শরিয়ত আরবি ভাষার শব্দ।
'শরিয়ত' শব্দের অর্থ পথ, রাস্তা, জীবনপদ্ধতি।
ইসলামের বিধিবিধান
সূরা জাসিয়া
সূরা মায়িদা
আয়াতটি সূরা মায়িদার অন্তর্গত
মুসলিম মনীষীগণ শরিয়তের বিষয়বস্তুকে প্রধানত ৩টি ভাগে ভাগ করেছেন।
শরিয়তের প্রধান উৎস ২টি।
শরিয়তের উৎস ৪টি।
আল-কুরআনের ওপর শরিয়তের ভিত্তি ও কাঠামো প্রতিষ্ঠিত।
শরিয়তের প্রধান উৎস
আদ-দুখান
আয়াতটি আল-বুরুজ সূরার অন্তর্গত।
লাওহে মাহফুজ এ আল-কুরআন সর্বপ্রথম কোথায় লিপিবদ্ধ ছিল।
সংরক্ষিত ফলক
প্রথম আসমানে
'বায়তুল ইযযাহ' প্রথম আসমানে অবস্থিত।
রাসুল (স.)-এর হৃদয়কে মজবুত করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন অল্প অল্প করে নাজিল করেছেন।
কুরআন ও হাদিস
পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা হয় সূরা আলাক দ্বারা।
'আল-বুরহান' শব্দের অর্থ সুস্পষ্ট প্রমাণ।
আল হিজর সূরার আয়াত।
'ওহি লেখক' সাহাবিদের সংখ্যা ৪২ জন।
হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)
হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)
হযরত উসমান (রা.)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পূর্ণ কুরআন লিপিবদ্ধ হয়।
খলিফা আবু বকর (রা.) যুগে ইয়ামামা'র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ইয়ামামার যুদ্ধে বহু সংখ্যক কুরআনের হাফিয সাহাবি শাহাদাতবরণ করেন।
ইয়ামামা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হযরত আবু বকর (রা.) সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
ইয়ামামার যুদ্ধে ৭০ জন হাফিযে কুরআন শহিদ হয়েছিলেন।
হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.) কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে ৪টি পন্থা বিশেষভাবে অবলম্বন করেন।
হাফসা (রা.)
উসমান (রা.)
মহানবি ৭টি রীতিতে কুরআন পাঠের অনুমতি দেন।
হযরত হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান (রা.)
হযরত উসমান (রা.) কে জামিউল কুরআন বলা হয়।
'জামিউল কুরআন' অর্থ কুরআন সংকলনকারী।
কুরআন মাজিদে হরকত সংযোজনকারী হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
৬২৩৬টি
আল কুরআনের রুকুর সংখ্যা ৫৫৮
অবতরণের সময়ের প্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনের সূরাগুলোকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়।
মাক্কি সূরা
মাক্কি সূরার সংখ্যা ৮৬টি।
মাক্কি সূরার বৈশিষ্ট্য ১২টি।
হিজরতের পূর্বে যে সকল সূরা নাজিল হয়েছে সেগুলোকে মাদানি সূরা বলে।
মাদানি সূরার সংখ্যা ২৮টি ।
'তিলাওয়াত' শব্দের অর্থ পাঠ করা, আবৃত্তি করা।
দেখে দেখে পড়া
দেখে দেখে কুরআন তিলাওয়াত করা উত্তম।
তাজবিদ সহকারে তিলাওয়াত
কুরআন সকল প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভান্ডার।
বক্তব্যটি ফরাসি পন্ডিতের।
আয়াতটি সূরা সা'দ এর
তালাবদ্ধ অন্তর
সূরা মুয্যাম্মিল
নিরাপদ নগরী বলতে বোঝানো হয়েছে মক্কা।
মহানবি (স.)-এর বাণী।
অবস্থা, মর্যাদা, কারণ, ঘটনা, পটভূমি
নুযুল শব্দের অর্থ অবতরণ।
শানে নুযুল জানার উল্লেখযোগ্য উপকারিতা দুটি।
আশ শামস সূরায় আল্লাহ তায়ালা সাতবার শপথ করে মানুষকে সতর্ক করেছেন।
সূরা শামস মক্কায় অবতীর্ণ হয়।
সূরা আশ শাম্স-এর আয়াত সংখ্যা ১৫টি।
সূরা শামস কুরআনের ৯১তম সূরা।
আশ-শামস শব্দের অর্থ সূর্য
আল-কামার শব্দের অর্থ চন্দ্র।
শামস সূরার শিক্ষা
সূরা আদ-দুহা
সূরা আদ-দুহায় এগারোটি আয়াত আছে।
মক্কায় অবতীর্ণ হয়।
আবু লাহাবের
উম্মে জামিল
উম্মে জামিল
সূরা দুহা
'আদ-দুহা' শব্দের অর্থ পূর্বাহ্ন।
সূরা আদ-দুহায়।
উত্তম
অতি শীঘ্র
সূরা আদ-দুহা
আদ-দুহা
আদ-দুহা
৮ আয়াতবিশিষ্ট
৯৪ তম সূরা
কাফিরদের শাস্তির বিবরণ
সূরা ইনশিরাহ অবতীর্ণ করেন।
অনন্তর মনোনিবেশ করুন
সূরা আল ইনশিরাহ
মানবজীবনে হাসিকান্না থাকবেই
৯৫ তম
মক্কায় অবতীর্ণ।
সূরা আত-তীনের আয়াত সংখ্যা ৮
আঞ্জির বা ডুমুর ফল
'আঞ্জির' একটি ফল।
সূরার আত-তীনে ২টি ফলের কসম করা হয়েছে।
দুটি
সিরিয়া ও ফিলিস্তিন
সিরিয়া ও ফিলিস্তিন
নিরাপদ নগরী বলতে বোঝানো হয়েছে- মক্কা
মানুষ সৃষ্টিজগতের সুন্দরতম সৃষ্টি
১০৭ তম সূরা
মক্কায় অবতীর্ণ ।
দুর্ভোগ
লোক দেখানোর জন্য নামাজ আদায় করা
দুস্থদের সাহায্য করা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য।
সুন্নাহ অর্থ রীতিনীতি, পথ, পদ্ধতি।
কুরআন মজিদের সব সংক্ষিপ্ত বিষয়ের ব্যাখ্যাদানের দায়িত্ব মহানবি (স.) ওপর ছিল।
হাদিস শরিয়তের উৎস
হাদিস শব্দের অর্থ কথা বা বাণী।
হাদিস
মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতিকে হাদিস বলে।
হাদিসের ২টি অংশ থাকে
হাদিসের রাবি পরম্পরাকে সনদ বলে।
যে ব্যক্তি হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁকে রাবি বলে।
হাদিসের মূল বক্তব্যকে মতন বলে।
৩
কাওলী হাদিস
কাজ
সে হাদিসকে বলা হয় ফিলি হাদিস।
তাকরিরি হাদিস
তাকরিরি হাদিস
সনদ বা রাবির পরম্পরার দিক থেকে হাদিস তিন প্রকার।
যেসব হাদিসের বর্ণনা পরম্পরা রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে বলে-মারফু।
যে হাদিসের সনদ সাহাবি পর্যন্ত পৌঁছে শেষ হয়ে গেছে, তাকে মাওকুফ হাদিস বলা হয়।
যে হাদিসের সনদ তাবিঈ পর্যন্ত পৌছেছে
কুদসি ধরনের হাদিস
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)
খলিফা উমর ইব্ন আবদুল আযীয (র.)
ইমাম মালিক (র.)মুয়াত্তা' গ্রন্থের প্রণেতা।
আল-মুয়াত্তা গ্রন্থের নাম শুনেছে।
আল-মুয়াত্তা
হিজরি তৃতীয় শতক হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ।
সূরা আলে-ইমরান
হাদিসে রাসুল (স.)
সূরা হাশর এর অন্তর্গত।
কুরআন ও সুন্নাহ
এটি কাওলি প্রকারের হাদিস।
আল-আমালু শব্দের অর্থ কর্মসমূহ।
সংকল্প
ইমাম বুখারি (স.) তাঁর সংকলিত গ্রন্থে নিয়ত বিষয়ের হাদিসকে প্রথমে স্থান দিয়েছেন।
বুখারি গ্রন্থের হাদিস।
উম্মে কায়স
'খামসুন' শব্দের অর্থ পাঁচ
ইসলামের ৫টি স্তম্ভ রয়েছে।
ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ইমান।
হে আল্লাহ
প্রতিদান
কৃপণ
কৃপণতা নিন্দনীয় কাজ।
সদকা হিসেবে গণ্য হবে।
সদকায়ে যারিয়া আখ্যায়িত করেছেন।
বুখারি ও মুসলিম
পরিজন
যে তার পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ করে
ইসলামের আদর্শ
'আল-আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বস্ত।
শহিদদের সাথে থাকবেন
ইবনে মাজাহ
পবিত্র পেশা
আশ্চর্যজনক
ধৈর্যধারণ করে
ধৈর্যধারণ করে
আল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানায়
লিসানুন শব্দের অর্থ জিহ্বা।
সাকিলাতুন শব্দের অর্থ ভারী।
আল্লাহর নিকট প্রিয় বাক্য সুবহানাল্লাহি।
আল্লাহ মহাপবিত্র
ইজমা শরিয়তের তৃতীয় উৎস।
একমত হওয়া
মুজতাহিদ' শব্দের আভিধানিক অর্থ গবেষক।
সাহাবিগণের যুগে প্রথম ইজমার প্রচলন লক্ষ করা যায়।
ইজমার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইজমার প্রমাণ
তারাবির নামাজ ২০ রাকাতের তথ্যসূত্র ইজমা।
উক্তিটি ইজমা প্রতি ইঙ্গিত করে
এ উক্তি দ্বারা ইজমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শরিয়তের উৎস হিসেবে কিয়াসের স্থান চতুর্থ
শরিয়তের সর্বশেষ উৎস কিয়াস
এ আয়াতে কিয়াস এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কাজি বা বিচারক
ইমামগণ কিয়াসের ব্যাপারে ৪টি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন।
এ উক্তির দ্বারা কিয়াসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ফরজ অর্থ অবশ্য কর্তব্য।
যেসব কাজ কুরআন ও সুন্নাহর দলিল দ্বারা অবশ্য পালনীয় ও অলঙ্ঘনীয় বলে প্রমাণিত তাকে ফরজ বলা হয়।
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ফরজে আইন।
ফরজে কিফায়া
জানাযার সালাত
ওয়াজিব
ওয়াজিব
ওয়াজিব ছেড়ে দিলে
সুন্নত দুই প্রকার
জামাত শুরু হওয়ার জন্য ইকামত দেওয়ার বিধানটি হচ্ছে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ
সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ
সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ
সূরা আল-বাকারা
মানুষকে পরীক্ষার জন্য
সামগ্রিক কল্যাণের জন্য
কুফর
কাফির
সূরা আল-বাকারা
হালাল
ইবাদতে
আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার কালাম। এটি 'লওহে মাহফুজ' বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "বস্তুত এটি সম্মানিত কুরআন। সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।" (সূরা আল- বুরুজ: ২১-২২)
শরিয়ত আরবি শব্দ। এর অর্থ পথ, রাস্তা। এটি জীবনপদ্ধতি, আইনকানুন, বিধিবিধান অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ব্যাপক অর্থে শরিয়ত। হলো এমন সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট পথ, যা অনুসরণ করলে মানুষ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নিজ গন্তব্যে পৌছাতে পারে।
ইসলামি পরিভাষায়, 'ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতিকে শরিয়ত বলা হয়। অন্যকথায়, ইসলামি আইনকানুন বা বিধিবিধানকে একত্রে শরিয়ত বলা হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব আদেশ-নিষেধ ও পথনির্দেশনা মানুষকে জীবন পরিচালনার জন্য প্রদান করেছেন তাকে শরিয়ত বলে।
শরিয়ত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "অতঃপর আমি আপনাকে শরিয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন। আর আপনি অজ্ঞদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না।" (সূরা আল-জাসিয়া: ১৮)
মুসলিম মনীষীগণ শরিয়তের বিষয়বস্তুকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-
ক. আকিদা বা বিশ্বাসগত বিধিবিধান।
খ. নৈতিকতা ও চরিত্র সংক্রান্ত রীতিনীতি।
গ. বাস্তব কাজকর্ম সংক্রান্ত নিয়মকানুন।
মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। শরিয়ত হলো জীবন, পরিকল্পনার দিক নির্দেশনা। এর দ্বারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইসলামের বিধি-নিষেধ জানা যায়। কোনটি হালাল, কোনটি হারাম্ ইত্যাদি জানা যায়। ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ইত্যাদি বিষয়ের জ্ঞানসহ উত্তম চরিত্র ও নৈতিকতার নানা শিক্ষাও শরিয়তের মাধ্যমে জানা যায়। তাই মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম।
শরিয়তের উৎস মোট ৪টি। যথা- ১. কুরআন, ২. হাদিস, ৩. ইজমা ও ৪. কিয়াস। কুরআন হলো সর্বশেষ আসমানি কিতাব। হাদিস হলো রাসুল (স.) ও সাহাবিদের কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি। ইজমা হলো মুজতাহিদগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং কিয়াস হলো ইসলামি মূলনীতি অনুযায়ী বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করা।
আল-কুরআন দেখে দেখে পড়াকে নাযিরা তিলাওয়াত বলা হয়।
শরিয়তের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান উৎস হলো আল-কুরআন। ইসলামি শরিয়তের সকল বিধিবিধানের মূল উৎসই আল-কুরআন। এর ওপরই ইসলামি শরিয়তের ভিত্তি ও কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের সমাধানসূচক মূলনীতি ও ইঙ্গিত আল-কুরআনে বিদ্যমান।
কুরআন মজিদ সহজ ও সাবলীল ভাষায় নাজিলকৃত। কেননা, অতি সাধারণ মানুষও যাতে কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এতে কোনোরূপ অস্পষ্টতা, বক্রতা কিংবা জটিলতা নেই। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর আমি তো কুরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।" (সূরা আদ-দুখান: ৫৮)
আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার কালাম। এটি 'লওহে মাহফুজ' বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "বস্তুত এটি সম্মানিত কুরআন। সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।" (সূরা আল-বুরুজ: ২১-২২)
মহানবি (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ.) আল-কুরআনের সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে তথায় মহানবি (স.)-এর নিকট অবতরণ করেন। এটাই ছিল দুনিয়াতে আল-কুরআন প্রথম নাজিলের ঘটনা।
