সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও সমাধান

Updated: 4 weeks ago
উত্তরঃ

শরিয়ত আরবি ভাষার শব্দ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'শরিয়ত' শব্দের অর্থ পথ, রাস্তা, জীবনপদ্ধতি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের বিধিবিধান

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুসলিম মনীষীগণ শরিয়তের বিষয়বস্তুকে প্রধানত ৩টি ভাগে ভাগ করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের প্রধান উৎস ২টি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের উৎস ৪টি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআনের ওপর শরিয়তের ভিত্তি ও কাঠামো প্রতিষ্ঠিত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

লাওহে মাহফুজ এ  আল-কুরআন সর্বপ্রথম কোথায় লিপিবদ্ধ ছিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সংরক্ষিত ফলক

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'বায়তুল ইযযাহ' প্রথম আসমানে অবস্থিত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

রাসুল (স.)-এর হৃদয়কে মজবুত করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন অল্প অল্প করে নাজিল করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন ও হাদিস

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা হয় সূরা আলাক দ্বারা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'আল-বুরহান' শব্দের অর্থ সুস্পষ্ট প্রমাণ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'ওহি লেখক' সাহাবিদের সংখ্যা ৪২ জন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত উসমান (রা.)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পূর্ণ কুরআন লিপিবদ্ধ হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

খলিফা আবু বকর (রা.) যুগে ইয়ামামা'র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইয়ামামার যুদ্ধে বহু সংখ্যক কুরআনের হাফিয সাহাবি শাহাদাতবরণ করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইয়ামামা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হযরত আবু বকর (রা.) সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইয়ামামার যুদ্ধে ৭০ জন হাফিযে কুরআন শহিদ হয়েছিলেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.) কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে ৪টি পন্থা বিশেষভাবে অবলম্বন করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি ৭টি রীতিতে কুরআন পাঠের অনুমতি দেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত উসমান (রা.) কে জামিউল কুরআন বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'জামিউল কুরআন' অর্থ কুরআন সংকলনকারী।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন মাজিদে হরকত সংযোজনকারী হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল কুরআনের রুকুর সংখ্যা ৫৫৮

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

অবতরণের সময়ের প্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনের সূরাগুলোকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাক্কি সূরার সংখ্যা ৮৬টি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাক্কি সূরার বৈশিষ্ট্য ১২টি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হিজরতের পূর্বে যে সকল সূরা নাজিল হয়েছে সেগুলোকে মাদানি সূরা বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাদানি সূরার সংখ্যা ২৮টি ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'তিলাওয়াত' শব্দের অর্থ পাঠ করা, আবৃত্তি করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দেখে দেখে পড়া

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দেখে দেখে কুরআন তিলাওয়াত করা উত্তম।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

তাজবিদ সহকারে তিলাওয়াত

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন সকল প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভান্ডার।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

নিরাপদ নগরী বলতে বোঝানো হয়েছে মক্কা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

অবস্থা, মর্যাদা, কারণ, ঘটনা, পটভূমি

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

নুযুল শব্দের অর্থ অবতরণ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শানে নুযুল জানার উল্লেখযোগ্য উপকারিতা দুটি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আশ শামস সূরায় আল্লাহ তায়ালা সাতবার শপথ করে মানুষকে সতর্ক করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা শামস মক্কায় অবতীর্ণ হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আশ শাম্স-এর আয়াত সংখ্যা ১৫টি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা শামস কুরআনের ৯১তম সূরা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আশ-শামস শব্দের অর্থ সূর্য

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কামার শব্দের অর্থ চন্দ্র।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আদ-দুহায় এগারোটি আয়াত আছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মক্কায় অবতীর্ণ হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

উম্মে জামিল

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'আদ-দুহা' শব্দের অর্থ পূর্বাহ্ন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

উত্তম

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

অতি শীঘ্র

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

৮ আয়াতবিশিষ্ট

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কাফিরদের শাস্তির বিবরণ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

অনন্তর মনোনিবেশ করুন

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানবজীবনে হাসিকান্না থাকবেই

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মক্কায় অবতীর্ণ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত-তীনের আয়াত সংখ্যা ৮

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আঞ্জির বা ডুমুর ফল

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'আঞ্জির' একটি ফল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরার আত-তীনে ২টি ফলের কসম করা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সিরিয়া ও ফিলিস্তিন

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

নিরাপদ নগরী বলতে বোঝানো হয়েছে- মক্কা

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানুষ সৃষ্টিজগতের সুন্দরতম সৃষ্টি

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মক্কায় অবতীর্ণ ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দুর্ভোগ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দুস্থদের সাহায্য করা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নাহ অর্থ রীতিনীতি, পথ, পদ্ধতি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন মজিদের সব সংক্ষিপ্ত বিষয়ের ব্যাখ্যাদানের দায়িত্ব মহানবি (স.) ওপর ছিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিস শব্দের অর্থ কথা বা বাণী।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতিকে হাদিস বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিসের ২টি অংশ থাকে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিসের রাবি পরম্পরাকে সনদ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে ব্যক্তি হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁকে রাবি বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিসের মূল বক্তব্যকে মতন  বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সনদ বা রাবির পরম্পরার দিক থেকে হাদিস তিন প্রকার।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যেসব হাদিসের বর্ণনা পরম্পরা রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে বলে-মারফু।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে হাদিসের সনদ সাহাবি পর্যন্ত পৌঁছে শেষ হয়ে গেছে, তাকে মাওকুফ হাদিস বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে হাদিসের সনদ তাবিঈ পর্যন্ত পৌছেছে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

খলিফা উমর ইব্‌ন আবদুল আযীয (র.)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইমাম মালিক (র.)মুয়াত্তা' গ্রন্থের প্রণেতা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হিজরি তৃতীয় শতক হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিসে রাসুল (স.)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-আমালু শব্দের অর্থ কর্মসমূহ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সংকল্প

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইমাম বুখারি (স.) তাঁর সংকলিত গ্রন্থে নিয়ত বিষয়ের হাদিসকে প্রথমে স্থান দিয়েছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'খামসুন' শব্দের অর্থ পাঁচ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের ৫টি স্তম্ভ রয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ইমান।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হে আল্লাহ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

প্রতিদান

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কৃপণতা নিন্দনীয় কাজ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সদকায়ে যারিয়া  আখ্যায়িত করেছেন

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

পরিজন

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে তার পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ করে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'আল-আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বস্ত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

পবিত্র পেশা

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আশ্চর্যজনক

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ধৈর্যধারণ করে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ধৈর্যধারণ করে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহকে কৃতজ্ঞতা জানায়

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

লিসানুন শব্দের অর্থ জিহ্বা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সাকিলাতুন শব্দের অর্থ ভারী।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহর নিকট প্রিয় বাক্য সুবহানাল্লাহি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ মহাপবিত্র

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইজমা শরিয়তের তৃতীয় উৎস।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

একমত হওয়া

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুজতাহিদ' শব্দের আভিধানিক অর্থ গবেষক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সাহাবিগণের যুগে প্রথম ইজমার প্রচলন লক্ষ করা যায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

তারাবির নামাজ ২০ রাকাতের তথ্যসূত্র ইজমা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের উৎস হিসেবে কিয়াসের স্থান চতুর্থ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের সর্বশেষ উৎস কিয়াস

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইমামগণ কিয়াসের ব্যাপারে ৪টি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরজ অর্থ অবশ্য কর্তব্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যেসব কাজ কুরআন ও সুন্নাহর দলিল দ্বারা অবশ্য পালনীয় ও অলঙ্ঘনীয় বলে প্রমাণিত তাকে ফরজ বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ফরজে আইন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরজে কিফায়া

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ওয়াজিব ছেড়ে দিলে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নত দুই প্রকার

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

জামাত শুরু হওয়ার জন্য ইকামত দেওয়ার বিধানটি হচ্ছে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার কালাম। এটি 'লওহে মাহফুজ' বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "বস্তুত এটি সম্মানিত কুরআন। সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।" (সূরা আল- বুরুজ: ২১-২২)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়ত আরবি শব্দ। এর অর্থ পথ, রাস্তা। এটি জীবনপদ্ধতি, আইনকানুন, বিধিবিধান অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ব্যাপক অর্থে শরিয়ত। হলো এমন সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট পথ, যা অনুসরণ করলে মানুষ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নিজ গন্তব্যে পৌছাতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি পরিভাষায়, 'ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতিকে শরিয়ত বলা হয়। অন্যকথায়, ইসলামি আইনকানুন বা বিধিবিধানকে একত্রে শরিয়ত বলা হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব আদেশ-নিষেধ ও পথনির্দেশনা মানুষকে জীবন পরিচালনার জন্য প্রদান করেছেন তাকে শরিয়ত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়ত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "অতঃপর আমি আপনাকে শরিয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন। আর আপনি অজ্ঞদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না।" (সূরা আল-জাসিয়া: ১৮)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুসলিম মনীষীগণ শরিয়তের বিষয়বস্তুকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-
ক. আকিদা বা বিশ্বাসগত বিধিবিধান।
খ. নৈতিকতা ও চরিত্র সংক্রান্ত রীতিনীতি।
গ. বাস্তব কাজকর্ম সংক্রান্ত নিয়মকানুন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। শরিয়ত হলো জীবন, পরিকল্পনার দিক নির্দেশনা। এর দ্বারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইসলামের বিধি-নিষেধ জানা যায়। কোনটি হালাল, কোনটি হারাম্ ইত্যাদি জানা যায়। ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ইত্যাদি বিষয়ের জ্ঞানসহ উত্তম চরিত্র ও নৈতিকতার নানা শিক্ষাও শরিয়তের মাধ্যমে জানা যায়। তাই মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের উৎস মোট ৪টি। যথা- ১. কুরআন, ২. হাদিস, ৩. ইজমা ও ৪. কিয়াস। কুরআন হলো সর্বশেষ আসমানি কিতাব। হাদিস হলো রাসুল (স.) ও সাহাবিদের কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি। ইজমা হলো মুজতাহিদগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং কিয়াস হলো ইসলামি মূলনীতি অনুযায়ী বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন দেখে দেখে পড়াকে নাযিরা তিলাওয়াত বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান উৎস হলো আল-কুরআন। ইসলামি শরিয়তের সকল বিধিবিধানের মূল উৎসই আল-কুরআন। এর ওপরই ইসলামি শরিয়তের ভিত্তি ও কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের সমাধানসূচক মূলনীতি ও ইঙ্গিত আল-কুরআনে বিদ্যমান।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন মজিদ সহজ ও সাবলীল ভাষায় নাজিলকৃত। কেননা, অতি সাধারণ মানুষও যাতে কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এতে কোনোরূপ অস্পষ্টতা, বক্রতা কিংবা জটিলতা নেই। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর আমি তো কুরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।" (সূরা আদ-দুখান: ৫৮)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার কালাম। এটি 'লওহে মাহফুজ' বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "বস্তুত এটি সম্মানিত কুরআন। সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।" (সূরা আল-বুরুজ: ২১-২২)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ.) আল-কুরআনের সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে তথায় মহানবি (স.)-এর নিকট অবতরণ করেন। এটাই ছিল দুনিয়াতে আল-কুরআন প্রথম নাজিলের ঘটনা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহান আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআন, অল্প অল্প করে প্রয়োজন অনুসারে নাজিল হওয়া সম্পর্কে বলেন, "আর আমি খন্ড-খন্ডভাবে কুরআন নাজিল করেছি যাতে আপনি তা মানুষের নিকট ক্রমে ক্রমে পাঠ করতে পারেন আর আমি তা ক্রমশ নাজিল করেছি।" (সূরা বনি ইসরাইল: ১০৬)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআনের সংরক্ষক মহান আল্লাহ তায়ালা। আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব। কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের সার্বিক জীবন বিধান ও দিকনির্দেশনা এতে বিদ্যমান। মহান আল্লাহ স্বয়ং এর সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, "আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর: ৯)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন মুখস্থকরণে রাসুল (স.) দ্রুতপাঠ ও ব্যাকুলতা দেখে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সান্ত্বনা দেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তাড়াতাড়ি ওহি আয়ত্ত করার জন্য আপনি দ্রুত আপনার জিহ্বা তাঁর সাথে সঞ্চালন করবেন না। এটা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই।" (সূরা আল-কিয়ামাহ: ১৬-১৭)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। এর পরে আর কোনো আসমানি কিতাব মানুষের হিদায়েতের জন্য অবতীর্ণ হবে না। তাই কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের হিদায়েতের পথনির্দেশিকা হলো আল-কুরআন। তাই কুরআন যদি বিকৃত হয়, তাহলে মানুষ সঠিক নির্দেশনা পাবে না। সেজন্য কিয়ামত পর্যন্ত কুরআন অবিকৃত থাকবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন নাজিল হলে রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিগণকে তা মুখস্থ করতে বলতেন। সাহাবিগণ তা মুখস্থ করতেন, দিনরাত তিলাওয়াত করতেন, নামাযে পাঠ করতেন এবং পরিবার-পরিজন, স্ত্রী-সন্তান ও বন্ধুবান্ধবদেরও মুখস্থ করাতেন। এমনকি কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দেওয়ার জন্য নবি করিম (স.) সাহাবিগণকে নানা স্থানে প্রেরণ করতেন। এভাবে মুখস্থ করার মাধ্যমে আল-কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষণ করা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন লিপিবদ্ধকারী সাহাবিগণকে বলা হয় কাতিবে ওহি বা ওহি লেখক। তাঁরা ছিলেন সংখ্যায় মোট ৪২ জন। এঁদের মধ্যে প্রধান ছিলেন হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কয়েকজন কাতিবে ওহির লেখক হলেন-
১. হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.),
২. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.),
৩. হযরত উমর ফারুক (রা.),
৪. হযরত উসমান (রা.),
৫. হযরত আলি (রা.)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত যায়দ (রা.) কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নিম্নোক্ত চারটি পন্থা অবলম্বন করেন। যথা-
ক. হাফিয সাহাবিদের তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রতিটি আয়াতের। বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতা যাচাইকরণ।
খ. হযরত উমর (রা.)-এর হিফযের সাথে মিলিয়ে আয়াতের বিশুদ্ধতা যাচাইকরণ।
গ. রাসুলুল্লাহ (স.)-এর উপস্থিতিতে লিখিত হওয়ার ব্যাপারে ন্যূনতম দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ।
ঘ. চূড়ান্তভাবে লিখিত আয়াতগুলো অন্যান্য সাহাবির সংরক্ষিত পান্ডুলিপির সাথে তুলনা ও যাচাইকরণ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

চরম সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.) পবিত্র কুরআন সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে সংকলন করেন। এটাই ছিল সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ আল-কুরআন। কুরআনের এ কপিটি হযরত আবু বকর (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত ছিল। তাঁর ইন্তেকালের পর এটি হযরত উমর (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত ছিল। হয়রত উমর (রা.)-এর শাহাদতের পর পবিত্র কুরআনের এ পান্ডুলিপ্রিটি তাঁর কন্যা উম্মুল মুমিমিন হযরত হাফসা (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত ছিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথয়, খলিফা। তাঁর সময়ে কতিপয় নবুয়তের মিথ্যা' দাবিদার বা ভন্ড নরিক্ত যাকাত অস্বীকারকারীর আবির্ভাব ঘটে। তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরূপই একটি যুদ্ধ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে বহুসংখ্যক কুরআনের হাফিয সাহাবি শাহাদতবরণ করেন। এতে হযরত উমর (রা.) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং তিনি কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে নানা মতানৈক্য দেখা দেয়। এর মূল কারণ ছিল বিভিন্ন গোত্রীয় রীতিতে কুরআন পাঠ। অর্থাৎ ইসলামি খিলাফতের ব‍্যাপক বিস্তৃতির ফলে অনারবগণ মুসলমান হতে লাগল। তারা আরবি ভাষার এসব আঞ্চলিক রীতিসমূহ সম্পর্কে সচেতন ছিল না। ফলে ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠে তাদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয় ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সাধারণভাবে বলা যায়, পবিত্র মাক্কি নগরীতে আল-কুরআনের যেসব সূরা নাজিল হয়েছে, সেগুলো মাক্কি সূরা। প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, মহানবি (স.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পূর্বে নাজিল হওয়া সূরাসমূহকে মাক্কি সূরা বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাক্কি সূরার দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মাত্তি সূরাসমূহে তাওহিদ ও রিসালাতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
২. মুত্যুর পরবর্তী জীবন কিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম তথা আখিরাতের বর্ণনা এসব সূরায় প্রাধান্য লাভ করেছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সাধারণ ভাষায় বলা যায়, মদিনাতে নাজিল হওয়া সূরাগুলো মাদানি সূরা। তবে প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, মহানবি (স.)-এর মদিনায় হিজরতের পর নাজিল হওয়া সকল সূরাকে মাদানি সূরা নামে আখ্যায়িত করা হয়

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাদানি সূরার দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মাদানি সূরাসমূহে আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি ইসলামের আহ্বান জানানো হয়েছে।
২. এতে আহলে কিতাবের পথভ্রষ্টতা ও তাদের কিতাব বিকৃতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

তিলাওয়াত শব্দের অর্থ পাঠ করা, আবৃত্তি করা, পড়া, অনুসরণ করা ইত্যাদি। আল-কুরআন পাঠ করাকে ইসলামি পরিভাষায় কুরআন তিলাওয়াত বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

নাযিরা অর্থ দেখো। আর তিলাওয়াত অর্থ পাঠ করা। সুতরাং নাষিরা তিলাওয়াত অর্থ দেখে পাঠ করা। আল-কুরআন দেখে পড়াকে নাষিরা তিলাওয়াত বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হালকাভাবে আল-কুরআন পাঠ করলেই চলবে না। বরং একে খুবই গুরুত্বের সাথে তিলাওয়াত করতে হবে। এর মর্মার্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হবে। এতে বর্ণিত বিষয়াদি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করতে হবে। তাহলে আমরা। আল-কুরআনের জ্ঞান ও শিক্ষা আয়ত্ত করতে পারব।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন ধীরস্থিরভাবে তাজবিদসহকারে সুন্দর করে তিলাওয়াত করা উচিত। কারণ ভুলভাবে কুরআন তিলাওয়াত করলে পুণ্য অর্জন করার পরিবর্তে পাপ হবে। তাই কুরআন তিলাওয়াত করার সময় তাজবিদ অনুযায়ী তিলাওয়াত করতে হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন সহিহ-শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে পাঠ করাও অত্যাবশ্যক। কুরআন মজিদ ভুল ও অসুন্দর সুরে তিলাওয়াত করলে গুনাহ হয়। অশুদ্ধ ও অসুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করলে নামায শুদ্ধ হয় না। তাই তাজবিদসহকারে কুরআন তিলাওয়াত করা আবশ্যক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত অত্যন্ত বেশি। এর প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতেই নেকি পাওয়া যায়। নবি করিম (স.) বলেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফও পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভকরবে। আর এ নেকির পরিমাণ হলো দশ গুণ।" (তিরমিযি)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন হলো নূর বা জ্যোতি। এটি তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সমুন্নত করে। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ হয়। মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার দ্বারা মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে। হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাকে সূর্যের চাইতেও উজ্জ্বল মুকুট পরানো হবে।" (আহমাদ ও আবু দাউদ)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'শান' শব্দের অর্থ অবস্থা, মর্যাদা, কারণ, ঘটনা, পটভূমি। আর নুযুল অর্থ অবতরণ। অতএব, শানে নুযুল অর্থ অবতরণের কারণ 'বা পটভূমি। ইসলামি পরিভাষায়, আল-কুরআনের সূরা বা আয়াত নাজিলের কারণ বা পটভূমিকে 'শানে নুযুল' বলা হয়। একে 'সববে নুযুল'ও বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আশ-শাম্স মাক্কি সূরার অন্তর্গত। এর আয়াত সংখ্যা ১৫টি। এ সূরার প্রথম শব্দ শাম্স থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে আশ-শাম্স। এটি আল-কুরআনের ৯১তম সূরা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আশ-শামস-এ বর্ণিত আয়াতসমূহ তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগ হলো সূরার প্রথম সাত আয়াত। এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তায়ালা তাঁর কতিপয় সৃষ্টবস্তু, এদের অবস্থা ও এদের স্রষ্টা সম্পর্কে শপথ করেছেন। মানুষের শপথ করেছেন। এসব জিনিসের শপথ করার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা পরবর্তী আয়াতগুলোতে বর্ণিত বিষয়ের তাগিদ করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরার শেষভাগে আল্লাহ তায়ালা ছামুদ সম্প্রদায়ের উদাহরণের মাধ্যমে মানুষের ব্যর্থতার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। ছামুদ সম্প্রদায় ছিল খুবই উন্নত-সমৃদ্ধ একটি জাতি কিন্তু তারা আল্লাহর প্রেরিত রাসুলকে অবিশ্বাস করে এবং তাঁর নির্দেশ অমান্য করে। তাদের এ অবাধ্যতার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদের শাস্তি প্রদান করেন এবং তাদের ধ্বংস করে দেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

এ সূরা থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা লাভকরি। যেমন- আল্লাহ তায়ালাই আসমান, জমিন ও মানুষের স্রষ্টা। তিনিই সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিনের আবর্তন ঘটান। তিনিই মানুষের ভালো-মন্দ, সৎকর্ম-অসৎকর্মের জ্ঞান দান করেন। যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে, সে সার্বিক সফলতা লাভ করবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আদ-দুহা আল-কুরআনের ৯৩তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ১১। এটি পবিত্র মক্কা নগরীতে নাজিল হয়। সূরাটির প্রথম শব্দ দুহা থেকে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে আদ-দুহা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা মহানবি (স.)-কে সর্বাবস্থায় সাহায্য ও নিয়ামত দান করেন। মহানবি (স.) দরিদ্র ছিলেন। আল্লাহ তায়ালাই তাঁকে অভাব মুক্ত করেন। আল্লাহ তায়ালা মহানবি (স.) কে সুসংবাদ দিয়ে জানিয়ে দেন, মহানবি (স.)-এর আখিরাতের জীবন দুনিয়ার জীবন অপেক্ষা বহুগুণে উত্তম হবে। সেখানে তিনি উত্তম প্রতিদান লাভকরবেন এবং আল্লাহ তায়ালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

এ সূরা থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা লাভকরি। যেমন- আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের কখনোই পরিত্যাগ করেন না। তিনিই তাদের সকল বিপদাপদ থেকে রক্ষা করেন। পরকালে তিনি তাদের কল্যাণময় জীবন দান করবেন। ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত গবির-দুঃখী, ইয়াতীম ও ভিক্ষুকদের কল্যাণ করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-ইনশিরাহ মাক্কি সূরাসমূহের অন্যতম। এর আয়াত সংখ্যা মোট ৮টি। এটি আল-কুরআনের ৯৪তম সূরা। সূরার প্রথম আয়াতে নাশরাহ শব্দের ক্রিয়ামূল বিবেচনায় এ সূরার নাম রাখা হয়েছে আল-ইনশিরাহ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.) মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। সে সময় আরবদের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। তারা নানা প্রকার অন্যায়-অত্যাচার ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল। তারা আল্লাহ তায়ালার সাথে কুফরি করত, তাঁকে মানত না এবং তারা মূর্তিপূজায় নিমজ্জিত ছিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-ইনশিরাহ থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা লাভ করি। যেমন- যে ব্যক্তি সত্য ও ন্যায়ের জন্য চেষ্টা-সাধনা করে আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরকে খুলে দেন। তাকে সৎ পথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ তায়ালাই মানুষের কষ্ট-যাতনা দূর করেন। মানুষের মান-সম্মান, খ্যাতি-মর্যাদা সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান মর্যাদা দান করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত-তীন আল-কুরআনের ৯৫তম সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ এবং এর আয়াত সংখ্যা ৮। সূরার প্রথম শব্দ তীন থেকে এ সূরার নাম আত-তীন রাখা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত্-তীনে আল্লাহ তায়ালা চারটি বস্তুর শপথ করেছেন। তন্মধ্যে। প্রথম দুটি হলো আঞ্জির (ডুমুর জাতীয় ফল) ও যায়তুন। আঞ্জির হলো একটি উপাদেয় ফল। আর যায়তুনের ফল অত্যন্ত বরকতময় ও এর তেল খুবই উপকারী। এ দুটি ফল আরব বিশ্বে বহুল পরিচিত এবং সকলেই এর গুণ সম্পর্কে অবহিত। তাই এদের শপথ করা হয়েছে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তুর পর্বতের শপথ করেছেন। এ পর্বত অত্যন্ত বরকতময় স্থান। এ পর্বতে হযরত মুসা (আ.) মহান আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন করেন। আর সেখানেই তাওরাত কিতাব নাজিল হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত-তীনের তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নিরাপদ নগরীর শপথ করা হয়েছে। আর এটা হলো মক্কা নগরী। এ নগরীতে মহানবি (স.) জন্মগ্রহণ করেন। এতে পবিত্র বায়তুল্লাহ বা কাবা শরিফ অবস্থিত, সেখানে রক্তপাত ও মারামারি নিষিদ্ধ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত-তীন-এর কয়েকটি শিক্ষা হলো-
মানুষ সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ ও সুন্দরতম সৃষ্টি। মানুষের সম্মান ও মর্যাদা সৎকর্মের ওপর নির্ভরশীল। অসৎকর্ম করলে মানুষ মনুষ্যত্বের স্তর থেকে পশুত্বের স্তরে নেমে যায়। সৎকর্মশীলগণ পরকালে অশেষ ও অফুরন্ত পুরষ্কার লাভ করবেন। আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। শেষ বিচারের দিন তিনি সকল মানুষের কৃতকর্মের হিসাব নেবেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-মাউন আল-কুরআনের ১০৭তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৭টি। এটি মাক্কি সূরাগুলোর অন্তর্গত। সূরার শেষ শব্দ মাউন থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-মাউনে কাফির ও মুনাফিকদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও কাজের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সূরার প্রথম আয়াতে কিয়ামত দিবস ও বিচার দিবস অস্বীকারকারীদের কথা বলেছেন। আর কাফির মুনাফিকরাই মূলত বিচার দিবসের অস্বীকারকারী।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ। সুন্নাহ অর্থ পথ, পদ্ধতি রীতিনীতি। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর সমর্থিত রীতিনীতিকে সুন্নাহ বলে। সুন্নাহকে হাদিস নামেও অভিহিত করা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ। সুন্নাহ অর্থ পথ, পদ্ধতি রীতিনীতি। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর সমর্থিত রীতিনীতিকে সুন্নাহ বলে। সুন্নাহকে হাদিস নামেও অভিহিত করা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কাওল আরবি শব্দ। কাওল অর্থ বাণী। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণীসূচক হাদিসকে কাওলি হাদিস বলা হয়। অর্থাৎ মহানবি (স.)-এর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণীকে কাওলি বা বাণীসূচক হাদিস বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফে'লি শব্দের অর্থ কাজ সম্বন্ধীয়। যে হাদিসে মহানবি (স.)-এর। কোনো কাজের বিবরণ স্থান পেয়েছে অথবা যে হাদিস রাসুল (স.)-এর কর্মের বর্ণনা রয়েছে তাকে ফে'লি বা কর্মসূচক হাদিস বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সনদ বা রাবির পরম্পরার দিক থেকে হাদিস তিন প্রকার। যথা- (১) মারফু (২) মাওকুফ ) ও (৩)মাকতু

