ইবাদত শব্দের অর্থ আনুগত্য করা।
ইবাদত অর্থ নমনীয় হওয়া।
আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য
আয়াতটি আয যারিয়াত সূরার
আয়াতটি বাইয়্যিনাহ সূরার
আয়াতটি সূরা আলে-ইমরান এর অন্তর্ভুক্ত।
ইবাদতের শামিল
মানুষ আল্লাহর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করবে ।
আয়াতটি সূরা জুমুআ এর অন্তর্ভুক্ত
ইবাদত ২ প্রকার।
'হাক্কুল ইবাদ' অর্থ বান্দার হক
দুই ভাগে বিভক্ত
সূরা নিসা বর্ণনা করা হয়েছে
হাক্কুল ইবাদ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত
ফারসি ভাষার শব্দ
৫টি রুকনের ওপর প্রতিষ্ঠিত
সালাতের হিসাব সর্বপ্রথম দিতে হবে
সালাত মানুষকে বিশেষভাবে অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে
মনোযোগ সহকারে আদায়কৃত সালাত কিয়ামতের, দিন আদায়কারীর জন্য নুর হয়ে দাঁড়াবে।
মহানবি (স.) বলেছেন
ইমান ও কুফরের পার্থক্যকারী সালাত
২৭ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়
নামায কায়েম করতে বলা হয়েছে
সালাত এর মাধ্যমে
ফারসি ভাষার শব্দ
'সাওম' শব্দের অর্থ বিরত থাকা।
'সাওম' এর সময়কাল সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর সাওম ফরজ।
পূর্ববর্তী সকল উম্মতের ওপর সাওম ফরজ ছিল।
সাওম পালনকারী আল্লাহর ভয়ে পানাহার থেকে বিরত থাকে।
তাকওয়া অর্জন সাওমের মৌলিক উদ্দেশ্য।
আয়াতটি সূরা আল-বাকারা এর অন্তর্ভুক্ত
তাকওয়া অর্জন রোজার মূল উদ্দেশ্য।
মন্দকাজে বাধা দেয় বলে সাওমকে ঢাল বলা হয়েছে।
এ মাস বলতে রমজান মাসকে বোঝানো হয়েছে।
সাওম লোক দেখানের মনোভাব পরিহার করে।
সমাজে ২টি অর্থনৈতিক শ্রেণি রয়েছে।
রায়হাকি গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাকাতের আভিধানিক অর্থ।
ন্যূনতম যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হয়
যাকাতের শতকরা হার ২.৫০ টাকা
যাকাত বলা হয়।
সম্পদ পবিত্র করার জন্য যাকাত প্রদান করতে হয়।
সূরা আন-নূর এর আয়াত
যাকাত আদায়
যাকাতের উদ্দেশ্য সম্পদ পূঞ্জীকরণ রোধ।
যাকাতের কথা বলা হয়েছে
সূরা হা-মীম আস্-সাজদার অংশ
যাকাত' অস্বীকার করা কুফর
যারা যাকাতকে অস্বীকার করে
যাকাতের ইঙ্গিত রয়েছে
১/৪০ ভাগ যাকাত দিতে হয়
যাকাত দানের মুখ্য উদ্দেশ্য গরিবদের অবস্থার পরিবর্তন।
হজ ইসলামের ৫ম রুকন।
'হজ' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সংকল্প করা, ইচ্ছা করা।
হজ পালন করা আর্থিক ও দৈহিক ইবাদত।
আয়াতটি সূরা আলে-ইমরান এর অন্তর্ভুক্ত
একবার ফরজ
হজের ফরজ ৩টি
ইহরাম দ্বারা হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
হজের আনুষ্ঠানিক নিয়ত করা
ফরজ
৯ তারিখে সমবেত হন
হজের ওয়াজিব ৬টি
৯ম রাত্রি যাপন করেন
ওয়াজিব হুকুম
১০ তারিখে ১ম কংকর নিক্ষেপ করতে হয়
১০, ১১ ও ১২ জিলহজ শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করতে হয়
হজ এর বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে একটি সূরা নাজিল করেছেন
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী
হজ অস্বীকারকারীকে কাফির বলে।
নিজ শ্রমের উপার্জন উত্তম ও পবিত্রতম
নবিজি একজন অধীনস্থ কর্মচারীকে ৭০ বার ক্ষমা করার কথা বলেছেন।
শ্রমিকদের মহানবি (স.) ভাই বলে সম্বোধন করেছেন।
ঘাম শুকানোর পূর্বে পারিশ্রমিক দিতে বলা হয়েছে
আরবি ভাষার শব্দ
ইলম অর্থ জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া
ইলম বলে
জ্ঞানার্জনে ব্রতী হওয়া
ইবনে মাজাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে
অকল্যাণকর জ্ঞান বর্জনীয়
মনুষ্যত্ব বিকাশের জন্য জ্ঞান চর্চা অপরিহার্য।
যে শেখার প্রতি আগ্রহী ও যত্নশীল
সকল পাপ কাজ বর্জন করা
হযরত মুহাম্মদ (স.) পৃথিবীর আদর্শ শিক্ষক
শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়
শিক্ষকগণ সন্তানকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন।
হযরত আলি (রা.)-এর
শিক্ষকগণকে শ্রদ্ধা করা ইবাদতের শামিল
শিক্ষকের দু'আ ও শ্রম উন্নতির চাবিকাঠি।
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হবে বন্ধুর মতন।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড
সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকে শিক্ষা বলে।
ইসলামি শিক্ষার মূল উৎস দুটি কুরআন ও হাদিস
ইসলামি শিক্ষার প্রথম উৎস আল-কুরআন।
আল-আনআম সূরার অংশ
কুরআন বোঝানো হয়েছে
সূরা হাশর এর আয়াত
ইসলামি শিক্ষার উদ্দেশ্য সর্বস্তরে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করা
ইসলামি শিক্ষা ৩টি মূলভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত
সুন্দর চরিত্র মানুষের জন্য আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর দান
'জিহাদ' অর্থ সাধনা করা, পরিশ্রম, চেষ্টা
ইমানদারগণ আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে।
আল-হাজ্জ সূরার আয়াত
ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ তিন প্রকার।
জিহাদের সর্বোচ্চ স্তর নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা
কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা জিহাদে আকবর
বড় জিহাদ বলে।
ইরহাব শব্দের অর্থ সন্ত্রাসবাদ
প্রায় একশত জিহাদে অংশগ্রহণ করেন।
প্রায় পাঁচশ এর কম লোকের প্রাণহানি ঘটে
ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো চূড়ান্তভাবে দীনতা-হীনতা ও বিনয় প্রকাশ করা এবং নমনীয় হওয়া। আর ইসলামি পরিভাষায়, দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজ-কর্মে আল্লাহ তায়ালার বিধি-বিধান মেনে চলাকে ইবাদত বলা হয়।
আমরা পৃথিবীতে যত ইবাদতই করি না কেন, সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যই হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আর এ ইবাদত একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য না হলে আল্লাহ তা কবুল করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধ হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে।" (সূরা আল-বাইয়ি্যনা: ০৫)
আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যে হলো বিবেকবুদ্ধি ও জ্ঞানের। এ জ্ঞান দিয়ে আল্লাহর ইবাদত না করলে তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো কিংবা তার চেয়ে অধম। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না। তাদের চক্ষু আছে তা দ্বারা দেখে না, তাদের কর্ণ। আছে তা দ্বারা শুনে না; এরা পশুর ন্যায়। বরং অধিক নিকৃষ্ট (পশু হতে); তারা হলো অচেতন।" (সূরা আল-আরাফ: ১৭৯)
ইবাদত দুই প্রকার।
যথা-
১. হাক্কুল্লাহ: আল্লাহর সাথে সম্পৃকত্ত অধিকার হলো হাক্কুল্লাহ।
২. হাক্কুল ইবাদত: মানুষের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও দায়িত্বই হলো হাক্কুল ইবাদ।
আল্লাহর হক আদায় করতে হলে আমাদের অবশ্যই নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবে-
১. সামগ্রিক জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব স্বীকার করা।
২. আল্লাহর দেওয়া সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
৩. সর্বাবস্থায় নিজেকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ এবং তাঁর অনুগ্রহ কামনা করা।
এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের অধিকার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- "এক মুসলিমের উপর অপর মুন্সিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যেমন- সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা ও হাঁচির জবাব দেওয়া।" (বুখারি ও মুসলিম)
মানুষের প্রতি মানুষের হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
নিচে অধিকারগুলো উল্লেখ করা হলো-
১. নিকটাত্মীয়ের হক,
২. দূরাত্মীয়ের হক,-
৩. প্রতিবেশীর হক,
৪. দেশবাসীর হক,
৫. শাসক-শাসিতের হক,
৬. সাধারণ মুসলমানের হক,
৭. অভাবী লোকের হক ও
৮. অমুসলিমের হক।
সালাত আরবি শব্দ। এর ফারসি প্রতিশব্দ হলো নামায। এর অর্থ দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা করা ও রহমত (দয়া) কামনা করা। যেহেতু সালাতের মাধ্যমে বান্দা প্রভুর নিকট দোয়া করে, দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে তাই একে সালাত বলা হয়।
ইসলামের পাঁচটি রুকন সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেছেন-
ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত ১. এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল; ২. সালাত প্রতিষ্ঠা করা; ৩. যাকাত দেওয়া; ৪. রযমানের রোযা রাখা; ৫. হজ করা।" (সহিহ বুখারি)
একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনে সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সালাত মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বান্দা তার প্রভুর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। ইমান মজবুত হয়, আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। রাসুল (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি মনোযোগসহ সালাত আদায় করে, কিয়ামতের দিন ঐ সালাত তার জন্য নূর হবে।” (তাবারানি)
