আখলাক আরবি শব্দ। এর অর্থ চরিত্র, স্বভাব, আচার-আচরণ, ব্যবহার ইত্যাদি। মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব আচার, ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায়, সেসবের সমষ্টিই হলো আখলাক।
মানবচরিত্রের সৎ ও অসৎ দিকগুলোর বিচারে আখলাক দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১. আখলাকে হামিদাহ্ (প্রশংসনীয় আচরণ)।
২. আখলাকে যামিমাহ্ (নিন্দনীয় আচরণ)।
মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার, ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায়, সেসবের সমষ্টিকে আখলাকে হামিদাহ্ বা উত্তম চরিত্র বলা হয়। যেমন- পরোপকারিতা, শালীনতাবোধ, সৃষ্টির সেবা, আমানত রক্ষা, শ্রমের মর্যাদা, ক্ষমা ইত্যাদি।
উত্তম চরিত্রের অধিকারী হলে মহান আল্লাহ ও তার রাসুল (স.)-এর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। উত্তম চরিত্র মানুষের ইমানকে পূর্ণতা দান করে। উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুল (স.)-এর নিকট উঁচু মর্যাদা লাভ করেন এবং সমাজের নিকটও উঁচু মর্যাদার অধিকারী হন।
মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। আর সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হলে পরস্পরের সহযোগিতার প্রয়োজন। অন্যের প্রয়োজনে বা উপকারে আসার নামই হলো পরোপকার।
পরোপকারের আরবি প্রতিশব্দ হলো 'ইহসান' الاخستان, যার অর্থ অন্যের উপকার করা। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মানুষের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে সেগুলোকে উত্তম বা যথাযথভাবে পালন করাকে পরোপকার বলে
পরোপকার মহান আল্লাহর একটি বড় গুণ। মহান আল্লাহ পরম দয়ালু। সমগ্র সৃষ্টির প্রতি তার এ অসীম দয়া ও করুণা বিরাজমান। তিনি সকল মানুষকে যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে সৃষ্টি করেননি। এ কারণে মানুষ পরস্পরের উপর নির্ভরশীল।
পরোপকারী ব্যক্তিদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন। পরোপকারের মাধ্যমে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরম শত্রুকেও পরোপকারের মাধ্যমে আপন করা যায়। আল্লাহর কোনো সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে তিনি দয়াকরী ব্যক্তির উপর রহমত বর্ষণ করেন।
শালীনতার আরবি প্রতিশব্দ 'তাহযিব' (التَهْزِ), যার অর্থ ভদ্রতা, নম্রতা ও লজ্জাশীলতা। আচার-আচরণে, কথাবার্তায়, বেশভূষায় ও চালচলনে মার্জিত পন্থা অবলম্বন করাকে শালীনতা বলে।
শালীনতা মানুষের একটি মহৎগুণ। এটির গুরুত্ব অপরিসীম। শালীনতাবোধ মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। শালীনতা আল্লাহর অনুগত বান্দা হতে সাহায্য করে। আচার-ব্যবহারে শালীন ব্যক্তিকে সবাই পছন্দ করে। শালীন পোশাক-পরিচ্ছেদ সৌন্দর্যের প্রতীক। শালীন ও ভদ্র আচরণের মাধ্যমে বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা সৃষ্টি হয়।
ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহানুভূতিশীল হয়ে আদর-যত্ন করার নামই হলো সৃষ্টির সেবা। মহান আল্লাহ এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা করে পাঠিয়েছেন। আর সৃষ্টিকুলের সবকিছু যেমন-জীবজন্তু, পশু-পাখি, কীটপতঙ্গ, পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ইত্যাদি মানুষের, উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
যে সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহানুভূতিশীল প্রদর্শন করে, আল্লাহ তার প্রতি খুশি হয়ে রহমত বর্ষণ করেন। এ সম্পর্কে মহানবি (স.) -বলেন, 'তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবে। তাহলে আসমানের অধিপতি 'মহান আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।' (তিরমিযি)
