'আদর্শ' শব্দটির আরবি প্রতিশব্দ উছওয়া
'উছওয়াতুন হাসানাহ' বলতে বোঝায় সুন্দর আদর্শ
মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ হযরত মুহাম্মদ (স.)
কাবাঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করেছিল।
বিশ্বমানবতার শান্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (স.)
বর্বর ও মানবতাবিরোধী
আইয়্যামে জাহিলিয়্যা
আইয়্যামে জাহিলিয়্যা অর্থ অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ
জাহেলী যুগে আরবে উকায মেলার প্রচলন ছিল।
আস-সাবউল মুআল্লাকাত
আস সাবউল মুয়াল্লাকাহ' অর্থ সাতটি ঝুলন্ত গীতিকবিতা
ন্যায়ের পথ নির্দেশ করার জন্য
৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
আব্দুল্লাহ
আব্দুল মুত্তালিব
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাতার নাম আমিনা
ওয়াহাব
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ধাত্রী মায়ের নাম হালিমা।
বনু সাদ গোত্রের লোক ছিলেন
বনু সাদ
আবদুল্লাহ মহানবি (স.)-এর দুধভাই ছিলেন।
৮-বছর
১২ বছর
বুহায়রা নামক এক খ্রিষ্টান পাদ্রী
নিষিদ্ধ মাসে
কুরাইশ ও কাইস
'হারবুল ফিজার' মানে অন্যায় সমর
৫ বছর স্থায়ী ছিল
যুবকদের নিয়ে 'হিলফুল ফুযুল' গঠন করেছিলেন
'আল-আমিন' হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপাধি ছিল
আমানতদার ছিলেন
উত্তম চরিত্র
চাচা আবু তালিব
৪০ বছর
হযরত মুহাম্মদ (স.)
৩৫ বছর বয়সে
বিবি খাদিজা (রা.)-এর উক্তি
আত্মীয়স্বজনকে প্রথমে ইসলামের দাওয়াত দিলেন
প্রকাশ্যে দাওয়াত শুরু করার পর
মক্কার লোকদের অত্যাচার ও নির্যাতনে
৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেছিলেন
মহানবি (স.)-এর মদিনা গমন বোঝায়
আওস ও খাযরাজ
মুহাজির ও আনসারদের
'মদিনা সনদ'-এর মোট ধারা ছিল ৪৭টি
৬ষ্ঠ হিজরিতে
৬৩০ খ্রিস্টাব্দে
ক্ষমা বিষয়টি প্রতিফলিত হয়
মক্কা বিজয়ের পর বলেছিলেন
৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজ করেন
যুল হুলাইফায় এসে ইহরাম বাঁধেন।
যুল হুলাইফায়
আরাফাতের ময়দান
জাবালে রহমত দশম হিজরি
১২টি
বিদায় হজের দিন অবতীর্ণ হয়
উমর ইবন আবদুল আজিজ (রা.)
খুলাফায়ে রাশেদিন অর্থ সঠিক পথ নির্দেশপ্রাপ্ত খলিফা।
মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)
৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন
কুরাইশ বংশের তায়িম গোত্রে
আবু বকর (রা.)
তাবুক হাজির করেন
হযরত আবু বকর (রা.)
হযরত আবু বকর (রা.)
মহা সত্যবাদী
হযরত আবু বকর (রা.)-এর
হযরত আবু বকর (রা.)
ইয়ামামার যুদ্ধে
হযরত আবু বকর (রা.)-এর
চূড়ান্তভাবে কুরআন সংকলন করায়
ইসলামের ত্রাণকর্তা
হযরত উমর ফারুক (রা.)
উমর (রা.)
'ফারুক' শব্দের অর্থ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী।
৩৩ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন
হযরত উমর (রা.)
তার নাম আবু শাহা
হযরত উমর (রা.)
হযরত উমর (রা.) ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন
হযরত উমর (রা.)
হযরত উমর (রা.)
হযরত উমর (রা.)-এর
৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
'যুননুরাইন' উপাধি উসমান (রা.) এর
৩৪ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন
উসমান (রা.)
তাবুক
৩০ হাজার সৈন্য ছিল
হযরত উসমান (রা.) ১০০০ উট দান করেছিল
হযরত উসমান (রা.)
বনু হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন
হযরত আলি (রা.)-এর পিতার নাম আবু তালিব
হযরত আলি (রা.) ১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন।
বদরের যুদ্ধে
কামুস দুর্গ খাইবারে
হযরত আলি (রা.) 'আসাদুল্লাহ' উপাধি পেয়েছিলেন কামুস দুর্গ জয় করে
হযরত আলি (রা.)
আল্লাহর সিংহ
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর
ফাতিমা (রা.)
মহানবি (স.)
মক্কায়
মক্কা বিজয়ের পর
খলিফা মামুন
বাগদাদে অবস্থিত
আল্লাহ তায়ালার বাণী
সাফা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত
মুহাম্মদ
ইমাম বুখারি (র.)
১৬ বছর
৭২৭৫টি
ফিকহ শাস্ত্রের জনক
কুফায় জন্মগ্রহণ করেন
ইমাম আবু হানিফা (র.)
ইমাম আবু হানিফা (র.)
ইমাম আবু হানিফা (র.)
সংখ্যা ছিল ৪০ জন
ফিকাহ্ শাস্ত্রে অবদানের জন্য
ইমাম আবু হানিফা (র.)
আবু হানিফা (র.)
মানসুর
ইমাম গাযালি (র.)
ইমাম গাযালি
ইমাম গাযালি (র.)
দর্শন ও শিক্ষা
১১১১ খ্রি.
