কর্ম' ও 'বাদ' দুটি অর্থবোধক শব্দের সমন্বয়ে কর্মবাদ গঠিত হয়েছে। 'কর্ম' বলতে কায়, বাক্য ও মনে সম্পাদিত কাজ বা ক্রিয়াকে বোঝায়। 'বাদ' বলতে তত্ত্ব বা ধারণার বিশ্বাসকে বোঝায়। সুতরাং, কর্মবাদ বলতে কর্মফলে গভীর বিশ্বাসকে বোঝায়। আরো স্পষ্টভাবে বলা যায়, মানুষ বা যেকোনো প্রাণীই কর্মের অধীন। প্রাণিজগৎ কর্মের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কর্মই প্রাণীকে নানাভাবে বিভাজন করে। জীবের সুখ ও দুঃখের দাতা কেউ নয়। এগুলো কর্মেরই প্রতিক্রিয়া।
কর্মের মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবী সচল। কর্মের মাধ্যমে মানব জন্মের সৃষ্টির চাকা নির্ভর করে। রথ যেমন চলে তেমনি সকল প্রাণী নিজ নিজ কর্মের উপর নির্ভরশীল। মানুষের জীবন কর্ম বিধানের দ্বারা শৃঙ্খলিত হয়ে আসছে। অতীত কর্মের দ্বারা বর্তমানের জীবন নির্ধারিত হয়। আবার বর্তমানের কর্মের দ্বারা ভবিষ্যৎ জীবন নির্ধারিত হবে।
সুতরাং অতি ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর প্রাণী সকলেই কর্মের অধীন, কর্মের মাধ্যমেই প্রাণী জগৎ চলছে।
কুশল শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো- নিপুণ, শুভ, পুণ্যধর্ম, সৎ ধার্মিক, দোষশূণ্য প্রশংসনীয় গুণসম্পন্ন, কল্যাণ, মঙ্গল ইত্যাদি। লোভ, দ্বেষ এবং মোহহীন চেতনা দ্বারা সম্পাদিত কর্মকে কুশলকর্ম বলে। এ ধরণের কাজে কোনো রকম পাপের স্পর্শ থাকে না। দান, শীল, ভাবনা সেবা, পুণ্যদান, ধর্ম শ্রবণ ইত্যাদি কুশলকর্ম সম্পাদনে কুশল চিত্তের দরকার। বৌদ্ধধর্মে কুশলকর্মের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুশলকর্মের ফল কুশল হয়।
অকুশল শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো- পাপ, দোষ, ত্রুটি, অপুণ্য, অসৎকার্য, অশুভ, অমঙ্গল কর্ম, অহিতকর, অন্যায়, অনুপযুক্ত, নিকৃষ্ট ইত্যাদি। অকুশল কর্মের মধ্যে লোভ, দ্বেষ এবং মোহ বিরাজমান রয়েছে। অকুশলজনিত কাজের ফল সব সময় অকুশল হয়। অকুশল কর্মের ফলে সমাজের কাছে অপমানিত, অসম্মানিত এমনকি মান-সম্মানের হানি হয়। অকুশল কর্মের ফল সবাইকে ভোগ করতে হয়। মৌদগল্যায়ন ছিলেন অর্হৎ। তিনি পূর্বজন্মে তাঁর পরম মমতাময়ী মাতাকে কষ্ট দিয়েছিলেন। সেই কষ্টের ফল হিসেবে তাঁকে অর্হৎ হয়েও ভোগ করতে হয়েছিল। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, অকুশল কর্মের ফল জন্ম-জন্মান্তর ভোগ করতে হয়।
কর্মের দ্বার বা বিধানকে বিশেষ চারভাগে ভাগ করা হয়েছে।
সেগুলো হলো-
১. অকুশল বা দুঃখদায়ী পাপকর্ম
২. কুশল বা সুখদায়ী পুণ্যকর্ম
৩. কুশলকুশল ফলদায়ী পাপ-পুণ্যকর্ম
৪. সব রকম কর্মক্ষয়দ্বার কর্ম যার দ্বারা মুক্তিলাভ সম্ভব।
বৌদ্ধধর্মে শুভ-অশুভ, কুশল-অকুশল ইচ্ছা বা প্রবৃত্তিকে কর্ম বলে অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ যা চিন্তা করা যায়, বাক্যে উচ্চারণ করা যায় এবং দেহের দ্বারা সম্পাদন করা যায় তাই কর্ম।
বুদ্ধ চেতনাকে কর্ম বলেছেন। কারণ কর্মের উৎপত্তিস্থল হচ্ছে মন বা চিত্ত। চেতনা মনের সহজাত প্রবৃত্তি বিশেষ। চিত্ত থেকে উৎপন্ন উপলব্ধিই চেতনা। কায়-কর্ম ও বাক্য-কর্ম সমস্তই মন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
কর্মফল সম্বন্ধে বৌদ্ধধর্মের মত হলো, নিজ নিজ কর্মের ফল সবাইকে ভোগ করতে হবে। প্রত্যেক কর্মের ফল আছে। কর্মফল মানুষের কর্মকে অনুসরণ করে। কর্ম যদি ভালো বা মন্দ হয় তবে ফলও ভালো বা মন্দ হবে।
যে কর্ম পুনর্জন্ম ঘটায়, জীবিতকালে যে কর্ম স্কন্ধ ও কর্মজরূপ উৎপাদক এবং কুশল-অকুশল চেতনামূলক তাই জনক কর্ম। জনক কর্ম অতীত কর্মেরই ফল।
'উপস্তম্ভক কর্ম জনক কর্মকে ফল প্রদানে সাহায্য করে। জনক কর্মের প্রভাবে জন্ম হয় আর বেঁচে থাকা, হয় উপস্তম্ভক কর্মের প্রভাবে।
কর্ম' বলতে কায়, বাক্য ও মনে সম্পাদিত কাজ বা ক্রিয়াকে বোঝায়। 'বাদ' বলতে তত্ত্ব বা ধারণার বিশ্বাসকে বোঝায়। সুতরাং কর্মবাদ বলতে কর্মফলে গভীর বিশ্বাসকে বোঝানো হয়।
'কর্ম' বলতে কায়, বাক্য ও মনে সম্পাদিত কাজ বা ক্রিয়াকে বোঝায়। 'বাদ' বলতে তত্ত্ব বা ধারণার বিশ্বাসকে বোঝায়। সুতরাং কর্মবাদ বলতে কর্মফলে গভীর বিশ্বাসকে বোঝানো হয়।
আয়ু-বর্ণে, ভোগ-ঐশ্বর্যে এবং জ্ঞান-গরিমায় মানুষের মধ্যে পার্থক্যের অন্যতম কারণ হলো, কর্ম। জীব মাত্রই নিজ নিজ কর্মের অধীন। কর্মই প্রাণিগণকে হীন-উত্তম বা উঁচু-নিচু বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে।
বীজের ন্যায় কর্মের নানাতু হেতু সকল মানুষ সমান হয় না। কারণ প্রাণী মাত্রই কর্মের অধীন। এ রকম ভিন্নতার অন্যতম কারণ হলো কর্ম। কর্মই প্রাণীকে নানাভাবে বিভাজন করে
সুত্তনিপাত গ্রন্থে পৃথিবীর সচলতা এবং মানব জন্মের সৃষ্টির সম্পর্কে বুদ্ধ বলেছেন, 'কর্মের মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবী সচল। কর্মের মাধ্যমে মানব জন্মের সৃষ্টি। চাকার উপর নির্ভর করে রথ যেমন চলে তেমনি সকল প্রাণী নিজ নিজ কর্মের উপর নির্ভরশীল।'
মানুষের জীবন কর্মবিধানের দ্বারা শৃঙ্খলিত হয়। কারণ মানুষের অতীত কর্মের দ্বারা বর্তমান জীবন নির্ধারিত হয়েছে। আবার বর্তমান কর্মের দ্বারা ভবিষ্যৎ জীবন নির্ধারিত হচ্ছে। অর্থাৎ অতীতের উপর যেমন বর্তমান জীবন নির্ভর করে, আবার বর্তমানের উপর ভবিষ্যৎ জীবন নির্ভর করে।
যেমন কর্ম, তেমন ফল'- উক্তিটি আমাদের যে শিক্ষা দেয় তা হলো, প্রত্যেক মানুষকে তার নিজ নিজ কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হয়। যে যেমন কর্ম করবে সে তেমন কর্মফল ভোগ করবে। কর্ম যদি ভালো-মন্দ হয় তবে 'ফলও ভালো-মন্দ হবে।
মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ধর্মপদ গ্রন্থে বলা হয়েছে, মানুষ নিজেই নিজের ত্রাণকর্তা বা প্রভু, অন্যকোনো ত্রাণকর্তা বা প্রভু নেই। নিজেকে সুসংযত করতে পারলেই যে কোনো দুর্লভ বিষয় লাভ সম্ভব।
আত্মনির্ভরশীল না হলে কারো পক্ষে কোনোপ্রকার কাজে সফলতা লাভ করা সম্ভব না। তাই আত্মপ্রতিষ্ঠাই হলো সর্ববিধ মহৎ কাজের ভিত্তিস্বরূপ।
বীজ এবং ফল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এটি হলো- কর্ম ও কর্মফলের উদাহরণ। কর্ম ও কর্মফল পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। ফল পূর্ব থেকে কর্মের মধ্যে অঙ্কুররূপে বিদ্যমান থাকে।
ধর্মপদ গ্রন্থে পাপকারীদের পরিণতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, পাপকারীরা ইহলোক-পরলোক উভয়লোকে অনুশোচনা করে। সে নিজের পাপকর্ম ও তার ফল দেখে গভীরভাবে অনুশোচনা করতে থাকে।
মানুষ যখন লোভ-দ্বেষ-মোহে আকৃষ্ট হয়, তখন তার মধ্যে নানারকম কামনা-বাসনা উৎপন্ন হয়। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক ও মনকে সংযত করার মাধ্যমে এগুলোকে দমন করা সম্ভব।
লোভ, দ্বেষ এবং মোহহীন চেতনা দ্বারা সম্পাদিত কর্মকে কুশল কর্ম বলা হয়। এ ধরনের কাজে কোনোরকম পাপের স্পর্শ থাকে না। দান, শীল ভাবনা, সেবা, পুণ্যদান, ধর্ম শ্রবণ ইত্যাদি কুশলকর্ম।
বৌদ্ধধর্মে কুশলকর্মের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুশলকর্ম সম্পাদন করতে হলে কুশল চিত্তের দরকার। কুশল চিত্ত দ্বারা ভালো কাজ করলে ভালো ফল লাভ করা সম্ভব।
বোধিসত্ত্ব দুর্ভাগ্যবশত সারাদিনের পরিশ্রম এবং সারারাত অনাহারে উপোসথ পালন করায় পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কুশল চিন্তা-চেতনায় মগ্ন ছিলেন। সেই কুশল কর্ম ও চেতনার প্রভাবে মৃত্যুর পর রাজপুত্র হয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
অকুশলজনিত কর্মের ফল সবসময় অকুশল হয়। অকুশল কর্মের ফলে সমাজে মানুষ অপমানিত হয়। মান-সম্মানের হানি হয়। সর্বোপরি সর্বত্র তার নিন্দা প্রচারিত হয়।
মৌদগল্যায়ন ছিলেন অর্হৎ। তিনি পূর্বজন্মে পরম মমতাময়ী মাকে কষ্ট দিয়েছিলেন। সেই কষ্টের ফল হিসেবে তাঁকে অর্হৎ হওয়া সত্ত্বেও শেষ বয়সে শারীরিক লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছিল।
দেবদত্ত একবার পাহাড় থেকে পাথর ছুঁড়ে দিয়ে বুদ্ধকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। এ সময় বুদ্ধের মতো মহাজ্ঞানীর শরীর থেকে রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। এই অকুশল কর্মের ফলে দেবদত্তকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে।
মৃত্যুকালে সম্পাদিত কর্ম কুশল হোক আর অকুশল হোক তা বিশেষ ফলদায়ী। মৃত্যুক্ষণে কুশল উৎপন্ন হলেই তার গতি সৎ ও সুখের হয়।
প্রাণী হত্যাকারী ও লোভী নারী-পুরুষ তাদের কর্ম ফলে মৃত্যুর পর অপায়, দুর্গতি, অসুরলোক বা নরকে যায়। যদি মানবকুলে জন্ম নেয় তবে তারা কম আয়ু পায়।
প্রাণীদের অত্যাচার বা কষ্ট দেওয়ার জন্য অত্যাচারীকে অপায়, দুর্গতি, অসুরলোক অথবা নরকে জন্ম নিতে হয়। আর যদি মানবকুলে জন্মগ্রহণ করে তবে তারা সবসময় কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়।
