ত্রিপিটক-এর শব্দগত অর্থ হলো আধার, পেটিকা বা ঝুড়ি। 'ত্রি এবং পিটক' শব্দের সমন্বয়ে ত্রিপিটক শব্দটি গঠিত।
সুত্ত পিটকে পাঁচটি গ্রন্থ। গ্রন্থগুলো হলো- দীঘ নিকায়, মস্কিম নিকায়, সংযুক্ত নিকায়, অঙ্গুত্তর নিকায় এবং খুদ্দক নিকায়।
বিনয় পিটককে বুদ্ধ শাসনের আয়ু বলা হয়। তাই বিনয় পিটকের শিক্ষা হচ্ছে নীতি বা শঙ্খলা বজায় রাখার শিক্ষা। শৃঙ্খলা বা নীতি মানে শীল শিক্ষা। সুতরাং বলা যায়, বিনয় পিটকের শিক্ষা হচ্ছে শীল বা নীতি সংরক্ষণের শিক্ষা। পৃথিবীর সব কিছুই নিয়মের অধীন। তাই বিনয় পিটকের মাধ্যমে নীতি শিক্ষার প্রবর্তন করেছেন বৃদ্ধ।
অভিধর্ম' বলতে বুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরমার্থ সত্যকে বোঝায়। বৌদ্ধ মননশীলতার চরম বিকাশ অর্থে অভিধর্ম। যাতে স্কন্ধ, আয়তন, ধাতু, চ্যুতি, প্রতিসন্ধি, বল, নির্বাণ, ও প্রজ্ঞপ্তি ইত্যাদি বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কার্যকারণ সম্পর্কে মূল রূপ এ নির্বাণ প্রভৃতি ও পিটকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই অভিধর্মের অপর নাম উচ্চতর ধর্ম।
ধমায় গ্রন্থ হলেও।ত্রপিটক প্রাচান ভারতায় উপমহাদেশের ধর্ম-দর্শন, সমাজ-সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, পুরাতত্ত্ব প্রভৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এজন্য ত্রিপিটককে ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহাসিক তথ্যভাণ্ডার হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বুদ্ধ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে যেসব ধর্মোপদেশ দান করতেন তা শিষ্যরা কণ্ঠস্থ করে ধারণ করে রাখতেন এবং প্রচার করতেন। শ্রুতিধর হওয়ায় তাঁরা বুদ্ধবাণী সহজে স্মৃতিতে ধারণ বা সংরক্ষণ করে রাখতে পারতেন।
বুদ্ধের জীবিতকালে সঙ্ঘে যেকোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে তা বুদ্ধ সমাধান করতেন। কখনো বুদ্ধের নেতৃস্থানীয় শিষ্যগণ তাঁর অনুমতি সাপেক্ষে সমাধান করতেন। ফলে বুদ্ধের জীবিতকালে বড় ধরনের কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।
বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে প্রথম সঙ্গীতি বুদ্ধদ্ধাণী সংকলন এবং বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণের প্রথম পদক্ষেপ। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের তিন মাস পর রাজা অজাত শত্রুর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মহাকশ্যপ স্থবিরের নেতৃত্বে রাজগৃহের সপ্তপর্ণী গুহায় প্রথম সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম সঙ্গীতিতে সংকলিত বিনয়-ধর্ম বুদ্ধশিষ্যগণ কণ্ঠস্থ করে সংরক্ষণ ও প্রচার করতেন। কিন্তু বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের একশত বছর পরে বজ্জিপুত্রীয় ভিক্ষুগণ বিনয় বহির্ভূত দশটি বিবিবিধান চালু করলে সঙ্ঘে বিভাজন সৃষ্টি হয় এবং বুদ্ধবাণী নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। তখন এ বিতর্ক নিরসনের জন্য দ্বিতীয় সঙ্গীতির আয়োজন করা হয়।
বৈশালীর বালুকারামে যশ স্থবিরের নেতৃত্বে এবং রাজা কালাশোকের -পৃষ্ঠপোষকতায় দ্বিতীয় সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়। এই সঙ্গীতি আটমাস স্থায়ী হয়েছিল। এতে সাতশত অর্হৎ ভিক্ষু অংশগ্রহণ করেন।
সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মোগলিপুত্র থেরর সভাপতিত্বে পাটলীপুত্রের অশোকারাম বিহারে তৃতীয় সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়। এই সঙ্গীতি নয় মাস স্থায়ী হয় এবং এতে এক হাজার অর্হৎ ভিক্ষু অংশগ্রহণ করেন।
