শৈশবকালের বয়সসীমা পাঁচ বছর।
ছয় থেকে দশ বছর পর্যন্ত বয়সকে বাল্যকাল বলা হয়।
কিশোর কাল শুরু হয় ১০ বছর বছরের পর থেকে ।
কিশোরকালের বিস্তৃতি ১০-১৯ বছর।
বাল্যাবস্থা ও যৌবনকালের মধ্যবর্তী সময়কে বয়ঃসন্ধিকাল বলে।
বয়ঃসন্ধিকালের দৈহিক পরিবর্তনটি প্রথম চোখে পড়ে ।
আবেগ দ্বারা চালিত হওয়ার প্রবণতা মানসিক পরিবর্তন।
ছেলে-মেয়েদের ১১-১৯ বছরের সময়কালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে।
ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকাল ১০- ১৫ বছর এ শুরু হয়।
বয়ঃসন্ধিকালে পরিবর্তনের জন্য দায়ী হরমোন।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের জন্য দায়ী টেস্টোস্টেরন হরমোন।
সাধারণত ১০-১৭ বছর বয়সে মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হয়।
ছেলেদের শুক্রাণু তৈরি হয় ১৩-১৫ বছর বয়সে।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য মেয়েদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর।
বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে জরায়ু থেকে ভ্রূণ বের হয়ে যাওয়াকে কি বলে
দেহের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটানোকে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বলে।
Dr. Petrucci. প্রথম টেস্ট টিউব বেবি জন্ম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
প্রথম টেস্টটিউব বেবি ২৯ দিন বেঁচে ছিল ।
প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয় ১৯৫৯ সালে।
মানুষের কোষে ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে ।
লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমাজোমাকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে।
স্ত্রী লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমাজোম xx
মানবদেহে অটোজোমের সংখ্যা ৪৪
ডিম্বাণুতে অটোজোমের সংখ্যা ২২ টি।
ডিম্বাণুতে সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা ১টি।
সর্বপ্রথম জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন জেনোফেন।
জেনোফেন বিজ্ঞানী fossil আবিষ্কার করেন ।
জীব সৃষ্টির মূল কারণ বিবর্তন।
অ্যারিস্টটল প্রমাণ করেন এক শ্রেণির জীব অন্য শ্রেণির জীব থেকে অপেণ্ডাকৃত উন্নত?
বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরল জীবন থেকে জটিল জীবনের উৎপত্তি ঘটেছে।
Evolveri শব্দ থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে।
সময়ের সাথে কোনো জীবের পরিবর্তনের ফলে যখন কোনো প্রজাতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে জৈব বিবর্তন বলে।
প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড সহযোগে সৃষ্ট যৌগকে নিউক্লিওপ্রোটিন বলে।
ভাইরাস জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা।
২৬০ কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ছিল না।
ব্যাকটেরিয়া আদি কোষ নামে পরিচিত।
জীবের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বাহ্যিক গঠনকে অঙ্গ সংস্থান বলে।
পাখি ও বাদুড়ের অগ্রপদ অঙ্গটি উড়ার জন্য পরিবর্তিত হয়েছে।
তিমির ফ্লিপার সাঁতারের জন্য পরিবর্তিত হয়েছে।
মানুষের অ্যাপেনডিক্স লুপ্তপ্রায় অঙ্গ নামে পরিচিত ।
যেসব জীবের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তাদেরকে কানেকটিং লিংক বলে।
উদ্ভিদের বীজের মধ্যে অবস্থিত শিশু উদ্ভিদকে ভ্রূণ বলে।
বিজ্ঞানের যে শাখা বর্তমানে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জীব সম্পর্কে অনুসন্ধানে নিয়োজিত তাকে প্রত্নজীববিদ্যা বলে।
খোঁজ না পাওয়া জীবদের মিসিং লিংক বলা হয়
জীবাশ্মকে প্রাগৈতিহাসিক যুগের সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়।
যেসব জীদ উৎপত্তির পর থেকে কোনোরূপ পরিবর্তন ছাড়াই পৃথিবীতে এখনো টিকে আছে তাদেরকে কি বলা হয় জীবন্ত জীবাশ্ম।
উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম গিঙ্কো।
বায়োলজি' শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা ল্যামার্ক।
Philosophic Zoologique' বইটি ল্যামার্ক এর লেখা।
ডারউইন ইংল্যান্ড জন্মগ্রহণ করেন।
Origin of Species by Means of Natural Selection বইটি ডারউইন এর লেখা।
পৃথিবীতে দুটি জীব কখনোই অবিকল একই ধরনের হয় না উক্তিটি ডারউইন এর।
ডারউইন তত্ত্বের প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রতিপাদ্যটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ।
৩টি উপায়ে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হতে পারে ।
জৈব বিবর্তনের জনক ডারউইন।
বয়ঃসন্ধিকালে প্রধানত তিন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
যথা- ১. শারীরিক পরিবর্তন, ২. মানসিক পরিবর্তন এবং ৩. আচরণিক পরিবর্তন।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শারীরিক পরিবর্তনসমূহ নিম্নরূপ-
১. দ্রুত লম্বা হয়ে ওঠা ও ওজন বেড়ে যাওয়া।
২. দাড়ি-গোঁফ গজানো।
৩. স্বরভঙ্গ ও গলার স্বর মোটা হওয়া।
৪. বীর্যপাত শুরু হওয়া।
৫. বুক ও কাঁধ চওড়া হয়ে ওঠা।
বয়ঃসন্ধিকালে যেসব মানসিক পরিবর্তন দেখা যায় তন্মধ্যে ৪টি মানসিক পরিবর্তন নিম্নরূপ-
১. অন্যের বিশেষত নিকটজনের মনোযোগ, যত্ন ও ভালোবাসা পাওয়ার ইচ্ছা তীব্র হওয়া।.
