সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও সমাধান

Updated: 1 month ago
উত্তরঃ

ইবাদত শব্দের অর্থ আনুগত্য করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইবাদত অর্থ নমনীয় হওয়া।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মানুষ আল্লাহর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করবে ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইবাদত ২ প্রকার।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

'হাক্কুল ইবাদ' অর্থ বান্দার হক

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হাক্কুল ইবাদ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ফারসি ভাষার শব্দ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

৫টি রুকনের ওপর প্রতিষ্ঠিত

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সালাতের হিসাব সর্বপ্রথম দিতে হবে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সালাত মানুষকে বিশেষভাবে অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মনোযোগ সহকারে আদায়কৃত সালাত কিয়ামতের, দিন আদায়কারীর জন্য নুর হয়ে দাঁড়াবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইমান ও কুফরের পার্থক্যকারী সালাত

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

২৭ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ফারসি ভাষার শব্দ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

'সাওম' শব্দের অর্থ বিরত থাকা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

'সাওম' এর সময়কাল সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর সাওম ফরজ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পূর্ববর্তী সকল উম্মতের ওপর সাওম ফরজ ছিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সাওম পালনকারী আল্লাহর ভয়ে পানাহার থেকে বিরত থাকে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

তাকওয়া অর্জন  সাওমের মৌলিক উদ্দেশ্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

তাকওয়া অর্জন রোজার মূল উদ্দেশ্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মন্দকাজে বাধা দেয় বলে সাওমকে ঢাল বলা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সাওম লোক দেখানের মনোভাব পরিহার করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সমাজে ২টি অর্থনৈতিক শ্রেণি রয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

রায়হাকি গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ন্যূনতম যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হয়

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাতের শতকরা হার ২.৫০ টাকা

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সম্পদ পবিত্র করার জন্য যাকাত প্রদান করতে হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাতের উদ্দেশ্য সম্পদ পূঞ্জীকরণ রোধ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত' অস্বীকার করা কুফর

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যারা যাকাতকে অস্বীকার করে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

১/৪০ ভাগ যাকাত দিতে হয়

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত দানের মুখ্য উদ্দেশ্য গরিবদের অবস্থার পরিবর্তন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ ইসলামের ৫ম রুকন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

'হজ' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সংকল্প করা, ইচ্ছা করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ পালন করা আর্থিক ও দৈহিক ইবাদত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজের ফরজ ৩টি

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইহরাম দ্বারা হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজের আনুষ্ঠানিক নিয়ত করা

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজের ওয়াজিব ৬টি

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

১০ তারিখে ১ম কংকর নিক্ষেপ করতে হয়

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

১০, ১১ ও ১২ জিলহজ শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করতে হয়

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ এর বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে একটি সূরা নাজিল করেছেন

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ অস্বীকারকারীকে কাফির বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

নিজ শ্রমের উপার্জন উত্তম ও পবিত্রতম

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

নবিজি একজন অধীনস্থ কর্মচারীকে ৭০ বার ক্ষমা করার কথা বলেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রমিকদের মহানবি (স.) ভাই বলে সম্বোধন করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ঘাম শুকানোর পূর্বে পারিশ্রমিক দিতে বলা হয়েছে

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আরবি ভাষার শব্দ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইলম অর্থ জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

অকল্যাণকর জ্ঞান বর্জনীয়

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মনুষ্যত্ব বিকাশের জন্য জ্ঞান চর্চা অপরিহার্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যে শেখার প্রতি আগ্রহী ও যত্নশীল

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হযরত মুহাম্মদ (স.) পৃথিবীর আদর্শ শিক্ষক

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষকগণ সন্তানকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষকগণকে শ্রদ্ধা করা ইবাদতের শামিল

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষকের দু'আ ও শ্রম উন্নতির চাবিকাঠি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হবে বন্ধুর মতন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকে শিক্ষা বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শিক্ষার মূল উৎস দুটি কুরআন ও হাদিস

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শিক্ষার প্রথম উৎস আল-কুরআন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শিক্ষার উদ্দেশ্য সর্বস্তরে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করা

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শিক্ষা ৩টি মূলভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সুন্দর চরিত্র মানুষের জন্য আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর দান

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

'জিহাদ' অর্থ সাধনা করা, পরিশ্রম, চেষ্টা

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইমানদারগণ আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ তিন প্রকার।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জিহাদের সর্বোচ্চ স্তর নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা জিহাদে আকবর

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইরহাব শব্দের অর্থ সন্ত্রাসবাদ

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো চূড়ান্তভাবে দীনতা-হীনতা ও বিনয় প্রকাশ করা এবং নমনীয় হওয়া। আর ইসলামি পরিভাষায়, দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজ-কর্মে আল্লাহ তায়ালার বিধি-বিধান মেনে চলাকে ইবাদত বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আমরা পৃথিবীতে যত ইবাদতই করি না কেন, সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যই হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আর এ ইবাদত একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য না হলে আল্লাহ তা কবুল করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধ হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে।" (সূরা আল-বাইয়ি‍্যনা: ০৫)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যে হলো বিবেকবুদ্ধি ও জ্ঞানের। এ জ্ঞান দিয়ে আল্লাহর ইবাদত না করলে তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো কিংবা তার চেয়ে অধম। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না। তাদের চক্ষু আছে তা দ্বারা দেখে না, তাদের কর্ণ। আছে তা দ্বারা শুনে না; এরা পশুর ন্যায়। বরং অধিক নিকৃষ্ট (পশু হতে); তারা হলো অচেতন।" (সূরা আল-আরাফ: ১৭৯)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইবাদত দুই প্রকার।
যথা-
১. হাক্কুল্লাহ: আল্লাহর সাথে সম্পৃকত্ত অধিকার হলো হাক্কুল্লাহ।
২. হাক্কুল ইবাদত: মানুষের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও দায়িত্বই হলো হাক্কুল ইবাদ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহর হক আদায় করতে হলে আমাদের অবশ্যই নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবে-
১. সামগ্রিক জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব স্বীকার করা।
২. আল্লাহর দেওয়া সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
৩. সর্বাবস্থায় নিজেকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ এবং তাঁর অনুগ্রহ কামনা করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের অধিকার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- "এক মুসলিমের উপর অপর মুন্সিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যেমন- সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা ও হাঁচির জবাব দেওয়া।" (বুখারি ও মুসলিম)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মানুষের প্রতি মানুষের হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

নিচে অধিকারগুলো উল্লেখ করা হলো-
১. নিকটাত্মীয়ের হক,
২. দূরাত্মীয়ের হক,-
৩. প্রতিবেশীর হক,
৪. দেশবাসীর হক,
৫. শাসক-শাসিতের হক,
৬. সাধারণ মুসলমানের হক,
৭. অভাবী লোকের হক ও
৮. অমুসলিমের হক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সালাত আরবি শব্দ। এর ফারসি প্রতিশব্দ হলো নামায। এর অর্থ দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা করা ও রহমত (দয়া) কামনা করা। যেহেতু সালাতের মাধ্যমে বান্দা প্রভুর নিকট দোয়া করে, দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে তাই একে সালাত বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের পাঁচটি রুকন সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেছেন-
ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত ১. এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল; ২. সালাত প্রতিষ্ঠা করা; ৩. যাকাত দেওয়া; ৪. রযমানের রোযা রাখা; ৫. হজ করা।" (সহিহ বুখারি)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনে সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সালাত মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বান্দা তার প্রভুর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। ইমান মজবুত হয়, আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। রাসুল (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি মনোযোগসহ সালাত আদায় করে, কিয়ামতের দিন ঐ সালাত তার জন্য নূর হবে।” (তাবারানি)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জামাআতের সাথে সালাত আদায় সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, "আর তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু কর।" (সূরা আল-বাকারা: ৪৩) জামাআতের সাথে সালাত আদায় করার গুরুত্ব বর্ণনা। করে মহানবি (স.) বলেন, "জামাআতে সালাত আদায় করলে একাকী আদায় করার চাইতে সাতাশ গুণ বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়।" (বুখারি ও মুসলিম)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সালাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষ পারস্পরিক সকল মতপার্থক্য ভুলে একসাথে কাজ করার শিক্ষা পায়। সালাত আমাদেরকে সময়ের গুরুত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ শিক্ষা দেয়। নেতার অনুসরণ করতে ও। নিয়মতান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সাওম আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত থাকা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষা সাওম হলো- সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সাওম সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমাদের উপর সাওম (রোযা) ফরজ করা হয়েছে। যেমন করা হয়েছিল তোমার পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পার।" (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। সাওম পালন করে এরূপ ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে সে অন্য আরেকজন অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে। সাওম অসহায় ও দরিদ্রকে দান করতে উদ্বুদ্ধ করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ধর্মীয় দিক থেকেও সাওমের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। সকল সৎকাজের প্রতিদান আল্লাহ দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু সাওম-এর প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, "সাওম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।" (বুখারি)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। আর ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের দৃষ্টিতে যাকাত আদায় করা ফরজ। তাই যাকাত আদায় করাকে আবশ্যক করে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "আর তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর।" (সূরা আন-নূর: ৫৬)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে অনেক স্থানে সালাতের সাথে যাকাতের কথাও বলেছেন। যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়। যাকাতের সামাজিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। এসব কারণেই মহান আল্লাহ মুসলমানদের উপর যাকাত ফরজ করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত সমাজ থেকে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে পারস্পরিক সৌহার্দ স্থাপন করে। সামাজিক নিরাপত্তাদানের পাশাপাশি সমাজের মানুষের মাঝে সম্পদের বৈষম্য দূর করে। যেমন- আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যাতে সম্পদ শুধু তোমাদের অর্থশালীদের মধ্যে আবর্তিত না হয়।" (সূরা আল-হাশর: ৭)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

'যাকাত মানুষের মনে খোদাভীতি সৃষ্টি করে। পবিত্র ও উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। অপচয় রোধ করতে শেখায়। সর্বোপরি যাকাত মানুষের আত্মিক প্রশান্তি, নৈতিক উন্নতি, সম্পদের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি অর্থ ব্যবস্থার উৎসগুলোর মধ্যে- যাকাত হলো অন্যতম। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদের প্রবাহ গতিশীল হয়। ধনীর সম্পদ পুঞ্জীভূত না থেকে দরিদ্র লোকদের হাতেও যায়। ফলে রাষ্ট্রের অর্থনীতি সচল হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

কোনো মুসলমান যাকাত না দিলে সে আর পরিপূর্ণ মুসলমান থাকতে পারে না। আল্লাহ বলেন,
الَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ الزَّكَوَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ.
অর্থ: "যারা যাকাত দেয় না এবং তারা পরকালও অস্বীকারকারী।" (সূরা হা-মীম আস্-সাজদা: ৭)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত প্রদান না করলে সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে। পরিণামে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, "আর যারা স্বর্ণ ও রূপা (সম্পদ) জমা করে রাখে। এবং তা আল্লাহর পথে খরচ করে না তাদেরকে কঠিন শাস্তির সংবাদ দিন।" (সূরা আত্-তাওবা: ৩৪)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায় করে বেকার ও গরিবদের জন্য অনেক কর্মসংস্থান করা যেতে পারে। এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। দারিদ্র্য দূরীভূত হবে এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। ধনী-দরিদ্রের মাঝে সম্পদের বৈষম্য দূর হবে। কাজেই ধনীদের শরিয়তের বিধান অনুসারে যাকাত আদায় করা একান্ত আবশ্যক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ এর আভিধানিক অর্থ- সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসে নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাইতুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ যিয়ারত করাকে হজ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ ঐ সমস্ত ধনী মুসলমানের উপর ফরজ যাদের পবিত্র মক্কায় যাতায়াত ও হজের কাজ সম্পাদন করার মতো আর্থিক ও দৈহিক সামর্থ্য রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, "আর মানুষের মধ্যে যার আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌছার সামর্থ্য আছে তার উপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা অবশ্য কর্তব্য।" (সূরা আলে-ইমরান: ৯৭)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজের মোট ৩টি ফরজ রয়েছে। যথা-
১. ইহরাম বাঁধা (আনুষ্ঠানিকভাবে হজের নিয়ত করা)।
২. ৯ই জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।
৩. তাওয়াফে যিয়ারত (১০ই জিলহজ ভোর থেকে ১২ই জিলহজ পর্যন্ত যেকোনো দিন কাবা শরিফ তাওয়াফ করা)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজের ওয়াজিব ছয়টি। তার মধ্যে ২টি ওয়াজিব লেখা হলো-৯ই জিলহজ দিবাগত রাতে মুযদালিফা নামক স্থানে অবস্থান করা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ (দৌড়ানো) করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামে হজের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সূরা হাজ্জ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন। এ ছাড়াও পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ হজের ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- "মাকবুল (আল্লাহর নিকট গ্রহণীয়) হজের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নেই।" (বুখারি-মুসলিম)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজের মাধ্যমে বিগত জীবনের গুনাহ মাফ হয়। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি হজ করে সে যেন নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।" (ইবনে মাজাহ)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজের মাধ্যমে বিশ্বভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলিম একই স্থানে সমবেত হয়। হজ বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, "এবং মানুষের নিকট হজের ঘোষণা করে দাও; তারা তোমার নিকট (মক্কায়) আসবে পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটের পিঠে আরোহণ করে। তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।" (সূরা আল-হাজ্জ: ২৭)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলাম অধীনস্থ লোকদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর তোমরা পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম ও মিসকিনদের সাথে ভালো আচরণ কর এবং নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, মুসাফির ও তোমাদের অধীনস্থ যেসব দাস-দাসী (শ্রমিক) রয়েছে তাদের প্রতিও সদয় হও।"
(সূরা আন-নিসা: ৩৬)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হযরত উমর (রা.) আমিরুল মুমিনিন ছিলেন। জেরুজালেম সফরে উটের পিঠে, চড়া ও উট টেনে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি সাম্য ও মানবতাবোধ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি উটের পিঠে চড়া ও উটের রশি টানার বিষয়ে নিজের ও ভূত্যের মাঝে পালাক্রম ঠিক করে নিয়েছিলেন। মালিক-শ্রমিকের এমন দৃষ্টান্ত ইতিহাস বিরল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

খুব দ্রুত শ্রমিকের পারিশ্রমিক আদায়ের ব্যাপারে ইসলামের বিধান সুস্পষ্ট। হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।" (ইবনু মাজাহ) পারিশ্রমিক দিতে অকারণে বিলম্ব করা সমীচীন নয়। শ্রমিক যাতে তার শ্রমের সঠিক মূল্য পায় সে ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "মজুরের পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করে তাকে কাজে নিয়োগ করো না।"

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইলম আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো- জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া, বিদ্যা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, ইলম হলো কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামে ইলমের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম অর্থ আনুগত্য করা ও আত্মসর্পণ করা। তাই প্রতিটি মুসলিম কার আনুগত্য করবে এবং কীভাবে করবে? কার নিকট আত্মসমর্পণ করবে? এবং কীভাবে আত্মসমর্পণ করবে? তা আবশ্যই জানতে হবে। ইলম ব্যতীত তা জানা যাবে না। ইসলাম জ্ঞানার্জনকে সকল মুসলিমের উপর ফরজ (আবশ্যক) করেছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলাম জ্ঞানার্জনকে সকল মুসলিমের উপর ফরজ (আবশ্যক) করেছে। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ।" (ইবনে মাজাহ)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হযরত মুহাম্মদ (স.) অন্যত্র জ্ঞানার্জনকে উত্তম ইবাদত বলে অভিহিত করেছেন। ইলমের অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এর মধ্যে যে ধরনের ইলম অর্জন করলে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা যায়, বৈধ-অবৈধ বোঝা যায় এবং আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায় তাই হলো উত্তম ইলম।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইলম দুই ভাগে বিভক্ত। যথা-
১. দীনি ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) ও
২. দুনিয়াবি ইলম (পার্থিব জ্ঞান)। শুধু পার্থিব উন্নতির সম্পৃক্ত জ্ঞানকে দুনিয়াবি ইলম বলে। যথা- গণিত, বিজ্ঞান, সাহিত্য ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

দীনি ইলম বলতে সাধারণত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞানকেই বোঝায়। যেমন- কুরআন, হাদিস, ফিকাহ, তাফসির ইত্যাদি বিষয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

গ্রহণীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান ইহকাল ও পরকালে মানুষের কল্যাণে আসে। যেমন- নৈতিক জ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, পদার্থ-রসায়নসহ সকল কল্যাণকর জ্ঞান।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

একজন প্রকৃত শিক্ষার্থীর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। নিচে একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো-শিক্ষকগণের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। সাক্ষাৎ হলে বিনয়ের সাথে সালাম দিয়ে তাঁদের খোঁজ-খবর নেওয়া। শিক্ষক যা শিক্ষা দেন তা মনোযোগ সহকারে শোনা ও পালন করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পৃথিবীতে সবচাইতে সম্মান ও মর্যাদার পেশা হলো শিক্ষকতা। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেছেন- "আমাকে শিক্ষক হিসেবেই প্রেরণ করা হয়েছে।" (ইবনে মাজাহ)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষকের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো- একজন ভালো শিক্ষক। তাল অবশ্যই আদর্শবান হবেন। একজন ভালো শিক্ষক অবশ্যই গভীর জ্ঞানের আ অধিকারী হবেন। একজন ভালো শিক্ষক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হবেন। একজন প্রশ্ন ভালো শিক্ষক ছাত্রদের প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসাসম্পন্ন হবেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আদর্শবান শিক্ষকের গুণ হলো- আদর্শিক জ্ঞানের অধিকারী হবেন; নিজস্ব ধর্মীয় দর্শন ও অন্যান্য জীবন দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান রাখবেন; উত্তম আদর্শের ভিত্তিতে তিনি ছাত্রদের গড়ে তুলবেন; কথা ও কাজে মিল রাখবেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শিক্ষকের গুণ হলো- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন; শালীন, মার্জিত ও ব্যক্তিত্ব রক্ষাকারী পোশাক পরিধান করবেন; বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও প্রকাশভঙ্গির অধিকারী হবেন; মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখবেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পিতামাতার পরই শিক্ষকের স্থান। শিক্ষক পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। তিনি আমাদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আইনকানুন, আদবকায়দা, শিষ্টাচার, বিনম্র, নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন, যা শিক্ষার্থী তার পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে সার্বিক সফলতা লাভ করে থাকে। এজন্য শিক্ষককে শ্রদ্ধা করতে হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়। কাজেই একজন শিক্ষার্থীদের যে শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন, শিক্ষার্থীরা তাই শিখবে। শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী হবে শিক্ষকরাই ছোটবেলায় তা শিখিয়ে দেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

নবি ও রাসুল (আ.)-গণ হলেন শিক্ষক আর তাঁদের উম্মত হলো তাঁদের ছাত্র। রাসুল্লাহ (স.) এই উম্মতের জ্ঞানীদেরকে নবিদের উত্তরাধিকারী বলেছেন। তিনি বলেন, "আলেমগণ (জ্ঞানীরা) হলেন নবিদের উত্তরাধিকারী। তাঁরা সম্পদ ও মালের উত্তরাধিকারী নন, বরং তাঁরা হলেন জ্ঞানের উত্তরাধিকারী।" (তিরমিযি)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পুত্র ও পিতার মাঝে যেমন উত্তরাধিকারের সম্পর্ক আছে, ছাত্র-শিক্ষকের মাঝেও তেমন সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই আমরা এই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.) বলেছেন, "যার কাছে আমি একটি শব্দও শিখেছি আমি তার দাস। তিনি ইচ্ছা করলে আমাকে বিক্রি করতে পারেন কিংবা আষাদ করে দিতে পারেন কিংবা ইচ্ছা করলে দাস বানিয়েও রাখতে পারেন।"

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষাহীন জাতি মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর মতো। সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনের সফলভাবে প্রয়োগ করাকেই শিক্ষা বলে। শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি মানুষের শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশ সাধন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলাম শিক্ষা হলো ইসলাম সম্পর্কিত শিক্ষা। অর্থাৎ যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণরূপে তুলে ধরা হয়েছে তাকেই ইসলামি শিক্ষা বলে। এককথায় কুরআন ও হাদিসের আলোকে সমন্বিত শিক্ষাই হলো ইসলামি শিক্ষা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলাম শিক্ষার মূল উৎস দুটি। যথা-
১. আল-কুরআন: আল-কুরআন হলো সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব।
২. আল হাদিস: রাসুল (স.)-এর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি হলো হাদিস।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণী, কাজ ও মৌন সম্মতি হলো হাদিস। হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন-"আর রাসুল (স.) তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর। আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে তোমরা বিরত থাকে।"
(সূরা আল-হাশর: ৭)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্র- এ সবকিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাল-চলন, উঠা-বসা, আচার-ব্যবহার, লেন-দেন, সবকিছুই যখন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য হয় তখন তাকে নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি বলে। এই নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (স.) সর্বোত্তম লোক বলে অভিহিত করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

নীতিহীন ও চরিত্রহীন মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট। মহান আল্লাহ বলেন, "তাদের হ্রদয় আছে উপলব্ধি করে না, চোখ আছে দেখে না; কান আছে শুনে না, এরা হলো চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তার থেকেও নিকৃষ্ট। আর এরাই হলো গাফিল।" (সূরা আল-আরাফ: ১৭৯)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

নৈতিক শিক্ষা ইসলামি শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা সম্পর্কে জানা ও তা বাস্তবজীবনে প্রয়োগ করা অধিকতর সহজ। ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ নৈতিকতা লাভ করতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জিহাদ আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ পরিশ্রম, সাধনা, কষ্ট, চেষ্টা ইত্যাদি। আর ইসলামি পরিভাষায়, জান-মাল, ইলম, আমল, লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর দীনকে (ইসলামকে) সমুন্নত করাই হলো জিহাদ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ তিন প্রকার। যথা-
১. স্বীয় নফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করা।
২.. জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদ করা। এরূপ জিহাদকে পবিত্র কুরআনে জিহাদে কাবির (বড়) বলা হয়েছে।
৩. ইসলায়ের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

স্বীয় নাফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করাকে রাসুলুল্লাহ (স.) সবচাইতে বড় জিহাদ বলে অভিহিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- "প্রকৃত মুজাহিদ সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্য করার ব্যাপারে নিজের নফসের (কুপ্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করে।" (মুসনাদে আহমদ)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জিহাদ ইসলামের একটি আমল। বান্দাকে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত বানিয়ে দেওয়াই জিহাদের উদ্দেশ্য। জিহাদের ফজলিত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- "আল্লাহর পথে যে বান্দার দু'পায়ে ধূলি লাগে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।" (বুখারি)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সন্ত্রাসবাদ হলো পেশিশক্তির মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধন করা এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করা। সন্ত্রাসবাদ অন্যায়ভাবে খুন, ধর্ষণ, অর্থসম্পদ লুটপাট, ক্ষমতা দখল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের পথকে সুগম করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সন্ত্রাসবাদের উদ্দেশ্য হলো অন্যায়ভাবে রক্তপাত করে রাজ্য জয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদ অর্জন করা এবং লুটতরাজ ও খুন-খারাবির মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি জ্ঞানের স্বল্পতা থাকার কারণে এক শ্রেণির লোক জিহাদ ও সন্ত্রাসকে এক করে ফেলেছে। এ দুটো পরস্পর বিপরীত। রাজ্যজয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদের লোভ, খুন-খারাবি এবং অন্যায় রক্তপাত জিহাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং মানুষকে মানুষের দাসত্ব হতে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বে নিয়ে আসা এবং যুলুম ও শোষণের অবসান ঘটিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়ের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসাই জিহাদের উদ্দেশ্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইবাদত অর্থ গোলামি করা, দাসত্ব করা, অনুগত থাকা ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

দৈনন্দিন জীবনের কাজ-কর্মে মহান আল্লাহর আদেশ এবং নিষেধ মেনে চলাকে ইবাদত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইবাদত  আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো চূড়ান্তভাবে নিজেকে আল্লাহর সমীপে সোপর্দ করে তাঁর আনুগত্য করা এবং আনুগত্য প্রকাশে বিনম্র হওয়া।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

কীভাবে ইবাদত করলে ও জীবনযাপন করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হবেন, তা শেখানোর জন্য নবি-রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যই হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১. হাক্কুল্লাহ ও ২. হাক্কুল ইবাদ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত অধিকার বা কর্তব্যকে হাক্কুল্লাহ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হাক্কুল ইবাদ হলো মানুষের বা বান্দার প্রতি মানুষের হক বা অধিকার।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহর হক আদায় করতে হলে আমাদের অবশ্যই তিনটি কাজ করতে হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মানুষের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও দায়িত্ব বা অধিকারই হলো হাক্কুল ইবাদ (বান্দার হক)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মানুষের প্রতি মানুষের হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা যায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সালাতের ফারসি প্রতিশব্দ হলো- নামায।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আহকাম-আরকানসহ নির্ধারিত সময়ে বিশেষ নিয়মে ইবাদত পালন করাকে সালাত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ হতে বিরত রাখে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সালাত হলো ইমান ও কুফুরের মধ্যে পার্থক্যকারী।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জামাআতে সালাত আদায় করলে একাকি আদায় করার চাইতে। সাতাশ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সাওম আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো- বিরত থাকা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর রমযান মাসের একমাস সাওম পালন করা ফরজ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পূর্বের সকল নবি-রাসুলগণের উম্মতের ওপর সাওম পালন ফরজ ছিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সাওমের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে রয়েছে  আল্লাহ তায়ালা বলেন, “সাওম আমার জন্য আব আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।”

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্র করা, বৃদ্ধি পাওয়া।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

নিসাব হলো ন্যূনতম সম্পদ, যা থাকলে যাকাত ফরজ হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের দৃষ্টিতে সালাতের পরে যাকাতের স্থান।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি যাকাত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ ইসলামের পঞ্চম ভিত্তি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

'হজ' এর আভিধানিক অর্থ- সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা প্রদক্ষিণ করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাইতুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারত করাকে হজ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ ঐ সমস্ত ধনী মুসলমানদের ওপর ফরজ যারা পবিত্র মক্কায় যাতায়াত ও হজের কাজ সম্পাদন করার মতো আর্থিক ও দৈহিক সামর্থ্য রাখে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজে মোট ৩টি ফরজ রয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

৯ জিলহাজ্জ সূর্য ঢলে পড়ার পর ১০ জিলহাজ্জ ফজরের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতে হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

১০ জিলহাজ্জ ভোর থেকে ১২ জিলহাজ্জ পর্যন্ত যেকোনো দিন কাবা শরিফ তাওয়াফ করতে হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজের ওয়াজিব ৭টি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ভুলে বা স্বেচ্ছায় হজের কোনো ওয়াজিব বাদ পড়লে তার কাফফারা হিসেবে যে অতিরিক্ত কুরবানি দেওয়া হয় তাই দম।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাজিল হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মাকবুল হজ অর্থ কবুলকৃত হজ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মাকবুল হজ হলো আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় হজ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন হলো হজ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা একজন মানুষের মৌলিক অধিকার ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ব্যক্তির নিজ শ্রমের উপার্জন এবং সৎ ব্যবসায়লব্ধ মুনাফকে উত্তম ও পবিত্র উপার্জন বলেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হাদিস অনুসারে একজন অধীনস্থ কর্মচারীকে ৭০ বার ক্ষমা করা যেতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

'ইলম' শব্দের অর্থ জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া, বিদ্যা ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি পরিভাষায় ইলম হলো কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা করেছেন পড় শব্দ দ্বারা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আলাক : ১)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.) বলেছেন, ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ (ইবনে মাজাহ)।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

দীনি ইলম বলতে সাধারণত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞানকেই বোঝায়। যেমন- কুরআন, হাদিস, ফিকাহ, তাফসির ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

দুনিয়াবি ইলম বলতে শুধু পার্থিব উন্নতির সাথে সম্পৃক্ত জ্ঞানকেই বোঝায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

গ্রহণীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান ইহকাল ও পরকালে মানুষের কল্যাণে আসে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

বর্জনীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না বরং যার দ্বারা ইহকাল ও পরকালে অকল্যাণ সাধিত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যে নিয়মিত লেখাপড়া করে এবং শেখার প্রতি আগ্রহী ও যত্নশীল থাকে তাকে শিক্ষার্থী বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পাঠ্যবইয়ে শিক্ষার্থীর বিশটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ছাত্রের একমাত্র বৈশিষ্ট্য হলো সকল পাপকাজ বর্জন করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যারা শিক্ষা দেন তাদেরকে শিক্ষক বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যিনি আমাদের শিক্ষা দেন তিনি শিক্ষক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সর্বাপেক্ষা সম্মানজনক পেশা হচ্ছে শিক্ষক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.) বলেছেন, আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। (ইবনে মাজাহ)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পিতামাতার পরই শিক্ষকের মর্যাদা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিশুদেরকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন একজন শিক্ষক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিশুরা অনুকরণ প্রিয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলো আত্মার সম্পর্ক। এটি পিতা-পুত্রের সম্পর্কের ন্যায়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইলম বা শিক্ষা হলো কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকেই শিক্ষা বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

একজন মুসলমানের ব‍্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিকসহ জীবনের সর্বস্তরে আল্লাহর বিধিবিধান মেনে নেওয়া ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করাই হলো ইসলামি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শিক্ষার ভিত্তি- তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত এ তিনটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

নৈতিকতা হলো ব্যক্তির মৌলিক মানবীয়, গুণ যা অর্জন করলে জীবন সুন্দর ও উন্নত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্র এসব কিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চালচলন, ওঠাবসা, আচার-ব্যবহার, লেনদেন সবকিছুই যখন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য হয়। তখন তাকে নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষকে নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জিহাদ শব্দের অর্থ হলো- পরিশ্রম, সাধনা, কষ্ট, চেষ্টা ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জানমাল, ইলম, আমল, লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর দীনকে (ইসলামকে) সমুন্নত করাই হলো জিহাদ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ তিন প্রকার- ১. স্বীয় নফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করা, ২. জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদ করা এবং ৩. ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদ করাকে জিহাদে কাবির বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদকে সবচেয়ে বড় জিহাদ বা জিহাদে আকবর বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদকে পবিত্র কুরআনে জিহাদে কাবির (বড়) বলা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। এটি হলো জিহাদের সর্বোচ্চ স্তর।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সন্ত্রাসবাদ এর আরবি হলো ইরহাব।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সন্ত্রাস হলো পার্থিব কোনো স্বার্থ লাভের আশায় বিশৃঙ্খলা ও তান্ডবলীলার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ও তাদের ক্ষতি করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

বান্দাকে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা হতে মুক্ত করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত বানিয়ে দেওয়াই জিহাদের উদ্দেশ্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সন্ত্রাসবাদের উদ্দেশ্য হলো অন্যায়ভাবে রক্তপাত করে রাজ্যজয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদ অর্জন করা এবং লুটতরাজ ও খুন-খারাবির মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

রাসুল (স.)-এর জীবদ্দশায় তিনি প্রায় এক শ-এর কাছাকাছি জিহাদে (যুদ্ধে) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ- অনুগত্য করা, দাসত্ব করা, গোলামী করা। আর ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজ কর্মে আল্লাহ তায়ালার বিধি বিধান মেনে চলাকে ইবাদত' বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মানুষকে আল্লাহ তায়ালা ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজকর্মে মানুষ মহান আল্লাহ তায়ালার যাবতীয় বিধিবিধান মেনে জীবনযাপন করাকে ইবাদত বলে। মূলত ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্ব প্রকাশ করা হয়। মূলত ইবাদতের উদ্দেশ্যেই মানুষ ও জীন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তারই ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, "আমি জিন ও মানবজাতিকে আমি আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।"

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর ইবাদত করা। মহান আল্লাহ মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করে এ পৃথিবীতে সহজভাবে জীবনযাপন করার জন্য অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। আমরা তাঁর বান্দা। আমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করে তাঁর সান্নিধ্য লাভ করব ও দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ হাসিল করব। এজন্যই মহান আল্লাহ বলেন, "জিন ও মানবজাতিকে আমি (আল্লাহ) আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।"

(সূরা আল যারিয়াত : ৫৬)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

এ আয়াতের মর্ম থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহর আদিষ্ট কাজগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করে ব্যবসায় বাণিজ্য, চাকরি ও কৃষিকাজ করা এবং বৈধ পন্থায় সম্পদ উপার্জন ও দুনিয়ার অন্যান্য সকল ভালো কাজ করাও ইবাদত। এমনিভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর রহমতের আশা, শাস্তির ভয়, ইখলাস, সবর, শুকর, তাওয়াক্কুল ইত্যাদি সব কাজই ইবাদতের মধ্যে শামিল।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত অধিকার বা কর্তব্যকে হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর অধিকার বলে। আমরা প্রাত্যহিক জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য অনেক ধরনের ইবাদত করি। সেগুলোর মধ্যে যেসব ইবাদত শুধু আল্লাহ তায়ালার সাথে নির্দিষ্ট, এগুলো হলো হাক্কুল্লাহ। যেমন- সালাত, সাওম, হজ ইত্যাদি।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামে বান্দার হক তথা মানবাধিকারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার প্রতিপালকের, তোমার শরীরের, তোমার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির হক রয়েছে।" অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, "এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যেমন- সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা ও হাঁচির জবাব দেওয়া।" (বুখারি ও মুসলিম)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়েই মানুষকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে একসাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের এ সহানুভূতি ও দায়িত্বকেই হাক্কুল ইবাদ অর্থাৎ বান্দার হক বা অধিকার বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক (Human Rights) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার প্রতিপালকের, তোমার শরীরের, তোমার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির হক রয়েছে। অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, "এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যেমন- সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা ও হাঁচির জবাব দেওয়া।" (বুখারি ও মুসলিম) মানুষের প্রতি মানুষের হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন- (১) নিকটাত্মীয়ের হক, (২) দূরাত্মীয়ের হক, (৩) প্রতিবেশীর হক, (৪) দেশবাসীর হক, (৫) শাসক-শাসিতের হক, (৬) সাধারণ মুসলমানের হক, (৭) অভাবী লোকের হক এবং (৮) অমুসলিমের হক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনে সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সালাত একজন মুমিনকে (বিশ্বাসী) মন্দ ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। কেননা সালাত আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করা শিক্ষা দেওয়া হয় এবং সর্বদা আল্লাহর দাসত্ব করার শিক্ষা দেওয়া হয়। তাই সালাতের এ শিক্ষা মানুষকে মন্দ ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। এজন্যই এ আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয় সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।" (সূরা আল-'আনকাবুত : ৪৫)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সালাত মানুষকে নিয়মানুবর্তিতা শিখায়। আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাযকে, ফরজ (আবশ্যক) করে দিয়েছেন। সময়মতো সালাত আদায় মানুষকে সময়ের ভারসাম্য করতে শেখায়। প্রতিদিন সকালে নামায আদায়ের মাধ্যমে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। নামায মানুষকে সবকাজ নিয়ম মেনে চলতে সহযোগিতা করে। অভাবে সালাত মানুষকে নিয়মানুবর্তী করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) জামাতের সাথে সালাত আদায় করার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জামায়াতে সালাত আদায় করলে একাকি আদায় করার চাইতে সাতাশ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এছাড়া পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে সম্মিলিতভাবে সালাত আদায় করার কথা বলা হয়েছে। সর্বোপরি জামাআতে সালাত আদায় করার কারণে দৈনিক পাঁচবার মুসলমানগণ একস্থানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। একে অপরের খোঁজখবর নিতে পারে। সুখে-দুঃখে একে অপরের সহযোগিতা করতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। ইত্যাদি কারণে জামাআতে সালাত আদায় করতে হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে জামাআতে (সম্মিলিতভাবে) সালাত আদায় করার কথা বলা হয়েছে। সালাতের কারণে দৈনিক পাঁচবার মুসলমানগণ এক স্থানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। একে অপরের খোঁজখবর নিতে পারে। সুখে-দুঃখে একে অপরের সহযোগিতা করতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সাওম পালনের মাধ্যমে পালনকারীর নৈতিক ও আত্মিক উৎকর্ষ সাধিত হয়। সাওমের মাধ্যমে মানুষের মনে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। মানুষ লোভ- লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ ও কামভাবের বশবর্তী হয়ে অনেক মন্দ কাজে লিপ্ত হয়। সাওম মানুষকে এসব কাজ থেকে মুক্ত থাকতে শেখায়। সাওম হলো কোনো ব্যক্তি ও তার মন্দ কাজের মাঝে ঢালস্বরূপ। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "সাওম (রোযা) ঢালস্বরূপ।" (বুখারি ও মুসলিম)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আসিয়ামু জুন্নাতুন অর্থ সাওম ঢালস্বরূপ। এটি মহানবি (সা.)-এর বাণী। এ বাণীর দ্বারা সাওমের গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরা হয়েছে। এ হাদিসে নবি করিম (সা.) সাওমকে ঢালের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ রোযাদার সাওম পালনের দ্বারা নিজের সকল প্রকার কুরিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। পাপাচার থেকে বিরত থাকে এবং আত্মসংযমী হয়। ঢাল যেমন যোদ্ধাকে শত্রুর আক্রমণ হতে রক্ষা করে, তেমনি রোযাও রোযাদারকে শয়তানের আক্রমণ হতে রক্ষা করে। তাই সাওমকে ঢালস্বরূপ বলা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সাওম মানুষের মধ্যে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে পাপ থেকে সুরক্ষা দেয়। মানুষ লোড়-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ ও কামভাবের বশবর্তী হয়ে অনেক মন্দ বা পাপ কাজে লিপ্ত হয়। সাওম তাকওয়ার মাধ্যমে মানুষকে এসব কাজ থেকে মুক্ত থাকতে শেখায়। সাওম হলো কোনো ব্যক্তি ও তার মন্দ কাজের মধ্যে ঢালস্বরূপ। এজন্যই মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন- اَلصّيَامُ অর্থ: সাওম ঢালস্বরূপ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। সাওম পালন করে একজন ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে সে অন্য আরেকজন অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে। ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা যে কীরূপ পীড়াদায়ক হতে পারে তা সে উপলব্ধি করতে পারে। এতে অসহায় নিরন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহমর্মিতার ভাব জাগ্রত হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত আদায় করলে সমাজের দুর্বল লোকেরাও আর্থিকভাবে সবল হয়ে ওঠে। ধনী ও গরিবের মধ্যে পার্থক্য লোপ পায়। ধনী ও গরিবের মাঝে আর্থিক সমন্বয় সাধন ঘটে। ফলে সমাজে শৃঙ্খলা, শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরে আসে। তাই যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধ বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। যাদের ওপর যাকাত ফরজ অর্থাৎ যারা নেসাব পরিমাণ। সম্পদের মালিক, তারা যাকাত দিলে তাদের সম্পদ পবিত্র; পরিশুদ্ধ ও বৃদ্ধি পায়। তাই যাকাতকে যাকাত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

অর্থনৈতিকভাবে ধনী ও গরিব উভয় শ্রেণির মানুষ সমাজে রয়েছে। ধনী ও গরিবের মাঝে আর্থিক সমন্বয় সাধন করতে মহান আল্লাহ যাকাতের বিধান দিয়েছেন। যাকাত আদায় করলে সমাজের দুর্বল লোকেরাও আর্থিকভাবে সবল হয়ে উঠবে। ফলে সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা তৈরি হবে। এতে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে। অন্যদিকে ধনী ও গরিবের মাঝে এক মজবুত বন্ধন গড়ে উঠবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। আর ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি অর্থব্যবস্থার উৎসগুলোর মধ্যে যাকাত হলো অন্যতম। এর ওপর ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পসমূহের সাফল্য নির্ভরশীল। এতে সম্পদের প্রবাহ গতিশীল হয়। ধনীর সম্পদ পুঞ্জীভূত না থেকে দরিদ্র লোকদের হাতেও যায়। ফলে রাষ্ট্রের অর্থনীতি সচল হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়। মাথাপিছু আয় বেড়ে যায়। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত ও শক্তিশালী হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল লোকগুলো ধীরে ধীরে সচ্ছল হতে থাকে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শরিয়তের দৃষ্টিতে সালাতের পরেই যাকাতের স্থান। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে যত স্থানে সালাতের কথা বলেছেন সাথে সাথে যাকাতের কথাও বলেছেন। যাকাত ইসলামের পঞ্চস্তন্তের মধ্যে তৃতীয়। যাকাতের রয়েছে সামাজিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব। এসব কারণেই মহান আল্লাহ মুসলমানদের ওপর যাকাত ফরজ করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

যাকাত প্রদান করা দরিদ্রের প্রতি ধনী লোকের কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। বরং যাকাত হলো দরিদ্র লোকের প্রাপ্য বা অধিকার।। কেউ ইসলামের অনুসারী হলে তার উচিত স্বেচ্ছায় যাকাত প্রদান করে অসহায় লোকদের নিকট তা পৌছে দেওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, "আর তাদের (ধনীদের) সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।" (সূরা আয-যারিয়াত : ১৯) তাই সম্পদশালী ব্যক্তি তার সম্পদ ভক্ষণ করার পূর্বে চিন্তা করবে যে, এতে অসহায়দের অধিকার আছে। তাদের অধিকার অবশ্যই দিতে হবে। অন্যথায় সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ ইসলামের পঞ্চম ভিত্তি। 'হজ'-এর আভিধানিক অর্থ-সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা প্রদক্ষিণ করা। ইসলামের পরিভাষায় 'আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ যিয়ারত করাকে হজ বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আমাদের জীবনে হজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল (স.) হজের বিনিময়ে জান্নাতের ঘোষণা দিয়েছেন। হজের মাধ্যমে পূর্ববর্তী জীবনের সকল, গুনাহ মাফ হয়ে যায়। পার্থিব জীবনে হজ বিশ্বভ্রাতৃত্ব তৈরি করে। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মুসলিমের মধ্যে বন্ধন তৈরি হয়। তাই হজের গুরুত্ব অত্যধিক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ধনসম্পদ, বর্ণ-গোত্র ও জাতীয়তার দিক থেকে মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকলেও হজ এসব ভেদাভেদ ভুলিয়ে মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে শেখায়। হজ মুসলমানদেরকে আদর্শিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করে। রাজা-প্রজা, মালিক-ভৃত্য সকলকে সেলাইবিহীন একই কাপড় পরিধান করায়। একই উদ্দেশ্যে মহান প্রভুর দরবারে উপস্থিত হয়ে সাম্যের প্রশিক্ষণ দেয়। হজ মানুষকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলাবোধের শিক্ষা দিয়ে সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলে। বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ শেখায়। পারস্পরিক ভাব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৌহার্দবোধ জাগ্রত করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজ বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন। প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলিম একই স্থানে সমবেত হয়। হজে এসে সবাই একই রকম পোশাক পরিধান করে আল্লাহর দরবারে নিজেকে সমর্পণ করে। বিশ্ব মুসলিমের এ ধরনের সমবেত অংশগ্রহণের ফলে' হজের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ধনসম্পদ, বর্ণ-গোত্র ও জাতীয়তার দিক থেকে মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকলেও হজ এসব ভেদাভেদ ভুলিয়ে মুসলমানদের ঐক্যবন্ধ হতে শেখায়। হজ মুসলমানদের আদর্শিক ভ্রাতৃ ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করে। রাজা-প্রজা, মালিক-ভৃত্য সকলকে সেলাইবিহীন একই কাপড় পরিধান করায়। একই উদ্দেশ্যে মহান প্রভুর দরবারে উপস্থিত করে সাম্যের প্রশিক্ষণ দেয়। হজ মানুষকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলাবোধের শিক্ষা দিয়ে সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলে। বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ শেখায়। পারস্পরিক ভাব ও. সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৌহার্দবোধ জাগ্রত করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ধনসম্পদ, বর্ণ-গোত্র ও জাতীয়তার দিক থেকে মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকলেও হজ এসব ভেদাভেদ ভুলিয়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে শেখায়। হজ মুসলমানদের আদর্শিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ করে। রাজা-প্রজা, মালিক-ভৃত্য সকলকে সেলাইবিহীন একই কাপড় পরিধান করায়। একই উদ্দেশ্যে মহান প্রভুর দরবারে উপস্থিত করে সাম্যের প্রশিক্ষণ দেয়। হজ মানুষকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলাবোধের শিক্ষা দিয়ে সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলে। বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ শেখায়। পারস্পরিক ভাব ও. সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৌহার্দবোধ জাগ্রত করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

হজকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয়। কারণ মুসলিম জাতির এত বড় মহামিলন আর কোথাও কখনো হয় না। সারাবিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র জিলহজ মাসে বায়তুল্লাহর যিয়ারতের জন্য মক্কায় একত্রিত হন। তারা আরাফাতের ময়দানে মহান আল্লাহর দরবারে  'ফরিয়াদ জানান। হজের মাধ্যমে উপস্থিত হাজিগণ বিশ্ববাসীকে এ বার্তা দেন যে, বিশ্বের সব মুসলমান এক জাতি। তাই তারা সাদা হোক বা কালো হোক, ধনী হোক অথবা গরিব তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা সবাই আল্লাহর দাস। এজন্যই এটিকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মালিকের সাথে শ্রমিকের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় হওয়া উচিত। কেননা মালিক শ্রেণি যেমন শ্রমিক শ্রেণির সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না তেমনিভাবে শ্রমিক শ্রেণির দৈনন্দিন জীবন মালিক শ্রেণির বেতন-ভাতার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই মালিকের উচিত যথাসময়ে বেতন ভাতা প্রদান করা এবং শ্রমিকের উচিত মালিকের দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। মালিককে ইসলাম নির্দেশনা দিয়েছে দ্রুত শ্রমিকের পরিশ্রমিক আদায় করতে আর শ্রমিকের জন্য নির্দেশনা হলো যথায্যভাবে কাজ করা। তাহলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হবে মধুর সম্পর্ক।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শ্রম অর্থ মেহনত করা, খাটুনি করা, কাজ করা ইত্যাদি। আরবিতে শ্রমকে আমল বলে। শ্রমের প্রতি যত্নবান হওয়া শ্রমের স্বীকৃতি প্রদান করা এবং শ্রমিকের উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করাকে বলে শ্রমের মর্যাদা বা 'ফজিলাতুল আমল'। আল্লাহর নবি-রাসুলগণ নিজেরা পরিশ্রম করতেন। আল্লাহ শ্রমশীল মানুষদের ভালোবাসেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

মহানবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।" (ইবনে মাজাহ) এ হাদিস দ্বারা শ্রমিকের পাওনা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা শ্রমিকরা সাধারণত গরিব ও নিঃস্ব শ্রেণির হয়ে থাকে। তারা তাদের শ্রমের মজুরি দিয়ে চাল, ডাল, তরিতরকারি ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে জীবনধারণ করে। তাই তার পাওনা পেতে দেরী হলে শ্রমিক ও তার পরিবার অভুক্ত থেকে কষ্ট পাবে। ফলে শ্রমিকের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে এবং এ অসন্তোষ থেকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি শ্রমিক তার পাওনা যথাসময়ে পায়, তাহলে তার মনে আনন্দ থাকবে এবং সে উৎসাহের সাথে কাজ করবে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম্ অব্যাহত থাকবে। এজন্য রাসুল (স.) উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলাম শব্দের অর্থ হলো আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ। তাই প্রতিটি মুসলিমকে জানতে হবে- সে কার আনুগত্য করবে, কী আনুগত্য করবে, কার কাছে কীভাবে আত্মসমর্পণ করবে। আর এ জানার জন্য জ্ঞানার্জন আবশ্যক। তাছাড়া ইসলামের মূল দুটি উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহ। এ দুটো লিখিত আকারে রয়েছে। এ দুটোকে বুঝতে হলেও জ্ঞানের দরকার। এ কারণেই ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে ফরজ করা হয়েছে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইলম আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া, বিদ্যা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, ইলম হলো কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা। অপরদিকে, ইসলাম অর্থ হলো আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ। তাই প্রত্যেক মুসলিমকে জানতে হবে- সে কার আনুগত্য করবে, কী আনুগত্য করবে, কার কাছে কীভাবে আত্মসমর্পণ করবে এসব জানার জন্য জ্ঞানার্জন আবশ্যক। মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে এবং পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে জ্ঞানচর্চা অপরিহার্য। মহান আল্লাহ বলেন, "পড়ুন আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আলাক: ১) মহানবি (স.) ও তাঁকে জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।" (ইবনে মাজাহ) এ কারণেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামে ইলম (জ্ঞান)-এর গুরুত্ব এত বেশি যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা করেছেন 'পড়ুন' শব্দ দ্বারা। পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন হয় বিধায় মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে এবং পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে জ্ঞানচর্চা অপরিহার্য। মহানবি (স.) বলেন, "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ) অন্যত্র মুহাম্মদ (স.) জ্ঞানার্জনকে উত্তম ইবাদত বলে ও অভিহিত করেছেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জ্ঞান আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা করেছেন ইকরা শব্দ দ্বারা। তাছাড়া জ্ঞান জ্ঞানীর মর্যাদা সমৃদ্ধ ও সমুন্নত করে। রাসুল (সা.) জ্ঞানার্জনকে উত্তম ইবাদত বলে অভিহিত করেছেন। জ্ঞান অর্জন করলে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা যায়, বৈধ-অবৈধ বোঝা যায় এবং আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভকরা যায়। তাই জ্ঞান আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