ইবনে জারির আত তাবারি
ইবনে জারির আত তাবারি
তাফসির বিষয়ে খ্যাত
ইবন জারির তাবারি
আল রাযি
বসন্ত ও হাম
আবু বকর আল-রাযি
১০ খন্ডে
আবু বকর আল রাযি
১০৪৮ খ্রিস্টাব্দে
ইবনে সিনা
ইবনে সিনা
ইবনে সিনা'
আল-কানুন ফিত-তিব্ব
ড. ওসলার
চিকিৎসা
রসায়ন
জাবির ইবনে হাইয়ান
আযদ
জাবির ইবনে হাইয়ান
রসায়ন শাস্ত্রের পরিপূর্ণতা দান
আল-কিন্দি
আল-কিন্দি
আল-কিন্দি
৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে ইন্তিকাল করেন
আল কাসি
২০ বছর
আল-মাসুদি
ইয়াকুত ইবনে আব্দুল্লাহ
ভূগোল
ইবনে খালদুন
মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারেযমি
আল-খাওয়ারেযমি
গণিত বিষয়ের গ্রন্থ
হাসান ইবনে হায়সাম
হাসান ইবনে হায়সাম
দৃষ্টিবিজ্ঞান ওপর রচিত
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রথম আবিষ্কারক হাসান ইবনে হায়সাম।
উমর খৈয়াম
গণিত ওপরে রচিত
গণিত ওপর লিখিত গ্রন্থ
আদর্শকে আরবিতে 'উছওয়া' বলে। আদর্শ বলতে অনুকরণীয়-অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য চালচলন এবং রীতিনীতিকে বোঝায়। মানুষের সামগ্রিক জীবন সুন্দর ও সফল করতে যেসব মনীষীর জীবনকর্ম অনুসরণ করা হয় তা-ই হলো জীবনাদর্শ।
হয়রত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো পথ অনুসরণ করে যাঁরা শ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এবং তাঁদের জীবনাদর্শ দ্বারা মানবজাতিকে সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করেছেন, তাঁদের জীবনের ভালো দিকগুলোই হলো আমাদের জন্য আদর্শ।
আদর্শ জীবনচরিতের বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের। যথা-
১. গ্রহণীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং
২. বর্জনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
মানুষের মাঝে সততা, বিশ্বস্ততা, উদারতা ও পরমতসহিষ্ণুতার সমন্বয় থাকা, আত্মসংযম, পরোপকারিতা, বদান্যতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা, বিনয় ও নম্রতা থাকা এবং সুশৃঙ্খলতা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, নিরপেক্ষতা, ক্ষমা ও ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি গুণের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকা।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে আরবের মানুষ চরম বর্বরতা ও অজ্ঞতার মাঝে ডুবে ছিল। তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল চরমভাবে অধঃপতিত। তারা অসংখ্য মূর্তি তৈরি করত এবং মূর্তির পূজা করত।
মহানবি (স.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে আরব সমাজের লোকেরা নবি ও রাসুল এর শিক্ষা ভুলে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। তদের আচার-ব্যবহার ও চালচলন ছিল বর্বর ও মানবতাবিরোধী। তাই সে যুগকে আইয়্যামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগ বলা হয়।
প্রাক-ইসলামি যুগে নারীদের কোনো মর্যাদা ছিল না। নারীদের সামাজিক জীব মনে করা হতো না; বরং দাসী হিসেবে তাদের বিক্রি করা হতো। তাদের ভোগ-বিলাসের বস্তু মনে করা হতো। তখন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।
তৎকালীন আরবে উকায মেলায় তৎকালীন সময়ের প্রসিদ্ধ কবিগণ তাদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করত। যেসব কবিতা সেরা বিবেচিত হতো তা সোনালি বর্ণে লিখে পবিত্র কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। আরবি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ 'আস-সাবউল মুয়াল্লাকাত' জাহিলি যুগেই রচিত।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) আরবের কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল্লাহ। দাদার নাম আব্দুল মুত্তালিব। মাতার নাম আমিনা। জন্মের পর মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ধাত্রী মা হালিমার ঘরে লালিত ও পালিত হন।
শৈশবকাল হতেই মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সত্যবাদী ও শান্তিকামী। সিরিয়া হতে ফিরে এসে তিনি ফিজার যুদ্ধের বিভীষিকা দেখলেন। যুদ্ধটি শুরু হলো নিষিদ্ধ মাসে।
হিলফুল ফুযুলের উদ্দেশ্যগুলো হলো- ১. আর্তের সেবা। ২. অত্যাচারীকে প্রতিরোধ ও অত্যচারিতকে সাহায্য করা। ৩. শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। ৪. গোত্রে গোত্রে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা।
মহানবি (সা.)-এর চারিত্রিক গুণাবলি আমানতদারি, সত্যবাদিতা, ন্যায়নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার কারণে তৎকালীন আরবের লোকজন তাঁকে আল-আমিন (বিশ্বাসী) উপাধি দিয়েছিল। নবুয়ত প্রাপ্তির পর যারা তাঁকে অস্বীকার করেছিল তারাও তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে পারেনি।
হযরত খাজিদা (রা.) মুহাম্মদ (সা.)-এর গুণাবলি পর্যবেক্ষণ করার জন্য তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মচারী 'মাইসারা'-কে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে সিরিয়া পাঠান। মাইসারা সিরিয়া থেকে ফিরে এসে মুহাম্মদ (স.)-এর চারিত্রিক গুণাবলি খাদিজা (রা.)-এর নিকট বর্ণনা করেন। তাতে মুগ্ধ হয়ে খাদিজা নিজেই হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নিকট তাঁর বিবাহের প্রস্তাব পাঠান।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বয়স যখন পঁয়ত্রিশ বছর তখন কাবা শরিফ পুনঃনির্মাণ করা হয়। হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) স্থাপন নিয়ে আরবের বিভিন্ন গোত্রে বিরোধ দেখা দেয়। হযরত মুহাম্মদ (স.) অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও নিরপেক্ষতার সাথে 'ফায়সালার মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের দ্বন্দ্ব সমাধান করেন।
হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে বিবাহের পর হযরত মুহাম্মদ (স.) মক্কার অদূরে হেরা পর্বতের গুহায় গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। দীর্ঘদিন ধ্যানে মগ্ন থাকার পর ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র রমযান মাসের কদরের রাতে হযরত জিবরাইল (আ.) তাঁর নিকট ওহি নিয়ে আসেন এবং তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হন।
হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়তপ্রাপ্ত পর বাড়ি ফিরে এসে খাদিজা (রা.)-এর নিকট সব ঘটনা খুলে বললেন এবং জীবনের আশংকা করলেন। তখন হযরত খাদিজা (রা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন-কখনো না। আল্লাহর শপথ। তিনি আপনাকে কখনো অপদস্থ করবে না।
নবুয়ত প্রাপ্তির পর মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বিপথগামী মক্কাবাসীর নিকট ইসলাম প্রচার আরম্ভ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
মক্কার কাফিররা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ইসলাম প্রচার থেকে বিরত রাখতে না পেরে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিল। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করলেন।
