গ্রামে সারা দিনভর গরু, হাঁস, কবুতর ও শত শত পাখি ডাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোরের মোরগ থেকে বিভিন্ন পাখির গান শোনা যায়।
গ্রামের মানুষ সারা দিনভর বিভিন্ন পাখির গান শোনে। এসব পাখির মধ্যে রয়েছে দোয়েল, চড়ুই, ঘুঘু ও টুনটুনি।
শহরের মানুষ সিডি, টিভি, টেলিফোন, দরজার বেলের শব্দ কান পেতে শোনে। পাশাপাশি আশেপাশের বিভিন্ন হর্ন, হইচই, হাঁকডাকের শব্দ শোনে।
শহরের প্রায় সব বাড়িতেই সারাদিন কমবেশি সিডি বা টিভির অনুষ্ঠান চলতেই থাকে। কেউ কেউ আবার উচ্চৈঃ মাত্রার শব্দে গান বাজাতে থাকে সিডি বা টিভিতে, যা শব্দদূষণ ঘটায়।
রাস্তায় বা বাড়িতে ঘুরে যারা জিনিসপত্র বিক্রি করেন তাদের ফেরিঅলা বলে। শহরের গলিপথে ফেরিঅলারা ফেরি করে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করেন।
শহরের রাস্তায় ক্ষণে ক্ষণে গাড়িতে হর্ন বাজানো হয়। সেই হর্নের তীব্র শব্দে শান্তিতে ঘুম দেওয়া মুশকিল হয়ে যায়।
কবিতায় যেসব পশু ও পাখির নাম বলা হয়েছে সেগুলো হলো-
পশু: ১. গর;
২. কুকুর।
পাখি:
১. হাঁস;
২. কবুতর;
৩. মোরগ;
৪. দোয়েল;
৫. চড়ুই;
৬. ঘুঘু:
৭. টুনটুনি;
৮. পাতি কাক।
শহরে নানা রকম বিরক্তিকর শব্দ সৃষ্টি হয়। যেমন: গাড়ির হর্নের শব্দ, টেলিফোনের রিং, দরজার কলিংবেলের শব্দ, সিডির শব্দ, টেলিভিশনের শব্দ ইত্যাদি। এরূপ নানা রকম শব্দের কারণে শহরে শব্দদূষণ হয়।
কুকুরের ডাক আর পাখির ডাকের মধ্যে আমার কাছে পাখির ডাক ভালো লাগে। কারণ-
কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ বিকট মনে হয়। আর পাখির ডাক বেশ সুমিষ্ট। কোনো কোনো পাখির ডাকে রীতিমতো মন পাগল হয়ে যায়। কোনো কোনো পাখির ডাক এতই সুরেলা যে তা সুমধুর সংগীতের মতো মনে হয়।
গ্রামের মানুষ ভোরে দোয়েল, শালিক, ময়না, টিয়া প্রভৃতি পাখির কিচির মিচির শব্দ শুনে ঘুম থেকে ওঠে। ভোর বেলা মোরগের ডাকেও ঘুম ভাঙে অনেকের।
শব্দদূষণ
সুকুমার বড়ুয়া
গরু ডাকে হাঁস ডাকে-ডাকে কবুতর
গাছে ডাকে শত পাখি সারা দিনভর।
মোরগের ডাক শুনি প্রতিদিন ভোরে
নিশিরাতে কুকুরের দল ডাকে জোরে।
দোয়েল চড়ুই মিলে কিচির মিচির
গান শুনি ঘুঘু আর টুনটুনিটির।
শহরের পাতি কাক ডাকে ঝাঁকে ঝাঁকে
ঘুম দেয়া মুশকিল হর্নের হাঁকে।
সিডি চলে, টিভি চলে, বাচ্ছে টেলিফোন
দরজায় বেল বাজে,কান পেতে শোন।
গলিপথে ফেরিঅলা হাঁকে আর হাঁটে
ছোটদের হইচই ইশকুল মাঠে।
পল্লির সেই সুরে ভরে যায় মন
শহুরে জীবন জ্বালা-শব্দদূষণ।
Related Question
View Allনিশিরাতে চেঁচামেচি করো না, সবাই ঘুমুচ্ছে।
ভোর বেলাতেই পাখির কিচির মিচির শুনতে শুনতে আমার ঘুম ভাঙে।
ফেরিঅলা হাঁক দিচ্ছে- থালাবাসন চাই?
শব্দদূষণ আমাদের শোনার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
শব্দদূষণ হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় শব্দ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় শব্দ মানুষের সহ্য সীমার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। যেকোনো শব্দ মানুষকে বিরক্ত বা ক্ষতিসাধন করলে তাকে শব্দদূষণ বলে। শব্দদূষণ বেশির ভাগ মানুষের সৃষ্টি। এর ফলে মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা, মনোযোগ নষ্ট হয় ও ঘুমের সমস্যা হয়।
'পল্লির সেই সুরে ভরে যায় মন'- লাইনটি সুকুমার বড়ুয়া রচিত 'শব্দদূষণ' কবিতা থেকে নেওয়া। এই লাইনটি পল্লির শান্ত প্রকৃতির ও গ্রামীণ আনন্দময় জীবনের অনুভূতি প্রকাশ করে। পল্লির মানুষের ঘুম ভাঙে মোরগের ডাক শুনে। এভাবে বিভিন্ন পশুপাখির ডাক শুনে তাদের সময় চলে যায়।
'শহুরে জীবন জ্বালা শব্দদূষণ' এই বাক্যটি 'শব্দদূষণ' কবিতায় শব্দদূষণের ক্ষতিকর বিষয় তুলে ধরেছে। এই লাইনের মাধ্যমে সমগ্র কবিতায় শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, অশান্তি ও বিভিন্ন ধরনের কোলাহল ফুটে উঠেছে। শহরে সকালে ঘুমানো যায় না পাতি কাক আর হর্নের শব্দের জন্য। চারদিকে উচ্চেঃস্বরে সিডি, টিভি, কলিং বেল, টেলিফোন বাজে। অলিগলিতে ফেরিঅলা ডাকে। শহরে সবসময় কোলাহল, কোনো প্রশান্তি নেই। এসব শব্দদূষণের ফলে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায়।
শব্দদূষণের ফলে মানুষের জীবন বিশৃঙ্খল ও অতিষ্ঠ হয়ে যায়।
শব্দদূষণের ফলে মানুষের যেসব অসুবিধা হয় তা নিম্নে দেওয়া
হলো-
১. শব্দদূষণের ফলে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়।
২. মানসিক চাপ অনুভব করে।
৩. কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।
৪. ঘুমের সমস্যা ও শ্রবণ ক্ষমতা কমে যায়।
৫. শিশুদের মানসিক বিকাশ কমে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!