পরিবার ধারণাটি হচ্ছে মোটামুটিভাবে স্বামী-স্ত্রীর একটি স্থায়ী সংঘ বা প্রতিষ্ঠান, যেখানে সন্তানসন্ততি থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে। তবে পরিবার হলো সমাজকাঠামোর মৌল সংগঠন। এক কথায় গোষ্ঠী জীবনের প্রথম ধাপ হচ্ছে পরিবার।
আমরা জানি, যে পরিবারে বিবাহের পর নবদম্পতি স্বামীর পিতৃগৃহে বসবাস করে তাকে পিতৃবাস পরিবার বলে। আমাদের সমাজে পিতৃবাস পরিবারই অধিক। কারণ পুরুষ শাসিত সমাজে ছেলেরা আয়-রোজগার করে, একদিকে তার স্ত্রীকে ভরণপোষণ করে; অন্যদিকে মাতা-পিতাকেও ভরণপোষণ করে। তাই কোনো পিতাই চান না বিয়ে করে সন্তান অন্যত্র চলে যাক। তাছাড়াও বিয়ে করে ছেলেরা পিতামাতাকে ছেড়ে স্ত্রীর পিতৃগৃহে যেতে রাজি নন এজন্য যে, একে তারা ব্যক্তিত্ববোধের প্রতি চরম আঘাত বলে মনে করে।
আমরা জানি, যখন কোনো ব্যক্তি নিজ গোত্রের মধ্যে বিয়ে করে তখন তাকে অন্তর্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। অন্তর্গোত্র ভিত্তিক বিয়ে হিন্দু সমাজেই অধিক প্রচলিত। বর্তমানে এ ধরনের পরিবার গঠনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অধিকাংশ হিন্দু পরিবার এ বর্ণপ্রথাকে কুসংস্কার মনে করে। বস্তুত শিক্ষা ও সচেতনতাবোধই অন্তর্গোত্র পরিবার ব্যবস্থা পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।
বিদ্যালয়ে আমি জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি কতকগুলো সামাজিক আদর্শ আয়ত্ত করেছি। যেমন- শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা, পারস্পরিক ভালোবাসা ইত্যাদি। তাছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমি শিক্ষক, সহপাঠী, কর্মচারী, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ প্রভৃতির সংস্পর্শে আসি। অধিকন্তু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু থেকে আমি সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দেশপ্রেম, ভালোমন্দের বিচারবোধ ইত্যাদি শিখেছি। অতএব, আমার সামাজিকীকরণে বিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম।
পিতা-মাতা, ভাই-বোন, চাচা-চাচি, দাদা-দাদিসহ অন্যান্য। ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে পরিবার কাঠামো গড়ে ওঠে। পরিবার সমাজের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান। পরিবার থেকে সমাজের উৎপত্তি। সমাজের যেসব সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তার মধ্যে পরিবার অন্যতম। মানুষের অকৃত্রিম ও নিবিড় সম্পর্ক পারিবারিক কাঠামোর মাধ্যমেই গড়ে ওঠে। মানর শিশু একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এবং পরিবারেই বড়ো হয়।
পরিবার হচ্ছে মোটামুটিভাবে স্বামী-স্ত্রীর একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, যেখানে সন্তান-সন্ততি এবং অন্য সদস্য থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। পরিবার হলো সমাজকাঠামোর মৌল সংগঠন। গোষ্ঠী জীবনের প্রথম ধাপ হচ্ছে পরিবার। বিবাহের মাধ্যমে সাধারণত পরিবার গঠিত হয়। আদিম সমাজেও পরিবারের অস্তিত্ব ছিল। সে সমাজের বিবাহ ব্যতিরেকেই পরিবার গঠিত হতো।
বিভিন্ন মাপকাঠির ভিত্তিতে পরিবারের প্রকারভেদ নির্ণয় করা হয়।
সমাজভেদে বা দেশভেদে বিভিন্ন প্রকারের পরিবার রয়েছে। পরিবারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন- স্বামী-স্ত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে, কর্তৃত্বের ভিত্তিতে, আকারের ভিত্তিতে, বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে, বিবাহোত্তর স্বামী-স্ত্রীর বাসস্থানের ওপর ভিত্তি করে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ভিত্তিতে প্রভৃতি।
স্বামী-স্ত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে পরিবার তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা- একপত্নী, বহুপত্নী এবং বহুপতি পরিবার। একজন পুরুষের সঙ্গে একজন নারীর বিবাহের মাধ্যমে একপত্নী পরিবার গড়ে ওঠে। আবার একজন পুরুষের সাথে একাধিক নারীর বিবাহের ভিত্তিতে বহুপত্নী পরিবার গড়ে ওঠে। আর একজন নারীর সাথে একাধিক পুরুষের বিবাহের মাধ্যমে বহুপতি পরিবার গড়ে ওঠে।
সাধারণত একজন পুরুষের সঙ্গে, একজন নারীর বিবাহের মাধ্যমে একপত্নী পরিবার গড়ে ওঠে। সারাবিশ্বে এ ধরনের পরিবার অধিক দেখা যায়। এ ধরনের পরিবার কাঠামোতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়। তাই আদর্শ পরিবার বলতে মূলত একপত্নী পরিবারকেই বোঝানো হয়।
বহুপত্নী পরিবারে মূলত একজন পুরুষের একই সময়ে একাধিক স্ত্রী বর্তমান থাকে। সাধারণত কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ মুসলিম সমাজে এক ধরনের বহুপত্নী পরিবার দেখা যায়। এস্কিমো জাতি এবং আফ্রিকার নানান গোষ্ঠীর সমাজেও এ ধরনের পরিবার প্রথা রয়েছে।
একজন নারীর সাথে একাধিক পুরুষের বিবাহের মাধ্যমে যে পরিবার গড়ে ওঠে তাকে বহুপতি পরিবার বলে। বাংলাদেশে এ ধরনের পরিবারব্যবস্থা দেখা যায় না। সাধারণত তিব্বতে এ ধরনের পরিবার দেখা যায়। তাছাড়া দক্ষিণ ভারতের মালাগড় অঞ্চলে টোডাদের মধ্যে এ ধরনের পরিবার দেখা যেত।
পরিবারের সামগ্রিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব পুরুষ সদস্য অর্থাৎ পিতা, স্বামী কিংবা বয়স্ক পুরুষের হাতে থাকলে এ ধরনের পরিবারকে পিতৃপ্রধান পরিবার বলে। এ ধরনের পরিবারের বংশ পরিচয় প্রধানত পুরুষ সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের সমাজে পিতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থা রয়েছে।
স্বামী-স্ত্রী ও তাদের অবিবাহিত সন্তান-সন্ততি নিয়ে গঠিত পরিবারকে একক পরিবার বলে। একক পরিবার দুই পুরুষে আবদ্ধ। দুই পুরুষ হলো পিতা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান। আমাদের দেশের শহরাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবারই একক পরিবার। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের পরিবার প্রথা প্রচলিত।
যখন দাদা-দাদি বা পিতা-মাতার কর্তৃত্বধীনে বিবাহিত পুত্র ও তার সন্তানাদি এক সংসারে বসবাস করে তখন তাকে যৌথ পরিবার বলে। যৌথ পরিবারের বন্ধন রক্তের সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবার এখনও যৌথ পরিবার। তবে নানা কারণে বর্তমানে যৌথ পরিবারের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে
বিবাহোত্তর স্বামী-স্ত্রীর বসবাসের স্থানের ওপর ভিত্তি করে পরিবার তিন ধরনের হয়। যেমন- পিতৃবাস, মাতৃবাস এবং নয়াবাস পরিবার। যে পরিবারে বিবাহের পর নবদম্পতি। স্বামীর পিতৃগ্রহে বসবাস করে তাকে পিতৃবাস পরিবার বলে। আবার, বিবাহের পর নবদম্পতি স্ত্রীর বাসগৃহে বসবাস করলে তাকে মাতৃবাস পরিবার বলে। আর বিবাহিত দম্পতি স্বামী-স্ত্রী কারও পিতার বাড়িতে বাস না করে পৃথক বাড়িতে বাস করাকে নয়বাস পরিবার বলে।