তৃতীয় সঙ্গীতির পর সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় বুদ্ধবাণী 'ভারতের বাইরে প্রচার লাভ করে। সম্রাট অশোকপুত্র মহিন্দ্র স্থবির ও কন্যা ভিক্ষুণী সঙ্ঘামিত্রা কতিপয় সঙ্গীসহ ত্রিপিটক কণ্ঠস্থ করে সিংহলে নিয়ে যান। সেখানে তা মুখে মুখে প্রচার লাভ করে।
যুদ্ধবিগ্রহ, দুর্ভিক্ষ এবং নানা কারণে সিংহলে বুদ্ধশাসন পরিহানির আশঙ্কা দেখা দেয়। বুদ্ধবাণী বিকৃত ও বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য লিখিতরূপ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অতঃপর খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে সিংহলের রাজা বট্টগামিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় তালপত্রে বা ভূর্জপত্রে ত্রিপিটক লিখে স্থায়ী রূপ দান করা হয়।
ত্রিপিটক' শব্দটি 'ত্রি' এবং 'পিটক' শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। 'ত্রি' শব্দের অর্থ 'তিন' আর 'পিটক' শব্দের অর্থ হলো আধার, পেটিকা, ঝুড়ি ইত্যাদি।
বুদ্ধের ধর্মবাণী সূত্র আকারে গ্রথিত ডাগকে সুত্ত বা সূত্রপিটক বলে। সূত্রপিটক পাঁচটি প্রধান ভাগে বিভক্ত। যথা: দীর্ঘ নিকায়, মস্তিম নিকায়, সংযুক্ত নিকায়, অঙ্গুত্তর নিকায় এবং খুদ্দক নিকায়।
খুদ্দক' শব্দের অর্থ ক্ষুদ্র বা ছোট। বুদ্ধভাষিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সূত্রসমূহ যে-নিকায়ে সংকলিত তা খুদ্দক নিকায় নামে পরিচিত। খুদ্দক নিকায়ে ষোলটি গ্রন্থ আছে।
'বিনয়' শব্দের অর্থ হলো নিয়ম, নীতি, শৃঙ্খলা বা বিধিবিধান। বুদ্ধ-নির্দেশিত বিধিবিধান যে-পিটকে সংকলিত আছে তা বিনয় পিটক নামে অভিহিত। ভিক্ষুসঙ্ঘ সুশৃঙ্খল, ন্যায়-নিষ্ঠা, পারস্পরিক সৌহার্দ এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার মানসে বুদ্ধ এসব বিনয় বা বিধি-বিধান নির্দেশ করেছিলেন
বিনয় পিটক প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। যথা: ১. সুত্তবিভঙ্গ; ২. খন্ধক এবং ৩. পরিবার। সুত্তবিভঙ্গ আবার দুভাগে বিভক্ত: মহাবিভঙ্গ এবং খুদ্দক বিভঙ্গ। খন্ধক দুভাগে বিভক্ত। যথা: মহাবর্গ এবং চুল্লবগ্ন।
বৌদ্ধ ধর্ম-দর্শনই অভিধর্ম পিটকের মূল আলোচ্য বিষয়। অভিধর্ম পিটক সাত ভাগে বিভক্ত। যথা: ১. ধম্মসঙ্গণী; ২. বিভঙ্গ; ৩. ধাতুকথা; ৪.. পুয়লপঞঞত্তি; ৫. কথাবন্ধু; ৬. যমক এবং ৭. পট্ঠান।
সূত্র পিটকের প্রথম ভাগ দীর্ঘ নিকায়। দীর্ঘ নিকায়ে সর্বমোট চৌত্রিশটি সূত্র আছে। সূত্রগুলো তিনটি বর্গে বিভক্ত। যথা: শীল স্কন্ধবর্গ, মহাবর্গ এবং পাটিকবর্গ। প্রথম বর্গে তেরোটি সূত্র আছে। সূত্রগুলো গদ্যে রচিত। দ্বিতীয় বর্গে দশটি সূত্র, তৃতীয় বর্গে এগারোটি সূত্র আছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্গের বহু সূত্র গদ্যে ও পদ্যে রচিত।
মজ্জিম নিকায় পঞ্চ নিকায়ের মধ্যে সর্বোত্তম। এ নিকায়ে একশত বায়ান্নটি সূত্র আছে। সূত্রগুলো তিনটি বর্গে বিভক্ত। যথা: মূল পঞাসক বর্গ, মজ্জিম পঞাসক বর্গ এবং সেল পঞাসক বর্গ। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্গে পঞ্চাশটি, তৃতীয় বর্গে বায়ান্নটি সূত্র আছে।
মজ্জিম নিকায়ের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো: চারি আর্যসত্য, আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ, প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি, পার্থিব ভোগসুখের অসারতা, পরমার্থ সত্য, নির্বাণ ইত্যাদি।
