সাধারণভাবে রাষ্ট্র বলতে সরকার, দেশ, সমাজ বা জাতিকে বোঝায়। সমাজে বসবাসরত সকল মানুষকে একটি ঐক্যসূত্রে বাঁধা এবং তাদের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রের আবির্ভাব ঘটে। অতএব, রাষ্ট্র হচ্ছে সামাজিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। সার্বভৌম শব্দ দ্বারা চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়। সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গঠন পূর্ণতা পায়। আর সার্বভৌম ক্ষমতায় রাষ্ট্রকে অন্যান্য সংস্থা থেকে পৃথক করে।
সুশাসন মানেই আইনের শাসন। রাষ্ট্রে আইনের শাসন না থাকলে সকল নাগরিক সমানভাবে স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে না। রাষ্ট্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা তখনই খর্ব হয় যখন আইনের শাসন থাকে না। আর আইনের শাসন না থাকলে কখনোই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। অতএব, সুশাসনের জন্য আইনের শাসন অতীব জরুরি।
সমাজে বসবাসরত সকল মানুষকে একটি ঐক্যসূত্রে বাঁধা এবং তাদের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানের জন্যই রাষ্ট্রের আবির্ভাব ঘটে। সমাজ বিকাশের একটি স্তরে সমাজের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে।
রাষ্ট্র হচ্ছে সামাজিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাষ্ট্রকে মনে করা হতো ঈশ্বরের সৃষ্টি করা একটি প্রতিষ্ঠান। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাষ্ট্রকে 'সর্বজনীন কল্যাণ সাধনকারী' এবং 'মানুষের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান' বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
নাগরিকের সুখ ও শান্তি বিধান করার জন্য রাষ্ট্রকে অনেক কাজ করতে হয়। রাষ্ট্রের এই কাজ কতকগুলো অপরিহার্য এবং কতকগুলো ঐচ্ছিক। নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলো প্রতিরোধ ও প্রতিকারে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কাজ।
প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে। হঠাৎ করে কোনো রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়নি। আদিম মানুষ প্রথমে গোত্রভিত্তিক বসবাস করত। সময়ের পরিবর্তনে একসময় রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়। মানুষই রাষ্ট্র সৃষ্টি করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর, এম. ম্যাকাইভারের মতে, "রাষ্ট্র হচ্ছে সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা পরিচালিত একটি সংগঠন, যার কর্তৃত্বমূলক ক্ষমতা রয়েছে এবং যা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসরত অধিবাসীদের ওপর বলবৎ হয়।"
অধ্যাপক গার্নার রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা নিয়েছেন। তিনি বলেন, "রাষ্ট্র হলো বহুসংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত এমন এক জনসমাজ, যারা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়িভাবে বসবাস করে, ২। বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত এবং যাদের একটি সুসংগঠিত সরকার আছে, যে সরকারের প্রতি ঐ জনসমাজ স্বভাবতই অনুগত।"
রাষ্ট্র হলো একটি ভূখণ্ডভিত্তিক সমাজ বিশেষ, যার সংগঠিত সরকার ও জনসমষ্টি রয়েছে। এবং যার নিজস্ব ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের ওপর সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত আছে।
আমরা রাষ্ট্রের চারটি উপাদান দেখতে পাই, যথা: জনসমন্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। প্রত্যেক রাষ্ট্রই এ চারটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত।
রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে জনসমষ্টি। জনসমষ্টি বলতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনগণকে বোঝায়। রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসমষ্টি একান্ত অপরিহার্য। জনসমষ্টির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক হতে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছে।
রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হবে তার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রের জনসংখ্যা কয়েক কোটি হতে পারে আবার কয়েক হাজারও হতে পারে। গণচীন ও ভারতে জনসংখ্যা একশ কোটির উপরে। অন্যদিকে স্যানম্যারিনো ও মোনাকো এ দুটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জনসংখ্যা যথাক্রমে ৩৮,৩০০ ও ৩৮,৯৬৩ (২০১৯ সালে বিশ্ব জনসংখ্যার প্রতিবেদন অনুযায়ী)।
নির্দিষ্ট ভূখন্ড হচ্ছে রাষ্ট্রের অপরিহার্য দ্বিতীয় উপাদান। প্রত্যেক রাষ্ট্রই একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা পরিবেষ্টিত। ভূখন্ড বলতে স্থলভাগ, সমুদ্রসীমা, আকাশসীমাও বোঝায়। রাষ্ট্রের জনগণের বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট ভখণ্ডের ওপব নিয়ন্ত্রণ অাবশ্যক।
জনসমষ্টি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, সংগ্রাম ও যুদ্ধের মাধ্যমে অথবা সাংবিধানিকভাবে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিটি রাষ্ট্রই ভূখণ্ডের সীমানাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলে।
রাষ্ট্রের অপরিহার্য তৃতীয় উপাদানটি হলো সরকার। সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়।
রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ থাকে- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এ তিন বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের সরকার গঠন করে। সরকার পদ্ধতি বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন হতে পারে।
সরকার বলতে ব্যাপক অর্থে শাসকগোষ্ঠীর সকলকে বোঝায়, যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতা সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়।
রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা। সার্বভৌম শব্দ দ্বারা চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়। সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গঠন পূর্ণতা পায়। এ ক্ষমতা রাষ্ট্রকে অন্যান্য সংস্থা থেকে পৃথক করে।
সার্বভৌমত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের ঐ বৈশিষ্ট্য যার ফলে নিজের ইচ্ছা ছাড়া অন্য কোনো প্রকার ইচ্ছার যারা রাষ্ট্র আইনসংগতভাবে আবদ্ধ নয়। প্রত্যেক সমাজব্যবস্থায় চূড়ান্ত ক্ষমতা কার্যকর করার জন্য একটি মাত্র কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ থাকবে। আর এ ক্ষমতাই হলো সার্বভৌম ক্ষমতা।
