শক্তির বিভিন্ন রূপের নাম হলো- তাপশক্তি, আলোকশক্তি, বিদ্যুৎশক্তি, শব্দশক্তি, রাসায়নিক শক্তি, গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তি।
সূর্যের আলো মহাকাশের বিশাল খালিস্থান পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে। মহাকাশে কোনো বায়ু বা অন্যকোনো পদার্থ নেই; তবুও আলো আসে। এইভাবে আলো যখন কোনো মাধ্যম ছাড়া সঞ্চালিত হয়, তখন তাকে বলে বিকিরণ পদ্ধতি। যদিও সূর্য আমাদের থেকে অনেক দূরে, কিন্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে সূর্যের আলো সঞ্চালনের কারণেই আমরা সূর্যের আলো ও তাপ অনুভব করতে পারি। এ থেকে বুঝা যায় আলো সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।
বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি দিয়ে কাপড় ইস্ত্রি করা হয়। বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিকে যখন গরম করা হয় তখন বৈদ্যুতিকশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
শক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা বাসায় শক্তির অপচয় কমাতে পারি। বাসায় শক্তির অপচয় কমানোর কয়েকটি
উদাহরণ-
১. রান্না শেষ করার পর চুলার উত্তাপ ব্যবহার করে পানি গরম করা।
২. ব্যবহারের পর বৈদ্যুতিক বাতি এবং যন্ত্রপাতিসমূহ বন্ধ রাখা।
৩. প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ধরে ফ্রিজের দরজা খোলা না রাখা।
৪. বাতি না জ্বালিয়ে পর্দা সরিয়ে দিনের আলো ব্যবহার করা।
শক্তি হলো কাজ করার সামর্থ্য। শক্তি ছাড়া কোনো বস্তু নড়াচড়া বা কোনো কাজ করতে পারে না। শক্তির বিভিন্ন রূপ রয়েছে। যেমন- তাপশক্তি, আলোকশক্তি, বিদ্যুৎশক্তি ইত্যাদি।
শক্তির ছয়টি রূপের নাম হলো-
১. তাপশক্তি, ২. আলোকশক্তি, ৩. বিদ্যুৎশক্তি, ৪. শব্দশক্তি, ৫. রাসায়নিক শক্তি, ৬. গতিশক্তি।
সূর্য থেকে পাওয়া শক্তি হলো সৌরশক্তি। আমরা সরাসরি আলো ও তাপ হিসেবে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করি। এই শক্তি আবার গতিশক্তি, তাপশক্তি, বিদ্যুৎশক্তি, রাসায়নিক শক্তি ও আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে।
বৈদ্যুতিক পাখাতে বৈদ্যুতিকশক্তি যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। যার ফলে পাখা ঘুরে।
যান্ত্রিকশক্তি হলো কোনো বস্তুর স্থিতিশক্তি ও গতিশক্তির যোগফল। অর্থাৎ বস্তুর অবস্থান এবং গতি উভয়ের কারণে যে শক্তি থাকে তাকে যান্ত্রিকশক্তি বলে। যেমন- বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরার সময় বৈদ্যুতিকশক্তি যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
ব্যাটারির সাথে একটি বাল্ব ও একটি কলিংবেল যুক্ত করলে ব্যাটারির রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এরপর বৈদ্যুতিকশক্তি বাল্বের মাধ্যমে আলোকশক্তিতে এবং কলিংবেলের মাধ্যমে শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূর্য থেকে পাওয়া যায় শক্তির এমন তিনটি রূপ হলো-
১.. আলোকশক্তি, ২. তাপশক্তি ও ৩. বিদ্যুৎশক্তি।
আমাদের পরিচিত পরিবেশে শক্তির রূপান্তরের তিনটি উদাহরণ হলো-
১. টেলিভিশনে বৈদ্যুতিকশক্তি, আলোকশক্তি এবং শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
২. চুলায় রান্না করার সময় গ্যাস বা তেল জাতীয় পদার্থে থাকা রাসায়নিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
৩. সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সূর্যের আলো বৈদ্যুতিকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
তাপ সবসময় গরম জায়গা থেকে ঠান্ডা জায়গায় সঞ্চালিত হয়। তাপের একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়ার প্রক্রিয়াই হলো তাপ সঞ্চালন। যেমন- আমরা যখন গরম চায়ের কাপ ধরি, তখন কাপের তাপ হাতে অনুভব করি।
তাপ সঞ্চালনের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। যথা-
১. পরিবহণ পদ্ধতি
, ২. পরিচলন পদ্ধতি ও
৩. বিকিরণ পদ্ধতি।
কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ সঞ্চালিত হয় পরিবহণ পদ্ধতিতে। পরিবহণ পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলো তাদের নিজস্ব স্থান পরিবর্তন করে না। পদার্থের অণুগুলো স্পন্দনের মাধ্যমে এক' অণু তার পার্শ্ববর্তী অণুতে তাপ প্রদান করে। এর ফলে পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত হয়।
