প্রাচীনকালে ভারতে ছয় প্রকার দার্শনিক মতবাদ প্রচলিত ছিল। তন্মধ্যে সঞ্জয় বেলঠীপুত্রের মতবাদ অন্যত্তম। তিনি ছিলেন মূলত 'বিক্ষেপবাদী বা সংশয়বাদী'। সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন জগতের অসারতা উপলব্ধি করে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অচিরেই তাঁরা সঞ্জয়ের সকল বিষয় অবগত হলেন, কিন্তু কোনো মুক্তির পথ পেলেন না। তাই পরবর্তীতে বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
বুদ্ধের সময় ভদ্দিয় নগরে মেণ্ডক শ্রেষ্ঠী নামক এক ধনশালী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর এক পুত্রের নাম ছিল ধনঞ্জয় শ্রেষ্ঠী। সুমনাদেবী তাঁর স্ত্রী। তাঁদের কন্যা বিশাখা। বাল্যকাল হতে বুদ্ধের সেবক ছিলেন। তিনি বুদ্ধের উপদেশে স্রোতাপন্ন হয়েছিলেন। কিন্তু বিশাখার শ্বশুর মিগার শ্রেষ্ঠী ছিলেন উলঙ্গ সন্ন্যাসীদের ভক্ত। বিশাখার চেষ্টায় শ্বশুরের মন পরিবর্তন হয়েছিল বলে সকলে বুদ্ধের একান্ত উপাসক উপাসিকা হলেন। বিশাখা দৈনিক ৩ বার বিহারে গিয়ে বুদ্ধের ও শিষ্যবৃন্দের সেবা করতেন। তিনি ১৮ কোটি স্বর্ণমুদ্রা ব্যযে শ্রাবস্তীতে পূর্বারাম বিহার করেছিলেন তারপর বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের পর বুদ্ধের কাছে আটটি বর প্রার্থনা করেছিলেন। বুদ্ধ বিশাখার ৮টি বর অনুমোদন করে বিশাখার পুণ্যক্রিয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
জন্মান্তরের কর্মফলে পূর্ণিকা গৌতম বুদ্ধের সময় অনাথপিণ্ডিকের গৃহের কৃতদাসের কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন। বুদ্ধের উপদেশ বাণী শ্রবণে তিনি স্রোতাপত্তি ফল লাভ করেছিলেন। তিনি উদকশুদ্ধি নামক এক ব্রাহ্মণকে যুক্তি দ্বারা সংযত করেন এবং 'নিজের মতাদর্শে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন এতে তাঁর প্রভু খুশি হয়ে তাঁকে দাসত্ব কর্ম থেকে মুক্তি প্রদান করেন। পূর্ণিকা দাসত্ব থেকে মুক্তিলাভ করে ভিক্ষুণী সঙ্ঘে প্রবেশ করেন। ভিক্ষুণী হয়ে তিনি অচিরে অর্হত্ব ফল লাভ করেছিলেন।
শীলভদ্র ছিলেন বঙ্গের আদি গৌরব। তিনি ৫২৯ খ্রিষ্টাব্দে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর গৃহীনাম ছিল দত্তদ্র। ভিক্ষু হয়ে তাঁর নাম হয়েছিল ভিক্ষু শীলভদ্র। তিনি বিখ্যাত পণ্ডিত ছিলেন। তিনি বেদ, হেতুবিদ্যা, শব্দবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, সাংখ দর্শন ও অন্যান্য দর্শনে প্রচুর ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। তিনি নালন্দায় অধ্যক্ষ আচার্য ধর্ম পালের শিষ্য ছিলেন। এখানে বহু বিষয়ে জ্ঞানলাভ করেন। কথিত আছে যে, এক তর্ক যুদ্ধে তিনি খ্যাতনামা এক ব্রাহ্মণকে পরাজিত করেন। এতে তিনি সম্পর্ম ভাণ্ডার উপাধিতে ভূষিত হন। পরবর্তীতে শীলভদ্র সংঘরাম নামে একটি মহা বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। মহাস্থবির শীলভদ্র ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ আচার্য। সর্ববিদ্যায় পারদর্শী ও পণ্ডিত ছিলেন বলে আমরা তাঁকে নিয়ে গর্ব করি। তিনি পরবর্তীতে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে অধিষ্ঠিত হন। এ মহামনীষী ১২৫ বছর বয়সে মহাপ্রয়াণ লাভ করেন।
