মক্কা নগরীতে অবতীর্ণ হয়। এ সূরার ফজিলত অত্যন্ত বেশি। মহানবি (স.) বলেছেন, এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।
একবার মক্কার মুশরিকরা মহানবি (স.)-এর নিকট আল্লাহ তায়ালার বংশ পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। এদের প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ তায়ালা এ সূরা নাজিল করেন। (জামি তিরমিযি) অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মুশরিকরা আরও প্রশ্ন করেছিল আল্লাহ তায়ালা কীসের তৈরি- স্বর্ণ, রৌপ্য না অন্য কিছুর? তাদের এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আল্লাহ তায়ালা এ সূরা নাজিল করেন।
সূরা আল-ইখলাসের শিক্ষা হলো- আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়। তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পিতামাতা কেউ নেই। তার সমকক্ষ কেউ নেই।
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَتَكُونَنَّ مِنَ الخيرين
অর্থ: "হে আমাদের প্রতিপালক। আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করছি। তুমি যদি আমদের ক্ষমা না কর এবং আমাদের প্রতি দয়া না কর তরে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো।" (সূরা আল-আ'রাফ: ২৩)
رَبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ الْبُنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
অর্থ: "হে আমাদের প্রতিপালক। আমরা তোমরই উপর নির্ভর করেছি, তোমারই অভিমুখী হয়েছি এবং প্রত্যাবর্তন তো তোমারই নিকট।" (সূরা আল-মুমতাহিনা : ৪)
হাদিস আরবি শব্দ। এর অর্থ কথা, বাণী ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে হাদিস বলা হয়।
সিহাহ শব্দের অর্থ শুদ্ধ, সঠিক। আর সিত্তাহ শব্দের অর্থ ছয়। বিশুদ্ধ ছয়টি গ্রন্থকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়। প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সহিহ হাদিসসমূহ এ ছয়টি গ্রন্থে একত্র করা হয়েছে।
সহিহ বুখারি গ্রন্থের সংকলক হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু ইসমাইল বুখারি (র.)। তিনি ইমাম বুখারি নামে খ্যাত। তাঁর নামানুসারেই তাঁর সংকলিত কিতাবকে সহিহ বুখারি বলা হয়। তিনি সর্বমোট ছয় লক্ষ হাদিস থেকে যাচাই-বাছাই করে তাঁর কিতাব সংকলন করেন। সহিহ বুখারি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ।
সহিহ মুসলিম সিহাহ সিত্তাহর দ্বিতীয় গ্রন্থ। বিশুদ্ধতার দিক থেকে সহিহ বুখারির পরই এর স্থান। এ গ্রন্থের সংকলক হলেন আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনু হাজ্জাজ আল কুশাইরি (র.) তিনি তিন লক্ষ হাদিস থেকে বাছাই করে এ কিতাব সংকলন করেন।
জামি তিরমিযি কিতাবের সংকলক আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনু ঈসা আত-তিরমিযি (র.)। এ কিতাবে প্রায় সব বিষয়ের হাদিস সংকলন করা হয়েছে। এ কিতাব সম্পর্কে বলা হয়- 'যার ঘরে এ কিতাব থাকবে, মনে করা যাবে যে তার ঘরে নবি করিম (স.) আছেন এবং তিনি নিজে কথা বলছেন।'
মুনাজাত হলো আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করা। মুনাজাত করার দ্বারা আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব প্রমাণিত হয়। কেননা যে ব্যক্তি দুর্বল, অসহায় সে-ই সাধারণত সাহায্য চায়। আর সাহায্যকারী স্বভাবতই ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী হয়ে থাকে। মহান আল্লাহর নিকট মুনাজাতের মাধ্যমে আমরা আমাদের দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করি।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلْكَ الْهُدَى وَالتَّالَى وَالْعَقَافِ وَالْعالى
'হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হিদায়ত (সরল সঠিক পথের নির্দেশনা), তাকওয়া বা পরহেযগারি, পবিত্রতা ও অভাব-অনটন থেকে মুক্তি কামনা করছি।' (সহিহ্ মুসলিম ও জামি তিরমিযি)
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبت قلبي على دينك -
অর্থ : 'হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! তুমি আমার অন্তরকে তোমার দীনের (ইসলামের) উপর দৃঢ় রাখ।' (জামি তিরমিযি)
لا ير علم اللهُ مَنْ لا يَر علم النَّاسُ
অর্থ: যে মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, আল্লাহ তায়ালাও তার প্রতি দয়া করেন না।' (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
পৃথিবীর সকল মানুষ মহান আল্লাহর সৃষ্টি। সকলের প্রতিই সদাচার করতে হবে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের প্রতি দয়া-মায়া, ভালোবাসা দেখাতে হবে। এমন, যেন না হয় যে আমরা শুধু ধনীদের ভালোবাসব, গরিবদের ভালোবাসব না। তদুপ অমুসলিমদেরকে বাদ দিয়ে শুধু মুসলিমদের সাহায্য-সহযোগিতা করাও ঠিক 'নয়। বরং প্রয়োজন অনুসারে সকলের প্রতিই দয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা করতে হবে।
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِع رحم
অর্থ: ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
'সাবধান! কেউ যদি কোনো যিম্মির প্রতি যুলুম করে অথবা তাকে তার অধিকার থেকে কম দেয় কিংবা ক্ষমতাবহির্ভূত কোনো কাজ তার উপর চাপিয়ে দেয় বা জোরপূর্বক তার থেকে কোনো মালামাল নিয়ে যায়, তাহলে কিয়ামতের দিন আমি তার (যিম্মির) পক্ষ অবলম্বন করব।' (আবু দাউদ)
আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী। এটি একটি বরকতময় গ্রন্থ। মানুষের প্রতি এটি আল্লাহ তায়ালার একটি বিরাট নিয়ামত। আল্লাহ তায়ালা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপরে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে এটি নাযিল করেছেন। আসমানি কিতাবসমূহের মধ্যে এটি সর্বশেষ নাযিল করা হয়েছে। এরপর আর কোনো কিতাব আসেনি। আর ভবিষ্যতেও আসবে না। কিয়ামত পর্যন্ত এ কিতাবের বিধিবিধান ও শিক্ষা বলবৎ থাকবে। তাই এটি সর্বকালের সকল মানুষের জন্য হিদায়েতের উৎস।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি। তিনি আরবদেশের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের সময় গোটা আরব ছিল অজ্ঞতা ও বর্বরতায় আচ্ছন্ন। তারা নানা মূর্তির পূজা করত। নানারূপ অন্যায়, অশ্লীল কাজ করত। ঐতিহাসিকগণ সে সময়কে 'আইয়ামে জাহিলিয়া' নামে আখ্যায়িত করেছেন। আইয়ামে জাহিলিয়া অর্থ অজ্ঞতার যুগ।
আল-কুরআনের সংরক্ষক স্বয়ং মহান আল্লাহ। এজন্য আজ পর্যন্ত এটির কোনোরূপ পরিবর্তন হয়নি। আর ভবিষ্যতেও হবে না। এটি সকল প্রকার পরিবর্তন হতে মুক্ত। কেউ এতে নতুন কোনোকিছু সংযোজন করতে পারে না। আবার এর থেকে কোনোকিছু বাদও দিতে পারে না। তাই আল-কুরআনের প্রতিটি হরকত, নুকতা, শব্দ, বাক্য সবকিছুই অপরিবর্তিত রয়েছে।
আল-কুরআন সর্বপ্রথম হিফয করার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। হিফয হলো মুখস্থ করা। তখনকার সময় আরবদের স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ। তারা খুব সহজেই নানা জিনিস স্মরণ করে রাখতে পারত। সম্ভবত আল-কুরআন-মুখস্থ করার জন্যই আল্লাহ তায়ালা তাঁদের এরূপ স্মৃতিশক্তি দান করেছিলেন। কুরআন মাজিদের কোনো অংশ নাযিল হলে সর্বপ্রথম মহানবি (স.) নিজে মুখস্থ করে নিতেন। এরপর তা সাহাবিগণকে মুখস্থ করতে বলতেন। আর এভাবেই মহানবি (স.)-এর উৎসাহ ও নির্দেশে সাহাবিগণ আল-কুরআন মুখস্থ করে রাখতেন।
আল-কুরআন লেখনীর মাধ্যমেও সংরক্ষণ করা হয়। কুরআনের কোনো অংশ নাযিল হলে তা মুখস্থ করার পাশাপাশি লিখে রাখার জন্যও নবি করিম (স.) নির্দেশ দিতেন। যে সকল সাহাবি লিখতে জানতেন তাঁরা এ দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁদের বলা হয় কাতেবে ওহি বা ওহি লেখক।