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে হাদিসের সনদ (হাদিসের রাবিগণের পর্যায়ক্রমিক বর্ণনা পরম্পরা) সাহাবি পর্যন্ত পৌঁছে শেষ হয়ে গেছে, এবং তা রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌছেনি এরূপ হাদিসকে মাওকুফ হাদিস বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে হাদিসের সনদ তাবিঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মাকতু হাদিস বলে। অন্যকথায়, যে হাদিসে কোনো তাবিঈর বাণী, কাজ ও মৌন সম্মতি বর্ণিত হয়েছে তাকে মাকতু হাদিস বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযিয (র.)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনিই সর্বপ্রথম সরকারিভাবে হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনে নতুন গতি সঞ্চার হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হযরত ইমাম মালিক (র.) সর্বপ্রথম হাদিসের বিশুদ্ধ সংকলন তৈরি করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ হলো-
(১) সহিহ বুখারি,

(২) সহিহ মুসলিম,

(৩) সুনানে নাসাই,

(8) সুনানে আবু দাউদ,

৫) জামি তিরমিযি ও

(৬) সুনানে ইবনে মাজাহ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.) হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, "আমি তোমাদের মধ্যে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে থাকবে ততদিন পর্যন্ত তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) এবং অপরটি তাঁর রাসুলের সুন্নাহ।" (মুয়াত্তা)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

নিয়ত সম্পর্কিত হাদিসটির প্রেক্ষাপট হলো- উম্মে কায়স নামক একজন মহিলা ইসলাম গ্রহণ করে মদিনায় হিজরত করেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বিয়ে করার জন্য মদিনায় হিজরত করে চলে আসেন। ঐ ব্যক্তির উদ্দেশ্য জানতে পেরে নবি (স.) এ হাদিসটি বর্ণনা করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

নিয়ত সম্পর্কিত হাদিসের দুটি শিক্ষা হলো-কাজের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যকে নিয়ত বলা হয়। নিয়তের উপরেই কাজের সফলতা নির্ভর করে। অর্থাৎ নিয়ত যদি ভালো হয় তবে ব্যক্তি উত্তম প্রতিদান লাভ করবে। আর নিয়ত যদি খারাপ হয় তবে ভালো কাজ করলেও ব্যক্তি সাওয়াব লাভ করবে না।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের ভিত্তি সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ (স.) তাঁর বান্দা ও রাসুল এবং সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমযানের রোযা রাখা।” (বুখারি ও মুসলিম)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের ভিত্তি সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা হলো-
ইসলামের মূলভিত্তি পাঁচটি। এগুলো হলো- ইমান, সালাত, যাকাত, হজ ও সাওম। ইমান হলো সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে ইমানের প্রকাশ ঘটাতে হবে। এ পাঁচটি ভিত্তির একটি ছাড়াও ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দানশীলতা সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "বান্দাগণ প্রতিদিন সকালে উপনীত হলেই দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। এঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ। দানকারীকে তুমি তার প্রতিদান দাও। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ। সম্পদ আটককারীকে (কৃপণকে) ক্ষতিগ্রস্ত কর।" (বুখারি ও মুসলিম)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে ব্যক্তি সম্পদ খরচ না করে জমা করে রাখে সে কৃপণ। তার সম্পদ কোনো কাজে আসে না। এতে কোনোরূপ কল্যাণ ও বরকত নেই। আসমানের ফেরেশতাগণও তার প্রতি বদদোয়া করেন। এভাবে দুনিয়া ও আখিরাতে কৃপণ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দানশীলতা সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা হলো-দানশীলতা মহৎ গুণ। দানশীল ব্যক্তির জন্য ফেরেশতাগণ দোয়া করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা দানশীলকে উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন। কৃপণতা নিন্দনীয় কাজ। কৃপণ ব্যক্তি সর্বাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষরোপণ সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষরোপণ করে কিংবা কোনো ফসল আবাদ করে, এরপর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু কিছু ভক্ষণ করে তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।" (বুখারি ও মুসলিম)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষরোপণ দ্বারা মানুষ নানাভাবে উপকৃত হয়। বৃক্ষ থেকে আমরা খাদ্য, ঔষধ, পোশাক, কাঠ, ফল ইত্যাদি লাভ করি। অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি রোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বৃক্ষের অবদান অনস্বীকার্য তাছাড়া পরিবেশ রক্ষায়ও বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকা পালন করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষরোপণের শিক্ষা হলো- বৃক্ষরোপণ পুণ্যের কাজ। বৃক্ষরোপণের দ্বারা মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হয়। পরিবেশ সংরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি আখিরাতেও প্রতিদান পাওয়া যাবে।। মহানবি (স.) দের বৃক্ষরোপণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সর্বোত্তম মানুষ সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা হলো-
আল্লাহ তায়ালার স্মরণ সর্বোত্তম কাজ। মানুষের মর্যাদা ধন-দৌলত, শিক্ষা বা ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং দীন পালনের মাধ্যমেই। মানুষের মর্যাদা নিরূপিত হয়। যাঁদের দেখলে আল্লাহ তায়ালার স্মরণ হয় তাঁরা সর্বোত্তম ব্যক্তি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানবপ্রেম ও সৃষ্টির সেবা সম্পর্কিত হাদিস হলো- "সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিজন। সুতরাং আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ঐ ব্যক্তি যে তাঁর পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ করে।" (বায়হাকি)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সৃষ্টির সেবা সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা হলো- সকল সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার পরিজনস্বরূপ, এদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন ও সদাচরণ করা ইসলামের আদর্শ, জীবজন্তু, পশু-পাখির প্রতি দয়া প্রদর্শন করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন এবং সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ করার দ্বারা মানুষ আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দা হতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

পরোপকার সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার ভাইয়ের ওপর অত্যাচার করে না, তাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হয়, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন।" (বুখারি ও মুসলিম)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

পরোপকার সম্পর্কিত হাদিসের কয়েকটি শিক্ষা হলো-
মুসলমানগণ পরস্পর ভাই-ভাই, তারা পরস্পর অন্যায় অত্যাচার করবে । না, শত্রুর মোকাবিলায় সকলে একত্রে এগিয়ে আসবে, বিপদে আপদে পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে, সাহায্যকারী মুসলিম আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রিয়, এছাড়াও আরেকটি শিক্ষা হলো, আল্লাহ তায়ালা তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী দুনিয়া ও আখিরাতে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ীগণ শহিদগণের সঙ্গে অবস্থান করবেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুসলিম ব্যবসায়ীদের শহিদ্গণের সঙ্গে থাকতে হলে দুটি শর্ত পূরণ করতে হয়। যথা-প্রথমত, সততা ও সত্যবাদিতার সাথে ব‍্যবসা পরিচালনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদেরকে বিশ্বস্ত ও আমানতদার হতে হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ব্যবসায় সততায় সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষাগুলো হলো-ব্যবসা-বাণিজ্য হালাল পেশা। তবে তা ইসলামি নীতি আদর্শের অনুসরণে করতে হবে। ব্যবসায়ের সততা ও বিশ্বস্ততা মহৎ গুণ। সকলকেই এগুলোর অনুশীলন করতে হবে। বিশ্বস্ত ও সৎ ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহিদগণের সঙ্গী হবেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা সম্পর্কিত হাদিসটি হলো- "মুমিনের কাজ 1 বিস্ময়কর। আর প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর এ কল্যাণ মুমিন ছাড়া আর কেউ লাভ করতে পারে না। যদি সে সুখ-শান্তি লাভ করে, তবে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি সে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হয়, তবে সে ধৈর্যধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর।" (মুসলিম)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানবজীবনে সুখ-শান্তির পাশাপাশি দুঃখ-কষ্টও বিদ্যমান। এগুলো আল্লাহ তায়ালার পরীক্ষাস্বরূপ। আল্লাহ তায়ালা সুখ ও দুঃখের, মাধ্যমে মানুষের পরীক্ষা করে থাকেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিপদাপন্ন | বালা-মসিবত দিয়েও পরীক্ষা করে থাকেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা সম্পর্কিত হাদিসটির দুটি শিক্ষা হলো-
১.দুঃখ-কষ্টের সময় হতাশ হওয়া চলবে না। বরং ধৈর্যসহকারে আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালন করতে হবে।
২. আনন্দের সময়ও আল্লাহ তায়ালার আদেশ ভুলে গেলে চলবে, না। বরং তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দুটি বাক্য এমন রয়েছে যা দয়াময় আল্লাহর নিকট খুবই প্রিয়, উচ্চারণ করতে সহজ ও দাঁড়িপাল্লায় খুবই ভারী। বাক্য দুটি হলো "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম।” (আল্লাহ মহাপবিত্র, সকল প্রশংসা তাঁর জন্যই। মহাপবিত্র আল্লাহ, তিনি মহামহিম)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যিকির দুটি বাক্যের মাধ্যমে মিযান বা দাঁড়িপাল্লা ভারী হবে। কিয়ামতের দিন মানুষের সকল কৃতকর্ম দাঁড়িপাল্লায় এজন করা হবে। নেকির পাল্লা ভারী হলে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর নেকির পাল্লা হালকা হলে তার স্থান হবে জাহান্নাম। এ বাক্যদ্বয়ের সাওয়াব ওজনে খুবই ভারী। মিযানে এগুলো নেকির ওজনকে ভারী করে তুলবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যিকির সম্পর্কিত হাদিসের শিক্ষা দুটি হলো-
১. আল্লাহ তায়ালা মহাপবিত্র, মহামহিম। তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করলে তিনি খুশি হন।
২. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহির আযিম- আল্লাহ তায়ালার প্রিয় দুটি বাক্য। আমরা সদা সর্বদা এ বাক্যদ্বয়ের যিকির করব।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের তৃতীয় উৎস হলো ইজমা। ইজমা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ- একমত হওয়া, ঐক্যবদ্ধ হওয়া, প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে কোনো বিষয় বা কথায় ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইজমা আরবি শব্দ। এর অর্থ একমত হওয়া। ইসলামি পরিভাষায়, শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতের পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইজমা শরিয়তের তৃতীয় উৎস। বিধিবিধান নির্ধারণে ইজমা অকাট্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত। সাধারণভাবে ইজমার ভিত্তিতে প্রণীত বিধানের ওপর আমল করা ওয়াজিব।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইজমার বিরোধিতা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "আর সৎপথ প্রকাশিত হওয়ার পরও কেউ যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচারণ করে এবং মুমিনগণের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, তবে আমি তাকে ঐ দিকেই ফিরিয়ে দেব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।" (সূরা আন-নিসা: ১১৫)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস। কিয়াস শব্দের অর্থ অনুমান করা, তুলনা করা, পরিমাপ করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, কুরআন ও সুন্নাহর আইন বা নীতির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে পরবর্তীতে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান দেওয়াকে কিয়াস বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের চতুর্থ স্তম্ভ হলো কিয়াস। কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক। যে সমসার সমাধান কুরআন, হাদিস ও ইজমাতে নেই, সেই সমস্যার সমাধানে কিয়াস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিয়াসের পদ্ধতি না থাকলে নতুন সমস্যা সমাধানের পথ রুদ্ধ হতো এবং ইসলামি শরিয়ত একটি সীমিত গন্ডিতে আবদ্ধ হতো। এ বিধানের কারণে ইসলাম গতিশীল জীবনব্যবস্থা হয়েছে এবং সর্বাধুনিক জীবন পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের ইমামগণ কিয়াস করার ব্যাপারে কতিপয় নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তার মধ্যে দুটি নীতি লেখা হলো-
১. যেসব বিষয়ের সমাধান কুরআন, হাদিস ও ইজমায় পাওয়া যায় সেসব বিষয়ে কিয়াস করা যাবে না।
২. কিয়াস কখনোই কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমার বিরোধী হবে না।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

প্রতিটি বিষয়েরই নিজস্ব কিছু পরিভাষা থাকে। ইসলামি শরিয়তেরও এরূপ বেশ কিছু পরিভাষা বিদ্যমান। এসব পরিভাষার মাধ্যমে শরিয়তের বিধানাবলির পর্যায়ক্রমিক গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। ইসলামি শরিয়তের আহকাম বা বিধানাবলি সংক্রান্ত পরিভাষাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাব, মুবাহ ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরয অর্থ অবশ্য পালনীয়, অত্যাবশ্যক। শরিয়তের যেসব বিধান কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা অবশ্য কর্তব্য ও অলঙ্ঘনীয় বলে প্রমাণিত তাকে ফরজ বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে সকল ফরজ বিধান সকলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে। অর্থাৎ যেসব ফরজ কাজ ব্যক্তিগতভাবে সকল মুসলমানকেই আদায় করতে হয় তা-ই ফরজে আইন। যেমন-দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, রমযান মাসে রোযা রাখা, এসব কাজ প্রত্যেক ব্যক্তিকেই নিজে আদায় করতে হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরযে কিফায়া হলো সামষ্টিকভাবে ফরজ কাজ। অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানদের ওপর ফরজ, কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে ফেলে তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ওয়াজিব অর্থ অবশ্য পালনীয়, কর্তব্য, অপরিহার্য ইত্যাদি। শরিয়তের এমন কিছু বিধান রয়েছে যা পালন করা কর্তব্য। তবে ফরজ নয়। এরূপ বিধানকে ওয়াজিব বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরজ ও ওয়াজিবের মধ্যকার অন্যতম পার্থক্য হলো ফরজ অস্বীকার করলে মানুষ কাফের হয়ে যায় আর ওয়াজিব অস্বীকার করলে কাফের হয় না। তবে কঠিন পাপ হয় ও আখিরাতে সেজন্য শাস্তি পাবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে সকল কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন, অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বলে। যেমন- আযান ও ইকামত দেওয়া, ফজরের ফরজ নামাজের পূর্বে দুই রাকআত নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুস্তাহাব অর্থ পছন্দনীয়। যে সকল কাজের প্রতি রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং তা করলে নেকি পাওয়া যাবে, কিন্তু না করলে গুনাহ হবে না সেসব কাজকে শরিয়তে মুস্তাহাব বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে সকল কাজ করলে কোনোরূপ সাওয়াব নেই, আবার না করলে কোনোরূপ গুনাহও হয় না এরূপ কাজকে মুবাহ বলা হয়। মানুষ ইচ্ছা করলে এরূপ কাজ করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে তা না-ও করতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হালাল অর্থ বৈধ, সিদ্ধ, আইনানুগ বা অনুমোদিত বিষয়। এছাড়া পবিত্র, গ্রহণযোগ্য ইত্যাদি অর্থেও হালাল শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ইসলামি পরিভাষায়, যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত, শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হারাম হলো হালালের বিপরীত। হারাম অর্থ নিষিদ্ধ, মন্দ, অসংগত, অপবিত্র ইত্যাদি। পরিভাষায়, যে সকল কাজ বা বন্ধু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সমাজে প্রচলিত কয়েকটি হারাম বিষয় ও দ্রব্যের নাম উল্লেখ করা হলো-
১ মৃত জীবজন্তু খাওয়া (তবে মৃত মাছ হারাম নয়)।
২. রক্ত পান করা (তবে হালাল জন্তুর গোশতে লেগে থাকা রক্ত হারাম নয়)।
৩. মানুষের গোশত খাওয়া।
৪. শূকরের গোশত খাওয়া।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হালাল ও পবিত্র দ্রব্য মানুষের দেহ ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে। অন্তরে নূর সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ অন্যায় ও অসৎ চরিত্রকে ঘৃণা করতে থাকে। মানুষ সৎগুণাবলি সম্পন্ন হয়ে গড়ে ওঠে। বস্তুত হালাল খাদ্য মানুষের মধ্যে পবিত্র ভাব ও আত্মশুদ্ধির উদ্রেক করে। ফলে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে প্রভুত কল্যাণপ্রাপ্ত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানবজীবনে হারাম বন্ধু, কথা ও কাজের পরিমাণ ও কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ। হারাম কাজ মানবসমাজেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। হারাম খাদ্য দ্রব্য মানুষের অন্তরে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। হারাম মানুষকে অকল্যাণ ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়ত শব্দের অর্থ হলো- পথ, রাজা, জীবন পদ্ধতি, আইনকানুন ইত্যাদি

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়ত হলো ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব আদেশ-নিষেধ ও পথনির্দেশনা মানুষকে জীবন পরিচালনার জন্য প্রদান করেছেন তাকে শরিয়ত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনাকে শরিয়ত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

অতঃপর আমি আপনাকে শরিয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি।
সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন। আর আপনি অজ্ঞদের। খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না। (সূরা আল-জাসিয়া: ১৮)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা মায়িদায় শরিয়তের পূর্ণাঙ্গতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুসলিম মনীষিগণ শরিয়তের বিষয়বস্তুকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআনে মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের সমাধানসূচক মূলনীতি ও ইঙ্গিত বিদ্যমান।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর কুরআন নাজিল করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন মজিদের ভাষা সহজ ও সাবলীল। এতে কোনোরূপ অস্পষ্টতা, বক্রতা কিংবা জটিলতা নেই।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

লাওহে মাহফুজ শব্দের অর্থ হলো- 'সংরক্ষিত ফলক'।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন 'লাওহে মাহফুজে' সংরক্ষিত ছিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম কদরের রাতে গোটা কুরআন মজিদ লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানের 'বায়তুল ইযযাহ' নামক স্থানে নাজিল করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বায়তুল ইযযাহ হলো প্রথম আসমানের একটি বিশেষ স্থান।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহনবি (স.) হেরাগুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ.) আল-কুরআনের সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে তথায় অবতরণ করেন। এটাই ছিল দুনিয়াতে আল-কুরআনের প্রথম নাজিলের ঘটনা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.)-এর জীবদ্দশায় মোট ২৩ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন নাজিল হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.)-এর ওপর আয়াত নাজিল হওয়ার সাথে সাথে নাজিলকৃত আয়াত তিনি মুখস্থ করে নিতেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হিজরতের পূর্বে মহানবি (স.) হযরত মুসআব ইবন উমারর (রা.) ও আব্দুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুম (রা.)-কে কুরআন শিক্ষাদানের জন্য মদিনায় প্রেরণ করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুখস্থ করার মাধ্যমে আল-কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষণ করা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

তৎকালীন সময়ে যেসব সাহাবি লেখাপড়া জানতেন তাঁরা প্রায় সকলেই কুরআন লেখার মর্যাদা লাভ করেছিলেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন লিপিবদ্ধকারী সাহাবিগণকে বলা হয় কাতিবে ওহি বা ওহি লেখক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কাতিবে ওহি বা ওহি লেখক ছিলেন সংখ্যায় মোট ৪২ জন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

প্রধান ওহি লেখক ছিলেন যায়দ ইবনে সাবিত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.)-এর জীবদ্দশায় আল-কুরআন মুখস্থ ও লেখনীর মাধ্যমে পুরোপুরি সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু সে সময় তা একত্রে গ্রন্থাবন্ধ করা হয় নি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত আবু বকর (রা.) কতিপয় নবুয়তের মিথ্যা দাবিদার বা ভন্ড নবি ও যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইয়ামামার যুদ্ধে বহুসংখ্যক কুরআনের হাফিজ সাহাবি শাহাদত বরণ করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুসায়লিমা কাযযাব নামক ভন্ড নবির বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধ পরিচালিত হয়।.

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত উমর (রা.) হযরত আবু বকর (রা.)-কে কুরআন সংকলন করে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দান করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত আবু বকর (রা.) সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত যায়িদ (রা.) কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে চারটি পন্থা অবলম্বন করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে বিভিন্নতা দেখা দেয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.) সহজকরণার্থে আরবদের ৭টি রীতিতে কুরআন পাঠ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত উসমান (রা.) প্রধান সাহাবিগণের পরামর্শক্রমে কুরআন সংকলনের জন্য চার জন সাহাবির একটি বোর্ড গঠন করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত উসমান (রা.)-কে 'জামিউল কুরআন' বা কুরআন একত্রকারী (সংকলক) বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইরাকের উমাইয়া বংশীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ পবিত্র কুরআনে হরকত সংযোজন করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন সর্বমোট ৩০টি অংশে বিভক্ত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন সর্বমোট ৩০টি অংশে বিভক্ত। এ অংশগুলোর প্রত্যেকটিকে পারা বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন মজিদে ১১৪টি সূরা রয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন মজিদে ৬২৩৬টি মতান্তরে ৬৬৬৬টি আয়াত রয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

অবতরণের সময় বিবেচনায় কুরআন মজিদের সূরাসমূহ ২ ভাগে বিভক্ত। যথা- মাক্কি ও মাদানি। 1

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পূর্বে নাজিল হওয়া সূরাসমূহকে মাক্কি সূরা বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাক্কি সূরাসমূহে তাওহিদ ও রিসালাতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাক্কি সূরাসমূহে আখিরাতের বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পর নাজিল হওয়া সকল সূরাকে মাদানি সূরা বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাদানি সূরা মোট ২৮টি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে মাদানি সূরায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইবাদতের রীতিনীতি, সালাত, যাকাত, হজ, সাওম ইত্যাদি বিষয় বিবৃত হয়েছে মাদানি সূরায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন পাঠ করাকে ইসলামি পরিভাষায় 'কুরআন তিলাওয়াত বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন দেখে দেখে পড়াকে নাযিরা তিলাওয়াত বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন মজিদের বৈশিষ্ট্য ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে একজন ফরাসি পন্ডিত বলেছেন, "কুরআন বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞান সংস্থা, ভাষাবিদদের জন্য এক শব্দকোষ, বৈয়াকরণের জন্য এক ব্যাকরণ গ্রন্থ এবং বিধানের জন্য একটি বিশ্বকোষ।"

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শুদ্ধ ও সুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করার নিয়মকে তাজবিদ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি পরিভাষায়, আল-কুরআনের সূরা বা আয়াত নাজিলের কারণ বা পটভূমিকে 'শানে নুযুল' বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আশ-শামস-এর আয়াত সংখ্যা ১৫টি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আশ-শামস আল-কুরআনের ৯১তম সূরা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আশ-শামস-এর বর্ণনাধারা তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আশ-শামস-এ আল্লাহ তায়ালা ছামুদ সম্প্রদায়ের উদাহরণের মাধ্যমে মানুষের ব্যর্থতার বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আদ-দুহা আল-কুরআনের ৯৩তম সূরা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আদ-দুহার আয়াত সংখ্যা ১১।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আবু লাহাবের স্ত্রীর নাম উম্মে জামিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আদ-দুহা শব্দের অর্থ পূর্বাহ্ন, দিবসের প্রথম ভাগ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সাওফা) শব্দের অর্থ অতি শীঘ্র, অচিরেই।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

লা তাকহার শব্দের অর্থ  আপনি কঠোর হবেন না।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

লা তানহার শব্দের অর্থ আপনি ধমক দেবেন না।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আদ-দুহায় আল্লাহ তায়ালা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে প্রদত্ত নানা নিয়ামতের কথা বর্ণনা করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ছয় বছর বয়সে মহানবি (স.)-এর মাতা ইন্তিকাল করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

রাসুলুল্লাহ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-ইনশিরাহ মক্কায় অবতীর্ণ হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-ইনশিরাহ-এর আয়াত সংখ্যা মোট ৮টি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-ইনশিরাহ আল-কুরআনের ৯৪তম সূরা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়ত লাভের পূর্বে মক্কা নগরীর লোকেরা তাঁকে আল-আমিন নামে ডাকত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

লাম নাশরাহ্ শব্দের অর্থ আমি প্রশস্ত করি নি বা উন্মুক্ত করিনি?