কোনো ব্যক্তি যখন নিজের গোত্রের বাইরে বিবাহ করে তখন তাকে বহির্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। এ ধরনের পরিবার দুই ধরনের হয়। উঁচু বর্ণের পাত্রের সাথে নিচু বর্ণের পাত্রীর বিবাহের মাধ্যমে গঠিত পরিবারকে অনুলোম বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। আর নিচু বর্ণের পাত্রের সাথে উঁচু বর্ণের পাত্রীর বিবাহের মাধ্যমে গঠিত পরিবারকে প্রতিলোম বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে।
জৈবিক চাহিদা পূরণে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজ স্বীকৃতভাবে জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য মানুষ পরিবার গঠন করে। বিবাহের মাধ্যমে, নর-নারীর জৈবিক চাহিদা পূরণ করে। পরিবার গঠনের মূল উদ্দেশ্য সন্তান প্রজনন এবং লালন-পালন করা। সন্তানের সুষ্ঠু লালন-পালন সন্তান প্রজননের আনুষঙ্গিক কাজ।
পরিবার ছিল একসময়ের অর্থনৈতিক কার্যকলাপের মূল কেন্দ্রস্থল। তখন পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো গৃহেই উৎপাদন হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বর্তমানে পরিবারের অর্থনৈতিক কাজগুলো মিল, কারখানা, বাজার, "ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। এখন পরিবারের সদস্যরা অর্থ উপার্জনের জন্য বাইরে কাজ করে থাকে।
পরিবার শিশুর অন্যতম উল্লেখযোগ্য শিক্ষাকেন্দ্র। জন্মের পর শিশু গৃহেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে। মাতাই শিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। যদিও বর্তমানে শিক্ষা দেওয়ার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তবুও আচার-ব্যবহার, নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা, ধর্মীয় বিধিবিধান, আচরণ-সম্পর্কিত বিষয়গুলো শিশু পরিবার থেকে গ্রহণ করে।
পরিবারের মাধ্যমেই মানুষ সবচেয়ে বেশি মানসিক আনন্দ পায় বলেই পরিবারকে বিনোদনের সবচেয়ে বড়ো কেন্দ্র বলা হয়। অতীতের পরিবারের সদস্যদের বিনোদন পরিবারের মধ্যেই সম্পন্ন হতো। বর্তমানে যদিও বিনোদন ব্যবস্থার নানা প্রযুক্তি, যান্ত্রিকতা এসেছে তা তথাপি মানসিক আনন্দের জন্য আজও পরিবারকেই সবচেয়ে বড়ো বিনোদন কেন্দ্র ধরা হয়। পারিবারিক আড্ডা একটি অকৃত্রিম বিনোদন ব্যবস্থা যা পরিবারের সদস্যদের বিনোদনের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরে পরিবারের ধরন ও ভূমিকার পার্থক্য রয়েছে। যেমন-
১. গ্রামে বর্ধিত পরিবার দেখা যায়, কিন্তু শহরে বর্ধিত পরিবার নেই বললেই চলে।
২. গ্রামে পিতৃবাস ও মাতৃবাস পরিবার দেখা গেলেও, শহরে নয়াবাস পরিবারের সংখ্যা বেশি।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দরিদ্রতা ভোগবাদী মানসিকতাসহ নানা কারণে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে যাচ্ছে। যখন দাদা-দাদি বা পিতা-মাতার কর্তৃত্বাধীনে বিবাহিত পুত্র ও তার সন্তানাদি এক সংসারে বাস করে তখন তাকে যৌথ পরিবার বলে। একসময় গ্রামীণ সমাজের যৌথ পরিবারের সংখ্যাই ছিল বেশি। কিন্তু অধিক জনসংখ্যা দরিদ্র্যতা প্রভৃতি কারণে মানুষ যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার গঠন করছে।
পরিবারকে বলা হয় শিশুর আনুষ্ঠানিক ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষালয়। কারণ শিশুর নৈতিক শিক্ষার জন্য পিতামাতাকেই অধিক সচেতন হতে হয়। নৈতিকতার বীজ পারিবারিক মূল্যবোধ থেকেই শিশুর আচরণে বিকশিত হয়। আবার পিতামাতার মাধ্যমেই শিশু শিক্ষাজগতে প্রবেশ করে থাকে। এসব কারণেই পরিবারকে শিশুর আনুষ্ঠানিক শিক্ষালয় বলা হয়।
সন্তান জন্মদান ও প্রজননের ক্ষেত্রে শহরের পরিবারগুলো অধিক সচেতন। শহরের পিতা-মাতারা দুইয়ের অধিক সন্তান নিতে চায় না। গর্ভবতী মাকে সন্তান প্রসাবে অদক্ষ দাইয়ের পরিবর্তে হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে প্রেরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এছাড়া সন্তান প্রসবের পর শিশুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা কারিগরি শিক্ষা ও হাতের কাজের পারদর্শিতা অর্জন করে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ করতে পারছে বলে তাদেরকে এখন বোঝা ভাবা হয় না। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা এখন পড়ালেখা করছে এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নাচ, গান ও. খেলাধুলা করছে। যার কারণে আমাদের দেশের অটিস্টিক শিশুরা শিশু অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করে নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছে।
যে প্রক্রিয়ায় শিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয় তাকে সামাজিকীকরণ বলে। জন্মের পর হতে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন ও খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়াই সামাজিকীকরণ। এটি একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন একপর্যায় হতে আরেক পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন তাকে নতুন নতুন পরিকেশ ও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। ফলে তার আচরণে পরিবর্তন আসে?।
আচরণগত পারস্পরিক প্রভাবের প্রতিক্রিয়াকে বলে মিথস্ক্রিয়া। মানুষের সমাজজীবনের মূল বিষয়ই হলো মিথস্ক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তোমার শ্রেণির একজন সহপাঠী বন্ধুর আচরণ মূলত অন্যদের আচরণকে প্রভাবিত করে এবং অন্যদের ব্যবহার দ্বারা তুমি নিজেও প্রভাবিত.।
যে প্রক্রিয়ায় শিশু ক্রমশ সামজিক মানুষে পরিণত হয় তাই সামাজিকীকরণ। সামাজিকীকরণের উপাদান তিনটি। যথা-
১. সামাজিক পরিবেশ:
২. সমাজজীবন;
৩. সামাজিক মূল্যবোধ।
যে বিশেষ সমাজব্যবস্থার মধ্যে মানুষ বাস করে তাকে সামাজিক পরিবেশ বলে। সামাজিক পরিবেশের মধ্যেই মানুষ বিকশিত হয়। মানুষের অর্থনৈতিক, মানসিক ও নৈতিক জীবনের ওপরও সামাজিক পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। সামাজিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছে সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা-প্রতিষ্ঠান, বিধিব্যবস্থা, সকল প্রকার প্রবণতা, সমস্যা প্রভৃতি।
মানুষ যে সমাজে বসবাস করে, সেই সমাজের জীবনধারা অর্থাৎ আচর-আচরণের সমষ্টিই হলো সমাজজীবন। সমাজজীবন সামাজিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানুষের সমাজজীবন মূলত কতকগুলো আচার-আচরণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মানুষ সমাজের নানা কর্মকাণ্ড ও অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণ করে। এসব কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট আচরণের সাথে মানুষ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে।