মহান আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআন, অল্প অল্প করে প্রয়োজন অনুসারে নাজিল হওয়া সম্পর্কে বলেন, "আর আমি খন্ড-খন্ডভাবে কুরআন নাজিল করেছি যাতে আপনি তা মানুষের নিকট ক্রমে ক্রমে পাঠ করতে পারেন আর আমি তা ক্রমশ নাজিল করেছি।" (সূরা বনি ইসরাইল: ১০৬)
আল-কুরআনের সংরক্ষক মহান আল্লাহ তায়ালা। আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব। কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের সার্বিক জীবন বিধান ও দিকনির্দেশনা এতে বিদ্যমান। মহান আল্লাহ স্বয়ং এর সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, "আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর: ৯)
আল-কুরআন মুখস্থকরণে রাসুল (স.) দ্রুতপাঠ ও ব্যাকুলতা দেখে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সান্ত্বনা দেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তাড়াতাড়ি ওহি আয়ত্ত করার জন্য আপনি দ্রুত আপনার জিহ্বা তাঁর সাথে সঞ্চালন করবেন না। এটা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই।" (সূরা আল-কিয়ামাহ: ১৬-১৭)
আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। এর পরে আর কোনো আসমানি কিতাব মানুষের হিদায়েতের জন্য অবতীর্ণ হবে না। তাই কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের হিদায়েতের পথনির্দেশিকা হলো আল-কুরআন। তাই কুরআন যদি বিকৃত হয়, তাহলে মানুষ সঠিক নির্দেশনা পাবে না। সেজন্য কিয়ামত পর্যন্ত কুরআন অবিকৃত থাকবে।
আল-কুরআন নাজিল হলে রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিগণকে তা মুখস্থ করতে বলতেন। সাহাবিগণ তা মুখস্থ করতেন, দিনরাত তিলাওয়াত করতেন, নামাযে পাঠ করতেন এবং পরিবার-পরিজন, স্ত্রী-সন্তান ও বন্ধুবান্ধবদেরও মুখস্থ করাতেন। এমনকি কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দেওয়ার জন্য নবি করিম (স.) সাহাবিগণকে নানা স্থানে প্রেরণ করতেন। এভাবে মুখস্থ করার মাধ্যমে আল-কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষণ করা হয়।
আল-কুরআন লিপিবদ্ধকারী সাহাবিগণকে বলা হয় কাতিবে ওহি বা ওহি লেখক। তাঁরা ছিলেন সংখ্যায় মোট ৪২ জন। এঁদের মধ্যে প্রধান ছিলেন হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)।
কয়েকজন কাতিবে ওহির লেখক হলেন-
১. হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.),
২. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.),
৩. হযরত উমর ফারুক (রা.),
৪. হযরত উসমান (রা.),
৫. হযরত আলি (রা.)।
হযরত যায়দ (রা.) কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নিম্নোক্ত চারটি পন্থা অবলম্বন করেন। যথা-
ক. হাফিয সাহাবিদের তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রতিটি আয়াতের। বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতা যাচাইকরণ।
খ. হযরত উমর (রা.)-এর হিফযের সাথে মিলিয়ে আয়াতের বিশুদ্ধতা যাচাইকরণ।
গ. রাসুলুল্লাহ (স.)-এর উপস্থিতিতে লিখিত হওয়ার ব্যাপারে ন্যূনতম দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ।
ঘ. চূড়ান্তভাবে লিখিত আয়াতগুলো অন্যান্য সাহাবির সংরক্ষিত পান্ডুলিপির সাথে তুলনা ও যাচাইকরণ।
চরম সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.) পবিত্র কুরআন সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে সংকলন করেন। এটাই ছিল সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ আল-কুরআন। কুরআনের এ কপিটি হযরত আবু বকর (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত ছিল। তাঁর ইন্তেকালের পর এটি হযরত উমর (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত ছিল। হয়রত উমর (রা.)-এর শাহাদতের পর পবিত্র কুরআনের এ পান্ডুলিপ্রিটি তাঁর কন্যা উম্মুল মুমিমিন হযরত হাফসা (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত ছিল।
হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথয়, খলিফা। তাঁর সময়ে কতিপয় নবুয়তের মিথ্যা' দাবিদার বা ভন্ড নরিক্ত যাকাত অস্বীকারকারীর আবির্ভাব ঘটে। তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরূপই একটি যুদ্ধ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে বহুসংখ্যক কুরআনের হাফিয সাহাবি শাহাদতবরণ করেন। এতে হযরত উমর (রা.) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং তিনি কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।
হযরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে নানা মতানৈক্য দেখা দেয়। এর মূল কারণ ছিল বিভিন্ন গোত্রীয় রীতিতে কুরআন পাঠ। অর্থাৎ ইসলামি খিলাফতের ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে অনারবগণ মুসলমান হতে লাগল। তারা আরবি ভাষার এসব আঞ্চলিক রীতিসমূহ সম্পর্কে সচেতন ছিল না। ফলে ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠে তাদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয় ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
সাধারণভাবে বলা যায়, পবিত্র মাক্কি নগরীতে আল-কুরআনের যেসব সূরা নাজিল হয়েছে, সেগুলো মাক্কি সূরা। প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, মহানবি (স.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পূর্বে নাজিল হওয়া সূরাসমূহকে মাক্কি সূরা বলা হয়।
মাক্কি সূরার দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মাত্তি সূরাসমূহে তাওহিদ ও রিসালাতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
২. মুত্যুর পরবর্তী জীবন কিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম তথা আখিরাতের বর্ণনা এসব সূরায় প্রাধান্য লাভ করেছে।
সাধারণ ভাষায় বলা যায়, মদিনাতে নাজিল হওয়া সূরাগুলো মাদানি সূরা। তবে প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, মহানবি (স.)-এর মদিনায় হিজরতের পর নাজিল হওয়া সকল সূরাকে মাদানি সূরা নামে আখ্যায়িত করা হয়
মাদানি সূরার দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মাদানি সূরাসমূহে আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি ইসলামের আহ্বান জানানো হয়েছে।
২. এতে আহলে কিতাবের পথভ্রষ্টতা ও তাদের কিতাব বিকৃতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
তিলাওয়াত শব্দের অর্থ পাঠ করা, আবৃত্তি করা, পড়া, অনুসরণ করা ইত্যাদি। আল-কুরআন পাঠ করাকে ইসলামি পরিভাষায় কুরআন তিলাওয়াত বলা হয়।
নাযিরা অর্থ দেখো। আর তিলাওয়াত অর্থ পাঠ করা। সুতরাং নাষিরা তিলাওয়াত অর্থ দেখে পাঠ করা। আল-কুরআন দেখে পড়াকে নাষিরা তিলাওয়াত বলা হয়।
হালকাভাবে আল-কুরআন পাঠ করলেই চলবে না। বরং একে খুবই গুরুত্বের সাথে তিলাওয়াত করতে হবে। এর মর্মার্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হবে। এতে বর্ণিত বিষয়াদি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করতে হবে। তাহলে আমরা। আল-কুরআনের জ্ঞান ও শিক্ষা আয়ত্ত করতে পারব।
আল-কুরআন ধীরস্থিরভাবে তাজবিদসহকারে সুন্দর করে তিলাওয়াত করা উচিত। কারণ ভুলভাবে কুরআন তিলাওয়াত করলে পুণ্য অর্জন করার পরিবর্তে পাপ হবে। তাই কুরআন তিলাওয়াত করার সময় তাজবিদ অনুযায়ী তিলাওয়াত করতে হবে।
আল-কুরআন সহিহ-শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে পাঠ করাও অত্যাবশ্যক। কুরআন মজিদ ভুল ও অসুন্দর সুরে তিলাওয়াত করলে গুনাহ হয়। অশুদ্ধ ও অসুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করলে নামায শুদ্ধ হয় না। তাই তাজবিদসহকারে কুরআন তিলাওয়াত করা আবশ্যক।
কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত অত্যন্ত বেশি। এর প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতেই নেকি পাওয়া যায়। নবি করিম (স.) বলেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফও পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভকরবে। আর এ নেকির পরিমাণ হলো দশ গুণ।" (তিরমিযি)
কুরআন হলো নূর বা জ্যোতি। এটি তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সমুন্নত করে। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ হয়। মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত হয়।
যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার দ্বারা মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে। হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাকে সূর্যের চাইতেও উজ্জ্বল মুকুট পরানো হবে।" (আহমাদ ও আবু দাউদ)
'শান' শব্দের অর্থ অবস্থা, মর্যাদা, কারণ, ঘটনা, পটভূমি। আর নুযুল অর্থ অবতরণ। অতএব, শানে নুযুল অর্থ অবতরণের কারণ 'বা পটভূমি। ইসলামি পরিভাষায়, আল-কুরআনের সূরা বা আয়াত নাজিলের কারণ বা পটভূমিকে 'শানে নুযুল' বলা হয়। একে 'সববে নুযুল'ও বলা হয়।
সূরা আশ-শাম্স মাক্কি সূরার অন্তর্গত। এর আয়াত সংখ্যা ১৫টি। এ সূরার প্রথম শব্দ শাম্স থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে আশ-শাম্স। এটি আল-কুরআনের ৯১তম সূরা।
সূরা আশ-শামস-এ বর্ণিত আয়াতসমূহ তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগ হলো সূরার প্রথম সাত আয়াত। এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তায়ালা তাঁর কতিপয় সৃষ্টবস্তু, এদের অবস্থা ও এদের স্রষ্টা সম্পর্কে শপথ করেছেন। মানুষের শপথ করেছেন। এসব জিনিসের শপথ করার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা পরবর্তী আয়াতগুলোতে বর্ণিত বিষয়ের তাগিদ করেছেন।
সূরার শেষভাগে আল্লাহ তায়ালা ছামুদ সম্প্রদায়ের উদাহরণের মাধ্যমে মানুষের ব্যর্থতার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। ছামুদ সম্প্রদায় ছিল খুবই উন্নত-সমৃদ্ধ একটি জাতি কিন্তু তারা আল্লাহর প্রেরিত রাসুলকে অবিশ্বাস করে এবং তাঁর নির্দেশ অমান্য করে। তাদের এ অবাধ্যতার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদের শাস্তি প্রদান করেন এবং তাদের ধ্বংস করে দেন।
এ সূরা থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা লাভকরি। যেমন- আল্লাহ তায়ালাই আসমান, জমিন ও মানুষের স্রষ্টা। তিনিই সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিনের আবর্তন ঘটান। তিনিই মানুষের ভালো-মন্দ, সৎকর্ম-অসৎকর্মের জ্ঞান দান করেন। যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে, সে সার্বিক সফলতা লাভ করবে।
সূরা আদ-দুহা আল-কুরআনের ৯৩তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ১১। এটি পবিত্র মক্কা নগরীতে নাজিল হয়। সূরাটির প্রথম শব্দ দুহা থেকে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে আদ-দুহা।
আল্লাহ তায়ালা মহানবি (স.)-কে সর্বাবস্থায় সাহায্য ও নিয়ামত দান করেন। মহানবি (স.) দরিদ্র ছিলেন। আল্লাহ তায়ালাই তাঁকে অভাব মুক্ত করেন। আল্লাহ তায়ালা মহানবি (স.) কে সুসংবাদ দিয়ে জানিয়ে দেন, মহানবি (স.)-এর আখিরাতের জীবন দুনিয়ার জীবন অপেক্ষা বহুগুণে উত্তম হবে। সেখানে তিনি উত্তম প্রতিদান লাভকরবেন এবং আল্লাহ তায়ালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন।
এ সূরা থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা লাভকরি। যেমন- আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের কখনোই পরিত্যাগ করেন না। তিনিই তাদের সকল বিপদাপদ থেকে রক্ষা করেন। পরকালে তিনি তাদের কল্যাণময় জীবন দান করবেন। ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত গবির-দুঃখী, ইয়াতীম ও ভিক্ষুকদের কল্যাণ করা।
সূরা আল-ইনশিরাহ মাক্কি সূরাসমূহের অন্যতম। এর আয়াত সংখ্যা মোট ৮টি। এটি আল-কুরআনের ৯৪তম সূরা। সূরার প্রথম আয়াতে নাশরাহ শব্দের ক্রিয়ামূল বিবেচনায় এ সূরার নাম রাখা হয়েছে আল-ইনশিরাহ।
মহানবি (স.) মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। সে সময় আরবদের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। তারা নানা প্রকার অন্যায়-অত্যাচার ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল। তারা আল্লাহ তায়ালার সাথে কুফরি করত, তাঁকে মানত না এবং তারা মূর্তিপূজায় নিমজ্জিত ছিল।