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফারগার্ শব্দের অর্থ আপনি অবসর লাভ করেন, অবকাশ পান।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত-তীন কুরআন মাজিদের ৯৫তম সূরা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত-তীন মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত্-তীন-এ আয়াত সংখ্যা ৮।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শব্দের অর্থ আঞ্জির বা ডুমুর জাতীয় ফল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শব্দের অর্থ  যায়তুন, জলপাই জাতীয় ফল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা ত্বীনের শব্দ' আল-আমীন' অর্থ নিরাপদ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত্-তীনের প্রথম তিন আয়াতে আল্লাহ তায়ালা চারটি বস্তুর শপথ করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত মুসা (আ.) মহান আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন করেন তুর পর্বতে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আত-তীনে আল্লাহ তায়ালা মক্কা নগরীর শপথ করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষের আকৃতি সবচেয়ে সুন্দর।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-মাউন আল-কুরআনের ১০৭তম সূরা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-মাউন-এর আয়াত সংখ্যা ৭।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-মাউন মক্কায় অবতীর্ণ হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নাহ অর্থ পথ, পদ্ধতি, রীতিনীতি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর সমর্থিত রীতিনীতি ও জীবনাদর্শকে সুন্নাহ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নাহকে হাদিস নামে অভিহিত করা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-আনআম: আয়াত নং-৭২।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যেসব কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন, অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহ বা হাদিস হলো আল-কুরআনের পরিপূরক

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিস শব্দের অর্থ কথা বা বাণী।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিস হলো মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সাধারণভাবে হাদিস বলতে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) এর বাণী, কর্ম ও যৌনসম্মতিকে বোঝানো হয়ে থাকে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিসের দুটি অংশ। যথা- একটি সনদ ও অপরটি মতন

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যিনি হাদিস বর্ণনা করেন তাঁক্সে বলা হয় রাবি বা বর্ণনাকারী

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিস বর্ণনায় হাদিসের। রাবিগণের পর্যায়ক্রমিক উল্লেখ বা বর্ণনা পরম্পরাকে সনদ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিসের মূল বক্তব্য বা মূল অংশকে মতন বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মতন বা হাদিসের মূল বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে হাদিসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- কাওলি, ফি'লি ও তাকরিরি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণীসূচক হাদিসকে কাওলি হাদিস বলা হয়। অর্থাৎ মহানবি (স.)-এর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণীকে কাওলি বা বাণীসূচক হাদিস বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে হাদিসে মহানবি (স.)-এর কোনো কাজের বিবরণ স্থান। পেয়েছে তাকে ফি'লি বা কর্মসূচক হাদিস বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

তাকরিরি শব্দের অর্থ মৌন সম্মতি জ্ঞাপক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অনুমোদনসূচক হাদিসই হলো তাকরিরি হাদিস।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সনদ বা রাবির পরম্পরার দিক থেকে হাদিস আবার তিন প্রকার। যথা- (ক) মারফু, (খ) মওকুফ ও (গ) মাকতু।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে হাদিসের সনদ রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মারফু হাদিস বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে হাদিসের সনদ সাহাবি পর্যন্ত পৌছে শেষ হয়ে গেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছে নি এরূপ হাদিসকে মাওকুফ হাদিস বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে হাদিসের সনদ তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মাকতু হাদিস বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুদসি শব্দের অর্থ পবিত্র।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে হাদিসের শব্দ ও ভাষা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নিজস্ব, কিন্তু তার অর্থ, ভাব ও মূলকথা আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে ইলহাম বা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত, তাকে হাদিসে কুদসি বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবন আব্দুল আবিয (র.) সর্বপ্রথম সরকারিভাবে হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'আল-মুয়াত্তা' এর সংকলনকারী ইমাম মালেক (র.)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত ইমাম মালিক (র.) সর্বপ্রথম হাদিসের বিশুদ্ধ সংকলন তৈরি করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত ইমাম মালিক (র.) সংকলিত হাদিস গ্রন্থের নাম আল-মুয়াত্তা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হিজরি ৩য় শতককে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি কিতাব সংকলিত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারি (র.)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিসের যে ছয়টি বিশুদ্ধতম কিতাব ০৯। সংকলিত হয়, তাকে সিহাহ সিত্তাহ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবন হাজ্জাজ আল-কুশাইরি (র.)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইমাম আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবন শুআইব আন-নাসাই (র.)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইয়াজিদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মাজাহ (র.)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

উম্মে কায়স নামক একজন মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণিত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কাজের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যকে নিয়ত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো- ইমান, সালাত, যাকাত, সাওম ও হজ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বুখারি ও মুসলিম শরিফে ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির কথা বলা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের মূল ভিত্তিগুলো হলো- ইমান, নামাজ, রোযা, যাকাত ও হজ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইমান হলো সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সন্তুষ্টচিত্তে নিজ পিতামাতা, আত্মীয়পরিজন, বন্ধুবান্ধবদের জন্য খরচ করাও একপ্রকার দানশীলতার পর্যায়ে পড়ে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে ব্যক্তি সম্পদ খরচ না করে জমা করে রাখে সে কৃপণ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষরোপণ পুণ্যের কাজ। যা সাদকা হিসেবে পরিগণিত হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

'সাদকা' অর্থ দান করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যাঁদের দেখলে আল্লাহর তায়ালার স্মরণ হয় তারা সর্বোত্তম ব্যক্তি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-খালকু শব্দের অর্থ সৃষ্টিজগৎ, মাখলুক, সমগ্র সৃষ্টি, সৃষ্টিকুল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আহসানা শব্দের অর্থ অনুগ্রহ করে, সদাচরণ করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আখুন শব্দের অর্থ ভাই।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাজাতুন শব্দের অর্থ প্রয়োজন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আতাজির শব্দের অর্থ ব্যবসায়ী, বণিক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-আমিনু শব্দের অর্থ বিশ্বস্ত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আস্-সুদুকু শব্দের অর্থ সত্যবাদী।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বিশ্বস্ত, সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহিদদের সঙ্গী হবেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ব্যবসায় বাণিজ্য একটি পবিত্র পেশা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সবর শব্দের অর্থ ধৈর্য ধারণ করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুখ-দুঃখ মানবজীবনের স্বাভাবিক বিষয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাবিবাতানে শব্দের অর্থ খুবই প্রিয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

খফিফাতানে শব্দের খুবই সহজ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ছালিকাতানে শব্দের অর্থ খুবই ভারী।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের তৃতীয় উৎস হলো ইজমা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইজমা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ- একমত হওয়া, ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কোনো বিষয় বা কথায় ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতের মধ্য হতে পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সাহাবিগণের যুগে ইজমার পূর্ণাঙ্গ প্রচলন ঘটে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

তারাবিহ-এর সালাত জামাতে আদায় করার প্রচলন ঘটে দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সময়ে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বিধিবিধান নির্ধারণে ইজমা অকাট্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সাধারণভাবে ইজমার ভিত্তিতে প্রণীত বিধানের ওপর আমল করা ওয়াজিব।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুসলমানগণ মধ্যপন্থি জাতি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কিয়াস শব্দের অর্থ অনুমান করা, তুলনা করা, পরিমাপ করা ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি পরিভাষায় কুরআন ও সুন্নাহর আইন বা নীতির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করে পরবর্তীতে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান। দেওয়াকে কিয়াস বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কিয়াস শরিয়তের সর্বনিম্ন স্তর। যখন কোনো বিষয়ে আল-কুরআন, হাদিস ও ইজমায় পরিষ্কারভাবে সমাধান পাওয়া যায় না তখনই কিয়াস প্রযোজ্য হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুআয ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনের বিচারক নিয়োগ করা হয়েছিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের ইমামগণ কিয়াস করার ব্যাপারে চারটি নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কিয়াস ইসলামি শরিয়তের একটি বিজ্ঞানসম্মত ও যৌক্তিক উৎস।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আহকাম হলো শরিয়তের বিধানাবলি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরজ অর্থ অবশ্য পালনীয়, অত্যাবশ্যক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের যেসব বিধান কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা অবশ্য কর্তব্য ও অলঙ্ঘনীয় বলে প্রমাণিত তাকে ফরজ বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরজ অস্বীকার করলে ইমান থাকে না বরং এর অস্বীকারকারী কাফির হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরজ দুই প্রকার। যথা- ১. ফরজে আইন ও ২. ফরজে কিফায়া।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যেসব ফরজ বিধান সকূলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরজে কিফায়া হলো সামষ্টিকভাবে ফরজ কাজ। অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানের ওপর ফরজ, কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে ফেলে তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ওয়াজিব অর্থ- অবশ্য পালনীয়, কর্তব্য, অপরিহার্য ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা পালন করা কর্তব্য, তবে ফরজ নয়। এরূপ বিধানকে ওয়াজিব বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

দুই ঈদের সালাত আদায় করা ওয়াজিব।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নত অর্থ- পথ, পন্থা, রীতি, নিয়ম, পদ্ধতি ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যেসব কাজ মহানবি (সা.) নিজে করেছেন বা যা করার জন্য। নির্দেশ দিয়েছেন কিংবা অনুমোদন করেছেন তাকে সুন্নাত বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নত মোট দু প্রকার। যথা- ১. সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ও ২. সুন্নাতে যায়িদাহ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যেসব কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন, অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নাতে যায়িদাহ হলো অতিরিক্ত সুন্নত। পরিভাষায়, যেসব কাজ নবি (স.) করেছেন বলে প্রমাণিত তবে তিনি সর্বদা তা পালন করতেন না, বরং কখনো করতেন আবার কখনো ছেড়ে দিতেন এসব কাজকে সুন্নাতে যায়িদাহ বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুস্তাহাব অর্থ পছন্দনীয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত ব্যতীত অতিরিক্ত সবধরনের ইবাদত ও ভালো কাজই মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য। এ মুস্তাহাবকে নফল বা মসদুবও বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুস্তাহাবকে নফল বা মানদুব বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যেসব কাজ করলে কোনোরূপ সওয়াব নেই, আবার না করলে কোনোরূপ গুনাহও হয় না এরূপ কাজকে মুবাহ বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি পরিভাষায় যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হারাম অর্থ নিষিদ্ধ, মন্দ, অসংগত, অপবিত্র ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যেসব কাজ বা বন্ধু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়ত আরবি শব্দ। এর অর্থ পথ, রাস্তা। এটি জীবনপদ্ধতি, আইনকানুন, বিধিবিধান অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ব্যাপক অর্থে শরিয়ত হলো এমন সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট পথ, যা অনুসরণ করলে মানুষ সুষ্ঠু'ও সুন্দরভাবে নিজ গন্তব্যে পৌছতে পারে। ইসলামি পরিভাষায়, ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতিকে শরিয়ত বলা হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব আদেশ-নিষেধ ও পথনির্দেশনা মানুষকে জীবন পরিচালনার জন্য প্রদান করেছেন তাকে শরিয়ত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের বিষয়বস্তু ও পরিধি মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এজন্য বলা যায়, এর পরিধি ও বিষয়বস্তু অত্যন্ত ব্যাপক। এটি হলো মানবজাতির জন্য সার্বিক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের সকল বিষয়ের বিধিবিধান ও নির্দেশনা এতে বিদ্যমান। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম। তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।" (সূরা আল-মায়িদা: ৩)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। শরিয়ত হলো মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল প্রদত্ত আদেশ-নিষেধ ও বিধিবিধান। শরিয়ত। হলো জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা। এর দ্বারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইসলামি বিধিনিষেধ জানা যায়। কোনটি হালাল, কোনটি হারাম। ইত্যাদি জানা যায়। সুতরাং শরিয়ত মেনে চললে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (সা.) খুশি হন। অন্যদিকে, শরিয়ত অস্বীকার করা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করার নামান্তর। তাই শরিয়তের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। শরিয়ত হলো মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রদত্ত আদেশ-নিষেধ ও বিধিবিধান। সুতরাং শরিয়ত মেনে চললে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল খুশি হন। অন্যদিকে, শরিয়ত অস্বীকার করা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করার নামান্তর। কোনো মুসলমান এরূপ কাজ করতে পারে না। তাই মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনার জন্য 'ইসলামি কার্যনীতি' বা শরিয়ত অপরিহার্য। কেননা কোনটি হালাল, কোনটি হারাম ইত্যাদি মেনে চললে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (স.) খুশি হন। অন্যদিকে ইসলামি কার্যনীতি প্রত্যাখ্যান করলে কিয়ামতের দিন কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হতে হবে। তাই ইসলামি কার্যনীতি অনুসরণ আবশ্যক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানুষের সার্বিক জীবনাচরণে শরিয়তের ভূমিকা অতীব পুরুত্বপূর্ণ। কেননা শরিয়ত আমাদের ইবাদতের পদ্ধতি ও নিয়মকানুন শিক্ষা দেয়। সালাত, যাকাত, সাওম, হজ ইত্যাদি কীভাবে, কোথায়, কোন সময়ে আদায় করতে হয় তাও শরিয়তের বর্ণনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জনের উপায়, পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতি ইত্যাদিও শরিয়তের আওতাভুক্ত। অতএব, মানুষের সার্বিক জীবনাচরণে শরিয়তের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শরিয়ত-এর বিধিবিধান অবিভাজ্য। এর কিছু অংশ গ্রহণ এবং কিছু অংশ বর্জন করা নিষেদ্ধ। শরিয়তের প্রতিটি হুকুমের ওপর ইমান আনা এবং সামগ্রিকভাবে শরিয়ত পালন করা অবশ্য কর্তব্য। শরিয়তের কোনো বিধানের বিরোধিতা বা লঙ্ঘন একই সঙ্গে দুটি মারাত্মক পরিণতির কারণ। একটি ইহকালীন এবং অপরটি পরকালীন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন মহানবি (স.)-এর প্রতি একসাথে নাজিল হয়নি। বরং নানা প্রয়োজন উপলক্ষে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে অল্প অল্প করে নাজিল হয়েছে।

পবিত্র কুরআন যদি একসাথে নাজিল হতো, তাহলে রাসূল (স.) ও তাঁর সাহাবাদের পক্ষে একসাথে অনেকগুলো নতুন আদেশ পালন কষ্টকর হয়ে যেত। তাই যখন যে আয়াতের প্রয়োজন হয়েছে, তখন তাই নাজিল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, "কাফিররা বলে, তাঁর ওপর সমগ্র কুরআন একত্রে নাজিল হলো না কেন? আমি এভাবেই অবতীর্ণ করেছি আপনার হৃদয়কে তার দ্বারা মজবুত করার জন্য এবং আমি তা ক্রমশ নাজিল করেছি।" (সূরা ফুরকান: ৩২)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব। কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের সার্বিক জীবনবিধান ও দিকনির্দেশনা এতে বিদ্যমান। সুতরাং এর সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ স্বয়ং এর সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, "আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্য আমিই এর সংরক্ষক।"
অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং আল-কুরআনের সংরক্ষক। তিনি তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ কিতাব সংরক্ষণ করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব। সুতরাং এর সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ স্বয়ং এর সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন-

অর্থ: "আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর ৯)

আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ কিতাব সংরক্ষণ করেন। এজন্য আজ পর্যন্ত এ কিতাবের একটি 'হরফ, হরকত বা নুকতার পরিবর্তন হয়নি। এটি যেভাবে নাজিল হয়েছিল, আজও ঠিক সেভাবেই বিদ্যমান এবং কিয়ামত পর্যন্ত ওইভাবেই থাকবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল-কুরআন আরব দেশে মহানবি (স.)-এর ওপর নাজিল। হয়। এসময় মহানবি (স.) সাথে সাথে নাজিলকৃত আয়াত মুখস্থ করে নিতেন। এরপর বারংবার তিলাওয়াতের মাধ্যমে তা স্মৃতিতে ধরে রাখতে চেষ্টা করতেন। আল-কুরআন মুখস্থকরণে রাসুল (স.)-এর। দ্রুত পাঠ ও ব্যাকুলতা দেখে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং উল্লিখিত আয়াত নাজিল করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে মতানৈক্যের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এ সমস্যার সমাধানে তিনি অন্য সাহাবিগণের পরামর্শক্রমে কুরআন সংকলনের জন্য চার জন সাহাবির একটি বোর্ড গঠন করেন। যারা হযরত হাফসা (রা.) নিকট সংরক্ষিত কুরআনের মূল কপিটির সাথে মিলিয়ে কতকগুলো অনুলিপি তৈরি দ্বারা আল-কুরআনকে বিকৃতি ও গরমিল থেকে রক্ষা করেন। এ মহান কাজটি উসমান (রা.)-এর প্রত্যক্ষ 'তত্ত্বাবধানে হওয়ায় তাকে 'জামিউল কুরআন' বা কুরআন একত্রকারী বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাক্কি ও মাদানি সূরার বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে-
যে সূরা মক্কায় অবতীর্ণ হয় তাকে মাঝি সূরা বলে। আর যে সূরা মদিনায় অবতীর্ণ হয় তাকে মাদানি সূরা বলে। মাক্কি সূরায় তাওহিদ রিসালাতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। মাদানি সূরায় আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের প্রতি ইসলামের আহ্বান করা। হয়েছে। মাক্কি সূরায় শিরক- কুফরের বর্ণনা এসেছে। আর মাদানি সূরায় বিভিন্ন বিধিবিধান নাজিল করা হয়েছে। যেমন- বিচারব্যবস্থা, দন্ডবিধি, জিহাদ, রাষ্ট্রপরিচালনা, ব্যবসায় বাণিজ্য, লেনদেন, উত্তরাধিকারী আইন ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মাদানি সূরাসমূহে আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের প্রতি ইসলামের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে আহলে কিতাবের পথভ্রষ্টতা ও তাদের কিতাব বিকৃতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এ সূরাসমূহে নিফাকের পরিচয় ও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ। করা হয়েছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে। পারস্পরিক লেনদেন, উত্তরাধিকার আইন, ব্যবসায় বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয়সহ যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বিধান বর্ণিত হরেছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

"আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে।" (সূরা আল-মুযাম্মিল ৪) এ আয়াত দ্বারা কুরআন তিলাওয়াতে তাজবিদের গুরুত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে।
আল-কুরআন সহিহ-শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে পাঠ করাও অত্যাবশ্যক। কুরআন মজিদ ভুল ও অসুন্দর সুরে তিলাওয়াত করলে গুনাহ হয়। অশুদ্ধ ও অসুন্দররূপে- কুরআন তিলাওয়াত করলে নামায শুদ্ধ হয় না। শুদ্ধ ও সুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করার নিয়মকে তাজবিদ বলা হয়। তাজবিদ অনুসারে কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব বোঝাতে এ আয়াতটির অবতারণা করা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন তিলাওয়াত উত্তম ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (স.) এ প্রসঙ্গে বলেন, "আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।” (বায়হাকি)
কুরআন তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সমুন্নত করে। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভকরতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ হয়। মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার দ্বারা মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর বিধিবিধান সম্পর্কে জানা যায়।  পবিত্র কুরআন হলো সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস। যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করে কুরআনের জ্ঞান ও শিক্ষা আয়ত্ত করা যায়। সঠিকভাবে ইসলামি জীবনযাপন করা যায়। কুরআন তিলাওয়াত করে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি করে নেকি লাভ করা যায়। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "আমার উম্মতের উত্তম (নফল) ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।"

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

কুরআন হলো নূর বা জ্যোতি। এটি তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সমুন্নত করে। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তর ভর। পরিশুদ্ধ হয়। মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার দ্বারা মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে ঘটনা বা অবস্থাকে কেন্দ্র করে আল-কুরআনের আয়াত বা সূরা নাজিল হতো সে ঘটনা বা অবস্থাকে ঐ সূরা বা আয়াতের শানে নুবুল বলা হয়। শানে নুযুল জানার উল্লেখযোগ্য উপকারিতা হলো-(ক) এর দ্বারা শরিয়তের বিধান প্রবর্তনের রহস্য জানা যায়। (খ) আয়াতের অর্থ, উদ্দেশ্য ও সঠিক মর্মার্থ অবগত হওয়া যায়। ইত্যাদি উপকারিতা বিবেচনায় আল কুরআনের শানে নুযুল জানা প্রয়োজন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আশ-শামসে আল্লাহ তায়ালা মানুষের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে সৎকর্ম ও অসৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। এতদসত্ত্বেও যে ব্যক্তি নিজকে পাপের দ্বারা কলুষিত করে তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিজকে পরিশুদ্ধ করে, সৎকর্ম করে তার জন্য রয়েছে সফলতা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার রাসুলুলাহ (স.) অসুস্থ থাকার কারণে দু-তিন রাত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতে পারেন নি। এসময় জিবরাইল (আ.) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর নিকট ওহি নিয়ে আগমন করেন নি। এতে মক্কার কাফির-মুশরিকরা বলতে লাগল যে, মুহাম্মদ (স.)-কে তাঁর প্রতিপালক পরিত্যাগ করেছে এবং তাঁর প্রতি বিরূপ হয়েছে। কাফিরদের এসব কথায় ও ঠাট্টা-বিদ্রূপে মহানবি (স.) মর্মাহত হন। তখন আল্লাহ তায়ালা প্রিয়নবি (স.)-কে সান্ত্বনা প্রদান করে সূরা আদ-দুহা নাজিল করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়ত লাভের পূর্বেও মক্কা নগরীর অত্যন্ত সম্মানিত মানুষ ছিলেন। কিন্তু নবুয়ত লাভের পর রাসুলুল্লাহ (স.) ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকলে মক্কাবাসীরা ঠাট্টা-বিদ্রূপ, উপহাস করে তার বিরোধিতা শুরু করে। কাফিরদের এরূপ ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও অন্যায় অত্যাচারে রাসুলুল্লাহ (স.) উদ্বিগ্ন ও হতাশা হয়ে পড়লে আল্লাহ তায়ালা রাসুল (স.) কে সান্ত্বনা প্রদান করে এ সূরা নাজিল করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আমাদের পার্থিব জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের। এ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। অতএব, এ সময়কে কাজে লাগাতে হবে। দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে হবে। পার্থিব প্রয়োজনীয় কাজ সমাধানের পর আল্লাহ্ তায়ালার ইবাদত ও স্মরণে আত্মনিয়োগ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সূরা আল-ইনশিরাহ এর ৭ ও৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে- "অতএব, যখনই আপনি অবসর পান, একান্তে ইবাদত করুন। এবং আপনার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করুন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বিশেষ কোনো ঘটনা বা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা আত-তীন নাজিল করা হয়নি বরং মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ সফলতা লাভের দিকনির্দেশনা ও পরকালের জবাবদিহির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা এ সূরা নাজিল করেন। মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত কতিপয় নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর আল্লাহ তায়ালা এতে মানবজাতির উৎপত্তি ও পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ সূরা নাজিল করেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আত-তীনের ৪নং আয়াতে বলেছেন, "আমি মানুষকে সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি।" মানুষকে সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করা আল্লাহর অপার অনুগ্রহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ শুধু মানুষকে সৃষ্টির সেরা বলেই শেষ করেননি, বরং আকৃতি ও কাজে তাকে সেরা হওয়ার। যোগ্যতাও দান করেছেন। পৃথিবীর সকল সৃষ্ট জীবের মধ্যে মানুষের গড়নের অবকাঠামো অত্যন্ত চমৎকার ও শৈল্পিক। এজন্যই মহান আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছি।'

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা সূরা আত্-তীনে মানুষের আকৃতি ও প্রকৃতি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অত্যন্ত সুন্দর সৃষ্টি হিসেবে ঘোষণা করেন। সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষের আকৃতিই সবচেয়ে সুন্দর। তবে মানুষ যদি ভালো কাজ না করে অসৎ কাজে লিপ্ত হয় তাহলে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে লাঞ্ছিত-অপমানিত করেন। তাকে শাস্তি প্রদান করেন। অর্থাৎ মানুষের কল্যাণ সুন্দর আকৃতিতে নয় বরং সৎকর্মের ওপর নির্ভরশীল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

