লোকশিল্প ও কারুশিল্পের ৩টি পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
| লোকশিল্প | কারুশিল্প |
| ১। গ্রামের সাধারণ মানুষের হাতে তৈরি শিল্পকর্ম। | ১। দক্ষ কারিগরের তৈরি শিল্পকর্ম। |
| ২। এ ধরনের শিল্পকর্ম তৈরিতে রং, তুলি, সুই, সুতা, মাটি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। | ২। এ ধরনের শিল্পকর্ম অলংকরণের জন্য ব্যবহার করা হয় সহজ উপকরণ বা হাতিয়ার। |
| ৩। লোকশিল্পের ব্যবহারিক প্রয়োজন থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। | ৩। কারুশিল্পের ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। |
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য লোকশিল্পের ৫টি নামের তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
১। নকশীকাঁথা।
২। মাটির বা কাঠের তৈরি খেলনা, পুতুল, পাত্র ইত্যাদি।
৩। পোড়ামাটির ফলকচিত্র।
৪। শখের হাঁড়ি।
৫। দেয়ালচিত্র।
বাংলাদেশের লোকশিল্পে বহুল ব্যবহৃত ৩টি মোটিফের চিত্র নিচে আঁকা হলো-

আমরা প্রতিদিন অনেক রকম জিনিসপত্র বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি। এ সমস্ত ব্যবহার্য জিনিসে সৌন্দর্য আরোপের জন্য নানা রকম কারুকাজ করা হয়। নকশা করা এসব সামগ্রীকে কারুশিল্প বলে। যেমন- একটি কাঠের দরজায় যখন ফুল, লতা, পাতা বা অন্যকোনো নকশা দিয়ে কারুকাজ করা হয়। তখন এ নকশা বা কারুকাজ করা দরজাটি হয়ে যায় কারুশিল্পের নিদর্শন। আবার বাঁশ, বেত ও কাঠের তৈরি কারুশিল্প আমাদের দেশে বিকাশ লাভ করেছে এবং এর শিল্পগুণ সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত হচ্ছে।
তাছাড়া মাটির তৈরি বিভিন্ন বাসনপত্র এবং তামা, কাঁসা ও পিতলের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র আমাদের কারুশিল্পের উজ্জ্বল নিদর্শন।
মেয়েদের ব্যবহার্য নানা ধরনের সোনা ও রূপার অলংকার ও সুন্দর কারুশিল্প। তাছাড়া তাঁতের শাড়ি বিশেষ করে জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, রাজশাহী সিল্ক ও কাতান শাড়ি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কারুশিল্প হিসেবে দেশে বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে। আবার মাটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের জিনিসে নানা ধরনের নকশা করাও কারুশিল্পের অন্তর্গত। এছাড়া রিকশা, নৌকা পালকির গায়েও বিভিন্ন রকম কারুকাজ করা হয়। বর্তমানে শহরের মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তবানরাও তাদের জীবনযাপনে কারুশিল্পকে নানাভাবে ব্যবহার করে থাকে। এভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানাভাবে কারুশিল্প ব্যবহার করা হয়।
লোকশিল্পের মতো বাংলাদেশের কারুশিল্পও আমাদের দেশের মানুষের সাথে গভীরভাবে মিশে আছে। আমাদের প্রকৃতিতে সহজে পাওয়া যায় এমন কারুশিল্পের উপাদান হচ্ছে বাঁশ, বেত ও কাঠ। তাছাড়া মাটির তৈরি বিভিন্ন বাসনপত্র এবং তামা, কাঁসা ও পিতলের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র আমাদের কারুশিল্পের উজ্জ্বল নির্দশন।
বাঙালি মেয়েদের সাজ-সজ্জায় অলংকারের ব্যবহার অতিপ্রাচীন। চমৎকার নকশা করা সোনা ও রুপার নানা ধরনের অলংকারও সুন্দর কারুশিল্প। তাছাড়া তাঁতের শাড়ি-বিশেষ করে জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, রাজশাহী সিল্ক ও কাতান শাড়ি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কারুশিল্প হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে। মাটির সবকিছুর গায়েই আঁচড় কেটে বা খোদাই করে ফুল, লতা, পাতা, পাখি ও নানা ধরনের নকশা আঁকা হয়। এগুলো সবই বাংলাদেশের কারুশিল্প।
এছাড়া বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং আদিবাসীদের তৈরি নানা রকম নকশা করা কাপড়, চাদর, কম্বল, বাঁশ ও বেতের টুকরি, মাথাল, শাঁখার চুড়ি, ঝিনুকের বোতাম, হাড়ের চিরুনি ইত্যাদি অসংখ্য জিনিস নিয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের কারুশিল্পের সমৃদ্ধ ভুবন।
লোকশিল্প বলতে বোঝায় সাধারণ মানুষ দ্বারা সৃষ্টি এবং প্রচলিত শিল্প। এটি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা গোষ্ঠীর মানুষের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রতিফলন। লোকশিল্প সাধারণত ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা মেটাতে তৈরি করা হয়।