সার্বভৌম ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুটি দিক রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের মধ্যকার সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা পায়। এই সার্বভৌম ক্ষমতার ঊর্ধ্বে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই।
সার্বভৌম ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুটি দিক রয়েছে। বাহ্যিক সার্বভৌমত্বের অর্থ হলো রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকবে।
জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব এ চারটি উপাদান নিয়েই রাষ্ট্র গঠিত হয়। এর যেকোনো একটি উপাদান না হলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র প্রধানত দুই ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে, যথা: নিয়ন্ত্রণমূলক এবং কল্যাণমূলক। এ দুই ধরনের ভূমিকার ভিত্তিতে আধুনিক রাষ্ট্রের কার্যাবলিকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যেমন- অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি এবং কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কার্যাবলি।
রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেগুলোকে অপরিহার্য বা মুখ্য কাজ বলা হয়।
আর. এম. ম্যাকাইভার তাঁর 'The Modern State' গ্রন্থে বলেছেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক কাজ বা দায়িত্ব। নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার নিশ্চয়তা থেকে রাষ্ট্র নামক সংগঠনের সৃস্টি হয়। জনসাধারণকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করা, সমাজের শাস্তিভঙ্গকারীদের শাস্তির বিধান করা এবং সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।"
রাষ্ট্রের জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ! শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। শিক্ষিত নাগরিক তার অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন থাকেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন। এজন্য রাষ্ট্র শিক্ষা বিস্তারের প্রতি. অধিক গুরুত্ব প্রদান করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল নাগরিকের সংজ্ঞায় বলেছেন, "সে ব্যক্তিই নাগরিক যে নগররাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব ও শাসনকার্যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।" তাঁর মতে, অধিকাংশেরই যথাযথভাবে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করার সামর্থ্য কিংবা অফুরন্ত সময় নেই।
যারা শাসনকার্যে সরাসরি জড়িত থাকতেন, গ্রিক নগররাষ্ট্রে তাদেরকেই কেবল নাগরিক হিসেবে ধরা হতো। এ ধরনের নগররাষ্ট্রে দাস এবং নারীদের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হতো না এবং তারা রাষ্ট্রীয় কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারত না।
বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে নাগরিকের সংজ্ঞা দিয়েছেন। আধুনিক ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড জে. লাস্কি নাগরিকের সংজ্ঞায় বলেছেন, "যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে তাকেই নাগরিক বলা হয়।"
অধ্যাপক গেটেল বলেন, "নাগরিক হচ্ছে রাজনৈতিক সমাজের সেসব সদস্য, যারা উক্ত সমাজের প্রতি কর্তব্য পালনে বাধ্য থাকেন এবং সমাজ থেকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকারী হন।"
বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে নাগরিকের সংজ্ঞা দিয়েছেন। নাগরিকত্ব বলতে বোঝায়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অধিকার, নাগরিক সুবিধা ভোগ করা এবং রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বাধ্য হওয়া।
বৃহৎ অর্থে, নাগরিক হচ্ছেন তিনি, যিনি ঐ রাষ্ট্রে স্থায়িভাবে বসবাস করেন এবং রাষ্ট্রের আইন, সংবিধান ও অন্যান্য নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন। রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধনে নিজের কর্মের মাধ্যমে ভূমিকা রাখেন এবং রাষ্ট্র কর্তৃক বণ্টনকৃত সকল সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করেন।
রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের বিবিধ সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার দিয়ে থাকে তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকদের কতকগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। সুতরাং বলা যায়, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর নির্ভরশীল ও পরিপূরক।
নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য প্রত্যেক নাগরিককে সর্বদা সজাগ এবং চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
কেউ আইন অমান্য করলে সমাজে ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্বাভাবিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটে। তাই সুষ্ঠু জীবনযাপন, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে আইন মেনে চলতে হবে।
সততা ও সুবিবেচনার সাথে ভোট দেওয়া নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। এর ফলে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন। অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ প্রার্থীকে ভোটদানে বিরত থাকা উচিত।
রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস নাগরিকদের প্রদেয় কর ও খাজনা। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক প্রতিরক্ষা এবং উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। নাগরিকদের যথাসময়ে কর প্রদান করে রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতা করতে হবে।
রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা নাগরিকের কর্তব্য। সরকারের গৃহীত যেকোনো কাজ জনগণের কাজ। নাগরিকদের সততা, কাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠার ওপর সরকারের সফলতা, উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে।
পিতামাতা সন্তানের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। তাই সন্তানদের জীবন রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিষেধক টিকাদান, সুস্থ সবল রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পাঠানো পিতামাতার দায়িত্ব। এতে করে সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অবদান রাখবে।
