মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গের নাম বৃক্ক ।
বৃক্কের আবরণকে ক্যাপস্যুল বলে ।
মানবদেহের জৈবিক প্রক্রিয়াটি রেচন ।
দেহের মূল রেচন পদার্থ মূত্র ।
নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্যপদার্থ বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় ।
শ্বসনের সময় গ্লুকোজ ভেঙ্গে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয় ।
রক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহন করে ফুসফুসে নিয়ে যায় ।
বৃক্ক বা কিডনি শরীর থেকে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য ও অতিরিক্ত অম্ল বের করে দেয় ।
রেচন মানবদেহের জৈবিক ধরনের প্রক্রিয়া ।
যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে ।
নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যপদার্থকে রেচন পদার্থ বলে ।
বৃক্ক মানবদেহের রেচন অঙ্গ ।
বৃক্কের একক নেফ্রন ।
মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে ।
মূত্রের প্রায় ৯০ ভাগ উপাদান পানি ।
ইউরোক্রোম পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয় ।
আমিষ জাতীয় খাদ্য খেলে মূত্রের বৃদ্ধি পায় ।
ফলমূল এবং তরিতরকারি খেলে ক্ষারীয় ধরনের মূত্র তৈরি হয় ।
প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবিচির মতো হয় ।
বৃক্কের রং লালচে ।
বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব দেখতে উত্তল ।
বৃক্কের ভিতরের পার্শ্ব দেখতে অবতল ।
গ্লোমেরুলাস যে তরল পদার্থ উৎপন্ন করে তার নাম অস্ট্রাফিলট্রেট ।
বৃদ্ধ সুস্থ রাখতে দৈনিক ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত ।
মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে সবচেয়ে বেশি পানিবের হয়ে যায় ।
ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে রেনাল পেলভিস বলা হয় ।
বৃদ্ধের অবতল অংশের ভাজকে হাইলাস বা হাইলাম ।
রেনাল পিরামিডের অগ্রভাগ প্রসারিত হয়ে রেনাল প্যাপিলা গঠন করে ।
রেনাল প্যাপিলা সরাসরি পেলভিসে উন্মুক্ত হয় ।
বৃক্কের ক্যাপস্যুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স বলে ।
মেডুলায় সাধারণত ৮ – ১২টি রেনাল পিরামিড থাকে ।
প্রতিটি বৃদ্ধের বিশেষ ধরনের নালিকাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে ।
বৃদ্ধ সুস্থ রাখতে দৈনিক ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত ।
কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম একটি কারণ কী ডায়াবেটিস ।
আমিষ তৈরিতে অ্যামাইনো এসিড ব্যবহৃত হয় ।
প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নালিকা ২টি প্রধান অংশে বিভক্ত ।
সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে ।
নেফ্রন মূত্র তৈরি করে ।
মানবদেহের প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ – ১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে ।
রেনাল করপাসল ২টি অংশে বিভক্ত ।
নেফ্রনের দুই স্তরবিশিষ্ট পেয়ালার মতো প্রসারিত অংশের নাম বোম্যান্স ক্যাপস্যুল ।
বোম্যান্স ক্যাপসুল গ্লোমেরুলাসকে বেষ্টন করে থাকে ।
বোম্যান্স ক্যাপসুল ২ স্তর বিশিষ্ট ।
গ্লোমেরুলাস একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি ।
গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে ।
গ্লোমেরুলাসে ইউরিয়া পদার্থটি আটকা পড়ে ।
প্রতিটি রেনাল টিউব্যুল ৩টি অংশে বিভক্ত ।
মূত্র মূত্র থলিতে জমা হয় ।
বৃক্কের সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে ।
একজন স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ মিলিলিটার মূত্র ত্যাগ করে ।
বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে দেহে পানির সমতা বজায় রাখে ।
মানবদেহে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড প্রভৃতির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে বৃক্ক ।
মূত্র মূত্রথলিতে সাময়িকভাবে জমা থাকে ।
বৃক্ক বিকল হলে রক্তের কর্টেক্স উপাদানটি বৃদ্ধি পাবে ।
কিডনি বিকল হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যাবে হবে ।
কিডনি বিকল হলে রক্তে ক্রিয়েটিনিন উপাদান বৃদ্ধি পাবে ।
বৃক্ক বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস ।
ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধিত করা হয় ।
কিডনি সংযোজন দুই ভাবে করা যায় ।
মরণোত্তর সুস্থ কিডনি দানে মানবজাতির উপকার করা যায় ।
পিপাসা পেলেই পানি পান করা উচিত ।
শিশুদের টনসিল এবং খোসপাঁচড়া থেকে কিডনির অসুখ হতে পারে ।
বৃদ্ধ সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস।
বৃক্কের একক হলো নেফ্রন। নেফ্রনের সম্মুখ ভাগকে মালপিজিয়ান বডি বা মালপিজিয়ান অঙ্গ বলে। কর্টেক্স অঞ্চলে অবস্থিত এটি প্রায় ০.২ মিলিমিটার ব্যাসের একটি গোলাকার অংশ। বোম্যান্স বা রেনাল ক্যাপস্যুল এবং গ্লোমেরুলাস সমন্বয়ে মালপিজিয়ান অঙ্গ গঠিত।
বৃক্কের হাইলাসে অবস্থিত গহ্বরকে পেলভিস বলে।
রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বুঝায়। মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে। মূত্রের প্রায় ৯৫ ভাগ উপাদান হচ্ছে পানি। অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ। তাছাড়া ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য মূত্র হালকা হলুদ বর্ণের হয়।