দুনিয়াবি ইলম বলতে শুধু পার্থিব উন্নতির সাথে সম্পর্কিত জ্ঞানকে বোঝায়। যেমন গণিত, বিজ্ঞান, ভূগোল, সাহিত্য, পদার্থ, রসায়ন ইত্যাদির জ্ঞান।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জ্ঞানকে আরবিতে ইলম বলা হয়। এই ইলম দুই ধরনের তন্মধ্যে একটি গ্রহণীয় জ্ঞান, অন্যটি বর্জনীয় জ্ঞান। বর্জনীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না। বরং যার দ্বারা ইহকাল ও পরকালে অকল্যাণ সাধিত হয়। যেমন- অনৈতিক জ্ঞান, চুরি, ডাকাতি, অন্যায়, যুলুম, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সব জ্ঞানই গ্রহণীয় নয়। কিছু জ্ঞানকে বর্জনীয় জ্ঞান হিসেবে অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ যে জ্ঞান মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না বরং যার দ্বারা ইহকাল ও পরকালে অকল্যাণ সাধিত হয় তাকে বর্জনীয় জ্ঞান বলে। যেমন- অনৈতিক জ্ঞান, চুরি, ডাকাতি, অন্যায়, জুলুম, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

গ্রহণীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান ইহকাল ও পরকালে মানুষের কল্যাণে আসে। যেমন- নৈতিক জ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, পদার্থ-রসায়নসহ সকল কল্যাণকর জ্ঞান। আর বর্জনীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না বরং যার দ্বারা ইহকাল ও পরকালে অকল্যাণ সাধিত হয়। যেমন- অনৈতিক জ্ঞান, চুরি, ডাকাতি, অন্যায়, যুলুম, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর কতকগুলো সুন্দর বৈশিষ্ট্য থাকে।
এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. শিক্ষকদের আদেশ নিষেধ মেনে চলা ও ২. শিক্ষক যা শিক্ষা দেন তা মনযোগ সহকারে শোনা ও পালন করা। ছাত্র শিক্ষকের আদেশ-নিষেধ মেনে চললে এবং তিনি যা শিক্ষা দেন তা মনোযোগসহকারে
আত্মস্থ করলে তার ভবিষ্যত জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষক হলেন আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় নিয়মকানুন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, বিনয়, নম্রতা, নিয়মানুবর্তিতা, দয়া, সহানুভূতি ইত্যাদি শিক্ষা দেন। পক্ষান্তরে মহানবি (স.) ও মানুষদের মনুষত্ববোধ উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দিয়েছেন। তাই শিক্ষকতা পৃথিবীর পেশা। এজন্যই প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.). নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেছেন, "আমাকে শিক্ষক হিসেবেই প্রেরণ করা হয়েছে।" (ইবনে মাজাহ)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

শিক্ষক হলেন আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর।
পিতামাতার পরই শিক্ষকের অবস্থান, পিতা-মাতা সন্তানকে জন্ম দিয়ে শুধু লালন-পালন করেন। পক্ষান্তরে, শিশুদেরকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন একজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়। শিক্ষার্থীদের। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী হবে শিক্ষকরাই ছোটবেলায় শিখিয়ে দেন। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় নিয়মকানুন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, দয়া-সহানুভূতি ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন। যা তারা পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে নিজের ও জাতির উন্নতিতে এগিয়ে আসেন।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

পিতামাতার পরই শিক্ষকের স্থান। শিক্ষক পরম শ্রদ্ধাভাজন। ব্যক্তি। তিনি আমাদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। পিতামাতা সন্তানের লালন-পালন করে থাকেন, কিন্তু শিক্ষক তাকে সত্যিকারের মানবিক গুণাবলি দান করেন। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আইনকানুন, আদবকায়দা, শিষ্টাচার, বিনম্র, নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন, যা শিক্ষার্থী তার পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে সার্বিক সফলতা। লাভ করে থাকে। আমাদের প্রকৃত কল্যাণ কামনায় শিক্ষকগণ আত্মত্যাগের পরিচয় দেন। এজন্য শিক্ষককে শ্রদ্ধা করতে হবে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলো আত্মার সম্পর্ক। এটি পিতা-পুত্রের সম্পর্কের ন্যায়। পিতা যেমন সর্বদা পুত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন, শিক্ষকও তেমনি তার ছাত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে সৎ পথ দেখান। পুত্র তার পিতা থেকে সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়, অন্যদিকে ছাত্রও তার শিক্ষক। থেকে জ্ঞানের উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র যেমন পিতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদের পরিচর্যা করে বড় সম্পদশালী হতে পারে, শিক্ষার্থীও তেমনি শিক্ষক থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান সমৃদ্ধ করে বড় জ্ঞানী-হতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক আদর্শিক ও আন্তরিক হওয়া উচিত। এটি আত্মার সম্পর্কও বটে। এ সম্পর্ক পিতা-পুত্রের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনীয়। পিতা যেমন সর্বদা পুত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন, আদর্শবান শিক্ষকও তেমনি তার ছাত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে সৎপথ দেখান। পুত্র তার পিতা থেকে সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। পক্ষান্তরে ছাত্রও তার শিক্ষক থেকে জ্ঞানের ও নৈতিকতার উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র যেমন পিতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদের পরিচর্যা করে পিতা থেকে বড় সম্পদশালী হতে পারে, শিক্ষার্থীও তেমনি শিক্ষক থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানসমৃদ্ধ করে শিক্ষক থেকে বড় জ্ঞানী হতে পারে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সঙ্কিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকে শিক্ষা রলে। পক্ষান্তরে, সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব ও উন্নত চরিত্র- এ সবকিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা। ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা সম্পর্কে জানা ও তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা অধিকতর সহজ। ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ নৈতিকতা লাভ করতে পারে। তাই বলা যায়, নৈতিক শিক্ষা ইসলামি শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকেই শিক্ষা বলে। সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, উন্নত চরিত্র, এসব কিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা। শিক্ষা ও নৈতিকতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষকে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া। ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ নৈতিকতা লাভকরতে পারে। ইলম ও নৈতিকতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলামি শিক্ষা মানুষকে অজ্ঞতা, কুসংস্কার ইত্যাদি থেকে মুক্ত করে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি মানুষের শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশ। শিক্ষা মানবহৃদয়কে অজ্ঞতার অনুষ্কার থেকে মুক্ত করে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে। শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষ সচ্চরিত্রবান, খোদাভীরু, দেশপ্রেমিক, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। এজন্যই বলা হয়েছে, শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে সাহায্য করে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্র এসব কিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা। একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চালচলন, ওঠাবসা, আচার-ব্যবহার, লেনদেন সবকিছুই যখন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য হয় তখন তাকে নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি বলে।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

নৈতিক শিক্ষা মুসলমানের জন্য আবশ্যিক বিষয়। মানুষকে ইমান ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্য মহানবি (স.) প্রেরিত হয়েছিলেন। রাসুল (স.) বলেছেন, "চরিত্রের বিচারে যে লোকটি উত্তম মুমিনদের মধ্যে সেই পূর্ণ ইমানের অধিকারী।” (তিরমিযি) তাই বলা যায়, ইসলামি জীবনব্যবস্থায় নৈতিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠা করা জিহাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাছাড়াও বান্দাকে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা হতে মুক্ত করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত বানিয়ে দেওয়া জিহাদের উদ্দেশ্য এবং মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্তি করে আল্লাহর দাসত্বে নিয়ে আসা এবং জুলুম ও শোষনের অবসান ঘটিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়ের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসাই জিহাদের উদ্দেশ্য।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ এক নয়। বলা যায়, এ দুটি পরস্পর বিপরীত। রাজ্য জয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদের লোভ, খুন-খারাবি, লুটতরাজ এবং অন্যায় রক্তপাত জিহাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বে নিয়ে আসা এবং জুলুম ও শোষণের অবসান ঘটিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়ের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসাই জিহাদের উদ্দেশ্য। মানুষকে সত্যনিষ্ঠ ও নৈতিকগুণে গুণান্বিত করাও জিহাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, বর্তমান যুগে জিহাদের নামে যেভাবে বোমাবাজি, জঙ্গিবাদ, খুন-খারাবি ও নিরীহ লোকজনকে হত্যা করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটা সন্ত্রাসেরই নামান্তর।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

সমাজ থেকে ফিতনা বা বিপর্যয় দূর হয়ে আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত জিহাদ চালু রাখার জন্য আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে তাঁর এ নির্দেশ ঘোষিত হয়েছে, "এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়।" (সূরা আল-আনফাল ৩৯)

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
উত্তরঃ

ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত ও রাসুল (স.) প্রদর্শিত পথে জীবনযাপন করে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করা। মানুষের জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম। তাই ইসলামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা ব্যতীত অন্য কোনো পথ মানুষের জন্য খোলা নেই। এ পথে চলতে হলে ইসলামকে জানতে ও শিখতে হবে।
অতএব বলা যায়; আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদর্শে জীবন গড়ার জন্যই ইসলাম শিক্ষা অর্জন করা হয়।

Affan Ahmed
Affan Ahmed
7 months ago
74

তৃতীয় অধ্যায়

ইবাদত

মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা । দৈনন্দিন জীবনে মানুষ মহান আল্লাহর আদেশ যেমন- সালাত, সাওম, হজ, যাকাত পালন করা এবং নিষেধ যেমন- সুদ, ঘুষ, বেপর্দা, বেহায়াপনা ইত্যাদি পরিহার করে চলাকে ইবাদত বলে । তেমনিভাবে নবি ও রাসুলের দেখানো পথ অনুযায়ী একে অপরের সাথে উত্তম আচার ব্যবহার করাও ইবাদত। মূলত ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্ব প্রকাশ করা হয় । এর মধ্যেই মানুষের কল্যাণ নিহিত রয়েছে ।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -

  • হাক্কুল্লাহ (স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য) ও হাক্কুল ইবাদ (সৃষ্টির প্রতি কর্তব্য) এর ধারণা লাভ করবো এবং এগুলো আদায়ের পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
  • হাক্কুল্লাহ (স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য) ও হাক্কুল ইবাদ (সৃষ্টির প্রতি কর্তব্য) চিহ্নিত করে বাস্তব জীবনে এর যথাযথ প্রয়োগ করতে পারব;
  • সালাতের পরিচয় ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • সাওমের (রোযার) গুরুত্ব ও শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব;
  • যাকাতের ভূমিকা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব; হজের ধারণা ও নিয়মাবলি বর্ণনা করতে পারব;
  • ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিকতা অর্জনে হজের শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব;
  • অসহায় ও দরিদ্রের অধিকার বর্ণনা করতে পারব;
  • মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ইলম (জ্ঞান) এর ধারণা, প্রকারভেদ ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য ও শিক্ষকের গুণাবলি বর্ণনা করতে পারব;
  • ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক এবং শিক্ষা ও নৈতিকতার ধারণা বর্ণনা করতে পারব;
  • জিহাদের ধারণা, প্রকারভেদ ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারব এবং সন্ত্রাসবাদের কুফল বর্ণনা করতে পারব;
  • জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদের পার্থক্য অনুধাবন করে সন্ত্রাসমুক্ত মানবতাবাদী জীবনযাপনে সচেষ্ট হতে পারব;
  • মৌলিক ইবাদতগুলো পালনের মাধ্যমে নৈতিক ও মানবিক জীবন গঠনে অগ্রসর হতে পারব ।

 

পাঠ ১ ইবাদত

ইবাদত আরবি শব্দ । এর অর্থ হলো চূড়ান্তভাবে দীনতা-হীনতা ও বিনয় প্রকাশ করা এবং নমনীয় হওয়া । আর ইসলামি পরিভাষায় দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজ-কর্মে আল্লাহ তায়ালার 

 

 

 

মেনে চলাকে ইবাদত বলা হয় । আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করে এ পৃথিবীতে সহজভাবে জীবনযাপন করার জন্য অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন ।

আমরা আল্লাহর বান্দা। তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য । আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ 

অর্থ : “জিন ও মানবজাতিকে আমি (আল্লাহ) আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি ।” (সূরা আয্-যারিয়াত, আয়াত ৫৬)

আমরা পৃথিবীতে যত ইবাদতই করি না কেন, সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যই হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা । আর এ ইবাদত একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য না হলে আল্লাহ তা কবুল করবেন না । আল্লাহ তায়ালা বলেন- “তারাতো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধ চিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে ।” (সূরা আল-বাইয়্যিনা, আয়াত ০৫)

কীভাবে ইবাদত করলে ও জীবনযাপন করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হবেন, তা শেখানোর জন্য নবি-রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন । আল্লাহ তায়ালা তাঁদের অনুসরণ করতে পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন । মহান আল্লাহ বলেন, “(হে নবি!) আপনি বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য কর, যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে জেনে রাখুন, আল্লাহ তো কাফিরদের পছন্দ করেন না ।” (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ৩২)

উক্ত আয়াত থেকে আমরা বুঝলাম আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কর্তৃক নির্দেশিত পথ ও মত অনুসরণ করার নাম ইবাদত । সুতরাং তাঁদের নির্দেশিত কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পাদন করতে পারলে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হব ।

ইবাদতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য হলো বিবেক-বুদ্ধি ও জ্ঞানের । যদি মানুষ সে বিবেক-বুদ্ধি ও জ্ঞান দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে না পারে তাহলে সে চতুষ্পদ জন্তু কিংবা তার চেয়েও অধম হয়ে যায় । আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না । তাদের চক্ষু আছে তা দ্বারা দেখে না, তাদের কর্ণ আছে তা দ্বারা শুনে না; এরা পশুর ন্যায় । বরং অধিক নিকৃষ্ট (পশু হতে); তারা হলো অচেতন।” (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৭৯) । অতএব ইবাদত বলতে শুধু উপাসনাকেই বুঝায় না । বরং আল্লাহর খলিফা (প্রতিনিধি) হিসেবে সকল কার্য আল্লাহর বিধানমতো

করাই হলো ইবাদত । আল্লাহ তায়ালা বলেন- فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلوةُ فَانْتَشِرُ وا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللهِ وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ )

অর্থ : “সালাত আদায় করার পর তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়বে । আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে ব্যাপৃত হবে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করবে । যাতে তোমরা সফলকাম হও ।” (সূরা আল-জুমুআ, আয়াত ১০)

 

 

 

 

এ আয়াতের মর্ম থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহর আদিষ্ট কাজগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও কৃষিকাজ করা এবং বৈধ পন্থায় সম্পদ উপার্জন ও দুনিয়ার অন্যান্য সকল ভালো কাজ করা ইবাদত। এমনিভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর রহমতের আশা, শাস্তির ভয়, ইখলাস, সবর, শোকর, তাওয়াক্কুল ইত্যাদি সব কাজই ইবাদতের মধ্যে শামিল ।

আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-এর প্রদর্শিত পন্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করলে পরকালে আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করবেন । ফলে দুনিয়া ও আখিরাতে আমরা শান্তি পাব ।

হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদ

ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার : (ক) হাক্কুল্লাহ ও (খ) হাক্কুল ইবাদ ।

(ক) হাক্কুল্লাহ (আল্লাহর হক)

আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত অধিকার বা কর্তব্যকে হাক্কুল্লাহ বলে । আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য অনেক ধরনের ইবাদত (কাজ) করি । সেগুলোর মধ্যে কিছু ইবাদত শুধু আল্লাহ তায়ালার জন্য নির্দিষ্ট, এগুলো হলো হাক্কুল্লাহ, যেমন- সালাত (নামায) কায়েম করা, সাওম (রোযা) পালন ও হজ করা ইত্যাদি । এসব কাজ করার পূর্বে প্রত্যেক মানুষকে অন্তর থেকে যা বিশ্বাস করতে হবে তা হলো- আল্লাহ আছেন, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক (অংশীদার) নেই, তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা । তাঁর আদেশেই পৃথিবীর সবকিছু আবার ধ্বংস হবে । আমাদের জীবন-মৃত্যু সবই তাঁর হাতে । পৃথিবীর সবকিছুই তাঁর জ্ঞানের আওতাভুক্ত । তাঁর হাতেই সকল সৃষ্টির রিজিক। আমরা তাঁরই ইবাদতকারী । তিনি ব্যতীত উপাসনার উপযুক্ত আর কেউ নেই । এ সবকিছু মনে প্রাণে বিশ্বাস করা ও স্বীকার করাই হলো বান্দার উপর আল্লাহর হক ।

আল্লাহর হক আদায় করতে হলে আমাদের অবশ্যই নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবে :

১. সামগ্রিক জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব স্বীকার করা ।

আল্লাহর দেওয়া সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলা ।

৩. . সর্বাবস্থায় নিজেকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ এবং তাঁর অনুগ্রহ কামনা করা । আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনে আল্লাহর বিধানগুলো মেনে চলব; তাতে তিনি আমাদের উপর সন্তুষ্ট হবেন । ফলে আমরা পরকালে তাঁর থেকে পুরস্কার পাব ।

(খ) হাক্কুল ইবাদ (বান্দার হক)

মানুষ সামাজিক জীব । সমাজবদ্ধ হয়েই মানুষকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে একসাথে বসবাস করি । একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দেই । আপদে-বিপদে একে-অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করি । পরস্পরের প্রতি এই সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ (বান্দার হক বা অধিকার) । কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে জানা যায় যে, ইসলামে বান্দার হক তথা মানবাধিকারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ।

 

 

 

 

 

 

মানবাধিকার সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, নিশ্চয় তোমার উপর তোমার প্রতিপালকের, তোমার শরীরের, তোমার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির হক রয়েছে । অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন,“এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে । যেমন- সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা ও হাঁচির জবাব দেওয়া ।” (বুখারি ও মুসলিম)

মানুষের প্রতি মানুষের হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন : (১) নিকটাত্মীয়ের হক, (২) দূরাত্মীয়ের হক, (৩) প্রতিবেশীর হক, (৪) দেশবাসীর হক, (৫) শাসক-শাসিতের হক, (৬) সাধারণ মুসলমানের হক, (৭) অভাবী লোকের হক এবং (৮) অমুসলিমের হক ।

আমরা আল্লাহর হক পালন করার সাথে সাথে মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হব । কাজ : শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে আল্লাহর হক ও বান্দার হক সম্পর্কিত প্রতিটির উপর তিনটি করে উদাহরণ তৈরি করবে ।

পাঠ ২

সালাত

পরিচয়

সালাত আরবি শব্দ । এর ফার্সি প্রতিশব্দ হলো নামায । এর অর্থ দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা করা ও রহমত (দয়া) কামনা করা । যেহেতু সালাতের মাধ্যমে বান্দা প্রভুর নিকট দোয়া করে, দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে তাই একে সালাত বলা হয় । ইসলাম যে পাঁচটি রুকনের (স্তম্ভের) উপর প্রতিষ্ঠিত তার দ্বিতীয়টি হলো সালাত । এ সম্পর্কে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন-

بنِي الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلُوةِ وَإِيتَاءِ الزَّكُوةِ وَصَوْمِ

رَمَضَانَ وَالْحَج

অর্থ : “ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত (১) এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল; (২) সালাত প্রতিষ্ঠা করা; (৩) যাকাত দেওয়া; (৪) রমযানের রোযা রাখা; (৫) হজ করা ।” (সহিহ বুখারি)

কিয়ামতের দিন আল্লাহ সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেবেন । রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন-

اَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلُوةُ -

অর্থ : “কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নেওয়া হবে ।” (তিরমিযি)

মহান আল্লাহ মুমিনের উপর দৈনিক পাঁচবার সালাত ফরজ (আবশ্যক) করেছেন । তা হলো-ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও এশা । সালাত একজন মুমিনকে (বিশ্বাসী) মন্দ ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে ।আল্লাহ তায়ালা বলেন-

 

 

 

 

 

إنَّ الصَّلوةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ

অর্থ : “নিশ্চয় সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে ।” (সূরা আল-‘আনকাবুত, আয়াত ৪৫) : শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ব্যতীত কখনোই সালাত ত্যাগ করা যাবে না ।

ধর্মীয় গুরুত্ব

একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনে সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম । সালাত মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে । এর মাধ্যমে বান্দা তার প্রভুর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে । ইমান মজবুত হয়, আত্মা পরিশুদ্ধ হয় । মানুষকে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে অভ্যস্ত করে তোলে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী । সালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মনোযোগসহ সালাত আদায় করে, কিয়ামতের দিন ঐ সালাত তার জন্য নুর হবে।” (তাবারানি)

একদা হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁর সাথিদের লক্ষ্য করে বললেন- ‘যদি কারও বাড়ির পাশ দিয়ে একটি নদী প্রবাহিত হয় এবং কোনো লোক দৈনিক পাঁচবার ঐ নদীতে গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে? সাহাবিগণ উত্তরে বললেন, ‘না’ হে আল্লাহর রাসুল! তখন মহানবি (স.) বললেন- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ঠিক তেমনি তার (সালাত আদায়কারীর) গুনাহসমূহ দূর করে দেয়। মহানবি (স.) আরও বলেছেন, “সালাত হলো ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী ।” (তিরমিযি)

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) জামাআতের সাথে সালাত আদায় করার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন, “জামাআতে সালাত আদায় করলে একাকী আদায় করার চাইতে সাতাশ গুণ বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়।” (বুখারি ও মুসলিম)

আর আল্লাহ তায়ালাও সালাতকে জামাআতের সাথে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন । আল্লাহ বলেন,

وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ

অর্থ : “তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু কর ।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪৩)

সামাজিক গুরুত্ব

পবিত্র কুরআনের বহুস্থানে সম্মিলিতভাবে সালাত আদায় করার কথা বলা হয়েছে । সালাতের কারণে দৈনিক পাঁচবার মুসলমানগণ একস্থানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায় । একে-অপরের খোঁজ-খবর নিতে পারে । সুখে-দুঃখে একে অপরের সহযোগিতা করতে পারে । এতে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয় । এমনকি নামাযের সারিতে দাঁড়াতে গিয়ে উঁচু-নিচু কোনো ভেদাভেদ থাকে না। ফলে সালাত আদায়কারীদের মধ্যে সাম্য সৃষ্টি হয় । সালাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষ পারস্পরিক সকল মতপার্থক্য ভুলে একসাথে কাজ করার শিক্ষা পায় ।

 

 

 

 

 

সালাত আমাদেরকে সময়ের গুরুত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ শিক্ষা দেয়। নেতার অনুসরণ করতে এবং নিয়মতান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে । আমরা সময়ের প্রতি লক্ষ রেখে নিয়মিত সালাত আদায় করব । জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলব ।

কাজ : শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা গ্রুপভিত্তিক সালাতের ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বের উপর পাঁচটি করে বাক্য তৈরি করবে ।

পাঠ ৩

পরিচয়

সাওম

সাওম আরবি শব্দ । এর ফার্সি প্রতিশব্দ হলো রোযা । এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত থাকা । ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সাওম হলো- সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা ।

প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক নারী ও পুরুষের উপর রমযান মাসের এক মাস সাওম পালন করা ফরজ । এটি ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি । আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সাওমের শিক্ষা ও গুরুত্ব অপরিসীম ।

সাওমের নৈতিক শিক্ষা

সাওম কেবল আমাদের উপরই ফরজ নয় । বরং পূর্বের সকল নবি-রাসুলের উম্মতের উপরও ফরজ ছিল । এর মাধ্যমে সাওম পালনকারীর আত্মিক উৎকর্ষ সাধিত হয় । সাওমের মাধ্যমে মানুষের মনে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয় । ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর হয়েও মানুষ মহান আল্লাহর ভালোবাসা ও ভয়ে কিছুই পানাহার করে না ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি লাভ করে না । মহান আল্লাহ বলেন-

كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصَّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

অর্থ : “তোমাদের উপর সাওম (রোযা) ফরজ করা হয়েছে । যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর । যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পার ।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৩)

আমরা তাকওয়া অর্জনের জন্য রমযান মাসে সিয়াম পালন করব ।

মানুষ লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ ও কামভাবের বশবর্তী হয়ে অনেক মন্দ কাজে লিপ্ত হয় । সাওম মানুষকে এসব কাজ থেকে মুক্ত থাকতে শেখায় । সাওম হলো কোনো ব্যক্তি ও তার মন্দ কাজের মাঝে ঢাল স্বরূপ । মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন-

الصَّيَامُ جَنَّةٌ

অর্থ : “সাওম (রোযা) ঢালস্বরূপ।” (বুখারি ও মুসলিম)

 

 

 

 

সর্বোপরি সাওম পালনের মাধ্যমে দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক প্রশান্তি অর্জিত হয় । সাওমের সামাজিক শিক্ষা

সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয় । সাওম পালন করে এরূপ ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে সে অন্য আরেকজন অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে । ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা যে কীরূপ পীড়াদায়ক হতে পারে তা সে উপলব্ধি করতে পারে। এতে অসহায় নিরন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ভাব জাগ্রত হয় । মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, “এ মাস সহানুভূতির মাস ।” (ইবনে খুযায়মা)

রমযান মাসে রাসুলুল্লাহ (স.) অন্যদের দান-সদকা করতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেছেন, তিনি নিজেও তেমনিভাবে খুব দান-সদকা করতেন । হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (স.) লোকদের মধ্যে অধিক দানশীল ছিলেন । বিশেষ করে রমযান এলে তার দানশীলতা আরও বেড়ে যেত ।” (বুখারি ও মুসলিম) । সাওম অসহায় ও দরিদ্রকে দান করতে উদ্বুদ্ধ করে ।

সাওমের ধর্মীয় গুরুত্ব

ধর্মীয় দিক থেকেও সাওমের অনেক গুরুত্ব রয়েছে । সকল সৎকাজের প্রতিদান আল্লাহ দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবেন । কিন্তু সাওম এর প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন-

الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِئُ بِهِ

অর্থ : “সাওম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।” (বুখারি)

যেহেতু সাওয়াবের আশায় আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাওম পালন করা হয় সেহেতু আল্লাহ তায়ালা রোযাদারের পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন । যেমন, মহানবি (স.) বলেছেন-

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ -

অর্থ : “যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সাওয়াবের আশায় রমযান মাসে রোযা রাখে, আল্লাহ তায়ালা তার পূর্বের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন ।” (বুখারি)

এটি একটি মৌলিক ফরজ কাজ । যদি কেউ তা অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে ।

সাওমের সামাজিক গুরুত্ব

সাওম পালনের মাধ্যমে একজন লোক ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে । সমাজের নিরন্ন ও অভাবীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারে । সাওম (রোযা) পালনকারী ব্যক্তি অন্যায়-অশ্লীল কথাবার্তা পরিহার করে চলে । হানাহানি থেকে দূরে থাকে । ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে । অধিক সাওয়াব পাওয়ার আশায় একে অপরকে সাহারি ও ইফতার করায় এবং অভাবীকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে । এতে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত ও শক্তিশালী হয় । সুতরাং আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এবং সাওমের সামাজিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে আমাদের সাওম পালন করা উচিত । আমরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সাওম পালন করব ।

 

 

কাজ : শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে সাওমের সামাজিক শিক্ষার উপর একটি অনুচ্ছেদ তৈরি করবে ।

পাঠ ৪

যাকাত

পরিচয়

অর্থনৈতিকভাবে ধনী ও গরিব উভয় শ্রেণির মানুষ সমাজে রয়েছে । ধনী ও গরিবের মাঝে আর্থিক সমন্বয়সাধন করতে মহান আল্লাহ যাকাতের বিধান দিয়েছেন । যাকাত আদায় করলে সমাজের দুর্বল লোকেরাও আর্থিকভাবে সবল হয়ে উঠবে। ফলে ধনী ও গরিবের মাঝে সেতুবন্ধ তৈরি হবে। এতে সমাজে শান্তি- শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে । হযরত মুহাম্মদ (স.) যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন-

الزَّكُوةُ قَنْطَرَةُ الْإِسْلَامِ

অর্থ : যাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধ ।” (বায়হাকি)

যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া । আর ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে । নিসাব হলো ন্যূনতম সম্পদ, যা থাকলে যাকাত ফরজ হয়। এ ক্ষেত্রে যাকাত প্রদানে ধনীর সম্পদ পবিত্র, পরিশুদ্ধ ও বৃদ্ধি পায় । তাই একে যাকাত বলা হয় । ইসলামের দৃষ্টিতে যাকাত গরিবের প্রতি ধনীর দয়া নয় বরং এটা গরিবের অধিকার । তাই আল্লাহ যাকাত আদায় করাকে আবশ্যক করেছেন । আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-

وَأَقِيمُوا الصَّلوةَ وَأَتُوا الزَّكوة

অর্থ : “তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর ।” (সূরা আন-নুর, আয়াত ৫৬)

যাকাতের গুরুত্ব

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে অনেক স্থানে সালাতের সাথে যাকাতের কথাও বলেছেন । যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়। যাকাতের সামাজিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। এসব কারণেই মহান আল্লাহ মুসলমানদের উপর যাকাত ফরজ করেছেন ।

সামাজিক গুরুত্ব

যাকাত সমাজ থেকে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে পারস্পরিক সৌহার্দ স্থাপন করে । সামাজিক নিরাপত্তা দানের পাশাপাশি সমাজের মানুষের মাঝে সম্পদের বৈষম্য দূর করে । যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন,

كي لا يَكُونَ دُولَةٌ بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ ط 

 

 

 

 

অর্থ : “যাতে সম্পদ শুধু তোমাদের অর্থশালীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয় ।” (সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭)

সুতরাং সমাজে যাকাত ব্যবস্থা চালু করে বৈষম্য দূর করে সাম্যের ভিত্তিতে জীবন গড়ে তোলাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

নৈতিক গুরুত্ব

যাকাত মানুষের মনে খোদাভীতি সৃষ্টি করে। পবিত্র ও উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে । অপচয় রোধ করতে

শেখায় । সর্বোপরি যাকাত মানুষের আত্মিক প্রশান্তি, নৈতিক উন্নতি, সম্পদের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধতা

নিশ্চিত করে । যেমন, মহান আল্লাহ বলেন-

خُذُ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةٌ تُطَهَّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا

অর্থ : “আপনি তাদের ধন-সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করুন । এর মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র এবং পরিশোধিত করবেন।” (সূরা আত্-তাওবা, আয়াত ১০৩)

অতএব নৈতিকভাবে পরিশুদ্ধ হওয়ার জন্য আমরা যাকাত আদায় করব ।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

ইসলামি অর্থ ব্যবস্থার উৎসগুলোর মধ্যে যাকাত হলো অন্যতম । এর উপর ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পসমূহের সাফল্য নির্ভরশীল । এতে সম্পদের প্রবাহ গতিশীল হয় । ধনীর সম্পদ পুঞ্জীভূত না থেকে দরিদ্র লোকদের হাতেও যায় । ফলে রাষ্ট্রের অর্থনীতি সচল হয় । উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায় । মাথাপিছু আয় বেড়ে যায় । রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত ও শক্তিশালী হয় । আর্থিকভাবে অসচ্ছল লোকগুলো ধীরে ধীরে সচ্ছল হতে থাকে । দিনে দিনে সম্পদশালী লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় । আল্লাহ তায়ালা বলেন-

يَمْحَقُ اللهُ الرَّبُوا وَ يُرْبِي الصَّدَقَتِ،

অর্থ : “আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বাড়িয়ে দেন ।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৬) আমরাও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য যথাযথভাবে যাকাত আদায়ের চেষ্টা করব ।

ধর্মীয় গুরুত্ব

কোনো মুসলমান যাকাত না দিলে সে আর পরিপূর্ণ মুসলমান থাকতে পারে না । আল্লাহ বলেন- الَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ الزَّكُوةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَفِرُونَ

অর্থ : “যারা যাকাত দেয় না এবং তারা পরকালও অস্বীকারকারী ।” (সূরা হা-মীম আস্-সাজদা, আয়াত ৭) যাকাত অস্বীকার করা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করার শামিল । ইসলামি আইনে যাকাত দানের উপযুক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই যাকাত দিতে হবে। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) যাকাত 

 

 

 

অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন । সালাত ও সাওম শারীরিক ইবাদত । আর যাকাত হলো আর্থিক ইবাদত । সুতরাং যাকাত আদায় করা একজন মুসলিমের ইমানি দায়িত্ব । যাকাত অসহায় ও দরিদ্রের অধিকার

যাকাত প্রদান করা দরিদ্রের প্রতি ধনী লোকের কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয় । বরং যাকাত হলো দরিদ্র লোকের প্রাপ্য বা অধিকার । কেউ ইসলামের অনুসারী হলে তার উচিত স্বেচ্ছায় যাকাত প্রদান করা এবং অসহায় লোকদের নিকট তা পৌঁছে দেওয়া । মহান আল্লাহ বলেন-

وَفِي امْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ 

অর্থ : “আর তাদের (ধনীদের) সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে।” (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ১৯)

তাই সম্পদশালী ব্যক্তি তার সম্পদ ভোগ করার পূর্বে চিন্তা করবে যে, এতে অসহায়দের অধিকার আছে । তাদের অধিকার অবশ্যই দিতে হবে । অন্যথায় সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে । পরিণামে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে । মহান আল্লাহ বলেন, “আর যারা স্বর্ণ ও রুপা (সম্পদ) জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে খরচ করে না তাদেরকে কঠিন শাস্তির সংবাদ দিন ।” (সূরা আত্-তাওবা, আয়াত ৩৪)

আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায় করে বেকার ও গরিবদের জন্য অনেক কর্মসংস্থান করা যেতে পারে । এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে । দারিদ্র্য দূরীভূত হবে এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। ধনী-দরিদ্রের মাঝে সম্পদের বৈষম্য দূর হবে । কাজেই ধনীদের শরিয়তের বিধান অনুসারে যাকাত আদায় করা একান্ত আবশ্যক ।

কাজ: শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে যাকাতের অর্থনৈতিক গুরুত্বের উপর একটি অনুচ্ছেদ তৈরি করবে ।

পাঠ ৫ 

হজ

পরিচয়

হজ ইসলামের পঞ্চম ভিত্তি। 'হজ' এর আভিধানিক অর্থ হলো- সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাইতুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ যিয়ারত করাকে হজ বলে । হজ ঐ সমস্ত ধনী-মুসলমানের উপর ফরজ যাদের পবিত্র মক্কায় যাতায়াত ও হজের কাজ সম্পাদন করার মতো আর্থিক ও দৈহিক সামর্থ্য রয়েছে । মহান আল্লাহ বলেন-

 

 

 

وَلِلهِ عَلَى النَّاسِ حُجُ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ،

অর্থ : “মানুষের মধ্যে যার আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌছার সামর্থ্য আছে তার উপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা অবশ্য কর্তব্য ।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৯৭) ।

সামর্থ্যবানদের জন্য হজ জীবনে একবার পালন করা ফরজ ।

হজের ফরজ ও ওয়াজিব সমূহ

হজের মোট ৩টি ফরজ রয়েছে । যথা-

১. ইহরাম বাঁধা (আনুষ্ঠানিকভাবে হজের নিয়ত করা) ।

২. ৯ই জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ।

তাওয়াফে যিয়ারত (১০ই জিলহজ ভোর থেকে ১২ই জিলহজ পর্যন্ত যেকোনো দিন কাবা শরিফ তাওয়াফ করা) । হজের ওয়াজিব-৭টি । যথা-

১. ৯ই জিলহজ দিবাগত রাতে মুযদালিফা নামক স্থানে অবস্থান করা ।

২. সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ (দৌড়ানো) করা ।

৩. ১০, ১১, ও ১২ই জিলহজ পর্যায়ক্রমে মিনায় তিনটি নির্ধারিত স্থানে ৭টি করে কংকর (পাথর কণা) শয়তানের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করা ।

৪. কুরবানি করা ।

৫. মাথা কামানো বা চুল কেটে ছোট করা ।

৬. বিদায়ী তাওয়াফ করা (এটি মক্কার বাইরের লোকদের জন্য ওয়াজিব) ।

৭. দম দেওয়া । (ভুলে বা স্বেচ্ছায় হজের কোনো ওয়াজিব বাদ পড়লে তার কাফফারা হিসাবে একটি অতিরিক্ত কুরবানি দেওয়া)।

অপর পৃষ্ঠায় চিত্রের মাধ্যমে হজের কার্যক্রমগুলো দেখানো হলো ।

 

 

 

 

হজের ধর্মীয় গুরুত্ব

ইসলামে হজের গুরুত্ব অপরিসীম । আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সূরা হাজ্জ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন । এ ছাড়াও পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ হজের ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন । রাসুলুল্লাহ (স.) থেকেও হজের গুরুত্বের ব্যাপারে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে ।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন-

الحج الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءُ إِلَّا الْجَنَّةُ -

অর্থ : “মাকবুল (আল্লাহর নিকট গ্রহণীয়) হজের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নেই ।” (বুখারি-মুসলিম) । হজের মাধ্যমে বিগত জীবনের গুনাহ মাফ হয় । মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি হজ করে সে যেন নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায় ।” (ইবনে মাজাহ)

হজ অস্বীকারকারী কাফির হয়ে যাবে । আমাদের উচিত আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় হজ করার ব্যাপারে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া ।

সামাজিক গুরুত্ব

হজের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয় । প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলিম একই স্থানে সমবেত হয় । হজ বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন । পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “এবং মানুষের নিকট হজের ঘোষণা করে দাও; তারা তোমার নিকট (মক্কায়) আসবে পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটের পিঠে আরোহণ করে । তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে ।” (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ২৭)

হজে এসে সবাই একই রকম পোশাক পরিধান করে আল্লাহর দরবারে নিজেকে সমর্পণ করে । সম্মিলিত কণ্ঠে আওয়াজ করে বলতে থাকে লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক : হাজির হে আল্লাহ! আমরা তোমার দরবারে হাজির ।

হজের শিক্ষা ও তাৎপর্য

ধন-সম্পদ, বর্ণ-গোত্র ও জাতীয়তার দিক থেকে মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকলেও হজ এসব ভেদাভেদ ভুলিয়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে শেখায় । হজ মুসলমানদের আদর্শিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করে। রাজা-প্রজা, মালিক-ভৃত্য সকলকে সেলাইবিহীন একই কাপড় পরিধান করায় । একই উদ্দেশ্যে মহান প্রভুর দরবারে উপস্থিত করে সাম্যের প্রশিক্ষণ দেয় । হজ মানুষকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলাবোধের শিক্ষা দিয়ে সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলে । বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ শেখায় । পারস্পরিক ভাব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৌহার্দবোধ জাগ্ৰত করে । আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করার কারণে সাধারণ মানুষ হাজিদের সম্মান করে থাকে । সুতরাং আল্লাহর রহমত পেতে হলে তাঁর আদেশ পালনার্থে ধনী মুসলমানদের যতশীঘ্র সম্ভব হজ আদায় করা উচিত । আমরাও হজ থেকে শিক্ষা লাভ করে বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হব ।

 

 

 

কাজ : শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলে বিভক্ত করে প্রতি দলের একজনকে ‘হজ বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন' এর উপর ২/৩ মিনিট বক্তৃতা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ।

পাঠ ৬

মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ইত্যাদি একজন মানুষের মৌলিক অধিকার । আর এ অধিকার অর্জনের লক্ষ্যে মানুষ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে । মানুষ সামাজিক জীব । পৃথিবীর কোনো মানুষই একা তার সকল কাজ করতে পারে না । শিল্পায়নের এ যুগে জীবনধারণের জন্য প্রত্যেক মানুষকেই একে অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয় । সমাজের বিভিন্ন স্তরে এক ব্যক্তির অধীনে একাধিক ব্যক্তি কাজকর্ম করে । এতে কেউ মালিক হয় আবার কেউ হয় শ্রমিক । মালিকের সাথে শ্রমিকের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় । মালিক শ্রেণি যেমন শ্রমিক শ্রেণির সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না তেমনিভাবে শ্রমিক শ্রেণির দৈনন্দিন জীবন মালিক শ্রেণির বেতন-ভাতার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল । নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের কাজ করে শ্রমের মূল্য গ্রহণ করা ঘৃণার কাজ নয় । আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)ও শ্রমিকের কাজ করেছেন । তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো- কোন প্রকারের উপার্জন উত্তম ও পবিত্র? তিনি বললেন, কোনো ব্যক্তির নিজ শ্রমের উপার্জন এবং সৎব্যবসালব্ধ মুনাফা । (বায়হাকি)

ইসলাম অধীনস্থ লোকদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে । আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَى وَالْمَسْكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيْلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ

অর্থ : “তোমরা পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও মিসকিনদের সাথে ভালো আচরণ কর এবং নিকট- প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, মুসাফির ও তোমাদের অধীনস্থ যেসব দাস-দাসী (শ্রমিক) রয়েছে তাদের প্রতিও সদয় হও।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৬)

মালিক ও শ্রমিকের মাঝে এক চমৎকার দৃষ্টান্ত আমরা হযরত আনাস (রা)-এর জীবন থেকে পাই । তিনি বলেন, “আমি দশ বছর যাবৎ রাসুলুল্লাহ (স.)-এর খেদমত করেছি । তিনি আমার সম্পর্কে কখনো উহ! শব্দ বলেননি এবং কখনো বলেননি, এটা করোনি কেন ? এটা করেছ কেন ? আমার বহুকাজ তিনি নিজ হাতে করে দিতেন ।” (বুখারি)

হযরত উমর (রা) আমিরুল মুমিনিন ছিলেন । জেরুজালেম সফরে উটের পিঠে চড়া ও উট টেনে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি সাম্য ও মানবতাবোধ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । তিনি উটের পিঠে চড়া ও উটের রশি টানার বিষয়ে নিজের ও ভৃত্যের মাঝে পালাক্রম ঠিক করে নিয়েছিলেন । মালিক-শ্রমিকের এমন দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল ।

 

 

 

বিদায় হজের সময় রাসুল (স.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, একজন অধীনস্থ কর্মচারীকে কতবার ক্ষমা করা যেতে পারে? হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছিলেন-

كُلَّ يَوْمٍ سَبْعِينَ

অর্থ : “দৈনিক সত্তর বার ।” (তিরমিযি)

মনিবের উচিত তার শ্রমিকের শক্তি ও সামর্থ্য বিচার করে তাকে কাজ দেওয়া । রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন-

وَلَا يُكَلِّفُ مِنْ الْعَمَلِ إِلَّا مَا يُطِيقُ

অর্থ : “তাকে (শ্রমিককে) তার সাধ্য ও সামর্থ্যের বাইরে কোনো কাজ দেওয়া যাবে না ।” (মুসলিম)

খাওয়া পরা থেকে আরম্ভ করে সকল কাজে মালিক শ্রমিকের মাঝে কোনো বৈষম্য ইসলাম অনুমোদন করে না । শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, “তারা (যারা তোমাদের কাজ করে) তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। সে (মালিক) যা খায় তার অধীনস্থদেরও যেন তা খাওয়ায় । সে (মালিক) যা পরে তাদেরকে যেন তা পরতে দেয় । আর তাকে এমন কর্মভার দেবে না যা তার ক্ষমতার বাইরে । এমন কাজ (ক্ষমতার বাইরের) হলে তাকে (শ্রমিককে) যেন সাহায্য করে ।” (বুখারি ও মুসলিম)

খুব দ্রুত শ্রমিকের পারিশ্রমিক আদায়ের ব্যাপারে ইসলামের বিধান সুস্পষ্ট । হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন-

أعطوا الْأَجِيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ تَجِفَّ عَرَقُهُ

অর্থ : “শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।” (ইবনে মাজাহ)

পারিশ্রমিক দিতে অকারণে বিলম্ব করা সমীচীন নয় । শ্রমিক যাতে তার শ্রমের সঠিক মূল্য পায় সে ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “মজুরের পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করে তাকে কাজে নিয়োগ করো না ।” একইভাবে শ্রমিককেও তার মালিকের দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার ব্যাপারে ইসলামে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে । হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, “গোলাম (শ্রমিক) যখন তার মালিকের কাজ সুচারুরূপে করে এবং সুষ্ঠুভাবে আল্লাহর ইবাদত করে তখন সে দ্বিগুণ প্রতিদান পায় ।” (বুখারি ও মুসলিম)

মালিক-শ্রমিক যদি ইসলাম স্বীকৃত পন্থায় তাদের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, তাহলে শ্রমিক তার ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে আর মালিকও তার সঠিক শ্রম পাবে । শ্রমিক ও মালিকের মাঝে কোনো দিন মনোমালিন্য হবে না । কল-কারখানায় স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করবে । কাজেই দেশ ও জাতির কল্যাণে আমাদের ইসলাম প্রদত্ত আদর্শ শ্রমনীতি অনুসরণ করা উচিত ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা ক্লাসে শ্রমিকের অধিকারের উপর ১০টি বাক্য তৈরি করবে ।

 

 

 

পাঠ ৭

ইলম (জ্ঞান)

ইলম আরবি শব্দ । এর অর্থ হলো- জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া, বিদ্যা ইত্যাদি । ইসলামি পরিভাষায়, ইলম হলো কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা । অপরদিকে ইসলাম অর্থ আনুগত্য করা ও আত্মসমর্পণ করা। তাই প্রতিটি মুসলিম কার আনুগত্য করবে এবং কীভাবে করবে? কার নিকট আত্মসমর্পণ করবে? এবং কীভাবে আত্মসমর্পণ করবে? তা অবশ্যই জানতে হবে । ইলম ব্যতীত তা জানা যাবে না । তাই ইসলামে ইলমের গুরুত্ব অপরিসীম ।

ইসলামে ইলমের গুরুত্ব

ইসলামে ইলম (জ্ঞান) এর গুরুত্ব এত বেশি যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা করেছেন

পড়ুন  শব্দ দ্বারা । আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ

অর্থ : “পড়ুন আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন ।” (সূরা আলাক, আয়াত ১) । সুতরাং পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন হয় বিধায় মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে এবং পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে জ্ঞানচর্চা অপরিহার্য । জ্ঞানবান ব্যক্তি ও অজ্ঞ ব্যক্তি কখনো সমান হতে পারে না । জ্ঞান জ্ঞানীর মর্যাদা সমৃদ্ধ ও সমুন্নত করে । যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন—

يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ، وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَتٍ -

অর্থ : “তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদায় সমুন্নত করবেন ।” (সূরা আল-মুজাদালা, আয়াত ১১)

ইসলাম জ্ঞানার্জনকে সকল মুসলিমের উপর ফরজ (আবশ্যক) করেছে । মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন- طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

অর্থ : “ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ ।” (ইবনে মাজাহ)

হযরত মুহাম্মদ (স.) অন্যত্র জ্ঞানার্জনকে উত্তম ইবাদত বলে অভিহিত করেছেন । ইলমের অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে । এর মধ্যে যে ধরনের ইলম অর্জন করলে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা যায়, বৈধ-অবৈধ বোঝা যায় এবং আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায় তাই হলো উত্তম ইলম ।

ইলম-এর প্রকারভেদ

ইলম দুই ভাগে বিভক্ত । যথা: (ক) দীনি ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) ও (খ) দুনিয়াবি ইলম (পার্থিব জ্ঞান)।

 

 

 

 

দীনি ইলম বলতে সাধারণত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞানকেই বুঝায় । যেমন- কুরআন, হাদিস, ফিকাহ, তাফসির ইত্যাদি বিষয়ের জ্ঞান ।

আর দুনিয়াবি ইলম বলতে শুধু পার্থিব উন্নতির সাথে সম্পৃক্ত জ্ঞানকেই বুঝায় । যেমন- গণিত, বিজ্ঞান, ভূগোল, সাহিত্য, পদার্থ, রসায়ন ইত্যাদির জ্ঞান ।

অন্যভাবে ইলমকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায় । যথা: (ক) গ্রহণীয় জ্ঞান (খ) বর্জনীয় জ্ঞান ।

গ্রহণীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান ইহকাল ও পরকালে মানুষের কল্যাণে আসে । যেমন— নৈতিক জ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, পদার্থ-রসায়নসহ সকল কল্যাণকর জ্ঞান। আর বর্জনীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না বরং যার দ্বারা ইহকাল ও পরকালে অকল্যাণ সাধিত হয় । যেমন- অনৈতিক জ্ঞান, চুরি, ডাকাতি, অন্যায়, জুলুম, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা । ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক । তবে প্রত্যেক সম্প্রদায় বা দেশ থেকে একদলকে অবশ্যই ইসলাম ধর্মের জ্ঞানে পণ্ডিত হতে হবে, অন্যথায় সকলকেই আল্লাহর নিকট পরকালে কৈফিয়ত দিতে হবে । মহান আল্লাহ বলেন-

فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمُ

অর্থ : “তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ বের হয় না কেন, যাতে তারা দীন সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসবে ।” (সূরা আত- তাওবা, আয়াত ১22)

সুতরাং আমাদের মধ্যে একদল লোককে অবশ্যই দীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে । ইসলামের দৃষ্টিতে দীনি শিক্ষার ব্যাপারে যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনিভাবে পার্থিব শিক্ষা অর্জনেরও গুরুত্ব রয়েছে । তবে তা অবশ্যই আল্লাহর কোনো বিধানের পরিপন্থী হতে পারবে না । বরং তার সাথে নৈতিকতার সমন্বয় থাকতে হবে । কারণ শিক্ষার সাথে নৈতিকতা থাকলেই কেবল মানুষের মনুষ্যত্ব বিকশিত হয় । আর শিক্ষার সাথে নৈতিকতা না থাকলে মানুষের মনুষ্যত্ব ধ্বংস হয়ে যায় ।

মূলত ইসলামের উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ করা । যেমন মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন- “দীন হলো কল্যাণ করা।” (মুসলিম)। তাই যেসব ইলম মানবজীবনে কল্যাণ সাধন করে তা অর্জন করা অবশ্যই কর্তব্য । সুতরাং যে ইলম মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ সাধন করবে তা আমরা শিখব ও শিখাব ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে গ্রহণীয় জ্ঞান ও বর্জনীয় জ্ঞানের উপর ৫টি করে উদাহরণ পেশ করবে ।

 

 

 

 

 

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

পাঠ ৮

শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য

যে নিয়মিত লেখাপড়া করে এবং শেখার প্রতি আগ্রহী ও যত্নশীল থাকে তাকে শিক্ষার্থী বলা হয় । একজন প্রকৃত শিক্ষার্থীর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক । নিম্নে একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো-

১. শিক্ষকগণের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা ।

২. সাক্ষাৎ হলে বিনয়ের সাথে সালাম দিয়ে তাঁদের খোঁজ-খবর নেওয়া ।

৩. শিক্ষক যা শিক্ষা দেন তা মনোযোগ সহকারে শোনা ও পালন করা । 

8.   সব সময় শিক্ষকগণের সাথে নম্র, ভদ্র ও উত্তম আচরণ করা ।

৫. সহপাঠীদের সাথে সদ্ভাব ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা ।

৬. নিয়মিত শ্রেণিতে উপস্থিত থাকা ।

৭. শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা । 

৮. শরীর ও পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছন্ন রাখা ।

৯. শ্রেণিকক্ষে বা অন্য কোথাও শিক্ষকের সাথে দেখা হলে সাথে সাথে দাঁড়িয়ে সম্মান করা ।

১০. অনুমতি নিয়ে শ্রেণিকক্ষের বাইরে যাওয়া । 

১১. জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষকদের উত্তম শিক্ষা মেনে চলা ।

১২. শিক্ষকগণ অপছন্দ করেন এমন কাজ না করা ।

১৩. কোনো অবস্থাতেই কারও সাথে অভদ্র আচরণ না করা ।

১৪. সর্বাবস্থায় শিক্ষকের কল্যাণ কামনা করা ও মৃত্যুর পর তাঁদের জন্য দোয়া করা ।

১৫. সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া ।

১৬. শেখার প্রতি উৎসাহী হওয়া ও সর্বদা শিক্ষকের সাহচর্যে থাকার চেষ্টা করা ।

১৭. সবকিছু বুঝেশুনে পড়া, না বুঝে পড়ার অভ্যাস ত্যাগ করা ।

১৮. শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যা পাঠদান করবেন তা লিখে নেওয়া ।

১৯.   জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে লজ্জাশীলতা পরিহার করা ।

২০. প্রতিদিনের পড়া নিয়মিতভাবে আয়ত্ত করা ।

২১. পরের দিনের পড়া পূর্বের দিন দেখে ক্লাসে যাওয়া ।

ইমাম শাফেয়ি (র.) ছাত্রের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাঁর শিক্ষক আল্লামা ওয়াকি (র.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন— “ছাত্রের একমাত্র বৈশিষ্ট্য হলো সকল পাপকাজ বর্জন করা ।”

আমরা শিক্ষার্থীর এ বৈশিষ্ট্যগুলো আয়ত্ত করব ও আদর্শ ছাত্র হব ।

 

 

 

কাজ : শিক্ষার্থীরা একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্যের উপর ৫টি প্ল্যাকার্ড বাড়ির কাজ হিসেবে তৈরি করে আনবে এবং শ্রেণিতে উপস্থাপন করবে ।

পাঠ ৯

শিক্ষকের গুণাবলি

যিনি আমাদের শিক্ষা দেন তিনি শিক্ষক । পৃথিবীতে সবচাইতে সম্মান ও মর্যাদার পেশা হলো শিক্ষকতা । আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেছেন-

انَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّما

অর্থ : “আমাকে শিক্ষক হিসেবেই প্রেরণ করা হয়েছে ।” (ইবনে মাজাহ)

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পেশার লোকের বৈশিষ্ট্যগুলোও শ্রেষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন । নিম্নে শিক্ষকের কতিপয় বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো :

ক. একজন ভালো শিক্ষক অবশ্যই আদর্শবান হবেন । তিনি- (১) আদর্শিক জ্ঞানের অধিকারী হবেন; (২) নিজস্ব ধর্মীয় দর্শন ও অন্যান্য জীবন দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান রাখবেন; (৩) উত্তম আদর্শের ভিত্তিতে তিনি ছাত্রদের গড়ে তুলবেন; (৪) কথা ও কাজে মিল রাখবেন; (৫) আদর্শ প্রচারে কৌশলী ও সাহসী হবেন; (৬) শিক্ষকতাকে নিজের জীবনের পেশা ও ব্রত হিসেবে নেবেন; (৭) দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকে সামনে রেখে এ পেশায় আত্মনিয়োগ করবেন ও (৮) অন্যায়ের ব্যাপারে আপসহীন হবেন ।

খ. একজন ভালো শিক্ষক অবশ্যই গভীর জ্ঞানের অধিকারী হবেন । তিনি- (১) সবসময় জ্ঞানচর্চা করবেন; (২) ক্লাসে পড়ানোর জন্য আগেই প্রস্তুতি নেবেন; (৩) সমসাময়িক বিষয়ে ধারণা রাখবেন; (৪) মেধা বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন; (৫) বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করবেন ।

একজন ভালো শিক্ষক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হবেন । তিনি- (১) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন; (২) শালীন, মার্জিত ও ব্যক্তিত্বরক্ষাকারী পোশাক পরিধান করবেন; (৩) বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও প্রকাশভঙ্গির অধিকারী হবেন; (৪) মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখবেন; (৫) নিয়মনীতির ক্ষেত্রে কঠোর হবেন; (৬) সুস্থ মন ও দেহের অধিকারী হবেন ।

ঘ. একজন ভালো শিক্ষক ছাত্রদের প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসা সম্পন্ন হবেন । তিনি-

(১) স্নেহ-মমতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবেন ।

(২) সকল শিক্ষার্থীকে সমান চোখে দেখবেন ।

 

 

 

 

(৩) ছাত্রদের মাঝে জ্ঞান লাভের উৎসাহ তৈরি করবেন । 

(৪) প্রয়োজনে একটি বিষয় বার বার বলবেন।

(৫) ছাত্রদের একান্ত আপনজন হবেন ।

(৬) শিক্ষার্থীদের অহেতুক ধমক দেবেন না অথবা শাসন করবেন না ।

(৭) তাদেরকে প্রহার বা তাদের প্রতি নির্মমতা প্রদর্শন করবেন না বরং দরদি মন নিয়ে তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেবেন । প্রখ্যাত সাহাবি মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলানি রাসুল (স.) সম্পর্কে বলেন, “আমি তাঁর পূর্বে ও পরে তাঁর চেয়ে সুন্দর শিক্ষাদানকারী শিক্ষক আর দেখিনি । আল্লাহর কসম তিনি আমাকে বকাবকি করেননি, মারেননি এবং গালমন্দও করেননি ।” (মুসলিম)

ঙ. একজন ভালো শিক্ষক বিচক্ষণ হবেন । তিনি ছাত্রদের মনমেজাজ, পছন্দ-অপছন্দ ও গ্রহণ করার ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ে দৃষ্টি দেবেন ।

চ. একজন ভালো শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রতি হবেন আন্তরিক ও দরদি । প্রশাসনের সাথে থাকবে তাঁর সুসম্পর্ক। কর্মজীবনে আমরা শিক্ষকতার মহান পেশায় নিযুক্ত হলে এসব বৈশিষ্ট্য অর্জন করব এবং আদর্শ শিক্ষক হব।

কাজ : শিক্ষার্থীরা শ্রেণিতে একজন ভালো শিক্ষকের গুণাবলির উপর ১০টি বাক্য লিখবে ।

পাঠ ১০

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক

শিক্ষক হলেন আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর । পিতা-মাতার পরই শিক্ষকের মর্যাদা । শিক্ষক পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র । পিতা-মাতা সন্তানকে জন্ম দিয়ে শুধু লালন-পালন করেন । পক্ষান্তরে শিশুদেরকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন একজন শিক্ষক ।

শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয় । কাজেই একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের যে শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন, শিক্ষার্থীরা তাই শিখবে । শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী হবে শিক্ষকরাই ছোট বেলায় তা শিখিয়ে দেন । শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় নিয়ম-কানুন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, বিনয়, নম্রতা, নিয়মানুবর্তিতা, দয়া, সহানুভূতি ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন, যা তারা পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে সার্বিক উন্নতি লাভ করে । ছাত্রদের সার্বিক কল্যাণ কামনায় শিক্ষকগণ যেভাবে ত্যাগের পরিচয় দেন তার জন্য শিক্ষকগণের যথাযথ সম্মান করা আমাদের কর্তব্য ।

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলো আত্মার সম্পর্ক। এটি পিতা-পুত্রের সম্পর্কের ন্যায়। পিতা যেমন সর্বদা পুত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন, শিক্ষকও তেমনি তাঁর ছাত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে সৎ পথ দেখান। পুত্র তার পিতা থেকে সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়, অন্যদিকে ছাত্রও তার শিক্ষক থেকে জ্ঞানের উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র যেমন পিতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদের পরিচর্যা করে বড় সম্পদশালী হতে পারে, শিক্ষার্থীও তেমনি শিক্ষক থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান সমৃদ্ধ করে বড় জ্ঞানী হতে পারে।

 

 

নবি ও রাসুল (আ.) গণ হলেন শিক্ষক আর তাঁদের উম্মত হলো তাঁদের ছাত্র। রাসুলুল্লাহ (স.) এই উম্মতের জ্ঞানীদেরকে নবিদের উত্তরাধিকারী বলেছেন । তিনি বলেন, “আলেমগণ (জ্ঞানীরা) হলেন নবিদের উত্তরাধিকারী । তাঁরা সম্পদ ও মালের উত্তরাধিকারী নন, বরং তাঁরা হলেন জ্ঞানের উত্তরাধিকারী ।” (তিরমিযি)

সুতরাং পুত্র ও পিতার মাঝে যেমন উত্তরাধিকারের সম্পর্ক আছে । ছাত্র-শিক্ষকের মাঝেও তেমন সম্পর্ক বিদ্যমান । তাই আমরা এই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব । ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.) বলেছেন, “যার কাছে আমি একটি শব্দও শিখেছি আমি তার দাস । তিনি ইচ্ছা করলে আমাকে বিক্রি করতে পারেন কিংবা আযাদ করে দিতে পারেন কিংবা ইচ্ছা করলে দাস বানিয়েও রাখতে পারেন ।” তাই তাঁর মতে, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলো ভৃত্য-মুনিব সম্পর্ক । এক বিনম্র শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বস্তুত ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হবে সুন্দর, যেখানে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা বিরাজ করবে ।

কাজ : শিক্ষকের সাথে ছাত্রের আচরণ কেমন হওয়া উচিত- শিক্ষার্থীরা এর উপর একটি অনুচ্ছেদ তৈরি করবে।

পাঠ ১১

শিক্ষা ও নৈতিকতা

শিক্ষা

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড । শিক্ষাহীন জাতি মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর মতো। সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকেই শিক্ষা বলে । এই শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে সাহায্য করে এবং মানব হৃদয়কে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে । শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি মানুষের শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশসাধন । এখানে শিক্ষা বলতে বিশেষভাবে ইসলামি শিক্ষাকেই বোঝানো হয়েছে । আর যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণরূপে তুলে ধরা হয়েছে তাকে ইসলামি শিক্ষা বলে । এককথায় কুরআন ও হাদিসের আলোকে সমন্বিত শিক্ষাই হলো ইসলামি শিক্ষা । এ শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সৎ, চরিত্রবান, খোদাভীরু, দেশপ্রেমিক, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে ।

ইসলাম শিক্ষার মূল উৎস হলো দু'টি—

১. আল-কুরআন : এই কুরআনে মানবজাতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন সবকিছুই মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন । মহান আল্লাহ বলেন-

مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَبِ مِنْ شَيْءٍ

অর্থ : “কিতাবে (কুরআনে) কোনো কিছুই আমি বাদ দেইনি ।” (সূরা : আল-আনআম, আয়াত ৩৮) অন্যত্র আল্লাহ আরও বলেন-

 

 

 

وَنَزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَبَ تِبْيَانَ لِكُلِّ شَيْءٍ

অর্থ : “আমি সকল বিষয়ের বর্ণনা দিয়ে আপনার উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি ।” (সূরা আন্-নাহল,

আয়াত ৮৯)

২. আল হাদিস : রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণী, কাজ ও মৌন সম্মতি হলো হাদিস । এটি ইসলামি শিক্ষার

দ্বিতীয় উৎস । হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন-

وَمَا الكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ فى وَمَا تَهكُم عَنْهُ فَانْتَهُوا

অর্থ : : “রাসুল (স.) তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর । আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে তোমরা বিরত থাক।” (সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭)

কুরআন ও হাদিস ব্যতীত ইসলাম ধর্মবিশারদদের ঐকমত্য (ইজমা) এবং তাঁদের সাদৃশ্যমূলক অভিমত (কিয়াস) ইসলামি শিক্ষার যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ উৎস ।

একজন মুসলমানের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জীবনের সর্বস্তরে আল্লাহর বিধিবিধান মেনে নেওয়া ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করাই হলো ইসলামি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। মূলত ইসলামি শিক্ষার ভিত্তি : তাওহিদ (আল্লাহর একত্ববাদ), রিসালাত (আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নবি ও রাসুলগণ (আ.)-এর কার্যক্রম ও দাওয়াত) ও আখিরাত (মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের হিসাব-নিকাশ ও জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি) এ তিনটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা এগুলোর আলোকে জীবন গড়ব এবং জীবনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করব ।

নৈতিকতা

সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্র- এ সবকিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা । একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাল-চলন, উঠা-বসা, আচার-ব্যবহার, লেন-দেন সবকিছুই যখন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য হয় তখন তাকে নৈতিক গুণাবলি সম্পন্ন ব্যক্তি বলে । এই নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (স.) সর্বোত্তম লোক বলে অভিহিত করেছেন । তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম, যার চরিত্র উত্তম ।” (বুখারি ও মুসলিম)

নৈতিকতা হলো ব্যক্তির মৌলিক মানবীয় গুণ এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যা অর্জন করলে তার জীবন সুন্দর ও উন্নত হয়। এর মাধ্যমে সে অর্জন করে সম্মান ও মর্যাদা। ইসলামি শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষকে নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া । নীতিহীন ও চরিত্রহীন মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট । মহান আল্লাহ বলেন, “তাদের হৃদয় আছে উপলব্ধি করে না, চোখ আছে দেখে না; কান আছে শুনে না; এরা হলো চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তার থেকেও নিকৃষ্ট । আর এরাই হলো গাফিল ।” (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৭৯)

আমরা নৈতিকগুণে সমৃদ্ধ হব এবং তা চর্চা করে উত্তম মানুষ হব ।

 

 

 

নৈতিকতার গুরুত্ব

ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় নৈতিকতার গুরুত্ব অপরিসীম । মানুষকে ইমান ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্য

মহানবি (স.) প্রেরিত হয়েছিলেন । তিনি বলেন, “আমি মহান নৈতিক গুণাবলিকে পরিপূর্ণতা দান করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।” (বুখারি) নৈতিকতার কথা শুধু মুখে বললে চলবে না । বরং বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শসমূহ জীবনে

বাস্তবায়ন করে নৈতিকতার প্রতিফলন ঘটাতে হবে ।

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নীতিবান লোককে পরিপূর্ণ মুমিন হিসেবে অভিহিত করে বলেন-

اكمل الْمُؤْمِنِينَ إِيْمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا -

অর্থ : “চরিত্রের বিচারে যে লোকটি উত্তম মুমিনদের মধ্যে সেই পূর্ণ ইমানের অধিকারী ।” (তিরমিযি)

মানুষের নৈতিকতা যত উন্নত হবে, সে তত উত্তম মানুষে পরিণত হবে । এভাবে সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (স.)-এর প্রিয়পাত্র হয়ে যাবে । মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) আরও বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই লোকটিই আমার নিকট অধিক প্রিয় যার আখলাক (নৈতিকতা) সবচাইতে সুন্দর ।” (বুখারি) । এমনিভাবে জনৈক ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নিকট জানতে চাইলেন মহান আল্লাহ মানুষকে অনেক কিছু দান করেছেন; এর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান দান কোনটি? নবি করিম (স.) বললেন, “সবচেয়ে মূল্যবান দান সুন্দর চরিত্র ।”

আমাদের উচিত সুন্দর চরিত্র ও নৈতিক আচরণ অর্জন করে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রিয়পাত্র হওয়া । ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা সম্পর্কে জানা ও তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা অধিকতর সহজ । ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ নৈতিকতা লাভ করতে পারে । তাই বলা যায় যে, নৈতিক শিক্ষা ইসলামি শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ে ১০টি বাক্য বাড়ির কাজ হিসেবে তৈরি করে আনবে এবং শ্রেণি শিক্ষককে দেখাবে ।

পাঠ ১২

জিহাদ

পরিচিতি

জিহাদ আরবি শব্দ । এর আভিধানিক অর্থ পরিশ্রম, সাধনা, কষ্ট, চেষ্টা ইত্যাদি । আর ইসলামি পরিভাষায় জান-মাল, ইলম, আমল, লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর দীনকে (ইসলামকে সমুন্নত করাই হলো জিহাদ । অনেকেই জিহাদ বলতে (শুধু) রক্তপাত ও কতল (হত্যা) বোঝেন । এটা সঠিক নয়। কেননা জিহাদ একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। পৃথিবীর যা কিছু উত্তম তাতেই আল্লাহর

 

 

 

সন্তুষ্টি । আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই শুধু জিহাদ হতে পারে । আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন-

وَجَاهِدُوا فِي اللهِ حَقَّ جِهَادِهِ ط

অর্থ : “তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ কর যেভাবে জিহাদ করা উচিত ।” (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৭৮)

বস্তুত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এবং অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধরনের চেষ্টা, শ্রম ও সাধনাই হলো জিহাদ।

জিহাদের প্রকারভেদ

ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ তিন প্রকার-

(১) স্বীয় নফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করা । যেমন হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন-

الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللهِ

অর্থ : “প্রকৃত মুজাহিদ সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্য করার ব্যাপারে নিজের নফসের (কুপ্রবৃত্তির সাথে জিহাদ করে ।” (মুসনাদে আহমাদ) এরূপ জিহাদকে রাসুলুল্লাহ (স.) সবচাইতে বড় জিহাদ বলে অভিহিত করেছেন । তিনি বদর যুদ্ধ থেকে

ফিরে এসে বলেছেন-

رَجَعْنَا مِنَ الْجِهَادِ الْأَصْغَرِ إِلَى الْجِهَادِ الْأَكْبَرِ

অর্থ : “আমরা ছোট জিহাদ থেকে বড় জিহাদের (কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ) দিকে ফিরে এসেছি ।” (কানযুল উম্মাল) (২) জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদ করা। এরূপ জিহাদকে পবিত্র কুরআনে জিহাদে কাবির (বড়) বলা হয়েছে ।

আল্লাহ বলেন-

فَلَا تُطِعِ الْكَفِرِينَ وَجَاهِدُهُم بِهِ جِهَادًا كَبِيرًا O

অর্থ : : “সুতরাং আপনি কাফিরদের আনুগত্য করবেন না এবং আপনি কুরআনের (জ্ঞানের) সাহায্যে তাদের সাথে প্রবল জিহাদ চালিয়ে যান ।” (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৫২)

(৩) ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা । এটি হলো জিহাদের সর্বোচ্চ স্তর । কেউ ধর্মদ্রোহী হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে আঘাত হানলে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ।

জিহাদের গুরুত্ব

জিহাদ ইসলামের একটি আমল । জীবনের সকল ক্ষেত্রে দীনের বৈশিষ্ট্যসমূহ রক্ষা করা এবং ইসলামের বিধিবিধান ও অনুশাসন মেনে চলা যেমন একজন মুমিনের দায়িত্ব, অনুরূপভাবে দীন রক্ষা করা, দীনকে সমুন্নত রাখা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জিহাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তেমনিভাবে তার কর্তব্য । মূলত শান্তির জন্য জিহাদ । বান্দাকে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত বানিয়ে দেওয়াই জিহাদের উদ্দেশ্য ।

 

জিহাদের ফজিলত বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন-

مَا اغْبَرَتْ قَدَمَا عَبْدٍ فِي سَبِيلِ اللهِ فَتَمَسَّهُ النَّارُ

অর্থ : “আল্লাহর পথে যে বান্দার দু'পায়ে ধূলি লাগে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না ।” (বুখারি)

কাজ : ‘জিহাদ অর্থ সন্ত্রাস নয়' শিক্ষার্থীরা এ পাঠের আলোকে শ্রেণিতে একটি অনুচ্ছেদ তৈরি করবে ।

পাঠ ১৩

জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ

জিহাদ সম্পর্কে পূর্বের পাঠে বর্ণনা করা হয়েছে । আমরা এ পাঠে সন্ত্রাসবাদ (263) সম্পর্কে বর্ণনা করব ।

সন্ত্রাসবাদ বলতে আমরা বুঝি পার্থিব কোনো স্বার্থ লাভের আশায় বিশৃঙ্খলা ও তাণ্ডবলীলার মাধ্যমে

জনসাধারণের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ও তাদের ক্ষতি করা ।

ইসলামি জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে এক শ্রেণির লোক জিহাদ ও সন্ত্রাসকে এক করে ফেলেছে । বস্তুত উভয়ের মাঝে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান । বলা যায়, এ দুটো পরস্পর বিপরীত । রাজ্য জয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদের লোভ, খুন-খারাবি, লুটতরাজ এবং অন্যায় রক্তপাত জিহাদের উদ্দেশ্য নয় । বরং মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বে নিয়ে আসা এবং জুলুম ও শোষণের অবসান ঘটিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়ের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসাই জিহাদের উদ্দেশ্য ।

মানুষকে সত্যনিষ্ঠ ও নৈতিকগুণে গুণান্বিত করাও জিহাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلهِ :

অর্থ : “এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ।” (সূরা আল- আনফাল, আয়াত ৩৯)

পক্ষান্তরে, সন্ত্রাসবাদের উদ্দেশ্য হলো অন্যায়ভাবে রক্তপাত করে রাজ্য জয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদ অর্জন করা এবং লুটতরাজ ও খুন-খারাবির মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা ।

ইসলাম জিহাদের মাধ্যমে মুসলমানদের রক্তপাত করতে শিখায়নি । বরং ইসলাম যে জিহাদের কথা বলে তাতে রক্তপাত নয়, মানবতার দিকনির্দেশনা দেয়। মুসলমানদের কোনো জিহাদেই নিরপরাধ সাধারণ লোকজনের কোনো ক্ষতি হয়নি । রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবদ্দশায় তিনি প্রায় একশত-এর কাছাকাছি

 

 

 

জিহাদে (যুদ্ধে) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন । সবগুলো জিহাদ মিলিয়ে উভয়পক্ষে পাঁচশ এর কম লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ।

বর্তমান যুগে জিহাদের নামে যেভাবে বোমাবাজি, জঙ্গিবাদ, খুন-খারাবি ও নিরীহ লোকজনকে হত্যা করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই । বরং এটা সন্ত্রাসেরই নামান্তর । বস্তুত জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ এক নয় ।

উপরোক্ত আলোচনা ও বাস্তব ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, জিহাদে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই । জিহাদের সাথে সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক নেই । সুতরাং আমরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও ইতিহাস জেনে জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদের মধ্যে পার্থক্য অনুধাবন করব এবং প্রকৃত মুসলমান হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার চেষ্টা করব ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা দু'দলে বিভক্ত হয়ে জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদের পার্থক্য আলোচনা করবে ।

নমুনা প্ৰশ্ন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. ইসলামের কোন মূল স্তম্ভের বর্ণনায় একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে?

ক. সালাত

খ. যাকাত

গ. সাওম

ঘ. হজ ।

২. ‘যাতে সম্পদ শুধু তোমাদের অর্থশালীদের হাতেই পুঞ্জীভূত না হয় ।' অত্র আয়াত কোন বিষয়টি নির্দেশ করে?

ক. হজ করা

খ. দান করা

গ. যাকাত আদায়

ঘ. সাহায্য করা ।

 

 

 

 

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও

বেলাল সাহেব বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় গমন করেন। হজের সকল বিধি-বিধান সুষ্ঠুভাবে পালন করলেও অসুস্থতার কারণে তাওয়াফে যিয়ারত করতে পারেননি ।

৩. বেলাল সাহেব হজের কোন বিধানটি পালনে অপারগ হয়েছেন ?

ক. মুস্তাহাব

খ. সুন্নত

গ. ওয়াজিব

ঘ. ফরজ ।

৪. এমতাবস্থায় বেলাল সাহেবের করণীয় কী ?

ক. পুনরায় হজ করা

খ. দম প্রদান করা

ঘ. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা ।

গ. সামর্থ্য থাকলে পুনরায় হজ করা

সৃজনশীল প্রশ্ন

 

১। জনাব শফিকুর রহমান একজন রিকশা চালক । ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলেন । কেউ অসুস্থ হলে তার রিকশায় হাসপাতালে নিয়ে যান। একদা রিকশাচালক জনাব শফিকুর রহমান জনৈক যাত্রীর ব্যাগসহ রেখে যাওয়া পাঁচ লক্ষ টাকা স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা দেন । প্রধান শিক্ষক সাহেব টাকার মালিকের ব্যাগে সংরক্ষিত ঠিকানার মাধ্যমে টাকাসহ ব্যাগ মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দেন ।

ক. হজের ওয়াজিব কয়টি?

খ. ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যটি ব্যাখ্যা কর ।

গ. প্রধান শিক্ষক সাহেবের কাজের মাধ্যমে কোন ধরনের ইবাদত পালন হয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. জনাব শফিকুর রহমানের কর্মকাণ্ডগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর ।

 

 

 

 

২। সাজ্জাদ ও সাকিব সাহেব দুই বন্ধু। সাজ্জাদ সাহেব একটি পোশাক শিল্পের মালিক। গত রমযানের ঈদে শ্রমিকদের বোনাস দিতে গড়িমসি করায় কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য পেতে একদিন কর্মবিরতি পালন করেন। আর সাকিব সাহেব মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করে হাসপাতালে কর্মরত আছেন। তিনি হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিত থেকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন। একদিন তাঁর স্কুলজীবনের শিক্ষক চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে এলে তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান এবং চিকিৎসার অধিকাংশ ব্যয়ভার বহনসহ যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

কে আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর ?

(খ) শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পরিশ্রমিক দিয়ে দাও - হাদিসটি বুঝিয়ে লেখ।

(গ) সাজ্জাদ সাহেবের আচরণে কার আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

(ঘ) সাকিব সাহেবের কাজটি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে মূল্যায়ন কর ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত ও রাসুল (স.) প্রদর্শিত পথে জীবনযাপন করে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করা। মানুষের জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম। তাই ইসলামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা ব্যতীত অন্য কোনো পথ মানুষের জন্য খোলা নেই। এ পথে চলতে হলে ইসলামকে জানতে ও শিখতে হবে। অতএব বলা যায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদর্শে জীবন গড়ার জন্যই ইসলাম শিক্ষা করা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষকের কাজের মাধ্যমে আমানত প্রত্যর্পণের ইবাদত পালিত হয়েছে। এটা ফরজ বা অবশ্যই করণীয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তোমরা আমানত তার প্রাপককে ফিরিয়ে দাও।” এখানে আল্লাহ আমানত বা (গচ্ছিত ধন) প্রাপককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ করেছেন। সেজন্য এটা পালন করা ফরজ।

শফিকুর রহমান জনৈক যাত্রীর পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যাগ প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা রাখলে প্রধান শিক্ষক টাকা ও ব্যাগ মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দেন। এতে তার সততা ও আমানতদারিতার পরিচয় মিলে। তিনি চাইলে কোনো অযুহাতে টাকা আত্মসাৎ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে আল্লাহর আদেশের কথা স্মরণ করে টাকা ও ব্যাগ মালিককে দিয়ে দেন। তাই তার এ কাজ দ্বারা ফরজ ইবাদত পালন হয়েছে। অন্যদিকে, তার এ কাজ দ্বারা আদর্শ শিক্ষকের চরিত্রও ফুটে উঠেছে।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
617
উত্তরঃ

জনাব শফিকুর রহমান একজন রিকশাচালক। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামি অনুশাসন মেনে চলেন, অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন এবং রিকশার জনৈক যাত্রীর প্রাপ্ত টাকা ও ব্যাগ আত্মসাৎ না করে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে মালিককে ফিরিয়ে দেন।

জনাব শফিকুর রহমান একজন সাধারণ রিকশাচালক হয়েও অসাধারণ চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি। উদ্দীপকে বর্ণিত তার কর্মকাণ্ড তার উত্তম চরিত্রের পরিচয় পেশ করে। আমরা তার কর্মকাণ্ডগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাই- তিনি তাঁর প্রতিপালকের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল, সমাজের মানুষ হিসেবে উদার ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী এবং সততার বিচারে একদম খাঁটি লোক। একজন মুসলিমের যেসব গুণ থাকা অপরিহার্য, তার চরিত্রে সেসব গুণের সমাবেশ ঘটেছে। তিনি হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদতের যথার্থ রক্ষক।

তিনি তার কাজের দ্বারা প্রমাণ করেছেন- মানুষ হওয়ার জন্য পেশা বড় বিষয় নয় বরং সচ্চরিত্র ও উন্নত নৈতিকতাই মুখ্য বিষয়।

পরিশেষে বলা যায়, মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত তথা গোলামি করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। আর ইবাদতে হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদে সমভাবে মনোযোগী হতে হয়। জনাব শফিকুর রহমান তার কর্মকাণ্ডে হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদ পালনে পরিপূর্ণ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
500
উত্তরঃ

মহানবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।” (ইবনে মাজাহ) এ হাদিস দ্বারা শ্রমিকের পাওনা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা শ্রমিকরা সাধারণত গরিব ও নিঃস্ব শ্রেণির হয়ে থাকে। তারা তাদের শ্রমের মজুরি দিয়ে চাল, ডাল, তরিতরকারি ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে জীবনধারণ করে। তাই তার পাওনা পেতে দেরি হলে শ্রমিক ও তার পরিবার অভুক্ত থেকে কষ্ট পাবে। ফলে শ্রমিকের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে এবং এ অসন্তোষ থেকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি শ্রমিক তার পাওনা যথাসময়ে পায়, তাহলে তার মনে আনন্দ থাকবে এবং সে উৎসাহের সাথে কাজ করবে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এজন্য রাসুল (স.) উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews