চারুকলার প্রধান বিষয় এবং পরিচয় হল ছবি আঁকা। বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকা চারুকলার মূল কাজ। ছবি আঁকার জন্য ব্যবহৃত হয় কাগজ, কাপড়, ক্যানভাস, মাটির ফলক, সিমেন্টের ফলক, সিরামিকের ফলক, দেয়াল, কাঠের বাকল বা পাটাতন ইত্যাদি। এছাড়াও ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় পেনসিল, কলম, বুরুজ, তুলি, রং, কালি, ছুরি, হাতুড়ি, বাটাল ইত্যাদি। নানা ধরনের রঙের মধ্যে রয়েছে জলরং, প্যাস্টেল রং, বেল রং, অ্যাক্রেলিক রং ইত্যাদি। এসব রং ছবিকে প্রাণবন্ত করে তোলে আর সমৃদ্ধ করে চারুকলাকে। শিল্পচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা ছবি আমাদের দেশের চারুকলার অন্যতম আকর্ষণ।
আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনযাপনে অসংখ্য কারুশিল্প -ব্যবহৃত হয়। কাঠ, বাঁশ, বেত দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের চমৎকার কারুশিল্প দেশে ও বিদেশে সুনাম অর্জন করতে সামর্থ্য হয়েছে। গ্রামীণ জীবনে দা, কুড়াল, লাঙল, কাস্তে, হাঁড়ি-পাতিল ইত্যাদি সবই কারুশিল্প। মেলায় কারুশিল্পের সমারোহ দেখা যায়। গান-বাজনার বাদ্যযন্ত্র, কাঁসা ও পিতলের হাঁড়ি-পাতিলও কারুশিল্পের অন্তর্গত।
আদিম যুগ থেকেই শিল্পকলার সূচনা হয়েছে। তারা গুহায় বসবাস করত। যে গুহায় তারা বাস করত দলবেঁধে সেই গুহার এবড়োথেবড়ো দেয়ালেই ছবি আঁকত। তাদের কাছে ছবি আঁকা ছিল একটা যাদু বিশ্বাসের মতো। তাই যেসব পশু তারা শিকার করত, তার ছবিই এঁকেছে। আবার পশুর গায়ে তীর, বর্শা এসবও এঁকে দিয়েছে। এর অর্থ হলো, শিকার করার হাতিয়ার দিয়ে পশুটিকে শিকার করা হলো। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, শিকারে আজ সফল হবই। বর্তমানের মতো সুন্দর তুলি ও বিভিন্ন রং তাদের ছিল না। তারা পশুর শক্ত হাড় সুচালো করে তা দিয়ে আঁচড় কেটে রেখা টানত। জীবজন্তুর পশম একসঙ্গে বেঁধে তুলি বানাত, আর রং তৈরি করত নানা রঙের মাটির সঙ্গে চর্বি মিশিয়ে। আর অবাক কাণ্ড-হাজার হাজার বছর পরও এসব ছবির রং, রেখা এখনো খুব সুন্দর ও অক্ষত রয়েছে। চারুকলার মতো কারুশিল্পের সূচনাও আদিম মানুষের হাত ধরেই এসেছে। তারা সেসময় পশু শিকারের জন্য পাথরের তৈরি বিভিন্ন হাতিয়ার ব্যবহার করত। এক পর্যায়ে এসব হাতিয়ারের গায়ে আঁচড় কেটে তারা নানারকম ছবি ফুটিয়ে তুলত। এমনকি তারা মাছের মেরুদন্ডের কাঁটা, হাড়ের টুকরো ইত্যাদি দিয়ে গলার হার (মালা) তৈরি করত। সেখান থেকেই কারুশিল্পের শুরু। এভাবেই আদিম মানবগোষ্ঠী শিল্পকলার সূচনা করেছিল।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি ভিন্ন রকমের, তাদের জীবনযাপনও ভিন্ন। এ কারণে একদেশের মানুষের অন্যদেশের মানুষের ভাষা বুঝাটা বেশ কষ্টকর। কিন্তু এক দেশে বা এক যুগের চিত্রকলা বা শিল্পকলা অন্যদেশের লোকের কয়েকযুগ পরেও বুঝতে কষ্ট হয় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আফ্রিকার জিম্বাবুয়ের একটি নিগ্রো ছেলে যদি বাংলাদেশি কোনো লোকের কাছে কোনো ছবি এঁকে পাঠালে ছবিটি বুঝতে কোনো কষ্ট হবে না।
কিন্তু সেই ছেলেটি তার ভাষায় যদি একটি চিঠি লিখে পাঠায় তাহলে বাংলাদেশি লোকটি জিম্বাবুয়ের ভাষায় বুঝতে পারবে না।
কিন্তু জিম্বাবুয়ের ছেলেটির আঁকা ছবিটি বুঝতে কষ্ট হয়নি। এ থেকে বুঝা যায় একটি ছবির মাধ্যমে নিজের মনের ভাব অন্যের কাছে সহজেই প্রকাশ করা যায়। একারণেই চিত্রকলা ও শিল্পকলাকে আন্তর্জাতিক ভাষা বলা হয়।