সারিপুত্র জ্ঞানে এবং মৌদগল্যায়ন ঋদ্ধিশক্তিতে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। অগ্রশ্রাবক সারিপুত্র ধর্মসেনাপতি নামেও পরিচিত ছিলেন। ধর্ম দেশনার সময় সারিপুত্র বুদ্ধের ডানদিকে মৌদগল্যায়ন বাম দিকে বসতেন। তাই তাঁদের বুদ্ধের দক্ষিণ ও বাম হস্ত হিসেবে অভিহিত করা হতো।
সারিপুত্রের তিন ভাই ও তিন বোন ছিলেন। ভাইদের নাম ছিল চুন্দ, উপসেন এবং রেবত। বোনদের নাম ছিল চালা, উপচালা এবং শিশুপচালা। তাঁর সকল ভাই-বোন বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হয়ে ভিক্ষু ও ভিক্ষুণী হন।
মোগলী ব্রাহ্মণীর পুত্র ছিলেন বলে মৌদগল্যায়নকে মোগলীপুত্র বলা হতো। তিনি সারিপুত্রের জন্মদিনে রাজগৃহের কোলিত নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সে গ্রামের প্রধান ব্যক্তিত্ব। গ্রামের ঐতিহ্যসম্পন্ন কুল বা বংশের পুত্র ছিলেন বলে তাঁকে কোলিত নামেও ডাকা হতো।
একদিন সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন দুই বন্ধু একত্রে একটি নাটক দেখতে যান। নাটক দেখে তাঁদের মনে বৈরাগ্য ভাব জাগ্রত হয়। তখন তাঁরা সংসার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে সংসার ত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
যে বৈশিষ্ট্যের কারণে সারিপুত্র বুদ্ধ সংঘের শীর্ষস্থানে অবস্থান করেন তা হলো, তিনি ছিলেন মহাপ্রজ্ঞাবান। তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ভাষণগুলো তিনি অভ্যন্ত সুন্দর ও সরল ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারতেন।
মৌদগল্যায়ন স্বর্গ, মত্য, পাতাল-ত্রিভুবন ঘুরে ঘুরে বুদ্ধের ধর্মবাণী প্রচার করতেন। মৌদগল্যায়নের দেশনা ছিল সবসময় চিত্তগ্রাহী। তাঁর দেশনায় নতুন নতুন বিষয় যেমন উপস্থাপিত হতো তেমনি তা পরিবেশন করা হতো সরল ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যায়।
সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়নের জীবনচরিত পাঠে আমরা যে শিক্ষা লাভকরতে পারি তা হলো, একাগ্রতা ও অধ্যাবসায় থাকলে অবশ্যই মানুষ। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে এবং মানুষের জীবনের কোনো কর্মই বৃথা যায় না। ভালো বা মন্দ কর্মের জন্য যথোপযুক্ত ফল রয়েছে। তাই গোপনে বা কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে কখনোই কোনো মন্দ কাজ করা উচিত নয়।
বিশাখা অত্যন্ত উদার প্রকৃতির ছিলেন। দান ও বিবিধ কল্যাণকর্মের জন্য তার খুবই সুখ্যাতি ছিল। দানকর্ম ও ভিক্ষুসজ্জকে সেবা করার জন্য বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
এক সময় সেল নামক এক ব্রাহ্মণ ও তাঁর অনুগামী প্রায় তিন শতাধিক শিষ্যকে দীক্ষা প্রদানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বুদ্ধ সশিষ্য ভদ্দিয় নগরে এসেছিলেন। বুদ্ধের আগমন উপলক্ষে বিশাখার পিতামহ মেন্ডুক শ্রেষ্ঠী বিশাখাকে নিয়ে বুদ্ধ দর্শনে গিয়েছিলেন।
'ঘরের আগুন বাহিরে নিও না'- বিশাখার বাবার দেওয়া এই উপদেশটির অর্থ হলো, শ্বশুর বাড়ির কারো দোষ দেখলে তা বাইরের কাউকে বলবে না।
বাইরের আগুন ঘরে এনো না। অর্থাৎ প্রতিবেশী কেউ শ্বশুর বাড়ির কারো দোষের কথা বললে তা তোমার শ্বশুরবাড়ির কারো কাছে প্রকাশ করো না।
যে দেয় না তাকে দিয়ো না। অর্থাৎ যে-ব্যক্তি কোনোকিছু ধার নিয়ে ফেরত দেয় না তাকে ধার দিয়ো না।