প্রাচীনকাল থেকেই গ্রামে-গঞ্জে কিছু লোক ভালো ছবি আঁকতে বা পুতুল বানাতে পারত। যে সহজ রীতিতে তারা ছবি আঁকত বা পুতুল বানাত তা শিখে নিয়েছিল তাদের সন্তানেরা। বংশপরম্পরায় তাদের পরিবারের ছেলেমেয়েরা বড়দের কাছ থেকে শিখেছে কীভাবে আঁকতে বা গড়তে হয়। এভাবেই যুগ যুগ ধরে লোকশিল্প তৈরি হয়ে আসছে।
লোকশিল্প সাধারণ লোকের জন্য সাধারণ লোকের সৃষ্টি। তাই পৃথিবীর সবখানেই লোকশিল্পের উপকরণ অতি সাধারণ। যেমন: মাটি, কাঠ, কাপড়, সুতা, ধাতবদ্রব্য, পাতা, বাঁশ, বেত প্রভৃতি।
বাংলার গ্রামের মেয়েরা তাদের অবসর সময়ে খুব যত্ন করে রঙিন সুতার সেলাই দিয়ে মনোরম নকশা বা বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে এক ধরনের কাঁথা তৈরি করে। যার নাম নকশিকাঁথা। এতে বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকা হয়। এসব ছবিতে যেসব চিত্র আঁকা হয় তাতে তাদের জীবনের সুখ-দুঃখের গল্প মিশে থাকে।
বিভিন্ন ব্রত, অনুষ্ঠানে ও পূজায় ঘরে এবং উঠানে আল্পনা আঁকা হয়। এটি বাংলাদেশের এক অতি প্রাচীন রীতি। এটিও বাংলার লোক-শিল্প। বর্তমানে বিয়ে, গায়ে হলুদ, একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বা রাস্তায় যে আল্পনা আঁকা হয় তা সেই প্রাচীন লোকরীতিরই ধারাবাহিকতা।
মাটি, পুরনো কাপড়, কাঠ, বাঁশ, বেত, শোলা, তাল ও খেজুর পাতা প্রভৃতি সাধারণ উপকরণে তৈরি হয় লোকশিল্প। অতি সাধারণ হলদি, খড়িমাটি, নীল আবীর, সিঁদুর, কাঠকয়লা প্রভৃতি রং দিয়েই তৈরি হয় এই শিল্প।
বাংলাদেশের লোকশিল্পের বহুল ব্যবহৃত মোটিফগুলো হচ্ছে: পদ্ম, কলকা, চন্দ্র, সূর্য, হাতি, পাখি, পানপাতা ইত্যাদি। ইসলামিক সংস্কৃতিতে অনেক নকশাই মোটিফ যার মধ্যে রয়েছে সূর্য, চাঁদ, ঘোড়া এবং সিংহের মতো প্রাণী, ফুল এবং ল্যান্ডস্কেপ।
আমরা প্রতিদিন অনেক রকম জিনিসপত্র বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকি। এসব ব্যবহার্য জিনিসে সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য নানা রকম কারুকাজ করা হয়। নকশা করা এসব ব্যবহার সামগ্রীকে কারুশিল্প বলে। অর্থাৎ যখন কোনো ব্যবহার্য সামগ্রীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তাতে সহজ ও সাধারণ হাতিয়ারের মাধ্যমে কারুকাজ করা হয়, তখন তাকে কারুশিল্প বলে।
এখন থেকে আনুমানিক কুড়ি বা পঁচিশ লাখ বছর আগে আদিম মানুষেরা ধারালো হাতিয়ার তৈরি করতে শিখেছিল। এসব পাথুরে অস্ত্র, গাছের ডাল দিয়ে তৈরি কাঠের শাবল ও কাঠের লাঠি ছিল তাদের ব্যবহার্য প্রথম হাতিয়ার।
প্রয়োজনীয় সাধারণ বস্তুটি যখন আমরা সুন্দররূপে দেখতে চাই, তখন তাতে ফুল, লতা-পাতা বা অন্য কোনো নকশা দিয়ে কারুকাজ করা হয়। এই নকশা বা কারুকাজ করাই হলো কারুশিল্পের নিদর্শন। আদিবাসীদের ব্যবহার করা বিভিন্ন অলংকারও কারুশিল্পের উৎকৃষ্ট নিদর্শন।
বাংলাদেশের কারুশিল্প দেশের মানুষের সাথে গভীরভাবে মিশে আছে। কারুশিল্পের উপাদান হচ্ছে বাঁশ; বেত ও কাঠ। তাই বাঁশ, বেত ও কাঠের তৈরি কারুশিল্প আমাদের দেশে বিকাশ লাভ করছে এবং এর, শিল্পগুণ সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত হচ্ছে।
তাঁতের শাড়ি বিশেষ করে জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, রাজশাহীর সিল্ক ও কাতান শাড়ি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কারুশিল্প হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে।
আগে মানুষের বিনোদনের কোনো মাধ্যম ছিল না। এ কারণে নিজেদের আনন্দ ও শখ মেটানোর জন্য এবং সকলকে আনন্দ দেওয়ার জন্য লোকশিল্পের প্রসার ঘটে।

সোনারগাঁ লোকশিল্প ও কারুশিল্প জাদুঘর ১৯৭৫ সালের ১২ই মার্চ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন প্রতিষ্ঠা করেন
এ অধ্যায় পড়া শেষ করলে আমরা-
- লোকশিল্প কী তা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কারুশিল্প কী তা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাংলাদেশের লোকশিল্পের বর্ণনা করতে পারব।
- বাংলাদেশের কারুশিল্প সম্পর্কে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা দিতে পারব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!