সাধারণভাবে আইন বলতে সামাজিকভাবে স্বীকৃত লিখিত ও অলিখিত বিধিবিধান ও রীতিনীতিকে বোঝায়। মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অধিকাংশ মানুষই এ নিয়ম-কানুনসমূহ মেনে চলে।
সামাজিক জীবনে যেসব বিধিবিধান বা রীতিনীতি মানুষ মেনে চলে তা হচ্ছে সামাজিক আইন। আর রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বিভিন্ন জাতীয় নীতিমালার পরিপ্রেক্ষিতে এবং মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে কিংবা সমাজে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সর্বজনীনভাবে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশই রাষ্ট্রীয় আইন নামে পরিগণিত হয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ববিদ ও আইনবিশারদগণ আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। টি. এইচ. গ্রীন বলেছেন, "রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত অধিকার এবং বাধ্যবাধকতাসমূহ আইন।"
বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ববিদ ও আইনবিশারদগণ আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হচ্ছে মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক শক্তি কর্তৃক প্রণীত হয়।"
আইনের একটি উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন উড্রো উইলসন। তিনি বলেন, "আইন হলো সমাজের সেসব প্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং যা সরকারের অধিকার ও ক্ষমতার দ্বারা বলবৎ করা হয়।"
বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ববিদ ও আইনবিশারদগণের আইনের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করে বলা যায়, সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং মানুষের সামাজিক কল্যাণের জন্য গৃহীত সুনির্দিষ্ট নিয়মের সমষ্টিকেই আইন বলে।
আইনের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো- ১. আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ ও ক্রিয়াকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। ২. আইন হচ্ছে সর্বজনীন, তা রাষ্ট্রের সকলের ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য।
আইনের বিভিন্ন উৎস রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হল্যান্ড আইনের ৬টি প্রধান উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো- ১. প্রথা, ২. ধর্ম, ৩. বিচারসংক্রান্ত রায়, ৪. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ৫. ন্যায়বোধ ও ৬. আইনসভা।
প্রথা হলো আইনের সবচেয়ে প্রাচীনতম উৎস। সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, আচার-আচরণ ও অভ্যাসই হচ্ছে সামাজিক প্রথা। ব্রিটেনের অধিকাংশ আইনই প্রথা থেকে এসেছে।
সামাজিক প্রথার আবেদন এতই বেশি যে, এগুলো অমান্য করলে সংঘাত ও বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়। ফলে কালক্রমে এসব প্রচলিত প্রথা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়ে আইনে পরিণত হয়েছে। যেমন-ব্রিটেনের অধিকাংশ আইনই প্রথা থেকে এসেছে।
মানুষের ওপর ধর্মের প্রভাব অপরিসীম। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ঐশ্বরিক আইন অনুসরণ করে আসছে। তাই ধর্ম, ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মগ্রন্থ আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ন্যায়-অন্যায়, পাপ-পুণ্য ইত্যাদি মূল্যবোধ ধর্ম চিহ্নিত করেছে বলে প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিনীতি প্রভাব বিস্তার করে।
বিচারকালে বিচারক যদি প্রচলিত আইনের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হন তখন তিনি স্বীয় বুদ্ধি, মেধা ও প্রজ্ঞার সাহায্যে প্রচলিত আইনের সাথে সংগতি রেখে আইনের নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে বিচারের রায় প্রদান করেন। এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে যায় এবং একসময় আইনে পরিণত হয়।
প্রখ্যাত আইনবিদদের ব্যাখ্যা, মূল্যায়ন, আলোচনা ইত্যাদি থেকে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় আইনের সন্ধান লাভ করে। ব্রিটেনের আইন ব্যবস্থায় আইনবিদ কোক, ব্লাকস্টোন, আমেরিকার কেন্ট, ইসলামি আইনের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা (রা.) প্রমুখের অনেক অভিমতই আইনের মর্যাদা লাভ করেছে।
বিচারক যখন প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কিংবা উপযুক্ত আইনের অভাবে ন্যায়বিধান করতে ব্যর্থ হন তখন নিজস্ব সামাজিক নীতিবোধের আলোকে ন্যায্য রায় প্রদান করেন। এরূপ নীতিবোধ দ্বারা 'প্রণীত আইন দেশের আইনের মর্যাদা লাভ করে।
আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভাই আইনের প্রধান উৎস। সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেরই আইনসভা বা আইন পরিষদ আছে। এ আইনসভায় দেশের জনগণের স্বার্থকে লক্ষ রেখে প্রয়োজনীয় আইন। প্রণয়ন ও সংশোধন হয়ে থাকে।
আইনের শাসনের মূল অর্থ আইনের সুস্পষ্ট প্রাধান্য। এ ধারণা অনুযায়ী আইনের স্থান সর্বোচ্চ। সকলেই আইনের অধীন এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান। শাসক ও শাসিত উভয়ের জন্য একই আইন প্রযোজ্য। অর্থাৎ, আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি এবং ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান।
আইনের শাসনের মূল অর্থ আইনের সুস্পস্ট প্রাধান্য। সাধারণভাবে আইনের অনুশাসন দুটি ধারণা প্রকাশ করে। যথা-১. আইনের প্রাধান্য ও ২. আইনের দৃষ্টিতে সকলের সামা।
যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে। ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন। এগুলো হলো- সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা।
রাষ্ট্র হলো একটি ভূখন্ডভিত্তিক সমাজ বিশেষ যার সংগঠিত সরকার ও জনসমষ্টি রয়েছে এবং যার নিজস্ব ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের ওপর সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত আছে।
অ্যারিস্টটলের মতে, রাষ্ট্র হলো স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনের জন্য কতিপয় পরিবার ও গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন।
রাষ্ট্র সম্পর্কে অধ্যাপক গার্নারের সংজ্ঞাটি হলো- "রাষ্ট্র হলো বহুসংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত এমন এক জনসমাজ, যারা নির্দিষ্ট ভূখন্ডে স্থায়িভাবে বসবাস করে। যা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত। এবং যাদের একটি সুসংগঠিত সরকার আছে। যে সরকারের প্রতি ঐ জনসমাজ স্বভাবতই অনুগত।".