'সুখে আহার করবে', অর্থাৎ শ্বশুরবাড়ির গুরুজনদের খাওয়া শেষ হলে এবং অন্যান্যদের খাওয়া সম্পর্কে খবর নিয়ে তারপর নিজের আহার গ্রহণ করবে।
সুখে উপবেশন করবে। অর্থাৎ এমন স্থানে বসবে যে স্থান থেকে গুরুজনদের দেখে উঠতে না হয়।
সুখে শয়ন করবে' উপদেশটির অর্থ হলো, যাবতীয় গৃহকর্ম সমাধা করে গুরুজনদের শয়নের পর শয়ন করবে।
অগ্নির পরিচর্যা করবে' উপদেশটি দ্বারা বিশাখার পিতা বুঝাতে চেয়েছেন, গুরুজন ও ছোটদের সচেতনতার সাথে প্রয়োজনীয় সেবা শুশ্রুষা করবে।
উল্লিখিত বিষয়ে বিশাখার জবাব ছিল, ঘরের আগুন বাইরে না নেওয়া বলতে আমার পিতা বুঝিয়েছেন, শ্বশুর বাড়ির কোনো কথা বাইরের লোকের কাছে প্রকাশ না করা। আমি নিজ গৃহের নিন্দা ও কুৎসা বাইরে প্রকাশ করি না।
বিশাখার প্রার্থনাকৃত বরসমূহে তাঁর ত্যাগ মহিমার নতুন দিক উন্মেচিত হয়েছে। বিশাখার এ বর প্রার্থনার মধ্যে তাঁর গভীর দান চেতনা ও উদারতার প্রকাশ ঘটেছে।
শ্রাবস্তীতে বুদ্ধ অনেক ধর্মোপদেশ দান করেছেন। এখানে তাঁর জীবনের অনেক স্মৃতি বিজড়িত আছে। তাই শ্রাবস্তী বৌদ্ধদের একটি প্রধান তীর্থস্থান।
বিবাহের পর রাজা প্রসেনজিতের স্ত্রী মল্লিকা এক কন্যাসন্তান প্রসব করেন। কন্যাসন্তান জন্মের কারণে রাজা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলে বুদ্ধ বলেন, শিক্ষা-দীক্ষায় উপযুক্ত করে তুলতে পারলে নারীরাও পুরুষের সমকক্ষ হতে পারে, সুন্দরভাবে রাজ্যশাসন করতে পারে।
বিডুঢ়ভ মামাবাড়িতে এসে কখনো মর্যাদা পেতেন না। শাক্যরা একবার বিডুঢ়ভকে দাসীর পুত্র বলে অপমান করে। বিডুঢ়ড এতে খুব ক্ষিপ্ত হন।
প্রশ্নোল্লিখিত কথা শুনে বুদ্ধ উপদেশস্বরূপ বলেন, "যে লোক জয় লাভ করে তার শত্রু বাড়ে। যে পরাজিত হয় তার মর্মবেদনা বাড়ে। কিন্তু - যার জয়-পরাজয় নেই সে সর্বদা শান্তি উপভোগ করতে পারে।"
অভিমানজনিত কর্মফলে পূর্ণিকা থেরী গৌতম বুদ্ধের সময়ে শ্রাবস্তীতে অনাথপিণ্ডিকের গৃহের কৃতদাসের কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তাঁর নাম হয় পূর্ণিকা। কথিত আছে যে, তাঁর জন্মের পর সেই গৃহে সন্তানসংখ্যা একশত পূর্ণ হওয়ায় তাঁর নাম রাখা হয় পূর্ণা বা পূর্ণিকা।
বুদ্ধের সিংহনাদ নামে খ্যাত উপদেশ শ্রবণ করে পূর্ণিকা স্রোতাপতি ফল লাভ করেন। তারপর তিনি উদকশুদ্ধি পালনরত এক ব্রাহ্মণকে যুক্তি দ্বারা স্বমতে আনতে সমর্থ হন। এতে প্রভু তাঁকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন। মুক্তি পেয়ে তিনি সঙ্ঘে প্রবেশ করে অর্হত্ব ফল লাভ করেন।
পূর্ণিকা জীবনী পাঠে ধারণা করা যায় যে, একজন সামান্য ক্রীতদাসীও যে সৎ চেতনা ও কুশলকর্মের প্রভাবে জগতে খ্যাতি লাভ করতে পারে। অধ্যবসায় সাধনার ফলে নারীরাও অর্হত্ব ফল লাভ করতে পারে।।
শীলভদ্রের জন্ম ৫২৯ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার চান্দিনা অঞ্চলের তদানীন্তন ভদ্ররাজ বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আনা যায় যে, তাঁর গৃহী নাম ছিল দন্তভদ্র। বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা লাভ করেই তিনি শীলভদ্র নামে খ্যাত হন।
