ভারত এবং ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ১৬০০ সালে ব্রিটিশ বণিক দল ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে। এটি ছিল ইংরেজদের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যের স্মারক।
নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ১৭৫৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার নবাব হন। তরুণ নবাবের সাথে তার পরিবারের কিছু সদস্যের, বিশেষ করে খালা ঘসেটি বেগমের সম্পর্ক খুব খারাপ ছিল। এছাড়া রায়দুর্লভ এবং জগৎশেঠের মতো বণিকদের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হন তিনি।
স্থানীয় বণিকেরা ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশির যুদ্ধে নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষে যোগ দেন। সৈন্যবাহিনী প্রধান মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব পরাজিত হন। রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর জয় হয়। পরে নবাবকে হত্যা: রা হয়।
পলাশির যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলা সৈন্যবাহিনীর প্রধান মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব পরাজিত হন। রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর জয় হয়। পরে নবাবকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলায় ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭সাল পর্যন্ত প্রায় দুইশত বছরের ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত একশ বছর ভারতবর্ষে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন চলে, ইতিহাস এটিই কোম্পানির শাসন নামে পরিচিত। কোম্পানির প্রথম শাসনকর্তা ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ।
ব্রিটিশ শাসনের দুটি খারাপ দিক হলো-
'ভাগ কর শাসন কর' নীতির ফলে এদেশের মানুষের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং অঞ্চলভেদে বিভেদ সৃষ্টি হয়।.
অনেক কারিগর বেকার ও অনেক কৃষিক গরিব হয়ে যায় এবং বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বাংলা ১১৭৬ সালে (ইংরেজি ১৭৭০) হয়েছিল যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত
ব্রিটিশ শাসনের সময় যে সকল বিষয়ের উন্নতি হয় তা হলো-
নতুন নতুন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার ফলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হয়।
সড়কপথ ও রেলপথ উন্নয়ন এবং টেলিগ্রাফ প্রচলনের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়।
ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অনেকবার বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এমনই একটি আন্দোলনে বিদ্রোage 10/13 10 ভূমির ইংরেজ বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য বারাসাতের কাছে নারকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
১৮৩১ সালে ইংরেজ বাহিনী তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। ইংরেজদের কামানের গোলাবর্ষণে তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনি পরাজিত ও শহিদ হন।
ব্রিটিশবিরোধী তিনটি আন্দোলনের নাম হলো-
১. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ,
২. স্বরাজ আন্দোলন ও
৩. অসহযোগ আন্দোলন।
সিপাহি বিদ্রোহের তিনটি কারণ হলো-
ভারতের বিভিন্ন এলাকার সৈন্যদের মধ্যে সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
১৮৫৬ সালের পর ভারতের বাইরেও সৈন্যদের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কামান ও বন্দুকের কার্তুজ পিচ্ছিল করার জন্য গরুর এবং শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজব নিয়ে ধর্মীয় অশান্তি তৈরি করা হয়।
সিপাহি বিদ্রোহে সৈন্যদের আন্দোলনকে সমর্থন জানানোর জন্য সাধারণ মানুষ প্রস্তুত ছিলেন। এই আন্দোলন দ্রুতই সৈন্যদের থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকার কঠোর হাতে এ বিদ্রোহ দমন করে। এ বিদ্রোহে প্রায় এক লক্ষ ভারতীয় মারা যায়।
১৯০৫ সালে বাংলা প্রদেশকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়, একে বঙ্গভঙ্গ বলে। আসামকে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ববাংলা অঞ্চল গঠিত হয়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হলে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় অর্থাৎ দুই বাংলাকে একত্রিত করে দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ লেখকের কবিতা, গান ও লেখার মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধিকার চেতনা আরও বেগবান হয়। নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এসময় নারীশিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আত্মত্যাগী তিনজন নেতা হলেন-
১. ফকির মজনু শাহ, ও
২. ক্ষুদিরাম বসু ও
৩. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
Related Question
View Allব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা টিকে থাকে
১৬০০ সালে ইংরেজরা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে।
পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭ সালে হয়েছিল
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!