সূরা আল-ইনশিরাহ থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা লাভ করি। যেমন- যে ব্যক্তি সত্য ও ন্যায়ের জন্য চেষ্টা-সাধনা করে আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরকে খুলে দেন। তাকে সৎ পথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ তায়ালাই মানুষের কষ্ট-যাতনা দূর করেন। মানুষের মান-সম্মান, খ্যাতি-মর্যাদা সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান মর্যাদা দান করেন।
সূরা আত-তীন আল-কুরআনের ৯৫তম সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ এবং এর আয়াত সংখ্যা ৮। সূরার প্রথম শব্দ তীন থেকে এ সূরার নাম আত-তীন রাখা হয়েছে।
সূরা আত্-তীনে আল্লাহ তায়ালা চারটি বস্তুর শপথ করেছেন। তন্মধ্যে। প্রথম দুটি হলো আঞ্জির (ডুমুর জাতীয় ফল) ও যায়তুন। আঞ্জির হলো একটি উপাদেয় ফল। আর যায়তুনের ফল অত্যন্ত বরকতময় ও এর তেল খুবই উপকারী। এ দুটি ফল আরব বিশ্বে বহুল পরিচিত এবং সকলেই এর গুণ সম্পর্কে অবহিত। তাই এদের শপথ করা হয়েছে
দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তুর পর্বতের শপথ করেছেন। এ পর্বত অত্যন্ত বরকতময় স্থান। এ পর্বতে হযরত মুসা (আ.) মহান আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন করেন। আর সেখানেই তাওরাত কিতাব নাজিল হয়।
সূরা আত-তীনের তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নিরাপদ নগরীর শপথ করা হয়েছে। আর এটা হলো মক্কা নগরী। এ নগরীতে মহানবি (স.) জন্মগ্রহণ করেন। এতে পবিত্র বায়তুল্লাহ বা কাবা শরিফ অবস্থিত, সেখানে রক্তপাত ও মারামারি নিষিদ্ধ।
সূরা আত-তীন-এর কয়েকটি শিক্ষা হলো-
মানুষ সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ ও সুন্দরতম সৃষ্টি। মানুষের সম্মান ও মর্যাদা সৎকর্মের ওপর নির্ভরশীল। অসৎকর্ম করলে মানুষ মনুষ্যত্বের স্তর থেকে পশুত্বের স্তরে নেমে যায়। সৎকর্মশীলগণ পরকালে অশেষ ও অফুরন্ত পুরষ্কার লাভ করবেন। আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। শেষ বিচারের দিন তিনি সকল মানুষের কৃতকর্মের হিসাব নেবেন।
সূরা আল-মাউন আল-কুরআনের ১০৭তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৭টি। এটি মাক্কি সূরাগুলোর অন্তর্গত। সূরার শেষ শব্দ মাউন থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে।
সূরা আল-মাউনে কাফির ও মুনাফিকদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও কাজের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সূরার প্রথম আয়াতে কিয়ামত দিবস ও বিচার দিবস অস্বীকারকারীদের কথা বলেছেন। আর কাফির মুনাফিকরাই মূলত বিচার দিবসের অস্বীকারকারী।
শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ। সুন্নাহ অর্থ পথ, পদ্ধতি রীতিনীতি। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর সমর্থিত রীতিনীতিকে সুন্নাহ বলে। সুন্নাহকে হাদিস নামেও অভিহিত করা হয়।
শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ। সুন্নাহ অর্থ পথ, পদ্ধতি রীতিনীতি। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর সমর্থিত রীতিনীতিকে সুন্নাহ বলে। সুন্নাহকে হাদিস নামেও অভিহিত করা হয়।
কাওল আরবি শব্দ। কাওল অর্থ বাণী। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণীসূচক হাদিসকে কাওলি হাদিস বলা হয়। অর্থাৎ মহানবি (স.)-এর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণীকে কাওলি বা বাণীসূচক হাদিস বলে।
ফে'লি শব্দের অর্থ কাজ সম্বন্ধীয়। যে হাদিসে মহানবি (স.)-এর। কোনো কাজের বিবরণ স্থান পেয়েছে অথবা যে হাদিস রাসুল (স.)-এর কর্মের বর্ণনা রয়েছে তাকে ফে'লি বা কর্মসূচক হাদিস বলা হয়।
সনদ বা রাবির পরম্পরার দিক থেকে হাদিস তিন প্রকার। যথা- (১) মারফু (২) মাওকুফ ) ও (৩)মাকতু
যে হাদিসের সনদ (হাদিসের রাবিগণের পর্যায়ক্রমিক বর্ণনা পরম্পরা) সাহাবি পর্যন্ত পৌঁছে শেষ হয়ে গেছে, এবং তা রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌছেনি এরূপ হাদিসকে মাওকুফ হাদিস বলে।
যে হাদিসের সনদ তাবিঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মাকতু হাদিস বলে। অন্যকথায়, যে হাদিসে কোনো তাবিঈর বাণী, কাজ ও মৌন সম্মতি বর্ণিত হয়েছে তাকে মাকতু হাদিস বলা হয়।
হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযিয (র.)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনিই সর্বপ্রথম সরকারিভাবে হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনে নতুন গতি সঞ্চার হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হযরত ইমাম মালিক (র.) সর্বপ্রথম হাদিসের বিশুদ্ধ সংকলন তৈরি করেন।
সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ হলো-
(১) সহিহ বুখারি,
(২) সহিহ মুসলিম,
(৩) সুনানে নাসাই,
(8) সুনানে আবু দাউদ,
৫) জামি তিরমিযি ও
(৬) সুনানে ইবনে মাজাহ।
মহানবি (স.) হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, "আমি তোমাদের মধ্যে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে থাকবে ততদিন পর্যন্ত তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) এবং অপরটি তাঁর রাসুলের সুন্নাহ।" (মুয়াত্তা)
নিয়ত সম্পর্কিত হাদিসটির প্রেক্ষাপট হলো- উম্মে কায়স নামক একজন মহিলা ইসলাম গ্রহণ করে মদিনায় হিজরত করেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বিয়ে করার জন্য মদিনায় হিজরত করে চলে আসেন। ঐ ব্যক্তির উদ্দেশ্য জানতে পেরে নবি (স.) এ হাদিসটি বর্ণনা করেন।
নিয়ত সম্পর্কিত হাদিসের দুটি শিক্ষা হলো-কাজের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যকে নিয়ত বলা হয়। নিয়তের উপরেই কাজের সফলতা নির্ভর করে। অর্থাৎ নিয়ত যদি ভালো হয় তবে ব্যক্তি উত্তম প্রতিদান লাভ করবে। আর নিয়ত যদি খারাপ হয় তবে ভালো কাজ করলেও ব্যক্তি সাওয়াব লাভ করবে না।
ইসলামের ভিত্তি সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ (স.) তাঁর বান্দা ও রাসুল এবং সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমযানের রোযা রাখা।” (বুখারি ও মুসলিম)
ইসলামের ভিত্তি সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা হলো-
ইসলামের মূলভিত্তি পাঁচটি। এগুলো হলো- ইমান, সালাত, যাকাত, হজ ও সাওম। ইমান হলো সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে ইমানের প্রকাশ ঘটাতে হবে। এ পাঁচটি ভিত্তির একটি ছাড়াও ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না।
দানশীলতা সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "বান্দাগণ প্রতিদিন সকালে উপনীত হলেই দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। এঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ। দানকারীকে তুমি তার প্রতিদান দাও। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ। সম্পদ আটককারীকে (কৃপণকে) ক্ষতিগ্রস্ত কর।" (বুখারি ও মুসলিম)
যে ব্যক্তি সম্পদ খরচ না করে জমা করে রাখে সে কৃপণ। তার সম্পদ কোনো কাজে আসে না। এতে কোনোরূপ কল্যাণ ও বরকত নেই। আসমানের ফেরেশতাগণও তার প্রতি বদদোয়া করেন। এভাবে দুনিয়া ও আখিরাতে কৃপণ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দানশীলতা সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা হলো-দানশীলতা মহৎ গুণ। দানশীল ব্যক্তির জন্য ফেরেশতাগণ দোয়া করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা দানশীলকে উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন। কৃপণতা নিন্দনীয় কাজ। কৃপণ ব্যক্তি সর্বাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত।
বৃক্ষরোপণ সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষরোপণ করে কিংবা কোনো ফসল আবাদ করে, এরপর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু কিছু ভক্ষণ করে তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।" (বুখারি ও মুসলিম)
বৃক্ষরোপণ দ্বারা মানুষ নানাভাবে উপকৃত হয়। বৃক্ষ থেকে আমরা খাদ্য, ঔষধ, পোশাক, কাঠ, ফল ইত্যাদি লাভ করি। অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি রোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বৃক্ষের অবদান অনস্বীকার্য তাছাড়া পরিবেশ রক্ষায়ও বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকা পালন করে।
বৃক্ষরোপণের শিক্ষা হলো- বৃক্ষরোপণ পুণ্যের কাজ। বৃক্ষরোপণের দ্বারা মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হয়। পরিবেশ সংরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি আখিরাতেও প্রতিদান পাওয়া যাবে।। মহানবি (স.) দের বৃক্ষরোপণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন।
সর্বোত্তম মানুষ সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা হলো-
আল্লাহ তায়ালার স্মরণ সর্বোত্তম কাজ। মানুষের মর্যাদা ধন-দৌলত, শিক্ষা বা ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং দীন পালনের মাধ্যমেই। মানুষের মর্যাদা নিরূপিত হয়। যাঁদের দেখলে আল্লাহ তায়ালার স্মরণ হয় তাঁরা সর্বোত্তম ব্যক্তি।
মানবপ্রেম ও সৃষ্টির সেবা সম্পর্কিত হাদিস হলো- "সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিজন। সুতরাং আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ঐ ব্যক্তি যে তাঁর পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ করে।" (বায়হাকি)
সৃষ্টির সেবা সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা হলো- সকল সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার পরিজনস্বরূপ, এদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন ও সদাচরণ করা ইসলামের আদর্শ, জীবজন্তু, পশু-পাখির প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন এবং সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ করার দ্বারা মানুষ আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দা হতে পারে।
পরোপকার সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার ভাইয়ের ওপর অত্যাচার করে না, তাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হয়, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন।" (বুখারি ও মুসলিম)
পরোপকার সম্পর্কিত হাদিসের কয়েকটি শিক্ষা হলো-
মুসলমানগণ পরস্পর ভাই-ভাই, তারা পরস্পর অন্যায় অত্যাচার করবে । না, শত্রুর মোকাবিলায় সকলে একত্রে এগিয়ে আসবে, বিপদে আপদে পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে, সাহায্যকারী মুসলিম আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রিয়, এছাড়াও আরেকটি শিক্ষা হলো, আল্লাহ তায়ালা তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন।
সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী দুনিয়া ও আখিরাতে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ীগণ শহিদগণের সঙ্গে অবস্থান করবেন।
মুসলিম ব্যবসায়ীদের শহিদ্গণের সঙ্গে থাকতে হলে দুটি শর্ত পূরণ করতে হয়। যথা-প্রথমত, সততা ও সত্যবাদিতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদেরকে বিশ্বস্ত ও আমানতদার হতে হবে।
ব্যবসায় সততায় সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষাগুলো হলো-ব্যবসা-বাণিজ্য হালাল পেশা। তবে তা ইসলামি নীতি আদর্শের অনুসরণে করতে হবে। ব্যবসায়ের সততা ও বিশ্বস্ততা মহৎ গুণ। সকলকেই এগুলোর অনুশীলন করতে হবে। বিশ্বস্ত ও সৎ ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহিদগণের সঙ্গী হবেন।
ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "মুমিনের কাজ 1 বিস্ময়কর। আর প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর এ কল্যাণ মুমিন ছাড়া আর কেউ লাভ করতে পারে না। যদি সে সুখ-শান্তি লাভ করে, তবে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি সে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হয়, তবে সে ধৈর্যধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর।" (মুসলিম)