২. আবেগ দ্বারা পরিচালিত হওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হওয়া।
৩. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হওয়া।
৪. মানসিক পরিপক্কতার পর্যায় শুরু হওয়া।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও 'মেয়ে উভয়ের মধ্যে বেশ কিছু আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন- প্রাপ্তবয়স্কদের মতো আচরণ করা, সে যে একজন আলাদা ব্যক্তিত্ব তা বিভিন্ন আচরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা, প্রত্যেক বিষয়ে নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা, দুঃসাহসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে প্রবৃত্ত হওয়া ইত্যাদি।
বয়ঃসন্ধিকালে হঠাৎ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়, যা সহজে তারা মানিয়ে নিতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে, সময়টি হচ্ছে আবেগিক ঝড় ঝঞার বয়স। অতি মাত্রায় সংবেদনশীল এ বয়সের ছেলেমেয়েদের লক্ষণীয় বিষয় হলো এ বয়সে মা-বাবার অতি ক্ষুদ্রতম আচরণেও তারা প্রতিক্রিয়াশীল হয়। তাই মনোবিজ্ঞানীরা এ সময়কে অর্থাৎ কৈশোরকালকে মানবজীবনের ঝড়-ঝঞ্ঝাকাল বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সাধারণত ছেলেমেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল হলো ১১ বছরের সময়কাল। তবে আবহাওয়া, স্থান, খাদ্য গ্রহণের ধরন ও পরিমাণ এবং মানের তারতম্যের কারণে একেকজনের বয়ঃসন্ধিকালের সময়টা একেক রকম হতে পারে।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এর মূল কারণ হলো হরমোন। বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে-মেয়ে উভয়ের মধ্যেই শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। তবে ছেলেদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন কাজ করে। অর্থাৎ, হরমোনের ভিন্নতার কারণেই ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তনসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী হরমোনটি হলো টেস্টোস্টেরন। এর ফলে ছেলেদের মুখে দাড়ি ও গোঁফ গজায়। অপরদিকে বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী হলো ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন নামক দুটি হরমোন। যেহেতু বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের ও মেয়েদের শরীরে ভিন্ন হরমোনের সৃষ্টি হয়।
তাই ছেলেদের দাড়ি-গোঁফ উঠলেও মেয়েদের এরূপ দেখা যায় না।
হরমোনের ২টি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
২. শরীরের ভিতরে স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়।
বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের প্রভাবে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। তবে উভয়ের ক্ষেত্রে হরমোনগুলি আলাদা আলাদা। ছেলেদের ক্ষেত্রে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী হরমোন হচ্ছে টেস্টোস্টেরন এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরন।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন নামক হরমোনের কারণে দৈহিক, মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন ঘটে। এ সময় তারা পরিপাটি করে নিজেকে সাজিয়ে রাখতে চায়, কল্পনাপ্রবণ হয় এবং আবেগ দ্বারা পরিচালিত, হয়। মূলত এসব হরমোনের ক্রিয়াতেই তারা আবেগপ্রবণ হয়।
বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের জন্য দায়ী ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন। এসব হরমোনের কারণে মেয়েদের ঋতুস্রাব বা মাসিক শুরু হয়। মেয়েদের বয়স যখন ১০-১৭বছর হয়, সাধারণত তখনই ঋতুস্রাব শুরু হয়। তবে ঋতুস্রাব কোনো ভয়ের কারণ নয়। ঋতুস্রাব শুরু হওয়া সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। নারীর সন্তান ধারণের সক্ষমতার লক্ষণ হলো নিয়মিত ঋতুস্রাব।
ছেলেদের ১৬ - ১৭ বছর বয়সে দাড়ি-গোঁফ গজায় যা বয়ঃসন্ধিকালীন সময়। কারণ ছেলেমেয়েদের ১১ সময়কাল হলো বয়ঃসন্ধিকাল। এই সময় ছেলেদের দেহে টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। আর এই হরমোনের প্রভাবেই ছেলেদের দাড়ি-গোঁফ গজায়।
গর্ভধারণ হলো মেয়েদের শরীরে সন্তান গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া। পুরুষের শুক্রাণু যখন মেয়েদের ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয় তখন একটি মেয়ে গর্ভধারণ করে অর্থাৎ তার শরীরে সন্তান গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মেয়েদের জন্য এটি একটি বিশেষ শারীরিক প্রক্রিয়া।
গর্ভধারণের প্রথম কয়েক মাস মেয়েদের শরীরে কিছু কিছু অস্বস্তিকর লক্ষণ দেখা যায়। এ লক্ষণগুলো হলো-
১. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া,
২. মাথা ঘোরা ও
৩. বারবার প্রস্রাব হওয়া।
অকাল গর্ভধারণ থেকে পরিত্রাণের দুটি উপায় নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
১. পরিণত বয়সে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেওয়া।
