জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার। কয়েকটি জীবাশ্ম জ্বালানির নাম হলো- ১. কয়লা, ২. তেল, ৩. প্রাকৃতিক গ্যাস, ৪. ডিজেল, ৫. পেট্রোল, ৬. অকটেন ইত্যাদি।
কয়েকটি নবায়নযোগ্য শক্তির নাম হলো- ১. স্রোত, ২. বাতাস, ৩. সূর্যের আলো এবং ৪. বর্জ্য থেকে প্রাপ্ত বায়োগ্যাস।
জলবায়ু পরিবর্তন রোধে তিনটি করণীয় হলো-
১. নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
২. বেশি বেশি গাছ লাগানো।
৩. প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমানো।
পরিবেশ সংরক্ষণে তিনটি করণীয় হলো-
১. বেশি বেশি গাছ লাগানো। ২. পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার। ৩. বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের বায়ুর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ইত্যাদির গড় মানের হিসাবকে জলবায়ু বলে। সাধারণত একটি অঞ্চলের ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে জলবায়ুর হিসাব করা হয়।
জলবায়ু বলতে বোঝায় কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের (৩০-৩৫ বছর) গড় আবহাওয়া। জলবায়ুর এই পরিবর্তন মূলত মানুষের কার্যকলাপের কারণেই হচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
কলকারখানা, যানবাহন, এসি ও ফ্রিজ থেকে গ্যাস ও ধোঁয়া নির্গত হয়। এই নির্গত গ্যাস যেমন- কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে বেড়ে যায়। এই গ্যাসের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে জলবায়ুর স্বাভাবিক পরিবর্তন বিঘ্নিত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা বাড়ে। এর ফলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ফসলের মাঠে প্রবেশ করে। এই লবণাক্ততার কারণে কৃষি উৎপাদন গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে কৃষিজমি তার উর্বরতা হারায় এবং ফসলের ক্ষতি হয়।
আমাদের মোটরগাড়ির মতো জ্বালানি ব্যবহারকারী যানবাহন কম চালাতে হবে। সম্ভব হলে আমাদের উচিত সাইকেল চালানো বা হেঁটে চলাচলের অভ্যাস করা। এছাড়াও জ্বালানির জন্য কাঠ ও কয়লার ব্যবহার কম করার চেষ্টা করতে হবে। এই কাজগুলো করলে বায়ুতে ক্ষতিকর গ্যাস কম নির্গত হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা আমাদের প্রয়োজন। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান বা এসি বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এর ফলে জ্বালানির ব্যবহার কম হয় এবং 'বায়ুতে কার্বনের মাত্রা কমে আসে। এভাবে আমরা পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারি।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। প্রধান দুর্যোগ হলো অতিরিক্ত খরা এবং বন্যা। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগের আশঙ্কাও বাড়ে। এই দুর্যোগগুলো মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি করে।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
১. কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের গড় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা হলো আবহাওয়া আর জলবায়ু হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের গড় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা।
২. আবহাওয়ার উদাহরণ হলো আগামীকাল আকাশ মেঘলা থাকবে আর জলবায়ুর উদাহরণ হলো জুন-জুলাই মাসে বৃষ্টি হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনে মানবসৃষ্ট তিনটি কারণ হলো-
১. জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার।
২. কলকারখানা ও যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া।
৩. বন উজাড় করা।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার তিনটি প্রভাব হলো-
১. বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে।
৩. সুপেয় পানির অভাব হচ্ছে।
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের গড় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
কোনো স্থানের' ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় মানকে জলবায়ু বলে।
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি।
কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হলো জীবাশ্ম জ্বালানি।
বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
গ্রিনহাউস গ্যাসের একটি উদাহরণ কার্বন ডাইঅক্সাইড।
নবায়নযোগ্য শক্তি (যেমন- সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি)।
মানুষ বা মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ড।
মানুষ যখন প্রচুর জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ায় এবং বনভূমি উজাড় করে, তখন বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড বেড়ে যায়। এই গ্যাস সূর্যের তাপ ধরে রেখে পৃথিবীকে গরম করে তোলে, যার ফলে জলবায়ু পরিবর্তিত হয়।
আবহাওয়ার দীর্ঘকালীন গড় অবস্থাই হলো জলবায়ু। অর্থাৎ প্রতিদিনের রোদ-বৃষ্টির হিসাব যখন ৩০-৩৫ বছর ধরে করা হয়, তখন সেই অঞ্চলের জলবায়ু বোঝা যায়।
এটি ব্যবহারের ফলে প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড-নির্গত হয় যা বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ করে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে।
এই শক্তি পরিবেশবান্ধব এবং এটি ব্যবহারে ক্ষতিকর কোনো গ্যাস নির্গত হয় না, যা জলবায়ু স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
আবহাওয়া হলো স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা, আর জলবায়ু হলো কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার গড়।
উত্তরাঞ্চলে খরার প্রবণতা বেশি এবং দক্ষিণাঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার প্রভাব বেশি।
সৌরশক্তি প্রাকৃতিক এবং অফুরন্ত, কিন্তু কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করলে ধোঁয়া নির্গত হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত করে।
অতীতে জলবায়ু পরিবর্তন খুব ধীর গতিতে হতো, কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষের কারণে এই পরিবর্তন অনেক দ্রুত ঘটছে।
উভয়ই শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে।
অসময়ে বন্যা, তীব্র ঘূর্ণিঝড় এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া।
সূর্যের আলোঁ, বায়ুপ্রবাহ এবং পানির স্রোত।
এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এবং রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ।
জমিতে লবণাক্ততা বাড়ার ফলে ধান চাষের বদলে অনেকে লবণাক্ত পানিতে মাছ চাষ শুরু করেছে।
বাইসাইকেল এবং বৈদ্যুতিক রিকশা।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক বাতি ও পাখা বন্ধ রাখার অভ্যাস করব।
আমি প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার না করে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করব এবং প্লাস্টিক যেখানে সেখানে ফেলব না।
হাত ধোয়া বা ব্রাশ করার সময় কল বন্ধ রাখব এবং বালতিতে পানি নিয়ে গোসল করব।
সৌর বিদ্যুতের সুবিধা ও এর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করার দিকগুলো প্রতিবেশীদের সাথে আলোচনা করব।
Related Question
View Allকোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের গড় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতাকে আবহওয়া বলে।
সাধারণত একটি অঞ্চলের ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে জলবায়ুর হিসাব করা হয়।
মানবসৃষ্ট কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে।
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে কৃষির ক্ষতি হয়।
কম বৃষ্টিপাত ও অধিক পানি ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!