মুহাজির অর্থ হিজরতকারী। মুহাজির হলো যারা ইসলামের উদ্দেশ্য মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। আনসার অর্থ হলো সাহায্যকারী। আনসার হলো যারা মদিনায় অবস্থানকারী মুহাজিরদেরকে সার্বিক সাহায্য করেন।
মদিনা ছিল বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের লোকজনের আবাস। হযরত মুহাম্মদ (সা.) এসব জাতিকে এক করে সেখানে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করেন। এ কাজ করতে গিয়ে তিনি সকল গোত্রের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে একটি লিখিত সনদ প্রণয়ন করেন। যা ইসলামের ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত।
মদিনা সনদের মোট ৪৭টি ধারা আছে। তন্মধ্যে দুটি ধারা লেখা হলো-
১. সনদে স্বাক্ষরকারী মুসলমান, ইহুদি ও পৌত্তলিক সম্প্রদায়সমূহ সমানভাবে নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।
২. মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) হবেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান এবং সর্বোচ্চ বিচারালয়ের কর্তা।
মক্কা বিজয়ের পর মহানবি (সা.) সাধারণ ক্ষমা ঘোষপা করলেন। বললেন, "আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই, যাও তোমরা মুক্ত ও স্বাধীন।"
হযরত মুহাম্মদ (স.) বুঝলেন আর বেশিদিন পৃথিবীতে তাঁর থাকা হবে না। তাই তিনি ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে (দশম হিজরিতে) হজ করার ইচ্ছা করলেন। এ উদ্দেশ্যে উক্ত সালের যিলকদ মাসে লক্ষাধিক সাহাবি নিয়ে হজ করতে গেলেন, যা বিদায় হজ নামে পরিচিত।
বিদায় হজের ভাষণে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে মহানবি (স.) বলেন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না; পূর্বের অনেক জাতি এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে। নিজ যোগ্যতা বলে ক্রীতদাস যদি নেতা হয় তার অবাধ্য হবে না। বরং তার আনুগত্য করবে।
জাহিলি যুগের সকল কুসংস্কার-ও হত্যার প্রতিশোধ বাতিল করা হলো। তোমাদের পথপ্রদর্শনের জন্য আল্লাহর বাণী এবং তাঁর রাসুলের আদর্শ রেখে যাচ্ছি। এগুলো যতদিন তোমরা আঁকড়ে থাকবে। ততদিন তোমরা বিপথগামী হবে না।
দ্বীনের পূর্ণাঙ্গতা ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন- "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের জন্য আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।" (সূরা আল-মায়িদা: ৩)
খুলাফায়ে রাশেদিন অর্থ 'সঠিক পথনির্দেশপ্রাপ্ত খলিফা।' এর দ্বারা ইসলামের প্রথম চারজন খলিফাকে বোঝায়। তাঁরা হলেন, হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলি (রা.)।
ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) কৌত খ্রিস্টাব্দে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশের তায়িম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম আব্দুল্লাহ এবং তাঁর উপাধি সিদ্দিক ও আতিক। ছোটকাল থেকেই মহানবি (স.)-এর সাথে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব। বর পুরুষদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইসলাম কবুল করেন।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি হযরত আবু বকর (রা.)-এর ছিল অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা। তিনি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর মুখে মি'রাজের ঘটনা শোনামাত্র নিঃসন্দেহে তা বিশ্বাস করেন। তাই তাঁকে সিদ্দিক (মহাসত্যবাদী) উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
খলিফা নির্বাচিত হয়ে তিনি জনতীর উদ্দেশ্যে বললেন, "যতদিন আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-এর অনুসরণ করি ততদিন তোমরা আমার অনুসরণ করবে এবং আমাকে সাহায্য করবে। আর ভুল পথে চললে তোমরা আমাকে সাথে সাথে সংশোধন করে দেবে। তোমাদের মধ্যে যারা দুর্বল তাদের হক আদায় না করা পর্যন্ত তারাত আমার নিকট শক্তিশালী। আর যারা সবল তাদের নিকট থেকে। ম পাওনাদারের হক আদায় না করা পর্যন্ত তারা আমার নিকট দুর্বল।"
ইয়ামামার যুদ্ধে অনেক কুরআনের হাফিয শাহাদাতবরণ করেন। এতে কুরআন বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দিলে তিনি পবিত্র কুরআনকে একত্র করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। এসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার কারণে তাঁকে ইসলামের 'ত্রাণকর্তা' বলা হয়।
মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.) ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশের আদি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম খাত্তাব। মাতার নাম হানতামা। তিনি ছিলেন শিক্ষিত, মার্জিত ও সৎ চরিত্রের অধিকারী।
হযরত উমর ফারুক (রা.) ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তিনি ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য স্বীয় ধন-সম্পদ অকাতরে ব্যয় করেন। তাবুক অভিযানে হযরত উমর ফারুক (রা.) তাঁর সমুদয় সম্পদের অর্ধেক আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেন
হযরত উমর (রা.) ছিলেন ন্যায় ও ইনসাফের এক মূর্তপ্রতীক। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সমাজে পূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। আইনের চোখে তিনি ধনী-গরিব, আপন-পরের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করতেন না। তিনি মদ্যপানের অপরাধে নিজ পুত্র আবু শাহমাকে অত্যন্ত কঠোর শাস্তি দিয়েছিলেন।
হযরত উমর ফারুক (রা.) ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর মানবীয় গুণটি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠে। তিনি সত্য ও অসত্যের বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ থাকতেন। উমর ফারুক (রা.) ছিলেন সাম্য জবাবদিহিতা ও মানবতাবোধের মহান আদর্শ।
যুননুরাইন অর্থ দুই জ্যোতির অধিকারী। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁর দু'কন্যা বুকাইয়া ও উম্মে কুলসুমকে (একজনের মৃত্যুর পর আরেক জনকে) হযরত উসমান (রা.)-এর সাথে বিবাহ দের। এ কারণে তাঁকে যুননুরাইন (দুই জ্যোতির অধিকারী) বলা হয়।
মুসলিম জাহানের তৃতীয়, খলিফা হযরত উসমান (রা.)। তিনি ৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে। মক্কার কুরাইশ বংশের উমাইয়া গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও লজ্জাশীল ছিলেন। শিক্ষা-দীক্ষায়ও ছিলেন স্বনামধন্য।
হযরত উসমান (রা.) কে গনি বলা হয়। হযরত উসমান (রা.) ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী। ব্যবসা করে এসব ধন-সম্পদ অর্জন করেন। যার কারণে তাঁকে গনি (ধনী) বলা হতো। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ইসলাম ও মানবতার সেবায় অকাতরে তাঁর সম্পদ ব্যয় করেন।
হযরত উসমান (রা.) ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী। ব্যবসা করে এসব ধন-সম্পদ অর্জন করেন। রোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে শক্তিশালী করতে তিনি একাই এক হাজার - উট দান করেন। এছাড়াও তিনি সাতটি ঘোড়া ও এক হাজার দিনার মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দরবারে দান করেন।