২. সন্তান ধারণ ও সন্তান জন্ম দেওয়া সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের সঠিক ধারণা রাখা।
অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের ফলে সন্তানের নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে-
১. কম ওজনের শিশু জন্ম নেয়।
২. শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
৩. শারীরিক ও মানসিক পরিপক্ষতা ধীরে আসে।
অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ করলে নয় মাসের পুরো সময় জুড়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়। এছাড়া কোনো জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিলে বারবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। চিকিৎসক এবং ওষুধপত্রের জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। এমনকি গর্ভবতী মায়ের জন্য অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করতেও বেশ অর্থের প্রয়োজন হয়।
অপরিণত বয়সে যদি কোনো মেয়ে গর্ভধারণ করে, তবে শুধু যে মেয়েটিই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয়; ভবিষ্যৎ, শিশুটির জীবনও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই বয়সে গর্ভে সন্তান আসলে সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য গর্ভে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। যার কারণে কম ওজনের শিশু জন্ম নেয় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে। এজন্য অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের ফলে সৃষ্ট দুটি সমস্যা হলো-
১. গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ,
২. চোখে ঝাপসা দেখা।
অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের ফলে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাগত সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- বিদ্যালয়ে পড়ার সময় যদি কোনো মেয়ে গর্ভধারণ করে, তবে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। সে লজ্জায় আর বিদ্যালয়ে যায় না। তার মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং নানা অশান্তিতে ভোগে। শারীরিক দিক থেকেও সে চলাফেরা করতে সমস্যায় পড়ে। এসব কারণে সে ঘরে বসেও লেখাপড়া করতে পারে না।
একটি মেয়ের গর্ভে যখন সন্তান আসে, তখন প্রথম ভূণ হিসেবে জরায়ুতে তার বৃদ্ধি ঘটে। ভূণের বৃদ্ধি অবস্থায় কোনো কারণে সময়ের আগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জরায়ু থেকে ভূণ বের হয়ে যাওয়াকে গর্ভপাত বলে। গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেও অনেকে গর্ভপাত ঘটায়
পর্যায়ক্রমে কতকগুলো প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেন ঘটিয়ে টেস্টটিউব বেবির জন্ম দেওয়া যায়। প্রক্রিয়াগুলো হলো- ১. সক্ষম দম্পতি মিলন ঘটানো। ২. অতঃপর পালন মাধ্যমে
প্রাথমিক ভ্রুণ উৎপাদন। ৩. উৎপাদিত ভ্রুণকে স্ত্রী জরায়ুতে প্রতিস্থাপন এবং ৪. সবশেষে প্রসূতির পরিচর্যা ও সন্তান লাভ সম্পন্ন করা।
অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| অটোজোম | সেক্স ক্রোমোজোম |
| ১. সংখ্যা ২২ জোড়া | ১. সংখ্যা ১ জোড়া |
| ২. জীবের দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। | ২. লিঙ্গ নির্ধারণ ও জননগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।। |
কোনো জীবের জীবকোষে নির্দিস্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। কিন্তু জীবের লিঙ্গ নির্ধারণ বিশেষ একজোড়া ক্রোমোজোম দ্বারা ঘটে। এ ক্রোমোজোমকে লিঙ্গ নির্ধারক বা সেক্স ক্রোমোজোম বলে। লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমগুলোকে অখ্যায়িত করা হয় X ও Y ! ক্রোমোজোম নামে।
X ও Y ক্রোমোজোম হলো সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। মেয়েদের ক্ষেত্রে ক্রোমোজোম হলো XX এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে XY। যদি কোন নারীর X ক্রোমোজোমের সাথে পুরুষের X ক্রোমোজোমর মিলন ঘটে তাহলে বাচ্চাটি হবে XX ক্রোমোজোম বিশিষ্ট অর্থাৎ কন্যা সন্তান। আর যদি X ক্রোমোজোমের সাথে Y ক্রোমোজোমের মিলন ঘটে তাহলে বাচ্চাটি হবে XY ক্রোমোজোম বিশিষ্ট অর্থাৎ পুত্র সন্তান।
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারিত হয় সেক্স ক্রোমোজোমের ভিত্তিতে। X ও Y হলো সেক্স ক্রোমোজোম। মেয়েদের ডিম্বাণুতে থাকে XX এবং পুরুষের শুক্রাণুতে থাকে XY। যদি মায়ের X ক্রোমোজোম বাবার X ক্রোমোজোমের সাথে মিলন ঘটে তাহলে সন্তান হবে XX ক্রোমোজোমবিশিষ্ট অর্থাৎ কন্যা সন্তান। আর যদি মায়ের X ক্রোমোজোম বাবার Y ক্রোমোজোমের সাথে মিলন ঘটে তাহলে সন্তান হবে XY ক্রোমোজোম্বিশিষ্ট অর্থাৎ পুত্র সন্তান।
লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানবদেহে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ১ জোড়া অর্থাৎ X Y ক্রোমোজোম মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ করে থাকে। বাবার XY থেকে একটি ক্রোমোজোম এবং মায়ের XX থেকে একটি ক্রোমোজোম মিলিত হয়ে পুত্র বা কন্যা সন্তান হয়।