মানব বৃক্কে উদ্ভূত ছোট আকারের পাথর জাতীয় পদার্থের সৃষ্টিই বৃক্কের পাথর হিসেবে পরিচিত। বৃক্কে পাথর সবারই হতে পারে। তবে পুরুষের পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, বৃক্কে সংক্রামক রোগ, কম পানি পান, অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষ, যেমন- মাংস ও ডিম গ্রহণ করলে বৃক্কে পাথর হতে পারে।
মূত্রনালিকে সুস্থ রাখার উপায়সমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. শিশুদের টনসিল ও খোসপাঁচড়া থেকে সাবধান হওয়া।
২. ডায়াবেটিকস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখা।
৩. ডায়রিয়া ও রক্তক্ষরণ ইত্যাদির দ্রুত চিকিৎসা করা উচিত।
৪. ধূমপান বর্জন করা।
৫. ব্যথা নিরাময়কারী ঔষধ সেবন থেকে বিরত থাকা।
৬. পরিমাণ মতো পানি পান করা উচিত।
৭. নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা।
রেচন হলো মানবদেহের জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থগুলো বের করে দেয়। আর যে তন্ত্রের মাধ্যমে, দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
রেচনতন্ত্রের কাজগুলো হলো- দেহের বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাশন, শরীরের অতিরিক্ত পানি, লবণ, CO2 ও জৈব পদার্থ বের করা, দেহের অভ্যন্তরীণ পানির সমতা রক্ষা করা এবং দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করা।
নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ বলতে মূলত রেচন পদার্থকে বোঝায়। পানি এবং বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের ফলে এসব রেচন পদার্থ দেহে তৈরি হয়। যার প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি। এসব পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়।
রেচন ক্রিয়ার পর মূত্রথলি থেকে সামান্য হলুদ রঙের ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত, পানিসহ যে অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ মূত্রনালি পথে দেহ থেকে বের হয়ে যায় তাই মূত্র। মূত্রের উপাদানগুলোর মধ্যে প্রায় ৯৫ ভাগই পানি। এছাড়া মূত্রের অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, বিভিন্ন ধরনের লবণ এবং ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক পদার্থ।
রেচন পদার্থ বা বর্জ্য পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থসমূহকেই বুঝায়। মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে। এর মধ্যে ৯৫% ই হলো পানি। অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, বিভিন্ন ধরনের লবণ ইত্যাদি।
কোনো পদার্থের অম্ল বা ক্ষারীয় অবস্থা নির্ভর করে তার pH মানের উপর। pH এর মান ৭ হলে সেই পদার্থ নিরপেক্ষ। pH ৭ এর কম হলে তা অম্লীয় আর উপরে হলে তা ক্ষারীয়। মূত্রের pH মান ৬ হওয়ায় তা অম্লীয় প্রকৃতির।
অতিরিক্ত মাছ, মাংস খেলে আমাদের মূত্রের অম্লত্ব বৃদ্ধি পাবে। মূত্রের অম্লত্ব বৃদ্ধি পায় অতিরিক্ত মাত্রায় প্রোটিন গ্রহণে। অম্লে নানা ধরনের পাচক এনজাইম থাকে যা জীবের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড সরবরাহের স্বার্থে প্রোটিনকে ভাঙ্গে। অতিরিক্ত প্রোটিনের ভাঙ্গন অতিরিক্ত মাত্রায় মূত্রের অম্লত্বের পরিমাণ বাড়ায়। রক্তের নিয়ন্ত্রিত pH মান বজায় রাখার জন্য মূত্রে এসিডের মাত্রা বদলায়।
মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃদ্ধ অবস্থান করে। প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবিচির মতো এবং এর রং লালচে রঙের।
বৃক্কের প্রধান অংশগুলো হলো-
১. কর্টেক্স: বাইরের অংশ, যেখানে নেফ্রন থাকে।
২. মেডুলা: ভিতরের অংশ, যেখানে পিরামিড আকৃতির কাঠামো থাকে।
৩. পেলভিস: বৃক্কের মধ্যবর্তী অংশ যেখানে প্রস্রাব জমা হয়।
৪. নেফ্রন: বৃক্কের ফিল্টারিং ইউনিট যা রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে।
বৃক্কের বাইরের দিকে রেনাল ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স বলে। এ অংশটি ঈষৎ বাদামি রঙের হয়। এই অংশে নেফ্রনের অনেক অংশ যেমন গ্লোমেরুলাস এবং নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা দূরবর্তী বা প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকা অবস্থান করে।
কর্টেক্স ও মেডুলার মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
| কর্টেক্স | মেডুলা |
| ১. বৃক্কের ক্যাপসুল সংলগ্ন অঞ্চল হলো কর্টেক্স। | ১. বৃক্কের ভিতরের অংশ হলো মেডুলা। |
| ২. কর্টেক্সে রেনাল পিরামিড থাকে না। | ২. মেডুলায় রেনাল পিরামিড থাকে। |
| ৩. কর্টেক্স প্যাপিলাবিহীন। | ৩. মেডুলায় রেনাল প্যাপিলা বিদ্যমান। |
| ৪. কর্টেক্স হালকা বা ফিকে রঙের হয়। | ৪. মেডুলা গাড় রঙের হয়। |
বৃক্কের ভিতরের দিকের কেন্দ্রীয় অংশকে মেডুলা বলে। এ অংশটি গাঢ় বাদামি বা ঈষৎ কালচে রঙের হয়। মেডুলা যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত। মেডুলায় সাধারণত ৮ – ১২টি রেনাল পিরামিড থাকে।
প্রতিটি বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকা দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত থাকে। যথা- নেফ্রন ও সংগ্রাহী নালি। বৃক্কের গঠন ও কাজের একক হলো নেফ্রন। নেফ্রনের প্রধান কাজ হলো রক্তে দ্রবীভূত N₂-ঘটিত বর্জ্য পদার্থ ছেকে মূত্র উৎপাদন করা এবং সংগ্রাহী নালিকার কাজ হলো উৎপাদিত মূত্র রেনাল পেলভিসে পরিবহন করা।
বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একককে নেফ্রন বলে। প্রতিটি বৃদ্ধে প্রায় ১০ – ১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে। প্রতিটি নেফ্রন একটি রেনাল করপাসল বা মালপিজিয়ান অঙ্গ এবং রেনাল টিউব্যুল নিয়ে গঠিত।
বৃত্তের কর্টেক্স অঞ্চলে অবস্থিত গোলাকার থলে আকৃতির অংশকে রেনাল করপাসল বা মালপিজিয়ান অঙ্গ বলে। ইহা নেফ্রনের অগ্রভাগে অবস্থিত। বোম্যান্স ক্যাপসুল ও গ্লোমেরুলাসের সমন্বয়ে রেনাল করপাসল বা মালপিজিয়ান অঙ্গ গঠিত।
গ্লোমেরুলাস হলো নেফ্রনের রেনাল করপাসলের একটি অংশ যা বোম্যান্স ক্যাপস্যুলের আবরকের মধ্যে অবস্থিত এক প্রকার রক্তনালি গুচ্ছ। রেনাল ধমনি থেকে সৃস্ট অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল ক্যাপস্যুলের ভিতরে ঢুকে প্রায় ৫০টি কৈশিক নালিকা তৈরি করে। এগুলো আবার বিভক্ত হয়ে সূক্ষ্মা রক্তজালিকার সৃস্টি করে। এসব জালিকার কৈশিকনালিগুলো মিলিত হয়ে ইফারেন্ট আর্টারিওল সৃষ্টি করে এবং ক্যাপস্যুল থেকে বেরিয়ে আসে। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিদ্রুত তরল উৎপন্ন করে।
বৃক্কের গঠনগত ও কার্ষিক একক নেফ্রনের অংশ হলো রেনাল করপাসল। রেনাল করপাসল গ্লোমেরুলাস ও বোম্যান্স ক্যাপসুল এ দুটি অংশে বিভক্ত।
রেনাল ক্যাপসুল নেফ্রনের বন্ধ, পেয়ালাকৃতির স্ফীতপ্রান্ত, যা গ্লোমেরুলাসকে আবৃত করে রাখে। এটি বাইরের দিকে প্যারাইটাল স্তর এবং ভিতরের দিকে ভিসেরাল স্তর নিয়ে গঠিত।
আল্ট্রাফিলট্রেশন হলো চাপের মাধ্যমে ফিল্টারকরণ। মৃত্র তৈরির প্রথম ধাপ হলো রক্তের আল্ট্রাফিলট্রেশন বা অতিপরিস্রাবণ। বৃক্কের রেনাল ক্যাপসুলে আল্ট্রাফিলট্রেশন সংঘটিত হয় এবং এটি গ্লোমেরুলাসের কাছে অবস্থান করে, স্বাভাবিকভাবেই রক্তের চাপ থেকে সৃষ্ট চাপে ফিল্টারের মাধ্যমে আল্ট্রাফিলট্রেশন সম্পন্ন হয়।
রক্তের পরিস্রাবণের মাধ্যমে বৃক্কে মূত্র তৈরি হয়। বৃক্কের গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিদ্রুত তরল উৎপন্ন করে। এই তরলকে আল্ট্রাফিলট্রেট বলে। সেই আল্ট্রাফিলট্রেট রেনাল টিউব্যুলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় আরও কয়েক দফা শোষণ এবং নিঃসরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। সবশেষে যে তরলটি পাওয়া যায়, সেটিই মূত্র, যা সংগ্রাহী নালিকার মধ্যদিয়ে ইউরেটার হয়ে মূত্রথলিতে জমা হতে থাকে।
প্যাঁচানো নালিকার শেষপ্রান্ত সোজা হয়ে বৃক্কের মেডুলা অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং একটি । আকৃতির ফাঁস বা লুপ গঠন করে পুনরায় কর্টেক্স অঞ্চলে ফিরে আসে। আবিষ্কারক জার্মান চিকিৎসক হেনলির নামানুসারে একে হেনলির লুপ বলা হয়।
আমাদের দেহে বৃদ্ধ অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণ করে। বৃদ্ধ বা কিডনির ভেতরের নেফ্রন একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে মূত্র উৎপন্ন করে। উৎপন্ন মূত্র সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে বৃদ্ধের পেলভিসে পৌছায় এবং পেলভিস থেকে ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশ বেয়ে ইউরেটারে প্রবেশ করে। ইউরেটার থেকে মূত্র মূত্রথলিতে এসে জমা হয় এবং পরে দেহের বাইরে নিষ্কাশিত হয়।
বৃত্তের কাজগুলো হলো-
১. রক্ত থেকে প্রোটিন বিপাকে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
২. বৃক্ক দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
৩. রক্তে অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
বৃক্ক মূত্র তৈরি করে দেহে পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। মানবদেহের যাবতীয় শারীরবৃত্তিক কাজ সম্পাদনের জন্য দেহে পরিমিত পানি থাকা অপরিহার্য। আবার দেহে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে নানারকম শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। মূলত সূত্রের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি পানি দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। বৃক্ক এর কার্যকরী একক নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে।
কিডনি মানবদেহের অঙ্গ। রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। দেহের এসকল বর্জ্য পদার্থগুলো শরীরে কোনো কারণে জমে থাকলে নানা রকম অসুখ দেখা দেবে এবং পরবর্তীতে মৃত্যু ঘটবে। কিডনি যেহেতু এই রেচন কাজ পরিচালনা করে তাই কিডনি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না।
শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পাদনের জন্য দেহে পরিমিত পানি থাকা অপরিহার্য। শরীরে কোনো কারণে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে মূত্রের মাধ্যমে অপসারিত হয়ে যায়। আবার কোনো কারণে পানির পরিমাণ কমে গেলে নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখার প্রক্রিয়াই হলো অসমোরেগুলেশন।
যাবতীয় শারীরবৃত্তিক কাজ সম্পাদনের জন্য মানবদেহে পরিমিত পানি থাকা অপরিহার্য। মূলত মূত্রের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি পানি দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। দেহের পানিসাম্য নিয়ন্ত্রণে বৃদ্ধ প্রধান ভূমিকা পালন করে। বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। গ্লোমেরুলাসে রেচন বর্জ্য, পানি এবং অন্যান্য তরল পদার্থ পরিস্রত হয়। অর্থাৎ অসমোরেগুলেশনে বৃক্কের ভূমিকা ব্যাপক।