সংযুক্ত নিকায়ে ছাপ্পান্নটি সংযুক্ত বা অধ্যায় আছে। এগুলো পাঁচটি বর্গে বিভত্ব। প্রতিটি বর্গে কতগুলো অধ্যায় রয়েছে। যথা- সগাথা বর্গে এগারোটি, নিদান বর্গে বারোটি, খন্ধ বর্গে তেরোটি, সলায়তন বগে দশটি এবং মহাবর্গে বারোটি অধ্যায় আছে। পাঁচটি বগে মোট সূত্রসংখ্যা ২৮৮৯টি।
সূত্র পিটকের সর্বশেষ ভাগ খুদ্দক নিকায়। এটি ষোল ভাগে বা যোলটি গ্রন্থের সমন্বয়ে গঠিত। একেকটি গ্রন্থের বিষয়বস্তু একেক রকম। গ্রন্থসমূহের বিষয়বস্তুর মধ্যে কোনো ধারাবাহিকতা নেই। খুদ্দক নিকায়ে বৈচিত্র্যময় বিষয়ের সমাহার লক্ষ করা যায়। তাই খুদ্দক নিকায়কে প্রকীর্ণক সংগ্রহও বলা হয়।
বিনয় পিটককে বৃদ্ধ শাসনের আয়ু বলা হয়। বিনয় পিটক সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, সূত্র ও অভিধর্ম লুপ্ত হয়ে গেলেও যদি বিনয় পিটক পরম আদরে, গভীর শ্রদ্ধায় ও গৌরবের সাথে অনুশীলিত হয় তবে বুদ্ধের ধম কখনো লুপ্ত হবে না।
সূত্ত' শব্দের অর্থ হলো সূত্র, আর 'বিভঙ্গ' শব্দের অর্থ, ভেঙে ফেলা অর্থাৎ ভেঙে বা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে ভাবার্থ ব্যাখ্যা করা। অতএব 'সুত্ত বিভঙ্গ' শব্দের অর্থ হলো 'সূত্র ব্যাখ্যা'। অর্থাৎ বিনয়ের নিয়ম-নীতি বা মূল শিক্ষাপদের বিস্তৃত ব্যাখ্যা।
বিনয় পিটকের দ্বিতীয় ভাগের নাম খন্দক। এই ভাগের বিশেষত্ব হচ্ছে যে, এতে বিনয়ের বিধিবিধানসমূহকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন ভারতের ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, ভ্রমণ, নির্মাণ ও উন্নয়ন এরূপ বহু ঐতিহাসিক তত্ত্ব ও তথ্যে খন্ধক সমৃদ্ধ।
ডিষ্ণু ও ভিক্ষুণীদের আচরণ সম্পর্কিত বিষয়াবলি পরিবার বা পরিবার পাঠ গ্রন্থটিতে বর্ণিত আছে। বিশেষত, বিনয়ের জটিল এবং দুর্বোধ্য বিষয়সমূহ প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এ-গ্রন্থে সূক্ষ্মভাগে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ধম্মসঙ্গণি'-এর অর্থ ধর্মের সংগণনা বা ধর্মের শ্রেণিবিভাগ অথবা ধর্মের ব্যাখ্যা। ধর্ম অর্থাৎ লৌকিক ও লোকোত্তর বিষয়সমূহ শ্রেণিবিভাগ করে ব্যাখ্যা করায় গ্রন্থটির এরূপ নামকরণ করা হয়।
বিভঙ্গ' শব্দের অর্থ বিশদ ব্যাখ্যা। এতে ধর্মসফাণি বিষয়সমূহের উচ্চতর বা বিশদ ব্যাখ্যা লক্ষ করা যায়। গ্রন্থটিতে আঠারোটি অধ্যায় রয়েছে।
পুগ্গল' শব্দের অর্থ পুরুষ, সত্ত্ব বা আত্মা। 'পঞঞত্তি' অর্থ প্রজ্ঞপ্তি, ধারণা, পরিচয় অথবা যথার্থ বলে নির্দেশ করা ইত্যাদি বোঝায়। সুতরাং, 'পুালপঞঞত্তি' শব্দের অর্থ যে-পুস্তক পুাল বা ব্যক্তি বিশেষের পরিচয় প্রদান করে।
অভিধর্ম পিটকের মধ্যে অন্যতম মূল্যবান গ্রন্থ হলো 'কথাবন্ধু'। ত্রিপিটকের অন্তর্গত গ্রন্থগুলোর মধ্যে একমাত্র 'কথাবন্ধু' গ্রন্থের সংকলকের নাম পাওয়া যায়। সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে তৃতীয় বৌদ্ধ মহাসঙ্গীতি অবসানে মোগলিপুত্র তিষ্য স্থবির গ্রন্থটি রচনা করেন
পট্ঠান' শব্দের অর্থ হলো সম্বন্ধ, কারণ বা প্রধান কারণ, প্রকৃত কারণ, হেতু ইত্যাদি। গ্রন্থটিতে নাম-রূপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতিও আলোচনা করা হয়েছে।
বুদ্ধের ধর্ম-দর্শনই ত্রিপিটকের মূল উপজীব্য বিষয়। প্রসঙ্গক্রমে এ গ্রন্থে বুদ্ধের সমকলীন সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম-দর্শন, রাজনীতি, ভূগোল, অর্থনীতি প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। তাই ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য ত্রিপিটকের গুরুত্ব অপরিসীম।