পানিতে মিশিয়ে যে রং করা হয় তার নাম জলরং। জলরং দ্বারা মাধ্যম এবং এর ফলে সৃষ্ট শিল্পকর্ম উভয়কে বুঝিয়ে থাকে। জলরং হচ্ছে এমন একটি রং যেটি পানির সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে চিত্রকর্ম আঁকার কাজে ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে ছবি আঁকার জন্য অ্যাক্রেলিক রং নামে এক ধরনের রঙে খুব তাড়াতাড়ি ছবি আঁকা যায়। এই রং পানি ও তেল মিশিয়ে দুরকমভাবেই করা যায়। অ্যাক্রেলিক রঙে ছোটরাও ছবি আঁকতে পারে।
অ্যাক্রেলিক রঙে ছবি আঁকা একটু কঠিন। কেননা যথেষ্ট তাড়াতাড়ি ছবি আঁকতে হয় বলে ছোটদের জন্য এ রং ব্যবহার না করাই ভালো।
প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের শিশুদের ছবি বিশ্বের অনেক দেশেই নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে। অনেক শিশুই সেসব দেশ থেকে পুরস্কার পেয়ে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
আমাদের জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য শিল্পকলা বা চারুকলার সব সময়ের জন্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে গেলেই চারুকলার সঙ্গে আমাদের চমৎকার পরিচয় ঘটবে।
আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনযাপনে ব্যবহৃত বহু বস্তুসামগ্রী রয়েছে যা কারুশিল্প। গ্রামীণ জীবনে দা, কুড়াল, কাস্তে, খস্তি, লাঙল, বাখারি, মাটির হাঁড়িপাতিল ইত্যাদি সবই কারুশিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
সোনা-রুপার তৈরি নানারকম অলংকার, নকশিকাঁথা, মাটির পুতুল, শখের হাঁড়ি, কাঠের নকশাদার হাতি, পোড়ামাটির টেপাপুতুল, বাদ্যযন্ত্রের গায়ে নকশা ও আঁকা ছবি ইত্যাদি আমাদের লোকশিল্পের নিদর্শন।
গান-বাজনার জন্য তৈরি হয় এমন দশটি বাদ্যযন্ত্র হলো: একতারা, দোতরা, তবলা, বায়া, সারেঙ্গী, সেতার, ডুগডুগি, নানারকম বাঁশি, বেহালা এবং ঢোল।
আদিম মানুষেরা ছবি আঁকত এটা জানতে (পেরেছি তাদের আঁকা ছবি দেখে। তারা যে গুহায় দল বেঁধে বাস করত সে গুহার এবড়োথেবড়ো দেয়ালে ছবি আঁকত। এ ধরনের অনেকগুলো গুহা ফ্রান্সে ও স্পেনে আবিষ্কৃত হয়েছে।
আদিম মানুষেরা পশুর শক্ত হাড় সুচালো করে তা দিয়ে আঁচড় কেটে রেখা টানত। জীবজন্তুর পশম একসঙ্গে বেঁধে তুলি রানাত আর রং তৈরি করত নানা রঙের মাটির সাথে চর্বি মিশিয়ে এর দ্বারাই তারা ছবি আঁকত।
সভ্যতার জানার উৎস হচ্ছে চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, কারুশিল্প। আদিম সভ্যতার এসব নিদর্শন সবই বিলীন হয়ে গেছে। ভাষা জানারও কোনো উপায় নেই। কিন্তু প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষে যেসব চিত্র, ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায় তা থেকেই পণ্ডিতরা বের করতে পারেন সে যুগের মানুষের চাল-চলন, সমাজ-সংস্কৃতি ও সভ্যতার ইতিহাস।
নিম্নে ১০টি সভ্যতার নাম দেওয়া হলো :
১. মিশরীয় সভ্যতা,
২. অ্যাশিরিও সভ্যতা,
৩. সুমেরীয় সভ্যতা
৪. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৫. মায়া সভ্যতা,
৬. ক্যালডীয় সভ্যতা
৭. সিন্ধু সভ্যতা,
৮. পারস্য সভ্যতা,
৯. চীন সভ্যতা এবং
১০. হিরু সভ্যতা।

এ অধ্যায় পড়া শেষ করলে আমরা-
- চারু ও কারুকলা কী তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ছবি আঁকার সূচনালগ্নের কথা বর্ণনা করতে পারব।
- কারুশিল্পের সূচনায় আদিম মানুষের ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!