জামাআতের সাথে সালাত আদায় সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, "আর তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু কর।" (সূরা আল-বাকারা: ৪৩) জামাআতের সাথে সালাত আদায় করার গুরুত্ব বর্ণনা। করে মহানবি (স.) বলেন, "জামাআতে সালাত আদায় করলে একাকী আদায় করার চাইতে সাতাশ গুণ বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়।" (বুখারি ও মুসলিম)
সালাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষ পারস্পরিক সকল মতপার্থক্য ভুলে একসাথে কাজ করার শিক্ষা পায়। সালাত আমাদেরকে সময়ের গুরুত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ শিক্ষা দেয়। নেতার অনুসরণ করতে ও। নিয়মতান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
সাওম আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত থাকা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষা সাওম হলো- সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা।
সাওম সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমাদের উপর সাওম (রোযা) ফরজ করা হয়েছে। যেমন করা হয়েছিল তোমার পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পার।" (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)
সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। সাওম পালন করে এরূপ ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে সে অন্য আরেকজন অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে। সাওম অসহায় ও দরিদ্রকে দান করতে উদ্বুদ্ধ করে।
ধর্মীয় দিক থেকেও সাওমের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। সকল সৎকাজের প্রতিদান আল্লাহ দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু সাওম-এর প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, "সাওম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।" (বুখারি)
যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। আর ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে।
ইসলামের দৃষ্টিতে যাকাত আদায় করা ফরজ। তাই যাকাত আদায় করাকে আবশ্যক করে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "আর তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর।" (সূরা আন-নূর: ৫৬)
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে অনেক স্থানে সালাতের সাথে যাকাতের কথাও বলেছেন। যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়। যাকাতের সামাজিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। এসব কারণেই মহান আল্লাহ মুসলমানদের উপর যাকাত ফরজ করেছেন।
যাকাত সমাজ থেকে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে পারস্পরিক সৌহার্দ স্থাপন করে। সামাজিক নিরাপত্তাদানের পাশাপাশি সমাজের মানুষের মাঝে সম্পদের বৈষম্য দূর করে। যেমন- আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যাতে সম্পদ শুধু তোমাদের অর্থশালীদের মধ্যে আবর্তিত না হয়।" (সূরা আল-হাশর: ৭)
'যাকাত মানুষের মনে খোদাভীতি সৃষ্টি করে। পবিত্র ও উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। অপচয় রোধ করতে শেখায়। সর্বোপরি যাকাত মানুষের আত্মিক প্রশান্তি, নৈতিক উন্নতি, সম্পদের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে।
ইসলামি অর্থ ব্যবস্থার উৎসগুলোর মধ্যে- যাকাত হলো অন্যতম। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদের প্রবাহ গতিশীল হয়। ধনীর সম্পদ পুঞ্জীভূত না থেকে দরিদ্র লোকদের হাতেও যায়। ফলে রাষ্ট্রের অর্থনীতি সচল হয়।
কোনো মুসলমান যাকাত না দিলে সে আর পরিপূর্ণ মুসলমান থাকতে পারে না। আল্লাহ বলেন,
الَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ الزَّكَوَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ.
অর্থ: "যারা যাকাত দেয় না এবং তারা পরকালও অস্বীকারকারী।" (সূরা হা-মীম আস্-সাজদা: ৭)
যাকাত প্রদান না করলে সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে। পরিণামে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, "আর যারা স্বর্ণ ও রূপা (সম্পদ) জমা করে রাখে। এবং তা আল্লাহর পথে খরচ করে না তাদেরকে কঠিন শাস্তির সংবাদ দিন।" (সূরা আত্-তাওবা: ৩৪)
আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায় করে বেকার ও গরিবদের জন্য অনেক কর্মসংস্থান করা যেতে পারে। এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। দারিদ্র্য দূরীভূত হবে এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। ধনী-দরিদ্রের মাঝে সম্পদের বৈষম্য দূর হবে। কাজেই ধনীদের শরিয়তের বিধান অনুসারে যাকাত আদায় করা একান্ত আবশ্যক।
হজ এর আভিধানিক অর্থ- সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসে নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাইতুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ যিয়ারত করাকে হজ বলে।
হজ ঐ সমস্ত ধনী মুসলমানের উপর ফরজ যাদের পবিত্র মক্কায় যাতায়াত ও হজের কাজ সম্পাদন করার মতো আর্থিক ও দৈহিক সামর্থ্য রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, "আর মানুষের মধ্যে যার আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌছার সামর্থ্য আছে তার উপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা অবশ্য কর্তব্য।" (সূরা আলে-ইমরান: ৯৭)।
হজের মোট ৩টি ফরজ রয়েছে। যথা-
১. ইহরাম বাঁধা (আনুষ্ঠানিকভাবে হজের নিয়ত করা)।
২. ৯ই জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।
৩. তাওয়াফে যিয়ারত (১০ই জিলহজ ভোর থেকে ১২ই জিলহজ পর্যন্ত যেকোনো দিন কাবা শরিফ তাওয়াফ করা)।
হজের ওয়াজিব ছয়টি। তার মধ্যে ২টি ওয়াজিব লেখা হলো-৯ই জিলহজ দিবাগত রাতে মুযদালিফা নামক স্থানে অবস্থান করা। সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ (দৌড়ানো) করা।
ইসলামে হজের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সূরা হাজ্জ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন। এ ছাড়াও পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ হজের ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- "মাকবুল (আল্লাহর নিকট গ্রহণীয়) হজের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নেই।" (বুখারি-মুসলিম)।
হজের মাধ্যমে বিগত জীবনের গুনাহ মাফ হয়। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি হজ করে সে যেন নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।" (ইবনে মাজাহ)
হজের মাধ্যমে বিশ্বভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলিম একই স্থানে সমবেত হয়। হজ বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, "এবং মানুষের নিকট হজের ঘোষণা করে দাও; তারা তোমার নিকট (মক্কায়) আসবে পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটের পিঠে আরোহণ করে। তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।" (সূরা আল-হাজ্জ: ২৭)
ইসলাম অধীনস্থ লোকদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর তোমরা পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম ও মিসকিনদের সাথে ভালো আচরণ কর এবং নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, মুসাফির ও তোমাদের অধীনস্থ যেসব দাস-দাসী (শ্রমিক) রয়েছে তাদের প্রতিও সদয় হও।"
(সূরা আন-নিসা: ৩৬)
হযরত উমর (রা.) আমিরুল মুমিনিন ছিলেন। জেরুজালেম সফরে উটের পিঠে, চড়া ও উট টেনে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি সাম্য ও মানবতাবোধ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি উটের পিঠে চড়া ও উটের রশি টানার বিষয়ে নিজের ও ভূত্যের মাঝে পালাক্রম ঠিক করে নিয়েছিলেন। মালিক-শ্রমিকের এমন দৃষ্টান্ত ইতিহাস বিরল।
খুব দ্রুত শ্রমিকের পারিশ্রমিক আদায়ের ব্যাপারে ইসলামের বিধান সুস্পষ্ট। হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।" (ইবনু মাজাহ) পারিশ্রমিক দিতে অকারণে বিলম্ব করা সমীচীন নয়। শ্রমিক যাতে তার শ্রমের সঠিক মূল্য পায় সে ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "মজুরের পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করে তাকে কাজে নিয়োগ করো না।"
ইলম আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো- জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া, বিদ্যা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, ইলম হলো কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা।
ইসলামে ইলমের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম অর্থ আনুগত্য করা ও আত্মসর্পণ করা। তাই প্রতিটি মুসলিম কার আনুগত্য করবে এবং কীভাবে করবে? কার নিকট আত্মসমর্পণ করবে? এবং কীভাবে আত্মসমর্পণ করবে? তা আবশ্যই জানতে হবে। ইলম ব্যতীত তা জানা যাবে না। ইসলাম জ্ঞানার্জনকে সকল মুসলিমের উপর ফরজ (আবশ্যক) করেছে।
ইসলাম জ্ঞানার্জনকে সকল মুসলিমের উপর ফরজ (আবশ্যক) করেছে। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ।" (ইবনে মাজাহ)