জ্ঞানার্জনে শীলভদ্র ছিলেন আপোসহীন। তিনি অল্প বয়সেই বেদ, হেতুবিদ্যা, শব্দবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, সাংখ দর্শন ও অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। শৈশবকাল থেকেই আনার্জনের জন্য তিনি উৎসুক ছিলেন।
নালন্দা ছিল প্রাচীন ভারতের খুব উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয়। বৌদ্ধবিহারকে কেন্দ্র করেই এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল। বৌদ্ধবিহারকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হলেও জাতিধর্ম নির্বিশেষে এখানে সকলের প্রবেশাধিকার ছিল। শীলভদ্রের সময় নালন্দায় দশ হাজার শিক্ষার্থী ছিল এবং দেড় হাজার শিক্ষক ছিলেন।
নালন্দায় বৌদ্ধধর্মীয় রীতিতে শীলভদ্র অধ্যক্ষ ধর্মপালের কাছে উপসম্পদা গ্রহণ করে বৌদ্ধ ভিক্ষু হন। তারপর গভীর সাধনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি বৌদ্ধধর্মের সারমর্ম অধিগত করেন এবং শাস্ত্রের দুরূহ তত্ত্বের সরল ব্যাখ্যা প্রদানে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
মগধরাজের রাজার বিশেষ অনুরোধে পণ্ডিত শীলভদ্র একটি নগর গ্রহণ করেন এবং সেখানে একটি সংঘারাম প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিহারের নামকরণ করা হয় শীলভদ্র সংঘারাম বিহার। সংঘারামের সকল ভিক্ষু-শ্রমণ মহাস্থবির শীলভদ্রের প্রতি বিনীত শ্রদ্ধায় তাঁকে 'স্বদ্ধর্ম ভান্ডার' বলে সম্ভাষণ করতেন।
প্রকৃতপক্ষে মহাস্থবির শীলভদ্রের সমসাময়িককালে ধর্মপাল ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ আচার্য। সর্ববিদ্যায় পারদর্শী ও পণ্ডিত হিসেবে তার সুখ্যাতি ছিল। শীলভদ্রই প্রথম বাঙালি যিনি নালন্দা মহাবিহারে এই খ্যাতি অর্জনে সমর্থ হয়েছিলেন। সে গৌরবে আজও বাঙালিরা গর্ববোধ করে।
শিষ্য বা যিনি ধর্মীয় বিষয় শ্রবণ-ধারণ-পালন করেন।
শিষ্যদের মধ্যে যারা অগ্রগণ্য তাদের অগ্রশ্রাবক বলা হয়।
ধর্ম সেনাপতি।
ধর্ম সেনাপতি।
সারিপুত্রের গৃহীনাম ছিল উপতিষ্য।
নাটক দেখে।
সঞ্জয় বেলঠপুত্রের শিষ্যত্ব বরণ করেন।
একজন পরিব্রাজক ব্রাহ্মণ ছিলেন।
বুদ্ধের শিষ্য অশ্বজিতের সঙ্গে দেখা হয়।
৭ দিনে।
১৫ দিনে।
আশিজন।
মহাপ্রজ্ঞাবান ছিলেন।
ঋদ্ধিশক্তিতে অদ্বিতীয় ছিলেন
সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন।
ছোটকাল থেকে বিশাখা অত্যন্ত উদার প্রকৃতির ছিলেন।
পাঁচশত সখীসহ বিশাখা এবং মেণ্ডক শ্রেষ্ঠী স্রোতাপত্তি ফল লাভকরেন।
বিশাখার স্বামীর নাম পুণ্যবর্ধন।
বিশাখার পিতা বিশাখাকে দশটি উপদেশ দিয়েছিলেন।
বিশাখার পিতা বিশাখাকে দশটি উপদেশ দিয়েছিলেন।
বিশাখা বুদ্ধের কাছ থেকে আটটি বর চেয়ে নিয়েছিলেন।
বিশাখার দশ পুত্র ও দশ কন্যা ছিল।
বুদ্ধ রাজা প্রসেনজিতকে উপদেশ দিয়েছিলেন, "যে লোক জয় লাভ করে তার শত্রু বাড়ে। যে পরাজিত হয় তার মর্মবেদনা বাড়ে। কিন্তু যার জয়-পরাজয় নেই সে সর্বদা শান্তি উপভোগ করতে পারে।"
রাজা প্রসেনজিত কোশলের রাজা ছিলেন।
শ্রাবস্তীর বর্তমান নাম সাহেত-মাহেত।
রাজা প্রসেনজিত ছিলেন অত্যন্ত দানপরায়ণ।
রাজা প্রসেনজিৎ 'রাজকারাম' বিহার ও 'মল্লিকারাম' বিহার দান করেন।
বিপসী বুদ্ধের সময় পূর্ণিকা এক সম্ভ্রান্ত বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
বুদ্ধের সময়ের শ্রাবস্তী নগরের দাসীর কন্যা ছিলেন পূর্ণিকা।
উদকশুদ্ধি বলতে বোঝায় জলে ভিজে জীবন শুদ্ধ করার ব্রতকে।
