পৃথিবীর মতো শুক্রের একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে; কিন্তু এতে অক্সিজেন নেই। সেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ প্রায় শতকরা ৯৬ ভাগ। আর গ্রহটিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের ঘন মেঘের কারণেই সেখানে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে।
সূর্য থেকে বৃহস্পতি গ্রহের অবস্থান পঞ্চম স্থানে। কিন্তু বৃহস্পতি ১২ বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ বৃহস্পতি। আর তাই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির অধিক সময় প্রয়োজন হয়।
ট্রপোমণ্ডলের ঊর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপস বলে। এ স্তরের গভীরতা সরু। তবে এখানে বায়ু স্থির এবং ঝড়বৃষ্টির প্রাদুর্ভাব থাকে না। আর এটাই হচ্ছে ট্রপোপস দিয়ে বিমান চলাচল করার কারণ।
বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের একটি স্তর আছে যা ওজোন স্তর নামে পরিচিত। এ স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। আর তাই ওজোন স্তরের তাপমাত্রা অধিক হয়।
পৃথিবীর চারদিকে বিস্তৃত রয়েছে মহাকাশ। মহাকাশে রয়েছে নক্ষত্র, ছায়াপথ, নীহারিকা, ধূমকেতু, গ্রহ, উপগ্রহ, উল্কা ও অন্যান্য জ্যোতিষ্ক। মহাকাশের এই অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বজগৎ।
সূর্য বিশ্বজগতের একটি, নক্ষত্র। সূর্য এবং এর গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, তাসংখ্য ধূমকেতু ও অগণিত উল্কা নিয়ে সৌরজগৎ বা সৌরপরিবার গঠিত। সৌরজগতের সকল গ্রহ ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক হলো সূর্য।
প্রহ ও উপগ্রহসমূহ সূর্য ও নিজেদের পারস্পরিক মহাকর্ষণ শক্তির দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথে নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিক পরিক্রমণ করছে এজন্য সূর্যকে সৌরজগতের সকল গ্রহ ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক বলা হয়।
সূর্য এবং এর গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু, উল্কা প্রভৃতি নিয়ে যে পরিবার তাকে বলা হয় সৌরজগৎ। সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র হলো সূর্য। সৌরজগতে ৮টি গ্রহ, শতাধিক উপগ্রহ, হাজার হাজার গ্রহাণুপুঞ্জ ও লক্ষ লক্ষ ধূমকেতু রয়েছে।
সূর্য একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। সূর্য পৃথিবী অপেক্ষা ১৩ লক্ষ গুণ বড়। পৃথিবী থেকে এটি প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। সূর্যের উপরিভাগের উষ্ণতা ৫৭,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবী ছাড়াও অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহগুলোর তাপ ও আলোর উৎস হলো. সূর্য। সূর্যের শতকরা ৫৫ ভাগ হাইড্রোজেন, ৪৪ ভাগ হিলিয়াম এবং ১ ভাগ অন্যান্য গ্যাস নিয়ে সূর্য গঠিত।
সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক (Sun Spot) বলে। সূর্যের অন্যান্য অংশের চেয়ে সৌরকলঙ্কের উত্তাপ কিছুটা কম থাকে।
সূর্যের শতকরা ৫৫ ভাগ হাইড্রোজেন, ৪৪ ভাগ হিলিয়াম এবং ১ ভাগ অন্যান্য গ্যাস নিয়ে সূর্য গঠিত। আণবিক শক্তি সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় সূর্যে অনবরত হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম এবং হিলিয়াম থেকে শক্তি তৈরি হচ্ছে।
মহাকর্ষ বলের প্রভাবে কতকগুলো জ্যোতিষ্ক সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিক্রমণ করছে; এদের গ্রহ বলা হয়। গ্রহের নিজস্ব আলো ও তাপ নেই। সৌরজগতে গ্রহের সংখ্যা ৮টি।
সৌরজগতে ৮টি গ্রহ রয়েছে। সূর্য থেকে গ্রহগুলোর দ্রুত্ব অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে অবস্থান করছে- বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) ও নেপচুন (Neptune)। গ্রহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং সবচেয়ে ছোট বুধ।
বুধ গ্রহ সম্পর্কে দুটি বাক্য নিম্নরূপ-
১. বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
২. বুধ গ্রহের ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার এবং ওজন পৃথিবীর ৫০ ভাগের ৩ ভাগের সমান।
শুক্র গ্রহে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘন মেঘের কারণে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে। শুক্রের আয়তন ৪৬০,২৩০,০০০ বর্গ কি. মি. এবং ব্যাস ১২১০৪ কি. মি.।
সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ হলো পৃথিবী। পৃথিবীর আয়তন ৫১০,১০০,৪২২ বর্গ কিলোমিটার। পূর্ব-পশ্চিমে এর ব্যাস ১২,৭৫২ কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে ১২,৭০৯ কিলোমিটার।
জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য আদর্শ গ্রহ হলো পৃথিবী। 'কারণ একমাত্র পৃথিবীতে জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পানি এবং প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে।
সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবীর পরেই মঙ্গল গ্রহের স্থান। মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এ গ্রহের পাথরগুলোতে মরিচা পড়েছে। পাথরে মরিচা পড়ার কারণে মঙ্গল গ্রহটি লালচে বর্ণ ধারণ করেছে।
সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ বৃহস্পতি। বৃহস্পতির আয়তন ৬১,৪১৯,০০০,০০০ বর্গ কি.মি. যা পৃথিবীর তুলনায় ১৩০০ গুণ বেশি। এর ব্যাস ১.৩৯.৮২২ কিলোমিটার।
সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ বৃহস্পতি। বৃহস্পতি গ্রহের ৬৭টি উপগ্রহ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে লো, ইউরোপা, গ্যানিমেড ও ক্যাপলিস্টো উপগ্রহগুলো প্রধান।
শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। এর আয়তন ৪২,৭০০,০০০,০০০ বর্গ কি. মি. এবং ব্যাস ১১৬,৪৬৪ কি. মি.। পৃথিবীর চেয়ে শনির ব্যাস প্রায় ৯০০ গুণ বড়। খালি চোখে শনি গ্রহ দেখা যায়।
১.৬ কিলোমিটার থেকে ৮০৫ কিলোমিটার ব্যাস সম্পন্ন গ্রহাণুগুলোকে একত্রিতভাবে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে। মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাবোর পরিসরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহাণু একত্রে পুঞ্জীভূত হয়ে পরিক্রমণ করছে। এই পরিসরের মধ্যে আর কোনো গ্রহ নেই।
পৃথিবীর চারদিকে নানা প্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা বেষ্টিত। অদৃশ্য এই প্যাসীয় আবরণ যা পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে। তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষণে বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেপ্টে আছে। আর পৃথিবীর সঙ্গে আর্তিত হচ্ছ। বায়ুর চাপের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠে এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং উপরের দিকে ঘনত্ব খুবই কম।
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের প্রাধান্য রয়েছে। সকল - প্রাণীর জন্য অক্সিজেন অত্যাবশ্যক। কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়া অন্যান্য উপাদান বায়ুতে মোটামুটি অপরিবর্তনীয় পরিমাণে থাকে। তবে ধুলা, ধোঁয়া, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি উপাদান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিমাণে থাকে। পৃথিবীর সমস্ত জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব অপরিসীম। বায়ুমণ্ডল সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে প্রাণিকূলকে রক্ষা করে। সূর্যের গ্যাসীয় উপাদান, যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ও তাক্সিজেন (O2) যথাক্রমে উদ্ভিদ ও প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখে।
ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন.. বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর হলো ট্রপোমণ্ডল। এ" স্তরটির গড় গভীরতা প্রায় ১৩ কি.মি.। এটি মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় স্তর। কেননা, আর্দ্রতা, কুয়াশা, মেঘ, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি এই স্তরে লক্ষ করা যায়। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ স্তরের বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। বায়ুমণ্ডলের এ স্তরে ঘটে থাকে।
বায়ুমণ্ডলে ওজোন (Ozone) গ্যাসের একটি স্তর আছে, যা ওজোন স্তর নামে পরিচিত। এর গভীরতা প্রায় ১২-১৬ কি.মি.। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করায় এর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে প্রায় ৪০° (চল্লিশ ডিগ্রি) সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। এ স্তরটি পৃথিবীকে প্রাণিজগতের ( বাস উপযোগী করেছে।