যারা অন্যের যশ-গৌরব, সম্মান, শ্রদ্ধা দেখে ঈর্ষা করে, তারা অপায়, দুর্গতি, অসুরলোকে অথবা নরকে জন্মগ্রহণ করে। তারা মানবকুলে জন্ম নিলেও গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করে।
কোনো কর্ম একবার সম্পাদন করলে অনন্তকাল পর্যন্ত তা ফল প্রদান করতে থাকে। এভাবে কর্মের ফল অখণ্ডনীয়। সবাইকে তা ভোগ করতে হবে। তাই কুশল কাজের জন্য মন সংযত করা দরকার।
কর্ম ফলের ভিত্তিতে কর্মের শ্রেণিকরণ হলো, যে কর্মের ফল কর্তার নিজের ও নিজের পারিপার্শ্বিক জীবজগতের পক্ষে কল্যাণময় ও - সুখপ্রদায়ী তাকে বলা হয় সৎ কর্ম। যে কর্ম কর্তার নিজের এবং পারিপার্শ্বিক জীবজগতের জন্য অকল্যাণকর বা দুঃখ আনয়ন করে তাই - অসৎ কর্ম। যে কর্ম সম্পাদন হলেও ফলপ্রসূ হয় না তা নিরপেক্ষ কর্ম।
সুন্দরভাবে প্রতিদিন কর্ম সম্পাদন করলে জীবন সুখময় হয়। তবে সম্পাদিত কর্মের মধ্যে কুশল চেতনা থাকা দরকার। এভাবে কাজ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় এবং কর্ম দ্বারা সমাজে মানুষের অবস্থান সুদৃঢ় হয় কিংবা প্রতিষ্ঠা লাভ সম্ভব।
কর্মের মাধ্যমেই একজন মানুষ তার নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গঠন করতে পারে। কর্মই মানুষকে উচ্চ আসনে আসীন করে। কর্মের সুফল সবদিকেই প্রবাহিত হয়। কর্মই মানুষের চালিকাশক্তি। তাই বৌদ্ধ, ধর্মে কর্মবাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিন্দনীয় বা খারাপ কাজ করার জন্য রাজেশ বড়ুয়াকে সমাজে, সবাই অবজ্ঞা করে। তাকে সবাই ঘৃণার চোখে দেখে।
বুদ্ধের কর্মবাদ মনে রেখে কল্যাণময় কর্ম করা উচিত। কারণ শুভবা কুশলকর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে যে ফল অর্জিত হয় তা কখনো পুণ্যের পথ ধ্বংস করতে পারে না।
বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি হলো কর্মবাদ।
কর্ম বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে।
কায়, বাক্য ও মনে সম্পাদিত কাজ বা ক্রিয়াই কর্ম।
মন বা চিত্তে।
চিত্ত থেকে উৎপন্ন উপলব্ধিই চেতনা।
মনের চেতনাহীন ক্রিয়াকে কর্ম বলা হয় না।
করণীয় অনুসারে কর্ম চার প্রকার।
জনক কর্ম অতীত কর্মের ফল।
জনক কর্ম অতীত কর্মের ফল।
যে কর্ম জনক কর্মকে সাহায্য করে তাই উপস্তম্ভক কর্ম।
যে কর্মের কাজ হলো বাঁধা দেওয়া তাকে উপঘাতক কর্ম বলে।
তত্ত্ব বা ধারণার বিশ্বাসই বাদ।
কর্মফলে গভীরভাবে বিশ্বাস করাই হচ্ছে কর্মবাদ।
কর্মফলে গভীরভাবে বিশ্বাস করাকে কর্মবাদ বলা হয়।
গ্রিক রাজা মিলিন্দের।
বর্তমান জীবন অতীত কর্মের দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে।
দীর্ঘায়ু কুমারের।
কর্মবাদ অনুসারে।
সঙ্গীতি সূত্রে কর্মের ফল বিবেচনায় কর্মের বিধানকে বিশেষ চারভাগে ভাগ করা হয়েছে।
আত্মপ্রতিষ্ঠা।
পাপকারী
কুশলাকুশল বিমিশ্রিত চিত্রে সম্পাদিত কর্ম।
কুশলাকুশল বিমিশ্রিত চিত্রে সম্পাদিত কর্ম।
নরঘাতক দস্যু ছিলেন।
৯৯৯ জনকে হত্যা করেছিলেন।
রাজা অজাতশত্রু।
অকুশল শব্দের অর্থ হলো পাপ, দোষ, ত্রুটি, অপরাধ, অশুভ ইত্যাদি।