হযরত মুহাম্মদ (স.) অন্যত্র জ্ঞানার্জনকে উত্তম ইবাদত বলে অভিহিত করেছেন। ইলমের অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এর মধ্যে যে ধরনের ইলম অর্জন করলে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা যায়, বৈধ-অবৈধ বোঝা যায় এবং আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায় তাই হলো উত্তম ইলম।
ইলম দুই ভাগে বিভক্ত। যথা-
১. দীনি ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) ও
২. দুনিয়াবি ইলম (পার্থিব জ্ঞান)। শুধু পার্থিব উন্নতির সম্পৃক্ত জ্ঞানকে দুনিয়াবি ইলম বলে। যথা- গণিত, বিজ্ঞান, সাহিত্য ইত্যাদি।
দীনি ইলম বলতে সাধারণত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞানকেই বোঝায়। যেমন- কুরআন, হাদিস, ফিকাহ, তাফসির ইত্যাদি বিষয়।
গ্রহণীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান ইহকাল ও পরকালে মানুষের কল্যাণে আসে। যেমন- নৈতিক জ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, পদার্থ-রসায়নসহ সকল কল্যাণকর জ্ঞান।
একজন প্রকৃত শিক্ষার্থীর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। নিচে একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো-শিক্ষকগণের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। সাক্ষাৎ হলে বিনয়ের সাথে সালাম দিয়ে তাঁদের খোঁজ-খবর নেওয়া। শিক্ষক যা শিক্ষা দেন তা মনোযোগ সহকারে শোনা ও পালন করা।
পৃথিবীতে সবচাইতে সম্মান ও মর্যাদার পেশা হলো শিক্ষকতা। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেছেন- "আমাকে শিক্ষক হিসেবেই প্রেরণ করা হয়েছে।" (ইবনে মাজাহ)
শিক্ষকের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো- একজন ভালো শিক্ষক। তাল অবশ্যই আদর্শবান হবেন। একজন ভালো শিক্ষক অবশ্যই গভীর জ্ঞানের আ অধিকারী হবেন। একজন ভালো শিক্ষক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হবেন। একজন প্রশ্ন ভালো শিক্ষক ছাত্রদের প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসাসম্পন্ন হবেন।
আদর্শবান শিক্ষকের গুণ হলো- আদর্শিক জ্ঞানের অধিকারী হবেন; নিজস্ব ধর্মীয় দর্শন ও অন্যান্য জীবন দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান রাখবেন; উত্তম আদর্শের ভিত্তিতে তিনি ছাত্রদের গড়ে তুলবেন; কথা ও কাজে মিল রাখবেন।
ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শিক্ষকের গুণ হলো- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন; শালীন, মার্জিত ও ব্যক্তিত্ব রক্ষাকারী পোশাক পরিধান করবেন; বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও প্রকাশভঙ্গির অধিকারী হবেন; মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখবেন।
পিতামাতার পরই শিক্ষকের স্থান। শিক্ষক পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। তিনি আমাদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আইনকানুন, আদবকায়দা, শিষ্টাচার, বিনম্র, নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন, যা শিক্ষার্থী তার পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে সার্বিক সফলতা লাভ করে থাকে। এজন্য শিক্ষককে শ্রদ্ধা করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়। কাজেই একজন শিক্ষার্থীদের যে শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন, শিক্ষার্থীরা তাই শিখবে। শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী হবে শিক্ষকরাই ছোটবেলায় তা শিখিয়ে দেন।
নবি ও রাসুল (আ.)-গণ হলেন শিক্ষক আর তাঁদের উম্মত হলো তাঁদের ছাত্র। রাসুল্লাহ (স.) এই উম্মতের জ্ঞানীদেরকে নবিদের উত্তরাধিকারী বলেছেন। তিনি বলেন, "আলেমগণ (জ্ঞানীরা) হলেন নবিদের উত্তরাধিকারী। তাঁরা সম্পদ ও মালের উত্তরাধিকারী নন, বরং তাঁরা হলেন জ্ঞানের উত্তরাধিকারী।" (তিরমিযি)
পুত্র ও পিতার মাঝে যেমন উত্তরাধিকারের সম্পর্ক আছে, ছাত্র-শিক্ষকের মাঝেও তেমন সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই আমরা এই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.) বলেছেন, "যার কাছে আমি একটি শব্দও শিখেছি আমি তার দাস। তিনি ইচ্ছা করলে আমাকে বিক্রি করতে পারেন কিংবা আষাদ করে দিতে পারেন কিংবা ইচ্ছা করলে দাস বানিয়েও রাখতে পারেন।"
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষাহীন জাতি মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর মতো। সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনের সফলভাবে প্রয়োগ করাকেই শিক্ষা বলে। শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি মানুষের শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশ সাধন।
ইসলাম শিক্ষা হলো ইসলাম সম্পর্কিত শিক্ষা। অর্থাৎ যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণরূপে তুলে ধরা হয়েছে তাকেই ইসলামি শিক্ষা বলে। এককথায় কুরআন ও হাদিসের আলোকে সমন্বিত শিক্ষাই হলো ইসলামি শিক্ষা।
ইসলাম শিক্ষার মূল উৎস দুটি। যথা-
১. আল-কুরআন: আল-কুরআন হলো সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব।
২. আল হাদিস: রাসুল (স.)-এর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি হলো হাদিস।
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বাণী, কাজ ও মৌন সম্মতি হলো হাদিস। হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন-"আর রাসুল (স.) তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর। আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে তোমরা বিরত থাকে।"
(সূরা আল-হাশর: ৭)
সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্র- এ সবকিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা।
একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাল-চলন, উঠা-বসা, আচার-ব্যবহার, লেন-দেন, সবকিছুই যখন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য হয় তখন তাকে নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি বলে। এই নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (স.) সর্বোত্তম লোক বলে অভিহিত করেছেন।
নীতিহীন ও চরিত্রহীন মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট। মহান আল্লাহ বলেন, "তাদের হ্রদয় আছে উপলব্ধি করে না, চোখ আছে দেখে না; কান আছে শুনে না, এরা হলো চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তার থেকেও নিকৃষ্ট। আর এরাই হলো গাফিল।" (সূরা আল-আরাফ: ১৭৯)
নৈতিক শিক্ষা ইসলামি শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা সম্পর্কে জানা ও তা বাস্তবজীবনে প্রয়োগ করা অধিকতর সহজ। ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ নৈতিকতা লাভ করতে পারে।
জিহাদ আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ পরিশ্রম, সাধনা, কষ্ট, চেষ্টা ইত্যাদি। আর ইসলামি পরিভাষায়, জান-মাল, ইলম, আমল, লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর দীনকে (ইসলামকে) সমুন্নত করাই হলো জিহাদ।
ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ তিন প্রকার। যথা-
১. স্বীয় নফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করা।
২.. জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদ করা। এরূপ জিহাদকে পবিত্র কুরআনে জিহাদে কাবির (বড়) বলা হয়েছে।
৩. ইসলায়ের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ।
স্বীয় নাফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করাকে রাসুলুল্লাহ (স.) সবচাইতে বড় জিহাদ বলে অভিহিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- "প্রকৃত মুজাহিদ সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্য করার ব্যাপারে নিজের নফসের (কুপ্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করে।" (মুসনাদে আহমদ)
জিহাদ ইসলামের একটি আমল। বান্দাকে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত বানিয়ে দেওয়াই জিহাদের উদ্দেশ্য। জিহাদের ফজলিত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- "আল্লাহর পথে যে বান্দার দু'পায়ে ধূলি লাগে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।" (বুখারি)
সন্ত্রাসবাদ হলো পেশিশক্তির মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধন করা এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করা। সন্ত্রাসবাদ অন্যায়ভাবে খুন, ধর্ষণ, অর্থসম্পদ লুটপাট, ক্ষমতা দখল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের পথকে সুগম করে।
সন্ত্রাসবাদের উদ্দেশ্য হলো অন্যায়ভাবে রক্তপাত করে রাজ্য জয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদ অর্জন করা এবং লুটতরাজ ও খুন-খারাবির মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
ইসলামি জ্ঞানের স্বল্পতা থাকার কারণে এক শ্রেণির লোক জিহাদ ও সন্ত্রাসকে এক করে ফেলেছে। এ দুটো পরস্পর বিপরীত। রাজ্যজয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদের লোভ, খুন-খারাবি এবং অন্যায় রক্তপাত জিহাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং মানুষকে মানুষের দাসত্ব হতে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বে নিয়ে আসা এবং যুলুম ও শোষণের অবসান ঘটিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়ের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসাই জিহাদের উদ্দেশ্য।