পৃথিবীতে মানুষের কর্মকাণ্ড বায়ুমণ্ডলের গঠন ও উপাদানে পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। ব্যাপকভাবে গাছপালা কেটে ফেলা, কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং জ্বালানি তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করে। প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই বায়ুমণ্ডলকে বিশুদ্ধ রাখা দরকার।
জীবজন্তুর বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন প্রচুর আলো, বাতাস ও পানি। পৃথিবী পৃষ্ঠে গড় তাপমাত্রা ১৩.৯০° সেলসিয়াস। ভূত্বকে রয়েছে প্রয়োজনীয় পানি। সূর্য থেকে যে তাপ ও আলো পৃথিবীতে পৌছে তাও জীবজন্তুর জন্য সহনীয়। জীবজন্তুর ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য এগুলোও উপযোগী ও প্রয়োজনীয়। এজন্য পৃথিবীতে জীবজন্তু বসবাস করতে পারে।
পৃথিবী সূর্য থেকে আলো ও তাপ পায়। সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবী চির অন্ধকারে থাকত। পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্দন থাকত না এবং জীবজগৎ উদ্ভিদ ও প্রাণী কিছুই বাঁচত না। সূর্যের গ্যাসীয় উপাদান যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ও অক্সিজেন (O2) যথাসময়ে উদ্ভিদ ও প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখে।
ভূ-অভ্যন্তরে ভূ-কম্পীয় তরঙ্গের গতি ও প্রকৃতির তারতম্য লক্ষ করে ভূ-তত্ত্ববিদগণ ভূ-অভ্যন্তরকে তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন। এ স্তরগুলো হলো- ১. কেন্দ্রমণ্ডল, ২. গুরুমণ্ডল এবং ৩. অশ্মমণ্ডল।
গোলাকার পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৩৭১ কি.মি.। পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে প্রায় ৩৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের একটি গোলক রয়েছে। এ গোলকটিকে কেন্দ্রমণ্ডল বলে।
বৈজ্ঞানিকদের মতে, কেন্দ্রমণ্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সিস্রা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ দ্বারা গঠিত। এ স্তরে নিকেল (Nickcl) ও লৌহের (Ferus) পরিমাণ বেশি থাকায় এ স্তরটি সংক্ষেপে নাইফ (Nifc) নামে পরিচিত।
ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে বুঝা যায়, কেন্দ্রমণ্ডল দুটি অংশে বিভক্ত। একটি বাইরের অংশ এবং অন্যটি ভেতরের অংশ। বাইরের অংশ তরল এবং ভেতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে বলে অনুমান করা হয়। কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশের বিস্তৃতি প্রায় ২২৭০ কি.মি. এবং ভেতরের, অংশটি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১২১৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের মধ্যে কঠিন অবস্থায় আছে।
কেন্দ্রমণ্ডলের উপর থেকে চতুর্দিকে প্রায় ২৮৮৫ কি. মি. পর্যন্ত মণ্ডলটিকে গুরুমণ্ডল বলে। সিলিকন, ম্যাগনেশিয়াম প্রভৃতি ভারী ধাতুগুলোর সংমিশ্রণে এ মন্ডলটি গঠিত।
গুরুমণ্ডলের উপরাংশে ১৪৪৮ কি.মি. স্তরে ব্যাসল্ট জাতীয় উপাদান দ্বারা গঠিত বলে একে ব্যাসপ্ট অঞ্চল বলে। পৃথিবীর গুরুমণ্ডল সিলিকন (Silicon) ও ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium) দ্বারা গুরুমণ্ডলটি গঠিত বলে একে সিমা (Sima) বলে।
অশ্বমণ্ডল নানা প্রকার শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত। এ স্তরে সিলিকন (Silicon) ও অ্যালুমিনিয়াম (Aluminum) এর পরিমাণ বেশি থাকে তাই এটাকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে।
অশ্বমণ্ডল নানা প্রকার শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত। যেসব উপাদানে এ স্তর গঠিত তাদের মধ্যে অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য।
পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য পূর্ব-পশ্চিমে এবং উত্তর-দক্ষিণে কতকগুলো কাল্পনিক রেখা অঙ্কন করা হয়। এগুলোকে যথাক্রমে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা বলে। কোনো স্থানের অবস্থান অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে জানা যায়।
পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বলে। এ অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ-প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বলা হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য পূর্ব-পশ্চিমে যে কতকগুলো কাল্পনিক রেখা অঙ্কন করা হয়. তাকে অক্ষরেখা বলে।
পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য পূর্ব-পশ্চিমে যে কতকগুলো কাল্পনিক রেখা অঙ্কন করা হয় তাকে অক্ষরেখা বলে। অক্ষরেখাগুলো পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এবং পরস্পর সমান্তরাল। এ কারণে প্রত্যেকটি অক্ষরেখাকে সমাক্ষরেখাও বলা হয়।
দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা। পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য এ রেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলা হয়।
নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই ভাগে ভাগ করেছে। নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।
পৃথিবীর বৃত্তের মোট পরিধি হলো -৩৬০°। এই পরিধির কোণকে ডিগ্রি (°); মিনিট (') ও সেকেণ্ডে ('') বিভক্ত করা হয়। নিরক্ষরেখা থেকে প্রত্যেক মেরুর কৌণিক দূরত্ব ৯০°।
অক্ষরেখাগুলো পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এবং পরস্পর সমান্তরাল। এ কারণে প্রত্যেকটি অক্ষরেখাকে সমাক্ষরেখাও বলা হয়। প্রত্যেক অক্ষরেখা একটি পূর্ণবৃত্ত।
বিখ্যাত অক্ষরেখা হলো- ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ বা কর্কটক্রান্তি, ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ বা মকরক্রান্তি, ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশ বা সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ বা কুমেরুবৃত্ত।
নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলা হয়। সর্বোচ্চ অক্ষাংশ ৯০°। একই অক্ষরেখায় অবস্থিত সকল স্থানের অক্ষাংশ ও একই। ০° থেকে ৩০° পর্যন্ত অক্ষাংশকে নিম্ন অক্ষাংশ, ৩০° থেকে ৬০° পর্যন্ত অক্ষাংশকে মধ্য অক্ষাংশ এবং ৬০° থেকে ৯০° পর্যন্ত অক্ষাংশকে উচ্চ অক্ষাংশ বলে।
নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগের উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে রেখাগুলো কল্পনা করা হয়েছে তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে। দ্রাঘিমারেখাকে মধ্যরেখাও বলা হয়। দ্রাঘিমারেখাগুলো অর্ধবৃত্ত এবং সমান্তরাল নয়। প্রত্যেকটি দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে। এই রেখার মান ০ (শূন্য) ডিগ্রি ধরা হয়েছে।
পৃথিবী গোলাকার এবং নিজ অক্ষ বা মেরুরেখার চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে অনবরত আবর্তন করছে। ফলে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থান ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সূর্যের সামনে উপস্থিত হয়। যে সময়ে কোনো স্থানের মধ্যরেখা সূর্যের ঠিক সামনে আসে অর্থাৎ ঐ স্থানে সূর্যকে ঠিক মাথার উপর দেখা যায়, তখন ঐ স্থানে মধ্যাহ্ন হয়।
কোনো স্থান গ্রিনিচের পূর্বে হলে তার স্থানীয় সময় গ্রিনিচের সময় থেকে বেশি হবে এবং কোনো স্থান পশ্চিমে হলে তার স্থানীয় সময় গ্রিনিচের সময় থেকে কম হবে।
প্রতিদিন পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে তার নিজ মেরুরেখার উপর আবর্তিত হচ্ছে। ফলে পূর্বদিকে অবস্থিত স্থানগুলোতে আগে সূর্যোদয় ঘটে।
১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট।
৪° “ ” “ ” (৪ ৪) মিনিট = ১৬ মিনিট
১' দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ সেকেন্ড
৪৫' “ ” “ ” (৪ ৪৫) সেকেন্ড
= ১৮০ সেকেন্ড = ৩ মিনিট
∴ ৪°৪৫′ দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য (১৬+৩) = ১৯ মিনিট।
১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের 'পার্থক্য ঘটে ৪ মিনিট
∴ ১০° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ঘটে (৪১০) = ৪০ মিনিট
দ্রাঘিমা পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে গেলে সময় কমে।
∴ স্থানটির সময় (১২টা - ৪০ মিনিট) = ১১টা ২০ মিনিট।
১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট।
১২° “ ” “ ” (৪ ১২) মিনিট = ৪৮ মিনিট
১' দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ সেকেন্ড
৩০' “ ” “ ” (৪ ৩০) সেকেন্ড
= ১২০ সেকেন্ড
= ২ মিনিট
∴ ১২°৩০' দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য (৪৮+২) = ৫০ মিনিট।
১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট।
২০° “ ” “ ” (৪ ২০) মিনিট
= ৮০ মিনিট
= ১ ঘন্টা ২০ মিনিট
৪ মিনিট সময়ের পার্থক্যে দ্রাঘিমার ব্যবধান ১ ডিগ্রি
১ “ ” “ ” " = ডিগ্রি
৮ “ ” “ ” " = ডিগ্রি
= ২ ডিগ্রি
∴ পঞ্চগড়ের দ্রাঘিমা = (৯০ - ২) = ৮৮ ডিগ্রি
'X' ও 'Y' স্থান দুটির দ্রাঘিমার ব্যবধান হবে (৮০° + ৮০°) = ১৬০°
১° দ্রাঘিমা পরিবর্তনে সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট।
∴ ১৬০° “ ” “ ” = (৪ ১৬০)
= ৬৪০ মি.