শীলভদ্রের জন্ম ৫২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
পণ্ডিত শীলভদ্র 'স্বদ্ধর্ম ভান্ডার' উপাধি লাভ করেন।
পণ্ডিত শীলভদ্র ৬৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মহাপ্রয়াণ লাভ করেন।
বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণ, ধারণ ও পালনে বুদ্ধশিষ্যদের মধ্যে সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন অগ্রগণ্য ছিলেন। সারিপুত্র জ্ঞানে এবং মৌদগল্যায়ন ঋদ্ধিশক্তিতে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। অগ্রশ্রাবক সারিপুত্র ধর্মসেনাপতি নামেও পরিচিত ছিলেন। ধর্ম দেশনার সময় সারিপুত্র বুদ্ধের ডানদিকে ও মৌদগল্যায়ন বাম দিকে বসতেন। তাই তাঁদের বুদ্ধের দক্ষিণ ও বাম হস্ত হিসেবে অভিহিত করা হতো।
বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণ, ধারণ ও পালনে বুদ্ধশিষ্যদের মধ্যে সারিপুত্র ছিলেন অগ্রগণ্য এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন জ্ঞানে। অগ্রশ্রাবক সারিপুত্র ধর্মসেনাপতি নামেও পরিচিত ছিলেন। ধর্মদেশনার সময় সারিপুত্র বুদ্ধের ডানদিকে বসতেন বলে তাঁকে বুদ্ধের দক্ষিণ হস্ত নামে অভিহিত করা হতো
মৌল্যায়ন ছিলেন মোগগলী ব্রাহ্মণীর পুত্র। তিনি রাজগৃহের কোলিত নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সে গ্রামের প্রধান ব্যক্তিত্ব। গ্রামের ঐতিহ্যসম্পন্ন কুল বা কোলিত বংশের পুত্র ছিলেন বলে মৌদগল্যায়নকে কোলিত নামে ডাকা হতো।
একদিন দুই বন্ধু একত্রে নাটক দেখতে যান। নাটক দেখে তাঁদের মনে বৈরাগ্য ভাব জাগ্রত হয়। তাঁরা, সংসার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধা হয়ে সংসার ত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অতঃপর গৃহত্যাগ করে তাঁরা সঞ্জয় বেলপুত্রের শিষ্যত্ব বরণ করেন।
সারিপুত্র ছিলেন বুদ্ধের অগ্রশ্রাবক এবং মহাপ্রজ্ঞাবান।
সারিপুত্রের প্রধান উপদেশ হলো: 'মানুষ মরণশীল। যেকোনো সময় মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তাই শীলাদি ধর্ম পরিপূর্ণ কর। যথাসময়ে ধর্ম শ্রবণ কর। দুঃখে পতিত হয়ে বিনাশ প্রাপ্ত হয়ো না। শত্রুর ভয়ে নগরের ভিতর-বাহির যেমন সুরক্ষিত করা হয়, তেমনি নিজেকে সুরক্ষিত করে সর্বপ্রকার পাপ হতে মুক্ত রাখো। যারা শীলাদি পালন করে না, যথাসময়ে ধর্ম শ্রবণ করে না, তারা'নরকে পতিত হয়ে শোক করে থাকে।'
মৌদগল্যায়ন ছিলেন ঋদ্ধিশক্তিতে অদ্বিতীয়। এই ঋদ্ধিশক্তিই ছিল তার অফুরন্ত কর্মশক্তির উৎস। ঋদ্ধিবলেই তিনি স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল এই ত্রিভুবন ঘুরে ঘুরে বুদ্ধের ধর্মপ্রচার করতেন। এমনকি নরকে গিয়ে নারকীয় দুঃখ দেখে এসে অন্যদের কাছে উপদেশ দিতেন। এ জন্য তার দেশনা ছিল সব সময় চিত্তগ্রাহী। তার দেশনায় নতুন নতুন বিষয় যেমন উপস্থাপিত হতো তেমনি পরিবেশন করা হতো সরল ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যায়।
মৌদগল্যায়ন ছিলেন ঋদ্ধিশক্তিতে অদ্বিতীয়। এই ঋদ্ধিশক্তিই ছিল তার অফুরন্ত কর্মশক্তির উৎস। ঋদ্ধিবলেই তিনি স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল এই ত্রিভুবন ঘুরে ঘুরে বুদ্ধের ধর্মপ্রচার করতেন। এমনকি নরকে গিয়ে নারকীয় দুঃখ দেখে এসে অন্যদের কাছে উপদেশ দিতেন। এ জন্য তার দেশনা ছিল সব সময় চিত্তগ্রাহী। তার দেশনায় নতুন নতুন বিষয় যেমন উপস্থাপিত হতো তেমনি পরিবেশন করা হতো সরল ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যায়।