যে ধার, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন দিয়ে কোনো 'সরলতর নিম্নশ্রেণির জীব থেকে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে জৈব অভিব্যক্তি বা বিবর্তন বা ইভোলিউশন বলে।
প্রায় সাড়ে চারশ কোটি বছর আগে পৃথিবীর একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিন্ড ছিল। এই উত্তপ্ত গ্যাসপিন্ড ক্রমাগত তাপ বিকিরণ করায় এবং তার উত্তাপ কমে যাওয়ায় ক্রমশ ঘনীভূত হয়ে তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয়। পরে এই পিন্ডটি বাইরের দিক থেকে ভিতরের দিকে ক্রমশ কঠিন হতে থাকে এবং উদ্ভূত জলীয় বাষ্প থেকে মেঘের সৃষ্টি হয়। ঐরকম মেঘ থেকে বৃষ্টি হওয়ায় পৃথিবীর কঠিন বহিঃস্তরে জলভাগ অর্থাৎ সমুদ্রের আবির্ভাব ঘটে। এক সময়ে সমুদ্রের পানিতে প্রাণের আবির্ভাব হয় এবং সমুদ্রের পানিতে সৃষ্ট জীবকুলের ক্রমাগত পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সৃষ্টি হয়েছে।
মেক্সিকান কেভ ফিশ পানির উপরের স্তর থেকে সরে গিয়ে গভীর পানিতে অন্ধকার গুহায় বাস-শুরু করে। যার কারণে সে তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে
একটি নির্দিষ্ট জিন একাধিকভাবে থাকতে পারে। যখন জিনটি একাধিকবাবে থাকে তখন সেই জিনটির ভিন্ন ভিন্ন রূপকে তার অ্যালিল বলা হয়।
কার্টিস বার্নস (১৯৮৯) প্রদত্ত আধুনিক সংজ্ঞা অনুসারে, জৈব-অভিব্যক্তি হলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নির্দিষ্ট এলাকায় এক কিংবা কাছাকাছি প্রজাতির অ্যালিল ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন
প্রায় ২৬০ কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রচুর পরিমাণে মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস ছিল কিন্তু অক্সিজেন গ্যাস ছিল না।
ভাইরাস জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা নির্দেশ করে। ধারণা করা হয়, প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড সহযোগে সৃষ্টি হয় নিউক্লিওপ্রোটিন। এই নিউক্লিওপ্রোটিন থেকেই সৃষ্টি হয় প্রোটোভাইরাস এবং তা থেকে সৃষ্টি হয় ভাইরাস।
নিউক্লিওপ্রোটিন প্রোটোভাইরাস ভাইরাস
ভাইরাস হলো এক প্রকারের ক্ষুদ্র অণুজীব। এটি পুরোপুরি জীব নয়। এদের বৈশিষ্ট্য জীব ও জড় দুই ধরনের মতোই হয়। আধুনিক গবেষণা অনুসারে, ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় জড়ের মতো আর সক্রিয় অবস্থায় জীবের মতো থাকে। এ কারণে ভাইরাসকে জড় ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা বলা হয়।
পৃথিবীর উৎপত্তি ও জীবনের উৎপত্তির ঘটনা প্রবাহকে বলে রাসায়নিক বিবর্তন। প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড সহযোগে সৃষ্টি হয় প্রোটোভাইরাস এবং তা থেকে সৃষ্টি হয় ভাইরাস। এভাবেই রাসায়নিক বিবর্তনে আদি প্রকৃতির জীব ও পরে প্রকৃত জীবের উৎপত্তিই হলো, রাসায়নিক বিবর্তনের ফসল।
যেসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয় তাদের আদিকোষী বলে। ব্যাকটেরিয়ার কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না এজন্য ব্যাকটেরিয়াকে আদিকোষী বলা হয়।
জৈব অভিব্যক্তির আলোচনায় দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। যথা-
১. জৈন অভিব্যক্তি যে হয়েছে তার প্রমাণ এবং
২. জৈব অভিব্যক্তির পদ্ধতি অর্থাৎ কীভাবে জীবজগতে জৈব অভিব্যক্তি এসেছে তার বর্ণনা।
জীবনের উৎপত্তি প্রথমে সমুদ্রের পানিতে হয়েছিল। এ সম্পর্কে, ২টি যুক্তি হলো- ১. অধিকাংশ জীবকোষ এবং দেহস্থ রক্ত ও অন্যান্য তরলে নানারকম লবণের উপস্থিতি, যার সাথে সমুদ্রের পানির খনিজ লবণের সাদৃশ্য রয়েছে। ২. সমুদ্রের পানিতে এখানো অনেক সরল এবং এককোষী জীব বসবাস করে।
প্রায় ২৬০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড এবং জলীয় বাষ্প, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ছিল। অহরহ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার বৃদ্ধি ও - অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে এই যৌগ পদার্থগুলো 'মিলিত হয়ে অ্যামাইনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিড উৎপন্ন করে। পরে অ্যামাইনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিড মিলিত হওয়ায় নিউক্লিওপ্রোটিন অণুর সৃষ্টি হয়। নিউক্লিওপ্রোটিন অণুগুলো ক্রমে নিজেদের প্রতিরূপ গঠনের ক্ষমতা অর্জন করে এবং জীবনের সূত্রপাত ঘটায়।
জৈব অভিব্যক্তি সপক্ষে পাঁচটি প্রমাণ হলো-
১. অঙ্গসংস্থান সম্পর্কিত প্রমাণ,
২. তুলনামূলক শারীরস্থানিক প্রমাণ,
৩. সংযোগকারী জীবন সম্পর্কিত প্রমাণ,
৪. ভূণতত্ত্বঘটিত প্রমাণ ও
৫. জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ।
চারটি সমসংস্থ অঙ্গ হলো-
১. পাখির ডানা, ২. বাদুড়ের ডানা, ৩. সিলের অগ্রপদ ও ৪. ঘোড়ার অগ্রপদ।
যে সমস্ত অঙ্গগুলির গঠন ও উৎপত্তি একই রকমের কিন্তু কাজের ধরন আলাদা হয় তাদেরকে সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন-বাদুড়ের ডানা, তিমির ফ্লিপার ইত্যাদি।