আমাদের শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা হয় বৃক্কের মাধ্যমে। মূত্রের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি পানি দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস এক্ষেত্রে তরল পদার্থ পরিসুত করার কাজ করে থাকে।
মূত্রের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি পানি দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। দেহের পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে বৃক্ক প্রধান ভূমিকা পালন করে। বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। গ্লোমেরুলাসে রেচন বর্জ্য, পানি এবং অন্যান্য তরল পদার্থ পরিদ্রুত হয়। এভাবেই পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
অসমোরেগুলেশনের ত্রুটিজনিত লক্ষণসমূহ হলো-
১. দেহ পানিসাম্যতা হারায়। ফলে দেহ ফুলে যেতে পারে।
২. রক্তের তারল্যতা বৃদ্ধি পায়।
৩. ঘন ঘন-প্রস্রাব হতে পারে।
৪. রক্তে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যায়।
৫. শরীরে বিভিন্ন ধরনের চুলকানি ও খোসপাঁচড়া দেখা যায়।
৬. শেষ পর্যায়ে কোমরের পিছন দিকে ব্যথা অনুভূত হয়।
কিডনি রোগের লক্ষণগুলো নিম্নরূপ-
১. শরীর ফুলে যায়।
২. প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিন যাওয়া।
৩. রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব হওয়া।
৪. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া করে।
৫. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা ক্ষেত্রবিশেষে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়।
বৃক্কে পাথর হওয়ার সাধারণ লক্ষণ হলো-
১. পেশি বা পিঠে তীব্র ব্যথা।
২. প্রস্রাবের সময় তীব্র যন্ত্রণা হওয়া।
৩. প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া।
৪. বমি বা বমির ভাব।
৫. প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।
৬. অনেক সময় কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।
বৃক্কে পাথর হওয়ার কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. অতিরিক্ত শারীরিক ওজন।
২. কম পানি পান করা।
৩. অতিরিক্ত কোল্ড ড্রিংকস পান করা।
৪. অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষ গ্রহণ করা।
৫. বৃক্কে সংক্রমণ রোগ হওয়া।
মানববৃক্কে উদ্ভূত ছোট আকারের পাথর জাতীয় পদার্থের সৃষ্টিই। বৃদ্ধের পাথর হিসেবে পরিচিত। বৃক্কে পাথর সবারই হতে পারে, তবে দেখা গেছে মহিলা ও পুরুষদের মধ্যে পুরুষদের বৃক্কে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, বৃক্কে সংক্রমণ রোগ, কম পানি পান করা, অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষ গ্রহণ করা- বৃক্কে পাথর হওয়ার বিশেষ কিছু কারণ। এ কারণগুলো পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। ফলে পুরুষদের বৃক্কে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বৃক্কে পাথর হলে তা সাধারণত অতিরিক্ত পানি পান ও নিয়মিত ওষুধ সেবন করে অপসারণ করা সম্ভব হয়। এছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে ইউরেটারোস্কোপিক, আল্ট্রাসনিক লিথট্রিপসি করে বা বৃক্কে অস্ত্রোপচার করেও বৃক্কের পাথর অপসারণ করা যায়।
বৃক্কে পাথর প্রতিরোধ করার উপায়গুলো নিম্নরূপ-
১. প্রচুর পানি পান করা।
২. ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার সঠিক মাত্রায় খাওয়া।
৩. বেশি লবণ ও শর্করা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা।
নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি কারণে কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। আকস্মিক কিডনি অকেজো বা বিকল হওয়ার কারণগুলো হলো কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।
বৃদ্ধ সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস। সাধারণত ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধিত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় মেশিনটির ডায়ালাইসিস টিউবের এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনীর সাথে ও অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। মূলত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে দেহের নাইট্রোজেন ঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বাইরে নিষ্কাশিত হয়।
বৃক্ক সম্পূর্ণ বিকল হলে ডায়ালাইসিস করার সময় যে ডায়ালাইসিস মেশিন ব্যবহার করা হয় তাতে অবস্থিত টিউবটি একটি তরলে ডুবানো থাকে। এই তরলই হলো ডায়ালাইসিস ফ্লুইড। ডায়ালাইসিস ফ্লুইডের গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়।
ডায়ালাইসিস দুই ধরনের। যথা-
১. হোমোডায়ালাইসিস: এই প্রক্রিয়াতে শরীরের রক্ত একটি মেশিনের মাধ্যমে ফিল্টার করা হয়। এটি সপ্তাহে কয়েকবার ক্লিনিকে করা হয়।
২. পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস: এই প্রক্রিয়াতে পেটের মধ্যে একটি বিশেষ সলিউশন ইনজেক্ট করে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত পানি অপসারণ করা হয়। এটি বাড়িতেও করা যেতে পারে।