তরল ও বায়বীয় পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপের সঞ্চালন পদ্ধতি হলো পরিচলন পদ্ধতি। আমরা যখন একটি পাত্রে পানি গরম করি তখন নিচ থেকে পানি উপরের দিকে উঠে আসে। পাত্রের উপরের দিকের শীতল পানি নিচে নেমে আসে। ফলে একটি বৃত্তাকার গতিপথ সৃষ্টি হয়। এভাবে তাপ পানির সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। পরিচলন পদ্ধতিতে তাপ পদার্থের অণুগুলোর চলাচলের দ্বারা, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে সঞ্চালিত হয়।
যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো উৎস হতে মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হয় তাই বিকিরণ। যেমন- আমরা সূর্যের আলোতে দাঁড়ালে উষ্ণতা অনুভব করি। কারণ সূর্যের তাপ শূন্যস্থানের মধ্য দিয়ে। বিকিরণ পদ্ধতিতে আমাদের কাছে আসে।
আলো শক্তির একটি রূপ। যা আমাদের চোখে দেখার অনুভূতি সৃষ্টি করে। আলো আমাদের চারপাশের পরিবেশ বুঝতে এবং অনুভব করতে সহায়তা করে।
সূর্যের আলো মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে। মহাকাশে কোনো বায়ু বা অন্যকোনো পদার্থ নেই, তবুও আলো আসে। এইভাবে আলো যখন কোনো মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হয়' তাকে বিকিরণ পদ্ধতি বলে। তাপও একইভাবে মাধ্যম ছাড়া বিকিরণ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হতে পারে। সূর্য আমাদের থেকে অনেক দূরে থাকার পরও বিকিরণ পদ্ধতিতে আলো ও তাপ সঞ্চালনের কারণেই আমরা সূর্যের আলো ও তাপ অনুভব করতে পারি।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তির অপব্যবহারের তিনটি উদাহরণ হলো-
১. প্রয়োজন শেষে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি বন্ধ না করা।
২. রান্নার পরও গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা।
৩. পানির ট্যাঙ্ক পূর্ণ হওয়ার পরও পানির পাম্প বন্ধ না করা।
শক্তির যথাযথ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার করে, শক্তির অপচয় কমিয়ে এবং পুনর্ব্যবহার করে আমরা শক্তি সংরক্ষণ করতে পারি।
শক্তির পুনর্ব্যবহার মানে হলো একই শক্তি বারবার কাজে লাগানো। অন্যভাবে বলা যায়, এক কাজে ব্যবহৃত শক্তিকে আরও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হলো শক্তির পুনর্ব্যবহার। যেমন-রান্না শেষে চুলার উত্তাপ ব্যবহার করে পানি গরম করা।
বিভিন্ন উপায়ে আমরা শক্তির পুনর্ব্যবহার করতে পারি। যেমন-
১. রান্না শেষে চুলার উত্তাপ ব্যবহার করে পানি গরম করা।
২. কারখানার গরম ধোঁয়া ব্যবহার করে পানি ফুটিয়ে বিদ্যুৎ -উৎপাদন করা।
৩. সৌরশক্তি ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দিয়ে বিভিন্ন কাজ করা।
শক্তির পুনর্ব্যবহারের তিনটি উপকারিতা হলো-
১. শক্তি সংরক্ষণ করা যায়।
২. পরিবেশ দূষণ কমে।
৩. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তি সংরক্ষণ হয়।
শক্তির রূপগুলো হলো- তাপশক্তি, আলোকশক্তি, বিদ্যুৎশক্তি, - শব্দশক্তি, রাসায়নিক শক্তি, গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তি।
তাপশক্তি ও আলোকশক্তি।
বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুৎশক্তি, তাপশক্তি ও আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সোলার প্যানেল হলো সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র।
রান্নার সময় গ্যাসের চুলায় শক্তির রূপান্তর হলো-রাসায়নিক শক্তি তাপ ও আলোকশক্তি।
পরিবহণ পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলো স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু থেকে পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে।
তাপ সঞ্চালনের পরিবহণ পদ্ধতির দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. পদার্থের অণুগুলো তাদের নিজস্ব স্থান পরিবর্তন করে না।
২. পদার্থের অণুগুলো স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু থেকে তার পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে।
আলোকশক্তির তিনটি উৎস হলো:
১. তারা (নক্ষত্র), ২. সূর্য ও ৩. বৈদ্যুতিক বাতি।
একই শক্তিকে বারবার কাজে লাগানোকে শক্তির পুনর্ব্যবহার বলে।
Related Question
View Allশক্তি হলো কাজ করার সামর্থ্য l
যান্ত্রিক শক্তি হলো স্থিতিশক্তি ও গতি শক্তির যোগফল।
তাপের চলার প্রক্রিয়াই হলো তাপ সঞ্চালন l
কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ সঞ্চালিত হয় পরিবহণ।
শক্তি হলো কাজ করার সামর্থ্য।
শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!