সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরম রূপ হচ্ছে সামাজিক নৈরাজ্য। সামাজিক বিশৃঙ্খলা হতে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর সামাজিক বিশৃঙ্খলা তখনই প্রতিভাত হয় যখন ব্যক্তির ওপর সামাজিক রীতিনীতির প্রভাব হ্রাস পায়। অর্থাৎ সামাজিক রীতিনীতি যখন ব্যক্তির আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় তখন মানুষের নৈতিক অবনতি শুরু হয়। নৈতিক অবনতি ব্যাপক আকার ধারণ করলে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভাঙন শুরু হয়। আর এভাবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে।
যেকোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যবহারের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়। তাই যেসব ধ্যানধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, সংকল্প মানুষের আচার-আচরণ এবং কার্যাবলিকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোর সমষ্টিই হলো মূল্যবোধ। যেমন- বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ছোটদের প্রতি স্নেহ ও মায়ামমতা প্রভৃতি সামাজিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
পাচারকৃত নারী ও শিশুরা নানাভাবে সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ায় নারী ও শিশু পাচারের পরিস্থিতি ভয়াবহ। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রচুর নারী ও শিশু পাচারের শিকার হয়ে থাকে। এদের বলপূর্বক বিভিন্ন অবমাননাকর এবং অমানবিক কাজ, যেমন- দেহ ব্যবসায়, উটের জকি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়।
অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেবাগ্রহীতাদের ফাইল আটকিয়ে ঘুষ গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে ফাইলের কাজের বিনিময়ে বকশিশ, কমিশন, চা-নাস্তা বাবদ খরচ, দ্রব্যসামগ্রী প্রভৃতি আদায় করে থাকে। আবার কর্মকর্তার টেবিলে ফাইল বন্দী হয়ে থাকায় সেবাগ্রহীতাও ঘুষ প্রদান করতে বাধ্য হয়। আর তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক সেবাগ্রহীতার দাপ্তরিক ফাইল আটকানোকে দুর্নীতি বলা হয়।
সাধারণভাবে সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং অসুবিধাজনক অবস্থা বা পরিস্থিতিকেই সামাজিক সমস্যা বলে। সামাজিক সমস্যা সাময়িক সময়ের জন্য সৃষ্টি হয় না। এটি কমবেশি স্থায়ী এবং সমাধানের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন অনুভূত হয়। সুতরাং সামাজিক সমস্যা হলো সমাজ জীবনের এমন এক অবস্থা, যা সমাজের বৃহৎ অংশকে প্রভাবিত করে।
সামাজিক বৈষম্য ও বিশৃঙ্খলা হতে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। সমাজের প্রচলিত আচার-আচরণ, রীতিনীতি, প্রথা প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণের ব্যতিক্রমই সামাজিক বিশৃঙ্খলা। সামাজিক বিশৃঙ্খলা তখনই দেখা দিবে যখন ব্যক্তির ওপর সামাজিক রীতিনীতির প্রভাব হ্রাস পাবে। সামাজিক রীতিনীতির অভাবে মানুষের নৈতিক অবনতি শুরু 'হয় এবং এর প্রভাবে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভাঙন শুরু হয়। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভাঙনের কারণেই সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হয়।
সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলো হলো- অপরাধ, কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি, অপহরণ, আত্মহত্যা, নারী নির্যাতন, বিবাহ বিচ্ছেদ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ঘুষ, ছিনতাই, সন্ত্রাস, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি, যৌন আচরণ, স্বেচ্চার, শিশুশ্রম, শিশুদের প্রতি অবহেলা, হত্যা ইত্যাদি। সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য যেকোনো সমাজের জন্যই নেতিবাচক এবং ঘৃণিত কাজ।
সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরম রূপ হচ্ছে সামাজিক নৈরাজ্য। রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্র যখন আর কাজ করে না এবং শাসনযন্ত্র ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তখন সমাজে নৈরাজ্য দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ ঘুষ, নারী নির্যাতন, অপহরণ, যৌন আচরণ ইত্যাদির কথা উল্লেখ করা যায়।
যেকোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য, অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়। বস্তুত যেসব ধ্যানধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, সংকল্প, মানুষের আচার-আচরণ এবং কার্যাবলিকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোর সমন্টিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ। বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো, অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন, ছোটদের প্রতি স্নেহ প্রভৃতি সামাজিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। যেসব ধ্যানধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, সংকল্প মানুষের আচার-'আচরণ এবং কার্যাবলিকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোর সমষ্টিই হলো মূল্যবোধ। বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো, অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন, ছোটদের প্রতি স্নেহ, মায়া-মমতা প্রভৃতি সামাজিক মূল্যবোধের উদাহরণ। এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। এর ফলে সৃষ্টি হয় সামাজিক অসংগতি।
সমাজজীবনে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে সামাজিক নৈরাজ্য ও মূল্যবোধ অবক্ষয়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নৈরাজ্যপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মানুষের অধিকারের বঞ্চনা বেড়ে যায়। ঘুষ, দুর্নীতিতে গোটা সমাজ অচল হয়ে পড়ে। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। ফলে সমাজে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সামাজিক নৈরাজ্য ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। যেমন-
- ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ,
- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন;
- সমাজের হিংসাত্মক কার্যক্রম রোধে সচেতনতা সৃষ্টি;
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।
পুরুষ বা নারী কর্তৃক যেকোনো বয়সের নারীর প্রতি শুধু নারী হওয়ার কারণে যে সহিংস আচরণ করা হয় তাই নারীর প্রতি সহিংসতা। কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টি নানা অজুহাতে নারীর আর্থ-সামাজিক শারীরিক কিংবা সাময়িক দুর্বলতা সুযোগ নিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটিয়ে থাকে।
বাংলাদেশে, নারীর প্রতি সহিংসতা নারীর স্বাধীনতা এবং ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক। নারীর প্রতি সহিংসতার নানা প্রকৃতি রয়েছে। নারীরা বাড়িতে শারীরিক ও মানসিক যেসব নির্যাতনের শিকার হয় তাকে বলে পারিবারিক সহিংসতা। সাধারণত - স্বামী, শাশুড়ি, ননদ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য দ্বারা নারী এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। যৌন হয়রানি, নির্যাতন, মনগড়া ফতোয়া, এসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু পাচার হলো নারীর প্রতি সহিংসতার অন্যতম বর্বর প্রকৃতি।
নারীরা বাড়িতে শারীরিক ও মানসিকভাবে যেসব নির্যাতনের শিকার হয় তাকে বলে পারিবারিক সহিংসতা। সাধারণত স্বামী, শাশুড়ি, ননদ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য দ্বারা নারীরা পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়। এসব সহিংসতার মধ্যে রয়েছে খোঁটা দেওয়া, প্রহার, যৌতুক সম্পর্কিত নির্যাতন, শিক্ষা ও সম্পত্তির অধিকারের বঞ্চনা, অত্যধিক কাজের বোঝা চাপানো, কন্যা শিশুকে মারধর,. নিপীড়ন প্রভৃতি।
যৌন হয়রানি বলতে বোঝায় পুরুষ কর্তৃক নারীদের কর্মক্ষেত্রে, বাড়িতে, পাবলিক পরিসরে নারী ও নারী শিশুর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ। যৌন হয়রানির ইংরেজি প্রতিশব্দ (Eve-Teasing) গৃহঅভ্যন্তরে, কর্মক্ষেত্রে অথবা যাআয়াতের পথে, কখনো বা নিরিবিলি স্থানে অসৎ উদ্দেশ্যে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য পুরুষ কর্তৃক নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হয়।
অ্যাসিড নিক্ষেপ নারীর প্রতি একটি ভয়াবহ সহিংসতা। বর্তমানে বাংলাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত নারীদের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা অধিক ঘটে থাকে। প্রেম ও অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে অ্যাসিড নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটে।
নারী ও শিশুরা পাচার হয়ে নানাভাবে সহিংসতার শিকার হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় নারী ও শিশু পাচারের পরিস্থিতি ভয়াবহ। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রচুর নারী ও শিশু পাচার হয়ে থাকে। এদের বলপূর্বক বিভিন্ন অবমাননাকর এবং অমানবিক কাজ যেমন- দেহ ব্যবসায়, উটের জকি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় এসব পাচারকৃত নারী ও শিশুদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করা হয়।
নারীর প্রতি সহিংসতার বহু কারণ রয়েছে। যেমন- ঘরের বাইরের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত রাখা, যৌতুক, বাল্যবিবাহ, কন্যাসন্তানের জায়গায় পুত্র সন্তানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা প্রভৃতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।
নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নারীর কাজ গৃহে রান্নাবান্না, সন্তান জন্মদান, লালন-পালন, শিশুকে পাঠদান শারীরিক শুশ্রুষা করা প্রভৃতি। পিতৃতান্ত্রিক অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি যেমন- পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, নারী স্বামীর সেবাদাসী প্রভৃতি মনোভাব নারীর প্রতি সহিংসতার সৃষ্টি করে। এছাড়া নারীকে দুর্বল ও অবলা মনে করা নারীর প্রতি পুরুষের অন্যতম নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আওতায় পড়ে।
নারীর প্রতি সহিংসতার অন্যতম কারণ হলো দারিদ্র্য। দারিদ্র্য ঘোচাতে কাজের খোঁজে এসে অনেক নারী সহিংসতার শিকার হয়। বাংলাদেশে নারী শ্রমিকের একটা বিরাট অংশ পোশাক শিল্পে কাজ করে। এসব নারী শ্রমিক রাতে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে অনেকেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এছাড়া বাসাবাড়িতে কাজ করে এমন গৃহকর্মী নারী বা শিশু অনেকেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে।
নারীর জীবনে সহিংসতার প্রভার জটিল ও ভয়াবহ। নারীর প্রতি শারীরিক নির্যাতন কখনো কখনো নারীর অঙ্গহানি ঘটায়। সহিংস ঘটনায় নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতবিক্ষত হয়। অনেক ক্ষেত্রে নারী আত্মহত্যা পর্যন্ত করে থাকে। সহিংসতার শিকার নারীরা সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। নারীর প্রতি এই সহিংসতা আমাদের দেশের অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অন্যতম একটি আইন হলো নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০ (২০০৩ সালে সংশোধিত) এই আইনে যৌন হয়রানিকে শান্তিমূলক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছে- 'যদি কোনো পুরুষ অরাচিতভাবে তার যৌন লালসা চরিতার্থ করার জন্য নারী অবমাননা কিংবা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ তবে উক্ত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব সাত বছর এবং সর্বনিম্ন দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।'
অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন-২০০২ অনুযায়ী; যদি কোনো ব্যক্তি অ্যাসিড দ্বারা অন্য কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটান তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এ বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি পতিতাবৃত্তি বা বেআইনি কোনো কাজের জন্য কোনো নারী বা শিশুকে বিদেশে পাচার করেন বা অন্যকোনো উদ্দেশ্যে কোনো নারী বা শিশুকে তার দখলে রাখেন তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ বছর কিন্তু অন্যূন ১০ বছর কারাদণ্ডে দন্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের দুইটি করণীয় নিম্নরূপ:
১. নারীশিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ, বিধবা ভাতা প্রদান এবং নারীর জন্য ঋণদান কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতা বৃদ্ধি।
২. নির্যাতন, সহিংসতার ধরন ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন প্রণয়ন এবং এর যথাযথ প্রয়োগ।
বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রথম ও প্রধান কারণ হলো-অর্থনৈতিক দুরবস্থা। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সন্তানের ভরণপোষণ ও. লেখাপড়া করানোর অবস্থা থাকে না। এ অবস্থায় পিতমাতা মনে করেন, তাদের সন্তান কোনো পেশায় নিয়োজিত হয়ে রোজগার করলে পরিবারের উপকার হবে। তাই তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের কাজে পাঠায় এবং এর ফলে শিশু শ্রম বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশের শ্রম আইন-২০০৬ এ শিশু ও কিশোরদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে শিশুর ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর এবং কিশোরদের ন্যূনতম বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে কাজে নিয়োগ করা যাবে না এবং কিশোরদের নির্ধারিত কাজের সময় হলো ৫ ঘণ্টা।
১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে শিশুশ্রম বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এই সনদে বলা হয়েছে, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে সদস্য রাষ্ট্রগুলো শিশু শ্রমের জন্য বয়স, বিশেষ কর্মঘণ্টা ও কর্মে নিয়োগের যথার্থ শর্তাবলি নির্ধারণ করবে। এছাড়া এই সনদে শিশুর সুরক্ষা, বাধ্যতাম্রক প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
কিশোর অপরাধ যেকোনো সমাজের জন্য একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা। সামাজিক সুষ্ঠু পরিবেশ ও মৌলিক চাহিদা থেকে 'বঞ্চিত হয়ে খারাপ সঙ্গ এবং বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে জড়িত হয়ে শিশু কিশোররা অপরাধী হয়ে ওঠে।
গঠনমূলক পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি, পরিবার ও বিদ্যালয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, চিত্তবিনোদনমূলক কার্যক্রম প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ মোকাবিলা করা যেতে পারে। আবার যেসব শিশু ইতোমধ্যেই অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছে তাদের সংশোধনের জন্য কিশোর আদালত, কিশোর হাজত, সংশোধনী প্রতিষ্ঠান প্রভৃতির মাধ্যমে তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।
মাতৃকল্যাণ বলতে মায়ের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং ভালো থাকার জন্য সমাজ ও সামাজিক সংগঠন কর্তৃক সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাসমূহকে বোঝায়। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য সেবা, প্রয়োজনীয়, খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, নিরাপদ প্রসূতি সেবা, মাতৃত্বজনিত মৃত্যুহার রোধ প্রভৃতি মাতৃকল্যাণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সন্তান প্রসবকালীন মৃত্যুকে মাতৃত্বজনিত মৃত্যু বলে। মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে মাতৃত্বজনিত মৃত্যু নারীদের বাঁচার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকারকে মারাত্মকভাবে আঘাত হানে। বাংলাদেশের সার্বিক মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নতির পথে। তবে মাতৃত্বজনিত কারণে এখনও অনেক প্রসূতি মা মারা যাচ্ছেন।
মায়েরা যেন তাদের সন্তানদের বুকের দুধ পান করাতে সমর্থ হন এবং এর ফলে নবজাতক শিশুর অপুষ্টি সমস্যা দূর হয় সেই জন্য মাতৃত্বজনিত ছুটি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত নারীদের জন্য ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি ঘোষণা করে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনও মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর হয়নি।
চালক, মালিক, ট্রাফিক পুলিশ এবং রাস্তার ত্রুটি ও দুর্বলতাজনিত সড়ককেন্দ্রিক যে দুর্ঘটনা ঘটে তাকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ভয়াবহ। বাংলাদেশে রাস্তাঘাট ও যানবাহন বৃদ্ধির সাথে সাথে দুর্ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে আহত ও নিহতের সংখ্যা।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালককে দিয়ে গাড়ি চালানো। এছাড়া রাস্তার ত্রুটি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোয় কারণেও অধিক মাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
রাস্তার কোন পাশ দিয়ে চলতে হবে, কখন পারাপার হতে হবে প্রভৃতি না জানার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। উদাসীন ব্যক্তি, শিশু, বৃদ্ধ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ অনেক সময় অসতর্কভাবে রাস্তায় চলাচল করেন। এরূপ নানাবিধ অন্যমনস্কতা ও অজ্ঞতা অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটায়।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাব পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবনে খুবই মারাত্মক, যা আবার বহু সমস্যার জন্ম দেয়। যেমন-উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আহত কিংবা নিহত হওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যদের দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয়। এছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তি শারীরিকভাবে পঙ্গু হলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই সমস্যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মহত্যায় রূপ নেয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি পঙ্গু হলে অনেক সময় সে ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশা গ্রহণ করতে পারে। কেউ কেউ জীবন নির্বাহের জন্য অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। চরম হতাশা লাঘবে অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা আর্থসামাজিক ও মানসিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশেই কমবেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দুটি উপায় হলো -