যে কোনো ভালো কাজই কুশল কর্ম।
অন্যায় কাজকে অকুশল কর্ম বলা হয়।
রাগ করলে মানুষের চেহারা বিশ্রী হয়।
সামর্থ্য থাকার পরেও দান না করলে মানুষ গরিব হয়।
কর্মের প্রভাবে মানুষ হীনকুলে জন্ম নেয়।
মন সংযত করা দরকার।
কর্ম ফলের দ্বারা।
যে কর্ম সম্পাদন হলেও ফলপ্রসূ হয় না তাই নিরপেক্ষ কর্ম।
কর্মের দ্বারা সমাজে মানুষের অবস্থান সুদৃঢ় হয়
কর্ম' বলতে কোনো অনুষ্ঠান করা, নির্মাণ করা বা সম্পাদন করা ইত্যাদি বোঝায়।
বৌদ্ধধর্মে শুভ-অশুভ, কুশল-অকুশল, ইচ্ছা বা প্রবৃত্তিকে কর্ম বলে অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ যা চিন্তা করা যায়, বাক্যে উচ্চারণ করা যায় এবং দেহের দ্বারা সম্পাদন করা যায় তাই কর্ম। কায়-বাক্য ও মন এই ত্রিদ্বারে কর্ম সংঘটিত হয়। চিন্তন, কথন এবং করণ সমস্তই কর্মের অধীন।
বুদ্ধ চেতনাকেই কর্ম বলেছেন।'অঙ্গুত্তর নিকায়' নামক গ্রন্থে বুদ্ধ বলেছেন- "চেতনাহং ভিবে কম্মং বদামি। চেতযিতা কম্মং করোতি কাযেন, বাচায মনসা'পি"। অর্থাৎ: হে ভিক্ষুগণ! চেতনাকেই (ইচ্ছাকে) আমি কর্ম বলি। কারণ চেতনার দ্বারা ব্যক্তি কায়-বাক্য ও মনের দ্বারা কর্ম সম্পাদন করে। কর্মের উৎপত্তিস্থল হচ্ছে মন বা চিত্ত। চেতনা মনের সহজাত প্রবৃত্তি বিশেষ। চিত্ত থেকে উৎপন্ন উপলব্ধিই চেতনা। একটি ক্ষণের একটি চেতনা সুখ-দুঃখ প্রদান করতে সক্ষম। কায় কর্ম ও বাক্য কর্ম সমস্তই মন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
কর্মের উৎপত্তিস্থল মন বা চিত্ত। চেতনা মনের সহজাত প্রবৃত্তি বিশেষ। চিত্ত থেকে উৎপন্ন উপলব্ধিই চেতনা বা কর্ম। কায়, কর্ম ও বাক্য কর্ম সমস্তই মনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বৌদ্ধধর্ম মতে, নিজ নিজ কর্মের ফল সবাইকে ভোগ করতে হবে। প্রত্যেক কর্মের ফল আছে। গাছের ফলের মতো কর্মফল মানুষের কর্মকে অনুসরণ করে। কর্ম যদি ভালো-মন্দ হয়, তবে ফলও ভালো-মন্দ হয়। তাই বলা হয়, মন বা চিত্ত থেকেই সকল, কর্মের উৎপত্তি হয়।
যে কর্ম পুনর্জন্ম ঘটায়, জীবিতকালে যে কর্ম স্কন্ধ ও কর্মজরূপ উৎপাদক এবং কুশল অকুশল চেতনামূলক তাই জনক কর্ম। জনক কর্ম অতীত কর্মেরই ফল
উৎপীড়ক কর্ম হলো করণীয় অনুসারে কর্মের অন্যতম এক কর্ম। এই জাতীয় কর্ম জনক কর্ম বা উপস্তম্ভক কর্মের বিপাককে দুর্বল করে কিংবা বাধা দেয়। কুশল উৎপীড়ক কর্ম অকুশল উপস্ত্যক কর্মকে, অকুশল উৎপীড়ক কর্ম কুশল উপস্তম্ভক কর্মকে বাধা দেয় এবং দুর্বল করে।
কর্মবাদ বলতে কর্মফলে গভীর বিশ্বাসকে বোঝানো হয়।
বৌদ্ধধর্মের মূলভিত্তিই হলো কর্মবাদ। বৌদ্ধ কর্মবাদ অনুসারে জীবমাত্রেই কর্মের অধীন এবং প্রত্যেক জীবকে তার নিজ নিজ কর্মফল ভোগ করতে হয়।
'কর্ম' ও 'বাদ' দুটি অর্থবোধক শব্দের সমন্বয়ে কর্মবাদ' গঠিত হয়েছে। 'কর্ম' বলতে কায়, বাক্য ও মনে সম্পাদিত কাজ বা ক্রিয়াকে বোঝায়। 'বাদ' বলতে তত্ত্ব বা ধারণার বিশ্বাসকে বোঝায়। সুতরাং কর্মবাদ হলো কর্মফলে গভীর বিশ্বাস।