আমানত অর্থ গচ্ছিত রাখা বা দায়িত্বে রাখা। গচ্ছিত বা দায়িত্বে রাখা বস্তু সযত্নে রেখে এর মালিকের কাছে যথাযথভাবে ফেরত দেওয়াকে আমানত রক্ষা বলে। তিনি আমানত রক্ষা করেন, তাকে আমানতদার বলে।
গচ্ছিত রাখা বস্তু সযত্নে রেখে এর মালিকের কাছে যথাযথভাবে ফেরত দেওয়াকে আমানত রক্ষা বলে। আমানতের মাল নষ্ট করা বা আত্মসাৎ করার নাম খেয়ানত করা। আর আত্মসাৎকারীকে খেয়ানতকারী বলে।
সমাজের প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ দায়িত্ব তার নিকট পবিত্র আমানত। সামাজিক শান্তি রক্ষার জন্য আমানত রক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমানত রক্ষাকারীকে সবাই ভালোবাসে সম্মান করে। আমানত রক্ষার প্রতি গুরুত্বরোপ করে মহান আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে তোমরা যেন আমানতসমূহ তার মালিককে যথাযথভাবে ফেরত দাও।” (সূরা আন-নিসা: ৫৮)
আমানতের খেয়ানত করা মুনাফিকের লক্ষণ। মহানবি (স.) বলেন, "মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি, যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, আর তার কাছে কিছু আমানত রাখলে আমানতের খেয়ানত করে।” (বুখারি ও মুসলিম)
মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি। যথা-
১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে,
২. যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে,
৩. আমানতের খেয়ানত করে।
মানুষ জীবনধারণের জন্য যেসব কাজ করে তাকে শ্রম বলে। শ্রমের ব্যাপারে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, "অতঃপর যখন নামায শেষ হরে তখন তোমরা জমিনের বুকে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অন্বেষণ করবে।" (সূরা আল জুমুআ : ১০)
ইসলামে শ্রমের মর্যাদা অত্যধিক। শ্রম দ্বারা অর্জিত খাদ্যকে ইসলাম উৎকৃষ্ট খাদ্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং জীবিকা অন্বেষণকে ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছে। মহানবি (স.) শ্রমকে ভালোবাসতেন। তিনি নিজেও শ্রমে অভ্যস্ত ছিলেন। মহানবি (স.) বলেন, 'নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য আর নেই।
মহান আল্লাহর অন্যতম গুণ ক্ষমা। সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য মানুষের এ গুণটি থাকা খুবই প্রয়োজন। ক্ষমার আরবি প্রতিশব্দ (عَفْرٌ)-এর অর্থ মাফ করা, প্রতিরোধ গ্রহণ না করা। ইসলামি পরিভাষায় ক্ষমা বলা হয় প্রতিশোধ গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ না নিয়ে মাফ করে দেওয়া।
মানুষকে ক্ষমা করলে আল্লাহ খুশি হন এবং যে ক্ষমা করে আল্লাহ তার গুণাসমূহ ক্ষমা করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, "আর যদি তুমি তাঁদের মার্জনা কর তাঁদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা কর এবং ক্ষমা কর, তবে, জেনে রেখো আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু”। (সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত-১৪)
মহানবি (স.) কে ক্ষমার মূর্ত প্রতীক বলার কারণ হলো, "আর যদি তুমি তাঁদের মার্জনা কর তাঁদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা কর এবং ক্ষমা কর, তবে জেনে রেখো আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু"। (সূরা আত-তাগাবুন : ১৪)
এমন কিছু আচরণ বা কাজ যা মানুষকে হীন, নিচু ও নিন্দনীয় করে তোলে, সেগুলোকে আখলাকে যামিয়াহ্ বা নিন্দনীয় আচরণ বলে। নিন্দনীয় আচরণগুলো হচ্ছে হিংসা, ক্রোধ, লোভ, প্রতারণা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, ইভটিজিং, ছিনতাই প্রভৃতি।