মানবজীবনে সুখ-শান্তির পাশাপাশি দুঃখ-কষ্টও বিদ্যমান। এগুলো আল্লাহ তায়ালার পরীক্ষাস্বরূপ। আল্লাহ তায়ালা সুখ ও দুঃখের, মাধ্যমে মানুষের পরীক্ষা করে থাকেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিপদাপন্ন | বালা-মসিবত দিয়েও পরীক্ষা করে থাকেন।
ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা সম্পর্কিত হাদিসটির দুটি শিক্ষা হলো-
১.দুঃখ-কষ্টের সময় হতাশ হওয়া চলবে না। বরং ধৈর্যসহকারে আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালন করতে হবে।
২. আনন্দের সময়ও আল্লাহ তায়ালার আদেশ ভুলে গেলে চলবে, না। বরং তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।
দুটি বাক্য এমন রয়েছে যা দয়াময় আল্লাহর নিকট খুবই প্রিয়, উচ্চারণ করতে সহজ ও দাঁড়িপাল্লায় খুবই ভারী। বাক্য দুটি হলো "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম।” (আল্লাহ মহাপবিত্র, সকল প্রশংসা তাঁর জন্যই। মহাপবিত্র আল্লাহ, তিনি মহামহিম)।
যিকির দুটি বাক্যের মাধ্যমে মিযান বা দাঁড়িপাল্লা ভারী হবে। কিয়ামতের দিন মানুষের সকল কৃতকর্ম দাঁড়িপাল্লায় এজন করা হবে। নেকির পাল্লা ভারী হলে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর নেকির পাল্লা হালকা হলে তার স্থান হবে জাহান্নাম। এ বাক্যদ্বয়ের সাওয়াব ওজনে খুবই ভারী। মিযানে এগুলো নেকির ওজনকে ভারী করে তুলবে।
যিকির সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা দুটি হলো-
১. আল্লাহ তায়ালা মহাপবিত্র, মহামহিম। তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করলে তিনি খুশি হন।
২. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহির আযিম- আল্লাহ তায়ালার প্রিয় দুটি বাক্য। আমরা সদা সর্বদা এ বাক্যদ্বয়ের যিকির করব।
শরিয়তের তৃতীয় উৎস হলো ইজমা। ইজমা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ- একমত হওয়া, ঐক্যবদ্ধ হওয়া, প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে কোনো বিষয় বা কথায় ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে।
ইজমা আরবি শব্দ। এর অর্থ একমত হওয়া। ইসলামি পরিভাষায়, শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতের পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলা হয়।
ইজমা শরিয়তের তৃতীয় উৎস। বিধিবিধান নির্ধারণে ইজমা অকাট্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত। সাধারণভাবে ইজমার ভিত্তিতে প্রণীত বিধানের ওপর আমল করা ওয়াজিব।
ইজমার বিরোধিতা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "আর সৎপথ প্রকাশিত হওয়ার পরও কেউ যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচারণ করে এবং মুমিনগণের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, তবে আমি তাকে ঐ দিকেই ফিরিয়ে দেব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।" (সূরা আন-নিসা: ১১৫)
শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস। কিয়াস শব্দের অর্থ অনুমান করা, তুলনা করা, পরিমাপ করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, কুরআন ও সুন্নাহর আইন বা নীতির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে পরবর্তীতে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান দেওয়াকে কিয়াস বলে।
শরিয়তের চতুর্থ স্তম্ভ হলো কিয়াস। কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক। যে সমসার সমাধান কুরআন, হাদিস ও ইজমাতে নেই, সেই সমস্যার সমাধানে কিয়াস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিয়াসের পদ্ধতি না থাকলে নতুন সমস্যা সমাধানের পথ রুদ্ধ হতো এবং ইসলামি শরিয়ত একটি সীমিত গন্ডিতে আবদ্ধ হতো। এ বিধানের কারণে ইসলাম গতিশীল জীবনব্যবস্থা হয়েছে এবং সর্বাধুনিক জীবন পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শরিয়তের ইমামগণ কিয়াস করার ব্যাপারে কতিপয় নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তার মধ্যে দুটি নীতি লেখা হলো-
১. যেসব বিষয়ের সমাধান কুরআন, হাদিস ও ইজমায় পাওয়া যায় সেসব বিষয়ে কিয়াস করা যাবে না।
২. কিয়াস কখনোই কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমার বিরোধী হবে না।
প্রতিটি বিষয়েরই নিজস্ব কিছু পরিভাষা থাকে। ইসলামি শরিয়তেরও এরূপ বেশ কিছু পরিভাষা বিদ্যমান। এসব পরিভাষার মাধ্যমে শরিয়তের বিধানাবলির পর্যায়ক্রমিক গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। ইসলামি শরিয়তের আহকাম বা বিধানাবলি সংক্রান্ত পরিভাষাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাব, মুবাহ ইত্যাদি।
ফরয অর্থ অবশ্য পালনীয়, অত্যাবশ্যক। শরিয়তের যেসব বিধান কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা অবশ্য কর্তব্য ও অলঙ্ঘনীয় বলে প্রমাণিত তাকে ফরজ বলা হয়।
যে সকল ফরজ বিধান সকলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে। অর্থাৎ যেসব ফরজ কাজ ব্যক্তিগতভাবে সকল মুসলমানকেই আদায় করতে হয় তা-ই ফরজে আইন। যেমন-দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, রমযান মাসে রোযা রাখা, এসব কাজ প্রত্যেক ব্যক্তিকেই নিজে আদায় করতে হয়।
ফরযে কিফায়া হলো সামষ্টিকভাবে ফরজ কাজ। অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানদের ওপর ফরজ, কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে ফেলে তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়।
ওয়াজিব অর্থ অবশ্য পালনীয়, কর্তব্য, অপরিহার্য ইত্যাদি। শরিয়তের এমন কিছু বিধান রয়েছে যা পালন করা কর্তব্য। তবে ফরজ নয়। এরূপ বিধানকে ওয়াজিব বলা হয়।
ফরজ ও ওয়াজিবের মধ্যকার অন্যতম পার্থক্য হলো ফরজ অস্বীকার করলে মানুষ কাফের হয়ে যায় আর ওয়াজিব অস্বীকার করলে কাফের হয় না। তবে কঠিন পাপ হয় ও আখিরাতে সেজন্য শাস্তি পাবে।
যে সকল কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন, অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বলে। যেমন- আযান ও ইকামত দেওয়া, ফজরের ফরজ নামাজের পূর্বে দুই রাকআত নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।
মুস্তাহাব অর্থ পছন্দনীয়। যে সকল কাজের প্রতি রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং তা করলে নেকি পাওয়া যাবে, কিন্তু না করলে গুনাহ হবে না সেসব কাজকে শরিয়তে মুস্তাহাব বলে।
যে সকল কাজ করলে কোনোরূপ সাওয়াব নেই, আবার না করলে কোনোরূপ গুনাহও হয় না এরূপ কাজকে মুবাহ বলা হয়। মানুষ ইচ্ছা করলে এরূপ কাজ করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে তা না-ও করতে পারে।
হালাল অর্থ বৈধ, সিদ্ধ, আইনানুগ বা অনুমোদিত বিষয়। এছাড়া পবিত্র, গ্রহণযোগ্য ইত্যাদি অর্থেও হালাল শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ইসলামি পরিভাষায়, যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত, শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়।
হারাম হলো হালালের বিপরীত। হারাম অর্থ নিষিদ্ধ, মন্দ, অসংগত, অপবিত্র ইত্যাদি। পরিভাষায়, যে সকল কাজ বা বন্ধু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম বলা হয়।
সমাজে প্রচলিত কয়েকটি হারাম বিষয় ও দ্রব্যের নাম উল্লেখ করা হলো-
১ মৃত জীবজন্তু খাওয়া (তবে মৃত মাছ হারাম নয়)।
২. রক্ত পান করা (তবে হালাল জন্তুর গোশতে লেগে থাকা রক্ত হারাম নয়)।
৩. মানুষের গোশত খাওয়া।
৪. শূকরের গোশত খাওয়া।
হালাল ও পবিত্র দ্রব্য মানুষের দেহ ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে। অন্তরে নূর সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ অন্যায় ও অসৎ চরিত্রকে ঘৃণা করতে থাকে। মানুষ সৎগুণাবলি সম্পন্ন হয়ে গড়ে ওঠে। বস্তুত হালাল খাদ্য মানুষের মধ্যে পবিত্র ভাব ও আত্মশুদ্ধির উদ্রেক করে। ফলে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে প্রভুত কল্যাণপ্রাপ্ত হয়।
মানবজীবনে হারাম বন্ধু, কথা ও কাজের পরিমাণ ও কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ। হারাম কাজ মানবসমাজেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। হারাম খাদ্য দ্রব্য মানুষের অন্তরে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। হারাম মানুষকে অকল্যাণ ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
শরিয়ত শব্দের অর্থ হলো- পথ, রাজা, জীবন পদ্ধতি, আইনকানুন ইত্যাদি
শরিয়ত হলো ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতি।
মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব আদেশ-নিষেধ ও পথনির্দেশনা মানুষকে জীবন পরিচালনার জন্য প্রদান করেছেন তাকে শরিয়ত বলে।
জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনাকে শরিয়ত বলে।
অতঃপর আমি আপনাকে শরিয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি।
সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন। আর আপনি অজ্ঞদের। খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না। (সূরা আল-জাসিয়া: ১৮)
সূরা মায়িদায় শরিয়তের পূর্ণাঙ্গতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মুসলিম মনীষিগণ শরিয়তের বিষয়বস্তুকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন।
আল-কুরআনে মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের সমাধানসূচক মূলনীতি ও ইঙ্গিত বিদ্যমান।
সূরা আন-নাহল: ৮৯।'
আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর কুরআন নাজিল করেন।
কুরআন মজিদের ভাষা সহজ ও সাবলীল। এতে কোনোরূপ অস্পষ্টতা, বক্রতা কিংবা জটিলতা নেই।
সূরা আদ্-দুখান; আয়াত নং-৫৮।'
লাওহে মাহফুজ শব্দের অর্থ হলো- 'সংরক্ষিত ফলক'।
আল-কুরআন 'লাওহে মাহফুজে' সংরক্ষিত ছিল।
সূরা বুরূজ; আয়াত নং-২১-২২।
আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম কদরের রাতে গোটা কুরআন মজিদ লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানের 'বায়তুল ইযযাহ' নামক স্থানে নাজিল করেন।
বায়তুল ইযযাহ হলো প্রথম আসমানের একটি বিশেষ স্থান।
মহনবি (স.) হেরাগুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ.) আল-কুরআনের সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে তথায় অবতরণ করেন। এটাই ছিল দুনিয়াতে আল-কুরআনের প্রথম নাজিলের ঘটনা।
মহানবি (স.)-এর জীবদ্দশায় মোট ২৩ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন নাজিল হয়।
সূরা হিজর: আয়াত নং-৯।
মহানবি (স.)-এর ওপর আয়াত নাজিল হওয়ার সাথে সাথে নাজিলকৃত আয়াত তিনি মুখস্থ করে নিতেন।
হিজরতের পূর্বে মহানবি (স.) হযরত মুসআব ইবন উমারর (রা.) ও আব্দুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুম (রা.)-কে কুরআন শিক্ষাদানের জন্য মদিনায় প্রেরণ করেন।
মুখস্থ করার মাধ্যমে আল-কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষণ করা হয়।
তৎকালীন সময়ে যেসব সাহাবি লেখাপড়া জানতেন তাঁরা প্রায় সকলেই কুরআন লেখার মর্যাদা লাভ করেছিলেন।
আল-কুরআন লিপিবদ্ধকারী সাহাবিগণকে বলা হয় কাতিবে ওহি বা ওহি লেখক।
কাতিবে ওহি বা ওহি লেখক ছিলেন সংখ্যায় মোট ৪২ জন।
প্রধান ওহি লেখক ছিলেন যায়দ ইবনে সাবিত।
মহানবি (স.)-এর জীবদ্দশায় আল-কুরআন মুখস্থ ও লেখনীর মাধ্যমে পুরোপুরি সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু সে সময় তা একত্রে গ্রন্থাবন্ধ করা হয় নি।
হযরত আবু বকর (রা.) কতিপয় নবুয়তের মিথ্যা দাবিদার বা ভন্ড নবি ও যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
ইয়ামামার যুদ্ধে বহুসংখ্যক কুরআনের হাফিজ সাহাবি শাহাদত বরণ করেন।
মুসায়লিমা কাযযাব নামক ভন্ড নবির বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধ পরিচালিত হয়।.
হযরত উমর (রা.) হযরত আবু বকর (রা.)-কে কুরআন সংকলন করে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দান করেন।
হযরত আবু বকর (রা.) সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন।
হযরত যায়িদ (রা.) কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে চারটি পন্থা অবলম্বন করেন।
হযরত আবু বকর (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত ছিল।
তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে বিভিন্নতা দেখা দেয়।
মহানবি (স.) সহজকরণার্থে আরবদের ৭টি রীতিতে কুরআন পাঠ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
হযরত উসমান (রা.) প্রধান সাহাবিগণের পরামর্শক্রমে কুরআন সংকলনের জন্য চার জন সাহাবির একটি বোর্ড গঠন করেন।
হযরত উসমান (রা.)-কে 'জামিউল কুরআন' বা কুরআন একত্রকারী (সংকলক) বলা হয়।
ইরাকের উমাইয়া বংশীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ পবিত্র কুরআনে হরকত সংযোজন করেন।
আল-কুরআন সর্বমোট ৩০টি অংশে বিভক্ত।
আল-কুরআন সর্বমোট ৩০টি অংশে বিভক্ত। এ অংশগুলোর প্রত্যেকটিকে পারা বলা হয়।
কুরআন মজিদে ১১৪টি সূরা রয়েছে।
কুরআন মজিদে ৬২৩৬টি মতান্তরে ৬৬৬৬টি আয়াত রয়েছে।
অবতরণের সময় বিবেচনায় কুরআন মজিদের সূরাসমূহ ২ ভাগে বিভক্ত। যথা- মাক্কি ও মাদানি। 1
মহানবি (স.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পূর্বে নাজিল হওয়া সূরাসমূহকে মাক্কি সূরা বলা হয়।
মাক্কি সূরাসমূহে তাওহিদ ও রিসালাতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাক্কি সূরাসমূহে আখিরাতের বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছে।
মহানবি (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পর নাজিল হওয়া সকল সূরাকে মাদানি সূরা বলা হয়।
মাদানি সূরা মোট ২৮টি।
ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে মাদানি সূরায়।
ইবাদতের রীতিনীতি, সালাত, যাকাত, হজ, সাওম ইত্যাদি বিষয় বিবৃত হয়েছে মাদানি সূরায়।
আল-কুরআন পাঠ করাকে ইসলামি পরিভাষায় 'কুরআন তিলাওয়াত বলা হয়।
আল-কুরআন দেখে দেখে পড়াকে নাযিরা তিলাওয়াত বলা হয়।
কুরআন মজিদের বৈশিষ্ট্য ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে একজন ফরাসি পন্ডিত বলেছেন, "কুরআন বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞান সংস্থা, ভাষাবিদদের জন্য এক শব্দকোষ, বৈয়াকরণের জন্য এক ব্যাকরণ গ্রন্থ এবং বিধানের জন্য একটি বিশ্বকোষ।"
সূরা মুহাম্মদ: আয়াত নং-২৪।
শুদ্ধ ও সুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করার নিয়মকে তাজবিদ বলে।
ইসলামি পরিভাষায়, আল-কুরআনের সূরা বা আয়াত নাজিলের কারণ বা পটভূমিকে 'শানে নুযুল' বলা হয়।
সূরা আশ-শামস-এর আয়াত সংখ্যা ১৫টি।
সূরা আশ-শামস আল-কুরআনের ৯১তম সূরা।
সূরা আশ-শামস-এর বর্ণনাধারা তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
সূরা আশ-শামস-এ আল্লাহ তায়ালা ছামুদ সম্প্রদায়ের উদাহরণের মাধ্যমে মানুষের ব্যর্থতার বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে।
সূরা আদ-দুহা আল-কুরআনের ৯৩তম সূরা।
সূরা আদ-দুহার আয়াত সংখ্যা ১১।
আবু লাহাবের স্ত্রীর নাম উম্মে জামিল।
আদ-দুহা শব্দের অর্থ পূর্বাহ্ন, দিবসের প্রথম ভাগ।
সাওফা) শব্দের অর্থ অতি শীঘ্র, অচিরেই।
লা তাকহার শব্দের অর্থ আপনি কঠোর হবেন না।
লা তানহার শব্দের অর্থ আপনি ধমক দেবেন না।
সূরা আদ-দুহায় আল্লাহ তায়ালা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে প্রদত্ত নানা নিয়ামতের কথা বর্ণনা করেছেন।
ছয় বছর বয়সে মহানবি (স.)-এর মাতা ইন্তিকাল করেন।
রাসুলুল্লাহ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন।
এটা সূরা আদ-দুহার শিক্ষা।
সূরা আল-ইনশিরাহ মক্কায় অবতীর্ণ হয়।
সূরা আল-ইনশিরাহ-এর আয়াত সংখ্যা মোট ৮টি।
সূরা আল-ইনশিরাহ আল-কুরআনের ৯৪তম সূরা।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়ত লাভের পূর্বে মক্কা নগরীর লোকেরা তাঁকে আল-আমিন নামে ডাকত।
লাম নাশরাহ্ শব্দের অর্থ আমি প্রশস্ত করি নি বা উন্মুক্ত করিনি?
ফারগার্ শব্দের অর্থ আপনি অবসর লাভ করেন, অবকাশ পান।
সূরা আল-ইনশিরাহ-এর অনুবাদ।
সূরা আত-তীন কুরআন মাজিদের ৯৫তম সূরা।
সূরা আত-তীন মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।
সূরা আত্-তীন-এ আয়াত সংখ্যা ৮।
শব্দের অর্থ আঞ্জির বা ডুমুর জাতীয় ফল।
শব্দের অর্থ যায়তুন, জলপাই জাতীয় ফল।
সূরা ত্বীনের শব্দ' আল-আমীন' অর্থ নিরাপদ।
সূরা আত্-তীনের প্রথম তিন আয়াতে আল্লাহ তায়ালা চারটি বস্তুর শপথ করেছেন।
হযরত মুসা (আ.) মহান আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন করেন তুর পর্বতে।
সূরা আত-তীনে আল্লাহ তায়ালা মক্কা নগরীর শপথ করেছেন।
সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষের আকৃতি সবচেয়ে সুন্দর।
সূরা আল-মাউন আল-কুরআনের ১০৭তম সূরা।
সূরা আল-মাউন-এর আয়াত সংখ্যা ৭।
সূরা আল-মাউন মক্কায় অবতীর্ণ হয়।
"সুতরাং দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের। যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন।"-কোন সূরায় বলা হয়েছে?
সূরা আল-মাউন-এ বলা হয়েছে।
শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ।
সুন্নাহ অর্থ পথ, পদ্ধতি, রীতিনীতি।
ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর সমর্থিত রীতিনীতি ও জীবনাদর্শকে সুন্নাহ বলে।
সুন্নাহকে হাদিস নামে অভিহিত করা হয়।
সূরা আল-আনআম: আয়াত নং-৭২।
যেসব কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন, অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলে।
ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহ বা হাদিস হলো আল-কুরআনের পরিপূরক
হাদিস শব্দের অর্থ কথা বা বাণী।
হাদিস হলো মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতি।
সাধারণভাবে হাদিস বলতে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) এর বাণী, কর্ম ও যৌনসম্মতিকে বোঝানো হয়ে থাকে।
হাদিসের দুটি অংশ। যথা- একটি সনদ ও অপরটি মতন
যিনি হাদিস বর্ণনা করেন তাঁক্সে বলা হয় রাবি বা বর্ণনাকারী
হাদিস বর্ণনায় হাদিসের। রাবিগণের পর্যায়ক্রমিক উল্লেখ বা বর্ণনা পরম্পরাকে সনদ বলে।
হাদিসের মূল বক্তব্য বা মূল অংশকে মতন বলে।
মতন বা হাদিসের মূল বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে হাদিসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- কাওলি, ফি'লি ও তাকরিরি।
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণীসূচক হাদিসকে কাওলি হাদিস বলা হয়। অর্থাৎ মহানবি (স.)-এর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণীকে কাওলি বা বাণীসূচক হাদিস বলে।
যে হাদিসে মহানবি (স.)-এর কোনো কাজের বিবরণ স্থান। পেয়েছে তাকে ফি'লি বা কর্মসূচক হাদিস বলা হয়।
তাকরিরি শব্দের অর্থ মৌন সম্মতি জ্ঞাপক।
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অনুমোদনসূচক হাদিসই হলো তাকরিরি হাদিস।
সনদ বা রাবির পরম্পরার দিক থেকে হাদিস আবার তিন প্রকার। যথা- (ক) মারফু, (খ) মওকুফ ও (গ) মাকতু।
যে হাদিসের সনদ রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মারফু হাদিস বলা হয়।
যে হাদিসের সনদ সাহাবি পর্যন্ত পৌছে শেষ হয়ে গেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছে নি এরূপ হাদিসকে মাওকুফ হাদিস বলে।
যে হাদিসের সনদ তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মাকতু হাদিস বলে।
কুদসি শব্দের অর্থ পবিত্র।
যে হাদিসের শব্দ ও ভাষা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নিজস্ব, কিন্তু তার অর্থ, ভাব ও মূলকথা আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে ইলহাম বা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত, তাকে হাদিসে কুদসি বলে।
উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবন আব্দুল আবিয (র.) সর্বপ্রথম সরকারিভাবে হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
'আল-মুয়াত্তা' এর সংকলনকারী ইমাম মালেক (র.)।
হযরত ইমাম মালিক (র.) সর্বপ্রথম হাদিসের বিশুদ্ধ সংকলন তৈরি করেন।
হযরত ইমাম মালিক (র.) সংকলিত হাদিস গ্রন্থের নাম আল-মুয়াত্তা।
হিজরি ৩য় শতককে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ বলা হয়।
হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি কিতাব সংকলিত হয়।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারি (র.)।
হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিসের যে ছয়টি বিশুদ্ধতম কিতাব ০৯। সংকলিত হয়, তাকে সিহাহ সিত্তাহ বলে।
ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবন হাজ্জাজ আল-কুশাইরি (র.)।
ইমাম আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবন শুআইব আন-নাসাই (র.)।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইয়াজিদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মাজাহ (র.)।
উম্মে কায়স নামক একজন মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণিত।
কাজের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যকে নিয়ত বলে।
ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো- ইমান, সালাত, যাকাত, সাওম ও হজ।
বুখারি ও মুসলিম শরিফে ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির কথা বলা হয়েছে।
ইসলামের মূল ভিত্তিগুলো হলো- ইমান, নামাজ, রোযা, যাকাত ও হজ।
ইমান হলো সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সন্তুষ্টচিত্তে নিজ পিতামাতা, আত্মীয়পরিজন, বন্ধুবান্ধবদের জন্য খরচ করাও একপ্রকার দানশীলতার পর্যায়ে পড়ে।
যে ব্যক্তি সম্পদ খরচ না করে জমা করে রাখে সে কৃপণ।
বৃক্ষরোপণ পুণ্যের কাজ। যা সাদকা হিসেবে পরিগণিত হবে।
'সাদকা' অর্থ দান করা।
যাঁদের দেখলে আল্লাহর তায়ালার স্মরণ হয় তারা সর্বোত্তম ব্যক্তি।
আল-খালকু শব্দের অর্থ সৃষ্টিজগৎ, মাখলুক, সমগ্র সৃষ্টি, সৃষ্টিকুল।
আহসানা শব্দের অর্থ অনুগ্রহ করে, সদাচরণ করে।
আখুন শব্দের অর্থ ভাই।
হাজাতুন শব্দের অর্থ প্রয়োজন।
মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই।
আতাজির শব্দের অর্থ ব্যবসায়ী, বণিক।
আল-আমিনু শব্দের অর্থ বিশ্বস্ত।
আস্-সুদুকু শব্দের অর্থ সত্যবাদী।
বিশ্বস্ত, সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহিদদের সঙ্গী হবেন।
ব্যবসায় বাণিজ্য একটি পবিত্র পেশা।
সবর শব্দের অর্থ ধৈর্য ধারণ করে।
সুখ-দুঃখ মানবজীবনের স্বাভাবিক বিষয়।
হাবিবাতানে শব্দের অর্থ খুবই প্রিয়।
খফিফাতানে শব্দের খুবই সহজ।
ছালিকাতানে শব্দের অর্থ খুবই ভারী।
শরিয়তের তৃতীয় উৎস হলো ইজমা।
ইজমা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ- একমত হওয়া, ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি।
কোনো বিষয় বা কথায় ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে।
ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতের মধ্য হতে পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলা হয়।
সাহাবিগণের যুগে ইজমার পূর্ণাঙ্গ প্রচলন ঘটে।
তারাবিহ-এর সালাত জামাতে আদায় করার প্রচলন ঘটে দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সময়ে।
বিধিবিধান নির্ধারণে ইজমা অকাট্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত।
সাধারণভাবে ইজমার ভিত্তিতে প্রণীত বিধানের ওপর আমল করা ওয়াজিব।
মুসলমানগণ মধ্যপন্থি জাতি।
শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস।
ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস।
কিয়াস শব্দের অর্থ অনুমান করা, তুলনা করা, পরিমাপ করা ইত্যাদি।
ইসলামি পরিভাষায় কুরআন ও সুন্নাহর আইন বা নীতির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করে পরবর্তীতে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান। দেওয়াকে কিয়াস বলে।
কিয়াস শরিয়তের সর্বনিম্ন স্তর। যখন কোনো বিষয়ে আল-কুরআন, হাদিস ও ইজমায় পরিষ্কারভাবে সমাধান পাওয়া যায় না তখনই কিয়াস প্রযোজ্য হয়।
মুআয ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনের বিচারক নিয়োগ করা হয়েছিল।
শরিয়তের ইমামগণ কিয়াস করার ব্যাপারে চারটি নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
কিয়াস ইসলামি শরিয়তের একটি বিজ্ঞানসম্মত ও যৌক্তিক উৎস।
আহকাম হলো শরিয়তের বিধানাবলি।
ফরজ অর্থ অবশ্য পালনীয়, অত্যাবশ্যক।
শরিয়তের যেসব বিধান কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা অবশ্য কর্তব্য ও অলঙ্ঘনীয় বলে প্রমাণিত তাকে ফরজ বলা হয়।
ফরজ অস্বীকার করলে ইমান থাকে না বরং এর অস্বীকারকারী কাফির হয়।
ফরজ দুই প্রকার। যথা- ১. ফরজে আইন ও ২. ফরজে কিফায়া।
যেসব ফরজ বিধান সকূলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে।
ফরজে কিফায়া হলো সামষ্টিকভাবে ফরজ কাজ। অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানের ওপর ফরজ, কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে ফেলে তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়।
ওয়াজিব অর্থ- অবশ্য পালনীয়, কর্তব্য, অপরিহার্য ইত্যাদি।
শরিয়তের এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা পালন করা কর্তব্য, তবে ফরজ নয়। এরূপ বিধানকে ওয়াজিব বলা হয়।
দুই ঈদের সালাত আদায় করা ওয়াজিব।
সুন্নত অর্থ- পথ, পন্থা, রীতি, নিয়ম, পদ্ধতি ইত্যাদি।
যেসব কাজ মহানবি (সা.) নিজে করেছেন বা যা করার জন্য। নির্দেশ দিয়েছেন কিংবা অনুমোদন করেছেন তাকে সুন্নাত বলা হয়।
সুন্নত মোট দু প্রকার। যথা- ১. সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ও ২. সুন্নাতে যায়িদাহ।
যেসব কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন, অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলে।
সুন্নাতে যায়িদাহ হলো অতিরিক্ত সুন্নত। পরিভাষায়, যেসব কাজ নবি (স.) করেছেন বলে প্রমাণিত তবে তিনি সর্বদা তা পালন করতেন না, বরং কখনো করতেন আবার কখনো ছেড়ে দিতেন এসব কাজকে সুন্নাতে যায়িদাহ বলা হয়।
মুস্তাহাব অর্থ পছন্দনীয়।
ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত ব্যতীত অতিরিক্ত সবধরনের ইবাদত ও ভালো কাজই মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য। এ মুস্তাহাবকে নফল বা মসদুবও বলা হয়।
মুস্তাহাবকে নফল বা মানদুব বলা হয়।
যেসব কাজ করলে কোনোরূপ সওয়াব নেই, আবার না করলে কোনোরূপ গুনাহও হয় না এরূপ কাজকে মুবাহ বলা হয়।
ইসলামি পরিভাষায় যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়।
হারাম অর্থ নিষিদ্ধ, মন্দ, অসংগত, অপবিত্র ইত্যাদি।
যেসব কাজ বা বন্ধু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম বলে।
সূরা ইবরাহিম : আয়াত নং-৩৪।
শরিয়ত আরবি শব্দ। এর অর্থ পথ, রাস্তা। এটি জীবনপদ্ধতি, আইনকানুন, বিধিবিধান অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ব্যাপক অর্থে শরিয়ত হলো এমন সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট পথ, যা অনুসরণ করলে মানুষ সুষ্ঠু'ও সুন্দরভাবে নিজ গন্তব্যে পৌছতে পারে। ইসলামি পরিভাষায়, ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতিকে শরিয়ত বলা হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব আদেশ-নিষেধ ও পথনির্দেশনা মানুষকে জীবন পরিচালনার জন্য প্রদান করেছেন তাকে শরিয়ত বলে।
শরিয়তের বিষয়বস্তু ও পরিধি মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এজন্য বলা যায়, এর পরিধি ও বিষয়বস্তু অত্যন্ত ব্যাপক। এটি হলো মানবজাতির জন্য সার্বিক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের সকল বিষয়ের বিধিবিধান ও নির্দেশনা এতে বিদ্যমান। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম। তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।" (সূরা আল-মায়িদা: ৩)
মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। শরিয়ত হলো মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল প্রদত্ত আদেশ-নিষেধ ও বিধিবিধান। শরিয়ত। হলো জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা। এর দ্বারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইসলামি বিধিনিষেধ জানা যায়। কোনটি হালাল, কোনটি হারাম। ইত্যাদি জানা যায়। সুতরাং শরিয়ত মেনে চললে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (সা.) খুশি হন। অন্যদিকে, শরিয়ত অস্বীকার করা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করার নামান্তর। তাই শরিয়তের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। শরিয়ত হলো মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রদত্ত আদেশ-নিষেধ ও বিধিবিধান। সুতরাং শরিয়ত মেনে চললে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল খুশি হন। অন্যদিকে, শরিয়ত অস্বীকার করা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করার নামান্তর। কোনো মুসলমান এরূপ কাজ করতে পারে না। তাই মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম।
সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনার জন্য 'ইসলামি কার্যনীতি' বা শরিয়ত অপরিহার্য। কেননা কোনটি হালাল, কোনটি হারাম ইত্যাদি মেনে চললে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (স.) খুশি হন। অন্যদিকে ইসলামি কার্যনীতি প্রত্যাখ্যান করলে কিয়ামতের দিন কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হতে হবে। তাই ইসলামি কার্যনীতি অনুসরণ আবশ্যক।
মানুষের সার্বিক জীবনাচরণে শরিয়তের ভূমিকা অতীব পুরুত্বপূর্ণ। কেননা শরিয়ত আমাদের ইবাদতের পদ্ধতি ও নিয়মকানুন শিক্ষা দেয়। সালাত, যাকাত, সাওম, হজ ইত্যাদি কীভাবে, কোথায়, কোন সময়ে আদায় করতে হয় তাও শরিয়তের বর্ণনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জনের উপায়, পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতি ইত্যাদিও শরিয়তের আওতাভুক্ত। অতএব, মানুষের সার্বিক জীবনাচরণে শরিয়তের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামি শরিয়ত-এর বিধিবিধান অবিভাজ্য। এর কিছু অংশ গ্রহণ এবং কিছু অংশ বর্জন করা নিষেদ্ধ। শরিয়তের প্রতিটি হুকুমের ওপর ইমান আনা এবং সামগ্রিকভাবে শরিয়ত পালন করা অবশ্য কর্তব্য। শরিয়তের কোনো বিধানের বিরোধিতা বা লঙ্ঘন একই সঙ্গে দুটি মারাত্মক পরিণতির কারণ। একটি ইহকালীন এবং অপরটি পরকালীন।
আল-কুরআন মহানবি (স.)-এর প্রতি একসাথে নাজিল হয়নি। বরং নানা প্রয়োজন উপলক্ষে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে অল্প অল্প করে নাজিল হয়েছে।
পবিত্র কুরআন যদি একসাথে নাজিল হতো, তাহলে রাসূল (স.) ও তাঁর সাহাবাদের পক্ষে একসাথে অনেকগুলো নতুন আদেশ পালন কষ্টকর হয়ে যেত। তাই যখন যে আয়াতের প্রয়োজন হয়েছে, তখন তাই নাজিল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, "কাফিররা বলে, তাঁর ওপর সমগ্র কুরআন একত্রে নাজিল হলো না কেন? আমি এভাবেই অবতীর্ণ করেছি আপনার হৃদয়কে তার দ্বারা মজবুত করার জন্য এবং আমি তা ক্রমশ নাজিল করেছি।" (সূরা ফুরকান: ৩২)
আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব। কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের সার্বিক জীবনবিধান ও দিকনির্দেশনা এতে বিদ্যমান। সুতরাং এর সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ স্বয়ং এর সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, "আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্য আমিই এর সংরক্ষক।"
অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং আল-কুরআনের সংরক্ষক। তিনি তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ কিতাব সংরক্ষণ করেন।
আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব। সুতরাং এর সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ স্বয়ং এর সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন-
অর্থ: "আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর ৯)
আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ কিতাব সংরক্ষণ করেন। এজন্য আজ পর্যন্ত এ কিতাবের একটি 'হরফ, হরকত বা নুকতার পরিবর্তন হয়নি। এটি যেভাবে নাজিল হয়েছিল, আজও ঠিক সেভাবেই বিদ্যমান এবং কিয়ামত পর্যন্ত ওইভাবেই থাকবে।
আল-কুরআন আরব দেশে মহানবি (স.)-এর ওপর নাজিল। হয়। এসময় মহানবি (স.) সাথে সাথে নাজিলকৃত আয়াত মুখস্থ করে নিতেন। এরপর বারংবার তিলাওয়াতের মাধ্যমে তা স্মৃতিতে ধরে রাখতে চেষ্টা করতেন। আল-কুরআন মুখস্থকরণে রাসুল (স.)-এর। দ্রুত পাঠ ও ব্যাকুলতা দেখে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং উল্লিখিত আয়াত নাজিল করেন।
হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে মতানৈক্যের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এ সমস্যার সমাধানে তিনি অন্য সাহাবিগণের পরামর্শক্রমে কুরআন সংকলনের জন্য চার জন সাহাবির একটি বোর্ড গঠন করেন। যারা হযরত হাফসা (রা.) নিকট সংরক্ষিত কুরআনের মূল কপিটির সাথে মিলিয়ে কতকগুলো অনুলিপি তৈরি দ্বারা আল-কুরআনকে বিকৃতি ও গরমিল থেকে রক্ষা করেন। এ মহান কাজটি উসমান (রা.)-এর প্রত্যক্ষ 'তত্ত্বাবধানে হওয়ায় তাকে 'জামিউল কুরআন' বা কুরআন একত্রকারী বলা হয়।
মাক্কি ও মাদানি সূরার বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে-
যে সূরা মক্কায় অবতীর্ণ হয় তাকে মাঝি সূরা বলে। আর যে সূরা মদিনায় অবতীর্ণ হয় তাকে মাদানি সূরা বলে। মাক্কি সূরায় তাওহিদ রিসালাতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। মাদানি সূরায় আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের প্রতি ইসলামের আহ্বান করা। হয়েছে। মাক্কি সূরায় শিরক- কুফরের বর্ণনা এসেছে। আর মাদানি সূরায় বিভিন্ন বিধিবিধান নাজিল করা হয়েছে। যেমন- বিচারব্যবস্থা, দন্ডবিধি, জিহাদ, রাষ্ট্রপরিচালনা, ব্যবসায় বাণিজ্য, লেনদেন, উত্তরাধিকারী আইন ইত্যাদি।
মাদানি সূরাসমূহে আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের প্রতি ইসলামের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে আহলে কিতাবের পথভ্রষ্টতা ও তাদের কিতাব বিকৃতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এ সূরাসমূহে নিফাকের পরিচয় ও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ। করা হয়েছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে। পারস্পরিক লেনদেন, উত্তরাধিকার আইন, ব্যবসায় বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয়সহ যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বিধান বর্ণিত হরেছে।
"আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে।" (সূরা আল-মুযাম্মিল ৪) এ আয়াত দ্বারা কুরআন তিলাওয়াতে তাজবিদের গুরুত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে।
আল-কুরআন সহিহ-শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে পাঠ করাও অত্যাবশ্যক। কুরআন মজিদ ভুল ও অসুন্দর সুরে তিলাওয়াত করলে গুনাহ হয়। অশুদ্ধ ও অসুন্দররূপে- কুরআন তিলাওয়াত করলে নামায শুদ্ধ হয় না। শুদ্ধ ও সুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করার নিয়মকে তাজবিদ বলা হয়। তাজবিদ অনুসারে কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব বোঝাতে এ আয়াতটির অবতারণা করা হয়েছে।