ডায়ালাইসিস একটি সাময়িক সমাধান, যা কিডনি বিকল হলে শরীরের অতিরিক্ত বর্জ্য অপসারণ করতে সাহায্য করে, তবে এটি কিডনির কাজ পুরোপুরি করতে পারে না। কিডনি প্রতিস্থাপন হলো একটি স্থায়ী সমাধান, যা কিডনির কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে, তবে এটি সার্জারি এবং জীবনভর ঔষধের প্রয়োজন হয়।
বিভিন্ন কারণে বৃক্ক বিকল হতে পারে। একজন সুস্থ মানুষের দুটি বৃক্ক থাকে। একজন ব্যক্তি একটি বৃক্কের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া চালাতে পারে। কোনো কারণে একজন ব্যক্তির বৃক্ক বিকল হয়ে গেলে তিনি তার নিকট আত্মীয় বা অন্য কারও কাছ থেকে বৃক্ক নিয়ে শরীরে স্থাপন করতে পারেন। এ প্রক্রিয়াটিকে বৃদ্ধ প্রতিস্থাপন বলে.।
ব্রেন ডেথ বলতে এমন মানুষকে বুঝায় যার আর কখনোই জ্ঞান ফিরবে না কিন্তু তার অঙ্গ-প্রতঙ্গ কৃত্রিমভাবে জীবিত রাখা হয়েছে। এ ধরনের মানুষের কিডনি নিয়ে একজন কিডনি বিকল রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভবপর হতে পারে।
যে কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দাতার টিস্যুর প্রকৃতি ও ধরন গ্রহীতার টিস্যুর প্রকৃতির ধরনের সাথে মিলে কিনা তা পরীক্ষা করে নেওয়া হয়। যাকে 'টিস্যু ম্যাচ' করা বলা হয়। সাধারণত আক্রান্ত 'ব্যক্তির পিতামাতা এবং কাছাকাছি আত্মীয়ের টিস্যু ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রোগীকে নিয়মিত চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, যত্ন নিতে হয়। যেমন-
১. অ্যান্টি-রিজেকশন ঔষধ সেবন করা।
২. রক্ত পরীক্ষা করে কিডনির কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা।
৩. সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং শারীরিক কার্যকলাপ বজায় রাখা।
রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ার উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থগুলো বাইরে নিষ্কাশিত হয়।
রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়।
যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয় তাই হলো রেচনতন্ত্র।
ইউরোক্রোম এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ যার উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।
প্রতিটি বৃক্কে বিশেষ এক ধরনের নালিকা থাকে সেটিই ইউরিনিফেরাস নালিকা।
মূত্রের প্রায় ৯৫ ভাগ উপাদান হচ্ছে পানি।
ইউরোক্রোম এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ যার উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।
বৃক্কের ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে রেনাল পেলভিস বলে।
বৃদ্ধ এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে সম্পূর্ণরূপে বেষ্টিত থাকে এ তন্তুময় আবরণই হলো রেনাল ক্যাপসুল।
বৃক্কের অবতল অংশের ভাঁজই হলো হাইলাম।
বৃক্কের ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স এবং ভিতরের অংশকে মেডুলা বলে।
মেডুলায় সাধারণত ৮-১২টি রেনাল পিরামিড থাকে।
নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে প্ররিদ্রুত তরল উৎপন্ন করে এই তরলকে আল্ট্রাফিলট্রেট বলে।
বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ ও কার্ষিক এককই নেফ্রন।
বোম্যান্স ক্যাপসুলে অক্ষিয়দেশ থেকে সংগ্রাহী নালি পর্যন্ত বিস্তৃত চওড়া নালিকাটিই হলো রেনাল টিউব্যুল।
গ্লোমেরুলাস হলো নেফ্রনের রেনাল করপাসলের একটি অংশ যা বোম্যান্স ক্যাপসুলের আবরকের মধ্যে অবস্থিত এক প্রকার রক্ত নালি গুচ্ছ।
বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস।
মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়, যেমন- ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি। এসব বর্জ্য পদার্থগুলো কোনো কারণে শরীরে জমতে থাকলে নানা ধরনের জটিল সমস্যার উদ্ভব ঘটে। এর ফলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই দেহ থেকে N2 ঘটিত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ জরুরি।
কোন পদার্থের অম্ল বা ক্ষারীয় অবস্থা নির্ভর করে তার pH মানের উপর। pH এর মান ৭ হলে সেই পদার্থ নিরপেক্ষ হয়। pH মান ৭ এর কম হলে তা অম্লীয় আর বেশি হলে তা ক্ষারীয়। মূত্রের pH মান ৬ হওয়ায় মূত্র সাধারণত অম্লীয় হয়। আবার খাদ্য গ্রহণের তারতম্যের উপরও মূত্র অম্লীয় নাকি ক্ষারীয় নির্ভল করে। আমিষ জাতীয় খাদ্য বেশি খেলে মূত্র অম্লীয় হয় আবার শাকসবজি, তরকারি ইত্যাদি বেশি খেলে মূত্র ক্ষারীয় হয়।
বৃক্ক হলো দেহের প্রধান রেচন অঙ্গ। এ অঙ্গের মাধ্যমে মূত্রের দ্বারা ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন প্রভৃতি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশিত হয় এবং রক্ত পরিশোধিত হয়। এ কারণেই বৃক্ককে মানবদেহের ছাঁকনি বলা হয়ে থাকে।
যাবতীয় শারীরবৃত্তিক কাজ সম্পাদনের জন্য মানবদেহে পরিমিত পানি থাকা অপরিহার্য। মূলত মূত্রের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি পানি দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। দেহের পানিসাম্য নিয়ন্ত্রণে বৃদ্ধ প্রধান ভূমিকা পালন করে। বৃদ্ধ নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। প্লোমেরুলাসে রেচন বর্জ্য, পানি এবং অন্যান্য তরল পদার্থ পরিসুত হয়। বৃক্ক অকার্যকর হয়ে গেলে দেহে পানি জমতে থাকে। চোখ-মুখসহ সারা শরীর ফুলে যেতে পারে, এমনকি উচ্চ রক্তচাপও সৃষ্টি হতে পারে। এগুলো প্রকৃতপক্ষে অসমোরেগুলেশন জনিত ত্রুটির লক্ষণ।
মূত্রের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি পানি দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। দেহের পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে বৃদ্ধ প্রধান ভূমিকা পালন করে। বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। গ্লোমেরুলাসে রেচন বর্জ্য, পানি এবং অন্যান্য তরল পদার্থ পরিসুত হয়। এভাবেই পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
গ্লোমেরুলাস হলো নেফ্রনের রেনাল করপাসলের একটি অংশ যা বোম্যান্স ক্যাপস্যুলের আবরকের মধ্যে অবস্থিত এক প্রকার রক্তনালি, গুচ্ছ। রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল ক্যাপস্যুলের ভিতরে ঢুকে প্রায় ৫০টি কৈশিক নালিকা তৈরি করে। এগুলো আবার বিভক্ত হয়ে সূক্ষ্ম রক্তজালিকার সৃষ্টি করে। এসব জালিকার কৈশিকনালিগুলো মিলিত হয়ে ইফারেন্ট আর্টারিওল সৃষ্টি করে এবং ক্যাপস্যুল থেকে বেরিয়ে আসে। গ্লোমেরুলাস, ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিস্রত তরল উৎপন্ন করে।
বৃক্কে পাথর একটি জটিল সমস্যা। কারণ নানারকম রোগের কারণে বৃক্ক বা কিডনির স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটে। মানুষের কিডনিতে ছোট আকারের পাথর জাতীয় পদার্থের সৃষ্টিই বৃক্ক বা কিডনির পাথর হিসেবে পরিচিত। কিডনিতে পাথর সবারই হতে পারে, তবে দেখা গেছে, মেয়েদের থেকে পুরুষের পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি। প্রাথমিকভাবে বৃত্তে পাথর হলে তেমন সমস্যা ধরা পড়ে না। সমস্যা হয় যখন পাথর প্রস্রাব নালিতে চলে আসে এবং প্রস্রাবে বাধা দেহ। উপসর্গ হিসেবে কোমরের পিছনে ব্যথা হবে। অনেকের প্রস্রাবের সাথে রক্ত বের হয়। অনেক সময় কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এসব কারণেই বলা যায় বৃক্কে পাথর একটি জটিল সমস্যা।
মানব বৃক্কে উদ্ভূত ছোট আকারের পাথর জাতীয় পদার্থের সৃষ্টিই বৃক্কের পাথর হিসেবে পরিচিত। বৃক্কে পাথর সবারই হতে পারে। তবে পুরুষের পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, বৃদ্ধে সংক্রামক রোগ, কম পানি পান, অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষ, যেমন- মাংস ও ডিম গ্রহণ করলে বৃক্কে পাথর হতে পারে।
বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস। কিডনি সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হলে রক্তে ক্ষতিকর নাইট্রোজেন ঘটিত পদার্থ যেমন ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিয়া বৃদ্ধি পায়। অপদ্রব্য মিশ্রিত রক্তের কারণে শরীর দ্রুত ফুলে ওঠে। রোগী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে থাকে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্ত পরিশোধন করা হয়।
মূত্রনালী সুস্থ রাখার উপায়গুলো হলো-
১. শিশুদের টনসিল এবং খোসপাঁচড়া থেকে সাবধান হওয়া প্রয়োজন, কেননা সেখান থেকে কিডনির অসুখ হতে পারে।
২. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
৩. ধূমপান ত্যাগ করা এবং ব্যথা নিরাময়ের ঔষধ যথাসম্ভব পরিহার করা।
৪. পরিমাণমতো পানি পান করা।
৫. নিয়ম মেনে জীবনযাপন করা।
মূত্রের প্রধান উপাদানগুলো হলো—
- জল (Water)
- ইউরিয়া (Urea)
- ইউরিক অ্যাসিড (Uric acid)
- ক্রিয়াটিনিন (Creatinine)
- অজৈব লবণ বা খনিজ লবণ (Inorganic salts) — যেমন সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি।
- অল্প পরিমাণে অ্যামোনিয়া (Ammonia)
- বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থ (Pigments) — যেমন ইউরোক্রোম, যা মূত্রকে হলুদ বর্ণ দেয়।
মূত্র অম্লীয় (Acidic) প্রকৃতির হয়, কারণ—
শরীরে প্রোটিন ভাঙার ফলে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) ইত্যাদি অম্লজাত পদার্থ তৈরি হয়।
এই অম্লজাত পদার্থগুলো রক্তের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য ঠিক রাখতে কিডনি দ্বারা মূত্রের মাধ্যমে নির্গত হয়।
ফলে মূত্রে অম্লীয় উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকায় এর pH সাধারণত ৬-এর নিচে থাকে।
মেডুলা (Medulla) বলতে কোনো অঙ্গের অভ্যন্তরীণ বা ভেতরের অংশকে বোঝায়। উদাহরণ হিসেবে—
কিডনির মেডুলা (Renal medulla): এটি কিডনির ভেতরের অংশ, যেখানে নেফ্রনের হেনলের লুপ (Loop of Henle) ও সংগ্রাহক নালিকা (Collecting ducts) থাকে। এটি মূত্র ঘনীভবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্রেইনের মেডুলা (Medulla oblongata): এটি মস্তিষ্কের একটি অংশ, যা শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
মূত্র তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া (Urine formation) কিডনির নেফ্রন নামক গঠন এককে ঘটে।
এই প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয় —
১. গ্লোমেরুলার পরিস্রবণ (Glomerular Filtration)
- রক্ত নেফ্রনের গ্লোমেরুলাসে প্রবেশ করে।
- সেখানে রক্তচাপের কারণে রক্তের তরল অংশ (জল, ইউরিয়া, গ্লুকোজ, লবণ ইত্যাদি) বোম্যান্স ক্যাপসুলে প্রবেশ করে।
- এই তরলকে বলে গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেট বা প্রাথমিক মূত্র।
২. পুনঃশোষণ (Reabsorption)
- ফিল্ট্রেট নেফ্রনের টিউবুল অংশ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময়,