মূল্যবোধ হলো আমাদের সমাজবদ্ধ জীবনের বৈশিষ্ট্য। এটি সামাজিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানুষের জীবনধারা মান পরিমাপ করা যায় মূল্যবোধের মাধ্যমে। কেননা, মূল্যবোধ অনুশীলনের মাধ্যমে সামাজিক বিধিব্যবস্থা, আচার-ব্যবহার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ব্যক্তি আচরণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সামাজিক মূল্যবোধ হলো সাধারণ সাংস্কৃতি আদর্শ। এই আদর্শের দ্বারা সমাজের মানুষের মনোভাব, প্রয়োজন ও ভালোমন্দের নীতিগত দিক যাচাই করা যায়। মানুষ বড়ো হওয়ার সাথে সাথে সামাজিক মূল্যবোধগুলো শিখে থাকে। সুযোগ-সুবিধা, বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ছোটোদের প্রতি স্নেহ-ভালোবাসা, সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ প্রভৃতি সামাজিক মূল্যবোধগুলো মানুষ সমাজ থেকেই অর্জন করে থাকে।
সামাজিক মূল্যবোধ ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে। যা ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা, ধ্যানধারণা ও আচরণের দ্বারা প্রকাশিত হয়। মানুষ বড়ো হওয়ার সাথে সাথে সামাজিক মূল্যবোধগুলো শিখে থাকে। সমাজের সকলের সুযোগ-সুবিধা, বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ছোটোদের স্নেহ-ভালোবাসা, সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ প্রভৃতি মূল্যবোধ মানুষ অর্জনের মাধ্যমে সমাজে ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে ওঠে।
শিশু সামাজিকীকরণের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পূর্ণতা অর্জন করে। মানবজীবনে সামাজিকীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামাজিকীকরণের দ্বারা একজন শিশু সমাজের দায়িত্বশীল শিশুতে পরিণত হয়। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খেলার সাথি প্রভৃতি দ্বারা শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ঘটে এবং শিশু সমাজের একজন ব্যক্তি হিসেবে শিশুর পূর্ণতা আসে।
পরিবার সামাজিকীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পরিবারের মধ্যেই সামাজিকীকরণের ক্ষেত্র প্রস্তুত থাকে। পারিবারিক জীবনের মধ্যেই সবার শৈশব কাটে। পরিবারের মধ্যেই সামাজিক নীতিবোধ ও নাগরিক চেতনার সূচনা হয়। সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি ভ্রাতৃত্ববোধ, ত্যাগ, ভালোবাসা প্রভৃতি গুণাবলি শিশু পরিবার থেকেই অর্জন করে। ফলে শিশু একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশে মা-বাবার মধ্যকার সুসম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ মা-বাবার মধ্যে সুসম্পর্ক শিশুর ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। আবার মা-বাবার মধ্যকার দ্বন্দ্ব শিশুর মধ্যেও দ্বন্দ্বের মনোভাব সৃষ্টি করে। পারিবারিক গৃহস্থলিতে, যেকোনো ধরনের নিপীড়ন শিশুর মনে প্রভাব তৈরি করে তাকে বৈরী করে তুলতে পারে।
মা-বাবা এ দুইজনের মধ্যে শিশুর অধিকতর কাছের হলেন 'মা' তাই স্বভাবতই মা হতেই সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে। মা শিশুর খাদ্যাভ্যাস গঠন ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যম। মা শৈশবে শিশুকে যেসব খাদ্যের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি করবেন, শিশুর পরবর্তী জীবনের আচরণে এর প্রভাব লক্ষ করা যাবে। ঘুমপাড়ানি গান, বর্ণ শিক্ষার কৌশল, ছড়াসহ অনেক বিষয়ই শিশু শিক্ষা লাভ করে পরিবারে প্রয়োগ করে। এজন্য বলা হয়, মা-এর মাধ্যমেই সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে।
শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের প্রতিবেশীর ভূমিকা অপরিসীম। বাড়ির আশপাশে যারা বসবাস করন তাদের বলা হয় প্রতিবেশী। শৈশব থেকেই শিশু প্রতিবেশীর সংস্পর্শে বড়ো হতে থাকে। সাধারণত বাড়ির পাশাপাশি বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। প্রতিবেশী দল থেকে শিশু সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে।
প্রতিবেশীরাই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সমাজ স্বীকৃত আচরণ মেনে চলার শিক্ষা দেয়, একজন্য ভালো প্রতিবেশী প্রয়োজন। গ্রাম ও শহরে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ভিন্ন হয়। গ্রামীণ সমাজের প্রতিবেশীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়। শহরে প্রতিবেশীর সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ নয়। তবে আনন্দ-উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনেকটা আপন হয়ে যায়। কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীরাই বেশি ভূমিকা পালন করে। প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার। এসব কারণেই ভালো প্রতিবেশী প্রয়োজন।
পরিবারের পর শিশুর সামাজিকীকরণে বিদ্যালয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয় শিশুর সামাজিকীকরণের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিশুরা শৃঙ্খলবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, শ্রদ্ধাবোধ সহযোগিতা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক ভালোবাসা প্রভৃতি আদর্শ বিদ্যালয় থেকে শিখে থাকে। যা শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে এবং শিশু সততা ন্যায়পরায়ণতা, ভালোমন্দের বিচারবোধ প্রভৃতি শেখে।
সমবয়সী বন্ধুদলকে অন্তরঙ্গ বন্ধুদল বলা হয়। শিশুর সামাজিকীকরণ অন্তরঙ্গ বন্ধুদল গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। এদের মাধ্যমেই শিশুর মধ্যে সহযোগিতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি বিকশিত হয়। অন্তরঙ্গ বা সমবয়সী বন্ধুদের আচরণ প্রায় একই প্রকৃতির। শৈশব ও কৈশোরে এই অন্তরঙ্গ বন্ধুদলের পারস্পরিক আচার-আচরণ শিশুর মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
সামাজিকীকরণে স্থানীয় সমাজ বা সম্প্রদায়ের প্রভাব অপরিসীম। স্থানীয় সমাজের মধ্যে শিশু ধীরে ধীরে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়। এ সমাজের রয়েছে। বিশেষ মূল্যবোধ যা স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠ্যে মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এ সমাজের মানবগোষ্ঠী, সামাজিক পরিবেশ, প্রতিষ্ঠান শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে। এছাড়া স্থানীয় সমাজ বা সম্প্রদায়ের মূল্যবোধ ব্যক্তিজীবনকে প্রভাবিত করে।
গোষ্ঠী বা দল হলো অনেক ব্যক্তির সমষ্টি, যাদের মধ্যে এক বিশেষ ধরনের সম্পর্ক রয়েছে। একটা সাংগঠনিক কাঠামোতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্কযুক্ত মানবগোষ্ঠীই হলো সামাজিক গোষ্ঠী। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংঘ, সাংস্কৃতিক ক্লাব, সাহিত্য ক্লাব প্রভৃতি গোষ্ঠী বা দলের অন্তর্ভুক্ত, স্থানীয়ভাবে গড়ে এসব গোষ্ঠী বা দল ব্যক্তির সামাজিকীকরণে প্রভাব বিস্তার করে।