ত্রিপিটকের প্রতিটি বাণী মানুষকে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে উদ্বুদ্ধ করে। অকুশল কর্ম থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে। সকল প্রকার পাপ বর্জন করে ধর্মময় জীবনযাপনে প্রেরণা যোগায়। মানুষকে দুঃখহীন নৈর্বাণিক পথে পরিচালিত করে।
ত্রিপিটক' বৌদ্ধদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ।
বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন ত্রিপিটকের মূল ভিত্তি।
ত্রিপিটক পালি ভাষায় রচিত।
বুদ্ধের ধর্মোপদেশ
ভিক্ষু উপালি।
মহামতি বুদ্ধের মুখনিঃসৃত অমূল্য ধর্মোপদেশই হলো বুদ্ধবাণী।
সুভদ্র
সিংহলে।
প্রথম সংগীতির সভাপতি ছিলেন মহাকাশ্যপ স্থবির।
বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের একশত বছর পরে বজ্জিপুত্রীয় ভিক্ষুগণ বিনয় বহির্ভূত দশটি বিধিবিধান চালু করলে সঙ্ঘে বিভাজন সৃষ্টি হয়।
সম্রাট অশোকপুত্র মহিন্দ্র স্থবির কতিপয় সঙ্গীসহ ত্রিপিটক কণ্ঠস্থ করে সিংহলে নিয়ে যায়।
সিংহলের রাজা বট্টগামিনী।
তালপত্রে বা ভূর্জপত্রে ত্রিপিটক লিখে রাখা হয়।
বিনয় পিটক, সূত্র পিটক, অভিধর্ম পিটক- এই তিনটি পিটককে একত্রে ত্রিপিটক বলে
সুত্ত বা ত্রিপিটক বলে।
বুদ্ধের ধর্মবাণী সূত্র আকারে গ্রথিত ভাগকে সুত্ত বা সূত্র পিটক বলে।
১৬টি গ্রন্থ।
সূত্র পিটক পাঁচ ভাগে বিভক্ত
সর্বমোট চৌত্রিশটি সূত্র আছে।
অনেকগুলো ছোট ছোট সংযুক্ত সূত্র নিয়ে এ নিকায় গঠিত বলে একে সংযুক্ত নিকায় নামকরণ করা হয়েছে।
অঙ্গুত্তর নিকায় ১১টি নিপাতে বিভক্ত।
খুদ্দক' শব্দের অর্থ ক্ষুদ্র বা ছোট
সুত্তবিভজ্ঞঙ্গ- মহাবিভঙ্গ ও খুদ্দক বিভঙ্গ এই দুইভাগে বিভক্ত
'চূল্ল' শব্দের অর্থ হলো ক্ষুদ্র।
চূল্লবর্গের অপর নাম ক্ষুদ্র বর্গ
ত্রিপিটকের শেষ খণ্ডের-নাম অভিধর্ম পিটক
যমক গ্রন্থটিতে দশটি অধ্যায় আছে
বিনয়' শব্দের অর্থ হলো নিয়ম, নীতি, শৃঙ্খলা বা বিধিবিধান।
বিনয়ের অপর নাম 'নিয়ম', 'নীতি' বা 'শৃঙ্খলা' ইত্যাদি। বিনয়কে সহজ অর্থে 'শীল' বলা হয়।
তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
বিনয় পিটককে বৌদ্ধ শাসনের ভিত্তি বলা হয়।
বিনয় পিটককে বৌদ্ধ শাসনের ভিত্তি বলা হয়।
পাচিত্তিয়া বলতে প্রায়শ্চিত্তিক, দুঃখ প্রকাশ, দোষ স্বীকার ইত্যাদি বোঝায়।
বৌদ্ধ দর্শন।
অভিধর্ম পিটকের চারটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো বিশেষত চিত্ত, 'চৈতসিক, রূপ ও নির্বাণ।
৭ ভাগে ভিভক্ত।
পঞ্চস্কন্ধ হলো রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান।
বৌদ্ধধর্মের দর্শন শাস্ত্র বিভঙ্গ গ্রন্থে- স্কন্ধ, ধাতু, ইন্দ্রিয়, তথা শরীর ও মনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে।
পুগ্গল শব্দের অর্থ ব্যক্তি।
পঠান শব্দের অর্থ মূল কারণ।
বিশেষত চিত্ত, চৈতসিক, রূপ এবং নির্বাণ প্রভৃতি সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে অভিধর্ম পিটকে বিশ্লেষণ হওয়ায় অভিধর্মকে উচ্চতর ধর্ম বলা হয়।
অভিধর্ম পিটকের পঞ্চম গ্রন্থ কথাবন্ধুকে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন সম্পর্কিত তর্কশাস্ত্র বলা হয়।
বুদ্ধ লিখিত আকারে কোনো ধর্মোপদেশ না দেওয়ায় শিষ্যরা তাঁর সকল উপদেশসমূহ কণ্ঠস্থ করে ধারণ করে রাখতেন। বৃদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর ভিক্ষুগণ উক্ত উপদেশসমূহ লিখিত আকারে সংগ্রহ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন এবং মহাপরিনির্বাণের তিন মাস পর বুদ্ধ বাণীকে অবিকৃত হওয়ার হাত থেকে রক্ষার্থে মহাকশ্যপ স্থবিরের নেতৃত্বে প্রথম সঙ্গীতির মাধ্যমে ত্রিপিটক সংকলন করা হয়। বিভিন্ন রাজন্যবর্ণের সহায়তায় পরবর্তীকালে প্রায় ৬টি সংঙ্গীতির মাধ্যমে ত্রিপিটক সংকলন করা হয় যা ত্রিপিটকের পটভূমি হিসেবে পরিচিত।