বিভিন্ন প্রাণীর যে অঙ্গগুলোর উৎপত্তি, বিকাশ এবং গঠন ভিন্ন হলেও তারা একই কাজ করে সেই অঙ্গগুলোকে সমবৃত্তি অঙ্গ বলে। যেমন- পতঙ্গ কিংবা বাদুড়ের ডানা উড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এদের উৎপত্তি ও গঠন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও একই পরিবেশের প্রভাবে তারা একই রকম কাজ করার জন্য অভিযোজিত হয়েছে।
সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্তি অঙ্গের মধ্যে ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
| সমসংস্থ অঙ্গ | সমবৃত্তি অঙ্গ |
| ১. উৎপত্তি ও গঠনগত দিক থেকে একই ধরনের হয় | ১. উৎপত্তি ও গঠনগত দিক থেকে ভিন্ন রকমের হয়। |
| ২. কার্যকারিতা ভিন্ন প্রকৃতির। | ২. কার্যকারিতা একই প্রকৃতির। |
যে অঙ্গগুলোর গঠনগত নকশা এবং উৎস একই রকম অর্থাৎ একই শারীরবৃত্তীয় গঠন কিন্তু কার্যে ভিন্ন তাদেরকে সমসংস্থ অঙ্গ বলা হয়। তিমির ফ্লিপার ও ঘোড়ার অগ্রপদ সমসংস্থ অঙ্গ। কারণ, আপাতদৃষ্টিতে এদের আকৃতিগত পার্থক্য দেখা গেলেও অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে, এদের অস্থিবিন্যাসের মৌলিক প্রকৃতি একই ধরনের। বাইরে থেকে দেখতে যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে সেটি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হওয়ার জন্য ঘটেছে। তিমির ফ্লিপার সাঁতারের জন্য এবং ঘোড়ার অগ্রপদ দৌড়ানোর জন্য পরিবর্তিত হয়েছে।
জীবদেহে এমন কতকগুলো অঙ্গ দেখা যায়, যেগুলো নির্দিষ্ট জীবদেহে সক্রিয় থাকে কিন্তু সম্পর্কিত অপর জীবদেহে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, এমন অঙ্গগুলোকে লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। প্রাণিদেহের মধ্যে বহু লুপ্তপ্রায় অঙ্গ পরিলক্ষিত হয়।
লুপ্তপ্রায় অঙ্গের ২টি উদাহরণ হলো-
১. মানুষের সিকাম এবং সিকাম সংলগ্ন ক্ষুদ্র অ্যাপেন্ডিক্স।
২. মানুষের মেরুদন্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ককসিক্স।
জীবজগতে এমন জীবের অস্তিত্ব দেখা যায়, যাদের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। এ ধরনের জীবকে সংযোগকারী জীব বলে। নিটাম নামক গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ব্যক্তিবীজী এবং গুপ্তবীজী দুই ধরনের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়। তাই নিটামকে সংযোগকারী জীব সম্পর্কিত প্রমাণের উদাহরণ বলা হয়
জীবজগতে এমন জীবের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয় যাদের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের জীবকে বলা হয় সংযোগকারী জীব বা কানেকটিং লিংক। Gnetum নামক গুপ্তবীজী উদ্ভিদে ব্যক্তবীজী এবং গুপ্তবীজী দুই ধরনের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়। এজন্য Gnetum কে সংযোগকারী জীব বলা হয়।
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিন্ড বিবর্তনের সপক্ষে তুলনামূলক শারীরস্থানিক প্রমাণ দেয়। বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গের অন্তর্গঠনের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য সংক্রান্ত আলোচনাকে তুলনামূলক শারীরস্থানিক বলে। বিভিন্ন শ্রেণির মেরুদণ্ডী প্রাণীর কোনো কোনো অঙ্গের গঠনের তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যাবে এদের গঠনে মৌলিক মিল রয়েছে। এই তথ্য জৈব বিবর্তনকে সমর্থন করে।
কানেকটিং লিংক বা সংযোগকারী জীব হলো প্লাটিপাস।
প্লাটিপাসের বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা সরীসৃপের ন্যায় ডিম পাড়ে
২. এদের দেহ লোমে ঢাকা
৩. বুকে দুগ্ধগ্রন্থি বর্তমান
৪. এরা শাবককে স্তন্য পান করায়।
জীবাশ্ম আবিষ্কারের পূর্বে ধারাবাহিক বিবর্তনের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণের অভাব থাকায় বিবর্তনের ইতিহাসে বেশ কিছু ফাঁক থেকে গিয়েছিল। অনুমান করা হয় যে, ঐ ফাঁকগুলোতে এমন কোনো ধরনের জীব ছিল যাদের সন্ধান পাওয়া যায় নি। এই রকম খোঁজ না পাওয়া জীবদের মিসিং লিংক বা হৃত-যোজক বলা হয়। জীবাশ্ম আবিষ্কারের মাধ্যমে ঐ সমস্ত মিসিং লিংকের সন্ধান পাওয়ায় আজকাল বিবর্তনের ধারাবাহিক ইতিহাসের অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে।
লুপ্ত আর্কিওটেরিক্স নামক প্রাণীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এদের সরীসৃপের মতো পা ও দাঁত, পাখির মতো পালক বিশিষ্ট দুটি ডানা, একটি দীর্ঘ লেজ, লেজের শেষ প্রান্তে এক গুচ্ছ পালক ও চক্ষু ছিল। এথেকে প্রমাণিত হয় যে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী থেকেই বিবর্তনের মাধ্যমে পাখি জাতীয় প্রাণীর উৎপত্তি হয়েছে।
ভ্রূণের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানী হেকেলের সিদ্ধান্তটি হলো-প্রতিটি জীব তার ভ্রুণের বিকাশের সময় অতি অল্প সময়ের জন্য হলেও উদবংশীয় জীব বা তার পূর্বপুরুষের অভিব্যক্তিক রূপের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।