১. চালক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ যোগ্যতা নির্ধারণপূর্বক নিয়োগ দেওয়া।
২. ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা।
ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অবৈধ পন্থায় নীতি-বহির্ভূত বা জনস্বার্থ বিরোধী কাজই দুর্নীতি, অবৈধ সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য কোনো ব্যক্তির দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলাও দুর্নীতি। দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকে পেশা, ক্ষমতা, পদবি, স্বার্থ, নগদ অর্থ প্রভৃতি।
সাধারণত ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, বলপ্রয়োগ বা ভয় প্রদর্শন, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তি বিশেষকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনকে দুর্নীতি বলে। এ অপরাধের প্রকৃতি ও কৌশল আলাদা, ধূর্ত ব্যক্তি ছাড়া সমাজ সচেতন কোনো ব্যক্তির পক্ষে দুর্নীতি করা সম্ভব নয়। তাই বলা হয়ে থাকে, দুর্নীতির ক্ষেত্রে দৈহিক শ্রমের চেয়ে ধূর্ত বৃদ্ধির বেশি প্রয়োজন।
লোভ ও উচ্চভিলাষী মনোভাব দুর্নীতির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক চাকরিজীবী উচ্চভিলাষী জীবনের জন্য ফাইলের কাজ আটকিয়ে রেখে ঘুষ গ্রহণ করে। উচ্চাকাঙ্ক্ষার নেশা ব্যক্তিকে স্বল্প সময়ে দুর্নীতিপ্রবণ করে তোলে।
ফাইল আটকিয়ে কিংবা ফাইলের কাজের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করা হয় বলে ফাইলবন্দিকে দুর্নীতি বলা হয়। তারা ফাইলের কাজের বিনিময়ে ঘুষ, কমিশন, চা-নাশতা বাবদ খরচ, দ্রব্যসামগ্রী প্রভৃতি আদায় করে থাকে। অনেক সময় অফিসের প্রধান কর্তার টেবিলে দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে ফাইলবন্দি হওয়ার কারণে উর্ধ্বর্তন কর্মচারীরা ঘুষ গ্রহণ করে থাকে।
দুর্নীতি নানাভাবে আর্থসামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। দুর্নীতির কারণে যদি অযোগ্যরা নিয়োগ এবং পদোন্নতি পায় তাহলে সমাজের যোগ্য ব্যক্তিরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, এর ফলে সৃজনশীলতা হ্রাস পায় এবং মানুষ আইন-শৃঙ্খলা, নিয়ম-কানুন প্রভৃতির প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। এতে আর্থসামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
সমাজে দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যে সমাজ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে সে সমাজে একে অন্যের দ্বারা প্রতারিত হয়। দুর্নীতির কারণে সমাজে যোগ্যরা তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। এছাড়া দুর্নীতির কারণে সমাজের আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়, যা সমাজের উন্নয়নকে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রয়োজন ব্যাপক গণসচেতনা সৃষ্টি ও সামাজিক আন্দোলন। গণসচেতনতা গড়ে তোলার কার্যকর হাতিয়ার হলো গণমাধ্যম। গণমাধ্যমে দুর্নীতি সম্পর্কে তথ্য প্রচার করলে দুর্নীতি সম্পর্কে সবাই অবগত হয় এবং দুর্নীতি অনেকাংশেই কমে যায়।
সমাজে বিরাজমান অস্বাভাবিক অবস্থা যা অধিকাংশ মানুষকে প্রভাবিত করে তাকেই সামাজিক সমস্যা বলে।
সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরম রূপ হলো সামাজিক নৈরাজ্য।
রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্র যখন আর কাজ করে না এবং শাসনযন্ত্র ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তখন সামাজিক নৈরাজ্য দেখা দেয়।
সমাজের প্রচলিত আচার-আচরণ, রীতি-নীতি, প্রথা প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণের ব্যতিক্রমই হলো সামাজিক বিশৃঙ্খলা।
যেকোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভার এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে যে মূল্যবোধ গঠিত হয় তাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের মানুষের আচার-আচরণ এবং কার্যাবলিকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
সমাজ পরিবর্তনের সাথে মূল্যবোধ পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে।
সমাজ জীবনে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে নৈরাজ্য ও মূল্যবোধ অবক্ষয়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
পুরুষ বা নারী কর্তৃক যেকোনো বয়সের নারীর প্রতি শুধু নারী হওয়ার কারণে যে সহিংস আচরণ করা হয় তাই নারীর প্রতি সহিংসতা।
পারিবারিক সহিংসতা হলো নারীর প্রতি সহিংসতার একটি প্রকৃতি।
ইভটিজিং হচ্ছে লোক সমাগমপূর্ণ স্থানে পুরুষ কর্তৃক নারীদের নিগ্রহ ও উত্ত্যক্ত করা।
নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক বা মানসিকভাবে নারী নির্যাতন চালানো হয়।
নারীর জীবনে সহিংসতার প্রভাব জটিল ও ভয়াবহ।
নারীর প্রতি সহিংসতা নারীদের স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যৌন হয়রানিকে অন্যতম সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুরুষকর্তৃক নারীদের কর্মক্ষেত্রে, বাড়িতে, পাবলিক পরিসরে নারী-শিশুর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শকে যৌন হয়রানি বলা হয়।
বাংলাদেশে যৌতুক প্রথাকে প্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহিত করছে অর্থনৈতিক দুরবস্থা।
লোকলজ্জা, 'পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদার ভয়সহ নানা কারণে বাংলাদেশের নারীরা নির্যাতনের কথা বাইরে প্রকাশ করতে বা প্রতিবাদ করতে পারে না।
নারী ও শিশু দমন আইন ২০০০ সালে পাস হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ সালে সংশোধন হয়।
যৌন হয়রানিমূলক আচরণের ফলে অনুর্ধর্ষ ৭ বছর এবং সর্বনিম্ন ২ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
২০১০ সালে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়।
এসিড নিক্ষেপ বাংলাদেশের একটি বড় ধরনের অপরাধ।
বাংলাদেশ সরকার ২০০২ সালে এসিড দমন আইন ও এসিড নিয়ন্ত্রন আইন প্রণয়ন করে।