মৌদগল্যায়ন ছিলেন ঋদ্ধিশক্তিতে অদ্বিতীয়। এই ঋদ্ধিশক্তিই ছিল তাঁর অফুরন্ত কর্ম শক্তির উৎস। ঋদ্ধি বলেই তিনি স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল এই ত্রিভূবনে ঘুরে ঘুরে বুদ্ধের ধর্ম প্রচার করতেন। এমনকি নরকে গিয়ে নারকীয় দুঃখ দেখে এসে অন্যদের কাছে উপদেশ দিতেন। এজন্য তার দেশনা ছিল সব সময় চিত্তগ্রাহী এবং তাঁর দেশনায় নতুন নতুন বিষয় যেমন উপস্থিত হতো তেমনি পরিবেশন করা হতো সরল ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যায়।
একদিন বিশাখা বিক্ষুসঙ্ঘসহ বুদ্ধকে তাঁর গৃহে নিমন্ত্রণ করেন। মহাকরুণিক বুদ্ধ ধর্মদেশনা শুরু করলেন। প্রথম শ্রেষ্ঠীর আগ্রহ না - থাকলেও ক্রমে তিনি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়েন। বুদ্ধের দেশনা শেষ হলে শ্রেষ্ঠী স্রোতাপত্তি ফলে প্রতিষ্ঠিত হন। তারপর তিনি বুদ্ধের সামনেই পুত্রবধূ বিশাখাকে জ্ঞানদায়িনী মাতা বলে সম্বোধন করে বললেন, মা তুমি এতদিনে এই সন্তানকে উদ্ধার করলে। সেই থেকে বিশাখাকে 'মিগারমাতা' নামে অভিহিত করা হয়।
মৌদগল্যায়ন ছিলেন ঋদ্ধিশক্তিতে অদ্বিতীয়। এই ঋদ্ধিশক্তিই ছিল তাঁর অফুরন্ত কর্ম শক্তির উৎস। ঋদ্ধি বলেই তিনি স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল এই ত্রিভূবনে ঘুরে ঘুরে বুদ্ধের ধর্ম প্রচার করতেন। এমনকি নরকে গিয়ে নারকীয় দুঃখ দেখে এসে অন্যদের কাছে উপদেশ দিতেন। এজন্য তার দেশনা ছিল সব সময় চিত্তগ্রাহী এবং তাঁর দেশনায় নতুন নতুন বিষয় যেমন উপস্থিত হতো তেমনি পরিবেশন করা হতো সরল ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যায়।
অতীত কর্মের ফলস্বরূপে মৌদগল্যায়নকে ঘাতকের হাতে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।
মৌদগল্যায়নকে কালশৈল পর্বতে ঘাতক কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছিল কারণ অতীত জন্মে তিনি তার স্ত্রীর প্ররোচনায় বয়োবৃদ্ধ অন্ধ পিতা মাতাকে গভীর বনে জন্তু জানোয়ারের সামনে মৃত্যুর মুখে ফেলে এসেছিলেন। পরিণতিতে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হলো।
একদিন বিশাখা বিক্ষুসঙ্ঘসহ বুদ্ধকে তাঁর গৃহে নিমন্ত্রণ করেন। মহাকরুণিক বুদ্ধ ধর্মদেশনা শুরু করলেন। প্রথম শ্রেষ্ঠীর আগ্রহ না - থাকলেও ক্রমে তিনি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়েন। বুদ্ধের দেশনা শেষ হলে শ্রেষ্ঠী স্রোতাপত্তি ফলে প্রতিষ্ঠিত হন। তারপর তিনি বুদ্ধের সামনেই পুত্রবধূ বিশাখাকে জ্ঞানদায়িনী মাতা বলে সম্বোধন করে বললেন, মা তুমি এতদিনে এই সন্তানকে উদ্ধার করলে। সেই থেকে বিশাখাকে 'মিগারমাতা' নামে অভিহিত করা হয়।
শ্রাবস্তীতে বুদ্ধের জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই শ্রাবস্তী বৌদ্ধদের একটি প্রধান তীর্থস্থান।
শ্রাবস্তী ছিল কোশলের রাজধানী এবং খুবই সমৃদ্ধশালী নগরী। বর্তমানে এটি ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত। এর বর্তমান নাম সাহেত-মাহেত। ধর্মপ্রচারের জন্য বুদ্ধ এখানে অবস্থান করেছিলেন। বুদ্ধ এখানে অনেক ধর্মোপদেশ দান করেছেন। এজন্য শ্রাবস্তী বিখ্যাত হয়ে রয়েছে।
কোশলের রাজা প্রসেনজিত বুদ্ধের সময় সাময়িক ছিলেন। বুদ্ধের ধর্ম গ্রহণ করে বৌদ্ধধর্ম প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। তিনি বুদ্ধসহ ভিক্ষুসঙ্ঘের নিত্য আহারের ব্যবস্থা করেন। তিনি 'রাজকারাম' বিহার নির্মাণ করে বুদ্ধকে দান করেন। রাণী মল্লিকাদেবীর অনুরোধে 'মল্লিকারাম' নামে খ্যাত অতিথিশালাও প্রতিষ্ঠা করেন। রাজা একবার এমন মহাদানানুষ্ঠান করেছিলেন যেখানে চৌদ্দ কোটি মুদ্রা ব্যয় হয়েছিল বলে জানা যায়। রাজা প্রসেনজিত রাজ্য বিস্তার বন্ধ করে দান ধর্মে আত্ম নিয়োগ করেছিলেন।
যুক্তি দ্বারা উদকশুদ্ধি এক ব্রাহ্মণকে স্বমতে আনায় পূর্ণিকাকে দাসীকর্ম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বুদ্ধের সিংহনাদ নামে খ্যাত উপদেশ শ্রবণ করে পূর্ণিকা স্রোতাপত্তি ফললাভ করেন। তৎপর তিনি উদকশুদ্ধি এক ব্রাহ্মণকে যুক্তি দ্বারা স্বমতে আনতে সমর্থ হন। এতে প্রভু তাঁকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন।
বুদ্ধের সময়ের শ্রাবস্তী নগরের দাসীর কন্যা ছিলেন পূর্ণিকা। তিনি বুদ্ধের ধর্মোপদেশ শুনে স্রোতাপন্ন হন। উদকশুদ্ধিক ব্রাহ্মণকে পুণ্য লাভের আশায় প্রতিদিন গঙ্গা স্নান করতে দেখে পূর্ণিকা বলেন, 'স্নানের মাধ্যমে পাপ মুক্ত হওয়া গেলে সব জলচর প্রাণীরা স্বর্গে যেত। পুণ্য সঞ্চয় করতে হলে দান, শীল, ভাবনা করতে হয়।' এই উপদেশের মাধ্যমে পূর্ণিকা উদকশুদ্ধিককে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা দেন।
শীলভদ্র ছিলেন বঙ্গের আদি গৌরব। তিনি বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার চান্দিনা অঞ্চলের তদানীন্তন ভদ্ররাজ বংশে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর গৃহীনাম ছিল দত্তভদ্র। বৌদ্ধধর্মে দীক্ষালাভ করেই তিনি শীলভদ্র নামে খ্যাত হন।
কথিত আছে যে, ভিক্ষু শীলভদ্র তর্কযুদ্ধে ব্রাহ্মণ পণ্ডিতকে পরাজিত করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাতে মগধরাজা সন্তুষ্ট হয়ে একটি নগরের রাজত্ব দিতে আগ্রহী হন। কিন্তু শীলভদ্র ভন্তে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাতে আরো সন্তুষ্ট হয়ে 'শীলভদ্র সংঘারাম' নামে একটি বিশাল বিহার তৈরি করে দেন এবং শীলভদ্রকে 'স্বধর্ম ভান্ডার' উপাধিতে ভূষিত করেন।
যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তাত্ত্বিক পণ্ডিতকে পরাজিত করার ফলে ভিক্ষু শীলভদ্রের পাণ্ডিত্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ ভারতের এক তাত্ত্বিক পণ্ডিত মগধরাজ্যে উপস্থিত হয়ে নিজের মাহাত্ম্য প্রচার করতে থাকেন। তিনি বলেন, তার সমকক্ষ তাত্ত্বিক পণ্ডিত কেউ নেই। তিনি ধর্মপালকে আহ্বান করেন তর্কযুদ্ধের জন্য। কিন্তু শীলভদ্র অনুরোধ করেন নিজে যাওয়ার জন্য এবং ধর্মপাল তাকেই পাঠান মগধরাজ্যে। সেখানে গিয়ে শীলভদ্র প্রজ্ঞাপ্রসূত সূক্ষ্মা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তাত্ত্বিক পণ্ডিতকে পরাজিত করেন। এর ফলে শীলভদ্রের পান্ডিত্যের ব্যাপ্তি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
Related Question
View Allশীলভদ্রের জন্ম ৫২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
যুক্তি দ্বারা উদকশুদ্ধি এক ব্রাহ্মণকে স্বমতে আনায় পূর্ণিকাকে দাসীকর্ম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বৃদ্ধের সিংহনাদ নামে খ্যাত উপদেশ শ্রবণ করে পূর্ণিকা স্রোতাপত্তি ফললাভ করেন। তৎপর তিনি উদকশুদ্ধি এক ব্রাহ্মণকে যুক্তি দ্বারা যমতে আনতে সমর্থ হন। এতে প্রভু তাঁকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন।
ছক-১ এ বর্ণিত বিষয়াবলির সাথে বুদ্ধের সারিপুত্র নামক শিষ্যের মিল রয়েছে।
সারিপুত্র ছিলেন অগ্রশ্রাবক এবং ধর্মসেনাপতি নামে পরিচিত। বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণ ধারণ ও পালনে বুদ্ধ শিষ্যদের মধ্যে সারিপুত্র ছিলেন অন্যতম। তাঁর গৃহীনাম ছিল উপতিষ্য। সারি ব্রাহ্মণীর ছেলে বলে তাঁকে সারিপুত্র বলা হতো।
সারিপুত্র বুদ্ধের ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার ১৫ দিনে অর্হত্ব ফলে উন্নীত হন। তিনি ছিলেন মহাপ্রজ্ঞাবান এবং তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ভাষণগুলো অত্যন্ত সুন্দর ও সরল ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারতেন। মহৎ কর্মের জন্য তিনি বৌদ্ধধর্মে অমর হয়ে আছেন।
বুদ্ধের অগ্রশ্রাবক হিসেবে অর্থাৎ ছক-২ এ বর্ণিত ব্যক্তি মৌদগল্যায়ন বৌদ্ধধর্মের প্রচারে যে অবদান রাখেন তা পাঠ্যবই অনুসারে বিশ্লেষণ করা হলো:
মৌদগল্যায়ন ছিলেন ঋদ্ধিশক্তিতে অদ্বিতীয়। প্রজ্ঞায় সারিপুত্রের পরে ছিল তার স্থান এবং ঋদ্ধিশক্তি ছিল তাঁর অফুরন্ত কর্মশক্তির উৎস। যদ্ধিবলেই তিনি স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল এই ত্রিভূবন ঘুরে ঘুরে বুদ্ধের ধর্ম প্রচার করতেন। এমনকি নরকে গিয়ে গিয়ে নারকীয় দুঃখ দেখে এসে অন্যদের কাছে উপদেশ দিতেন বলে তাঁর দেশনা ছিল সবসময় চিগ্রাহী। তাঁর দেশনায় নতুন নতুন বিষয় যেমন উপস্থাপিত হতো তেমনি পরিবেশন করা হতো সরল ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যায়।
অর্হত্ব ফলে উন্নীত হয়ে মৌদগল্যায়ন তাঁর অনুগামী ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে গাথায় তাঁর অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। এতে তাঁর জীবনের অর্জিত অভিজ্ঞতা নানাভাবে প্রকাশ পায়। তিনি অর্হত্ব ফলে অধিষ্ঠিত ছিলেন বলে মৃত্যু সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন এবং পরিনির্বাণের পূর্বে যথাসময় তাঁরা বুদ্ধকে বন্দনা করে যথোপযুক্ত স্থানে পরিনির্বাণের অনুমতি গ্রহণ করেছিলেন।
মৌদল্যায়ন থের পূর্বজন্মের কৃতকর্মের ফলে কালশৈল পর্বতে ঘাতক কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে নির্বাণ লাভ করেন।
শ্রাবস্তীর বর্তমান নাম সাহেত-মাহেত।
অতীত কর্মের ফলস্বরূপে মৌদগল্যায়নকে ঘাতকের হাতে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।
মৌদগল্যায়নকে কালশৈল পর্বতে ঘাতক কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছিল কারণ অতীত জন্মে তিনি তার স্ত্রীর প্ররোচনায় বয়োবৃদ্ধ অন্ধ পিতা মাতাকে গভীর বনে জন্তু জানোয়ারের সামনে মৃত্যুর মুখে ফেলে এসেছিলেন। পরিণতিতে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হলো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!