রুখনো কাউকে হিংসা না করা এবং নিজের ক্ষতি হলেও কারও অমঙ্গল কামনা না করা হচ্ছে অহিংসা।
বিশ্বামিত্র ছিলেন একজন ক্ষত্রিয় রাজা। তবে তিনি সাধনা করে রাজর্ষি হয়েছিলেন। কিন্তু এতে তিনি সন্তুষ্ট হননি। কেননা তিনি বশিষ্ঠের মতো ব্রহ্মর্ষি হতে চান। তবে ব্রহ্মর্ষি হওয়া এত সহজ ব্যাপার ছিল না বলে তিনি মনে মনে বশিষ্ঠকে হিংসা করতেন।
কামধেনু হচ্ছে একটি গাভী। তার কাছে যখন যা চাওয়া হতো তাই পাওয়া যেত।
পান্ডবেরা বেঁচে গিয়ে একচক্রা নগরীতে এক ব্রাহ্মণের গৃহে বাস করতেন।
রাক্ষসটা যখন ভীমকে জাপটে ধরল তখন ভীম বক রাক্ষসকে এক আছাড়ে মেরে ফেললেন.।
এ পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা অন্যের সুখে ঈর্ষা করেন না বরং সুখ পান। কারো অকল্যাণ কামনা করেন না। কেউ অকল্যাণ করলেও তাঁর কল্যাণ করেন। অন্যের উন্নতিতে আনন্দ পান। কাউকে পীড়ন করেন না। তাঁরা অন্যের উপকার করেন। অন্যেরা যাতে সুখে থাকে তার উপদেশ দেন। কখনই কাউকে হিংসা করেন না। নিজের ক্ষতি হলেও কারো অমঙ্গল কামনা করেন না। -এ মনোভাব ও আচরণ একটি মহৎ গুণ। এ নৈতিক গুণটির নাম অহিংসা।
একদিন অনেক লোকজন নিয়ে বিশ্বামিত্র বশিষ্ঠের আশ্রমে গেলেন। গিয়ে বললেন, তাঁরা খুব ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত। হঠাৎ এত লোকের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মেটানো কঠিন কাজ। কিন্তু বশিষ্ঠ মুনি কোনো উপায় না পেয়ে তার কামধেনুর কাছে সাহায্য চাইলেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা হয়ে গেল। এসব পানীয় ও খাবার দিয়ে বশিষ্ঠ বিশ্বামিত্রকে আপ্যায়ন করলেন।
হিন্দুধর্ম মতে সকল জীবের মধ্যেই ঈশ্বর আছেন। তাই জীবের উপকার করা মানেই ঈশ্বরের সেবা করা। জীবের সেবা করলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন। পরের উপকার করার মধ্য দিয়ে এক পরম আনন্দ পাওয়া যায়। এতে মনের প্রসারতা বাড়ে। ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি বৃদ্ধিপায়। সমাজে শান্তি বিরাজ করে। পরস্পরের প্রতি সহানুভূতির সৃষ্টি হয়। পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসতে শেখে। তাই পরোপকারের গুরুত্ব অপরিসীম।
নগরের অদূরে একটা বন আছে। সেখানে থাকে এক রাক্ষস। নাম বক। প্রতিদিন তার আহারের জন্য একজন মানুষ, দুটি মহিষ এবং অনেক ভাত দিতে হয়। নতুবা সে সবাইকে খেয়ে ফেলবে। একদিন ব্রাহ্মণের পরিবারের পালা এল। যে কেউ একজনকে রাক্ষসের কাছে যেতে হবে। কিন্তু কেউ কাউকে ছাড়তে চাচ্ছিল না। এজন্য ব্রাহ্মণের ঘরে কান্নার রোল উঠেছিল।
ব্রাহ্মণের শোকে কুত্তি তার শক্তিশালী ছেলে ভীমকে পাঠালো
বক রাক্ষসের কাছে। বক রাক্ষস তখন তার আস্তানায় ছিল না। ভীম সেখানে বসে যখন বক রাক্ষসের খাবারগুলো খাচ্ছিল ঠিক তখনই বক রাক্ষস আসল এবং একটা গাছের কাণ্ড ভেঙ্গে তেড়ে এলো ভীমের দিকে। ভীম মুচকি হেসে বাম হাত দিয়ে ধরে সেটি দূরে ছুড়ে ফেলে দিল। তারপর রাক্ষসটা ক্ষেপে গিয়ে ভীমকে জাপটে ধরে ফেলল। ভীম তখন এক আছাড় মেরে বক রাক্ষসকে মেরে ফেলল। ভীম বক রাক্ষসকে তার অসীম সাহস ও শক্তি দিয়ে মেরে ফেলার জন্য গ্রামবাসী রক্ষা পেয়েছিল।
অহিংসা হলো কাউকে হিংসা না করে সকলের মঙ্গল কামনা করা।
একজন অহিংস ব্যক্তির কয়েকটি গুণ হলো-
১. তিনি অন্যের সুখে ঈর্ষা করেন না।
২. কারো অকল্যাণ কামনা করেন না।
৩. অন্যের উন্নতিতে আনন্দ পান।
৪. নিজের ক্ষতি হলেও কারও অমঙ্গল কামনা করেন না।
যাঁরা মহৎ তারা কখনই নিজের কথা ভাবেন না। সবসময় পরের কথাই ভাবেন। এর বিনিময়ে তাঁরা কিছুচান না। এই যে পরের মঙ্গল করার মনোভাব, একেই বলে পরোপকার। পরোপকার করা ধর্মের একটি অঙ্গ। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পরোপকারের গুরুত্ব হলো-
১ জীবের উপকার করা মানেই ঈশ্বরের সেবা করা।
২. পরের উপকার করার মধ্যে দিয়ে এক পরম আনন্দ পাওয়া যায়।
৩. এতে মনের প্রসারতা বাড়ে।
৪. ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি বৃদ্ধি পায়।
পরোপকার হলো অপরের মঙ্গল করার মনোভাব। পরোপকারের
সুফলসমূহ হলো-
১১. পরোপকারে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন।
২. পরের উপকার করার মাধ্যমে আনন্দ লাভ করা যায়।
৩. পরোপকারের মাধ্যমে মনের প্রসারতা বাড়ে।
৪. পরোপকার করলে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি বৃদ্ধি পায়।
কখনো কাউকে হিংসা না করার মনোভাবই হলো অহিংসা।
আমি অহিংস হব, কারণ অহিংসা ধর্মের অঙ্গ। অহিংসা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
ছাত্রজীবনে এ নৈতিক গুণ অর্জনে আমি করি এরূপ কাজ হলো-
১. আমি আমার কোনো সহপাঠীকে হিংসা করি না।
২. আমার কাছে কেউ সাহায্য চাইলে-আম্ িতাকে যথাসম্ভব সাহায্য করতে চেষ্টা করি।
৩. কেউ আমার ক্ষতি করলেও আমি তার অনিষ্ট করি না।
Related Question
View Allঅহিংস ব্যক্তি সবসময় সকলের মঙ্গল কামনা করেন।
বশিষ্ঠের আশ্রমে ছিল একটি কামধেনু।
বশিষ্ঠের আশীর্বাদে বিশ্বামিত্র ব্রহ্মর্ষি হয়েছিলেন।
পাণ্ডবেরা ব্রাহ্মণবেশে একচক্রা নগরে বাস করতেন।
পাণ্ডবদের মধ্যে ভীম ছিলেন খুব শক্তিশালী।
বিশ্বামিত্র সাধনা করে রাজর্ষি হয়েছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!