হযরত উসমান (রা.) উম্মুল মুমিনিন হযরত হাফসা (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত পবিত্র কুরআনের মূল কপি সংগ্রহন করেন। হিজরি ৩০ মোতাবেক ৬৫১ খ্রি: হযরত হাফসা (রা.) থেকে সংগৃহীত কপির 'ন্যায় আরও ৭টি কপি তৈরি করে তা ইসলামি সম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। একে 'মাসহাকে উসমানি' বলা হয়।
হযরত আলি (রা.) ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা। তিনি ৬০০ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশের বনু হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর চাচা আবু তালিবের পুত্র ছিলেন। তাঁর ডাকনাম ছিল আবু তোরাব ও আবুল হাসান। বালকদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবি।
'যুলিফকার' তরবারি ও আসুদুল্লাহ উপাধি হযরত আলি (রা.) -এর সাথে সম্পর্কিত। বদর যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের জন্য রাসূল (স.) তাঁকে 'যুলফিকার', তরবারি উপহার দেন। খায়বারে কামুস দূর্গ জয় করলে হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁকে 'আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ) উপাধি প্রদান করেন।
হযরত আলি (রা.) শৌর্য-বীর্যে ছিলেন অসাধারণ শক্তির অধিকারী। তাঁর নাম শুনলে কাফিরদের মনে ত্রাস সৃষ্টি হতো। খায়বারে কামুস দুর্গ জয় করলে হযরত মুহাম্মদ (স.) তাকে আসাদুল্লাহ (আল্লাহর সিংহ) উপাধি প্রদান করেন।
হযরত আলি (রা.) সারাজীবন জ্ঞান' সাধনায় ব্যস্ত থাকায় সম্পদ উপার্জন করার সময় পাননি। তিনি অনাড়ম্বর ও সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। নিজ হাতে কাজ করে উপার্জন করতেন। কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
হযরত আলি (রা.) আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় ধন-সম্পদ দিয়ে ইসলামের উল্লেখযোগ্য সেবা করতে পারেননি। তবে তাঁর শৌর্য-বীর্য, সাহসিকতা ও লেখনীর মাধ্যমে তিনি ইসলামের অনেক সেবা করেছেন। সাহসিকতা, বীরত্ব, জ্ঞানচর্চা, আত্মসংযম ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনে হযরত আলি (রা.) আমাদের সকলের আদর্শ।
শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মহানবি (সা.) মক্কায় দারুল আরকাম নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববির বারান্দায় ৭০ জন শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে 'সুফফা' নামে একটি শিক্ষায়তন গড়ে তোলেন। মক্কা বিজয়ের পর মসজিদে নববি জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
ইমাম বুখারি (র.)-এর নাম মুহাম্মদ, উপনাম আবু আব্দুল্লাহ, পিতার নাম ইসমাইল, দাদার নাম ইবরাহিম। উপাধি 'আমিরুল মু'মিনুন ফিল হাদিস বা হাদিস বর্ণনায় মুমিনদের নেতা।' তিনি ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির লালন কেন্দ্র বুখারা নগরীতে ১৯৪ হিজরি ১৩ শাওয়াল, ৮১০ খ্রিস্টাব্দের ২১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।
বাল্যকাল থেকে জ্ঞানের প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। তিনি খুব তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন। ফলে ছয় বছর বয়সেই পবিত্র কুরআন হিফজ (মুখস্থ) করে ফেলেন। দশ বছর বয়স থেকেই হাদিস মুখস্থ করা আরম্ভ করেন।
ইমাম বুখারি ছিলেন অগাধ স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তিনি যা দেখতেন বা শুনতেন তা তাঁর মনে থাকত। তাঁর বয়স যখন এগার তখন 'দাখেলি' নামক এক মুহাদ্দিস তাঁর সামনে হাদিস বর্ণনায় ভুল করলে তিনি তা শুদ্ধ করে দেন। উপস্থিত সবাই বুখারির মেধা দেখে আশ্বর্যান্বিত হলেন।
ফিকাহ শাস্ত্রের জনক ইমাম আবু হানিফা (র.) ৮০ হিজরি ৬৯৯ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের কুফা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম নুমান, উপনাম আবু হানিফা। তাঁর উপাধি হলো ইমাম আযম (বড় ইমাম)। পিতার নাম সাবিত। তিনি একজন তাবেঈ ছিলেন।
ইমাম আবু হানিফা (র.) ফিকাহশাস্ত্রের উদ্ভাবক ছিলেন। তিনি তাঁর চল্লিশজন ছাত্রের সমন্বয়ে 'ফিকাহ সম্পাদনা বোর্ড' গঠন করেন। এই বোর্ড দীর্ঘ বাইশ বছর কঠোর সাধনা করে ফিকাহকে একটি পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্র হিসেবে রূপ দান করেন। পরবর্তীতে তিনি বোর্ডের চল্লিশজন সদস্য হতে। দশজনকে নিয়ে একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করেন। ফিকাহশাস্ত্র প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে এই বোর্ডের অবদান সবচেয়ে বেশি।
ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) গড়ার জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর ছাত্র ইয়াযিদ ইবনে হারুন তাঁর সম্পর্কে বলেন, "আমি হাজার হাজার জ্ঞানী দেখেছি, 'তাঁদের বক্তব্য শুনেছি। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মতো জ্ঞানী, খোদাভীরু ও ইলমে ফিকাহ-এ পারদর্শী কাউকে দেখিনি। তাঁদের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা (র.) হচ্ছেন অন্যতম।
তৎকালীন বাগদাদের খলিফা আল মানসুর ইমাম আবু হানিফা (র.)-কে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিলে তিনি. তা গ্রহণ করেননি। ফলে তাঁকে জেলখানায় আবদ্ধ করে রাখা হয়। বলা হয় যে, এ মহান মনীষী ১৫০ হিজরি ৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে খলিফার নির্দেশে প্রয়োগকৃত বিষক্রিয়ার প্রভাবে ইন্তেকাল করেন।
ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ আল গাযালি (র.) ছিলেন মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিক। তিনি ৪৫০ হি. ১০৫৮ খ্রিস্টাব্দে 'তুস' নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম মুহাম্মদ, উপনাম আবু হামিদ। পিতার নাম মুহাম্মদ আসি।
ইবনে জারির আত-তাবারি (র.)-এর তাফসির ও ইতিহাস বিষয়ে গ্রন্থ দুটি প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ।
গ্রন্থ দুটি হলো-
১. জামিউল বায়ান আন তাবিলি আয়িল কুরআন (তাফসির)।
২. তারিখ আর-রুসুল ওয়াল মুলুক (ইতিহাস)।
যে দুটি গ্রন্থ আল রাযিকে অমর করে রেখেছে তা হলো- ১. আল্ জুদাইরি ওয়াল হাসবাহ ও ২. আল মানসুরি।
তিনি বসন্ত ও হাম রোগের ওপর 'আল জুদাইরি ওয়াল হাসবাহ' নামক একখানি গ্রন্থ রচনা করেন। এর মৌলিকত্ব দেখে চিকিৎসাবিজ্ঞানের লোকেরা, খুব আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন। তাঁর আরেকটি গ্রন্থের নাম হলো আল মানসুরি। এটি ১০ খণ্ডে রচিত। এ গ্রন্থ দুটি আল রাযিকে চিকিৎসাশাস্ত্রে অমর করে রেখেছে।
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন আল-বিরুনি। বুরহানুল হক আবু রায়হান মুহাম্মদ, ইবনে আহমদ আল বিরুনি সংক্ষেপে আল বিরুনি নামে পরিচিত। ৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে খাওয়ারিযমের নিকটবর্তী আল বিরুন নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
আল বিরুনি ছিলেন মধ্যযুগীয় শ্রেষ্ঠ মুসলিম পণ্ডিত, মহাজ্ঞানী ও নিষ্ঠাবান গবেষক। গণিত, জ্যোতিষশাস্ত্র, পদার্থ, রসায়ন ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে তিনি পারদর্শী ছিলেন। এছাড়া তিনি প্রসিদ্ধ ভূগোলবিদ, ঐতিহাসিক পঞ্জিকাবিদ, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, ভাষাতত্ত্ববিদ ও ধর্মতত্ত্বের নিরপেক্ষ বিশ্লেষক ছিলেন।