বিচার দিবস বলতে হাশরের মাঠকে বোঝানো হয়েছে। হাশর হলো মহাসমাবেশ। পৃথিবীর প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত সকল মানুষই সেদিন এ ময়দানে একত্রিত হবে। মানুষের এ মহাসমাবেশকে হাশর বলে। হাশরের ময়দান হলো হিসাব-নিকাশের দিন, জবাবদিহির দিন। এ দিন মহান আল্লাহ হবেন একমাত্র বিচারক। মহান আল্লাহ বলেন-
অর্থ: "তিনি আল্লাহ বিচার দিবসের মালিক।" (ফাতিহা: ৩)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

"যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন।" আয়াতটি সূরা আল-মাউন-এর। আয়াতটিতে সালাত আদায়ে উদাসীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলা হয়েছে।
মুনাফিকদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা ঠিকমতো সালাত আদায় করে না। বরং তারা সালাত সম্পর্কে উদাসীন। এ ধরনের ব্যক্তিরা শুধু মুসলমানদের দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে। সালাতের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে তারা কোনো খবর রাখে না।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সূরা আল-মাউনের শিক্ষা হলো-

১. বিচার দিবসকে অস্বীকার করা খুবই জঘন্য কাজ। এটি কাফির-মুনাফিকদের কাজ।

২. ইয়াতিম ও দুস্থদের না তাড়িয়ে তাদের সাহায্য করতে হবে।

৩. সালাতে অবহেলা করা যাবে না। লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা যাবে না।

৪. সালাতে উদাসীন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে মহাধ্বংস।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ। সুন্নাহ অর্থ রীতিনীতি।
ইসলামি পরিভাষায় মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর সমর্থিত রীতিনীতিকে সুন্নাহ বলে। সুন্নাহকে হাদিস নামেও অভিহিত করা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

তাকরিরি শব্দের অর্থ হলো-মৌন সম্মতি জ্ঞাপক। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অনুমোদনসূচক হাদিসই হলো তাকরিরি হাদিস। অর্থাৎ সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সামনে কোনো কথা বলেছেন কিংবা কোনো কাজ করেছেন কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স.) তা নিজে করেননি এবং তাতে বাধাও দেননি বরং মৌনতা অবলম্বন করে তাতে সম্মতি বা অনুমোদন দিয়েছেন। এরূপ অবস্থা বা বিষয়ের বর্ণনা যে হাদিসে এসেছে সে হাদিসকে তাকরিরি বা সম্মতিসূচক হাদিস বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মারফু  শব্দের অর্থ উচ্চ, উন্নত ও মর্যাদাবান। যেসব হাদিসের বর্ণনাসূত্র রাসুলুল্লাহ (স:) পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং যার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কথা, কাজ ও কোনো বিষয়ের সমর্থন পাওয়া যায় তাকে মারফু হাদিস বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার হলো হাদিসে কুদসি। ইসলামি পরিভাষায়, যে হাদিসের শব্দ ও ভাষা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নিজস্ব, কিন্তু তার অর্থ, ভাব ও মূলকথা আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে ইলহাম বা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত, তাকে হাদিসে কুদসি বলে। সংক্ষেপে, যে হাদিসের। মূলকথা আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে প্রাপ্ত এবং মহানবি (স.) নিজের ভাষায় তা উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন সেটাই হাদিসে কুদসি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকেই হাদিসের উৎপত্তি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-! এর জীবদ্দশায় হাদিস লিখে রাখা নিষেধ ছিল। কেননা তখন আল-কুরআন নাজিল হচ্ছিল। এ অবস্থায় মহানবি (সা.)-এর হাদিস লিখে রাখলে তা আল-কুরআনের বাণীর সাথে সংমিশ্রণের আশঙ্কা ছিল। এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় ব্যাপকভাবে হাদিস লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করা হয়নি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে সাধারণভাবে হাদিস বলা হয়।
সাহাবিগণ মহানবি (স.)-এর বাণীসমূহ মুখস্থ রাখতেন। রাসুলুল্লাহ (স.) কোন সময় কী কাজ করতেন তা খেয়াল রাখতেন। তাঁরা রাসুল। (স.)-এর কথা শুনতেন। তা মনে রাখতেন এবং তা হুবহু বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনের নিকট পৌঁছে দিতেন। আরবদের স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ। তাঁরা একবার যা স্মৃতিতে ধারণ। করতেন কখনোই তা ভুলতেন না। ফলে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতিটি বাণী ও কাজ সাহাবিগণের স্মৃতিতে সংরক্ষিত হতো। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে তাদের হাদিস মুখস্থ করার জন্য উৎসাহিত করতেন। এভাবে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবদ্দশাতেই হাদিস সংরক্ষণ শুরু হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হিজরি ৩য় শতক ছিল হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ। এ সময় হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি কিতাব সংকলিত হয়। এগুলোকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ বলা হয়। বিশুদ্ধ ৬টি হাদিস গ্রন্থ হলো- ১. বুখারি, ২. মুসলিম, ৩. তিরমিযি, ৪. নাসাই, ৫. আবু দাউদ, ৬. ইবনে মাজাহ্। মূলত এ ৬টি হাদিস গ্রন্থের মাধ্যমে প্রায় সকল হাদিস সংকলন করা হয়। তাই এসময়কে হাদিস সংকলের স্বর্ণযুগ বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি গ্রন্থকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়ে থাকে। রাসুল (সা.)-এর সময় থেকেই রাসুল (সা.)-এর জীবনী ও তাঁর বাণীসমূহ বিভিন্নভাবে সংরক্ষিত হয়ে আসছিল। হিজরি তৃতীয় শতক ছিল হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ। এসময় হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি গ্রন্থ যেগুলো সিহাহ সিত্তাহ নামে পরিচিত তা লিখিত হয়। সিহাহ সিত্তার গ্রন্থগুলো হলো- ১. সহিহ বুখারি, ২. সহিহ মুসলিম, ৩. সুনানে নাসাই, ৪. সুনানে আবু দাউদ, ৫. জামি তিরমিযি ও ৬. সুনানে ইবনে মাজাহ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা কুরআন মজিদে বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। আর মহানবি (স.) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে এসব বিধিবিধান ও বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর আমি আপনার প্রতি কুরআন নাজিল করেছি, মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে।" (সূরা আন-নাহল: ৪৪) অতএব বলা যায়, যেহেতু। সুন্নাহ বা হাদিস হলো পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা। সুন্নাহ বা হাদিসকে আল-কুরআনের পরিপূরকও বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হাদিস বা সুন্নাহ হলো আল-কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। আর মহানবি (স.) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে এসব বিধিবিধান ও বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। অতএব, কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে হাদিসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শরিয়তের অন্যতম দুটি উৎস হলো কুরআন ও হাদিস। কুরআনের ব্যাখ্যা হলো হাদিস। কুরআনের অনেক বিধানের ব্যাপারে সংক্ষেপে বলা হয়েছে। আর হাদিস এসকল বিধান বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে। এজন্য কুরআনের সঠিক মর্ম অনুধাবন করতে হলে হাদিস প্রয়োজন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
No explanation available yet.
No explanation available yet.
উত্তরঃ

যেসব ফরজ বিধান সকলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক
তাকে ফরজে আইন বলে। অর্থাৎ যেসব ফরজ কাজ ব্যক্তিগতভাবে সকল মুসলমানকেই আদায় করতে হয় তা-ই ফরজে আইন। যেমন- দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, রমযান মাসে রোযা রাখা, এসব কাজ প্রত্যেক ব্যক্তিকেই নিজে আদায় করতে হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

ফরজে কিফায়া হলো সামষ্টিকভাবে ফরজ কাজ। অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানের ওপর ফরজ, কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে ফেলে তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। কিছু লোকের আদায় করার দ্বারা সমাজের বাকি সবাই সে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পায়। তবে যদি সমাজের কেউই আদায় না করে তবে। সকলেই গুনাহগার হবে। যেমন- জানাযার সালাত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

জানাযার সালাত হলো ফরজে কিফায়া বা সমষ্টিগতভাবে ফরজ কাজ। কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে ঐ এলাকার সবার উপরে তার জানাযার সালাত আদায় করা ফরজ। সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি জানাযার সালাত আদায় করে তবে সকলেই এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করবে। কিন্তু কেউই আদায় না করলে সকলেই ফরজ ত্যাগের জন্য গুনাহগার হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নত অর্থ পথ, পন্থা, রীতি, নিয়ম, পদ্ধতি ইত্যাদি। পরিভাষায় মহানবি (স.) থেকে যে সমস্ত কাজ ইসলামি শরিয়তের বিধান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে সেগুলোকে বলা হয় সুন্নত। অর্থাৎ যেসব কাজ মহানবি (স.) নিজে করেছেন বা যা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন কিংবা অনুমোদন করেছেন তাকে সুন্নত বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

সুন্নাতে যায়িদাহ হলো অতিরিক্ত সুন্নত। পরিভাষায়, যেসব কাজ নবি (স.) করেছেন বলে প্রমাণিত তবে তিনি সর্বদা তা পালন করতেন না, বরং কখনো করতেন আবার কখনো ছেড়ে দিতেন এসব কাজকে সুন্নাতে যায়িদাহ বলা হয়। নবি (স.) এরূপ কাজ করার জন্য উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি তাগিদ করেননি এবং তা না করলে গুনাহ হয় না।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যে সকল কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন। অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদহ বলে। যেমন- আযান ও ইকামত দেওয়া, ফজরের ফরজ সামায়ের পূর্বে দুই রাকাআত, যোহারের ফরজের পূর্বে চার রাকাআত ও পরে দুই রাকাআত, মাগরিব ও এশার ফরজের পর দুই  রাকাআত নামায আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ওয়াজিবের কাছাকাছি। এগুলো পালন করা কর্তব্য। ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলাবশত বিনা কারণে এগুলো পালন না করলে গুনাহ হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মুস্তাহাব অর্থ পছন্দনীয়। যেসব কাজের প্রতি রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং তা করলে নেকি পাওয়া যাবে, কিন্তু না করলে গুনাহ হবে না সেসব কাজকে শরিয়তে মুস্তাহাব বলে। মুস্তাহাবকে নফল বা মানদুবও বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

যেসব কাজ করলে কোনোরূপ সওয়াব নেই, আবার না করলে কোনোরূপ গুনাহও হয় না এরূপ কাজকে মুবাহ বলা হয়। মানুষ ইচ্ছা করলে এরূপ কাজ করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে তা না-ও করতে। পারে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হালাল অর্থ বৈধ, সিদ্ধ, আইনানুগ বা অনুমোদিত বিষয়। ইসলামি পরিভাষায় যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়। হারাম হলো হালালের বিপরীত। হালাম অর্থ নিষিদ্ধ, মন্দ, অপবিত্র ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় যেসব কাজ বা বন্ধু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হালাল অর্থ বৈধ, সিদ্ধ, আইনানুগ বা অনুমোদিত বিষয়। এছাড়া পবিত্র, গ্রহণযোগ্য ইত্যাদি অর্থেও হালাল শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ইসলামি পরিভাষায় যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়। হালাল কথা, কাজ বা বস্তু সবই হতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

হারাম অর্থ নিষিদ্ধ, মন্দ, অসংগত, অপবিত্র ইত্যাদি। সেসব কাজ বা বস্তু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে ইসলামি পরিভাষায় হারাম বলা হয়। হারাম মানুষকে অকল্যাণ ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কোনো কোনো হারাম দ্রব্যের মধ্যে এমন উপাদান থাকে যা মানুষের মন, মস্তিষ্ক ও শরীরের জন্য চরম ক্ষতিকর। এটা মানব চরিত্রের সৎগুণাবলি নষ্ট করে দেয়। মানুষ ইবাদতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং তার ইবাদত ও দোয়া কবুল হয় না। তাই হারাম বর্জনীয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা সকল কিছুর স্রষ্টা। তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন তাঁর সৃষ্টির জন্য বিশেষ করে মানুষের জন্য কোনটা উপকারী ও কোনটা অপকারী। যেসব দ্রব্য ও বিষয় মানুষের জন্য কল্যাণকর আল্লাহ তায়ালা তা হালাল করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর।" (সূরা আল-বাকারা: ১৬৮) হালাল বস্তু গ্রহণ করার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত গ্রহণ করে এবং সর্বোচ্চ কল্যাণপ্রাপ্ত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
উত্তরঃ

মানুষের জন্য কল্যাণকর দ্রব্য ও বিষয় আল্লাহ তায়ালা হালাল করে দিয়েছেন। হালাল ও পবিত্র দ্রব্য মানুষের দেহ ও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখে। অন্তরে নূর সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ অন্যায় ও অসৎ চরিত্রকে ঘৃণা করতে থাকে। মানুষ সৎগুণসম্পন্ন হয়ে গড়ে ওঠে। বস্তুত হালাল খাদ্য মানুষের মধ্যে পবিত্রভাব ও আত্মশুদ্ধির উদ্রেক করে। ফলে দুনিয়া ও আখিরাতে প্রভূত কল্যাণপ্রাপ্ত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
6 months ago
72

দ্বিতীয় অধ্যায়

শরিয়তের উৎস

ইসলাম শুধু একটি ধর্মই নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা । এটি সর্বজনীন ও সর্বকালীন বিধি-বিধানের সমষ্টি । বিশ্বাসগত বিষয়গুলোর পাশাপাশি মানবজীবনের আচরণগত সমস্ত দিকও ইসলামে আলোচনা করা হয়েছে । আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির সার্বিক কল্যাণের জন্য নানা বিধি-বিধান ও আচার-আচরণগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন । মহান আল্লাহ প্রদত্ত এসব বিধি-বিধানকেই শরিয়ত বলা হয় । আল্লাহ তায়ালা ও মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) -এর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, সকল কাজে তাঁদের আনুগত্য করা, শরিয়তের অন্যতম দাবি । এগুলোর পরিপূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক সফলতা লাভ করা যায় । এ অধ্যায়ে আমরা ইসলামি শরিয়তের পরিচয় ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানব । পাশাপাশি শরিয়তের উৎসগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা লাভ করব । এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

  • শরিয়ত ও শরিয়তের উৎসের ধারণা এবং প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব;
  • কুরআন ও হাদিসের সংরক্ষণ ও সংকলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা করতে পারব;
  • মক্কি ও মাদানি সূরার সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
  • কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে পারব; নির্বাচিত সূরাগুলো শুদ্ধভাবে মুখস্থ বলতে পারব;
  • নির্বাচিত সূরাগুলোর অর্থ ও পটভূমিসহ (শানে নুযুল) শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব;
  • কুরআনের নির্বাচিত সূরাগুলোর শিক্ষা নিজ জীবনে প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ হব;
  • নির্বাচিত দশটি হাদিসের অর্থ ও শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব;
  • ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অর্জনের ক্ষেত্রে হাদিসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • নির্বাচিত হাদিসসমূহের শিক্ষার আলোকে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনে অনুপ্রাণিত হব;
  • ইজমা এর পরিচয় ও উৎপত্তি সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • কিয়াস এর ধরন বর্ণনা করতে পারব;
  • শরিয়তের বিভিন্ন পরিভাষা সম্পর্কে আলোচনা করতে পারব ।

পাঠ ১

পরিচয়

শরিয়ত

শরিয়ত আরবি শব্দ । এর অর্থ পথ, রাস্তা । এটি জীবনপদ্ধতি, আইন-কানুন, বিধি-বিধান অর্থেও ব্যবহৃত হয় । ব্যাপক অর্থে শরিয়ত হলো এমন সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট পথ, যা অনুসরণ করলে মানুষ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নিজ

 

 

 

গন্তব্যে পৌছতে পারে । ইসলামি পরিভাষায় ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতিকে শরিয়ত বলা হয় । অন্যকথায়, ইসলামি আইন-কানুন বা বিধি-বিধানকে একত্রে শরিয়ত বলা হয় । অর্থাৎ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব আদেশ-নিষেধ ও পথনির্দেশনা মানুষকে জীবন পরিচালনার জন্য প্রদান করেছেন তাকে শরিয়ত বলে । শরিয়ত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

ثُمَّ جَعَلْنَكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ

অর্থ : “অতঃপর আমি আপনাকে শরিয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি । সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন। আর আপনি অজ্ঞদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না ।” (সূরা আল-জাসিয়া, আয়াত ১৮) শরিয়তের বিষয়বস্তু ও পরিধি

শরিয়তের বিষয়বস্তু ও পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক । এটি হলো মানবজাতির জন্য সার্বিক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।

মানব জীবনের সকল বিষয়ের বিধি-বিধান ও নির্দেশনা এতে বিদ্যমান । এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন- الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

অর্থ : “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত

পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে মনোনীত করলাম ।” (সূরা আল-মায়িদা,

আয়াত ৩)

সুতরাং বোঝা গেল যে, ইসলামি শরিয়তের বিষয়বস্তু ও পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। মুসলিম মনীষীগণ শরিয়তের বিষয়বস্তুকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন । যথা-

ক. আকিদা বা বিশ্বাসগত বিধি-বিধান ।

খ. নৈতিকতা ও চরিত্র সংক্রান্ত রীতি-নীতি ।

গ. বাস্তব কাজকর্ম সংক্রান্ত নিয়মকানুন ।

বস্তুত মানুষের সবধরনের আচার-আচরণ, চিন্তা-চেতনা উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের আওতাভুক্ত । ফলে মানুষের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সকল কাজই শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত । শরিয়তের নির্দেশনার বাইরে কোনো কাজই নেই ।

শরিয়তের গুরুত্ব

মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম । শরিয়ত হলো মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রদত্ত আদেশ-ি গ-নিষেধ ও বিধি- বিধান । সুতরাং শরিয়ত মেনে চললে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল খুশি হন । অন্যদিকে, শরিয়ত অস্বীকার করা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করার নামান্তর । কোনো মুসলমান এরূপ কাজ করতে পারে না। এমনকি শরিয়তের এক অংশ পালন করা আর অন্য অংশ অস্বীকার করাও মারাত্মক

 

 

 

 

পাপ (কুফর) । যে ব্যক্তি এরূপ করে তার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে । আল্লাহ তায়ালা বলেন, কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর, আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান কর? তোমাদের যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল হলো পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা । আর কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে ।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৮৫) “তবে

শরিয়ত হলো জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা। এর দ্বারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইসলামি বিধি-নিষেধ জানা যায় ।

কোনটি হালাল, কোনটি হারাম ইত্যাদি জানা যায় । ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ইত্যাদি বিষয়ের জ্ঞানও শরিয়তের শিক্ষার মাধ্যমেই লাভ করা যায় । উত্তম চরিত্র ও নৈতিকতার নানা শিক্ষাও শরিয়তে বিবৃত রয়েছে । সুতরাং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনার জন্য শরিয়ত অপরিহার্য ।

তাছাড়া শরিয়ত আমাদের ইবাদতের পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেয়। সালাত, যাকাত, সাওম, হজ ইত্যাদি কীভাবে, কোথায়, কোন সময়ে আদায় করতে হয় তাও শরিয়তের বর্ণনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি । আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জনের উপায়, পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতি ইত্যাদিও শরিয়তের আওতাভুক্ত । অতএব, মানুষের সার্বিক জীবনাচরণে শরিয়তের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

শরিয়তের উৎসসমূহ

শরিয়ত হলো ইসলামি জীবনপদ্ধতি । এটি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলের আদেশ-নিষেধ ও দিকনির্দেশনার সমষ্টি । অতএব, শরিয়ত এর প্রধান উৎস দুটি । যথা- আল-কুরআন ও আল-হাদিস বা সুন্নাহ ।

পরবর্তীতে কুরআন ও সুন্নাহ এর স্বীকৃতি ও নির্দেশনার ভিত্তিতে শরিয়তের আরও দুটি উৎস নির্ধারণ করা

হয় । এগুলো হলো ইজমা ও কিয়াস । সুতরাং আমরা বলতে পারি- শরিয়ত এর উৎস চারটি । যথা-

১. আল-কুরআন (الْقُرْآنُ)

২. সুন্নাহ 

৩. ইজমা 

৪. কিয়াস 

আমরা পর্যায়ক্রমে শরিয়তের এ চারটি উৎস সম্পর্কে জানব ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা ইসলামি শরিয়তের পরিচয় ও গুরুত্ব সম্পর্কে ১০টি বাক্য নিজ খাতায় বাড়ি থেকে লিখে এনে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করবে।

 

 

 

পাঠ ২

শরিয়তের প্রথম উৎস : আল-কুরআন

শরিয়তের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান উৎস হলো আল-কুরআন । ইসলামি শরিয়তের সকল বিধি-বিধানের মূল উৎসই আল- কুরআন । এর উপরই ইসলামি শরিয়তের ভিত্তি ও কাঠামো প্রতিষ্ঠিত । আল-কুরআন শরিয়তের অকাট্য ও প্রামাণ্য দলিল। মানব জীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের সমাধানসূচক মূলনীতি ও ইঙ্গিত আল-কুরআনে বিদ্যমান। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَبَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ

অর্থ : “আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ ।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত ৮৯)

আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী । এটি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব । আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপর এ কিতাব নাজিল করেন । এ কিতাব আরবি ভাষায় নাজিলকৃত । ইসলামি শরিয়তের প্রধান উৎস হিসেবে আল-কুরআনে মানবজাতির জীবন পরিচালনার সুস্পষ্ট মূলনীতি ও নির্দেশনা বিদ্যমান । আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَلَقَدْ صَرَفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ ن

অর্থ : “আর অবশ্যই আমি মানুষের জন্য এ কুরআনে বিভিন্ন উপমা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি ।” (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৮৯)

কুরআন মজিদ সহজ ও সাবলীল ভাষায় নাজিলকৃত । এতে কোনোরূপ অস্পষ্টতা, বক্রতা, কিংবা জটিলতা নেই । বরং এতে খুবই সুন্দর ও সরল ভাষায় নানা বিষয়ের বর্ণনা করা হয়েছে । অতি সাধারণ মানুষও এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে । আল্লাহ তায়ালা বলেন-

فَإِنَّمَا يَشَرْنَهُ بِلِسَانِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ

অর্থ : “আমি তো কুরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে ।” (সূরা আদ-দুখান, আয়াত ৫৮)

অবতরণ

আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার কালাম । এটি 'লাওহে মাহফুজ' বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ । এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَّجِيدٌ هُ فِي لَوْحٍ مَّحْفُوظة

অর্থ : “বস্তুত এটি সম্মানিত কুরআন । সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ ।” (সূরা আল-বুরূজ, আয়াত ২১-২২)

 

 

 

 

আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম কদরের রাতে গোটা কুরআন মজিদ লাওহে মাহফুজ থেকে ‘বায়তুল ইযযাহ’ নামক স্থানে নাজিল করেন । বায়তুল ইযযাহ হলো প্রথম আসমানের একটি বিশেষ স্থান ।

মহানবি (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ.) আল-কুরআনের সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে তথায় মহানবি (স.)-এর নিকট অবতরণ করেন । এটাই ছিল দুনিয়াতে আল-কুরআনের প্রথম নাজিলের ঘটনা। এরপর বিভিন্ন সময় ও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানবি (স.)-এর প্রতি কুরআন নাজিল হয় ।

এভাবে মহানবি (স.)-এর জীবদ্দশায় মোট ২৩ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন নাজিল হয় । এটি একসাথে নাজিল হয়নি । বরং অল্প অল্প করে প্রয়োজনানুসারে নাজিল হতো । কখনো ৫ আয়াত, কখনো ১০ আয়াত, কখনো আয়াতের অংশবিশেষ, আবার কখনো একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা একসাথে নাজিল হতো । আল্লাহ তায়ালা এ প্রসঙ্গে বলেন-

وَقُرْ انَّا فَرَقْنَهُ لِتَقْرَاهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَهُ تَنْزِيلًاه

অর্থ : “আর আমি খণ্ড-খণ্ডভাবে কুরআন নাজিল করেছি যাতে আপনি তা মানুষের নিকট ক্রমে ক্রমে পাঠ করতে পারেন আর আমি তা ক্রমশ নাজিল করেছি ।” (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ১০৬)

অন্যান্য আসমানি কিতাবের ন্যায় আল-কুরআন একসাথে নাজিল করা হয়নি । তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ইত্যাদি একসাথে পূর্ণাঙ্গ আকারে নাজিল করা হয়েছিল। কিন্তু আল-কুরআন এর ব্যতিক্রম । এটি আল-কুরআনের বিশেষ মর্যাদার পরিচায়ক । মক্কার কাফিররা এ সম্পর্কে রাসুল (স.)-কে প্রশ্ন করলে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “কাফিররা বলে, তাঁর উপর সমগ্র কুরআন একবারে অবতীর্ণ হলো না কেন? আমি এভাবেই অবতীর্ণ করেছি আপনার হৃদয়কে তার দ্বারা মজবুত করার জন্য এবং আমি তা ক্রমে ক্রমে স্পষ্টভাবে আবৃত্তি করেছি ।” (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৩২)

আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী । জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা অল্প অল্প করে মহানবি (স.)-এর ২৩ বছরের নবুওয়াতি জীবনে পূর্ণরূপে নাজিল করেন ।