শিশুর সামাজিকীকরণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। শিশু-কিশোরকে পরিবারে অন্যদের ধর্মীয় আচরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে দেখে। যেমন- ইসলাম ধর্মে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এসব উৎসবের নানা কার্যক্রম ধর্মানুভূতির পাশাপাশি ঐক্য, সংহতি ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধমে শিশু-কিশোরদের মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগে অনুপ্রাণিত করে।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট নানাবিধ সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যম হলো গণমাধ্যম। আধুনিক যুগের সংস্কৃত গড়ে উঠেছে গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে। গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবাদপত্র, বেতার, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন প্রভৃতি। গণমাধ্যমের দ্বারা ব্যক্তিজীবন-জগৎ সম্পর্কে ধ্যানধারণা পায়, বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে ওঠে এবং মনের খোরাক পূরণ করে।
ব্যক্তিজীবনে টেলিভিশন বিশেষ প্রভাব রাখে। টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ব্যক্তিরজীবনে প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যক্তির সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। সে বিজ্ঞানমূলক হয়ে ওঠে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হয়। সামাজিক ও জীবনঘনিষ্ঠ অনেক চলচিত্র ব্যক্তির ব্যক্তিত্বে গভীর প্রভাব ফেলে। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়।
বাংলাদেশের গ্রাম সমাজের কাঠামোর বিশেষ বৈশিস্ট্য হলো-একক ও যৌথ পরিবার কাঠামো, কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা, সহজ-সরল জীবনযাপন, জীবনযাত্রার সামাজিক প্রথার প্রভাব প্রভৃতি। এছাড়া প্রতিবেশীসুলভ আচরণ, ধর্মে ধর্মের প্রতি গভীর মনোযোগ, দারিদ্র্য, অশিক্ষা এ সমাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। গ্রামের শিশু-কিশোরা এ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিবেশেই বড়ো হতে থাকে।
বাংলাদেশের শহর সমাজ কাঠামোর বৈশিষ্ট্য হলো- একক পরিবার কাঠামো, শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি, জটিল সমাজ জীবন, শহরের সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের দূরত্ব প্রভৃতি। পরিবেশের এরূপ বিভিন্ন উপাদানের সাথে ব্যক্তির আচরণিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটে। এসব কিছু ব্যক্তির সামাজিকীকরণকে প্রভাতি করে।
শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব বিকাশে বিদ্যালয়ের পরিবেশের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যালয়ের পরিবেশ, পাঠ্যবই প্রভৃতির সাথে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এ পরিমন্ডলে তার ভূমিকা ও নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রিত হয়। বিদ্যালয়ের পরিবেশেই বিকশিত হয় শিক্ষার্থীর নিজস্ব গুণাগুণ, যোগ্যতা ও ক্ষমতা। শিক্ষার্থীর ওপর বিদ্যালয়ের পরিবেশ সংশ্লিষ্ট উপাদানের প্রভাব গ্রাম ও শহরভেদে পার্থক্য সূচিত হয়।
বাংলাদেশের শহরে কিন্ডারগার্টেন, আন্তর্জাতিক স্কুল, প্রি-ক্যাডেটসহ বিভিন্ন স্কুলে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব স্কুলে নানা কারণে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের ঘাটতি দেখা দেয় L মাঠের স্বল্পতা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বিতর্ক। প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপনে সীমাবদ্ধতা লক্ষ করা যায়। তবে গ্রামের স্কুলগুলোতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের উৎপাদনের ঘাটতি কম।
ব্যক্তির কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও অভিজ্ঞতা সামাজিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ব্যক্তিমাত্রই শিক্ষা অর্জন শেষে কোনো না কোনো পেশা বেছে নেয়। শহরের পেশাগত ক্ষেত্র গ্রাম থেকে আলাদা। কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যক্তির কর্মদক্ষতা বাড়ায় এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে। আর কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকলে ব্যক্তির আদর্শ, মূল্যবোধ, ব্যক্তিত্ব প্রভৃতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
নীচু বর্ণের পাত্রের সাথে উঁচু বর্ণের পাত্রীর বিয়ের মাধ্যমে গঠিত পরিবারকে প্রতিলোম বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে।
মোটামুটিভাবে স্বামী-স্ত্রীর একটি স্থায়ী সংঘ'বা প্রতিষ্ঠান, যেখানে সন্তান-সন্ততি থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে তাকে পরিবার বলে।
একক বা অণু পরিবারকে আদর্শ পরিবার বলে।
একজন পুরুষের সাথে একজন নারীর বিবাহের মাধ্যমে যে পরিবার গঠিত হয় তাকে একপত্নীক পরিবার বলে।
উঁচু বর্ণের পাত্রের সাথে নীচু বর্ণের পাত্রীর বিয়ের মাধ্যমে গঠিত পরিবারকে অনুলোম বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে।
কর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার দুই ধরনের।
পরিবার হলো সমাজ কাঠামোর মৌল সংগঠন।
সমাজের সবচেয়ে আদি প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার
পরিবার হলো একটি ক্ষুদ্রতম সামাজিক সংগঠন।
অন্তর্গোত্রভিত্তিক বিয়ে হিন্দু সমাজে প্রচলিত।
সমাজের মৌল সংগঠন হলো পরিবার।
যে পরিবারে সামগ্রিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ভার মায়ের হাতে থাকে সে পরিবারকে মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃপ্রধান পরিবার বলে।
আকারের ভিত্তিতে পরিবার ৩ প্রকার।
বর্তমানে গ্রামীণ সমাজে যৌথ পরিবার দেখা যায়।
পরিবার সমাজের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান।
বিবাহিত দম্পতি স্বামী বা স্ত্রী কারও পিতার বাড়িতে বাস না করে পৃথক বাড়িতে বাস করলে যে পরিবারের সৃষ্টি হয়, তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।
নীচু বর্ণের পাত্রের সাথে উঁচু বর্ণের পাত্রীর বিয়ের মাধ্যমে গঠিত পরিবারকে প্রতিলোম বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে।
একজন পুরুষের সাথে একজন নারীর বিবাহের মাধ্যমে যে পরিবার গঠিত হয় তাকে একপত্নীক পরিবার বলে।
পরিবার থেকে সমাজের উৎপত্তি।
প্রতিটি মানবশিশু পরিবারে জন্মগ্রহণ করে।
পরিবারে সন্তানসন্ততি থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
একজন নারীর সাথে একাধিক পুরুষের বিয়ে হলে তাকে বহুপতি পরিবার বলে।
পরিবারের সমস্ত ক্ষমতা পিতার ওপর ন্যস্ত হলে তাকে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার বলে।
স্বামী-স্ত্রী ও তাদের অবিবাহিত সন্তানসন্ততি নিয়ে গঠিত পরিবারকে একক পরিবার বা অনু পরিবার বলে।
বিবাহিত পুত্র ও তার সন্তানাদিসহ পিতামাতার কর্তৃত্বাধীনে থাকলে তাকে যৌথ পরিবার বলে।