নারী পাচার দমনে প্রথম আন্তর্জাতিক দলিল স্বাক্ষরিত হয় ১৯৪৯ সালে।
বাংলাদেশের শিশুশ্রমের প্রথম ও প্রধান কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক দুরবস্থা।
কিশোর অপরাধ হলো একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা।
শিশু আইন ১৯৭৪ অনুসারে ১৬ বছরের কম বয়সী প্রত্যেকেই শিশু।
বাংলাদেশে যেসব শিশুর বয়স ১৪ বছর বা তার অধিক তাদেরকে শ্রমে নিযুক্ত করা যাবে।
১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ প্রণীত হয়।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার কনভেনশন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু।
শিশুয়া জাতির মূল্যবান সম্পদ।
মায়ের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং ভালো থাকার জন্য সমান এবং সামাজিক সংগঠন কর্তৃক সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাসমূহকে মাতৃকল্যাণ বলা হয়।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনও ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত হয়নি।
২০০৯ সালে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস ঘোষণা করা হয় আর কার্যকর হয় ২০১১ সাল থেকে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ভয়াবহ।
সাধারণত ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, বলপ্রয়োগ বা ভয় প্রদর্শন, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তি বিশেষকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসনের ক্ষমতা অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জন করাই হলো দুর্নীতি।
চালক, মালিক, ট্রাফিক পুলিশ, রাস্তার ত্রুটি ও দুর্বলতাজনিত সড়ককেন্দ্রিক যে দুর্ঘটনা ঘটে তাকে সড়ক দুর্ঘটনা বলা হয়।
বাংলাদেশের অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালক।
সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। সমাজ পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটলে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অভাব দেখা দিলে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। আবার 'আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাবের কারণে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
সুতরাং বলা যায়, মূল্যবোধের ইতিবাচক পরিবর্তন সমাজ অনুমোদিত। সমাজের নেতিবাচক পরিবর্তন সমাজ কর্তৃক অনুমোদিত নয়। আর এটিই মূল্যবোধ অবক্ষয়ের কারণ।
সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের কারণে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও শিথিলতা ঘটলে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলা সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। সমাজের সংস্কৃতি পরিপন্থী কর্মকান্ড, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি প্রভৃতি সমাজে নৈাজ্য সৃষ্টির জন্য দায়ী।
কোনো সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজস্বীকৃত আচার-আচরণের সমষ্টি হলো সামাজিক মূল্যবোধ। সমাজে বসবাসকারী মানুষের ধ্যানধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, সংকল্প মানুষের আচার-আচরণ এবং কার্যাবলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। যে মানদণ্ড দ্বারা এটি নিয়ন্ত্রিত হয়, তার সমষ্টিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ। বড়দের শ্রদ্ধা করা, ছোটদের স্নেহ করা, অতিথির প্রতি -সম্মান প্রদর্শন ইত্যাদি সামাজিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। সমাজ পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটলে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অভাব দেখা দিলে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। আবার আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাবের কারণে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
সুতরাং বলা যায়, মূল্যবোধের ইতিবাচক পরিবর্তন সমাজ অনুমোদিত। সমাজের নেতিবাচক পরিবর্তন সমাজ কর্তৃক অনুমোদিত নয়। আর এটিই মূল্যবোধ অবক্ষয়ের কারণ।
মূল্যবোধ আমাদের সমাজবদ্ধ জীবনের বৈশিষ্ট্য। মূল্যবোধ অনুশীলনের মাধ্যমেই সামাজিক বিধি-ব্যবস্থা, আচার-ব্যবহার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ব্যক্তি আচরণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে মানুষ বড়দের শ্রদ্ধা, ছোটদের প্রতি স্নেহ-ভালোবাসা, সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ ইত্যাদির অনুশীলন করে। কিন্তু মূল্যবোধের নেতিবাচক পরিবর্তন হলে সেটাকে বলা হয় মূল্যবোধের অবক্ষয়। আর এ মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই প্রধানত সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়।
সামাজিক অসংগতির মূল কারণ হলো সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি এবং মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, যা সামাজিক অসংগতির মূল কারণ। সমাজের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অভাব দেখা দিলেও সামাজিক বিশৃঙ্খলা বা অসঙ্গতি বেড়ে যায়। ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটবে। তাছাড়া সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটবে।
নারীর প্রতি সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ দারিদ্র্য। দারিদ্র্য ঘোচাতে কাজের খোঁজে এসে অনেক নারী সহিংসতার শিকার হয়। বাংলাদেশে নারী শ্রমিকের একটা বিরাট অংশ পোশাক শিল্পে কাজ করে। এসব নারী শ্রমিক রাতে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে বা শয়নকক্ষ সংকটের কারণে একই ঘরে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বসবাস করার কারণে অনেকেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এছাড়াও বাসাবাড়িতে কাজ করে এমন গৃহকর্মী নারী বা শিশু অনেকেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে।