নাগসেন গ্রিকরাজ মিলিন্দকে কর্ম সম্পর্কে বলেছিলেন, 'সকল মানুষ এক রকম না হওয়ার কারণ হলো তাদের কৃতকর্ম। বিভিন্ন মানুষের কর্মের পার্থক্য আছে বলেই মানুষের মধ্যে কেউ সুন্দর, কেউ বিশ্রী, কেউ অল্পায়ু, কেউ দীর্ঘায়ু, কেউ ধনী, কেউ গরিব ইত্যাদি পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তিনি আরো বলেন: 'সকল বৃক্ষের ফল সমান হয় না'। কিছু টক, কিছু লবণাক্ত, কিছু মধুর রসযুক্ত। এগুলো বীজের নানাত্ব কারণেই হয়'। এভাবে কর্মের নানাত্ব হেতু সকল মানুষ সমান হয় না। কারণ প্রাণীমাত্রই কর্মের অধীন। এ রকম ভিন্নতার অন্যতম কারণ হলো কর্ম।
কর্মবাদ অনুসারে প্রত্যেক মানুষকে তার নিজ কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হয়। সুতরাং যে যেমন কর্ম করবে সে তেমন কর্মফল ভোগ করবে। কর্ম যদি ভালো বা মন্দ হয় তবে ফলও ভোগ করতে হয়। আপনি যেমন বীজ রোপণ করবেন, তেমন ফসল পাবেন। যদি ভালো বীজ রোপণ করেন তবে ভালো ফসল পাবেন আর যদি খারাপ বীজ রোপণ করেন তবে খারাপ ফসল পাবেন। এভাবেই মানুষ ভালো-মন্দ কাজের ফল ভোগ করবে।
বৌদ্ধ কর্মবাদ জন্ম-জন্মান্তরে কুশল কর্ম সম্পাদন সুখী হওয়ার। অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। কর্মই মানুষের একমাত্র সঙ্গী। কর্মের মাধ্যমেই মানব জীবনের গতি প্রকৃতি নির্ধারিত হয়। যারা কায়, মন ও বাক্যে কুশল কর্ম সম্পাদন করেন তারা ইহকাল ও পরকালে সুখী জীবন লাভ করেন।
বৌদ্ধ কর্মবাদ জন্ম-জন্মান্তরে কুশল কর্ম সম্পাদন সুখী হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। কর্মই মানুষের একমাত্র সঙ্গী। কর্মের মাধ্যমেই মানব জীবনের গতি প্রকৃতি নির্ধারিত হয়। যারা কায়, মন ও বাক্যে কুশল কর্ম সম্পাদন করেন তারা ইহকাল ও পরকালে সুখী জীবন লাভ করেন।
পূর্ব জন্মের অকুশল কর্মের ফলে বুদ্ধ ও মৌদগল্যায়নকে যন্ত্রণা ও লাঞ্ছনা সইতে হয়েছে।
কর্মের ফল সবাইকে ভোগ করতে হয়। পূর্ব জন্মের কর্মপ্রভাবের থেকে গৌতম বুদ্ধ বা তাঁর শিষ্যগণও মুক্ত হতে পারেননি। একবার দেবদত বুদ্ধের প্রাণনাশের জন্য পাহাড় থেকে বিশাল পাথর ছুড়ে মারে। পূর্বজন্মের কুশল কর্মের প্রভাবে বুদ্ধ রক্ষা পান। কিন্তু কোনো এক জন্মের অকুশল কর্মের ফলে এ সময় তাঁর শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হয়। একই ভাবে জন্মজন্মান্তরে পারমী পুরণ করে অর্হৎ হওয়া সত্ত্বেও পূর্বজন্মে মাকে কষ্ট দেওয়ার ফলে মৌদগল্যায়নকে শারীরিক লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছিল।
দেবদত্ত একবার বুদ্ধের প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে পাহাড় থেকে পাথর ছুড়ে মারে। এতে মহাজ্ঞানী বুদ্ধের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এই অকুশল কর্মের ফলে দেবদত্তকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে
কম আয়ু পাওয়ার কারণ হলো পূর্বজন্মে প্রাণী হত্যা করা এবং লোভী হওয়া।.