মহানবি (স.)-এর ইন্তিকালের পর হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইসলামের প্রথম খলিফা মনোনীত হন। সে সময় কতিপয় ভণ্ডনবির আবির্ভাব ঘটে। হযরত আবু বকর (রা.) সেসব ভণ্ডনবির বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করেন। এ রকমই একটি যুদ্ধ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ভন্ডনবি মুসায়লিমা কায্যাবের বিরুদ্ধে মুসলমানগণ জয়লাভ করেন। তবে কুরআনের বহু সংখ্যক হাফিয শাহাদাত বরণ করেন।
হযরত উমর (রা.)-এর পরামর্শে হযরত আবু বকর (রা.) কুরআন সংকলন করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি প্রধান ওহি লেখক সাহাবি হযরত যায়দ ইবনু সাবিত (রা.)-কে পবিত্র কুরআন গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁর নির্দেশে হযরত যায়িদ (রা.) সাহাবিদের নিকট সংরক্ষিত কুরআনের লিখিত অংশগুলো একত্র করেন। পাশাপাশি তিনি কুরআনের হাফিযগণের সাহায্যও গ্রহণ করেন। কুরআনের প্রতিটি অংশ তিনি লেখনী ও মুখস্থ এ উভয় পদ্ধতির সাথে মিলিয়ে দেখেন। এভাবেই তিনি সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে আল-কুরআনের প্রামাণ্য পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন।
হযরত উসমান (রা.)-এর আমলে ইসলামি সাম্রাজ্য বিশাল বিস্তৃত ছিল। এসময় বিভিন্ন অঞ্চলে কুরআনের পাঠরীতি নিয়ে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়। এমতাবস্থায় হযরত উসমান (রা.) বিশিষ্ট সাহাবিগণের সাথে পরামর্শ করে আল-কুরআনের একক ও প্রামাণ্য পাঠরীতি প্রচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এজন্য তিনি হযরত যায়িদ (রা.)-এর নেতৃত্ব একটি কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি হযরত হাফসা (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করে আরও সাতটি পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন এবং প্রত্যেক প্রদেশে আল-কুরআনের এক কপি পাঠিয়ে দেন। আল-কুরআন সংরক্ষণের এরূপ অসামান্য অবদানের জন্য হযরত উসমান (রা.)-কে জামিউল কুরআন বলা হয়।
ফারঈ অর্থ শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট। মাদ্দে আসলি থেকে যে সকল মাদ্দ বের হয় তাকে মাদ্দে ফারঈ বলে। অর্থাৎ মাদ্দের হরফের পরে জযম বা হামযা বা তাশদিদ থাকলে সেসব স্থানে দীর্ঘ করে পড়তে হয়। একে মাদ্দে ফারঈ বলে।
আল-কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত অত্যধিক। পবিত্র কুরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করা যায়। আবার দেখেও পাঠ করা যায়। দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে। আল্লাহ তায়ালা এরূপ তিলাওয়াতকারীকে আখিরাতে বিরাট সম্মান ও মর্যাদা দান করবেন। তাই নাযিরা তিলাওয়াত একটি উত্তম ইবাদত।
সূরা আল কারিআহ মক্কি সূরাসমূহের মধ্যে অন্যতম সূরা। এটি পবিত্র কুরআনের ১০১তম সূরা। এ সূরার আয়াত সংখ্যা ১১টি। এ সূরার প্রথম শব্দ আল-কারিআহ। কারিআহ অর্থ সজোরে আঘাতকারী। কিয়ামত বা মহাপ্রলয় পৃথিবীকে সজোরে আঘাত করবে বলে একে কারিআহ বলা হয়। এ সূরায় কিয়ামতের নানা অবস্থার বর্ণনা করা হয়েছে। এজন্য এ সূরার নাম রাখা হয়েছে আল-কারিআহ বা মহাপ্রলয়।
'সিহাহ' শব্দের অর্থ শুদ্ধ, সঠিক। আর 'সিত্তাহ' শব্দের অর্থ ছয়। বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়। প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সহিহ্ হাদিসসমূহ এ ছয়টি গ্রন্থে একত্র করা হয়েছে। এগুলোর সাহায্যে আমরা নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে মহানবি (স.)-এর হাদিসসমূহ জানতে পারি।