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে, রাষ্ট্র হচ্ছে সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা পরিচালিত একটি সংগঠন, যার কর্তৃত্বমূলক ক্ষমতা রয়েছে এবং যা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসরত অধিবাসীদের উপর বলবৎ হয়।
রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা দিয়েছেন অধ্যাপক গার্নার।
এরিস্টটল গ্রিসের অধিবাসী।
রাষ্ট্র হলো একটি ভূখন্ডভিত্তিক সমাজ বিশেষ যার সংগঠিত সরকার, জনসমষ্টি ও নিজস্ব সীমানার সার্বভৌমত্ব রয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক দার্শনিক এরিস্টটল।
প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বাস করে।
ক্ষুদ্র রাষ্ট্র মোনাকোর জনসংখ্যা ৩৮৯৫৬।
রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব।
"রাষ্ট্র যদি হয় জীবদেহ তবে সরকার হলো মস্তিষ্কস্বরূপ”- উক্তিটি অধ্যাপক গার্নারের।
রাষ্ট্র গঠনের মূল উপাদান ৪টি যথা- জনগণ, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান জনসমষ্টি।
রাষ্ট্রের দ্বিতীয় উপাদান নির্দিষ্ট ভূখন্ড।
রাষ্ট্রের তৃতীয় উপাদান হলো সরকার।
রাষ্ট্র দু ধরনের কার্যাবলি পালন করে। যথা- ১. অপরিহার্য ও ২. কল্যাণমূলক।
রাষ্ট্রের প্রাথমিক কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা।
জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজ।
আইন প্রণয়ন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ।
বর্তমানে নগররাষ্ট্রের স্থলে জাতীয় রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে।
'The Modern State' গ্রন্থের লেখক আর, এম ম্যাকাইভার।
যে ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রে স্থায়িভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে, রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাকে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিক বলে।
এরিস্টটল প্রদত্ত নাগরিকের সংজ্ঞাটি হলো, "সেই ব্যক্তিই নাগরিক যে নগররাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও শাসনকার্যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
নাগরিক শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Citizen.
নাগরিক শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Civics থেকে এসেছে।
যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে তাকেই নাগরিক বলা হয়।
রাষ্ট্রে বসবাসকারী জনগণকে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিক বলা হয়।
অধ্যাপক গেটেল-এর মতে, "নাগরিক হচ্ছে' রাজনৈতিক সমাজের সেসব সদস্য, যারা উক্ত সমাজের প্রতি কর্তব্য পালনে বাধ্য থাকেন এবং সে সমাজ থেকে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকারী হন।"
রাষ্ট্রের যে নাগরিকরা বুদ্ধিমান, যেকোনো সমস্যা অতি সহজে সমাধান করতে পারে, যাদের বিবেক আছে, ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে, আর যারা আত্মসংযমী এবং বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে সেসব গুণসম্পন্ন নাগরিকদের সুনাগরিক বলা হয়।
নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।
রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়।
ব্রিটেনের অধিকাংশ আইন প্রথা থেকে এসেছে।
ইসলামিক রাষ্ট্রের আইন কুরআন ও শরিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের প্রধান উৎস আইনসভা।
সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং মানুষের সামাজিক কল্যাণের জন্য গৃহীত সুনির্দিস্ট নিয়মের সমস্টিকেই আইন বলে।
আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ ও ক্রিয়াকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে।
টি. এইচ. গ্রিনের মতে 'রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত অধিকার এবং বাধ্যবাধকাতসমূহ আইন'।
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হচ্ছে মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রণীত হয়।"
আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ ও ক্রিয়াকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে।
আইন এক ধরনের আদেশ বা নিষেধ।
আইনের ছয়টি প্রধান উৎসের উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হল্যান্ড।
আইনের প্রধান উৎস ৬টি।
আইনের সবচেয়ে প্রাচীন উৎস হলো প্রথা।
সততা ও সুবিবেচনার সাথে ভোট দেওয়া নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।
রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস নাগরিকদের প্রদেয় কর ও খাজনা।
অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর নির্ভরশীল ও পরিপূরক।
সাধারণভাবে আইনের অনুশাসন দুটি ধারণা প্রকাশ করে।
আইনের শাসন মানেই হলো সুশাসন।
আইন রাষ্ট্রের সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হয়।
আইনের প্রাধান্য নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।
প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে। পিতামাতার যেমন দায়িত্ব তার সন্তানদের কল্যাণের জন্য চিন্তা করা, তেমনি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব তার প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণের চিন্তা করা। রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ের নাগরিকই রাষ্ট্রের সদস্য। প্রতিটি নাগরিক তার নিজ রাষ্ট্রের কাছে যেমন সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীরাও রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই প্রতিটি সন্তানকে রাষ্ট্রের সন্তান বলা হয়।