বুদ্ধ বলেছেন, এ পৃথিবীতে কোনো কোনো নারী বা পুরুষ প্রাণী হত্যাকারী এবং লোভী হয়। তারা সব সময় প্রাণীর রক্তে হাত রঞ্জিত করে। জীবের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে। এর ফলে তারা মৃত্যুর পরে অপায়, দুর্গতি অসুরলোক বা নরকে যায়। আর যদি মানবকুলে জন্ম নেয় তবে তারা কম আয়ু পায়।
চূল্লকর্ম বিভা সূত্রে বুদ্ধ বলেছেন, পূর্বজন্মে কৃত প্রাণী হত্যা করার কারণে প্রাণীর অল্লায় ও দীর্ঘায় হয়। পূর্বজন্মের নিষ্ঠুরতার কারণেও এ জন্মে রোগাক্রান্ত অল্পায়ু হয়। যারা প্রাণীহত্যা বা নিষ্ঠুর আচরণ করে না তারা দীর্ঘায়ু ও নিরোগী'। কুশলকর্মের কারণে তারা স্বর্গে গমন করে। যারা জন্মান্তরে রাগী হয় তারা বর্তমান জন্মে বিশ্রী চেহারার অধিকারী হয় এবং মৃত্যুর পরে নরকে যায়। যারা রাগহীন তাদের সুগতি হয়। তেমনি ঈর্ষাহীন, দাতা, নিরহংকারী ব্যক্তির সুগতি হয়- আর বিপরীত চিত্তের অধিকারীকে দুঃখ ভোগ করতে হয়। যারা কুশল-অকুশল জানার চেষ্টা করে তারা জ্ঞানী-হয়ে জন্মগ্রহণ করে। 1
বুদ্ধের কর্মবাদ ব্যাখ্যায় মুগ্ধ হয়ে শুভ মানবক ত্রিশরণ গ্রহণ করেন। বুদ্ধের কর্মবাদ ব্যাখ্যা শুনে তোদেয়া ব্রাহ্মণ পুত্র শুভ মানবক বুদ্ধকে বলেন, অতি উত্তম, অতি সুন্দর, অতি মনোরম। আপনি আচ্ছাদিত বস্তুর স্বরূপ উদ্ঘাটিত করলেন। পথ হারা মানুষকে পথ প্রদর্শন করলেন। হে বুদ্ধ! এখন আমি আপনার প্রবর্তিত ধর্ম এবং প্রতিষ্ঠিত সঙ্ঘের শরণ গ্রহণ করলাম। আজ থেকে আপনি আমাকে আপনার শরণাগত উপাসক মনে করুন।
বৌদ্ধধর্মে কর্মবাদ বলতে কর্মফলে গভীর বিশ্বাসকে বোঝায়।
কর্মবাদ বৌদ্ধধর্মে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বুদ্ধের কর্মবাদ অনুসারে মানুষ বা যেকোনো প্রাণীই কর্মের অধীন। কর্মের দ্বারা সমাজে মানুষের অবস্থান সুদৃঢ় হয় কিংবা প্রতিষ্ঠা লাভ সম্ভব, জন্ম নিয়ে নয়। সুন্দরভাবে প্রতিদিন কর্ম সম্পাদন করলে জীবন সুখময় হয়। তবে সম্পাদিত কর্মের মধ্যে কুশল চেতনা থাকা দরকার। এভাবে কাজ করলে ভালো ফলাফল অবশ্যম্ভাবী। সেজন্য বৌদ্ধধর্মে কর্মবাদের উপর গুরত্ব দেওয়া হয়েছে।
Related Question
View Allসঙ্গীতি সূত্রে কর্মের ফল বিবেচনায় কর্মের বিধানকে বিশেষ চারভাগে ভাগ করা হয়েছে।
দেবদত্ত একবার বুদ্ধের প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে পাহাড় থেকে পাথর ছুড়ে মারে। এতে মহাজ্ঞানী বুদ্ধের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এই অকুশল কর্মের ফলে দেবদত্তকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে।
দীপান্বিতা চাকমার পরিবারের কর্মকাণ্ডগুলো চূল্পকর্ম বিভঙ্গ সূত্র বা ক্ষুদ্রকর্ম বিভঙ্গ সূত্রের সাথে মিল পাওয়া যায়, যা মধ্যম নিকায়ের (তৃতীয় খণ্ড) ১৩৫ নং সূত্র।