নারীর প্রতি সহিংসতা একটি আন্তজাতিক সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যার ভীব্রতা বাংলাদেশেও প্রকট। সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার বহু কারণ রয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম একটি হলো কন্যাসন্তানকে শিক্ষাদানের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া। কেননা, শিক্ষা হচ্ছে নারীর সচেতনতা সৃষ্টি ও ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নারী শিক্ষার প্রতি উদাসীনতা নারীর প্রতি সহিংসতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান সময়ে যৌন হয়রানি ও ফতোয়া শুধু সামাজিক মূল্যবোধেরই অবক্ষয় নয়; বরং এ দুটি বিষয় অনেক সময় নারীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এমন অনেক নারী আছে যারা যৌন হয়রানি কিংবা ফতোয়ার শিকারে পরিণত হয়ে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। আর সেজন্যই যৌন হয়রানি ও ফতোয়া নারীর প্রতি বর্বর ও পৈশাচিক সহিংসতা।
এসিড নিক্ষেপ বাংলাদেশের একটি বড় ধরনের অপরাধ। বর্তমানে বাংলাদেশে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত নারীদের ওপরই এসিড নিক্ষেপ করা হয় বেশি। কোনো কিশোরী বা তরুণী যদি কোনো বখাটে ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি না হয় তরেই বখাটে ছেলেটি মেয়েটির ওপর এসিড নিক্ষেপ করে। শহরের চেয়ে গ্রামে এবং নিম্ন আয়ের নারীদের ওপর এসিড নিক্ষেপ বেশি করা হয়।
এ আইনে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি পতিতাবৃত্তি বা বেআইনি বা নীতি গর্হিত কোনো কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে কোনো নারী ও শিশুকে বিদেশ থেকে আনয়ন করেন বা বিদেশে পাচার বা প্রেরণ করেন অথবা ক্রয় বা বিক্রয় করেন বা অনুরূপ কোনো উদ্দেশ্যে কোনো নারী ও শিশুকে তার দখলে, হেফাজতে রাখেন তাহলে উত্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা অনধিক ২০ বছর কিংবা অন্যূন ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও নারী ও শিশু অপহরণের শাস্তি, মুক্তিপণ আদায়ের শাস্তি, ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, যৌনপীড়ন, যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো ইত্যাদি কারণেও শাস্তি আছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে' সমাজের করণীয় ৪টি উপায় হলো-
১. নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি।
২. পরিবার থেকে ছেলেমেয়ে উভয়কেই পারিবারিক জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ গঠন সম্পর্কিত শিক্ষাদান।
৩. নারীর অধিকার সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি।
৪. নারী নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা।
বাংলাদেশে শিশুশ্রয়ের প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। দরিদ্র মা-বাবা প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাবে শিশুদেরকে ভরণপোষণ দিতে পারেন না এবং সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে পারেন না। ফলে সন্তান স্কুলে না যাওয়ায় তারা মনে করেন কোনো পেশা বা কাজের মাধ্যমে এসব শিশু অর্থ উপার্জন করুক। শিশুদেরকে অল্প পারিশ্রমিকে কাজে লাগানো যায় বলে মালিক পুক্ষও এদের নিতে উৎসাহী থাকে। এটাই বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রধান কারণ।
শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রথম ও প্রধান কারণ দারিদ্র্য। অর্থনৈতিক দুরবস্থার ফলে অভিভাবকরা স্কুলে না পাঠিয়ে কর্মক্ষেত্রে নিয়ে যান। তাতে আয়-রোজগার বাড়বে। এছাড়াও শিশুদের অল্প পারিশ্রমিক দীর্ঘক্ষণ কাজে খাটানো যায় বলে নিয়োগকর্তারাও তাদের কাজে লাগাতে উৎসাহী হয়।
দারিদ্র্যের কারণে বাংলাদেশ শিশুশ্রম বেশি হয়।
শিশুশ্রমের প্রথম ও প্রধান কারণ হলো অর্থনৈতিক দুরবস্থা। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ভরণপোষণ মিটিয়ে সন্তানের লেখাপড়ার খরচ যোগানো বাবা-মায়ের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে তাদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থায় পিতামাতা মনে করেন, সন্তান কোনো পেশায় নিয়োজিত হয়ে আয়-রোজগার করলে পরিবারের উপকার হবে। শিশুদের অল্প পারিশ্রমিকে দীর্ঘক্ষণ কাজে খাটানো যায় বলে নিয়োগকর্তারাও তাদের কাজে লাগানোর জন্য উৎসাহী হয়। শহর জীবনে গৃহস্থালি কাজে গৃহকর্মীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতাও শিশুশ্রমকে উৎসাহিত করছে।
শিশুশ্রম একটি অমানবিক কাজ। যে বয়সে একটি শিশু স্কুলে যাওয়া আসা করবে, সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা করবে ঐ বয়সে দরিদ্র শিশুদের জীবিকার জন্য কাজ করতে হয়। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে এর ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই অতিসত্বর শিশু শ্রম বন্ধ করা উচিত।
শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুরা যেমন বড় হয়ে কেউ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বা বড় আমলা হয়, তেমনি কেউ হয় দক্ষ উদ্যোক্তা বা দক্ষ শ্রমিক। তাই জাতির বৃহত্তর স্বার্থে শিশুদের যোগ্য, সক্ষম ও শারীরিক মানসিকভাবে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে শিশুশ্রম নিরুৎসাহিত করা উচিত। তাছাড়া শিশুশ্রম শিশুর স্বাভাবিক জীবনের আনন্দ কেড়ে নিয়ে কিশোর অপরাধের ন্যায় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। সর্বোপরি শিশুশ্রম কখনো এবং কোনোভাবেই মঙ্গলময় হতে পারে না। তাই শিশুশ্রমকে নিরুৎসাহিত করা উচিত।
১৯৮৯. সালের জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে শিশু শ্রম বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই সনদে বলা হয়েছে, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে সদস্য রাষ্ট্রগুলো শিশু শ্রমের জন্য বয়স, বিশেষ কর্মঘণ্টা ও কর্মে নিয়োগের যথার্থ শর্তাবলি নির্ধারণ করবে। এছাড়া এ সনদে শিশুর সুরক্ষা, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে যা পরোক্ষভাবে শিশুশ্রম নিরসনে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে এ. সনদ অনুসমর্থন করেছে।