হীন বা মন্দ চরিত্রের লোকেরা সমাজের কাছে যেমনিভাবে ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়, তেমনিভাবে পরিবারের কাছেও ঘৃণিত হয়। পরকালেও সে ঘৃণিত ও অভিশপ্ত হবে। মন্দ চরিত্রের লোকেরা পরকালে জান্নাত লাভ করতে পারবে না। মহানবি (স.) বলেন, 'দুশ্চরিত্র ও বুঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (আবু দাউদ)
হিংসা শব্দের আরবি প্রতিশব্দ 'হাসাদুন' , যার অর্থ হিংসা, ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি। অন্যের সুখ-সম্পদ, মানসম্মান নষ্ট হওয়ার কামনা এবং নিজে এর মালিক হওয়ার বাসনা করাকে হিংসা বলে।
হিংসা একটি মারাত্মক মানসিক ব্যাধি। হিংসার অপকারিতা সীমাহীন। মানব সৃষ্টির পর হিংসার কারণেই সর্বপ্রথম পাপ সংঘটিত হয়। হিংসা মানুষের ভালো কাজগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। হিংসা মানুষের শান্তি বিনিষ্ট করে। হিংসুক ব্যক্তি আল্লাহ এবং মানুষের কাছে ঘৃণিত।
আল্লাহ তায়ালা হিংসা বর্জনকারীকে ভালোবাসেন। হিংসা বর্জনকারী জান্নাত লাভ করবেন। প্রিয় নবি একবার তাঁর এর সাহাবিকে জান্নাতি বলে ঘোষণা দেন। তিনি কী আমল করেন এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা যাকে কোনো উত্তম বস্তু দান করেছেন আমি তার প্রতি কখনোই হিংসা শোষণ করি না। (ইবনু মাজাহ)
ক্রোধ'-এর আরবি প্রতিশব্দ 'গাদাব' غَضَبٌ, যার অর্থ রাগ। স্বীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়া বা কারো দ্বারা তিরস্কৃত হওয়ার কারণে প্রতিশোধ গ্রহণের ইচ্ছায় মানুষের মনের মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, তাকে ক্রোধ বলে। অহংকার, তিরস্কার, ঝগড়া প্রভৃতি কারণে ক্রোধের সৃষ্টি হয়।
ক্রোধ ও রাগের ফলে মানুষ অনেক নির্দয় ও অত্যাচারমূলক কর্মকান্ড করে ফেলে। পরবর্তীতে এর কারণে লজ্জিত ও অবজ্ঞার পাত্রে পরিণত হয়। তাই মুসলমানদের উচিত ক্রোধের সময় নিজেকে সংবরণ করা। "শক্তিশালী সেই ব্যক্তি নয়, যে খুব কুস্তি লড়তে পারে। বরং প্রকৃত শক্তিশালী হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে ক্রোধের সময় নিজেকে সংযত রাখতে পারে।” (বুখারি ও মুসলিম)
ক্রোধ একটি নিন্দনীয় বিষয়। এটি মানুষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। ক্রোধের সময় মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। সে নিজেকে সংযত রাখতে পারে না। ক্রোধ মানুষের ইমানকে ধ্বংস করে দেয়। এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন, 'সিরকা মধুকে যেভাবে বিনাশ করে, ক্রোধও ইমানকে তদ্রুপ নষ্ট করে। (বায়হাকি)
লোভ-এর আরবি প্রতিশব্দ 'হিরছুন' حِرُضٌ , এর অর্থ লালসা, লিপ্সা, মোহ, আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা ইত্যাদি। অধিক পাওয়ার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষাকে লোড করে। যেমন: অর্থ-সম্পদের লোড, পদমর্যাদার লোভ, খাদ্যদ্রব্যের লোভ, পোশাক-পরিচ্ছদের লোভ ইত্যাদি।
লোখ মানুষের মনের শান্তি বিনষ্ট করে। অধিক পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে সারাক্ষণ বিভোর রাখে। ফলে নিজের কাছে যা আছে তাতে তুষ্ট না থেকে আরও পাওয়ার আশায় সে অস্থির থাকে। লোভ মানুষকে নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজের দিকে ধাবিত করে। খাদ্যের প্রতি লোভে অনেকে মাত্রারিক্ত খায়। একে সে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রবাদ আছে, 'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।'
ধৈর্য এবং অল্পে তুষ্টির গুণ থাকলে লোভ-লালসা থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাকদিরের উপর বিশ্বাস রাখা লোভ দমনের প্রধান উপায়। জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সহজ-সরল পথ অবলম্বন করলে লোভবর্জন করা সম্ভব হয়। আমরা লোভের কুফল জানব। লোভ বর্জন করব। তাকদিরে বিশ্বাস করব। অল্পে তুষ্ট থাকব। তাহলে লোড থেকে বেঁচে থাকা যাবে।