বুদ্ধ পালি ভাষায় ধর্ম প্রচার করেন। কারণ পালি ভাষা তৎকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের ভাষা ছিল। বৌদ্ধ ধর্ম যাতে সহজে সর্বজনস্বীকৃত হয় এজন্য বুদ্ধ পালি ভাষায় ধর্ম প্রচার করেন। বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ ত্রিপিটক পালি ভাষায় রচিত।
খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে সিংহলের রাজা বউগামিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় তালপত্রে বা ভূর্জপত্রে লিখে ত্রিপিটক সংরক্ষণ করা হয়।
যুদ্ধবিগ্রহ দুর্ভিক্ষ এবং নানা কারণে সিংহালে বুদ্ধ শাসন পরিহানির আশঙ্কা দেখা দেয়। এভাবে বুদ্ধবাণীর স্থায়ী রূপ দান করা হয়। কালক্রমে আরও স্থায়িত্ব দানের জন্য ত্রিপিটক তালপত্র থেকে পাথরে খোদাই করে, কাগজে লিখে এবং টেপ রেকর্ডারে ধারণ করে সংরক্ষণ করা হয়।
বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণে তাঁর প্রণীত নিয়ম মানতে হবেনা ভেবে দুর্বিনীত ভিক্ষু সুভদ্র আনন্দ বোধ করেন। তাই সে ভিক্ষুদের শোক করতে নিষেধ করে।
বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধ মহাপরিনির্বাণ লাভ করলে বুদ্ধশিষ্যগণ কান্না করতে লাগল। তখন বুদ্ধের শেষ শিষ্য সুভদ্র তাদের শোক করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন মহাশ্রমণের মৃত্যুতে আমরা উপদ্রব হতে মুক্ত হয়েছি। এখন নিজেদের ইচ্ছামতো চলতে পারব।
দুর্বিনীত শিষ্যদের মনোভাব এবং বুদ্ধবাণীর পরিহানির আশঙ্কার বুদ্ধবাণী সংকলনের কারণ।
বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর দুর্বিনীত শিষ্যগণের ভিত্তি ও মনোভাব বুদ্ধবাণীর পরিহানির আশঙ্কায় বিনয়ী ভিক্ষুগণ শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। বিনয়ী ভিক্ষুরা আশঙ্কা করলেন, বুদ্ধবানী অসংকলিত অবস্থায় থাকলে যে কোনো সময় তা বিকৃত হতে পারে। তাই বুদ্ধবাণী সংকলনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
বুদ্ধশিষ্যগণ একেক জন একেক রকম গুণসম্পন্ন ছিলেন। কেউ ছিলেন বিনয়ে পারদর্শী, কেউ সূত্রে, কেউ বুদ্ধের ধর্মবাণী ব্যাখ্যায়, কেউ দর্শনে, কেউ ধর্ম দেশনায়। এ কারণে বুদ্ধশিষ্যগণ বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত হতেন। যেমন- বিনয়ধর, সূত্রধর, অভিধর্মধর, ধর্মকথিক, অগ্রশ্রাবক, মহাশ্রাবক ইত্যাদি।
আজ হতে দুই হাজার পাঁচশ বছর আগে ভগবান বুদ্ধের আবির্ভাব হয়। তিনি শিষ্যদের উদ্দেশ্যে ধর্মদেশনা ও উপদেশ দিতেন। তাঁরা বুদ্ধের বাণী ও উপদেশ মনে রাখতেন ও অন্যদের শোনাতেন। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর ধর্মবাণী সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। বুদ্ধের প্রধান শিষ্য মহাকাশ্যপ রাজগৃহের সন্তপর্ণি গুহায় এক ধর্মসভা ডাকেন। এভাবে বুদ্ধবাণী সংগ্রহের জন্য যে ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয় তাকে সংগীতি বলে। বিভিন্ন সংগীতির মাধ্যমে ত্রিপিটক লিপিবদ্ধ করা হ্যা।
মহামতি বুদ্ধের মুখনিঃসৃত অমূল্য বাণীর সংকলন হলো 'ত্রিপিটক'। ত্রিপিটক শব্দটি 'ত্রি' এবং 'পিটক' শব্দের অর্থ হলো আধার, পেটিকা, ঝুড়ি ইত্যাদি। বুদ্ধবাণী ধরন ও প্রকৃতি অনুসারে তিনটি ধারায় বিভক্ত করে তিনটি পেটিক বা আধারে সংরক্ষণ করা হয় বলে তা ত্রিপিটক নামে অভিহিত হয়।