কিশোর অপরাধের একটি অন্যতম কারণ হলো 'দারিদ্র্য'। বঞ্চিত ও অবহেলিত শিশু এবং কিশোররা সহজেই অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। সমাজে অবহেলিত এবং বঞ্চিত শিশু-কিশোররা সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। তাই তারা প্রতিকুল অবস্থাতেও টিকে থাকতে পারে না। এসব শিশু-কিশোররা কাউকে তেমন পরোয়া না করে অবিচক্ষণভাবে লোভে পড়ে খুব সহজেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
কিশোর অপরাধ প্রতিটি সমাজের জন্য একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা। সামাজিক সুষ্ঠু পরিবেশ ও মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়ে খারাপ সঙ্গ এবং পাচারকারী ও বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে জড়িত হয়ে শিশু-কিশোররা অপরাধী হয়ে ওঠে। পারিবারিক অভাব-অনটন, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং বাবা-মায়ের দায়িত্বহীন আচরণ ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে শহরের বস্তিতে বসবাসকারী কিশোররা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে বেশি জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া শহর জীবনের একাকিত্ব, বাবা-মায়ের কর্মব্যস্ততা, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবসহ নানা কারণে শিশু-কিশোররা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে কিশোর অপরাধী হয়ে ওঠে।
মাদকদ্রব্যের গুণাগুণ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে শুনতে ও কৌতূহল নিবারণের জন্য অনেকে দুই একবার মাদক দ্রব্য সেবনে আগ্রহী হয়ে উঠে। এ কৌতূহল নিবারণ করতে গিয়ে ক্রমে ক্রমে মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। অপর বন্ধুকে মাদক গ্রহণ করতে দেখে মানুষের মাঝে মাদকের প্রতি কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
সাধারণত সাত থেকে ষোলো বছর বয়সী শিশুরাই কিশোর কিশোরী হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ শিশু আইন ১৯৭৪-ই কিশোর অপরাধ দমন ও বিচারের মূল আইন ধরা হয়। এ আইন অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে শিশু আদালত গঠিত হবে। এ আদালত প্রতি মাসে অন্তত ২ থেকে ৩ বার কিংবা তার অধিক সংখ্যক বার বসবে। এ আইন অনুযায়ী, কিশোর হাজত সাধারণ হাজত থেকে ভিন্নতর হবে। এ আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ও দোষী শিশু এবং আনুষ্ঠানিক সংশোধন প্রয়োজন এমন কিশোরদের সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ করতে হবে।
মাতৃকল্যাণ বলতে মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভালো থাকার জন্য সমাজ এবং সামাজিক সংগঠন কর্তৃক সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাসমূহকে বোঝায়। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, নিরাপদ প্রসূতি সেবা, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীর উপস্থিতি ও পরিচর্যা, প্রজননকালীন রুগ্নতা এবং মাতৃত্বজনিত মৃত্যুহার রোধ প্রভৃতি মাতৃকল্যাণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো মায়েদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং নবজাতকের যত্ন নিশ্চিত করা।
নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয় যাতে মা যথাযথ বিশ্রাম নিতে পারেন। শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারেন। বিশেষ করে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন, যা নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক এবং শিশুর ভবিষ্যৎ মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া কর্মজীবী নারীদের এই ছুটি কর্মস্থলে ফিরে আসার আগের প্রস্তুতি নিতে সহায়ক এবং কর্মজীবন ও পরিবার পরিচালনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতেও সাহায্য করে।
নিরাপদ চলাচলের জন্য আমাদের করণীয় হচ্ছে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করা, দৌড়ে রাস্তা পার না হওয়া, চলন্ত গাড়িতে ওঠা-নামা না করা, চলন্ত অবস্থায় চালকের সাথে কথা না বলা, জেব্রাক্রসিং, ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করা ইত্যাদি। এর পাশাপাশি জন সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাফিক আইন মানার কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা এক আতঙ্কের নাম। সড়ক দুর্ঘটনার ফলে কর্মক্ষম মানুষ আহত ও নিহত হচ্ছেন, নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ আহতদের চিকিৎসা ও সামাজিক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে নানামুখী আর্থসামাজিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে একে সামাজিক সমস্যা বলা হয়।
দুর্নীতি নানাভাবে আর্থসামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। দুর্নীতির কারণে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয়। মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করে। ফলে যোগ্যদের প্রতিভা বিকশিত হয় না। সৃজনশীলতা ক্রমশ হ্রাস পায়। দুর্নীতিপ্রবণ সমাজে আইনশৃঙ্খলা, নিয়মকানুন প্রভৃতির প্রতি মানুষ শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। ফলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হলে মানুষের মধ্যে ন্যায়-অন্যায় বোধ কাজ করে না। ধর্মীয় বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মান্য না করে নিজ স্বার্থে যে কোনো ধরনের দুর্নীতিমূলক কাজ করতে মানুষ পিছপা হয় না। আবার নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটলেও ব্যক্তি দুর্নীতি করতে দ্বিধা করে না। ফলে সমাজে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
দুর্নীতি নানাভাবে আর্থসামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। দুর্নীতির কারণে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয়। মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করে। ফলে যোগ্যদের প্রতিভা বিকশিত হয় না। সৃজনশীলতা ক্রমশ হ্রাস পায়। দুর্নীতিপ্রবণ সমাজে আইনশৃঙ্খলা, নিয়মকানুন প্রভৃতির প্রতি মানুষ শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। ফলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
সামাজিক বিশৃঙ্খলা
নৈরাজ্য
মূল্যবোধের অবক্ষয়
সামাজিক মূল্যবোধ
শিল্পায়ন ও নগরায়ণ
মূল্যবোধের ২ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়
কিশোরী
দারিদ্র্য
পুরুষ
নারীর প্রতি সহিংসতার
সামাজিক সচেতনতার অভাবে
দারিদ্র্য
নারী
২০০০ সালে
নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের জন্য সর্বনিম্ন শাস্তি ২ বছর
২ বছর
২০০২ সালে
মৃত্যুদণ্ড
অনূর্ধ্ব ১ লাখ
অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড
২০১১ সালে
মৃত্যুদন্ডসহ পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড
মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১১
অর্থনৈতিক দুরবস্থা
সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা
১২ ঘণ্টা
২০১০ সালে
শিশুদের দ্বারা কাজ করানো বন্ধ করা
১৯৮৯ সালে
১৯৮৯ সালে
মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়া
সংশোধনের সুযোগ দান
১৮ বছরের কম বয়সীরা
১৬ বছর
১৯৭৪ সালে
২০১১ সালে
৬ মাস
৯ জানুয়ারি ২০১১
৬ মাস/১৮০ দিন
পুষ্টিজনিত ঘাটতি
১৬-৫০ বছর
স্বদেশপ্রেম
অর্থকষ্ট চরিত্র নষ্ট করে
অধিক মুনাফা
দুর্নীতি
Related Question
View Allএইচআইভি (HIV) হলো অতি ক্ষুদ্র এক বিশেষ ধরনের ভাইরাস, যার পুরো নাম হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (Human Immuno Deficiency Virus) ।
এইডস হচ্ছে এমন একটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি যা এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণের মাধ্যমে রোগীর দেহে প্রবেশ করে। এইডস রোগটি ছড়ানোর বিভিন্ন উপায় থাকলেও এর অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে যৌন মিলন। অর্থাৎ এইচআইভি সংক্রমিত পুরুষ বা মহিলার সাথে যৌন মিলনে এ রোগ ছড়াতে পারে।
ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হলেন যে, রিমির মা এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
এইচআইভি (HIV) হলো অতি ক্ষুদ্র এক বিশেষ ধরনের ভাইরাস। এ ভাইরাসের পুরো নাম হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (Human Immuno Deficiency virus) সংক্ষেপে এইচ আইভি (HIV)। এটি মানবদেহে প্রবেশ করে দেহের নিজস্ব, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। এ ভাইরাস অনেকদিন পর্যন্ত শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সাধারণত এর সুপ্তিকাল ৬-৭ মাস। উদ্দীপকে উল্লিখিত রিমির পিতার ছয় মাস পর তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়ে তাকে এইডস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করেন। এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায় হলো এইডস। যদি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কারও দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত করা যায় তবেই তাকে এইচআইভি পজিটিভ বলা হয়। এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি এইডস রোগে আক্রান্ত হয়। যা ব্যক্তির অনিবার্য পরিণতি অকাল মৃত্যু। তাই বলা যায়, রিমির মায়ের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডাক্তার নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি এইডস রোগে আক্রান্ত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রিমির পরিবারের সমস্যা মোকাবিলায় 'নির্মল হাসি' সংস্থার গৃহীত পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়, মানবিক ও সময়োপযোগী।
এইডস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। তাই এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমাজ, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা অনুচিত। এক্ষেত্রে উদ্দীপকে 'নির্মল হাসি' উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম প্রশংসনীয়। রিমির বাবা সিঙ্গাপুরে চাকরিরত অবস্থায় অসুস্থতাবোধ করলে দেশে ফিরে আসেন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। পিতার মৃত্যুর ছয় মাস পর তার মাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। নির্মল হাসি নামক উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় চিকিৎসা শুরু করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার তাকে এইডস রোগে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করলে পরিবারটি বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়। এ সমস্যা প্রতিরোধে নির্মল হাসি সংস্থা পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ায় এবং- নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যেমন- সামাজিক ও মানসিক সমর্থনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রোগীর প্রতি সমাজের অন্যান্যদের মানসিক ও সামাজিক সমর্থন আদায়ে প্রচেষ্টা চালায়। রোগীর সাথে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং স্নেহ- ভালোবাসা দিয়ে রোগীর মনকে প্রফুল্ল রাখতে চেষ্টা করে। রোগীকে সবার কাছ থেকে আলাদা না করার জন্য পরিবারের সদস্যদের উপদেশ দেয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখে।
তাই বলা যায়, এইডস রোগীদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয় সেগুলো মোকাবিলায় নির্মল হাসি সংস্থার গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রশংসার দাবিদার।
বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের প্রতিবেদন অনুসারে ২০০১ সালে বাংলাদেশ ৪,০৯১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশে গাড়ির সংখ্যা যে হারে বেড়েছে সে হারে দক্ষ চালক তৈরি হয়নি। অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালককে দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গাড়ি চালানোর জন্য যেসব আইন ও নিয়মনীতি রয়েছে তাও অধিকাংশ গাড়ি চালকরা জানেন না। এ কারণে তারা কখনো কখনো মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই কম বেতনে সনদবিহীন চালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব চালকদের অধিকাংশই তরুণ বয়সের, যারা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অন্য গাড়িকে ওভারটেক করে এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। এ কারণেও প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!