হাদিস ইসলামি জীবনব্যবস্থার দ্বিতীয় উৎস। আল-কুরআনের পরই হাদিসের স্থান। হাদিস আল-কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বহু নির্দেশনা দান করেছেন। মহানবি (স.) সেগুলো আমাদের সামনে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সেসব বিধান সাহাবিগণকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিস জানার মাধ্যমেই এগুলো আমরা জানতে পারি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।"
মাদ্দ শব্দের অর্থ দীর্ঘ করা, লম্বা করা, টেনে পড়া ইত্যাদি। তাজবিদের পরিভাষায় মাদ্দের হরফের ডানদিকের হরকতযুক্ত হরফ লম্বা করে পড়াকে মাদ্দ বলা হয়। যের, যবর ও পেশকে হরকত বলে।
আল-কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত অত্যধিক। পবিত্র কুরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করা যায়। আবার দেখেও পাঠ করা যায়। দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে। নাযিরা তিলাওয়াত একটি উত্তম ইবাদত।
আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক দ্বারা তার সার্বিক ক্ষতি বা ধ্বংস হওয়ার চুড়ান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কেননা আবু লাহাব ছিল ইসলাম ও নবি করিম (স.)-এর শত্রু। সে সর্বদাই ইসলামের শত্রুতায় লিপ্ত ছিল। তাই এ সূরায় তার শোচনীয় পরিণতির কথা বলা হয়েছে। আবু লাহাব ছিল রাসুল (স.)-এর চাচা। মক্কা নগরীতে সে প্রভৃত সম্মান ও মর্যদার অধিকারী ছিল। সে প্রচুর ধন-সম্পদেরও মালিক ছিল। কিন্তু এত কিছু তার কোনো কাজে আসে নি। বরং দুনিয়াতেও আবু লাহাবের ধ্বংস। আর আখিরাতেও সে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।
পবিত্র কুরআনকে শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করার জন্য আমরা' তাজবিদ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত করব।
তাজবিদ আরবি শব্দ। এর অর্থ সুন্দর করা, বিন্যস্ত করা, সুন্দর করে সাজানো ইত্যাদি। আর ইসলামের পরিভাষায় আল-কুরআনকে শুদ্ধভাবে সুন্দর সুরে পাঠ করাকে তাজবিদ বলা হয়। কুরআন মাজিদ পড়ার বেশকিছু নিয়মকানুন রয়েছে। যেমন- মাখরাজ, সিফাত, মাদ্দ, ওয়াক্ত, গুন্নাহ ইত্যাদি। এসব নিয়মকানুন সহকারে শুদ্ধরূপে কুরআন তিলাওয়াত করাকেই তাজবিদ বলা হয়।
আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী। এটি মানবজাতির জন্য একটি বিশেষ নিয়ামত। মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথ দেখানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা এটি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপর নাজিল করেছেন। আর নবি করিম (স.) আমাদের নিকট এ পবিত্র বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালার আদেশ-নিষেধ নিজে আমল করে তিনি আমাদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন। সাথে সাথে তিনি মানুষের নিকট এ বাণীর মর্ম ও তাৎপর্যও ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর এ সমস্ত বাণী ও কর্মকে বলা হয় হাদিস। হাদিস আল-কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ। ইসলামি বিধি-বিধান পূর্ণরূপে পালন করার জন্য আল-কুরআন ও হাদিসের জ্ঞানলাভ করা আবশ্যক।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- আল-কুরআনের পরিচয় ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- আল-কুরআনের অবতরণ, সংরক্ষণ ও সংকলন পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব।
- মাদ্দ ও ওয়াকফসহ তাজবিদ অনুযায়ী বিশুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করতে পারব।
- আল-কুরআনের নির্বাচিত পাঁচটি সূরা অর্থসহ মুখস্থ বলতে ও মূল বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- নির্বাচিত সূরাগুলোর পটভূমি (শানে নুযুল) ও শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব।