পাঠ ৩

আল-কুরআন সংরক্ষণ ও সংকলন

আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব । কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের সার্বিক জীবনবিধান ও দিকনির্দেশনা এতে বিদ্যমান । সুতরাং এর সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । মহান আল্লাহ স্বয়ং এর সংরক্ষণের ভার গ্রহণ করেছেন । তিনি ঘোষণা করেন-

انا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِكرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَفِظُونَ

অর্থ : “আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্য আমিই এর সংরক্ষক ।” (সূরা আল-হিজর, আয়াত ৯)

 

 

 

 

আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং আল-কুরআনের সংরক্ষক । তিনি তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ কিতাব সংরক্ষণ করেন । এজন্যই আজ পর্যন্ত এ কিতাবের একটি হরফ (অক্ষর), হরকত বা নুকতারও পরিবর্তন হয়নি । এটি যেভাবে নাজিল হয়েছিল আজও ঠিক সেভাবেই বিদ্যমান । আর কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে ।

আল-কুরআন সংরক্ষণ

আল-কুরআন আরব দেশে মহানবি (স.)-এর উপর নাজিল হয় । এ সময় মহানবি (স.) সাথে সাথে নাজিলকৃত আয়াত মুখস্থ করে নিতেন । এরপর বারবার তিলাওয়াতের মাধ্যমে তা স্মৃতিতে ধরে রাখতে চেষ্টা করতেন । আল-কুরআন মুখস্থকরণে রাসুল (স.)-এর দ্রুতপাঠ ও ব্যাকুলতা দেখে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সান্ত্বনা দেন । আল্লাহ তায়ালা বলেন-

لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلْ بِهِ أَ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ 8

অর্থ : “তাড়াতাড়ি ওহি আয়ত্ত করার জন্য আপনি দ্রুত আপনার জিহ্বা তাঁর সাথে সঞ্চালন করবেন না ।:

এটা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই ।” (সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত ১৬-১৭) এরপর রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ব্যাকুলতা দূরীভূত হয় এবং তিনি সহজেই কুরআনের আয়াতগুলো মুখস্থ

করে সংরক্ষণ করতে লাগলেন ।

আল-কুরআন নাজিল হলে রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিগণকেও তা মুখস্থ করতে বলতেন । সাহাবিগণ তা মুখস্থ করতেন, দিনরাত তিলাওয়াত করতেন, নামাযে পাঠ করতেন এবং পরিবার-পরিজন, স্ত্রী-সন্তান ও বন্ধু-বান্ধবদেরও মুখস্থ করাতেন । গভীর রাতে তাঁদের ঘর থেকে কুরআন তিলাওয়াতের গুনগুন আওয়াজ শোনা যেত । অনেক সময় রাসুলুল্লাহ (স.) স্বয়ং তাঁদের গৃহপার্শ্বে গিয়ে তিলাওয়াত শুনতেন ।

কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দেওয়ার জন্য নবি করিম (স.) সাহাবিগণকে নানা স্থানে প্রেরণ করতেন । যেমন হিজরতের পূর্বে তিনি হযরত মুসআব ইবনে উমায়র (রা.) ও আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-কে কুরআন শিক্ষাদানের জন্য মদিনায় প্রেরণ করেন ।

এভাবে মুখস্থ করার মাধ্যমে আল-কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষণ করা হয় । উল্লেখ্য, তৎকালীন আরবদের স্মৃতিশক্তি ছিল খুবই তীক্ষ্ণ । তারা কোনো জিনিস শিখলে তা আর কখনো ভুলত না । ফলে এ অসাধারণ স্মরণশক্তির কারণে পবিত্র কুরআন সহজেই তাদের স্মৃতিতে সংরক্ষিত হয় ।

এছাড়া সেসময় লিখিতভাবেও আল-কুরআন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় । আরবদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক লোকই ছিল শিক্ষিত । তা ছাড়া সেসময় লেখার উপকরণও ছিল দুষ্প্রাপ্য। এজন্য সেসময় আল-কুরআন একত্রে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়নি । তবে আল-কুরআনের কোনো অংশ বা আয়াত নাজিল হলে সাথে সাথেই লিখে রাখা হতো । খেজুর গাছের ডাল, পশুর চামড়া ও হাড়, পাথর, গাছের পাতা ইত্যাদি ছিল তখনকার লেখনীর উপকরণ । সাহাবিগণ এগুলোতেই আল-কুরআনের আয়াত লিখে তা সংরক্ষণ করতেন ।

যেসব সাহাবি লেখাপড়া জানতেন তাঁরা প্রায় সকলেই কুরআন লিখার মর্যাদা লাভ করেছিলেন । আল-কুরআন লিপিবদ্ধকারী সাহাবিগণকে বলা হয় কাতিবে ওহি বা ওহি লেখক । তাঁরা ছিলেন সংখ্যায় মোট

 

 

 

 

৪২ জন । এঁদের মধ্যে প্রধান ছিলেন হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)। এছাড়াও হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), হযরত উমর ফারুক (রা.), হযরত উসমান (রা.), হযরত আলি (রা.), হযরত মুআবিয়া (রা.), হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রা.), হযরত মুগিরা ইবনে শু'বা (রা.), হযরত আমর ইবনে আস (রা.), হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.), হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আরকাম (রা.), হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) প্রমুখ ছিলেন উল্লেখযোগ্য । এঁদের কেউ না কেউ সদা সর্বদা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সঙ্গে থাকতেন এবং কুরআনের কোনো অংশ বা আয়াত নাজিল হলে সাথে সাথে তা লিখে নিতেন । এভাবে লেখনীর মাধ্যমেও আল-কুরআনকে সংরক্ষণ করা হয় । 

আল-কুরআন সংকলন

মহানবি (স.)-এর সময়ে আল-কুরআন মুখস্থ ও লেখনীর মাধ্যমে পুরোপুরি সংরক্ষণ করা হয় । কিন্তু সে সময় তা একত্রে গ্রন্থাবদ্ধ করা হয়নি । বরং তাঁর তত্ত্বাবধানে লিপিবদ্ধ টুকরোগুলো নানাজনের নিকট সংরক্ষিত ছিল । হযরত আবু বকর (রা.)-ই সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন ।

হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা । তাঁর সময়ে নবুয়তের কতিপয় মিথ্যা দাবিদার বা ভণ্ড নবি ও যাকাত অস্বীকারকারীর আবির্ভাব ঘটে । তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন । এরূপই একটি যুদ্ধ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধ । এটি মুসায়লিমা কাযযাব নামক ভণ্ড নবির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় । এ যুদ্ধে বহুসংখ্যক কুরআনের হাফিয সাহাবি শাহাদাত বরণ করেন। এতে হযরত উমর (রা.) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন । তিনি ভাবলেন যে, এভাবে হাফিয সাহাবিগণ শাহাদাত বরণ করতে থাকলে একসময় কুরআন মুখস্থকারী লোকই খুঁজে পাওয়া যাবে না । ফলে কুরআন বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দেবে । সুতরাং তিনি হযরত আবু বকর (রা.)-কে কুরআন সংকলন করে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দান করেন । পরামর্শ শ্রবণে হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, হে উমর! রাসুলুল্লাহ (স.) যে কাজ করে যাননি তা আপনি কীভাবে করতে চাচ্ছেন? হযরত উমর (রা.) বললেন, আল্লাহর শপথ! এতে কল্যাণ রয়েছে । এভাবে হযরত উমর (রা.)- বারবার অনুরোধ করায় হযরত আবু বকর (রা.) কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন । তিনি প্রধান ওহি লেখক সাহাবি হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)-কে এ গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন। হযরত যায়দ (রা.) কুরআন সংকলনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নিম্নোক্ত চারটি পন্থা অবলম্বন করেন :

ক. হাফিয সাহাবিদের তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রতিটি আয়াতের বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতা যাচাইকরণ ।

খ. হযরত উমর (রা.)-এর হিফযের সাথে মিলিয়ে আয়াতের বিশুদ্ধতা যাচাইকরণ । গ. রাসুলুল্লাহ (স.)-এর উপস্থিতিতে লিখিত হওয়ার ব্যাপারে ন্যূনতম দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ।

গ. চূড়ান্তভাবে লিখিত আয়াতগুলো অন্যান্য সাহাবির সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা ও যাচাইকরণ ।

এভাবে চরম সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.) পবিত্র কুরআন সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে সংকলন করেন । এটাই ছিল সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ আল-কুরআন । কুরআনের এ কপিটি হযরত আবু বকর (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত ছিল । তাঁর ইন্তিকালের পর এটি হযরত উমর (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত ছিল । হযরত উমর (রা.)-এর শাহাদাতের পর পবিত্র কুরআনের এ পাণ্ডুলিপিটি তাঁর কন্যা, উম্মুল মুমিনিন হযরত হাফসা (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত ছিল ।

 

 

 

 

 

তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে নানা মতানৈক্য দেখা দেয় । এর মূল কারণ ছিল বিভিন্ন গোত্রীয় রীতিতে কুরআন পাঠ । মহানবি (স.) সহজ করণার্থে আরবদের ৭টি রীতিতে কুরআন পাঠ করার অনুমতি দিয়েছিলেন । আরবগণ এ ৭টি রীতিতে পাঠের বিষয়টি জানতেন বলে প্রথমদিকে কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু ইসলামি খেলাফতের ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে অনারবগণ মুসলমান হতে লাগল । তারা আরবি ভাষার এসব আঞ্চলিক রীতিসমূহ সম্পর্কে সচেতন ছিল না । ফলে ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠে তাদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় । এমনই এক ঘটনা ঘটে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান অঞ্চলে জিহাদের সময়। এ সময় ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠে মুসলমানদের মধ্যে ঝগড়ার সূত্রপাত ঘটে । হযরত হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান (রা.) ঘটনাটি খলিফা হযরত উসমান (রা.)-কে অবহিত করেন । এমতাবস্থায় হযরত উসমান (রা.) প্রধান সাহাবিগণের পরামর্শক্রমে কুরআন সংকলনের জন্য চারজন সাহাবির একটি বোর্ড গঠন করেন। এঁরা ছিলেন হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.),সাঈদ ইবনে আস (রা.) এবং আব্দুর রহমান ইবনে হারিস (রা.) । এ বোর্ডের নেতৃত্ব হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.) এর উপর ন্যস্ত করা হয় ৷

হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.) সর্বপ্রথম হযরত হাফসা (রা.)-এর নিকট থেকে কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে আসেন এবং এ থেকে আরও সাতটি কপি তৈরি করেন । অনুলিপি তৈরিতে সাহাবিগণ হাফিযগণের কেরাতের সাথে মিলিয়ে পুনরায় এর নির্ভুলতা যাচাই করতেন । অতঃপর মূল কপিটি হযরত হাফসার (রা.) নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তৈরি অনুলিপিগুলোর একটি খলিফার নিকট কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হয় আর বাকিগুলো বিভিন্ন শাসনকেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয় । ফলে আল-কুরআন বিকৃতি ও গরমিলের হাত থেকে রক্ষা পায় । এরপর বিক্ষিপ্তভাবে রক্ষিত কপিগুলো একত্র করে তা পুড়িয়ে বিনষ্ট করে ফেলা হয়। এভাবে হযরত উসমান (রা.)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আল-কুরআন সংকলিত হয় । এ মহান কাজের জন্য তাঁকে ‘জামিউল কুরআন' বা কুরআন একত্রকারী (সংকলক) বলা হয় ।

কুরআনের এ সংকলনসমূহে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নির্দেশনার কোনোরূপ পরিবর্তন করা হয়নি। বরং রাসুলুল্লাহ (স.) যেভাবে কোন আয়াতের পর কোন আয়াত হবে বলে গেছেন সেভাবেই সংকলন করা হয়। এভাবে সূরাসমূহেও রাসুলুল্লাহ (স.) বর্ণিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সাজানো হয় । বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই রাসুলুল্লাহ (স.)-কে এরূপ ধারাবাহিকতা শিক্ষা দিয়েছিলেন । জিবরাইল (আ.) যখনই কোনো আয়াত নিয়ে আসতেন তখনই ঐ আয়াত কোন সূরার কোথায় স্থাপন করতে হবে তা বলে দিতেন । সে অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (স.) ও সাহাবিগণের দ্বারা লিখিয়ে নিতেন । পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরিতে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয় । ফলে লাওহে মাহফুজে যেভাবে কুরআন বিন্যস্ত রয়েছে বর্তমান কুরআন মজিদও ঠিক সে বিন্যাসেই বিদ্যমান রয়েছে ।

হযরত উসমান (রা.)-এর সময়ে তৈরিকৃত কুরআনের পাণ্ডুলিপিতে হরকত বা স্বরচিহ্ন ছিল না। ফলে অনারব মুসলমানগণ কুরআন তিলাওয়াতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হন । ইরাকের উমাইয়া বংশীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ পবিত্র কুরআনে হরকত সংযোজন করে এ অসুবিধা দূর করেন । বস্তুত এটা কুরআনে কোনো নতুন সংযোজন নয়। বরং আগে হরকতসহ পড়া হলেও তা লিখা হতো না । কেননা আরবগণ এমনিই তা বুঝতে পারতেন । হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ উচ্চারিত এসব হরকতসমূহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করে দেখিয়ে দেন মাত্র । ফলে অনারবগণের জন্যও কুরআন তিলাওয়াতের বাধা অপসারিত হয় ।

 

 

 

 

উল্লেখ্য, পরবর্তী সময়ে পবিত্র কুরআন আরও নবতর ও সহজ উপায়ে সংকলন করা হয় । মুদ্ৰণ যন্ত্ৰ আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত হাতের লিখার মাধ্যমেই আল-কুরআন সংকলন করা হতো । মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের পরবর্তীতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আল-কুরআনের লক্ষ লক্ষ কপি মুদ্রণ করা হতে থাকে । এমনকি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ভাষায় এর অনুবাদ ও ব্যাখ্যা-গ্রন্থও প্রকাশিত হয় ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা আল-কুরআন সংরক্ষণ ও সংকলন সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ বাড়ি থেকে লিখে নিয়ে আসবে।

পাঠ ৪

মক্কি ও মাদানি সূরা

আল-কুরআন সর্বমোট ৩০টি অংশে বিভক্ত । এ অংশগুলোকে পারা বলা হয় । কুরআন মজিদে রয়েছে ১১৪টি সূরা এবং ৬২৩৬টি মতান্তরে ৬৬৬৬টি আয়াত । অবতরণের সময় বিবেচনায় কুরআন মজিদের সূরাসমূহ ২ ভাগে বিভক্ত । যথা- মক্কি ও মাদানি । নিম্নে এ সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো ।

মক্কি সূরা

সাধারণভাবে বলা যায়, পবিত্র মক্কা নগরীতে আল-কুরআনের যেসব সূরা নাজিল হয়েছে সেগুলো মক্কি সূরা । প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, মহানবি (স.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পূর্বে নাজিল হওয়া সূরাসমূহকে মক্কি সূরা বলা হয় ।

এ প্রসঙ্গে ইয়াহইয়া ইবনে সালাম বলেন, “মহানবি (স.)-এর হিজরত কালে মদিনায় গমনের পথে মদিনায় পৌঁছার পূর্বপর্যন্ত যা নাজিল হয় তাও মক্কি সূরা ।”

আল-কুরআনে মক্কি সূরার সংখ্যা মোট ৮৬টি ।

মক্কি সূরার বৈশিষ্ট্য

১. মক্কি সূরাসমূহে তাওহিদ ও রিসালাতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে ।

২. মৃত্যুর পরবর্তী জীবন কিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম তথা আখিরাতের বর্ণনা এসব সূরায় প্রাধান্য লাভ করেছে।

৩. শিরক-কুফরের পরিচয় বর্ণনা করে এগুলোর অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে ।

৪. মুশরিক ও কাফিরদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে । ৫. এতে পূর্ববর্তী মুশরিক ও কাফিরদের হত্যাযজ্ঞের কাহিনী, ইয়াতীমদের সম্পদ হরণ করা, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া ইত্যাদি কুপ্রথা ও কু-আচরণের বিবরণ রয়েছে।

 

 

 

 

৬. পূর্ববর্তী নবি-রাসুলগণের সফলতা ও তাঁদের অবাধ্যদের শোচনীয় পরিণতির বর্ণনা রয়েছে ।

৭. এ সূরাগুলোতে শরিয়তের সাধারণ নীতিমালার উল্লেখ রয়েছে ।

৮. এতে উত্তম চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা করা হয়েছে ।

৯. এ সূরাসমূহ সাধারণত আকারে ছোট এবং আয়াতগুলোও তুলনামূলকভাবে ছোট । ১০. এর শব্দমালা শক্তিশালী, ভাবগম্ভীর ও অন্তরে প্রকম্পন সৃষ্টিকারী ।

১১. এতে প্রসিদ্ধ বিষয়সমূহ শপথের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে ।

মাদানি সূরা

সাধারণ ভাষায় বলা যায়, মদিনাতে নাজিল হওয়া সূরাগুলো মাদানি সূরা । তবে প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, মহানবি (স.)-এর মদিনায় হিজরতের পর নাজিল হওয়া সকল সূরাকে মাদানি সূরা নামে আখ্যায়িত করা হয় ।

ইয়াহইয়া ইবনে সালাম বলেন, “মহানবি (স.)-এর মদিনায় হিজরতের পর মদিনার বাইরে সফরে থাকাবস্থায় নাজিল হওয়া সূরাসমূহও মাদানি সূরা।” অর্থাৎ হিজরতের পর নাজিল হওয়া সকল সূরাই মাদানি সূরা । মাদানি সূরা মোট ২৮টি।

মাদানি সূরার বৈশিষ্ট্য

১. মাদানি সূরাসমূহে আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের প্রতি ইসলামের আহ্বান জানানো হয়েছে ।

২. এতে আহলে কিতাবের পথভ্রষ্টতা ও তাদের কিতাব বিকৃতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে ।

৩. এ সূরাসমূহে নিফাকের পরিচয় ও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ।

৪. ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে । ৫. পারস্পরিক লেনদেন, উত্তরাধিকার আইন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয়সহ যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিধান বর্ণিত হয়েছে ।

৬. বিচার ব্যবস্থা, দণ্ডবিধি, জিহাদ, পররাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে ।

৭. ইবাদতের রীতিনীতি, সালাত, যাকাত, হজ, সাওম ইত্যাদি বিষয় বিবৃত হয়েছে ।

৮. শরিয়তের বিধি-বিধান, ফরজ, ওয়াজিব, হালাল-হারাম ইত্যাদির সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে ।

৯. এ সূরাগুলো ও এর আয়াতসমূহ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ ।

কাজ: শিক্ষার্থীরা মক্কি ও মাদানি সূরার বৈশিষ্ট্যগুলো লিখে একটি বড় পোস্টার বাড়িতে তৈরি করে এনে শ্রেণিতে প্রদর্শন করবে ।

 

 

 

 

পাঠ ৫

তিলাওয়াত : গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য

তিলাওয়াত শব্দের অর্থ পাঠ করা, আবৃত্তি করা, পড়া, অনুসরণ করা ইত্যাদি । আল-কুরআন পাঠ করাকে ইসলামি পরিভাষায় কুরআন তিলাওয়াত বলা হয় ।

কুরআন মজিদ মুখস্থ পড়া যায়, আবার দেখেও তিলাওয়াত করা যায়। আল-কুরআন দেখে পড়াকে নাযিরা

তিলাওয়াত বলা হয়।

কুরআন মজিদ শিখতে হলে প্রথমে দেখে দেখে তা পাঠ করতে হয়। অতঃপর হরকত, হরফ ইত্যাদি চিনে তাজবিদ সহকারে পাঠ করতে হয় । আমরা অনেকেই পুরো কুরআন মজিদ মুখস্থ করতে পারিনি । সুতরাং আমরা নিয়মিত দেখে দেখে তাজবিদসহ আল-কুরআন তিলাওয়াত করব। এভাবে দেখে দেখে কুরআন তিলাওয়াত করাও উত্তম কাজ। এতে অনেক নেকি বা সাওয়াব পাওয়া যায় ।

আল-কুরআন মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী । এটি মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। এটি হলো পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান-ভাণ্ডার। এতে যেমন তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, ইবাদত ইত্যাদি বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে, তেমনি পার্থিব জীবনের প্রয়োজনীয় নানা জ্ঞান-বিজ্ঞানের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ও নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য একজন ফরাসি পণ্ডিত যথার্থই বলেছেন, “কুরআন বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞান সংস্থা, ভাষাবিদদের জন্য শব্দকোষ, বৈয়াকরণের জন্য ব্যাকরণ গ্রন্থ এবং বিধানের জন্য একটি বিশ্বকোষ ।

সুতরাং হালকাভাবে আল-কুরআন পাঠ করলেই চলবে না। বরং একে খুবই গুরুত্বের সাথে তিলাওয়াত করতে হবে । এর মর্মার্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হবে। এতে বর্ণিত বিষয়াদি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করতে হবে। তাহলে আমরা আল-কুরআনের জ্ঞান ও শিক্ষা আয়ত্ত করতে পারব। আল্লাহ তায়ালাও চিন্তা-গবেষণা সহকারে কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তবে কি তারা কুরআন সম্বন্ধে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করে না, না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?” (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ২৪) অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “এটি কল্যাণময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিগণ (এ থেকে) উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা সা'দ, আয়াত ২৯)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন,

وَلَقَد يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِكَرِ فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍه

অর্থ : “নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?” (সূরা আল-কামার, আয়াত ২২)

অতএব, বুঝেশুনে ও চিন্তা-গবেষণা সহকারে কুরআন পড়া উচিত। এভাবে তিলাওয়াত করলে আল-কুরআনের শিক্ষা ও উপদেশ অনুধাবন করা যায় ।

 

 

 

 

 

চিন্তা-গবেষণার পাশাপাশি আল-কুরআন সহিহ-শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে পাঠ করাও অত্যাবশ্যক । কুরআন মজিদ ভুল ও অসুন্দর সুরে তিলাওয়াত করলে গুনাহ হয় । অশুদ্ধ ও অসুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করলে নামায শুদ্ধ হয় না । শুদ্ধ ও সুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করার নিয়মকে তাজবিদ বলা হয় । পূর্ববর্তী শ্রেণিসমূহে আমরা তাজবিদের নানা নিয়মকানুন জেনে এসেছি । তাজবিদসহ কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ রয়েছে । তিনি বলেন-

وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًاه

অর্থ : “আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে ।” (সূরা আল- ল-মুয্যাম্মিল, আয়াত ৪) সুন্দর সুরে কুরআন তিলাওয়াত প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন-

لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَّمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ -

অর্থ : “যে ব্যক্তি সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয় । অর্থাৎ সে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত নয় ।” (বুখারি)

বস্তুত রাসুলুল্লাহ (স.) অত্যন্ত সুন্দর সুমধুর স্বরে তাজবিদ সহকারে কুরআন তিলাওয়াত করতেন । আমরাও

শুদ্ধ ও সুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করতে চেষ্টা করব ।

কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত অত্যন্ত বেশি । এর প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতেই নেকি পাওয়া যায় । নবি করিম (স.) বলেন,

مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا -

অর্থ : “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফও পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভ করবে । আর এ নেকির পরিমাণ হলো দশ গুণ ।” (তিরমিযি)

বস্তুত, কুরআন তিলাওয়াত উত্তম ইবাদত । রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন-

أفضَلُ عِبَادَةِ أُمَّتِى قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ -

অর্থ : “আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত ।” (বায়হাকি)

কুরআন হলো নুর বা জ্যোতি। এটি তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা সমুন্নত করে । কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ হয় । মানুষ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “এই অন্তরসমূহে মরিচা ধরে যেভাবে লোহায় পানি লাগলে মরিচা ধরে । তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো : হে আল্লাহর রাসুল (স.), এর পরিশোধক কী? তিনি বললেন, মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা ।” (বায়হাকি)

 

 

 

 

প্রকৃতপক্ষে, যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার দ্বারা মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে । শুদ্ধ ও সুন্দররূপে কুরআন তিলাওয়াত করলে এবং এর মর্মার্থ বুঝে সে অনুযায়ী আমল করলে মানুষ প্রভূত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হয়। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে সূর্যের চাইতেও উজ্জ্বল মুকুট পরানো হবে ।” (আহমাদ ও আবু দাউদ) । অতএব, আমরা কুরআন তিলাওয়াতে যত্নবান হব ।

শানে নুযুল

‘শান’ শব্দের অর্থ অবস্থা, মর্যাদা, কারণ, ঘটনা, পটভূমি । আর নুযুল অর্থ অবতরণ । অতএব, শানে নুযুল অর্থ অবতরণের কারণ বা পটভূমি । ইসলামি পরিভাষায়, আল-কুরআনের সূরা বা আয়াত নাজিলের কারণ বা পটভূমিকে ‘শানে নুযুল’ বলা হয় । একে ‘সববে নুযুল’ও বলা হয় ।

আল-কুরআন মহানবি (স.)-এর প্রতি একসাথে নাজিল হয়নি । বরং নানা প্রয়োজন উপলক্ষে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে অল্প অল্প করে নাজিল হয়েছে। কোনো ঘটনার বিধান বর্ণনায় কিংবা কোনো সমস্যার সমাধানে কুরআনের অংশবিশেষ নাজিল হতো । যে ঘটনা বা অবস্থাকে কেন্দ্র করে আল-কুরআনের আয়াত বা সূরা নাজিল হতো সে ঘটনা বা অবস্থাকে ঐ সূরা বা আয়াতের শানে নুযুল বলা হয় । যেমন : রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শিশুপুত্র ইন্তিকাল করলে কাফিররা তাঁকে আবতার বা নির্বংশ বলে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে লাগল । এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা মহানবি (স.)-কে সান্ত্বনা দিয়ে সূরা আল-কাওসার নাজিল করেন । অতএব, মহানবি (স.)-এর প্রতি কাফিরদের উপহাস করার ঘটনাটি সূরা আল-কাওসারের শানে নুযুল হিসেবে পরিচিত । শানে নুযুল জানার উপকারিতা অনেক । এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

ক. এর দ্বারা শরিয়তের বিধান প্রবর্তনের রহস্য জানা যায় ।

খ. আয়াতের অর্থ, উদ্দেশ্য ও সঠিক মর্মার্থ অবগত হওয়া যায় ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে ১০টি বাক্য নিজ খাতায় লিখে শিক্ষককে দেখাবে ।

অর্থ ও পটভূমিসহ কুরআনের কতিপয় সূরা পাঠ ৬ সূরা আশ-শাম্স (

পরিচয়

সূরা আশ-শামস মক্কি সূরার অন্তর্গত । এর আয়াত সংখ্যা ১৫টি । এ সূরার প্রথম শব্দ শামস থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে আশ-শামস । এটি আল-কুরআনের ৯১তম সূরা ।

 

 

 

 

 

 

আয়াতগুলোতে বর্ণিত বিষয়ের তাগিদ করেছেন। সূরার দ্বিতীয় ভাগে আল্লাহ তায়ালা মানুষের অবস্থা বর্ণনা করেছেন । আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে সৎকর্ম ও অসৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন । এতদসত্ত্বেও যে ব্যক্তি নিজেকে পাপের দ্বারা কলুষিত করে তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য । পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সৎকর্ম করে তার জন্য রয়েছে সফলতা ।

সূরার শেষভাগে আল্লাহ তায়ালা ছামুদ সম্প্রদায়ের উদাহরণের মাধ্যমে মানুষের ব্যর্থতার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন । ছামুদ সম্প্রদায় ছিল খুবই উন্নত-সমৃদ্ধ একটি জাতি । কিন্তু তারা আল্লাহর প্রেরিত রাসুলকে অবিশ্বাস করে এবং তাঁর নির্দেশ অমান্য করে। তাদের এ অবাধ্যতার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদের শাস্তি প্রদান করেন এবং তাদের ধ্বংস করে দেন ।

শিক্ষা

১. আল্লাহ তায়ালাই আসমান, জমিন ও মানুষের স্রষ্টা ।

তিনিই সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিনের আবর্তন ঘটান ।

৩. তিনিই মানুষের ভালো-মন্দ, সৎকর্ম-অসৎকর্মের জ্ঞান দান করেন ।

8.

যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে সে সার্বিক সফলতা লাভ করবে ।

৫. আর যে ব্যক্তি নিজেকে পাপ পংকিলতায় জড়িয়ে ফেলবে সে ব্যর্থ ও ধ্বংস হবে ।

৬. আমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মধ্যে যারা অবাধ্য ছিল আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতেই তাদের শাস্তি প্ৰদান করেন । বস্তুত আল্লাহ তায়ালার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর

সুতরাং আমরা আল্লাহ তায়ালার শাস্তি সম্পর্কে সচেতন থাকব । তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলব । সৎ ও পুণ্যকর্মের মাধ্যমে আমরা নিজেদের পূত-পবিত্র রাখব । তাহলেই আমরা ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা লাভ করতে পারব ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা সূরা আশ-শামস-এর শিক্ষা লিখে একটি পোস্টার তৈরি করবে ।

 

 

 

পাঠ ৭

সূরা আদ-দুহা

পরিচয়

সূরা আদ-দুহা আল-কুরআনের ৯৩তম সূরা । এর আয়াত সংখ্যা ১১। এটি পবিত্র মক্কা নগরীতে নাজিল হয় । সূরাটির প্রথম শব্দ দুহা থেকে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে আদ-দুহা ।

শানে নুযুল

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার রাসুলুল্লাহ (স.) অসুস্থ থাকার কারণে দুই-তিন রাত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতে পারেননি । এ সময় জিবরাইল (আ.) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর নিকট ওহি নিয়ে

 

 

আমরা জানি, হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতা ইন্তিকাল করেন । এরপর তাঁর ছয় বছর বয়সে তাঁর মাতা ইন্তিকাল করেন । কিন্তু আল্লাহ তায়ালা স্বীয় অসীম রহমতে তাঁকে সুন্দরভাবে লালনপালন করেন । রাসুলুল্লাহ (স.) মানবজাতির দুঃখকষ্ট লাঘবের জন্য ও পরকালীন মুক্তির জন্য চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন । আল্লাহ তায়ালা তাঁকে হিদায়াত দান করেন, সত্য ও সুন্দর পথের নির্দেশনা প্রদান করেন । মহানবি (স.) দরিদ্র ছিলেন । আল্লাহ তায়ালাই তাঁকে অভাবমুক্ত করেন । সচ্ছলতা দান করেন । এভাবে রাসুলুল্লাহ (স.)-কে দুনিয়ার জীবনে আল্লাহ তায়ালা বহু নিয়ামত দান করেন ।

পাশাপাশি পরকালেও আল্লাহ তায়ালা রাসুল (স.)-কে নানা নিয়ামত দান করার সুসংবাদ দান করেছেন এ সূরায় । আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, মহানবি (স.)-এর আখিরাতের জীবন দুনিয়ার জীবন অপেক্ষা বহুগুণে উত্তম হবে । সেখানে তিনি উত্তম প্রতিদান লাভ করবেন এবং আল্লাহ তায়ালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন।

এ সমস্ত নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা রাসুল (স.)-কে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশ দেন । রাসুল (স.)-কে ইয়াতীম ও ভিক্ষুকদের সাথে কঠোর ব্যবহার না করার আদেশ দেন । পরিশেষে আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও প্রচার করার দায়িত্ব প্রদান করেন ।

শিক্ষা

এ সূরা থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা লাভ করি । যেমন :

১. আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের কখনোই পরিত্যাগ করেন না ।

২. তিনিই তাঁদের সকল বিপদাপদ থেকে রক্ষা করেন ।

৩. পরকালে তিনি তাঁদের কল্যাণময় জীবন দান করবেন ।

৪. ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত গরিব-দুঃখী, ইয়াতীম ও ভিক্ষুকদের কল্যাণ করা ।

৫. অভাবী, সাহায্যপ্রার্থী, ইয়াতীমদের প্রতি কঠোর হওয়া যাবে না, তাদের গালমন্দ কিংবা মারধর করা যাবে না এবং তাঁদের ধমকও দেওয়া যাবে না । বরং তাদের সাথে সদাচরণ করতে হবে ।

৬. দুনিয়ার সকল কল্যাণ ও নিয়ামত আল্লাহ তায়ালার দান । এসব নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সকলের কর্তব্য । যেমন আল্লাহ তায়ালা আমাদের ইমান, কুরআন, ধন-দৌলত, জ্ঞান-বুদ্ধি ইত্যাদি নিয়ামত দান করেছেন । সুতরাং এসবের জন্য আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে । এসব নিয়ামতের কথা মানুষের মাঝে প্রচার করতে হবে ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা সূরা আদ-দুহা -এর শানে নুযুল নিজ খাতায় মুখস্থ লিখে শিক্ষককে দেখাবে ।

 

 

 

 

 

 

বলেন যে, দুঃখের পরই সুখ আসে । কাফিরদের এসব অত্যাচার নির্যাতন দীর্ঘস্থায়ী হবে না । বরং তিনি মুসলমানদের বিজয় দান করবেন । এসব দুঃখকষ্টের পর তারা শান্তি ও স্বস্তি লাভ করবে । এরপর আল্লাহ তায়ালা মহানবি (স.)-কে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, যখনই ইসলাম প্রচার, সাথিদের প্রশিক্ষণ, পারিবারিক দায়-দায়িত্ব ইত্যাদি থেকে তিনি অবসর হন তখনই তিনি যেন আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন।

শিক্ষা

১. যে ব্যক্তি সত্য ও ন্যায়ের জন্য চেষ্টা-সাধনা করে আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরকে খুলে দেন । তাকে সৎ পথ প্রদর্শন করেন ।

২. আল্লাহ তায়ালাই মানুষের কষ্ট-যাতনা দূর করেন । ৩. মানুষের মান-সম্মান, খ্যাতি-মর্যাদা সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার হাতে । তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান মর্যাদা দান করেন ।

৪. মানব জীবনে সুখ-দুঃখ থাকবেই । সুতরাং দুঃখ ও কষ্টে হতাশ হওয়া চলবে না । বরং ধৈর্যসহকারে এর মোকাবিলা করতে হবে । ৫. জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান । অতএব, এ সময়কে কাজে লাগাতে হবে । দায়িত্ব ও কর্তব্য

সঠিকভাবে পালন করতে হবে । ৬. পার্থিব প্রয়োজনীয় কাজ সমাধানের পর আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ও স্মরণে আত্মনিয়োগ করতে হবে । সকল কিছুতেই আল্লাহ তায়ালার প্রতি মনোনিবেশ করা তাঁর প্রিয় বান্দার বৈশিষ্ট্য ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা সূরা আল-ইনশিরাহ -এর শিক্ষা সম্পর্কে ৫টি বাক্য শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে উপস্থাপন করবে ।

পাঠ ৯

সূরা আত-তীন

পরিচয়

সূরা আত-তীন আল-কুরআনের ৯৫তম সূরা । এটি মক্কায় অবতীর্ণ এবং এর আয়াত সংখ্যা ৮ । সূরার প্রথম শব্দ তীন থেকে এ সূরার নাম আত-তীন রাখা হয়েছে ।

শানে নুযুল

বিশেষ কোনো ঘটনা বা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ সূরাটি নাজিল করা হয়নি। বরং মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ সফলতা লাভের দিকনির্দেশনা ও পরকালের জবাবদিহির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা এ সূরা নাজিল করেন । মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত কতিপয় নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর আল্লাহ্ তায়ালা এতে মানবজাতির উৎপত্তি ও পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এ সূরা নাজিল করেন।

 

 

 

إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ

فَلَهُمْ أَجْرُ غَيْرُ مَمْنُونٍ فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِالدِّينِ 6

কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। তাদের জন্য তো রয়েছে অশেষ পুরস্কার।

৭. সুতরাং (হে মানুষ!) কিসে তোমাকে বিচার দিবস সম্বন্ধে

الَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَكِمِينَ

অবিশ্বাসী করে। ৮. আল্লাহ কি বিচারকগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন।

সূরা আত-তীনের প্রথম তিন আয়াতে আল্লাহ তায়ালা চারটি বস্তুর শপথ করেছেন। তন্মধ্যে প্রথম দুটি হলো আঞ্চির (ডুমুর জাতীয় ফল) ও যায়তুন। আজির হলো একটি উপাদের ফল। আর যায়তুনের ফল অভ্যন্ত বরকতময় ও এর ভৈল খুবই উপকারী। এ দুটি বৃক্ষ সিরিয়া ও ফিলিস্তিন অঞ্চলে বেশি উৎপন্ন হয় । আর সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে অগণিত নবি রাসূল আগমন করেছিলেন। দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা দূর পর্বতের শপথ করেছেন। এ পর্বত অত্যন্ত বরকতময় স্থান। এ পর্বতে হযরত মুসা (আ.) মহান আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন করেন । আর সেখানেই তাওরাত কিতাব নাজিল হয়। তৃতীয় আয়াতে নিরাপদ নগরীর শপথ করা হয়েছে। আর এটা হলো মক্কা নগরী। এ নগরীতে মহানবি (স.) জন্মগ্রহণ করেন। এতে পবিত্র বায়তুল্লাহ বা কাবা শরিফ অবস্থিত, সেখানে রক্তপাত ও মারামারি নিষিদ্ধ ।

এ সূরায় প্রথম তিনটি আয়াতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শপথ করে আল্লাহ তায়ালা মানুষের আকৃতি ও প্রকৃতি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অত্যন্ত সুন্দর সৃষ্টি হিসেবে ঘোষণা করেন। সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষের আকৃতিই সবচেয়ে সুন্দর। তবে মানুষ যদি ভালো কাজ না করে অসৎ কাজে লিপ্ত হয় তাহলে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে ডাকে লাঞ্ছিত-অপমানিত করেন। তাকে শাস্তি প্রদান করেন।

এ সূরার শেষাংশে আল্লাহ তায়ালা পরকাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এ সুরায় সৎকর্মশীল ও পুণ্যবানগণের জন্য পরকালে জান্নাতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, পরকালে আল্লাহ তায়ালা মানুষের সকল কাজের হিসাব নেওয়ার জন্য একত্র করবেন। এদিন হবে প্রতিফল দিবস বা শেষ বিচারের দিন। আল্লাহ তায়ালা হবেন সেদিনের একমাত্র বিচারক। তিনিই সর্বোত্তম ন্যায়বিচারক। মানুষের দুনিয়ার কৃতকর্মের জন্য তিনি পুরস্কার ও শাস্তি প্রদান করবেন।

১. মানুষ সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ ও সুদরতম সৃষ্টি ।

২. মানুষের সম্মান ও মর্যাদা সৎকর্মের উপর নির্ভরশীল। অসৎকর্ম করলে মানুষ মনুষ্যত্বের স্তর থেকে পশুত্বের স্তরে নেমে যায় ।

৩. সৎকর্মশীলগণ পরকালে অশেষ ও অফুরন্ত পুরস্কার লাভ করবেন। 

৪. আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। শেষ বিচারের দিন তিনি সকল মানুষের কৃতকর্মের হিসাব নেবেন ।

 

 

 

 

 

 

 

পাঠ ১১

শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস : সুন্নাহ

শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ । সুন্নাহ অর্থ রীতিনীতি । ইসলামি পরিভাষায় মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর সমর্থিত রীতিনীতিকে সুন্নাহ বলে। সুন্নাহকে হাদিস নামেও অভিহিত করা হয় । সুন্নাহ হলো আল-কুরআনের ব্যাখ্যা স্বরূপ ।

আল্লাহ তায়ালা কুরআন মজিদে বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন । আর মহানবি (স.)

তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে এসব বিধি-বিধান ও বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন । আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ اللَّكُرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمُ

অর্থ : “আর আমি আপনার প্রতি কুরআন নাজিল করেছি, মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে ।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত ৪৪)

একটি উদাহরণের মাধ্যমে এ বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে । যেমন আল-কুরআনে বলা হয়েছে-

অর্থ : “তোমরা সালাত কায়েম কর ।” (সূরা আল-আনআম, আয়াত ৭২)

কিন্তু কোথায়, কীভাবে, কোন সময়ে সালাত আদায় করতে হবে এর কোনো পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা আল-কুরআনে পাওয়া যায় না । বরং রাসুলুল্লাহ (স.) এর ব্যাখ্যা করেছেন । তিনি সালাতের সমস্ত নিয়মকানুন তাঁর হাদিস বা সুন্নাহ এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন । এভাবে আল-কুরআনের নির্দেশ ও সুন্নাহর বর্ণনার মাধ্যমে সালাত প্রতিষ্ঠা হয় ।

মূলত, সুন্নাহ বা হাদিস হলো আল-কুরআনের পরিপূরক । আল-কুরআনে একে শরিয়তের দলিল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে । আল্লাহ বলেন - - وَمَا الكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا অর্থ : “রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর আর তোমাদের যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত

থাক ।” (সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭)

সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, সুন্নাহ বা হাদিস শরিয়তের অন্যতম দলিল ও উৎস । আল-কুরআনের পরই এর স্থান ।

আল-হাদিস

হাদিস অর্থ কথা বা বাণী । ইসলামি পরিভাষায় হাদিস বলতে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে বোঝানো হয় । হাদিসের দুটি অংশ: একটি সনদ (i) ও অপরটি মতন (ও) । হাদিসের রাবি পরম্পরাকে সনদ বলা হয় । যিনি হাদিস বর্ণনা করেন তাঁকে বলা হয় রাবি বা বর্ণনাকারী । হাদিস বর্ণনায় হাদিসের রাবিগণের পর্যায়ক্রমিক উল্লেখ বা বর্ণনা পরম্পরাই সনদ । আর হাদিসের মূল বক্তব্য বা মূল অংশকে বলা হয় মতন  । হাদিস শাস্ত্রে সনদ ও মতন উভয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

 

 

 

প্রকারভেদ

মতন বা হাদিসের মূল বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে হাদিসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয় । যথা-

ক. কাওলি,

খ. ফি'লি এবং

গ. তাকরিরি

ক. কাওলি হাদিস

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণীসূচক হাদিসকে কাওলি হাদিস বলা হয় । অর্থাৎ মহানবি (স.)-এর পবিত্ৰ মুখনিঃসৃত বাণীকে কাওলি বা বাণীসূচক হাদিস বলে ।

খ. ফি'লি হাদিস

ফি‘লি শব্দের অর্থ কাজ সম্বন্ধীয় । যে হাদিসে মহানবি (স.)-এর কোনো কাজের বিবরণ স্থান পেয়েছে তাকে ফি'লি বা কর্মসূচক হাদিস বলা হয় ।

গ. তাকরিরি হাদিস

তাকরিরি অর্থ মৌন সম্মতি জ্ঞাপক । রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অনুমোদনসূচক হাদিসই হলো তাকরিরি হাদিস । অর্থাৎ সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সামনে কোনো কথা বলেছেন কিংবা কোনো কাজ করেছেন কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স.) তা নিজে করেননি এবং তাতে বাধাও দেননি বরং মৌনতা অবলম্বন করে তাতে সম্মতি বা অনুমোদন দিয়েছেন । এরূপ অবস্থা বা বিষয়ের বর্ণনা যে হাদিসে এসেছে সে হাদিসকে তাকরিরি বা সম্মতিসূচক হাদিস বলা হয় ।

সনদ বা রাবির পরম্পরার দিক থেকে হাদিস আবার তিন প্রকার । যথা- (ক) মারফু, (খ) মাওকুফ ও (গ)

মাকতু ।

ক. মারফু হাদিস

যে হাদিসের সনদ রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মারফু হাদিস বলা হয় ।

খ. মাওকুফ হাদিস

যে হাদিসের সনদ সাহাবি পর্যন্ত পৌছে শেষ হয়ে গেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছেনি এরূপ হাদিসকে মাওকুফ হাদিস বলে ।

গ. মাকতু হাদিস

যে হাদিসের সনদ তাবিঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মাকতু হাদিস বলে । অন্যকথায়, যে হাদিসে কোনো তাবিঈর বাণী, কাজ ও মৌন সম্মতি বর্ণিত হয়েছে তাকে মাকতু হাদিস বলা হয় ।

প্রকৃতপক্ষে, শরিয়তে আরও বহু প্রকারের হাদিস দেখা যায় । আমরা পরবর্তীতে এগুলো সম্পর্কে জানব । হাদিসের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার হলো হাদিসে কুদসি । কুদসি শব্দের অর্থ পবিত্র । এ প্রকার হাদিস সরাসরি আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পৃক্ত । ইসলামি পরিভাষায়, যে হাদিসের শব্দ ও ভাষা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নিজস্ব, কিন্তু তার অর্থ, ভাব ও মূলকথা আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে ইলহাম বা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত, তাকে

 

 

 

হাদিসে কুদসি বলে । সংক্ষেপে, যে হাদিসের মূল কথা আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে প্রাপ্ত এবং মহানবি (স.) নিজের ভাষায় তা উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন সেটাই হাদিসে কুদসি । হাদিসে কুদসির ভাব, অর্থ ও মূলকথা আল্লাহ তায়ালার হলেও তা আল-কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয় । বরং এটি হাদিস হিসেবে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ।

হাদিস সংরক্ষণ ও সংকলন

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে সাধারণভাবে হাদিস বলা হয়। সুতরাং রাসুলুল্লাহ (স.) থেকেই হাদিসের উৎপত্তি । রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবদ্দশায় হাদিস লিখে রাখা নিষেধ ছিল । কেননা তখন আল-কুরআন নাজিল হচ্ছিল । এ অবস্থায় মহানবি (স.)-এর হাদিস লিখে রাখলে তা আল-কুরআনের বাণীর সাথে সংমিশ্রণের আশঙ্কা ছিল । এ কারণে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবদ্দশায় ব্যাপকভাবে হাদিস লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করা হয়নি ।

তবে সাহাবিগণ মহানবি (স.)-এর বাণীসমূহ মুখস্থ রাখতেন । রাসুলুল্লাহ (স.) কোন সময় কী কাজ করতেন তা খেয়াল রাখতেন । আরবদের স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ । তাঁরা একবার যা স্মৃতিতে ধারণ করতেন কখনোই তা ভুলতেন না । ফলে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতিটি বাণী ও কাজ সাহাবিগণের স্মৃতিতে সংরক্ষিত হতো । রাসুলুল্লাহ (স.)ও স্বয়ং তাঁদের হাদিস মুখস্থ করার জন্য উৎসাহিত করতেন । তিনি বলেন, “আল্লাহ ঐ ব্যক্তির জীবন উজ্জ্বল করবেন, যে আমার কথা শুনে তা মুখস্থ করল ও সঠিকরূপে সংরক্ষণ করল এবং এমন ব্যক্তির নিকট পৌছে দিল যে তা শুনতে পায়নি ।” (তাবারানি) । সাহাবিগণ রাসুল (স.)-এর কথা শুনতেন, তা মনে রাখতেন এবং তা হুবহু বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের নিকট পৌঁছে দিতেন । এভাবে রাসুলুল্লাহ (স.) এর জীবদ্দশাতেই হাদিস সংরক্ষণ শুরু হয় ।

তা ছাড়া লিখিত আকারেও সেসময় বেশ কিছু হাদিস সংরক্ষিত হয় । বহু সাহাবি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অনুমতিক্রমে ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাদিস লিখে রাখতেন । এ প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.)-এর সহিফা ‘আস-সাদিকা’-এর কথা উল্লেখযোগ্য । এ সহিফাতে তিনি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বহুসংখ্যক হাদিস লিখে রেখেছিলেন । তা ছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.)-এর চিঠিপত্র, সন্ধিপত্র-চুক্তিনামা, সনদ, ফরমান ইত্যাদি লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল ।

হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযিয (র.)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । তিনিই সর্বপ্রথম সরকারিভাবে হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন । তাঁর উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনে নতুন গতি সঞ্চার হয় । এরই ধারাবাহিকতায় হযরত ইমাম মালিক (র.) সর্বপ্রথম হাদিসের বিশুদ্ধ সংকলন তৈরি করেন । তাঁর এ গ্রন্থের নাম আল-মুয়াত্তা ।

হিজরি ৩য় শতক ছিল হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ । এ সময় হাদিসের বিশুদ্ধতম ছয়টি কিতাব সংকলিত হয়। এগুলোকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ বলা হয় । এ ছয়টি গ্রন্থ এবং এদের সংকলকগণের নাম :

১. সহিহ বুখারি

- ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (র.)

 

 

২. সহিহ মুসলিম ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশাইরি (র.)

৩. সুনানে নাসাই ইমাম আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসাই (র.) -

৪. সুনানে আবু দাউদ ইমাম আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে আশআস (র.) ৫. জামি তিরমিযি ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযি (র.)