রাষ্ট্র হলো এমন একটি ভূখণ্ডভিত্তিক সমাজ বিশেষ, যার সংগঠিত সরকার ও জনসমষ্টি রয়েছে এবং যার নিজস্ব ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের উপর সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত আছে। অধ্যাপক গার্নার রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও সুন্দর সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "রাষ্ট্র হলো বহুসংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত এমন এক জনসমাজ, যারা নির্দিষ্ট ভূখন্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, যা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত এবং যাদের একটি সংগঠিত সরকার আছে, যে সরকারের প্রতি ঐ জনসমাজ স্বভাবতই অনুগত।"
রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসমষ্টি একান্ত অপরিহার্য। জনসমষ্টি বলতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনগণকে বোঝায়। রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসমষ্টি একান্ত অপরিহার্য। জনসমষ্টির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক হতে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছে। তাই জনসমষ্টি ছাড়া রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। জনসমষ্টি কম হোক অথবা বেশি হোক জনসমষ্টি থাকা আবশ্যক। তাই জনসমন্টিকে রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান বলে।
রাষ্ট্র গঠনের ৪টি উপাদানের মধ্যে মুখ্য উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা। সার্বভৌম ক্ষমতা দ্বারা রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও চরম ক্ষমতাকে বোঝায়। সার্বভৌমত্ব ছাড়া রাষ্ট্র পূর্ণতা পায় না। এ ক্ষমতা রাষ্ট্রকে অন্যান্য সংস্থা থেকে পৃথক করে। সার্বভৌমত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের ওই ক্ষমতা যার ফলে নিজের ইচ্ছা ছাড়া অন্যকোনো প্রকার ইচ্ছা দ্বারা রাষ্ট্র আইনসংগতভাবে আবদ্ধ নয়। প্রত্যেক সমাজে চূড়ান্ত ক্ষমতা কার্যকরের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ থাকে, তাকে সার্বভৌম ক্ষমতা বলা হয়।
রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা। সার্বভৌম শব্দটি দ্বারা রাষ্ট্রের চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতাকে নির্দেশ করা হয়। রাষ্ট্র গঠনের প্রধান চারটি উপাদানের অন্যান্য ৩টি উপাদান বিদ্যামান থাকা সত্ত্বেও ঐ ভূখন্ডকে রাষ্ট্র বলা যাবে না, যতক্ষণ না তার সার্বভৌমত্ব অর্জিত হচ্ছে। অর্থাৎ সার্বভৌমত্বই হলো রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য উপাদান এবং এই সার্বভৌম ক্ষমতার আদেশ বা নির্দেশই হলো আইন যার দ্বারা একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সুতরাং সার্বভৌমত্ত্বকেই রাষ্ট্রের মুখ্য উপাদান বলা হয়।
রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য তৃতীয় উপাদানটি হলো সরকার। সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্দিস্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ থাকে। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এসব বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের সরকার গঠন করে। সরকার পদ্ধতি বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন হতে পারে। রাষ্ট্রের ক্ষমতা সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়।
সার্বভৌমত্ব না থাকার কারণে লন্ডন রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব। এটি রাষ্ট্রের চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতা। যার বলে রাষ্ট্র অভ্যন্তরের সবকিছুর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং বহির্বিশ্বে নিজেকে রাষ্ট্র বলে পরিচয় দিতে পারে। রাষ্ট্রের অন্য উপাদানগুলো সব কয়টি থাকলেও সার্বভৌমত্ব না থাকলে তা রাষ্ট্রের মর্যাদা পায় না। লন্ডন একটি শহর এবং এর সার্বভৌমত্ব নেই। এজন্য লন্ডনকে রাষ্ট্র বলা যায় না।
রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদানের মধ্যে মুখ্য উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা। সার্বভৌম ক্ষমতা দ্বারা রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও চরম ক্ষমতাকে বোঝায়। সার্বভৌমত্ব ছাড়া রাষ্ট্র পূর্ণতা পায় না। এ ক্ষমতা রাষ্ট্রকে অন্যান্য সংস্থা থেকে পৃথক করে। সার্বভৌমত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের ওই ক্ষমতা, যার ফলে নিজের ইচ্ছা ছাড়া অন্যকোনো প্রকার ইচ্ছা দ্বারা রাষ্ট্র আইনসংগতভাবে আবদ্ধ নয়। প্রতিটি সমাজে চূড়ান্ত ক্ষমতা কার্যকরের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ থাকে, তাকে সার্বভৌম ক্ষমতা বলা হয়।
রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে জনসমষ্টি। জনসমষ্টি বলতে রাজনৈতিকভাবে 'সংগঠিত জনগণকে বোঝায়। রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসমষ্টি একান্ত অপরিহার্য। জনসমষ্টির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক হতে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছে। তবে রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হবে তার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রের জনসংখ্যা কয়েক কোটি হতে পারে। আবার কয়েক হাজারও হতে পারে। যেমন- গণচীন ও ভারতে জনসংখ্যা একশত কোটির উপরে। অন্যদিকে, স্যানম্যারিনো, মোনাকো প্রভৃতি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জনসংখ্যা যথাক্রমে ৩৮,৩০০ ও ৩৮,৯৬৩।
নির্দিষ্ট ভূখণ্ড হচ্ছে রাষ্ট্রের অপরিহার্য দ্বিতীয় উপাদান। প্রত্যেক রাষ্ট্রই একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা পরিবেষ্টিত। ভূখন্ড বলতে স্থলভাগ, সমুদ্রসীমা, আকাশসীমাও বোঝায়। রাষ্ট্রের জনগণের বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক। জনসমষ্টি ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, সংগ্রাম ও যুদ্ধের মাধ্যমে অথবা সাংবিধানিকভাবে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিটি রাষ্ট্রই ভূখণ্ডের সীমানাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বেষ্টনি 'গড়ে তোলে। ভূখণ্ড বিশাল বড় বা ছোট হতে পারে। যেমন- রাশিয়ার বিশাল আয়তন অথবা ছোট আয়তনের রাষ্ট্র হলো- দারুস সালাম, সুইজারল্যান্ড, ব্রুনাই ইত্যাদি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভূখণ্ডটি পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্থান পায়। অনেক সময় রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভূখন্ড বেশ কয়েকটি দ্বীপের সমষ্টিও হতে পারে। যেমন- জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া।