কুরআন তিলাওয়াত উত্তম ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (স.) এ প্রসঙ্গে বলেন, "আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।” (বায়হাকি)
কুরআন তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সমুন্নত করে। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভকরতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ হয়। মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার দ্বারা মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে।
কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর বিধিবিধান সম্পর্কে জানা যায়। পবিত্র কুরআন হলো সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস। যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করে কুরআনের জ্ঞান ও শিক্ষা আয়ত্ত করা যায়। সঠিকভাবে ইসলামি জীবনযাপন করা যায়। কুরআন তিলাওয়াত করে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি করে নেকি লাভ করা যায়। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "আমার উম্মতের উত্তম (নফল) ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।"
কুরআন হলো নূর বা জ্যোতি। এটি তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সমুন্নত করে। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তর ভর। পরিশুদ্ধ হয়। মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার দ্বারা মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে।
যে ঘটনা বা অবস্থাকে কেন্দ্র করে আল-কুরআনের আয়াত বা সূরা নাজিল হতো সে ঘটনা বা অবস্থাকে ঐ সূরা বা আয়াতের শানে নুবুল বলা হয়। শানে নুযুল জানার উল্লেখযোগ্য উপকারিতা হলো-(ক) এর দ্বারা শরিয়তের বিধান প্রবর্তনের রহস্য জানা যায়। (খ) আয়াতের অর্থ, উদ্দেশ্য ও সঠিক মর্মার্থ অবগত হওয়া যায়। ইত্যাদি উপকারিতা বিবেচনায় আল কুরআনের শানে নুযুল জানা প্রয়োজন।
সূরা আশ-শামসে আল্লাহ তায়ালা মানুষের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে সৎকর্ম ও অসৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। এতদসত্ত্বেও যে ব্যক্তি নিজকে পাপের দ্বারা কলুষিত করে তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিজকে পরিশুদ্ধ করে, সৎকর্ম করে তার জন্য রয়েছে সফলতা।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার রাসুলুলাহ (স.) অসুস্থ থাকার কারণে দু-তিন রাত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতে পারেন নি। এসময় জিবরাইল (আ.) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর নিকট ওহি নিয়ে আগমন করেন নি। এতে মক্কার কাফির-মুশরিকরা বলতে লাগল যে, মুহাম্মদ (স.)-কে তাঁর প্রতিপালক পরিত্যাগ করেছে এবং তাঁর প্রতি বিরূপ হয়েছে। কাফিরদের এসব কথায় ও ঠাট্টা-বিদ্রূপে মহানবি (স.) মর্মাহত হন। তখন আল্লাহ তায়ালা প্রিয়নবি (স.)-কে সান্ত্বনা প্রদান করে সূরা আদ-দুহা নাজিল করেন।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়ত লাভের পূর্বেও মক্কা নগরীর অত্যন্ত সম্মানিত মানুষ ছিলেন। কিন্তু নবুয়ত লাভের পর রাসুলুল্লাহ (স.) ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকলে মক্কাবাসীরা ঠাট্টা-বিদ্রূপ, উপহাস করে তার বিরোধিতা শুরু করে। কাফিরদের এরূপ ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও অন্যায় অত্যাচারে রাসুলুল্লাহ (স.) উদ্বিগ্ন ও হতাশা হয়ে পড়লে আল্লাহ তায়ালা রাসুল (স.) কে সান্ত্বনা প্রদান করে এ সূরা নাজিল করেন।
আমাদের পার্থিব জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের। এ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। অতএব, এ সময়কে কাজে লাগাতে হবে। দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে হবে। পার্থিব প্রয়োজনীয় কাজ সমাধানের পর আল্লাহ্ তায়ালার ইবাদত ও স্মরণে আত্মনিয়োগ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সূরা আল-ইনশিরাহ এর ৭ ও৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে- "অতএব, যখনই আপনি অবসর পান, একান্তে ইবাদত করুন। এবং আপনার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করুন।
বিশেষ কোনো ঘটনা বা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা আত-তীন নাজিল করা হয়নি বরং মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ সফলতা লাভের দিকনির্দেশনা ও পরকালের জবাবদিহির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা এ সূরা নাজিল করেন। মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত কতিপয় নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর আল্লাহ তায়ালা এতে মানবজাতির উৎপত্তি ও পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ সূরা নাজিল করেন।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আত-তীনের ৪নং আয়াতে বলেছেন, "আমি মানুষকে সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি।" মানুষকে সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করা আল্লাহর অপার অনুগ্রহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ শুধু মানুষকে সৃষ্টির সেরা বলেই শেষ করেননি, বরং আকৃতি ও কাজে তাকে সেরা হওয়ার। যোগ্যতাও দান করেছেন। পৃথিবীর সকল সৃষ্ট জীবের মধ্যে মানুষের গড়নের অবকাঠামো অত্যন্ত চমৎকার ও শৈল্পিক। এজন্যই মহান আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছি।'
আল্লাহ তায়ালা সূরা আত্-তীনে মানুষের আকৃতি ও প্রকৃতি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অত্যন্ত সুন্দর সৃষ্টি হিসেবে ঘোষণা করেন। সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষের আকৃতিই সবচেয়ে সুন্দর। তবে মানুষ যদি ভালো কাজ না করে অসৎ কাজে লিপ্ত হয় তাহলে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে লাঞ্ছিত-অপমানিত করেন। তাকে শাস্তি প্রদান করেন। অর্থাৎ মানুষের কল্যাণ সুন্দর আকৃতিতে নয় বরং সৎকর্মের ওপর নির্ভরশীল।
বিচার দিবস বলতে হাশরের মাঠকে বোঝানো হয়েছে। হাশর হলো মহাসমাবেশ। পৃথিবীর প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত সকল মানুষই সেদিন এ ময়দানে একত্রিত হবে। মানুষের এ মহাসমাবেশকে হাশর বলে। হাশরের ময়দান হলো হিসাব-নিকাশের দিন, জবাবদিহির দিন। এ দিন মহান আল্লাহ হবেন একমাত্র বিচারক। মহান আল্লাহ বলেন-
অর্থ: "তিনি আল্লাহ বিচার দিবসের মালিক।" (ফাতিহা: ৩)
"যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন।" আয়াতটি সূরা আল-মাউন-এর। আয়াতটিতে সালাত আদায়ে উদাসীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলা হয়েছে।
মুনাফিকদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা ঠিকমতো সালাত আদায় করে না। বরং তারা সালাত সম্পর্কে উদাসীন। এ ধরনের ব্যক্তিরা শুধু মুসলমানদের দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে। সালাতের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে তারা কোনো খবর রাখে না।
সূরা আল-মাউনের শিক্ষা হলো-
১. বিচার দিবসকে অস্বীকার করা খুবই জঘন্য কাজ। এটি কাফির-মুনাফিকদের কাজ।
২. ইয়াতিম ও দুস্থদের না তাড়িয়ে তাদের সাহায্য করতে হবে।
৩. সালাতে অবহেলা করা যাবে না। লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা যাবে না।
৪. সালাতে উদাসীন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে মহাধ্বংস।
শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ। সুন্নাহ অর্থ রীতিনীতি।
ইসলামি পরিভাষায় মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর সমর্থিত রীতিনীতিকে সুন্নাহ বলে। সুন্নাহকে হাদিস নামেও অভিহিত করা হয়।
তাকরিরি শব্দের অর্থ হলো-মৌন সম্মতি জ্ঞাপক। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অনুমোদনসূচক হাদিসই হলো তাকরিরি হাদিস। অর্থাৎ সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সামনে কোনো কথা বলেছেন কিংবা কোনো কাজ করেছেন কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স.) তা নিজে করেননি এবং তাতে বাধাও দেননি বরং মৌনতা অবলম্বন করে তাতে সম্মতি বা অনুমোদন দিয়েছেন। এরূপ অবস্থা বা বিষয়ের বর্ণনা যে হাদিসে এসেছে সে হাদিসকে তাকরিরি বা সম্মতিসূচক হাদিস বলে।
মারফু শব্দের অর্থ উচ্চ, উন্নত ও মর্যাদাবান। যেসব হাদিসের বর্ণনাসূত্র রাসুলুল্লাহ (স:) পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং যার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কথা, কাজ ও কোনো বিষয়ের সমর্থন পাওয়া যায় তাকে মারফু হাদিস বলা হয়।
হাদিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার হলো হাদিসে কুদসি। ইসলামি পরিভাষায়, যে হাদিসের শব্দ ও ভাষা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নিজস্ব, কিন্তু তার অর্থ, ভাব ও মূলকথা আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে ইলহাম বা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত, তাকে হাদিসে কুদসি বলে। সংক্ষেপে, যে হাদিসের। মূলকথা আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে প্রাপ্ত এবং মহানবি (স.) নিজের ভাষায় তা উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন সেটাই হাদিসে কুদসি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকেই হাদিসের উৎপত্তি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-! এর জীবদ্দশায় হাদিস লিখে রাখা নিষেধ ছিল। কেননা তখন আল-কুরআন নাজিল হচ্ছিল। এ অবস্থায় মহানবি (সা.)-এর হাদিস লিখে রাখলে তা আল-কুরআনের বাণীর সাথে সংমিশ্রণের আশঙ্কা ছিল। এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় ব্যাপকভাবে হাদিস লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করা হয়নি।
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে সাধারণভাবে হাদিস বলা হয়।
সাহাবিগণ মহানবি (স.)-এর বাণীসমূহ মুখস্থ রাখতেন। রাসুলুল্লাহ (স.) কোন সময় কী কাজ করতেন তা খেয়াল রাখতেন। তাঁরা রাসুল। (স.)-এর কথা শুনতেন। তা মনে রাখতেন এবং তা হুবহু বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনের নিকট পৌঁছে দিতেন। আরবদের স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ। তাঁরা একবার যা স্মৃতিতে ধারণ। করতেন কখনোই তা ভুলতেন না। ফলে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতিটি বাণী ও কাজ সাহাবিগণের স্মৃতিতে সংরক্ষিত হতো। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে তাদের হাদিস মুখস্থ করার জন্য উৎসাহিত করতেন। এভাবে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবদ্দশাতেই হাদিস সংরক্ষণ শুরু হয়।
হিজরি ৩য় শতক ছিল হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ। এ সময় হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি কিতাব সংকলিত হয়। এগুলোকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ বলা হয়। বিশুদ্ধ ৬টি হাদিস গ্রন্থ হলো- ১. বুখারি, ২. মুসলিম, ৩. তিরমিযি, ৪. নাসাই, ৫. আবু দাউদ, ৬. ইবনে মাজাহ্। মূলত এ ৬টি হাদিস গ্রন্থের মাধ্যমে প্রায় সকল হাদিস সংকলন করা হয়। তাই এসময়কে হাদিস সংকলের স্বর্ণযুগ বলা হয়।
হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি গ্রন্থকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়ে থাকে। রাসুল (সা.)-এর সময় থেকেই রাসুল (সা.)-এর জীবনী ও তাঁর বাণীসমূহ বিভিন্নভাবে সংরক্ষিত হয়ে আসছিল। হিজরি তৃতীয় শতক ছিল হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ। এসময় হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি গ্রন্থ যেগুলো সিহাহ সিত্তাহ নামে পরিচিত তা লিখিত হয়। সিহাহ সিত্তার গ্রন্থগুলো হলো- ১. সহিহ বুখারি, ২. সহিহ মুসলিম, ৩. সুনানে নাসাই, ৪. সুনানে আবু দাউদ, ৫. জামি তিরমিযি ও ৬. সুনানে ইবনে মাজাহ।
আল্লাহ তায়ালা কুরআন মজিদে বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। আর মহানবি (স.) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে এসব বিধিবিধান ও বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর আমি আপনার প্রতি কুরআন নাজিল করেছি, মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে।" (সূরা আন-নাহল: ৪৪) অতএব বলা যায়, যেহেতু। সুন্নাহ বা হাদিস হলো পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা। সুন্নাহ বা হাদিসকে আল-কুরআনের পরিপূরকও বলা হয়।
হাদিস বা সুন্নাহ হলো আল-কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। আর মহানবি (স.) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে এসব বিধিবিধান ও বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। অতএব, কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে হাদিসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
ইসলামি শরিয়তের অন্যতম দুটি উৎস হলো কুরআন ও হাদিস। কুরআনের ব্যাখ্যা হলো হাদিস। কুরআনের অনেক বিধানের ব্যাপারে সংক্ষেপে বলা হয়েছে। আর হাদিস এসকল বিধান বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে। এজন্য কুরআনের সঠিক মর্ম অনুধাবন করতে হলে হাদিস প্রয়োজন।
'রাসুল (সা.) তোমাদের যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ কর আর যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।' বুঝিয়ে লেখ।
যেসব ফরজ বিধান সকলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক
তাকে ফরজে আইন বলে। অর্থাৎ যেসব ফরজ কাজ ব্যক্তিগতভাবে সকল মুসলমানকেই আদায় করতে হয় তা-ই ফরজে আইন। যেমন- দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, রমযান মাসে রোযা রাখা, এসব কাজ প্রত্যেক ব্যক্তিকেই নিজে আদায় করতে হয়।
ফরজে কিফায়া হলো সামষ্টিকভাবে ফরজ কাজ। অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানের ওপর ফরজ, কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে ফেলে তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। কিছু লোকের আদায় করার দ্বারা সমাজের বাকি সবাই সে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পায়। তবে যদি সমাজের কেউই আদায় না করে তবে। সকলেই গুনাহগার হবে। যেমন- জানাযার সালাত।
জানাযার সালাত হলো ফরজে কিফায়া বা সমষ্টিগতভাবে ফরজ কাজ। কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে ঐ এলাকার সবার উপরে তার জানাযার সালাত আদায় করা ফরজ। সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি জানাযার সালাত আদায় করে তবে সকলেই এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করবে। কিন্তু কেউই আদায় না করলে সকলেই ফরজ ত্যাগের জন্য গুনাহগার হবে।
সুন্নত অর্থ পথ, পন্থা, রীতি, নিয়ম, পদ্ধতি ইত্যাদি। পরিভাষায় মহানবি (স.) থেকে যে সমস্ত কাজ ইসলামি শরিয়তের বিধান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে সেগুলোকে বলা হয় সুন্নত। অর্থাৎ যেসব কাজ মহানবি (স.) নিজে করেছেন বা যা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন কিংবা অনুমোদন করেছেন তাকে সুন্নত বলা হয়।
সুন্নাতে যায়িদাহ হলো অতিরিক্ত সুন্নত। পরিভাষায়, যেসব কাজ নবি (স.) করেছেন বলে প্রমাণিত তবে তিনি সর্বদা তা পালন করতেন না, বরং কখনো করতেন আবার কখনো ছেড়ে দিতেন এসব কাজকে সুন্নাতে যায়িদাহ বলা হয়। নবি (স.) এরূপ কাজ করার জন্য উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি তাগিদ করেননি এবং তা না করলে গুনাহ হয় না।
যে সকল কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন। অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদহ বলে। যেমন- আযান ও ইকামত দেওয়া, ফজরের ফরজ সামায়ের পূর্বে দুই রাকাআত, যোহারের ফরজের পূর্বে চার রাকাআত ও পরে দুই রাকাআত, মাগরিব ও এশার ফরজের পর দুই রাকাআত নামায আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ওয়াজিবের কাছাকাছি। এগুলো পালন করা কর্তব্য। ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলাবশত বিনা কারণে এগুলো পালন না করলে গুনাহ হয়।
মুস্তাহাব অর্থ পছন্দনীয়। যেসব কাজের প্রতি রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং তা করলে নেকি পাওয়া যাবে, কিন্তু না করলে গুনাহ হবে না সেসব কাজকে শরিয়তে মুস্তাহাব বলে। মুস্তাহাবকে নফল বা মানদুবও বলা হয়।
যেসব কাজ করলে কোনোরূপ সওয়াব নেই, আবার না করলে কোনোরূপ গুনাহও হয় না এরূপ কাজকে মুবাহ বলা হয়। মানুষ ইচ্ছা করলে এরূপ কাজ করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে তা না-ও করতে। পারে
হালাল অর্থ বৈধ, সিদ্ধ, আইনানুগ বা অনুমোদিত বিষয়। ইসলামি পরিভাষায় যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়। হারাম হলো হালালের বিপরীত। হালাম অর্থ নিষিদ্ধ, মন্দ, অপবিত্র ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় যেসব কাজ বা বন্ধু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম বলা হয়।
হালাল অর্থ বৈধ, সিদ্ধ, আইনানুগ বা অনুমোদিত বিষয়। এছাড়া পবিত্র, গ্রহণযোগ্য ইত্যাদি অর্থেও হালাল শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ইসলামি পরিভাষায় যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়। হালাল কথা, কাজ বা বস্তু সবই হতে পারে।
হারাম অর্থ নিষিদ্ধ, মন্দ, অসংগত, অপবিত্র ইত্যাদি। সেসব কাজ বা বস্তু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে ইসলামি পরিভাষায় হারাম বলা হয়। হারাম মানুষকে অকল্যাণ ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কোনো কোনো হারাম দ্রব্যের মধ্যে এমন উপাদান থাকে যা মানুষের মন, মস্তিষ্ক ও শরীরের জন্য চরম ক্ষতিকর। এটা মানব চরিত্রের সৎগুণাবলি নষ্ট করে দেয়। মানুষ ইবাদতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং তার ইবাদত ও দোয়া কবুল হয় না। তাই হারাম বর্জনীয়।
আল্লাহ তায়ালা সকল কিছুর স্রষ্টা। তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন তাঁর সৃষ্টির জন্য বিশেষ করে মানুষের জন্য কোনটা উপকারী ও কোনটা অপকারী। যেসব দ্রব্য ও বিষয় মানুষের জন্য কল্যাণকর আল্লাহ তায়ালা তা হালাল করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর।" (সূরা আল-বাকারা: ১৬৮) হালাল বস্তু গ্রহণ করার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত গ্রহণ করে এবং সর্বোচ্চ কল্যাণপ্রাপ্ত হয়।
মানুষের জন্য কল্যাণকর দ্রব্য ও বিষয় আল্লাহ তায়ালা হালাল করে দিয়েছেন। হালাল ও পবিত্র দ্রব্য মানুষের দেহ ও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখে। অন্তরে নূর সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ অন্যায় ও অসৎ চরিত্রকে ঘৃণা করতে থাকে। মানুষ সৎগুণসম্পন্ন হয়ে গড়ে ওঠে। বস্তুত হালাল খাদ্য মানুষের মধ্যে পবিত্রভাব ও আত্মশুদ্ধির উদ্রেক করে। ফলে দুনিয়া ও আখিরাতে প্রভূত কল্যাণপ্রাপ্ত হয়।
Related Question
View Allফারগব' আরবি শব্দটির বাংলা অর্থ হলো- "অনন্তর মনোনিবেশ করুন।”
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আত্-তীনের ৪নং আয়াতে বলেছেন, "আমি মানুষকে সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি।” মানুষকে সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করা আল্লাহর অপার অনুগ্রহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ শুধু মানুষকে সৃষ্টির সেরা বলেই শেষ করেননি, বরং আকৃতি ও কাজে তাকে সেরা হওয়ার যোগ্যতাও দান করেছেন। পৃথিবীর সকল সৃষ্ট জীবের মধ্যে মানুষের গড়নের অবকাঠামো অত্যন্ত চমৎকার ও শৈল্পিক। তাই তাঁর এ অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা জানাতে মানুষকে তাঁরই ইবাদতে ব্রতী হওয়া উচিত।
আল্লাহ তায়ালা সূরা মাউনের ৫-৭নং আয়াতে ঘোষণা করেন- "সুতরাং দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন, যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে।”
উদ্দীপকে সাজিব সালাত আদায়ে চরম অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা সালাতের ক্ষেত্রে সতর্ক ও সচেতন থাকতে বলেছেন। সালাতকে হিফাজত করতে বলেছেন। তিনি বলেন, “তোমরা সালাতকে হিফাজত কর বিশেষত মধ্যবর্তী সালাত।” মহানবি (স.) সালাতের জন্য বারবার তাগিদ করেছেন, এমনকি তিনি (স.) বলেছেন, "আজান শোনার পরও যারা ঘরে ও বসে থাকে আমার ইচ্ছে হয় ঐসব ঘর জ্বালিয়ে দিই।”
এত জোর তাগিদ থাকা সত্ত্বেও সাজিব সালাতে অবহেলা করে। তার এরূপ সালাত আদায় দ্বারা মুনাফিকদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। কারণ মুনাফিকরাও এভাবে অবহেলার সাথে সালাতে দাঁড়াত। তাদের সালাত আদায় ছিল লোক দেখানো, সেখানে আন্তরিকতার কোনো ছোঁয়া ছিল না। সাজিবের অবস্থাও তাদের মতো।
সাজিদ এলাকার যুবকদের সত্য কথা বলতে ও নিয়মিত সালাত আদায় করতে আহ্বান জানালে কতিপয় যুবক তাকে কটূক্তি করে এবং নানাভাবে অত্যাচার করে। চরম অত্যাচারের এক পর্যায়ে সাজিদ তার শিক্ষককে বিষয়টি জানালে তিনি তাকে সূরা ইনশিরাহ্-এর একটি আয়াত পড়ে শোনান। যার অর্থ হলো- 'নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।' অর্থাৎ কষ্টের পরই সুখ ও শান্তি আসবে। তাই কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাঁর সাহায্য চাইতে হবে।
আমরা সূরা আল্-ইনশিরাহ-এর মাধ্যমে এমনটি শিক্ষা পাই। আমাদের প্রিয়নবি মুহাম্মদ (স.) ও দীনের দাওয়াত দিতে গিয়ে মক্কার ও তায়েফের কাফির ও মুশরিকদের দ্বারা নানাভাবে অত্যাচারিত হয়েছিলেন। মক্কার কাফিররা তাঁকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করেছিল। কবি, পাগল, যাদুকর ইত্যাদি অভিধায় ডেকে তাঁকে মানসিক নির্যাতন করেছিল। সর্বোপরি তারা 'শিয়াবে আবু তালেব' এ অবরোধ করে মানবতার প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করতেও কুণ্ঠিত হয়নি। তায়েফে কাফিররা তাঁকে জখম করে রক্তাক্ত করেছিল।
এতসব নির্যাতনের পরও রাসুল (স.) দীনের দাওয়াত দিতেছিলেন কুণ্ঠাহীন ও নির্ভীক। এমনি কঠিন মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা সূরা আল ইনশিরাহ নাজিল করে রাসুলকে সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং অচিরেই, ইসলামের বিজয় হবে মর্মে ইঙ্গিত প্রদান করেন।
তাই সাজিদের জন্য সান্ত্বনা ও সুসংবাদ হলো নির্যাতন পর্বের পরেই বিজয় আসে। সেজন্য ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
শরিয়তের তৃতীয় উৎসের নাম হলো ইজমা।
হারাম ইসলামি শরিয়তের একটি পরিভাষা। এর অর্থ নিষিদ্ধ, অবৈধ, গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা। তিনি জানেন আমাদের জন্য কোনটি কল্যাণকর এবং কোনটি অকল্যাণকর। হারাম ঘোষণার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের জন্য অকল্যাণকর বিষয়গুলো চিহ্নিত করে দিয়েছেন। তাই হারাম মুসলমানের জন্য অবশ্যই বর্জনীয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
অর্থ কী?
অর্থ কী?
অর্থ কী?
শব্দের অর্থ কী?