দরকারি উপাদান যেমন জল, গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও কিছু লবণ পুনরায় রক্তে ফিরে যায়। - এতে মূত্রের পরিমাণ কমে যায় এবং ঘনত্ব বাড়ে।
৩. নিঃসরণ (Secretion)
- শেষ ধাপে, কিছু অপ্রয়োজনীয় পদার্থ (যেমন হাইড্রোজেন আয়ন, পটাশিয়াম আয়ন, অ্যামোনিয়া) টিউবুলের কোষ থেকে মূত্রে যোগ হয়।
- এতে দেহের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য রক্ষা পায়।
অসমোরেগুলেশন (Osmoregulation) বলতে দেহের জল ও লবণের পরিমাণকে সঠিক ভারসাম্যে রাখা প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
বিস্তারিতভাবে:
- আমাদের দেহে কোষগুলোর সঠিক কাজের জন্য জল (Water) ও লবণের (Salt) একটি নির্দিষ্ট মাত্রা প্রয়োজন।
- যখন দেহে জল বা লবণের পরিমাণ বেড়ে বা কমে যায়, তখন কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গ একসাথে কাজ করে এই ভারসাম্য ঠিক রাখে।
- এই প্রক্রিয়ার নামই হলো অসমোরেগুলেশন।
উদাহরণ:
- দেহে অতিরিক্ত জল থাকলে কিডনি বেশি পাতলা মূত্র তৈরি করে।
- আবার জল কম থাকলে কিডনি ঘন মূত্র তৈরি করে জল সংরক্ষণ করে।
অসমোরেগুলেশন ত্রুটির কারণে দেহে জল ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, ফলে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় সমস্যা দেখা দেয়।
অসমোরেগুলেশন ত্রুটির লক্ষণ:
অতিরিক্ত মূত্রত্যাগ (Polyuria) – বারবার ও বেশি পরিমাণে মূত্র ত্যাগ হয়।
অতিরিক্ত তৃষ্ণা (Excessive thirst) – শরীর থেকে বেশি জল বের হয়ে যাওয়ায় তীব্র তৃষ্ণা অনুভূত হয়।
ডিহাইড্রেশন (Dehydration) – শরীরে জলশূন্যতা দেখা দেয়; ঠোঁট ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
রক্তচাপের পরিবর্তন – রক্তে তরলের পরিমাণ কমে গেলে রক্তচাপ হ্রাস পায়।
দুর্বলতা ও ক্লান্তি (Weakness & Fatigue) – ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় শরীরে শক্তির ঘাটতি হয়।
পেশীতে খিঁচুনি (Muscle cramps) – সোডিয়াম ও পটাশিয়াম লবণের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশীতে টান বা খিঁচুনি দেখা দেয়।
মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তি (Dizziness or confusion) – রক্তে ইলেকট্রোলাইট ঘাটতির কারণে স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব
ডায়ালাইসিস (Dialysis) হলো এমন একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ, অতিরিক্ত জল ও লবণ অপসারণ করা হয়।
বিস্তারিতভাবে:
আমাদের কিডনি স্বাভাবিকভাবে রক্ত ছেঁকে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, অতিরিক্ত লবণ ও জল বের করে দেয়।
কিন্তু কিডনি বিকল (Kidney failure) হলে এই কাজটি আর করতে পারে না।
তখন ডায়ালাইসিস যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে রক্ত পরিশোধন করা হয়।
ডায়ালাইসিসের দুই প্রকার:
হেমোডায়ালাইসিস (Hemodialysis):
রক্ত শরীর থেকে বের করে একটি ডায়ালাইসিস যন্ত্রে (Dialyzer) পরিশোধন করা হয়।
পরিশোধিত রক্ত আবার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (Peritoneal Dialysis):
পেটের গহ্বরে একটি বিশেষ তরল প্রবেশ করানো হয়।
এই তরলের মাধ্যমে রক্তের বর্জ্য পদার্থ পেটের আবরণ (Peritoneum) দিয়ে ছেঁকে ফেলা হয়।
ডায়ালাইসিস ফ্লুইড (Dialysis Fluid) বা ডায়ালাইসেট (Dialysate) হলো এক ধরনের বিশেষ তরল, যা ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত লবণ অপসারণে ব্যবহৃত হয়।
বিস্তারিতভাবে:
- এই তরলটি রক্তের সাথে সরাসরি মিশে না, তবে আধা-পারগম্য ঝিল্লি (Semipermeable membrane) দিয়ে রক্তের বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত জলকে আকর্ষণ করে নেয়।
- ফলে রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়াটিনিন, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি বর্জ্য পদার্থ এই তরলে চলে যায়।
ডায়ালাইসিস ফ্লুইডের উপাদানসমূহ:
- জল (Water)
- গ্লুকোজ (Glucose) – শক্তি সরবরাহে সাহায্য করে
- ইলেকট্রোলাইট (Electrolytes) যেমন
- সোডিয়াম (Na⁺)
- পটাশিয়াম (K⁺)
- ক্যালসিয়াম (Ca²⁺)
- বাইকার্বোনেট (HCO₃⁻)
- বাফার পদার্থ (Buffer substances) – রক্তের pH ভারসাম্য রক্ষা করে
ব্রেন ডেথ (Brain Death) বলতে বোঝায় মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেওয়া অবস্থাকে।
বিস্তারিত:
- মস্তিষ্কের সব কার্যকরী অংশ (Brain stem ও অন্যান্য অংশ) কার্যহীন হলে দেহ স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন বা অন্যান্য জীবনধারী কার্যক্রম চালাতে পারে না।
- এটি চিকিৎসা দ্বারা পুনরুদ্ধারযোগ্য নয়।
লক্ষণসমূহ:
- কোমায় থাকা বা অচেতন থাকা
- কোনো স্বতঃস্ফূর্ত শ্বাস-প্রশ্বাস নেই
- চোখ বা মুখের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই
- ব্রেইন স্টেম রিফ্লেক্স নেই
অর্থাৎ, ব্রেন ডেথ হলো মস্তিষ্কের চূড়ান্ত এবং স্থায়ী মৃত্যু, যা দেহের অন্যান্য অঙ্গ কাজ করলেও জীবনধারণ সম্ভব ন
কিডনি প্রতিস্থাপনের (Kidney Transplant) পর রোগীর জন্য বিশেষ যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান বিষয়গুলো হলো:
১. ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ
- রোগীকে ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ (Immunosuppressive drugs) নিয়মিত নিতে হয়।
- এগুলো দেহকে নতুন কিডনি প্রত্যাখ্যান না করার জন্য প্রয়োজন।
২. রক্ত পরীক্ষা ও ফলো-আপ
- নিয়মিত রক্তে ক্রিয়াটিনিন, ইউরিয়া, ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা করতে হবে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলো-আপ ভিজিট করতে হবে।
৩. সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা
- নতুন কিডনি থাকা অবস্থায় রোগীর প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই সংক্রমণ এড়াতে সতর্ক থাকতে হয়।
- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ভীড় এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনমতো টিকা গ্রহণ করা জরুরি।
৪. খাদ্য ও জল নিয়ন্ত্রণ
- লবণ, প্রোটিন, পানি নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া-দাওয়া করা।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট অনুসরণ করা।
৫. জীবনধারার পরিবর্তন
- ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা।
- হালকা ব্যায়াম করা, তবে শরীরকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
৬. সতর্কতা লক্ষণ
- কিডনি প্রত্যাখ্যানের লক্ষণ যেমন: জ্বর, পেটে ব্যথা, মূত্রে পরিবর্তন, পেশীতে ফোলা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
Related Question
View Allবৃক্কের ভেতরের গাঢ় কালচে রঙের অংশই হলো মেডুলা।
নেফ্রনের বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতর একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি অঙ্গই হলো গ্লোমেরুলাস। রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল ক্যাপসুলের ভেতর ঢুকে প্রায় ৫০টি কৈশিক নালিকা তৈরি করে। এগুলো আবার বিভক্ত হয়ে সূক্ষ্ম রক্তজালিকার সৃষ্টি করে। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিসুত তরল উৎপন্ন করে।
চিত্র-A হলো মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ রেচন অঙ্গ-'বৃদ্ধ'। রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থগুলো বাইরে নিষ্কাশিত হয়। বিপাক ক্রিয়ায় আমাদের দেহে যে সকল বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয় তা হলো- ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, লবণ, ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যামাইনো এসিড ইত্যাদি। এগুলো রক্তের সাথে মিশে থাকে। বৃক্কের কার্যকরী একককে বলা হয় নেফ্রন। নেফ্রনের বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতর থাকে এক গুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গ্লোমেরুলাস। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে। বিপাক ক্রিয়ায় সৃষ্ট বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থসহ রক্ত যখন গ্লোমেরুলাসে আসে তখন রক্ত থেকে সক্রিয় ছাঁকন পদ্ধতিতে বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থগুলো বোম্যান্স ক্যাপসুলের গহ্বরে প্রবেশ করে। ফলে রক্ত পরিশোধিত হয়। বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থগুলো পরবর্তীতে মূত্রের সঙ্গে বাইরে বের হয়ে আসে। যেহেতু চিত্র-৭ এর অর্থাৎ বৃক্কের গ্লোমেরুলাস মূলত ছাঁকন পদ্ধতিতে রক্ত থেকে বর্জ্য বা দূষিত পদার্থগুলোকে অপসারণ করে তাই একে (চিত্র-A) ছাঁকনির সাথে তুলনা করা হয়।
চিত্র-A হলো বৃক্ক। অঙ্গটি অর্থাৎ বৃক্ক বিকল হলে একমাত্র প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেই এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওযা সম্ভব। যখন কোনো ব্যক্তির বৃক্ক বিকল হয়ে পড়ে তখন কোন সুস্থ ব্যক্তির বৃদ্ধ তার দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। তখন একে বৃক্ক সংযোজন বলে। বৃক্ক সংযোজন দুভাবে করা যায়, কোনো নিকট আত্মীয়ের বৃদ্ধ একজন রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করে এটি করা যায়। তবে নিকট আত্মীয় বলতে বাবা, মা, ভাই, বোন, মামা, খালাকে বোঝায়। আবার মৃত ব্যক্তির বৃক্ক নিয়ে রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। মৃত ব্যক্তি বলতে 'ব্রেন ডেথ' বোঝায়। তাছাড়া মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরনোত্তর বৃক্কদানের মাধ্যমে একজন বৃক্ক বিকল বা অকেজো রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভবপর হতে পারে। সমগ্র পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ বৃত্ত অকেজো রোগী বৃক্ক সংযোজনের মাধ্যমে সুস্থ জীবন যাপন করছে। বৃক্ক প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে টিস্যু ম্যাচ করে নেওয়া আবশ্যক। পিতামাতা, ভাইবোন ও নিকট আত্মীয়ের বৃক্কের টিস্যু ম্যাচ হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, একারণে পিতা মাতা, ভাইবোন বা নিকট আত্মীয়ের বৃদ্ধ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিকল বৃক্কের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ঝুঁকির হার অনেক কম থাকে।
বৃক্ক সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নামই হলো ডায়ালাইসিস।
মূত্রের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৯০ ভাগই পানি। এছাড়া মূত্রের অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, বিভিন্ন ধরনের লবণ এবং ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক পদার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