জীবাশ্ম হলো ভূগর্ভের শিলাস্তরে দীর্ঘকাল চাপা পড়ে থাকা জীবের সামগ্রিক বা আংশিক প্রস্তরীভূত দেহ বা দেহছাপ। জীবাশ্মকে প্রাগৈতিহাসিক যুগের বা বিগত যুগের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়। শিলাস্তর থেকে জীবাশ্ম দেখে জীবটির জীবিতকালের তথ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া ঐ জীবশ্মের বৈশিষ্ট্য দেখে বর্তমান এবং অতীতের যোগসূত্র খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।
আর্কিওপটেরিক্স এক রকম লুপ্ত প্রাণী। এ প্রাণীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এদের সরীসৃপের মতো পা ও দাঁত, পাখির মতো পালকবিশিষ্ট দুটি ডানা, একটি দীর্ঘ লেজ, লেজের প্রান্তে একগুচ্ছ পালক ও চ্যু ছিলো। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী থেকেই বিবর্তনের মাধ্যমে পাখি জাতীয় প্রাণীর উৎপত্তি ঘটেছে।
লুপ্ত আর্কিওপটেরিক্স এর ২টি বৈশিষ্ট্য-
১. এদের সরীসৃপের মতো পা ও দাঁত ছিল।
1
২. একটি দীর্ঘ লেজ এবং লেজের শেষ প্রান্তে একগুচ্ছ পালক এবং চক্ষু ছিল
ডারউইনের দৃষ্টিতে প্রকৃতিতে সংঘটিত চারটি সাধারণ সত্য
হলো-
১. অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি।
২. সীমিত খাদ্য ও বাসস্থান।
৩. অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম।
৪. যোগ্যতমের জয়।
একই প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যের খাদ্য ও বাসস্থান একই রকমের হওয়ায়, এদের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এরা নিজেদের মধ্যেই বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতা শুরু করে। এটাই হলো অন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, একটি দ্বীপে তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে গেলে খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে সংগ্রাম শুরু করে। সবল প্রাণীগুলো দুর্বল প্রাণীদের প্রতিহত করে গ্রাসাচ্ছাদন করে। ফলে দুর্বল প্রাণীগুলো কিছুদিনের মধ্যেই অনাহারে মারা পড়ে।
চার্লস ডারউইনের মতে, পৃথিবীতে দুটি জীব কখনোই অবিকল একই ধরনের হয় না। যত কমই হোক এদের মধ্যে কিছু না কিছু পার্থক্য থাকে। জীবন দুটির মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায় তাকে প্রকরণ বা পরিবৃত্তি বলে। অস্তিত্বের জন্য জীবনসংগ্রামে অনুকূল প্রকরণ একটি জীবকে সাহায্য করে।
ডারউইনের মতে, যেসব প্রকরণ জীবের জীবন সংগ্রামের পক্ষে। সহায়ক এবং পরিবেশের সাথে অভিযোজনমূলক তারাই কেবল বেঁচে থাকে, অন্যরা কালক্রমে পৃথিবী থেকে অবুলপ্ত হয়ে যায়। পৃথিবীতে ভিন্নতা রয়েছে। এক্ষেত্রে মেরু অঞ্চলের প্রাণীকে গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে বেঁচে থাকতে হলে তাকে গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে বিদ্যমান ভিন্ন ধরনের পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হতে হবে। অন্যথায় প্রাণীটি মারা যাবে। এ কারণেই মেরু। অঞ্চলের ভল্লুক গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে অভিযোজিত না হতে পেরে মারা যায়।
ডারউইনের মতে, যেসব প্রকরণ জীবের জীবন সংগ্রামের পক্ষে সহায়ক এবং পরিবেশের সাথে অভিযোজনমূলক তারাই কেবল বেঁচে থাকে, অন্যরা কালক্রমে পৃথিবী থেকে অবুলপ্ত হয়ে যায়। পৃথিবীতে ভিন্নতা রয়েছে। এক্ষেত্রে মেরু অঞ্চলের প্রাণীকে গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে বেঁচে থাকতে হলে তাকে গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে বিদ্যমান ভিন্ন ধরনের পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হতে হবে। অন্যথায় প্রাণীটি মারা যাবে। এ কারণেই মেরু অঞ্চলের ভল্লুক গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে অভিযোজিত না হতে পেরে মারা যায়।
যেসব প্রকরণ জীবের জীবন সংগ্রামের পক্ষে সহায়ক এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনমূলক তারাই কেবল বেঁচে থাকে; অন্যরা কালক্রমে পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যায়। এটাই হলো যোগ্যতমের জয়।
অনুকূল বা অভিযোজনমূলক প্রকরণ সমন্বিত জীবেরা অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রাকৃতিক নির্বাচন। প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রতিপাদ্যটি ডারউইন তত্ত্বের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনুকূল প্রকরণ সমন্বিত জীবেরা প্রকৃতির দ্বারা নির্বাচিত হয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যায় বেঁচে থাকে এবং অত্যধিক হারে বংশবিস্তার করে। অপরদিকে প্রতিকূল প্রকরণ সম্পন্ন জীবেরা প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে তারা অবলুপ্ত হয়।
নতুন প্রজাতি সৃষ্টির তিনটি উপায় নিম্নরূপ-
১. মূল প্রজাতি পপুলেশন থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার ফলে।
২. সংকরায়ণের ফলে।
৩. সংকরায়ণ প্রজাতিতে কোষ বিভাজনের সময় ঘটনাক্রমে কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে।
