১৯৪৭ সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শুরু করে অত্যাচার ও নিপীড়ন। বাঙালিরাও সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করে।
পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালির তিনটি আন্দোলনের
নাম হলো-
১. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
২. ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দেলন।
৩. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান।
মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যা 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত। তৎকালীন মেহেরপুর মহাকুমার বৈদ্যনাথ তলায় (বর্তমান নাম মুজিবনগর) আমবাগানে ১৭ই এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার কারণে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মুজিবনগর সরকারের তিনটি অবদান হলো-
১. মুক্তিযুদ্ধকে সঠিক পথে পরিচালনা করা।
২. দেশ ও বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও সমর্থন আদায় করা।
৩. মুক্তিযুদ্ধের গতি বৃদ্ধি পায়।
মুক্তিবাহিনীকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়েছিল। যথা-
১. মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে 'কে' ফোর্স।
২. মেজর কে এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে 'এস' ফোর্স।
৩. মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে 'জেড' ফোর্স।
মুক্তিযুদ্ধে দল-মত, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে সাহায্য করেন তা হলো-
১. মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার দিয়ে।
২. মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে।
৩. মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার নির্দেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, পিলখানা ইপিআর সদরদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও শিক্ষকদের বাসভবনসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে একযোগে আক্রমণ করে। সেই ভয়াল রাতের আক্রমণকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।
২৬শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানের। পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
এদেশের কিছু মানুষ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তারা শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আল শামস নামে বিভিন্ন কমিটি ও সংগঠন গড়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা করে। ১০ই ডিসেম্বর থেকে ১৪ই ডিসেম্বরের মধ্যে তারা আমাদের অনেক গুণী শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং কবি-সাহিত্যিকদের ধরে নিয়ে হত্যা করে। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর 'শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস' পালন করা হয়।
তিনজন বীরশ্রেষ্ঠের নাম হলো-
১. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর;
২. সিপাহি হামিদুর রহমান ও
৩. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় উপাধিগুলো হলো-
১. বীরশ্রেষ্ঠ,
২. বীরউত্তম,
৩. বীরবিক্রম ও
৪. বীরপ্রতীক।
Related Question
View Allমুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা লাভ করেছি আমাদের এই প্রিয় দেশ বাংলাদেশ
ছয় দফা দাবি পেশ করা হয় ১৯৬৬ সালে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!