মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) মানুষের কাছে সত্য, ন্যায় ও মানবতার বাণী পৌছে দিয়েছেন। আরবি হিজরি জিলহজ মাসে হজ হয়।
মহানবি (স) অন্তরে কাবার আহ্বান অনুভব করলেন। তিনি যিলকাদ মাসে মক্কার পথে যাত্রা করলেন।
প্রায় দুই লক্ষ মানুষ আরবদেশের নানা স্থান থেকে হজ পালন করতে আসেন।
মহানবি (স) জাবালে রাহমাত নামক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন। এটি মহানবির (স)-এর শেষ ভাষণ ছিল।
মহানবি (স) ক্রীতদাস সম্পর্কে বলেছেন-
১. তাদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার কোরো না।
২. নিজেরা যে কাপড় পরবে, তাদেরও তাই পরতে দেবে।
মূল্য দিয়ে যে দাসকে সারা জীবনের জন্য কেনা হয় তাকে ক্রীতদাস বলে। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) তাদের মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেছেন।
মহানবি (স) সকল মুসলমান সম্পর্কে বলেছেন, তারা একে অন্যের ভাই। তাই এক ভাইকে অন্য ভাইয়ের সম্পত্তি জোর করে দখল করতে নিষেধ করেছেন।
বিদায় হজে যারা যেতে পারেনি তাদের কাছে মহানবি (স) তাঁর উপদেশগুলো পৌছে দিতে বলেছেন। কারণ তাঁর উপদেশগুলো অনুপস্থিত মানুষরা বেশি করে মনে রাখবে।
বিদায় হজে' মহানবি (স) বলেছেন, মানুষ নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী থাকবে। একজনের অপরাধের জন্য অন্যকে দায়ী করা চলবে না।
মহানবি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি চারটি বিশেষ কথা মনে রাখতে বলেছেন।
মহানবি (স) আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে তাঁর ভাষণের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে পেরেছেন। তাই আনন্দে তাঁর চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
হিজরি দশ সালে বিদায় হজ অনুষ্ঠিত হয়।
আরাফাত-ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখে নবিজির (স) মন আনন্দে ভরে গিয়েছিল। এত মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে দেখে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন।
মহানবি (স) তাঁর ভাষণে ক্রীতদাস-ক্রীতদাসী সম্পর্কে বলেছেন, ক্রীতদাস-ক্রীতদাসীরাও আল্লাহর বান্দা। তাদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার করো না। তোমরা নিজেরা যা খাবে, তাদেরও তাই খেতে দেবে। নিজেরা যে কাপড় পরবে, তাদেরও তাই পরতে দেবে। কোনো ক্রীতদাস যদি নিজের যোগ্যতায় আমির হয়, তবে তাকে মেনে চলবে।
ধর্ম সম্পর্কে মহানবি (স) যে উপদেশ দিয়েছেন তা হলো-ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। নিজের ধর্ম পালন করবে। যারা অন্য ধর্ম পালন করে, তাদের উপর তোমার ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কোরো না।
যে চারটি কথা নবিজি (স) বিশেষভাবে মনে রাখতে বলেছেন তা হলো -
১. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা কোরো না।
২. অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা কোরো না।
৩. পরের সম্পদ অপহরণ কোরো না।
৪. কারও উপর অত্যাচার কোরো না।
তিনি আমাদের কাছে যে দুটি জিনিস রেখে গেছেন সেগুলো হলো- ১. আল্লাহর বাণী, অর্থাৎ কুরআন ২. আল্লাহর প্রেরিত রাসুলের জীবনের আদর্শ।
বিদায় হজ
দশম হিজরি। আরবদেশের অনেকেই তখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন সত্য, ন্যায় ও মানবতার বাণী। ইসলামের এ বাণী তখন দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
দশম হিজরির হজের সময় এসে গেল। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) অন্তরের গভীরে কাবার আহ্বান অনুভব করলেন। তিনি স্থির করলেন সাহাবিদের সঙ্গে নিয়ে হজ পালন করবেন। এই সংবাদ চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল ।
যিলকাদ মাস। নবিজির (স) কাছে সমবেত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের ইচ্ছা নবিজির (স) সঙ্গে হজ পালন করবেন। যিলকাদ মাসের শেষ দিকে মহানবির (স) সঙ্গে তাঁরা মক্কার পথে যাত্রা করলেন। যাঁরা তাঁকে কখনও দেখেন নি তাঁরাও এই মহামানবকে এক বার দেখার জন্য কাবাশরিফে এলেন ।
আরব দেশের নানা স্থান থেকে সেবার প্রায় দুই লক্ষ মানুষ হজ পালন করতে আসেন। আরাফাতের ময়দানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ দেখে মহানবির (স) মন আনন্দে ভরে গেল। এত মানুষ! এরা সবাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। জাবালে রাহমাত নামক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি সমবেত মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন । হজ উপলক্ষে আরাফাত ময়দানে নবিজির (স) এটিই শেষ ভাষণ। আর তাই এটি বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। মানবজাতি চিরদিন তাঁর এই ভাষণকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) প্রথমেই আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর সমবেত মানুষের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন:
তোমরা আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোন। আজকের এই দিন তোমাদের কাছে পবিত্ৰ । এ মাসটিও তেমনি তোমাদের কাছে পবিত্র। তোমাদের জীবন ও সম্পত্তি তোমাদের পরস্পরের কাছে পবিত্ৰ ।
মনে রেখ, একদিন তোমরা আল্লাহর কাছে হাজির হবে। পৃথিবীতে তোমরা যে কাজ করেছ, আল্লাহ তোমাদের কাছে তার হিসাব চাইবেন ।