- মুনাজাতমূলক (প্রার্থনামূলক) তিনটি আয়াত অর্থসহ বলতে পারব।
- হাদিসের গুরুত্ব ও সিহাহ সিত্তার পরিচয় বর্ণনা করতে পারব।
- কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী নৈতিক জীবনযাপনের উপায় চিহ্নিত করতে পারব।
- মুনাজাতমূলক তিনটি হাদিস অর্থসহ বলতে পারব।
- নৈতিক গুণাবলিবিষয়ক তিনটি হাদিস অর্থসহ বলতে পারব।
- হাদিসের আলোকে মানবপ্রেম ও পরমতসহিষ্ণুতার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
- হাদিসের আলোকে মানবপ্রেম ও পরমতসহিষ্ণুতামূলক আচরণগুলো চিহ্নিত করতে পারব।
Related Question
View Allআরবি হরফ উচ্চারণের স্থানকে মাখরাজ বলে।
পবিত্র কুরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করা যায়। আবার দেখেও পাঠ করা যায়। দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে। নাযিরা তিলাওয়াত একটি উত্তম ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা এরূপ তিলাওয়াতকারীকে আখিরাতে অত্যধিক সম্মান ও মর্যাদা দান করবেন।
নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে فِيهَا )ফিহা) তিলাওয়াতের সময়ে ও বর্ণ এবং বর্ণ (তাজবিদ অনুযায়ী) সঠিক নিয়মে পড়েনি। এখানে নাবিহা মাদ্দ-এর নিয়ম অমান্য করেছে।
আমরা জানি, মাদ্দের হরফ মোট তিনটি- আলিফ, ওয়াও, ইয়া )۱...ي( এ তিনটি হরফ নিম্নলিখিত অবস্থায় মাদ্দের হরফ হিসেবে উচ্চারিত হয়-
১.। (আলিফ) এর পূর্বের হরফে যবর থাকলে। যেমন-
২. , (ওয়াও) এর ওপর জযম এবং তার ডান পাশের হরফে পেশ থাকলে। যেমন-
৩. ৬ (ইয়া) এর ওপর জযম এবং এর ডান পাশের অক্ষরে যের থাকলে। যেমন-
উপরিউক্ত তিনটি অবস্থায় ডু...। মাদ্দের হরফ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এর পূর্বের অক্ষর একটু দীর্ঘ করে পড়তে হয়। সুতরাং নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে তাজবিদের মাদ্দের বিষয়টি ত্যাগ করেছে।
উদ্দীপকে নারিহাকে তার বাবা নির্ভুল তিলাওয়াতের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন।
আমরা জানি, কুরআন তিলাওয়াত সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত। কুরআন তিলাওয়াতে ফজিলত অপরিসীম। কুরআন তিলাওয়াতের এসব ফজিলত লাড করা যায় শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এজন্য তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত জরুরি। তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। তিনি বলেছেন-
وَرَيْلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا অর্থ : আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও
সুস্পষ্টভাবে। (সূরা মুয্যাম্মিল: ৪)
তাজবিদ না জেনে কুরআন পাঠ করলে তা শুদ্ধ হয় না। আর কুরআন পাঠ শুদ্ধ না হলে নামায সঠিকভাবে আদায় হয় না। এরূপ তিলাওয়াতকারী কোনো সওয়াবও লাভ করবে না।
সুতরাং বলা যায়, মাওলানা আহমাদ সাহেব তার মেয়ে নাবিহাকে যে বিষয়টি তাগিদ দিয়েছেন, সেটি হচ্ছে তাজবিদ অনুসরণ। কাজেই নাবিহা তাজবিদ মেনে শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে কুরআন পাঠ করবে। আর এজন্য প্রথমেই তাজবিদ শিক্ষা করবে। এরপর কুরআন পাঠের সময় এ নিয়মগুলোর অনুশীলন করবে।.
বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়।
আমাদের সমাজে ধনী-গরিব, সাদা-কালো, সুস্থ-অসুস্থ, হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবরকমের লোকদের নিয়েই আমাদের সমাজ। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সকলের মধ্যে = ঐক্য ও সহযোগিতা না থাকলে কোনো সমাজ উন্নতি লাভ করতে - পারে না। আর এর জন্য প্রয়োজন মানুষের প্রতি প্রীতি, দয়া-মায়া, ভালোবাসা। আর এটাই মানবপ্রেম, যা মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!