পিতামাতা এবং তাদের সন্তানসন্ততি ও সন্তানসন্ততির পরিজন নিয়ে গঠিত পরিবারই বর্ধিত পরিবার।
বংশমর্যাদা এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকার ভিত্তিতে পরিবারকে দুভাবে ভাগ করা যায়। যথা- ১. পিতৃসূত্রীয় ও ২. মাতৃসূত্রীয় পরিবার।
যে পরিবারে বিবাহের পর নবদম্পতি স্বামীর পিতৃগৃহে বাস করে তাকে পিতৃবাস পরিবার বলে।
বিবাহের পর নবদম্পতি স্ত্রীর পিতৃগৃহে বসবাস করলে তাকে মাতৃবাস পরিবার বলে।
পাত্রপাত্রী নির্বাচনের ভিত্তিতে পরিবারকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. বহির্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার ও ২. অন্তর্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার।
কোনো ব্যক্তি যখন নিজের গোত্রের বাইরে বিয়ে করে তাকে বহির্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে।
গোষ্ঠী জীবনের প্রথম ধাপ পরিবার।
মানুষের ব্যক্তিত্বের গঠন ও বিকাশে তিনটি উপাদানের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
মানুষের দলবদ্ধ জীবনযাপনের বিশ্বজনীন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পরিবার।
আধুনিক সংস্কৃতি পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
শিশুর ব্যক্তিত্বের গঠন ও বিকাশে তিনটি উপাদানের প্রভাব লক্ষণীয়।
আধুনিক সংস্কৃতি পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
মানবসমাজে পরিবারের ভূমিকা ব্যাপক।
জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য মানুষ পরিবার গঠন করে।
শিশুর অন্যতম উল্লেখযোগ্য শিক্ষাকেন্দ্র হলো পরিবার।
পরিবার শিশুর আনুষ্ঠানিক এবং নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষালয়।
শিশুর নৈতিক শিক্ষার জন্য পিতামাতাকেই অধিক সচেতন হতে হয়।
নৈতিকতার বীজ পারিবারিক মূল্যবোধ থেকেই শিশুর আচরণে বিকশিত হয়।
পরিবারের সকল সদস্যের আচরণ শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে।
এক সময় গ্রামীণ সমাজে যৌথ পরিবারের সংখ্যা বেশি ছিল।
বর্তমানে যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার কারণ হলো- শিল্পায়ন, নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দরিদ্রতা ভোগবাদী মানসিকতা ইত্যাদি।
বর্তমানে গ্রাম ও শহরে একক বা অণু পরিবারের সংখ্যা বেশি।
শহরে নয়াবাস পরিবারের সংখ্যা সর্বাধিক।
শিশুর নৈতিক শিক্ষার জন্য পিতামাতাকেই অধিক সচেতন হতে হয়।
সাধারণত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু বলা হয়।
একজন মানুষের আচার-আচরণ ও ব্যবহার দ্বারা অন্যরা প্রভাবিত হয়। এভাবে একজনের দ্বারা অন্যের প্রভাবিত হওয়াকে মিথস্ক্রিয়া বলে।
মানুষের সৃস্টি করা উপাদানসমূহ নিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশ গঠিত।
যে বিশেষ সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে মানুষ বাস করে তাই সামাজিক পরিবেশ।
পরিবার গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বিবাহ।
মানুষের সৃষ্টি করা উপাদানসমূহ নিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশ গঠিত।
সামাজিকীকরণ একটি চলমান বা গতিশীল প্রক্রিয়া।
যে প্রক্রিয়ায় শিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয় তাকে সামাজিকীকরণ বলে।
সমাজ জীবনের মূল বিষয় হলো পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া।
সমাজ জীবন সামাজিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমই গণমাধ্যম।
শিশুর সামাজিকীকরণের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম বিদ্যালয়।
সামাজিকীকরণের ব্যাপ্তি হলো জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত।
শিশুর জন্য শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেন পিতামাতা।
দল বা গোষ্ঠী হলো অনেক ব্যক্তির সমষ্টি যাদের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের সামাজিকীকরণ ঘটে গ্রামীণ পরিবেশে।
একটি শিশু পরিবার থেকে নীতিবোধ, নাগরিক চেতনা, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, আত্মত্যাগ ভালোবাসা প্রভৃতি শিক্ষা নিয়ে সামাজিক হয়ে ওঠে।
অন্তরঙ্গ বন্ধু দলের মাধ্যমে শিশু সহযোগিতা, মানসিক দ্বন্দ্ব নিরসন কৌশল ও নীতিজ্ঞান লাভ করে।
বর্ধিত পরিবার বলতে পিতামাতা এবং তাদের সন্তানসন্ততি ও সন্ততির স্ত্রী পরিজন নিয়ে পঠিত পরিবারকে বোঝায়। অর্থাৎ তিন পুরুষের পারিবারিক বন্ধনের পরিবারকেই বর্ধিত পরিবার বলে। আমাদের দেশের গ্রামীণ কৃষি সমাজে এ ধরনের পরিবার এখনও দেখা যায়।
একটি পরিবার যদি একাধিক পুরুষ ও একজন নারীর সমন্বয়ে গঠিত হয়, তবে তা বহুপতি পরিবার। অর্থাৎ একজন নারীর সাথে একাধিক পুরুষের বিয়ের মাধ্যমে যে পরিবার গঠিত হয় তাই বহুপতি পরিবার। আধুনিক সভ্যসমাজে এরূপ পরিবার দেখা যায় না। প্রাচীনকালে তিব্বত এবং ভারতের মালাগড় অঞ্চলের টোডা উপজাতিদের মধ্যে এরূপ পরিবার দেখা যেত।
স্বামী-স্ত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে পরিবার তিন ধরনের হয়ে থাকে।
যথা- একপত্নী, বহুপত্নী ও বহুপতি পরিবার। একজন পুরুষের সঙ্গে একজন নায়ীর বিবাহের মাধ্যমে একপত্নী পরিবার গড়ে ওঠে। আদর্শ। পরিবার বলতে মূলত এটিকেই বোঝায়। আবার একজন পুরুষের সঙ্গে একাধিক নারীর বিবাহের ভিত্তিতে যে পরিবার গঠিত হয়, তাকে বহুপত্নী পরিবার বলে। আর একজন নারীর সাথে একাধিক পুরুষের বিয়ের মাধ্যমে যে পরিবার গড়ে ওঠে তাকে বহুপতি পরিবার বলে।
কর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার দু ধরনের হয়ে থাকে। যথা- পিতৃপধান বা পিতৃতান্ত্রিক এবং মাতৃপ্রধান বা মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। পরিবারের সামগ্রিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ভার পুরুষ সদস্য অর্থাৎ পিতা, স্বামী কিংবা বয়স্ক ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত থাকলে এ ধরনের পরিবারকে পিতৃপ্রধান পরিবার বলে। এ ধরনের পরিবারের 'বংশ পরিচয় প্রধানত পুরুষ সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের সমাজে এ ধরনের পরিবার রয়েছে। আবার যে পরিবারে সামগ্রিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ভার মায়ের হাতে অর্থাৎ, মা-ই যখন ঐ পরিবারের সর্বময় কর্তা, এ ধরনের পরিবারকে মাতৃপ্রধান পরিবার বলে। খাসিয়া এবং গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
আকারের ভিত্তিতে পরিবার তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা-একক বা অনু পরিবার, যৌথ পরিবার ও বর্ধিত পরিবার। স্বামী-স্ত্রী ও তাদের অবিবাহিত সন্তানসন্ততি নিয়ে গঠিত পরিবারকে একক বা অনু পরিবার বলে। যৌথ পরিবারে বিবাহিত পুত্র ও তার সন্তানাদিসহ পিতামাতার কর্তৃত্বাধীনে এক সংসারে বাস করে। আর পিতামাতা এবং তাদের সন্তানসন্ততি ও সন্ততির স্ত্রীপরিজন নিয়ে গঠিত পরিবারই হল্যে বর্ধিত পরিবার। অর্থাৎ তিন পুরুষের পারিবারিক বন্ধনের পরিবারই বর্ধিত পরিবার।