ইবাদত অর্থ গোলামি করা, দাসত্ব করা, অনুগত থাকা ইত্যাদি।
দৈনন্দিন জীবনের কাজ-কর্মে মহান আল্লাহর আদেশ এবং নিষেধ মেনে চলাকে ইবাদত বলে।
ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো চূড়ান্তভাবে নিজেকে আল্লাহর সমীপে সোপর্দ করে তাঁর আনুগত্য করা এবং আনুগত্য প্রকাশে বিনম্র হওয়া।
কীভাবে ইবাদত করলে ও জীবনযাপন করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হবেন, তা শেখানোর জন্য নবি-রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন।
সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যই হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি।
ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১. হাক্কুল্লাহ ও ২. হাক্কুল ইবাদ।
আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত অধিকার বা কর্তব্যকে হাক্কুল্লাহ বলে।
হাক্কুল ইবাদ হলো মানুষের বা বান্দার প্রতি মানুষের হক বা অধিকার।
আল্লাহর হক আদায় করতে হলে আমাদের অবশ্যই তিনটি কাজ করতে হবে।
মানুষের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও দায়িত্ব বা অধিকারই হলো হাক্কুল ইবাদ (বান্দার হক)।
মানুষের প্রতি মানুষের হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা যায়।
সালাতের ফারসি প্রতিশব্দ হলো- নামায।
আহকাম-আরকানসহ নির্ধারিত সময়ে বিশেষ নিয়মে ইবাদত পালন করাকে সালাত বলে।
ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত
সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ হতে বিরত রাখে।
সালাত হলো ইমান ও কুফুরের মধ্যে পার্থক্যকারী।
জামাআতে সালাত আদায় করলে একাকি আদায় করার চাইতে। সাতাশ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
সূরা আল-বাকারা: ৪৩।
সাওম আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো- বিরত থাকা।
সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে।
প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর রমযান মাসের একমাস সাওম পালন করা ফরজ।
পূর্বের সকল নবি-রাসুলগণের উম্মতের ওপর সাওম পালন ফরজ ছিল।
সাওমের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে রয়েছে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “সাওম আমার জন্য আব আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।”
যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্র করা, বৃদ্ধি পাওয়া।
কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে।
নিসাব হলো ন্যূনতম সম্পদ, যা থাকলে যাকাত ফরজ হয়।
শরিয়তের দৃষ্টিতে সালাতের পরে যাকাতের স্থান।
ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি যাকাত।
হজ ইসলামের পঞ্চম ভিত্তি।
'হজ' এর আভিধানিক অর্থ- সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা প্রদক্ষিণ করা।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাইতুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারত করাকে হজ বলে।
হজ ঐ সমস্ত ধনী মুসলমানদের ওপর ফরজ যারা পবিত্র মক্কায় যাতায়াত ও হজের কাজ সম্পাদন করার মতো আর্থিক ও দৈহিক সামর্থ্য রাখে।
হজে মোট ৩টি ফরজ রয়েছে।
৯ জিলহাজ্জ সূর্য ঢলে পড়ার পর ১০ জিলহাজ্জ ফজরের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতে হয়।
১০ জিলহাজ্জ ভোর থেকে ১২ জিলহাজ্জ পর্যন্ত যেকোনো দিন কাবা শরিফ তাওয়াফ করতে হয়।
হজের ওয়াজিব ৭টি।
ভুলে বা স্বেচ্ছায় হজের কোনো ওয়াজিব বাদ পড়লে তার কাফফারা হিসেবে যে অতিরিক্ত কুরবানি দেওয়া হয় তাই দম।
হজ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাজিল হয়েছে।
মাকবুল হজ অর্থ কবুলকৃত হজ।
মাকবুল হজ হলো আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় হজ।
হজের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়।
বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন হলো হজ।
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা একজন মানুষের মৌলিক অধিকার ।
ব্যক্তির নিজ শ্রমের উপার্জন এবং সৎ ব্যবসায়লব্ধ মুনাফকে উত্তম ও পবিত্র উপার্জন বলেছেন।
হাদিস অনুসারে একজন অধীনস্থ কর্মচারীকে ৭০ বার ক্ষমা করা যেতে পারে।
শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে।
'ইলম' শব্দের অর্থ জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া, বিদ্যা ইত্যাদি।
ইসলামি পরিভাষায় ইলম হলো কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা।
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা করেছেন পড় শব্দ দ্বারা।
পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আলাক : ১)।
মহানবি (স.) বলেছেন, ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ (ইবনে মাজাহ)।
দীনি ইলম বলতে সাধারণত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞানকেই বোঝায়। যেমন- কুরআন, হাদিস, ফিকাহ, তাফসির ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান।
দুনিয়াবি ইলম বলতে শুধু পার্থিব উন্নতির সাথে সম্পৃক্ত জ্ঞানকেই বোঝায়।
গ্রহণীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান ইহকাল ও পরকালে মানুষের কল্যাণে আসে।
বর্জনীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না বরং যার দ্বারা ইহকাল ও পরকালে অকল্যাণ সাধিত হয়।
যে নিয়মিত লেখাপড়া করে এবং শেখার প্রতি আগ্রহী ও যত্নশীল থাকে তাকে শিক্ষার্থী বলা হয়।
পাঠ্যবইয়ে শিক্ষার্থীর বিশটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে।
ছাত্রের একমাত্র বৈশিষ্ট্য হলো সকল পাপকাজ বর্জন করা।
যারা শিক্ষা দেন তাদেরকে শিক্ষক বলে।
যিনি আমাদের শিক্ষা দেন তিনি শিক্ষক।
সর্বাপেক্ষা সম্মানজনক পেশা হচ্ছে শিক্ষক।
মহানবি (স.) বলেছেন, আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। (ইবনে মাজাহ)
পিতামাতার পরই শিক্ষকের মর্যাদা।
শিশুদেরকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন একজন শিক্ষক।
শিশুরা অনুকরণ প্রিয়।
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলো আত্মার সম্পর্ক। এটি পিতা-পুত্রের সম্পর্কের ন্যায়।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড।
ইলম বা শিক্ষা হলো কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা।
সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকেই শিক্ষা বলে।
একজন মুসলমানের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিকসহ জীবনের সর্বস্তরে আল্লাহর বিধিবিধান মেনে নেওয়া ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করাই হলো ইসলামি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
ইসলামি শিক্ষার ভিত্তি- তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত এ তিনটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
নৈতিকতা হলো ব্যক্তির মৌলিক মানবীয়, গুণ যা অর্জন করলে জীবন সুন্দর ও উন্নত হয়।
সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্র এসব কিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা।
একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চালচলন, ওঠাবসা, আচার-ব্যবহার, লেনদেন সবকিছুই যখন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য হয়। তখন তাকে নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি বলে।
ইসলামি শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষকে নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া।
জিহাদ শব্দের অর্থ হলো- পরিশ্রম, সাধনা, কষ্ট, চেষ্টা ইত্যাদি।
জানমাল, ইলম, আমল, লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর দীনকে (ইসলামকে) সমুন্নত করাই হলো জিহাদ।
ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ তিন প্রকার- ১. স্বীয় নফসের (প্রবৃত্তির) সাথে জিহাদ করা, ২. জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদ করা এবং ৩. ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা।
জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদ করাকে জিহাদে কাবির বলা হয়।
কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদকে সবচেয়ে বড় জিহাদ বা জিহাদে আকবর বলা হয়।
জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদকে পবিত্র কুরআনে জিহাদে কাবির (বড়) বলা হয়েছে।
ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। এটি হলো জিহাদের সর্বোচ্চ স্তর।
সন্ত্রাসবাদ এর আরবি হলো ইরহাব।
সন্ত্রাস হলো পার্থিব কোনো স্বার্থ লাভের আশায় বিশৃঙ্খলা ও তান্ডবলীলার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ও তাদের ক্ষতি করা।
বান্দাকে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা হতে মুক্ত করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত বানিয়ে দেওয়াই জিহাদের উদ্দেশ্য।
সন্ত্রাসবাদের উদ্দেশ্য হলো অন্যায়ভাবে রক্তপাত করে রাজ্যজয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদ অর্জন করা এবং লুটতরাজ ও খুন-খারাবির মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
রাসুল (স.)-এর জীবদ্দশায় তিনি প্রায় এক শ-এর কাছাকাছি জিহাদে (যুদ্ধে) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ- অনুগত্য করা, দাসত্ব করা, গোলামী করা। আর ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজ কর্মে আল্লাহ তায়ালার বিধি বিধান মেনে চলাকে ইবাদত' বলা হয়।
মানুষকে আল্লাহ তায়ালা ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজকর্মে মানুষ মহান আল্লাহ তায়ালার যাবতীয় বিধিবিধান মেনে জীবনযাপন করাকে ইবাদত বলে। মূলত ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্ব প্রকাশ করা হয়। মূলত ইবাদতের উদ্দেশ্যেই মানুষ ও জীন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তারই ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, "আমি জিন ও মানবজাতিকে আমি আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।"
আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর ইবাদত করা। মহান আল্লাহ মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করে এ পৃথিবীতে সহজভাবে জীবনযাপন করার জন্য অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। আমরা তাঁর বান্দা। আমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করে তাঁর সান্নিধ্য লাভ করব ও দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ হাসিল করব। এজন্যই মহান আল্লাহ বলেন, "জিন ও মানবজাতিকে আমি (আল্লাহ) আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।"
(সূরা আল যারিয়াত : ৫৬)
এ আয়াতের মর্ম থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহর আদিষ্ট কাজগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করে ব্যবসায় বাণিজ্য, চাকরি ও কৃষিকাজ করা এবং বৈধ পন্থায় সম্পদ উপার্জন ও দুনিয়ার অন্যান্য সকল ভালো কাজ করাও ইবাদত। এমনিভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর রহমতের আশা, শাস্তির ভয়, ইখলাস, সবর, শুকর, তাওয়াক্কুল ইত্যাদি সব কাজই ইবাদতের মধ্যে শামিল।
আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত অধিকার বা কর্তব্যকে হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর অধিকার বলে। আমরা প্রাত্যহিক জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য অনেক ধরনের ইবাদত করি। সেগুলোর মধ্যে যেসব ইবাদত শুধু আল্লাহ তায়ালার সাথে নির্দিষ্ট, এগুলো হলো হাক্কুল্লাহ। যেমন- সালাত, সাওম, হজ ইত্যাদি।
ইসলামে বান্দার হক তথা মানবাধিকারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার প্রতিপালকের, তোমার শরীরের, তোমার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির হক রয়েছে।" অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, "এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যেমন- সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা ও হাঁচির জবাব দেওয়া।" (বুখারি ও মুসলিম)
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়েই মানুষকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে একসাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের এ সহানুভূতি ও দায়িত্বকেই হাক্কুল ইবাদ অর্থাৎ বান্দার হক বা অধিকার বলে।
ইসলামে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক (Human Rights) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার প্রতিপালকের, তোমার শরীরের, তোমার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির হক রয়েছে। অন্যত্র রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, "এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যেমন- সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা ও হাঁচির জবাব দেওয়া।" (বুখারি ও মুসলিম) মানুষের প্রতি মানুষের হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন- (১) নিকটাত্মীয়ের হক, (২) দূরাত্মীয়ের হক, (৩) প্রতিবেশীর হক, (৪) দেশবাসীর হক, (৫) শাসক-শাসিতের হক, (৬) সাধারণ মুসলমানের হক, (৭) অভাবী লোকের হক এবং (৮) অমুসলিমের হক।
একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনে সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সালাত একজন মুমিনকে (বিশ্বাসী) মন্দ ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। কেননা সালাত আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করা শিক্ষা দেওয়া হয় এবং সর্বদা আল্লাহর দাসত্ব করার শিক্ষা দেওয়া হয়। তাই সালাতের এ শিক্ষা মানুষকে মন্দ ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। এজন্যই এ আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয় সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।" (সূরা আল-'আনকাবুত : ৪৫)
সালাত মানুষকে নিয়মানুবর্তিতা শিখায়। আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাযকে, ফরজ (আবশ্যক) করে দিয়েছেন। সময়মতো সালাত আদায় মানুষকে সময়ের ভারসাম্য করতে শেখায়। প্রতিদিন সকালে নামায আদায়ের মাধ্যমে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। নামায মানুষকে সবকাজ নিয়ম মেনে চলতে সহযোগিতা করে। অভাবে সালাত মানুষকে নিয়মানুবর্তী করে।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) জামাতের সাথে সালাত আদায় করার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জামায়াতে সালাত আদায় করলে একাকি আদায় করার চাইতে সাতাশ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এছাড়া পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে সম্মিলিতভাবে সালাত আদায় করার কথা বলা হয়েছে। সর্বোপরি জামাআতে সালাত আদায় করার কারণে দৈনিক পাঁচবার মুসলমানগণ একস্থানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। একে অপরের খোঁজখবর নিতে পারে। সুখে-দুঃখে একে অপরের সহযোগিতা করতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। ইত্যাদি কারণে জামাআতে সালাত আদায় করতে হয়।
পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে জামাআতে (সম্মিলিতভাবে) সালাত আদায় করার কথা বলা হয়েছে। সালাতের কারণে দৈনিক পাঁচবার মুসলমানগণ এক স্থানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। একে অপরের খোঁজখবর নিতে পারে। সুখে-দুঃখে একে অপরের সহযোগিতা করতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
সাওম পালনের মাধ্যমে পালনকারীর নৈতিক ও আত্মিক উৎকর্ষ সাধিত হয়। সাওমের মাধ্যমে মানুষের মনে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। মানুষ লোভ- লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ ও কামভাবের বশবর্তী হয়ে অনেক মন্দ কাজে লিপ্ত হয়। সাওম মানুষকে এসব কাজ থেকে মুক্ত থাকতে শেখায়। সাওম হলো কোনো ব্যক্তি ও তার মন্দ কাজের মাঝে ঢালস্বরূপ। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, "সাওম (রোযা) ঢালস্বরূপ।" (বুখারি ও মুসলিম)
আসিয়ামু জুন্নাতুন অর্থ সাওম ঢালস্বরূপ। এটি মহানবি (সা.)-এর বাণী। এ বাণীর দ্বারা সাওমের গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরা হয়েছে। এ হাদিসে নবি করিম (সা.) সাওমকে ঢালের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ রোযাদার সাওম পালনের দ্বারা নিজের সকল প্রকার কুরিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। পাপাচার থেকে বিরত থাকে এবং আত্মসংযমী হয়। ঢাল যেমন যোদ্ধাকে শত্রুর আক্রমণ হতে রক্ষা করে, তেমনি রোযাও রোযাদারকে শয়তানের আক্রমণ হতে রক্ষা করে। তাই সাওমকে ঢালস্বরূপ বলা হয়েছে।
সাওম মানুষের মধ্যে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে পাপ থেকে সুরক্ষা দেয়। মানুষ লোড়-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ ও কামভাবের বশবর্তী হয়ে অনেক মন্দ বা পাপ কাজে লিপ্ত হয়। সাওম তাকওয়ার মাধ্যমে মানুষকে এসব কাজ থেকে মুক্ত থাকতে শেখায়। সাওম হলো কোনো ব্যক্তি ও তার মন্দ কাজের মধ্যে ঢালস্বরূপ। এজন্যই মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন- اَلصّيَامُ অর্থ: সাওম ঢালস্বরূপ।
সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মাঝে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। সাওম পালন করে একজন ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে সে অন্য আরেকজন অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে। ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা যে কীরূপ পীড়াদায়ক হতে পারে তা সে উপলব্ধি করতে পারে। এতে অসহায় নিরন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহমর্মিতার ভাব জাগ্রত হয়।
যাকাত আদায় করলে সমাজের দুর্বল লোকেরাও আর্থিকভাবে সবল হয়ে ওঠে। ধনী ও গরিবের মধ্যে পার্থক্য লোপ পায়। ধনী ও গরিবের মাঝে আর্থিক সমন্বয় সাধন ঘটে। ফলে সমাজে শৃঙ্খলা, শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরে আসে। তাই যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধ বলা হয়।