জীব সর্বদা পরিবর্তনশীল পরিবেশে নিজেকে উপযুক্তভাবে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সবসময় চেষ্টা করে। এটি জীবের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তনশীল পরিবেশে নিজেকে অভিযোজিত করতে জীবদেহে নানা রকমের পরিবর্তন দেখা যায়। ল্যামার্কের মতেও পরিবেশের পরিবর্তন ঘটলে জীবের স্বভাব এবং দৈহিক পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরিবেশের পরিবর্তন ঘটলে জীবকে বেঁচে থাকার জন্য ঐ পরিবেশে অভিযোজিত হয় যার ফলে তার দেহে কিছুটা পরিবর্তন হয়।
দশ বছর বয়স থেকে উনিশ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোর কালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে।
কৃত্রিম উপায়ে দেহের বাইরে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে প্রাথমিক ভূণ সৃষ্টি করে তাকে স্ত্রী লোকের জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শিশুর জন্ম হলে তাকে টেস্টটিউব বেবি বলে।
দেহের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটানোকে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বলে।
কৃত্রিম উপায়ে দেহের বাইরে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে প্রাথমিক ভূণ সৃষ্টি করে তাকে স্ত্রী লোকের জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শিশুর জন্ম হলে তাকে টেস্টটিউব বেবি বলে।
যে ক্রোমোজোম মানুষের জনন কার্যে সহায়তা করে এবং লিঙ্গ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে তাকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে।
সেক্স ক্রোমোজোম ছাড়া বাকি অন্য সব ক্রোমোজোমকে (দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী ক্রোমোজোম) অটোজোম বলে।
মানুষের ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬টি।
সময়ের সাথে কোনো জীবের পরিবর্তনের ফলে যখন নতুন কোনো প্রজাতির সৃষ্টি হয় তখন তাকে বলে জৈব বিবর্তন।
যে ধীর, অবিরাম ও গতিশীল পরিবর্তন দ্বারা কোনো সরলতর উদবংশীয় জীবের পরিবর্তন দ্বারা জটিল ও উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে তাকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বা ইভোলিউশন বলে।
জীবদেহে এমন কতকগুলো অঙ্গ দেখা যায় যেগুলো নির্দিষ্ট জীবদেহে সক্রিয় থাকে কিন্তু সম্পর্কিত অপর জীবদেহে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এদেরকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে।
নিউক্লিক এসিড ও প্রোটিন সহযোগে গঠিত যৌগকে নিউক্লিওপ্রোটিন বলে।
ভূগর্ভের শিলাস্তরে দীর্ঘকাল চাপা পড়ে থাকা জীবের সামগ্রিক বা আংশিক প্রস্তরীভূত দেহ বা দেহছাপকে ফসিল বা জীবাশ্ম বলে
ডাইরাস এমন একটি অণুজীব যা জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা নির্দেশ করে।
কতকগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক জীবদের বিলুপ্তি ঘটেছে। এ সকল জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
বিজ্ঞানের যে শাখা বর্তমান পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জীব সম্পর্কে অনুসন্ধানে নিয়োজিত, তাকে প্রত্নজীববিদ্যা বলে।
জীবদেহে এমন কতকগুলো অঙ্গ দেখা যায় যেগুলো নির্দিষ্ট জীবদেহে সক্রিয় থাকে কিন্তু সম্পর্কিত অপর জীবদেহে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এদেরকে লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বলে।
জীবজগতে এমন জীবের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়, যাদের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের জীবই হলো সংযোগকারী জীব বা কানেকটিং লিংক।
একটি জীবন্ত জীবাশ্মের নাম রাজকাঁকড়া।
জীবজগতে এমন জীবের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়, যাদের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের জীবকে সংযোগকারী জীব বা কানেক্টিং লিংক বলে।
বিভিন্ন প্রাণীর যে অঙ্গগুলোর উৎপত্তি, বিকাশ ও গঠন ভিন্ন হলেও কার্যগতভাবে এক, তাদের সমবৃত্তি অঙ্গ বলে।
ডিমের ভিতরে অথবা গর্ভের মধ্যে অবস্থিত শিশু প্রাণীকে এবং উদ্ভিদের বীজের মধ্যে অবস্থিত শিশু উদ্ভিদকে ভ্রূণ বলে।
ল্যামার্ক এর তত্ত্বকে ল্যামার্কিজম বলা হয়।
বয়ঃসন্ধিকাল বলতে বাল্যাবস্থা ও যৌবনকালের মধ্যবর্তী সময়কে বুঝায়। দশ বছর বয়সের পর একটি মেয়েকে কিশোরী এবং একটি ছেলেকে কিশোর বলা হয়। দশ বছর থেকে উনিশ বছর বয়স পর্যন্ত এ কিশোরকালের বিস্তৃতি। এ সময়ে বালক ও বালিকার শরীর যথাক্রমে পুরুষ ও নারীর শরীরে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হয় আট থেকে তের বছর বয়সের মধ্যে এবং ছেলের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হয় দশ থেকে পনের বছর বয়সে।
প্রজনন স্বাস্থ্য বলতে শুধুমাত্র প্রজননতন্ত্রের কার্য এবং প্রজনন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত রোগ বা অসুস্থতার অনুপস্থিতিকেই বোঝায় না। এটা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কল্যাণকর এক পরিপূর্ণ সুস্থ্য অবস্থার মধ্য দিয়ে প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পাদনের একটি অবস্থাকে বোঝায়। অর্থাৎ প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি করে এমন শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সব বিষয়ই এতে যুক্ত। কিশোর-কিশোরীরা প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান খুব বেশি রাখে না। যার কারণে প্রজনন অঙ্গের রোগ, গর্ভধারণের সঠিক উপায়, নবজাতকের করণীয়, শিশু বা বাল্য বিয়ের ঝুঁকি ইত্যাদি বিষয়ে জানা ও সচেতন হওয়ার জন্যই প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।
১৫ বছর বয়সে গর্ভধারণ হলে তাকে অকাল বা অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ বলে। অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের ফলে গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ, শরীরে পানি আসা, খুব বেশি ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, এমনকি গর্ভপাত পর্যন্ত ঘটে থাকে। এ অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশু কম ওজনের হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে। এসব কারণেই মা ও সন্তানের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।
অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ কারণ- অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের ফলে গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ, শরীরে পানি আসা, খুব বেশি ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, গর্ভপাত ইত্যাদি ঘটে থাকে। তাছাড়া মা ও সন্তানের মৃত্যুঝুঁকিও বেশি থাকে। এ বয়সে গর্ভে সন্তান আসলে সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য গর্ভে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। তাই বলে কম ওজনের শিশু জন্ম নেয়। এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে।
ক্রোমোজোমের গায়ে অসংখ্য জিন সন্নিবেশিত থাকে। প্রজাতির কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নির্ধারক একককে জিন বলে।
বিভিন্ন প্রাণীর যে অঙ্গগুলোর উৎপত্তি, বিকাশ এবং গঠন ভিন্ন হলেও তারা একই কাজ করে সেই অঙ্গগুলোকে সমবৃত্তি অঙ্গ বলে। যেমন- বাদুড়ের ডানা উড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এদের উৎপত্তি ও গঠন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও একই পরিবেশের প্রভাবে তারা একই রকম কাজ করার জন্য অভিযোজিত হয়েছে। অর্থাৎ বাদুড়ের ডানা উড়ার জন্য অভিযোজিত হয়েছে বলেই বাদুড়ের পাখাকে সমবৃত্তি অঙ্গ বলা হয়।
জীবদেহে এমন কতকগুলো অঙ্গ দেখা যায়, যেগুলো কিছু জীবদেহে সক্রিয় থাকে কিন্তু অপর জীবদেহে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, এমন অঙ্গগুলোকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। মানুষের সিকাম এবং সিকাম। সংলগ্ন ক্ষুদ্র অ্যাপেন্ডিকস্টি নিষ্ক্রিয়, কিন্তু স্তন্যপায়ীভুক্ত তৃণভোজী। প্রাণীদের যেমন- ঘোড়া কিংবা গিনিপিগের দেহে এগুলো সক্রিয়। তাই বলা যায়, অ্যাপেন্ডিকস্ একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।
কতকগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক জীবদের বিলুপ্তি ঘটেছে। এ সকল জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। যেমন- লিমুলাস বা রাজ কাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।
প্লাটিপাসকে কানেকটিং লিংক বলার কারণ হলো-
১. এরা সরীসৃপের ন্যায় ডিম পাড়ে।
২. দেহ স্তন্যপায়ীদের ন্যায় লোমে ঢাকা।
৩. বুকে স্তন্যপায়ীদের ন্যায় দুগ্ধগ্রন্থি বর্তমান।
৪. ডিম ফুটে শাবক জন্মালে এরা শাবককে স্তন্যপান করায়।
কতকগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক জীবদের বিলুপ্তি ঘটেছে। এ সকল জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। প্লাটিপাস এরকমই একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী যা সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে। অথচ এর সাথের অন্যান্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ কারণেই প্লাটিপাস একটি জীবন্ত জীবাশ্ম।
লিমুলাস জীবাশ্মের উদ্ভব ঘটেছিল প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে। এর সাথের অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
Related Question
View All"জীবন্ত জীবাশ্ম" বলতে এমন কিছু জীবিত অর্গানিজম বোঝায় যাদের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা জীবাশ্মের মতো দেখায় কিন্তু তারা আসলে জীবিত। এটি সাধারণত কিছু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীকে নির্দেশ করে, যেমন:
মরীচিকা জীবাশ্ম (Living Fossils): কিছু জীবন্ত প্রজাতি, যেমন গিঞ্জো গাছ বা কোয়ালাক্যান্থ মাছ, যারা অনেক পুরানো জীবাশ্মগুলোর সাথে অতি সাদৃশ্যপূর্ণ, কিন্তু তারা আজও জীবিত।
বিশেষ পরিবেশে টিকে থাকা জীব: কিছু প্রজাতি যেমন সামুদ্রিক জীব বা এডাপটিভ প্রজাতি যে পরিবেশ পরিবর্তনের প্রতি খুব কম সাড়া দেয়, তারা আজও টিকে আছে এবং জীবাশ্মের মতো দেখতে পারে।
এটি একটি গবেষণার বিষয় হিসেবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি জীববৈচিত্র্য এবং প্রজাতির বিবর্তন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!