ইবনে সিনা দার্শনিক, চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ এবং মুসলিম জগতের একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও সর্ববিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। চিকিৎসায় তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য তাঁকে আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র ও চিকিৎসা প্রণালি এবং শল্যচিকিখর দিশারি মনে করা হয়।
জাবির ইবনে হাইয়ান দক্ষিণ আরবের আযদ বংশে ৭২২ খ্রি. জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হাইয়ানও একজন চিকিৎসক ছিলেন। গণিতশাস্ত্রে শিক্ষা লাভ শেষে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রেও শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি রসায়নশাস্ত্রে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন।
জুননুন মিসরি তাঁর নাম ছাওবান, পিতার নাম ইবরাহিম। তিনি জুননুন মিসরি নামে পরিচিত। তিনি মিসরের আখমিম নামক স্থানে ৭৯৬ খ্রি. জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সুফি হিসেবে প্রসিদ্ধ হলেও আরব মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে রসায়নশাস্ত্রের উপর যাঁরা প্রথমদিকে গবেষণা করেন তিনি তাঁদের অন্যতম।
অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা এবং বিস্তৃত এলাকার লোকদের কেবল নির্ধারণসহ নানা প্রয়োজনে মানচিত্রের খুব প্রয়োজন দেখা দেয়। ইসলাম প্রচারক ও বণিকগণের জন্য দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করার তাগিদে ভূগোলের জ্ঞানার্জন খুব জরুরি হয়ে পড়েছিল। এ প্রয়োজন মেটানোর জন্য আল মোকাদ্দাসি, আল-মাসুদি, ইয়াকুত ইবনে আব্দুল্লাহ ও ইবনে খালদুনসহ অনেক মনীষী ভূগোল শাস্ত্রে অসামান্য অবদান রাখেন।
আল-মাসুদি পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করেন। পৃথিবীর আকার, আয়তন, গতি ও প্রধান প্রধান বিভাগগুলোর বিবরণ দেন। তাঁর নাম আবুল হাসান আলি বিন হুসাইন আল মাসুদি। তিনি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর নাম আব্দুর রহমান, পিতার নাম মুহাম্মদ। তিনি ইবনে খালদুন নামে পরিচিত। তিনি ১৩৩২ খ্রি. তিউনিসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বিশ্বজোড়া খ্যাতির মূলে ছিল তাঁর ভূগোল বিষয়ক গ্রন্থ 'কিতাব আল-ইবার ওয়া দিওয়ান আল-মুবতাদা ওয়াল খাবার ফি-আইয়াম আল-আরাব ওয়াল আযম ওয়া বারবার' একটি সংক্ষেপে আল মুকাদ্দিমা নামে পরিচিত।
নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিয়মি। ৭৮০ খ্রি. খাওয়ারিযম নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে গণিতশাস্ত্রের 'জনক' বলা হয়। বীজগণিতের আবিষ্কারক হলেন আল-খাওয়ারিযমি। তিনি ৮৫০ খ্রি. ইন্তেকাল করেন।
ম্যাগনিফাইং গ্লাস আবিষ্কার করেন হাসান ইবনে হায়সাম। হাসান ইবনে হায়সাম একজন চক্ষুবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি দৃষ্টিশক্তির প্রতিসরণ ও প্রতিফলন বিষয়ে গ্রিকদের ভুল ধারণা খণ্ড করেন। তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, বাহ্যপদার্থ থেকেই আমাদের চোখে আলোকরশ্মি প্রতিফলিত হয়। চোখ থেকে বের হওয়া আলো বাহ্যপদার্থকে দৃষ্টিগোচরণ করায় না।
আদর্শকে আরবিতে ‘উছওয়া’ বলে।
সেসব জীবনকর্ম অনুসরণীয়, অনুকরণীয় ও সর্বজন গ্রহণীয় তাকেই আদর্শ জীবন বলে।
আদর্শ বলতে অনুকরণীয়-অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য চালচলন এবং রীতিনীতিকে বোঝায়।
মানুষের সামগ্রিক জীবন সুন্দর ও সফল করতে যেসব মনীষীর জীবনকর্ম অনুসরণ করা হয় তা-ই হলো জীবনাদর্শ।
হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ।
আদর্শ জীবন চরিত্রে দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। যেমন- ক. গ্রহণীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং খ. বর্জনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল।
প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের লোকেরা পবিত্র কা'বাঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করেছিল।
প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের লোকেরা পবিত্র কা'বাঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করেছিল।
প্রাক ইসলামি যুগে আরবের লোকজন নবি ও রাসুল (স.)-এর শিক্ষা ভুলে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল। তাদের আচার-ব্যবহার ও চালচলন ছিল বর্বর ও মানবতাবিরোধী। সেই যুগকে 'আইয়্যামে জাহেলিয়া' বা অজ্ঞতার যুগ বলা হয়।
প্রাক-ইসলামি যুগ আইয়্যামে জাহিলিয়্যা নামে পরিচিত।
প্রাক-ইসলামি যুগে আরবে নারীদেরকে ভোগবিলাসের বস্তু মনে করা হতো।
জাহিলি যুগে আরবের লোকজন অধিকাংশ নিরক্ষর ও অশিক্ষিত হলেও সাহিত্যের প্রতি তাদের খুব অনুরাগ ছিল।
প্রাক-ইসলামি যুগের আরবের বাৎসরিক মেলার নাম ওকাষ মেলা।
'আস-সাবউল মুয়াল্লাকাত' (সাতটি ঝুলন্ত গীতিকবিতা) জাহিলি যুগে রচিত আরবি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
আরবি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ 'আস-সাবউল মুআল্লাকাহ' (সাতটি ঝুলন্ত গীতিকবিতা) জাহিলি যুগে রচিত হয়।
আরব যখন চরম জাহিলিয়্যাতে নিমজ্জিত তখন আরবের কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) জন্মগ্রহণ করেন।
মহানবি (স.)-এর পিতার নাম আব্দুল্লাহ।
মহানবি (স.)-এর দাদার নাম আব্দুল মুত্তালিব।
মহানবি (স.)-এর মাতার নাম আমিনা।
মহানবি (স.)-এর নানার নাম ওয়াহাব।
মহানবি (স.)-এর জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন।
মহানবি (স.)-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মদ। আর তাঁর মাতা নাম রাখেন আহমাদ।
মহানবি (স.)-এর ধাত্রীমাতা ছিলেন হালিমা।
বনু সাদ গোত্র বিশুদ্ধ আরবিতে কথা বলত।
শৈশবকাল হতে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাঝে ন্যায় ও ইনসাফের দৃষ্টান্ত দেখা যায়।
হালিমা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে পাঁচ বছর লালন-পালন করে তাঁর মা আমিনার নিকট রেখে যান।
প্রিয়নবি (স.)-এর বয়স যখন ছয় বছর তখন তাঁর মাতা ইন্তেকাল করেন।
প্রিয়নবি (স.)-এর মাতা ইন্তেকাল করার পর তাঁর লালন-পালনের ভার নেন দাদা আব্দুল মুত্তালিব।
প্রিয়নবি (স.) ১২ বছর বয়সে ব্যবসার উদ্দেশ্যে চাচার সঙ্গে সিরিয়া যান।
সিরিয়া যাত্রাকালে মহানবি (স.)-এর সাথে 'বুহায়রা' নামক এক পাদ্রীর সাক্ষাৎ ঘটে।
বুহায়রা একজন খ্রিস্টান পাদ্রি, যিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে শেষ যামানার আখেরি নবি হিসেবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
বুহায়রা মুহাম্মদকে অসাধারণ বালক বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন যে, "এ বালকই হবে শেষ যামানার আখেরি নবি (শেষ নবি)।"
সিরিয়া হতে ফিরে এসে মহানবি (স.) ফিজার যুদ্ধের বিভীষিকা দেখলেন।
নিষিদ্ধ মাসে কায়স গোত্রের দ্বারা অন্যায়ভাবে কুরাইশদের ওপর আরোপিত ৫ বছর মেয়াদি এক যুদ্ধকে হারবুল ফিজার বা অন্যায় যুদ্ধ বলে।
কায়স গোত্র ও কুরাইশদের মধ্যে ফিজার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
'হারবুল ফিজার' বা অন্যায় যুদ্ধ পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
আরবদের শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে রাসুল (স.)-এর গঠিত শান্তি সংঘকে হিলফুল ফুযুল বলে।
হযরত মুহাম্মদ (স.) কিশোর বয়সে আরবের শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে একটি শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, যা 'হিলফুল ফুযুল' নামে পরিচিত।
হারবুল ফিজার আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো অন্যায় যুদ্ধ।
ফিজার যুদ্ধের বিভীষিকা দেখে মহানবি (স.) 'হিলফুল ফুযুল' গঠনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।
মহানবি (স.) আরববাসীদের দ্বারা 'আল-আমিন' বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
মহানবি (স.)-এর সময়কালে তখনকার আরবের শ্রেষ্ঠ সম্পদশালী ছিলেন বিদুষী মহিলা হয়রত খাদিজা (রা.)।
খাদিজা হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর গুণাগুণ পর্যবেক্ষণ করার জন্য তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মচারী 'মাইসারাকে মুহাম্মদ (স.)-এর সাথে সিরিয়া পাঠিয়েছিলেন।
মহানবি (স.) যখন বিবি খাদিজাকে বিয়ে করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর।
মহানবি (স.) যখন বিবি খাদিজাকে বিয়ে করেন, তখন বিবি † খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর।
হযরত মুহাম্মদ (স.) বিবি খাদিজা (রা.)-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পদ নিজের ভোগবিলাসে ব্যয় না করে অসহায়, দুঃখী, পীড়িত ও গরিব-মিসকিনদের সেবায় ব্যয় করেন।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বয়স যখন পঁয়ত্রিশ বছর তখন কা'বা শরিফ পুনঃনির্মাণ করা হয়।
আসওয়াদ অর্থ কালো।
হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে বিবাহের পর হযরত মুহাম্মদ (স.) মক্কার অদূরে হেরা পর্বতের গুহায় গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন।
দীর্ঘদিন ধ্যানে মগ্ন থাকার পর মহানবি (স.)-এর ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দের পবিত্র রমযান মাসের ২৭ তারিখ রাতে হযরত জিব্রাঈল (আ.) ওহি নিয়ে আসেন।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াতটি হল- إقرأ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ অর্থ: "পড়ুন। আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আল-আলাক: ১)
হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তির ঘটনা সর্বপ্রথম তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.)-কে বলেছিলেন।
নবুয়তপ্রাপ্তির পর মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ঘোষণা করেন, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল।
নবুয়তপ্রাপ্তির প্রথম তিন বছর পর মহানবি (স.) আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন।
মক্কার কাফিররা হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ইসলাম প্রচার হতে বিরত রাখতে না পেরে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।
মহানবি (সা.) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন।
ইসলামের উদ্দেশ্যে মক্কা হতে মদিনায় হিজরতকারীদেরকে মুহাজির বলা হয়।
মুহাজিরদেরকে সার্বিকভাবে সাহায্যকারী মদিনাবাসীদেরকে আনসার বলা হয়।
মহানবি (স.)-এর মদিনায় হিজরতকালে মদিনা ছিল বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের লোকজনের আবাসস্থল।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের লোকদের নিয়ে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যে লিখিত সনদ প্রণয়ন করেন, তাই ইসলামের ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' হিসেবে খ্যাত।
মদিনা সনদে মোট ৪৭টি ধারা ছিল।
পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান হলো মদিনা সনদ।
মদিনা সনদ হলো মানব ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান।
মদিনা সনদ হলো মানব ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান।
ষষ্ঠ হিজরিতে মক্কার কুরাইশরা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ও মুসলমানদের সাথে হুদায়বিয়ার সন্ধি করে।
মহানবি (স.) ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে (দশম হিজরিতে) হজ করার-ইচ্ছা করলেন। এ উদ্দেশ্যে উক্ত সালের ফেব্রুয়ারি (জিলকদ) মাসে প্রায় লক্ষাধিক সাহাবি নিয়ে হজ করতে গিয়েছিলেন, যা বিদায় হজ নামে পরিচিত।
দশম হিজরির যিলহাজ মাসের নবম তারিখে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) এক যুগান্তকারী ভাষণ দেন। ইতিহাসে এ ভাষণ বিদায় হজের ভাষণ নামে পরিচিত।
বিদায় হজকালে মহানবি (স.) যুলহুলাইফা নামক স্থানে এসে ইহরাম বেঁধে বাইতুল্লাহর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
আরাফাতের ময়দানের পাশে মহানবি (স.) পাহাড়ের উঁচু টিলায় যে স্থানে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দেন সেই স্থানটির নাম 'জাবালে রহমত'।
আরাফাতের ময়দানের পাশে 'জারালে রহমত' নামক পাহাড়ের উঁচু টিলায় দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দেন।
খুলাফায়ে রাশেদিন অর্থ সঠিক পথ নির্দেশপ্রাপ্ত খলিফা। এর দ্বারা ইসলামের প্রথম চারজন খলিফাকে বোঝায়। তাঁরা হলেন-হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলি (রা.)।
ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশের তায়িম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
হযরত আবু বকর (রা.) কুরাইশ বংশের তায়িম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর উপাধি সিদ্দিক ও আতিক।
বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে হযরত আবু বকর (রা.) সর্বপ্রথম ইসলাম কবুল করেন।
তাবুক যুদ্ধের সময় হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর সমুদয় সম্পত্তি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে হযরত আবু বকর (রা.) ব্যবসায় করতেন।
মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.)।
হযরত উমর ফারুক (রা.) ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশের আদি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন
হযরত উমর (রা.)-এর পিতার নাম খাত্তাব। মাতার নাম হানতামা।
হযরত উমর (রা.)-এর বোনের নাম ফাতিমা।
হযরত উমর (রা.)-এর ভগ্নিপতির নাম সাঈদ।
হযরত উমর (রা.) ইসলাম কবুল করার পর বলেছিলেন, "আর গোপন নয় এখন থেকে আমরা প্রকাশ্যে কা'বাঘরের সামনে সালাত আদায় করব।"
হযরত উমর (রা.)-এর উপাধি ফারুক।
'ফারুক' অর্থ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী।
হযরত উমর (রা.) নবুয়তের ষষ্ঠ বছরে ৩৩ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন।
হযরত উমর (রা.) ৩৩ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন।.
খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.)-কে ন্যায় ও ইনসাফের এক মূর্ত প্রতীক বলা হয়
মদ্যপানের অপরাধে হযরত উমর (রা.) স্বীয় পুত্র আবু "শাহমাকে তিনি অত্যন্ত কঠোর শাস্তি দিয়েছেন।
হযরত উমর ফারুক (রা.) ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে খিলাফতের দায়িত্ব পান।
হযরত উমর (রা.) রাষ্ট্রের সকল অধিবাসীর খোঁজখবর রাখার জন্য পুলিশ বিভাগ ও গোয়েন্দা বিভাগ স্থাপন করেন।
মুসলিম জাহানের তৃতীয় খলিফা ছিলেন হযরত উসমান (রা.)।
হযরত উসমান (রা.) ৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশের উমাইয়া গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
যুননুরাইন অর্থ দুই জ্যোতির অধিকারী। এটি হযরত উসমান (রা.)-এর উপাধি ছিল।
যুন্নুরাইন অর্থ দুই জ্যোতির অধিকারী।
হযরত উসমান (রা.) কে যুননুরাইন বলা হয়।
হযরত উসমান (রা.) ৩৪ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন।
মদিনার অধিবাসীদের পানির অভাব দূর করার জন্য হযরত উসমান (রা.) ১৮০০০ (আঠার হাজার) দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ব্যয় করে একটি কূপ ক্রয় করে তা ওয়াকফ্ করে দেন।
তাবুক যুদ্ধের ৩০০০০ (ত্রিশ হাজার) সৈন্যের এক-তৃতীয়াংশ তথা দশ হাজার সৈন্যের ব্যয়ভার হযরত উসমান (রা.) গ্রহণ করেন।
রোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে শক্তিশালী করতে হযরত উসমান (রা.) এক হাজার উট দান করেন।
হযরত উসমান (রা.)-এর সময় কুরআন সংকলন কমিটির প্রধান ছিলেন হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)।
হযরত উসমান (রা.)-এর সময়ে সংকলিত কুরআনের ৭টি প্রতিলিপিকে বলা হয় 'মাসাহাফে উসমানি'।
হযরত আলি (রা.) ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা।
হযরত আলি (রা.) ৬০০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশের বনু হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর চাচা আবু তালিবের পুত্র ছিলেন হযরত আলি (রা.)। এদিক থেকে চাচাতো ভাই। এছাড়া আঙ্গি (রা.) হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কন্যা ফাতিমাকে বিয়ে করেন আর এদিক থেকে জামাতা।
হযরত আলি (রা.)-এর ডাক নাম ছিল আবু তোরাব ও আবুল হাসান।'
হযরত আলি (রা.)-এর ডাকনাম ছিল আবু তোরাব ও আবুল হাসান।
'যুলফিকার' একটি তরবারি, যা বদর যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের জন্য রাসুল (স.) হযরত আলি (রা.) কে উপহার দিয়েছিলেন।
বদর যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের জন্য রাসুল (স.) আলি (রা-কে 'খুলফিকার' তরবারি উপহার দেন।
খায়বারে কামুস দুর্গ জয় করলে হযরত মুহাম্মদ (স.) আলি (রা.)-কে 'আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ) উপাধি দেন।
মক্কা বিজয়ের সময় মুসলিম বাহিনীর পতাকা হযরত আলি (রা.)-এর হাতে ছিল।
হাদিস, তাফসির, আরবি সাহিত্য ও আরবি ব্যাকরণে আলি (রা.) তাঁর যুগের সেরা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কথিত আছে যে, "হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন জ্ঞানের শহর, আর আলি হলেন তার দরজা।"
হযরত আলি (রা.)-এর স্ত্রীর নাম হযরত ফাতিমা (রা.)।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নিকট ওহির সূচনা হয়েছিল 'ইকরা', (তুমি পড়) শব্দ দিয়ে।
জ্ঞান অন্বেষণের বিধান সম্পর্কে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজ।" (ইবনে মাজা
দারুল আরকাম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; যা শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) মক্কায় গড়ে তুলেছিলেন।
মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স.) মসজিদে নববির বারান্দায় ৭০ জন শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে একটি শিক্ষায়তন গড়ে তোলেন, যা 'সুফফা' নামে পরিচিত।
বাইতুল হিকমার প্রতিষ্ঠাতা হলেন আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন।
আব্বাসীয় খলিফা মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানের নাম বায়তুল হিকমা।
ইমাম বুখারি (র.)-এর মূল নাম মুহাম্মদ।"
ইমাম বুখারি (র.)-এর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ।
ইমাম বুখারি (র.)-এর পিতার নাম ইসমাঈল।
হাদিস শাস্ত্রে ইমাম বুখারি (র.)-এর অবদান সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য।
ইমাম বুখারি (র.)-এর দাদার নাম ইবরাহিম।
ইমাম বুখারি (র.)-এর উপাধি 'আমিরুল মু'মিনুন ফিল হাদিস' (হাদিস বর্ণনায় মু'মিনদের নেতা)।
ইমাম বুখারি (র.) ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির লালন কেন্দ্র বুখারা (বর্তমান রাশিয়ায়) নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
ইবনে সিনা দার্শনিক, চিকিৎসক, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং মুসলিম জগতের একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও সর্ববিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।
ইবনে সিনা রচিত চিকিৎসা শাস্ত্রে 'আল-কানুন ফিত-তিবব' গ্রন্থটিকে অমর গ্রন্থ বলা হয়।
ড. ওসলার 'আল-কানুন ফিত-তিবব' গ্রন্থটিকে চিকিৎসা শাস্ত্রের বাইবেল বলে উল্লেখ করেন।
ইবনে রুশদ-এর পুরো নাম আবু ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রুশদ।
ইবনে রুশদ স্পেনের করডোভায় জন্মগ্রহণ করেন।
চিকিৎসাশাস্ত্রে ইবনে রুশদ-এর লেখা গ্রন্থের নাম হলো। 'কুল্লিয়াত'।
আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান দক্ষিণ আরবের আযদ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
জাবির ইবনে হাইয়ান ৭২২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
রসায়নকে সর্বপ্রথম বিজ্ঞানের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শাখা হিসেবে জাবির ইবনে হাইয়ান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
রসায়ন শাস্ত্রের জনক হচ্ছেন জাবির ইবনে হাইয়ান।
জাবির ইবনে হাইয়ান ৮১৫ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
আবু ইয়াকুব ইবনে ইছহাক আল কিন্দি ৮০১ খ্রি. কুফায় জন্মগ্রহণ করেন
আল কিন্দি'র পিতা ইছহাক খলিফা মামুনের শাসনামলে কুফার গভর্নর ছিলেন।
আবু ইয়াকুব ইবনে ইছহাক আল কিন্দি এরিস্টটলের ধর্মতত্ত্ব (Theology of Aristotle) আরবিতে অনুবাদ করেন।
আল কিন্দি নিউপ্লেটোনিজমের উদ্ভাবক ছিলেন।
জুননুন মিসরি'র আসল নাম ছাওবান।
জুননুন মিসরি মিসরের আখমিম নামক স্থানে ৭৯৬ খ্রি. জন্মগ্রহণ করেন।
ইবন আব্দুল মালিক আল কাসি একাদশ শতাব্দীতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন।
ইবন আব্দুল মালিক আল কাসি'র লেখা রসায়নশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'আইনুস সানাহ ওয়া আইওয়ানুস সানাহ' (Essence of the Art and Aid of worker)
আল মোকাদ্দেসি ৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাইতুল মোকাদ্দাস এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
আল মোকাদ্দেসি একজন মুসলিম পরিব্রাজক ও ভূগোলবিদ ছিলেন
আল মোকাদ্দেসি রচিত গ্রন্থের নাম হলো 'আহসানুত তাকাসিম ফি মারিফাতুল আকালিম'।
আল মাসুদি'র পুরো নাম আবুল হাসান আলি বিন হুসাইন আল মাসুদি।
আল মাসুদি একাধারে পরিব্রাজক, ঐতিহাসিক ও ভূগোলবিদ ছিলেন।
মুজামুল বুলদান গ্রন্থের রচয়িতা ইয়াকৃক্ত ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হামাবি।
মুজামুল বুলদান ভূগোল বিষয়ক একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ।
মুজামুল বুলদান গ্রন্থটিতে প্রত্যেক স্থানের ঐতিহাসিক, জাতিতাত্ত্বিক ও প্রাকৃতিক বিষয়ের বিবরণ দিয়েছেন।
ইবনে খালদুন ১৩৩২ খ্রিস্টাব্দে তিউনিসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
ভূগোল বিষয়ক গ্রন্থ 'কিতাব আল-ইবার ওয়া দিওয়ান আল-মুবতাদা ওয়াল খাবার ফি-আইয়াম আল-আরাব ওয়াল আযম ওয়া বারবার' এটি সংক্ষেপে আল মুকাদ্দিমা নামে পরিচিত।
আল মুকাদ্দিমা রচনা করেন ইবনে খালদুন।
গণিতকে বিজ্ঞানের মূল বলা হয়ে থাকে।
মুসা আল খাওয়ারেযমি ৭৮০ খ্রিস্টাব্দে খাওয়ারেযম নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
গণিত শাস্ত্রের জনক হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারেযমি।
বীজগণিতের আবিষ্কারক হলেন মুসা আল খাওয়ারেযমি।
'হিসাব আল জাবর ওয়াল মুকাবালাহ' গ্রন্থের নামানুসারে বীজগণিতশাস্ত্রকে পরবর্তীকালে ইউরোপীয়রা আল-জেবরা নামকরণ করে।
সমীকরণের সমাধান করার ছয়টি নিয়ম মুসা আল খাওয়ারেযমি আবিষ্কার করেন।
হাসান ইবনে হায়সাম একজন চক্ষুবিজ্ঞানী (Optic Science) ছিলেন।
হাসান ইবনে হায়সাম ৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
কিতাবুল মানাযির চক্ষুবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ।
'কিতাবুল মানাযির' হাসান ইবনে হায়সাম রচনা করেন।
বাহ্যপদার্থ থেকেই আমাদের চোখে আলোকরশ্মি প্রতিফলিত হয়, বিষয়টি হাসান ইবনে হায়সাম প্রমাণ করেন।
ম্যাগনিফাইং গ্লাস হাসান ইবনে হায়সাম আবিষ্কার করেন।
মাধ্যাকর্ষণ বিষয়ে প্রথম ধারণা দেন হাসান ইবনে হায়সাম।
স্যার আইজ্যাক নিউটনকে (১৬৪২-১৭১৭ খ্রি.) মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আবিষ্কারক মনে করা হয়।
উমর খৈয়াম-এর পুরো নাম উমর ইবনে ইবরাহিম আল খৈয়াম।
উমর খৈয়াম ১০৪৮ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যে জন্মগ্রহণ করেন।
'কিতাবুল জিবার ওয়াল মুকাবালা' গ্রন্থের রচয়িতা উমর খৈয়াম।
'কিতাবুল জিবার ওয়াল মুকাবালা' গণিতশাস্ত্রের একখানি অমর গ্রন্থ।
নাসির উদ্দিন তুমি জ্যামিতি, গোলাকার, ত্রিকোণোমিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে মোট ষোলটি গ্রন্থ রচনা করেন।
Related Question
View Allরাসুল (স.) গোটা বিশ্বের সর্বকালে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁর জীবনে মানবীয় গুণাবলির সকল দিক ও বিভাগের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। তাঁর চারিত্রিক মাধুর্যের ছোঁয়ায় বর্বর আরবজাতি বিশ্ব দরবারে সভ্য জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয় আপনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।" তাই রাসুল (স.)-এর জীবনাদর্শ আমাদের অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় আদর্শ। তাছাড়া আল্লাহকে ভালোবাসতে হলে রাসুল (স.)-এর আদর্শের অনুসরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। সেজন্যও আমরা তাঁকে অনুসরণ করব।
লোকমান সাহেবকে সিহাব চৌধুরী নানাভাবে নির্যাতন করেছে। লোকমান সাহেব একসময় এর প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ সুযোগ পাওয়ার পরও সিহাব সাহেবকে ক্ষমা করেছেন। লোকমান সাহেবের এ মহৎ গুণটি নবি (স.)-এর মক্কা বিজয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মক্কাবাসীর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবনহানির আশঙ্কায় আল্লাহর নির্দেশে নবি (স.) মদিনায় হিজরত করেন। সেখানেও তিনি শান্তিতে থাকতে পারেননি। মক্কাবাসীদের উন্মত্ত মনোবৃত্তি ও জিঘাংসাসুলভ আচরণের কারণে তারা বার বার মদিনা আক্রমণ করে নবি ও মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা করেছে। যার দরুন কাফির ও মুসলমানদের মধ্যে অনেক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তাতে বহু মুসলিম শাহাদাত বরণ করেন। মক্কা বিজয়ের দিন কাফিরদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সকল সুযোগ ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নবি (স.) সকলকে ক্ষমা করে দেন। ফলে ইসলাম ও মুসলমানদের চিহ্নিত দুশমনেরা ইমান এনে ইসলামের সুশীতল পতাকাতলে জড়ো হয়।
একইভাবে লোকমান সাহেবের ঔদার্যে মুগ্ধ হয়ে সিহাব চৌধুরীও বদলে যায় এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মহানবি (স.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন, "আমি তোমাদের নিকট দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা তা আঁকড়ে ধরে রাখ, তাহলে কখনো পথহারা বা পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলো- আল্লাহর কালাম বা আল কুরআন ও সুন্নাহ তথা হাদিস।” তিনি আরও বলেছিলেন, "মনে রেখ, দেশ, বর্ণ-গোত্র, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল মুসলমান সমান। আজ হতে বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বিলুপ্ত হলো। শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো আল্লাহ ভীতি ও সৎকর্ম। সে ব্যক্তিই সবচেয়ে সেরা, যে নিজের সৎকর্ম দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে।”
মহানবি (স.)-এর উল্লিখিত নির্দেশের আলোকে জনাব সিহাব চৌধুরী নিজের জীবনকে গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, মানুষের সাথে অন্যায় আচরণ করবেন না, সকল ভেদাভেদ ভুলে মুসলিম হিসেবে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হবেন। জীবনের সকল কাজকর্মে কুরআন ও হাদিসের পূর্ণ নির্দেশনা অনুসরণ ও অনুকরণ করবেন।
তাই বলা যায়, তার এ প্রতিজ্ঞা বিদায় হজের ভাষণের নির্দেশনার সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।
রাসুল (স.)-এর প্রিয় সহচর, খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) তাবুক যুদ্ধে তাঁর সকল সম্পদ ব্যয় করেছিলেন।
হযরত উমর (রা.) ছিলেন নবি (স.)-এর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিলেন। তিনি ছিলেন নির্ভীক চিত্তের অধিকারী। তাঁর মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফের পরকাষ্ঠা প্রমাণিত। তিনি মদ্যপানের কারণে স্বীয় পুত্র আবু শাহমাকে 'বেত্রাঘাত করে শাস্তি দিয়েছিলেন। জেরুজালেম যাবার সময় ভৃত্যকে উটের পিঠে চড়িয়ে নিজে রশি টেনেছিলেন এবং অভাবী মায়ের ক্ষুধার্ত সন্তানদের জন্য নিজ পিঠে করে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাই বলা যায়, হযরত উমর (রা.) ছিলেন ন্যায় ও ইনসাফের মূর্ত প্রতীক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!