বিনয় পিটকের দ্বিতীয় ভাগের নাম খন্ধক। এতে গৌতম বুদ্ধের সম্বোধি লাভের পরবর্তী ঘটনাসমূহ অর্থাৎ বিনয়ের বিধি বিধানসমূহকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন ভারতের ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি,. অর্থনীতি, ভূগোল, ভ্রমণ, নির্মাণ ও উন্নয়ন এরূপ বহু ঐতিহাসিক তত্ত্ব ও তথ্যে খন্ধক সমৃদ্ধ।
বুদ্ধশাসন স্থায়ী করার জন্য বিনয় সংগ্রহ করা. প্রয়োজন।
বিনয়কে বুদ্ধ শাসনের আয়ু বলা হয়। বিনয়ের স্থিতিতেই বুদ্ধশাসনের স্থিতি নির্ভরশীল। কারণ বিনয় ব্যতীত বুদ্ধশাসনের স্থিতি সম্ভব নয়। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের তিন মাস পরে অনুষ্ঠিত প্রথম সঙ্গীতিতে সর্বপ্রথম বিনয় সংগ্রহ করা হয়েছিল।
বিনয়' শব্দের অর্থ হলো নিয়ম, নীতি, শৃঙ্খলা বা বিধি-বিধান। বুদ্ধ নির্দেশিত বিধি-বিধান যে পিটকে সংকলিত আছে তা বিনয় পিটক নামে অভিহিত। ভিক্ষুসঙ্ঘ সুশৃঙ্খল, ন্যায়-নিষ্ঠা পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার মানসে বুদ্ধ এসব বিনয় বা বিধি-বিধান নির্দেশ করেছিলেন।
১. পারাজিকা: পারাজিকা শব্দের অর্থ হলো পরাজয়, বর্জিত, অপসারিত। অর্থাৎ ধর্ম থেকে চ্যুত, বিনয় কর্মে অযোগ্য।
২. পাচিত্তিয়া: পাচিত্তিয়া শব্দের অর্থ প্রায়শ্চিত্তিক, দুঃখ প্রকাশ, দোষ স্বীকার ইত্যাদি। পালি সাহিত্যে মোট ৯২টি পাচিত্তিয়া ধর্মের উল্লেখ আছে।
মহাবর্গ: মহাবগ্ন বুদ্ধত্ব লাভ হতে বৌদ্ধ সংঘ প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত বুদ্ধ জীবনের ধারাবাহিক ইতিহাস আছে।
চুল্লবর্গ: চুল্লবর্গ গ্রন্থে কর্ম, পরিবাস, সমুচ্চয়, সমথ, ক্ষুদ্রবস্তু, সেনাসন, সংঘভেদ, ব্রত, ভিক্ষু প্রাতিমোক্ষ, ভিক্ষুণী প্রাতিমোক্ষ পঞ্চম ও সপ্তম সংগীতি বিষয়ে আলোচনা আছে।
পরিবার পাঠ: ২১টি অধ্যায়ে রচিত এই গ্রন্থে কবিতাকারে ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের বিষয় সংবলিত শিক্ষাপদসমূহের ব্যাখ্যা রয়েছে।
বাষট্টি প্রকার ধর্মীয় ও দার্শনিক মতবাদ এবং জাতিভেদ প্রথা সম্পর্কে দীঘ নিকায়ে যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা বুদ্ধের সমসাময়িককালের প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করে। এছাড়া এ নিকায়ের মহাপরিনির্বাণ সূত্রে বুদ্ধের জীবন চরিত্রের চিত্তাকর্ষক বর্ণনা পাওয়া যায়। দীর্ঘ নিকায়ে ধর্ম-দর্শন অপেক্ষা নৈতিক ও মানবিক জীবন গঠনে অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
মজিম নিকায়ে ভিক্ষুদের জীবনযাত্রা, ভিক্ষুসঙ্ঘের সাথে গৃহী ও রাজন্যবর্গের সম্পর্ক, বৃদ্ধকালীন ভারতের সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় অবস্থার বিবরণ পাওয়া যায়। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য আচরণীয় বিষয়সমূহ এ গ্রন্থে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয় ও সরলভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই পাঁচটি নিকায়ের মধ্যে মজ্জিম নিকায়কে সর্বোত্তম বলে গণ্য করা হয়।
বুদ্ধের দর্শনেরর সূক্ষাতিসূক্ষ বিশ্লেষণই অভিধর্ম। বৌদ্ধ দর্শনই অভিধর্ম পিটকের মূল আলোচ্য বিষয়। অভিধর্ম পিটক সাত ভাগে বিভক্ত। যথা। ১। ধম্মসঙ্গণি, ২। বিভক্তজা, ৩। ধাতুকথা, ৪। পুয়লপঞত্তি, ৫। কথাবন্ধু, ৬। যমক এবং ৭। পঠান।
অভিধর্ম পিটকের মূল আলোচ্য বিষয় হলো বৌদ্ধ দর্শন। তাই অভিধর্ম পিটককে বৌদ্ধধর্মের দর্শন বলা হয়। ত্রিপিটকের তৃতীয় বা শেষভাগ হলো অভিধর্ম পিটক। বৌদ্ধধর্ম দর্শনের সমৃদ্ধ আলোচনায় এ গ্রন্থটি ভরপুর। বুদ্ধের দর্শনের সূক্ষাতিসূক্ষ বিশ্লেষণই অভিধর্ম। বুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক উপদেশই অভিধর্মের মূল বিষয়বস্তু। সূত্র পিটকে যেসব দার্শনিক ও নৈতিক বিষয়সমূহ অনুসরণ করার উপদেশ রয়েছে সেসব বিষয় অভিধর্ম পিটকে সূক্ষ ও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বিভঙ্গ অভিধর্ম পিটকের দ্বিতীয় গ্রন্থ। বিভঙ্গ শব্দের অর্থ বিশদ ব্যাখ্যা। এ গ্রন্থে পঞ্চস্কন্ধ, দ্বাদশ আয়তন, অষ্টাদশ ধাতু, চার আর্যসত্য, দ্বাবিংশতি ইন্দ্রিয়, প্রতীত্যসমুৎপাদ, চার স্মৃতি প্রস্থান, চার সম্যক প্রধান, চার ঋদ্বিপাদ, সপ্তবোধ্যঙ্গ, আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ, ধ্যান, চার অপ্রমেয়, শিক্ষাপদ, চারি প্রতিসম্ভিদা ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।
অভিধর্ম পিটকে মোট ৭টি গ্রন্থ আছে। এ সাতটি গ্রন্থের সমষ্টিকে সপ্তপ্রকরণ বলা হয়। এ ৭টি গ্রন্থ অভিধর্ম পিটকের অন্তর্গত বলেই অভিধর্ম পিটককে সপ্ত প্রকরণ বলা হয়।
পট্ঠান' শব্দের অর্থ মূল কারণ বা প্রকৃত কারণ। এর বিষয়বস্তু প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি বা কার্যকারণ তত্ত্ব সম্পর্কিত। বিশেষত নামরূপ বা শরীর ও মনের অনিত্যতা ও অনাত্মা সম্পর্কে আলোচনাই এ গ্রন্থে গুরুত্ব পেয়েছে। যেমন- ১. আলম্বন ২. ধর্মনিশ্রয় ৩. কর্ম এবং ৪. অস্ত্রি। নির্বাণ ব্যতীত সমস্ত জাগতিক বস্তুর কার্যকারণ নির্ণয় করাই এর প্রতিপাদ্য বিষয়।
পুগ্গল' শব্দের অর্থ ব্যক্তি, যা দ্বারা মানুষকে বোঝায়। 'পঞঞত্তি' হলো- প্রজ্ঞপ্তি, প্রকাশ বা পরিচয়। বিভিন্ন প্রকার পুরুষের যথার্থ পরিচয় তুলে ধরাই এ গ্রন্থের বিশেষত্ব। এ গ্রন্থে স্কন্ধ, আয়তন, ধাতু, সত্য, ইন্দ্রিয় এবং পুদগল এই ছয় প্রকার প্রজ্ঞপ্তির উল্লেখ আছে।
মোগলিপুত্র তিষ্য স্থবির কথাবথু রচনা করেন। এটি অভিধর্মের পথ্যম গ্রন্থ। মূলত যুক্তিতর্কের মাধ্যমে মিথ্যাদৃষ্টি খণ্ডনই এ গ্রন্থ রচনার প্রধান উদ্দেশ্য। কথাবন্ধুথু তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত। পালি ত্রিপিটক সাহিত্যে কথাবন্ধু গ্রন্থ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মোমলিপুত্র তিষ্য স্থবির এই গ্রন্থে প্রমাণ করেছেন থেরবাদ বা স্থবিরবাদই বুদ্ধের মূলনীতি। এটাকে বিভজ্যবাদও বলা হয়। বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে কথাবথু একটি অতি মূল্যবান গ্রন্থ।
ত্রিপিটক পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ত্রিপিটক বৌদ্ধদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ। ধর্মীয় গ্রন্থ হলেও প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের ধর্ম-দর্শন, সমাজ-সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, পুরাতত্ত্ব প্রভৃতি সম্পর্কে ত্রিপিটকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ত্রিপিটকের বিষয়বস্তু ধর্মীয় জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, তেমনি মানুষের নৈতিক বিকাশ ও মানবিক গুণাবলিকে বিকশিত করে।
Related Question
View Allচূল্লবর্গের অপর নাম ক্ষুদ্র বর্গ।
ত্রিপিটক পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
ত্রিপিটক বৌদ্ধদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ। ধর্মীয় গ্রন্থ হলেও প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের ধর্ম-দর্শন, সমাজ-সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, পুরাতত্ত্ব প্রভৃতি সম্পর্কে ত্রিপিটকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ত্রিপিটকের বিষয়বস্তু ধর্মীয় জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, তেমনি মানুষের নৈতিক বিকাশ ও মানবিক গুণাবলিকে বিকশিত করে।
১ম ছকের ইঙ্গিত দ্বারা ত্রিপিটকের সূত্র পিটকের নির্দেশ করছে। বুদ্ধের বাণী সূত্র আকারে গ্রথিত ভাগকে সুত্ত বা সূত্র পিটক বলে। সূত্র পিটক পাঁচটি প্রধান ভাগে বিভক্ত যথা- দীঘ নিকায়, মজ্জিম নিকায়, সংযুক্ত নিকায়, অঙ্গুত্তর নিকায় এবং খুদ্দক নিকায়।
বুদ্ধভাষিত দীর্ঘ সূত্রগুলো দীঘ নিকায়ে সংকলিত যার সর্বমোট চৌত্রিশটি সূত্র আছে। মধ্যম আকৃতির সূত্রসমূহ যে নিকায়ে সংকলিত করা হয়েছে তা মজিম নিকায় নামে পরিচিত। পূর্ববর্তী দুটি নিকায়ের তুলনায় ক্ষুদ্র এবং বিভিন্ন আঙ্গিকের বিষয়বস্তু সংযুক্ত সূত্রসমূহ যে নিকায়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা সংযুক্ত নিকায় নামে কথিত। এ নিকায়ে ছাপ্পান্নটি গুচ্ছ বা সংযুক্ত অধ্যায় আছে। সংখ্যার ক্রমবৃদ্ধি ধারায় বিধৃত সূত্রসমূহ যে নিকায়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা অঙ্গুত্তর নিকায় নামে খ্যাত এবং অঙ্গুত্তর নিকায়ে মোট ২৩০৮ টি সূত্র রয়েছে। বুদ্ধভাষিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সূত্রসমূহ যে নিকায়ে সংকলিত তা খুদ্দক নিকায় নামে পরিচিত।
২য় ছকের বর্ণিত পিটক অর্থাৎ ত্রিপিটকের অভিধর্ম পিটকে বৌদ্ধ দর্শন ও পরমার্থ সত্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
ত্রিপিটকের তৃতীয় বা শেষ ভাগ হলো অভিধর্ম পিটক যা বৌদ্ধ ধর্ম- দর্শনের সমৃদ্ধ আলোচনায় গ্রন্থটি ভরপুর। সূত্র পিটকে যেসব দার্শনিক ও নৈতিক বিষয়সমূহ অনুসরণ করার উপদেশ দিয়েছেন সেসব বিষয় অভিধর্ম পিটকে সূক্ষ্ম ও বিস্মৃতভাবে ব্যাখ্যা করে উপস্থাপন করা হয়েছে। গ্রন্থটির মূল আলোচ্য বিষয় বৌদ্ধদর্শন ও পরমার্থ সত্য। যথা: স্কন্ধ, আয়তন, ধাতু, চ্যুতি, প্রতিসন্ধি, বল, নির্বাণ ও প্রজ্ঞপ্তি ইত্যাদি। অভিধর্ম পিটকে বৌদ্ধ মননশীলতার চরম বিকাশ ঘটে। অভিধর্ম বিষয়ে প্রকৃষ্ট জ্ঞান ব্যতীত কেউ উত্তম ধর্ম দেশনা করতে পারে না এবং এতে কাল্পনিক কোনো বিষয়ের অবতারণা নেই। কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের সাহায্যে মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করাই এর প্রধান বিশেষত্ব। বুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক উপদেশই অভিধর্মের মূল বিষয়বস্তু। বিশেষত চিত্ত, চৈতসিক, রূপ এবং নির্বাণ প্রভৃতি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে অভিধর্ম পিটকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, বৌদ্ধ দর্শন ও পরমার্থ সত্য বিশ্লেষণ গুরুত্বে অভিধর্মকে উচ্চতর ধর্মও বলা হয়।
ত্রিপিটক পালি ভাষায় রচিত।
বুদ্ধ লিখিত আকারে কোনো ধর্মোপদেশ না দেওয়ায় শিষ্যরা তাঁর সকল উপদেশসমূহ কণ্ঠস্থ করে ধারণ করে রাখতেন।
বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর ভিক্ষুগণ উক্ত উপদেশসমূহ লিখিত আকারে সংগ্রহ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন এবং মহাপরিনির্বাণের তিন মাস পর বুদ্ধ বাণীকে অবিকৃত হওয়ার হাত থেকে রক্ষার্থে মহাকশ্যপ স্থবিরের নেতৃত্বে প্রথম সঙ্গীতির মাধ্যমে ত্রিপিটক সংকলন করা হয়। বিভিন্ন রাজন্যবর্গের সহায়তায় পরবর্তীকালে প্রায় ৬টি সংঙ্গীতির মাধ্যমে ত্রিপিটক সংকলন করা হয় যা ত্রিপিটকের পটভূমি হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!