= ১০ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।
মেক্সিকো এবং উইলি দীপপুঞ্জের আবস্থান যথাক্রমে ১০৫° পশ্চিম ও ৭৫° পশ্চিম।
∴ স্থান দুটির দ্রাঘিমার পার্থক্য = (১০৫ - ৭৫)° = ৩০°
আমরা জানি, ১° দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের পার্থক্য = ৪ মিনিট
∴ ৩০° “ ” “ ” = (৩০ ৪) মিনিট
= ১২০ মি.
= ২ ঘণ্টা
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কোনো স্থানে যখন সূর্য ঠিক মাথার উপর আসে বা সর্বোচ্চে অবস্থান করে তখন এ স্থানে মধ্যাহ্ন এবং স্থানীয় ঘড়িতে তখন বেলা ১২টা ধরা হয়। এ মধ্যাহ্ন সময় থেকে দিনের অন্যান্য সময় স্থির করা হয়। একে কোনো স্থানের স্থানীয় সময় বলা হয়।
প্রত্যেক দেশে সেই দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী যে সময় নির্ণয় করা হয় সে সময়কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় বলে। অনেক বড় দেশ হলে কয়েকটি প্রমাণ সময় থাকে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের চারটি এবং কানাডাতে পাঁচটি প্রমাণ সময় রয়েছে।
দ্রাঘিমারেখার উপর মধ্যাহ্ন সূর্যের অবস্থানের সময়কালকে দুপুর ১২টা ধরে স্থানীয় সময় নির্ধারণ করলে একই দেশের মধ্যে সময় গণনার বিভ্রাট হয়। সেজন্য প্রত্যেক দেশের একটি প্রমাণ সময় নির্ণয় করা হয়।
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা ৬ ঘণ্টা অগ্রবর্তী। ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগে অবস্থিত। এ কারণে এ দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে বাংলাদেশের প্রমাণ সময় ধরে কাজ করা হয়।
ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত কোনো বিন্দুর বিপরীত বিন্দুকে সেই বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলে। প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণভাবে একে অন্যের বিপরীত দিকে থাকে। প্রতিপাদ স্থান নির্ণয় করার জন্য ভূপৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে একটি কল্পিত রেখা টানা হয়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ জানা থাকলে তার প্রতিপাদ স্থানেরও অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। কোনো স্থানের অক্ষাংশ যত ডিগ্রি, এর প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ তত ডিগ্রি হবে। স্থান দুটি একটি নিরক্ষরেখার উত্তরে ও অপরটি দক্ষিণে অবস্থিত হবে। দুটি স্থান দুই গোলার্ধে হবে।
সপ্তাহের দিন ও বার নির্ণয়জনিত সমস্যা সমাধানের জন্য ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখাকে অবলম্বন করে সম্পূর্ণভাবে জলভাগের উপর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে প্রসারিত একটি রেখা কল্পনা করা হয়। এ কল্পিত রেখাটিকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে।
ক ও খ স্থান দুটির দ্রাঘিমার পার্থক্য (৮০-৫০) = ৩০ ডিগ্রি
১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট
∴ ৩০° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় (৪ ৩০) মিনিট
= ১২০ মিনিট = ২ ঘণ্টা।
ক স্থানের স্থানীয় সময় ১০টা ২০ মিনিট হলে খ স্থানের স্থানীয় সময় হবে (১০টা ২০ মিনিট + ২ ঘণ্টা) = ১২টা ২০ মিনিট।
M ও N স্থান দুটির দ্রাঘিমার পার্থক্য (৪০ + ৫০) = ৯০ ডিগ্রি
১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট
∴ ৯০° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় (৪ ৯০) মিনিট
= ৩৬০ মিনিট = ৬ ঘণ্টা।
∴ M স্থানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা হলে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় হবে (সকাল ১১টা - ৬ ঘণ্টা) ভোর ৫টা।
ক ও খ স্থান দুটির দ্রাঘিমার পার্থক্য (১০৫-৫৬)° = ৪৯°
১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট
∴ ৪৯° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় (৪ ৪৯) মিনিট
= ১৯৬ মিনিট = ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট
∴ ক স্থানের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা হলে খ স্থানের স্থানীয় সময় হবে (৭টা + ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট) = ১০টা ১৬ মিনিট।
মহাকর্ষ শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী নিজ অক্ষে আবর্তন করছে ও নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করছে। এটিই পৃথিবীর গতি।
পৃথিবী নিজ অক্ষে বা মেরুরেখায় পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করছে। এভাবে আবর্তন করতে পৃথিবীর প্রায় ২৪ ঘণ্টা বা একদিন সময় লাগে। নির্দিষ্টভাবে এ সময় হলো ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। পৃথিবীর এ গতিকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি (Diurnal Motion) বলে।
নিজ অক্ষে বা মেরুরেখায় পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করতে পৃথিবীর প্রায় ২৪ ঘণ্টা বা একদিন সময় লাগে। নির্দিষ্টভাবে এ সময় হলো ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনের এ সময়কালকে সৌরদিন বলে।
পৃথিবী গোলাকার বলে সূর্যের আলো একই সময়ে ভূপৃষ্ঠের সকল অংশে পড়ে না। আবর্তনের সময় যে অংশে আলো পড়ে সে অংশে দিন এবং যে অংশে অন্ধকার থাকে সে অংশে রাত হয়। এভাবেই দিন-রাত হয়ে থাকে।
আহ্নিক গতির ফলে দিন ও রাত হয় এবং সময় গণনা করা যায়। এছাড়া আহ্নিক গতির ফলে চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে পৃথিবীতে জোয়ার ও ভাটা হয়। আহ্নিক গতি সমুদ্রস্রোত ও বায়ুপ্রবাহের উপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে।
পৃথিবী নিজ অক্ষে অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে, নির্দিষ্ট দিকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করছে। পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে, পৃথিবীর এই পরিক্রমণকে বার্ষিক গতি (Annual Motion) বলে।
পৃথিবী প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। সূর্যকে পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর এক বছর সময় লাগে। এ সময়কে সৌরবছর বলা হয়। নির্দিষ্টভাবে এ সময় হলো ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। কিন্তু ৩৬৫ দিনে সৌরবছর গণনা করা হয়।
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে পৃথিবীর ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু ৩৬৫ দিনে ১ বছর ধরা হয়। এজন্য অতিরিক্ত সময়গুলো সমন্বয় করার জন্য প্রতি চার বছরে একদিন বাড়িয়ে খ্রিষ্টীয় চতুর্থ বছর ৩৬৬ দিনে গণনা করা হয়। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিনে ধরা হয়। এরূপ বছরকে অধিবর্ষ বা লিপইয়ার (Leap Year) বলে।
নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে এক. সৌরবছরের সময় হলো ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। কিন্তু ৩৬৫ দিনে সৌরবছর গণনা করা হয়। তাই প্রতি চার বছরে একদিন বাড়িয়ে খ্রিস্টীয় চতুর্থ বছর ৩৬৬ দিনে বছর গণনা করা হয়।
বছরের বিভিন্ন সময়ের দিন ও রাতের সময়ের ব্যবধান হয়। অর্থাৎ কোনো সময় দিন বড় থাকে আবার কোনো সময় রাত বড় থাকে। বার্ষিক গতির ফলে এই তারতম্য ঘটে।
২১শে জুনের পর সূর্য আর উত্তর গোলার্ধের দিকে সরে না, দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরতে থাকে। সূর্যের এই অস্থানকে উত্তর অয়নান্ত বলে। ২২শে ডিসেম্বরের পর সূর্য আর দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরে না, উত্তর গোলার্ধের দিকে সরতে থাকে। সূর্যের এই অস্থানকে দক্ষিণ অয়নান্ত বলে।
বছরের বিভিন্ন সময়ে ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র তাপের তারতম্য হয় এবং ঋতু পরিবর্তন ঘটে। পৃথিবীতে সময়ভেদে তাপমাত্রার পার্থক্য বা পরিবর্তনকে ঋতু পরিবর্তন বলে। সূর্যকে পরিক্রমণকালে পৃথিবীর চারটি অবস্থান থেকে ঋতু পরিবর্তনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
২১ জুন সূর্যের উত্তরায়নের শেষদিন। এদিন সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে পতিত হয়। ফলে ঐদিন এখানে দীর্ঘতম দিন এবং ক্ষুদ্রতম রাত হয়। ২১ জুনের দেড় মাস পূর্ব থেকে দেড় মাস পর পর্যন্ত মোট তিন মাস উত্তর গোলার্ধে উত্তাপ বেশি থাকে। এ সময় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল। এ সময়ে সূর্যের তির্যক কিরণের জন্য দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট ও রাত বড় হয় বলে সেখানে তখন শীতকাল হয়।
২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধে শীতকাল থাকে। কারণ: ২২ ডিসেম্বর পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি হেলে থাকে। এদিন সূর্য মকরক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে সেখানে দিন বড় ও রাত ছোট হয়। এ তারিখের দেড় মাস পূর্বে ও পরে দক্ষিণ্ণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং উত্তর গোলার্ধে বিপরীত কারণে শীতকাল থাকে।
পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পতিত হয়। ফলে তাপমাত্রার পার্থক্য ঘটে এবং ঋতু পরিবর্তন হয়! বার্ষিক গতির ফলে দিন ও রাতের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কোনো স্থানে দিবাভাগের পরিমাণ রাতের পরিমাণ হতে দীর্ঘ হলে সেই স্থানে বায়ুমণ্ডল অধিকতর উষ্ণ থাকে। এভাবে বছরের বিভিন্ন সময় ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র তাপের তারতম্য হয় এবং ঋতু পরিবর্তন ঘটে। তাছাড়া সূর্যরশ্মি পতনে কৌণিক তারতম্য ঘটার কারণেও ঋতুর পরিবর্তন ঘটে।
২২ ডিসেম্বর পৃথিবী এমন এক অবস্থানে পৌঁছে যখন দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি হেলে থাকে। এদিনে সূর্যকিরণ মকরক্রান্তি রেখায় লম্বভাবে পতিত হয়। অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু সূর্যের সচেয়ে কাছাকাছি আছে। তাই ওই দিন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড়দিন হয়।
পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার বলে পরিক্রমণকালে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে না। জানুয়ারির ১ থেকে ৩ তারিখে সূর্য পৃথিবীর নিকটতম অবস্থানে থাকে। একে পৃথিবীর অনুসূর (Poriholion) বলে।
পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার বলে পরিক্রমণকালে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে না। জুলাই-এর ১ থেকে ৪ তারিখে সূর্য পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে। একে পৃথিবীর অপসূর (Aphelion) বলে।
পৃথিবীর বিভিন্ন সাগর-মহাসাগরে সমুদ্রস্রোত ছাড়াও পানিরাশির নিজস্ব গতি আছে। এর ফলে প্রতিদিনই কিছু সময় সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠে ফলে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। সমুদ্রের পানি এভাবে নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার (High Tide) বলে।
পৃথিবীর বিভিন্ন সাগর মহাসাগরে সমুদ্রস্রোত ছাড়াও পানিরাশির নিজস্ব গতি আছে। এর ফলে প্রতিদিনই কিছু সময় সমুদ্রের পানি কিছু সময়ের জন্য নেমে যায়। সমুদ্রের পানি এভাবে নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে।
পৃথিবী ও চন্দ্রের আবর্তনের জন্য ভূপৃষ্ঠের তরল ও হালকা জলরাশির ওপর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব অধিক হয়। এর ফলেই জলরাশি সর্বদা বাইরে নিক্ষিপ্ত হয় এবং তরল জলরাশি কঠিন ভূ-ভাগ হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। এমনিভাবে কেন্দ্রাতিগ শক্তি জোয়ার-ভাটা সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
পৃথিবীর বিভিন্ন সাগর মহাসাগরে সমুদ্রস্রোত ছাড়াও, পানিরাশির নিজস্ব গতি আছে। এর ফলে প্রতিদিনই কিছু সময় সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠে ফলে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। আবার কিছু সময়ের জন্য তা নেমে যায়। সমুদ্রের পানি এভাবে নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
পৃথিবীর নিজের গতি এবং তার উপর চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই মূলত জোয়ার ভাটা সংঘটিত হয়। অর্থাৎ, পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি ও পৃথিবীর ওপর চন্দ্র সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা হয়।
এই মহাবিশ্বের যেকোনো পদার্থের আকর্ষণ শক্তি আছে। একটি বস্তু অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে। মহাবিশ্বের দুটি বস্তুর মধ্যে পরস্পর আকর্ষণ শক্তিকে মহাকর্ষ শক্তি বা মহাকর্ষণ বলে।
মহাকর্ষ শক্তির ফলে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে এবং চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। যে বস্তু যত বড় তার আকর্ষণ শক্তি তত বেশি। কিন্তু দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে আকর্ষণ শক্তি কমে যায়। পৃথিবী এবং এর নিকটতম যেকোনো বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণকে মাধ্যাকর্ষণ বলে। একে অভিকর্ষণও বলা হয়।
পৃথিবী তার অক্ষ বা মেরুদণ্ডের ওপর থেকে চারদিকে দ্রুত বেগে ঘুরছে বলে তার পৃষ্ঠ থেকে তরল পানিরাশি চতুর্দিকে ছিটকে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। একেই কেন্দ্রাতিগ শক্তি (Centrifugal Force) বলে।
জোয়ার-ভাটাকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- ১. প্রত্যক্ষ জোয়ার বা মুখ্য জোয়ার, ২. গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার, ৩. তেজ কটাল বা ভরা কটাল ও ৪. মরা কটাল।
চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। চাঁদের এই আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের নিকটবর্তী হয় সেখানে চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। ফলে পার্শ্ববর্তী স্থান হতে পানি এসে ঠিক চন্দ্রের নিচে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। একে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে।
মুখ্য জোয়ারের বিপরীত দিকে কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। ফলে দুই দিকের পানি সে স্থানে প্রবাহিত হয়ে যে জোয়ারের-সৃষ্টি করে, তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।
অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে' সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে মুখ্য জোয়ার হওয়ার ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পরে সেখানে গৌণ জোয়ার হয়, এবং মুখ্য জোয়ারের ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট পর সেখানে আবার মুখ্য' জোয়ার হয়। এভাবে, প্রত্যেক স্থানে জোয়ার শুরুর ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পরে ভাটা হয়ে থাকে।
সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক বলে।
সূর্য এবং এর গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু, উল্কা প্রভৃতি নিয়ে সূর্যের যে পরিবার তাকে বলা হয় সৌরজগৎ।
মহাকর্ষ বলের প্রভাবে যেসব জ্যোতিষ্ক সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিগমন করছে, এদের গ্রহ বলা হয়।
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝের পরিসরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহাণু একত্রে পুঞ্জীভূত হয়ে পরিক্রমণ করছে। এ পরিসরের মধ্যে আর কোনো গ্রহ নেই। ১.৬ কিলোমিটার থেকে ৮০৫ কিলোমিটারের ব্যাসসম্পন্ন গ্রহাণুগুলোকে একত্রিতভাবে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র হলো সূর্য।
সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহের নাম বুধ।
তিনটি উজ্জ্বল বলয় শনিকে বেষ্টন করে আছে।
সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ হলো বৃহস্পতি।
শুক্র গ্রহের আকাশে বছরে দুইবার সূর্য উদিত হয়।
পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র।
মঙ্গল গ্রহের দুটি উপগ্রহ আছে।
সূর্যের উপরিভাগের উষ্ণতা ৫৭,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবীর পরেই মঙ্গল গ্রহর স্থান। সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে গ্রহগুলো হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন।
সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা প্রায় ২.৬০ কোটি গুণ বড়।
নেপচুন গ্রহ নীলাভ বর্ণের।
মহাকর্ষ বলের প্রভাবে যেসব জ্যোতিষ্ক সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিগমন করছে, এদের গ্রহ বলা হয়।
সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক বলে।
সৌরজগতের ৮টি গ্রহ আছে।
সৌরজগতের সকল গ্রহ ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক হলো সূর্য।
সূর্য পৃথিবী অপেক্ষা ১৩ লক্ষ গুণ বড়।'
পৃথিবী থেকে সূর্য প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবীর পর মঙ্গলের অবস্থান।
শুক্রের আয়তন ৪৬০,২৩০,০০০ বির্গ কি. মি.।
পৃথিবীর আয়তন ৫১০,১০০,৪২২ বর্গ কিলোমিটার।
সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
মঙ্গল গ্রহের ব্যাস ৬,৭৭৯ কিলোমিটার।
বৃহস্পতির উপগ্রহ ৬৭টি।
সূর্য থেকে শনির দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
নেপচুনের আয়তন ১৭,৬১৮,৩০০,০০০ বর্গ কি. মি.।
অদৃশ্য যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
সকল প্রাণীর জন্য অক্সিজেন অত্যাবশ্যক।
ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন স্তর হলো ট্রপোমণ্ডল।
ট্রপোমণ্ডলের ঊর্ধ্বসীমাকে ট্রপোসক বলে।
বায়ুমণ্ডলের ওজোন গ্যাসের গভীরতা প্রায় ১২-১৬ কি.মি.।
গুরুমন্ডলের উপরাংশকে ব্যাসল্ট অঞ্চল বলে।
কেন্দ্রমন্ডলের ওপর থেকে চতুর্দিকে প্রায় ২৮৮৫ কি. মি. পর্যন্ত মণ্ডলটিকে গুরুমণ্ডল বলে।
ভূ-তত্ত্ববিদগণ ভূ-অভ্যন্তরকে তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন।
পৃথিবীর যে কেন্দ্রের চারদিকে প্রায় ৩৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের গোলক রয়েছে সে গোলকটির নাম কেন্দ্রমণ্ডল।
গুরুমন্ডলের উপরের অংশকে অশ্বমণ্ডল বা শিলামণ্ডল বলা হয়।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে গ্রিনিচ মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে।
দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেস্টন করে যে রেখা কল্পনা করা হয় তা নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা।
পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ বা মেরু রেখা বলে।
সর্বোচ্চ দ্রাঘিমা ১৮০°।
পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য পূর্ব-পশ্চিমে যে কতকগুলো কাল্পনিক রেখা অঙ্কন করা হয় তাকে অক্ষরেখা বলে।
পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণের পরিমাণ ৩৬০°।
পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০° ডিগ্রি।
অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে কোনো স্থানের অবস্থান জানা যায়।
অক্ষরেখার দক্ষিণ প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু বলে।
নিরক্ষরেখা থেকে প্রত্যেক রেখার কৌণিক দূরত্ব ৯০°। এ কোণকে ডিগ্রি ও মিনিটে ভাগ করে নিরক্ষরেখার সমান্তরাল যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে সমাক্ষরেখা বলে।
নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগের ওপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে রেখাগুলো কল্পনা করা হয়েছে তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
গ্রিনিচের দ্রাঘিমা (০) শূন্য ডিগ্রি।
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রমাণ সময় ৪টি।
সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়।
প্রতিপাদ স্থান দুটির মধ্যে সময়ের পার্থক্য হবে ১২ ঘণ্টা।
৩০° উত্তর অক্ষরেখার প্রতিপাদ স্থান হচ্ছে ৩০° দক্ষিণ অক্ষাংশ।
ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
পৃথিবী নিজ অক্ষে বা মেরুরেখায় পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করেছে যার সময়কাল ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। পৃথিবীর এ গতিকে আহ্নিক গতি বলে।
পৃথিবী নিজ অক্ষে অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে, নির্দিষ্ট দিকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করছে। পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে পৃথিবীর এ পরিক্রমণকে বার্ষিক গতি বলে।
নিজ অক্ষের ওপর পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনকে সৌরদিন বলে।
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে সূর্যকে সম্মুখে রেখে পৃথিবী নিজ অক্ষে আবর্তন ও নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করছে। এটাই পৃথিবীর গতি।
আহ্নিক গতির সময় ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড।
বার্ষিক গতির সময় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
সৌর বছর ৩৬৫ দিনে গণনা করা হয়।
ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিন হলে তাকে লিপইয়ার বলে।
২১ জুন হলো সূর্যের উত্তরায়নের শেষ দিন।
বার্ষিক গতির ফলে পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
জানুয়ারির ১ থেকে ৩ তারিখে সূর্য পৃথিবীর নিকটতম অবস্থানে থাকে। একে পৃথিবীর অনুসূর বলে।
বার্ষিক গতির ফলে দিন ও রাতের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
জুলাই-এর ১ থেকে ৪ তারিখে সূর্য পৃথিবীর থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকে।
পৃথিবী তার অক্ষ বা মেরুদণ্ডের উপর থেকে চারদিকে দ্রুত বেগে ঘুরছে বলে'তার পৃষ্ঠ থেকে তরল পানিরাশি চতুর্দিকে ছিটকে যাওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে তাকে কেন্দ্রাতিগ শক্তি বলে।
প্রত্যেক স্থানে জোয়ারের ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়।
সমুদ্রের পানি নেমে যাওয়াকে ডাটা বলে।
জোয়ার-ভাটা চার প্রকার; যথা- মুখ্য জোয়ার, ১. গৌণ জোয়ার, ২. ভরা কটাল ও মরা কটাল।
সূর্য একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। সৌরজগতের সকল গ্রহ, ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক হলো সূর্য। পৃথিবীর সঙ্গে সূর্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সূর্য এবং এর গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু, উল্কা প্রভৃতি নিয়ে যে পরিবার তাকে সৌরজগৎ বলে। আর সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র হলো সূর্য। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক হয়েছে বলা যায়।
পারস্পরিক দূরত্ব বিবেচনায় শুক্র হলো পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ। এ গ্রহটি জীব বসবাসের অনুপযোগী। কারণ এর বায়ুমণ্ডলে কোনো অক্সিজেন নেই এবং এর বায়ুমণ্ডলে Co2 শতকরা ৯৬ ভাগ। Co2 এর ঘন মেঘের কারণে এখানে এসিড বৃষ্টি হয়। এছাড়া শুক্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ পৃথিবীর তুলনায় ৯০ গুণ বেশি। অধিকন্তু ধীর আবর্তন গতির 'কারণে শুক্রের আকাশে বছরে দুইবার সূর্য উদিত ও অস্তগামী হয়।
বায়ুমন্ডলে ওজোন গ্যাসের একটি স্তর আছে যা ওজোন স্তর নামে পরিচিত। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করায় এর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে প্রায় চল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। ফলে এ স্তরের তাপমাত্রা অধিক হয়। ওজোন স্তরের গভীরতা প্রায় ১২-১৬ কি.মি। এ স্তরটি পৃথিবীকে প্রাণিজগতের বাসোপযোগী করেছে।
মঙ্গল গ্রহে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয় কারণ এখানে বাতাসে অক্সিজেন নেই, প্রয়োজনীয় পানি নেই এবং তাপমাত্রা জীবনধারণ উপযোগী নয়। তাছাড়া মঙ্গল গ্রহের গড় তাপমাত্রা সবসময় হিমাঙ্কের অনেক নিচে থাকে। তাই মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব।
সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ বৃহস্পতি। সূর্য থেকে বৃহস্পতি গ্রহের অবস্থান পঞ্চম স্থানে। এর আয়তন পৃথিবীর প্রায় ১,৩০০ গুণ। এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরে। বৃহস্পতি ১২ বছরে একবার সূর্যকে এবং ৯ ঘণ্টা ৫৩ মিনিটে নিজ অক্ষে আবর্তন করে। এ গ্রহটিতে পৃথিবীর একদিনে দুবার সূর্য ওঠে ও দুবার অস্ত যায়। এ গ্রহে গভীর বায়ুমণ্ডল আছে। গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অধিক। এর ১৬টি উপগ্রহ রয়েছে।
শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। সূর্য থেকে শনির দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার। শনি ২৯ বছর ৫ মাসে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে এবং ১০ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে নিজ অক্ষে একবার আবর্তন করে। শনি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড় এবং খালি চোখে এটি দেখা যায়। তিনটি উজ্জ্বল বলয় শনিকে বেষ্টন করে আছে। শনির ৬২টি উপগ্রহের মধ্যে ক্যাপিটাস, টেথিস, হুয়া, টাইটান প্রধান।
পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ হলো শুক্র।
সূর্য থেকে শুক্রের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার এবং পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ কোটি কিলোমিটার। একে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে আমরা সন্ধ্যাতারারূপে এবং ভোরে পূর্ব আকাশে শুকতারারূপে দেখতে পাই। সূর্যকে একবার পরিক্রমণ করতে এর সময় লাগে ২২৫ দিন। শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই। গ্রহটিতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘন মেঘের কারণে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে।
গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতে জীবজন্তু ও উদ্ভিদের, জীবনধারণের ক্ষমতা থাকায় পৃথিবীকে আদর্শ গ্রহ বলা হয়। পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবীর আয়তন ৫১০,১০০,৪২২ বর্গকিলোমিটার। এ' গ্রহে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে। তাই এতে উদ্ভিদ ও মানুষ বসবাসের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় এটিকে আদর্শ গ্রহ বলা হয়। আর এজন্যই পৃথিবীকে সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ বলা হয়।
বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার এবং ওজন পৃথিবীর ৫০ ভাগের ৩ ভাগের সমান। সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করতে এর ৮৮ দিন সময় লাগে। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার। বুধের কোনো উপগ্রহ নেই। সূর্যের নিকটতম গ্রহ বলে এর তাপমাত্রা অত্যধিক। বুধের ভূত্বকে সমতল ভূমিসহ অসংখ্য গর্ত ও পাহাড় লক্ষ করা গিয়েছে।
সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে শুক্রের অবস্থান দ্বিতীয় এবং 'এটি পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ। সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার এবং পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪.৩ কোটি কিলোমিটার। একে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে আমরা সন্ধ্যাতারারূপে এবং ভোরে পূর্ব আকাশে শুকতারারূপে দেখতে পাই। সূর্যকে একবার পরিক্রমণ করতে এর সময় লাগে ২২৫ দিন। শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই। শুক্র গ্রহ নিজ অক্ষে খুবই ধীরগতিতে আবর্তন করে। ফলে শুক্রের আকাশে বছরে দুবার সূর্য উদিত হয় এবং অস্ত যায়। গ্রহটিতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘন মেঘের কারণে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে।
পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। পৃথিবীর আয়তন ৫১০,১০০,৪২২ বর্গ কিলোমিটার। পূর্ব-পশ্চিমে এর ব্যাস ১২,৭৫২ কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে ১২,৭০৯ কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। পৃথিবী ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে সূর্যকে একধার প্রদক্ষিণ করে। এ গ্রজে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে। পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ১৩.৯০° সেলসিয়াস। ভূত্বকে প্রয়োজনীয় পানি রয়েছে। গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীই জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য আদর্শ গ্রহ। চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবীর পরেই মঙ্গলের স্থান। সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার এবং পৃথিবী থেকে ৭.৮ কোটি কিলোমিটার। মঙ্গল গ্রহের ব্যাস ৬,৭৭৯ কিলোমিটার এবং ওজন পৃথিবীর প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ। সূর্যকে পরিক্রমণ করতে মঙ্গল গ্রহের লাগে ৬৮৭ দিন এবং নিজ অক্ষে একবার আবর্তন, করতে সময় লাগে ২৪ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট। মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ আছে। ডিমোস ও ফেবোস। প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের অভাবে এখানে জীবনধারণ অসম্ভব।
ইউরেনাস তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ। সূর্য থেকে এর দূরত্ব ২৮৭কোটি কিলোমিটার। ৮৪ বছরে এটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এর গড় ব্যাস প্রায় ৪৯,০০০ কিলোমিটার। এর আয়তন পৃথিবীর প্রায় ৬৪ গুণ এবং ওজন পৃথিবীর মাত্র ১৫ গুণ। গ্রহটির আবহমণ্ডলে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ অধিক। এর ২৭টি উপগ্রহ রয়েছে। ইউরেনাসেরও শনির মতো বলয় আবিষ্কৃত হয়েছে। মিরিন্ডা, এরিয়েল, ওবেরন, আস্ত্রিয়েল, টাইটানিয়া প্রভৃতি ইউরেনাসের উপগ্রহ।
বায়ুমণ্ডলে মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ম্ভর ট্রেপোমন্ডল। ট্রপোমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর বা বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর। এর স্তরটির গড় গভীরতা প্রায় ১৩ কি.মি.। আর্দ্রতা, কুয়াশা, মেঘ, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি এ স্তরে লক্ষ করা যায়। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ স্তরে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়া বায়ুমণ্ডলের এ স্তরে ঘটে।
ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর হলো ট্রপোমণ্ডল। এ অঞ্চলটির গড় গভীরতা প্রায় ১৩ কিলোমিটার। এটি মানুযের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্তর। আর্দ্রতা, মেঘ, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ সবকিছু এ স্তরে দেখা করা যায়। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ স্তরের বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। ফলে এ স্তরে বিমান চলাচল কিছুটা কষ্টসাধ্য। ট্রপোমণ্ডলের সবচেযে ঊর্ধ্বসীমাকে বলা হয় ট্রপোপাস। এ স্তরের গভীরতা অত্যন্ত সরু ও এখানে বায়ু স্থির। ঝড়বৃষ্টির প্রাদুর্ভাব না থাকায় বিমান এ স্তর দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করে।
গুরুমণ্ডলের উপরাংশকে অশ্বমন্ডল বা শিলামণ্ডল বলা হয়। অশ্বমণ্ডল নানা রকম শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত। এর গভীরতা মহাদেশীয় অঞ্চলের নিচে সর্বাপেক্ষা বেশি এবং মহাসাগরের নিচে সর্বাপেক্ষা কম। এর গভীরতা স্থান বিশেষ ৩০ হতে ৬৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ধরা হয়।
পৃথিবী সৃষ্টি হবার সময় বাষ্পীয় অবস্থায় ছিল। কোটি কোটি বছরের ঘূর্ণনের মধ্য দিয়ে তাপ বিকিরণ করতে করতে পৃথিবী শীতল ও ঘনীভূত হতে বহু বছর লেগেছে। এভাবে পৃথিবীর উপরিভাগে কঠিন আবরণের সৃষ্টি হয়। এ কঠিন আবরণই ভূত্বক। অর্থাৎ ভূত্বক বলতে পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণকেই বোঝায়।
ভূত্বকের নিচের স্তরই গুরুমণ্ডল। কেন্দ্রমন্ডলের উপর থেকে চতুর্দিকে প্রায় ২.৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত মন্ডলটিকে গুরুমণ্ডল বলে। সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি ভারী ধাতুগুলোর সংমিশ্রণে এ মন্ডলটি গঠিত। এর উপরাংশে ১৪.৪৮ কি.মি. স্তরে ব্যাসল্ট জাতীয় উপাদান 'দ্বারা গঠিত বলে একে ব্যাসল্ট অঞ্চলও বলে। সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম খারা মণ্ডলটি গঠিত বলে একে সিসা বলে।
পৃথিবী প্রায় একটি গোলকের ন্যায়। এর ব্যাসার্ধ আনুমানিক ৬,৩৭১ কিলোমিটার। ভূপৃষ্ঠের কঠিন, বহিরাবরণ ভেদ করে ভূঅভ্যন্তরের এত গভীরে সরাসরি পর্যবেক্ষণের কোনো সুযোগ নেই। ভূবিজ্ঞানীরা ভূঅভ্যন্তরে সংঘটিত ভূকম্পন, তরঙ্গের গতিপ্রকৃতি, মাধ্যাকর্ষণ ও চুম্বক ক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভূঅভ্যন্তরের গঠন কাঠামো উপাদান সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। ভূঅভ্যন্তর শিলামন্ডল নিয়ে গঠিত। পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে এর কেন্দ্র পর্যন্ত তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো- ভূত্বক, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।
গুরুমণ্ডলের নিম্নভাগ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে কেন্দ্রমন্ডল রলে। এ স্তর প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার পুরু। কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ১৬ ভাগ এবং এর ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এ স্তরের চাপ পৃথিবীপৃষ্ঠের বায়ুচাপের চেয়ে কয়েক লক্ষ গুণ বেশি এবং তাপমাত্রা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ সেলসিয়াস। ভূকম্পন ত্যাঙ্গের সাহায্যে জানা গেছে যে, কেন্দ্রমণ্ডলের একটি তরল বহিরাবরণ আছে, যা ১.২১৬ কিলোমিটার পুরু। বৈজ্ঞানিকদের মতে, এ স্তরটিট লৌহ, নিকেল, পারদ, স্সিা প্রভৃতি পদার্থ দিয়ে গঠিত।
নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগের ওপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত দ্রাঘিমা রেখাগুলো অঙ্কন করা হয়। ফলে দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়। সধ্যরেখাগুলোর যেকোনো একটিকে নির্দিষ্ট মধ্যরেখা ধরে এ রেয়া থেকে অন্যান্য মধ্যরেখার কৌণিক দূরত্ব মাপা হয়। তাই দ্রাঘিমারেখার প্রয়োজনীয়তা অনেক।
পৃথিবী একটি গোলকের ন্যায় হওয়ার ফলে সময় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কাল্পনিক রেখার ভূমিকা অপরিসীম। গোলাকার পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করছে। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সূর্যের সামনে আসে। যে সময়ে কোনো স্থানের মধ্যরেখা সূর্যের ঠিক সামনে আসে সে সময়কে মধ্যাহ্ন ধরে প্রমাণ সময় নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে সময় নির্ণয়ে কাল্পনিক রেখার গুরুত্ব অনেক বেশি।
আমরা জানি, পৃথিবীর কেন্দ্রের কোণের পরিমাপ ৩৬০° এবং এটি তাভিক্রম করতে মোট সময় লাগে ২৪ ঘণ্টা। এ হিসাবে পৃথিবী ১° ঘুরে ৪ মিনিটে।
৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয় ১ ডিগ্রি/দ্রাঘিমার জন্য
∴ ১ “ ” “ ” “ ” "
∴ (২ ঘণ্টা ৬০ + ৩২)
১৫২ “ ” “ ” “ ” "
= ৩৮ ডিগ্রি
∴ নির্ণেয় দ্রাঘিয়ার পার্থক্য- ৩৮ ডিগ্রি।
স্থানীয় সময় নির্ধারণের সমস্যা দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা আবশ্যক। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কল্পনা করা না হলে একই দ্রাঘিমার দুই পার্শ্বে সময়ের ব্যবধান হতো ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন। ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হিসেবে একই দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়ে ভিন্নতা রোধ করতে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার বিকল্প নেই।
আকাশে মধ্যাহ্ন সূর্যের অবস্থান দেখে যে সময় নির্ণয় করা হয় তাকে স্থানীয় সময় বলে। কোনো স্থানে সূর্য যখন ঠিক মাথার উপর আসে, তখন সেখানে বেলা ১২টা ধরে যে সময় গণনা করা হয় তা ঐ স্থানের স্থানীয় সময়। একই দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত সকল স্থানের স্থানীয় সময় এক। কিন্তু দ্রাঘিমারেখার ভিন্নতার কারণে স্থানীয় সময়ে ভিন্নতা দেখা যায়। অতএব বলা যায়, দ্রাঘিমারেখার ভিন্নতার কারণে স্থানীয় সময় বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন হয়।
পৃথিবী গোলাকার এবং নিজ অক্ষ বা মেরুরেখার পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে অনবরত আবর্তিত হচ্ছে। ফলে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থান ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সূর্যের সামনে উপস্থিত হয়। যে সময়ে কোনো স্থানের মধ্যরেখা সূর্যের ঠিক সামনে চলে আসে অর্থাৎ ওই স্থানে সূর্যকে ঠিক মাথার উপর দেখা যায়, তখন তাকে মধ্যাহ্ন বা দুপুর ১২টা ধরা হয়। -মধ্যাহ্ন অনুসারে, দিনের অন্যান্য সময় নির্ধারিত হয়। প্রতি এক ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য স্থানীয় সময়ে ৪ মিনিট ব্যবধান হয়ে থাকে।
প্রতিদিন পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে তার নিজ মেরুরেখার উপর আবর্তিত হচ্ছে। ফলে পূর্বদিকে অবস্থিত স্থানগুলোতে আগে সূর্যোদয় হয়। পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কোনো স্থানে যখন সূর্য ঠিক মাথার উপর আসে বা সর্বোচ্চে অবস্থান করে তখন এ সুথানে মধ্যাহ্ন এবং ওই স্থানের ঘড়িতে তখন বেলা ১২টা ধরা হয়। এ মধ্যাহ্ন সময় থেকে দিনের অন্যান্য সময় স্থির করা হয়। একে ওই স্থানের স্থানীয় সময় বলা হয়। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যেও স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়।
১ ডিগ্রি দ্রাঘিমান্তরে ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধানে মূল মধ্যরেখা থেকে যথাক্রমে পূর্ব ও পশ্চিম দিক দিয়ে গণনা করতে থাকলে ১৮০ 'ডিগ্রি দ্রাঘিমার একই স্থানে সময়ের পার্থক্য হয়। এই বিভ্রাট দূর করতে ১৮০০ দ্রাঘিমারেখাকে অবলম্বন করে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কল্পনা করা হয়েছে। গ্রিনিচ থেকে পূর্বগামী কোনো জাহাজ বা বিমান এ রেখা অতিক্রম করলে স্থানীয় সময়ের সাথে মিল রাখার জন্য তাদের বর্ধিত সময় থেকে একদিন বিয়োগ করে এবং পশ্চিম দিকগামী জাহাজ বা বিমান তাদের কম সময়ের সঙ্গে একদিন যোগ করে তারিখ গণনা করে থাকে। এভাবেই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা স্থানীয় সময়ে বিভ্রাট দূর করে থাকে।
আকাশে মধ্যাহ্ন সূর্যের অবস্থান দেখে যে সময় নির্ণয় করা হয় তাকে স্থানীয় সময় বলে। কোনো স্থানে সূর্য যখন ঠিক মাথার উপর আসে, তখন সেখানে বেলা ১২টা ধরে যে সময় গণনা করা হয় তা ঐ স্থানের স্থানীয় সময়। একই দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত সকল স্থানের স্থানীয় সময় এক। কিন্তু দ্রাঘিমারেখার ভিন্নতার কারণে স্থানীয় 'সময়ে ভিন্নতা দেখা যায়। অতএব বলা যায়, দ্রাঘিমারেখার ভিন্নতার কারণে দুই দেশের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয়।
একই দেশের মধ্যে সময় গণনার বিভ্রাট দূর করার জন্য প্রমাণ সময় প্রয়োজন। প্রত্যেক দেশেই সেই দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী যে সময় নির্ণয় করা হয় তাকে প্রমাণ সময় বলে। দ্রাঘিমারেখার উপর মধ্যাহ্নের সূর্যের অবস্থানের সময়কালকে দুপুর ১২টা ধরে স্থানীয় সময় নির্ধারণ করলে একই দেশের মধ্যে সময় গণনার বিভ্রাট হয়। সেজন্য প্রত্যেক দেশের একটি প্রমাণ সময় নির্ণয় করা হয়। অনেক বড় দেশ হলে কয়েকটি প্রমাণ সময় থাকে।
দ্রাঘিমারেখার ওপর মধ্যাহ্ন সূর্যের অবস্থানের সময়কালকে দুপুর ১২টা ধরে স্থানীয় সময় নির্ণয় করলে বৃহদায়তন একই দেশের মধ্যে সময় গণনার বিভ্রাট সৃষ্টি হয়। এ সময়ের বিভ্রাট দূর করার জন্য প্রত্যেক দেশ সেই দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী প্রমাণ সময় নির্ণয় করে। অর্থাৎ একই দেশে-সময়ের পার্থক্য দূর করার জন্য প্রমাণ সময় নির্ণয় করা হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর দিন-রাত্রি সমান হয়। ২১ জুনের পর উত্তর মেরু সূর্য থেকে দূরে সরতে থাকে এবং দক্ষিণ মেরু নিকটে. আসতে থাকে। এতে উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ দিন ছোট ও রাত বড় এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দিন বড় ও রাত ছোট হতে থাকে। ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবী এমন এক স্থানে অবস্থান করে যখন উভয় মেরু সূর্য থেকে সমান দূরে থাকে। এদিন সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে (৯০° কোণে) সুমেরুবৃত্তে ও কুমেরুবৃত্তে ৬৬.৫° কোণে এবং মেরুদ্বয়ে ০° কোণে পতিত হয়। তাই এ তারিখে পৃথিবীর সর্বত্র দিবা-রাত্রি সমান হয়।
পৃথিবী গোলাকার বলে সূর্যের আলো একই সময়ে ভূপৃষ্ঠের সকল অংশের ওপর পড়ে না। আবর্তনের সময় যে অংশ সূর্যের দিকে থাকে সে অংশ সূর্যের আলোতে আলোকিত হয় এবং বিপরীত অংশে সূর্যের আলো পড়ে না বলে তা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের আলো পড়ে, সে অংশে তখন দিন হয় এবং তার বিপরীত দিকে তখন রাত হয়। পৃথিবীর আলোকিত অর্ধেক অংশ এবং অন্ধকার অর্ধেক অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তর সীমারেখাকে ছায়াবৃত্ত বলে।
পৃথিবী নিজ অক্ষে অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি 'নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে, নির্দিষ্ট দিকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করছে। পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে পৃথিবীর এ পরিক্রমণকে বার্ষিক গতি বলে। আর বার্ষিক গতির কারণেই পৃথিবীতে দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে ঋতু পরিবর্তন হয়। পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পতিত হয়। ফলে তাপমাত্রার পার্থক্য ঘটে এবং ঝতু পরিবর্তন হয়। বার্ষিক গতির ফলে দিন ও রাতে হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে। কোনো স্থানে দিবাভাগের পরিমাণ রাতের পরিমাণ হতে দীর্ঘ হলে সেই স্থানে বায়ুমণ্ডল অধিকতর উষ্ণ থাকে। এভাবে বছরের বিভিন্ন সময় ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র তাপের তারতম্য হয় এবং ঋতু পরিবর্তন ঘটে। তাছাড়া সূর্যরশ্মি পতনে কৌণিক তারতম্য ঘটার কারণেও ঋতুর পরিবর্তন ঘটে।
পৃথিবীতে আহ্নিক গতির ফলে দিন ও রাত সংঘটিত হয়। পৃথিবী নিজ অক্ষে বা মেরু রেখায় পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন হচ্ছে। এভাবে পরিবর্তন করতে পৃথিবীর প্রায় ২৪ ঘণ্টা বা একদিন সময় লাগে। সঠিকভাবে এ সময় হলো ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। পৃথিবীর এ গতিই আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি।
পৃথিবীর নিজের গতি এবং তার ওপর চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই মূলত জোয়ার ভাটা সংঘটিত হয়। চাঁদ ও সূর্য ভূপৃষ্ঠের জল ও স্থলভাগকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণের ফলে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রত্যহ এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং অপর স্থানে নেমে যায়। সমুদ্রের পানিরাশির নিয়মিত এ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলা হয়। প্রতি ৬ ঘণ্টা ১৩ মি. পর পর জোয়ার-ভাটা হয়ে থাকে।
পৃথিবী তার অক্ষ বা মেরুদণ্ডের ওপর থেকে চারদিকে দ্রুতবেগে ঘুরছে বলে তার পৃষ্ঠ থেকে তরল পানিরাশি চতুর্দিকে ছিটকে যাওয়ার প্রবণতাকেই কেন্দ্রাতিগ শক্তি বলে। পৃথিবী ও চন্দ্রের আবর্তনের জন্য ভূপৃষ্ঠের তরল ও হালকা জলরাশির ওপর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব অধিক হয়। ফলে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়ে থাকে।
অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পার্শ্বে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পার্শ্বে চাঁদ ও অপর পার্শ্বে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পার্শ্বে চাঁদ ও অপর পার্শ্বে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়। এ সময় নদীতে পানি ফুলে ফেপে ওঠে মাঠ ঘাট তলিয়ে যায়। বিশেষ করে নদী উপকূলীয় অঞ্চলে এর তীব্রতা অধিক উপলব্ধি হয়।
জোয়ার-ভাটার একটি কারণ হলো মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব। পৃথিবীর সকল পদার্থের আকর্ষণ আছে এবং একটি অপরটিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণকে মহাকর্ষণ শক্তি বলে। এ মহাকর্ষণের ফলে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে এবং চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। যে যত বড় তার আকর্ষণ শক্তি তত বেশি। কিন্তু দ্রুত্ব বৃদ্ধি পেলে আকর্ষণ শক্তি কমে যায়। সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২.৬০ কোটি গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব চন্দ্রের দূদ্রত্ব থেকে অনেক বেশি বলে পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তি সূর্য অপেক্ষা প্রায় দ্বিগুণ। তাই চন্দ্রের আকর্ষণেই জোয়ার-ভাটা হয়।
পৃথিবী ও চন্দ্র নিজ অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে প্রদক্ষিণ করে। আবার চন্দ্র নিজ কক্ষপথে ২৭ দিনে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে বলে পৃথিবীর একবারে আবর্তনকালে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় চাঁদ (৩৫০ ২৭) বা ১৩° পথ অতিক্রম করে। পৃথিবী ও চাঁদ উভয়েই যেহেতু পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে তাই পৃথিবী উক্ত ১৩° পথ আরও (১৩ ৪) = ৫২ মিনিটে অতিক্রম করে। তাই' কোনো স্থানে মুখ্য জোয়ার হওয়ার ১২ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট পর সেখানে গৌণ জোয়ার হয় এবং মুখ্য জোয়ারের ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট পর সেখানে আবার মুখ্য জোয়ার হয়। এভাবে জোয়ারের ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়।
হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
সূর্য
সূর্য
৮টি
১৩ লক্ষ
১৫ কোটি কি.মি.
৫৭০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
হাইড্রোজেন
সূর্যের কালো দাগ
২৫ দিনে
সূর্যের
মহাকর্ষ বলের
বুধ
৮৮ দিন
বুধ
৭৪,৮০০.০০০ বর্গ কি. মি.
শুক্র
শুক্র
৪.২ কোটি কি. মি.
শুক্র
কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘন মেঘ
১২,১০৪ কি. মি.
পৃথিবী
প্রায় ৬৩৭১ কি. মি
একটি
২২.৮ কোটি
মঙ্গল
১৪৪,৭৯৮,৫০০ বর্গ কি. মি.
মঙ্গল
বৃহস্পতি
১,৩৯,৮২২ কি.মি.
৭৭.৮
৬৭টি
১৪৩
৬২টি
শনি
ইউরেনাস
ইউরেনাস
ইউরেনাস
১৪টি
নেপচুন
নেপচুন
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
ট্রপোপস
ওজোন স্তর
১২-১৬
৩৪৮৬ কি. মি.
কেন্দ্রমন্ডল
Nife
কেন্দ্রমণ্ডলে
অক্ষরেখা
নিরক্ষরেখা
৩৬০°
৯০°
কর্কটক্রান্তি
কর্কটক্রান্তি
কর্কটক্রান্তি
৯০°
৯০°
৩০° থেকে ৬০°
দ্রাঘিমারেখা
০ ডিগ্রি
৯০°
পশ্চিম থেকে পূর্বে
পশ্চিম দিকের
১৪৪০ মি.
প্রশান্ত মহাসাগর
১৮০° দ্রাঘিমা রেখা
দুই
সৌরদিন
দিন ও রাত
৩০ কি. মি.
বার্ষিক গতি
২১ জুন
২২ ডিসেম্বর
২৩ সেপ্টেম্বর
২২ ডিসেম্বর
মকরক্রান্তি
২২ ডিসেম্বর
২১ মার্চ
২১ মার্চ
সূর্য
৩ মাস
১-৪ জুলাই
জোয়ার
চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ
৬.১৩ ঘণ্টা
২ গুণ
একই পাশে
২৭ দিনে
নদী-স্রোত
জোয়ার হলে
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে মেরুরেখা বলে।
সূর্য একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র যা সৌরজগতের সকল গ্রহ ও উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক। ৫৫% হাইড্রোজেন, ৪৪% হিলিয়াম এবং ১% অন্যান্য গ্যাসের সমন্বয়ে সূর্য গঠিত। আর এ সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক বলে। সূর্যের অন্যান্য অংশের চেয়ে সৌরকলঙ্কের উত্তাপ কিছুটা কম থাকে।
দেওয়া আছে
A' চিহ্নিত স্থানটির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা A' চিহ্নিত স্থানের পূর্বে B' স্থানটি অবস্থিত হওয়ায় 'B' স্থানের স্থানীয় সময় ' A' চিহ্নিত স্থানের স্থানীয় সময় থেকে বেশি হবে।
অর্থাৎ, ৭টা + ৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট = ১০টা ১৬ মিনিট
সুতরাং 'B' স্থানটির স্থানীয় সময় হবে ১০: ১৬ মিনিট
না, উক্ত তারিখে অর্থাৎ ২২ জুন তারিখে দুটি স্থানে দিবারাত্রির দৈর্ঘ্য একইরূপ হবে না।
ছকে 'A' ও 'B' স্থান দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থিত। 'A' স্থানটি ৩০০ উত্তর অক্ষরেখা বরাবর এবং 'B' স্থানটি ৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখায় অবস্থিত। দুটি স্থান দুই গোলার্ধে হওয়ায় ২২ জুন তারিখে দুটি স্থানে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্য ভিন্ন রকম হবে। অর্থাৎ 'A' স্থানে দিন বড় এবং রাত ছোট হবে। পক্ষান্তরে, 'B' স্থানে দিন ছোট ও রাত বড় হবে। ২১ জুন সূর্যের উত্তরায়নের শেষ দিন। এদিন সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। লম্বরশ্মি অধিক তাপ দেয়। তাছাড়া সূর্য উত্তর গোলার্ধে অধিক স্থান জুড়ে এবং অধিক সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে ঐ দিনের পূর্বেকার দেড় মাস এবং পরবর্তী দেড় মাস মোট তিন মাস সূর্য উত্তর গোলার্ধে অধিক তাপ ও আলো দেয় বলে ঐ সময়কালে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয়। এ কারণে ২২ জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে দিন বড় হয় এবং রাত ছোট হয়। পক্ষান্তরে, ২২ জুনে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সূর্য তির্যকভাবে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সূর্য তির্যকভাবে অল্প সময় এবং অল্প স্থানব্যাপী আলো দেয়। এর ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে তাপ ও আলো কম পায়। এ কারণে ২২ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট এবং রাত বড় হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, 'A' ও 'B' দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থানের কারণে দিবা-রাত্রির মধ্যে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে। উত্তর গোলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছোট। পক্ষান্তরে, দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট ও রাত বড় হয়।
নিজ অক্ষের ওপর পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনকে সৌরদিন বলে।
সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। এভাবে দেখা যায়, প্রতি ৪ বছর পর পর একটি বাড়তি দিন থাকছে। এই বাড়তি দিন প্রতি ৪র্থ বছরে যোগ হয়ে ৩৬৬ দিন হয়। সেই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিনে হয়। এরূপ বছরকে অধিবর্ষ বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!