-

৬. সুনানে ইবনে মাজাহ - ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ (র.)। -

হাদিসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ইসলামি শরিয়তে হাদিসের গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিস হলো শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস । এটিও এক প্রকার ওহি। মহানবি (স.) আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা প্রাপ্ত হয়েই মানুষকে নানা বিষয়ের নির্দেশনা প্রদান করতেন । যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন :

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى لَا إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌّ يُوحَى

অর্থ : “আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না । তা তো ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।” (সূরা আন-নাজম, আয়াত ৩-৪) সুতরাং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণী ও কাজের অনুসরণ করা আবশ্যক । রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আনুগত্য

করলে প্রকারান্তরে আল্লাহ তায়ালারই আনুগত্য করা হয় । আল্লাহ তায়ালা এতে সন্তুষ্ট হন । আল্লাহ তায়ালা

বলেন, “আপনি বলুন! তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য কর । যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে

জেনে রাখুন, আল্লাহ তো কাফিরদের পছন্দ করেন না ।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩২)

আল-হাদিস পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা স্বরূপ । আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে শরিয়তের যাবতীয় আদেশ- নিষেধ, বিধি-বিধান ও মূলনীতি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন । অতঃপর নবি (স.)-এর দায়িত্ব ছিল এসব বিধি-বিধান স্পষ্টরূপে বর্ণনা করা । আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর আমি আপনার প্রতি কুরআন নাজিল করেছি, মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে ।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত ৪৪ )

রাসুলুল্লাহ (স.) কুরআনের বিধি-বিধানসমূহের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতেন। অনেক ক্ষেত্রে নিজে আমল করার দ্বারা এসব বিধান হাতে-কলমে শিক্ষা দিতেন । রাসুলুল্লাহ (স.)-এর এসব বাণী ও কর্মই হাদিস । সুতরাং কুরআনের বিধি-বিধান সুস্পষ্টরূপে অনুসরণের জন্য হাদিস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । নিম্নের উদাহরণের মাধ্যমে আমরা আরও ভালোভাবে বিষয়টি বুঝতে পারি । যেমন- কুরআন মজিদে সালাত কায়েম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । কিন্তু কীভাবে কোন সময়,কত রাকআত সালাত আদায় করতে হবে তার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি । ঠিক তেমনিভাবে কুরআনে যাকাত প্রদানেরও হুকুম দেওয়া হয়েছে । কিন্তু কে যাকাত দেবে, কাকে দেবে, কতপরিমাণ দেবে, এর কোনো নিয়ম সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়নি । রাসুলুল্লাহ (স.) হাদিসের দ্বারা আমাদের এসব নিয়ম-কানুন সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে বর্ণনা করেছেন । ফলে আমরা যথাযথভাবে এগুলো আদায় করতে পারছি । এজন্য আল্লাহ তায়ালা বলেছেন :

وَمَا الكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا تَهْكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا

 

 

 

অর্থ : “রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর । আর যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭)

আর রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আদেশ-নিষেধ এর পরিপূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণের জন্যও হাদিস জানা অত্যাবশ্যক । কেননা হাদিসের মাধ্যমেই আমরা এসব বিষয় জানতে পারি । মহানবি (স.) স্বয়ং হাদিসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,

تَرَكْتُ فِيْكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكُتُمْ بِمَا كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ رَسُوْلِهِ -

অর্থ : “আমি তোমাদের মধ্যে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি । যতদিন তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে থাকবে : ততদিন পর্যন্ত তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না । একটি হলো আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) এবং অপরটি তাঁর রাসুলের সুন্নাহ ।” (মুয়াত্তা)

প্রকৃতপক্ষে, কুরআন ও হাদিস ইসলামি শরিয়তের সর্বপ্রধান দুটি উৎস । এগুলো মানুষকে সত্য, ন্যায় ও শান্তির পথে পরিচালনা করে । এ দুটোর শিক্ষা ও আদর্শ ত্যাগ করলে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে । সুতরাং মানবজীবনে আল-কুরআনের পাশাপাশি মহানবি (স.)-এর হাদিসের প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস সুন্নাহ বা হাদিস -এর পরিচয় ও গুরুত্ব সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ নিজ খাতায় বাড়ি থেকে লিখে আনবে ।

মহানবি (স.)-এর ১০টি হাদিস পাঠ ১২ হাদিস ১

(নিয়ত সম্পর্কিত হাদিস)

শব্দার্থ

إِثْمَا

প্রকৃতপক্ষে, বস্তুত, আসলে

الأعمال

আমলসমূহ, কর্মসমূহ

নিয়ত, সংকল্প,

উদ্দেশ্য

النيات

إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِيَّاتِ

অর্থ : “প্রকৃতপক্ষে সকল কাজ (এর ফলাফল) নিয়তের উপর নির্ভরশীল ।” (বুখারি)

 

 

এই হাদিসটি সহিহ বুখারির সর্বপ্রথম হাদিস। এর তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক । মানুষের সকল কাজই নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট । নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছাড়া মানুষ কোনো কাজই করে না । কাজের উদ্দেশ্যের গুরুত্ব এ হাদিস দ্বারা বুঝতে পারা যায় । সাথে সাথে কোন কাজের উদ্দেশ্য কেমন হওয়া উচিত তাও এ হাদিসের তাৎপর্য বিশ্লেষণে জানা যায় ।

আল্লাহ তায়ালা পরকালে মানুষের সকল কৃতকর্মের হিসাব নেবেন । সেদিন তিনি মানুষের সকল কাজের নিয়ত বা উদ্দেশ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন। মানুষ যদি সৎ উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে তবে সে তার পুরস্কার লাভ করবে । নেক নিয়তে কাজ করে ব্যর্থ হলেও সে তার জন্য পুরস্কার পাবে । আর যদি মন্দ উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে তবে সে শাস্তি ভোগ করবে । এমনকি খারাপ উদ্দেশ্যে ইবাদত করলে কিংবা ভালো কাজ করলেও তাতে কোনো সাওয়াব হয় না । বরং নিয়ত সঠিক না হওয়ায় সে ভালো কাজও মন্দ হিসেবে পরিগণিত হয় ।

উপরে বর্ণিত হাদিসটির শেষাংশ জানলে আমরা নিয়তের বিশুদ্ধতার বিষয়টি আরও সুস্পষ্টরূপে বুঝতে পারব । এ হাদিসের শেষাংশে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নিয়তে (তাঁদের সন্তুষ্টি লাভের জন্য) হিজরত করে তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টি লাভ করবে । আর যদি সে পার্থিব লাভ বা কোনো স্ত্রীলোককে বিয়ে করার জন্য হিজরত করে তবে সে শুধু তাই লাভ করবে, যে জন্য সে হিজরত করেছে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বিশেষ এক প্রেক্ষাপটে এ হাদিসটি বর্ণনা করেন । আর তা হলো- উম্মে কায়স নামক একজন মহিলা ইসলাম গ্রহণ করে মদিনায় হিজরত করেন । তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বিয়ে করার জন্য মদিনায় হিজরত করে চলে আসেন । ঐ ব্যক্তির উদ্দেশ্য জানতে পেরে নবি (স.) এ হাদিসটি বর্ণনা করেন। যার মূল বক্তব্য হলো- আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করা অত্যন্ত পুণ্যময় কাজ । আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত না থাকায় লোকটি হিজরতের সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হলেন ।

শিক্ষা

১. কাজের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যকে নিয়ত বলা হয় ।

২. নিয়তের উপরেই কাজের সফলতা নির্ভর করে । অর্থাৎ নিয়ত যদি ভালো হয় তবে ব্যক্তি উত্তম প্রতিদান লাভ করবে । আর নিয়ত যদি খারাপ হয় তবে ভালো কাজ করলেও ব্যক্তি সাওয়াব লাভ করবে না ।

৩. আল্লাহ তায়ালা মানুষের বাহ্যিক আমলের সাথে সাথে অন্তরের অবস্থাও লক্ষ করেন ।

সুতরাং সকল কাজেই আমরা নিয়তকে বিশুদ্ধ রাখব । লোক দেখানোর জন্য বা পার্থিব কোনো লাভের আশায় সৎকর্ম করব না, বরং আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করব ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা নিয়ত সম্পর্কিত হাদিসটি অনুবাদসহ লিখে একটি পোস্টার তৈরি করবে ।

 

 

 

 

 

 

 

الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يُسْلِمُهُ وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةٍ أَخِيهِ كَانَ اللهُ فِي حَاجَتِهِ

অর্থ : “এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই । সে তার ভাইয়ের উপর অত্যাচার করে না, তাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করে না । যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হয়, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন ।” (বুখারি ও মুসলিম)

 

 

 

ব্যাখ্যা

মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই । তারা সকলে একই আদর্শে বিশ্বাসী, একই জীবনাদর্শের অনুসারী । ফলে পৃথিবীর যে স্থানেই কোনো মুসলমান থাকুক না কেন সকলেই ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ । এতে দেশ, কাল, জাতি, বর্ণ ইত্যাদির কোনো ভেদাভেদ নেই । ধনী-গরিব, সাদা-কালো, আরব-অনারব সকল মুসলমানই পরস্পর ভাই-ভাই । সুতরাং এক মুসলমানকে অন্য মুসলমানের প্রতি বেশকিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয় । যেমন- কোনো মুসলমান ভাইয়ের প্রতি কোনোরূপ অন্যায়-অত্যাচার করা যাবে না ও -নির্যাতন করা যাবে না । বরং সর্বাবস্থায় তার সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। তার জান, মাল, ইজ্জত- জুলুম- সম্মান রক্ষা করতে হবে । শত্রুর মোকাবিলায় তাকে সাহায্য করতে হবে । তার শত্রুকে সাহায্য করা যাবে না । ছোট-বড় যেকোনো প্রয়োজনে অপর মুসলমান ভাইকে সাধ্যমতো সাহায্য করতে হবে । সামর্থ্য থাকলে ধন-সম্পদ ব্যয় করে তার সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে । অন্যথায় বুদ্ধি পরামর্শ ও সৎ উপদেশের মাধ্যমে সাহায্য করতে হবে । এমনকি প্রয়োজনে দৈহিক পরিশ্রমের মাধ্যমেও তাকে সাহায্য করতে হবে ।

বস্তুত নিজের সামর্থ্যানুযায়ী আন্তরিকভাবে অপর মুসলমান ভাইয়ের বিপদে এগিয়ে আসতে হবে । এতে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন । তিনি স্বয়ং সাহায্যকারীকে সাহায্য করেন । তার সকল প্রয়োজন পূরণ করে দেন ।

শিক্ষা

১. মুসলমানগণ পরস্পর ভাই-ভাই ।

২. তারা পরস্পর অন্যায় অত্যাচার করবে না ।

৩. শত্রুর মোকাবিলায় সকলে একত্রে এগিয়ে আসবে ।

, বিপদে আপদে পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে । 8.

৫. সাহায্যকারী মুসলিম আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রিয় । আল্লাহ তায়ালা তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা পরোপকার সম্পর্কিত হাদিসটির অনুবাদ ও শিক্ষা লিখে শ্রেণি শিক্ষককে দেখাবে ।

 

 

ব্যাখ্যা

এ হাদিসে মানবজীবনের নানা অবস্থায় কীরূপ আচরণ করতে হবে সে সম্পর্কে সুন্দর দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মানবজীবনে সুখ-শান্তির পাশাপাশি দুঃখ-কষ্টও বিদ্যমান। এগুলো আল্লাহ তায়ালার পরীক্ষা স্বরূপ। আল্লাহ তায়ালা সুখ ও দুঃখের মাধ্যমে মানুষের পরীক্ষা করে থাকেন। মানুষের উচিত সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর হুকুম পালন করা। প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি এরূপ করে থাকেন । ফলে সকল অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর । কেননা দুঃখ কষ্টে নিপতিত হলে মুমিন ব্যক্তি হতাশ হয়ে পড়েন না। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য অন্যায় কাজ করেন না। বরং এ অবস্থাতেও তিনি আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালন করেন ও ধৈর্যসহকারে মহান আল্লাহর উপর ভরসা করেন। এতে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি সন্তুষ্ট হন । তাকে সাওয়াব দান করেন এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে উদ্ধার করেন। ফলে দুঃখ-কষ্টের অবস্থাও মুমিন ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর হয়ে যায় ।

আর সুখ-শান্তির অবস্থাতেও মুমিন ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে ভুলে যান না। বরং তিনি সুখ-শান্তি ও নিয়ামতের জন্য আল্লাহ তায়ালার শোকর করেন। তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করেন । ফলে আল্লাহ তায়ালা তার উপর খুশি হন ও তাঁর নিয়ামতসমূহ আরও বাড়িয়ে দেন। ফলে এ অবস্থায় মুমিন ব্যক্তি সর্বাধিক কল্যাণ লাভ করেন।

শিক্ষা

১. সুখ-দুঃখ মানবজীবনের স্বাভাবিক বিষয় ।

২. দুঃখ-কষ্টের সময় হতাশ হওয়া চলবে না । বরং ধৈর্যসহকারে আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালন করতে হবে।

৩. আনন্দের সময়ও আল্লাহ তায়ালার আদেশ ভুলে গেলে চলবে না । বরং তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

৪. এভাবে সুখ-দুঃখ সর্বাবস্থায় শোকর ও সবরের মাধ্যমে কল্যাণ লাভ করা যায় ।

৫. মুমিন ব্যক্তির সকল কাজই কল্যাণজনক । কেননা, মুমিন ব্যক্তি সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালন করেন । কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ বিমুখ হন না। ফলে সবর ও শোকরের মাধ্যমে তিনি সর্বোচ্চ কল্যাণ লাভ করেন। প্রকৃত মুমিন হতে হলে আমাদেরকে সদা সর্বদা আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালনে সচেষ্ট হতে হবে ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা সম্পর্কিত হাদিসটির অনুবাদ ও শিক্ষা নিজ খাতায় লিখে শ্রেণি শিক্ষককে দেখাবে।

 

 

 

 

 

তৃতীয়ত, এ বাক্যদ্বয় মিযানে বা দাঁড়িপাল্লায় খুবই ভারী হবে। কিয়ামতের দিন মানুষের সকল কৃতকর্ম দাঁড়িপাল্লায় ওজন করা হবে। নেকির পাল্লা ভারী হলে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর নেকির পাল্লা হালকা হলে তার স্থান হবে জাহান্নাম । এ বাক্যদ্বয়ের সাওয়াব ওজনে খুবই ভারী । মিযানে এগুলো নেকির ওজনকে ভারী করে তুলবে।

অতএব, আমরা এ বাক্য দুটো মুখস্থ করব এবং সব সময় পাঠ করব। ফলে মহামহিম ও মহাপবিত্র আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর সন্তুষ্ট হবেন এবং অধিক পরিমাণ প্রতিদান দেবেন ।

শিক্ষা

১. আল্লাহ তায়ালা মহাপবিত্র, মহামহিম। তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করলে তিনি খুশি হন । ২. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম- আল্লাহ তায়ালার প্রিয় দুটি বাক্য। আমরা সদা সর্বদা এ বাক্যদ্বয়ের যিকির করব ।

৩. হাশরের দিন মিযানে এ বাক্যদ্বয় খুবই ভারী হবে। ফলে এর পাঠকারী সফলতা লাভ করবে ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে পোস্টারে আরবিতে একটি হাদিস লিখে এনে শ্রেণি কক্ষে প্রদর্শন করবে।

পাঠ ২২

শরিয়তের তৃতীয় উৎস : আল-ইজমা

পরিচয়

শরিয়তের তৃতীয় উৎস হলো ইজমা। ইজমা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ- একমত হওয়া, ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে কোনো বিষয় বা কথায় ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে । ইসলামি পরিভাষায়, শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মতের পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলা হয়। ইজমা মহানবি (স.)-এর পরবর্তী যেকোনো যুগে হতে পারে। সাহাবিগণ থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি যুগেই ইজমা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে । ইজমা কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত হওয়া আবশ্যক । কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতি বিরোধী কিংবা কোনো অন্যায় ও পাপ কাজে ইজমা হয় না। ইজমা আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ মর্যাদা ও নিয়ামত।

ইজমার উৎপত্তি

ইজমা বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো সমস্যার সমাধান করা কিংবা নতুন বিধান প্রবর্তন করা কোনো নতুন ঘটনা নয় । বরং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সময় হতেই এর ব্যবহার বা প্রচলন লক্ষ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (স.) স্বয়ং বিভিন্ন বিষয়ে সাহাবিগণের পরামর্শ নিতেন। অতঃপর তাঁদের মতামতের আলোকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন । আল্লাহ তায়ালা বলেন-

 

 

 

অর্থ : “আর তাদের কাজকর্ম সম্পাদিত হয় পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে ।” (সূরা আশ-শুরা, আয়াত ৩৮)

এভাবেই রাসুলুল্লাহ (স.) ইজমার বৈধতা, দৃষ্টান্ত ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন । পরবর্তীতে সাহাবিগণের যুগে এর পূর্ণাঙ্গ প্রচলন ঘটে । খলিফাগণ নতুন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সর্বপ্রথম আল-কুরআনে এর সমাধান খুঁজতেন । তাতে খুঁজে না পেলে মহানবি (স.)-এর হাদিসের মাধ্যমে সমাধান করতেন । আর যদি হাদিসেও সে সমস্যার সুস্পষ্ট কোনো সমাধান না পেতেন তখন তাঁরা বিশিষ্ট সাহাবিগণের মতামত নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান দিতেন। যেমন- হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময়ে সাহাবিগণের ঐকমত্যের মাধ্যমেই কুরআন সংকলনের কাজ শুরু করা হয় । দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সময়ে বিশ রাকআত তারাবি-এর সালাত জামাআতের সাথে আদায় করার ব্যাপারে সাহাবিগণের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয় । এভাবে পরবর্তী যুগগুলোতেও ইজমার মাধ্যমে নানা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা হয়েছে ।

ইজমার হুকুম ও কার্যকারিতা

ইজমা শরিয়তের তৃতীয় উৎস । বিধি-বিধান নির্ধারণে ইজমা অকাট্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত । সাধারণভাবে ইজমার ভিত্তিতে প্রণীত বিধানের উপর আমল করা ওয়াজিব ।

ইজমার গুরুত্ব ও বৈধতা

ইসলামি শরিয়তে ইজমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আল-কুরআন ও হাদিসের পরই এর স্থান । এটি শরিয়তের তৃতীয় উৎস ও অকাট্য দলিল । আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস দ্বারা ইজমার বৈধতা প্রমাণিত । আল্লাহ তায়ালা বলেন,

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ

অর্থ : “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব ।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১১০) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,

وَكَذَلِكَ جَعَلْنَكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ

অর্থ : “এভাবে আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষ্যদাতা হতে পার ।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৪৩)

উপরিউক্ত আয়াতদ্বয়ে উম্মতে মুহাম্মদি তথা মুসলিম জাতিকে শ্রেষ্ঠ ও মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে উল্লেখ করা

হয়েছে,

যা ইজমার পরোক্ষ দলিল স্বরূপ ।

মুসলিম মুজতাহিদগণ একমত হয়ে কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে তার বিরোধিতা করা চরম পাপ । আল্লাহ তায়ালা এ প্রসঙ্গে বলেন-

 

 

 

 

 وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيْلِ الْمُؤْمِنِيْنَ نُوَلِهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ

অর্থ : “সৎপথ প্রকাশিত হওয়ার পরও কেউ যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনগণের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, তবে আমি তাকে ঐ দিকেই ফিরিয়ে দেব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১১৫)

উক্ত আয়াতে মুমিনদের অনুসৃত পথ বলতে মুসলিমদের ঐকমত্য বা ইজমা এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে । আমাদের প্রিয়নবি (স.) বলেছেন- مَا رَاهُ الْمُسْلِمُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللهِ حَسَنَ

অর্থ : : “মুসলমানগণ যা ভালো বলে মনে করে তা আল্লাহ তায়ালার নিকটও ভালো

এ হাদিস দ্বারাও ইজমা তথা মুসলমানদের ঐকমত্যের গুরুত্ব প্রমাণিত ।

(তাবারানি

মহানবি (স.) বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মতকে নিশ্চয়ই গোমরাহির উপর জমায়েত করবেন না । আল্লাহর হাত (রহমত ও সাহায্য) দলবদ্ধ থাকার উপর রয়েছে। যে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (অবশেষে) দোযখে যাবে ।” (তিরমিযি)

ইজমা শরিয়তের অন্যতম দলিল । এর বৈধতা কুরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত । এর বিধানের উপর আমল করা আবশ্যক ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা আল-ইজমার পরিচয়, উৎপত্তি ও গুরুত্ব সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ বাড়ি থেকে লিখে আনবে

এবং শ্রেণি শিক্ষককে দেখাবে ।

পাঠ ২৩

শরিয়তের চতুর্থ উৎস : আল-কিয়াস

পরিচয়

শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস । কিয়াস শব্দের অর্থ অনুমান করা, তুলনা করা, পরিমাপ করা ইত্যাদি । ইসলামি পরিভাষায় কুরআন ও সুন্নাহর আইন বা নীতির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে পরবর্তীতে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান দেওয়াকে কিয়াস বলে । অন্য কথায়, কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমাতে যে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না ইসলামি মূলনীতি অনুযায়ী বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে সে সমস্যার সমাধান করাই হলো কিয়াস ।

 

 

 

কিয়াসের গুরুত্ব

কিয়াস ইসলামি শরিয়তের অন্যতম উৎস । ইজমার পরই এর স্থান । ইসলামি শরিয়তের পূর্ণাঙ্গতার জন্য কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মানবজীবন ও সমাজ সতত পরিবর্তনশীল । পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারায় জগতে নতুন নতুন সভ্যতা-সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটে । ফলে নতুন নতুন জিজ্ঞাসা, সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ সমস্ত সমস্যার সমাধান সভ্যতা ও সংস্কৃতির আলোকেই করতে হয় । ইসলাম অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মতভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম । কেননা, ইসলাম একটি গতিশীল জীবনব্যবস্থা । এটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবন-বিধান । কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের জন্য পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা এতে দেওয়া হয়েছে। কুরআন ও হাদিসে শরিয়তের বিষয়গুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন এগুলোর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সর্বযুগে সর্বকালে সমস্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয় । আর এ পদ্ধতির নামই কিয়াস । সুতরাং শরিয়তের পূর্ণাঙ্গতার জন্য কিয়াস অপরিহার্য ।

আল-কুরআন ও হাদিসে কিয়াসকে শরিয়তের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- فَاعْتَبِرُوا لِأُولِي الْأَبْصَارِه

অর্থ : “অতএব, হে চক্ষুষ্মানগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর ।” (সূরা আল-হাশর, আয়াত ২)

এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের চিন্তা ও গবেষণা করে শিক্ষা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন । আর কিয়াস মুসলিম জ্ঞানীদের চিন্তা-ভাবনারই ফল ।

কিয়াস শরিয়তের সর্বনিম্ন স্তর । যখন কোনো বিষয়ে আল-কুরআন, হাদিস ও ইজমায় পরিষ্কারভাবে সমাধান পাওয়া যায় না তখনই কিয়াস প্রযোজ্য হয় । রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবিগণকে কিয়াস করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন । উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মহানবি (স.) যখন হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনের বিচারক হিসেবে প্রেরণ করেন তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘যখন কোনো সমস্যার উদ্ভব হবে তখন তুমি কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে?' হযরত মুআয (রা.) বললেন, আল্লাহর কিতাব অনুসারে । রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, “যদি আল্লাহর কিতাবে তা না পাও, তবে?' তিনি বললেন, তাহলে নবির সুন্নাহ মোতাবেক । রাসুল (স.) পুনরায় বললেন, “যদি তাতেও না পাও, তাহলে?' হযরত মুআয (রা.) বললেন, তা হলে আমি আমার বিবেক বুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত প্রদান করব । তাঁর উত্তর শুনে নবি (স.) বললেন, “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর রাসুলের দূত দ্বারা এমন উত্তর প্রদান করালেন যাতে তাঁর রাসুল সন্তুষ্ট হলেন ।” (আবু দাউদ)

উপরোক্ত কুরআনের আয়াত ও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হাদিসে স্পষ্টভাবে কিয়াস বা গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে । সুতরাং কিয়াস যে শরিয়তের অন্যতম উৎস এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই ৷

কিয়াসের নীতিমালা

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ইন্তিকালের পর খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগে কিয়াসের মাধ্যমে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করা হতো । পরবর্তী যুগে কিয়াসের ব্যবহার আরও ব্যাপক হয়ে ওঠে । তবে নিজের খেয়ালখুশি মতো স্বার্থপরভাবে কিয়াস করা বৈধ নয় । শরিয়তের ইমামগণ কিয়াস করার ব্যাপারে কতিপয় নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন । এগুলো হলো :

 

 

 

ক. যেসব বিষয়ের সমাধান কুরআন, হাদিস ও ইজমায় পাওয়া যায় সেসব বিষয়ে কিয়াস করা যাবে না ।

খ. কিয়াস কখনোই কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমার বিরোধী হবে না ।

গ. কিয়াসের পদ্ধতি ও আইন মানুষের জ্ঞানের পরিসীমার মধ্যে থাকতে হবে ।

ঘ. কুরআন, হাদিস ও ইজমা দ্বারা প্রবর্তিত আইনের মূলনীতি বিরোধী কোনো আইন তৈরি করা কিয়াসের আওতা বহির্ভূত ।

প্রকৃতপক্ষে, কিয়াস ইসলামি শরিয়তের একটি বিজ্ঞানসম্মত ও যৌক্তিক উৎস । কিয়াস ইসলামি আইনকে গতিশীল করেছে ও সর্বজনীনতা দান করেছে। এর মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বায়নের নতুন নতুন বিষয়ের বিধান দেওয়া সম্ভব ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা আল-কিয়াস-এর পরিচয়, গুরুত্ব ও নীতিমালা সম্পর্কে ১৫টি বাক্য বাড়ি থেকে লিখে আনবে

এবং শ্রেণি শিক্ষককে দেখাবে ।

পাঠ ২৪

শরিয়তের আহকাম সংক্রান্ত পরিভাষা

শরিয়ত হলো ইসলামি বিধি-বিধানের সমন্বিত রূপ। পরিভাষায় শরিয়ত বলতে এমন সুদৃঢ় সোজাপথকে বুঝায় যার দ্বারা তার অবলম্বনকারী ব্যক্তি হিদায়াত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মপন্থা লাভ করতে পারেন । আর আহকাম হলো বিধানাবলি ।