প্রতারণার আরবি প্রতিশব্দ 'আল-গাস্সুস্থ' (اَلْقَش) যার অর্থ ঠকানো, ফাঁকি দেওয়া, প্রবঞ্চনা ও ধোঁকা। কথাবার্তা, আচার-আচরণ, লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে ধোঁকা দেওয়াকে প্রতারণা বলে। পণ্যদ্রব্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রেখে বিক্রি করা, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা ইত্যাদি প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতারণা একটি মানবতাবিরোধী অতি গর্হিত কাজ। এটি মিথ্যার শামিল। ইসলাম সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণকে সমর্থন করে না। প্রতারণা একটি সামাজিক অপরাধ কারণ এর ফলে মানুষ দুঃখ-কষ্ট ভোগ করে। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রতারণা মুনাফিকের কাজ। এর শাস্তি বড় কঠিন।
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতারণা একটি মানবতাবিরোধী অতি গর্হিত কাজ। এটি মিথ্যার শামিল। ইসলাম সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণকে সমর্থন করে না। কুরআন মজিদে ঘোষণা করা হয়েছে। "তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ করো না এবং জেনে-শুনে সত্যকে গোপন করো না" (সূরা আল-বাকারা: ৪২)
পিতামাতার অবাধ্য হওয়া বলতে বোঝায়, তাঁদের শ্রদ্ধা ও সম্মান না করা। পিতামার কথামতো না চলা, তাঁদের নির্দেশ অমান্য করা। আল্লাহর অনুগ্রহের পর সন্তানদের প্রতি পিতামার অনুগ্রহ সবচেয়ে বেশি। সন্তানের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য তাঁরা সবরকম ব্যবস্থা করেন। কাজেই সন্তানের কর্তব্য হলো: পিতামাতার বাধ্য থাকা।
পিতামাতার অবাধ্য হওয়ার অপকারিতা হলো-
১. শিরকের পর সবচেয়ে বড় গুনাহ পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।
২. পিতামাতার অবাধ্য হওয়ার পাপ এত ভয়াবহ যে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা এ পাপ ক্ষমা করেন না। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, 'মহান আল্লাহ তার ইচ্ছা অনুযায়ী সকল পাপই ক্ষমা করে দেন। কিন্তু পিতামাতার অবাধ্যতার পাপ তিনি ক্ষমা করেন না।" (বায়হাকি)
ইভটিজিং শব্দটি ইভ (Eve) ও টিজিং (Teasing)-এর একত্রিতরূপ। বাইবেল অনুসারে প্রথম নারীর নাম ইভ (Eve)। এখানে 'ইড' বলতে নারী সমাজকে বোঝানো হয়েছে। আর 'Tease' অর্থ পরিহাস, জ্বালাতন করা, উত্ত্যক্ত করা, খেপানো। ইভটিজিং (যৌন হয়রানি) বলতে কথা, কাজ, আচরণ ইত্যাদির মাধ্যমে নারীদের উত্ত্যক্ত করাকে বোঝানো হয়েছে।
ইভটিজিং (যৌন হয়রানি) একটি সামাজিক ব্যাধি। নারীদেরকে উত্ত্যক্ত করা, কাউকে মন্দনামে ডাকা বা উপহাস করা গর্হিত কাজ। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করবে না এবং একে অপরকে মন্দনামে ডাকবে না। ইমান গ্রহণের পর মন্দনামে ডাকা বড় ধরনের অপরাধ। যারা তওবা না করে তারাই যালিম।" (সূরা আল-হুজুরাত : ১১)
জোরপূর্বক বা বলপ্রয়োগ করে অন্যের সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়াকে ছিনতাই বলে। ছিনতাই একটি সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড। এতে সমাজের শান্তি বিনষ্ট হয়। মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। নিরাপত্তাহীনতায় থাকে।
ছিনতাই একটি জঘন্য সামাজিক অনাচার। এটি চুরি-ডাকাতি অপেক্ষা মারাত্মক। ছিনতাই সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা 'বিনষ্ট করে। সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে। এর ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। মানুষের মূল্যাবান অর্থসম্পদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। ফলে সমাজে ও রাষ্ট্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।
ছিনতাই-এর প্রতিকারের জন্য সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। মানুষকে ছিনতাই-এর কুফল সম্পর্কে সচেতন করা এবং কুরআন ও হাদিসের আলোকে এর অপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করা প্রয়োজন। অপরাধীদেরকে এরূপ সামাজিক অনাচার থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।
মানবজীবনে আখলাকে হামিদার (উত্তম চরিত্রের) গুরুত্ব অপরিসীম। মানবজীবনের সুখ-শান্তি আখলাকে হামিদা বা প্রশংসনীয় আচরণের ওপর নির্ভরশীল। প্রশংসনীয় আচরণের মাধ্যমেই উত্তম চরিত্র গড়ে ওঠে। আখিরাতের সুখ-দুঃখও আখলাকে হামিদার ওপর নির্ভর করে। যার স্বভাব-চরিত্র যত সুন্দর হবে সে ততই সৎকর্মশীল হবে এবং আল্লাহর কাছে প্রিয় হবে।
পরোপকার মহান আল্লাহর একটি বড় গুণ। পরোপকারের পাঁচটি সুফল নিম্নরূপ-
১. পরোপকারীদেরকে আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন।
২. পরোপকারের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. পরম শত্রুকেও পরোপকারের মাধ্যমে আপন করা যায়। কঠোর হৃদয়বিশিষ্ট লোকের অন্তরকেও জয় করা যায়।
৪. আল্লাহর কোনো সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে তিনি দয়াকারী ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করেন।
৫. দয়া বা পরোপকারের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।
শালীনতা মানুষের একটি মহৎ গুণ। এটির গুরুত্ব অপরিসীম। শালীনতাবোধ মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। শালীনতা আল্লাহর অনুগত বান্দা হতে সাহায্য করে। আচার-ব্যবহারে শালীন ব্যক্তিকে সবাই পছন্দ করে। শালীন পোশাক-পরিচ্ছদ সৌন্দর্যের প্রতীক। শালীন ও ভদ্র আচরণের মাধ্যমে বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা সৃষ্টি হয়। সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে শালীনতার প্রয়োজন সর্বাধিক। শালীনতাপূর্ণ আচার-ব্যবহার সম্প্রীতি ও সৌহার্দের চাবিকাঠি।
ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহানুভূতিশীল হয়ে আদর-যত্ন করার নামই হলো সৃষ্টির সেবা। মহান আল্লাহ এ সুন্দর পৃথিবীতে মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা করে সৃষ্টি করেছেন। আর সৃষ্টিকুলের সবকিছু যেমন- জীবজন্তু, পশুপাশি, কীটপতঙ্গ, পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ইত্যাদি মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এ সকল সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি দেখানো এবং এগুলোর যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য।
পৃথিবী ও এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহর সৃষ্টি। সৃষ্টিজগতের সবকিছু নিয়ে আল্লাহর সৃষ্টি পরিবার। আল্লাহর সৃষ্টি পরিবারে মানুষই সেরা সৃষ্টি। পরিবারে যেমন পরিবার প্রধানের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকে তেমনি সৃষ্টিজগতের প্রতিও মানুষের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। সৃষ্টিকুলের প্রতি এ দায়িত্ব পালন করার নাম সৃষ্টির সেবা।
জীবজন্তুর মতো উদ্ভিদের প্রতিও আমাদের সদয় হতে হবে। আমাদের অকারণে গাছ কাটা উচিত না। গাছের পাতা ছেঁড়া বা চারাগাছ উপড়ে ফেলাও উচিত নয়। গাছপালার যত্ন করা উচিত। কারণ বৃক্ষলতাও মহান আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। পরিবেশ রক্ষায় ও নিজেদের প্রয়োজনে জীবজগৎ ও পরিবেশের প্রতি সদাচরণ করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সমাজের প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ দায়িত্ব তার নিকট পবিত্র আমানত। সামাজিক শান্তি রক্ষার জন্য আমানত রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যিনি আমানত রক্ষা করেন তাকে সবাই বিশ্বাস করে এবং ভালোবাসে। সমাজের সবাই তাকে মর্যাদা দেয়। আমানতের খিয়ানতকারীকে সমাজের কেউ পছন্দ করে না এবং বিশ্বাসও করে না। বরং তাকে সবাই ঘৃণা করে। তাই আমানত রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহান আল্লাহ বলেন- “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার মালিককে যথাযথভাবে ফেরত দাও।" (সূরা আন-নিসা: ৫৮)
মহানবি (স.) ছিলেন ক্ষমার মূর্ত প্রতীক। কারণ একবার এক ইহুদি মহিলা প্রিয়নবি (স.)-কে তার বাড়িতে দাওয়াত দেন এবং বিষ মিশ্রিত ছাগলের গোশত তাঁকে খেতে দেন। রাসুল (স.) উক্ত গোশতের কিছু খেয়েই বিষক্রিয়া অনুভব করেন। পরে ঐ মহিলা গোশতে বিষ, দেওয়ার কথা স্বীকার করে। কিন্তু প্রিয়নবি (স.) তাকে ক্ষমা করে দেন। এমনিভাবে মক্কা বিজয়ের পর. মহানবি (স.) প্রাণের শত্রুদেরকেও ক্ষমা করে দেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তোমরা মুক্ত স্বাধীন।" পৃথিবীর ইতিহাস এরূপ ক্ষমার উদাহরণ আর দ্বিতীয় নেই।
হিংসা বহু কারণে সৃষ্টি হয়। যেমন- শত্রুতা, লোভ, অহংকার, নিজের অসৎ উদ্দেশ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, নেতৃত্বের লোভ ইত্যাদি। এসব কারণে এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ করে থাকে। ইসলাম এ কাজগুলোকে হারাম ঘোষণা করেছে। হিংসার অপকারিতা সীমাহীন। হযরত আদম (আ.)-এর পদমর্যাদা দেখে ইবলিস তার প্রতিহিংসা করে। ফলে সে অভিশপ্ত হয়। আল্লাহ তায়ালার দয়া থেকে বঞ্চিত হয়। তাই হিংসা একটি মারাত্মক ব্যাধি।
ক্রোধ একটি নিন্দনীয় চরিত্র। এটি মানুষের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ ও হিংসাবিদ্বেষ সৃষ্টি করে। আর হিংসা মানুষের সৎকর্মসমূহ শেষ করে দেয়। ক্রোধের সময় মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। সে নিজেকে সংযত রাখতে পারে না। ক্রোধ মানুষের ইমানকে ধ্বংস করে দেয়। এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন, "সিরকা মধুকে যেভাবে বিনাশ করে, ক্রোধও ইমানকে তদ্রুপ নষ্ট করে।" (রায়হাকি) মহানবি (স.) বলেছেন, ক্রোধ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, শয়তান আগুনের তৈরি। আর আগুনকে পানি ঠান্ডা করে। যদি কারও রাগ হয় তবে তার উচিত ওযু করে নেওয়া। (বুখারি ও মুসলিম)
পিতামাতার অবাধ্য হওয়া বলতে বোঝায়, তাঁদের শ্রদ্ধা ও সম্মান না করা। পিতামাতার কথামত না চলা। তাঁদের নির্দেশ অমান্য করা। আল্লাহর অনুগ্রহের পর সন্তানদের প্রতি পিতামাতার অনুগ্রহ সবচেয়ে বেশি। তাঁরা সন্তানের আপনজন। তাঁদের স্নেহ-মমতায় সন্তান লালিত-পালিত হয়। সন্তানের আরাম-আয়েসের জন্য তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য তাঁরা সবরকম ব্যবস্থা করেন। কাজেই সন্তানের কর্তব্য হলো পিতামাতার বাধ্য থাকা।
সমাজের প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ দায়িত্ব তার নিকট পবিত্র আমানত। সামাজিক শান্তি রক্ষার জন্য আমানত রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যিনি আমানত রক্ষা করেন তাকে সবাই বিশ্বাস করে এবং ভালোবাসে। সমাজের সবাই তাকে মর্যাদা দেয়। আমানত রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহান আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার মালিককে যথাযথভাবে ফেরত দাও।" (সূরা আল নিসা: ৫৮) আমানত রক্ষা করা ইমানের অঙ্গ। এ ব্যাপারে মহানবি (স.) বলেন, "যার আমানতদারি নেই তার ইমানও নেই।" (বায়হাকি)
মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। আর সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হলে একে অপরের সহযোগিতা প্রয়োজন। অন্যের প্রয়োজনে বা উপকারে আসার নামই হলো পরোপকার। পরোপকারের আরবি প্রতিশব্দ হলো 'ইহসান'। যার অর্থ অন্যের উপকার করা। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মানুষের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে সেগুলোকে উত্তম বা যথাযথভাবে পালন করার নামই পরোপকার।
শালীনতাবোধ মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দা হতে সাহায্য করে। তাই শালীনতার গুরুত্ব এত বেশি।
রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় হলো- মা-বাবা, ভাইবোন, দাদা, চাচা, ফুফু ইত্যাদি। এদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক যে ছিন্ন করে, সে হলো রক্তের সম্পর্ক ছিন্নকারী।
“ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতারণা অতি গর্হিত কাজ।” কারণ প্রতারণা করা মুনাফিকের কাজ। রাসুল (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (মুসলিম) সত্যিকার ইমানদার লোক কখনো প্রতারণা করেন না। মানুষকে ধোঁকা দেন না এবং ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। মহান আল্লাহ তায়ালা প্রতারণার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন-"তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ করো না এবং জেনে বুঝে সত্যকে গোপন কর না।" তাই প্রতারণার মতো গর্হিত কাজ থেকে সকলের বেঁচে থাকা উচিত।
Related Question
View Allকআচার-আচরণে, কথাবার্তায়, বেশ-ভূষায় ও চালচলনে মার্জিত পন্থা অবলম্বন করাই শালীনতা।
প্রতারণা একটি সামাজিক অপরাধ। কারণ এর ফলে মানুষ দুঃখ কষ্ট ভোগ করে। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রতারণাকারী খাঁটি মুসলমান নয়। প্রতারণা মুনাফিকের কাজ। এর শাস্তি বড় কঠিন। আর এ প্রসঙ্গেই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।
জামিল সাহেবের আচরণে আমরা ক্ষমা গুণের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাই।
মহান আল্লাহর অন্যতম গুণ ক্ষমা। সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য মানুষের এ গুণটি থাকা খুবই প্রয়োজন। ক্ষমার ব্যাপারে মহান রাব্বুল আলামিনের নীতি ও আদর্শ আমাদের অনুসরণ করা আবশ্যক। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, কোনো কাজে বা কথায় তার ভুলত্রুটি হয়ে যেতে পারে। অতএব অন্যের ভুলভ্রান্তি, ত্রুটিবিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে আমাদের দেখা উচিত।
মানুষকে ক্ষমা করলে আল্লাহ খুশি হন এবং যে ক্ষমা করে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
وَإِنْ تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: "আর যদি তুমি তাদের মার্জনা কর, তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা কর এবং ক্ষমা কর তবে জেনে রেখ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" (সূরা তাগাবুন: ১৪)
শিল্পপতি জামিল সাহেবের কর্মচারী জনাব মাযহার আলি পোশাক তৈরিতে কাপড় কম দিয়ে ব্যবসায়ের ক্ষতি করেছেন। মাযহার আলির এরূপ কর্মকাণ্ড প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে।
প্রতারণা একটি সামাজিক অপরাধ। কারণ এর ফলে মানুষ দুঃখকষ্ট ভোগ করে। সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রতারণাকারী খাঁটি মুসলমান নয়। আমাদের নবি (স.) এ প্রসঙ্গে বলেন, "যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার উম্মত নয়।” (মুসলিম)
প্রতারণা মুনাফিকের কাজ। এর শাস্তি বড় কঠিন। সত্যিকার ইমানদার ব্যক্তি কখনই প্রতারণার আশ্রয় নেয় না। মানুষকে ধোঁকা দেয় না। অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।
অন্যের প্রয়োজনে বা উপকারে আসার নামই হলো পরোপকার।
এমন কিছু আচরণ বা কাজ যা মানুষকে হীন, নিচু ও নিন্দনীয় করে তোলে সেগুলোকে আখলাকে যামিমা বা নিন্দনীয় আচরণ বলে। নিন্দনীয় আচরণগুলো হচ্ছে হিংসা, ক্রোধ, লোভ, প্রতারণা, - পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, ইভটিজিং, ছিনতাই প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!