যাকাত শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। যাদের ওপর যাকাত ফরজ অর্থাৎ যারা নেসাব পরিমাণ। সম্পদের মালিক, তারা যাকাত দিলে তাদের সম্পদ পবিত্র; পরিশুদ্ধ ও বৃদ্ধি পায়। তাই যাকাতকে যাকাত বলে।
অর্থনৈতিকভাবে ধনী ও গরিব উভয় শ্রেণির মানুষ সমাজে রয়েছে। ধনী ও গরিবের মাঝে আর্থিক সমন্বয় সাধন করতে মহান আল্লাহ যাকাতের বিধান দিয়েছেন। যাকাত আদায় করলে সমাজের দুর্বল লোকেরাও আর্থিকভাবে সবল হয়ে উঠবে। ফলে সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা তৈরি হবে। এতে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে। অন্যদিকে ধনী ও গরিবের মাঝে এক মজবুত বন্ধন গড়ে উঠবে।
যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। আর ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থার উৎসগুলোর মধ্যে যাকাত হলো অন্যতম। এর ওপর ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পসমূহের সাফল্য নির্ভরশীল। এতে সম্পদের প্রবাহ গতিশীল হয়। ধনীর সম্পদ পুঞ্জীভূত না থেকে দরিদ্র লোকদের হাতেও যায়। ফলে রাষ্ট্রের অর্থনীতি সচল হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়। মাথাপিছু আয় বেড়ে যায়। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত ও শক্তিশালী হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল লোকগুলো ধীরে ধীরে সচ্ছল হতে থাকে।
শরিয়তের দৃষ্টিতে সালাতের পরেই যাকাতের স্থান। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে যত স্থানে সালাতের কথা বলেছেন সাথে সাথে যাকাতের কথাও বলেছেন। যাকাত ইসলামের পঞ্চস্তন্তের মধ্যে তৃতীয়। যাকাতের রয়েছে সামাজিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব। এসব কারণেই মহান আল্লাহ মুসলমানদের ওপর যাকাত ফরজ করেছেন।
যাকাত প্রদান করা দরিদ্রের প্রতি ধনী লোকের কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। বরং যাকাত হলো দরিদ্র লোকের প্রাপ্য বা অধিকার।। কেউ ইসলামের অনুসারী হলে তার উচিত স্বেচ্ছায় যাকাত প্রদান করে অসহায় লোকদের নিকট তা পৌছে দেওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, "আর তাদের (ধনীদের) সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।" (সূরা আয-যারিয়াত : ১৯) তাই সম্পদশালী ব্যক্তি তার সম্পদ ভক্ষণ করার পূর্বে চিন্তা করবে যে, এতে অসহায়দের অধিকার আছে। তাদের অধিকার অবশ্যই দিতে হবে। অন্যথায় সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে।
হজ ইসলামের পঞ্চম ভিত্তি। 'হজ'-এর আভিধানিক অর্থ-সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা প্রদক্ষিণ করা। ইসলামের পরিভাষায় 'আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ যিয়ারত করাকে হজ বলে।
আমাদের জীবনে হজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল (স.) হজের বিনিময়ে জান্নাতের ঘোষণা দিয়েছেন। হজের মাধ্যমে পূর্ববর্তী জীবনের সকল, গুনাহ মাফ হয়ে যায়। পার্থিব জীবনে হজ বিশ্বভ্রাতৃত্ব তৈরি করে। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মুসলিমের মধ্যে বন্ধন তৈরি হয়। তাই হজের গুরুত্ব অত্যধিক।
ধনসম্পদ, বর্ণ-গোত্র ও জাতীয়তার দিক থেকে মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকলেও হজ এসব ভেদাভেদ ভুলিয়ে মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে শেখায়। হজ মুসলমানদেরকে আদর্শিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করে। রাজা-প্রজা, মালিক-ভৃত্য সকলকে সেলাইবিহীন একই কাপড় পরিধান করায়। একই উদ্দেশ্যে মহান প্রভুর দরবারে উপস্থিত হয়ে সাম্যের প্রশিক্ষণ দেয়। হজ মানুষকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলাবোধের শিক্ষা দিয়ে সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলে। বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ শেখায়। পারস্পরিক ভাব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৌহার্দবোধ জাগ্রত করে।
হজ বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন। প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলিম একই স্থানে সমবেত হয়। হজে এসে সবাই একই রকম পোশাক পরিধান করে আল্লাহর দরবারে নিজেকে সমর্পণ করে। বিশ্ব মুসলিমের এ ধরনের সমবেত অংশগ্রহণের ফলে' হজের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়।
ধনসম্পদ, বর্ণ-গোত্র ও জাতীয়তার দিক থেকে মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকলেও হজ এসব ভেদাভেদ ভুলিয়ে মুসলমানদের ঐক্যবন্ধ হতে শেখায়। হজ মুসলমানদের আদর্শিক ভ্রাতৃ ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করে। রাজা-প্রজা, মালিক-ভৃত্য সকলকে সেলাইবিহীন একই কাপড় পরিধান করায়। একই উদ্দেশ্যে মহান প্রভুর দরবারে উপস্থিত করে সাম্যের প্রশিক্ষণ দেয়। হজ মানুষকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলাবোধের শিক্ষা দিয়ে সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলে। বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ শেখায়। পারস্পরিক ভাব ও. সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৌহার্দবোধ জাগ্রত করে।
ধনসম্পদ, বর্ণ-গোত্র ও জাতীয়তার দিক থেকে মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকলেও হজ এসব ভেদাভেদ ভুলিয়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে শেখায়। হজ মুসলমানদের আদর্শিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ করে। রাজা-প্রজা, মালিক-ভৃত্য সকলকে সেলাইবিহীন একই কাপড় পরিধান করায়। একই উদ্দেশ্যে মহান প্রভুর দরবারে উপস্থিত করে সাম্যের প্রশিক্ষণ দেয়। হজ মানুষকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলাবোধের শিক্ষা দিয়ে সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলে। বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ শেখায়। পারস্পরিক ভাব ও. সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৌহার্দবোধ জাগ্রত করে।
হজকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয়। কারণ মুসলিম জাতির এত বড় মহামিলন আর কোথাও কখনো হয় না। সারাবিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র জিলহজ মাসে বায়তুল্লাহর যিয়ারতের জন্য মক্কায় একত্রিত হন। তারা আরাফাতের ময়দানে মহান আল্লাহর দরবারে 'ফরিয়াদ জানান। হজের মাধ্যমে উপস্থিত হাজিগণ বিশ্ববাসীকে এ বার্তা দেন যে, বিশ্বের সব মুসলমান এক জাতি। তাই তারা সাদা হোক বা কালো হোক, ধনী হোক অথবা গরিব তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা সবাই আল্লাহর দাস। এজন্যই এটিকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয়।
মালিকের সাথে শ্রমিকের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় হওয়া উচিত। কেননা মালিক শ্রেণি যেমন শ্রমিক শ্রেণির সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না তেমনিভাবে শ্রমিক শ্রেণির দৈনন্দিন জীবন মালিক শ্রেণির বেতন-ভাতার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই মালিকের উচিত যথাসময়ে বেতন ভাতা প্রদান করা এবং শ্রমিকের উচিত মালিকের দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। মালিককে ইসলাম নির্দেশনা দিয়েছে দ্রুত শ্রমিকের পরিশ্রমিক আদায় করতে আর শ্রমিকের জন্য নির্দেশনা হলো যথায্যভাবে কাজ করা। তাহলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হবে মধুর সম্পর্ক।
শ্রম অর্থ মেহনত করা, খাটুনি করা, কাজ করা ইত্যাদি। আরবিতে শ্রমকে আমল বলে। শ্রমের প্রতি যত্নবান হওয়া শ্রমের স্বীকৃতি প্রদান করা এবং শ্রমিকের উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করাকে বলে শ্রমের মর্যাদা বা 'ফজিলাতুল আমল'। আল্লাহর নবি-রাসুলগণ নিজেরা পরিশ্রম করতেন। আল্লাহ শ্রমশীল মানুষদের ভালোবাসেন।
মহানবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।" (ইবনে মাজাহ) এ হাদিস দ্বারা শ্রমিকের পাওনা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা শ্রমিকরা সাধারণত গরিব ও নিঃস্ব শ্রেণির হয়ে থাকে। তারা তাদের শ্রমের মজুরি দিয়ে চাল, ডাল, তরিতরকারি ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে জীবনধারণ করে। তাই তার পাওনা পেতে দেরী হলে শ্রমিক ও তার পরিবার অভুক্ত থেকে কষ্ট পাবে। ফলে শ্রমিকের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে এবং এ অসন্তোষ থেকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি শ্রমিক তার পাওনা যথাসময়ে পায়, তাহলে তার মনে আনন্দ থাকবে এবং সে উৎসাহের সাথে কাজ করবে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম্ অব্যাহত থাকবে। এজন্য রাসুল (স.) উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসলাম শব্দের অর্থ হলো আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ। তাই প্রতিটি মুসলিমকে জানতে হবে- সে কার আনুগত্য করবে, কী আনুগত্য করবে, কার কাছে কীভাবে আত্মসমর্পণ করবে। আর এ জানার জন্য জ্ঞানার্জন আবশ্যক। তাছাড়া ইসলামের মূল দুটি উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহ। এ দুটো লিখিত আকারে রয়েছে। এ দুটোকে বুঝতে হলেও জ্ঞানের দরকার। এ কারণেই ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে ফরজ করা হয়েছে।