এসূত্রে কর্ম ও কর্মফল সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। একসময় ভগবান বুদ্ধ জেতবনে অনাথপিণ্ডিকের আরামে বসবাসের সময় তোদেয়্য ব্রাহ্মণের পুত্র শুভ মাণবক বুদ্ধকে কর্মানুসারে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে বুদ্ধ তাকে যে উত্তর প্রদান করেছিলেন তা মূলত চূল্পকর্ম বিভঙ্গের মূল বিষয়। এ সূত্রে মানুষের মধ্যে হীন এবং শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।
দীপান্বিতা চাকমার পরিবারের সদস্যরা শান্ত ও ভদ্র। যশ-গৌরব, সম্মান, শ্রদ্ধা ও পূজা পাওয়া লোকদের তাঁরা বিহারে ও বাড়িতে ভিক্ষুদের আমন্ত্রণ করে খাদ্য, পানীয় ও নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র সামর্থ্য অনুযায়ী দান করেন। এজন্য তারা স্বর্গে যায়। মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করলে মহাপরিবারে জন্ম নেয়। আর এটাই মহাপরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণ।
উদ্দীপকে দুই পরিবার অর্থাৎ দীপান্বিতা চাকমার পরিবার এবং তাদের প্রতিবেশী পরিবারের আচরণ পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
কর্ম দ্বারা সমাজে মানুষের অবস্থান সুদৃঢ় হয় কিংবা প্রতিষ্ঠা লাভ সম্ভব, জন্ম দিয়ে নয়। সুন্দরভাবে প্রতিদিনের কর্ম সম্পাদন করলে জীবন সুখময় হয়। তবে সম্পাদিত কর্মের মধ্যে কুশল চেতনা থাকা দরকার। এভাবে কাজ করলে ভালো ফলাফল অবশ্যম্ভাবী। সেজন্য বৌদ্ধধর্মে কর্মবাদের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কর্মের মাধ্যমেই একজন মানুষ তার নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গঠন করতে পারে। কর্মই মানুষকে উচ্চ আসনে আসীন করে এবং কর্মের সুফল সবদিকেই প্রবাহিত হয়। কর্মই মানুষের চালিকাশক্তি। মানুষ নিজেই নিজের কর্মফল বহন করে। পশ্চাতে ফেলে আসে না। বৌদ্ধ কর্মবাদ অনুসারে, প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচারে লিপ্ত না হওয়া, মিথ্যা কথা না বলা, মাদক জাতীয় দ্রব্য সেবন না করাসহ বৃথা বাক্য না বলা, কর্কশ বাক্য না বলা- এর বিধান রয়েছে। সুন্দরভাবে জীবিকা অবলম্বনের জন্য অন্যায় ও অসামাজিক সকল প্রকার কাজ করা উচিত নয়। কেননা, নিন্দিত বা খারাপ কাজ যারা করে তাদেরকে সমাজে সবাই অবজ্ঞা করে। সুতরাং বুদ্ধের কর্মবাদ মনে রেখে কল্যাণময় কর্ম করা উচিত। শুভ বা কুশলকর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে যে ফল অর্জিত হয় তা কখনো পুণ্যের পথ ধ্বংস করতে পারে না। এমন কর্মসম্পাদন করতে হবে যার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ সর্বোপরি রাষ্ট্রের সুনাম বৃদ্ধি পায়।
অকুশল শব্দের অর্থ হলো পাপ, দোষ, ত্রুটি, অপরাধ, অশুভ ইত্যাদি।
উৎপীড়ক কর্ম হলো করণীয় অনুসারে কর্মের অন্যতম এক কর্ম। এই জাতীয় কর্ম জনক কর্ম বা উপস্তম্ভক কর্মের বিপাককে দুর্বল করে কিংবা বাধা দেয়। কুশল উৎপীড়ক কর্ম অকুশল উপস্তম্ভক কর্মকে, অকুশল উৎপীড়ক কর্ম কুশল উপস্তম্ভক কর্মকে বাধা দেয় এবং দুর্বল করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!