রাষ্ট্রের অপরিহার্য তৃতীয় উপাদানটি হলো সরকার। সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ থাকে। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের সরকার গঠন করে। সরকার পদ্ধতি বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন হতে পারে। সরকার বলতে ব্যাপক অর্থে শাসকগোষ্ঠীর সকলকে বোঝায়, যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতা সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়। অধ্যাপক গার্নারের মতে, "রাষ্ট্র যদি হয় জীবদেহ তবে সরকার হলো এর মস্তিষ্কস্বরূপ"।
শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। শিক্ষিত নাগরিক তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন থাকেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন। তাই রাষ্ট্রের জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এজন্য রাষ্ট্র শিক্ষা বিস্তারের প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করে এবং শিক্ষা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়।
দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং মূল্যবোধকে সংরক্ষণ ও প্রসারিত করতে রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য তুলে ধরার মাধ্যমে নাগরিকরা দেশের তরুণ প্রজন্ম দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্ক সচেতন হবে। এছাড়া ঐতিহ্য তুলে ধরার মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি পর্যকটদের আকৃষ্ট করা যায়, যা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ডাবমূর্তি উন্নত হয়।
বর্তমানে নগর রাষ্ট্রের স্থলে জাতীয় রাষ্ট্রের উৎপত্তি, ঘটেছে। আধুনিক রাষ্ট্রসমূহ আয়তনে অনেক বড়, এখানে জনসংখ্যাও বেশি এবং নাগরিক সুযোগ সুবিধাসমূহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সকলেই ভোগ করে। কিন্তু এত বিপুল জনসমষ্টিকে সরাসরি শাসনকার্যে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। তাই নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে জনগণের শাসনকার্যে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের ফলে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং যারা রাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করে তাদেরকে এই মাপকাঠিতে ধরা হয়েছে।
রাষ্ট্রের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ হলো জনগণের স্বাধীনতা এবং অধিকার রক্ষা করা। রাষ্ট্র জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাষ্ট্র অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করে। এছাড়া জনগণের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় পরিবেশ সৃষ্টি, সংগঠন ও রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা, জনগণের বিপরীতমুখী স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় সাধন, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণ, সমাজে দুর্নীতি প্রতিরোধ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ, শরণার্থীদের আশ্রয় দান ইত্যাদি রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক রাজনৈতিক কাজ।
জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজ। দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এবং বৈদেশিক আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। আধুনিককালে প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তুলেছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর সামর্থ্য ও আধুনিকায়ন একটি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। যেমন- আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব প্রদানে তার দেশরক্ষা বাহিনীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায় একটি দেশের আইন ও নীতির ওপর নির্ভর করে। রাষ্ট্রে বসবাসকারী নারী-পুরুষ, ধর্ম-গোত্র নির্বিশেষে সকলেই নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারে। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জনগণ বিভিন্নভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করে। যেমন- কোনো দেশ জন্মস্থান নীতি অনুসরণ করে, আবার কোনো কোনো দেশ ব্যক্তির বাসস্থান নীতির ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। এছাড়া বিশেষত্ব অবদানের জন্য নাগরিকত্ব অর্জন করা যায়। পাশাপাশি বিবাহের মাধ্যমেও অনেকে নাগরিকত্ব অর্জন করে থাকে।
রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস নাগরিকদের প্রদেয় কর ও খাজনা। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, প্রতিরক্ষা এবং উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। নাগরিকদের যথাসময়ে কর ও খাজনা প্রদান করে রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতা করতে হবে। এটা নাগরিকদের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। তাই নাগরিকদের সময়মতো কর ও খাজনা প্রদান করা প্রয়োজন।
প্রত্যেক নাগরিককেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এমনকি রাষ্ট্রের বেআইনি কোনো কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। এটি দেশপ্রেমের অংশ। রাষ্ট্রে সকলের কল্যাণার্থে, দেশের মঙ্গলের জন্য, একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিকল্প নেই।
সুনাগরিককে অবশ্যই আত্মসংযমী হতে হবে। কোনো প্রতিকূল পরিবেশে যদি নাগরিক নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তখন সমাজে তা বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে। আত্মসংযম, ন্যায়বিচার হচ্ছে ব্যবহারিক ও নাগরিক জীবনের সার্থকতার অন্যতম পূর্বশর্ত। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তাই সুনাগরিককে আত্মসংযমী হতে হবে।
রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস নাগরিকদের প্রদেয় কর। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক প্রতিরক্ষা এবং উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। তাই নাগরিকদের যথাসময়ে কর প্রদান করে রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতা করতে হবে। এ কারণেই কর প্রদান করা নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব। তাই প্রশ্নোক্ত এ বক্তব্যটি যথার্থ।
রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের বিবিধ সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার দিয়ে থাকে তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকদের কতগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। আর নাগরিকদের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য প্রত্যেক নাগরিককে সর্বদা সজাগ এবং চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সুনাগরিককে অবশ্যই আত্মসংযমী হতে হবে। কোনো প্রতিকূল পরিবেশে যদি নাগরিক নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তখন সমাজে তা বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে। আত্মসংযম, ন্যায়বিচার হচ্ছে ব্যবহারিক ও নাগরিক জীবনের সার্থকতার অন্যতম পূর্বশর্ত। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তাই সুনাগরিককে আত্মসংযমী হতে হবে।
আইন সমাজ ও রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত বিধি। আইনের কতিপয় বৈশিষ্টের মধ্যে সার্বজনীনতা' অন্যতম। আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন সকলের জন্যই আইন সমানভাবে প্রযোজ্য। আইনের যথাযথ প্রয়োগ কোনো ভারতম্য করে না।
সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও মানব কল্যাণে গৃহীত নিয়মের সমষ্টিই আইন। এর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ ও ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে।
২. আইন সার্বজনীন।
৩. আইন মানতে সকলে বাধ্য থাকে। অমান্য করলে সাজা পেতে হয়।
৪. আইন রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও আরোপিত।
ধর্মীয় আইনকে মানুষ তার স্বীয় ধর্মমতে সৃষ্টিকর্তার বিধান হিসেবে গ্রহণ করে বলে ধর্মীয় আইন অন্যান্য উৎসের আইনের তুলনায় মানুষের জীবনকে বেশি প্রভাবিত করে। ন্যায়-অন্যায়, পাপ-পুণ্য ইত্যাদি মূল্যবোধ ধর্ম চিহ্নিত করেছে বলে প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিনীতি প্রভাব বিস্তার করে। বর্তমান যুগেও ধর্মীয় বিধানাবলি রাষ্ট্রীয় আইনে, স্বীকৃত হয়েছে।
আইনের উৎসসমূহের মধ্যে 'প্রথা' অন্যতম একটি উৎস। সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, আচার-আচরণ ও অভ্যাসই হচ্ছে সামাজিক প্রথা। এগুলো অমান্য করলে সংঘাত ও বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়। কালক্রমে এসব প্রচলিত প্রথা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়ে আইনে পরিণত হয়েছে। যেমন- ব্রিটেনের অধিকাংশ আইনই প্রথা থেকে এসেছে।
আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের প্রধান উৎস হচ্ছে আইনসভা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হল্যান্ড আইনের ৬টি উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে আইনসভাই আইনের প্রধান উৎস। সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেরই আইনসভা বা আইন পরিষদ আছে। এই আইনসভা দেশের জনগণের স্বার্থকে লক্ষ্য রেখে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংশোধন হয়ে থাকে। এছাড়াও রাষ্ট্রীয় সংবিধান ও রাষ্ট্র প্রধানের জারিকৃত প্রশাসনিক ডিক্রি, বৈদেশিক চুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের রেটিফিকেশনও আইন হিসেবে গৃহীত হয়।
আইনের সবচেয়ে প্রাচীনতম উৎস হলো প্রথা। আইনের বিভিন্ন উৎস রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হল্যান্ড আইনের ৬টি উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন। যেগুলো হলো- ১. প্রথা, ২. ধর্ম, ৩. বিচারসংক্রান্ত রায়, ৪. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ৫. ন্যায়বোধ ও ৬. আইনসভা। এগুলোর মধ্যে প্রথা হচ্ছে আইনের সবচেয়ে প্রাচীনতম উৎস। সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, আচার-আচরণ ও অভ্যাসই হচ্ছে সামাজিক প্রথা। এসব প্রথার আবেদন এতই বেশি যে, এগুলো অমান্য করলে সংঘাত ও বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়। কালক্রমে এসব প্রচলিত প্রথা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়ে আইনে পরিণত হয়েছে।
বিচারক যখন প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কিংবা উপযুক্ত আইনের অভাবে ন্যায়বিধান করতে ব্যর্থ হয়ে নিজস্ব সামাজিক নীতিবোধের আলোকে ন্যায্য রায় প্রদান করেন, তখন তার নীতিবোধের দ্বারা প্রণীত আইন দেশের আইনের পূর্ণ মর্যাদা লাভকরে। তাই ন্যায়নীতি ও ন্যায়পরায়ণতা আইনের একটি প্রকৃষ্ট উৎস।
আইনের চোখে সবাই সমান মানে সমাজে ধনী-দরিদ্র, সবল-দুর্বল, জাতি, ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলেই সমান, আইনের চোখে কেউ বাড়তি সুবিধা পাবে না। সকলের জন্য একই আইন প্রযোজ্য। রাষ্ট্রে ব্যক্তি স্বাধীনতা তখনই খর্ব হয় যখন আইনের অনুশাসন থাকে না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার মাধ্যমে আইনের শাসন এবং সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের অনুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে আইনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলে কেউ আইন অমান্য করে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সকল নাগরিক সমানভাবে স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে। কেউ কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে না। তাই সুশাসনের জন্য আইনের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক।
আইনের প্রাধান্য ও আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়। আইনের প্রাধান্য বজায় থাকলে সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করতে সচরাচর সাহস করে না। আইনের প্রাধান্য নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। সকলের জন্য একই আইন প্রযোজ্য হবে। আর এভাবেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়।
যৌক্তিকতার উপলব্ধি, অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, নির্লিপ্ততা, সহানুভূতি এবং শাস্তির ভয়ে আমাদের প্রত্যেকের আইন মেনে চলা উচিত। সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখতে আইন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই সুশাসন নিশ্চিত করতে আমাদের সকলের আইন মেনে চলা উচিত।
আইনের অনুশাসন যে দুটি ধারাকে প্রকাশ করে তার মধ্যে আইনের প্রাধান্য একটি। আইনের প্রাধান্য বজায় থাকলে সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করতে সচরাচর সাহস করে না। বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করা কিংবা বিনা বিচারে কাউকে আটক রাখা ও শাস্তি দেওয়া এগুলো আইনের প্রাধান্যের পরিপন্থী।
সমাজের
ঈশ্বরের সৃষ্টি
গোত্রভিত্তিক
এরিস্টটল
ম্যাকাইভার
অধ্যাপক গার্নার
অধ্যাপক গার্নার
গার্নার
জনসমষ্টি
৩৩,৭৩৩
৩৮ হাজার
জনসম্পদ
রাশিয়া
সরকার
৩টি
গণতান্ত্রিক
অধ্যাপক গার্নার
সরকার
সার্বভৌমত্ব
সার্বভৌমত্ব
সার্বভৌমত্ব
কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ
দুই ধরনের
বাংলাদেশ সরকার ভারতের সাথে ছিটমহল বিষয়ক চুক্তি করে ছিটমহল বিনিময় করে। এটি রাষ্ট্রের মুখ্য ধরনের কাজ
আর. এম. ম্যাকাইভার
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
ল্যাটিন
নাগরিক
এরিস্টটল
নারী
আনুগত্য প্রদর্শন
সংবিধান
সামাজিক আইন
আইন
টি.এইচ. গ্রিন
উড্রো উইলসন
আইন মূলত ২ ধরনের হয়
সামাজিক আইন
শাস্তি
হল্যান্ড
৬টি
ব্রিটেন
বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা
প্রথা
আইনসভা
আইনসভা
আইনের প্রাধান্য
দুইটি
সরকার
আইনের শাসন না থাকলে
বিচার বিভাগের।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপ্রদত্ত উক্তিটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিস্টটলের।
নাগরিকত্ব বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বাধ্য হওয়া। বৃহৎ অর্থে নাগরিক হচ্ছেন তিনি, যিনি তার রাষ্ট্রে স্থায়িভাবে বসবাস করেন এবং ঐ রাষ্ট্রের আইন, সংবিধান ও অন্যান্য নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন।
জনাব মোবারক হোসেন কর্তৃক শ্রমনীতি প্রণয়ন রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কাজ।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর আদায়ের মধ্যেই শুধু রাষ্ট্রের ভূমিকা সীমাবদ্ধ নয় বরং রাষ্ট্রকে অবশ্যই সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য; নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে কল্যাণমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়; যা কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কাজ বলে পরিগণিত। রাষ্ট্রের বিশাল কর্মীবাহিনীকে পরিচালনা করা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শ্রমনীতি প্রণয়ন এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের ন্যূনতম সঠিক মজুরি ও কাজের সময় নির্ধারণ, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি, বোনাস, ইন্স্যুরেন্স, পেনশন সুবিধা প্রদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার জন্য শ্রম অফিসার নিয়োগ প্রভৃতি শ্রমনীতির অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ।
হ্যাঁ, অনুচ্ছেদের আলোকে 'ক' রাষ্ট্রকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা যায়।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে কাজ করে। উদ্দীপকের অনুচ্ছেদে দেখা যায়, 'ক' নামক রাষ্ট্রটি শ্রমনীতি প্রণয়ন, বয়স্ক ভাতা, পেনশন বৃদ্ধির জন্য আইন, হাসপাতাল নির্মাণ, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং বাল্যবিবাহ রোধে আইন প্রণয়ন করে থাকে; যা কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিলক্ষিত। রাষ্ট্রের জনসাধারণকে। শিক্ষিত করে তোলা কল্যাণ রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ লক্ষ্যে সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন, নারী শিক্ষার প্রতি গুরুত্বসহ বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা করে, নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদেরকে বই প্রদান করে। অপরদিকে, জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং সমস্ত বিদ্যমান বিভিন্ন বৈষম্য ও কুপ্রথা দূরীকরণে রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এবং অসুস্থদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান (বিনামূল্যে ও স্বল্প খরচে), হাসপাতাল, দাতব্য চিকিৎসালয়, শিশুসদন, মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দেশব্যাপী অস্থায়ী হেল্থ ক্যাম্পেইন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে। তাছাড়া জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, রোগ প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক টীকা প্রদান প্রভৃতি সেবা রাষ্ট্র প্রদান করে। এছাড়া যৌতুক ও বর্ণপ্রথা দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রটি একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
রাষ্ট্রীয় আইনের প্রধান উৎস হলো আইনসভা।
রাষ্ট্রের জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কেননা শিক্ষিত নাগরিক অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন থাকেন। আর তাই শিক্ষা বিস্তারে রাষ্ট্র অধিক গুরুত্ব প্রদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!