ইলম আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া, বিদ্যা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, ইলম হলো কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা। অপরদিকে, ইসলাম অর্থ হলো আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ। তাই প্রত্যেক মুসলিমকে জানতে হবে- সে কার আনুগত্য করবে, কী আনুগত্য করবে, কার কাছে কীভাবে আত্মসমর্পণ করবে এসব জানার জন্য জ্ঞানার্জন আবশ্যক। মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে এবং পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে জ্ঞানচর্চা অপরিহার্য। মহান আল্লাহ বলেন, "পড়ুন আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আলাক: ১) মহানবি (স.) ও তাঁকে জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।" (ইবনে মাজাহ) এ কারণেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
ইসলামে ইলম (জ্ঞান)-এর গুরুত্ব এত বেশি যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা করেছেন 'পড়ুন' শব্দ দ্বারা। পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন হয় বিধায় মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে এবং পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে জ্ঞানচর্চা অপরিহার্য। মহানবি (স.) বলেন, "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ) অন্যত্র মুহাম্মদ (স.) জ্ঞানার্জনকে উত্তম ইবাদত বলে ও অভিহিত করেছেন।
জ্ঞান আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা করেছেন ইকরা শব্দ দ্বারা। তাছাড়া জ্ঞান জ্ঞানীর মর্যাদা সমৃদ্ধ ও সমুন্নত করে। রাসুল (সা.) জ্ঞানার্জনকে উত্তম ইবাদত বলে অভিহিত করেছেন। জ্ঞান অর্জন করলে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা যায়, বৈধ-অবৈধ বোঝা যায় এবং আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভকরা যায়। তাই জ্ঞান আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
দুনিয়াবি ইলম বলতে শুধু পার্থিব উন্নতির সাথে সম্পর্কিত জ্ঞানকে বোঝায়। যেমন গণিত, বিজ্ঞান, ভূগোল, সাহিত্য, পদার্থ, রসায়ন ইত্যাদির জ্ঞান।
জ্ঞানকে আরবিতে ইলম বলা হয়। এই ইলম দুই ধরনের তন্মধ্যে একটি গ্রহণীয় জ্ঞান, অন্যটি বর্জনীয় জ্ঞান। বর্জনীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না। বরং যার দ্বারা ইহকাল ও পরকালে অকল্যাণ সাধিত হয়। যেমন- অনৈতিক জ্ঞান, চুরি, ডাকাতি, অন্যায়, যুলুম, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
সব জ্ঞানই গ্রহণীয় নয়। কিছু জ্ঞানকে বর্জনীয় জ্ঞান হিসেবে অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ যে জ্ঞান মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না বরং যার দ্বারা ইহকাল ও পরকালে অকল্যাণ সাধিত হয় তাকে বর্জনীয় জ্ঞান বলে। যেমন- অনৈতিক জ্ঞান, চুরি, ডাকাতি, অন্যায়, জুলুম, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
গ্রহণীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান ইহকাল ও পরকালে মানুষের কল্যাণে আসে। যেমন- নৈতিক জ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, পদার্থ-রসায়নসহ সকল কল্যাণকর জ্ঞান। আর বর্জনীয় জ্ঞান হলো যে জ্ঞান মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না বরং যার দ্বারা ইহকাল ও পরকালে অকল্যাণ সাধিত হয়। যেমন- অনৈতিক জ্ঞান, চুরি, ডাকাতি, অন্যায়, যুলুম, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা।
একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর কতকগুলো সুন্দর বৈশিষ্ট্য থাকে।
এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. শিক্ষকদের আদেশ নিষেধ মেনে চলা ও ২. শিক্ষক যা শিক্ষা দেন তা মনযোগ সহকারে শোনা ও পালন করা। ছাত্র শিক্ষকের আদেশ-নিষেধ মেনে চললে এবং তিনি যা শিক্ষা দেন তা মনোযোগসহকারে
আত্মস্থ করলে তার ভবিষ্যত জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে।
শিক্ষক হলেন আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় নিয়মকানুন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, বিনয়, নম্রতা, নিয়মানুবর্তিতা, দয়া, সহানুভূতি ইত্যাদি শিক্ষা দেন। পক্ষান্তরে মহানবি (স.) ও মানুষদের মনুষত্ববোধ উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দিয়েছেন। তাই শিক্ষকতা পৃথিবীর পেশা। এজন্যই প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.). নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেছেন, "আমাকে শিক্ষক হিসেবেই প্রেরণ করা হয়েছে।" (ইবনে মাজাহ)
শিক্ষক হলেন আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর।
পিতামাতার পরই শিক্ষকের অবস্থান, পিতা-মাতা সন্তানকে জন্ম দিয়ে শুধু লালন-পালন করেন। পক্ষান্তরে, শিশুদেরকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন একজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়। শিক্ষার্থীদের। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী হবে শিক্ষকরাই ছোটবেলায় শিখিয়ে দেন। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় নিয়মকানুন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, দয়া-সহানুভূতি ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন। যা তারা পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে নিজের ও জাতির উন্নতিতে এগিয়ে আসেন।
শিক্ষক হলেন আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর।
পিতামাতার পরই শিক্ষকের অবস্থান, পিতা-মাতা সন্তানকে জন্ম দিয়ে শুধু লালন-পালন করেন। পক্ষান্তরে, শিশুদেরকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন একজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়। শিক্ষার্থীদের। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী হবে শিক্ষকরাই ছোটবেলায় শিখিয়ে দেন। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় নিয়মকানুন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, দয়া-সহানুভূতি ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন। যা তারা পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে নিজের ও জাতির উন্নতিতে এগিয়ে আসেন।
পিতামাতার পরই শিক্ষকের স্থান। শিক্ষক পরম শ্রদ্ধাভাজন। ব্যক্তি। তিনি আমাদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। পিতামাতা সন্তানের লালন-পালন করে থাকেন, কিন্তু শিক্ষক তাকে সত্যিকারের মানবিক গুণাবলি দান করেন। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আইনকানুন, আদবকায়দা, শিষ্টাচার, বিনম্র, নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন, যা শিক্ষার্থী তার পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে সার্বিক সফলতা। লাভ করে থাকে। আমাদের প্রকৃত কল্যাণ কামনায় শিক্ষকগণ আত্মত্যাগের পরিচয় দেন। এজন্য শিক্ষককে শ্রদ্ধা করতে হবে।
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলো আত্মার সম্পর্ক। এটি পিতা-পুত্রের সম্পর্কের ন্যায়। পিতা যেমন সর্বদা পুত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন, শিক্ষকও তেমনি তার ছাত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে সৎ পথ দেখান। পুত্র তার পিতা থেকে সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়, অন্যদিকে ছাত্রও তার শিক্ষক। থেকে জ্ঞানের উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র যেমন পিতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদের পরিচর্যা করে বড় সম্পদশালী হতে পারে, শিক্ষার্থীও তেমনি শিক্ষক থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান সমৃদ্ধ করে বড় জ্ঞানী-হতে পারে।
ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক আদর্শিক ও আন্তরিক হওয়া উচিত। এটি আত্মার সম্পর্কও বটে। এ সম্পর্ক পিতা-পুত্রের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনীয়। পিতা যেমন সর্বদা পুত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন, আদর্শবান শিক্ষকও তেমনি তার ছাত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে সৎপথ দেখান। পুত্র তার পিতা থেকে সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। পক্ষান্তরে ছাত্রও তার শিক্ষক থেকে জ্ঞানের ও নৈতিকতার উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র যেমন পিতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদের পরিচর্যা করে পিতা থেকে বড় সম্পদশালী হতে পারে, শিক্ষার্থীও তেমনি শিক্ষক থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানসমৃদ্ধ করে শিক্ষক থেকে বড় জ্ঞানী হতে পারে।