বংশমর্যাদা এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে পরিবার দু ধরনের হয়ে থাকে। যথা- পিতৃসূত্রীয় ও মাতৃসূত্রীয় পরিবার। পিতৃসূত্রীয় পরিবারের সন্তানসন্ততি পিতার বংশমর্যাদার অধিকারী ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে। এ ধরনের পরিবার আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় রয়েছে। মাতৃসূত্রীয় পরিবার মায়ের দিক থেকে বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার অর্জন করে। বাংলাদেশের খাসিয়া ও গারোদের মধ্যে মাতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা এখনও প্রচলিত।
পাত্রপাত্রী নির্বাচনের ভিত্তিতে পরিবার দুই ধরনের হয়। যথা-বহির্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার এবং অন্তর্পোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার। কোনো ব্যক্তি যখন নিজের গোত্রের বাইরে বিয়ে করে তখন তাকে বহির্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। এ ধরনের পরিবার দু ধরনের। উঁচু বর্ণের পাত্রের সাথে নীচু বর্ণের পাত্রীর বিয়ের মাধ্যমে গঠিত পরিবারকে অনুলোম বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। নীচু বর্ণের পাত্রের সাথে উঁচু বর্ণের পাত্রীর বিয়ের মাধ্যমে গঠিত পরিবারকে প্রতিলোম বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। এ ধরনের বিয়ের মূল কারণ সামাজিক অনাচার রোধ করা। আবার যখন কোনো ব্যক্তি নিজ গোত্রের মধ্যে বিয়ে করে তখন তাকে অন্তর্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে।. অন্তর্গোত্রভিত্তিক বিয়ে হিন্দু সমাজেই অধিক প্রচলিত।
পরিবারকে আয়ের একক বলা হয় কারণ মানুষের আয় পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা দৃঢ় করার জন্য পরিচালিত হয়। পরিবার হলো অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্রস্থল। পরিবারের সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান পরিবারের অন্যতম কাজ। তাই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত থেকে পরিবারের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ করে।
পরিবারকে শিশুর শিক্ষালাভের কেন্দ্র বলা হয়। কারণ জন্মের পর শিশু গৃহেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে। মাতা-ই শিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। যদিও বর্তমানে শিক্ষা দেওয়ার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তবুও আচার-ব্যবহার, নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা, ধর্মীয় বিধিবিধান, আচার-আচরণ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর শিক্ষা শিশু পরিবার থেকেই গ্রহণ করে। তাই পরিবার শিশুর অন্যতম উল্লেখযোগ্য শিক্ষাকেন্দ্র।
আধুনিক যুগের সংস্কৃতি গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবাদপত্র, বেতার, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন প্রভৃতি। সংবাদপত্র দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়বস্তুর উপর সংবাদ প্রকাশ করে। শিশু কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ এসব পাঠ করে মনের খোরাক পূরণ করে। নিজেকে সমাজ-সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শিখে। ফলে তৈরি হয় একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল।
পরিবার হচ্ছে মানুষের দলবদ্ধ জীবনযাপনের বিশ্বজনীন প্রতিষ্ঠান। সব সমাজে এবং সমাজ 'বিকাশের প্রত্যেক স্তরেই পরিবারের অস্তিত্ব রয়েছে। এটি আমাদের দলবদ্ধ জীবনের আবেগময় ভিত্তি। সন্তান উৎপাদন, প্রতিপালন এবং স্নেহ-মায়া-মমতার বন্ধন, মূল্যবোধ গঠন, অধিকার সচেতনতা সৃষ্টি প্রভৃতি পরিবারের মধ্যেই ঘটে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবারের রয়েছে বিশেষ নিয়মনীতি, আদর্শ, মূল্যবোধ এবং কার্যপত সাংগঠনিক ভিত্তি। যার সামগ্রিক রূপই পরিবার কাঠামো। তাই পরিবারকে বিশ্বজনীন প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
পরিবারের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় বিধায় পরিবারকে উপার্জনের কেন্দ্রস্থল বলা হয়। সকল পরিবারই তাদের সাধ্যমতো অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গের বা সদস্যদের অর্থনৈতিক প্রয়োজন পূরণের চেষ্টা করে। প্রাচীনকালে পরিবার ছিল বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র।
প্রাচীনকাল থেকেই অর্থনৈতিক কার্যাবলির মূলকেন্দ্র ছিল পরিবার। পরিবারকে কেন্দ্র করে একসময় কৃষি, পশুপালন, তাঁত, খামার ইত্যাদি কার্যাবলি পরিচালিত হতো। পারিবারিক গতিতেই সেসময় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সকল কার্যাবলি সম্পাদিত হতো। সে কারণে পরিবারকে এক সময় উৎপাদন ব্যবস্থার প্রধান একক বলা হতো। যদিও বর্তমানে এরূপ ব্যবস্থার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে।
পরিবারকে শিশুর শিক্ষালাভের কেন্দ্র বলা হয়। কারণ জন্মের পর শিশু গৃহেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে। মাতা-ই শিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। যদিও বর্তমানে শিক্ষা দেওয়ার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তবুও আচার-ব্যবহার, নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা, ধর্মীয় বিধিবিধান, আচার-আচরণ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর শিক্ষা শিশু পরিবার থেকেই গ্রহণ করে। তাই পরিবার শিশুর অন্যতম উল্লেখযোগ্য শিক্ষাকেন্দ্র।
পরিবার ছিল এক সময়ে ধর্মীয় শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সম্পর্কে পিতামাতা দাদা-দাদি ও অন্যান্য সদস্য বিভিন্নভাবে শিশুকে অবহিত করেন। ধর্মীয় অনুশাসন ও বিধিবিধান, নৈতিকতা আচার-আচরণ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর শিক্ষা শিশু পরিবার থেকে গ্রহণ করে। শিশুর ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার জন্য পিতামাতাকেই অধিক সচেতন হতে হয়। পারিবারিক মূল্যবোধ থেকেই শিশুর ধর্মীয় শিক্ষা বিকশিত হয়।
পরিবারের বহুবিধ কার্যাবলির মধ্যে সন্তান-সন্ততির আবেগীয় "চাহিদা মেটানো পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। শিশুকাল, বাল্যকাল, কৈশোরকাল এমনকি যৌবনেও সন্তান-সন্ততি বাবা-মার আদর-স্নেহের প্রত্যাশী। সন্তানের মান-অভিমান, চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রস্থল হলো বাবা-মা। পরিবারের বাবা-মা সন্তানদের এসব আবেগীয় চাহিদা পূরণে সচেষ্ট থাকেন।