তোমাদের ক্রীতদাস-ক্রীতদাসীরাও আল্লাহর বান্দা। তাদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার কর না।তোমরা নিজেরা যা খাবে, তাদেরও তাই খেতে দেবে। নিজেরা যে কাপড় পরবে, তাদেরও তাই পরতে দেবে। কোনো ক্রীতদাস যদি নিজের যোগ্যতায় আমির হয়, তবে তাকে মেনে চলবে। তখন বংশ-
মর্যাদার কথা বলবে না ।
মনে রেখ, সব মুসলমান একে অন্যের ভাই । তোমরা এক ভাই কখনও অন্য ভাইয়ের সম্পত্তি জোর করে দখল কর না ।
কখনও অন্যায় এবং অবিচার কর না । সামান্য পাপ থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবে । আজ যারা এখানে আসে নি, আমার উপদেশ তাদের কাছে পৌঁছে দিও। হয়ত এই উপদেশ তারা বেশি করে মনে রাখবে ।
মানুষ নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী থাকবে। একজনের অপরাধের জন্য অন্যকে দায়ী করা চলবে না ।
আমার বাংলা বই
আরব দেশের নানা স্থান থেকে সেবার প্রায় দুই লক্ষ মানুষ হজ পালন করতে আসেন। আরাফাতের ময়দানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ দেখে মহানবির (স) মন আনন্দে ভরে গেল। এত মানুষ! এরা সবাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। জাবালে রাহমাত নামক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি সমবেত মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন । হজ উপলক্ষে আরাফাত ময়দানে নবিজির (স) এটিই শেষ ভাষণ। আর তাই এটি বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। মানবজাতি চিরদিন তাঁর এই ভাষণকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) প্রথমেই আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর সমবেত মানুষের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন:
তোমরা আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোন। আজকের এই দিন তোমাদের কাছে পবিত্ৰ । এ মাসটিও তেমনি তোমাদের কাছে পবিত্র। তোমাদের জীবন ও সম্পত্তি তোমাদের পরস্পরের কাছে পবিত্ৰ ।
মনে রেখ, একদিন তোমরা আল্লাহর কাছে হাজির হবে। পৃথিবীতে তোমরা যে কাজ করেছ,
আল্লাহ তোমাদের কাছে তার হিসাব চাইবেন ।
তোমাদের ক্রীতদাস-ক্রীতদাসীরাও আল্লাহর বান্দা। তাদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার কর না।
তোমরা নিজেরা যা খাবে, তাদেরও তাই খেতে দেবে। নিজেরা যে কাপড় পরবে, তাদেরও তাই পরতে দেবে। কোনো ক্রীতদাস যদি নিজের যোগ্যতায় আমির হয়, তবে তাকে মেনে চলবে। তখন বংশ-
মর্যাদার কথা বলবে না ।
মনে রেখ, সব মুসলমান একে অন্যের ভাই । তোমরা এক ভাই কখনও অন্য ভাইয়ের সম্পত্তি জোর করে দখল কর না ।
কখনও অন্যায় এবং অবিচার কর না । সামান্য পাপ থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবে । আজ যারা এখানে আসে নি, আমার উপদেশ তাদের কাছে পৌঁছে দিও। হয়ত এই উপদেশ তারা বেশি করে মনে রাখবে ।
মানুষ নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী থাকবে। একজনের অপরাধের জন্য অন্যকে দায়ী করা চলবে না ।
Related Question
View Allমহানবি (স) মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন সত্য, ন্যায় ও মানবতার বাণী।
মহানবি (স) অন্তরের গভীরে কাবার আহ্বান অনুভব করলেন
সব মুসলমান একে অন্যের ভাই
অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা কোরো না
মহানবি (স) চারটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখতে বললেন।
আরবদেশের নানা স্থান থেকে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ হজ পালন করতে এলেন। আরাফাতের ময়দানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ দেখে মহানবি (স)-এর মন আনন্দে ভরে গেল। এত মানুষ! তারা সবাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। জাবালে রাহমাত নামক পাহাড় দাঁড়িয়ে তিনি সমবেত মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন
দশম হিজরি ছিল মহানবির (স) বিদায় হজ।
তাঁদের ইচ্ছা নবিজির (স) সঙ্গে হজ পালন করবেন।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) প্রথমেই আল্লাহর প্রশংসা করলেন।
যাঁরা তাঁকে কখনও দেখেননি তাঁরাও এই মহামানবকে একবার দেখার জন্য কাবাশরিফে এলেন।
আরাফাত ময়দান থেকে লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে ধ্বনিত হলো, 'হ্যাঁ, আপনি পেরেছেন।'
কোনো ক্রীতদাস যদি নিজের যোগ্যতায় আমির হয়, তবে তাকে মেনে চলবে।
হযরত মুহাম্মদ (স) আমাদের শেষ নবি। তিনি আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ রাসুল। তিনি আমাদের জন্য তাঁর জীবনাদর্শ রেখে গেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি বিদায় হজে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্দেশনা রেখে গেছেন।
বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে আদেশ দিয়ে গেছেন। আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। হত্যা, প্রতারণা ও অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ অপহরণ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন।
ক্রীতদাসরাও আমাদের মতো মানুষ এবং আল্লাহর বান্দা। তাদেরও ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তাদের মনে কষ্ট দিলে আল্লাহ অখুশি হন। আর এসব কারণেই মহানবি (স) ক্রীতদাসদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!