সঙ্কিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকে শিক্ষা রলে। পক্ষান্তরে, সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব ও উন্নত চরিত্র- এ সবকিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা। ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা সম্পর্কে জানা ও তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা অধিকতর সহজ। ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ নৈতিকতা লাভ করতে পারে। তাই বলা যায়, নৈতিক শিক্ষা ইসলামি শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনে সফলভাবে প্রয়োগ করাকেই শিক্ষা বলে। সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, উন্নত চরিত্র, এসব কিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা। শিক্ষা ও নৈতিকতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষকে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া। ইসলামি শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ নৈতিকতা লাভকরতে পারে। ইলম ও নৈতিকতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
ইসলামি শিক্ষা মানুষকে অজ্ঞতা, কুসংস্কার ইত্যাদি থেকে মুক্ত করে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি মানুষের শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশ। শিক্ষা মানবহৃদয়কে অজ্ঞতার অনুষ্কার থেকে মুক্ত করে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে। শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষ সচ্চরিত্রবান, খোদাভীরু, দেশপ্রেমিক, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। এজন্যই বলা হয়েছে, শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে সাহায্য করে।
সততা, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্র এসব কিছুর সমন্বয় হলো নৈতিকতা। একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চালচলন, ওঠাবসা, আচার-ব্যবহার, লেনদেন সবকিছুই যখন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য হয় তখন তাকে নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি বলে।
নৈতিক শিক্ষা মুসলমানের জন্য আবশ্যিক বিষয়। মানুষকে ইমান ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্য মহানবি (স.) প্রেরিত হয়েছিলেন। রাসুল (স.) বলেছেন, "চরিত্রের বিচারে যে লোকটি উত্তম মুমিনদের মধ্যে সেই পূর্ণ ইমানের অধিকারী।” (তিরমিযি) তাই বলা যায়, ইসলামি জীবনব্যবস্থায় নৈতিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠা করা জিহাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাছাড়াও বান্দাকে মানবীয় কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা হতে মুক্ত করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত বানিয়ে দেওয়া জিহাদের উদ্দেশ্য এবং মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্তি করে আল্লাহর দাসত্বে নিয়ে আসা এবং জুলুম ও শোষনের অবসান ঘটিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়ের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসাই জিহাদের উদ্দেশ্য।
জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ এক নয়। বলা যায়, এ দুটি পরস্পর বিপরীত। রাজ্য জয়, ক্ষমতা দখল, সম্পদের লোভ, খুন-খারাবি, লুটতরাজ এবং অন্যায় রক্তপাত জিহাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বে নিয়ে আসা এবং জুলুম ও শোষণের অবসান ঘটিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়ের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসাই জিহাদের উদ্দেশ্য। মানুষকে সত্যনিষ্ঠ ও নৈতিকগুণে গুণান্বিত করাও জিহাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, বর্তমান যুগে জিহাদের নামে যেভাবে বোমাবাজি, জঙ্গিবাদ, খুন-খারাবি ও নিরীহ লোকজনকে হত্যা করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটা সন্ত্রাসেরই নামান্তর।
সমাজ থেকে ফিতনা বা বিপর্যয় দূর হয়ে আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত জিহাদ চালু রাখার জন্য আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে তাঁর এ নির্দেশ ঘোষিত হয়েছে, "এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়।" (সূরা আল-আনফাল ৩৯)
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত ও রাসুল (স.) প্রদর্শিত পথে জীবনযাপন করে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করা। মানুষের জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম। তাই ইসলামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা ব্যতীত অন্য কোনো পথ মানুষের জন্য খোলা নেই। এ পথে চলতে হলে ইসলামকে জানতে ও শিখতে হবে।
অতএব বলা যায়; আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদর্শে জীবন গড়ার জন্যই ইসলাম শিক্ষা অর্জন করা হয়।
Related Question
View Allইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত ও রাসুল (স.) প্রদর্শিত পথে জীবনযাপন করে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করা। মানুষের জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম। তাই ইসলামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা ব্যতীত অন্য কোনো পথ মানুষের জন্য খোলা নেই। এ পথে চলতে হলে ইসলামকে জানতে ও শিখতে হবে। অতএব বলা যায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদর্শে জীবন গড়ার জন্যই ইসলাম শিক্ষা করা হয়।
উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষকের কাজের মাধ্যমে আমানত প্রত্যর্পণের ইবাদত পালিত হয়েছে। এটা ফরজ বা অবশ্যই করণীয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তোমরা আমানত তার প্রাপককে ফিরিয়ে দাও।” এখানে আল্লাহ আমানত বা (গচ্ছিত ধন) প্রাপককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ করেছেন। সেজন্য এটা পালন করা ফরজ।
শফিকুর রহমান জনৈক যাত্রীর পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যাগ প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা রাখলে প্রধান শিক্ষক টাকা ও ব্যাগ মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দেন। এতে তার সততা ও আমানতদারিতার পরিচয় মিলে। তিনি চাইলে কোনো অযুহাতে টাকা আত্মসাৎ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে আল্লাহর আদেশের কথা স্মরণ করে টাকা ও ব্যাগ মালিককে দিয়ে দেন। তাই তার এ কাজ দ্বারা ফরজ ইবাদত পালন হয়েছে। অন্যদিকে, তার এ কাজ দ্বারা আদর্শ শিক্ষকের চরিত্রও ফুটে উঠেছে।
জনাব শফিকুর রহমান একজন রিকশাচালক। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামি অনুশাসন মেনে চলেন, অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন এবং রিকশার জনৈক যাত্রীর প্রাপ্ত টাকা ও ব্যাগ আত্মসাৎ না করে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে মালিককে ফিরিয়ে দেন।
জনাব শফিকুর রহমান একজন সাধারণ রিকশাচালক হয়েও অসাধারণ চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি। উদ্দীপকে বর্ণিত তার কর্মকাণ্ড তার উত্তম চরিত্রের পরিচয় পেশ করে। আমরা তার কর্মকাণ্ডগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাই- তিনি তাঁর প্রতিপালকের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল, সমাজের মানুষ হিসেবে উদার ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী এবং সততার বিচারে একদম খাঁটি লোক। একজন মুসলিমের যেসব গুণ থাকা অপরিহার্য, তার চরিত্রে সেসব গুণের সমাবেশ ঘটেছে। তিনি হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদতের যথার্থ রক্ষক।
তিনি তার কাজের দ্বারা প্রমাণ করেছেন- মানুষ হওয়ার জন্য পেশা বড় বিষয় নয় বরং সচ্চরিত্র ও উন্নত নৈতিকতাই মুখ্য বিষয়।
পরিশেষে বলা যায়, মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত তথা গোলামি করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। আর ইবাদতে হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদে সমভাবে মনোযোগী হতে হয়। জনাব শফিকুর রহমান তার কর্মকাণ্ডে হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদ পালনে পরিপূর্ণ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
শিক্ষকসমাজ আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর।
মহানবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।” (ইবনে মাজাহ) এ হাদিস দ্বারা শ্রমিকের পাওনা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা শ্রমিকরা সাধারণত গরিব ও নিঃস্ব শ্রেণির হয়ে থাকে। তারা তাদের শ্রমের মজুরি দিয়ে চাল, ডাল, তরিতরকারি ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে জীবনধারণ করে। তাই তার পাওনা পেতে দেরি হলে শ্রমিক ও তার পরিবার অভুক্ত থেকে কষ্ট পাবে। ফলে শ্রমিকের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে এবং এ অসন্তোষ থেকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি শ্রমিক তার পাওনা যথাসময়ে পায়, তাহলে তার মনে আনন্দ থাকবে এবং সে উৎসাহের সাথে কাজ করবে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এজন্য রাসুল (স.) উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!