প্রাচীনকাল থেকেই অর্থনৈতিক কার্যাবলির মূলকেন্দ্র ছিল পরিবার। পরিবারকে কেন্দ্র করে একসময় কৃষি, পশুপালন, তাঁত, খামার ইত্যাদি কার্যাবলি পরিচালিত হতো। পারিবারিক গতিতেই সেসময় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সকল কার্যাবলি সম্পাদিত হতো। সে কারণে পরিবারকে এক সময় উৎপাদন ব্যবস্থার প্রধান একক বলা হতো। যদিও বর্তমানে এরূপ ব্যবস্থার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে।
শিশুর সবচেয়ে কাছের মানুষ মাতা-পিতা। আবার মাতা-পিতা এ দুজনার মধ্যে অধিকতর হলেন 'মা'। স্বভাবতই সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে মা হতেই। মা শিশুর খাদ্যাভ্যাস গঠন ও ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম। মা শৈশবে শিশুকে যেসব খাদ্যের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি করবেন, শিশুর পরবর্তী জীবনের আচরণে এর প্রভাব লক্ষ করা যাবে। মায়ের ঘুমপাড়ানি গান, বর্ণ শিক্ষার কৌশল, ছড়া শিক্ষা অনেক বিষয়ই আমরা অতীত অভিজ্ঞতা ও শিখনের ফল হতে নিজ পরিবারে প্রয়োগ করে থাকি।
সমাজভেদে বা দেশভেদে বিভিন্ন প্রকারের পরিবার রয়েছে। বিভিন্ন মাপকাঠির ভিত্তিতে পরিবারকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। বিবাহোত্তর স্বামী-স্ত্রীর বসবাসের স্থানের ওপর ভিত্তি করে যে তিন ধরনের পরিবার লক্ষ করা যায় তার মধ্যে নয়াবাস পরিবার একটি। বিবাহিত দম্পত্তি স্বামী বা স্ত্রী কারও পিতার বাড়িতে বাস না করে পৃথক বাড়িতে বাস করলে তাকে নয়াবাস পরিবার বলা হয়। শহরে চাকরিজীবীদের মূধ্যে এ ধরনের পরিবার দেখা যায়।
মানুষের আচরণগত পারস্পরিক প্রভাবের প্রতিক্রিয়াকে মিথস্ক্রিয়া বলে। সমাজ জীবনের মূল বিষয় এটি। ব্যক্তির সামাজিকীকরণ, সামাজিক পরিবেশ, সমাজ জীবন ও সামাজিক মূল্যবোধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটে থাকে। একেই মিথস্ক্রিয়া বলা হয়।
সামাজিকীকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জন্মের পর হতে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন ও খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়াই হলো সামাজিকীকরণ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন একপর্যায় হতে আরেক পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন তাকে নতুন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপখাইয়ে চলতে হয়। এই খাপ খাওয়ানো প্রক্রিয়ার ফলে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। নতুন নিয়মকানুন, রীতিনীতি এবং পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার কারণেই সামাজিকীকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া।
প্রতিটি সমাজে কিছু সামাজিক মূল্যবোধ থাকে। যেমন-সামাজিক বিধিব্যবস্থা, আচার ব্যবহার, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ইত্যাদি। এসব সামাজিক মূল্যবোধ পালনের মধ্য দ্বিয়ে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া বিকশিত হয়ে থাকে। মানুষ বড় হওয়ার সাথে সাথে সামাজিকীকরণের উপাদান মূল্যবোধসমূহ আয়ত্ত করতে থাকে। সামাজিক মূল্যবোধ হলো সংস্কৃতিক আদর্শ যার মাধ্যমেই ব্যক্তির জীবনধারার মান পরিমাপ করা যায়।
আধুনিক যুগের সংস্কৃতি গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবাদপত্র, বেতার, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন প্রভৃতি। সংবাদপত্র দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়বস্তুর উপর সংবাদ প্রকাশ করে। শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ এসব পাঠ করে মনের খোরাক পূরণ করে। নিজেকে সমাজ-সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শিখে। ফলে তৈরি হয় একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল।
শিশুর সামাজিকীকরণে খেলার সাথী ও পড়ার সাথীকে অন্তরঙ্গ বন্ধুদল বলা হয়। শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে এ দলের প্রভাব রয়েছে। এদের মাধ্যমেই সহযোগিতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি বিকশিত হয়। এ ক্ষুদ্র দলের মধ্যে কখনো কখনো দ্বন্দ্ব দেখা যায়, যা শিশুকে সমস্যা সমাধানে ও দ্বন্দ্ব নিরসনের কৌশল শিক্ষা দেয়। এসকল কারণে শিশুর সামাজিকীকরণে অন্তরঙ্গ বন্ধুদলের গুরুত্ব অপরিসীম।
মানুষের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে পরিবারের পর যে উপাদানটি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী তা হলো সহপাঠী ও সমবয়সী গ্রুপ। সহপাঠীদের কাছ থেকে শিশুরা বিভিন্ন আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি, ভাষা, সংস্কৃতি রপ্ত করে। এ গ্রুপের মাধ্যমেই সহযোগিতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি বিকশিত হয়। এছাড়াও একান্ত নিজস্ব সত্তা ও আবেগীয় বিষয় এবং প্রজনন স্বাথ্যের মতো বিষয়গুলো মানুষ সহপাঠী ও সমবয়সীদের কাছ থেকেই শিক্ষাগ্রহণ করে, যা তাদেরকে সামাজিকীকরণে সহায়তা করে।
গণমাধ্যম বলতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমকে বোঝায়। আধুনিক যুগের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে গণমাধ্যমকে কেন্দ্র 'করে। তাই গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়।
গোষ্ঠী বা দল হলো অনেক ব্যক্তির সমষ্টি, যাদের মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। একটা সাংগঠনিক কাঠামোতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্কযুক্ত মানবগোষ্ঠীই হলো সামাজিক গোষ্ঠী। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংঘ, সাংস্কৃতিক ক্লাব, সাহিত্য ক্লাব প্রভৃতি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এ গোষ্ঠীর শিশু পরিবার থেকে প্রতিবেশী দলে এবং পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয় পেরিয়ে স্থানীয় গোষ্ঠীতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা এই গোষ্ঠী বা সংঘ ব্যক্তির সামাজিকীকরণে প্রভাব বিস্তার করে। এই গোষ্ঠীগুলো স্থানীয়ভাবে ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন চাহিদার প্রেক্ষিতে গ্রামের যৌথ পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পরিবারের অর্থনৈতিক কারণ। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া, ভোগবাদী মানসিকতা, অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি কারণে গ্রামে যৌথ পরিবার ভেঙে যাবার প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া শিক্ষার স্বার্থে পরিবারের বাইরে এসে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গ্রামে ফিরে না যাওয়া, অণু পরিবারের সুবিধা বৃদ্ধি ও যৌথ পরিবারের বিভিন্ন অসুবিধাও গ্রামীণ যৌথ পরিবার ভাঙনের জন্য দায়ী।
আমাদের সমাজের কোনো কোনো পরিবারে বাবা উপার্জন করেন। আবার মা-বাবা উভয়েই উপার্জন করেন। সংসার পরিচালনায় তাদেরকে অনেক নিয়মনীতি প্রয়োগ করতে হয়। পিতামাতার এ স্বতন্ত্র আচরণ ও মূল্যবোধ শিশুর সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলে। শিশুর আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব ও জেদিভাব পিতা-মাতার আচরণের ফল। এভাবে পরিবারের অন্যান্য সদস্য; যেমন- ভাই-বোন, চাচা-চাচি, চাচাতো ভাইবোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও নিকট আত্মীয়স্বজনের নিকট হতে শিশুর জীবনে অনেক আচরণিক বিষয় রেখাপাত করে, যা শিশুর আত্মধারণাকে সমৃদ্ধ ও ব্যক্তিত্বকে সুন্দর করে তোলে।
বাংলাদেশের শহর সমাজ কাঠামোর বৈশিষ্ট্য হলো- একক পরিবার কাঠামো, শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি, জটিল সমাজ জীবন, শহরের সংস্কৃতি এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের দূরত্ব প্রভৃতি। এ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের সাথে ব্যক্তির আচরণিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটে, যা তার সামাজিকীকরণে প্রভাবিত হয়।
স্বামী-স্ত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে পরিবারের ধরন ৩টি ।
পরিবার
পরিবার
রীতিনীতি
সামাজিক
সামাজিকীকরণ
পরিবার
ক্ষুদ্রতম সামাজিক সংগঠন
পরিবার
পরিবার
পরিবার
বিশ্বের সকল সমাজেই স্বীকৃত
পরিবার গঠন
একপত্নী
একপত্নী পরিবার
বহুপত্নিক পরিবার
সামাজিক
বহুপতি
বহুপতি পরিবার
দক্ষিণ ভারতে
দুই ধরনের
আকারের ভিত্তিতে পরিবার ৩ ধরনের হয়ে থাকে
অণু পরিবার ২ পুরুষে আবদ্ধ
একক পরিবার
একক পরিবার
যৌথ
যৌথ পরিবারের
বংশমর্যাদা এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে পরিবার ২ ধরনের
বিবাহোত্তর বসবাসের ভিত্তিতে পরিবার ৩ প্রকার
মাতৃবাস
নয়াবাস
নয়াবাস পরিবার
পরিবার
আদিম সমাজে
শিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মা ।
পিতামাতার
পরিবার
বৃদ্ধরা
যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া
মিথস্ক্রিয়া
মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশে ৩টি উপাদান কাজ করে ।
সামাজিক
সামাজিক
পরিবার
অর্থনৈতিক
কৃষি অর্থনীতির।
পরিবার
শিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মা।
পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকার
পরিবার
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায়
পরিবার
পরিবার
বাবা-মায়ের আচরণ
প্রতিবেশী
পরিবার
নীতিজ্ঞান
Related Question
View Allকর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার দু ধরনের।
পরিবার হলো অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্রস্থল। একসময় পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো গৃহে উৎপাদিত হলেও সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে পরিবারের অর্থনৈতিক কাজগুলো মিল, কারখানা, দোকান, বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। এখন পরিবারের সদস্যরা অর্থ উপার্জনের জন্য ঘরের বাইরে কাজ করে। আর তাই পরিবারকে আয়ের একক বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিদিতার আচরণে সামাজিকীকরণের জ্ঞাতিগোষ্ঠী ও প্রতিবেশীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
নিজ পরিবার ব্যতীত যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে তারাই আমাদের জ্ঞাতিগোষ্ঠী। আর যারা বাড়ির আশপাশে বসবাস করেন তারা হলো আমাদের প্রতিবেশী। শৈশব থেকেই মানুষ প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হতে থাকে। পরিবার ও জাতিগোষ্ঠীর পরেই প্রতিবেশীর অবস্থান। শিশুর জীবনের সুষ্ঠু বিকাশে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাসা বা বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। আর এ দল থেকে তারা সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য ও নেতৃত্ব ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে। যার মধ্য দিয়ে তারা সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীরাই বেশি ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের রিপা বিদিতার প্রতিবেশী হলেও রিপা যখন তার আত্মীয়স্বজনসহ তাদের বাসায় আসে তখন বিদিতা সবাইকেই যত্নসহকারে আপ্যায়ন করে। অর্থাৎ রিপাদের আত্মীয়স্বজনকেও বিদিতা নিজের আত্মীয়স্বজনই মনে করে।
তাই বলা যায়, প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার যা উদ্দীপকের বিদিতার আচরণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
'শহুরে জীবনে প্রতিবেশীরাই ঘনিষ্ঠজন'- আমি এ বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত নই।
আমরা বাস্তবে দেখি গ্রাম ও শহরভেদে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ভিন্ন হয়। গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকে। অর্থাৎ গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তেমন কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। অপরদিকে শহরে প্রতিবেশীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ হয় না। এ সম্পর্কের ভিতর কেমন জানি একটা কৃত্রিমতা লুকিয়ে থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে। তবে আনন্দ-উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শহর জীবনের প্রতিবেশীরা একে অন্যে অনেকটা আপন হয়ে যায়। অথচ সামাজিকীকরণে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শৈশব থেকেই আমরা প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হই। আমাদের পাশাপাশি বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। এ দল থেকে শিশু সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা, বড়দিন প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ করে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে এবং সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীই বেশি ভূমিকা পালন করে। বস্তুত প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার। কিন্তু শহুরে জীবনে এ অংশীদারিত্বে আন্তরিকতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা গ্রামের চেয়ে অনেক কম।
তাই বলা যায়, শহরে জীবনে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ নয়।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমই হচ্ছে গণমাধ্যম ।
শিশুর জন্মের পর হতে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন ও খাপখাওয়ানোর প্রক্রিয়াই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন এক পর্যায় হতে আরেক পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন তাকে নতুন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। এ খাপ-খাওয়ানো প্রক্রিয়ার ফলে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। নতুন নিয়মকানুন, রীতিনীতি এবং নতুন পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার প্রক্রিয়ার নাম সামাজিকীকরণ।
তাই বলা যায়, সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!