প্রতিটি বিষয়েরই নিজস্ব কিছু পরিভাষা থাকে। ইসলামি শরিয়তেরও এরূপ বেশ কিছু পরিভাষা বিদ্যমান। এসব পরিভাষার মাধ্যমে শরিয়তের বিধানাবলির পর্যায়ক্রমিক গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায় । ইসলামি শরিয়তের আহকাম বা বিধানাবলি সংক্রান্ত পরিভাষাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব, মুবাহ ইত্যাদি । এ পাঠে আমরা উল্লিখিত পরিভাষাগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় জানব ।

ফরজ

ফরজ ও অর্থ অবশ্য পালনীয়, অত্যাবশ্যক । শরিয়তের যেসব বিধান কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা অবশ্য কর্তব্য ও অলঙ্ঘনীয় বলে প্রমাণিত তাকে ফরজ বলা হয় ।

ফরজ কাজ কোনো অবস্থাতেই পরিত্যাগ করা যায় না । ফরজ অস্বীকার করলে ইমান থাকে না বরং এর অস্বীকারকারী কাফির হয়। আর এগুলো পালন না করলে কবিরা গুনাহ বা মারাত্মক পাপ হয় । ফরজ কাজ পালন না করলে আখিরাতে ভয়ঙ্কর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে ।

ফরজ দুই প্রকার । যথা- ১. ফরজে আইন

২. ফরজে কিফায়া

 

 

 

১. ফরজে আইন

যে সকল ফরজ বিধান সকলের উপর পালন করা অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে । অর্থাৎ যেসব ফরজ কাজ ব্যক্তিগতভাবে সকল মুসলমানকেই আদায় করতে হয় তা-ই ফরজে আইন । যেমন- দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, রমযান মাসে রোযা রাখা, এসব কাজ প্রত্যেক ব্যক্তিকেই নিজে আদায় করতে হয়।

২. ফরজে কিফায়া

ফরজে কিফায়া হলো সামষ্টিকভাবে ফরজ কাজ । অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানের উপর ফরজ, কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে ফেলে তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায় । কিছু লোকের আদায় করার দ্বারা সমাজের বাকি সবাই সে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পায় । তবে যদি সমাজের কেউই আদায় না করে তবে সকলেই গুনাহগার হবে । যেমন- জানাযার সালাত । কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে ঐ এলাকার সবার উপর তার জানাযার সালাত আদায় করা ফরজ । এ পরিপ্রেক্ষিতে সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি তার জানাযার সালাত আদায় করে ফেলে তবে সকলেই এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করবে । কিন্তু কেউই যদি মৃতব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় না করে তবে সকলেই ফরজ ত্যাগের কারণে গুনাহগার হবে ।

ওয়াজিব

ওয়াজিব অর্থ : অবশ্য পালনীয়, কর্তব্য, অপরিহার্য ইত্যাদি । শরিয়তের এমন কিছু বিধান রয়েছে যা পালন করা কর্তব্য । তবে ফরজ নয় । এরূপ বিধানকে ওয়াজিব বলা হয় ।

শরিয়তে ফরজের পরই ওয়াজিবের স্থান। এটি ফরজের কাছাকাছি । অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত না হলেও এটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য । ওয়াজিব অস্বীকার করলে মানুষ কাফির হয় না। তবে সে বড় রকমের অপরাধী হিসেবে গণ্য হয় । ওয়াজিব কাজ আদায় না করলেও কঠিন পাপ হয় । এর জন্য আখিরাতে শাস্তি পেতে হবে । ইসলামি শরিয়তে বহু ওয়াজিব কাজ রয়েছে। যেমন- দুই ঈদের সালাত, বিতরের সালাত ইত্যাদি । সালাত আদায়ের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু ওয়াজিব কাজ রয়েছে । যেমন- সূরা ফাতিহা পড়া, রুকুর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো, সিজদাহর মধ্যে সোজা হয়ে বসা ইত্যাদি । সালাতের এসব ওয়াজিব কাজ বাদ পড়লে সিজদাহ সাহু দিতে হয় । নতুবা সালাত শুদ্ধ হয় না । পুনরায় তা আদায় করতে হয় ।

সুন্নত

সুন্নত অর্থ- পথ, পন্থা, রীতি, নিয়ম, পদ্ধতি ইত্যাদি। পরিভাষায় মহানবি (স.) থেকে যে সমস্ত কাজ ইসলামি শরিয়তের বিধান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে সেগুলোকে বলা হয় সুন্নত । অর্থাৎ যে সকল কাজ মহানবি (স.) নিজে করেছেন বা যা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন কিংবা অনুমোদন করেছেন তাকে সুন্নত বলা হয় । সুন্নত দুই প্রকার । যথা-

১. সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ

২. সুন্নতে যায়িদাহ ।

 

 

 

 

১. সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ

যে সকল কাজ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে সর্বদাই পালন করতেন, অন্যদেরকে তা পালনের তাগিদ দিতেন তাকে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বলে । যেমন- আযান ও ইকামত দেওয়া, ফজরের ফরজ নামাযের পূর্বে দুই রাকআত, যোহরের ফরজের পূর্বে চার রাকআত ও পরে দুই রাকআত, মাগরিব ও এশার ফরজের পর দুই রাকআত নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ ।

সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ ওয়াজিবের কাছাকাছি । এগুলো পালন করা কর্তব্য । ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলাবশত

বিনা কারণে এগুলো পালন না করলে গুনাহ হয় ।

২. সুন্নতে যায়িদাহ

সুন্নতে যায়িদাহ হলো অতিরিক্ত সুন্নত । পরিভাষায়, যে সকল কাজ নবি (স.) করেছেন বলে প্রমাণিত তবে তিনি সর্বদা তা পালন করতেন না, বরং কখনো করতেন আবার কখনো ছেড়ে দিতেন এসব কাজকে সুন্নতে যায়িদাহ বলা হয় । মহানবি (স.) এরূপ কাজ করার জন্য উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন । তবে এ ব্যাপারে তিনি তাগিদ করেননি এবং তা না করলে গুনাহ হয় না । সুন্নতে যায়িদাহকে সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদাহও বলা হয় । যেমন- আসর ও এশার ফরজের পূর্বে চার রাকআত সুন্নত নামায আদায় করা ॥ সুন্নতে যায়িদাহ পালনে অনেক সাওয়াব অর্জন করা যায়

মুস্তাহাব

মুস্তাহাব অর্থ পছন্দনীয়। যে সকল কাজের প্রতি রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং তা করলে নেকি পাওয়া যাবে, কিন্তু না করলে গুনাহ হবে না সেসব কাজকে শরিয়তে মুস্তাহাব বলে । ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত ব্যতীত অতিরিক্ত সবধরনের ইবাদত ও ভালো কাজই মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য । এ মুস্তাহাবকে নফল বা মানদুবও বলা হয় ।

মুবাহ

যে সকল কাজ করলে কোনোরূপ সাওয়াব নেই, আবার না করলে কোনোরূপ গুনাহও হয় না এরূপ কাজকে মুবাহ বলা হয় । মানুষ ইচ্ছা করলে এরূপ কাজ করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে তা না-ও করতে পারে ।

হালাল-হারাম

পার্থিব জীবন মানুষের জন্য পরীক্ষাগার । আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্যই এ বিশ্বজগতের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন । তিনি বলেন-

هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا

অর্থ : “তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদের জন্য এ পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন ।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৯)

আর এ সবকিছু সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পরীক্ষা করা । এজন্য আল্লাহ তায়ালা সৃষ্ট বস্তুর কিছু কিছু হালাল করে দিয়েছেন আর কিছু কিছু বস্তুকে হারাম করে দিয়েছেন । যেসব বস্তু মানুষের জন্য সামগ্রিকভাবে

 

কল্যাণকর সেগুলোকে হালাল করেছেন । আর যেসব বস্তু মানুষের জন্য অকল্যাণকর তা হারাম করে দিয়েছেন । অতঃপর নবি-রাসুলও আসমানি কিতাবের মাধ্যমে হালাল-হারামের পরিচয় সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন । সুতরাং মানুষের উচিত হালালকে গ্রহণ করা ও যাবতীয় হারাম বস্তু ও কাজকে বর্জন করা । এ পাঠে হালাল ও হারাম সম্পর্কে আমরা জানতে চেষ্টা করব ।

হালাল

হালাল অর্থ- বৈধ, সিদ্ধ, আইনানুগ বা অনুমোদিত বিষয় । এছাড়া পবিত্র, গ্রহণযোগ্য ইত্যাদি অর্থেও হালাল শব্দটি ব্যবহৃত হয়। ইসলামি পরিভাষায় যে সকল বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত, শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়। হালাল কথা, কাজ বা বস্তু সবই হতে পারে । যেমন- যেসব বস্তু বা দ্রব্য ব্যবহার করা শরিয়তে বৈধ তা হালাল দ্রব্য হিসেবে পরিচিত । যেমন- গরুর গোশত, চাল-ডাল, ফলমূল আহার করা, শালীন ও রুচিসম্মত পোশাক পরিধান করা ইত্যাদি । তেমনি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব কথা বা কাজের অনুমতি দিয়েছেন সেগুলো হালাল কাজ হিসেবে স্বীকৃত। যেমন- সত্য কথা বলা, সুন্নত সম্মত পন্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য করা, মানুষের উপকার করা ইত্যাদি । হারাম

হারাম হলো হালালের বিপরীত । হারাম অর্থ নিষিদ্ধ, মন্দ, অসংগত, অপবিত্র ইত্যাদি । পরিভাষায় যে সকল কাজ বা বস্তু কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম বলা হয় । অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব কাজ করতে বা যেসব বস্তু ব্যবহার করতে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন সেসব কাজ বা বস্তু মানুষের জন্য হারাম । যেমন সুদ, ঘুষ, জুয়াখেলা, শূকরের গোশত খাওয়া, মদ পান করা ইত্যাদি হারাম ।

হালাল-হারামের সংখ্যা

আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে হালাল ও হারাম সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন । মহানবি (স.) বলেছেন-

الْحَلَالُ بَيْن وَالْحَرَام بَيْن

অর্থ : “হালাল বিষয় সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত । আর হারামও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত ।” (বুখারি ও মুসলিম)

পৃথিবীতে হালাল জিনিস বা বস্তু অগণিত । এর কোনো সীমা পরিসীমা নেই । এগুলো আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত হিসেবে চিহ্নিত । আল্লাহ তায়ালা বলেন- وإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا

অর্থ : “তোমরা যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা করতে চাও তবে গুনে তা শেষ করতে পারবে না ।” (সূরা ইবরাহিম, আয়াত ৩৪)

 

 

 

শরিয়তের ভাষ্য অনুযায়ী প্রত্যেক বিষয় মুবাহ বা বৈধ। তবে এর বিপক্ষে কুরআন ও হাদিসে যদি কোনোরূপ নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় তবে তা হারাম হবে । সুতরাং বোঝা গেল যে, হালালের সংখ্যা অগণিত । আর হারাম বস্তুর সংখ্যা সীমিত ।

এসব হালাল ও হারাম বিষয়গুলো চিনে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । কেননা হালালকে হারাম মনে করা ও হারাম বিষয়কে হালাল বলে বিশ্বাস করা কুফর । যেহেতু হারাম সীমিত সংখ্যক, সেহেতু নিম্নে বর্তমান সমাজে প্রচলিত কতিপয় হারাম বিষয় ও দ্রব্যের তালিকা উল্লেখ করা হলো :

১. মৃত জীবজন্তু খাওয়া (তবে মৃত মাছ খাওয়া হারাম নয়)।

2. রক্ত পান করা (তবে হালাল জন্তুর গোশতে লেগে থাকা রক্ত হারাম নয়)।

৩. মানুষের গোশত খাওয়া ।

৪. শূকরের গোশত খাওয়া ।

৫. আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গীকৃত পশুর গোশত খাওয়া ।

৬. মদ্যপান করা।

৭. মাদকদ্রব্য যেমন- হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, আফিম সেবন করা ।

৮. গলা টিপে, উঁচু থেকে ফেলে দিয়ে হত্যাকৃত পশুর গোশত খাওয়া ।

৯. হিংস্র প্রাণী যেমন- বাঘ, সিংহ, ভল্লুক ইত্যাদির গোশত খাওয়া ।

১০. বিষাক্ত ও ক্ষতিকর প্রাণীর গোশত খাওয়া । যেমন- সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদি ।

১১. যেসব প্রাণী ময়লা ও নাপাক দ্রব্য খেয়ে বাঁচে তাদের গোশত খাওয়া । যেমন- কাক, শকুন, কুকুর ইত্যাদি ।

১২. গাধা, খচ্চর, হাতি ইত্যাদির গোশত খাওয়া । ১৩. সুদ, ঘুষ ও জুয়ার মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ ।

১৪. চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত দ্ৰব্য ।

১৫. অবৈধ পণ্যের ব্যবসা-বাণিজ্য, লেনদেন ।

১৬. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, মিথ্যা হলফ করা, গিবত, গালি-গালাজ করা ।

১৭. সর্বোপরি অশ্লীল, অশালীন ও মানুষকে কষ্টদায়ক সকল দ্রব্য, কথা ও কাজ ।

প্রকৃতপক্ষে, কুরআন ও সুন্নতে নিষেধকৃত সকল বস্তুই হারাম । এগুলো থেকে বেঁচে থাকা সকল মুমিনের অপরিহার্য কর্তব্য ।

মানবজীবনে হালালের প্রভাব

আল্লাহ তায়ালা সকল কিছুর স্রষ্টা । তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন কোনটা উপকারী ও কোনটা অপকারী । যেসব দ্রব্য ও বিষয় মানুষের জন্য কল্যাণকর আল্লাহ তায়ালা তা হালাল করে দিয়েছেন । তিনি বলেন-

ييهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَللًا طَيْبًا ن

 

 

অর্থ : “হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর ।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৬৮) হালাল বস্তু গ্রহণ করার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত গ্রহণ করে এবং সর্বোচ্চ কল্যাণ প্রাপ্ত হয় । হালাল দ্রব্য মানুষকে ইবাদতে উৎসাহিত করে । মানুষ অধিক পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করতে পারে । আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন :

يايها الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا

অর্থ : “হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎকাজ কর ।” (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৫১) হালাল ও পবিত্র দ্রব্য মানুষের দেহ ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে । অন্তরে নুর সৃষ্টি করে । ফলে মানুষ অন্যায় ও অসৎ চরিত্রকে ঘৃণা করতে থাকে । মানুষ সৎগুণাবলি সম্পন্ন হয়ে গড়ে ওঠে । বস্তুত হালাল খাদ্য মানুষের মধ্যে পবিত্র ভাব ও আত্মশুদ্ধির উদ্রেক করে । ফলে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে প্রভূত কল্যাণপ্ৰাপ্ত হয় ।

মানবজীবনে হারামের প্রভাব

মানব জীবনে হারাম বস্তু, কথা ও কাজের পরিণাম ও কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ । কোনো কোনো হারাম দ্রব্যের মধ্যে এমন উপাদান বিদ্যমান থাকে যা মানুষের মন, মস্তিষ্ক ও শরীরের জন্য চরম ক্ষতিকর । এগুলো অনেক সময় মানুষের মস্তিষ্ক বিকৃত করে । এমনকি অনেক মারাত্মক ও প্রাণনাশক রোগ সৃষ্টি করে । যেমন- মদ, গাঁজা, হেরোইন ইত্যাদি ।

তা ছাড়া আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, হিংস্র প্রাণীর দেহে এমন সব জীবাণু আছে যা মানুষের দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর ।

হারাম কাজ মানবসমাজেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে । যেমন- সুদ, ঘুষ, জুয়া, লটারি ইত্যাদি । এতে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হয়, নৈতিক মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস হয়, সমাজে বৈষম্য দেখা দেয়, অনেকে সর্বস্বান্ত ও দেউলিয়া হয়ে যায় । এমনকি অনেকে আত্মহত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না ।

হারাম খাদ্যদ্রব্য মানুষের অন্তরে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে । মানুষ অন্যায়, অশ্লীলতা ও অসৎচরিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয় । মানব চরিত্রের সৎগুণাবলি নষ্ট হয়ে যায় । মানুষ ইবাদতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে । তার ইবাদত- দোয়া কবুল হয় না । মহানবি (স.) বলেছেন, “কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে আসে এবং অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে তার দু'হাত তুলে আল্লাহর নিকট বলতে থাকে, হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! কিন্তু তার পানাহার হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম । সুতরাং এমতাবস্থায় তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে?” (মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (স.) অন্য হাদিসে বলেছেন- “যে শরীর হারামের মাধ্যমে গঠিত, তা জাহান্নামের ইন্ধন হবে ।” (আহমাদ, বায়হাকি ও দারিমি)

প্রকৃতপক্ষে, হারাম মানুষকে অকল্যাণ ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় । সুতরাং আমরা সদা সর্বদা হারামের ব্যাপারে সতর্ক থাকব । সকল কথা, কাজ ও পানাহারে হালাল পন্থা গ্রহণ করব ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা শরিয়তের আহকাম সংক্রান্ত পরিভাষাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে শিক্ষককে দেখাবে ।

 

 

 

নমুনা প্রশ্ন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. (লা-তাহার) অর্থ কী?

ক. ধমক দেবেন না

খ. নিষেধ করবেন না

গ. আশ্রয় দেবেন না

ঘ. কঠোর হবেন না ।

২. ওহি লেখক সাহাবিদের সংখ্যা কত ছিল ?

খ. ৪২

ক. ২৮

ঘ. ৮৬ ।

গ. ৪৭

৩. মক্কি সূরার বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করা হয়েছে -

i. শিরক-কুফরের পরিচয়

ii. মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের কথা

iii. শরিয়তের সাধারণ নীতিমালা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৪ - ৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও

আলম সাহেব গ্রামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি । তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার সকল সম্পদ

দখল করে ছোট ভাইয়ের সন্তানদের বাড়ি থেকে বের করে দেন ।

৪. আলম সাহেবের কাজের মাধ্যমে কাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে ?

ক. গরিবদের

খ. অসহায়দের

গ. ইয়াতীমদের

ঘ. বঞ্চিতদের ।

৫. আলম সাহেবের কাজের মাধ্যমে শরিয়তের কোন উৎসের বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে ?

ক. কুরআন

খ. হাদিস

গ. ইজমা

ঘ. কিয়াস ।

৬. শরিয়তের দৃষ্টিতে আলম সাহেব হবেন

খ. কাফির

ক. ফাসিক

গ. মুনাফিক

ঘ. যালিম ।

 

 

 

সৃজনশীল প্রশ্ন

১ । সাজিব ও সাজিদ ঘনিষ্ঠ বন্ধু । সাজিব প্রায়ই ফজরের সালাত সূর্যোদয়ের পর এবং আসরের সালাত সূর্যাস্তের সময় আদায় করে । সাজিদ এলাকার যুবকদের সত্য কথা বলা ও নিয়মিত সালাত আদায় করার জন্য আহ্বান জানালে কতিপয় যুবক তার কথা শুনে কটূক্তি করে । যুবকদের অত্যাচার অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছলে সে শিক্ষকের শরণাপন্ন হয়, শিক্ষক কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়ে শোনান—

إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

ক. ‘ফারগব’ শব্দের অর্থ কী?

খ. ‘আমি মানুষকে সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি’– বুঝিয়ে লেখ । 

গ. সাজিবের কাজের মাধ্যমে কাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. সাজিদের কার্যক্রম চিহ্নিত করে তোমার পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট সূরার আলোকে বিশ্লেষণ কর ।

 

২ । নাসির ও জাবির সাহেব দুই বন্ধু । নাসির সাহেব তার বাড়ির চারপাশে অনেক ফলের গাছ লাগিয়েছেন । মানুষেরা সেই গাছের ছায়ায় বসে আরাম করে এবং পাখিরা ফল খায়। নাসির সাহেব প্রতিবেশীদেরও ফল দেন। আর জাবির সাহেবের দোকানে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় হয় । কোনো ভেজাল নেই । তাই অনেক মানুষ রমযান মাসে তার দোকানে বাজার করে ।

ক. শরিয়তের তৃতীয় উৎসের নাম কী ?

খ. হারাম বর্জনীয় কেন?

গ. নাসির সাহেবের কাজটি কী হিসেবে গণ্য হবে? হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. জাবিরের কাজের ফলাফল ইসলামের আলোকে মূল্যায়ন কর ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ফারগব' আরবি শব্দটির বাংলা অর্থ হলো- "অনন্তর মনোনিবেশ করুন।”

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
645
উত্তরঃ

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আত্-তীনের ৪নং আয়াতে বলেছেন, "আমি মানুষকে সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি।” মানুষকে সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করা আল্লাহর অপার অনুগ্রহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ শুধু মানুষকে সৃষ্টির সেরা বলেই শেষ করেননি, বরং আকৃতি ও কাজে তাকে সেরা হওয়ার যোগ্যতাও দান করেছেন। পৃথিবীর সকল সৃষ্ট জীবের মধ্যে মানুষের গড়নের অবকাঠামো অত্যন্ত চমৎকার ও শৈল্পিক। তাই তাঁর এ অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা জানাতে মানুষকে তাঁরই ইবাদতে ব্রতী হওয়া উচিত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
3.7k
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা সূরা মাউনের ৫-৭নং আয়াতে ঘোষণা করেন- "সুতরাং দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন, যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে।”

উদ্দীপকে সাজিব সালাত আদায়ে চরম অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা সালাতের ক্ষেত্রে সতর্ক ও সচেতন থাকতে বলেছেন। সালাতকে হিফাজত করতে বলেছেন। তিনি বলেন, “তোমরা সালাতকে হিফাজত কর বিশেষত মধ্যবর্তী সালাত।” মহানবি (স.) সালাতের জন্য বারবার তাগিদ করেছেন, এমনকি তিনি (স.) বলেছেন, "আজান শোনার পরও যারা ঘরে ও বসে থাকে আমার ইচ্ছে হয় ঐসব ঘর জ্বালিয়ে দিই।” 

এত জোর তাগিদ থাকা সত্ত্বেও সাজিব সালাতে অবহেলা করে। তার এরূপ সালাত আদায় দ্বারা মুনাফিকদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। কারণ মুনাফিকরাও এভাবে অবহেলার সাথে সালাতে দাঁড়াত। তাদের সালাত আদায় ছিল লোক দেখানো, সেখানে আন্তরিকতার কোনো ছোঁয়া ছিল না। সাজিবের অবস্থাও তাদের মতো। 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.1k
উত্তরঃ

সাজিদ এলাকার যুবকদের সত্য কথা বলতে ও নিয়মিত সালাত আদায় করতে আহ্বান জানালে কতিপয় যুবক তাকে কটূক্তি করে এবং নানাভাবে অত্যাচার করে। চরম অত্যাচারের এক পর্যায়ে সাজিদ তার শিক্ষককে বিষয়টি জানালে তিনি তাকে সূরা ইনশিরাহ্-এর একটি আয়াত পড়ে শোনান। যার অর্থ হলো- 'নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।' অর্থাৎ কষ্টের পরই সুখ ও শান্তি আসবে। তাই কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাঁর সাহায্য চাইতে হবে।

আমরা সূরা আল্-ইনশিরাহ-এর মাধ্যমে এমনটি শিক্ষা পাই। আমাদের প্রিয়নবি মুহাম্মদ (স.) ও দীনের দাওয়াত দিতে গিয়ে মক্কার ও তায়েফের কাফির ও মুশরিকদের দ্বারা নানাভাবে অত্যাচারিত হয়েছিলেন। মক্কার কাফিররা তাঁকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করেছিল। কবি, পাগল, যাদুকর ইত্যাদি অভিধায় ডেকে তাঁকে মানসিক নির্যাতন করেছিল। সর্বোপরি তারা 'শিয়াবে আবু তালেব' এ অবরোধ করে মানবতার প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করতেও কুণ্ঠিত হয়নি। তায়েফে কাফিররা তাঁকে জখম করে রক্তাক্ত করেছিল।

এতসব নির্যাতনের পরও রাসুল (স.) দীনের দাওয়াত দিতেছিলেন কুণ্ঠাহীন ও নির্ভীক। এমনি কঠিন মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা সূরা আল ইনশিরাহ নাজিল করে রাসুলকে সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং অচিরেই, ইসলামের বিজয় হবে মর্মে ইঙ্গিত প্রদান করেন।

তাই সাজিদের জন্য সান্ত্বনা ও সুসংবাদ হলো নির্যাতন পর্বের পরেই বিজয় আসে। সেজন্য ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
867
উত্তরঃ

হারাম ইসলামি শরিয়তের একটি পরিভাষা। এর অর্থ নিষিদ্ধ, অবৈধ, গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা। তিনি জানেন আমাদের জন্য কোনটি কল্যাণকর এবং কোনটি অকল্যাণকর। হারাম ঘোষণার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের জন্য অকল্যাণকর বিষয়গুলো চিহ্নিত করে দিয়েছেন। তাই হারাম মুসলমানের জন্য অবশ্যই বর্জনীয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews